Friday, July 22, 2016

কাশ্মীরে এই রক্তস্নান আর কতদিন?

কাশ্মীর পরিস্থিতি যেভাবে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে, নিরাপত্তাবাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তা এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ভারতের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে৷
তাই বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করতে নিরাপত্তাবাহিনীকে আরও সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে পাল্টা চাপে রাখতে তৈরি হচ্ছে মোদী সরকার৷
জ্ম্মু-কাশ্মীরে সাত দিন ধরে লাগাতার কারফিউ চলেছে, স্বাভাবিক জনজীবন প্রায় স্তব্ধ৷ হুরিয়াত ও কট্টর বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা গৃহবন্দি৷ অবিলম্বে রাজ্যে শান্তি আনতে না পারলে তা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার আশঙ্কা৷ প্রধানমন্ত্রী মোদী বিদেশ সফর থেকে ফিরেই তড়িঘড়ি মন্ত্রী ও আধিকারিকদের সঙ্গে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতিতে কিভাবে শান্তি আনা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন৷ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানবাধিকার প্রসঙ্গ তুলে ভারতকে অপদস্থ করতে পাকিস্তানের তত্পরতাকে কিভাবে ভোঁতা করে দেওয়া যায়. কিভাবে পাল্টা চাপ দেওয়া যায়, তার কূটনৈতিক কৌশল নিয়েও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷
সেই অনুযায়ী, পাকিস্তানে ঘাঁটি গাড়া জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি যে কাশ্মীরে সহিংসতা চালাবার জন্য দায়ী, সেটা জাতিসংঘে নতুন করে তুলে ধরেছে ভারত৷ বলেছে, সন্ত্রাসবাদ যে দেশের রাষ্ট্রীয় নীতি সে দেশের মুখে মানবাধিকার লংঘনের কথা একেবারেই বেমানান৷ পাকিস্তান এর আগে ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে দমন পীড়ন এবং মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ তোলে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মুসলিম দেশগুলির রাষ্ট্রদূতদের কাছেও কাশ্মীরের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসলামাবাদ৷ তবে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারতকে অভ্যন্তরীণ সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে বলায় ভারত খানিকটা স্বস্তিতে, বিশেষ করে ‘অভ্যন্তরীণ' কথাটায়৷
উল্লেখ্য, হিজবুল মুজাহিদিনের জঙ্গি বুরহান ওয়ানি পুলিশের গুলিতে নিহত হলে শুরু হয় এই উত্তেজনা৷ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বুরহানিকে ‘শহিদ' আখ্যা দিলে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতে শামিল হয় হাজার হাজার মানুষ৷ কারফিউ অমান্য করে গৃহবন্দি হুরিয়াত নেতারা বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়৷ এর প্রতিবাদে ‘কাশ্মীর বনধ' ডাকা হয়৷ সোশ্যাল মিডিয়াতে বিপ্লবী চে গুয়েভারার সঙ্গে তাঁকে তুলনা করা হয়৷ সে ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে৷ সেজন্য ইন্টারনেট যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয় সাময়িকভাবে৷ মৌলিক মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলে কাশ্মীরিদের একাংশের অভিযোগ, বুরহানকে সাজানো সংঘর্ষে মারা হয়েছে৷
প্রধানমন্ত্রী মোদীর তরফে বলা হয়, শান্তি উদ্যোগের অঙ্গ হিসেবে কাশ্মীর উপত্যকায় বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করতে আরও সংযত হবার নির্দেশ দেওয়া হয় নিরাপত্তা বাহিনীকে৷ সব পক্ষের কাছে শান্তি ফেরানোর আবেদন জানানো হয়েছে৷ মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গেও কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ জরুরি ওষুধপত্রসহ উপত্যকায় পাঠানো হয়েছে মেডিক্যাল টিম৷
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের সব রাজনৈতিক দল৷ খুব শিগগিরই একটা সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলকে পাঠানো হবে কাশ্মীরে৷ কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রধানমন্ত্রীর এই শান্তি উদ্যোগকে ‘অর্থহীন' বলে অভিহিত করলেও রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং কংগ্রেস জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির নিষ্ক্রিয়তার দিকে আঙ্গুল তুলে তাঁর ইস্তফার দাবি তুলেছে৷
ভারতের বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশের প্রশ্ন- নিরাপত্তা বাহিনী সংযত হলেই কি সবকিছু ঠাণ্ডা হয়ে যাবে ? কাশ্মীরের তিন দশক ধরে সহিংসার ধারাবাহিকতা কিন্তু সেকথা বলে না৷ কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নবাদীরা কোনো-না- কোনো ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা, সংঘর্ষ জিইয়ে রাখতে চায়৷ জাতীয় স্বার্থে এর স্থায়ী সমাধান হতে পারে, বিচ্ছিন্নতাবাদীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় শামিল করা ভারতের অখণ্ডতার সঙ্গে কোনো আপোষ না করে৷ ভূমিগত বাস্তবতার নিরিখে মোদী সরকারের উচিত এই ধরণের এক বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া৷ আগামী সোমবার বসছে সংসদের ‘বাদল অধিবেশন'৷ কাশ্মীরের অস্থিরতা নিয়ে মোদীকে রেহাই দেবে না বিপক্ষ দলগুলি৷ জবাবদিহি করতে হবে মোদীকে৷

ট্রাম্প ‘বিরোধিতায়’ বিপাকে টেড ক্রুজ

ক্লিভল্যান্ডের দলীয় কনভেনশনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনান্ড ট্রাম্পকে সমর্থন না দেয়ায় সমর্থকদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হয়েছেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা টেড ক্রুজ। বৃহস্পতিবার বিবিসি জানায়, রিপাবলিকানদের চার দিনব্যাপী আয়োজিত সম্মেলনে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ। এ সময় ট্রাম্পের নামটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি তিনি। বরং মূল মঞ্চ থেকে দেয়া ভাষণে ট্রাম্পকে অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানান ক্রুজ। এরপরই প্রতিবাদে হৈ-হুল্লোড় শুরু করেন ট্রাম্প-সমর্থকরা। ক্রুজের প্রতি গালাগালি করতে থাকেন ডেলিগেটরা এবং ‘ট্রাম্প’ ‘ট্রাম্প’ রব শুরু হয়ে যায় সম্মেলন কেন্দ্রজুড়ে। কনভেনশনে নিজের বক্তব্য দেয়ার সময় প্রত্যেক রিপাবলিকানকে নিজেদের বিবেক অনুযায়ী ভোটদানের পরামর্শ দেন ক্রুজ। তিনি বলেন, ‘তুমি যদি তোমার দেশ ও সন্তানদের ভালোবাস তাহলে তুমি উঠে দাঁড়াবে এবং কথা বলবে। আর ভোট দেবে নিজস্ব বিবেচনায়।
নীতির পক্ষে যিনি দাঁড়াবেন আমাদের এমন নেতা চাই।’ ক্রুজ ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না এমনটা স্পষ্ট হওয়া মাত্রই উপস্থিত দর্শক তার উদ্দেশে ‘ছি’ ‘ছি’ করতে থাকেন। বক্তৃতা শেষে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পর ক্রুদ্ধ রিপাবলিকান-সমর্থকরা ক্রুজ ও তার স্ত্রী হেইডিকে ঘিরে ধরে উচ্চৈঃস্বরে গালাগালিও করেন। এ সময় অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে সম্মেলন কেন্দ্রের অন্য প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে আসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার চোখে-মুখে ছিল স্পষ্ট বিরক্তির চাপ। ‘ট্রাম্প’ ‘ট্রাম্প’ চিৎকারের মধ্যে সিনেটর টেড ক্রুজ ও তার স্ত্রী হেইডি ক্রুজ দ্রুত সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। এদিকে বুধবার প্রায় মধ্যরাতে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সিনেটর টেড ক্রুজের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করে একটি টুইট বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, টেড ক্রুজ দলের সমর্থকদের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাননি। সিএনএন জানায়, অপমানিত ক্রুজ মনোনয়নের লড়াইয়ে পরাজিত হলেও চেষ্টা করেছিলেন সম্মেলনের ডেলিগেটদের নিজের পক্ষে টেনে ট্রাম্পের মনোনয়ন আটকে দিতে।
দলীয় প্রাইমারিতে ডেলিগেট সংগ্রহের দিক থেকে ট্রাম্পের পরের অবস্থানেই ছিলেন টেড ক্রুজ। এতে ট্রাম্পের ১ হাজার ৫৪২টি ডেলিগেটের বিপরীতে টেড ক্রুজের সংগৃহীত ডেলিগেট সংখ্যা ৫৬০টি। বাছাই পর্বের নির্বাচনেই ট্রাম্প ও ক্রুজ একে অন্যের সঙ্গে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন। ট্রাম্প ক্রুজের নাম দিয়েছিলেন ‘মিথ্যুক’। ক্রুজের স্ত্রী হেইডিকে ‘কুশ্রী’ ও বাবা রাফায়েলকে জন এফ কেনেডি হত্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনেছিলেন ট্রাম্প। মনোনয়ন-যুদ্ধের শত্রুতাকে কেন্দ্র করে সম্মেলনে উপস্থিত না থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্রুজ। এতে দলের বিভক্তি আরও বাড়ার আশংকায় সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্রুজকে ভাষণ দিতে আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প। ক্রুজ ১৮ মিনিটের ভাষণের শুরুতে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান। তবে ট্রাম্পের বিপক্ষেই ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। রিপাবলিকানরা বলছে, ২০২০ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন ক্রুজ। সে ক্ষেত্রে ডেলিগেটদের মধ্যে নিজের নেতিবাচক ইমেজ সৃষ্টি করলেন তিনি। পতাকা পোড়ানোর চেষ্টাকালে গ্রেফতার ১৭ : এদিকে ক্লিভল্যান্ডে বুধবার রিপাবলিকান দলের কনভেনশন চলাকালে অধিবেশন হলের বাইরে মার্কিন পতাকা পোড়ানোর চেষ্টাকালে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মালয়েশিয়ার ১১৮ কোটি ডলার জব্দ দুই দেশে

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় কৌশলগত উন্নয়ন কোম্পানি ওয়ান মালয়েশিয়ান ডেভেলপমেন্ট বারহাদের (ওয়ান এমডিবি) সঙ্গে যুক্ত ১ বিলিয়ন ডলারের (৮ হাজার কোটি টাকা) বেশি মূল্যের একটি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এছাড়া সিঙ্গাপুর সরকার বৃহস্পতিবার জানায় যে, একই তহবিলের প্রায় ১৮ কোটি ডলার (১৪৪০ কোটি টাকা) জব্দ করেছে তারা। মার্কিন বিচার বিভাগ বুধবার জানায়, ওয়ান এমডিবি তহবিলের অর্থ অপব্যবহার করে কেনা ওই সম্পত্তি ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের’ অংশ। অবৈধ টাকায় কেনা ২০টি সম্পত্তির লিস্ট বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে উপস্থাপিত হয়। পরে আদালত সেসব সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন। সেখানে ওয়ান এমডিবির পাশাপাশি বেভারলি হিলসের একটি বিশাল আবাসিক এলাকা ও নিউইয়র্কের টাইম ওয়ার্নার সেন্টারের একটি পেন্টহাউসের নামও রয়েছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বৈশ্বিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যারা সরকারি সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে অবৈধভাবে ব্যবহার করেন, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কখনোই স্বর্গরাজ্য হিসেবে গণ্য হবে না।’ ওয়ান এমডিবির মালিক মালয়েশিয়ার সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো মামলায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে ওয়ান এমডিবির অর্থ কেলেংকারিতে অভিযোগের তীর তার দিকেই। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বলেছেন, ওয়ান এমডিবি তহবিলের অর্থ নিয়ে যে কোনো বৈধ তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ সহায়তা দেবে মালয়েশিয়া। সিঙ্গাপুর সরকার যে ১৮ কোটি ডলার জব্দ করেছে তা মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী ও নাজিব রাজাকের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু লো তায়েক জোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এক যৌথ বিবৃতিতে সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পুলিশ ও অ্যাটর্নি জেনারেল জানায়, গত বছর তারা এই অনুসন্ধান শুরু করেন। নাজিব রাজাক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সব সময় অস্বীকার করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে সব ধরনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। বিবিসি, এএফপি

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, গ্যাসের সম্ভাব্য মূল্য বৃদ্ধি ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিধারাকে ব্যাহত করবে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে সমুন্নত রাখতে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গ্যাস খাতের কোম্পানিগুলো গড়ে ৮৮ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের ১৪০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ক্যাপটিভ বিদ্যু কেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের। শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৬২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এ খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বিদ্যমান ৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৯৫ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ২ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪১ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ হিসাবে সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে ৭১ শতাংশ। যার ফলে কৃষি খাতের পণ্য উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসিসিআই মনে করে, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ব্যবসা-বাণিজ্যে নানামুখী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং রফতানি বাধাগ্রস্ত হবে। মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে- যা অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। তাই দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে ডিসিসিআই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানাচ্ছে।

জার্সি নম্বর ৯০ মুস্তাফিজের

মুস্তাফিজুর রহমানের জার্সির নম্বর ৯০। সাসেক্সের হয়ে টি ২০ ও ওয়ানডেতে ৯০ নম্বরের জার্সি পরে খেলবেন এই বাঁ-হাতি পেসার। বাংলাদেশ জাতীয় দল ও ভারতের আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদেও ৯০ নম্বর জার্সি মুস্তাফিজের। হলুদ ও কালো দুটি জার্সি বুধবারই পেয়ে গেছেন তিনি। এদিন ইংল্যান্ডে পৌঁছে তিনি সোজা চলে যান হোভে সাসেক্সের ড্রেসিংরুমে। আগে থেকে তার জন্য লকার ঠিকঠাক গুছিয়ে রাখা হয়েছিল। নিজের লকারের সামনে দাঁড়ানো জার্সি হাতে মুস্তাফিজের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দিয়েছে সাসেক্স। এর আগে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছলে ভক্তরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। গত ২ মার্চ মুস্তাফিজের সঙ্গে চুক্তির খবর জানায় সাসেক্স।
যাওয়ার কথা ছিল তার জুনের শুরুতে। কিন্তু মে মাসের শেষদিকে আইপিএল থেকে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে ফেরেন মুস্তাফিজ। তাই যেতে পারেননি সময়মতো। তাকে পাওয়ার জন্য হাল ছাড়েনি সাসেক্স। শেষ পর্যন্ত তারা পেয়েছে তাকে। এদিকে ১৫ জুলাই ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় যেতে আরও এক সপ্তাহ দেরি হয়েছে তার। মুস্তাফিজ প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গেলেন। ন্যাটওয়েস্ট টি ২০ ব্লাস্টে সাসেক্স শার্কসের জার্সি কালো রঙের। হলুদ রঙের জার্সি রর?য়্যাল লন্ডন ওয়ানডে কাপে। বৃহস্পতিবার চেমসফোর্ডে এসেক্সের বিপক্ষে ন্যাটওয়েস্ট টি ২০ ম্যাচে খেলার কথা ছিল মুস্তাফিজুরের। আজও একই টুর্নামেন্টে তার দল সারে খেলবে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে। ২৪ জুলাই ওয়ানডে কাপে সাসেক্সের প্রতিপক্ষ গ্লস্টারশায়ার, ২৭ জুলাই হ্যাম্পশায়ার। ২৮ জুলাই টি ২০ ব্লাস্টের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ গ্লামরগান। ৩০ জুলাই ওয়ানডে কাপে প্রতিপক্ষ সমারসেট, ২ আগস্ট কেন্ট। ওয়ানডে কাপে সাউথ গ্রুপে চার ম্যাচে দুই পয়েন্ট নিয়ে সাসেক্স দলের মধ্যে রয়েছে সবার নিচে। আর টি ২০ ব্লাস্টে ১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আছে সাতে।

পপির অপেক্ষায়

কোনো এক অজ্ঞাত কারণে অভিনয় থেকে দূরে সরে পড়ছেন চিত্রনায়িকা পপি। হাতে ছবি আসছে না। আবার এলেও নিজের হেয়ালির কারণে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে সেটিও। অর্থাৎ মিডিয়াঙ্গনকে অঘোষিত বিদায় জানানোর পথে এগোচ্ছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে জানতে পপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘নানা কারণেই ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরে পড়ছি। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এখন ইন্ডাস্ট্রিতে পেশাদারিত্বের বড়ই অভাব।
তাই কাজ করতে আগের মতো উৎসাহ পাই না।’ সিনেমায় না থাকলেও মাঝে বেশ কয়েকটি টেলিছবি ও বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাকে। সিনেপর্দায় না থাকলেও পপির যে জনপ্রিয়তা সেটি আগের মতোই রয়েছে। দর্শক এখনও তাকে দেখতে চান চলচ্চিত্রে। পুরোদমে নায়িকা না হলেও তাকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করতেও আগ্রহী বেশ ক’জন পরিচালক। কিন্তু পপির মধ্যে পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে বলেই তাদের ধারণা। তাছাড়া চুক্তিবদ্ধ করে সময়মতো তাকে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

হলিউডকন্যা দীপিকা!

হলিউডে পা রেখে সহঅভিনেতা ভিন ডিজেলের সঙ্গে সময়টা বেশ ভালোই উপভোগ করছেন বলিউডের পুতুলকন্যা দীপিকা পাড়ুকোন। তাই ২০১৬ সালটা দীপিকার জন্য বলা যায় সৌভাগ্যের বছর। হলিউডের ব্যস্ততা নিয়েই কেটে যাচ্ছে সময়। এর আগে গত বছরের শেষের দিকে ‘বাজিরাও মাস্তানি’ ছবির মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন বলিউডের এ সেক্সসিম্বল নায়িকা। ছবিটিতে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এ ছবিটিও দীপিকার বৃহস্পতি তুঙ্গে উঠিয়ে দিয়েছে। ‘বাজিরাও মাস্তানি’র জন্য সেরা অভিনেত্রী সহ বেশ কিছু পুরস্কারও বাগিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া বন্ধু ও সহঅভিনেতা রণবীর সিং-এর সঙ্গে প্রেম নিয়েও যারপরনাই আলোচনা হয়েছে এ অভিনেত্রীকে নিয়ে। যার ধারাবাহিকতা চলছে এখনও। তবে এ দু’জনের মধ্যে প্রেম না বন্ধুত্ব সে বিষয়ে এখনও আসল তথ্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে দু’জনকেই গভীর জলের মাছই মনে হচ্ছে। সবার কাছে তাদের ভেতরকার সম্পর্কের কথা কৌশলেই এড়িয়ে যাচ্ছেন। এদিকে হলিউড ছবি ‘ত্রিপল এক্স- দ্য রিটার্ন অব জেন্ডার কেস কানাডা’ ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রেমের বিষয়টা আপাতত আড়ালেই পড়ে গেছে। এ ছবিতে দীপিকাকে সেরেনা নামের একটি লড়াকু মেয়ের চরিত্রে দেখা যাবে।
এ চরিত্রে জন্য নিজেকে উপযুক্ত করেই মাঠে নেমেছেন তিনি। এতে অ্যাকশন দৃশ্যে যেমন দেখা যাবে তেমনি রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয়েও বেশ আবেদনময়ী হিসেবে উপস্থাপিত হবেন এ বলিউডকন্যা। ছবির টিজারে ইতিমধ্যে ভিন ডিজেলের সঙ্গে যেভাবে খোলামেলা আর অন্তরঙ্গ দৃশ্যের উপস্থিতি দেখা গেছে, তাতে করে দীপিকা যে কতটা সাহসী সেটা আরও একবার প্রমান হয়েছে। টিজার প্রকাশের আগে ভিন ডিজেলকে চুম্বনরত অনেক ছবিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশ করেছেন দীপিকা। আর তাতেই পোয়াবারো। রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ভক্তরা। শুধু তাই নয়, শুটিংয়ের বাইরে ডিজেলের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গেও ব্যাপক ভাব জমিয়েছেন দীপিকা। তবে সমালোচকরা ভিন ডিজেলের সঙ্গে এতটা মাখামাখি ভালো চোখে দেখছেন না। গুজব ছড়িয়েছে হলিউডের ছবিতে চিরস্থায়ী আসন করতেই ডিজেলের সঙ্গে এতটা অন্তরঙ্গ হচ্ছেন এ তারকা। তবে দীপিকা জানিয়েছেন, ‘এ ছবিতে কাজ করতে এসে ডিজেলের সঙ্গে একটা ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়েছে। সে একজন ভালো অভিনেতার পাশাপাশি অনেক সুন্দর মনের মানুষ। তার কাছ থেকে এতটা সহযোগিতা পাব ভাবিনি। ডিজেলের সঙ্গে রোমান্সের দৃশ্যগুলো যেমন উপভোগ করেছি তেমনি কিছু অ্যাকশন দৃশ্যও তিনি আমাকে শিখিয়েছেন। অনেক ভালো একটি কাজ হচ্ছে এটি। তার বিপরীতে এমন একটি ছবির মাধ্যমে হলিউডে অভিষেক হওয়াটা আমার জন্য বড় ব্যাপারই মনে করছি আমি।’ দীপিকার সহজ সরল স্বীকারোক্তিতে সমালোচকদের মন কতটা ভরে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ভয়, অন্ধকার ও বিভ্রান্তি কাটুক

গুলশান-বনানী এলাকার ভুতুড়ে ভাব এখনো কাটেনি। ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজানে যে রক্তকাণ্ড ঘটেছে, তার এমন প্রতিক্রিয়াই তো স্বাভাবিক। এই বর্বরতা আমাদের সবাইকে বিধ্বস্ত ও বিমূঢ় করেছে। রাত আট-নয়টার পরেই এখন রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। আমাদের সবার মনে ভয় ঢুকেছে, আর আমরা ঢুকে গেছি ঘরে। ওই ঘটনার পর এখন দেখছি মাঝেমধ্যেই নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। হঠাৎ হঠাৎ শহরজুড়েই এর প্রভাব চোখে পড়ে। গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা ও সতর্কতাকে এখন অবশ্যই এক নম্বরে জায়গা দিতে হবে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও স্বাভাবিক করার বিষয়টিও কম জরুরি নয়। গুলশান-বনানী এলাকায় এমন অনেক দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ ছিল, যেগুলো বেশ রাত পর্যন্ত খোলা থাকত। গত সোমবার, ঢাকা হামলার ১৮ দিনের মাথায় রাত ১১টার পর গুলশানে কোনো রেস্তোরাঁ খোলা পাওয়া গেল না। বেশি রাত পর্যন্ত খোলা থাকে এমন একটি রেস্তোরাঁর সামনে গিয়ে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করতেই বলল, ‘ওই ঘটনার পর থেকে আমরা ১১টার মধ্যে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিই।’ আর বন্ধ না করেই বা উপায় কী, খদ্দের থাকলে তো রেস্তোরাঁ খোলা রাখবে!
রেস্তোরাঁ নাহয় বন্ধ, কিন্তু রাস্তার বাতিগুলোর এই দশা কেন? এলাকাজুড়ে কেমন যেন অন্ধকার অন্ধকার ভাব। কম আলো অথবা কোথাও কোথাও বাতির অভাব পুরো পরিবেশের মধ্যে একটা ছমছমে ভাব তৈরি করেছে। অন্ধকার ভয় ছড়ায়, ওই এলাকায় কি একটু আলো বাড়ানো যায় না? টিমটিমে বা নষ্ট বাতিগুলোকে কি বদলানো যায় না? বা বাতির সংখ্যা বাড়ানো? নিরাপত্তার জন্যও তো এটা জরুরি। এমন কম আলো আর অন্ধকারে সিসি ক্যামেরায় যা ধরা পড়ে, তা তো খুব কাজে দেওয়ার কথা না। সেখানকার মেয়র আনিসুল হকের চিন্তাভাবনায় কী আছে কে জানে! আমরা চাই আলো ও বাড়তি আলোর বিষয়টি তাঁর নজরে ও বিবেচনার মধ্যে আসুক। দেখা যাক তিনি কী করেন। ঢাকা ও শোলাকিয়ায় পরপর দুটি হামলার ঘটনার পর ফ্রান্সের নিসেও ঘটল ভয়ংকর কায়দায় মানুষ খুনের ঘটনা। প্যারিসে এর আগেও দুটি বড় হামলা হয়েছে, রক্ত ঝরেছে। বাস্তবতা মেনে নিয়ে দেশটি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন, ফরাসি জনগণকে হয়তো সামনে এর মধ্যেই বসবাস করতে হবে। বুঝতে পারছি, আমরাও একই পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।
সতর্ক নিশ্চয়ই আমাদের থাকতে হবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যেমন বাড়তি উদ্যোগ লাগবে, তেমনি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৎপরও হতে হবে। কিন্তু এসব কিছুর মধ্যেই জীবনযাপনে আমাদের স্বাভাবিক দশায় ফিরতে হবে। দমবন্ধ ভাব থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। সেটা করতে না পারলে হামলাকারীরাই যে সফল হিসেবে বিবেচিত হবে! কারণ, তারা তো আমাদের মধ্যে ভয়ই ছড়াতে চায়। তারা ভয় দেখিয়ে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে রাখতে চায়।
ফ্রান্সের নিসে হামলার এক সপ্তাহও পার হয়নি। গণমাধ্যম ও পত্রপত্রিকায় বলা হচ্ছে, সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এপি খবর দিয়েছে, নিসের বিখ্যাত রিভেরা উপকূলে লোকজন আবার জগিং শুরু করেছে, বাইসাইকেলওয়ালারা রাস্তায় নেমেছে, রোদ পোহানোরা ফিরে এসেছে। খুলছে খাবারের দোকানগুলো। সেখানে জীবন স্বাভাবিক হওয়ার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। সিএনএনের প্রতিবেদক লিখেছেন, শহরটি জেগে উঠছে, আগের রাতের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। আমাদেরও সেই পথেই হাঁটতে হবে। কিন্তু সেখানে সম্ভবত আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। গুলশান হামলার পর নিরাপত্তা বাড়িয়ে যখন সেখানকার পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার, তখন আমরা দেখছি সরকার নেমেছে ওই এলাকা থেকে ‘অবৈধ’ হোটেল রেস্তোরাঁ উচ্ছেদে। মনে হচ্ছে দেশে জঙ্গিবাদের বিপদ আর বিস্তারের সব দায় যেন গুলশান-বনানীর এই রেস্তোরাঁগুলোর। এই রেস্তোরাঁগুলো এক দিনে হয়নি, এখন তা সরাতে হলে বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে ও একটি দীর্ঘ পরিকল্পনার ভিত্তিতে করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি গুলশানে হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও সব ঝাল ঝাড়া হচ্ছে সেখানকার রেস্তোরাঁগুলোর ওপর!
গুলশান হামলার পর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা নিশ্চয়ই দরকারি হয়ে পড়েছে। কিন্তু সেখানে যদি বিদেশিদের জন্য নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়, তবে তঁাদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাটিও তো বিবেচনায় রাখতে হবে। আমরা চাই বিদেশিরা আমাদের দেশে আসুন, এখানে তাঁদের জীবনযাপনে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছন্দ থাকুক। আমাদের দেশে সন্ধ্যার পর রেস্তোরাঁয় যাওয়া ছাড়া আর কীই-বা বিনোদনের ব্যবস্থা আছে বিদেশিদের জন্য? তাঁদের নিরাপত্তার জন্য সেই এলাকা থেকে যদি রেস্তোরাঁ সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তাঁরা খাবেন কোথায়? খাওয়ার জন্য কূটনৈতিক জোনের বাইরে বের হতে হলে তাঁদের বাড়তি বিপদে ঠেলে দেওয়া হবে না তো! গুলশানের হামলা আমাদের এক নতুন বাস্তবতার মধ্যে ফেলেছে। এই বাস্তবতা মোকাবিলার কৌশল তাই চিন্তাভাবনা করেই নিতে হবে, প্রতিক্রিয়ামূলক যেকোনো উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল কাজ হিসেবেই বিবেচিত হয়। সন্ত্রাসের সঙ্গে বসবাস বা সামনে নতুন কোনো বিপদের আশঙ্কার মধ্যেও আমাদের হলি আর্টিজান বা শোলাকিয়ার দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে উঠতে হবে। আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে হবে। রবীন্দ্রনাথকে এখানেও আমরা স্মরণ করতে পারি—
‘আমি ভয় করব না ভয় করব না।
দু বেলা মরার আগে মরব না, ভাই, মরব না॥
তরীখানা বাইতে গেলে মাঝে মাঝে তুফান মেলে—
তাই ব’লে হাল ছেড়ে দিয়ে ধরব না, কান্নাকাটি ধরব না॥’
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

আর্টিকেল ফিফটি কার্যকর করতে সময় চাই

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে গতকাল বুধবার জার্মানির বার্লিনে বলেছেন, আর্টিকেল ফিফটি কার্যকর করার আগে তাঁর দেশের লক্ষ্য স্থির করার জন্য আরও সময় দরকার। এ বছর শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাজ্য ইইউ ত্যাগের উদ্যোগ নেবে না। বিধি অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জোট ত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সদস্যদেশকে লিসবন চুক্তির আর্টিকেল ফিফটি কার্যকর করতে হয়। গতকাল বার্লিনে  এক সংবাদ সম্মেলনে থেরেসা মে বলেন,
২৩ জুনের গণভোটের ফল থেকে এটা স্পষ্ট যে যুক্তরাজ্যের জনগণ অভিবাসন বিষয়ে আরও নিয়ন্ত্রণ চায়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য জোরদার বাণিজ্যও অতি জরুরি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই থেরেসা মের প্রথম বিদেশ সফর। এদিকে ২০১৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপীয় কাউন্সিলে যুক্তরাজ্যের সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নৌকা কাঁপিয়ে তিমির লাফ

সিডনির উত্তরের সৈকতের অদূরে নৌকায় চড়ে
এই অপূর্ব মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছেন তিমি
ফটোগ্রাফার জন গুডরিজ। বিবিসির সৌজন্যে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির উত্তরের সৈকতের অদূরে নৌকায় চড়ে ছবি তুলছিলেন তিমি ফটোগ্রাফার জন গুডরিজ। বছরের এ সময় স্থান পরিবর্তন করে সাগরের উত্তর দিকে সরে যায় তিমি। জনের ইচ্ছা ছিল তিমির সেই স্থান পরিবর্তনের ছবি তোলার। সিডনি সৈকতের কাছে সমুদ্রে খেলাচ্ছলে লাফিয়ে উঠছিল ১২টি তিমি। নৌকায় বসে সেই ছবিই তুলছিলেন জন। হঠাৎ একটি হাম্পব্যাক তিমি পর্যটকবাহী এক নৌকার খুব কাছ ঘেঁষে লাফিয়ে উঠল। জনও মুহূর্তের মধ্যে ক্যামেরাবন্দী করে ফেললেন সে দৃশ্য।
জন গুডরিজ বিবিসিকে বলেন, তিনি ৫০০ মিটার দূরে অন্য একটি নৌকায় বসে ছবি তুলছিলেন। তখন ওই তিমিটি আরেকটি নৌকার খুব কাছে লাফিয়ে ওঠে। জনের ভাষায়, তিমিটি শূন্য থেকে আবার পানিতে পড়ার যে ঢেউ ওঠে, তাতে ওই ছোট নৌকাটির অবস্থা যেন হয় একট টুকরো হালকা কর্কের মতো। জন বলেন, ‘দূর থেকে আমার দৃশ্যটি দেখতে খুবই মজা লাগছিল। কিন্তু ওই নৌকার যাত্রীদের অবস্থা নিশ্চয়ই ঠিক বিপরীত ছিল।’
দক্ষিণ সাগর থেকে হাজারো হাম্পব্যাক ও সাদা তিমি বছরের এ সময় উত্তর দিকে পাড়ি দিয়ে শীতের সময়টা অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের অদূরে সাগরে কাটায়। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে তারা আবার অ্যান্টার্কটিকে ফিরে যায়। জন গুডরিজ বলেন, এই ভ্রমণের সময় তিমিগুলো সমুদ্রে ভাসমান নৌকার ব্যাপারে খুব আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং মাঝেমধ্যে কাছে এসে পানি থেকে লাফিয়ে ওঠে। তবে নৌকার এত কাছে লাফিয়ে ওঠার ঘটনা সত্যিই বিরল।