Wednesday, April 12, 2017

সিরিয়ায় হামলার পিছনে ইভাঙ্কার মাথা!‌

সিরিয়ার মাটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য পড়ে গেছে গোটা বিশ্বে। তারই মধ্যে সামনে এলো আরো এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা যাচ্ছে, এই হামলার পিছনে নাকি রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কন্যার ইভাঙ্কা অনুরোধ৷ এমনই দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে এরিকের৷ ব্রিটিশ দৈনিক ‘‌দ্য টেলিগ্রাফ’–‌কে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে এমনই জানিয়েছেন এরিক৷
বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেছেন ইভাঙ্কা৷ এত গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত ইভাঙ্কা–র মতো নবীন উপদেষ্টা কী করে নিতে পারেন, সেটা নিয়ে ঘরে বাইরে প্রবল বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসন। এই ঘটনায় তিনি নিজেও যথেষ্ট বিব্রত বলে জানিয়েছেন এরিক। তিনি বলেছেন, ‘‌ইভাঙ্কা নিজে তিনটি সন্তানের মা। সে কী করে এই হামলার পক্ষে কথা বলতে পারল।’‌ যদিও হামলায় ইভাঙ্কার প্রভাব নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউজ। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘‌প্রেসিডেন্ট নিজেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।’‌

আরো ৩ মামলা স্থগিত চেয়ে আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদন

নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর  বিভিন্ন থানায় দায়ের আরো  ৩ মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এ আবেদন করেন। বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এন এম বসির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে  আগামীকাল বৃহস্পতিবার খালেদার আবেদনের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা নাশকতার তিনটি মামলার কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছ্। এর আগে গত ৯ এপ্রিল খালেদার বিরুদ্ধে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় দায়ের করা নাশকতার দুই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার দুটি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না— তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।বিচারপতি মিফতা উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি আনম বশিরউল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

মমতার মাথার দাম ঘোষণা বিজেপির যুব নেতার : উত্তাল সংসদ

কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক যুবনেতা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথার দাম ঘোষণা করেছেন। যে মমতার মাথা কেটে আনতে পারবে তাকেই ১১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেন ওই যুবনেতা। এদিকে এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির সংসদ। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি। মঙ্গলবার হনুমানজয়ন্তীর মিছিল ঘিরে বীরভূমের সিউড়িতে পুলিশ ও আরএসএস কর্মীদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। লাঠিচার্জ করে পুলিশ। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মমতার মুণ্ডচ্ছেদের উস্কানি দেন আলিগড়ের যুব বিজেপি নেতা যোগেশ ভার্সনে। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে যোগেশকে বলতে শোনা যায়, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মাথা কেটে আনতে পারলে আমি নিজে সেই ব্যক্তিকে ১১ লাখ টাকা দেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও সরস্বতী পূজো করতে দেন না, রামনবমীতে মেলা করতে দেন না, আর হনুমানজয়ন্তীকে মানুষের উপর লাঠি চালাল মমতার পুলিশ, মারধর করা হল নৃশংসভাবে। উনি ইফতার পার্টির আয়োজন করেন আর সবসময় মুসলিমদেরই সঙ্গ দেন।’ উল্লেখ্য, রোববার বীর হনুমানজয়ন্তীর উদ্যোক্তাদের পুলিশ সতর্ক করেছিল, যাতে তারা মঙ্গলবার সিউড়িতে কোনো মিটিং-মিছিল না করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মিছিল বের হতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের ফতোয়ায় আজ বুধবার উত্তাল হয়ে উঠে কেন্দ্রীয় সংসদ। যোগেশ ভার্সনের মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি। এদিন ভার্সনের মন্তব্যের কড়া নিন্দা করে রাজ্যসভায় সপা সাংসদ জয়া বচ্চন বলেন, ‘মহিলাদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে কেন্দ্রে আর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা উচিত। আপনারা গরু সুরক্ষা করছেন অথচ মহিলাদের উপর পাশবিক অত্যাচার নিয়ে কিছু করছেন না।’ যদিও এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি বলেন,পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েক সরকার যে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে পারে, ভার্সনের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিতে পারে রাজ্য সরকার। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘যে বা যারা এই ধরণের উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।’ পাশাপাশি বসপা নেত্রী মায়াবতী বলেন, ‘ভর্সনে যা বলেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। শুধু নিন্দা করলে হবে না, উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’ প্রসঙ্গত, বিজেপিও এই ঘটনার নিন্দা করেছে। তবে যোগেশের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তা নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্প, লোকজন নেমে এলো ফাঁকা রাস্তায়

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার প্রায় ৮ শ’ কিলোমিটার দক্ষিণে বুধবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৬.০। এতে অনেক ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের সময় লোকজন প্রাণভয়ে ফাঁকা রাস্তায় নেমে আসে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও লানাও ডেল সুরের বিদ্যুত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং পানির পাইপ ফেটে যায়। দুর্যোগ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৫ টা ২১ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। প্রাদেশিক দুর্যোগ কর্মকর্তা ফ্রান্সিস গার্সিয়া এবিএস-সিবিএন টেলিভিশনকে বলেন, লোকজন এ সময় আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং ঘরের বাইরে চলে যায়। সরকারি ভূকম্পন দপ্তর জানায়, ১৬টি নগরীতে ভূকম্পন অনুভূত হয়। তারা আরো জানায়, এতে বিভিন্ন সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বহু ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে।

দাবানলের কারণে ফ্লোরিডায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ফ্লোরিডার গভর্নর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এ অঙ্গরাজ্যে ব্যাপকভাবে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় মঙ্গলবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। রিক স্কট দাবানল নিয়ন্ত্রণে অভিযান আরো জোরদার করেছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রি সরবরাহ করা হচ্ছে। স্কট বলেন, ‘দাবানল ছড়িয়ে পড়ার কারণে আজ আমি ফ্লোরিডায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছি এবং এ দাবানল মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
ফ্লোরিডা ফরেস্ট সার্ভিস জানায়, এ রাজ্যের ১০৫টি স্থানে আগুন জ্বলছে। দাবানলে আট হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। জানুয়ারি মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এ রাজ্যে দাবানলে প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর জমি আগুনে পুড়ে গেছে। এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী কয়েক মাস ফ্লোরিডায় তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফারাক্কায় বাংলাদেশকে দেয়ার মতো যথেষ্ট পানি থাকে না

গোমুখিতে উৎপন্ন হয়ে ভারত সীমান্ত পর্যন্ত দুই হাজার ৩৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে গঙ্গা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। সে কারনে ফারাক্কা পয়েন্টে বাংলাদেশকে দেয়ার মতো যথেষ্ট পরিমান পানি থাকেনা। ফলে পানির অভাবে প্রমত্তা পদ্মা শুকিয়ে মরা নদীতে পরিনত হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের পদ্মা সংযুক্ত প্রধান-শাখা-প্রশাখানদীগুলো নদী শুকিয়ে গেছে। এতে নদ-নদীতে কমেছে মাছ ও জলজ প্রাণী। শিল্প, ব্যবসা-বানিজ্য, জীববৈচিত্র্য ও কৃষি খাত হুমকীর মুখে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, শুধুমাত্র ফারাক্কার প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প-কারখানা সবকিছুতে মারাত্মক ক্ষতি করেছে। মিঠাপানি ছাড়া কৃষি তথা কোন ধরনের শিল্প-কারখানা চলতে পারে না। ফারাক্কার কারনে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মিঠাপানির প্রবাহ কমে গেছে। পদ্মার তলদেশ ওপরে উঠে এসেছে। এখন পদ্মায় তেমন ইলিশ পাওয়া যায় না। ইলিশের বিচরনক্ষেত্র ছিল রাজশাহী থেকে পাবনা পর্যন্ত। মাছ আসার জন্য পানিতে যে পরিমান প্রবাহ থাকার কথা সেটি না থাকায় এখন আর পদ্মায় ইলিশ আসে না। গাঙ্গেয় পানি ব্যবস্থায় দুইশতাধিক প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ও ১৮ প্রজাতির চিংড়ি ছিল। সেগুলোর অধিকাংশই এখন বিলুপ্তির পথে।
পদ্মা নদীতে পানি স্বল্পতার কারণে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে মরুকরণ অবস্থা স্থায়ী রুপ নিতে যাচ্ছে। পদ্মার প্রধান শাখা নদী হলো মাথাভাঙ্গা, কুমার, ইছামতি, গড়াই, আড়িয়ালখা প্রভৃতি। প্রশাখা হলো মধুমতি, পশুর, কপোতাক্ষ। উপনদী একটি মহানন্দা। মহানন্দা রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানায় পদ্মায় মিলিত হয়েছে। পদ্মার পানি দিয়ে শুকনো মওসুমে রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর প্রভৃতি জেলায় সেচকাজ চালানো হয়। এ নদীর পানি দিয়ে প্রায় ২০ ভাগ জমির সেচকাজ চলে। বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বানিজ্য, নৌযোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদ্মা নদীর ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা অববাহিকার মোট নিকাশি অঞ্চলের আয়তন ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশে গঙ্গার নিকাশি অঞ্চলের আয়তন ৪৬ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটার। পৃথিবীতে আর কোন নদীর এত বিশাল সমতল ব-দ্বীপ নেই। এ নদীর অববাহিকায় বাস করে প্রায় ৩৩ কোটি মানুষ। গঙ্গার দুই তীরে ২৯টি প্রথম শ্রেনীর শহর রয়েছে। প্রতিটি শহরের জনসংখ্যা এক লাখের বেশি। দ্বিতীয় শ্রেনীর শহর রয়েছে ২৩টি। শহরগুলোর প্রতিটির জনসংখ্যা ৫০ হাজার থেকে এক লাখ। এ ছাড়া ৫০ হাজার কম জনসংখ্যা অধ্যুষিত শহর রয়েছে ৪৮টি। উত্তর প্রদেশের কানপুরে গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত হয়েছে ‘লব-কুশ ব্যারাজ’। এই বাঁধ দিয়ে ভারত প্রতিদিন ১৯ হাজার মিলিয়ন লিটার পানি সরিয়ে নিচ্ছে। এই পানি বিশুদ্ধ করে খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারত গঙ্গায় বৃহদাকার তিনটি খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এরমধ্যে রয়েছে, আপারগঙ্গা ক্যানাল প্রজেক্ট, মধ্যগঙ্গা ক্যানাল প্রজেক্ট এবং নিন্মগঙ্গা ক্যানাল প্রজেক্ট। এসব প্রকল্পের হাজার হাজার কিলোমিটার খালের মাধ্যমে তারা গঙ্গার পানি সরিয়ে নিয়ে সেচ দেয়ার ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আপারগঙ্গা ক্যানাল প্রজেক্টের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশের তিন লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার লক্ষ্যে ছয় হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল কেটে পদ্মার পানি সরিয়ে নিচ্ছে। মধ্যগঙ্গা ক্যানাল প্রকল্পে মূল ও শাখাসহ খননকৃত খালের মোট দৈর্ঘ প্রায় এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার। নিন্মগঙ্গা ক্যানাল প্রজেক্টের জন্য ছয় হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। ভারত ২০০৫ সালে উত্তর প্রদেশের তেহারি-গাড়ওয়াল জেলায় ৪৫ কিলোমিটারজুড়ে তেহারি ড্যাম নির্মান করেছে। এই ড্যামে বিপুল পানি জমিয়ে রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সেচের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
তেহারি ড্যামের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ভাটিতে বিশেষ করে ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ অনেক কমে যায়। এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গার উজানে আরো ১৬টি বাঁধ দেবে। এ ধরনের বাঁধ নির্মাণের কারণে ভয়াবহ বিপর্যয়ে মুখে পড়বে ভাটির বাংলাদেশ। গঙ্গার উজানে বর্তমানে প্রায় ৪০০ ড্যাম-ব্যারেজসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সমুদ্র থেকে ৪২ ফুট উচুঁতে অবস্থিত হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্ট থেকে ভারত সীমান্ত ত্রিশ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আঠার কিলোমিটার উজানে ফারাক্কা বাঁধ অবস্থিত। ভারতের গোমুখিতে ভূমিষ্ঠ হয়ে বাংলাদেশের মেঘনা সঙ্গম স্থান পর্যন্ত দুই হাজার ৬০০ মাইল ব্যাপী প্রবাহিত। এই নদীতে বাঁধ দেয়া হয়েছে হরিদ্বারে। সবশেষে ফারাক্কায়। মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে গঙ্গার মূল অংশ চলে আসে বাংলাদেশে। রাজমহল পবর্তকে অতিক্রম করে বাংলার সমতল ভূমিতে নেমে আসে। রাজমহল থেকে ত্রিশ কিলোমিটার পূর্বে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গা যায় গিরিয়ায়। তারপর বিভক্ত। একটি ধারা দক্ষিণ-পূর্বে। স্থানীয়রা বলেন ভাগিরথী। আর একটি ধারা পদ্মা। যা রাজশাহী, পাবনা ও ফরিদপুর জেলা হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। গঙ্গা পশ্চিম বঙ্গের দক্ষিণে গেছে সোজা। ডাইনে বেঁকে পূর্বগামী হয়ে পৌছায় কাটোয়ায়। আবার পশ্চিম দিকে যায় কালনা, ব্যান্ডেল-চন্দননগর, কলকাতা, বজবজ হয়ে ফলতা। তারপর ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে মিশেছে। গঙ্গার নি¤œস্রোত ধারার নাম পদ্মা। রাজশাহী চারঘাটের প্রায় দশ কিলোমিটার ভাটিতে আলাইপুর পর্যন্ত পঞ্চাশ কিলোমিটার। চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার বরাঙ্ক মোহনপুর, রাণীনগর ও আলাতুলি এলাকায় নদী সম্প্রারিত ছিল। এখন তা চরে পরিণত হয়েছে। চারঘাট থেকে নাটোরের লালপুর পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার। এর পরেই ঈশ্বরদীর সাহেব বাজারের পাশ দিয়ে এ নদী পাবনায় ঢোকে। পাবনা সদর, সুজানগর থানা সদর অতিক্রম করার পর বেড়া উপজেলার নতিবপুরের কাছে বারকোদালিয়া নামক স্থানে যমুনা নদীর সাথে মিশেছে।
এর মিলিত প্রবাহকে পদ্মা নামে অভিহিত করেন নদী গবেষকেরা। অবশ্য গঙ্গা বাংলাদেশে আসার পর থেকেই পদ্মা নামে পরিচিত। পাবনায় পদ্মা ১৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমায় ছাপঘাটির কাছে গঙ্গা বিভক্ত হয়ে ভাগিরথী ও পদ্মা হয়েছে। পদ্মা জলঙ্গি হয়ে নদীয়ার মধুগাড়ি পর্যন্ত আসে। এই এলাকার দৈর্ঘ ১২০ কিলোমিটার। এরপর পদ্মা বাংলাদেশে ঢোকে। পশ্চিম বাংলায় পদ্মার কোন উপনদী নেই। শাখা নদীর মধ্যে ভাগিরথী, ভৈরব ও জলঙ্গি। পদ্মা নদীকে ঘিরে পাকশি ভেড়ামারা-সাড়া আর রায়টার একটা যুগ ছিল। রফতানির যুগ। সাড়াঘাটে নৌকা নিয়ে নেতৃত্ব চলেছে শতাধিক বছর ধরে। সে সব এখন ইতিহাস। এ অঞ্চলে রেলপথ স্থাপিত হওয়ার আগে পদ্মা পাড়ের সাড়া ও রায়টা ঘাট ছিল ভারতবর্ষের যোগসূত্র। অভিশপ্ত ফারাক্কা ব্যারেজের বিরুপ প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা পারের মানুষ বহুমুখি সঙ্কটে পড়েছেন। পদ্মার অর্ধশত শাখা নদী মজে যাওয়ায় পরিবেশ হয়ে উঠেছে অস্বাস্থ্যকর। পশ্চিম বাংলার ভাগীরথী আর হুগলি নদীর প্রভাব ছেড়ে গঙ্গার পানি অপর অংশ পূর্ব দিকে পদ্মা নদী দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। ভারত সরকার গঙ্গার পানি রোধে ১৯৫১ সালে মুর্শিদাবাদ জেলায় ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৫ সালে শুরু হয় ফারাক্কা ব্যারেজের কর্যকারিতা। এরপর থেকেই মজে যেতে থাকে পদ্মা ও শাখা নদীগুলো। ফরাক্কা ব্যারেজের ভাটিতে মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুরে আরো একটি ব্যারেজ তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে আনুষাঙ্গিক যুক্ত হয়েছে নানা লকগেট,
বাঁধ প্রভৃতি। ফিডার ক্যানেলও তৈরি করা হয়। লম্বায় ৩৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার। ফারাক্কা বাঁধ থেকে গঙ্গার পানি এই ক্যানেল পথেই ভাগীরথীতে পৌছে দেয়া হচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্পের মাধ্যমে ভাগীরথী-হুগলি নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ফিডার ক্যানেলে দৈনিক ৪০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়। ঠিক এ পরিমাণ পানি বহন করার ক্ষমতার কথা মনে রেখেই ফিডার ক্যানেলটি তৈরি করা হয়েছে। তবে শুস্ক মওসুমের সময় কিছু কম পানি ছাড়তে হয়। শুস্ক মওসুম বলতে জানুয়ারি থেকে মে মাস। তখন ফিডার ক্যানেলে পানি ছাড়ার পরিমাণ ৪০ হাজার কিউসেক থেকে কমিয়ে ৩০ থেকে ২৮ হাজার কিউসেকে নামিয়ে আনা হয়। প্রচন্ড খরা হলে উজান থেকে গঙ্গার পানি কম বয়ে আনলে ফিডার ক্যানেলে কম পানি ছাড়া হয়। এক মজা নদীকে জীবন দিতে গিয়ে পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যতগুলো বৃহত্তম বাঁধ তৈরি করা হয়েছে ফারাক্কা বাঁধ তাদের মধ্যে অন্যতম। হুগলিতে প্রবাহ আনতে গিয়ে পদ্মাকে রুগ্ন করা হয়েছে। যশোর-কুষ্টিয়ার নদীগুলো পদ্মার সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছে। পাবনার বড়াল, ছোট যমুনা, পূনভবা, আত্রাই, ইছামতি, গুমানী, গোমতী, ভদ্রবতী, গোহালা, নন্দকুজা, গাড়াদহ, কাকন, কাকেশ্বরী, সরস্বতী, মুক্তাহার ঝবঝবিয়া, ফুলজোর এবং রাজশাহী ও নাটোরের মহানন্দা, আত্রাই, বারনই, শিব, রানী ও ছোট যমুনাসহ ১২টি নদী রয়েছে। পদ্মার প্রধান শাখা নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথা ভাঙ্গা, কুমার, কপোতাক্ষ, পশুর ও বড়াল। নদী কিশেষজ্ঞরা বলেন, পানি প্রবাহের মাত্রা ৪০ হাজার কিউসেক হলে নদীতে আর পলি জমতে পারে না। তলদেশও ভরাট হয় না। প্রবাহ কম বলে পদ্মার বুকে মাইলের পর মাইল চর জেগে উঠছে। বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তি ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার পর পানি সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌছে যায়। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবে গৌড়া গঙ্গা নদীর পানি বন্টন সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন নতুন দিল্লির হায়দারাবাদ হাউজে। ৩০ বছর দীর্ঘ মেয়াদী এই চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে তীব্র শুষ্ক সময়ে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে। কিন্তু বাংলাদেশ কোন বছরই চুক্তির শর্ত অনুয়ায়ী পানি পাচ্ছে না।
ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ ৫০ হাজার কিউসেক এর কম দেখা গেলে দুই দেশের সরকার তাৎক্ষনিক ভাবে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করে সমন্বয় সাধন করতে পারবে বলা হলেও কার্যত কিছুই হচ্ছে না। ভারত তার দাদাগিরি মনোভাব বজায় রেখেছে। অনুচ্ছেদ-২ এ বলা হয়েছে উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি ফারাক্কা পয়েন্ট হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা ও ফিডার ক্যানেল এলাকায় পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণের জন্য একটি টিম নিয়োগ করবে। এই টিম উভয় সরকারের কাছে পানি প্রবাহের সংগৃহিত ডাটা-উপাত্ত পেশ করবে। তা যদি করত তাহলে পদ্মায় পানি প্রবাহ থাকত। প্রতি বছরই বাংলাদেশ পানি পেয়েছে চুক্তির অনেক কম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নদী বিশেষজ্ঞ কামরুন নেছা জানান, বাংলাদেশের পদ্মার যে বিপুল আয়তন তাতে স্বাভাবিক প্রবাহ থাকলে প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টির কথা উঠতো না। কিন্তু ভারত নেপালের কোশি থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুর পর্যন্ত সুদীর্ঘ পথে পানি প্রত্যাহারের যে একতফা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে- তাতে বাংলাদেশের বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে।

পিরোজপুরের কঁচা নদীতে যুবতীর লাশ

পিরোজপুরের কঁচা নদীতে ভাসছে অঞ্জাত এক যুবতীর লাশ। মঙ্গল ও বুধবার ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ও চরবোথলার জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন পাজামা পরিহীতা ভাসমান যুবতীর হাত-পায়ে মুজা পরা। তার দুই হাত বাঁধা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেট কাটা। মাথার সামনের অংশে কোপ রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ভান্ডারিয়া থানার ওসি মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি লাশ সম্পর্কে কিছুই জানেননা বলে জানান।

১৬ এপ্রিল নবীপুর ইউপি নির্বাচন হচ্ছে না

আগামী ১৬ এপ্রিল নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৯নং নবীপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড নলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থগিত কেন্দ্রের পূর্ন ভোট গ্রহন হচ্ছেনা। ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের বাদ দিয়ে নতুন ভোটার তালিকায় তৈয়ার করে ভোট গ্রহণের জন্য প্রধান নিবাচর্ন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে রুল জারি করেছে আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করেছে হাইকোট। জানাগেছে, সেনবাগ উপজেলার ৯নং নবীপুর ইউনিয়নের নলদিয়া ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী প্রাণ গোপাল সাহা তার ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটার বাদ দিয়ে নতুন ভোটার তালিকা করে ভোট গ্রহণের জন্য হাইকোটে একটি রিটপিটিশন নং ৪৭৫৭/১৭ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোটের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশিষ চন্দ্র দাসের সম্বনয়ে গঠিত যৌথ বেঞ্চ ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ভোট গ্রহন স্থগিত করে গত ৯ এপ্রিল ওই রায় দেন। মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোটে কামাল হোসেন। গতকাল ১২এপ্রিল সকালে সেনবাগ উপজেলা ও নোয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে এই সংক্রান্ত কাগজপত্র এসে পৌছায়। এব্যাপারে যোগাযোগ করলে সেনবাগ উপজেলা নির্বাচন অফিসার শহিদুল আলম তানভির ও নোয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসার সুদাংসু কুমার সাহা এই সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, যেহেতু মামলায় বিবাদী করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনকে। তাই কমিশন থেকে যে সিন্ধান্ত তাদের দেওয়া হবে সেই আলোকেই তারা ব্যবস্থা নেবেন। তবে, আপতদৃষ্টিতে বুঝা যাচ্ছে আগামী ১৬ এপ্রিল নবীপুর ইউনিয়নের নলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচন হচ্ছেনা।
উল্লেখ্য: এরআগে ২০১৬ সালের ২৮ মে ও ৩১ অক্টোবর দুই দফায় সেনবাগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় কেন্দ্রে গোলযোগের কারণে নির্বাচন স্থগিত করেন।

দেশে ফিরেছেন জেইসা

ফেইস বুকে পরিচয় অতঃপর প্রেম। ব্রাজিল থেকে ক্ষনিকের জন্য ছুটে আসে প্রেমিকের বাড়ী রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর বাজার। এরমধ্যে তাদের দু,জনের শুভ পরিনয়ও ঘটে। মঙ্গলবার রাত দেড় টায় ঢাকা শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর থেকে ব্রাজিল কন্যা দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দেশে ফেরার আগ মুর্হুতে শ্বশুরালয়ের সাথে মোবাইলে কথা বলেন ব্রাজিল কন্যা।
পুনরায় স্বামীর বাড়ীতে আবারও আসবেন বলে অভিব্যক্ত করেন। জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনুছ আলী সরদারের ছেলে আতিকুর রহমান মিঠু জানান, সঞ্জয় ঘোষের চাচা মনো ঘোষের মোবাইল ফোনে পরিবারের সাথে কথা বলেন জেইসা। মঙ্গলবার রাত দেড় টার দিকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ব্রাজিলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সে পুনরায় স্বামীর বাড়ীতে ফিরে আসছেন বলেও প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষিকার দুই বছরের কারাদণ্ড

রাজধানীর লালমাটিয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে সিফাত জেসমিন নূর নামের এক শিক্ষিকাসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক অপরজনের নাম মেহেদী হাসান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের দু'জনকেই দুই বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সিফাত জেসমিন নূর রাজধানীর একটি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক। আর মেহেদী হাসান রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী। লালমাটিয়া কলেজ কেন্দ্রে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বুধবার সকাল ১০টা থেকে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছিল। এসময় পরীক্ষাকেন্দ্র সংলগ্ন কুটুমবাড়ি রেস্তোরাঁ থেকে সিফাত জেসমিন নূর ও মেহেদী হাসানকে আটক করে সাদা পোশাকের পুলিশ। এসময় ফাঁস হওয়া প্রশ্ন মোবাইল ফোনের ফেসবুকে সমাধান করছিলেন তারা। মেহেদী হাসানের মোবাইল থেকে ‘আর জে রাহাত’ নামের এক আইডি পাওয়া যায়। সেখানে ফেসবুকে পোস্টের বিষয়টি বের হয়ে আসে। ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, বিষয়টি প্রমাণ হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের দু'জনকে দুই বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। পরে তাদের মোহাম্মদপুর থানায় নেয়া হয়। সেখান থেকে তাদের কারাগারে পাঠানোর কথা বলেন তিনি।

তারেকের শাশুড়ীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ী সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। নির্দিষ্ট সময়ে দুদককে সম্পদের হিসাব না দেয়ার মামলায় বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মীর আহমেদ আলী জানান, দুদকের দেয়া অভিযোগপত্র আদালত আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। জানা যায়, ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি ইকবাল মান্দ বানুকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয় দুদক।
পরে এই নোটিশের বিরুদ্ধে ইকবাল মান্দ বানু আইনী ব্যবস্থা নেন। বিভিন্ন পর্যায় শেষে হাইকোর্ট সম্পদ বিবরণী দাখিলে দুদকের নোটিশ বহাল রাখে। কিন্তু তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। ফলে ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি এই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

আত্মপক্ষ সমর্থনে বৃহস্পতিবার আদালতে যাচ্ছেন খালেদা

দুর্নীতির দুই মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার আদালতে যাবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খোকন এ তথ্য জানান। বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে চলমান মামলা দুটি হচ্ছে- জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা।
মামলা দুটির কার্যক্রম যথাক্রমে ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের বিশেষ আদালত-৩ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ মো.কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে চলছে। ইতিপূর্বে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অনেকবার তার আত্মপক্ষ সমর্থনের তারিখ পেছানো হয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুদক। অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় আরো একটি মামলা করে দুদক।

শ্লীলতাহানির ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি অভিযোগে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থসহ তিনজনের নামে মামলা হয়েছে। বুধবার সকালে ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে তাদের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালতের বিচারক মুহিতুল হক অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পিপি এডভোকেট এম এ মালেক জানান, মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত  ০৮ এপ্রিল শনিবার ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে শাবি ক্যাম্পাসে ঘুরতে যায় ওই ছাত্রী।
এসময় শহীদ মিনার এলাকায় ফুচকা খাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি পার্থসহ আসামিরা তার মুখে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ে এবং গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় নির্যাতিতার মা মাহমুদা খাতুন বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি। মামলার আসামিরা হলেন- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ, সমাজকর্ম বিভাগের ২য় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের ছাত্র মাহমুদুল হাসান রুদ্র এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ২য় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের ছাত্র সাজ্জাদ রিয়াদ। এছাড়াও মামলায় ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল শনিবার বিকালে সিলেট নগরীর পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ক্যাম্পাসে বেড়াতে যায়। এসময় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ ও তার অনুসারীরা লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দুই সংবাদকর্মীকে পার্থের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে মারধর করে এবং পরে সন্ধ্যায় আবারো সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় তারা।

নড়াইলে দুই অপচিকিৎসকের দন্ড

নড়াইলের আদালত চত্বর এলাকায় বিভিন্ন পশুর মাথা, হাড় ও চমড়া দিয়ে অপচিকিৎকার দায়ে দুই পথ চিকিৎসকের পাঁচদিন করে কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এনডিসি এবিএম খালিদ হাসান সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। এ সময় একটি কুমির ও চিতাবাঘের মাথার কঙ্কাল, ভাল্লুক, হরিণ, বনরুই এবং বনবিড়ালের চামড়া জব্দ করা হয়। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌগঞ্জ থানার কনকসার গ্রামের গোলজার হোসেন (৫০) ও একই গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৫৫)। এরা দীর্ঘদিন ধরে নড়াইল আদালত চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় পশুর চমড়া ও মাথা দেখিয়ে রোগব্যাধি ভালো করার নামে অপচিকিৎসা করে আসছিলো। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম খালিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, বন্য প্রাণী নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ আইনে তাদেরকে পাঁচদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

‘হ্যান্ডসাম’ না হওয়ায় স্বামীকে খুন নববধূর!

স্বামী ‘হ্যান্ডসাম’ নন, আর তাই নোড়া দিয়ে স্বামীর মাথা থেঁতলে খুব করল সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী। পুলিশের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়ুর কুদ্দালোরে। জানা যায়, কুদ্দালোরের বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর শেষমেষ রাগের মাথায় নোড়া দিয়ে স্বামীকে হামলা করে ২২ বছরের নববধূ। নোড়া দিয়ে স্বামীর মাথায় এমন আঘাত করে যে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। গত সপ্তাহেই বিয়ে হয়েছিল এই দুজনের। পুলিশ জানিয়েছেন, তদন্তে উঠে এসেছে, মেয়েটির বাড়ির লোক, আত্মীয়-স্বজন প্রায়ই বলত- পাত্র সুপুরুষ না, পাত্রীর সঙ্গে মানায়া না ছেলেটিকে। এই খুনের পিছনে এই উষ্কানিও কাজ করতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
ছেলেটির বয়স চবিবশ-পঁচিশের কাছাকাছি ছিল। গায়ের রং কালো ছিল। কোন পরিস্থিতিতে দুজনের বিয়ে হয় সেবিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকী ছেলেটি ও মেয়েটির মা-বাবা সম্পর্কেও কোনো খোঁজ মেলেনি। ছেলেটি খুন হওয়ার আগে স্ত্রীয়ের সঙ্গে কী বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল তাও জানা যায়নি এখনও। যদিও অভিযুক্ত স্ত্রীয়ের দাবি, অন্যকেউ তার স্বামীকে খুন করেছে। স্বামীর লাশ দেখার পর সেই প্রথম সবাইতে খবর দেয়। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত তথ্য-প্রমাণ মেয়েটির দিকেই ইশারা করছে। স্বামীর খুনের অভিযোগে মেয়েটিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া

মহেশপুরে ৮০ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক ২

ঝিনাইদহের মহেশপুর থানা পুলিশ ঢাকা গামী একটি বাস তল্লাসী করে ৮০ বোতল ফেনসিড্রিল সহ ২জন কে আটক করেছে। মহেশপুর থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত ওসি (তদন্ত ) ফারুক হোসেন জানান বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় থানার এস আই বজলুর রহমান সহ একদল পুলিশ জীবননগর কালিগঞ্জ মহাসড়কের বকুন্ডিয়া চেকপোষ্টে ঢাকা গামী রয়েল পরিবহন গাড়ী তল্লাসী করে ৮০ বোতল ফেনসিড্রিল সহ দর্শনা এলাকার কোহিনুর বেগম (৫০) ও বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানার মাসুদ রানা (৩৫) কে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব আইনে মামলা করা হয়েছে।

যাত্রীবোঝাই কামরা ফেলে চলে গেল ইঞ্জিন

পড়ে রইল বগি, কাপলিং খুলে এগিয়ে গেল ইঞ্জিন। বুধবার সকালে সাত সাকলেই এক্সপ্রেস ট্রেনের কাপলিং খুলে বিপত্তি ঘটে ভারতের কলকাতা স্টেশনে। চলন্ত ট্রেনের কাপলিং খুলে ইঞ্জিন থেকে কামরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ট্রেনটি লাইনচ্যুত হলে বিপদ ঘটতে পারত। গতি কম থাকায় রক্ষা পায় অকাল তখত এক্সপ্রেস। সকালে ৭.৪০ মিনিট নাগাদ কলকাতা স্টেশন থেকে ছাড়ে অকাল তখন এক্সপ্রেস। অদ্যাবধি পরেই ঘটে যায় এই ঘটনা। সবেমাত্র প্লাটফর্মে ছেড়ে গতি বাড়তে শুরু করেছিল ট্রেনটির। তখনই ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বগি।
ইঞ্জিন বেশ খানিক দূর এগিয়ে যায়। পরে ধীরে ধীরে বিশাল ট্রেনটিও দাঁড়িয়ে যায়। এ যাত্রায় লাইনচ্যুত হয়নি ট্রেনটি। ফলে রক্ষা পান যাত্রীরা। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা রবি মহাপাত্র বলেন, প্রেসার পাইপ খুলে গিয়েই বিপত্তি ঘটেছে। কী কারণে এই ত্রুটি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্যার সমাধান করে ইঞ্জিন ও বগিজুড়ে ফের ট্রেনটি কলকাতা স্টেশনে থেকে ছাড়ে ৮টা ২৮-এ।

প্রধানমন্ত্রী শূন্য হাতে ফিরেছেন : মান্না

নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ভারতে গিয়েছেন। আমরা ভেবেছিলাম তিনি দেশের মানুষের জন্য পানি নিয়ে আসবেন। কিন্তু তিনি শূন্য হাতে ফিরে আসলেও হাওড় অঞ্চল পানিতে ভাসছে। সেখানকার প্রান্তিক কৃষকেরা তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে গেছে। আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওড় এলাকাসহ প্লাবিত সকল হাওড় অঞ্চলকে দূর্গত ঘোষণার দাবিতে আয়োজিত নাগরিক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না এ কথা বলেন।মান্না আরো বলেন, নদী শাসন না থাকার কারণে আজকে আমরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সুনামগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনা-হবিগঞ্জসহ যে সমস্ত হাওড় এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাদের পাশে রাষ্ট্রের এখনই দাঁড়ানো উচিত। তাদের কৃষি ঋণ মওকুফ করে নতুন করে আবার আবাদ করতে পারে সেই ব্যবস্থা কৃষি মন্ত্রণালয় যদি করে তাহলে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরা খুশী হবো। মাহমুদুর রহমান মান্না আরো বলেন, আমাদের দেশের দুই নেত্রী তাদের নির্দেশের বাইরে একটি গাছের পাতাও নড়ে না। এমনকি তাদের নেতাকর্মীরা জোরে কাশি দেয় না, নেত্রী বিরক্ত বা ঘুম ভেঙে যেতে পারে। সেখানে হাওড় অঞ্চলে এতবড় ক্ষতি হলো কারো কি নজরে কাড়লো না।
তিনি অবিলম্বে হাওড় অঞ্চলকে দুর্গত অঞ্চল ঘোষণা করার জোর দাবি জানান। সংগঠনের সভাপতি মো. ওমর ফারুক সেলিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, কল্যাণ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, বাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুর রাজ্জাক, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সাংবিধানিক অধিকার ফোরামের সভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ, কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট সমাজসেবক অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বাদল, বন্ধু দলের সভাপতি শরীফ মোস্তফা জামান লিটু, গণ ঐক্যের সভাপতি আরমান হোসেন পলাশ, সচেতন নাগরিক সংহতির সভাপতি হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রমুখ। ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লাবিত হয়ে কৃষকদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। হাওড় অঞ্চলের দুর্গত মানুষরা জীবন যুদ্ধে হিমশিম খাচ্ছে। অথচ এখনো তাদের পাশে কেউ নেই।

হাওরে অকাল বন্যায় ছয় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

গত কয়েকদিনে অকলা বন্যায় সুনামগঞ্জ, সিলেট,মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ,নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়ি জেলায় গড়ে ৭৫ ভাগ হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জে। এজেলার নব্বই ভাগ ফসলই পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর গোলটেবিল লাউঞ্জে (নিচতলা) “আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরের ফসল ও জনজীবন: সরকার ও জনগণের করণীয়” শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা, সিলেট’র সভাপতি কাসমির রেজা হাওরের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতির উপরে একটি প্রবন্ধ উপস্থ্পান করেন। কাসমির রেজা বলেন, হাওরাঞ্চলে গত এক সপ্তাহের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে হাওর অঞ্চলের মানুষের ফসলের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রতিদিনই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। ফসল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা আজ দিশেহারা।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১৫টাকা মুল্যে চাল ও ১৮ টাকা মুল্যে আটা বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে এর পরিমানে কম হওয়ায় তা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারছে না বলে কাসমির রেজা জানান। তিনি হাওর এলাকা বিশেষ করে সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার বলেন। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে পানি বিশেষজ্ঞ ও পানি গবেষক অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত; বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র প্রধান নির্বাহী অ্যাড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান; পানি সম্পদ পরিকল্পনা সং¯’া (ওয়ারপো)-র সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক এবং এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এছাড়া হাওর এলাকার ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় অংশগ্রহণ নেন। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব এবং সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

২৪২ কেজি ওজন কমেছে ইমানের

মিশরের ইমান আহমেদ গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য। তখন তার ওজন ছিল ৫০০ কেজির কাছাকাছি। ২ মাসের মাথায় তার ওজন ২৪২ কেজি কমেছে বলে জানিয়েছেন ইমানের চিকিৎসক ডা: মুফজ্জল লাকড়াওয়ালা। ডা: লাকড়াওয়ালা জানিয়েছেন, এক মাসের কিছু বেশি সময় ধরে বিশেষ ডায়েট চালু করা হয়েছিল ইমানের জন্য। তারপর গত ৭ মার্চ ৩৬ বছরের ইমানেক অস্ত্রোপচার হয়। বর্তমানে তার ওজন ২৬২ কেজি। ওজন কমার ফলে ইমানের শরীরে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ভালোভাবে কাজ করতে শুরু করেছে। তবে অস্ত্রোপচারের পর এত তাড়াতাড়ি ইমান চিকিৎসায় সাড়া দেবেন তা কল্পনা করতে পারেননি চিকিৎসকরাও।
ল্যাপ্রোস্কোপিক স্লিভ গ্যাস্ট্রেকটোমি অস্ত্রোপচার ও বিশেষ ডায়েটের সাহায্যে ৫০ শতাংশ ওজন কমে গেছে ইমানের। চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপও ইমান সহজেই পেরিয়ে আসতে পারবেন বলে বিশ্বাস চিকিৎসকদের। ইমানের ক্ষেত্রে এত তাড়াতাড়ি ওজন যে কমতে তা ভাবতে পারেননি চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের দাবি, ইমানের কিডনি, লিভার, হার্ট উল্লেখজনকভাবে ভালোভাবে কাজ করতে শুরু করেছে। তবে এখনও ইমানের ডানদিক অসাড় হয়ে রয়েছে। চিকিৎসকদের ধারণা তিনবছর আগে ইমানের ব্রেন স্ট্রোকের ফলেই এই সমস্যা। আর সেই কারণেই ইমানের সিটি স্ক্যান করে দেখা হবে। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া

মওদুদের বিরুদ্ধে নাইকো মামলা চলবে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার  বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণাদেব নাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন। এরফলে তার বিরুদ্ধে নাইকো দুনীর্তি মামলা বিচারিক আদালতে চলতে বাধা কাটল। আদালতে মওদুদ আহমদের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। গত ১ ডিসেম্বর শুধু ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম আট সপ্তাহ স্থগিত করেন বিচারপতি শেখ আব্দুল আউয়াল ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে নাইকো মামলার বিচার কাজ চলছে। এ অবস্থায় ফৌজধারী কার্যবিধির দুইটি ধারায় আবেদন জানায় মওদুদ আহমেদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাইকোর যে আরপিটিশন মামলা চলছে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করেন বিএনপির এ স্থায়ী কমিটির সদস্য। একই সঙ্গে কিছু নথিপথ দাখিলেরও আবেদন করেন তিনি। জানা গেছে, মামলা স্থগিত চেয়ে মওদুদের করা আবেদন গত বছরের ১৬ আগস্ট বিশেষ আদালত খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করেন। এ মামলার প্রধান আসামি বিএনপি হলো বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলা চলবে বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ০৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম। ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

রামমন্দির নিয়ে গেরুয়া শিবিরে বিভক্তি

ভারতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) বলছে, রামমন্দির হবেই। দেশবাসীকে সারপ্রাইজ দেবেন মোদী। আর এনিয়ে আদালতের কোর্টে বল ঠেলেছে বিজেপি। নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে রামমন্দির ইস্যু। বিভিন্ন মিছিল থেকে দাবি উঠছে অযোধ্যার বাবরি মসজিদের জমিতে রামমন্দির তৈরির। শুরু হয়েছে উল্লাস, উদ্বেগ, আশঙ্কা, নিন্দা, সমালোচনা, বিতর্ক।
কিন্তু, রামমন্দির তৈরির বিষয়টি এখন শীর্ষ আদালতের বিচারাধীন। তাই এনিয়ে মেপেজুপে পা ফেলতে চায় বিজেপি। স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শাহনাওয়াজ হুসেন। বিজেপি মন্ত্রীর উল্টো সুর ভিএইচপির। হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষ্যে কলকাতায় সংগঠনের ধর্মসভায় যোগ দিতে এসেছিলেন আন্তর্জাতিক যুগ্ম সম্পাদক সুরিন্দর জৈন। তিনি বলছেন, রামমন্দির হবেই। সারপ্রাইজ দেবেন মোদী। কিন্তু ২০১৯-র আগে রামমন্দির হবে কি? উত্তর দেবে সময়। সময়ই বলবে কাকে ভরসা করবেন মোদী। নিজের দল নাকি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ? সূত্র: জি নিউজ

সিরাজগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিকে ‘ডাকাত’ বলে র‌্যাব দাবী করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ঝাঐল এলাকায় কথিত এই বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল হালিম সরকার (৫৫)। তাঁর বাড়ি কামারখন্দ উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে। র‍্যাবের ভাষ্য, বন্দুকযুদ্ধে তাদের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। র‍্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ স্পেশাল কোম্পানির কমান্ডার মেজর সাফায়েত আহমেদের ভাষ্য, ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে গেলে র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ডাকাতেরা। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গুলি বিনিময় হয়। পরে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে হালিমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে র‍্যাব। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। র‍্যাব বলছে, বন্দুকযুদ্ধের এই ঘটনায় তাদের সদস্য সিপাহি আনোয়ার ও এল এস শাহ আলম আহত হয়েছেন।

জোবায়দা রহমানকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন মামলার রুল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে মামলা পরিচালনার জন্য বিচারিক আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ  বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে জোবায়দা রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলছেন,জোবায়দা রহমান দেশের বাইরে আছেন তাই আদালত আট সপ্তাহের সময় দিয়েছে, যেন কোনো রকম বাঁধাবিঘ্ন ছাড়া বিচারিক আদালতে গিয়ে তিনি মামলা পরিচালনা করতে পারেন। তিনি বলেন, তিনি এখন বিদেশে আছেন এবং এ মামলায় তিনি জামিনে আছেন এবং হাইকোর্ট তার জামিন বহাল রেখেছেন। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে জোবায়দার সঙ্গে আলাপ করে আপিলের সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও তিনি জানান।   গত ১০ জানুয়ারি এ মামলার রুলের চুড়ান্ত শুনানি শেষে রায়ের জন্য (সিএভি) যেকোনো দিন ঘোষণার করা হবে মর্মে তারিখ ধার্য করা হয়।  এর আাগে গত বছরের ০২ নভেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চের একজন বিচারপতি এ মামলা শুনতে বিব্রতবোধ করে মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর আদেশ দেন। আইন অনুসারে পরবর্তীতে তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করে শুনানির জন্য পাঠান প্রধান বিচারপতি। আদালতে যোবায়দা রহমানের পক্ষে ছিলন এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন,
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ একেএম মনিরুজ্জামান কবির। ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত আয়ের বাইরে ৩৫ কোটি টাকার মালিক হওয়া ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়। পরে একই বছরে জোবায়দা রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু এ মামলায় আসামিপক্ষ দুদককে পক্ষভুক্ত করেননি। ২০১৫ সালের ০২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ দুদককে পক্ষভুক্ত করার আবেদন মঞ্জুর করেন।

নারী সহকর্মীর চুল কেটে দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

নারী সহকর্মীদের চুল কেটে দিলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। আর এ ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেশজুড়ে নিন্দার জড় উঠেছে। নাইজেরিয়ার এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা তার অধীনস্থ নারী সহকর্মীদের চুল কেটে দেন। সে ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বেশ বিপাকে পড়েন ওই কর্মকর্তা। কারণ এ ঘটনায় দেশটিতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। খবর বিবিসি বাংলা অনলাইন। নাইজেরিয়ার সড়ক নিরাপত্তা সংস্থার এক সিনিয়র কমান্ডার খুব ভোরে পুলিশ সদস্যদের প্যারেড পরিদর্শনে গিয়ে দেখলেন যে অনেক নারী সদস্যদের লম্বা চুল রয়েছে। দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজ হাতে কাঁচি চালানো শুরু করেন। নাইজেরিয়ার সড়ক নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য চুল রাখার কিছু নিয়ম-কানুন আছে।
মাথায় লম্বা চুল থাকলে অনেক জায়গায় সেটিকে 'শৃংখলা পরিপন্থী' হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে তারা লম্বা চুল রাখতে পারবে না সে কথা নিয়মের কোথাও উল্লেখ নেই। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিনিয়র কমান্ডার যে কাজ করেছেন, সেটি সম্পূর্ণ নিয়মের বাইরে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদু বুহারির একজন মুখপাত্র বিষয়টিকে নারীদের জন্য অবমাননাকর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নারী সদস্যদের চুল কাটার ছবি নাইজেরিয়ার সড়ক নিরাপত্তা সংস্থার ফেসবুকে পাতায় পোস্ট করা হয়েছিল। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় সে ছবিগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে সে ছবিগুলো অফিসিয়াল ফেসবুক পাতা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা সংস্থার কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব কর্মকর্তাকে ডাকা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আঙুল চিপলেই কমে মাথাব্যথা!

আপনার প্রচণ্ড মাথাব্যথা করছে, আর এসময় যন্ত্রণা কমাতে কেউ আপনার মাথা না টিপে বরং হাতের আঙুল টিপছেন। আপনার কেমন মনে হবে বলেন তো? নিশ্চয় রেগে আগুন হয়ে যাবেন! এবার দয়া করে শান্ত হোন, কারণ বিশেষজ্ঞরা মাথার যন্ত্রণা কমাতে প্রাচীন পদ্ধতি অ্যাকুপ্রেসারকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। যার সাহায্যে আঙুলে চাপ দিলেই মাথা ব্যথা কমে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কপাল এবং নাকের চারপাশের অংশকে সাইনাস এরিয়া বলা হয়। এই অংশে যদি যন্ত্রণা হয়, তাহলে আঙুলের ডগায়, মানে যেখানে নখ আছে, সেখানে ম্যাসাজ করতে থাকুন। দেখবেন আরাম পাবেন। আর যদি স্ট্রেসের কারণে মাথাব্যথা হয় সেক্ষেত্রে বুড়ো আঙুল বাদ দিয়ে প্রতিটি আঙুল ভালো করে ম্যাসাজ করতে থাকুন। এছাড়া তর্জনি এবং বুড়ো আঙুলের সংযোগ স্থালেও চাপ দিয়ে মাসাজ করতে থাকুন। এমনটা করলে মাথার যন্ত্রণা একেবারে কমে যাবে। এছাড়া দুই হাতের তালু এবং আঙুলগুলি ভালো করে মাসাজ করলেও কষ্ট কমে যাবে। আর মনে রাখবেন আঙুলের উপর যখন চাপ প্রয়োগ করবেন, তখন জায়গাটা কমে করে ২ মিনিট চেপে রাখতে হবে। এভাবে ২-৩ বার করলেই মাথার যন্ত্রণা কমে যাবে।

মুফতি হান্নানের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের সঙ্গে তার স্বজনেরা দেখা করেছেন। বুধবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে চার স্বজন মুফতি হান্নানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মুফতি হান্নানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার স্বজনদের কাছে মঙ্গলবার বার্তা পাঠিয়েছিলেন কারা কর্তৃপক্ষ। বার্তা পেয়ে বুধবার সকালে মুফতি হান্নানের চার স্বজন সকাল কারাগারে আসেন। স্বজনদের মধ্যে ছিলেন মুফতি হান্নানের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বড় ভাই।
কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান,  মুফতি হান্নানের চার স্বজন সকাল ৭ টার দিকে কারাগারে আসেন। তারা সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত মুফতি হান্নানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মিজানুর রহমান বলেন, মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গতকালই ফাঁসির মঞ্চ পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। জল্লাদদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান মুফতি হান্নান

মায়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে চান কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসির সেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা মুফতি হান্নান। বুধবার সকালে মুফতি হান্নানের সঙ্গে পরিবারের চার সদস্যের সাক্ষাত শেষে তার বড়ভাই আলি উজ্জামান কারা ফটকের সামনে সাংবাদিকদের একথা জানান। আলি উজ্জামান বলেন, মুফতি হান্নান সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। মাকে সালাম জানিয়েছেন, তার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, যে কদিন হায়াত আছে ওই কদিনই বেঁচে থাকব। দোয়া করবেন আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে নাজাত দান করেন, হেফাজত করেন এবং ঈমানের সঙ্গে যেন মৃত্যুবরণ করতে পারি। আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িত করে এ অবস্থায় দাঁড় করানো হয়েছে। আলিউজ্জামান বলেন, মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর করা হলে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করতে চান। কারা কর্তৃপক্ষকে তিনি এ দাবি জানিয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে তাদের জানিয়েছেন। মুফতি হান্নান তার সন্তানদের প্রতি লক্ষ্য রাখতে ভাইকে অনুরোধ করেছেন এবং সবার সঙ্গে তাদের মিলেমিশে থাকতে বলেছেন।
তার মায়ের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করলে কারা কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল নম্বর রেখে দিয়ে বলেছেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভব হলে মায়ের সঙ্গে হান্নানকে কথা বলিয়ে দেবেন। মুফতি হান্নান তার স্ত্রীকে বলেন- যে মামলায় তাকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে এটা মিথ্যা মামলা। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এসময় তিনি তার পরিবারের সবাইকে ধৈর্য্য ধরতে বলেন। স্বামীর সঙ্গে সাক্ষৎ শেষে কারা ফটকে তার স্ত্রী জাকিয়া পারভীন সাংবাদিদের এসব কথা বলেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মুফতি হান্নানের স্ত্রী জাকিয়া পারভীন রুমা, দুই মেয়ে নাজনীন খানম ও নিশি খানম এবং তার বড় ভাই আলী উজ্জামান কারাগারে এসে পৌছায়। পরে সকাল ৭ টার দিকে কারা কতৃপক্ষ তাদের সাক্ষাতের সুযোগ করে দেয়। ৮টার দিকে তারা কারাগার থেকে বের হয়ে গ্রামের বাড়ি কোটালীপাড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পরিবারের চার সদস্য তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া থানার হিরন এলাকা থেকে কারাগারের উদ্দেশে রওনা দেন।

সাভারে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

সাভারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় সিটি ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহবায়ক শাওন খাঁনকে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে আশুলিয়ার কাঠগড়া দুর্গাপুর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শাওনকে আটক করা হয়। তার স্থায়ী ঠিকানা গোপালগঞ্জের সদর থানায় বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত সোমবার প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাভারের খাগান এলাকায় সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীর গুলিতে সিফাত নিহত হয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদের সঙ্গে আরেক শিক্ষার্থী বাপ্পির প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে ঝগড়া হয়।
এর জের ধরে ছাত্র বাপ্পির ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে আশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহবায়ক শাওন খাঁন শাহেদের সহপাঠিদের ওপর হামলা চালায় ও এলোপাথারি গুলি বর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সিফাত হোসেন নিহত হন। এ সময় একই বিভাগের বিভাগের আরেক  শিক্ষার্থী বাসুদেব গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। জানা যায়, বাপ্পি পঞ্চাশ হাজার টাকায় আশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক শাওন খাঁনকে ভাড়া করে এই হত্যাকাণ্ড চালায়। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় বাপ্পি ও শাওনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে সন্ত্রাসী শাওন খাঁনকে আটক করায় কাঠগড়া এলাকায় সাধারণ মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছেন। এ ঘটনায় এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয় জনকে আটক করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম বলেন, আটক সন্ত্রাসীকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ১

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আব্দুল হালিম সরকার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি পাঁচবাড়িয়া গ্রামের মৃত কামাল সরকারের ছেলে। র‌্যাবের দাবি, নিহত হালিম ডাকাত দলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার দিনগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার চক শাহবাজপুর উত্তরপাড়া ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় এ 'বন্দুকযুদ্ধ' হয়। র‌্যাব-১২ স্পেশাল কোম্পানি সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সাফায়াত আহম্মদ সুমন জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেয়ে ডাকাত দল র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই আবদুল হালিম নিহত হয়। এসময়  অন্যরা পালিয়ে যায়। র‌্যাবের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, দু’টি রামদা ও ছোরা উদ্ধার করা হয়। কামারখন্দ থানার ওসি বাসুদেব সিনহা জানান, ভোরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শামীমুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা মৃত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার মাথা ও বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

জঙ্গি রিপনের ফাঁসি মধ্যরাতে

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি দেলওয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি হবে আজ বুধবার মধ্যরাতে। ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের। জোরদার করা হয়েছে কারাগারের নিরাপত্তা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জল্লাদ ও ফাঁসির মঞ্চ। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগির মিয়া যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফাঁসি কার্যকরে চারজন জল্লাদসহ ১০ জনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জঙ্গি রিপনের পরিবারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। রিপনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার চিঠি মঙ্গলবার হাতে পাওয়ার পর ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি শুরু হয়। এখন শুধু অপেক্ষা কতৃপক্ষের নির্দেশনার। বুধবার কতৃপক্ষের নির্দেশ আসার পর এখন ফাঁসির চূড়ান্ত প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। ফাঁসির রায় কার্যকরের আগে নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা আরেকবার দেখা করার সুযোগ পাবেন। কারাসূত্র জানায়,সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে জঙ্গি রিপনকে। ফাঁসি কার্যকরের পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে,গত মঙ্গলবার রিপনের সঙ্গে তার পরিবারের লোকজন দেখা করেছেন। সাক্ষাতের সময় রিপনের মা সমিরুন্নেছা মিলি,বাবা আবু ইউসুফ,ভাই শামসুল মোহাম্মদ শিপন ও ভাবি সামিয়া উর্মি উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা প্রায় আধা ঘণ্টা রিপনের সঙ্গে কথা বলেন। যাওয়ার সময় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবদার রেখে যান ফাঁসির আগে যেন তাদের ফের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়। উল্লেখ্য, সিলেটে শাহজালাল(রহ.) এর মাজারের প্রধান ফটকে ২০০৪ সালের ২১ মে তৎকালিন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় তিনজন নিহত ও আহত হন ৭০ জন। এ ঘটনার মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর মুফতি হান্নান,শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুল,দেলওয়ার ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন সিলেটের দ্রুত বিচার আদালত। রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল করলেও পূর্বের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে আসামিদের আপিল গত ৭ ডিসেম্বর খারিজ হওয়ার পর ১৭ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিরা রিভিউ আবেদন করলে ১৯ মার্চ তা খারিজ হয়। গত ২১ মার্চ রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরদিন মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল এবং দেলওয়ার ওরফে রিপনের রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছায়। গত ২৭ মার্চ জঙ্গি রিপন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। এ আবেদনও নাকচ হয়। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম কাশিমপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

জোবায়দাকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ হাইকোর্টের

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   একইসঙ্গে ইতিপূর্বে বিচার বাতিল প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ এ রায় দেন। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, এ রায়ের ফলে নিম্ন আদালতে জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনে দুদকের করা মামলা চলতে আর বাধা রইলো না।
আদালতে জোবায়দা রহমানের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের যাবতীয় তথ্য গোপন করার জন্য তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানসহ তারেকের শাশুড়ি ইকবাল এম আর বানুর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করে দুদক। পরে মামলাটি বাতিল চেয়ে ডা. জোবায়দা রহমান হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটের শুনানি শেষে গত ১০ জানুয়ারি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন এ দুই বিচারপতি। আজ ওই রিটটি বাতিল করে রায় দেয়া হলো।

চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন-নাছির মুখোমুখি

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছিরের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দু’জন দু’জনকে প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলছেন। একজন আরেকজনকে ব্যর্থ প্রমাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে মঙ্গলবার দু’জন পৃথক প্রেস ব্রিফিং করেন। প্রেস ব্রিফিংয়েও ছিল পরস্পরের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা, আক্রমণাত্মক বক্তব্য। দুপুরে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে নিজ কার্যালয়ে প্রেস বিফিংয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী আবারও আ জ ম নাছিরকে খুনি আখ্যায়িত করে তাকে সংশোধন হয়ে যেতে বলেন। তিনি বলেন, সবাই মিলে তাকে মেয়র বানিয়েছি। নির্বাচন কীভাবে হয়েছে তাও সবাই জানে। কিন্তু মেয়র হওয়ার পর তিনি দাম্ভিক হয়ে গেছেন। বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করছেন। এই অপকর্মের জন্য তিনি এখন আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে পারেন না। তিনি অশুভ শক্তির মোকাবেলায় প্রয়োজনে লাঠি ব্যবহার করবেন বলে জানান। এর আগে সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রেস ব্রিফিংয়ে আ জ ম নাছির বলেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও ক্ষমতা হারানোর অন্তর্জ্বালা থেকে মহিউদ্দিন চৌধুরী আবোল-তাবোল বকছেন। পাগলের প্রলাপ বকছেন। বিএনপি-জামায়াত ও নাশকতা মামলার আসামিদের নিয়ে সমাবেশ করে, একজন নির্বাচিত ও সরকারদলীয় নেতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী কার্যত সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন।
মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রেস ব্রিফিংয়ে যা বলেন : নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আ জ ম নাছির খুনি, ছাত্রলীগের ১২টা ছেলের খুনের নেপথ্যে তিনি ছিলেন। ক্ষমতার দাপটের কারণে অনেকে মামলা করেননি। অনেক মামলা হাতে-পায়ে ধরে প্রত্যাহার করাতে সক্ষম হয়েছেন। আমার প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির একটা ছাত্রকেও হত্যা করা হয়েছে। তিনি যে এসবের নেপথ্যে তার প্রমাণ আমার কাছে আছে। প্রয়োজন হলে দেব। যেখানে দিতে হয় সেখানে দেব। তাকে কেন দেব। শেখ হাসিনার একটি মিটিংয়েও তিনি গুলি করেছিলেন। ওই ঘটনায় মামলা হয়েছিল। মহিউদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, নগরবাসীর ওপর নাছির ট্যাক্সের বোঝা কেন চাপাচ্ছেন। বন্দরের কাছে ৩০০ কোটি টাকার ট্যাক্স পাওনা রয়েছে। এসব ট্যাক্স তিনি আদায় কারতে পারেন না। কারণ তিনি বন্দরে ব্যবসা করেন। রেলের কাছে বিপুল অংকের ট্যাক্স পাওনা আছে সিটি কর্পোরেশনের। তিনি এসব ট্যাক্স আদায় করেন না। মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ট্যাক্স দিতে না পারলে শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। আমি তো ট্যাক্স না বাড়িয়ে ১৭ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি। মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখন তো কর্পোরেশনকে পাগলের ঘর বানানো হয়েছে। কর্পোরেশনে মহিলা কাউন্সিলরদের জন্য একটি কমনরুম করেছিলাম। সেই রুমটি তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি চান সবাই তার চেম্বারে যাক। মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আউটার স্টেডিয়ামে বিজয় মেলার মাঠ দখল করে সুইমিংপুল কেন বানাবেন তিনি। ওয়াকফ এস্টেটের জায়গা দখল করে কেন দোকান বানাবেন। যেখানে আদালতের রায় অমান্য করা হচ্ছে। নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তার অপকর্মের বোঝা এতই ভারী হয়েছে যে তিনি এখন আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে পারেন না। সবাই তার বিরুদ্ধে। নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সব অপকর্মের বিরুদ্ধে, অশুভ কাজের বিরুদ্ধে আমার প্রতিবাদ আগেও ছিল, এখনও আছে। হেফাজতের তাণ্ডব ও জঙ্গি তৎপরতা রুখতে ৫ হাজার লাঠি বানিয়েছিলাম। সেই লাঠি ব্যবহার তখন করেছি। সামনেও প্রয়োজন হলে নগরবাসী লাঠি নিয়ে প্রতিবাদ করবে।
তিনি এমন একটি লাঠি প্রেস ব্রিফিংয়ে সবাইকে দেখান। আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রেস ব্রিফিংয়ে যা বলেন : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির বলেন, আমি নাকি হাসতে হাসতে গুলি করতে পারি। আমি নাকি ১২টা খুন করেছি। এটা তিনি কোথায় দেখেছেন। তার কাছে কী এমন তথ্য-প্রমাণ আছে। থাকলে তা দিতে হবে। উনার কথার কোনো সত্যতা নেই। এ কথাগুলো কেন বলছেন, কীজন্য বলছেন তা আমার কাছে অবাক লাগে। কেউ কেউ বলছেন, আসলে উনি বয়সের ভারে নু্যুব্জ হয়ে পড়েছেন বা উন্মাদ হয়ে গেছেন। ক্ষমতা হারানোর অন্তর্জ¡ালাও রয়েছে। এ কারণে আবোল-তাবোল বকছেন। তার এসব বক্তব্যকে অনেকেই পাগলের প্রলাপ বলে মনে করছেন। তিনি কথা ও কাজে এক জায়গায় স্থির থাকতে পারেন না। ঢালাও ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। আমি নাকি বন্দর চেয়ারম্যানের রুমে বসে থাকি। আমার এখানে সিসিটিভি আছে। বন্দরেও সিসিটিভি আছে। ফুটেজ নিলে আমি কোথায় কতক্ষণ থাকি তার উত্তরটা পাওয়া যাবে। আ জ ম নাছির আরও বলেন, ১ বছর ৮ মাস ১৬ দিন হল দায়িত্ব নিয়েছি। পাঁচ বছর পর ভোটাররা মূল্যায়ন করবে আমার কাজ। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কেন হঠাৎ করে মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রকাশ্যে এমন কথা বলা শুরু করলেন। এর নেপথ্য রহস্য কী। টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনেছি এমন অভিযোগও আনছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ মুখে মেয়র পদে আমার মনোনয়ন ঘোষণা করেছেন। এ মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। টাকা কে খেয়েছে? তাহলে টাকাটা কে নিয়েছেন, কে দিয়েছেন, কীভাবে দিয়েছেন তা উনি পরিষ্কার করুক। ব্রিফিংয়ে নাছির আরও বলেন, উনি ১৭ বছর মেয়র ছিলেন।
উনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। আমি সাধারণ সম্পাদক। আমাদের ফোরাম আছে, সেখানে বক্তব্য দিতে পারতেন। যদি ফোরামে আলোচনার সুযোগ না পান, তবে কেন্দ্রকে জানাতে পারতেন। এসব না করে তিনি প্রকাশ্য সমাবেশ করেছেন আমার বিরুদ্ধে। যাদের নিয়ে সমাবেশ করেছেন তাদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত ও সরকারবিরোধী লোকজন ছিল। আউটার স্টেডিয়ামের সুইমিংপুল নির্মাণকাজ বন্ধে মহিউদ্দিন চৌধুরীর ১৫ দিনের আলটিমেটাম প্রসঙ্গে নাছির বলেন, এগুলো উনার স্টান্টবাজি। ইরাকে ১০ হাজার যোদ্ধা পাঠাবেন বলেছিলেন। পাঠাননি। কাস্টমসের দুর্নীতিবাজদের তালিকা করবেন বলেছিলেন। করেননি। এমএ লতিফের মাথায় লাঠি মারবেন বলেছেন। মারেননি। উনার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। চউক চেয়ারম্যান ছালাম সাহেবের ফাঁসি দাবি করেছিলেন, আবার উনার পারিবারিক মেজবানে সবার আগে গিয়ে বসে থাকেন। তাই আমি উনার কথায় তটস্থ নই। মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আ জ ম নাছির যুগান্তরকে বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যাচার করছেন গোয়েবলস বেঁচে থাকলে তা দেখে তিনিও লজ্জা পেতেন। একটি মিথ্যা বারবার বললে তা সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি। চট্টগ্রামবাসী সেই মিথ্যাচারে বিশ্বাস করেনি। মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র বানিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাকে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে থাকার মতো মাথা গোঁজার ঠাঁই উনার ছিল না। এগুলো বলতে চাই না আমি। সত্যের জয় একদিন হবেই।

তারেক রহমানের শাশুড়ির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

সম্পদের হিসাব গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৪ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার জন্য ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি ইকবাল মান্দ বানুকে নোটিশ দিয়েছিল দুদক।
এরপর হাইকোর্টে রিট আবেদন করে স্থগিতাদেশ পান ইকবাল মান্দ বানু। এই আদেশের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করলে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক আর কে মজুমদার ঢাকার রমনা থানায় ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার নোটিশ জারির পর নির্দিষ্ট সময়ে কমিশনে হিসাব জমা না দেওয়ায় এ মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ১৪ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দেয় দুদক। অনুমোদনের পর ১৯ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।

শ্বশুরবাড়িতে চুরি করে গ্রেফতার জামাই

শ্বশুরবাড়িতে কৌসুলীভাবেই চুরি করেছিলেন জামাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সে কৌসল কাজে আসেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে যেতে হয় চৌদ্দ শিকের ‘শ্বশুরবাড়িতে’। ভারতের পূর্ব দিল্লির গীতা কলোনি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে গয়না চুরি করে গ্রেফতার হওয়া ২৭ বছর বয়সী ওই = জামাইয়ের নাম লাভ। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৭ এপ্রিল হরিকিষাণ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, তার বাড়ি থেকে গয়না চুরি গিয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, বাড়িতে যে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো ছিল, তা নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে। ক্যামেরার ডিভিআর খুলে নেওয়া হয়েছে। এর থেকেই পুলিশের সন্দেহ হয়, পরিবারের পরিচিত কেউই চুরির ঘটনায় জড়িত। এরপর পুলিশ আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। পুলিশের সন্দেহ হয় অভিযোগকারীর জামাইয়ের ওপর। এক নিরাপত্তারক্ষী পুলিশকে জানান যে, ঘটনার দিন তিনি লাভকে তার শ্বশুরবাড়িতে যেতে দেখেছেন। এরপর পুলিশ লাভকে জেরা করতেই প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। জেরায় পুলিশকে লাভ জানিয়েছেন, দ্রুত কিছু টাকা পেতেই তিনি ওই কাজ করেছেন। গত ৬ এপ্রিল শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে রাতে খাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ করেন। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আইসক্রিম কিনতে যাওয়ার নাম করে শ্বশুরবাড়িতে যান এবং চুরি করেন। পুলিশ লাভের কাছ থেকে ৮০০ গ্রাম সোনার গয়না উদ্ধার করেছে। চার বছর আগে অভিযোগকারীর মেয়ের সঙ্গে লাভের বিয়ে হয়েছিল।

কাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট  মামলায় হাজিরা দিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার  আদালতে যাবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ বুধবার সকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়া আইন ও আদালতের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল।
সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি আদালতে যাবেন। ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটির বিচারকাজ চলছে। আর ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি বিচারাধীন। মামলা দুইটির মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে আত্মপক্ষ শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ শুনানিতে অসমাপ্ত বক্তব্যের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। গত ৬ এপ্রিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের বিশয়ে শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৩ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত। এছাড়া গত ৩০ মার্চও খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার আইনজীবীদের আবেদনে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি পিছিয়ে ৬ এপ্রিল দিন পুনর্নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।

কালুখালীতে অগ্নিকান্ডে ৭টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের মাজবাড়ী কয়ারদিপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে অগ্নিকান্ডে ৭টি পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। এতে ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভস্মিভুত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ আঃ রাজ্জাক জানান, উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের মাজবাড়ী কয়ারদিপাড়া গ্রামে রান্না ঘর থেকে আগুন লেগে কাদের মন্ডলের ছেলে আঃ রাজ্জাকের ২টি ঘর, ১টি পাওয়ার টিলার, ১টি মোটর, খায়রুল মন্ডলের ২টি ঘর,
ওবায়দুর মন্ডলের ২টি ঘর, চৌধর মন্ডলের ২টি ঘর, আকবর মন্ডলের ছেলে বাদশা মন্ডলের ২টি ঘর, পিঁয়াজ, রসুন, নাজির মন্ডলের ২টি ঘর, ১টি গরু, ২টি ছাগল, উজির মন্ডলের ২টি ঘর ও মালামাল ভস্মিভুত হয়েছে। রাজবাড়ী ও পাংশা ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ও স্থানীয় বাসিন্ধারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকান্ডে ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভস্মিভুত হয়েছে।

৬৬ বছর পর নাম বদলের উদ্যোগ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নারুয়ায় অবস্থিত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নামীয় লিয়াকত আলী স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের নাম ৬৬ বছর পর পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু কলেজ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ম্যানেজিং কমিটির সভায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে। নারুয়া লিয়াকত আলী স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল হক জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ কলেজের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাবনা আসছে। এজন্য নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নাম পরিবর্তনের কোন অনুমতি আসেনি। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য আবজাল হোসেন জানান, ম্যানেজিং কমিটির সভায় লিয়াকত আলী স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু কলেজ নামকরণ করার প্রস্তাবনা এসেছে। ম্যানেজিং কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে নাম প্রস্তাব পাঠানোর জন্য। লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম রকিব হায়দার জানান, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫০ সাল। সবেমাত্র ভারত উপমহাদেশ ভেঙ্গে ‘‘পাকিস্থান’’ ও ‘‘হিন্দুস্থান’’ এর গোড়াপত্তনের মাত্র তিন বৎসরকাল অতিক্রান্তের পথে। আকস্মিকভাবেই তৎকালীন পাকিস্থানের প্রধান মন্ত্রী ‘‘কায়দে-মিল্লাত লিয়াকত আলী খান’’ আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। সে কারণে পাকিস্থান ব্যাপী শোক পালন চলছিল। এরই প্রেক্ষিতে নারুয়া ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র নারুয়া বাজারের বটতলায় বসে শোক সভা। সভার সমাপনীতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, এখানে ‘লিয়াকত আলী মেমোরিয়াল হাই স্কুল’ নামে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক। দলমত নির্বিশেষে উপস্থিত জনতা এ প্রস্তাবে অত্যন্ত আনন্দিত হয়। নারুয়া বাজার তৎকালীন বালিয়াকান্দি থানার অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র হিসাবে ছিল পরিচিত। দক্ষিন-পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত গড়াই নদী। আর মূল বাজার সংলগ্ন একটি মরা নদী, নাম ‘চিত্রা’। প্রায় আয়তাকার নারুয়া ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্রে ‘নারুয়া বাজার’ সেদিন ছিল খুবই জমজমাট। গড়াই নদীর অপর পাড়ে দক্ষিণ দিকে তখন যশোহর জেলা বর্তমান শ্রীপুর উপজেলা। তারপরই ১৯৫১ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে কলেজে রুপান্তরিত হয়।

আবার বিয়ে করছেন জিয়াউদ্দিন বাবলু

দীর্ঘ একযুগের নিঃসঙ্গতা কাটাতে অবশেষে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি। তার এ হবু বধূ দূরের কেউ নন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাগ্নি মেহেজেবুননেছা রহমান টুম্পা। তিনি জাতীয় পার্টির সংরতি নারী আসনের সংসদ সদস্য ও এরশাদের বোন মেরিনা রহমানের মেয়ে। আগামী ২১ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা,
ডাকসুর সাবেক জিএস বর্তমানে ৬২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। ওই দিন আকদ হবে বারিধারায় এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনে। সন্ধ্যায় গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে হবে প্রীতিভোজ। এই বয়সের বিয়ের খবর গণমাধ্যমে আসায় তিনি বিব্রত হচ্ছেন বলেও তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রি মাস্টার্সের সমান মর্যাদায়

বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার সাথে জড়িত নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছিলেন যাতে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সম পর্যায়ের স্বীকৃতি দেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। যদিও কোন শর্তে সেটি হয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। কারণ, কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম এবং পরীক্ষা তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে সরকারের কোন ভূমিকা নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক মজিবুর মনে করেন, স্বীকৃতির বিষয়টি ইতিবাচক হতে পারে যদি কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম কিছুটা পরিবর্তন করা হয়। কওমি মাদ্রাসা বোর্ডগুলো বিভক্ত। তাদের সিলেবাস আলাদা-আলাদা করে। মি. রহমান বলেন, ‘তারা যদি ইসলামিক বিষয়গুলো পড়ায়, শুধুমাত্র কোরআন, হাদিস, ফার্সি, উর্দু পড়ায় - তাহলে আমি মনে করি তাদের ডিগ্রি দেয়া ঠিক হবেনা। অন্যান্য মাস্টার্স ডিগ্রি পেতে যে ধরনের বিষয়গুলো ফুলফিল (পূরণ) করতে হয়, তাদের ক্ষেত্রেও সেটা করা উচিত।’ তিনি মনে করেন, কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে সামাজিক বিজ্ঞান, অর্থনীতি, বাংলা এবং ইংরেজির মতো বিষয়গুলো যতটা সম্ভব অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ১৪০০০ এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি দেবার জন্য সরকারের সাথে বেশ কয়েকটি বৈঠকও হয়েছে। বিভিন্ন সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। কওমি মাদ্রাসা যারা পরিচালনা করেন তাদের অনেকই বিভিন্ন ইসলামপন্থী দল বা সংগঠনের সাথে জড়িত। যাদের মধ্যে হেফাজতে ইসলামী অন্যতম। কওমি মাদ্রাসাগুলোর সংগঠনের অন্যতম নেতা এবং হেফাজতে ইসলামীর অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ জানিয়েছেন, কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে স্বীকৃতি দেবার দাবি জানানো হয়েছে।
সরকার এ বিষয়ে অনেকটা একমত হয়েছে বলে তিনি ইংগিত দেন। মি. ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসা থেকে যারা লেখাপড়া করে তারা আমাদের দেশে শিক্ষিতের হারের মধ্যে গণ্য হয় না। মানের স্বীকৃতি দেয়া হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। কওমি মাদ্রাসা যেভাবে আছে সেভাবেই চলবে। তাদের স্বাতন্ত্র্য এবং স্বকীয়তা বজায় থাকবে।’ কওমি মাদ্রাসার নেতারা মনে করেন, তাদের পরিচালিত মাদ্রাসাগুলো শুধুই ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত। এখানে অন্য কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করাকে তারা ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ মনে করেন। ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করার জন্যই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কওমি মাদ্রাসায় পাঠায় বলে নেতারা মনে করেন। তবে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন না আনলে শুধু স্বীকৃতি তেমন একটা কাজে লাগবে না বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক মজিবুর রহমান। মি. রহমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বা ফার্সি বিভাগে বাংলা, ইংরেজি এবং অন্যান্য বিষয়গুলো সাপ্লিমেন্টারী কোর্স হিসেবে থাকে। আমি বলছি না তাদের (কওমি মাদ্রাসা) মেইন ফিলসফি থেকে সরে যেতে। থাকুক সেই ফিলসফি। কিন্তু বেসিক লেভেলে নলেজগুলো থাকা দরকার।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে বিভিন্ন পক্ষের আলোচনা হয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওপর। সূত্র: বিবিসি

মাগুরায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১

মাগুরায় রাস্তা পারাপারের সময় যাত্রীবাহি বাসের চাপায় সিরাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যাক্তি নিহত হয়েছে। সে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত মনা উল্লাহ’র ছেলে। রামনগর হাইওয়ে পুলিশের এসআই বিটুল হাসান জানান, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের হাজরাপুর ভাঙ্গা ব্রীজ এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী দ্রুত গতির রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাস রাস্তা পারাপারের সময় সিরাজুল ইসলামকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় গাড়িটি রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে মেরে দিয়ে চালক পালিয়ে গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহটি মাগুরা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাই ও মামার মৃত্যু

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাই ও মামার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেশটির মিজুওয়া-মাসকট মহাসড়কের সালালাহ নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায়। তারা সম্পর্কে আপন ভা্ই ও মামা। নিহতরা হলেন, উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা সাহাবউদ্দিন খলিফার দুই ছেলে মাসুদ আলম (৩২) ও জুয়েল রানা (২৭) এবং তাদের মামা চরমার্টিন এলাকার হায়দার আলী ছেলে মো. জসিম (৩৬)। তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়সল আহাম্মদ রতন জানান, মঙ্গলবার রাতে চার বাংলাদেশীকে বহনকারী একটি প্রাইভেটকার ওমানের মাসকট শহরের দিকে যাচ্ছিলো। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী একটি লরির সঙ্গে প্রাইভেটকারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকার যাত্রী দু’ভাই মাসুদ ও জুয়েল এবং তাদের মামা জসিম ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আহত হন প্রাইভেটকারের অপর এক যাত্রী। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে আহত ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় পাওয়া না গেলেও তার বাড়ি কমলনগর উপজেলায় বলে জানা গেছে। এদিকে, নিহত মাসুদ ও জুয়েলের চাচা সাকায়েত উল্যাহ জানান, মামা জসিমসহ ওই দুই ভাই ওমানে ইলেট্রিক কাজ করতেন। কাজ শেষে নিজেদের প্রাইভেটকারে করে বাসায় ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনায় শিকার হন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ খবর পৌঁছলে বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে। পুত্র হারানোর শোকে মূহ্যমান সাহাব উদ্দিন খলিফা। এক সঙ্গে দুই ছেলে ও ভাই হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী সায়েদা খাতুন। তাদের শোকে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মার্কিন সেনাবাহিনীর অস্ত্র কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ

ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেপে উঠল সেনাবাহিনীর অস্ত্র কারখানা। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার ইন্ডিপেন্ডেন্স প্রদেশের লেক সিটিতে। মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, মিসৌরি শহরের অস্ত্র কারখানার বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে জখম হয়েছেন আরো তিনজন। ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল সেই বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।
ধীরে ধীরে সব কিছুই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র। মিসৌরির এই অস্ত্র কারখানায় ছোট অস্ত্র তৈরি হয়। উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থাগুলি এই কারখানা পরিচালনার দায়িত্বে আছে। তিন হাজার ৯৩৫ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত আমেরিকার ইন্ডিপেন্ডেন্স প্রদেশের এই সেনাবাহিনীর অস্ত্র কারখানা।

হিটলার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেননি!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেননি - এমন মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র শন স্পাইসার। তবে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বলেছেন যে গণহত্যা নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করাটা ছিল অসংবেদনশীল এবং অনুপযুক্ত। সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সকলের কাছে এ বিষয়ে ক্ষমা চান। এর আগে হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলন চলাকালে শন স্পাইসার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সঙ্গে হিটলারের তুলনা করেন এবং সিরিয়া সরকারের ওপর রাশিয়ার সমর্থন নিয়েও সমালোচনা করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি রাসায়নিক হামলার বিষয়টি এনে বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবেননি।’ কিন্তু এ বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। সংবাদ সম্মেলনে মি. স্পাইসারের এ বক্তব্য সাংবাদিকরা হতবাক হয়ে পড়েন এবং তার কাছে ব্যাখ্যাও দাবি করেন। অনলাইনেও এ বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেনেটর বেন কার্ডিন টুইটারে লেখেন, ‘হিটলারের আমলের সম্পর্কে জানার জন্য প্রেস সেক্রেটারিকে নতুন করে ইতিহাস পড়াতে হবে।’ মি. স্পাইসারকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে আনা ফ্রাঙ্ক সেন্টার। সূত্র: বিবিসি

নারী সহকর্মীদের চুল কেটে দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

মাথায় লম্বা চুল থাকলে অনেক জায়গায় সেটিকে ‘শৃঙ্খলা পরিপন্থী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। পথে-ঘাটে অনেকের চুল কেটে 'শায়েস্তা' করার ঘটনা বিভিন্ন সময় খবর হয়। এবার নাইজেরিয়ার এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা তার অধীনস্থ নারী সহকর্মীদের চুল কেটে দিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন। নাইজেরিয়ার সড়ক নিরাপত্তা সংস্থার একজন সিনিয়র কমান্ডার নিজ হাতে কাঁচি নিয়ে তার অধীনস্থ নারী অফিসারদের লম্বা চুল কেটে ছোট করে দিয়েছেন। খুব ভোরে পুলিশ সদস্যদের এক প্যারেড পরিদর্শনে গিয়ে সিনিয়র কমান্ডার দেখলেন যে অনেক নারী সদস্যদের লম্বা চুল রয়েছে। 
দেরি না করে সাথে সাথে তিনি নিজ হাতে কাঁচি চালানো শুরু করেন। নাইজেরিয়ার সড়ক নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য চুল রাখার কিছু নিয়ম-কানুন আছে। তবে তারা লম্বা চুল রাখতে পারবে না সে কথা নিয়মের কোথাও উল্লেখ নেই। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিনিয়র কমান্ডার যে কাজ করেছেন, সেটি সম্পূর্ণ নিয়মের বাইরে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদু বুহারির একজন মুখপাত্র বিষয়টিকে নারীদের জন্য অবমাননাকর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নারী সদস্যদের চুল কাটার ছবি নাইজেরিয়ার সড়ক নিরাপত্তা সংস্থার ফেসবুকে পাতায় পোস্ট করা হয়েছিল। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় সে ছবিগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে সে ছবিগুলো অফিসিয়াল ফেসবুক পাতা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা সংস্থার কর্তৃপক্ষ বলছে এ ঘটনার সাথে জড়িত সব কর্মকর্তাকে ডাকা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে বৈসাবী উৎসবের সূচনা

রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব। বুধবার ভোরে চাকমা রাজবাড়ী ঘাটে চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে এই উৎসবের সূচনা করেন। এ সময় পাহাড়ী সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে ফুল ভাসান। অনুষ্ঠানে বিজু উদ্্যাপন কমিটির সুকৃতি রঞ্জন চাকমা, বিজয় কেতন চাকমা, ইন্দ্র দত্ত তালুকদার সহ চাকমা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকজন শহরের গর্জনতলী এলাকায় গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে বৈসুক উৎসবের সূচনা করেন। রীতি অনুযায়ী আজ ১২ এপ্রিল পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে তিন দিনের সার্বজনিন উৎসব শুরু হয়। আগামীকাল ১৩ এপ্রিল পালন হবে মূল বিজু। আগামী ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ গোজ্যাপোজ্যে দিন ও বর্ষবরণ উৎসব।

নড়াইলে উচ্ছের ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

সূর্যি মামা উঁকি দেবার আগেই নড়াইলের নলদী ইউনিয়নের উচ্ছে পল্লীতে তৈরি হয় এক অন্য পরিবেশ। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে উচ্ছে সংগ্রহের কাজ করেন। বিস্তীর্ণ ক্ষেতের মাঝে উচ্ছে সংগ্রহের এ দৃশ্য অন্যরকম। নলদীর ২৩টি গ্রাম এখন উচ্ছেপল্লী হিসেবে খ্যাত। প্রায় ২০ হাজার কৃষক পরিবারেও এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। এদিকে, এ এলাকার উচ্ছে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। চাষিরা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে এ অঞ্চলে উচ্ছের আবাদ শুরু হয়। পরীক্ষামূলক ভাবে নলদী ইউনিয়নের কানাবিলে বিলে প্রথমে উচ্ছে করা আবাদ হয়। ফলন ভালো পেয়ে উচ্ছে আবাদের প্রতি এ অঞ্চলের কৃষকের আগ্রহ বাড়তে থাকে। বর্তমানে নলদী এলাকার ২৩টি গ্রাম মাঠজুড়ে শুধু উচ্ছে আর উচ্ছে। এমনকি বসতবাড়ির আঙিনা ও আশপাশেও উচ্ছের আবাদ করা হচ্ছে। এ বছর (২০১৬-১৭ মওসুম) ২১০ হেক্টর জমিতে ৮৭৫ মেট্রিক টন উচ্ছের ফলন হয়েছে।
অথচ এক সময় শুষ্ক মওসুমে এসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় চাষিরা জানান, ডিসেম্বরের প্রথম দিকে উচ্ছের বীজ বপন করা হয়। একটি তাওয়ায় (একটি স্থানে) ছয় থেকে সাতটি বীজ দেয়া হয়। প্রায় ১০ দিন পরে চারা গজায়। এরপর মাটিতে খড় বিছিয়ে দেয়া হয়। দেড়মাস পর ফলন শুরু হয়। সার, ওষুধ, ভিটামিন ও সেচসহ পরিচর্যার জন্য প্রতি একরে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার খরচ হয় এবং এক লাখ টাকার উচ্ছে বিক্রি করা যায়। ফলন পাওয়া যায় তিন মাস পর্যন্ত। ক্ষেতের আকার ভেদে একজন চাষি প্রতিদিন এক হাজার থেকে শুরু থেকে পাঁচ হাজার টাকার উচ্ছে বিক্রি করতে পারেন। প্রথমে ৮০ টাকা কেজি দরে উচ্ছে বিক্রি হয়। মাঝামাঝি সময়ে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। শেষের দিকে দাম আবার চড়া হয়। বর্তমানে বাজারে ক্রেতা পর্যায়ে প্রতিকেজি উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ৪০ এবং করলা ৩০ টাকা করে। সরেজমিনে দেখা যায়, নলদী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সবুজ পাতা আর হলদে ফুলের মাঝে জড়িয়ে আছে বোল্ডার জাতের উচ্ছে আর উচ্ছে। এসব ক্ষেতে মৌমাছির উড়াউঁড়িও কম নয়। উচ্ছের হলদে ফুল থেকে মধু আহরণের এ দৃশ্য সহজেই নজর কাড়ে, আকৃষ্ট করে সবাইকে। কানাবিলের উচ্ছে চাষি অনিতা ও ঊষা রানী বলেন, এ অঞ্চলের প্রতি ঘরে ঘরে উচ্ছে চাষ করা হয়। ভালো ফলনে খুশি আমরা। বিদ্যুৎ জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিলের আশেপাশে উচ্ছে বেচাকেনার বাজার বসে।
বাইরের ব্যাপারীরা এখান থেকেই পাইকারি দরে উচ্ছে কিনে নেন। গাছবাড়িয়া গ্রামের আরতী বলেন, আমাদের উচ্ছে যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। লক্ষণ কুমার জানান, ৩৮ শতক জমিতে উচ্ছে চাষ করেছেন তিনি। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ কেজি বিক্রি করেন। কানাবিলের নারীকর্মী লাকি বলেন, সবুজ পাতার ভাজে ভাজে লুকিয়ে থাকা উচ্ছেগুলো একটা একটা করে তোলা হয়। ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ কেজি উচ্ছে তোলা যায়। প্রতি কেজি উচ্ছে তোলার জন্য আমাদের দুই টাকা করে দেয়া হয়। প্রতিদিন ক্ষেতের একেকটি অংশ থেকে উচ্ছে তোলা হয়। সেই হিসেবে প্রতিটি ক্ষেতে থেকে গড়ে প্রতিদিনই উচ্ছে তোলা যায়। ওই বিলের অপরকর্মী সাবানা খাতুন জানান, এ অঞ্চলের প্রতিটি মাঠে অন্তত ৫০জন নারী উচ্ছে তোলা ও বাজারজাতকরণের কাজ করেন। এ হিসাবে প্রায় এক হাজার নারী এ কাজের সাথে জড়িত আছেন। উচ্ছের বীজবপন, পরিচর্যা ও তোলার ক্ষেত্রে নারীদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। লিটন জানান, এ বছর বোল্ডার জাতীয় উচ্ছে বীজের সাথে করলা বীজের মিশ্রণ থাকায় এ এলাকার চাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারণ, উচ্ছের চেয়ে করলার দাম ও চাহিদা কম। বারইপাড়ার ওহিদুর রহমান (৫৫) বলেন, ১৯৯৬ সালে কানাবিলে আমি প্রথম উচ্ছে চাষ শুরু করি। আমার দেখাদেখিতে অন্যরা শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে নলদী এলাকার ২৩টি গ্রামের কৃষকের মাঝে উচ্ছে চাষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। চৈত্র-বৈশাখ মাসে উচ্ছে বিক্রির টাকার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে। এ এলাকার ২৩টি গ্রাম এখন উচ্ছে পল্লী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। অথচ, এক সময় শুষ্ক মওসুমে এসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। নলদী ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের সাব্বির শেখ জানান, অন্যান্য সবজি ও ফসলের তুলনায় কম খরচে আবাদ সম্ভব বলে কৃষকেরা উচ্ছে চাষে ঝুঁকেছেন। মাত্র তিন থেকে চারবার সেচ দেয়া লাগে। খুব বেশি সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। তবে, অতিবৃষ্টি, কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘলা আবহাওয়া উচ্ছে চাষের জন্য ক্ষতিকর। এদিকে, কচাতলার পাইকারি বাজারে যাতায়াতের প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান। কচাতলার খুচরা ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন বলেন, ২০ বছর যাবত উচ্ছে কেনাবেচা করছি। খুচরা কিনে দুর-দুরান্তের ব্যাপারীদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করি।
নলদী ইউনিয়নে আমার মতো প্রায় তিন হাজার ব্যবসায়ী উচ্ছে কেনাবেচার সাথে জড়িত। ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান, এখান থেকে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ মণ উচ্ছে কিনে ঢাকা, যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনা, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। ১২ বছর ধরে নলদী থেকে উচ্ছে কিনছেন তিনি। গাছবাড়িয়ার আমিনুর মোল্যা জানান, মওসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ অঞ্চলের উচ্ছে চাষি, শ্রমিক, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের মনে-প্রাণে এক অন্যরকম আনন্দ-আমেজ বিরাজ করে। যেন ঘরে ঘরে শুধু উচ্ছে বিক্রির টাকা আর টাকা। নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মুনছুর মোড়ল বলেন, নলদী এলাকার উচ্ছের মান খুব ভালো। ক্রেতা চাহিদা রয়েছে। টাটকা বিক্রি করা যায়। বর্তমানে বাজারে ক্রেতা পর্যায়ে প্রতিকেজি উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ৪০ এবং করলা ৩০ টাকা করে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক শেখ আমিনুল হক বলেন, উচ্ছে কাঁচা তরকারি পাশাপাশি ওষুধি গুণ রয়েছে। ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ ও বসন্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। এ বছর ২১০ হেক্টর জমিতে ৮৭৫ মেট্রিক টন উচ্ছের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই নলদী এলাকায়। তবে, নলদী ছাড়াও জেলার অন্যান্য এলাকায় দিন দিন উচ্ছের আবাদ বাড়ছে।

চৌগাছায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

যশোরেরর চৌগাছা উপজেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবী করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী। দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আজ বুধবার ভোরে উপজেলার নীমতলা বাজারের কাছে রাস্তার ওপর থেকে গুলিবিদ্ধ দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ দুটি এখন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। নিহত দুই যুবক হলেন উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে একসের (৪০) এবং মডেলপাড়া এলাকার সাইদুল (৩৫)।
ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি এবং এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।  পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের নীমতলার মঠের মাধ্যে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর বন্দুক যুদ্ধ হয়। এতে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের শীর্ষ মাদক সম্রাট একসের ও সাইদুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি নিহত হয়। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের নীমতলার মাঠের মাধ্যে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে এই দুইজন মারা যান।

মুফতি হান্নানের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের সঙ্গে তাঁর স্বজনেরা দেখা করেছেন। আজ বুধবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে চার স্বজন মুফতি হান্নানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা হলেন- মুফতি হান্নানের বড় ভাই আলি উজ্জামান মুন্সি, মুফতি হান্নানের স্ত্রী জাকিয়া পারভিন রুমা, বড় মেয়ে নিশি খানম ও ছোট মেয়ে নাজরিন খানম। কারাসূত্র জানায়, রাতেই স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে খবর পেয়ে মুফতি হান্নানের বড় ভাই স্ত্রী ও দুই মেয়ে কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশ্যে কোটালিপাড়া থেকে রওয়ানা দেন। ভোরে তারা গাজীপুরে এসে পৌছে কারাগারের আশপাশে এলাকায় অবস্থান নেন। পরে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তারা কারাগারে প্রবেশ করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে করা প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পর মঙ্গলবার দুই জঙ্গির সঙ্গে শেষ দেখা করার জন্য তাদের স্বজনদের কাছে মঙ্গলবার বার্তা পাঠানো হয়।
বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত অপর জঙ্গি শরীফ শাহেদুল বিপুলের পরিবারের কোন সদস্য কারাগারে এসেননি। কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, তাদের ফাঁসি কার্যকরের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন আছে। তিনি বলেন কারাবিধি মোতাবেক উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পাওয়া মাত্র ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারাগারে জল্লাদ ও ফাঁসির মঞ্চ সবকিছুই প্রস্তুত আছে। ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। এ হামলা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নান ও বিপুল কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং অপর আসামি দেলোয়ার হোসেন রিপন সিলেট জেলা কারাগারে ফাঁসির সেলে বন্দি রয়েছেন।

তিস্তায় হতাশ আ’লীগ আতিথেয়তায় খুশি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরে দেশটির আতিথেয়তায় অত্যন্ত খুশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তিস্তাচুক্তি না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন মতাসীন দলটির নীতিনির্ধারকেরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে ভারত যে সম্মান দেখিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে দেশের জনগণের জন্য গৌরব ও সম্মানের। বিশেষ করে প্রটোকল ভেঙে শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভ্যর্থনা সবাইকে অবাক করেছে। এ ছাড়া ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে রাত যাপনসহ প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সব আয়োজনই ছিল বাংলাদেশের জন্য সম্মানের। তবে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিস্তাচুক্তির বিষয়ে বড় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় কিছুটা হতাশা তো রয়েছেই। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, কৌশলগত কারণে এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দেয়া আতিথেয়তাকেই বড় করে দেখছে আওয়ামী লীগ। সে জন্য তিস্তাচুক্তির বিষয়টি এড়িয়ে নেতাদের মুখে মুখে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ, লালগালিচা সংবর্ধনা, নৈশভোজ ও বাংলাদেশকে দেয়া ঋণের বিষয়টি উঠে আসছে। কারণ দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিস্তাচুক্তির ব্যাপারে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো হতাশা প্রকাশ করা হলে আগামী নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং নির্বাচন সামনে থাকা অবস্থায় নেতাকর্মীরা হাতোদ্যম হয়ে পড়তে পারেন। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নেতাদের সাথে কথা বললে তারা ঘুরে ফিরে শেখ হাসিনাকে ভারতের দেয়া আতিথেয়তার বিষয়টিকেই আলোচনায় আনেন।
এ দিকে ভারতীয় পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়ার বাংলা সংস্করণের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারত মনে করছেÑ তিস্তা নিয়ে একেবারে খালি হাতেই ঢাকায় ফিরতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। নয়াদিল্লির এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আপে করে বলেছেন, ‘মোদিজি আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দিদিমণি কী করবেন, তা আমি জানি না। আমার সঙ্গে কথা বলার সময় তো অন্য অবস্থানই নিলেন।’ প্রধানমন্ত্রী স্বভাবসুলভ হাসির ছলে হিন্দিতে কথাগুলো বলেছেন বটে, কিন্তু স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির কথায় আশ্বস্ত হওয়ার পর মমতার আপত্তিতে হতাশ তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য এই ধাক্কা এলো এমন একটা সময়ে, ঠিক যার পরের বছর বাংলাদেশে ভোট।’ প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, তিস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব খারিজ করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মোদির সাথে বৈঠক করেন মমতা। তিনি জানিয়েছেন, ওই বৈঠক ছিল নেহায়েতই রাজ্যের আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত। কিন্তু বিজেপি সূত্রে জানা যায়, তিস্তা প্রসঙ্গও সেখানে উঠেছিল এবং আগের অবস্থান থেকে একটুও সরে আসেননি মমতা! মমতা সাফ জানিয়ে দেন, ‘যা প্রস্তাব দেয়ার, তা তো দিয়েই দিয়েছি। এবার কেন্দ্রীয় সরকার সমীক্ষা করে দেখুক।’ বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই অবস্থায় তো কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে একটা রাস্তাই খোলা রয়েছে। তা হলো, রাজ্যের আপত্তি উপো করে চুক্তি সম্পাদনের পথে এগিয়ে যাওয়া। তিস্তা হলো আন্তর্জাতিক চুক্তি। সেই েেত্র এই চুক্তি করার অধিকার কেন্দ্রের রয়েছে। কিন্তু তা করতে গেলে সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা। ফলে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করার পরেও তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিচলিত হওয়া স্বাভাবিক। এ ছাড়া মতায় আসার পর থেকে মোদি নিজেকে বাংলাদেশবান্ধব দেখানোর চেষ্টা করেছেন এবং অনেকাংশে সফলও তিনি। কিন্তু তিস্তাচুক্তি না হলে তার এই ভাবমর্যাদা ুণœ হবে। অন্য দিকে বাংলাদেশে সরকারবিরোধীদের অভিযোগ শেখ হাসিনা আসলে নয়াদিল্লির হাতের পুতুল। তার সফরে তিস্তাচুক্তি না হওয়ায় বিরোধীরা ইতোমধ্যেই অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন, পুতুল হয়েও তো লাভের লাভ কিছুই হলো না। বিজেপি নেতারা মনে করেন, তিস্তাচুক্তি না হলে শেখ হাসিনা বিপাকে পড়বেন। আগামী বছর ভোটে তিনি হেরেও যেতে পারেন। সে েেত্র পশ্চিমবঙ্গে আবার শরণার্থীদের ঢল নামতে পারে। বাংলাদেশে মৌলবাদী রমরমাও হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা আলাপকালে বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি না হলেও কিছুটা সত্য।
কারণ দেশের জনগণের সবচেয়ে বড় চাওয়া ছিল তিস্তাচুক্তি। কিন্তু তা না হওয়া বা এ ক্ষেত্রে বড় কোনো অগ্রগতি না হওয়াটা আমাদের জন্য খানিকটা বিব্রত কর। আগামী নির্বাচনের আগে বিষয়টির সমাধান না হলে আমাদের ভোটে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কোনো কোনো নেতা বলেন, এবারের সফরে তিস্তাচুক্তি যে হবে না, তা আগে থেকেই জানা গিয়েছিল। তারপরও কবে নাগাদ চুক্তি হতে পারে, তা জানার আগ্রহ বাংলাদেশের ছিল। কিন্তু সে ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ না হওয়া সরকারের জন্য খানিকটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ মমতার বিকল্প প্রস্তাবকে আমলে নিচ্ছে না। কারণ চুক্তি হবে ভারতের সাথে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে। পশ্চিমবঙ্গ বা মমতার সাথে নয়। মোদি তার মেয়াদেই এ চুক্তি করার যে আশ্বাস দিয়েছেন আমরা তাতে আশাবাদী হতে চাই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে ইতঃপূর্বে কোনো প্রধানমন্ত্রী রাত যাপন করেননি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাই প্রথম সেখানে রাত যাপন করেছেন। এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবশ্যই গৌরবের। আর তিস্তা চুক্তি সম্পর্কে ভারতের সরকার প্রধানের আশ্বাস পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কী বলল তা মূল বিষয় নয়। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যে সম্মান দেখিয়েছে, তা দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরবের। আমার বিশ্বাস, এতে বাংলাদেশের মানুষ মুগ্ধ হয়েছেন। আর তিস্তাচুক্তির বিষয়টি অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। এক অর্থে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন, তিস্তাচুক্তি হবে।