Wednesday, July 20, 2016

পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে হামলার সব প্রস্তুতি নিয়েছিল ভারত!

কাশ্মীরের কারগিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে দেশটির বিমানঘাঁটিতে হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশ না পাওয়ায় এ হামলা করা হয়নি। ওই হামলার পরিকল্পনা-বিষয়ক এক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। গোপনীয় ওই নথিতে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালের ১৩ জুন ভোরে এ হামলা চালানোর কথা ছিল। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে তখন সীমান্তের কারগিলে লড়াই চলছে পুরোদমে। ১৩ জুনের হামলার লক্ষ্য ঠিক হয়ে গিয়েছিল, নির্ধারিত পথও চূড়ান্ত হয়েছিল। যুদ্ধবিমানের পাইলটদের জন্য জোগাড় করা হয়েছিল পাকিস্তানি মুদ্রা, যাতে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা যায়।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশোবন্ত সিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারতাজ আজিজের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরই এ হামলার পরিকল্পনা হয়। কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করার সব প্রস্তুতি শেষের মাত্র কয়েক মিনিট আগে পরিকল্পনা বাতিল হয়। এর ফলেই কারগিলের সীমান্ত যুদ্ধ একটি সর্বাত্মক যুদ্ধে পরিণত হয়নি। ভারতীয় বিমানবাহিনীর দলিলে দেখা যায়, সারতাজ আজিজ ভারত ছাড়ার পরপরই রাতে সংশ্লিষ্ট সব পাইলটকে ডাকা হয়। পরদিন অর্থাৎ ১৩ জুন ভোরে হামলার জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। হামলার জন্য দুটি মিগ ২১ এবং চারটি মিগ-২৭ সহ ১৬টি যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করা হয়। এক পাইলট বলেন, ‘আমরা রাতের খাবার খেয়ে সব প্রস্তুতি নিয়ে বাড়িতে চিঠিও লিখি। ভোর সাড়ে চারটার সময় আমরা রিপোর্ট করলাম। লড়াইয়ের সব প্রস্তুতি শেষ। শেষতক নির্দেশ এল না। আমরা সাড়ে ১২টার দিকে বিমান থেকে নেমে এলাম।’

অল্পের জন্য বেঁচে যাই: এরদোয়ান

এরদোয়ান
মার্কিন টেলিভিশন সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান দাবি করেছেন, অভ্যুত্থানের সময় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর কিছু সেনাসদস্য সমুদ্র তীরবর্তী মারমারিস অবকাশ কেন্দ্রে হামলা চালান। এর অল্প কিছুক্ষণ আগেই তিনি সেখান থেকে বিমানে করে সরে যেতে সক্ষম হন। এরদোয়ান দাবি করেন, ‘আমি যদি আর ১০ থেকে ১৫ মিনিট সেখানে থাকতাম,
তবে আমাকে হত্যা বা অপহরণ করা হতো।’ আকাশে বিদ্রোহীদের এফ-১৬ জঙ্গি বিমানের আওতায় পড়েছিল প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে বহনকারী বিমান। সাবেক এক তুর্কি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের বিমানের পাইলট প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন। ওই কর্মকর্তা বলেন, কেন বিদ্রোহীদের যুদ্ধবিমান থেকে গুলি করা হয়নি, তা এক রহস্য।

পরীক্ষা-সন্ত্রাসের মুখে শিক্ষাব্যবস্থা

কিছুদিন আগে গ্রামের এক হাইস্কুলে শুটিং করতে গিয়েছিলাম। ক্লাস চলছিল। স্কুলের এক উদ্যোগী শিক্ষক আমাকে আবিষ্কার করলেন অভিনেতা হিসেবে নয়, সপ্তম শ্রেণিতে পাঠ্য একটি নাটকের লেখক হিসেবে। প্রায় জোর করেই তিনি আমাকে সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে নিয়ে গেলেন। ছাত্ররা আমাকে পেয়ে একটু পুলকিত হলো। কিন্তু যেই বলা হলো আমি পাঠ্য নাটকটির লেখক, তখন আস্তে আস্তে চোখের আলোটি নিভে যেতে লাগল। আমি ভেবেছিলাম ছাত্রদের চোখে-মুখে কৌতূহল দেখতে পাব। নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত হব। কিন্তু মনে হলো আমি যেন অপরাধী। ভাবটা এ রকম: কেন নাটকটা লিখে আমাদের ঘাড়ে চাপাল ব্যাটা। মুখস্থ করতে হয়, প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, যার জন্য ছুটতে হয় কোচিং সেন্টারে। অজানাকে জানা এবং আবিষ্কার করার এক মহান প্রচেষ্টার নাম শিক্ষা। মানবজাতির যাবতীয় অতীত, অতীতের আবিষ্কার, মহান সব মানুষের পদচিহ্ন দেখে দেখে নিজেকে মহত্তর জীবনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষা। শিক্ষা এক আনন্দময় শ্রম। এই আনন্দ থেকেই সৃজন। কিন্তু এখন শিক্ষা কঠোর শ্রম, আনন্দহীন দিবস-রজনী, অর্থ ব্যয় এবং বাণিজ্যের উপায়। শিশু কাঁধে নিজের চেয়ে দুই গুণ ওজনের ব্যাগ নিয়ে ছুটেছে স্কুল নামে এক কারাগারের দিকে। স্কুল থেকে ফিরেও মুক্তি নেই।
পাঁচ-ছয়জন শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষা-যুদ্ধ। ক্লান্ত-অবসন্ন দেহে পরদিন সকালের জন্য প্রস্তুতি। এর মধ্যে সময় পেলেই মন পড়ে থাকা ভিডিও গেমস, ইন্টারনেটে চোখ বোলানো। সকালের সবুজ পাতার ওপর বৃষ্টির ফোঁটা কেমন লাগে, তা দেখার উপায় নেই। কোনো পাখির শব্দ বারবার শোনার কোনো আগ্রহ নেই, আকাশের কতবার রং বদলায় তা দেখে একটু পুলক অনুভব করা যাবে না, স্কুলের ঘণ্টা বাজবে, উপস্থিত হতে হবে কোচিং সেন্টারে। সামনেই পরীক্ষা, অসংখ্য পরীক্ষার চাপ। শিক্ষা যেহেতু বুদ্ধিতে রূপান্তর হয়নি, ভাবনার কোনো অবকাশ নেই, তাই তাতে স্বপ্নের আলোকিত মানুষ হওয়ার উপায় থাকে না। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে শিক্ষার একটা জোয়ার এসেছিল। ছাত্রদের জিজ্ঞেস করলে বলত শিক্ষা হচ্ছে দেশসেবার জন্য। শিক্ষক থেকে দোকানদার—সবাই দেশসেবার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সেখানেও যে কী হয়ে গেল—চল্লিশ দশক থেকে ধর্ম হয়ে গেল জাতি আর দ্বিজাতিতত্ত্ব মাথা খেয়ে ফেলল মানুষের। ধর্মের উন্মাদনা নিয়ে দুই ধর্মের মানুষ একে অপরকে হত্যা করল। একটা দেশের মানুষ কী শান্তিতে শত শত বছর কাটিয়েছে, যুদ্ধবিগ্রহে নিজেদের মধ্যে কিছু হয়নি। তাহলে ওই সময় কি শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা ছিল? হয়তো ছিল। সে ক্ষেত্রে একটা বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা তো ছিলই।
তারপরেও দেখা যায় আলোকিত মানুষ অনেক। উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করবে, তা পারল না। প্রতিবাদটা এল ছাত্রদের মধ্য থেকেই। সামরিক আইন এল, তার প্রতিবাদও ছাত্রদের কাছ থেকেই। ছাত্ররা তখন শুধু পড়ে না, প্রতিবাদ করে, আন্দোলন রচনা করে, আবার ছাত্র হিসেবেও মেধাবী। সৃজনশীল নানা কাজেও তারা যুক্ত। তারপর পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে প্রবল সোচ্চার হয়ে একটি সশস্ত্র যুদ্ধের দিকে নিয়ে গেল। দেশ স্বাধীন হয়ে গেল। স্বাধীনতার পর শিক্ষার নতুন রূপরেখা এল না। বহুমুখী শিক্ষার প্রসার হলো। ইংরেজি স্কুল, সরকারি স্কুল, মাদ্রাসা—সবকিছুর প্রসার। একদিকে সর্বস্তরে বাংলা, অন্যদিকে সামরিক শাসনের সময় একেবারে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা। বাংলার কোনো স্থান নেই। নতুন নতুন পাঠ্যসূচি এসে শিক্ষাকে ভারী করে দিল। ছাত্রদের বই হাত থেকে ঘাড়ে, পরে পিঠে গিয়ে উঠল। সোজা মেরুদণ্ড গেল বেঁকে। আসলেও শিক্ষার মেরুদণ্ড গেল হেলে। শিক্ষা মানে পরীক্ষা। ছাত্রের পরিমাপ নম্বরে, জ্ঞানে নয়, সৃজনে নয়। একদা পরীক্ষা ছিল পবিত্র এক উৎসব, আত্মপরীক্ষার একটা সুযোগ। তারপর পরীক্ষায় এল নকলের মহোৎসব। এখন পরীক্ষা মানে সন্ত্রাস। পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ নেই। আবার কোন পরীক্ষা আসে কে জানে? প্রাথমিক শিক্ষায় যত বই, শিক্ষক তত নয়। শিক্ষক তাই শিক্ষা দানে আগ্রহী নয়। আগ্রহী নগদ টাকায়, স্কুলের আগে আর স্কুলের পরে ভাবে কীভাবে টাকা কামানো যায়, সেই দিকে। ইংরেজি স্কুলে এই চাপ আরও বেশি, পয়সাও বেশি।
ধনী লোকের দল টাকা দিয়ে শিক্ষা কিনতে আগ্রহী, মানুষ তৈরির জন্য নয়। জাতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য তা তার চর্চার মধ্যেই নেই। এর মধ্যে কত কিছু ঢুকে যায়। মাদক, সন্ত্রাস—কত কিছু! ছাত্রদের সমাবেশে অনেক দিন ধরে দেখতে পাই অস্ত্রের ঝনঝনানি। সেসবের ছবিও আমরা দেখতে পাই মিডিয়ায়। একই দলের দুই পক্ষের মধ্যেও এসব চলছে। ধর্ম নিয়ে সংগঠিত কিছু গোষ্ঠীর বাড়াবাড়ি দেখা গেছে অনেক দিন ধরেই। শিক্ষাব্যবস্থার কানাগলি দিয়ে এসবও ঢুকে পড়েছে। ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করেছে, তারাই গোপনে মাদ্রাসাকে ব্যবহার করেছে। এখন তা ঢুকে গেছে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত উচ্চবিত্তের মধ্যেও। শিক্ষার মধ্যে যে সুকুমার বৃত্তি নির্মাণের প্রক্রিয়াটি থাকে, তা ইতিমধ্যেই থমকে গেছে। শিক্ষাকে অত্যন্ত জরুরিভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর এ বিষয়টি শুধু সরকারের ওপর ছেড়ে দিলেই চলবে না। শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, ছাত্রসংগঠন সবাই একত্র হয়েই আন্দোলন করা উচিত। একদা শরিফ কমিশন বাতিলের দাবিতে ছাত্ররা প্রাণ দিয়েছিল। মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধেও ছাত্র ও বিদ্বজ্জন প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু আশ্চর্য, সেটি নাকি গোপনে কার্যকরও হয়ে গেছে। রবীন্দ্রনাথের পাঠ্যবইয়ের ওপর যথেষ্ট ক্ষোভ ছিল, হয়তো তিনি সেই পাঠ্যসূচিকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেননি। আজকের দিনে তাই জাতিকে রক্ষার প্রয়োজনে শিক্ষার বিষয়টিকে জরুরিভাবে গণচেতনার বিবেচনায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।
মামুনুর রশীদ: নাট্যব্যক্তিত্ব।

আত্রাইয়ে বেড়িবাঁধে ভাঙন

গত বছর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী ফুলবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের একাংশ ভেঙে যায়। এরপর ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত করা হয়নি। গাফিলতির কারণে সরকারি অনেক কাজ যে হয় না, এ ঘটনা তারই একটি উদাহরণ। এখন বন্যার আশঙ্কার মধ্যে এই ভাঙা বেড়িবাঁধ জনগণের দুর্ভোগ বাড়াতে পারে। ফুলবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধটি আত্রাই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। বাঁধ মেরামতের জন্য এলাকাবাসী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ অনেকের কাছেই ধরনা দিয়েছেন। তাঁরা সবাই বাঁধ মেরামতের আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গত বছর আত্রাইয়ের ফুলবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর আত্রাই-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের মির্জাপুর নামক স্থান ভেঙে আশপাশের এলাকা তলিয়ে যায়। তখন আত্রাই-রানীনগর উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আবার বর্ষা এসেছে। কিন্তু বাঁধের ভাঙা অংশ এখনো মেরামত করা হয়নি। এর ফলে উপজেলার রাইপুর, ডাঙ্গাপাড়া, ফুলবাড়ী, উদনপৈয়, মিরাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে নৌকায় করে রাস্তার ভাঙা অংশ পার হতে হচ্ছে। সপ্তাহে দুই দিন ভবানীপুর-মির্জাপুর হাট বসে। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাটে নিতে পারছেন না। কিন্তু এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। জনগণের দুর্ভোগে যেন তাদের কিছুই যায়-আসে না। কর্তৃপক্ষের এ ধরনের উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি যেকোনো কাজ বা প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি করাটা আমাদের দেশে একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুলবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামতের ক্ষেত্রেও তা-ই হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, দ্রুত ফুলবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ মেরামত করুন। ওই এলাকার জনগণকে দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা করুন।

ট্রাম্পকে নিয়ে দলীয় বিভাজন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দলীয় ডেলিগেটরা। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান সম্মেলনে প্রকাশ্য বিদ্রোহ করেছেন অনেকেই। চার দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথমদিনেই চিৎকার-চেঁচামেচি করে বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি করেন ট্রাম্পবিরোধীরা। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্রুুদ্ধ স্লোগানে ফেটে পড়েন তারা। এমতাবস্থায় আগামী ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ডেমোক্রেটের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খবর এএফপির।
সোমবার রিপাবলিকান সম্মেলনে হাজির হন কয়েক হাজার ডেলিগেট। তাদের অনেকেই যে কোনো মূল্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রার্থিতা ঠেকানোর আহ্বান জানান। চিৎকার করে বলেন, আমাদের দল থেকে এমন কোনো প্রার্থী হতে পারেন না, যিনি মেক্সিকানদের ধর্ষক বলেছেন, মুসলমানদের নিষিদ্ধের হুমকি দিয়েছেন। ভার্জিনিয়া থেকে আগত ডায়ানা শোরিস নামের একজন ডেলিগেট বলেন, ‘আমাদের কথা শুনতে হবে। কারণ এটা জনগণের সম্মেলন।’ এ সময় ট্রাম্পের সমর্থক ডেলিগেট হইচই করে তাদের থামাতে চেষ্টা করেন। ট্রাম্প সমর্থকরা ‘লজ্জা, লজ্জা’ বলে স্লোগান দেন। পরবর্তীতে ট্রাম্পবিরোধীরা মেঝেতে বসে প্রতিবাদ জানান। সম্মেলনের আগের দিন রোববার সিবিএস টিভির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন, তার মনোনয়নের প্রশ্নে দলে বিভক্তি রয়েছে। এই বিভক্তি কাটিয়ে উঠতে এবং রক্ষণশীলদের মধ্যে তার সমর্থন জোরদার করতেই তিনি ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক পেন্সকে নিজের রানিং মেট হিসেবে নির্বাচন করেছেন। ট্রাম্পকে নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও দলীয় ডেলিগেটদের সমর্থনে তিনিই মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
ট্রাম্পের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই রণেভঙ্গ দিয়েছেন। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাইমারি নির্বাচনে ট্রাম্প বিপুল ভোটে জয়ী হন। ট্রাম্প সমর্থকরা বলেন, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের প্রতি ডেলিগেটদের শ্রদ্ধা জানানো উচিত। এবারের সম্মেলনে প্রাইমারি আর ককাসের পর ২৪৭২ জন নির্বাচিত ও মনোনীত ডেলিগেটস ছাড়াও ২৩০০ বিকল্প ডেলিগেটস, ৫০ হাজার কর্মী ও কয়েক হাজার গণমাধ্যম প্রতিনিধি উপস্থিত থাকছেন। বিবিসি জানিয়েছে, প্রথমদিনের সম্মেলনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী দাঁড় করানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অনেকে এ জন্য রিপাবলিকান শীর্ষ নেতৃত্বকেও দোষারোপ করেন। এ ছাড়া রিপাবলিকান সম্মেলনে আগত প্রতিনিধির মধ্যে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিভেদও ছিল লক্ষণীয়। প্রথমদিনের অধিবেশনে বক্তৃতা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া। সম্মেলনের প্রথমদিন স্লোগান ছিল-‘মেক আমেরিকা সেফ এগেইন (আমেরিকাকে আবার নিরাপদ করুন)’, দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবারের স্লোগান- ‘মেক আমেরিকা ওয়ার্ক এগেইন (আমেরিকাকে আবার কর্মক্ষম করুন)’। সম্মেলনে বক্তাদের আক্রমণের প্রধান টার্গেট ছিলেন ডেমোক্রেট দল থেকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। রিপাবলিকান নেতারা বলেন,
বিশ্বনেতা যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে হিলারি অযোগ্য। বিশেষ করে, হিলারির সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন আইওয়া রাজ্যের রিপাবলিকান দলের সিনেটর জোনি আর্নস্ট। এই জোনিকে প্রথম দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রানিং মেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু তার স্থানে এখন আসছেন মাইক পেন্স। জোনি আর্নস্ট ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নেতৃত্ব দেয়ায় ব্যর্থতার অভিযোগে হিলারি ক্লিনটনকে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, হিলারি তার নিজের কথাই ভাবেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কথা ভাবেন না। উল্লেখ্য, জোনি যখন বক্তব্য রাখেন তখন কনভেনশন হল আস্তে আস্তে খালি হয়ে যেতে থাকে। ওদিকে ট্রাম্পবিরোধী ডেলিগেটদের সম্মেলনে যোগ দিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রিপাবলিকান সম্মেলন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা নিয়েছে ক্লিভল্যান্ডের পুলিশ বিভাগ। শহরটিতে নিবন্ধিত অস্ত্র বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় সশস্ত্র পুলিশ দেখা যায়। এবার রিপাবলিকান জাতীয় সম্মেলন ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠান হওয়া নিয়ে অনেক স্থানীয় অধিবাসী বিস্ময় প্রকাশ করেন। সর্বশেষ ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামা বিপুল ভোট পান, ১৯৬৪ সালের পর থেকে কোনো ডেমোক্রেট প্রার্থীর জন্য যা ছিল সর্বোচ্চ।

কাশ্মীরে বর্বরতা ভারতীয় গণতন্ত্রের ‘বৃহৎ কলংক’

জম্মু-কাশ্মীর সংকট ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীতির সমালোচনা করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, কাশ্মীরে সম্প্রতি যে সংঘাত ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তা সঠিক উপায়ে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত সরকার। ফলে কাশ্মীর ইস্যুটি এখন ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি ‘বৃহৎ কলংক’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতিটি বহু দশক ধরে সরকারের অবহেলিত নীতির ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
কাশ্মীর ইস্যুই যে এখন ভারতীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্ষত সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বব্যাপী অনেকেই এখন একই মত দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সভা-সেমিনারেও এখন এই ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা হয়। আমি প্রথম যে রাতে এখানে আসি সে রাতে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন কাশ্মীরে পুলিশ ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বর্বরতার দৃশ্য প্রচার করে বলে জানান অমর্ত্য সেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক আরও বলেন, আমি অস্বীকার করছি না যে, কাশ্মীরিরা ভারতীয় নাগরিক। মূলত কয়েক দশক ধরেই আমরা কাশ্মীর ইস্যুটি বাজেভাবে মোকাবেলা করছি। আর এখন আমার এই ইস্যুতে আরও বাজেভাবে আচরণ করছি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত অমর্ত্য সেন আরও বলেন, কাশ্মীর সমস্যা আইনশৃংখলাজনিত কোনো সমস্যা নয়।
ফলে আইনশৃংখলা রক্ষার নামে কাশ্মীরের বিক্ষোভকারী জনতার সঙ্গে যে ভয়ানক এবং সহিংস আচরণ করা হচ্ছে এবং সংবাদপত্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে তাতে কাশ্মীরের জনগণ আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। যার ফলে কাশ্মীরের জনগণ আর নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ভাবার কোনো কারণ খুঁজে পাবে না। গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে দেখা গেল, ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর হাতে বুরহান ওয়ানি নামের এক সশস্ত্র বিদ্রোহীর মৃত্যু হয় দক্ষিণ কাশ্মীরের ত্রাল এলাকায়। এরপর থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে কাশ্মীর। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অশান্ত হয়ে ওঠে গোটা উপত্যকা। দু’পক্ষের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত নিহত হন ৪২ পুলিশ সদস্য ও বেসামরিক মানুষ।

উত্তেজনা বাড়ছে, সৈন্যদের গুলিতে নিহত আরও ৩

কাশ্মীরে কারফিউ ভঙ্গকারী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে আবারও গুলি ছুড়েছে ভারতীয় সৈন্যরা। সোমবার সামরিক কনভয়ে হামলাকালে সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পুলিশের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার রয়টার্সকে বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা রাস্তা দখল করে সামরিক যানচলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। তারা সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে এবং তাদের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়।
তখন সেনাবাহিনী তাদের থামানোর জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হয়। ঘটনাস্থালে দু’জন নারী মৃত্যুবরণ করেন। পরে হাসপাতালে আরেকজনের মৃত্যু হয়।’ রয়াটার্স জানায়, ৯ জুলাই কাশ্মীরের হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির হত্যাকে কেন্দ্র করে ফুঁসে উঠেছে রাজ্যটি। আইনশৃয়খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫শ’ মানুষ এবং মৃতের সংখ্যা ৪২। মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১১ দিনের জন্য কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। ইন্টারনেট, মুঠোফোন এবং সংবাদপত্র প্রকাশ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে।

সাঁথিয়ায় টবে ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য

আমেরিকান ফল ড্রাগন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি। জমির পাশাপাশি বাড়ির ছাদেও ফলটি চাষ করা য়ায়। বাড়ির ছাদে টবে চাষ করে সাফল্য লাভ করেছেন উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুস ছালাম। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রাম বাজারের পাশে আলহাজ শাহজাহান উদ্দিন মিয়ার একতলা দালানের ছাদে টবে চাষ করছেন তিনি। ফুলে-ফলে ভরে গেছে ছাদের বাগান। ড্রাগন ফলটি আমেরিকায় উৎপত্তি হলেও ২০০৭ সালে বাংলাদেশে এর চাষ শুরু হয়। এটি তিন শিরা বিশিষ্ট, পাতাবিহীন, কাঁটাযুক্ত ক্যাকটাস গোত্রের গাছ। গোলাকার গোলাপি রঙের সুস্বাদু ফলটি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, খনিজ লবণ ও উচ্চ আঁশযুক্ত। এটি বাণিজ্যিকভাবে মাঠেও চাষ করা যায়। তবে শহর বা গ্রামের বাসিন্দা যারা দালান কোঠায় বসবাস করেন তারা অতি সহজেই ছাদে বা বারান্দায় মাটির টবে, প্লাস্টিকের পাত্রে, এমনকি হাফ ড্রামেও এ ফলটির চাষ করতে পারেন।
আবদুস ছালাম ২০১১ সালে এপ্রিল মাসে গাজীপুর জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা) হতে ৩টি চারা এনে টবে লাগিয়েছিলেন। এক বছর পর ২০১২ সালে ফুল ফুটে ফল হয়। বর্তমান সময় পর্যন্ত তার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এপ্রিলের শেষ হতে নভেম্বর মাস পর্যন্ত গাছে ফুল ধরে। সন্ধ্যা রাতে সাদা ফুল ফোটে, ভোরেই বন্ধ হয়ে যায়। তাই অনেকে একে নাইট কুইনও বলে। ফুল ফোটার এক মাস পরই ফল পেকে লোভনীয় গাঢ় গোলাপি রং হয়, তখনই ফল সংগ্রহ করতে হয়। টবে লাগানো একেকটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম হতে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলের দাম ৬০০ হতে ১০০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। সাঁথিয়া তথা পাবনা জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম দালানের ছাদে সফলভাবে ড্রাগনফল চাষ করেছেন। তার এ ফলের বাগান দেখতে প্রতিদিন লোকজন ভিড় করছেন। বাণিজ্যিকভাবে জমিতে চাষ সম্পর্কে কৃষিবিদ আবদুস ছালাম আরও জানান, পানি জমে না এমন উঁচু জমিতে ড্রাগনফল চাষ করতে হবে। এক বিঘা জমিতে ১২০- ১৩০টি পিলার পুঁতে প্রতি পিলারে ৪টি করে চারা রোপণ করতে হয়। এতে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হবে। জমিতে ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম হতে ৫০০ গ্রাম হয়। এ ফলে রোগ বালাই ও পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে। গাছ রোপণের এক-দেড় বছরের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে।

মেজবাহ-শিরিনের স্বপ্নযাত্রা অবশেষে

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ওয়াইল্ড কার্ড না আসায় ধরেই নেয়া হয়েছিল যে, অলিম্পিক-যাত্রা হচ্ছে না মেজবাহ ও শিরিনের। সোমবার রাতে হঠাৎ অনিশ্চতার মেঘ কেটে গেছে। অবশেষে দেশের দ্রুততম মানব-মানবী মেজবাহ আহম্মদ ও শিরিন আক্তারের রিও অলিম্পিকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হল। নৌবাহিনীর এই দুই অ্যাথলেট এমন খবরে স্বাভাবতই মহাখুশি। কাল অ্যাথলেটিক্স অঙ্গনে স্বস্তি ও আনন্দ দুই-ই পরিলক্ষিত হল এই সুসংবাদে। অনিশ্চয়তা দূর হওয়ায় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিসের বুক থেকে যেন নেমে গেল জগদ্দল পাথর। দু’দিন আগেও যিনি ছিলেন হতাশ। কাল তিনি বলেন, ‘১৪ জুলাই শেষ দিনেও যখন ওয়াইল্ড কার্ড আসেনি, তখন অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। কোনো খবরও দিতে পারছিল না বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। শেষে শনিবার রাতে আমি সরাসরি আন্তর্জাতিক অ্যামেচার অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের (আইএএএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করি। সভাপতি সেবাস্তিয়ান গো’র কাছে চিঠি পাঠাই। যার ফল হিসেবে এই দুটি ওয়াইল্ড কার্ড পেলাম।’
হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ২০১৩ সাল থেকে টানা চারবারের দ্রুততম মানব (তিনটি জাতীয় ও একটি সামার মিট) মেজবাহ আহমেদ। তার প্রতিক্রিয়া, ‘১৪ জুলাই ওয়াইর্ল্ড কার্ড না আসায় অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এত কষ্ট করার পরও কী তাহলে অলিম্পিকে খেলতে পারব না? সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় দ্রুততম মানবী শিরিনের কাছ থেকে খবরটি পাই। যেন বুকের ওপর থেকে কষ্টের পাথর নেমে গেল।’ তিনি যোগ করেন, ‘খবরটা শোনার পর মা (শাহীনা বেগম) ও বাবাকে (মোকাম্মেল হোসেন) জানাই। উনারাও খুব খুশি।’ বাগেরহাটের চিতলমারীর এই অ্যাথলেট এখন ব্রাজিলের ট্র্যাকে দৌড়ানোর অপেক্ষায়। ব্রাজিল খুবই প্রিয় নাম দেশসেরা এই অ্যাথলেটের কাছে। মেজবাহ বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবলে আমি ব্রাজিলের সমর্থক। সেই ব্রাজিলের ট্র্যাকেই দৌড়াব। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে? এবার রিওতে আরেকটি স্বপ্ন থাকবে আমার। উসাইন বোল্টের সঙ্গে ছবি তোলা। আগে দু’বার শেলি আনফ্রেজের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। দু’বারই ছবি তুলেছি। অলিম্পিকে অংশ নেয়াটা একটি স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে।’
অলিম্পিকে নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে মেজবাহ বলেন, ‘আমার সেরা টাইমিং ১০.৭২ সেকেন্ড। এবার যদি ১০.৭০ সেকেন্ডও করতে পারি, তাহলেই অনেক কিছু পেয়েছি বলে মনে করব।’ রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলের ট্র্যাকে দৌড়ানোর স্বপ্ন ছিল দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারেরও। ফুটবলে তারও প্রিয় দল ব্রাজিল। তাই স্বপ্নের দেশে স্বপ্নের গেমসে ট্র্যাকে দৌড়ানোর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না তার জন্যও। শিরিনের কথা, ‘ব্রাজিলের ট্র্যাকে দৌড়ানোর সুপ্ত বাসনা অনেক আগে থেকেই ছিল আমার মনে। তাই এটাই আমার শেষ, এমনটা ভেবেই দৌড়াব। যদিও একসময় আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু সোমবার রাতে যখন ঘুমাতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনি স্যার (ইব্রাহিম চেঙ্গিস) আমাকে ফোন দিয়ে খবরটা জানান। একবার মনে হচ্ছিল আমি ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছি। নিজের হাতে চিমটি কেটে দেখলাম না সত্যি।’
স্বপ্নের অলিম্পিকে সুযোগ পেয়ে নিজের পারফরম্যান্সে উন্নতি ঘটাতে চান শিরিন। তার কথায়, ‘গৌহাটি এসএ গেমসে আমার স্কোর ছিল ১১.৯৯ সেকেন্ড। সেটা অলিম্পিকে যদি ১১.৩৫ করতে পারি, তাহলেই ভাববো কিছু একটা অর্জন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে চেষ্টা করব ওয়াইল্ড কার্ড নয়, আমরা যেন সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে পারি।’ তিনি যোগ করেন, ‘যখন ওয়াইল্ড কার্ড পাইনি তখন আমার বান্ধবী এবং তিন বোন বলেছিল, এটা কোনো ব্যাপার নয়। এর থেকেও ভালো কিছু হবে হয়তো। পরে সবাই যখন জানতে পারল তখন তারা আমার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছে।’ নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা জানালেন নৌবাহিনীর অ্যাথলেট শিরিন, ‘গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে দ্রুততম মানবী শেলি অ্যানফ্রেজের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমাদের দু’জনের উচ্চতা এক। উনাকে দেখেও আমি অনুপ্রাণিত হই। উনি যদি বিশ্বসেরা হন, তাহলে আমার উচিত পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে অন্তত উনার কাছাকাছি থাকা।’

খোলামেলা দৃশ্যে আপত্তি নেই জয়ার

দেশের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। বর্তমানে কলকাতার অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিতি তার। কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ কয়েকটি আর্টফিল্মে অভিনয় করে ইতিমধ্যে সেখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন তিনি। তবে কলকাতায় অবস্থান তৈরি হলেও দেশীয় মিডিয়া অঙ্গন থেকে ক্রমেই দূরে সরে পড়ছেন এ তারকা। এ মুহূর্তে বাংলাদেশী শোবিজ অঙ্গনের উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ নেই তার হাতে। যেগুলো রয়েছে সেগুলোরও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এর আগে দেশের ছবিতে কোনো আপত্তিকর দৃশ্যে অভিনয় করবেন না বলে বড় বড় বুলি আউড়িয়ে থাকলেও কলকাতায় দেখা যাচ্ছে তার বিপরীত চিত্র। সেখানে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেও তুমুল আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন জয়া।
যেগুলোকে অশ্লীল নয়, সাহসী দৃশ্য বলে মন্তব্য করছেন তিনি। যদিও কিছুদিন আগে বলে বেড়িয়েছেন অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করবেন না। তবে সম্প্রতি ভিন্ন ঘোষণা দিলেন এ নায়িকা। চরিত্রের প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ এবং খোলামেলা দৃশ্যেও আপত্তি নেই তার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন কথাই জানালেন জয়া। প্রসঙ্গত, বর্তমানে কলকাতার ‘ঈগলের চোখ’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী। এতে বেশকিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে দেখা যাবে তাকে। এমন ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করে আবারও বিতর্কের মুখে পড়তে পারেন বলেই আগাম এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে মনে করছেন সিনেমা বোদ্ধারা।