Saturday, September 7, 2019

১০ বছরের শিশুর কোলে জন্ম নিলো আরেক শিশু by নূর ইসলাম

মাত্র ১০ বছর বয়সী এক শিশু মা হয়েছে। শিশুটি আজ সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩রা সেপ্টেম্বর গভীররাতে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় যশোরের মণিরামপুর উপজেলার অন্তঃসত্ত্বা সেই শিশু। কমবয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গর্ভের সন্তান ও তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত ছিল না। গত ৫ই সেপ্টেম্বর তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। ৬ই সেপ্টেম্বর রাতে তাকে ফের ভর্তি করা হয়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু সাংবাদিকদের বলেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টায় মেয়েটি একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেছে। ডা. নীলুফার ইয়াসমীন এমিলির নেতৃত্বে সিজার করা হয়। বাচ্চার ওজন হয়েছে আড়াই কেজি। বর্তমানে তারা দুজনই ভাল আছে। তবে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া প্রসূতি ও তার বাচ্চার ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এদিকে, এক শিশু আরেক শিশু প্রসব করায় মোটেই খুশি নন তার পরিবারের সদস্যরা। কাঁন্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়েটির বাবা বলেন, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। ভাবতে পারছি না। কী করবো? কোথায় যাবো?

মেয়েটির দাদি বলেন, মা-সন্তান দুজনই শিশু। তাদের কী হবে? কী পরিচয়ে তারা বেড়ে উঠবে?

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদার বলেন, অভিযুক্তের ডিএনএ স্যাম্পল সংরক্ষণ করা আছে। শিশুটির ডিএনএ স্যাম্পল নিয়ে ঢাকায় পাঠানো হবে। রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়েটির বাবা ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া (৫৬) পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা। তিনি সেখানে ভাড়া বাসায় থাকেন। শিশুটির মায়ের সঙ্গে বাবার তালাক হয়ে যাওয়ার পর সে যশোর শহরে তার নানাবাড়িতে থাকতো। গত বছর তার মেয়েকে বাসায় কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া করাবেন বলে গোলাম কিবরিয়া যশোর থেকে মণিরামপুরে নিয়ে যান। মেয়েটি তাকে নানা বলে ডাকতো। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাড়ি ফাঁকা থাকায় কিবরিয়া তার মেয়েকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হলে সে বাধা দেয়। এরপর তার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি পরে কিবরিয়ার স্ত্রী রওশনআরাকে জানালে তিনি বিষয়টি কাউকে না করে। এরপর কয়েকদফা তাকে ধর্ষণ করা হয়। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ রাতে আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয়। প্রায় ৩ মাস আগে মেয়েটির শরীর খারাপ করলে তাকে যশোরের একজন পল্লী চিকিৎসককে দেখানো হয়। ডাক্তার প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে জানান মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে আল্ট্রাসনো করে দেখা যায় সে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর ১লা জুলাই মেয়েটির বাবা মণিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন (মামলা নম্বর ০২/০১.০৭.১৯)। মামলার সূত্র ধরে পুলিশ ধর্ষক কিবরিয়াকে গ্রেপ্তাার করে জেলহাজতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।

মণিরামপুর থানার এসআই এবং এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস বলেন, ৪ঠা সেপ্টেম্বর দুপুরে আমি যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলাম। মেয়েটি ৩৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো। সে ও তার গর্ভের শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ডাক্তাররা তাকে খুলনায় রেফার করেন। কিন্তু মেয়ের পরিবার আরও দু’দিন দেখতে চান। এরই মধ্যে আজ সকালে একটি পুত্র সন্তানের মা হয়েছে বলে শুনেছি।

তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত কিবরিয়াকে ১লা জুলাই গ্রেপ্তাার করা হয়। বর্তশানে জেলহাজতে রয়েছে। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। এখন শিশুটির ডিএনএ সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। পরীক্ষা রিপোর্ট পাওয়ার এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ঋণখেলাপিদের খেয়ালিপনা by মো: মাঈন উদ্দীন

‘আমি সব ব্যবসায়ীকে চিনি। ব্যবসায়ীদেরও আমাকে চিনতে হবে। ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশ এগোবে। শতভাগ ব্যবসায়ী সৎ হবে না। শতভাগ মানুষও সৎ হবে না। কিন্তু সৎ মানুষও আছে। এ সংখ্যাও কম নয়।’ কথাগুলো বলেছেন আমাদের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর মধ্যে এক অফুরন্ত আশা-প্রত্যাশা ও উদ্দীপনার আভাস রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর পাশে যদি সৎ লোক ও সৎ ব্যবসায়ীরা থাকেন তাহলে দেশ নিশ্চয়ই এগিয়ে যাবে।

পৃথিবীতে যত সফলতা, উন্নয়ন রয়েছে তার পেছনে সততা, পরিশ্রম ও সৎ মানুষের অবদান রয়েছে। আমাদের ব্যবসায়ীরা অনেক পরিশ্রমী। তাদের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা, যোগ্যতা ও উদ্যোগী মনোভাব রয়েছে। যোগ্যতা পরিশ্রমপ্রিয়তা, দেশপ্রেম ও মানবিকতার সাথে সততার সমন্বয় ঘটলে একটি জাতি কখনো পিছিয়ে থাকতে পারে না। বেশ কিছু মাস থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, মিডিয়াতে আর্থিক খাতে অনিয়ম ও ঋণখেলাপিদের কথা উঠে এসেছে। সুশীলসমাজ, অর্থনীতিবিদ, বিশিষ্টজনদের এ সম্পর্কে নানা মতামত, পরামর্শ ও উদ্বেগের কথা প্রকাশ পাচ্ছে।

দেশের ব্যাংক খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে ঋণ আদায় জোরদার করা উচিত। এতে খেলাপি গ্রাহকেরা কেন ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করছে, কোন শক্তির বলে তারা মানুষের অর্থ, সাধারণ গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত দিচ্ছে না তার কারণ অনুসন্ধান করা উচিত। কারা সত্যিকারভাবে ব্যবসায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারা ইচ্ছাকৃত খেলাপির খাতায় নাম লেখাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা উচিত। এখনই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। খেলাপির জামানতসহ তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা উচিত। কঠোর পদক্ষেপ না নিলে খেলাপি ঋণ কমানো যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।

দীর্ঘ দিন ধরে খেলাপি ঋণ নিয়ে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও বাস্তবে কিছু করা হয়নি। খেলাপি ঋণের বিপর্যয় থেকে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতায়ন ও পাশাপাশি জবাবদিহিতা জরুরি। খেলাপি ঋণের চর্চা আগেও ছিল, কিন্তু এত খারাপ পর্যায় কখনো সম্ভবত পৌঁছেনি। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা আনতে হলে, তারল্যের সঙ্কট দূর করতে হলে খেলাপি ঋণের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যাংক খাতের সুশাসনের জন্য এমডি ও পরিচালক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা বন্ধ করতে হবে। কারা পরিচালক হবেন, কারা পরিচালক হতে পারবেন না- এ বিষয়ে বাস্তবধর্মী গাইডলাইন থাকা উচিত। ব্যাংকের অফিসাররা খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু বড় বড় খেলাপি গ্রাহক তাদের কারা সাহস জোগাচ্ছেন, কেন তারা ঋণ পরিশোধে খেয়ালিপনা করছেন- তা খতিয়ে দেখা উচিত।

অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণের ব্যাপারে আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ-কে আরো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করা উচিত। ক্ষমতার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা আইনের অপব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে বছরের পর বছর খেলাপি হচ্ছেন। সরকারকে এ ব্যাপারে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ এখনই নেয়া উচিত।

খেলাপি ঋণ আদায়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে বিনিয়োগের পরিবেশ বিঘিœত হবে। বিনিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে ঋণগ্র্রহীতার ব্যক্তিগত জীবন মান ও ব্যক্তি সৎ কি না, এটাও ব্যাংকারদের দেখা উচিত। ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর হিসাব মতে, গত এপ্রিল ২০১৯ পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকা ও এর বেশি খেলাপি গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১৭৭। তাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশই রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে। গত মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। নামে মাত্র ডাউন পেমেন্ট বা দুই শতাংশ নগদ জমা নিয়ে ব্যাংকগুলো ঋণ পুনঃতফসিল করে জুন পর্যন্ত তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনলেও ঋণ আদায়ের জোরদার পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা উচিত।

শুধু সার্কুলার জারি করে কৃত্রিমভাবে খেলাপি ঋণ কম দেখিয়ে ব্যাংকগুলো বেশি দিন চলতে পারবে না। টাকা আদায় করে আনতে হবে, অর্থনীতির চাকাকে ঘুরতে দিতে হবে। বিনিয়োগের যে অর্থ তা এ দেশের মেহনতি মানুষের, এ অর্থ কেউ নেবে আর ফেরত দেবে না, খেয়ালিপনায় মেতে থাকবে; এটা মানা যায় না। এটা আমানতেরও খেয়ানত। তাই ব্যাংকের আমানত রক্ষায় সরকার কার্যকর ভূমিকা পালন না করলে ভবিষ্যতে এ খাতের বিপর্যয় ঠেকানো কঠিন হবে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ পেরোনোর পেছনে শিল্প ও সেবা খাতই মূল ভূমিকা পালন করেছে। এ দু’টি খাতের দ্রুততর প্রবৃদ্ধির জন্যই বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জিডিপির ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ প্রবৃদ্ধি অর্জনে দেশের ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রয়েছে। দেশে নতুন উদ্যোক্তা শ্রেণী তৈরি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগে বহুমুখীকরণে পদক্ষেপ নেয়া দরকার। যারা সৎ বিনিয়োগ গ্রাহক (সময়মতো ঋণ পরিশোধ করে) তাদের আরো সুবিধা দিতে হবে। খেলাপি গ্রাহকদের এমন সাজা দেয়া উচিত, যাতে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হওয়ার সাহস না পায়।
main706@gmail.com

বাংলাদেশে ভারতবিরোধিতা কি বাড়ছে? by জয়ন্ত ঘোষাল

ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্রে ঢাকা থেকে পাঠানো সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে প্রকাশিত হয়েছে যে নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাশ্মীরসংক্রান্ত ৩৭০ নামের অনুচ্ছেদটি অবলুপ্তিকে সমর্থন জানাল হাসিনা সরকার। খুব ভালো করে সংবাদটি আবার পড়লাম। হেডিংয়ে যা-ই বলা হোক, বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে দেখা যায়, ঢাকা বলছে এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ আশা করে এই অঞ্চলটিতে শান্তি এবং সংহতি সুরক্ষিত হবে। এই বিবৃতিতে কিন্তু কোথাও বলা হয়নি যে কাশ্মীরের এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ মতাদর্শগত বা নীতিগতভাবে সমর্থন করছে। কূটনৈতিকভাবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন সরকারি বা প্রশাসনিক স্তরে যথেষ্ট মধুর, কাজেই পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার জন্য বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সমর্থন ছিল বিশেষ জরুরি। এই বিবৃতিটি ভারতও বিশেষভাবে চাইছিল।

আসলে বাংলাদেশের যুবসমাজে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া কী, তা বেশ কিছুদিন ধরেই বুঝতে বা জানতে চাইছে ভারত। গোয়েন্দারাও বাংলাদেশের মানবজমিনের মনোভাব বুঝতে চাইছে। কিন্তু ভারত প্রশাসনের কেষ্টবিষ্টরাও জানতে পেরেছেন যে বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের মধ্যে কিন্তু এক তীব্র ভারতবিরোধিতার আবেগ কাজ করছে। কেন এই ভারতবিরোধিতার আবেগ। দেখুন এই অনুভূতিটি খালেদার দল বিএনপি বা জামায়াতদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে—এভাবে ব্যাখ্যা দেওয়াটা কিন্তু অতি সরলীকরণ। আসলে এই ভারতবিরোধিতার হাওয়াটার পেছনে আছে বেশ কিছু কারণ। বিগত ভোটে এবার বহু মানুষ ভোট দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করছে, বিগত ভোট নিয়ে বহু মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের একাংশ তো বলছে, এবার নির্বাচনে ভারত সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেয়নি। ভারতের বিরুদ্ধে এই নালিশকে কাজে লাগাতে চাইছে জামায়াত জনসমাজ।

দ্বিতীয় কারণটি হলো, বাংলাদেশের জনসমাজে বাঙালি সত্তা বা পরিচয় যেমন আছে, তেমন আছে বাঙালি মুসলমান সমাজের পরিচয়। এই সত্তাটি হলো ইসলামিক সত্তা। এই সত্তাটি কিন্তু ১৯৭১ সালে স্বাধীন দেশ গঠনের পরও ছিল। এই মুসলমান সমাজ কিন্তু কাশ্মীরের এই সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দিগ্ধচিত্ত। ইসলামের মধ্যে একধরনের পারস্পরিক সুসম্পর্কের ঐতিহ্যও আছে। ঢাকা বইমেলায় গিয়ে দেখেছি একদিকে বিক্রি হয় কোরআন শরিফ, আবার অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ এবং বাংলা সাহিত্য। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আজও বইয়ের বাজারে অপরিসীম আগ্রহ। বলা যায়, বাংলাদেশের মানুষের মনস্তত্ত্বে এসবই আছে মিলেমিশে।

আজকের পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের কূটনৈতিক দিক থেকে বিশেষভাবে প্রয়োজন বাংলাদেশকে। এই প্রয়োজনীয়তার কারণগুলো আমি বারবার বিশ্লেষণ করি, আপনাদের জানাই; কিন্তু ভারতের রাজনেতাদের বাংলাদেশের জনমতকেও বুঝতে হবে। ঢাকা প্রেস ক্লাবে বসে আমি শুনেছি, আজ আবার ভারতবিরোধী জনমত খুব তীব্র হয়ে উঠছে। শুধু আর্থিক সাহায্য দিলেই সার্বভৌম বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের মন পাওয়া যায় না। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধেও জনমত ক্রমবর্ধমান। আওয়ামী লীগ একদা যেভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, আজ সেখানেও এসেছে নানা অবক্ষয়। আওয়ামী লীগের মতো দলের ভেতরও শুরু হয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। দুর্নীতি ভাঙন বেড়েছে। শেখ হাসিনারও বয়স হচ্ছে। তারপর কে আওয়ামী লীগের হাল ধরবেন তা-ও আজও মীমাংসিত নয়। তাঁর ছেলে যদি রাজনীতিতে না আসেন, তবে কি তাঁর মেয়ে এসে হাল ধরবেন দলের? পরিবারের অন্য কোনো সদস্য? এসব প্রশ্ন ঢাকা থেকে দিল্লিতেও এসে আছড়ে পড়ছে। আর এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে আবার সামরিক শক্তি উত্থিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে না তো?

১৯০৫ সালে ভারতের তৎকালীন বড় লাট লর্ড জর্জ নাথানিয়েল কার্জন বাংলা প্রদেশ ভাগ করেন, যা ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। যদিও ছয় বছরের মধ্যে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। কিন্তু বঙ্গভঙ্গ ও তার রদকে কেন্দ্র করে বাংলার প্রধান দুটি ধর্ম সম্প্রদায় হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে তীব্র অনৈক্যের সূত্রপাত হয়। ১৯০৬ সালে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকারী পৃথক দল মুসলিম লীগ গঠন হয়। এই দল যেকোনো মূল্যে বঙ্গভঙ্গ বলবৎ রাখার পক্ষে ছিল। আবার ব্রিটিশ শাসকরা স্বীকার করে গেছেন যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ধ্বংস করাই ছিল বঙ্গভঙ্গের উদ্দেশ্য। বাঙালি ভদ্রলোকদের একাধিপত্য ধ্বংস করা ছিল বড় উদ্দেশ্য।

মোগল সম্রাটরা এবং বাংলার মুসলিম শাসকরাও সে সময়ে গ্রামের গরিব কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে রাজস্ব সংগ্রহের জন্য বহু হিন্দু কর্মচারী নিয়োগ করেছিলেন। এই হিন্দু কর্মচারীরাও গরিব মুসলমান প্রজা-কৃষকদের ওপর যথেচ্ছ অত্যাচার চালায়। আদায় করা রাজস্বের একটা অংশ তারা নিজের কাছে রেখে অনেকেই ছোট ছোট জমিদার হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ জমানায় লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে এই জমিদার জোতদারদের আরো ক্ষমতা দিয়ে যান। এতে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরো বাড়ে। পূর্ব বাংলার কৃষকের ওপর দীর্ঘদিন ধরে কলকাতাবাসী জমিদাররা শোষণ করেন। এই জমিদার ও ব্রিটিশদের শোষণনীতি পূর্ব বাংলার মানুষদের ওপর কালোছায়া ফেলে, তাতেও বঙ্গভঙ্গের আন্দোলন আরো উদ্বুদ্ধ হয়।

নানাভাবে চিরকাল পূর্ব বাংলা নিগৃহীত হয়। পূর্ব বাংলার অর্থকরী ফসল পাট কিন্তু পূর্ব বাংলায় পাটকল তৈরি না করে বেশির ভাগ কলকাতার হুগলি নদীর তীরে গড়ে তোলা হয়। এর ফলে পাটের প্রকৃত মূল্য থেকে পূর্ব বাংলা বঞ্চিত হয়। ১৮৭১ সালের একটা হিসাবে অধ্যাপক বফিরউদ্দিন আহমেদ তাঁর গবেষণায় জানিয়েছিলেন যে বাংলার মুসলমান কর্মচারী ছিল মোট চাকরি বলয়ের ৫.৯ শতাংশ। মুসলমানদের প্রতি সরকারি অবহেলার চিত্রটিও এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আরো মজার ব্যাপার, ১৯০৫ সালে যখন বঙ্গভঙ্গ হয় তখন উচ্চবর্ণের হিন্দুরা তার বিরোধিতা করলেও নিম্নবর্ণের হিন্দুরা বিশেষত নমঃশূদ্র যারা পূর্ব বাংলায় ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারা বঙ্গভঙ্গ সমর্থন করে।

মজার ব্যাপার, ১৯০৫ সালে যে হিন্দু নেতারা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেন, ১৯৪৭ সালে তাঁরাই আবার বাংলাদেশের বিভাগের দাবি করেন। আবার যে মুসলমান নেতারা ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গে খুশি হন, ১৯৪৭ সালে তাঁরা বাংলা বিভাগের বিরুদ্ধে ছিলেন।

ভারত উপমহাদেশের বিভক্তিকরণ যখন প্রায় চূড়ান্ত, এমনকি এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বড় ভাই শরৎ বসুর সঙ্গে ঐকমত্যে উপনীত হয়ে ‘বসু-সোহরাওয়ার্দী’ প্রস্তাব গৃহীত হয়; কিন্তু তৎকালীন কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও ব্রিটিশ সরকার কেউ সে প্রস্তাব মানেনি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তাই শুরু হয় উর্দু ও বাংলা জাতীয়তাবাদের লড়াই। সেদিনের পাকিস্তানে বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও জিন্নাহ চাপিয়ে দেন উর্দু জাতীয়তাবাদ। ১৯৪৮ সালের প্রথম থেকেই তাই শুরু হয়ে যায় ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বাংলার নতুন দল আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন হয়।

মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক অত্যাচারের বিরুদ্ধে শুরু হয় আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক লড়াই।

আজ এত অতীত কেন ঘাঁটলাম, জানেন যখন দেখি ভারতের হিন্দু বিশ্লেষক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর পাকিস্তানবিরোধী যুদ্ধকেই তুলে ধরেন, আমার মনে হয় তাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘ ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বকে খাটো করা হয়।

আজও ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটা বড় অংশ এই ভুল করছে। বাংলাদেশের সমস্যাকে বাংলাদেশের প্রিজমে দেখুন। ভুটানের বিদেশনীতি আনুষ্ঠানিকভাবেই চুক্তি অনুসারে নেহরুর সময় থেকে ভারত নিয়ন্ত্রিত; কিন্তু সময় বদলে গেছে—ভুটানের মতো দেশও নবীন ব্রহ্ম ভারতের দাদাগিরি পছন্দ করে না, তাই ডোকলামের মতো ঘটনায় ভুটানের জমিতে চীনের আগ্রাসনের ঘটনা হচ্ছে। ভারত এখন ডোকলামের ঘটনার পর ভুটানের গুরুত্ব আরো অনেক বেশি অনুভব করছে। ঈশ্বর-আল্লাহর কাছে এই মিনতি—বাংলাদেশের মতো কোনো অবাঞ্ছিত ঘটনা যেন না ঘটে। কিন্তু বাংলাদেশের সার্বভৌম আত্মমর্যাদাকে আন্তরিকভাবে মূল্য দেওয়া প্রয়োজন।

মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের সমাজটাও স্থিতিশীল নয়, এটিও এক গতিশীল সমাজ। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই যে বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোনো ধর্মীয়ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। মুজিবুর রহমানকে হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করে; কিন্তু বাংলাদেশকে ইসলামীকরণ ও পাকিস্তানকরণের প্রভাব এমনভাবে জেঁকে বসেছিল যে তার অশুভ প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত করা আজ সহজ কাজ নয়।

সম্প্রতি নাগরিকত্ব বিল নিয়ে ভারতে নতুন করে হৈচৈ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশি চিহ্নিত করে ১০ লাখ অনাগরিককে আপাতত ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে ঢাকায় পাঠানোর রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলে বাংলাদেশে তার প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটা নরেন্দ্র মোদি যে বুঝছেন না তা নয়। তিস্তা হয়নি, অতীতের গঙ্গা চুক্তিও সুষ্ঠুভাবে রূপায়ণ হয়নি। তাই অভিযোগ অনেক।

বাংলাদেশের সংবাদপত্রেই পড়েছিলাম যে পদ্মা সেতু নির্মাণে চীনা ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছেন। চীন ঋণ দিয়েছে ঢাকাকে। সেই সংবাদের ভিত্তিতে এই কলামে তা লেখায় বাংলাদেশের বহু পাঠক ক্ষুব্ধ। তাঁরা লিখেছেন, এই সেতুর কাজ বাংলাদেশ সরকার নিজের অর্থ দিয়েই করছে, চীনা সাহায্যে নয়। আমার তথ্য যদি ভুল হয়, তবে পাঠকের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

বাংলাদেশের আত্মমর্যাদাকে আমি শ্রদ্ধা করি। আশা করি, নরেন্দ্র মোদির সময় এই বাঙালির ইতিহাস আজ ধারণ করে ঢাকার কূটনীতিকেও বিশেষভাবে মর্যাদা দেবেন, টেকেন ফর গ্রান্টেড কূটনীতির ফল মারাত্মক হতে পারে অদূর ভবিষ্যতে।

>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

৩ হাজার বছরের ঘুম ভেঙে মিসরে জেগে উঠল এই স্ফিংস

মিসর প্রত্নতাত্ত্বিকদের বিস্ময়। সম্প্রতি সেখানে খনন চালিয়ে পাওয়া গেল তিন হাজার বছরের পুরনো মিসরীয় দেবতা স্ফিংস-এর এক মূর্তি যার মুখমণ্ডল ভেড়ার মতো।
সুইডেন এর লান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার দল এবং মিসরীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় সংঘটিত এই খননকার্যে এ ছাড়াও পাওয়া গেছে হাইরো গ্লিফিক অক্ষরে লিখিত ৩ হাজার ৩৫০বছর আগেকার এক লিপি, বাজপাখির এক মূর্তি।
তাছাড়াও পাওয়া গেছে ডানাওয়ালা সূর্যের খোদাই করা এক ভাস্কর্য যা প্রাচীন মিসরে অমরত্ব এবং বীরত্বের প্রতীক হিসেবে মানা হত।
পাওয়া গেছে অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের স্ফিংস-এর এক মূর্তি যা প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে বড় মূর্তিটি নির্মাণের আগে ‘ডেমো’ হিসেবেই বানানো হয়েছিল।
স্ফিংস হল এক প্রাচীন অবয়ব যার উল্লেখ গ্রিক ও মিসরীয় সভ্যতায় পাওয়া যায়। গ্রিসে স্ফিংসকে নরকের রক্ষাকর্তা বা নরকের প্রহরী হিসেবে মানা হলেও মিসরে একে উপকারী দেবতা মনে করা হয়।
এর শরীরের পেছনের অংশ সিংহের মত, প্রায়ই পাখির মতো বড় ডানা থাকে এবং মুখমন্ডল সাধারণত মানুষের মুখ সদৃশ।
ভেড়ার মুখমণ্ডল বিশিষ্ট আবিষ্কৃত স্ফিংসটি ক্রিওসস্ফিংস নামে পরিচিত। এটির উচ্চতা ৫ মিটার এবং প্রস্থ ৩.৫ মিটার। কালের প্রবাহে এর মাথার দিকটা বেশ কিছুটা ক্ষয়ে গিয়েছে।
ক্রিওসস্ফিংস সাধারণত রাজার ক্ষমতার ও শৌর্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হত। বাঁকানো শিং, ভেড়ার মতো মুখ এবং সিংহের মতো শরীর সব মিলিয়ে অদ্ভুত এই দেবতা সে সময় রাজাদের বীরত্বের প্রমাণ হিসেবে পূজিত হত।
মনে করা হয় রোমান আক্রমণ স্ফিংস-এর মূর্তিগুলি ধ্বংস করে দেয়।
গবেষণাকারীরা মনে করছেন, বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত বহু প্রাচীন এই কর্মশালা মিসরের আঠেরোতম রাজবংশের ফারাও তুতেনখামেনের পিতামহ আমেনহোতেপ তৃতীয় –এর সময়কার।
ফারাও আমেনহোতেপ তৃতীয় মাত্র বারো বছর বয়সে রাজার আসনে বসেন। তার পত্নী রানী ‘তিয়ে’ তার শাসনকালে সর্বক্ষণ তার পাশে থেকে একসঙ্গে দেশ শাসন করেছেন। প্রায় চল্লিশ বছর তিনি মিসরে রাজত্ব করেন।
খ্রিস্টপূর্ব ১৩৫৪ সালে আমেনহোতেপ তৃতীয় মারা যান এবং দায়িত্ব পান তার পুত্র ফারাও আখেন্তান।
রহস্যে ভরা এই দেশটি বরাবরই পরিচালক থেকে লেখক, পুরাতত্তববিদ থেকে পর্যটক- সবারই পছন্দের। এখানে সবসময়ই ইতিহাস উঁকি দিচ্ছে প্রাচীন পিরামিডের গায়ে অথবা মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা হাজার হাজার বছর পুরনো মমির মাধ্যমে।তিন হাজার বছরের পুরনো এই কর্মশালা টি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে তাতে আরও একটি পালক যোগ হল। আনন্দবাজার।

এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে রাজি করানো উচিত: -আসামের অর্থমন্ত্রী

আসামে নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে রাজি করানো উচিত। এ জন্য ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল চূড়ান্ত দফায় যেসব ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব তালিকা থেকে বাদ রাখবেন তাদের বিষয়ে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত নয়া দিল্লির। এ মন্তব্য করেছেন আসামের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেছেন বলে খবর দিয়েছে অনলাইন স্ক্রল ডট ইন। এতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্টকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে গত ৩১ শে আগস্ট আসামের চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা প্রকাশিত হয়। এতে অবৈধ হিসেবে বাদ রাখা হয় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনকে। এখন তাদের সামনে আপিল করার সুযোগ আছে।
সেই আপিল ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে শুনানি হবে। তাতে চূড়ান্ত দফায় যারা বাদ পড়বেন তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন হিমান্ত বিশ্ব শর্মা। বলেছেন, এ জন্য ভারতের উচিত হবে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে রাজি করানো। তার ভাষায়, চূড়ান্ত রায়ের পরে আমাদের উচিত হবে এসব নাগরিকদের গ্রহণ করতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা। এসব মানুষ ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছিল। বাংলাদেশ ও ভারত বন্ধুপ্রতীম দেশ। বিভিন্ন সময় নিয়মিতভাবে ১০০ বা ১৫০ জনকে বাংলাদেশ ফিরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এনআরসি পরবর্তীতে এই সংখ্যা হবে অনেক বেশি।
হিমান্ত বিশ্ব শর্মা ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা। তিনি প্রকাশিত নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে ভীষণ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কারণ চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন অনেক হিন্দু। তিনি বলেছেন, যদি বাংলাদেশ তার নাগরিকদের গ্রহণ করতে রাজি না হয় তাহলে আমাদেরকে অন্য কোনো পথ খুঁজতে হবে। তবে আমি বলছি, কোনো বন্দিশিবির স্থাপন করা হবে না। তিনি এমনটি বললেও ভারতেরই অনলাইন নিউজ ১৮ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে, আসামে এরই মধ্যে ‘সেন্ট্রাল ডিটেনশন সেন্টার’ নির্মাণ করা হচ্ছে। এ খাতে খরচ ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি রুপি। মোট ১১টি এমন বন্দিশিবির নির্মাণ করা হবে। তাতে অর্থ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১০০০ কোটি রুপি। ওদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যাবর্তন বিষয়ক কোনো চুক্তি নেই ভারতের। গত মাসে বাংলাদেশ সফর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, আসামে অবৈধ অভিবাসীদের সনাক্তকরণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
হিমান্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ক্ষমতাসীন বিজেপির সংশয় বাংলাদেশ সংলগ্ন জেলাগুলো যেমন করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি, ধুবরি ও দক্ষিণ সাইমারাতে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে এনআরসি করতে গিয়ে। তিনি আরও বলেন, পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত জেলাগুলোতে যখন তালিকা থেকে বাদ পড়ার হার শতকরা ১৬ ভাগ, সেখানে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এই হার মাত্র ৬ ভাগ। তাই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে শতকরা ২০ ভাগ যাচাই প্রক্রিয়া নতুন করে করতে এবং রাজ্যের অন্যান্য অংশের শতকরা ১০ ভাগ যাচাই করতে।
আজ ৭ই সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের কাছে বাদ পড়া ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকা জমা দেয়ার কথা বলে জানিয়েছেন তিনি। হিমান্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, এনআরসি থেকে প্রকৃত যেসব নাগরিক বাদ পড়েছেন তাদেরকে রক্ষার জন্য রাজ্য একটি প্রস্তাব আনবে বা তাদের পক্ষ অবলম্বন করবে বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত এই রিপোর্টকে তিনি মিথ্যা বলে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, নির্বাচনী প্রচারণাকালীন বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে যেসব হিন্দু ও বৌদ্ধ অভিবাসী হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য আমরা সিটিজেনশিপ বিল কার্যকর করবো। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল যে, আসামের পর আমরা পুরো দেশে এনআরসি করবো। হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম হিসেবে প্রকৃত অনেক নাগরিক এবারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এ বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। বলেছেন, এরই মধ্যে তাদের জন্য অতিরিক্ত ২০০ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে তার ১৬০টি কার্যক্রম শুরু করেছে। হিমান্ত বলেন, প্রকৃত অনেক নাগরিক বাদ পড়েছেন তালিকা থেকে। আবার অনেক ভুয়া পরিচয়ধারী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রকৃত ওই নাগরিকদের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ের বিষয় ওই ভুয়া পরিচয়ধারীরা।  তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো ও গ্রুপগুলো এনআরসির সমালোচনা করছে না। সমালোচনা করছে এর প্রয়োগ নিয়ে।

ব্রেক্সিট পেছানোর চেয়ে খাদে পড়ে মরে যাওয়া বেছে নেবো

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা পেছানোর বদলে খাদে পড়ে মরে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। পার্লামেন্টে একের পর এক পরাজয়ের শিকার হয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্রেক্সিট কার্যকর করতে চান তিনি। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়, পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট ইস্যুতে পরপর দুইবার হেরেছেন তিনি। ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে একটি বিল নিম্নকক্ষ থেকে পাস হয়ে উচ্চকক্ষে গেছে। সেখানে পাস হলে ইইউ’র কাছে ব্রেক্সিট বিলম্ব করতে অনুরোধ করতে হবে তাকে। তবে তেমনটি করার কোনো ইচ্ছাই তার নেই। অন্যদিকে, পদত্যাগের কোনো ইঙ্গিতও দেননি তিনি।

সম্প্রতি ব্রেক্সিট নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টে একের পর এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে চলেছে।
বর্তমানে নির্ধারিত সময়, ৩১শে অক্টোবরের মধ্যেই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে চান জনসন। হোক তা চুক্তি নিয়ে বা চুক্তি ছাড়া। কিন্তু বিরোধী দলগুলো তেমনটা চায় না। এ নিয়ে বিরোধী পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, তার নিজ দলের কয়েক ডজন এমপিও তার বিরোধিতা করেছেন। পার্লামেন্টে বিরোধীদের উত্থাপিত বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ক্ষোভে ২১ এমপিকে দল থেকে বহিষ্কার করে দিয়েছেন জনসন। এর আগেই অবশ্য জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ফিলিপ লী দলত্যাগ করায় নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান তিনি। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন আঘাত পান জনসন। তার সহোদর জো জনসন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ঘোষণায় তিনি জানান, পরিবারের প্রতি আনুগত্য ও জাতীয় স্বার্থ দুই দিকের টানাপোড়নে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। জনসন ছোট ভাইয়ের এই ঘোষণায় বলেন, জো জনসন একজন অসাধারণ মানুষ। কিন্তু ইইউ নিয়ে তাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
এদিকে, পার্লামেন্টে বিরোধী ও বিদ্রোহীদের কাছে পরাজিত হয়ে ১৫ই অক্টোবর আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব দেন জনসন। তবে বিরোধী দল থেকে সমর্থন না পেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয় তার প্রস্তাব। বিরোধীদের প্রস্তাবিত বিল অনুসারে, ইইউ’র কাছে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পেছাতে অনুরোধ করতে বাধ্য হবেন জনসন। যদি না, ১৯শে অক্টোবরের মধ্যে পার্লামেন্ট ব্রেক্সিট ইস্যুতে কোনো চুক্তিতে সম্মত হয় বা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে সম্মত হয়।

জনসন জানান, আমরা হয়তো চুক্তি নিশ্চিতের জন্য আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে আগাবো ও ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে দেশকে ইইউ থেকে বের করে আনবো। অন্যথায় ৩১শে অক্টোবরের পর অন্য কারো এই দায়িত্ব নেয়া উচিত।
ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন এই টানাপড়েন শুরু হয় জনসন পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিতের ঘোষণা দিলে। তার ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শেষের দিক থেকে ১৪ই অক্টোবর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত থাকবে। বিরোধীদের অভিযোগ, এতে করে ব্রেক্সিট নিয়ে কোনো চুক্তি পাসের পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না। তাই পার্লামেন্ট বন্ধ হওয়ার আগ দিয়েই চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে বিল পাস করার চেষ্টা করছে তারা।

জাপার গন্তব্য কোথায়?

ভাঙনের রাজনীতি জাতীয় পার্টিতে নতুন কিছু নয়। কিন্তু দলটি এখন যে পরিস্থিতিতে পড়েছে তা অভূতপূর্ব। এমনিতে বাংলাদেশে এখন নজিরবিহীন রাজনীতির কাল। বুঝতে না পেরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরাও হাহুতাশ করেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তখনো জীবিত। গত নির্বাচনে জাপাকে ঘিরে কোনো নাটকীয়তা ছিল না। বলা ভালো, তার সুযোগও ছিল না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেই নির্বাচনে অংশ নেয় জাপা।
ভোটের পর বলা হলো, জাপা বিরোধী দলে থাকবে। ব্যাস, বিরোধী দল নির্বাচিত হয় দলটি। যদিও দলের কোনো কোনো এমপি বা নেতার খায়েস ছিল সরকারেই থাকার। সুযোগ-সুবিধা পাওয়া বলে কথা। এর আগে পাঁচ বছর এরশাদ বেশ চেষ্টা করেছিলেন তার দলের মন্ত্রীদের সরকার থেকে বের করে নিয়ে আসার। কিন্তু তার সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রণ যে এরশাদের হাতে নেই তখন তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবদ্দশাতেই জাতীয় পার্টিতে কয়েক দফা ভাঙন দেখা দিয়েছিল। ব্র্যাকেটবন্দি একাধিক জাতীয় পার্টি মাঠে দেখা যায়। কিন্তু এরশাদের জাপাই ছিল প্রধান জাপা এবং এ দলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ছিল শতভাগ। সম্ভবত, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগেই সর্বপ্রথম দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। দৃশ্যপটে আসেন তার স্ত্রী রওশন এরশাদ। সেই যে এরশাদ দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান তা আর কখনো পুরোমাত্রায় ফিরে পাননি। ভেতরে অবশ্য অনেক খেলা ছিল।
সে যাই হোক এরশাদের মৃত্যুর পর জাপার ‘মালিকানা’ নিয়ে যে সংঘাত তৈরি হতে পারে এটা তিনি বেঁচে থাকতেই আঁচ করেছিলেন। যে কারণে রীতিমতো উইল করে ঘোষণা দিয়ে যান, তার অবর্তমানে জিএম কাদের জাপার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরশাদের মৃত্যুর পর তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। শুরুতে এ নিয়ে চুপচাপ থাকলেও কয়দিন পরই রওশনপন্থি নেতারা বিবৃতি দিয়ে জানান, জিএম কাদেরের চেয়ারম্যান হওয়া দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। তবে সবচেয়ে বড় সংকটটি তৈরি হয়েছে বিরোধী দলীয় নেতার পদ নিয়ে। বিগত সংসদে রওশন এরশাদ বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। আর বর্তমান সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এরশাদ। রওশন উপনেতার দায়িত্বে আছেন। জিএম কাদের তাকে বিরোধী নেতা করতে স্পিকারকে চিঠি দেয়ার পরই রওশনপন্থিরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। অগ্রণী ভূমিকায় দেখা যায় আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে। তড়িঘড়ি করে রওশনকে বিরোধী দলের নেতা করতে স্পিকারকে পাল্টা চিঠি দেয়া হয়। রওশন এরশাদকে একইসঙ্গে দলের চেয়ারম্যানও ঘোষণা করা হয়। স্পষ্টত জাতীয় পার্টি এখন দুই ভাগ হওয়ার পথে। জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে রংপুর সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক ভূমিকা রেখেছে। রংপুর তথা উত্তরাঞ্চলের নেতাদের বেশিরভাগের সমর্থন জিএম কাদেরের প্রতি। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং এমপিদের বড় অংশের সমর্থনও তার প্রতি। যদিও অনেকে অপেক্ষায় আছেন ইশারার। ইশারা যেদিকে থাকবে তারা সেদিকে যাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে এখন এক অনিশ্চিত যাত্রা শুরু হলো। বিরোধী দলের নেতা কে হন সেদিকে দৃষ্টি এখন অনেকের। বিরোধী দলের নেতার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক কিছু খোলাসা হয়ে যেতে পারে। যদিও কেউ কেউ বলছেন, বিরোধী দলের নেতার নাম এতো দ্রুত ঘোষণা নাও হতে পারে। নানা রকম কৌশল থাকতে পারে। যে কৌশলের রাজনীতিরই জয়জয়কার এখন বাংলাদেশে। কিন্তু বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হচ্ছে, জাতীয় পার্টি কি টিকে থাকবে? রাজনৈতিক দলের বিলীন হয়ে যাওয়াও এ দেশে নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পার্টিকে বাংলাদেশের তৃতীয় জনসমর্থনপুষ্ট দল মনে করা হয়। বিশেষত উত্তরাঞ্চলে এখনো এ দলের জনপ্রিয়তা রয়েছে। ভাঙনের খেলায় দলটি কি বিলুপ্ত হয়ে যাবে- সে প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠছে।

সমাজ চিন্তা- প্রতিবাদের ঠোঁটে নিখুঁত সেলাই by তুষার আবদুল্লাহ

ভোলেনি। ভুলে যাওয়া অসম্ভব। কারণ বিষয়টি এমন নয়, সমাজের অপরিচিত চরিত্র বা ঘটনা। প্রতিদিনই আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি। কিন্তু মুখ বুজে থাকি, ঠোঁট সেলাই করে রাখি। অনেকটাই আরও বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। আর কিছুটা, সমাজ যেন জানতে না পারে। সমাজ জানতে পারাও আরো বড় বিপদের। আঙুল তাক করে দেখাবে—ও-তো ওদের শিকার হয়েছিল? নিশ্চয়ই ওর দিক থেকেও উসকানি ছিল। চলাফেরায় ছিল না সংযত। তাই সমাজকে না জানানোই ভালো। এটি আমাদের অভিজ্ঞতাগত ধারণা। তাই অভ্যাসবশত চুপ করে যাই।
আমাদের ঠোঁটে সেলাই দেখে ওরা বলবান হয়, ক্ষিপ্র হয় হায়েনার মতো। ভয়ে আরও চুপসে যাই আমরা। এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েও আড়াল নিলেন না রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম। তার সামনেই স্ত্রীকে বখাটেদের হাতে উত্ত্যক্ত হতে হচ্ছিল। প্রতিবাদ করায় বখাটের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে শিক্ষক দম্পতিকে। ঘটনাটি সমাজের আড়ালে ঘটেনি। দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে ঘটেছে। প্রকাশ্যে ঘটলেও শিক্ষক দম্পতির সাহায্যে, বখাটেদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেননি কেউ। সবাই ছিলেন বখাটেপনার মুগ্ধ দর্শক। লাঞ্ছিত দম্পতি অপমানে, লজ্জায়, ক্ষোভে গা ঢাকা দেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জানান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম নিজেই। ঘটনার বীভৎসতার কথা, মুগ্ধ দর্শকদের কথা জানিয়ে তিনি একথাও জানালেন—উচ্চ শিক্ষার পর দেশে  ফিরে আসার যে তার প্রবল ইচ্ছা ছিল, সেখানে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে। এমনিতেই মূল্যায়ন ও যথাযথ সুযোগ না দেওয়ার কারণে আমাদের মেধাবী সন্তানরা দেশ ছাড়ছে। যার প্রভাবে সংকট বিদ্যায়তনে। সংকট সব পেশায়। এই বাস্তবতায় রাশেদুল ইসলামের অভিমান আমাকে শঙ্কিত করে তোলে।

রাশেদুল ইসলাম দম্পতিকে অভিনন্দন, তারা এই নিগ্রহের কথা বলতে পেরেছেন। আমরা অনেকেই বলতে পারিনি, পারছি না। ঘরের দুয়ার থেকে শুরু করে কাজের জায়গা, স্কুল-কলেজ, বাজার-হাট, অবকাশ কেন্দ্র, কোথায় আমরা বখাটেদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছি না। ঘরের ভেতরে থেকেও নিরাপদ আমরা, নিতে পারছি না নিশ্চিত নিশ্বাস। এই বখাটেরা নানা বয়সী। তবে সারাদেশেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর ও উঠতি তরুণরা। এরা লেখাপড়ার বাইরে তা নয়। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের খাতায় নাম রয়েছে এমন কিশোর তরুণরাই যৌন নিপীড়নকারী বলে চিহ্নিত। মহল্লায় যৌন নিপীড়নের নানা কাজ করেও তারা কোনও শাসন ও বাধার মুখে পড়ছে না। বিদ্যায়তনে নয়, পথেও কেউ এদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখাচ্ছে না। শুধু এদের সহিংস রূপের কারণে কেউ প্রতিরোধ করছে না, এমন নয়। এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করা, প্রতিবাদ করা সহজ। একটা সময় ছিল প্রতিবাদ বা শাসন করলে এরা ভয় পেতো। চুপ হয়ে যেতো। দ্বিতীয়বার এ ধরনের কাজে দেখা যেত না। তখন সমাজ ছিল ঐক্যবদ্ধ। পেশার মানুষেরা ছিলেন একজোট। ফলে একজন আক্রান্ত হলে, বাকিদের একই অনুভূতি হতো। এখন সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, পেশা বিভক্ত হয়েছে। নিপীড়ন এখন এককের। অন্যদের মধ্যে তা প্রবাহিত হয় না। বখাটেরা এই সুযোগটিই নিচ্ছে। তারা জানে সমাজে দর্শকের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিবাদের ঠোঁটে নিখুঁত সেলাই দেওয়া। অতএব রাজ্য এখন  তাদের। সেই সঙ্গে তাদের আছে রাজনৈতিক ও আর্থিক ভগবান। সেই আশীর্বাদে বখাটেরা এখন গোত্র খুলে বসেছে। অসভ্যকালের গোত্র প্রথার রোগগুলো এখন সমাজে দৃশ্যমান। সেই দৃশ্য আমরা কেউ সয়ে যাচ্ছি। কেউ করছি উপভোগ। আমরা বুঝতে চাইছি না যে সহিংসতাকে আমরা উপভোগ করছি, সেই সহিংসতার শিকার আমিও হতে পারি আজ বা কাল। আমাদের দর্শক সারিতে বসে থাকার সময় মনে হয় শেষ। সময় এসেছে ঠোঁটের সেলাই খুলে নেওয়ারও।

না হলে কী হবে? আমাজন পুড়ছে। কেন পুড়ছে? ক্ষোভে। পৃথিবীকে ভালোবাসতে পারিনি আমরা। পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যতটুকু যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, ততটুকু আমরা করতে পারিনি। মাটি-জলের দখল নিতে গিয়ে পৃথিবীকে উষ্ণ করে তুলেছি। সবাই যে কাজটা করেছে তা নয়। বাহুবল-অস্ত্রবল যাদের ছিল, তারাই শুষে নিয়েছে, লুটে নিয়েছে পৃথিবীর রূপ রস। বাকিরা পালন করেছে মৌনব্রত। পৃথিবী যে বিপন্ন হলো, টিকে থাকার সংকটে পড়লো, এজন্য মৌনব্রত পালনকারীরাও সমানভাবে দায়ী। কারণ মোড়ল রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে বাকিরা একজোট হতে পারেনি। যেমন আমরা দাঁড়াতে পারিনি, পারছি না বখাটে বা নষ্টদের বিরুদ্ধে। আজ আমাজনে যেমন ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে, তেমনি আমাদের সমাজের বেলায়ও তেমনটি হওয়ার আলামত দৃশ্যমান। রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিকদেরও তাই সরব হওয়ার সময় এসেছে। এবং অবশ্যই সেটি রাজনৈতিক বিভক্তিকে সিন্দুকে পুরে।
তুষার আবদুল্লাহ
>>>লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

আগ্রহের কেন্দ্রে ‘মাদার অব পার্লামেন্টস’

বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো আইনসভাগুলোর একটি হচ্ছে বৃটিশ পার্লামেন্ট। ‘মাদার অব পার্লামেন্টস’ হিসেবে পরিচিত পার্লামেন্টটি। গত দুই দিনে বিশ্বের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে সেখানকার ঘটনাবলী। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার নিজদলীয় ২০ সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন, পার্লামেন্টের কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের হাতে। এর মধ্যে আগাম নির্বাচনের আহ্বান জানান জনসন। বিরোধীদলের সাড়া না পেয়ে তার আহ্বান প্রত্যাখ্যাত হয়। উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসের সদস্যরা বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন। পার্লামেন্টের সব কার্যক্রম নজরে রাখছে বিশ্ববাসী।
কীভাবে বৃটিশ রাজনীতির ভিত বদল করেছে তা প্রত্যক্ষ করেছে পুরো বিশ্ব। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার বৃটিশ টিভি চ্যানেল ‘বিবিসি পার্লামেন্ট’এ অধিবেশন দেখেছেন ১৫ লাখ দর্শক। সেদিন বিদ্রোহী নেতাদের জোটের কাছে বড় ধরনের পরাজয়ের স্বীকার হয় বৃটিশ সরকার। পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট এজেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বিরোধী জোট। আগাম নির্বাচনের ডাক দিতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী জনসন। চ্যানেলটির ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ দর্শকের সংখ্যা ছিল সেটি। পার্লামেন্ট অধিবেশন দেখা বৃটিশরা অতুলনীয় এক প্রদর্শনী দেখেন সেদিন। ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার পার্লামেন্টে পরাজয়ের স্বীকার হন জনসন। আধুনিক যুগের নজিরবিহীন মুহূর্তগুলোর একটি ছিল সেটি। তার নিজ দলের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে ভোট দেন। বিদ্রোহী এসব নেতাদের মধ্যে ছিলেন ‘ফাদার অব দ্য হাউজ’ কেনেথ ক্লার্ক। তিনি যে সময় ধরে রাজনীতিতে আছেন, বহু এমপির বয়সও ততদিন হয়নি। এ ছাড়া আরো রয়েছেন, উইন্সটন চার্চিলের প্রপৌত্র নিকোলাস সোয়ামেস। ক্রন্দনরত অবস্থায় সোয়ামেস বলছিলেন, পরিস্থিতির এ রকম মোড় নিয়ে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। জনসনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনার প্রতি সবসময় সমর্থন ছিল তার। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তেমনটি করেন নি। তার বিশ্বাসঘাতকতা বাকি এমপিদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। জনসনের সমালোচনা করেন ক্লার্কও। তবে পার্লামেন্টে নাটকের অন্ত সেখানেই হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার্লামেন্টে দেয়া তার প্রথম বক্তব্যে বিরোধীদল লেবার পার্টির অর্থনৈতিক নীতিমালাকে অশ্রাব্য শব্দে আখ্যায়িত করেন তিনি। শিখ আইনপ্রণেতা তানমানজিত সিং ধেসি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে জাতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ এনে আলোচনার শীর্ষে উঠে আসেন। তাকে সমর্থন জানান অনেকে। চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে বিল পাস করে বিরোধীরা। সরকারের জন্যে আরো একটি বড় পরাজয় হয়ে দাঁড়ায় সেটি। পার্লামেন্টে নাটকীয় এসব ঘটনায় টেলিভিশনের দর্শকদের মধ্যে কেবল টান টান উত্তেজনাই সৃষ্টি করেনি, পার্লামেন্টের স্থিতিশীলতা নিয়ে তাদের মনে প্রশ্নও জাগিয়েছে। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার জেরে বৃটেনের সংবিধান, বিল পাসের প্রক্রিয়া, বিধি ও সেসব কতটা কঠোর এসব বিষয়ের ওপর নজর পড়েছে বিশ্ববাসীর। সেখানে বহুদিন ধরে প্রচলিত রীতির লঙ্ঘনে দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। জনসন পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে বিরোধী বাধা দূর করতে এই পদক্ষেপ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বৃটেনের অলিখিত সংবিধান। কেউ কেউ বলছেন ভেঙে পড়ছে রাজনীতি, সংবিধান নয়। এসবের মধ্যে নতুন সংশয় জেগেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বের হওয়ার একটি মূল কারণ ছিল বৃটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনা। তবে সামপ্রতিক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে এমনটা আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।
বাস্তবে বৃটিশ সরকারের সঙ্গে পার্লামেন্ট, বিরোধীদল এমনকি নিজ দলের এমপিদের সঙ্গেও সংঘর্ষ সাধারণ একটি বিষয়। আগামী ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত সৃষ্ট উত্তেজনা বাড়তেই থাকবে। এটিই হচ্ছে বর্তমানে বৃটেনের জন্য ইইউ ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। বুধবার বৃটিশ পার্লামেন্ট বড় দুই দলের এমপিদের মধ্যে যে সমঝোতা দেখা গেছে তা একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে। সেটি হলো, পার্লামেন্টের বেশিরভাগ সদস্যই মনে পরে জনসনের সরকার এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাচ্ছে না। বিশেষ করে লেবার পার্টি দাবি করে আসছে, এই সরকার বৃটেনের গণতান্ত্রিক চর্চাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। তবে এর উত্তরে সরকার বলছে, বিরোধিরা বৃটিশ জনগণের স্বপ্ন ব্রেক্সিট ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে উভয় দলই নিজেদের দাবির পক্ষে সাংবিধানিক চর্চা ও পার্লামেন্টের আইন ব্যবহার করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে উভয় দলের মধ্যে বড় ধরনের অবিশ্বাস ও শ্রদ্ধাহীনতা সৃষ্টি হতে পারে।
হাউজ অব কমন্সের নেতা জ্যাকব রিজ মগকে বলা যেতে পারে পার্লামেন্টে উত্তেজনার বাস্তব প্রতিমূর্তি। মঙ্গলবার তাকে নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে তখন তাকে দেখা গেছে চেম্বারের সামনের বেঞ্চে একরকম গা হেলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছেন। এ ছবি নিয়ে ইন্টারনেটে নানা মিমও ভাইরাল হতে শুরু করেছে। এরসঙ্গে চার্ট যুক্ত করে অনেকেই সরকারের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার শূন্যে পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, রিস মগ হচ্ছেন বৃটেনের ফিটফাট, বেসরকারিভাবে শিক্ষিত ধনী শ্রেণির উত্তম ব্যঙ্গচিত্র। যারা অন্ধের মতো বৃটেনকে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যার ফলে দেশটিতে সৃষ্টি হবে অর্থনৈতিক সংকট। একইসঙ্গে দেখা যেতে পারে চিকিৎসা, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট। ব্যঙ্গচিত্রে শুধু একটি একচোখা চশমা ও মাথায় একটি টুপির অভাব ছিল।

আসামে ‘অবৈধ’দের জন্য নির্মিত হচ্ছে বন্দিশিবির

চূড়ান্তভাবে যারা ভারতীয় নাগরিক বলে গণ্য হবেন না তাদের জন্য আসামের গোয়ালপাড়ায় প্রথম ‘এক্সক্লুসিভ ডিটেনশন সেন্টার’ নির্মাণ শুরু হয়েছে। এটি নির্মাণে খরচ পড়বে ৪৫ কোটি রুপি। ধারণ ক্ষমতা হবে ৩০০০ বন্দির। আসামে এমন ১১টি বন্দিশিবির বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাকিগুলো নির্মাণ করা হবে বারপেটা, দিমা, হাসাও, কামরূপ, করিমগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, নগাঁও, নালবাড়ি, শিবসাগর ও সোনিতপুরে।  সূত্রমতে, একেকটি বন্দিশিবিরের ধারণ ক্ষমতা হবে কমপক্ষে ১০০০। এসব বন্দিশিবির নির্মাণে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১০০০ কোটি রুপি। ভারতের অনলাইন নিউজ ১৮ এ খবর দিয়েছে। এতে আরো বলা হয়, আসামে বর্তমানে ৩১টি জেলখানা আছে।
এর ধারণক্ষমতা মোটামুটি ৯০০০। এসব জেলে অতিরিক্ত বন্দি রাখার জন্য সরকার জেলখানাকে সম্প্রসারণ করতে পারে।

৩১শে আগস্ট চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি থেকে যারা বাদ পড়েছেন তারা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। এসব আবেদন যাচাই বাছাই করার জন্য রাজ্য সরকার অতিরিক্ত ২০০ ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করছে। আরো ২০০ এমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হবে আগামী তিন মাসের মধ্যে। এনআরসি থেকে যারা বাদ পড়েছেন তাদের ‘বিদেশি’ও বলা যাবে না, আবার তাদের গ্রেপ্তারও করা যাবে না- যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে আদালতে ফয়সালা না হয়।

নিউজ ১৮ লিখেছে, রাজ্যের ৬টি বন্দিশিবিরে ‘বিদেশি’ ঘোষিত অনেক বন্দি অবস্থান করছেন। তিন বছরের জেল সম্পন্ন করার পর সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাদের মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও ওইসব বন্দি জেলেই রয়েছেন। মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, আসামে যেসব অবৈধ ‘বিদেশি’ শাস্তি হিসেবে তিন বছরের জেল খেটেছেন তাদেরকে এক লাখ রুপি বন্ডের বিনিময়ে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে তার জিম্মাদার হতে হবে দু’জন ভারতীয়কে এবং তার থাকতে হবে একটি বৈধ ঠিকানা। আদালত আরো নির্দেশ দেয় যে, সব বন্দির বায়োমেট্রিক বিস্তারিত এবং ফটো ধারণ করতে হবে। তা জমা রাখতে হবে ডাটাবেজে। মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সপ্তাহে অবশ্যই পুলিশে রিপোর্ট করতে হবে।

এখন পর্যন্ত ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল কমপক্ষে এক লাখ মানুষকে ‘বিদেশি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তার মধ্যে ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত মাত্র চারজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের হিসাবে, কমপক্ষে ৯০০ ব্যক্তি এখন জেলে আছে। অন্যদের বেশির ভাগই রয়েছে পলাতক।

আসামের ডিটেনশন সেন্টারে আটক কথিত বাংলাদেশীদের মুক্তি অনিশ্চিত by শুভজ্যোতি ঘোষ

ভারতে আসাম রাজ্যের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে যেসব 'বিদেশি' তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক আছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার তাদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বন্দীরা কার্যত কেউই তার সুফল নিতে পারছেন না।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই কথিত বিদেশিদের মুক্তির জন্য যেভাবে দুলক্ষ টাকা দিয়ে দুজন জামিনদার রাখার কথা বলা হয়েছে তা জোগাড় করা এদের কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।
এ মাসের শেষেই আসামে এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। তারপর ডিটেনশন সেন্টারগুলোর হাল আরও খারাপ হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আসামের শিলচর, কোকরাঝাড়, গোয়ালপাড়া, তেজপুর বা জোড়হাটে অবৈধ বিদেশিদের জন্য মোট ছটি ডিটেনশন সেন্টারে বাংলাদেশী সন্দেহে শত শত ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে আটক আছেন।
আসামে নাগরিক তালিকায় নাম তোলাতে নথিপত্র জমা দিচ্ছেন রাজ্যের বাসিন্দারা। ফাইল চিত্র
কিন্তু এই 'অমানবিক ও বেআইনি প্রথা' রদ করতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পর আসামের বিজেপি সরকার স্থির করেছে, যারা তিন বছরের বেশি সময় ধরে সেন্টারগুলোতে বন্দী আছেন তারা এখন মুক্তি পেতে পারেন।
তবে তার জন্য তাদেরকে মোট দু'লক্ষ টাকার বন্ডে দুজন জামিনদার রাখতে হবে, আর একটি যাচাই করার মতো ঠিকানাও পেশ করতে হবে - যেখানে স্থানীয় পুলিশ থানায় তারা প্রতি সপ্তাহে হাজিরা দেবেন।
শিলচরের সিভিল সোসাইটি অ্যাক্টিভিস্ট জয়দীপ বিশ্বাসের মতে এই পদক্ষেপ আসলে 'লোকদেখানো।'
তার কথায়, "ডিটেনশন ক্যাম্পে তো কাউকে সারা জীবন রেখে দেওয়া যায় না।"
কথিত বিদেশিদের খেদানোর দাবিতে আসামে আন্দোলন
"ডিপোর্টেশনের পরবর্তী পদক্ষেপটা হল ডিপোর্টেশন, কিন্তু মুশকিল হল এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কোনও দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা নেই।"
"তাহলে সরকার এই লোকগুলোকে নিয়ে করবেটা কী? তুমি ডিপোর্ট করতে পারছ না বলে কি আজীবন এদের ক্যাম্পে রেখে দেবে?"
"সুপ্রিম কোর্টও এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর সরকার এদের মুক্তির জন্য আইন করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু সেই মুক্তির বিধিনিষেধ এতটাই কঠিন যে ডিটেনশন সেন্টার থেকে কেউ বেরোতেই পারবেন না বলে আমার বিশ্বাস", বলছিলেন তিনি।
সদ্য আসামের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টার সরেজমিনে সফর করে এসেছেন বিবিসির সাংবাদিক প্রিয়াঙ্কা দুবে, তিনিও মনে করেন "মুক্তির জন্য যেধরনের কঠিন শর্ত রাখা হয়েছে তার সুযোগ কেউই নিতে পারবে বলে মনে হয় না।"
শিলচরের সিভিল সোসাইটি অ্যাক্টিভিস্ট জয়দীপ বিশ্বাস
"দুলক্ষ রুপি জোগাড় করা যেমন তাদের জন্য অসম্ভব, তেমনই কঠিন যাচাই করার মতো একটা স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া।"
"সেই ঠিকানা ছিল না বলেই তো তাদের এই ডিটেনশন সেন্টারে ঠাঁই হয়েছে!", বলছিলেন প্রিয়াঙ্কা দুবে।
মোটা টাকা দিয়ে কে-ই বা তাদের জন্য জামিনদার হতে রাজি হবেন, প্রশ্ন তুলছেন জয়দীপ বিশ্বাসও।
"শুধু টাকা দিলেই তো হবে না, দুজন জামিনদারও জোগাড় করতে হবে। পার্সোনাল বন্ডে তো আর ছাড়ছে না, এক লক্ষ টাকা করে দুটো সিওরিটিও লাগবে।"
আসামের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল
"এখন বলুন, এই সহায় সম্বলহীন ও গরিব মানুষগুলো, যাদের কাগজপত্রের ঠিকঠিকানা নেই বলেই তারা আজ ডিটেনশন ক্যাম্পে - কে তাদের হয়ে জামিনদার হবে, আর কে-ই বা এতগুলো টাকা দেবে?"
ফলে এটা নিছক আইন বাঁচানোর জন্য একটা অবাস্তব পদক্ষেপ বলেই অধ্যাপক বিশ্বাসের দৃঢ় ধারণা।
কিন্তু আইন দিয়ে নয়, মানবিক দৃষ্টিতে দেখলেই কেবল এই বিপুল সঙ্কটের একটা সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করছেন।
এদিকে, ৩১ আগস্ট এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা বেরোলে এক ধাক্কায় আসামে এই কথিত বিদেশীর সংখ্যা বিশ, তিরিশ বা চল্লিশ লক্ষ বেড়ে যাবে, ডিটেনশন সেন্টারগুলোর সেই চাপ সামলানোর কোনও ক্ষমতাই নেই।
আসামের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে টহল দিচ্ছে বিএসএফ
দিল্লিতে লেখিকা ও মানবাধিকার কর্মী ফারাহ নকভি মনে করেন, "এই কথিত বিদেশিদের সম্পর্কে বিজেপি নেতারা 'উইপোকা', 'অনুপ্রবেশকারী' বা 'ঘুষপেটিয়ার' মতো নানা ধরনের প্ররোচনামূলক শব্দ ব্যবহার করছেন যা থেকে বুঝতে কোনও অসুবিধা হয় না তাদের আসল নিশানা মুসলিমরাই।"
"অন্যদিকে মোদী-অমিত শাহ বারবার বলছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নন, তারা এখানে আশ্রয় পাবেন।"
তবে ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে এখন যারা আটক আছেন এবং এনআরসি-তে যাদের নাম বাদ পড়তে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে মুসলিমদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যায় হিন্দুরাও আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেখিকা ফারাহ নকভি

কাশ্মীরের পর পরবর্তী শিকার নেপাল? by আলী সুখানভের

সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য যাই হোক না কেন এই অত্যন্ত সভ্য ও মার্জিত বিশ্বে ওইসব দেশ বা জাতিকে বেশি জ্ঞানী মনে করা হয় যারা প্রাণঘাতী যুদ্ধাস্ত্রের চেয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী প্রপাগান্ডা মেশিনের পেছনে বেশি ব্যয় করে। প্রপাগান্ডা এমন একটি জিনিস যা বাস্তবতা ব্যাপকভাবে আড়াল করে যা কখনো ঘটেইনি, তা ফলাও করে প্রচার করতে সহায়তা করে। এই উদ্দেশ্যে কলম কেনা হয়, কথা বিক্রি করা হয়। বুদ্ধিমান তারাই যারা কিছুই করে না, তবে সম্ভব সব ধরনের চিৎকার চেঁচামেচি করে, কান ঝালাপালা শব্দে কথা বলে, অন্যদের নীরব করানোর মাধ্যমে সহানুভূতি আদায় করে জয়ের সাফল্য লাভ করে। প্রতিযোগিতায় জয়ের এটিই সবচেয়ে বিজ্ঞোজনোচিত পথ। সংক্ষেপে বলা যায়, চিৎকারই হলো বর্তমান দৃশ্যপটে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, সবচেয়ে সফল হাতিয়ারও। গোয়েন্দা কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল ও থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলো প্রপাগান্ডা চালাতে বিভিন্ন দর্শন প্রচার করে থাকে।

আরো ভালোর আশা

প্রপাগান্ডা থেকে ফায়দা হাসিলের সবচেয়ে নজির হলো ভারত। প্রতি বছর এই দেশটিতে ধর্মের নামে নৃশংসভাবে শত শত লোককে হত্যা করা হয়। ভারতের সমাজে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। শিখ, খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা সবসময় ঘৃণা আর অবিচারের মেঘের আড়ালে থাকে। নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অথচ প্রপাগান্ডায় বলা হয়, ভারত হলো সেক্যুলার দেশ। তারপর আরেকটি যাদুকরী স্লোগান হলো ‘শাইনিং ইন্ডিয়া’। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে অগ্রগতি ও উন্নতির দাবি করা হয়। কিন্তু মানাবাধিকারের ব্যাপারে তা করা হয় অতি সামান্যই। ‘শাইনিং ইন্ডিয়ার’ কাশ্মীরে নিয়মিত লঙ্ঘন করা হয় মানবাধিকার। সেইসাথে নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ভারতের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির দিকেও তাকানো যেতে পারে।

সম্প্রতি এন পি উপাধ্যায়ের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে নেপালের বিভিন্ন পত্রিকায়। এর শিরোনাম ছিল ‘কাশ্মীরের পর নেপালই কি ভারতের পরবর্তী শিকার?’ এতে বলা হয়, রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইং (র-কে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে জঘন্য সন্ত্রাসী মেশিন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আর এই সংগঠনটির উদগাতা ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার এ যাবতকালের সবচেয়ে ঔদ্ধত্য ও অগণতান্ত্রিক নারী ইন্দিরা গান্ধী। নেপালের বিভিন্ন দেশপ্রেমিক সার্কেলের ‘টক অব দি টাউন’ হলো র’-এর প্রধানের ২০১৯ সালের ২০ জুলাই কাঠমান্ডুতে এসে পৌঁছানো। তার তিন দিনের সফরের বেশির ভাগ সময় তিনি কাটিয়েছেন কাঠমান্ডুতেই। তবে এই তিন দিনেই তিনি পুরা দেশকে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে ফেলেছেন। বলা হয়ে থাকে, এই তিন দিনে তিনি ভারতের হয়ে লেখালেখি ও বক্তব্য রাখার জন্য অনেক লেখক ও টিভি অ্যাঙ্করকে কিনে ফেলেছেন। নেপালে সাধারণ অভিমত হলো এই যে মাওবাদী অ্যাক্টিভিস্টদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে নেপালে সন্ত্রাস রফতানি করতে চাইছে ভারত। নেপালি সমাজে ভারতের প্রভাব রুখে দেয়ার জন্য নেপালের দেশপ্রেমিক মহল সর্বাত্মক চেষ্টা করলেও ‘র’ সফল হয়েছে তাদের জঘন্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সফল করতে দেশটিতে একটি খুবই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করতে।

নেপালে ভারতের হস্তক্ষেপ নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালের অক্টোবরে শ্রীজনা শ্রেষ্ঠর বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয় ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যালার্ট (সাধারণভাবে ডিএসএ নামে পরিচিত) ম্যাগাজিনে। এই বিশ্লেষণে বলা হয়, এটা সত্য যে ভারত-নেপালের মধ্যকার ছিদ্রযুক্ত সীমান্ত মাওবাদী বিদ্রোহীদের এক দশক ধরে টিকে থাকতে সহায়তা করেছিল। আর এটাও সবার জানা যে নেপালি বিদ্রোহীরা ওই সময় ভারতের কাছ থেকে আশ্রয় ও নানা ধরনের সহায়তা পেয়েছিল। ভারতের কাছ থেকে নেপালি মাওবাদীরা কেমন সহায়তা পেত, তা নিয়ে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্লেষণে নেপালের এক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে আরো বলা হয়, রাজতন্ত্র উৎখাতের জন্য মাওবাদীদের হাতিয়ার মনে করত ভারত। ধারণা করা হতো যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মাওবাদীরা সবসময় ব্যবহৃত হতো।

ভৌগোলিকভঅবে নেপাল ভূবেষ্টিত দেশ। এটি প্রধানত হিমালয়ের কোলে হলেও ইন্দো-গাঙ্গেয় অববাহিকায় অবস্থিত। নেপালের জনসংখ্যা প্রায় ২৬.৪ মিলিয়ন, এটি জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ৪৮তম বৃহত্তম দেশ, আয়তনের দিক থেকে ৯৩তম দেশ। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, নেপালের উত্তর সীমান্তে রয়েছে চীন, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে আছে ভারত। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ অবস্থিত। সিকিমের কারণে ভুটানের সাথে তার সীমান্ত নেই। বিশ্বের সর্বোচ্চ ১০টি পর্বতের মধ্যে আটটিই আছে নেপালে। এর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টও রয়েছে। তিন দিক থেকে এই সুন্দর দেশটি ভারতের দ্বারা অবরুদ্ধ হওয়ায় নেপালের লোকজন দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ভারত থেকেই দেশটি তার প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম ও অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ নিয়ে আসে। প্রতিটি স্বাভাবিক দিনে পেট্রোলিয়ামজাতীয় সামগ্রী বোঝাই ৩০০টি ট্রাক ভারত থেকে নেপালে প্রবেশ করে। ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। এসব সরবরাহ অব্যাহত থাকবে না বন্ধ হবে তা পুরোপুরি নির্ভর করে ভারতের ওপর। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপাল সবচেয়ে ভয়াবহ অবরোধের মুখে পড়ে। ভারত দুই মাস ধরে অবরোধ আরোপ করায় মারাত্মক জ্বালানি ও ওষুধের সঙ্কটে পড়ে নেপাল। সংক্ষেপে বলা যায়, ভারতীয় রুট দিয়ে নেপালে সব সরবরাহে অবরোধ আরোপ করে নেপালকে বিরানভূমিতে পরিণত করার অবস্থায় আছে ভারত। ভারতের হাতে এটিই সবচেয়ে বড় অস্ত্র এবং সম্ভব সব উপায়ে ভারত এই হাতিয়ারটি কাজে লাগাচ্ছে।

নেপালের সাথে উপনিবেশের মতো আচরণ করছে ভারত। ভারতের আধিপত্যমূলক নক্সা সন্দেহাতীতভাবে নেপালের সার্বভৌমত্বের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক হুমকি। প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে কাশ্মীরে সম্প্রতি যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত, তা নেপালেও প্রয়োগ করা হতে পারে। অনেকে মনে করতে পারেন, আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে ভারতের পক্ষে প্রতিবেশী দেশের স্বাধীন মর্যাদা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু শক্তি বলে কথা। অধিকন্তু কাশ্মীরের ব্যাপারে ভারতের অন্যায় পদক্ষেপের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নির্মম নীরবতা মোদি সরকারকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে সাহসী করবে। ফলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

৩৭০ এর পর ৩৭১? বিশেষ সুরক্ষা হারানোর আশঙ্কা ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলোর by অরুনাভ সৈকিয়া

ভারত সরকার দেশের সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করেছে, যেখানে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা এবং স্বায়ত্বশাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও এখন জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে।

৩৭১ অনুচ্ছেদের বেশ কিছু অংশের অধীনে এখানকার রাজ্যগুলোর জন্য বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণার পর এখন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে তাদের বিশেষ মর্যাদাও হয়তো বাতিল করা হতে পারে।

মিজোরামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা এক টুইটে জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিশেষ সুবিধা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হলো নাগাল্যান্ড। সেখানে এতটাই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যে, ৬ আগস্ট রাজ্যের নতুন গভর্নর আরএন রবি এক বিবৃতি ইস্যু করে জানিয়েছেন যে, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, নাগাল্যান্ডের জন্য যে ৩৭১এ অনুচ্ছেদ রয়েছে সংবিধানে, সেটা একটা ‘পবিত্র প্রতিশ্রুতি’।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিশেষ ব্যবস্থা

৩৭১ অনুচ্ছেদের অধীনে যে সব ব্যবস্থা রয়েছে, তার অধিকাংশই উত্তর পূর্বাঞ্চলে রাজ্যগুলোর ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠি ও তাদের সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্য করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিকেন্দ্রীকৃত সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যেখানে কিছুটা প্রশাসনিক স্বায়ত্ত্বশাসন রয়েছে। বিবাদ মীমাংসার ক্ষেত্রেও সেখানে স্থানীয় প্রথাগত আইন রয়েছে। এই সব আইনে রাজ্যের বহিরাগতদের কাছে জমি হস্তান্তরেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এগুলো মূলত মিজোরাম, নাগাল্যান্ডের পুরোটা এবং আসাম, মনিপুর ও মেঘালয়ের একাংশের জন্য প্রযোজ্য।

সংবিধান অনুযায়ী সব রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা এক রকম নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, নাগাল্যান্ডের জন্য যে ৩৭১এ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য, সেখান্য রাজ্যকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রাজনৈতিক স্বায়ত্বশাসন দেয়া হয়েছে। ভারতীয় পার্লামেন্টের ধর্মীয় ও সামাজিক আচার বিষয়ক কোন আইনই এই রাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হবে না, যদি না সেটা রাজ্যের আইনসভায় অনুমোদিত হয়। অন্যদিকে, মনিপুরের জন্য যে ৩৭১সি অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য, সেটা শুধুমাত্র পাহাড়ি এলাকার জন্য এবং সেখানে পাহাড়ি জেলা কাউন্সিলকে অনেক কম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

উদ্বিগ্ন নাগাল্যান্ড

নাগা জাতীয়তাবাদী গ্রুপগুলো এই মুহূর্তে আরও স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে আলোচনা করছে। বহু দশক ধরে স্বাধীন নাগা রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রামের পর তারা শান্তি চুক্তিকে অংশ নেয় এবং অস্ত্রবিরতিতে স্বাক্ষর করে। রবি এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন এবং রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিত্বও করেছেন।

নাগা স্টুডেন্টস ফেডারেশানের নিনোতো আওমি বলেন, “প্রত্যেক নাগাই এখন এইসব নিয়ে কথা বলছে। আমরা নাগাদের একটা অনন্য রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে এবং এখন আলোচনা চলছে কারণ আমরা ৩৭১এ অনুচ্ছেদের চেয়েও ভালো কিছু চাই। ভারত সরকার যদি আলোচনা চলাকালে ৩৭১এ অনুচ্ছেদ মুছে ফেলতে চায়, তাহলে তাদের দিক থেকে এটা খুবই অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে”।

মানুষের আতঙ্ক বাড়ার কারণ হলো পার্লামেন্টে ভারতীয় জনতা পার্টির বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা। নাগাল্যান্ডের উপজাতীয় সংগঠনগুলোর সবচেয়ে বড় মোর্চা নাগা হোহো’র প্রেসিডেন্ট পি ছুবা ওজুকুম বলেন, “তাদের যে পরিমাণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাতে তারা যা খুশি করতে পারে। সংখ্যালঘুদের নিয়ে তারা মাথা ঘামায় না”।

ওজুকুম সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নাগাল্যান্ড সংশ্লিষ্ট ৩৭১ এ অনুচ্ছেদ বাতিলের চেষ্টা করা হলে সেটা ‘সহিংসতা সৃষ্টি করবে’। “এটা শুধু নাগা জনগণের জন্যই খারাপ হবে না, ভারত সরকারের জন্যও সেটা হবে অশুভ”।

কাশ্মীর থেকে ‘সম্পূর্ণ আলাদা’

অন্যান্য রাজ্যে অবশ্য নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো এখনও উদ্বিগ্ন নন। লাল ঠানহাওলার টুইটের পরও মিজোরামের সবচেয়ে প্রভাবশালী বেসরকারী সংগঠন ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশান বলেছে যে, এখানকার পরিস্থিতি কাশ্মীর থেকে ‘সম্পূর্ণ আলাদা’।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লালমাচ্ছুনা বলেছেন, “কাশ্মীরে যেটা হয়েছে, সেটার কারণ সন্ত্রাসের মতো নিরাপত্তা ইস্যু। মিজোরামে এ ধরনের কোন ইস্যু নেই”।

মিজোরামের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে ৩৭১ জি অনুচ্ছেদের মাধ্যমে। স্থানীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়া এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের ধর্ম ও সামাজিক আচার বিষয়ক কোন আইন প্রযোজ্য হবে না। নাগাল্যান্ডের মতো, এখানে স্থানীয় প্রথাগত আইন অনুযায়ী বিবাদ মীমাংসা হবে এবং স্থানীয় আইনের অধীনেই জমি ও অন্যান্য সম্পদ হস্তান্তর হয়ে থাকে।

দ্য ইকোনমিস্টের তালিকা: শহর হিসেবে ঢাকা কি আসলেই বসবাসের অযোগ্য?

বিশ্বে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহর গুলোর তালিকায় এবার ঢাকার অবস্থান নিচের দিক থেকে তিন নম্বর।
চলতি বছরে ১৪০টি দেশ নিয়ে এই তালিকা তৈরি করেছে লন্ডন ভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা ই আই ইউ।
বাস করার অযোগ্য শহরের তালিকায় সর্বনিম্নে থাকা ১০ দেশের মধ্যে সবচেয়ে অযোগ্য শহরের মধ্যে ঢাকার পরে রয়েছে মাত্র দুটি শহর। একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক, এবং অপরটি নাইজেরিয়ার লাগোস।
অন্যদিকে, এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি বাসযোগ্য শহর উল্লেখ করা হয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাকে। ভিয়েনার পরেই রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, সিডনি, জাপানের ওসাকা, কানাডার ক্যালগারি, ভাঙ্কুবার, টরেন্টো ইত্যাদি শহর।
কিন্তু ঢাকা কি আসলেই এত খারাপ?
রাজধানী ঢাকার মিরপুরে থাকেন বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে উপস্থাপিকা শারমীন নাহার নিপা।
তিনি বলেন, মিরপুর থেকে তার কর্মস্থল সিদ্ধেশ্বরীতে যেতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় তাকে। তার মতে, ঢাকা শহরে বসবাসের সবচেয়ে নেতিবাচক দিকটি হচ্ছে যানজট।
পরিবহন ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শারমীন নাহার নিপা।
"বাসের মধ্যে কোন শৃঙ্খলা নাই, ভাড়া নিয়ে কোন শৃঙ্খলা নাই, যাত্রী তোলা নিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতা থাকে চালকদের মধ্যে, দক্ষ চালকও নাই,'' তিনি বলেন।
এ বিষয়ে বারবার আলোচনা এমনকি বড় ধরণের একটি আন্দোলন হওয়ার পরও এ খাতটিতে কোন পরিবর্তন আসেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বামী আর দুই সন্তান নিয়ে ঢাকার ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় থাকেন নাদিরা জাহান। ঘর-সংসারের সামলানোর পাশাপাশি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরীও করেন তিনি।
তার মতে, তার এলাকাটি অনেক বেশি ঘনবসতি অনেক বেশি। এ কারণেই রাস্তায় যানবাহন এবং অসম্ভব যানবাহন থাকে। ফলে সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, " ঘনবসতি হওয়ার কারণে বিল্ডিংগুলা একটার গায়ে আরেকটা লেগে থাকে। ফলে অনেক সময় দেখা যায় যে মানুষের প্রাইভেসিও থাকে না।"
তিনি অভিযোগ করেন, তার এলাকায় সকাল এবং বিকেল বেলা গ্যাস থাকে না বললেই চলে। সেইসাথে নিয়মিত পানি সরবরাহ পাওয়া যায় না।
"পূর্ব রাজা বাজারে আরও যেটি সবচেয়ে বড় সমস্যা সেটা হচ্ছে রাস্তা কাটা,'' তিনি বলেন।
''একেক বার একেক কর্তৃপক্ষ এসে রাস্তা কাটে, কখনো বিদ্যুতের থেকে কাটা হচ্ছে, কখনো গ্যাস, কখনো ওয়াসা অর্থাৎ একেক জন একেক সময় রাস্তা কাটে আর মানুষজন চরম দুর্ভোগ পোহায়," বলেন নাদিরা।

ইকোনমিস্ট-এর বিবেচ্য

এ ধরণেরই কিছু নাগরিক অসুবিধার কথা উঠে এসেছে ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ওই তালিকার বিবেচ্য বিষয়ের মধ্যে।
এবছর শহরগুলোর বাসযোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা, এবং অবকাঠামো।
এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রাজধানী ঢাকা দুটি বিষয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। তার মধ্যে একটি সংস্কৃতি ও পরিবেশ এবং অন্যটি অবকাঠামো।
এই দুটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যা যা রয়েছে তা হল, জলবায়ু ও তাপমাত্রা, দুর্নীতির মাত্রা, সামাজিক বা ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা, খেলাধুলার সুযোগ, খাদ্য ও পানীয় দ্রব্য, ভোগ্যপণ্য ও সেবা, সড়ক-পরিবহন ব্যবস্থা, গৃহায়ন, জ্বালানী, পানি এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা।

'প্রাণের শহর'

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্সের এই বিশ্লেষণকে গ্রহণযোগ্য মনে না করায় একে প্রত্যাখ্যান করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
তাদের মতে, এই তালিকায় যেসব শহরের সাথে ঢাকার তুলনা করা হয়েছে সেগুলো অনেকটা জন মানবহীন শহর বললে ভুল হবে না।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলী ইকবাল হাবিব বলেন, ভিয়েনা বা মেলবোর্নের জনঘনত্ব ঢাকার তুলনায় নস্যি।
''মেলবোর্ন বা ভিয়েনাতে যদি ঢাকার কোন একটি এলাকার জনসংখ্যাও ঢুকিয়ে দেয়া যায় তাহলে পুরো ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে,'' তিনি বলেন।
"ভিয়েনা বা মেলবোর্নে আপনি যখন দশটি ছবি তুলবেন, তারমধ্যে চারটা মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না।
''সেসব শহরের সাথে ঢাকাকে তুলনা করার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, তারা আসলে প্রাণের শহর, মানবিক শহর, মানুষের শহরের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই আমাদেরকে এতোটা নিচে নামিয়েছে," তিন বলেন।

মূল্যায়নে ঘাটতি?

মি. হাবিব বলেন, এই তুলনা যারা করছেন তারা বিনিয়োগ এবং পর্যটন ভিত্তিক পর্যালোচনার সাপেক্ষে এই মূল্যায়নটা করেন। সেই মূল্যায়নে ফুটফুটে শহরে চিন্তা করেন।
''কিন্তু যে শহরে একুশের প্রভাত ফেরি এবং পহেলা বৈশাখ লক্ষ লক্ষ মানুষ নির্বিঘ্নে আনন্দ করে, সে শহরকে এভাবে মূল্যায়ন যারা করে তাদের মূল্যায়নের ঘাটতি বলাই বাহুল্য,'' তিনি বলেন।
তবে মি. হাবিব বলেন,এর মানে এই নয় যে ঢাকা শহরে বাসযোগ্যতা নিয়ে কোন সমস্যা নেই। ঢাকাকে তার সম্ভাবনার দিক থেকে বিবেচনা করলে বাসযোগ্যতার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, সে অর্থে তার বসবাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
ইকবাল হাবিব বলেন, ঢাকা শহরে মানুষের সংখ্যা এবং তার বিপরীতে বসবাসযোগ্য জমির পরমাণের অনুপাত কম হওয়ায়, একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তুলতে হলে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে।

সমস্যা কোথায়?

ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নানা ধরণের পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হাতে নেয়া হয়েছে মেট্রো রেলের মতো বড় প্রকল্পসহ নানা ধরণের পদক্ষেপ।
তবে মি. হাবিব বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে গুরুতর রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে কঠোরভাবে কাজে নামতে হবে।
এ বিষয়ে অনেক ধরণের পরিকল্পনা তৈরি করা হলেও এখনো সেগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি বলে মনে করেন তিনি। যার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কাজকে।
"একটি অনানুষ্ঠানিক চাঁদাবাজি এবং একটি অর্থনৈতিক কোটারিগোষ্ঠী পুরো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ভেস্তে দিচ্ছে,'' তিনি বলেন।
এ ধরণের কার্যক্রম বন্ধ করতে যে ধরণের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো প্রয়োজন, সেগেুলো নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কীবলছে কর্তৃপক্ষ?

ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে ইকোনমিস্টের এই তালিকা নিয়ে কথা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ইকোনমিস্ট এধরণের কোন জরিপের জন্য তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য নেয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন তথ্য না নিয়ে ইকোনমিস্ট কিভাবে এই তালিকা তৈরি সে বিষয়েও সন্দেহ রয়েছে।
"ঢাকা যেহেতু বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর সে হিসেবে আমরা সার্বিক সেবা প্রদান করে এটার বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট কাজ করছি,'' তিনি বলেন।
ঢাকা শহরের সিটি গ্রিনারি, পার্ক, খেলার মাঠ, রাস্তা, স্ট্রিট লাইট এগুলোর বিষয়ে যথেষ্ট কাজ হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আন্তর্জাতিক মানের ৩১টি খেলার মাঠ রয়েছে।
তবে প্রতিনিয়ত বাড়তি মানুষের চাপ সামলাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, জলবায়ুর প্রভাব যেমন, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, এবং কর্মসংস্থানের সন্ধানে মানুষ প্রতিনিয়তই ঢাকা মুখী হয়।
কম ঘনবসতি এবং বেশি ঘনবসতিপূর্ণ শহরের ব্যবস্থাপনার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। সিটি কর্পোরেশন ও সরকার যৌথভাবে ঢাকাকে আরো বাসযোগ্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
"মেট্রো রেলের মতো বড় প্রকল্পের কারণে নাগরিকদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে এটা সাময়িক," তিনি বলেন।
তবে শহরের অন্য বিষয়গুলো যেমন, রাস্তাঘাট, ভবন নির্মাণ, যানজট, গণ-পরিবহন, এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো দেখার জন্য আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরের একটি ঢাকা

রোহিঙ্গা নিপীড়নকে বৈধতা দিচ্ছে জাপান? by আজিজুর রহমান অনীক

গত ৬ আগস্ট  মিয়ানমারের অর্থনীতির সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য টোকিওতে জড়ো হয়েছিলেন শতাধিক জাপানি ব্যবসায়ী। তাদেরকে সেসময় দারুণ আকর্ষণীয় বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সামনে এনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগ ও লাভের সম্ভাবনার কথা বলা হয় তাদের।
সেই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্থ উপস্থাপন করেন জাপানে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত থুরাইন থান্ত জিন। তাকে সেসময় জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের ১১১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সামরিক বাহিনীকে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা বিয়ার প্রস্তুতকারী কিরিন হোল্ডিংস এবং মিয়ানমারের সামিরক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত প্রতিষ্ঠান মিয়ানমার ইকোনমিক কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ বাণিজ্য করা তামাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জাপান টোবাকো। 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রাখাইন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০১৮ সালে কিরিন হোল্ডিংস প্রকাশ্যেই জানায় যে তারা ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্য সরকারকে ‘মানবিক সহায়তা’ হিসেবে ৬ হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছিলো। ডিসেম্বরে এক তদন্তের পর তারা দাবি করে, ওই সহায়তা কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে সেটা যাচাই করতে পারেনি তারা। অন্যদিকে এমইসির সঙ্গে যৌথ বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করেছে জাপান টোবাকো।

এই প্রতিবেদনটিকে ‘আবেগ’ এবং ‘অনুভুতি’ নির্ভর উল্লেখ করে সেটিকে প্রত্যাখান করেছেন  রাষ্ট্রদূত থুরাইন থান্ত জিন। তিনি দাবি করেন, এই প্রতিবেদনে কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি। কিন্তু তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেছেন। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের অভিযোগের ব্যাপারে কিছু বলেননি তিনি।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণসহ ভয়ানক নিপীড়ন চালিয়েছে।  প্রতিবেদেনে একে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে এটিকে ‘গণহত্যা’ও  বলা হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালে করে সেনাবাহিনী। সহিংসতা থেকে বাঁচতে রাখাইন থেকে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলো প্রায় তিন লাখ। সবমিলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদটিতে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সর্ম্পক ছিন্নের আহ্বান জানানো হয়।  কারণ সেনা সংশ্লিষ্ট যেকোনও বিদেশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং এমইএইচএল ও এমইসি এর মতো সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনে ভুমিকা রাখতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।  কারণ অল্প হলেও এই প্রতিষ্ঠানগুলো সামরিক বাহিনীর আথিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।

প্রতিবেদনটির রাষ্ট্রদূতের প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারটিতে অবাক হওয়ার কিছু নয়। মিয়ানমার সরকার যে বিশ্বকে পাশ কাটিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত রাখবে এমনটাই স্বাভাবিক। জাতিসংঘের বিশেষ দূত কিংবা ফ্যাক্টফাইন্ডিং মিশন কাউকেই তারা রাখাইনে প্রবেশ করতে দেবে না।

বরং অবাক করার মতো বিষয়টি হল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয় ও মানবাধিকার সংকটকে দূরে সরিয়ে জাপানের বেসরকারি খাত কীভাবে যথারীতি ব্যবসা করে চলেছে। জাপান সরকার মিয়ানমার সর্ম্পকিত জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলি থেকে দূরেই থেকেছে। এমনকি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিও ব্যবহার করেনি তারা।

টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘রাখাইন বিনিয়োগ মেলার’ ধারাবাহিকতায় গত ২৪শে জুলাই মিয়ানমারে এমন একটি সম্মেলনের আয়োজন করে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন।  গত ৬ আগষ্টের ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত থুরাইন থান্ট জিন জাপান এবং মিয়ানমারের মধ্যকার সর্ম্পককে ‘ভ্রাতৃত্ব’ বলে উল্লেখ করেন।  এরই মধ্যে গত ২৭ আগস্ট টোকিওর বাইরে মিয়ানমারে বিনিয়োগ করার বিষয়ে আবারো সম্মেলন ডাকে সংস্থাটি।  সেখানেও রোহিঙ্গা বিষয়টি নিয়ে আলোচ্য সূচিতে ছিলো না।  তাকে রোহিঙ্গা সংকটে ব্যাপারে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি তিনি।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য ও মিয়ানমারে সাম্প্রতিক বিনিয়োগে নড়েচগে বসেছে জাপান। সেটিকে লক্ষ্য রেখে জাপানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বসে থাকতে চাচ্ছে না। চীনের মতোই রোহিঙ্গা সংকটকে অগ্রাহ্য করে সেখানে ব্যবসার সম্প্রসারন ও প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী জাপান। কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দক্ষিণ পূর্ব এশীয় দেশগুলোতেও এমন মানবাধিকার পাশ কাটিয়ে চীনে সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই করতে দেখা গেছে জাপানকে।

তবে টোকিও পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা উচিত। দেশটির বেসরকারি খাতের উচিত জাতিসংঘের ব্যবসায়িক নীতি ও মানবাধিকার মেনে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় এমন কোনও কাজের তারা সহায়তা করা থেকে বিরত থাকবেন এবং তাদের ব্যাবসায়িক সম্পর্কেও যেন তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটা দেখবেন। এর মানে হচ্ছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। দায়িত্বজ্ঞানহীন বিনিয়োগ শুধুমাত্র মিয়ানমার সরকারকে শক্তিশালী করবে এবং রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে বিশ্বের চোখে ধুলা দেওয়ার চেষ্টা করবে।

একইসঙ্গে জাপানি সরকারের উচিত রোহিঙ্গা নিধনে জড়িত মিয়ানমারের সেনাসদস্যের বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা করা। মিয়ানমারে আচরণ পরিবর্তনে জাতিসংঘের প্রস্তাবেও সমর্থন দেওয়া উচিত তাদের। রাখাইনে তদন্তের স্বার্থে জাতিসংঘের বিশেষ  দূতকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে জাপানকে। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচের জাপান দফতরের কর্মী তেপ্পাই কাসাই বলেন, টোকিও ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সমর্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে সেটি হবে মানবতার জন্যে ক্ষতিকর। এসব ব্যবসা মিয়ানমারের সেনাকে সমর্থন করবে এবং রোহিঙ্গা নিপীড়নে সেই অর্থ খরচ করা হবে।  তিনি জাপানের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা করা থেকে বিরত থাকতে বলেন। বরং জাপান সরকার আর্ন্তজাতিক মহলকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমার সরকারকে চাপ প্রয়োগ করা উচিত রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করতে চাপ প্রয়োগ করা উচিত।

আন্ডারগ্রাউন্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম পাকিস্তানে!

আন্ডারগ্রাউন্ডের আন্তর্জাতিক ডন দাউদ ইব্রাহিম। ১৯৯৩ সালে ভারতের মুম্বইতে সিরিজ বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত এই সন্ত্রাসী কোথায়, কি করছেন তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতুহল। এমনই এক সময়ে ভারতের অনলাইন জি নিউজ এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট হিসেবে জানাচ্ছে, দাউদ ইব্রাহিম এখন পাকিস্তানের করাচিতে আত্মগোপন করে আছেন। যদিও বার বার ৫১ বছর বয়সী দাউদ ইব্রাহিমের পাকিস্তানে থাকার কথা অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। কিন্তু জি নিউজ তাকে খুঁজে পেয়েছে বলে বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা তার নতুন ও এক্সক্লুসিভ ছবি প্রকাশ করেছে।
রিপোর্টে বলা হচ্ছে, গোয়েন্দা বিষয়ক এজেন্সিগুলো এসব ছবি পেয়েছে। তিনি যখন তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী জাবির মতিওয়ালার সঙ্গে সাক্ষাত করতে গিয়েছিলেন, তখনই এসব ছবি ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ডি-কোম্পানি হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের প্রধানদের অন্যতম জাবির মতিওয়ালা।
ওই ছবিতে ক্লিন সেভ করা দাউদ ইব্রাহিমকে দেখা যায় মতিওয়ালার সঙ্গে আলাপরত অবস্থায়।
দাউদ ইব্রাহিম গত ২৫টি বছর আত্মগোপন করে আছেন। এ সময়ে বলা হয়, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। হাঁটুতে মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছেন তিনি। কিন্তু নতুন ছবিতে তাকে বেশ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী দেখা যায়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দাউদ ইব্রাহিম এখন বসবাস করেন করাচিতে একটি বাড়িতে। তার পাশেই কোনো একটি বাসায় বসবাস করেন মতিওয়ালা। দাউদের ইব্রাহিমের পরিবার অর্থাৎ স্ত্রী মেহজাবিন ও ছেলে মঈন নওয়াজের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন মতিওয়ালা।
জাবির মতিওয়ালাকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই অর্থ পাচার, চাঁদাবাজি ও হেরোইনের মতো অবৈধ বস্তু যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেছে।  এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুরোধে বৃটেনের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ২০১৮ সালের ১৭ই আগস্ট গ্রেপ্তার করে তাকে। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে বৃটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই, যাতে তার বিচার করা যায়। এফবিআইয়ের মতে, পাকিস্তানে দাউদ ইব্রাহিমের উপস্থিতির বিষয় প্রায় ফাঁস করে দিয়েছেন মতিওয়ালা। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সূত্রমতে, যেহেতু দাউদ ইব্রাহিমের খুব ঘনিষ্ঠ মতিওয়ালা, তাই ডি-কোম্পানির ডন সম্পর্কে তার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে বলে মনে করা হয়।
এমন খবরে ডি-কোম্পানির কর্মকা- সম্পর্কে এফবিআইয়ের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার জন্য যোগাযোগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় এজেন্সিগুলো। ভারতীয় এজেন্সির মতে, ডি-কোম্পানি ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মধ্যে সম্পর্ক বা যোগাযোগ আছে। এক্ষেত্রে মতিওয়ালা হলেন যোগাযোগের মূলে। এ ছাড়া পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গেও মতিওয়ালার যোগসূত্র আছে। এর আগে তিনি ঘন ঘন পাকিস্তান সফর করতেন। এফবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, ১০ বছরের বৃটিশ ভিসা আছে মতিওয়ালার। এর মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে। কিন্তু এরই মধ্যে পরিবারসহ তিনি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন গত কয়েক মাস ধরে। তিনি দুবাইয়ের একটি কোম্পানিতে জমা করেছেন ২০ লাখ ডলারও।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, লন্ডনে পাকিস্তানি হাই কমিশন এরই মধ্যে মতিওয়ালার পক্ষ অবলম্বন করতে এগিয়ে এসেছে। পাকিস্তানি হাই কমিশন বৃটেনের ওয়েস্টমিনস্টার কোর্টের বিচারকের কাছে চিঠি লিখেছে। তাতে বলা হয়েছে, মতিওয়ালা একজন সম্মানিত ব্যবসায়ী। ডি-কোম্পানির সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র নেই। সরকারি একটি সূত্র জি নিউজকে বলেছেন, মতিওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে পাকিস্তান ভয় পাচ্ছে এ জন্য যে, তাতে দাউদ ইব্রাহিম কোথায় আছেন তা প্রকাশ হয়ে পড়বে বিশ্ববাসীর সামনে। এফবিআইয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মতিওয়ালা শুধু মাদক পাচার করেন এমন না। একই সঙ্গে তিনি কালো টাকাকে সাদা করার সঙ্গেও যুক্ত। তাকে ফাঁদে ফেলার জন্য এফবিআই তার সঙ্গে হেরোইন ব্যবসার একটি চুক্তি করে। তা ছাড়া অর্থ পাচার বিষয়েও তার কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে এফবিআই। আদালতে মার্কিন সরকারের এক আইনজীবী বলেছেন, মতিওয়ালা বহুবার পাকিস্তানে গিয়েছেন এবং সাক্ষাত করেছেন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে।

ইস্টার হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্যাথলিকদের মন জয়ের চেষ্টা গোতাবায়ার

শ্রীলংকা পোদুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গোতাবায়া রাজাপাকসা ক্যাথলিকদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন বলে মনে হচ্ছে, যারা ২১ এপ্রিলের ইস্টার সানডে বোমা হামলার ব্যাপারে বর্তমান সরকারের তদন্ত নিয়ে অখুশি। ওই হামলায় প্রায় ৩০০ জন নিহত ও ৫০০ আহত হয়।

পার্লামেন্টের ছয়জন বিরোধী ক্যাথলিক এমপি প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনার কাছে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গোতাবায়া রাজাপাকসা ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি যদি নির্বাচিত হন, তাহলে “শ্রীলংকার ক্যাথলিক চার্চের প্রধান আর্চবিশপ কার্ডিনাল ম্যালকম রঞ্জিতের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তিনি পূরণ করবেন”।

২১ এপ্রিলের হামলার তদন্তে বর্তমান ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের ব্যাপারে কোন রাখঢাক রাখেননি কার্ডিনাল রঞ্জিত।

সন্ত্রাসী হামলার তদন্তের জন্য বহুল আলোচিত পার্লামেন্টারি সিলেক্ট কমিটি (পিএসসি) গঠন করে ইউএনপি, কিন্তু এই কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে শুধু খ্রিস্টানরা নয়, বরং মুসলিমরাও সমালোচনা করেছে। এটাকে মূলত রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে, সিরিয়াস কোন তদন্ত প্রচেষ্টা হিসেবে নয়।

চলতি সপ্তাহে দেয়া এক বিবৃতিতে গোতাবায়া আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই বিষয়টা তিনি এমনভাবে দেখবেন যাতে সব নাগরিকের সুবিধার্থে দেশ থেকে সন্ত্রাস ও চরমপন্থা পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায়।

গোতাবায়া বলেন, “কার্ডিনাল রঞ্জিতের মনোবেদনার বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারি আমি। কারণ নির্দয় বোমা হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারগুলোর ন্যায় বিচারের দাবি এখনও মেটানো হয়নি”।

তিনি আরও বলেন যে, কার্ডিনাল ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা হিসেবে এই অনুরোধ করেননি, বরং সকল শ্রীলংকানের পক্ষ থেকে তিনি এটা বলেছেন।

শ্রীলংকার ৬% ক্যাথলিক সম্প্রদাযের প্রধান কার্ডিনাল ইস্টার সানডের হামলার পর তার ভূমিকার কারণে প্রশংসিত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ঠেকানোর জন্য ভূমিকা রেখে তিনি বড় নেতা হিসেবে প্রশংসিত হন।

তবে, কিছু মুসলিম ও অন্যান্যরা তার ব্যাপারে চরম সমালোচনা করেন, যখন তিনি উগ্র মৌলবাদী বৌদ্ধ ভিক্ষু আথুরিলিয়ে রাথানা থেরোকে দেখতে গিয়েছিলেন। থেরো সে সময় তিনজন মুসলিম রাজনীতিককে বরখাস্তের দাবিতে ক্যান্ডিতে আমরণ অনশনে বসেছিলেন। এই তিনজন রাজনীতিক মুসলিম চরমপন্থার প্রসারে ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

কার্ডিনাল রঞ্জিতকে সাধারণভাবে পশ্চিম-বিরোধী সিংহলী জাতীয়তাবাদী হিসেবে দেখা হয়, তবে তিনি সাম্প্রদায়িক নন। এক বিতর্কিত বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন যে, ২১ এপ্রিল হামলাটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি অস্ত্র ব্যবসার জন্য পশ্চিমা শক্তিগুলোর সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, অন্য দেশে সঙ্ঘাত উসকে দিয়ে এই দেশগুলো সজিব থাকে। এই ধরনের স্বার্থের সামনে দাবার ঘুঁটিতে পরিণত না হওয়ার জন্য তিনি মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ইস্টার হামলার পরবর্তীতে অদক্ষতা দেখানোর কারণে ইউএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রঞ্জিতের কড়া সমালোচনার পাশাপাশি গোতাবায়া ক্যাথলিক ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হামলার স্বাধীন তদন্ত ও বিচারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটা নির্বাচনের সময়ে তাদের মধ্যে একটা শক্ত আবেদন গড়ে তুলবে। খ্রিস্টান ভোটাররা আগে রাজাপাকসার তেমন জোরালো সমর্থক ছিলেন না।

খ্রিস্টানদেরকে সাধারণভাবে ইউএনপি-পন্থী হিসেবে দেখা হয় কারণ তারা বেশি পশ্চিমা-পন্থী এবং উদারপন্থী। ইউএনপি এবং তাদের পশ্চিমা-পন্থী নেতা রানিল বিক্রমাসিঙ্গেকে সমর্থন দেয়ার ইতিহাস রয়েছে তাদের, কারণ বিক্রমাসিঙ্গের পূর্বপুরুষদের মধ্যে খ্রিস্টান ছিল, যদিও তিনি নিজে একজন বৌদ্ধ। তবে, ইস্টার সানডেতে যে আইএস স্টাইলের হামলা হয়েছে, সেটা খ্রিস্টানদের মধ্যে এমন আতঙ্ক তৈরি করেছে যে, তাদের আগের অবস্থান এবার পাল্টে যেতে পারে। খ্রিস্টানরা হয়তো গোতাবায়াকে ভোট দিতে পারেন।

সফররত ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত আহমেদ শাহিদ আলাদাভাবে রোববার মিডিয়াকে বলেছেন যে, ইস্টার হামলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা এখনও মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে এবং তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো থেকে এই অভিযোগ পেয়েছেন যে, তারা এখন পর্যন্ত যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায়নি।

কলম্বোতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন যে, তিনি ইস্টার বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকজনের বাড়িতে গিয়েছেন। তিনি দেখতে পেয়েছেন, ওই ট্রাজেডির পর এই পরিবারগুলো এখনও তাদের জীবন গুছিয়ে উঠতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন যে, ইস্টার সানডে হামলার জবাবে সরকার যে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল, সেটার কারণে কিছু সম্প্রদায়ের লোক তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের রীতিনীতি চর্চা করতে পারেনি।

বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস বেড়েছে এবং এ কারনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সহিংসতা আরও বেড়ে গেছে। শাহিদ আরও বলেন যে, অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, অনেকেই তাদের বিশ্বাসের কারণে হয়রানি এবং দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন।

তবে জাতিসংঘের কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে, শ্রীলংকায় বহু ধর্মকে সমন্বয় এবং গ্রহণের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আইন অনুসারে এখানে একজন ব্যক্তির যে কোন ধর্ম থাকতে পারে, সে যে কোন ধর্ম গ্রহণ এবং পরিবর্তনও করতে পারেন। আর এখানে যে চর্চাটা রয়েছে, সেটা মোটা দাগে আন্তর্জাতিক মানের।

তবে শাহিদ উল্লেখ করেন যে, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায় এবং খ্রিস্টান চার্চের অনুসারীরা হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, সোশাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে এখানে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে এবং ভুয়া খবর ছড়িয়ে আতঙ্ক বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেকে আইন প্রয়োগের উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য রাজনীতিবিদদের দায়ি করেছেন। সহিংস হামলার পর আটক অনেককে ছেড়ে দেয়ার জন্য রাজনীতিবিদরা পুলিশকে চাপ দিয়েছিল বলে শোনা গেছে বলেও জানান তিনি।

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বৌদ্ধ চরমপন্থীদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব ও নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহারের আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সফররত জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সুপারিশ করেছেন যাতে যারা সহিংসতার জন্য এবং সহিংসতা উসকে দেয়ার জন্য দায়ি তাদের বিরুদ্ধে যেন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং কোন নির্দিষ্ট একটি ধর্মের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো যেন বন্ধ করা হয়।

তিনি একই সাথে শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের কথা বলেছেন যাতে এর মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচয়ের বিষয়ে বোঝাপড়া, শান্তি, সহিষ্ণুতা, লিঙ্গ সমতা এবং মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের ধারণাগুলো লালন করা যায়। আন্ত-ধর্ম সংলাপ চালুর জন্য তিনি বৈরুত ঘোষণা ও এর ১৮টি সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ভ্যাটিক্যানে পোপের সাথে সস্ত্রীক দেখা করলেন গোতাবায়া রাজাপাকসা

ভিন্ন কৌশলে বিদেশে থেকে মাদক ব্যবসা: বিক্রি হচ্ছে অনলাইনেও by রুদ্র মিজান

মাদকবিরোধী অভিযান হচ্ছে প্রায়ই। গ্রেপ্তার হচ্ছে মাদক বিক্রেতারা। কখনও কখনও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। তবুও কমছে না মাদক কারবারির সংখ্যা। ঢাকায় অন্তত অর্ধ শতাধিক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে বহাল তবিয়তে। ভিন্ন কৌশলে মাদকের জাল বিস্তার করছে এই চক্র। অনেকে দেশের বাইরে থেকে, অনেকে কারাগারে থেকে মাদক ব্যবসা করছেন ঢাকায়। এছাড়াও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নারীরা।
ঢাকায় শীর্ষ মাদক কারবারিদের মধ্যে অন্তত ২০ জন নারী রয়েছেন। রাতারাতি নিজের আর্থিক অবস্থা পাল্টে দিতে অনেকেই এই ব্যবসায় সম্পৃক্ত হচ্ছেন। মাদক বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ইতিমধ্যে মাদক কারবারিদের সম্পর্কে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে ভয়াবহ তথ্য।
সূত্রমতে, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকেই মূল ব্যবসাস্থল থেকে দুরে থাকেন। অনেকেই বেশিরভাগ সময় থাকেন দেশের বাইরে। বাইরে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করেন ব্যবসা। একাধিক বাসা ভাড়া নিয়ে সহযোগীদের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা। শীর্ষ ব্যবসায়ীদের অনেকেই প্রভাবশালী। প্রভাব খাটিয়ে এই ব্যবসা চালান তারা। ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকার কারণে প্রভাবশালীদের নামও প্রকাশ হয় না। সম্প্রতি মেধাবী অনেক তরুণ এই মরণনেশার বাণিজ্যে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ধানমন্ডির বাসিন্দা হাসিব বিন মোয়াম্মার। মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন তিনি। দেশে ফিরে অল্প সময়ে বিপুল অর্থের মালিক হতে বেছে নেন অন্ধকার পথ। শুরু করেন মরণ নেশা মাদকের কারবার। মোহাম্মদপুরের রাকিবসহ অন্তত ২০ জন তরুণ-তরুণীকে দিয়ে মাদক বিক্রি করাচ্ছিলেন তিনি। বর্তমানে হাসিব কারাগারে থাকলেও ওই সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে জানা গেছে। একইভাবে কারাগারে রয়েছেন শ্যামলী-আদাবর, মোহাম্মদপুর এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞি পাপিয়া ও তার স্বামী বাচ্চু। তাদের অবর্তমানে পলু ও সবুজ নামে দু’জন ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে। বছর খানেক আগে পাপিয়ার মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার বাসা থেকেই ইয়াবা বিক্রি করা হতো। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ভাড়া বাসা ছিলো তাদের। সূত্রমতে, এখন মাদক বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে এসব চক্রের সদস্যরা। বিশেষ করে ইমো, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে অর্ডার নেয় এই চক্র। এমনকি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপও রয়েছে তাদের। এসব গ্রুপে ইয়াবাকে আপেল, বড়ই, আঙ্গুর, বিচি, চকলেট ইত্যাদি নামে সম্বোধন করা হয়। গ্রুপের সদস্যরা নিয়মিত মাদক সেবনকারী।
এরকম একটি গ্রুপের এক সদস্য জানান, গ্রুপগুলো পরিচালনা করে মাঠ পর্যায়ের বিক্রেতারা। শীর্ষ ব্যবসায়ীরা থাকেন আড়ালে। এরকম একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী হচ্ছেন ইসতিয়াক ওরফে কামরুল। ঢাকাসহ সারাদেশে রয়েছে তার নেটওয়ার্ক। আশুলিয়া, সাভার, উত্তরা ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার বাসা রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গত বছরের মে মাসের শেষের দিকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে পালিয়ে যান অনেকেই। একটি সূত্রে জানা গেছে, এরমধ্যে ইসতিয়াকও পালিয়ে গেছে। সূত্রমতে, ইসতিয়াক বর্তমানে মালয়েশিয়াতে অবস্থান করছে। সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তার ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে।
সূত্রমতে, রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার আর্শীবাদে মরণনেশা ইয়াবার বাণিজ্য করে ইসতিয়াক। মিরপুর, উত্তরা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলি, সাভার এলাকায় এখনও তার লোকজন মরণনেশার বাণিজ্য করে যাচ্ছে। মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলি এলাকায় ইসতিয়াকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে শাকিল। শাকিলের এই চক্রে রাজিয়া, মুটি সিমাসহ রয়েছে শতাধিক নারী ও কিশোর। নির্দিষ্ট ক্রেতাদের হোম ডেলিভারি দেয় এই চক্র। এই চক্রের হোতাদের মধ্যে রয়েছে জেনেভা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী ও শেখ মোহাম্মদ সাঈদ ওরফে মাছুয়া সাঈদ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো জিলানীকে। আর  গত বছরের ১৮ই নভেম্বর ২০০ পিছ ইয়াবাসহ সাঈদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
ঢাকার বংশালের ১৬৭ নবাবপুর এমএস মার্কেটে দোকান রয়েছে সাতকানিয়ার নাছির উদ্দিনের। ডেভলাপার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত তিনি। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার পরিচয় ইয়াবার ডিলার হিসেবে। ইতিমধ্যে তাকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। একইভাবে এলিফ্যান্ট রোডের সেল সিদ্দিক প্লাজার বাসিন্দা আসমা আহমেদ ডালিয়া। স্যানিটারী ব্যবসার আড়ালে এই নারীও একজন ইয়াবা ডিলার। সূত্রমতে, কৌশল হিসেবে মাদক বাণিজ্যে জড়ানো হচ্ছে নারীদের। এমনকি ঢাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকায় রয়েছেন অন্তত ২০ নারী। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এলাকার চড়পাড়া কফিক্ষেত গ্রামের মাহমুদা খাতুন ও মিনা বেগম ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা হোম ডেলিভারি দেয়। এছাড়াও চানখারপুরের নার্গিস আক্তার, ধামরাইয়ের বাউখন্ডের সোনিয়া বেগম, কেরানীগঞ্জের পূর্বআড়াকুলের জয়নব, বাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মরিয়ম, কামরাঙ্গীচরের খুরশিদা ওরফে খুশি, মাদারীপুর সুইচগেটের পারভিন আক্তার, ভাটারা জোয়ার সাহারার ইতি বেগম, অঞ্জনা, মণিসহ অনেকেই এই মরণনেশার বাণিজ্যে সম্পৃক্ত।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, প্রায়ই বিভিন্নস্থানে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। এরমধ্যে অনেক বড় ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হচ্ছে। এর আগে যাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা ছিল না। অভিযান, সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানসহ নানাভাবে মাদক প্রতিরোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সক্রিয় বলে জানান তিনি।