Sunday, January 4, 2026
হিন্দুত্ববাদীরা যেভাবে বদলে দিচ্ছে ভারতের পরিচয়
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি বছরে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণটি দিয়েছিলেন গত আগস্টে, দেশের স্বাধীনতা দিবসে। ওই ভাষণটি দিতে এমন একটি সংগঠনের মঞ্চকে ব্যবহার করে সংগঠনটিকে সম্মানিত করেছিলেন তিনি, যা শুধু তাঁর জীবনই নয়, গোটা ভারতকে নতুন পরিচয়ে গড়ে তুলছে।
মোদির ১১ বছরের শাসনকালে কট্টর ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রতি এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে জোরালো ও প্রকাশ্য স্বীকৃতি। মোদি যখন একজন কিশোর, তখন থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাজীবন গড়ে তুলেছে এই সংগঠন। চলতি বছর আরএসএস যখন তাদের শতবর্ষ উদ্যাপন করেছে, তখন মোদির এই স্বীকৃতি এটা দেখিয়ে দেয় যে সংগঠনটি কীভাবে আজ ভারতে ক্ষমতার নেপথ্যের এক নিয়ন্ত্রক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ভারতে মুসলমানদের দীর্ঘ শাসন এবং ঔপনিবেশিক শাসনের পর হিন্দু গৌরব নতুন করে জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে আরএসএসের জন্ম। গত শতকের ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে সংগঠনটির প্রথম দিকের নেতারা ইউরোপের ফ্যাসিবাদী দলগুলোর জাতীয়তাবাদী মডেল থেকে খোলাখুলিভাবেই অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। মহাত্মা গান্ধী হত্যায় অভিযুক্ত হওয়াসহ একাধিকবার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার পরও আএসএস টিকে থাকে। আর ধীরে ধীরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডানপন্থী শক্তিতে রূপ নেয়।
নরেন্দ্র মোদিকে আরএসএসের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও যোগ্যতাসম্পন্ন সদস্যদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি জাতীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করায় আরএসএস এমন সব সাফল্য ও প্রসার পেয়েছে, যা সংগঠনটির অনেক নেতার ভাষায় আগে কখনো কল্পনাও করা যেত না। শক্ত হাতে শাসন করা এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরএসএসের মাঝেমধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিলেও সংগঠনটি এখন তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের একেবারে কাছাকাছি। স্বপ্নটি হলো ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র থেকে সরিয়ে নিয়ে একটি শক্তিশালী হিন্দু-ফার্স্ট বা হিন্দুদের অগ্রাধিকার দেওয়া একটি রাষ্ট্রে রূপান্তর করা।
আরএসএস ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীরে ঢুকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এতটাই নিজেদের প্রভাববলয়ের মধ্যে এনেছে যে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলেও সংগঠনটির প্রভাব সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যাবে। বিপুলসংখ্যক সহযোগী গোষ্ঠীর মাধ্যমে আরএসএস ভারতের সমাজ, সরকার, আদালত, পুলিশ, গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করেছে। এসব স্থানে নিজেদের প্রধান প্রধান সদস্যদের বসিয়েছে। তারা রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলে, আবার ভেঙেও দেয়। হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণদের নিজ নিজ সমাজে গুরুত্ব ও প্রভাব অর্জনের একটি পথ দেখিয়েছে আরএসএস। এভাবে দেশজুড়ে আনুগত্য আদায় করেছে তারা।
যদিও আরএসএস এখনো নিজেদের একটি গোপন সংগঠন হিসেবে তুলে ধরার পুরোনো ধারাটা বজায় রেখেছে, তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রকাশ্য। সংগঠনটির সদস্য এবং প্রভাব আজ দৃশ্যমান সর্বত্র।
আপনারা যখন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির আধিপত্য দেখবেন, আপনারা আসলে আরএসএসের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কাজ করতেই দেখছেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগঠনটি দলের প্রার্থীদের ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। আবার আপনি যখন দেখবেন হিন্দু উগ্রবাদীরা মুসলিম পাড়ার দিকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছে বা গির্জায় হামলা করছে, তখন আসলে আপনারা আরএসএসের সহযোগী সংগঠনগুলোর আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগই দেখছেন।
আরএসএসের এই রাজনৈতিক আধিপত্য ১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতকে ধর্মীয়ভাবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিভক্ত করেছে। সংগঠনটির যে দর্শন রয়েছে, তাতে ভারতের প্রায় ২০ কোটি মুসলমান ও খ্রিষ্টানকে বিদেশি আক্রমণকারীদের বংশধর হিসেবে দেখা হয়। আরএসএস মনে করে এই মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের তাদের নিজ নিজ স্থানে ফিরে যেতে হবে।
গত শতকের আশির দশকে আরএসএসের রাজনৈতিক শাখায় দায়িত্ব দেওয়া হয় মোদিকে। এর আগে তিনি সংগঠনটির একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান। আরএসএসকে একটি বিশাল নদীর সঙ্গে তুলনা করেছেন মোদি। এই নদী থেকে অসংখ্য শাখাপ্রশাখা বেরিয়ে ভারতের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতীয় সমাজ যখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এমন একটি কঠিন সময়ে ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আরএসএসের প্রশংসা করেছেন মোদি।
লালকেল্লায় বৃষ্টিভেজা স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, ‘সেবা, নিষ্ঠা, সংগঠিত থাকা ও অতুলনীয় শৃঙ্খলা—এগুলোই এর (আরএসএস) বৈশিষ্ট্য।’
ওপরে ওপরে আরএসএস একটি বড় সমাজসেবামূলক সংগঠন। এর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছে পাড়া–মহল্লাভিত্তিক ছোট ছোট বিভিন্ন দলের মাধ্যমে। ছোট এই দলগুলোয় শারীরিক অনুশীলন ও আধ্যাত্মিক চর্চার মধ্য দিয়ে আজীবনের জন্য ‘বয় স্কাউটের’ মতো সদস্য তৈরি করা হয়। এই দলগুলোই আরএসএসের সদস্য সংগ্রহের প্রধান জায়গা এবং সামাজিক কাঠামো নতুন করে গড়ে তোলার শক্তি। এই স্তর থেকেই আরএসএস পরিকল্পিতভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব ছড়িয়ে দেয়।
বিজেপি নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে। এই দলের সদস্য সংখ্যা ১০ কোটির বেশি। আর আরএসএসের রয়েছে বহু শাখা। এর মধ্যে আছে বড় ছাত্রসংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন, কৃষক সংগঠন, পেশাজীবীদের নেটওয়ার্ক, ধর্মীয় সংগঠন ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান। নিয়মিত সমন্বিত বৈঠকের মাধ্যমে এসব সহযোগী সংগঠন আরএসএসের হিন্দু এজেন্ডাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে কাজ করে। এর লক্ষ্য হলো ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করা।
দুর্গা নন্দ ঝা একজন শিক্ষাবিদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত আছেন। সংগঠনটি-সংশ্লিষ্ট একটি চিন্তক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বও দিচ্ছেন। দুর্গা নন্দ ঝা বলেন, ‘আমাদের হাতে যদি ক্ষমতা থাকে, সবকিছুই সঠিক পথে চলে আসবে।’
তবে অতীতে ভারতের প্রতিষ্ঠাকালীন ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানের কারণে যে দমন–পীড়নের মুখে আরএসএসকে পড়তে হয়েছিল, তার প্রভাব আজও রয়ে গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের ওপর বিপুল প্রভাব খাটালেও আরএসএস তা করে খুব সীমিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে। সংগঠনটি বিস্তারিত নথিপত্র সংরক্ষণ করে না। অসংখ্য ছোট ও স্বাধীন সংগঠন ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে।
ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে আরএসএসের নেতা ড. নিশিথ ভাণ্ডারকর বলেন, ‘আরএসএসের নিজের কিছুই নেই। আমাদের আছে শুধু মানুষ।’
আরএসএসের উত্থান এবং ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের লক্ষ্য বোঝার জন্য দ্য নিউইয়র্ক টাইমস সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের সম্মেলনে অংশ নিয়েছে এবং তৃণমূল পর্যায়ের শাখাগুলো ঘুরে দেখেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আরএসএস নেতারা তুলনামূলক জনমুখী একটি অবস্থান নিয়েছেন, যা দেশের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসনের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি ধারণা তুলে ধরেছে। কিন্তু বাস্তবে এ অবস্থান অনেক সময় হারিয়ে যায়। আরও চরম ডানপন্থী নেতাদের একটি নতুন প্রজন্ম মনোযোগ কাড়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তাদের বক্তব্য আরও জোরদার হচ্ছে। ফলে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
আরএসএসের সহযোগী সংগঠনগুলোর সদস্য পরিচয় নিয়ে গর্ব করা উগ্রবাদীরা ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে জনজীবন নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা মুসলিম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বর্জন কর্মসূচি জোরদার করছে। হিন্দু উৎসবগুলোকে শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করছে। জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলে তারা গির্জায় হামলা চালিয়েছে, বড়দিনের অনুষ্ঠান ভাঙচুর করেছে, মুসলমানদের কবরগুলো খুঁড়ে ফেলেছে। ভিন্ন ধর্মের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহে ট্রেন থেকে যুগলকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়েছে। গরুর মাংস বহনের অভিযোগে মানুষজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আরএসএসের ধারণাগুলো ভারতে গভীরভাবে প্রোথিত হচ্ছে। তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ের পাতা থেকে শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে, টেলিভিশন বিতর্ক—এমনকি আদালতেও। এই আদালতকে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার রক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত ডিসেম্বরে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীন আদালত এলাহাবাদ হাইকোর্টের চত্বরে সেমিনারের আয়োজন করে আরএসএসের সবচেয়ে কট্টর সহযোগী সংগঠনগুলোর একটি। সেখানে মূল বক্তৃতায় বিচারপতি শেখর কুমার যাদব বলেন, হিন্দু সমাজ তার দুর্বলতাগুলো সংশোধন করেছে। তখন ‘এই মানুষগুলোর’ ভুলের একটি তালিকা তুলে ধরেন তিনি। পরে তিনি খোলাসা করেন ‘এই মানুষগুলো’ বলতে তিনি মুসলমানদের বুঝিয়েছেন।
ওই বিচারপতি বলেন, ‘আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে এটা ভারত এবং এই দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছা অনুযায়ীই চলবে।’
ভিত স্থাপন
গত আগস্টের এক ভোর। মুম্বাইয়ের একটি পার্কে আঁধারের মধ্যে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ধীরে ধীরে জড়ো হন প্রায় এক ডজন মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সম্পত্তি ব্যবসায়ী, বিজ্ঞাপন এজেন্ট ও নৌবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আরএসএসের সঙ্গে তাঁরা পাঁচ বছর থেকে শুরু করে ৫৫ বছর পর্যন্ত জড়িত।
তাঁরা সবাই একটি ছোট গেরুয়া পতাকার সামনে শ্রদ্ধা জানান। তারপর দলের নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে ভক্তিমূলক গান গাইতে শুরু করেন। এরপর একজন প্রশিক্ষক বাঁশি বাজান। বাঁশির শব্দে শুরু হয় শরীরচর্চা। অংশগ্রহণকারীদের দেহে বার্ধক্যে ন্যুব্জ হলেও তাঁদের শরীরচর্চা ছিল সুসংগঠিত। তাতে ছিল সামরিক তৎপরতার ছাপ। এরপর হয় কুচকাওয়াজ।
প্রতিদিনের মতোই সেই সকালটাও শেষ হয় একই বন্দনার মধ্য দিয়ে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বুকের সামনে ডান হাত বাড়িয়ে দেন অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের হাতের তালু ছিল নিচের দিকে। গেরুয়া পতাকার সামনে মাথা নত করেছিলেন তাঁরা।
আরএসএসের ছোট ছোট অংশের এই সম্মিলনগুলো ‘শাখা’ নামে পরিচিত। ১৯২৫ সালে একজন চিকিৎসকের হাতে আরএসএসের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে এসব শাখা।
ভারত যখন ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছিল, তখন ডানপন্থী মতাদর্শের কিছু ব্যক্তি নিজেদের সামনে আরও বড় একটি সংগ্রাম দেখেছিলেন। তাঁদের মতে, শত শত বছর আগের মুসলমানদের আক্রমণ হিন্দুদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিয়েছিল এবং পরবর্তী ঔপনিবেশিক শক্তির জন্য পথ তৈরি করেছিল। সেই অবস্থা থেকে হিন্দুদের পুনরুজ্জীবিত করাই ছিল তাঁদের ওই সংগ্রাম। সমাজকে নতুন করে গড়ে তুলতে একেবারে নিচের স্তর থেকে ওপরে ওঠার কৌশল হাতে নেয় আরএসএস।
বর্তমানে সারা দেশে আরএসএসের ৮৩ হাজার শাখা রয়েছে। পাড়া–মহল্লা স্তর থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এসব শাখা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। আরএসএস যে ধরনের মানুষদের ভারতের ভবিষ্যৎ যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, সেই ছাঁচ তৈরির মূল ভিত্তি এই শাখাগুলোই। মানুষের একটি মৌলিক চাহিদা হলো সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকা ও বন্ধুত্ববোধ। এই চাহিদার ওপর ভর করে প্রতিদিনের সাধারণ অনুশীলনের মাধ্যমে আরএসএস মানুষের মধ্যে অভ্যাস তৈরি করে এবং আদর্শ গেঁথে দেয়।
এই শাখাগুলোর ভেতরেই আরএসএস তাদের সম্ভাবনাময় সদস্যদের খোঁজ করে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করে। (নরেন্দ্র মোদি ছেলেবেলায় শাখায় যাওয়া শুরু করেন এবং তরুণ বয়সে আরএসএসের পূর্ণকালীন প্রচারক হন) এই সদস্যরাই পরে আরএসএসের বিশাল নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা সহযোগী সংগঠনগুলোয় ছড়িয়ে পড়েন।
সম্প্রতি এক বক্তৃতায় শাখাগুলো সম্পর্কে কথা বলেন আরএসএসের ষষ্ঠ ও বর্তমান প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর ভাষ্যে, ‘১০০ বছর ধরে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা সব ধরনের পরিস্থিতিতেই এই ব্যবস্থাকে ধারাবাহিকভাবে টিকিয়ে রেখেছেন।’
আরএসএসপ্রধানের ভূমিকাকে অনেক সময় রোমান ক্যাথলিক চার্চের পোপের সঙ্গে তুলনা করা হয়। প্যারিসের সায়েন্সেস পো–এর গবেষকেরা আরএসএস নিয়ে গবেষণা করেছেন। সংগঠনটির কার্যপ্রণালিকে তাঁরা বর্ণনা করেছেন এভাবে, ‘একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন নতুন সংস্থা গড়ে তোলা, যাতে তাদের নেটওয়ার্ক বড় হয়। একই সঙ্গে এটা নিশ্চিত করা যে সংস্থাগুলো যেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকে।’
সায়েন্সেস পোর গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে, আরএসএসের অন্তত ২ হাজার ৫০০টি সংগঠন রয়েছে। এই সংগঠনগুলোর মধ্যে ‘সুস্পষ্ট, অনুসরণযোগ্য ও বাস্তব সম্পর্ক’ রয়েছে । এই সম্পর্ক সংগঠনগুলোকে ‘একটি একক সত্তার ঘনিষ্ঠ অংশে’ পরিণত করেছে।
আরএসএসের প্রথম দিকের নেতারা কোনো রাখঢাক না রেখেই তাঁদের লড়াইয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। সেটি হলো, ভারতের পরিচয় হবে একটাই। তা হলো হিন্দু।
১৯৩৯ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে আরএসএসের দ্বিতীয় ও সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধান এম এস গোলওয়ালকর জার্মানিতে হিটলারের ইহুদি নিধনের উদাহরণ টেনে বলেছিলেন, ভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতিকে একক জাতিতে পরিণত করা সম্ভব নয়।
গোলওয়ালকরের যুক্তি ছিল, যাঁরা হিন্দু নন, তাঁরা কেবল তখনই ভারতে থাকতে পারবেন, যখন তাঁরা হিন্দু জাতির পুরোপুরি অধীনস্থ থাকবেন, কোনো দাবি না তুলবেন, কোনো সুযোগ প্রত্যাশা না করবেন, এমনকি নাগরিক অধিকার পর্যন্ত দাবি না করবেন।
তবে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ভেতরে থাকা এই রক্ষণশীল ধারাকে প্রথম দিকে ছাপিয়ে গিয়েছিল একটি উদারপন্থী ধারা। তারা বহুত্ববাদী ভারতের স্বপ্ন আঁকড়ে ধরেছিল। এই ধারার নেতৃত্বে ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তিনি ধর্মীয় সহিংসতার প্রতিবাদে অনশন পর্যন্ত করেছিলেন।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়। তখন মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের জন্য ভারতবর্ষের বড় একটি অংশ আলাদা করে দেওয়া হয়। এতে হিন্দু ডানপন্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তাদের ক্ষোভের মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠেন গান্ধী। তিনি পরে সন্ধ্যাকালীন এক প্রার্থনাসভায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
গান্ধীর ঘাতক ছিলেন একজন ডানপন্থী হিন্দু কর্মী। তাঁর সঙ্গে আরএসএসের সংশ্লিষ্টতা ছিল। সংগঠনটি তখন দাবি করে, ওই ব্যক্তি বহু বছর আগেই আরএসএস ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবু আরএসএসকে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর তারা দীর্ঘদিন ধরে সমাজে একঘরে হয়ে ছিল।
ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসেবে কল্পিত ভারত ছিল সমাজের ওপরের স্তর থেকে চাপিয়ে দেওয়া এক আদর্শবাদী প্রকল্প। এই আদর্শবাদী প্রকল্পে মুসলিম শাসন এবং ঔপনিবেশিক যুগের ক্ষত ও অপমানের বিষয়গুলো অমীমাংসিতই থেকে যায়। গভীরে থাকা এই ক্ষোভকেই আরএসএস তাদের বিস্তৃত হওয়ার হাতিয়ার করে তোলে।
পঞ্চাশের দশকে একটি রাজনৈতিক শাখা গড়ে তুলে আরএসএস ধীরে ধীরে রাজনীতিতে প্রবেশ করে। ওই শাখাটি পরে বিজেপি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সত্তরের দশকে তারা প্রথম বড় সাফল্য পায়। এরপর থেকে তারা ক্রমাগত নিজেদের ভিত্তি আরও শক্ত করে তুলতে থাকে।
ক্ষমতার উত্থান
১৯৭৫ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা ইন্দিরা গান্ধী দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিলেন। আদালতের রায়ে তাঁর নির্বাচনী বিজয় বাতিল হওয়ার পর এমন পদক্ষেপ নেন তিনি। ওই সময় আরএসএসসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার নিপীড়নমূলক অভিযান চালায়। ফলে ওই সংগঠনগুলোর প্রতি মানুষের বড় সহানুভূতি সৃষ্টি হয়। সে সময় বিপুলসংখ্যক আরএসএস নেতা গ্রেপ্তার হন। তখন থেকেই নিজেদের ভারতের গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করে আরএসএস।
এস এম বাঘাডকা ভারতের একজন সরকারি কর্মচারী। দীর্ঘদিন ধরে আরএসএস সদস্য তিনি। ভারতের নাগপুরে এক সকালে শরীরচর্চার সময় তিনি বলেন, ‘আমার মা কংগ্রেসে ভোট দিতেন। কিন্তু বাবা ছিলেন আরএসএসের সঙ্গে। ইন্দিরা গান্ধী যখন আমার বাবাকে জেলে পাঠালেন, তখন আমার মা–ও পক্ষ বদল করেন।’
নব্বইয়ের দশকে একটি বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে চালানো আন্দোলন আরএসএসকে দ্বিতীয় বড় সুযোগটি এনে দিয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে ভারতের রাজনীতির গতিপথ চিরদিনের জন্য বদলে যায়।
উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা শহরে ষোলো শতকের একটি মসজিদ আরএসএসের প্রতীকী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। আরএসএসের দাবি ছিল, ওই জায়গায় একসময় হিন্দু দেবতা রামের একটি মন্দির ছিল। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আদালতে ঘুরপাক খাচ্ছিল। তবে হিন্দু ডানপন্থীদের ভিন্ন পরিকল্পনাও ছিল।
বিজেপির তৎকালীন সভাপতি একটি ট্রাককে রথের আদলে সাজিয়ে সারা দেশে সফর করেন। তাঁর এই বহর এগোতে থাকলে একের পর এক এলাকায় প্রাণঘাতী উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আরএসএস নেতাদের ভাষায়, এই আন্দোলনের বৃহত্তর লক্ষ্য ছিল—হিন্দু ধর্মের বিশাল বৈচিত্র্যকে একত্র করা। ‘জয় শ্রী রাম’—তাদের যুদ্ধধ্বনি হয়ে ওঠে।
১৯৯২ সালে এই উত্তেজনার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে। লোহার রড, গাঁইতি হাতে ক্ষুব্ধ উচ্ছৃঙ্খল জনতা মসজিদের গম্বুজে উঠে সেটি ভেঙে ফেলে। এই জনতার মধ্যে আরএসএসের সহযোগীরাও ছিলেন।
এরপর আবারও আরএসএস নিষিদ্ধ হয়। তবে সেই সময় গড়ে ওঠা কৌশলই পরবর্তীকালে সংগঠনটির সাফল্যের মূল সূত্র হিসেবে থেকে যায়। তা হলো অতীতের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত এক ধরনের যুদ্ধংদেহী প্রতিশোধপরায়ণ মানসিকতা ছড়িয়ে দেওয়া। আরএসএসের ওই কৌশলে ভারতের মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের অতীতের অবশিষ্টাংশ হিসেবে দেখা হয়।
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে জোট সরকারের অংশ হিসেবে আরএসএস প্রথম ক্ষমতার স্বাদ পায়। তবে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই নিজেদের উদ্দেশ্য পুরোদমে বাস্তবায়ন শুরু করে সংগঠনটি।
মসজিদ ভাঙায় উচ্ছৃঙ্খল জনতার ভূমিকার বিষয়টি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একপ্রকার ছাড় দেওয়ার পর অযোধ্যায় একটি বিশাল রামমন্দির নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেন মোদি। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম–সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের দীর্ঘদিনের আধা স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে সরাসরি নয়াদিল্লির নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
গত এক দশকে সারা দেশে আরএসএসের সামাজিক উপস্থিতিও দ্বিগুণ হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা এখন অসীম ক্ষমতার জেরে পাওয়া স্বাধীনতা ও বিলাসিতা উপভোগ করছেন। নয়াদিল্লিতে তাঁরা ৩ দশমিক ৭ একর জমির ওপর তিনটি ১৩ তলা ভবন নিয়ে একটি জাঁকজমকপূর্ণ প্রাঙ্গণ গড়ে তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির নিরাপত্তাবহরের প্রায় সমান নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করেন মোহন ভাগবত। ‘সমাজ আমাদের কথা শোনে,’ বলছেন তিনি।
সবকিছু অবশ্য মসৃণভাবে এগোয়নি। আরএসএসের কিছু নেতা মনে করেন, মোদি এতটাই ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছেন যে তিনি সংগঠনকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মতে, সবকিছুর মধ্যে নিজের নাম ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার যে প্রবণতা নরেন্দ্র মোদির রয়েছে, তা সামলাতে শিক্ষা ও সংস্কৃতির মতো ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম কৌশল খাটাতে হয়েছে ভাগবতকে। এই ক্ষেত্রগুলো আরএসএসের মূল মনোযোগের জায়গা।
তবে সংগঠনের মূল কাঠামো ও তার রাজনৈতিক শাখার মধ্যে বিরোধের খবর প্রকাশ্যে অস্বীকার করে এসেছেন ভাগবত। তিনি বলেন, ‘প্রতিদবন্দ্বিতা আছে। কিন্তু ঝগড়া নেই।’
আরএসএসের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের জন্য মোদির প্রতীকী গুরুত্ব ব্যাপক। নাগপুরের মানবসম্পদ পরামর্শক আল্হাদ সদাচার (৪৯) ছেলেবেলা থেকেই আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবক। তিনি বলেন, মোদি একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন। তাই তিনি বিষয়গুলো আরও ভালো বোঝেন।
‘প্রতিটি ঘর, প্রতিটি রাস্তা’
অক্টোবরে যখন আরএসএসের শতবর্ষ উদ্যাপন শুরু হয়েছিল, তখন অতীতের কোনো কলঙ্কের ছাপ আর চোখে পড়েনি।
টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দিনভর সরাসরি সম্প্রচার করেছে। প্রভাবশালী রাজনীতিকেরা বাদামি প্যান্ট, সাদা শার্ট ও কালো টুপি পরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আরএসএসের চিরচেনা ধারায় অভিবাদন জানান। অভিনন্দনবার্তা এসেছিল সব জায়গা থেকে—বলিউড তারকা থেকে শুরু করে দালাই লামার কাছ থেকেও।
আরএসএসের জন্মস্থান ও প্রধান কার্যালয় নাগপুরে। সেখানে শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত দেখেন ইউনিফর্ম পরা হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের কসরত, গান আর যোগব্যায়াম। তাঁদের এ প্রদর্শন ছিল প্রায় ১০ হাজার মানুষের সামনে। দর্শকদের মধ্যে ছিলেন কয়েক ডজন বিদেশি কূটনীতিকও।
সমাপনী ভাষণের জন্য যখন প্রধান আদর্শিক নেতা (ভাগবত) মঞ্চে উঠলেন, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট—আরএসএসকে ছড়িয়ে দিতে হবে, যতক্ষণ না ‘প্রতিটি ঘর, প্রতিটি রাস্তা’ তাদের আওতায় আসে।
আরএসএস যেসব বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধীরে এগিয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তনের চেষ্টার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয় গোঁফওয়ালা এই নেতাকে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের কঠোর বর্ণব্যবস্থার প্রভাব কমিয়ে একটি ‘শোষণমুক্ত’ সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা। তিনি উগ্রবাদীদের সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে আরএসএস মসজিদ ভেঙে মন্দির নির্মাণের পক্ষে নয় (অযোধ্যারটি ছাড়া)। তবে তিনি এ-ও যোগ করেন, ব্যক্তিগত পরিসরে কোনো সদস্য যদি এমন আন্দোলনে অংশ নেয়, তাহলে আরএসএস আপত্তি জানাবে না।
আরএসএসের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি ‘হিন্দুরাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করা। এটি একটি সর্বব্যাপী ব্যবস্থা। একে অনেক সময় ধর্মনিরপেক্ষ ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে রূপান্তরের বিষয় হিসেবে সরলীকরণ করা হয়। ভাগবত বলেন, এই শব্দটির ‘ভুল’ ব্যাখ্যা হয়েছে। তাঁদের আসল উদ্দেশ্য হলো হিন্দু জাতির সংহতি। তাঁর ভাষায়, এটি একটি সাংস্কৃতিক সংজ্ঞা আর ভারতে বসবাসকারী সবাইকেই তাঁরা হিন্দু হিসেবে দেখেন।
তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে ভাগবত বারবার ‘অন্যান্য সম্প্রদায়ের’ কথাও বলেছেন। এটি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বোঝাতে ব্যবহার করা একটি পরিভাষা। এক সময় তিনি তিনটি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ, তাঁর দাবি হিন্দুদের জন্মহার ‘অন্যান্য সম্প্রদায়ের’ তুলনায় দ্রুত কমছে।
নাগপুরে আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে ভাগবত বিদেশিদের হাত ধরে আসা ধর্মগুলোর অনুসারীদের গ্রহণ করে নেওয়ার কথা বলেন। তাঁদের উপাসনালয়গুলোর প্রতি ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শ্রদ্ধাশীল’ আচরণের আহ্বান জানান। ‘দাঙ্গায় জড়ানো’ এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার বিরুদ্ধেও কথা বলেন তিনি।
তারপর, তিনি প্রায়ই যেমন করেন, তেমনভাবেই দরজা খানিকটা খোলাও রাখেন ভাগবত। তিনি বলেন, ‘তবে সমাজের ভালো মানুষদের এবং তরুণ প্রজন্মকে সজাগ ও সংগঠিত থাকতে হবে। প্রয়োজনে তাদের হস্তক্ষেপও করতে হবে।’
এই ধরনের দ্বিমুখী বক্তব্য কীভাবে কাজ করে, তা দেখতে হলে নজর দিতে হবে ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশের দিকে। সেখানে জনসংখ্যা ২০ কোটির বেশি। রাজ্যটিতে বিজেপি থেকে ক্ষমতাধর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে প্রায়ই মোদির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হয়।
আদিত্যনাথ প্রায়ই বড় বড় হিন্দু অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং হেলিকপ্টার থেকে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের শোভাযাত্রার ওপর ফুল বর্ষণ করেন। কিন্তু তাঁর রাজ্যের পুলিশ যখন মুসলমানদের প্রকাশ্য ধর্মাচরণের ওপর কড়াকড়ি করে, তখন এ কথা বলে তিনি এই কড়াকড়ির পক্ষে যুক্তি দেখান যে ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, তাই মুসলমানদের উচিত তাদের ধর্ম ব্যক্তিগত পরিসরে পালন করা।
আদিত্যনাথ একজন হিন্দু সন্ন্যাসী। গেরুয়া পোশাকেই তিনি সরকারি কাজকর্ম করেন। তিনি বলেন, ‘ধর্ম এমন কিছু নয়, যা মোড়ে মোড়ে প্রদর্শন করতে হবে।’
আদিত্যনাথ যখন আরএসএসের শতবর্ষে সংগঠনটির প্রশংসা করছিলেন, তখন তাঁর রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ কয়েক দিন ধরেই উত্তাল ছিল। এর জেরে তাঁর সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্মদিন উপলক্ষে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা প্রদর্শনের জন্য পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মুসলমানরা বড় সমাবেশ করলে আদিত্যনাথ আরও পুলিশ মাঠে নামান। লাঠিপেটা করে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করা হয়। ডজনখানেক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক হাজারের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। ওই বিক্ষোভের নেতাদের বাড়িঘর ভাঙতে আনা হয় বুলডোজার। এই কারণে আদিত্যনাথ ‘বুলডোজার বাবা’ তকমা পেয়েছেন।
এর বিপরীতে আদিত্যনাথের দমননীতির সমর্থনে যখন একই ধরনের ধর্মীয় আবহে তাঁর হিন্দু সমর্থকেরা বিপুল সংখ্যায় রাস্তায় নামেন, তখন পুলিশের তেমন কোনো শক্তি প্রদর্শন দেখা যায়নি। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আই লাভ মহাদেব’, ‘আই লাভ যোগী’ ও ‘আই লাভ বুলডোজার’।
লেখক
* মুজিব মাশাল, নিউইয়র্ক টাইমসের দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরোপ্রধান
* হরি কুমার, নিউইয়র্ক টাইমসের ভারত রিপোর্টার
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেন সুহাসিনী রাজ (বেঙ্গালুরু), প্রগতি কে বি (নয়াদিল্লি), অনুবাদ করেছেন শেখ নিয়ামত উল্লাহ]
![]() |
| ১৯৯২ সালে ভেঙে ফেলা হয় অযোধ্যার বাবরি মসজিদ। এর নেতৃত্বে ছিলেন আরএসএস নেতারা। ছবি: ভিডিও থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকায় করমর্দন: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ গলবে?
আল জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সালের শেষ দিন, ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে এসে প্রকাশ্যে পাকিস্তানের প্রতিনিধির সঙ্গে হাত মেলান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের একটি অপেক্ষাকক্ষেই এই করমর্দন হয় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এই ঘটনার পর সাদিক বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, তিনি (জয়শঙ্কর) নিজেই এগিয়ে এসে আমাকে শুভেচ্ছা জানান। আমি দাঁড়িয়ে উঠলে তিনি হাসিমুখে পরিচয় দেন এবং বলেন, এক্সেলেন্সি, আপনাকে আমি চিনি, আলাদা করে পরিচয়ের দরকার নেই। সাদিক জানান, কক্ষে প্রবেশের পর জয়শঙ্কর প্রথমে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, এরপর তার দিকে এগিয়ে আসেন। তিনি কী করছেন, তা ভালো করেই জানতেন। অন্যদের উপস্থিতি সত্ত্বেও তার মুখে ছিল হাসি।
এই করমর্দনের ছবি শেয়ার করে পাকিস্তানি পক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন। ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে, কারণ এর মাত্র কয়েক মাস আগেই এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ভারতীয় দল পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানায়। সেই টুর্নামেন্টে ভারত শিরোপা জিতলেও, খেলার মাঠেও দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতা কতটা গভীর, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিকতম বড় সংঘাত ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভারত হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং এর পরপরই ছয় দশকের পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করলেও, দুই দেশ চার দিনব্যাপী তীব্র আকাশযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যা ছিল প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সামরিক সংঘর্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে সংঘাত থামে। পাকিস্তান পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানায়। তবে ভারত দাবি করে, তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি হয়েছে। এই উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে ঢাকার করমর্দনকে কেউ কেউ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন।
ইসলামাবাদভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক মুস্তাফা হায়দার সায়েদ আল জাজিরাকে বলেন, এটি নতুন বছরের জন্য একটি স্বাগত উন্নয়ন। অন্তত সম্মানজনক আচরণ ও স্বাভাবিক কূটনৈতিক সৌজন্য ফিরতে পারে। যা যুদ্ধের পর অনুপস্থিত ছিল। অন্যদিকে, ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস-এর পররাষ্ট্র সম্পাদক রেজাউল হাসান লস্কর এই ঘটনাকে ততটা গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তার মতে, একই কক্ষে উপস্থিত দুই জ্যেষ্ঠ নেতা সৌজন্য বিনিময় করেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনার ছবি ভারতীয় নয়, বরং বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি সূত্র থেকেই প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি হবে সিন্ধু পানি চুক্তি। পাকিস্তানের জন্য ইন্দাস, চেনাব ও ঝেলাম নদীর পানি জীবন-মরণ প্রশ্ন। সাবেক কূটনীতিক সরদার মাসুদ খান বলেন, চুক্তিতে ভারত ফিরে এলে তা হবে বড় আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ। তবে বিশ্লেষকদের বড় অংশই এ বিষয়ে আশাবাদী নন।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে ইসলামাবাদ। বিপরীতে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে শুল্ক আরোপ ও সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে মন্তব্যের কারণে। সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে- ২০২৬ সালে কি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সত্যিকারের সংলাপ শুরু হবে, নাকি ঢাকার করমর্দন কেবলই একটি প্রতীকী সৌজন্য বিনিময় হয়ে থাকবে? বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত নূন্যতম যোগাযোগ ও পূর্বনির্ধারিত সংকট মোকাবিলার কাঠামো গড়ে তোলা গেলে সেটিই হবে বড় অগ্রগতি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলের কারাগার ও গাজায় শান্তির আশা by ডেডিভ হার্স্ট
রোবেন আইল্যান্ডের প্রবেশদ্বারে একটি ফলকে তার সবচেয়ে বিখ্যাত বন্দী ৪৬৬৬৪ নম্বর কয়েদির একটি উক্তি খোদাই করা আছে; ‘কারাগারের ভেতর না গেলে কোনো জাতিকে সত্যিকার অর্থে চেনা যায় না। জাতি নিজের সেরা নাগরিকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করে, তা দিয়ে নয়; বরং সবচেয়ে নিচের অবস্থানে থাকা মানুষদের প্রতি তার আচরণ দিয়ে বিচার করা উচিত।’ নেলসন ম্যান্ডেলার এই কথাগুলো আজ যেন ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর মৃত্যুঘণ্টার মতো বাজছে।
দুই বছর আগে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের সময় ‘নিখোঁজ’ হওয়া ৩৪৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ এখন খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মরদেহগুলো এমনভাবে বিকৃত যে মাত্র ৯৯ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
মিডল ইস্ট আইয়ের সাংবাদিক মাহা হুসাইনি যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে গাজা থেকে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন; তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে পরিবার ও ফরেনসিক চিকিৎসকেরা শোকাবহ পরিস্থিতিতে দেহ শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন, যদিও মৃত ব্যক্তিরা কীভাবে মারা গেছেন তা জানার মতো তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই।
► জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ‘ব্যাপক ও সংগঠিত নির্যাতনের একটি বাস্তবিক রাষ্ট্রীয় নীতি’ আছে।
► ইসরায়েল এমন একটি পথে হাঁটছে, যা রাষ্ট্রটিকে স্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে এবং আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সঙ্গেও।
মুহাম্মদ আয়েশ রামাদান তাঁর ভাইয়ের দেহাবশেষ শনাক্ত করেন। আহমেদে যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তিনি দেখতে পান, দেহটি পুড়ে গেছে, ছয় বা সাতটি গুলিবিদ্ধ চিহ্ন রয়েছে এবং বুক থেকে নিচে দীর্ঘ উল্লম্ব চেরা দাগ আছে। তাঁর ভাইয়ের একটি পায়ের আঙুলও কাটা ছিল।
ফিলিস্তিনি চিকিৎসকদের মতে, ডিএনএ পরীক্ষার অজুহাতে ইসরায়েলি চিকিৎসকেরা নিয়মিতভাবেই বন্দীদের হাতের ও পায়ের আঙুল কেটে ফেলেন। অন্যান্য মরদেহেও নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। উত্তর গাজার বেইত হানুনের জয়নাব ইসমাইল শাবাত জানতে পারেন যে তাঁর ৩৪ বছর বয়সী নিখোঁজ ভাই মাহমুদের তর্জনী কাটা, হাত দুটি পেছনে বাঁধা, ধাতব কিছু দিয়ে বেঁধে রাখার চিহ্ন পায়ে দাগ ফেলে দিয়েছে। তাঁর মুখ এমনভাবে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত যে খুলি ভেঙে গেছে, আর গলায় ঝোলানোর দাগ ছিল।
জয়নাব ইসমাইল শাবাত বলেন, ‘স্পষ্ট ছিল যে তাঁকে বাঁধা অবস্থায়ই হত্যা করা হয়েছে। তাঁর শরীর সম্পূর্ণ উলঙ্গ ছিল। ঊরুতে গুলির চিহ্ন ছিল; আর বুকে ছোট ছোট কাঠের টুকরো পাওয়া গেছে।’
ধর্ষণ ও নির্যাতন
গত দুই বছরে ইসরায়েলি হেফাজতে কত ফিলিস্তিনি মারা গেছেন, তার হিসাবে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-ইসরায়েলের কাছে সেনাবাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সংখ্যাটা ৯৮। তবে সংস্থাটি বলছে এটি মারাত্মকভাবে কম দেখানো হয়েছে, গাজা থেকে আসা আরও শত শত বন্দী এখনো নিখোঁজ।
বেঁচে ফেরা বন্দীরা ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বিটসেলেমের কাছে দেওয়া সাক্ষ্যে বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে কেতসিওত কারাগারের এক সেলে বিশেষ বাহিনী ঢুকে বন্দীদের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
বিশেষ বাহিনী ৩৮ বছর বয়সী থায়ের আবু আসাবের ওপর হামলা চালায়, যতক্ষণ না তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁর দেহ এক ঘণ্টা মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরদিন শিন বেত সব বন্দীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগ তোলে যে, তারা নাকি আবু আসাবকে আক্রমণ করে দায় কারারক্ষীদের ওপর চাপাতে চেয়েছে।
সদে তেইমান একটি বন্দিশিবির বিশেষভাবে ধর্ষণ, নির্যাতন ও মৃত্যুর জন্য কুখ্যাত হয়ে উঠেছে। ইব্রাহিম সালেম প্রায় আট মাস আটক থাকার পর আগস্টে মুক্তি পান। তিনি সেই কারাগারে ৫২ দিন আটক থাকার পর সেটিকে জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন বলেছেন। তিনি বলেন, একটি চেয়ার তাঁর বুকে ভেঙে ফেলা হয়। তাঁর যৌনাঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা হয়। অন্য বন্দীদের নারী সেনারা ‘ধর্ষণ’ করেছিল।
এ ক্ষেত্রে বন্দীকে একটি টেবিলের ওপর ঝুঁকিয়ে সামনে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় রাখা হতো। পেছনে দাঁড়ানো নারী সেনা তাঁর পায়ুপথে আঙুল ও অন্যান্য বস্তু প্রবেশ করাত। বন্দী প্রতিক্রিয়া দেখালে বা সরে গেলে সামনে থাকা সেনা তাঁর মাথায় আঘাত করে আবার ঝুঁকতে বাধ্য করত।
ইসরায়েলি কারাগার ও আটককেন্দ্রে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নির্যাতনের চিত্র নিয়ে আধুনিককালে এত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে একটি ছোট লাইব্রেরি তাতে ভর্তি হয়ে যাবে।
ভয়াবহ সংকট
জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ‘ব্যাপক ও সংগঠিত নির্যাতনের একটি বাস্তবিক রাষ্ট্রীয় নীতি’ আছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্মম প্রহার, কুকুর লাগিয়ে দেওয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা, ওয়াটার বোর্ডিং, দীর্ঘ সময় চাপের ভঙ্গিতে দাঁড় করানো ও যৌন সহিংসতা।
ইসরায়েলের নিজস্ব পাবলিক ডিফেন্ডারস অফিস—যা বিচার মন্ত্রণালয়ের অংশ—ফিলিস্তিনি বন্দীদের গাদাগাদি করে রাখা, অনাহার এবং প্রায় প্রতিদিন মারধরের বর্ণনা দিয়েছে। তারা বলেছে, এ পরিস্থিতি ‘রাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ আটক সংকটগুলোর মধে৵ একটি।’
বন্দী নির্যাতনের এত বিপুলসংখ্যক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মাত্র একজন ইসরায়েলি সেনার বিচার হয়েছে। তিনি মাত্র সাত মাসের সাজা পেয়েছেন। ফুটেজ ফাঁস হওয়ার পর আরও পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে সদে তেইমানে নির্যাতন ও গুরুতর শারীরিক আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
লক্ষণীয়, ইসরায়েল সেনাবাহিনীর আইনজীবী ইফাত তমার-ইয়েরুশালমির ফাঁস করা সেই ভিডিওতে নির্যাতনের অপরাধগুলো নিজে থেকে কোনো ক্ষোভের কারণ হয়নি; বরং ইসরায়েল সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওই আইনজীবীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত সেনারা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে ‘তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট’ হওয়ার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
ইসরায়েলের উচ্চ আদালতের বাইরে অভিযুক্ত সেনারা সংবাদ সম্মেলন করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচার এড়াতে ‘মুখোশ’ পরিহিত ছিলেন। সেখানে তারা গর্বভরে জানায় যে তারা এখনো মুক্ত এবং ঘোষণা করে, ‘আমরাই জয়ী হব।’
অভিযুক্ত সেনারা বলেন, ‘তোমরা আমাদের ভাঙতে চেয়েছিলে; কিন্তু একটি বিষয় ভুলে গেছ, আমরা ফোর্স ১০০।’ এটি তাদের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের প্রতি একটি ইঙ্গিত।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ হামলার নিন্দা জানাননি; বরং তিনি ফুটেজ ফাঁস হওয়াকে অভিহিত করেছেন ‘রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরায়েল যে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রচারণা ও আক্রমণের শিকার হয়েছে, এটি সম্ভবত তার মধে৵ একটি।’ হিসেবে। তাঁর উদ্বেগ ছিল ইসরায়েলের ভাবমূর্তি নিয়ে, ভিডিওতে নির্যাতিত মানুষের জন্য নয়।
হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করা এড়িয়ে গেছেন। কারণ, ডানপন্থী শক্তিগুলোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভয় ছিল।
মৃত্যুদণ্ডের পথে
এদিকে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অ্যাডভোকেসি সংগঠনগুলোর হিসাবে নভেম্বর মাসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৫০। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি ‘প্রশাসনিক’ বন্দী; যাদের বিরুদ্ধে না আছে কোনো অভিযোগ, না আছে কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া।
তাদের ‘বন্দী’ বলা আসলে শব্দটির অর্থই বিকৃত করা। তারা ইসরায়েলের রাতের অভিযানে ধরে আনা জিম্মি। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কেউ এ নিয়ে কোনো কথা বলে না।
কারাগারে অনাহার ও মারধর চালু করার পরও থেমে নেই জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভির। এখন তিনি নেসেটে এমন একটি বিল চাপিয়ে দিচ্ছেন, যাতে ‘রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত’ ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এই সংজ্ঞা এমনভাবে তৈরি করা, যাতে ইহুদিরা বাদ পড়ে। কারণ, চরম ডানপন্থীদের মতে, সন্ত্রাসবাদের চর্চা শুধুই আরবদের কাজ। বিলটির অন্যতম প্রস্তাবক, এমকে লিমর সন হার-মেলেখ বলেছেন, ‘ইহুদি সন্ত্রাসী বলে কিছু নেই।’
১৯৫৪ সালে ইসরায়েল হত্যা মামলার জন্য মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছিল; কিন্তু হলোকাস্ট ও গণহত্যা-সংক্রান্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি আইনে বহাল রেখেছিল। ইতিহাসে ইসরায়েল মাত্র একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে; ১৯৬২ সালে হলোকাস্টের প্রধান পরিকল্পনাকারী অ্যাডলফ আইখম্যানকে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক আদালতগুলোর জন্য মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছিল; কিন্তু কখনো প্রয়োগ করা হয়নি। এটি নিয়ে বহুবার বিতর্ক হয়েছে এবং শিন বেত ও সেনাবাহিনীর প্রধানেরা নিয়মিতভাবে এর বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছেন।
আজ সেই বাধাগুলো সব তুলে নেওয়া হয়েছে। শিন বেতের বর্তমান প্রধান জায়ানিস্ট মেজর জেনারেল ডেভিড জিনি বিলটির সমর্থক এবং
বেন–গভিরের নির্বাহী ক্ষমতায় পরিস্থিতিকে আমূল বদলে দিয়েছে।
ইসরায়েলে যা একসময় ডানপন্থী উসকানি হিসেবে বিবেচিত হতো, এখন তা রাষ্ট্রের মূলধারার নীতি। প্রথম দফায় বিলটি পাসের পর বেন–গভির আনন্দের সঙ্গে মিষ্টি বিলিয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হবে।
ম্যান্ডেলার ‘উত্তরাধিকার’
দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ইসরায়েলি কারাগারেও রয়েছেন সেই প্রধান ফিলিস্তিনি নেতারা, যাঁরা চাইলে সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনায় বসতে পারেন। এর মধ্যে আছেন ফাতাহর জে৵ষ্ঠ নেতা মারওয়ান বারগুতি। তিনি পাঁচটি যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। তিনি মাহমুদ আব্বাসের জায়গায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো জনপ্রিয়। তাঁর সঙ্গে আছেন আবদুল্লাহ বারগুতি—হামাসের সামরিক নেতা, যিনি ৬৭টি যাবজ্জীবন সাজায় দণ্ডিত।
হামাসের কমান্ডার ইব্রাহিম হামেদ ৫৪টি যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন আর পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের সাধারণ সম্পাদক আহমাদ সা’দাত ৩০ বছরের সাজা খাটছেন। অন্যান্য প্রভাবশালী হামাস নেতা হাসান সালামেহ (৪৮টি যাবজ্জীবন), আব্বাস আল-সাইয়্যেদ (৩৫টি যাবজ্জীবন) এখনো কারাগারে।
বারগুতির মুক্তির দাবিতে একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন শুরু হয়েছে—দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন যেমন ম্যান্ডেলার মুক্তিকে প্রধান দাবি করেছিল। ম্যান্ডেলা নিজে বলেছিলেন, ‘শুধু মুক্ত মানুষই আলোচনা করতে পারে। বন্দীরা কোনো চুক্তি করতে পারে না।’
ম্যান্ডেলার মুক্তি তখন শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তিনি আলোচনার নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯৪ সালের প্রথম বহুজাতিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথ খুলে দেন, যেখানে তাঁর আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জয়ী হয়।
কিছু সাবেক শিন বেতপ্রধান, যাঁরা অনেক আগেই ক্ষমতার বাইরে এবং কোনো বাস্তব প্রভাব নেই—এ বাস্তবতা বোঝেন; কিন্তু বেন–গভিরের নেতৃত্বে ইসরায়েল এমন একটি পথে হাঁটছে, যা রাষ্ট্রটিকে স্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে এবং আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সঙ্গেও।
একই সময়ে এই যুদ্ধের প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে; ভূখণ্ডকেন্দ্রিক সংঘাত থেকে এটি পরিণত হচ্ছে ধর্মযুদ্ধে। অতীতে এই ভূমি দখলের জন্য চালানো সব ক্রুসেডের পরিণতি যেমন হয়েছে, এটিও তার ব্যতিক্রম হবে না। আরও ভয়াবহ পরিণতির আগে যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সত্যিই এখনই এই সংঘাতের অবসান চায়, তবে সব ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তির বিষয়টি প্রধান দাবি হতে হবে।
যেসব মানুষ প্রতিদিনের মারধর, ধর্ষণ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও উদ্যাপন করে; তাদের বিচারও ঠিক সেভাবে হওয়া উচিত, যেভাবে আইখম্যানের বিচার হয়েছিল। কারণ, তারা সত্যিই তাঁর উত্তরাধিকার বহন করছে।
● ডেভিড হার্স্ট, মিডল ইস্ট আইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং এডিটর ইন চিফ। তিনি গার্ডিয়ানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সম্পাদকীয় লেখক ছিলেন এবং বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন।
- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মনজুরুল ইসলাম
![]() |
| গাজা থেকে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুরক্ষিত দুর্গ থেকে মাদুরো আটক, অভিযানটি ছিল শক্তিশালী চমকপ্রদ প্রদর্শনী: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে সুরক্ষিত দুর্গ থেকে তাঁদের আটক করা হয়েছে। আর এই অভিযান ছিল ‘ব্রিলিয়ান্ট’।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস। দেশটির সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট তিউনা ও বিমানঘাঁটি লা কারলোতা আক্রান্ত হয়। ভেনেজুয়েলা এ হামলা প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের তথ্য জানা যায়নি।
গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার পাম বিচের মার-আ-লাগোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যতক্ষণ না আমরা নিরাপদে, সঠিক ও ন্যায়সংগতভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারি, ততক্ষণ আমরা দেশটি (ভেনেজুয়েলা) পরিচালনা করব।’ তিনি আরও বলেন, তারা তাদের বড় তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় পাঠাতে যাচ্ছেন।
এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে মাদুরোর আটকাবস্থার একটি ছবি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর চোখ ঢাকা, কানে হেডফোন লাগানো। পরনে রয়েছে ধূসর রঙের গাউন।
মাদুরো আটকের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলা ও দেশটির নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে। স্ত্রীসহ মাদুরোকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে।
প্রায় আড়াই দশক ধরে তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশ ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছিল। বামপন্থী প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ ১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশটির তেলের খনিগুলো সরকারীকরণের সিদ্ধান্ত নেন। এর জেরে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর বড় বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্কে টানাপোড়েন। চাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসেন তাঁর উত্তরসূরি মাদুরো। তিনিও চাভেজের পথে হাঁটায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হয়নি। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার সমুদ্রসীমায় একাধিক হামলাও চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে নিহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে গতকাল ট্রাম্পের তরফে সস্ত্রীক মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এল।
‘সফল অভিযান’
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে টেলিফোনে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানকে ‘ব্রিলিয়ান্ট’ বলে অভিহিত করেন। পত্রিকাটি তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘অনেক ভালো পরিকল্পনা ছিল। এতে যুক্ত ছিলেন অসাধারণ সব সেনাসদস্য ও দক্ষ মানুষ।’
সিবিএস নিউজ জানায়, মাদুরোকে আটক করার এই অভিযানে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স ইউনিট অংশ নেয়। এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষায়িত ইউনিট।
ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মাদুরো ও ফ্লোরেসকে মার্কিন জাহাজ ইউএসএস আইয়ো জিমায় করে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে। একটি সুরক্ষিত দুর্গ থেকে তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মাদুরোকে কী বিকল্প দেওয়া হয়েছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘মূলত আমি বলেছিলাম, আপনাকে হার মানতে হবে। আত্মসমর্পণ করতে হবে।’ এক সপ্তাহ আগে মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ছিল।’
মাদুরোকে আটকের ঘটনা—কাকতালীয় হোক বা না হোক—ঘটেছে ১৯৯০ সালে পানামার নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগার মার্কিন বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের বার্ষিকীতে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানের এক পর্যায়ে ওই বছরের ৩ জানুয়ারি তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের দায়ে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে নোরিয়েগা নিজ দেশে মারা যান।
বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কারাকাস
স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে একের পর এক বিস্ফোরণ হয় কারাকাসে। এ সময় হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা চলে হামলা।
গতকাল ভোরে কারাকাসের দুটি সামরিক স্থাপনা লা কারলোতা ও ফোর্ট তিউনা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ফোর্ট তিউনাতে প্রেসিডেন্ট মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে থাকতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফোর্ট তিউনাতে হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। তিনি বলেন, তাঁরা ‘মাদুরোর নির্দেশ’ মেনে চলছেন এবং সে অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
কোনোভাবেই দেশে বিদেশি সেনা সহ্য করা হবে না জানিয়ে লোপেজ বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে এ হামলা প্রতিরোধ করা হবে। তিনি বলেন, মার্কিন হামলায় বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকা আক্রান্ত হয়েছে। যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ছোড়া হয়েছে।
হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, কিন্তু তারা আমাদের দমাতে পারবে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে বলেছেন।
বেঁচে থাকার প্রমাণ চেয়েছে ভেনেজুয়েলা
ট্রুথ সোশ্যালে মাদুরোর ছবি প্রকাশের পর গতকাল মধ্যরাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে মাদুরোর বেঁচে থাকার প্রমাণ দাবি করেন ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে রদ্রিগেজ বলেন, মাদুরো ও ফ্লোরেসের অবস্থান তাঁরা জানেন না। তাঁর সরকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে তাঁদের বেঁচে থাকার প্রমাণ চায়।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের হাতে যাওয়ার কথা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ এক অনিশ্চিত ও অজানা পথে মোড় নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কার হাতে ক্ষমতা যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলোর দাবি, দেশটির প্রকৃত ও বৈধ প্রেসিডেন্ট হলেন বর্তমানে নির্বাসিত রাজনীতিক এদমুন্দো গোনসালেস।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল গতকাল বলেছেন, নিকোলা মাদুরো এখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।
আর অভিযান নয়, বিচার হবে মাদুরোর
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে উদ্ধৃত করে রিপাবলিকান সিনেটর মাইক লি বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান শেষ এবং মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
মাইক লি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি জানতে পেরেছেন, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকায় ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেই।
মাদুরোর ‘অপরাধের বিচার’ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, নতুন ভোর এসেছে ভেনেজুয়েলায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিও একই কথা জানিয়েছেন। নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদুরোর বিচার হবে মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগের মামলায়।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়। এসব মামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা দিয়েছিল, মাদুরোকে গ্রেপ্তার বা দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্য দিলে ৫ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েক দিন আগে মাদুরোকে আটকের অনুমোদন দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স এই অভিযান চালাবে—সেই অনুমোদনও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল একজন কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ কথা জানিয়েছেন।
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অবস্থান শনাক্ত (ট্র্যাক) করছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েক মাস আগে ভেনেজুয়েলায় গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছিলেন সিআইএকে। যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া মামলার বিচার করার জন্য মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।
অভিযানের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরেকজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, মাদুরোকে আটকে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।
মাদুরো ১২ বছর ধরে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় আছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে এ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করে।
হামলা চালিয়ে মাদুরোকে নিয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেছেন, ‘স্বাধীনতার সময়’ এসে গেছে। দেশবাসীর উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এ কথা বলেছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান ভেনেজুয়েলার
ভেনেজুয়েলা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘চূড়ান্ত সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আন্তর্জাতিক আইন মান্য করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে যুক্তরাজ্য জড়িত নয়। তবে এই হামলার বিষয়ে মন্তব্য করার আগে তিনি এ বিষয়ে আরও তথ্য জানতে চান। এরই মধ্যে স্পেন বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রাশিয়া, ইরান, কিউবা ও কলম্বিয়া এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা এ হামলাকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর ‘সরাসরি আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। আর মেক্সিকো বলেছে, এ হামলা ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলেছে’।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
যে অজুহাতে ভেনেজুয়েলায় হামলা, তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করে রাশিয়া। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ‘ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার’ দাবি জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। তাঁকে উদ্ধৃত করে তাঁর মুখপাত্র বলেছেন, এটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে।
![]() |
| মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলার সর্ববৃহৎ সামরিক কেন্দ্র ফুয়ের্তে তিউনায় জ্বলছে আগুন। ৩ জানুয়ারি। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালেদা জিয়া: প্রতিরোধের এক জীবন
১৭ কোটি মানুষের দেশে, যেখানে ২৩শে নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল, সেখানে টিপুর এই প্ল্যাকার্ডের ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের গেটের বিপরীত পাশে ফুটপাথে দিন কাটাতে থাকেন। অঙ্গীকার করেন সুস্থতার খবর না পাওয়া পর্যন্ত সরে যাবেন না। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া আমার মায়ের মতো। তিনি গণতন্ত্রের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করেছেন। আমার একমাত্র দোয়া- আল্লাহ যেন তাকে আসন্ন নির্বাচন দেখা পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু তা আর হলো না। ৩০শে ডিসেম্বর ভোরে, ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ফেসবুকে দেয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি বলেছে, আমাদের প্রিয় জাতীয় নেত্রী আর নেই। তিনি আজ সকাল ৬টায় আমাদের ছেড়ে গেছেন।
তার আজীবন প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতে নির্বাসনে। তখন খালেদার মৃত্যু এক দীর্ঘ তিন দশকব্যাপী অধ্যায়ের সমাপ্তি টানে। এদেশের এই দুই নেত্রীকে ‘বেগম জুটি’ নামে ডাকা হতো এবং তারা বাংলাদেশের রাজনীতিকে শাসন করেছেন। তারা দু’জনই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়েছেন, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন। যদিও হাসিনার মতো বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমনপীড়নের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ওঠেনি। তবুও তিনি ছিলেন শক্তিধর এক চরিত্র। সংসদ বর্জন, দীর্ঘ আন্দোলন, আপসহীন ভঙ্গি- তাকে যেমন অনুগত সমর্থন দিয়েছে।
উত্থান
বেগম খালেদা জিয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালের ১৫ই আগস্ট, দিনাজপুরে। তার পিতা ইস্কান্দার মজুমদার মূলত ফেনীর মানুষ। পরবর্তীতে তিনি জলপাইগুড়িতে চা ব্যবসা করার পর পূর্ববঙ্গে চলে আসেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এদেশ হয় পূর্ব পাকিস্তান। পরে স্বাধীনতা অর্জন করে নাম হয় বাংলাদেশ। খালেদা দিনাজপুরেই শৈশব কাটান, দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন।
তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় তার ইচ্ছা থেকে নয়, বরং এক অস্থির পরিস্থিতির কারণে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে ব্যর্থ সামরিক বিদ্রোহে তার স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং প্রতিষ্ঠাতা ছাড়া বিএনপি গভীর সংকটে পড়ে। রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও, বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করতেন, কেবল খালেদাই বিভিন্ন পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন। এর মধ্যেই ১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ জারি করেন। এই অস্থির সময়েই খালেদার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়- একজন বেসামরিক চ্যালেঞ্জার হিসেবে।
তিনি ১৯৮২ সালে বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরপর তিনি তিন দফা নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। দীর্ঘমেয়াদে শেখ হাসিনার সঙ্গে সমান্তরালে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। তার ব্যক্তিজীবনও ছিল বেদনাময়। বড় ছেলে তারেক রহমান ২০০৮ সালে নির্বাসনে চলে যান। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মারা যান। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় তিনি কারাবন্দি হন। পরবর্তীতে অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গতা তার জীবনকে গ্রাস করে। তারেক অবশেষে ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন।
রাজনীতিতে প্রবেশের আগের জীবন
যারা তাকে কাছ থেকে চিনতেন, তাঁকে বর্ণনা করেন- ভদ্র, নীরব, সংযত মানুষ হিসেবে। তিনি ১৯৬০ সালে সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। তখন তার বয়স ছিল প্রায় ১৫। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর জিয়া জাতীয় নেতায় পরিণত হন। ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত তারা বসবাস করতেন ঢাকা সেনানিবাসের ৬, মঈনুল রোডের সরকারি বাসায়। তখনকার এডিসি কর্নেল হারুনুর রশীদ খান স্মরণ করেন, তিনি নিজেই অতিথিদের আপ্যায়ন করতেন। পরিবারের সবকিছু দেখতেন। আমি কখনও তাকে উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখিনি।
কিন্তু সবকিছু বদলে যায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে। স্বামীকে হত্যার খবর শুনে তিনি নিস্তব্ধ হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। কর্নেল খান বলেন- তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে সরকার ওই বাড়িটি তাকে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকার তাকে উচ্ছেদ করে।
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া
১৯৮০-এর দশকে খালেদা ও শেখ হাসিনার দল যৌথভাবে এরশাদবিরোধী আন্দোলন চালায়। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি তার নেতৃত্বে নির্বাচন বর্জন করে। এর ফলে তিনি আপসহীন নেত্রী হিসেবে জনমনে জায়গা করে নেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তার একের পর এক গৃহবন্দি হওয়া তার ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করে এবং খালেদা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
শাসন, সাফল্য ও বিতর্ক
তিনি তিন মেয়াদে দেশ পরিচালনা করেন। ১৯৯১-১৯৯৬, ১৯৯৬ সালের স্বল্পমেয়াদী সরকার ও ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তার সরকার ক্ষমতায় ছিল। তার শাসনামলে অর্থনৈতিক উদারীকরণ, গার্মেন্টস খাতের বিস্তার, মেয়েশিশুদের শিক্ষায় অগ্রগতি, তুলনামূলক মুক্ত গণমাধ্যম- উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৭ শতাংশ। সে সময় বিশ্বব্যাংক বলেছিল, ‘বাংলাদেশ এশিয়ার পরবর্তী টাইগার অর্থনীতি’।
‘গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার’
তার সহকর্মীরা বলেন, তিনি কখনও নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি দেশ ছাড়তে পারতেন। কিন্তু তা করেননি, বরং কারাবাস, মামলা, স্বাস্থ্যঝুঁকি- সবকিছু সয়ে গেছেন। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা পতনের পর মুক্তি পেয়ে তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বিরত থাকতে কর্মীদের আহ্বান জানান, যা অনেককে বিস্মিত করে। ৭৭ বছর বয়সী নাজিম উদ্দিন বলেন, দুই নেত্রীই দেশ শাসন করেছেন। তবে আমার মতে খালেদা ভালো করেছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাদুরোকে তুলে নিয়ে শান্তির নামে যুদ্ধে মাতলেন ট্রাম্প by জো গিল
এই হামলাগুলো কার্যত একটি শাসন পরিবর্তনের অভিযান বলেই মনে হচ্ছে। এর আগেও, বড়দিনের দিন ট্রাম্প নাইজেরিয়া ও সোমালিয়ায় বিমান হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন। একই দিনে ভেনেজুয়েলার ওপর একটি সিআইএ ড্রোন হামলাও চালানো হয়।
২৯ ডিসেম্বর ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকেই যাকে ভবিষ্যৎ মার্কিন সম্রাটের দক্ষিণের প্রাসাদ বলেন। তাঁর পাশে ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
‘ড্রাগ বোঝাই নৌকা যেখানে তোলা হয়, সেই ডক এলাকায় বড় একটি বিস্ফোরণ হয়েছে’—এই কথা গণমাধ্যমকে বলেন ট্রাম্প। তিনি ভেনেজুয়েলায় চালানো প্রথম স্থলভিত্তিক হামলার কথা বলছিলেন। এই হামলার আগে ক্যারিবিয়ান সাগরে মাছ ধরার নৌকাগুলোর ওপর কয়েক মাস ধরে প্রাণঘাতী আক্রমণ চলেছিল।
ট্রাম্প দাবি করেন, নিহতরা সবাই মাদক পাচারকারী। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা বলছেন, এসব হামলা দেখতে অনেকটা যুদ্ধাপরাধের মতো। তাতে কী—এই প্রশ্নের কোনো মূল্য নেই।
নাইজেরিয়ায় চালানো হামলাগুলো (যা সে দেশে কথিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক আঘাত) গণমাধ্যমে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সোমালিয়ায় চালানো হামলাগুলো কোনো ঘোষণা ছাড়াই হয়েছে, সংবাদেও সেভাবে আসেনি।
ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে সোমালিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হামলার লক্ষ্যবস্তু। এটি একটি দীর্ঘদিনের সামরিক হস্তক্ষেপ। এই ধরনের হস্তক্ষেপ পশ্চিমা গণমাধ্যম প্রায় উপেক্ষাই করে যাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রসঙ্গে ট্রাম্প ঠিক সেটাই বললেন যা নেতানিয়াহু শুনতে চেয়েছিলেন। যেন ট্রাম্প একজন পুতুল। ট্রাম্প নির্লজ্জভাবে দাবি করেন, গাজায় তাঁর ঘোষিত ২০ দফা ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি ইসরায়েল ‘১০০ শতাংশ’ মেনেছে। আর হামাস নাকি সেটি লঙ্ঘন করেছে, কারণ তারা একতরফাভাবে অস্ত্র সমর্পণ করেনি।
বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। ১৩ অক্টোবরের পর থেকে চুক্তি অনুযায়ী হামাস জীবিত ও নিহত সব জিম্মিকে (একজন ছাড়া) হস্তান্তর করেছে। এটি হয়েছে ইসরায়েলের প্রতিদিনের চুক্তি লঙ্ঘন, ত্রাণ অবরোধ এবং লাগাতার হামলার মধ্যেই। এসব হামলায় ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে দখলকৃত পশ্চিম তীর প্রতিদিনই কার্যত সংযুক্ত করে নেওয়া হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো তাদের বছরের শেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় জনসংখ্যা ‘তীব্র ও নজিরবিহীনভাবে’ কমে গেছে। প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার মানুষ কমেছে, যা গণহত্যা শুরুর আগে জনসংখ্যার তুলনায় ১০.৬ শতাংশ।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৩ সাল থেকে দেড় লাখের কিছু বেশি ফিলিস্তিনি গাজা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এটি জার্মানির এক সাম্প্রতিক জনসংখ্যা গবেষণার সঙ্গে মিলে যায়। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ইসরায়েলের দুই বছরের আক্রমণে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
ব্যর্থ শান্তির উদ্যোগ
মার-আ-লাগোতেই ট্রাম্প আবার দেখা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে। এর উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানো। কিন্তু এই আলোচনাও ফলহীন হয়েছে। ভ্লাদিমির পুতিন যে যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী নন, এখানে তারই প্রমাণ মিলেছে। রাশিয়া একই সময়ে ড্রোন হামলায় কিয়েভকে আঘাত করেছে।
এর জবাবে ইউক্রেন (যাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সিআইএর গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহৃত হয়) রাশিয়ার দখলে থাকা কৃষ্ণসাগরীয় এক পর্যটন শহরে হামলা চালায়। একটি ক্যাফে ও হোটেলে আঘাতে ২৪ জন নিহত হন, আহত হন ৫০ জন। তারা নতুন বছর উদ্যাপন করছিলেন।
গাজা থেকে ইউক্রেন—ট্রাম্পের সব ‘শান্তি উদ্যোগের’ মতোই এই প্রচেষ্টাও কোথাও যাচ্ছে না। এটি অনেকটা সন্দেহজনক রিয়েল এস্টেট চুক্তির মতো, যেখানে ট্রাম্প একজন অসৎ মধ্যস্থতাকারী। তাঁর চুক্তিগুলো (নিউইয়র্কে এপস্টিন পার্টির সময় থেকে শুরু করে) তিনি ভবন ছাড়লেই ভেঙে পড়ে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক গুরু ছিলেন রয় কোহন। তিনি ছিলেন কুখ্যাত সিনেটর জো ম্যাকার্থির উপদেষ্টা। তিনি ১৯৫০-এর দশকে কমিউনিস্টবিরোধী উইচহান্ট চালিয়েছিলেন। কোহন ট্রাম্পকে শিখিয়েছিলেন ‘সাপ’ হতে, ‘দুষ্কৃতকারী’ হতে, এবং একেবারে নতুন ধরনের নির্দয় মানুষ হয়ে উঠতে।
কোহনের বিরুদ্ধে একের পর এক শেয়ার জালিয়াতি, বিচারব্যবস্থায় বাধা, মিথ্যা সাক্ষ্য, ঘুষ, ষড়যন্ত্র, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ছিল। ট্রাম্পের মতো তিনিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পার পেয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অতীতই তাঁকে ধরে ফেলে।
আসলে ট্রাম্পের কাছে আদর্শ মিত্র সেই ব্যক্তি, যিনি তাঁর মতোই অভিযুক্ত অপরাধী। যিনি সব অস্বীকার করেন—দুর্নীতি, হত্যা, যুদ্ধাপরাধ। যেমন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেতানিয়াহু।
আফ্রিকায় আগুন
বড়দিনে আরেকটি ঘটনা ঘটে। ইসরায়েল সোমালিল্যান্ড নামের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেয়। অঞ্চলটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি ‘স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি’ হয়। এই চুক্তি ব্যাপকভাবে নিন্দিত।
খবরে বলা হয়, এর বিনিময়ে সোমালিল্যান্ড গাজা থেকে দশ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রহণে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলকে ইয়েমেনের দিকে তাকানো গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দেবে।
এই চুক্তির প্রতিবাদে হাজার হাজার সোমালি রাস্তায় নেমে আসেন। অনেকের হাতে ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা। এটি ফিলিস্তিন প্রশ্নে সোমালিয়ার ঐতিহাসিক অবস্থানেরই প্রকাশ।
সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মোগাদিসু ‘কোনো অবস্থাতেই’ উত্তরের এই অঞ্চলকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের জোর করে উচ্ছেদ করা বা সোমালি ভূখণ্ডে পুনর্বাসনের কোনো আলোচনা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এটি তাদের নিজ ভূমিতে বসবাসের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।
জাতিসংঘে সোমালিয়ার রাষ্ট্রদূতও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নিউইয়র্কে দাবি করেছিলেন, সাবেক সিয়াদ বারে সরকার নাকি গণহত্যা চালিয়েছিল; এই যুক্তিতে তিনি সোমালিল্যান্ডকে একতরফা স্বীকৃতির পক্ষে সাফাই দেন।
সোমালিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমাদের মানবতা, গণহত্যা, মানবাধিকার আর গণতন্ত্র শেখানো চরম অপমান। আমরা জানি আপনারা প্রতিদিন কী করছেন।’
নতুন মনরো নীতি
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের হামলা এবং আফ্রিকায় মার্কিন বিমান আক্রমণ—সবই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের প্রতিফলন। এই নথি প্রকাশিত হয়েছে গত নভেম্বর মাসে।
এতে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে মার্কিন সাম্রাজ্যের জন্য এক নগ্ন জাতীয়তাবাদী ও নব্য-ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। এটি কার্যত যুদ্ধ-পরবর্তী পশ্চিমা ঐক্যের যুগের অবসানকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়।
এই কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, পশ্চিম ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক মিত্র নয়। বরং এটি এখন একটি ‘সমস্যাপূর্ণ অঞ্চল’। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে ইউরোপের বর্তমান পথের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধ’ গড়ে তুলে।
নথিতে সতর্ক করা হয়েছে, অভিবাসনের কারণে ইউরোপ ‘সভ্যতাগত বিলুপ্তির’ মুখে পড়তে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নথিতে ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরি’র প্রকাশ্য সমর্থন।
এই নীতি আবার যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে নিতে চায় বিশ শতকে। সেই সময়, লাতিন আমেরিকা ছিল ওয়াশিংটনের উঠোন। কিউবা থেকে চিলি পর্যন্ত, কর্তৃত্ববাদী ও মার্কিনপন্থী সরকারকে সমর্থন দিয়ে তারা নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রেখেছিল।
নথিতে স্পষ্ট লেখা আছে—‘আমরা মনরো নীতির ওপর ‘ট্রাম্প করোলারি’ কার্যকর করব।’ প্রয়োজনে কেবল আইনশৃঙ্খলা নয়, মারাত্মক শক্তি প্রয়োগ করা হবে। এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে মার্কিন প্রবেশাধিকার স্থাপন বা সম্প্রসারণ করা হবে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলা থেকে ‘আমাদের তেল ফিরিয়ে নিতে’ চান। অথচ দেশটি বহু দশক আগে তার বিপুল তেলসম্পদ জাতীয়করণ করেছিল। হুগো শাভেজের আমলে সেই সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় হয়। তখন থেকেই ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের নজরে পড়ে। এর ফল—তেল রপ্তানির ওপর একের পর এক ধ্বংসাত্মক নিষেধাজ্ঞা।
লাতিন আমেরিকা জুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনে কট্টর ডানপন্থী নেতারা ক্ষমতায় আসছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এল সালভাদরে এই ধারা শুরু হয়। পরে আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ইকুয়েডর, আর সাম্প্রতিক সময়ে চিলি ও হন্ডুরাসেও সেই স্রোত দেখা গেছে। এতে করে অঞ্চলে তৈরি হয়েছে ট্রাম্পপন্থী সরকারের এক লম্বা শৃঙ্খল।
তবু অঞ্চলটির দুই বড় শক্তি—ব্রাজিল ও মেক্সিকো এখনো গণতান্ত্রিক বামপন্থী সরকারের হাতেই রয়েছে।
মতবাদের মারাত্মক ফাঁক
তবে নতুন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির একটি বড়, সম্ভবত মৌলিক দুর্বলতা রয়েছে। সেটি হলো—ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জেরেমি স্কাহিল গত মাসে দোহায় মিডল ইস্ট আই-এর আশফাক কারিমকে বলেছিলেন,৯ / ১১-এর পর থেকে এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আলাদা রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে দেখা ভুল। ওয়াশিংটনের নির্বাহী ও আইনসভা—দু’জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে শিকলবদ্ধ।
স্কাহিলের ভাষায়, ইসরায়েল হলো ‘একটি সিরিয়াল কিলার, যে নিজেকে রাষ্ট্র হিসেবে সাজিয়ে রেখেছে।’ যুদ্ধবিরতি ভাঙায় তাদের ‘পিএইচডি’ আছে। ট্রাম্প যেমন এটি দেখতে চান না, বাইডেনও তেমন দেখেননি।
ট্রাম্প গাজায় ইসরায়েলের সর্বগ্রাসী যুদ্ধ থামিয়ে আসলে তাকে নিজের হাত থেকেই রক্ষা করেছেন। কিন্তু তার জায়গায় শুরু হয়েছে আরেক যুদ্ধ—গাজা ও পশ্চিম তীরে পুনর্দখলের এক সংকর অভিযান।
যত দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ইসরায়েলের ইচ্ছা পূরণ করে যাবে, তত দিন তাকে লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের অব্যাহত যুদ্ধাপরাধ ও উপনিবেশ বিস্তারের দায়ও বহন করতে হবে। আর তাতে যুক্তরাষ্ট্র অনিবার্যভাবেই আরও সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে।
নেতানিয়াহু তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে আবারও ইরানে হামলার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দিয়েছেন। তিনি তেহরানকে ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টাও করেছেন।
বহুপাক্ষিকতার মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্র যখন আধিপত্য আর সার্বভৌমত্বের নামে শক্তির নীতি গ্রহণ করে, তখন বিশ্বও একই পথে হাঁটার বৈধতা পেয়ে যায়। আজ সেটাই ঘটছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপের পুনরায় সশস্ত্র হওয়ার পরিকল্পনা, লোহিত সাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন সাম্রাজ্যবাদী স্বপ্ন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হাতে আমিরাতের সম্পদে হামলা—সবই সেই একই মতবাদের প্রতিধ্বনি। এভাবেই বহুপাক্ষিকতার মৃত্যু ঘটে।
এখন ভেনেজুয়েলায় সর্বশেষ হামলার পর ২০২৬ সালের বিশ্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক বলেই মনে হচ্ছে।
* জো গিল, লন্ডন, ভেনেজুয়েলা ও ওমানে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, মর্নিং স্টার এবং মিডল ইস্ট আই-সহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে লিখেছেন।
- মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। রয়টার্স ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’ যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিয়ে আসার বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মাদুরোকে আটকের এ অভিযানের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি আমেরিকার ইতিহাসে আমেরিকার সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার সবচেয়ে বিস্ময়কর, কার্যকর ও শক্তিশালী প্রদর্শনী।’
ট্রাম্প বলেন, মাদুরোকে ‘বিচারের আওতায় আনতে’ কারাকাসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘একটি শক্তিশালী সামরিক দুর্গে’ অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশই তা অর্জন করতে পারত না, যা আমেরিকা গতকাল অর্জন (মাদুরোকে আটক) করেছে।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এ অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার সব সামরিক সক্ষমতাকে ‘অকার্যকর’ করে দেওয়া হয়েছিল।
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ততক্ষণ পর্যন্ত পরিচালনা করতে যাচ্ছে, যতক্ষণ না আমরা নিরাপদ, যথাযথ ও ন্যায়সংগত ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন করতে পারি।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করার মানে দেশটিতে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা স্থলসেনা মোতায়েনে ভয় পাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি, দেশটি (ভেনেজুয়েলা) যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়।’
ভেনেজুয়েলা পরিচালনার জন্য ঠিক কোন প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হবে, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে লোক মনোনীত করছি এবং আমরা আপনাদের জানিয়ে দেব তাঁরা কারা।’ ভেনেজুয়েলা কে শাসন করবে, এমন প্রশ্নে নিজের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিকে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মূলত আমার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষগুলোই মোটা দাগে দেশটি পরিচালনা করতে যাচ্ছে।’
ভেনেজুয়েলায় যাচ্ছে মার্কিন তেল কোম্পানি
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করবে, যারা শিগগিরই দেশটির বিশাল জ্বালানি প্রকল্পগুলোতে অংশ নেবে। তিনি দাবি করেন, ‘সবাই জানে, ভেনেজুয়েলার তেলের ব্যবসা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যর্থতায়, পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। তারা যতটা পারত, তার তুলনায় তারা প্রায় কিছুই উত্তোলন করতে পারছিল না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা আমাদের সবচেয়ে বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে; যেগুলো বিশ্বের সবচেয়ে বড়—সেখানে পাঠাতে যাচ্ছি। তারা শত শত কোটি ডলার ব্যয় করবে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো মেরামত করবে এবং দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।’
মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। দুজনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের কাছে অনেক ‘জোরালো প্রমাণ’ রয়েছে। তিনি বলেন, এটি (মাদুরোর অপরাধ) একদিকে ভয়াবহ, অন্যদিকে হতবাক করে দেওয়ার মতো।
![]() |
| ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বের কোন দেশে কে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হবেন, ট্রাম্প কি সেটারও নিয়ন্ত্রক হতে চান
রিপাবলিকান পার্টিকে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক আদর্শে রূপান্তর করা ট্রাম্পের কাছে রাজনীতি মানেই হলো প্রভাব খাটানোর এক মোক্ষম হাতিয়ার। আর এই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা তিনি কেবল নিজ দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ রাখছেন না।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথা ভাঙার আরও একটি নজির গড়ে ট্রাম্প এখন প্রকাশ্যে তাঁর পছন্দের প্রার্থীদের সমর্থন দিচ্ছেন। এমনকি তাঁদের অনুকূলে সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক ও বিচারব্যবস্থাকে নমনীয় করার চেষ্টাও করছেন।
ট্রাম্পের এমন সমর্থন যে কেবল মৌখিক নয়, তার প্রমাণ মেলে হোয়াইট হাউসের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে। সেখানে নথিপত্রেই মিত্রদেশের নেতাদের হটিয়ে কট্টর ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী নেতাদের ক্ষমতায় আনার প্রচ্ছন্ন সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প যেন এক বিশ্বজনীন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রধান হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, হন্ডুরাস, দক্ষিণ কোরিয়া, ভেনেজুয়েলা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আটলান্টিকের ওপারের দেশগুলোর রাজনীতিকেও তিনি নিজের ছাঁচে গড়তে চাইছেন।
মূলত যেসব নেতা তাঁর মতো জনতুষ্টিবাদী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, যাঁরা তাঁর স্তুতি করেন কিংবা যাঁরা তাঁর মতোই আইনি লড়াইয়ে জর্জরিত, তাঁদের ভাগ্য বদলাতেই ট্রাম্প বেশি আগ্রহী।
গত সোমবার ট্রাম্প আবারও ইসরায়েলের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দেশটিতে তিনি বেশ জনপ্রিয় এবং আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের আগে সেখানে তাঁর ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে ঘুষ ও জালিয়াতির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, নেতানিয়াহুর জন্য তিনি যে ক্ষমাপ্রার্থনা অনুরোধ করেছেন, সেটি ‘প্রক্রিয়াধীন’। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, তিনি (যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠা নেতানিয়াহু) একজন যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বীর। তাঁকে কেন ক্ষমা করা হবে না?
অবশ্য হারজোগের দপ্তর দ্রুতই এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে এমন কোনো আলাপ হয়নি এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হবে।
নেতানিয়াহুকে যদি ফৌজদারি বিচার থেকে রক্ষা করা যায়, তবে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা লাঘবের পাশাপাশি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেও সাহায্য করবে। বিনিময়ে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ঋণী হয়ে থাকবেন।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে গত সোমবার নেতানিয়াহুর দেওয়া স্তুতির জবাবে ট্রাম্পও যেভাবে তাঁর প্রশংসা করেছেন, তাতে এই সমীকরণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। এটি আমার হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে আসা।’ সেই সঙ্গে যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ট্রাম্পই প্রথম বিদেশি হিসেবে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘ইসরায়েল প্রাইজ’ পেতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ‘শান্তি’ বিভাগে এই পুরস্কার ট্রাম্পের জন্যই প্রথমবারের মতো প্রবর্তন করা হয়েছে।
ট্রাম্পকে খুশি করার কৌশলে নেতানিয়াহু বেশ পারদর্শী। এর আগে এক সফরে তিনি ট্রাম্পের বহু আকাঙ্ক্ষিত ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারের’ জন্য তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন।
যদিও গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে ইসরায়েলের গড়িমসিতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনেরা নেতানিয়াহুর ওপর কিছুটা বিরক্ত বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর জন্য এক অমূল্য রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
ট্রাম্পের ভাষায়, নেতানিয়াহুর জায়গায় অন্য কোনো প্রধানমন্ত্রী থাকলে ইসরায়েল হয়তো আজ অস্তিত্ব হারাত। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ইসরায়েলকে টেনে তুলতে তাঁর মতো একজন বিশেষ মানুষেরই প্রয়োজন ছিল। মাত্র কয়েক বাক্যে ট্রাম্প যেন নেতানিয়াহুর পরবর্তী নির্বাচনের প্রচারপত্রই লিখে দিলেন।
কূটনৈতিক শিষ্টাচার
ঐতিহাসিকভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টরা বিদেশি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধাবোধ করেন। প্রথমত এটি একধরনের ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচার’। কোনো প্রেসিডেন্টই চাইবেন না, অন্য দেশ এসে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সাহায্য করে সেই শিষ্টাচার লঙ্ঘনের প্রতিশোধ নিক।
এটি গণতন্ত্রের এক মৌলিক নীতি যে ভোটাররাই ঠিক করবেন তাঁদের নেতা কে হবেন। (যদিও ২০২০ সালের পরাজয় মেনে নিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্বীকৃতিই বলে দেয় যে তিনি এই নীতিতে কতটা বিশ্বাসী)।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো নেতাকে সমর্থন দেওয়ার নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশে মার্কিনবিরোধী মনোভাব তৈরি হতে পারে কিংবা নতুন কোনো নেতা ক্ষমতায় এলে শুরুতেই তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিদেশি রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা থেকে খুব কমই বিরত থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, গত সপ্তাহে হন্ডুরাসের রক্ষণশীল ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থী নাসরি আসফুরাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ভোট গণনার পর আসফুরা জয়ী না হলে এর ফল ‘খুবই ভয়াবহ’ হবে বলে আগে থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন ট্রাম্প।
পরাজিত মধ্য ডানপন্থী প্রার্থী সালভাদর নাসরল্লার দাবি, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপই তাঁর পরাজয়ের মূল কারণ। এর মধ্যে মাদক পাচারের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের জেল খাটা হন্ডুরাসের এক সাবেক প্রেসিডেন্টকে ট্রাম্পের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘটনাটিও অন্তর্ভুক্ত।
পশ্চিম গোলার্ধের রাজনীতিকে নিজের ভাবমূর্তিতে ঢেলে সাজাতে ট্রাম্প বারবার মার্কিন ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। বন্ধু ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অভিযোগে বিচার শুরু হওয়ায় ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প।
এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, ট্রাম্প আমদানি শুল্ককে কেবল বাণিজ্যের অনুষঙ্গ নয়; বরং পররাষ্ট্রনীতির ‘অস্ত্র’ হিসেবেও ব্যবহার করছেন।
বর্তমানে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিশাল এক নৌবহর মোতায়েন করে চাপ প্রয়োগ করছেন। যদিও এর প্রকাশ্য অজুহাত হলো মাদক ব্যবসা বন্ধ করা। মাদুরোর বিদায় হয়তো দারিদ্র্যপীড়িত লাখ লাখ ভেনেজুয়েলানের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য কারাকাসে নিজের আদর্শের অনুসারী সরকার বসিয়ে ক্ষমতা বাড়ানো।
আগামী বছর কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওপরও ট্রাম্পের কড়া নজর রয়েছে। ক্রিসমাসের ছুটিতে তিনি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সোজাসাপটা ভাষায় ‘সাবধান’ হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। পেত্রো অবশ্য সিএনএনকে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ওপর ট্রাম্পের এই চাপ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য নয়; বরং তেলের নিয়ন্ত্রণের জন্য।
আর্জেন্টিনার রাজনীতিতেও ট্রাম্প তাঁর অর্থনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছেন। দেশটির ২০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজের শর্ত হিসেবে তিনি তাঁর বন্ধু ও ‘মাগা হিরো’ হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত করতে চান।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ কোরিয়া
ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক দাবার চাল কেবল পশ্চিম গোলার্ধেই সীমাবদ্ধ নয়। গত মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা যখন ওভাল অফিসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন ট্রাম্প একটি বিতর্কিত ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে নিজ দেশেই অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করেন।
ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছিল যে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গরা গণহত্যার শিকার হচ্ছে, যা দেশটিতে বর্ণবাদী উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালার শামিল ছিল।
একইভাবে আগস্ট মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং যখন ওভাল অফিসে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি উসকানিমূলক বার্তা দিয়ে বসেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় গির্জায় তল্লাশির অভিযোগ তুলে তিনি দেশটিকে অস্থিতিশীল বলে ইঙ্গিত দেন।
যদিও লি জে মিয়ুং চাতুর্যের সঙ্গে ট্রাম্পকে দুটি ‘মাগা’ কাউবয় হ্যাট এবং একটি ব্যক্তিগত গলফ পুটার উপহার দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে এই ঘটনা ছিল এক সতর্কবার্তা। অন্য নেতাদের মানসিকভাবে পর্যুদস্ত করতে ট্রাম্প যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে পারেন, এটি তারই প্রমাণ।
ইউরোপের স্থিতিশীলতায় হানা
ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইউরোপের মধ্যপন্থী ও মধ্য বামপন্থী সরকারগুলোকে অস্থিতিশীল করতে বদ্ধপরিকর বলে মনে হচ্ছে। নতুন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, মুসলিম অভিবাসনের কারণে ইউরোপীয় সংস্কৃতি তার নিজস্ব অস্তিত্ব হারানোর হুমকিতে রয়েছে।
এই কৌশল ইউরোপের তথাকথিত ‘দেশপ্রেমিক দলগুলো’র (কট্টর ডানপন্থী) ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে সমর্থন করে। মার্কিন নীতির লক্ষ্য এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর বর্তমান ধারার বিরুদ্ধে একটি ‘প্রতিরোধ’গড়ে তোলা।
ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতারা মনে করেন, ট্রাম্প–সমর্থিত কট্টর ডানপন্থী দলগুলো, যেমন ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি, জার্মানির এএফডি এবং যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকে-উদারনৈতিক গণতন্ত্রের কাঠামোর জন্য বড় হুমকি।
৮০ বছর ধরে যারা ইউরোপের স্বাধীনতার গ্যারান্টার ছিল, সেই যুক্তরাষ্ট্রই এখন তাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি।
হস্তক্ষেপের পুরোনো খাসলত
অবশ্য অন্য দেশের রাজনীতিতে নাক গলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পই একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট নন। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এই কাজ করে আসছে, যদিও আগে তা করা হতো গোপনে বা অন্য কোনো ছদ্মবেশে। ট্রাম্পের সমর্থকেরা ১৯৮০-র দশকে রোনাল্ড রিগ্যান এবং মার্গারেট থেচারের মধ্যকার সেই আদর্শিক বন্ধুত্বের উদাহরণ দিতে পারেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ইতিহাস অনেক সময় ছিল বেশ কলঙ্কিত। ১৯৫৩ সালে ইরানে সিআইএয়ের মদদে অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৬১ সালে কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোকে হটাতে ব্যর্থ ‘বে অব পিগস’ আক্রমণ—সবই ছিল সেই ছক।
লাতিন আমেরিকার চিলি, নিকারাগুয়া, পানামা ও গুয়াতেমালায় যুক্তরাষ্ট্র বারবার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়েছে, যার অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত সামরিক একনায়কতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে। এমনকি ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র না পেয়ে সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তথাকথিত ‘ফ্রিডম এজেন্ডা’ চালানো হয়েছিল।
সম্প্রতি বারাক ওবামাকেও এই খেলায় দেখা গেছে। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট ভোটের আগে তিনি ব্রিটিশদের সতর্ক করেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়লে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যকে ‘পেছনের সারিতে’ অপেক্ষা করতে হবে। ওবামার সেই মন্তব্য হিতে বিপরীত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিট জয়ী হয়, যা ছিল ট্রাম্পের পরবর্তী জয়েরই এক আগাম সংকেত।
ওবামাসহ আগের অনেক প্রেসিডেন্টই বিদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছেন, তবে ট্রাম্পের মতো এত প্রকাশ্য কেউ ছিলেন না। পূর্বসূরিদের শুরু করা নীতিকেই ট্রাম্প এক চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। সবখানে একই সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারের এই কৌশল তাঁর কর্তৃত্ববাদী চরিত্র এবং তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলনের বিশ্বজয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষাই প্রতিফলিত করে।
![]() |
| ট্রাম্প বরাবরই প্রকাশ্যে বর্ণবাদী কথা বলেছেন। এতে অনেক শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান নিজেদের বর্ণবাদী মনোভাব প্রকাশে সাহস পেয়েছে। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র কেন কারাকাসে হামলা চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গেল
একটি দেশের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে এভাবে বন্দী করার এই নজিরবিহীন ঘটনাটি মূলত ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গত কয়েক মাসের তীব্র চাপের ফল। সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ভেনেজুয়েলা উপকূলে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করে। ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে বিভিন্ন নৌযানে একের পর এক বিমান হামলা চালায়। এ ছাড়া তারা ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজও জব্দ করে। এসব হামলায় কমপক্ষে ১১০ জন নিহত হয়েছেন, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হতে পারে।
ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুত দখল করতেই যুক্তরাষ্ট্র এসব করছে। মাদুরোকে বন্দী করার এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের একটি অত্যন্ত গুরুতর ও নাটকীয় মোড়। এখন ভেনেজুয়েলার বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।
আমরা এখানে কীভাবে পৌঁছালাম
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই নিকোলা মাদুরোকে তাঁর প্রধান নিশানা বানান। তিনি মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী পাঠানোর মতো অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিকোলা মাদুরোকে বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক পাচারকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে তাঁর মাথার দাম ৫ কোটি ডলার ঘোষণা করে।
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন গোষ্ঠী (যেমন ট্রেন দে আরাগুয়া) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে এবং সমুদ্রে অভিযান শুরু করে। ট্রাম্প খোলাখুলিভাবেই ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। নভেম্বরের শেষ দিকে তিনি মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন এবং নিরাপদে দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। মাদুরো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি ‘দাসের শান্তি’ চান না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তেল লোভী হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চাপের মুখেও মাদুরো সরকারকে মাঝেমধ্যে বিভ্রান্ত মনে হয়েছিল। মাদুরো বারবার বলছিলেন, তিনি যুদ্ধ চান না। এমনকি বন্দী হওয়ার দুই দিন আগেও তিনি টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার বিরোধের কারণ কী
১৯৯৯ সালে হুগো চাভেজ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। সমাজতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চাভেজ আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধিতা করে এবং কিউবা ও ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষুব্ধ করেছিলেন। ২০০২ সালে তাঁর বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থান–চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের মদদ ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থী নেতাদের কাছে ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক আদর্শ দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক শত্রুতে পরিণত করেছে। চাভেজ এবং পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধীদের দমনের অভিযোগে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরো সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে হুয়ান গুয়াইদোকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাদুরোর বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। বিরোধী প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেলেও মাদুরো দমন-পীড়নের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখেন।
ডিসেম্বর মাসের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ট্রাম্প করোলারি’ নামক একটি নীতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়—পশ্চিম গোলার্ধের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক ক্ষেত্র অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে এবং খনিজ সম্পদ আহরণে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করা যাবে।
মাদুরো কে, ট্রাম্প কেন তাঁকে বন্দী করলেন
মাদুরো ২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। সাবেক এই বাসচালক চাভেজের আমলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পরিচিতি পান। মাদুরোর শাসনকালকে স্বৈরতান্ত্রিক হিসেবে দেখা হয়। জাতিসংঘের মতে, তাঁর আমলে ২০ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প বারবার মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক দিয়েছেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের দেওয়া অনেক অভিযোগেরই যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তবু শনিবারের এই দুঃসাহসিক অভিযান সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ এই অতর্কিত হামলার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
এরপর কী
ভেনেজুয়েলার সামনের দিনগুলো অনিশ্চিত। ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই মার্কিন ‘আগ্রাসন’ প্রতিরোধের শপথ নিয়েছেন এবং একে ‘স্বাধীনতার লড়াই’ বলে অভিহিত করেছেন। মাদুরো বন্দী হলেও দেশটির সেনাবাহিনী এখনো অটুট রয়েছে। এটি কোনো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের শুরু নাকি এককালীন অভিযান, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
বিরোধী নেতারা ট্রাম্পের কাছে সমর্থন চেয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ফলে ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ক্ষমতার লড়াইয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
![]() |
| ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরো। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাঠে সার-কীটনাশক দিচ্ছে ড্রোন, সময় লাগে কম, খরচেও সাশ্রয়ী by ইয়াহইয়া নকিব
কৃষিকাজেও প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সনাতনী পদ্ধতির কাস্তে দিয়ে ধান বা শস্য কাটার বদলে এখন হারভেস্টারের সাহায্যে একসঙ্গে কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই—তিনটি কাজই করা যাচ্ছে। ড্রোন দিয়ে কীটনাশক ও সার প্রয়োগের অত্যাধুনিক যান্ত্রিক পদ্ধতিও এসে গেছে।
কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকেরা জানান, ড্রোনের সাহায্যে করলে জমিতে পরিমিত মাত্রায় সার–কীটনাশক ছিটানো যায়। এতে কৃষকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব। এক বিঘা জমিতে কীটনাশক ছিটাতে একজন মানুষের যেখানে দুই ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে ড্রোনের লাগে মাত্র পাঁচ মিনিট, খরচও কম পড়ে।
জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেড ও ফ্লাইমেক নামের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে প্রাথমিকভাবে মাঠপর্যায়ে ড্রোনের মাধ্যমে কীটনাশক প্রয়োগ করছে। এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। চীনের যন্ত্রাংশ দিয়ে দেশে তৈরি এসব ড্রোন পাঁচ কেজি ওজনের কীটনাশক বহনে সক্ষম।
নরসিংদীর বেলাব উপজেলা ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় কৃষকদের স্থানীয় দুটি সমিতির মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। আপাতত দুটি ড্রোন দিয়ে নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে কৃষকেরা এ সেবা নিতে পারছেন। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএমই মেলায় এই ড্রোন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।
ড্রোনের মাধ্যমে মাঠে কীটনাশক দেওয়ার সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে জিনিয়াস ফার্মসের কৃষি বিভাগের প্রধান সমীরণ বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ড্রোনের সাহায্যে প্রতি বিঘা জমিতে কীটনাশক দিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। আর কৃষিশ্রমিকের মাধ্যমে খরচ হয় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মতো। এ কাজে একজন মানুষের দুই ঘণ্টা লাগে। অথচ ড্রোনে মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিটে কাজটি করা যায়।
জানা গেছে, বর্তমানে আলোচ্য দুই উপজেলার প্রায় ২০০ কৃষকের ৫০ থেকে ৬০ একর জমিতে এই আধুনিক প্রযুক্তিতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে সাভারের বিরুলিয়াতেও একই কাজে ড্রোন ব্যবহার হচ্ছে। এ নিয়ে কৃষক মোক্তার হোসেন জানান, রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ড্রোন চালিয়ে জমিতে কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রয়োগের দিন শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। মাস্ক ব্যবহার করলেও ক্ষতি হয়। কিন্তু যন্ত্র দিয়ে স্প্রে করলে সেই ঝুঁকি কম মনে হয়। তা ছাড়া প্রতি বিঘা জমিতে কীটনাশক দিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে।
জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেড ও ফ্লাইমেকের কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা ভবিষ্যতে ড্রোনের মাধ্যমে কীটনাশক প্রয়োগকে একটি ব্যবসায়িক মডেলে রূপ দিতে চান। সে অনুযায়ী, গ্রামে কৃষক সমিতির মাধ্যমে ড্রোন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা গেলে একটি ড্রোনে মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা ভাড়া পাওয়া যেতে পারে।
প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা জানান, হাতে প্রয়োগ করলে বেশি সময় লাগে। আবার কীটনাশকের ব্যবহারও হয় বেশি। ড্রোনে জিপিএসের মাধ্যমে কীটনাশকের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ড্রোন না কিনেও ভাড়ায় সেবা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক। একটি লাভজনক ব্যবসায়িক মডেল দাঁড় করানো গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোও বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হবে।
ফ্লাইমেকের কর্মকর্তারা জানান, কৃষিতে ব্যবহৃত এসব ড্রোন এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। ফলে তা তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় পাওয়া যায়। বিশেষ করে ড্রাগনবাগানে গাছে বেশি কাঁটা থাকায় হাতে কীটনাশক দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ফ্লাইমেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাওয়াদ রশিদ প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা ড্রোন বিক্রিও করেন। কেউ চাইলে অর্ধেক মূল্য, অর্থাৎ পৌনে দুই লাখ টাকা জমা দিয়ে ড্রোন নিতে পারবেন। বাকি টাকা পরে সার্ভিস ফি থেকে পরিশোধ করা যাবে। আগামী বছর থেকে ফ্লাইমেক পুরোদমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে। পাশাপাশি ড্রোনের কীটনাশক বহনের সক্ষমতা ১০ থেকে ২০ লিটারে উন্নীত করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
তবে দেশে কৃষিজমির আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ড্রোন ওড়ানো একটু কঠিন। সে জন্য কয়েকটি জমির কৃষক একসঙ্গে ড্রোন ব্যবহার করলে সুবিধা পাওয়া যাবে।
জিনিয়াস ফার্মস মূলত একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান। কৃষিতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে কাজ করছে তারা। ‘ডাক্তার চাষি’ নামের একটি ফ্রি অ্যাপের মাধ্যমে ৪১টি প্রধান ফসলের রোগ ও কীটনাশক ব্যবহারের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ‘ড্রোন বাংলাদেশ’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানও কৃষিকাজে ব্যবহারের উপযোগী ড্রোন বিক্রি করছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত অস্ট্রেলিয়ার তৈরি ডিজিআই ড্রোন বাজারজাত করে। ২০১৫ সাল থেকে দেশে ড্রোন বিক্রি করছে তারা। তবে এখনো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও প্রকল্পের কাজেই মূলত এসব ড্রোন বেশি ব্যবহার করছে বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান।
ড্রোন বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী কামরান আহমেদ জানান, তাঁদের কাছে ১৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা দামের ড্রোন রয়েছে। ২০ থেকে ৩০ লিটার, এমনকি ১০০ লিটার কীটনাশক বহনে সক্ষম ড্রোনও আছে। তবে দেশে ১০ লিটারের ছোট ড্রোনের চাহিদা বেশি। ভবিষ্যতে নিজস্ব অ্যাসেম্বল প্ল্যান্ট বা সংযোজন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন বলে জানান এ উদ্যোক্তা।
![]() |
| সার ও কীটনাশক ছিটাতে ব্যবহার হচ্ছে ড্রোন। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এআইয়ের প্রসার সত্ত্বেও ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখ কর্মী নেবে সৌদি ও আমিরাত
গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবসা পরিচালনার ধরনে পরিবর্তন আনলেও এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মানবকর্মীর সামগ্রিক চাহিদা কমাচ্ছে না। বরং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের পরিষেবা সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলো উভয় দেশেই শ্রমের টেকসই চাহিদাকে এগিয়ে নিচ্ছে।
সৌদি আরবে সরকারের ‘ভিশন ২০৩০’ অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির কারণে শ্রমশক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার আওতায় নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন, উৎপাদন, লজিস্টিকস ও নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় ধরনের বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, এআইয়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা না বাড়ালে সৌদি আরবকে তার সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আরও প্রায় সাড়ে ৬ লাখ অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন হতো। এমনকি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বিবেচনায় নেওয়ার পরও এটা ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরগুলোতে দেশটিকে উল্লেখযোগ্য শ্রমঘাটতির মুখে পড়তে হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমশক্তির চাহিদা আরও দ্রুতগতিতে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট শ্রমশক্তি ১২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শ্রমবাজারে পরিণত করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মানব শ্রমশক্তিতে এই ১২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। অন্যদিকে সৌদি আরবে কর্মশক্তি ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র (২ দশমিক ১ শতাংশ) ও যুক্তরাজ্যের (২ দশমিক ৮ শতাংশ) মতো প্রধান অর্থনীতিতে এই সম্প্রসারণ অনেক বেশি ধীর।’
এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে সার্ভিসনাউ ও পিয়ারসন। সার্ভিসনাউ হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার কোম্পানি, যা বিভিন্ন দেশের সরকার ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো এবং অটোমেশন প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে। অন্যদিকে পিয়ারসন হলো যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বৈশ্বিক শিক্ষা কোম্পানি, যা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও শ্রমশক্তি মূল্যায়নে বিশেষ পারদর্শী।
গবেষণা অনুযায়ী প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষ গুরুত্ব কর্মসংস্থান বিলোপের পরিবর্তে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরব আমিরাতের সরকারি বিভাগ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম আধুনিক করার ফলে উৎপাদন, শিক্ষা, খুচরা বিপণন, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা এবং প্রযুক্তি সম্পর্কিত সেবা খাতে কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে।
গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, এআই মূলত গতানুগতিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে করবে। তবে কারিগরি দক্ষতা, তত্ত্বাবধান, গ্রাহক সেবা, সমস্যা সমাধান এবং সেবা প্রদানের মতো ভূমিকার জন্য কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা থেকেই যাবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব—উভয় দেশেই যেসব প্রধান খাতে কর্মী নিয়োগ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে তার মধ্যে নির্মাণ, পরিবহন, লজিস্টিকস, স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা, খুচরা বিপণন, শিক্ষা, জ্বালানি, আর্থিক সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে যাঁদের বৃত্তিমূলক দক্ষতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং সেবা খাতে অভিজ্ঞতা রয়েছে।
হাজারো কর্মপদ ও লাখো চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি এই উপসংহারে পৌঁছেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট শ্রমশক্তির ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে না।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যেসব দেশ কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা পুনর্গঠনে (রিস্কিলিং) বিনিয়োগ করবে, তারাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি থেকে সুফল পেতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। কারণ, প্রযুক্তি কাজকে ঢেলে সাজালেও তা মানব শ্রমের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল থাকবে।
![]() |
| দুবাইয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ টাওয়ার বুর্জ খলিফার কাছে কাজ করছেন শ্রমিকেরা। ৯ মে, ২০১৩ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিয়ানমারে ভুয়া নির্বাচন ও জেনারেলদের নতুন রাজনৈতিক খেলা by কিয়াও জওয়া মো
আমি যখন বলি জনগণ নীরবতায় ডুবে আছে, তখন আমার কথার অর্থ হলো তারা এই নির্বাচনে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না এবং চুপচাপ এর বিরোধিতা করছে। যখন তাদের দিকে বন্দুক তাক করা থাকে, তখন কে আর নির্ভয়ে কথা বলতে সাহস পায়? যদি তারা ভয় ছাড়া কথা বলতে পারত, তাহলে শুধু বলত, আমাদের কেন আগ্রহী হওয়া উচিত (নির্বাচন নিয়ে)? এটা তো নির্বাচন নয়, এটা একধরনের প্রহসন।
মিয়ানমারের মানুষ নির্বাচন সম্পর্কে বাইরের অনেক পর্যবেক্ষকের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। ১৯৯০, ২০১০ ও ২০২০ সালে তারা যে ভোটগুলো আশা নিয়ে দিয়েছিল, সেগুলো হয় চুরি হয়েছে, নয়তো বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গভীর এক মানসিক ক্ষত তৈরি হয়েছে। তিন দশকে তিনটি নির্বাচন, অথচ একটিও সম্মানিত হয়নি। এ কারণেই আমি একে ‘নির্বাচনী ট্রমা’ বলি।
তাই ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিত কিছু আসনে জান্তা যখন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, তখন অধিকাংশ মানুষের মনে আবারও প্রতারণার আশঙ্কা থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাদের চোখে সামরিক বাহিনী যা করতে যাচ্ছে, তা কোনো নির্বাচন নয়। এটি একটি রাজনৈতিক প্রতারণা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মুখোশ পরে সামরিক ক্ষমতাকে স্থায়ী করার চেষ্টা।
২০২০ সালে জনগণ যে নেতাদের নির্বাচন করেছিল, তারা এখনো কারাগারে। সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী বড় রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানকে প্রকাশ্যেই উপহাস করা হচ্ছে। এর ফল কী? ফলাফল সবাই আগেই জানে।
সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক শাখা ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিই তথাকথিত ‘জয়ী’ হবে। শুরু থেকেই এই নির্বাচন সাজানো হয়েছে জেনারেল ও সাবেক জেনারেলদের সরকার গঠনের জন্য। এ থেকে প্রকৃত রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে বলে কেউ বিশ্বাস করে না। যে জেনারেলরা অতীতে জনগণের ভোট কারচুপি করেছে, কলুষিত করেছে এবং মুছে দিয়েছে, তাদের আয়োজিত নির্বাচন থেকে পরিবর্তনের আশা করা নিছক কল্পনা। বিরোধী শক্তি, বিপ্লবী গোষ্ঠী ও জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলো এই নির্বাচনকে ঠিক যেভাবে তা, সেভাবেই দেখছে। এটি ভুয়া, আগেই নির্ধারিত এবং অবৈধ।
নীরব জনগণের বিপরীতে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো ব্যস্ত নিজেদের হিসাব–নিকাশে। কে জিতবে, তারা কতটি আসন পেতে পারে, পরে কোন কোন পদ তারা পেতে পারে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের ঠিক উল্টো। কিন্তু যে জনগণ এই নির্বাচনই প্রত্যাখ্যান করছে, তাদের কাছ থেকে তারা কীভাবে ভোট পাওয়ার আশা করে।
এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫৭টি দল। এর মধ্যে মাত্র ছয়টি দল সারা দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২৯টি দল জাতিভিত্তিক। অধিকাংশ দলেরই জনগণের মধ্যে তেমন কোনো সমর্থন নেই। দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জান্তার রাজনৈতিক রোডম্যাপের অধীন, যা স্পষ্টভাবে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তৈরি।
এই দলগুলোর নাম নতুন নয়। কিন্তু তারা জনপ্রিয়ও নয় এবং বেশির ভাগই ঐতিহ্যগতভাবে শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ। বাস্তবে তারা ‘শূন্যস্থান পূরণ’ দল হিসেবে কাজ করছে। মূলত অগণতান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম রাজনৈতিক বহুত্ববাদের চেহারা দেখানোর জন্যই তাদের উপস্থিতি।
কিছু দলের নেতা আশা করছেন, এই নির্বাচন একটি নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করবে, যা রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংঘাত কমাবে। আবার অন্যরা কেবল ব্যক্তিগত লাভের কথা ভাবছে। রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা, ক্ষমতার কাছে পৌঁছানো এবং অর্থসম্পদের সুযোগ পাওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
যখন জনগণ নীরবতায় ডুবে আছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো উদ্বিগ্ন, তখন জেনারেলরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের ছক কষছে। তারা ইতিমধ্যেই কোন জেনারেল কোন আসনে দাঁড়াবে, তা ঠিক করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। সংসদ ও সরকারের কোন পদে কোন অনুগত বসবে, তারও মানচিত্র তারা তৈরি করে ফেলেছে। এই পুরো পরিকল্পনার মূল কারিগর অবশ্যই জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং।
২০২২ সাল থেকেই মিন অং হ্লাইং এই মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে বছর তিনি ইউএসডিপির চেয়ারম্যান উ থান হটেকে সরিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠ উ খিন ইয়িকে বসান। উ খিন ই ছিলেন সাবেক অভিবাসনমন্ত্রী ও পুলিশপ্রধান। পাশাপাশি তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিয়ো জ অ থেইনকে উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। তারা সবাই আগামী সংসদ ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় হাজির হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
তবে ২০১০ সালের নির্বাচনের সঙ্গে এখানেই একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। মিন অং হ্লাইং অবসর নিতে চান না। সাবেক সর্বময় ক্ষমতাধর থান শ্বের মতো তিনি সরে দাঁড়াবেন না। তাঁর লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট হওয়া। মিন অং হ্লাইং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চান। এর কম কিছু নয়, এর বেশি কিছু নয়।
এই নির্বাচন থেকে জনগণের নির্বাচিত কোনো সরকার আসবে না। জনগণের সেবায় নিয়োজিত কোনো সরকারও গড়ে উঠবে না। যা গড়ে উঠবে, তা হলো এক নিষ্ঠুর জেনারেলের টিকে থাকার জন্য সম্পূর্ণভাবে সাজানো একটি সরকার।
• কিয়াও জওয়া মো, দ্য ইরাবতীর নির্বাহী সম্পাদক
- দ্য ইরাবতি থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিত কিছু আসনে জান্তা যখন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, তখন অধিকাংশ মানুষের মনে আবারও প্রতারণার আশঙ্কা থাকা অস্বাভাবিক নয়। কোলাজ: দ্য ইরাবতীর সৌজন্যে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে বন্ধুত্ব থেকে শত্রুতা তীব্র হচ্ছে যেসব কারণে
ইয়েমেন ছাড়া তেল উৎপাদন, সুদান ও হর্ন অব আফ্রিকা নিয়ে রিয়াদ ও আবুধাবি পরস্পরবিরোধী শিবিরে রয়েছে। ইয়েমেন ইরানের সহায়তাপুষ্ট হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অংশ। তবে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জোট সরকারের ভেতরে তারা পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে।
রিয়াদ ও আবুধাবির বিরোধী অবস্থান নিয়ে ইয়েমেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বারা শিবান বলেন, দেশ দুটির মধ্যে গভীর কৌশলগত ও আদর্শিক পার্থক্য রয়েছে। তাঁর মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন ও সুদানকে ‘বিভক্ত’ করতে চায় আমিরাত। দেশটির ধারণা, এতে সেখানে তার প্রভাব বাড়বে। আমিরাতের এ মনোভাব নিয়ে সৌদি আরব উদ্বিগ্ন। সৌদি আরব দেশ দুটিতে বিভক্তির বদলে বিদ্যমান কর্তৃপক্ষ টিকিয়ে রাখার পক্ষে।
বারা শিবান বলেন, আমিরাত মুসলিম ব্রাদারহুড ও রাজনৈতিক ইসলামকে কঠোরভাবে দমনের পক্ষপাতী। দেশটি পুরো অঞ্চলে নিজেদের এ দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে দিতে চায়। কিন্তু সৌদি আরব এসব বিষয়ে আমিরাতের সঙ্গে একমত নয়।
সৌদি আরব নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি মনে করে। দেশটি এই আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। এ বিষয়ে বারা শিবান বলেন, আমিরাতের মতো ব্যাপক প্রভাবশালী দেশ যখন (আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক) কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করে এবং নানা দেশের রাষ্ট্রবহির্ভূত বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে আমিরাতকে সম্পর্ক তৈরি করতে দেখা যায়, তা সৌদির জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে।
ইয়েমেনে বিরোধ
ইয়েমেন নিয়ে সৌদি ও আমিরাতের বিরোধ সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জোট সরকারের আমিরাত সমর্থনপুষ্ট অংশ সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) সম্প্রতি প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ হাজরামউত ও মাহরা প্রদেশের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। এসব অংশ এত দিন দেশটির সৌদির প্রতি অনুগত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ইয়েমেনে বিদ্রোহী হুতিদের দমনের জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক সামরিক জোট আমিরাতও রয়েছে। কিন্তু গত মঙ্গলবার জোটটি ইয়েমেনের অস্ত্রবাহী একটি জাহাজে বোমা হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব অস্ত্র ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল।
তবে হুতিবিরোধী সামরিক জোটের ফাটল কয়েক বছর আগেই দেখা দিয়েছিল। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে জোট থেকে নিজেদের বাহিনীর অধিকাংশ সেনাকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।
সুদানে মুখোমুখি অবস্থান
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠকের পর গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় তিন বছর ধরে চলা সুদান সংঘাত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন। ট্রাম্পের এ প্রতিশ্রুতি আমিরাতের কিছুটা বিরুদ্ধে যায়।
আফ্রিকার সোনা ও জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ দেশ সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দেশটির সরকারি বাহিনী সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ) ও বিদ্রোহী আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ভয়াবহ এ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। বলা হয়, এ সংঘাতে রিয়াদ সেনাবাহিনী এসএএফের পক্ষে রয়েছে। অন্যদিকে আবুধাবি অস্ত্রসহ সর্বাত্মকভাবে আরএসএফকে সহায়তা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এমন বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে চাপে আছে আমিরাত।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা গবেষক এমাদেদ্দিন বাদির মতে, ইয়েমেনে এসটিসির সাম্প্রতিক অগ্রগতি আমিরাতের একান্ত চাওয়ার কারণে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটা ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছু নয়।’ ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের বৈঠকের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এটা ঘটেছে। আমিরাত মনে করছে, তাদের ওপর চাপ তৈরি করতে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করছেন সৌদি যুবরাজ।
হর্ন অব আফ্রিকায় প্রতিযোগিতা
লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সংযোগস্থলে হর্ন অব আফ্রিকার অবস্থান। কৌশলগত অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি নতুন করে প্রতিযোগিতার মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ ইথিওপিয়া ও সোমালিয়া থেকে আলাদা হতে চাওয়া সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আবুধাবি ২০১৭ সাল থেকে সোমালিল্যান্ডের বেবেরা বন্দরে একটি সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে সোমালিয়ায় নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে সৌদি আরব।
আব্রাহাম চুক্তির অধীনে ২০২০ সালে আমিরাতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনকারী ইসরায়েল গত সপ্তাহে সোমালিল্যান্ডকে সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্ব–স্বীকৃত দেশটিকে জাতিসংঘের সদস্য কোনো দেশের এটাই প্রথম স্বীকৃতি। সৌদি আরব ও ২০টি মুসলিম দেশ ইসরায়েলের স্বীকৃতির নিন্দা জানালেও আমিরাত তা করেনি।
অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সৌদি আরব ও আমিরাত উভয়ে জ্বালানি তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশের সংগঠন ওপেক প্লাসের সদস্য। তেল উৎপাদন বিতর্কে ২০২১ সালে আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভেদ দেখা দেয়। এমন এক সময়ে তাদের মধ্যে এ বিতর্ক হলো, যখন দেশ দুটি নিজেদের অর্থনীতিকে তেলবহির্ভূত খাতের বাইরে ঢেলে সাজাতে চেষ্টা জোরদার করে।
এই বিতর্কের পর থেকে বহুজাতিক কোম্পানিকে আকর্ষণের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে রিয়াদ। এক নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি কোম্পানি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করবে, তাদের আঞ্চলিক সদর দপ্তর সেখানে স্থাপন করতে হবে। এতে কোনো কোনো কোম্পানি নিজেদের আঞ্চলিক সদর দপ্তর আমিরাত থেকে সৌদিতে স্থানান্তরিত করেছে।
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’–এ উড়োজাহাজ, পর্যটন ও সংবাদমাধ্যম খাত নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব নতুন উড়োজাহাজ সংস্থা, বিমানবন্দর ও বিনোদন প্রকল্প চালু করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান আমিরাতের একই খাতের প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
![]() |
| সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (বাঁয়ে) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1331)
-
▼
January
(307)
-
▼
Jan 04
(16)
- হিন্দুত্ববাদীরা যেভাবে বদলে দিচ্ছে ভারতের পরিচয়
- ঢাকায় করমর্দন: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ গলবে?
- ইসরায়েলের কারাগার ও গাজায় শান্তির আশা by ডেডিভ হার...
- সুরক্ষিত দুর্গ থেকে মাদুরো আটক, অভিযানটি ছিল শক্তি...
- খালেদা জিয়া: প্রতিরোধের এক জীবন
- মাদুরোকে তুলে নিয়ে শান্তির নামে যুদ্ধে মাতলেন ট্রা...
- ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা ‘চালাব...
- বিশ্বের কোন দেশে কে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হবেন, ট্...
- যুক্তরাষ্ট্র কেন কারাকাসে হামলা চালিয়ে ভেনেজুয়েলা...
- মাঠে সার-কীটনাশক দিচ্ছে ড্রোন, সময় লাগে কম, খরচেও ...
- এআইয়ের প্রসার সত্ত্বেও ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখ কর্...
- মিয়ানমারে ভুয়া নির্বাচন ও জেনারেলদের নতুন রাজনৈতিক...
- সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে বন্ধুত্ব থেকে শত্রুতা তীব্র ...
- ভেনেজুয়েলায় কি গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে
- শিন বেতের সতর্কতার ৪ ঘন্টা পরে পুলিশ বার্তা পায়
- মাদুরোকে আটক আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন: মেয়র জোহরান ম...
-
▼
Jan 04
(16)
-
▼
January
(307)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...










