Showing posts with label আজকের কাগজ. Show all posts
Showing posts with label আজকের কাগজ. Show all posts

Saturday, August 10, 2019

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ by মো. ওসমান গনি

নিপীড়ন-নির্যাতন-গণহত্যার শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে দিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক শক্তি চীন ও ভারতের সমর্থন আদায়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সরকার। বিশেষ করে মিয়ানমারের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাববিস্তারকারী দেশ চীনকে এ ইস্যুতে পাশে পেতে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরের সময় ‘রোহিঙ্গা সংকট’ নিয়ে আলোচনা করেন। কারন বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ হিসাবে চীনের হাতেই রয়েছে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনের চাবি। যদিও মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং গভীর। অন্যদিকে বাণিজ্যস্বার্থের কারণে ভারতের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক চমৎকার। বিশ্বের শক্তিশালী এ দুটি দেশের প্রত্যক্ষ সমর্থনের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো ধরনের সৌজন্যতাও প্রদর্শন করছে না। দেশটির ওপর দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক চাপেও কোনো ফল আসছে না। তাই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে এই মুহূর্তে চীনের সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের হাতে।

জাপান সৌদি আরব ফিনল্যান্ড সফর শেষে গত মাসের ৯ তারিখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই জানিয়েছিলেন, নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আলোচনা করতে তিনি চীন সফর করবেন। কারণ সারা বিশ্ব চাইছে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরুক কিন্তু মিয়ানমার তাদের ফেরাতে চাইছে না। এ সংকট নিরসনে চীনের দিক থেকে সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হাতে হত্যা ধর্ষণ নির্যাতনের মুখে পড়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসতে থাকে রোহিঙ্গাস্রোত। তারও আগে আশি ও নব্বই দশকে একই পরিস্থিতির মুখে পড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল লাখ লাখ রোহিঙ্গা। কিছু কিছু রোহিঙ্গা মিয়ানমার ফেরত নিলেও প্রত্যাবাসন জটিলতা ও দেশটির অনাগ্রহের কারণ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা রয়ে যায় বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে। এমনকি গত কয়েক দশকে অনেক রোহিঙ্গা মিশে গেছে বাংলাদেশের মূল জনস্রোতে। সে সংখ্যা অনুমান করা হয় ৫ লাখেরও বেশি। এ সংখ্যা নিবন্ধিত নয়। নতুন করে আসা প্রায় ৮ লাখসহ টেকনাফ উখিয়ার ক্যাম্পে বর্তমানে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছে ১১ লাখের বেশি। বিপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিলেও এ সঙ্কটকে দীর্ঘমেয়াদি করার বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বাংলাদেশ। ইতোমধ্যেই দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিরূপে আবির্ভূত হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এ নিয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যেও বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ। এ পরিস্থিতিকে আর বাড়তে দিতে চায় না সরকার। দ্রুততম সময়ে এ সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রত্যাশা করছে সরকার।

ইতোমধ্যে জাতিসংঘ ও ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বললেও চীন ও ভারত সমস্যা সমাধানে আগ্রহপূর্ণ ভূমিকা রাখেনি। উপরন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার ভেটো প্রদান সংকটকে আরো প্রলম্বিত করেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের মতো দীর্ঘদিনের প্রতিবেশীর আচরণ এবং চীনের মতো বন্ধু ও বাণিজ্যিক অংশীদারের ভূমিকা বাংলাদেশকে অনেকটা বিপাকে ফেলে দিয়েছে।

অন্যদিকে চীন-ভারতকে পাশে পেয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে কিছুই মনে করছে না মিয়ানমার। চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নানা টালবাহানার আশ্রয় নিচ্ছে দেশটি। রোহিঙ্গাদের ফেরানোর পরিবেশ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও মিয়ানমার সে রকম কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। উপরন্তু আরাকান বা রাখাইনের পরিস্থিতি দিন দিন ‘অনিরাপদ’ করে তোলা হচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গারাও নিরাপত্তার অভাবে নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। এ অবস্থায় মিয়ামনার চীনের ‘প্রশ্রয়’কেই হাতিয়ার করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের তরফ থেকে চাপ দেওয়ার পরও কোনোভাবে মতি ফেরানো যাচ্ছে না মিয়ানমারের।

গত ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পরপরই রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের লক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে তারা। তারই অংশ হিসেবে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের পর পুনর্বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভারতের অকৃপণ সহযোগিতা কামনা করেছেন। মোদিও রাষ্ট্রপতিকে রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ও দিয়েছিলেন।

যদিও নানা আঞ্চলিক স্বার্থের কারণে মিয়ানমারের প্রতি অধিকতর প্রশ্রয়পূর্ণ মনোভাব ও দুর্বলতা রয়েছে চীনের। চীন মিয়ানমারের বড় প্রতিবেশীও বটে। তাই মিয়ানমারের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাববিস্তার করতে পারে দেশটি।

চীনের মতো দেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নয় বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তবে বাণিজ্যিক স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখার ব্যপারে চীন সবসময় সজাগ। গত দু’দশকে চীনের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে হচ্ছে। সেই বাণিজ্য মালাক্কা প্রণালি দিয়ে হয়। চীন জানে যে তার সঙ্গে শত্রুভাবাপন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক মিত্ররা চাইলেই চীনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে। মালাক্কা সংকটের কথা মাথায় রেখেই চীন স্থলপথে বিভিন্ন পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল এবং গ্যাস যাতে চীনে পৌঁছাতে পারে- তার ব্যবস্থা করেছে। এরকম দুটি পাইপলাইন আরাকান অর্থাৎ মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে এসে পৌঁছেছে। ভারতেরও এ ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে কালাদান এবং সিটওয়ে বন্দরে। কিন্তু চীনের অর্থনীতির জন্য এ দুটি পাইপলাইন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সে জন্য চীন চায় না যে, মিয়ানমার সরকার যেন আরাকানের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ হারায় বা আরাকানকে কেন্দ্র করে চীন-মিয়ানমার সম্পর্ক খারাপ হোক।

এছাড়া চীন মিয়ানমারের আকিয়াব উপকূলে বাণিজ্য ঘাঁটি স্থাপন করছে এবং বন্দর স্থাপনের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। রোহিঙ্গারা যেসব এলাকায় থাকতো সেসব এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে এসব এলাকা। এসব স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রাখার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে বারবার ভেটো প্রদান করে মিয়ানমারকে সন্তুষ্ট রাখছে চীন। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিকীকরণ না করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে চীন। অথচ বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সংকট এখন ‘জীবন-মরণ সমস্যা’ হয়ে দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মিয়ানমারের সঙ্গে যে বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে তার চেয়ে কম স্বার্থ জড়িত নয় চীনের। মিয়ানমারে চীনের বিনিয়োগ প্রায় দু’হাজার কোটি ডলারের মতো। অপরদিকে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় চার হাজার কোটি ডলার। এ ছাড়া ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ঢাকা সফর করার পর ২ হাজার কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশকে আগে কখনোই একসঙ্গে এত অর্থসহায়তা দেয়নি অন্য কোনো দেশ। ফলে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আমলে নিতে হবে চীনকে। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পারলে নিজদের বিনিয়োগও নিরাপদ থাকবে-এ বিষয়টি ভাবতে হবে চীনকে। বাংলাদেশকে সমর্থ হতে হবে চীনকে এ বিষয়ে বোঝাতে।

>>>লেখকঃ মো. ওসমান গনি (সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

Wednesday, August 7, 2019

বখাটে থেকে রক্ষা পেতে ইউএনওকে স্কুলছাত্রীর চিঠি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বখাটের অত্যাচার ও বাল্যবিয়ে থেকে নিজেকে রক্ষা পেতে জেলার আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজিমুল হায়দারকে চিঠি দিয়েছে জেলার বেড়তলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর মেধাবি ছাত্রী মোমিনা আক্তার ।
আশুগঞ্জ নির্বাহী অফিসারের দফতরে চিঠি নিয়ে যান স্কুলছাত্রী মোমিনা আক্তার নিজেই।
চিঠিতে আশুগঞ্জ উপজেলার বইগর গ্রামের মোমিনা আক্তার লেখেন, আমি জেলার সরাইল উপজেলার বেড়তলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। আমার শ্রেণী রোল নম্বর দুই। চার বছর আগে আমার বাবা গ্রামের দুস্কৃতিকারীদের হাতে খুন হন। সেই থেকে আমার পরিবার চরম অসহায়ত্বের মাঝে দিনযাপন করে আসছে।
চিঠিতে মোমিনা অভিযোগ করেন, অভিভাবকহীন পরিবারের মেয়ে হওয়ার সুযোগ নিয়ে বইগর গ্রামের শেখ সাদি ভূইঁয়ার বখাটে ছেলে উছমান ভূঁইয়া প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করে।
এতে বখাটের অভিভাবকদের কাছে বিচার দিলে ওই বখাটে মোমিনাকে জোরপূর্বক বিয়ের ঘোষণা দেয়।
এদিকে বিয়ের খবর পেয়ে মোমিনা বাড়ি থেকে পালিয়ে জেলার সরাইল উপজেলার কাটানিশার গ্রামে বড় বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
জানা গেছে, শনিবার (৩ আগস্ট) বখাটে উছমান ভূঁইয়া সেখানে গিয়ে মোমিনাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনার বিবৃতি দিয়ে স্কুলছাত্রী মোমিনা আক্তার জানায়, আমার বিয়ের বয়স হয়নি। আমি পড়ালেখা করতে চাই। আমার বড় তানজিনা আক্তার নামে এক বোন অবিবাহিত অবস্থায় আছেন। তিনি তিন্নি আনোয়ারা মহিলা কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্রী। আমি এই বখাটের সঙ্গে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে সকলের সহযোগিতা চাই।
এ বিষয়ে মোমিনার বড় ভাই সালমান আমিন জানান, ওসমান ভূইয়ার অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট। আমরা এই ঘটনার ন্যায় বিচার চাচ্ছি।
এই ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজিমুল হায়দার বলেন, স্কুলছাত্রী মোমিনা আক্তারের চিঠি পেয়েছি। ওই ছেলেসহ ও তার অভিভাবদের আমি ডেকে পাঠিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযুক্ত বখাটে ও ইউএনওকে দেয়া মোমিনা আক্তারের চিঠি

Monday, August 5, 2019

এরশাদ শিকদার-নয়ন বন্ড যেন আর ফিরে না আসে! by মোঃ সদরুল কাদির

অপরাধ করার পর মুচলেকা বা জামিনে মুক্ত করে অপরাধীদের নতুন করে সুযোগ করে দেয়া আমাদের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে লিয়াজু রেখে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেক বড় মাপের অপরাধী খুব সহজেই ছাড়া বা জামিন পায়। যেখানে ১৫৪ ধারায় অভিযুক্ত সন্দেহভাজন অপরাধীরাও সুবিধা না পেয়ে জেলহাজতে চলে যায়।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার পর অপরাধীর বিচার শুরু হয়ে থাকে। কিন্তু যখন অপরাধী অপরাধ করে প্রকাশ্য দিবালোকে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় তখন সে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের এজেন্ট বা ডান হাত বলে বিবেচিত হয়। যার ফলশ্রুতিতে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়।

এইসব অপরাধীরা সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের অপকর্ম বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা জানে কোন সমস্যা হলে বড় ভাই-মামা-চাচা-খালু নামক জনপ্রতিনিধিরা তাদেরকে সাদা কাগজে মুচলেকা বা জামিনকারীর স্বাক্ষর দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে।

বিশ্বজিতের পরিবার কি বিচার পেয়েছে? রিফাতের পরিবার কি দেখে যেতে পারবে তাদের সন্তান হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শাস্তি? সাগর-রুনি, তনুর মত একসময় সবাই ছবি হয়ে যাবে। হয়তো মুড়ির ঠোঙা না হলে পেয়ারা মাখানো কাগজের টুকরোতে তাদের সন্ধান মিলবে।

তাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আমাদের আহ্বান অপরাধীদের কোন রকম ছাড় না দিয়ে সাথে সাথেই বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা। অনেকেই ক্রসফায়ারের বিরোধীতা করেন। আপনারাই বলেন ক্রসফায়ার এইসব ক্ষেত্রে কতটুকু জরুরী? ক্রসফায়ারের ভয়ে অনেক অপরাধী আছে যারা আজ‌ও দেশে ফিরে আসে নি।

দেশে আর কোন এরশাদ শিকদার-নয়ন বন্ড’রা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার আশেপাশে কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখা মাত্রই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দিন। তাতে দেশ ও দশের কল্যাণ হবে।

>>>লেখক : মোঃ সদরুল কাদির (সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

Sunday, July 21, 2019

ছেলেধরা আতংকে দেশের মানুষ: হুজুগে পিটিয়ে মানুষ হত্যা by মো. ওসমান গনি

সারাদেশে মানুষের মনে ছেলে ধরা আতংক বিরাজ করছে।যা নিয়ে দেশের মানুষের অস্থিরতা বিরাজ করছে। পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে’- ফেসবুকে এমন স্ট্যাস্টাস দিয়ে গুজব রটানোর পর সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১০ দিনে

রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি জেলায় ছেলেধরা সন্দেহে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ২০জুলাই এরুপ সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে তিনজন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এরুপ গুজব ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে পদ্মাসেতু প্রকল্প পরিচালক।

তা ছাড়া গুজব রটানোর অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে। তারপরও আতঙ্কে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা। আবার স্কুলে পাঠালেও তাদের সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছেন তারা।

তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হতে বলা হয়েছে, পদ্মাসেতুতে মাথা লাগার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। এমন সন্দেহে (ছেলেধরা) গণপিটুনিতে হত্যা করা ফৌজদারী অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান ও জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

গত ১০জুলাই থেকে ২০জুলাই (শনিবার) পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকায় ছেলেধরা সন্দেহে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি জেলায় একই সন্দেহে বেশ কয়েকজন গণপিটুনিতে আহত হয়েছেন।

সর্বশেষ রাজধানীর উত্তর বাড্ডায়, নারায়ণগঞ্জ ও কেরাণীগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

উত্তর বাড্ডায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানীয়দের দাবি, বোরকা পরিহিতি তিন নারী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই বিদ্যালয় ও এর পাশে একটি

মাদরাসার কাছে যান। তারা স্কুলের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। বাধার মুখে দু’জন পালিয়ে গেলেও আরেকজন গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা যান।

নিহতের নাম তাসলিমা (৪০)। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর। সে আসলে ছেলেধরা

ছিল না। সন্দেহবশত তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

অপরদিকে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুই স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো এক নারী।

মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকায় আইডিয়াল ইসলামিক কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্লে-গ্রুপের এক শিক্ষার্থীকে সকাল ৮টার দিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল এক যুবক। ওই শিক্ষার্থী তাকে দেখে স্যার স্যার বলে চিৎকার করলে যুবকটি তাকে নিজের মেয়ে বলে পরিচয় দেয়। এ সময় ওই যুবককে দাঁড়াতে বললে সে একটি রিকশা নিয়ে চলে যাওয়ার

চেষ্টা করে। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে শারমিন বেগম (৩৫) নামে এক নারী এক প্রবাসীর বাড়িতে গেলে

তাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করা হয়। তবে নিহত যুবক ও আহত নারীর কেউ-ই ছেলেধরা নয় বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন পারভেজ।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে গত শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার

দিকে ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত পরিচয় দুই যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে।

‍এর আগে গত ১৯জুলাই (বৃহস্পতিবার) নেত্রকোনা শহরের নিউ টাউন এলাকায় সজীব নামে

সাত বছর বয়সী এক শিশুর কাটা মাথা ব্যাগে ভরে ঘোরাফেরা করার সময় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। চলতি মাসের ১০ তারিখে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের চাঁদগেটে ছেলেধরা সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা। প্রথমে তার পরিচয় জানা যায়নি। পরে পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। এবং সে

ছেলেধরা ছিল না বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ওসি জি জি বিশ্বাস।

একই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত (৩০) এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া, ছেলেধরা সন্দেহে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে রেহেনা বেগম (৪৫) নামের এক নারীকে

আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় মমতাজ খাতুন (৪৫) নামে আরেক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এক বাচ্চাকে আদর করতে গেলে সন্দেহবশত তাকে মারধর করা হয়।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় গলাকাটায় জড়িত

সন্দেহে মালেকা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। পাবনার চাটমোহরে উপজেলার বনগ্রাম বাজারে রাসেল রানা (৩২) নামে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

চট্টগ্রামের পটিয়াতে ২০ জুলাই (শুক্রবার) মধ্যরাতে একই সন্দেহে গণধোলাইয়ের শিকার

ব্যক্তির নাম মাসুদ (৩৮) নামে ব্যক্তি। তবে এরা কেউ-ই ছেলেধরা নয়; প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে এমনটি নিশ্চিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

দিনকে দিন ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ও আহত হওয়া নিয়ে পুলিশের সদর দফতর হতে বলা হচ্ছে, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল

পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল এবং গণপিটুনি দিয়ে মৃত্যু ঘটানো ফৌজদারি অপরাধ। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে এ পর্যন্ত যতগুলো নিহতের ঘটনা ঘটেছে পুলিশ প্রত্যেকটি ঘটনা আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছে। এসব ঘটনা তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য মানুষের মাথা লাগবে বলে যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, মূলত তা থেকে এই ছেলেধরা গুজব রটানো হচ্ছে। তবে এই গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। গত ৯ তারিখে পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি গুজবের

বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি মহল সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ব্রিজ নির্মাণে মানুষের মাথা প্রয়োজন হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরুপ গুজব রটানোর অভিযোগ গত ১৩ তারিখে নড়াইল, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা ও রাজবাড়ী থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

যারা এরুপ গুজব রটিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে আইন-শৃংখলা বাহিনী

সোচ্চার রয়েছে। এই ছেলে ধরা গুজব বন্ধ করতে হলে দেশের আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাথে সাথে দেশের সচেতন মানুষদের কে এগিয়ে আসতে হবে।সাথে সাথে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে,মসজিদে,মন্দির গুলোতে ব্যাপক প্রচার -প্রচারনা চালাতে হবে।পাড়া-মহল্লায় এলাকার লোকজনদের কে মিটিং করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

>>>লেখক- মো. ওসমান গনি (সাংবাদিক ও কলামিস্ট)