Tuesday, December 21, 2010

আলোচনা- শ্রমিক অসন্তোষ বর্তমান প্রেক্ষিত by বকুল আশরাফ

পুলিশ লাঠিপেটা করছে একজন নারী শ্রমিককে। শ্রমিকরা রাস্তায় আন্দোলন করেছে সরকার ঘোষিত নির্ধারিত বেতন পরিশোধের দাবীতে। ভাঙ্গচুর করেছে কারখানার একাংশ এবং গাড়ী জ্বালিয়েছে বেশ কয়েকটি। নিহত হয়েছে তিন থেকে চার জন। এসবই এই বিজয়ের মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম দিকের ঘটনা। বাংলাদেশে সব মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে এইসব ঘটনা। পত্রিকায় ছবি ছেপেছে ।

মুক্তিযুদ্ধ- জীবন ব্যাকরণঃ দর্জির মুক্তিযুদ্ধ by আমিনুর রহমান সুলতান

র্জিদের কথা ভুলতে বসেছি অনেকেই। কেউ কেউ হয়তো বলবেন, কী এমন কথা যে, তাদের মনে করতেই হবে বা রাখতেই হবে? দর্জি তো দর্জিই। দর্জিরা বড়জোর বাংলাদেশের কোথাও কোথাও খলিফা নামে পরিচিত। কে না জানে যে, সূচিকর্মজীবদের দর্জি বা খলিফা বলা হয়। পোশাক তৈরি ও কাপড় সেলাই করা যার পেশা'। সামাজিক মর্যাদা যে তাঁদের নেই এমনও বলা যাবে না। তাহলে আক্ষেপ কেনো তাদের কথা নিয়ে!

তথ্যের অধিকার ও জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

বশেষে জামিনে মুক্তি পাইয়াছেন বিশ্বে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। গত বৃহস্পতিবার লন্ডন হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাহাকে মুক্তি দেয়। ইহার আগে গত মঙ্গলবার তাহার জামিনের বিরুদ্ধে দুইদিনের ব্যবধানে একটি আবেদন করা হইবে মর্মে তাহাকে মুক্তি দেওয়া হয় নাই। ব্রিটেনের আদালতে বিচারকের এই আদেশ শুনিয়া সে সময় অ্যাসাঞ্জের সরল মন্তব্য ছিল, 'আমি সবকিছু বুঝতে পেরেছি'।

রাজনৈতিক আলোচনা- শালীন ও সংযত কথাবার্তা কি শুধু একতরফা হতে হবে? by আবদুল গাফফার চৌধুরী

ঢাকা থেকে অন্তত:পাঁচটি টেলিফোন কল এবং দু'টি ফ্যাক্স মেসেজ না পেলে হয়তো এই কলামটি লিখতাম না। যারা টেলিফোন করেছেন এবং ফ্যাক্স পাঠিয়েছেন তারা কেউ যদু-মধু নন। সকলেই_ কেউ বুদ্ধিজীবী, কেউ প্রবীণ রাজনীতিক, প্রাক্তন ছাত্রনেতা এবং নিজেই একজন কলামিস্ট। অনুমতি না নিয়ে তাদের নাম প্রকাশ করলে তারা অসন্তুষ্ট হতে পারেন এই ভেবে নাম প্রকাশে বিরত রইলাম।

ভারতীয় ঋণে আশুগঞ্জ নদীবন্দর নির্মিত হচ্ছে

ভারতীয় ঋণে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা ব্যয়ে আশুগঞ্জ কনটেইনার নদীবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে এই বন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করবে সরকার। ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট সুবিধা দিতে ভারতীয় পণ্য পরিবহনে এই বন্দর ব্যবহার করা হবে।ইতিমধ্যে আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নদীবন্দর স্থাপন প্রকল্প প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য তথা ভারতীয় ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ২১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা আর স্থানীয় মুদ্রায় জোগান দেওয়া হবে সাড়ে ২৬ কোটি টাকা।
আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হতে পারে।পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধা দেওয়ার অংশ হিসেবে এই বন্দরটি স্থাপন করা হবে। মূলত কলকাতা থেকে নৌপথে আসা পণ্যবাহী কনটেইনার এই বন্দর দিয়ে আখাউড়া হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে যাবে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর থেকে নৌপথে পরিবাহিত কনটেইনার ওঠানামা করতেও এই বন্দর ব্যবহার করা হবে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জে নদীতীরে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের কাজ ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০১৩ সালের জুন মাস নাগাদ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, আশুগঞ্জ বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় চার লাখ টিইইউ (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের) কনটেইনার যাবে। এর প্রায় পুরোটাই ভারতীয় পণ্য। শুধু ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত নৌ প্রটোকলের আওতায় বন্দরটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাবনায়।এই বন্দর নির্মাণে মোট ১৩ হেক্টর বা ৩২ একর জমি প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে আট হেক্টর বা পৌনে ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে আর বাকি ১২ একর জমি ইজারা নেওয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় কনটেইনার জেটি, মাল্টিপারপাস জেটি ও ইয়ার্ড, ব্রিজসহ এক্সেস রোড, তীর সংরক্ষণ, ট্রানজিট শেড, কার্গো শেড, অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে।ইতিমধ্যে সরকার আশুগঞ্জ নৌবন্দরকে ‘পোর্ট অব কল’ ঘোষণা করেছে। পোর্ট অব কল বলতে বোঝায় যেসব নৌবন্দরে সাধারণত পণ্যবাহী জাহাজের মালামাল ওঠানামা করা হয়।বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে একটি যৌথ ঘোষণাও দেওয়া হয়। এতে ভারতকে পণ্য পরিবহনে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রানজিট বা ট্রানশিপমেন্ট দেওয়ার জন্য অবকাঠামো নির্মাণসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয় ভারত। এই ঋণের টাকাতেই আশুগঞ্জ কনটেইনার নদীবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারতীয় ঋণের অন্যতম শর্ত হলো ৮৫ শতাংশ ক্রয় কার্যক্রম ভারতের সঙ্গে হতে হবে। এটি মূলত সরবরাহকারী ঋণ।

বাজার সামাল দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এসইসির

শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ সোমবার সকালে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এসইসির চেয়ারম্যান জানান, বৈঠকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
জিয়াউল হক খোন্দকার আরও জানান, বাজারের তারল্য সংকট কাটানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাজার দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গতকাল রোববার দেশের দুই শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতন ঘটে। সাধারণ সূচকও নেমে যায় ৫০০-রও বেশি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের সভা আহ্বান করা হয়। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন ও লিস্টেড কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংকের সুষ্ঠু তহবিল-ব্যবস্থাপনা জরুরি-মুদ্রাবাজার যখন অস্থির

দেশের মুদ্রাবাজারে গত সপ্তাহে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দৈনন্দিন লেনদেনের চাহিদা মেটাতে গিয়ে একে অন্যের কাছ থেকে অত্যন্ত চড়া সুদে দৈনিক ভিত্তিতে ঋণ নিয়েছে। এর ফলে কলমানি বলে পরিচিত আন্তব্যাংক ঋণের সুদের হার একপর্যায়ে ১৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়, যা মুদ্রাবাজারে নগদ অর্থের বড় ঘাটতি প্রমাণ করে। বিষয়টি ব্যাংকের সুষ্ঠু তহবিল-ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বস্তুত, কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাত্রাতিরিক্তভাবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে চলেছিল। এটা একদিকে যেমন শেয়ারবাজারকে কৃত্রিমভাবে স্ফীত করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে, অন্যদিকে এই ফাটকাবাজিমূলক স্ফীতি বাজারে অতিসংশ্লিষ্টতা ব্যাংকের ঝুঁকির মাত্রাও উঁচুতে নিয়ে গেছে। কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ঋণ দেওয়ার চেয়ে অনুৎপাদনশীল শেয়ারে বিনিয়োগ করায় ব্যাংকের উৎসাহের পেছনে বাড়তি মুনাফার তাগিদ কাজ করেছে। তবে তা বহুলাংশে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
সর্বোপরি মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ বাড়তে শুরু করায় বাজারে মুদ্রার জোগান নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতিকে নিয়ন্ত্রণমূলক করে বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ নগদ জমার হার। সংগত কারণেই ব্যাংকগুলো বাধ্য হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে। পাশাপাশি বছর শেষ হয়ে আসায় বার্ষিক হিসাব প্রস্তুত এবং একই সময়ে আমদানি-ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের চেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে ব্যাংকগুলোর। ফলে তারা মুদ্রাবাজার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অধিক ঋণ নেওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। শেয়ারে খাটানো অর্থও তুলে আনতে হচ্ছে, যা আবার শেয়ারবাজারে সামগ্রিক বিক্রির চাপ বাড়িয়ে বাজারকে নিম্নমুখী করেছে।
কিন্তু সিআরআর বাড়ানোয় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে গেলেও গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে। তার পরও কলমানির হার এত চড়া হওয়া ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনার অদক্ষতারই প্রতিফলন। তাই ব্যাংকগুলোকে বরং এখন তাদের তহবিল ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক ও দক্ষ হতে হবে। বিশেষত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন কয়েক মাস ধরেই মুদ্রার জোগান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একের পর এক আভাস দিচ্ছিল, তখনই তা বিবেচনায় নিয়ে আগামী দিনের তহবিল ব্যবহারের সুপরিকল্পনা করা প্রয়োজন ছিল। শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করার দোহাই পেড়ে এই শিক্ষাকে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই।

আফগানিস্তানে পৃথক আত্মঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত

আফগানিস্তানে গতকাল পৃথক আত্মঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কাবুলে সেনাবাহিনীর একটি বাসে আত্মঘাতী হামলায় পাঁচজন সেনা কর্মকর্তা ও তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন হামলাকারী মারা গেছেন। আহত হয়েছেন নয়জন। এদিকে উত্তরাঞ্চলীয় কুন্দুজ প্রদেশে সেনাবাহিনীর নিয়োগ কেন্দ্রে অপর আত্মঘাতী হামলায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, কাবুলের একটি সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে সেনা কর্মকর্তারা প্রতিদিনের মতো বাসে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। ওই সময় কয়েকজন আত্মঘাতী হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। সেনা কর্মকর্তারাও পাল্টা গুলি চালান। এতে দুই হামলাকারী নিহত হয়। অপর এক হামলাকারী তার দেহের সঙ্গে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়। এতে পাঁচ সেনা ও তিন পুলিশের মৃত্যু হয়।
কুন্দুজ প্রদেশে চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী একটি সামরিক নিয়োগ কেন্দ্রে হামলা চালালে দুই সেনা সদস্য নিহত হন।

ইরানে জ্বালানি তেল ও খাদ্যে ভর্তুকি কমানো হয়েছে

ইরানে জ্বালানি তেল ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি কমানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। গতকাল রোববার থেকে এই ঘোষণা কার্যকর হয়েছে।
ইরানে একটি গাড়ির জন্য মাসে ৬০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। ভর্তুকি থাকায় ওই তেল কিনতে এক হাজার রিয়াল ব্যয় হতো। ভর্তুকি কমানোয় গতকাল থেকে একই পরিমাণ তেলের জন্য চার হাজার রিয়াল ব্যয় করতে হচ্ছে।

বরাদ্দ স্থগিত করার অঙ্গীকার যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ব্যয় নির্বাহ করতে নিজেদের কোষাগার থেকে আগামী নয় বছরের জন্য অর্থ বরাদ্দ ছাড় স্থগিতের অঙ্গীকার করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি। গত শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই অঙ্গীকার করেন তাঁরা। এতে নেদারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের নেতারাও স্বাক্ষর করেন।
ওই যৌথ বিবৃতিতে ইইউর নেতারা বলেন, ইইউর ব্যয় বৃদ্ধির রাস টেনে ধরতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ২০১৪ সাল নাগাদ খরচ বাড়া পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই উদ্যোগ চলতে থাকবে। ইতিমধ্যেই খরচ বৃদ্ধির হার ৬ থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর জাতীয় সরকার ইইউর এই ব্যয় বৃদ্ধিতে নাখোশ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশগুলোর নেতারা এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের নীতি গ্রহণ করা হয়। এতে ওই সব দেশের সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। কিন্তু ইউরোপজুড়ে এই ব্যয় সংকোচনের প্রভাব পড়েনি পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনীতিকদের ওপর।
ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা টেলিগ্রাফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্যামেরন, মেরকেল ও সারকোজির প্রতিশ্রুতি ঘোষণার পরও ইইউতে ‘অপ্রয়োজনীয়’ পররাষ্ট্র শাখা যুক্ত হতে যাচ্ছে। আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে ওই শাখার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। ইউরোপিয়ান এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) নামের এই শাখার দায়িত্বে থাকছেন ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারনেস অ্যাশটন। এই শাখায় ঊর্ধ্বতন পদে ২০ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হবে, যাঁদের পেছনে আগামী নয় বছরে খরচ হবে কমপক্ষে দেড় কোটি পাউন্ড।
এ ছাড়া ইইউর প্রেসিডেন্ট হারমান ফন রুম্পেই সম্প্রতি নিজের অফিসের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেছেন, যদিও তাঁর জন্য দুই কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড ব্যয়ের বিশাল অফিস বানানো রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া রাজনীতিকদের অন্যতম রুম্পেইর বার্ষিক বেতন দুই লাখ ৬৩ হাজার পাউন্ড, যা ডেভিড ক্যামেরনের চেয়ে এক লাখ ২০ হাজার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চেয়ে পাঁচ হাজার পাউন্ড বেশি। ইইউতে চাকরিরত অন্য রাজনীতিকদের বেতনও তুলনামূলক বেশি। যেমন, অ্যাশটন পান বছরে দুই লাখ ৩০ হাজার ৭০২ পাউন্ড। ইইএএসের শীর্ষ ৫০ কর্মকর্তার বেতন এক লাখ ৫৭ হাজার পাউন্ড থেকে এক লাখ ৭১ হাজার পাউন্ডের মধ্যে, যা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বেশি।
আগামী জানুয়ারিতে চালু হতে যাওয়া ইইএএসের ব্যয় নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইইউর অনেক সদস্যদেশের কর্মকর্তা ও কূটনীতিকেরা এ ধরনের শাখা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ ব্যাপারে ইইউর নেতাদের স্বাক্ষরিত শনিবারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্যয় অবশ্যই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।

শান্তি-প্রক্রিয়া গভীর কোমায় রয়েছে

ফিলিস্তিনের শান্তি-প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী নাবিল শাথ বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি-প্রক্রিয়া ‘গভীর কোমায়’ রয়েছে। শান্তি আলোচনা আবারও শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ‘সম্পূর্ণ অকার্যকর’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত শনিবার পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের কাছে বেইত সাহুর এলাকায় তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
নাবিল জানান, ‘শান্তি-প্রক্রিয়া গভীর কোমায় রয়েছে। আমি মনে করি, কেউই চায় না এ প্রক্রিয়া উজ্জীবিত হোক। আমরাও শিগগিরই কোনো সমঝোতা আলোচনা শুরু করছি না।’
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। এ ধরনের প্রয়াস অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়েছে এবং পরিহাসে পরিণত হয়েছে।
ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে দুই পক্ষের সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধ রাখার শর্ত বেঁধে দিয়েছিল ফিলিস্তিন। এই শর্ত মানেনি ইসরায়েল। ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধ রাখতে ইসরায়েলকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন পরোক্ষ আলোচনার প্রস্তাব দেন।
তাঁর এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনিরা এখন বিকল্প উদ্যোগ নিচ্ছে। স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে জাতিসংঘের অনুমোদনের চেষ্টা করছে।
গত শনিবার ফিলিস্তিনকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলিভিয়া। এ মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে একই স্বীকৃতি দেয়।
দক্ষিণ আমেরিকার এ ধরনের স্বীকৃতির সমালোচনা করে ইসরায়েল বলেছে, এ উদ্যোগ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন চুক্তির পরিপন্থী। ওই চুক্তি অনুযায়ী কেবল ইসরায়েলের অনুমোদন পেলেই ফিলিস্তিন স্বাধীন দেশের মর্যাদা পাবে।

আফগানিস্তানে চলতি বছর ৭০০ বিদেশি সেনা নিহত

আফগানিস্তানে ২০১০ সালে ৭০০ বিদেশি সেনা নিহত হয়েছে। ২০০১ সালে দেশটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযান শুরু হওয়ার পর দেশটিতে বিদেশি সেনার প্রাণহানির সংখ্যা এ বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত দেশটিতে দুই হাজার ২৭০ জন বিদেশি সেনা নিহত হয়েছে। এদের দুই-তৃতীয়াংশই মার্কিন সেনা। ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে ৫২১ জন বিদেশি সেনা নিহত হয়েছিল।
২০১০ সালে আফগানিস্তানে বিদেশি সেনা নিহত হওয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে এ বছর আফগান সেনা ও পুলিশের প্রাণহানির সংখ্যাও বেড়েছে। এ ছাড়া ২০১০ সালে তালেবান জঙ্গিদের হাতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
২০১৪ সাল নাগাদ দেশটির নিরাপত্তার দায়িত্ব স্থানীয় পুলিশ ও সেনাদের হাতে ন্যস্ত হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে লিসবন বৈঠকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ২০১১ সালের জুলাই মাস নাগাদ আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে।

যুদ্ধাপরাধ তদন্ত কমিশনে জাতিসংঘের প্রতিনিধি রাখতে রাজি শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা সে দেশের সরকার গঠিত একটি যুদ্ধাপরাধ তদন্ত কমিশনে জাতিসংঘের একজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি হয়েছে। গতকাল রোববার শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।
২০০৯ সালের মে মাসে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী দমনে সামরিক বাহিনী যে চূড়ান্ত অভিযান চালায় তাতে সেনাবাহিনী নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক লোককে নির্বিচারে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সেখানে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠাতে চাইলে সরকার তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আন্তর্জাতিক তদন্ত নাকচ করে দিয়ে তার বদলে শ্রীলঙ্কা ‘লেসনস লার্নট অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ (এলএলআরসি) নামের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এলএলআরসিতে জাতিসংঘের একজন প্রতিনিধি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তারা জাতিসংঘকে ইতিমধ্যে প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য আমন্ত্রণও জানিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এলএলআরসিতে জাতিসংঘের প্রতিনিধি রাখা হলেও ওই কমিশন আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।

আমাকে বরখাস্ত করা অনৈসলামিক ও অশোভন: মোত্তাকি

ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানোশেহর মোত্তাকি বলেছেন, তাঁকে বরখাস্ত করার ঘটনা অনৈসলামিক ও অশোভন। গতকাল রোববার ইরানের মেহর পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে মোত্তাকির বরাত দিয়ে বলা হয়, কোনো মন্ত্রী যখন সরকারি সফরে বিদেশে থাকেন তখন তাঁকে বরখাস্ত করা অনৈসলামিক, অরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। এমনকি নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের তথ্যও তাঁকে জানানো হয়নি।
কূটনৈতিক মিশনে সেনেগাল সফরের সময় গত ১৩ ডিসেম্বর মোত্তাকিকে বরখাস্ত করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সে দেশের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলি আকবর সালেহিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সালেহি গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোত্তাকিকে বিদায়ী সংবর্ধনা জানানোরও কথা ছিল। কিন্তু মোত্তাকি তাতে অনুপস্থিত ছিলেন।
মোত্তাকি বলেছেন, ‘পরিতাপের বিষয় হলো, আমাকে ও নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার ওই অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমাকে কিছু জানানো হয়নি।’
সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, ইরান ভবিষ্যতে বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে পারবে। এ ক্ষেত্রে তেহরানকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।
কিন্তু মোত্তাকি প্রায় প্রতিদিনই জোর দিয়ে বলে আসছিলেন, পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে কোনো সমঝোতা করবে না ইরান। এর পরই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ মোত্তাকিকে বরখাস্তের কোনো কারণ উল্লেখ করেনি।

হিথ্রো ও গ্যাটউইক বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা

যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশে প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। গত শনিবার দিবাগত রাত থেকে লন্ডনের হিথ্রো ও গ্যাটউইক বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছে। ব্রিটেন ছাড়াও ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানিসহ ইউরোপভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পূর্ব স্কটল্যান্ড ও উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি তুষারপাত হয়েছে। গতকাল ইংল্যান্ডের বেশির ভাগ এলাকায় তাপমাত্রা ছিল হিমাঙ্কের ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তুষারপাতের কারণে গত শনিবার রাতে তাদের নির্ধারিত সব ফ্লাইট বাতিল করে দেয়। ফলে হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে। রাতে সেখানে তাদের অবস্থানের জন্য বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে কম্বল ও খাবার সরবরাহ করা হয়। হিথ্রো কর্তৃপক্ষ শনিবারই জানিয়ে দেয় রোববার বাইরে থেকে আসা কোনো ফ্লাইট সেখানে নামবে না। তবে কয়েকটি জরুরি ফ্লাইট হিথ্রো থেকে ছেড়ে যাবে। গ্যাটউইক বিমানবন্দরে গতকাল হাতেগোনা কয়েকটি ফ্লাইট ওঠানামা করেছে। স্ট্যানসটেড, লুটন, এক্সেটার, লন্ডন সিটি, অ্যাবারডিন, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল ও সাউদাম্পটনের বিমানবন্দরগুলোতেও ফ্লাইটের ওঠানামা ছিল সীমিতসংখ্যক। এসব বিমানবন্দরের বহু ফ্লাইট বিলম্বিত অথবা বাতিল হয়েছে।
হিথ্রো বিমানবন্দরের অপারেটর সংস্থা বিএএর কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু টিচার বলেছেন, আটকে পড়া যাত্রীদের যাতে খাওয়া ও বিশ্রামের কষ্ট না হয়, সে জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, তুষারপাতের ব্যাপকতা খুব বেশি হওয়ায় তাঁরা কৃত্রিমভাবে রানওয়ে পরিষ্কার করে বিমান চালানোর চেষ্টা করছেন না। একদিকে পরিষ্কার করলে অন্যদিক আবার তুষারাচ্ছাদিত হয়ে পড়ছে।
ব্রিটেনের আবহাওয়া দপ্তর গতকাল পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এবং স্কটল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্কটল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে। বিরূপ আবহাওয়াজনিত দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট বিমানবন্দর ইতিমধ্যেই তাদের এক হাজার ৩০০ ফ্লাইটের মধ্যে ৫০০ ফ্লাইট বাতিল করেছে। ব্রাসেলস বিমানবন্দরে আটকা পড়েছে চার হাজার যাত্রী। ইতালির ফ্লোরেন্সে প্রধান বিমানবন্দর গতকাল দুপুর পর্যন্ত বন্ধ ছিল। সেখানকার দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রোমের প্রধান রেলস্টেশনে প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী গতকাল আটকা পড়ে।
প্রচণ্ড তুষারপাতের কারণে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের দেশগুলোয় বহু জায়গায় সড়ক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ল্যাংকাশায়ারে রাস্তায় শত শত লোক গাড়ি নিয়ে আটকা পড়েছে।
যুক্তরাজ্য মৃদু শীতের দেশ হলেও ৩০ বছরের মধ্যে ২০০৯ সালে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মাসের শেষ দিকেও প্রথমার্ধের মতো তাপমাত্রা বিরাজ করলে ১৯১০ সালের পর এ ডিসেম্বরই হবে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শীতের মাস।

ফ্যাব্রিগাসের সঙ্গে তোরেসও

অনেক চেষ্টা করেও এই মৌসুমে সেস ফ্যাব্রিগাসকে দলে ভেড়াতে পারেননি বার্সেলোনা। ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে আগামী মৌসুমেও মরিয়া চেষ্টা চালাবে তারা। ফ্যাব্রিগাসকে তো চাই-ই, চাই ফার্নান্দো তোরেসকেও। হ্যাঁ, বার্সেলোনার পরিকল্পনায় ফ্যাব্রিগাসের সঙ্গে লিভারপুলের স্ট্রাইকার তোরেসও আছেন বলে খবর। পরিকল্পনা যাতে সফল হয় প্রস্তুতিও সেভাবেই নিচ্ছে বার্সা। ফ্যাব্রিগাস-তোরেসের জন্য ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড খরচ করবে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

আবার রাউলের হ্যাটট্রিক

রিয়ালের গোলমেশিন এখন শালকের জার্সি গায়ে করে যাচ্ছেন গোলের পর গোল। পরশু এ মৌসুমেই শালকেতে যোগ দেওয়া রাউলের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকে বুন্দেসলিগায় কোলনকে ৩-০ গোলে তাঁর দল।
রাউলের গোল করার ধারাবাহিকতা শালকে কোচ ফেলিক্স ম্যাগাথকে একটি স্বপ্নও দেখাচ্ছে, ‘আমরা এখন ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলার লক্ষ্য নির্ধারণ করতেই পারি।’ এই স্বপ্নের বীজ যিনি বুনে দিয়েছেন, ম্যাচ শেষে সেই রাউলের প্রশংসা করেছেন কোচ। কোচের প্রশংসার কিছুটা ফেরত দিয়েছেন রাউলও, ‘এখানে আমি ভালো একজন কোচ পেয়েছি, যাঁর আমার ওপর বিশ্বাস আছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম তিনি

ক্রিকেট-বিশ্বের সবচেয়ে চেনা এই দৃশ্য। তার পরও একটু আলাদা।
এটি যে টেস্ট সেঞ্চুরির হাফ সেঞ্চুরি উদ্যাপন!
চিরপরিচিত সেই উদ্যাপন। দুই হাত ওপরে তুলে ওপরের দিকে তাকিয়ে স্রস্টার কাছে কৃতজ্ঞতা জানানো কিংবা মেঘের মাঝে বাবাকে খোঁজা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের মাঝখানে বাবা মারা যাওয়ার পর কেনিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি থেকেই এই উদ্যাপন দেখে আসছে ক্রিকেট-বিশ্ব। পরিচিত এই উদ্যাপনের মাঝেও কাল যেন থাকল একটু ভিন্নতা। ওপরে তাকানোর আগে দুই হাত বাতাসে ছুড়লেন। অন্য সময়ের চেয়ে একটু দীর্ঘস্থায়ীও হলো উদ্যাপন। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরির হাফ সেঞ্চুরি—এটুকু ভিন্নতা তো থাকতেই হবে!
অপেক্ষা ছিল নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকেই। দুর্বল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতেই ৫০তম সেঞ্চুরিটা কি আর পাবেন না! কিন্তু সিরিজে ফিফটিই পেলেন মাত্র একটি। সেঞ্চুরিয়নের প্রথম ইনিংসে দারুণ শুরু করেছিলেন, কিন্তু থেমে যান মধ্য তিরিশেই। দ্বিতীয় ইনিংসের ১১৫তম ওভারে এল সেই মুহূর্ত। ৯৯ থেকে ডেল স্টেইনকে কাভারে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়ে ছুঁলেন মাইলফলক, প্রতীক্ষার অবসান হলো পুরো ভারতের। ক্রিকেট-বিশ্বেরও কি নয়?
এই টেস্ট ম্যাচটাও তো এখন টেন্ডুলকার বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা। টেন্ডুলকারের সঙ্গে অসাধারণ এক জুটি গড়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, কিন্তু ফিরে গেছেন তিনি নড়বড়ে নব্বইয়ে। ফিরে গেছেন নিউজিল্যান্ড সিরিজের ‘অলরাউন্ডার’ হরভজন সিংও। চারদিক কালো করে আসা হঠাৎ ঝড়ে দিনের খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার সময় টেন্ডুলকার মাঠ ছেড়েছেন মাথা উঁচু করেই। ইনিংস পরাজয় এড়াতে ভারতের দরকার আরও ৩০ রান। তবে ম্যাচটা যে পঞ্চম দিনে গেল বা জয়ের সমান এক ড্রয়ের জন্য ভারতীয়রা যে বৃষ্টিদেবতার সাহায্য কামনা করতে পারছে, সেটা তো টেন্ডুলকারের ইনিংসটার জন্যই। টেন্ডুলকারের ইতিহাস গড়ার দিনে একটা মাইলফলক ছুঁয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়ও, টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ছুঁয়েছেন ১২ হাজার রান।
আলাদা করে বলতে হয় ধোনির কথাও। যখন উইকেটে গিয়েছিলেন, ইনিংস পরাজয় এড়াতেই প্রয়োজন ছিল ২০৭ রান। লাঞ্চের আগেই ৪ উইকেট তুলে নিয়েছে ফুঁসছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারতকে চোখ রাঙাচ্ছে লজ্জাজনক পরাজয়। ভারতের অধিনায়ক নেমেই শুরু করলেন পাল্টা আক্রমণ। দ্বিতীয় সেশনে উইকেট পড়ল না একটিও, ওভারপ্রতি ৪.২৫ গড়ে রান এল ১১৭! জুটি ভাঙার জন্য দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েছিলেন গ্রায়েম স্মিথ। ফল হলো উল্টো, নতুন বলে প্রথম ১০ ওভারেই ৫৯ রান! ১৭২ রানের অসাধারণ জুটিটা ভাঙতেও লেগেছে অসাধারণ এক বল। শরীর লক্ষ্য করে ছুটে আসা স্টেইনের গোলা ধোনির গ্লাভস ছুঁয়ে বাউচারের গ্লাভসে।
চার সেঞ্চুরির পাশাপাশি নড়বড়ে নব্বইয়েও কাটা পড়লেন চারবার। তার পরও নিজেকে যথেষ্ট ভাগ্যবান ভাবতে পারেন ধোনি। গত ফেব্রুয়ারিতে টেন্ডুলকারের ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস হওয়ার সময়ও উইকেটে সঙ্গী ছিলেন, এবারও তাই। মিলের শেষ নয় এখানেই, ওই ম্যাচেও প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, কালকের মতো সেদিনও স্টেইনকে কাভারে ঠেলেই উঠেছিলেন নতুন চূড়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম টেন্ডুলকার বলতে হচ্ছে এখানেও!

পন্টিংয়ের জন্মদিনের উপহার

বাঁ হাতের কনিষ্ঠায় ব্যান্ডেজ, স্লিপে ক্যাচ নিতে গিয়ে আগের দিন বিকেলে পাওয়া চোটটা যথেষ্টই যন্ত্রণা দেওয়ার কথা। এক্স-রেতে আঙুলে চিড় ধরা পড়েছে, সিরিজে আর মাঠে নামা নিয়েই সংশয় আছে। রিকি পন্টিংকে দেখে সেটা বোঝার উপায় কী! ফিজিওর কড়া নিষেধে কাল ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি, কিন্তু স্টিভেন ফিনের ব্যাট ছুঁয়ে আসা বল আরেক স্টিভেনের (স্মিথ) তালুবন্দী হতেই মাঠে ছুটে গেলেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। আনন্দ, আবেগ, স্বস্তি—সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল পন্টিংয়ের জয় উদ্যাপনে। খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচ জয়ের সেঞ্চুরি হতে চলল (৯৯ জয়), অধিনায়ক হিসেবে হাফ সেঞ্চুরি (৪৮ জয়)—তবে পার্থ টেস্টে এই জয়টা আলাদা হয়েই থাকবে পন্টিংয়ের জন্য।
জয়টা এল ৩৬তম জন্মদিনে, এটা একটা কারণ। এর চেয়েও বড় কারণ, এই জয়ে সমতা ফিরল অ্যাশেজে। সবচেয়ে বড় কারণ তো অবশ্যই যে পরিস্থিতিতে জয়টা এল। নিজের ব্যাটে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভয়াবহ রান-খরা, অধিনায়কত্ব নিয়ে চারদিকে গুঞ্জন। অস্ট্রেলিয়া যে জিততে পারে, এটাই যেন ভুলে গিয়েছিল সবাই। সেই জুলাইয়ে লর্ডসে পাকিস্তানকে হারানোর পর আর জয়ের দেখা নেই। মাঝের ৫ টেস্টে একটিতে ড্র আর চারটিতে হার। পার্থে ২৬৭ রানের জয়টা শুধু সেই খরাই কাটায়নি, অস্ট্রেলীয়দের ফিরিয়ে দিয়েছে হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস। এই জয়টা বড় বেশি প্রয়োজন ছিল পন্টিংয়ের, অস্ট্রেলিয়ার।
আগের দিন ৫ উইকেট নিয়ে কাজ এগিয়ে রাখা অস্ট্রেলিয়া কাল আনুষ্ঠানিকতা সারতে সময় নিয়েছে মাত্র ৫০ মিনিট। টানা ১০ ওভার বোলিং করে ইংল্যান্ডকে শেষ করে দিয়েছেন হ্যারিস-জনসন। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ধ্বংসযজ্ঞের দুই নায়ক দ্বিতীয় ইনিংসেও ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ৯ উইকেট। তবে এবার হয়েছে উল্টো, ৬ উইকেট নিয়েছেন হ্যারিস, ৩টি জনসন। নাইটওয়াচম্যান অ্যান্ডারসনের অফ স্টাম্প ওড়ানোর পর এক ওভারে বেল-প্রিয়রকে আউট করে চতুর্থ টেস্টে এসে হ্যারিস পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট। পরের ওভারে সোয়ানের স্টাম্প উড়িয়েছেন জনসন। শেষ উইকেটটাও হ্যারিস নিয়ে নেওয়ায় ম্যাচে ১০ উইকেট হয়নি, তবে প্রথম ইনিংসে মহামূল্যবান ৬২ রানের সঙ্গে ৯ উইকেট, জনসনের রূপকথার মতো ফেরা পূর্ণতা পেয়েছে ম্যাচ-সেরা হয়ে।
জনসন অবশ্য এখনই উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছেন না, ‘আরও দুটি টেস্ট বাকি আছে, উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। ইংল্যান্ড ও ইংলিশ সমর্থকদের সঙ্গে আমার কিছু অসমাপ্ত হিসাব আছে। গত অ্যাশেজে ওভাল টেস্টের পর রিকি পন্টিং ড্রেসিংরুমে গিয়ে আমাদের পুরো দলকে বলেছিল বেরিয়ে এসে ইংল্যান্ডের উদ্যাপন দেখতে। সে চেয়েছিল যন্ত্রণাটা আমরা অনুভব করি। খুব কষ্টের ছিল ওই দৃশ্যটা দেখা। ওই অভিজ্ঞতা আর দ্বিতীয়বার পেতে চাই না।’
পন্টিং জয়টাকে বলছেন জন্মদিনের সেরা উপহার। তবে অধিনায়কের কথায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াটাই, ‘খেলাধুলায় আত্মবিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা স্রোতটাকে নিজেদের দিকে টেনে নিতে পেরেছি, এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ আমাদের বেশ কয়েকজন খেলছে নিজেদের সেরার কাছাকাছি। এ জন্যই আমি এই দল নিয়ে এত আত্মবিশ্বাসী।’ পন্টিং নিজেই পরের টেস্টে নিশ্চিত নন, তবে তিনি খেলতে মরিয়া। অস্ট্রেলিয়াও দল অপরিবর্তিত রেখেছে মেলবোর্নের বক্সিং ডে টেস্টের জন্য।

বার্সায় গার্দিওলারই বিস্ময়

খু-উ-ব সহজ। গোল করা, প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দেওয়া—বার্সেলোনার জন্য সবকিছুই খুব সহজ। গত পরশু এমনই সহজভাবেই নগর প্রতিপক্ষ এসপানিওলকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল বার্সা।
এসপানিওল এ মৌসুমে একটি অহংবোধ নিয়েই এগোচ্ছিল। পরশু বিপর্যস্ত হওয়ার আগে নিজেদের মাঠে ৭টি লিগ ম্যাচেই জয়, অথচ বার্সেলোনার বিপক্ষে ঠিকই বিধ্বস্ত! লিগে বার্সেলোনার এটি টানা দশম জয়। প্রতিপক্ষের মাঠে যেন আরও বেশি দুর্বার, ৮ ম্যাচের ৮টিতেই জয়।
আগের ৬ ম্যাচে ১০ গোল করা আর্জেন্টাইন প্লে-মেকার লিওনেল মেসি কোনো গোল পাননি। তবে গোল করিয়েছেন ঠিকই। বার্সেলোনার ৫ গোলের ৪টিতেই তাঁর অবদান। ডেভিড ভিয়ার জোড়া গোল এবং পেদ্রোর জোড়া গোলের প্রথমটিতে সরাসরি অবদান রেখেছেন। পেদ্রোর দ্বিতীয় গোলটিতেও ছিল পরোক্ষ অবদান। শুধু ৩০ মিনিটে জাভির করা বার্সার দ্বিতীয় গোলটিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ছোঁয়া নেই মেসির পায়ের।
১৮ মিনিটে বার্সাকে এগিয়ে দিয়েছিল পেদ্রোর গোল। ৬১ মিনিটে তাঁর দ্বিতীয় গোলটির আগে দেখা গেছে মেসি-জাদু। দুরন্ত গতিতে ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষের তিনজনকে পেছনে ফেরে শট নিয়েছিলেন, সেটি গোলরক্ষকের হাত ফসকে গেলে সেটি গোলে পাঠান পেদ্রো। মিনিট দুই পর একটি গোল ফিরিয়ে দেন অসভালদো। মেসির দুটি থ্রু বল থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে (৭৬ ও ৮৪) ভিয়া লিগে তাঁর ১০ ও ১১ নম্বর গোল দুটি করে বার্সাকে আরেকটি বড় জয় এনে দেন।
১৬ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট পয়েন্ট-তালিকার শীর্ষে থেকেই বছর শেষ করছে বার্সেলোনা। ৫১ গোল দিয়ে খেয়েছে ৯টি। এর মধ্যে সর্বশেষ ৫ ম্যাচে ২৬ গোল দিয়ে মাত্র ১টি। কাল রাতে সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ১৫ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ।
দলের পারফরম্যান্সে বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলা পর্যন্ত মুগ্ধ, ‘এই দলটি আমাকে বিস্মিত করেই যাচ্ছে। এত বড় জয়, অথচ এ মৌসুমে এসপানিওল এর আগে নিজেদের মাঠে মাত্র দুটি গোল খেয়েছে।’
সিরি ‘আ’তে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল এসি মিলান নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে হেরে গেছে এএস রোমার কাছে। গোলটি করেছেন মিলানেরই সাবেক খেলোয়াড় মার্কো বরিয়েল্লো। হেরেও অবশ্য ১৭ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মিলান। জুভেন্টাস, নাপোলি ও লাৎসিও তিন দলেরই ১৬ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট। পয়েন্ট টেবিলে এই তিন দলকে আলাদা করেছে গোল-পার্থক্য।

ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে বেনিতেজের হুমকি

রেওয়াজ অনুযায়ী আগে খেলোয়াড় হিসেবে পদক নেবেন, এরপর অধিনায়ক হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে টুর্নামেন্টের ট্রফি। কিন্তু হাভিয়ের জানেত্তির বোধ হয় তর সইছিল না। পদক নিতে যাওয়ার সময়ই একবার পাশে সাজিয়ে রাখা ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফিটায় চুমু এঁকে দিলেন। সেপ ব্ল্যাটারের নজর এড়ায়নি ব্যাপারটা। প্রধান অতিথি হিসেবে আবুধাবিতে আসা ফিফা সভাপতি বেশি সময় নিলেন না। দ্রুতই জানেত্তির হাতে তুলে দিলেন চকচকে ট্রফিটা। ইন্টার মিলান অধিনায়কও ট্রফিটা হাতে নিয়েই ছুটে এলেন বিজয়মঞ্চে। উড়তে থাকা কনফেত্তির বর্ষণে উঁচিয়ে ধরলেন আরেকটি শিরোপা, এ বছর যেটি জানেত্তির হাতে ওঠা পঞ্চম ট্রফি।
ইতালিয়ান লিগ, ইতালিয়ান কাপ, ইতালিয়ান সুপার কাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগের পর ২০১০ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। এই মৌসুমে শুধু একটি ট্রফিই জিততে পারেনি ইন্টার—উয়েফা সুপার কাপ। ২০০৯ সালে বার্সেলোনার মতো শিরোপা-ষষ্ঠক পূর্ণ না হলেও পরশু মাজেম্বেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা-পঞ্চক ঘরে তুলল ইন্টার, যে ট্রফি তাদের জন্য অতি জরুরি আত্মবিশ্বাসের সুবাতাস।
ঘরে-বাইরে নানামুখী চাপ নিয়ে আবুধাবিতে খেলতে এসেছিল ইন্টার। রাফায়েল বেনিতেজের জন্য তো এই টুর্নামেন্ট ছিল চাকরি বাঁচানোর মিশন। পরশু মাঠে অবশ্য ইন্টারের খেলায় চাপের ‘চ’ও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং ১৩ আর ১৭ মিনিটে গোরান পানদেভ আর স্যামুয়েল ইতোর দুই গোল তখনই ম্যাচের ফলাফল প্রায় ঠিক করে ফেলেছিল। খেলা শেষের ৫ মিনিট আগে জোনাথন বিয়াবিয়ানির গোল নিশ্চিত করেছিল সেটাই। ইতোর জন্য এই টুর্নামেন্টটাও কাটল দারুণ। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন এই ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকার।
লিভারপুল থেকে এই মৌসুমে ইন্টারে নাম লেখানো বেনিতেজও নিশ্চয়ই হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। অবশ্য এই স্প্যানিশ কোচ মওকা বুঝে মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ক্ষোভের খানিকটা উগরে দিয়েছেন। ক্লাবের প্রতি তাঁর সাফ কথা, হয় সহযোগিতা করুন, নয়তো ছাঁটাই করে দিন। মাঝামাঝি ঝুলিয়ে রাখবেন না।
‘ক্লাব চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। কিন্তু আমি ক্লাবের কাছ থেকে সহযোগিতা আর সম্মান প্রত্যাশা করি। গত গ্রীষ্মে তাঁরা আমাকে যেসব খেলোয়াড় কিনে দেবেন বলেছিলেন, তার কিছুই করেননি। আমার জন্য কাজটা তাই সহজ ছিল না।’
দলের অনেক তারকাই ৩০ পেরিয়ে গেছেন। তাঁদের ক্যারিয়ারে এখন সূর্যাস্তের সময়। ২৫ বছর ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বেনিতেজ বলেছেন, দলে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে আসার এটাই সময়, ‘এখন তিনটা পথ খোলা। প্রথমত, নতুন চার-পাঁচজন খেলোয়াড় এনে দলটাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। দ্বিতীয়ত, যেভাবে চলছে সেভাবেই চলতে দেওয়া। তৃতীয়ত, (চাকরি ছাড়ার ব্যাপারে) আমার এজেন্টের সঙ্গে কথা বলা।’
বেনিতেজ ক্লাব ফুটবলের বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার পর মাসিমো মোরাত্তি প্রথম পথে না হাঁটলে সেটিই হবে আশ্চর্যের।

ফুটবল উৎসবের সকাল

তাসমিয়া আগে কখনো কক্সবাজার স্টেডিয়ামে আসেনি। কাল সকালে স্টেডিয়ামে ঢুকে পঞ্চম শ্রেণীর এই ছাত্রী তো অবাক! এত কাছ থেকে খেলোয়াড়দের দেখতে পাবে, সেটা যে কল্পনাতেও ছিল না তার! শুধু কাছ থেকে দেখা নয়, তাসমিয়ার মতো ৭০ জন বালিকা কাল বাংলাদেশ মহিলা দলের ফুটবলারদের সঙ্গে মেতে উঠেছিল ফুটবল-আনন্দে। তারা খেলল সাফ মহিলা ফুটবলের সেমিফাইনালে ওঠা ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালের সঙ্গে।
উদ্যোগটা ফিফার। ফুটবলের প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের আগ্রহ বাড়াতেই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মাঝে এমন আয়োজন, জানালেন ফিফার কনসালটেন্ট রোলান্ড আর্নকভিস্ট।
প্রীতি ম্যাচ শুরুর আগে বালিকাদের দলটার প্রতীকী নাম দেওয়া হয় ‘রোজ বার্ড’। পরে তাদের এ, বি, সি, ডি—আটটি উপদলে ভাগ করা হয়। রোলান্ড আর্নকভিস্ট এই ফুটবল-উৎসবকে দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিতে, ‘নিঃসন্দেহে এটা একটা ভালো উদ্যোগ। সারা দেশেই এমন ফুটবল জাগরণ হওয়া উচিত।’ সুইডেনের ৪৭ বছর বয়সী ভদ্রলোকের জন্মদিন ছিল কাল। জন্মদিনে বিস্ময় ‘উপহার’ পেলেন তিনি, হুট করে যখন উৎসবে উপস্থিত হলেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রোলান্ড জানালেন, ‘এ অনুষ্ঠানে একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান এসেছেন ভেবে ভীষণ ভালো লাগছে।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দলীয় কাজে কক্সবাজারে এসেছিলেন। আগে থেকেই জানতেন এখানে চলছে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। কাল কোনো খেলা নেই জেনেও স্টেডিয়ামে এলেন বালিকাদের প্রদর্শনী ফুটবল দেখতে। সেই সঙ্গে উৎসাহ দিলেন বাংলাদেশের মেয়েদের, ‘বাংলাদেশ যে প্রথম সাফ মহিলা ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠেছে সেটা আমি জানি। আশা করি, মেয়েরা ভালো খেলবে। তবে আমাদের মেয়েদের শারীরিক ফিটনেস, স্টামিনা আরও বাড়াতে হবে।’
ফিফার এমন আয়োজনকে স্বাগত জানালেন বাংলাদেশের স্ট্রাইকার অম্রা, ‘আমি এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এভাবে খেলতে খেলতেই ছোট ছোট মেয়েরা ফুটবলের প্রতি আগ্রহী হবে। ভবিষ্যতে ওরা আমাদের জায়গা নেবে, আরও ভালো ফুটবলার হিসেবে উঠে আসবে; এটাই প্রত্যাশা।’ পাকিস্তানি স্ট্রাইকার মেজগানের মুখেও একই কথা, ‘পাকিস্তানে মেয়েদের ফুটবলে সেভাবে উৎসাহ দেওয়া হয় না। এই উদ্যোগ ছোট মেয়েদের মনে বেশ প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে ওরা ফুটবলের দিকে ঝুঁকবে।’
প্রদর্শনী ম্যাচ শেষে মেয়েরা ছবি তুলল, মজা করল খেলোয়াড়দের সঙ্গে। অটোগ্রাফ নিতেও দেখা গেল অনেককে। ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক পিউমার পক্ষ থেকে প্রতিটি মেয়েকে দেওয়া হয় জার্সি, কেডস, মোজা। স্থানীয় ১৫টি স্কুলকে দেওয়া হয় একটি করে ফুটবল। উপহার পেয়ে খুশি মনেই বাড়ির পথ ধরল ‘রোজ বার্ড’রা। কে জানে, এখান থেকেই হয়তো বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের অম্রা, সাবিনা কিংবা একজন সুইনু।

ডি মারিয়ার গোলে রিয়ালের ঘাম ঝরানো জয়

একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রর দিকেই যাচ্ছে। খেলার প্রথম থেকেই অনেক কিছুই গিয়েছে রিয়ালের বিপক্ষে। ৬৩ মিনিটে রিকার্ডো কারভালহো লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় জয়টাকে অনেক দূরের বিষয়ই মনে হচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। সমর্থকেরাও ধরে নিয়েছিলেন নিজেদের মাঠে সেভিয়ার বিপক্ষে একটি পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে রিয়ালকে। কিন্তু আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার ৭৬ মিনিটের গোল সত্যিই পাষাণ ভার নামিয়ে দিয়েছে রিয়াল সমর্থকদের বুক থেকে।
মোটকথা, প্রচণ্ড ঘাম ঝরিয়েই সেভিয়ার বিপক্ষে কাল জিততে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে। ম্যাচের প্রথমদিকে রিয়াল বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায়। অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার একটি দূরপাল্লার তীব্র শট সেভিয়া গোলরক্ষক আন্দ্রেস পালোপ কোনোমতে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। লুইস ফ্যাবিয়ানোর পাস থেকে গোলপোস্টের সামনে একদম ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন সেভিয়া স্ট্রাইকার নেগ্রেডো। কিন্তু তাঁর ডান পায়ের দুর্বল শট খুঁজে পায়নি রিয়াল মাদ্রিদের জাল। বল উড়িয়ে মেরেছেন গোলপোস্টের ওপর দিয়ে। তবে ৭৭ মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল পাঠিয়ে দিয়েছেন সেভিয়ার জালে।
সান্তিয়াগো বার্নবুতে রিয়াল মাদ্রিদের চিরাচরিত সুন্দর ফুটবল কাল একেবারেই অনুপস্থিত ছিল সেভিয়ার বিপক্ষে। গা জোয়ারি ফুটবলের কারণে দর্শকদের চোখেও ছিল না শান্তি। দুই দলের খেলোয়াড়েরা মিলে রেফারির কাছ থেকে মোট ১২টি হলুদ কার্ড দেখেছেন। এর মধ্যে নয়টি হলুদ কার্ডই ছিল রিয়ালের বিপক্ষে। বরাবরের মতো এবারও ম্যাচ শেষে রেফারিংয়ের প্রতি নিজের ক্ষোভ আড়ালে নিতে পারেননি রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। এবার অবশ্য রেফারির সমালোচনা করেই থেমে যাননি মরিনহো। রেফারিদের সামলানোর জন্য ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ কিছু সহযোগিতাও দাবি করেছেন ‘স্পেশাল ওয়ান।’

হাজার হাজার বর্গাচাষির ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা

দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান রাখায় প্রায় ১১ হাজার বর্গাচাষিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, বর্গাচাষিদের ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করে দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জন সম্ভব। আর সেটা করা গেলে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হবে না। মন্ত্রী এ কাজে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি কৃষি খাতে এখনো যে ৫০ শতাংশ শ্রমিক রয়েছেন, তাঁদের সম্মান দেখানোর মানসিকতা গড়ে তুলতে পরামর্শ দেন।
রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার বর্গাচাষিদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ।
ব্র্যাক পরিচালনা পরিষদের সদস্য তাহেরুন্নেসা আবদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান এবং ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বর্গাচাষিদের মধ্য থেকে বক্তব্য দেন পাবনার মোছাম্মত মর্জিনা বেগম, গাজীপুরের শাহীনুর রহমান ও সরিষাবাড়ীর নজরুল ইসলাম।
সংবর্ধনা উপলক্ষে সকাল থেকেই আর্মি স্টেডিয়াম ছিল উৎসবমুখর। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে শিল্পী ও সাংসদ মমতাজ বেগম, কিরণ চন্দ্র রায় প্রমুখ সংগীত পরিবেশন করেন।
বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে হাজার হাজার বর্গাচাষি রংবেরঙের পোশাক পরে উপস্থিত হন। কেন্দ্রীয়ভাবে এ জাতীয় সংবর্ধনা আগে কখনো কোনো কৃষক দেখেননি। অনেকে আবেগে আপ্লুতও হন। গর্বিত এক কৃষক বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে ফসল ফলানো তাঁর কাজ। আর আজ (গতকাল) তিনি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের গান শুনছেন খোদ রাজধানীতে তাঁদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে। এ এক স্বপ্ন যেন তাঁর কাছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু খাদ্যনিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখছেন বর্গাচাষিরা। অথচ নানাভাবে তাঁরা নিগৃহীত হচ্ছেন। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে।
বর্গাচাষিদের অর্থায়নে তাগিদ দিলেও অর্থমন্ত্রী খেয়াল রাখতে বলেন, তাঁরা যেন অতীতের মতো ঋণের চোরাবালিতে হারিয়ে না যান।
মতিয়া চৌধুরী পানির ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে আউশ ও আমন ধান চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেন। তাঁর ভাষায়, ‘আউশ হলো বস্তির ছেলে, আমন গৃহস্থের আর বোরো ইংলিশদের।’ বস্তির ছেলে ও গৃহস্থের ছেলেকে ভালোভাবে পরিচর্যা করলে বোরোর চেয়েও ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী।
আতিউর রহমান বলেন, বর্গাচাষিদের সম্মানিত করার উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে বাংলাদেশ ব্যাংক গর্বিত। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো সাধারণত জামানত ছাড়া ঋণ দিতে চায় না। জমির মালিকানা স্বত্ব না থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়া বর্গাচাষিদের জন্য দুঃসাধ্যই। কিন্তু এ কাজে এগিয়ে এসেছে ব্র্যাক। ব্র্যাকের প্রস্তাব বর্গাচাষি-বান্ধব হওয়ায় ৫০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালু করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাক দেশের ৩৬ জেলার ১৬০ উপজেলায় এক লাখ ২৪ হাজার ৩৬ জন বর্গাচাষিকে ১৪০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। তবে যথানিয়মে ঋণ বিতরণ দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ৩৬টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় সরেজমিনে ৭০০ জন বর্গাচাষির মাঝে সমীক্ষা করেছেন।
মাহবুব হোসেন বলেন, দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা প্রমাণ করেছেন সময়মতো তাঁদের অর্থায়ন জোগালে তারা তার প্রতিদান দিতে পারেন।
বর্গাচাষিদের জন্য ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ানো এবং তদারকি আরও জোরদার করার পরামর্শ দেন শাইখ সিরাজ।

কাশ্মীর- একটি অসমাপ্ত গল্প by আজাদ কাশ্মীর জামান

ক সকালের কথা। প্রতিদিনের চেনা পরিবেশে মোহাম্মদ আশরাফ বের হলেন তার গবাদি পশুগুলো নিয়ে। উদ্দেশ্য ঘাস খাওয়ানো। তার সঙ্গী চৌদ্দ বছর বয়সী ছেলে রিজওয়ান। হঠাৎ এক বিস্ফোরণে এই পরিচিত পরিবেশটির চেহারা বদলে গেলো। আশরাফের হাতের কাস্তেটি ছুটে গিয়ে অনেক উপরে উঠে নেমে এলো নিচের দিকে। আশরাফ মাটিতে পড়ে গেলেন।

ধর্ম- মুসলিম বিশ্বে সেক্যুলারিজমের বর্তমান ও ভবিষ্যত by রেডিও তেহরান

উরোপে রেনেসাঁর সময় সেক্যুলারিজমের উৎপত্তি ঘটে এবং ক্রমান্বয়ে তা প্রভাব বিস্তার করে। এই মতবাদ অনুযায়ী, রাজনীতি এবং শাসন ক্ষমতার সঙ্গে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। ধর্ম ব্যক্তিগত একটি বিষয় এবং ব্যক্তির গন্ডিতেই তা সীমাবদ্ধ। কাজেই সেক্যুলারিজম রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ধর্মের কোন ভূমিকাকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে না।

ভ্রমণ- চীন দেশের কথা by লিয়াকত হোসেন খোকন

বিমানে চীনে যাওয়া যায়। মাও সেতুংয়ের দেশ বলে চীনের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। উন্নত দেশ বলেই চীনের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। বেজিং, শিয়ান, গুইলিন, সাংহাই প্রভৃতি চীনের উলেস্নখযোগ্য স্থান। কুনমিং হয়েও বিমানে যাওয়া যায় বেজিংয়ে। এখানে এসে অনেকেই বিশ্রাম নেন। দু'তিনদিন অবস্থান করে দেখে নেয়া যায় তিয়েন আন মেন স্কোয়্যার, ফরবিডন সিটি, সামার প্যালেস, জিয়ুং পাসের সুবিখ্যাত চীনের প্রাচীর, মিং রাজাদের ধ্বংসাবশেষ,