Monday, October 19, 2009

আফ-পাক যুদ্ধ -পাকিস্তান শান্ত হবে না - এমবি নাকভি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, আফগানিস্তানে ইসলামি চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা নেই। আফগানিস্তানে মনমতো ও টেকসই কোনো সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকা এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। আপাতত মনে হয়, এই অঙ্গীকার অনির্দিষ্ট। আফগানিস্তানে কেবল আরও মানুষ ও সরঞ্জামই পাঠানো হবে না, যুদ্ধপ্রক্রিয়াকে সীমিত না করে আরো জোরদার করা হবে।
আফগানিস্তান বিষয়ে আমেরিকার ‘নতুন’ নীতি যুদ্ধের আওতাকে পাকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। এই যুদ্ধকে ওয়াশিংটন আখ্যা দিয়েছে আফ-পাক যুদ্ধ। পাকিস্তানে তালেবান ও অন্য ইসলামি চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও কোনো সীমান্ত মানবে না। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। তাই পাকিস্তানকেও সব কিছু মেনে নেওয়ার সীমাহীন অঙ্গীকার করতে হবে।
ইসলামি চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে অন্তহীন যুদ্ধের অর্থ কী? পাকিস্তানের সম্পদ যুদ্ধের কাজে কাজে ব্যয়িত হবে। আমেরিকা ও অন্যরা সহায়তা দেবে পাকিস্তানকে। তবে, সমগ্র অর্থনীতির অগ্রগতি ঘটানো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে যুদ্ধ চালানোর দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে হবে। এই যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিনরা সংশয় প্রকাশ করেছে। কোনো সময়সীমা ঘোষণা না করতে চাওয়ার কারণও আছে। পাকিস্তানও যুদ্ধ অবসানের কোনো সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে না। ফলাফল সম্পর্কে আমেরিকা সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলতে থাকবে।
কিছু বিষয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক হতে হবে। পাকিস্তানের জনগণ এ যুদ্ধকে কীভাবে দেখে, এ প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। তালেবান ও অন্য ইসলামি চরমপন্থীরা শয়তানের প্রতিভূ, অনেক পাকিস্তানি তা মনে করে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। যত দিন পাকিস্তান ও পশ্চিমারা আফ-পাক মানুষের হূদয়-মন জয় না করতে পারবে, তত দিন এই যুদ্ধ শেষ হবে না। জনমতের অসন্তোষ যুদ্ধের ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।
জনগণ যদি সরকারের সঙ্গে থাকে, আর তালেবান-শাসনের বিরোধী হয়, তবে খুব শিগগির যুদ্ধের অবসান ঘটার কথা। কিন্তু জনগণের আবেগ যদি ইসলামি চরমপন্থীদের পক্ষে যায়, তবে যুদ্ধ থামবে না। আফগানিস্তান বা পাকিস্তান সরকারের অর্জন যা-ই হোক না কেন, তা সমাজকে বিভক্ত করবে। ইসলামি চরমপন্থীরা সবকিছু ধ্বংসের চেষ্টা করবে, সরকারি সমর্থকদের হত্যা করবে। দেশটিতে তখন গৃহযুদ্ধাবস্থা বিরাজ করবে।
গত ৯০০ থেকে এক হাজার বছরে ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের যে বিকাশ ও বিস্তার, তা তালেবান বা তার আগের ১৯৮০-এর দশকে মুজাহিদীনদের ইসলাম থেকে অনেক আলাদা। এ উপমহাদেশের বহু ধর্ম-সংস্কৃতি-চিন্তার সমন্বয়ধর্মী, সহিষ্ণু ও শান্তিপূর্ণ এবং সংঘাতবিরোধী যে ইসলাম, তার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে তালেবান ও অন্য চরমপন্থীরা। উপমহাদেশের ইসলামে সুফিবাদী চিন্তা ও চর্চার গভীর প্রভাব আছে।
অন্যান্য দেশে ইসলামের বিকাশ এভাবে হয়নি। সৌদি আরবের ইসলাম উপমহাদেশের অধিকাংশ মুসলমানের ইসলামের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। সৌদি আরবের ইসলাম চিন্তায় ওয়াহাবি ও সালাফি মতবাদ প্রধান। এই সৌদি ইসলাম পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত প্রদেশ ও অন্য এলাকার দেওবন্দি ধারার মানুষকে এখন প্রভাবিত করছে।
এই ইসলামের বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। গত ২৫-৩০ বছরে এই মুসলমানদের মধ্যে অনেক নতুন চিন্তাধারা বিকশিত হয়েছে। জিহাদে সৌদির অংশগ্রহণ ও পরে তালেবান তৈরি ও বেড়ে ওঠায় সহায়তার ফলে এখনকার বহু মানুষ এখন তাদের সমর্থক। আইএসআই, সিআইএ এবং সৌদি সংস্থাগুলোর কল্যাণে বহু পাকিস্তানির ওপর ওয়াহাবি ও সালাফি মতাদর্শের প্রভাব পড়েছে। আরব চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবও এ অঞ্চলে পড়েছে।
এমন ঘটার বিশেষ কারণ আছে। উপমহাদেশের মুসলমানরা সৌদি আরবকে বিশেষ শ্রদ্ধার চোখে দেখে। সৌদিদের বক্তব্য অন্য এলাকার তুলনায় পাকিস্তানি মুসলমানদের মধ্যে সহজে গ্রহণযোগ্যতা পায়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশের উপজাতীয় এলাকাসহ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ মূলত বেরেলভিপন্থী। কিন্তু আল-কায়েদা, ওসামা-বিন লাদেন ও অন্যদের প্রস্তাবিত নতুন মত তাদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়। এর কারণ—ক. তাদের জঙ্গিপনা; খ. তাদের অবস্থান স্পষ্ট ও অসহিষ্ণু; গ. তারা সহিংস এবং ঘ. তালেবান ও অন্য চরমপন্থীদের ভাবমূর্তি। তাদের সম্পর্কে জনগণের ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তালেবানরা রীতিনীতি কঠোরভাবে পালন করে। এখানকার মুসলমানদের মানসিক গড়ন এমন যে তারা ধার্মিকতার এমন রূপের প্রতি সাড়া দেয়। সাধারণ জীবন যাপন করে, ইসলামের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত এবং পশ্চিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শামিল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা আপনা থেকেই কাজ করে এখানে। এই শ্রদ্ধাই তাদের ভয় পাওয়ারও মূল কারণ। ভয়ের ফলেই তাদের মেনে চলে এসব মানুষ। ইসলামের সহিষ্ণুতা ও ভালোবাসার দৃষ্টান্তের সাথে তালেবানী ধ্যান-ধারনা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, এ বিষয়ে উপমহাদেশের সব মুসলমানকে ঐকান্তিকভাবে ভেবে দেখা দরকার।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
এমবি নাকভি: পাকিস্তানি সাংবাদিক।

প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি -আমলাতন্ত্রের গাঁট by দ্বিজেন শর্মা

জাতীয় শিক্ষানীতিতে সরকারি বিদ্যালয় ও কলেজ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ নেই। শুধু এরকম কথা লেখা আছে ‘ব্যবস্থাপনা কমিটিকে প্রয়োজনে অধিকতর ক্ষমতা দিয়ে আরও জোরদার করা হবে। অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী...সমন্বয়ে জন-তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা করা হবে।’ অর্থাত্ বাকিটা সরকারি সিদ্ধান্তের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
কয়েক দিন আগে একটি বিভাগীয় সরকারি কলেজে কিছু ছাত্রের আমন্ত্রণে এক সান্ধ্য কবিতাপাঠের আসরে গিয়েছিলাম। কবিসংখ্যা ১০-১২, শ্রোতা একা আমি। পাঠ শুরু হতেই বিদ্যুত্ চলে গেল। অদম্য তরুণেরা মোবাইল ফোনসেটের আলোয় কবিতা পড়তে লাগল। কিন্তু ভ্যাপসা গরম আর মশার জন্য তিষ্টানো গেল না। আমরা বাইরে এসে হাঁটতে ও কথা বলতে লাগলাম। বিশাল চত্বর, বড় বড় পুকুর, গাছগাছালির বন, দুটি ফুটবল মাঠ। একসময় এখানে শিক্ষকতা করেছি, দেখলাম, আমার লাগানো গাছেরও কয়েকটি আছে। কিন্তু দুঃখ হলো, আমাদের টেনিস কোর্টগুলো আর নেই, সেখানে সবজিক্ষেত। বোটানিক গার্ডেন আগাছাভরা, ফুটবল মাঠে হাঁটুসমান ঘাস।
‘তোমরা খেলাধুলা করো না?’ জানতে চাই।
মিহি সুরে উত্তর আসে, ‘না’।
‘বার্ষিকী বের হয়? সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক হয়?’
একই উত্তর—না।
মনে পড়ে, পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকের কথা। শীতে টেনিসের সমারোহ আয়োজন, নিয়মিত ক্রিকেট ম্যাচ, গোটা বর্ষাজুড়ে ফুটবল। কলেজ বার্ষিকী ছাড়াও ছিল একটি বিজ্ঞানবার্ষিকী। ১৯৫৯ সালে আমরাই প্রথম উদ্ভিদবিদ্যার স্নাতক কোর্স খুলি। অধ্যক্ষ ও বিজ্ঞান শিক্ষকদের ঐকান্তিক এবং অনুক্ষণ সহায়তায় দুই বছরের মধ্যেই গড়ে ওঠে চমত্কার ল্যাবরেটরি, হার্বোরিয়াম, মিউজিয়াম, বিভাগীয় গ্রন্থসংগ্রহ, বোটানিক গার্ডেন, কোনোটা ন্যূনতম খরচায়, কোনোটা নিখরচায়। ১৯৬২ সালে সরকারিকরণের পর যত দিন পুরোনো শিক্ষকেরা ছিলেন, তত দিন এ রেওয়াজ তেমন বদলায়নি।
হাঁটতে হাঁটতে ছাত্রদের এসব কথা শোনাই এবং জিজ্ঞেস করি, ‘তোমাদের আজ এ হাল কেন?’ জবাব আসে, ‘মোবাইল ফোন স্যার, ওটিই খেলাধুলা, সংস্কৃতি সব গিলে ফেলেছে।’ ভেবেছিলাম, দলীয় ছাত্ররাজনীতির কথা শুনব, কিন্তু খবরটি সম্পূর্ণ নতুন।
সত্যিই মোবাইল ফোন কি? আংশিক সত্য হলেও সিংহভাগ সমাধা করেছে সরকারি আমলাতন্ত্র। শিক্ষকেরা আজ কলেজের সঙ্গে একাত্মবোধ হারিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের কাছে পরকীয় হয়ে গেছে। অন্যান্য আমলাতন্ত্রের মতো শিক্ষা-আমলাতন্ত্র একটি নির্মুখ সত্তা। এই শহরে এলে অন্তত একবার কলেজে যাই, চত্বরে হাঁটি, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগেও গিয়ে বসি। আমার কাছে পড়েছে, এমন শিক্ষকও আগে পেতাম, এখন সবাই অচেনা। একবার দেখলাম ফুটবল মাঠের পাশে একসার গগনশিরীষ কে যেন লাগিয়েছেন, পরেরবার দেখি কয়েকটি অযত্নে এলোমেলো। জিজ্ঞেস করে জানলাম, যিনি লাগিয়েছিলেন, তিনি বদলি হয়ে গেছেন। এখন আছে মাত্র তিনটি, বড় হয়েছে, কিন্তু গোটা সারিটা ছেঁড়াখোঁড়া, সৌন্দর্যহারা।
ঘটনাটি খুব ছোট, কিন্তু তাত্পর্যবহ। সরকারিকরণ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার চিরায়ত কাঠামোটি অবিন্যস্ত করে দিয়েছে, ব্যক্তি উদ্যোগের বিনাশ ঘটিয়েছে, শিক্ষকদের অদৃশ্য এক শক্তির ক্রীড়নকে পরিণত করতে চাইছে। অথচ শিক্ষা কমিশন বিষয়টি এড়িয়ে গেছে, বিদ্যালয়কে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখা আমলাতন্ত্রের এই গাঁট খুলতে চায়নি।
এ দায় অবশ্য পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার। তারা অসত্ উদ্দেশ্যেই উল্টোমুখী শিক্ষা সংস্কার শুরু করেছিল এবং সে জন্য শিক্ষা-এলিট সৃষ্টির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকেই প্রথম নজর দিয়েছিল। অথচ প্রয়োজন ছিল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর পেরিয়ে শেষ পর্যায়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান। এই উল্টোরথে ক্ষতি হয়েছে বিরাট, গোটা শিক্ষাব্যবস্থাই অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে, শিক্ষায় শ্রেণীভেদ ও নানা অমোচ্য জটিলতা দেখা দিয়েছে। এটাই ছিল তাদের কাম্য, যা থেকে আজও আমরা মুক্ত হতে পারিনি, বরং তাদের ফাঁদে পা দিয়ে জটিলতার পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়েছি।
আমাদের শিক্ষক আন্দোলনের দুর্বলতা সুবিদিত। কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনে কাজ করার সময় একটি নীতিগত সমস্যা নিয়ে জনৈক শিক্ষক নেতার সঙ্গে দেখা করলে তিনি অকপটে জানান, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তাঁদের ধারণা যতটা স্বচ্ছ, শিক্ষানীতি সম্পর্কে ততটাই অস্বচ্ছ। হতাশ হয়েছিলাম। তাঁরা স্বাধীনতার পর শিক্ষা সরকারিকরণের (সরকারি আমলাতন্ত্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন, যেমন সরকারি স্কুল-কলেজ) বিরুদ্ধে জাতীয়করণের (মালিকানা রাষ্ট্রের কিন্তু ব্যবস্থাপনা স্বায়ত্তশাসিত, যেমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) দাবি তুলেছিলেন। অথচ শেষ পর্যন্ত জয় হলো প্রথমোক্তেরই।
তা ছাড়া, আজ গোটা ছাত্রসমাজ কিছু সংখ্যক শিক্ষকের কোচিং ব্যবস্থায় জিম্মি। তারা শিক্ষকের ভাগ্যোন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষানীতি নিয়েও ভাবলে এত দিনে শিক্ষা-ব্যবস্থা পরিচালনার একটি গণতান্ত্রিক কার্যকর কাঠামো হয়তো উদ্ভাবিত হতো। শিক্ষানীতির একটি গোটা অধ্যায়ে আছে ‘শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার ও দায়িত্ব’ বিষয়ে অনেক ভালো ভালো সুপারিশ। কিন্তু শিক্ষা-ব্যবস্থার একটি যৌক্তিক কাঠামো ব্যতীত তা অর্জনীয় নয়। প্রসঙ্গত স্মর্তব্য, শিক্ষা এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে অজস্র প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শিক্ষকের পক্ষে নিজ চেষ্টায় অনেক অর্জন সম্ভব এবং অত্যল্প হলেও তা থেমে নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য শিক্ষকদের বৈষয়িক দৈন্যমুক্তির সঙ্গে সঙ্গে আত্মিক মুক্তির স্বতন্ত্র উজ্জীবন আবশ্যক। শিক্ষানীতি এ ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দ্বিজেন শর্মা: লেখক, নিসর্গী। সাবেক শিক্ষক।

বন্দরের বাধা

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হলে তা অর্থনীতির জন্যও বিশাল ধাক্কা। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরটি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে এবং বন্দর নিয়ে রাজনীতিও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। নানা শ্রমিক সংগঠন ও তাদের নানা রকম আন্দোলনে প্রায়ই চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
সমুদ্রবন্দর নাকি কখনো ঘুমায় না। কিন্তু আমাদের সমুদ্রবন্দরগুলো ‘ঘুমায়’ না বলে ‘ঘুমিয়ে রাখা হয়’ বলাটাই যুক্তিসংগত। বন্দরকে অবলম্বন করে স্বার্থ আদায় ও বন্দর-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নীতিহীন কার্যকলাপ অবাধে চলে।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বন্দরের কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানাই।
নয়ন, পান্থপথ, ঢাকা।

মানহীন ওষুধ

ওষুধ মৃত্যুর কারণ হলে অবশ্যই তা উদ্বেগের বিষয়। প্যারাসিটামল ট্র্যাজেডির পর অভিভাবকেরা ওষুধ কিনতে আতঙ্কে ভুগছেন। ১৯৯২ সালে শিশুদের প্যারাসিটামল সিরাপে বিষাক্ত ডাই ইথাইলিন গ্লাইকলের ব্যবহারের ফলে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়। এবারও একই কারণে পঁচিশের বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটে। এ ধরনের ভেজাল, বিষাক্ত ও মানহীন ওষুধ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া জরুরি। কারণ তদন্ত, সমীক্ষা আর আইনের দীর্ঘাসূত্রতায় হয়তো স্বাভাবিকভাবেই এ আলোচনা এক সময় থেমে যাবে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যে সন্তানকে হারিয়েছে, তা ফিরে পাওয়ার নয়। জনগণকে মানসম্পন্ন ওষুধের ব্র্যান্ড সম্পর্কে সচেতন করাও জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকা দরকার।
অথচ গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯’-এ ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তার প্রতিকারের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। (প্রথম আলো ৩ আগস্ট ’০৯) বিক্রয়কারী উত্পাদনের সঙ্গে জড়িত না থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যাবে না?
এসব ওষুধ ফার্মেসিতে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভোক্তারা, বিশেষ করে মফস্বলের ফার্মেসিতে এ ধরনের ওষুধ দুই-তিন গুণ মুনাফা লাভের আশায় নির্বিঘ্নে বিক্রি করা হচ্ছে। তাই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওষুধ প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে এবং জনগণকে নিত্যব্যবহার্য ওষুধ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট মহলকে এগিয়ে আসতে হবে।
মো. নাজমুল হুদা
শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

অকার্যকর রাজনৈতিক সম্পর্ক -বিরোধী দলের সংসদে ফেরা উচিত

নবম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনেও বিরোধী দল নেই। শিগগিরই যে তারা সংসদে যোগ দেবে, এমন আভাস-ইঙ্গিতও মিলছে না। সরকারি দলের পক্ষ থেকেও এমন কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়, যা বিরোধী দলকে সংসদে ফিরে যেতে উত্সাহিত করতে পারে। জাতীয় সংসদের এই অসম্পূর্ণতা বা আংশিক অকার্যকরতা যেন এক স্থায়ী চিত্র হয়ে উঠেছে। আমরা দেখে আসছি, এভাবেই চলছে আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্র: অধিবেশনে অনুপস্থিতির কারণে যখন সংসদ সদস্যপদ বাতিল হওয়ার দশা উপস্থিত হয়, তখন বিরোধীদলীয় সাংসদেরা অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে সদস্যপদ রক্ষা করে আবারও বেরিয়ে আসেন। এটা সত্যি দুর্ভাগ্যজনক।
গতকাল শনিবার দারিদ্র্য বিমোচন সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে এক মঞ্চে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে সংবাদমাধ্যমে এক ধরনের উদ্দীপনা লক্ষ করা গিয়েছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া বা তাঁর দল বিএনপি সমাবেশে অংশ নেয়নি। অবশ্য অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, বিভিন্ন উপলক্ষে দুই নেত্রীর মুখোমুখি হওয়া বা কুশল বিনিময় দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনে না।
দুই প্রধান নেত্রী ও তাঁদের দুই দলের মধ্যকার সম্পর্কের প্রতিফলন সংসদেও পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। বিশেষত, দুই নেত্রীর ইচ্ছাতেই নিরূপিত হয় দুই দলের সম্পর্ক। কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এই সম্পর্ক? এটা কি কোনো কার্যকর রাজনৈতিক সম্পর্ক? নাকি এটা সম্পর্কহীনতা? রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলগুলোর মধ্যে বিরোধ থাকে, সেই বিরোধ কার্যকর হতে হলে তো তাদের মধ্যে যোগাযোগ প্রয়োজন। নৈতিক, আদর্শিক বা কর্মকৌশলগত মতপার্থক্য, আপত্তি, বিরোধ—কোনো কিছুরই কোনো অর্থ থাকে না দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ, সংলাপ, তর্ক-বিতর্ক ছাড়া। তর্ক-বিতর্কের উত্কৃষ্টতম স্থান হলো জাতীয় সংসদ। সেই সংসদই দিনের পর দিন বর্জন করে চলে বিরোধী দল। এটা শুধু বর্তমানের চিত্র নয়, অতীতেও এ রকমই ঘটেছে।
কোনো কারণেই অনির্দিষ্টকাল ধরে সংসদ বর্জন করা উচিত নয়। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে বা সুস্পষ্ট ভাষায় বলেনি, কী কারণে তারা সংসদ বর্জন করে চলেছে এবং সরকারের তরফে কী করা হলে তারা আবার সংসদে ফিরবে। তবে গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে দারিদ্র্য বিমোচন সমাবেশে যোগদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ভবিষ্যতে বিরোধী দলের সহযোগিতা, জাতীয় ঐক্য চাইলে সরকারকে ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরির আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারকে যে চারটি বিষয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, সেগুলো হলো: ১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ২. বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, ৩. পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্যাতন ও বিরোধী দল দলন বন্ধ করা এবং ৪. সর্বক্ষেত্রে ‘নগ্ন দলীয়করণ’ ও দলবাজি বন্ধ করে সরকারকে দলের সরকার নয়, দেশের সরকারের মতো আচরণ করা।
আমরা জানি না এ বিষয়ে সরকার কী বলবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে—এমন দাবি সরকার করতে পারে, যেমনটি সব সরকারই করে আসছে। সরকার বলতে পারে এবং ইতিমধ্যে বলেছেও যে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে, কোনো হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। রিমান্ডে নির্যাতন বা বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ সব সরকারই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। আর সর্বক্ষেত্রে ‘নগ্ন দলীয়করণের’ অভিযোগ তো কোনো সরকারই স্বীকার করে না।
তবে অন্তত এসব নিয়েই যদি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, তাহলে এই যোগাযোগহীনতার অবসান ঘটতে পারে। সে জন্য বিরোধী দলের সংসদে ফিরে যাওয়া একান্ত প্রয়োজন।

দুদকের দাঁত ও নখ -দুর্বল করা নয়, প্রয়োজন শক্তি বাড়ানো

রাষ্ট্র-সরকারসহ সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপক দুর্নীতির এই দেশে দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের নিয়ে প্রচুর কথা হয়। সবচেয়ে বেশি কথা হয় নির্বাচনের আগে, যখন রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের ভোট আকর্ষণের প্রয়াসে ভালো ভালো অনেক প্রতিশ্রুতি বারবার উচ্চারণ করে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও দুটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলেরই প্রথম সারির প্রতিশ্রুতি ছিল দুর্নীতি দমন করা। যে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে লেখা হয়েছিল: ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে।’
কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, দুদককে শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়ে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতা বাড়বে না; বরং কমে যাবে। দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতীকী ভাষায় সে রকম আভাসই দিয়েছেন। দুদকের চেয়ারম্যান এই প্রতিষ্ঠানটির অবস্থাকে তুলনা করেছেন দন্তহীন বাঘের সঙ্গে, যে বাঘ শিকার ধরার চেষ্টা করে আসছিল তার থাবা দিয়ে। কিন্তু বাঘের থাবায় যেসব নখ থাকে, দুদকের চেয়ারম্যানের ভাষায়, এখন সেই নখগুলোও কেটে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি আইনটিতে সংশোধনী আনার কিছু সুপারিশ পেশ করেছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কমিটির উপস্থাপিত সুপারিশগুলোর মধ্যে এমন একটি সুপারিশও আছে যে, সরকারের কোনো কর্মকর্তা সরল বিশ্বাসে কোনো অনৈতিক কাজ করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। এ ছাড়া বর্তমান আইনবলে দুদক সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্যাবলি পেতে পারে। সরকারের কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সংশোধিত আইনে দুদকের এ ক্ষমতা থাকবে না। এটা খুবই স্পষ্ট যে, এ ধরনের সুপারিশের আলোকে আইন সংশোধন করা হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা, অন্তত সরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি রোধের ক্ষেত্রে ভীষণভাবে কমে যাবে। অথচ দুর্নীতির সিংহ ভাগ ঘটে সরকারি পর্যায়েই।
দুদকের কমিশনাররাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সংগত কারণেই এই সুপারিশের বিরোধিতা করছেন। কমিশনের সদস্যরা সম্প্রতি এ নিয়ে একটি সভায় বলেছিলেন যে, আইন সংশোধন করে সরকার যদি দুদকের ক্ষমতা হ্রাসের ব্যবস্থা করে, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে চলবে। দুদকের চেয়ারম্যানের ইঙ্গিতে সরকারের গঠিত কমিটির সুপারিশমালা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকেই ‘থাবার নখগুলো’ কেটে নেওয়ার প্রক্রিয়া বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বুধবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী শফিক আহমেদ বাংলাদেশ সফররত তিন ইউরোপীয় মানবাধিকার রাষ্ট্রদূতকে জানান, দুদককে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইন সংস্কার বা নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে। অর্থাত্ দুদক আইন নিয়ে সরকারের সক্রিয় বিবেচনা চলছে। তাহলে সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে স্বয়ং দুদকের মতামত; কারণ দুর্নীতি দমনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কী কী বাধাবিপত্তি আসছে, তা দুদকই প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করছে এবং সেসব বাধাবিপত্তি কীভাবে দূর করা যায়, সে সম্পর্কে তারাই ভালো মত দিতে পারবে।
সরকারের গঠিত কমিটির উপস্থাপিত সুপারিশমালার বিষয়ে দুদক নিজের মতামত শিগগিরই জানাবে বলে খবরে প্রকাশ। আমরা আশা করব, সরকার দুদকের সেই মতামত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং দুদক আইনে এমন সংশোধনী আনা থেকে বিরত থাকবে, এতে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অঙ্গীকার যে আন্তরিক, তা প্রমাণের জন্য বিদ্যমান আইনের ঘাটতিগুলো পূরণ করে দুদকের হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়া উচিত।

লাফিয়ে বাড়ছে কানাডীয় ডলারের বাজারদর

মার্কিন ডলারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে লাফিয়ে বাড়ছে কানাডীয় ডলারের মূল্য। গত বৃহস্পতিবার মূল্যমানে মার্কিন ডলারকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল কানাডীয় ডলার ‘লুনি’, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা সাড়ে ৬৭ টাকায় উন্নীত হয়।
বিগত ১৬ মাসের মধ্যে হঠাত্ লুনির এই মূল্যবৃদ্ধিতে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার। তাঁর মতে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এটা ভালো হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কানাডার কৃষি ও শিল্পপণ্য রপ্তানি ধাক্কা খাবে। মুদ্রার মান শক্তিশালী হওয়ায় ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর ম্যাক কার্নিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কিছুদিন আগেও দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলোর উপনির্বাচনের চ্যালেঞ্জের কারণে স্টিফেন হারপারের সংখ্যালঘু সরকার আশঙ্কার মুখে ছিল।
এ অবস্থায় কানাডীয় ডলারের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি তাঁকে আরেকটু চাপের মুখে ফেলছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। উল্লেখ্য, কানাডায় বর্তমানে বেকারত্বের হার প্রায় ৯ শতাংশ।
তবে প্রধানমন্ত্রী হারপার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা জানি যে কানাডার অর্থনীতি বর্তমানে অন্য যেকোনো শিল্পোন্নত এমনকি জি-৭ভুক্ত সব দেশের চেয়ে শক্তিশালী।’
এদিকে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা খুশি। তাঁরা এখন দেশে অর্থ পাঠানো আগের চেয়ে বেশি লাভজনক মনে করছেন।

দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুত্চালিত সেচপাম্প- সাভারে প্রদর্শনীমূলক কার্যক্রম শুরু

দেশে প্রথমবারের মতো সৌরবিদ্যুত্চালিত সেচপাম্পের প্রদর্শনীমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষিকাজকে সহজ, আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার সাভারে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের কাইশারচর গ্রামের শাহীন আহমেদের বোরো প্রকল্পে সৌরবিদ্যুত্চালিত সেচপাম্পটি স্থাপন করা হয়েছে।
রহিমআফরোজ রিনিউএবেল এনার্জির চেয়ারম্যান নিয়াজ রহিম এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক শাইখ সিরাজ গতকাল শনিবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
রহিমআফরোজের কর্মকর্তারা জানান, ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সৌরবিদ্যুত্চালিত সেচপাম্পটি স্থাপন করা হয়েছে। এই পাম্প থেকে ১২ কিলোওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হবে, যা দিয়ে ১০ ঘোড়ার একটি মোটরের সাহায্যে ২০ একর জমিতে সেচসুবিধা নেওয়া যাবে। এর ফলে অন্তত ৫০ জন কৃষক উপকৃত হবেন। এই সেচপাম্পগুলো ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। এ জন্য অতিরিক্ত কোনো ব্যাটারি বা জ্বালানির প্রয়োজন হবে না। সূর্যের আলোই পাম্পটিকে সারা দিন সচল রাখবে। এটি চালু বা বন্ধ করারও কোনো প্রয়োজন নেই। সূর্যের আলো যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ এটি চলবে। আর সুর্যের আলো না থাকলে বন্ধ হয়ে যাবে।
রহিমআফরোজের কর্মকর্তারা আরও জানান, বোরো মৌসুমে দেশে এক কোটি ২০ লাখ একর চাষযোগ্য জমিতে ১৩ লাখ ৩০ হাজার সেচপাম্প ব্যবহূত হয়। এর মধ্যে ১৬ লাখ একর জমি চাষে ব্যবহূত হয় ১০ লাখ ৮০ হাজার বিদ্যুত্চালিত সেচপাম্প। বাকি এক কোটি চার লাখ একর জমি চাষে ব্যবহূত হয় ১১ লাখ ৫৮ হাজার ডিজেলচালিত সেচপাম্প। সারা দেশের বিদ্যুত্ ও ডিজেলচালিত সেচপাম্পগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হলে বছরে ৭৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি ৮০ কোটি লিটার ডিজেলের সাশ্রয় হবে। এতে ডিজেল ও বিদ্যুতের জন্য সরকারের ৮৫৩ কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
শাহীন আহমেদ জানান, তিনি ২০০৩ সাল থেকে ডিজেলচালিত পাম্পের মাধ্যমে ১২ একর জমিতে বোরোসহ অন্যান্য ধানের আবাদ করে আসছিলেন। এতে মাত্র ২০ জন কৃষক উপকৃত হতেন। পাম্প ভাড়াসহ ডিজেল কিনে কৃষকদের বছরে দুই লাখ টাকা খরচ হতো। আর এবার সৌরবিদ্যুত্ স্থাপন করার ফলে কৃষকদের সেচ খরচ কমে আসবে। পাশাপাশি আগের তুলনায় আরও বেশি কৃষক উপকৃত হবেন।
রহিমআফরোজ রিনিউএবেল এনার্জির চেয়ারম্যান নিয়াজ রহিম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের কোম্পানিটি সৌরবিদ্যুত্চালিত সেচপাম্প নিয়ে কাজ করছে ২০০৪ সাল থেকে। তবে এবারই প্রথম প্রদর্শনীমূলকভাবে বড় আকারের সেচপাম্প প্রকল্পটি চালু করা হলো।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যান ড. নাজমুল হোসেন প্রদর্শনীমূলক প্রকল্পটি পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রকল্পের লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জার্মান টেকনিক্যাল কো-অপারেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এরিখ অটো গম ও উপদেষ্টা খুরশীদ উল ইসলাম।

ধুঁকছে কমার্স ব্যাংক, পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার প্রস্তাব by ফখরুল ইসলাম

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বিসিবিএল) সার্বিক উন্নয়নের পথ খুঁজছে সরকার। ‘সমস্যাকবলিত ব্যাংক’ হিসেবে চিহ্নিত এটি।
সম্প্রতি ব্যাংকটির উন্নয়নের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চারটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতাধীন পুনর্গঠন প্রকল্প প্রণয়ন নামের প্রস্তাবটির ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় সরাসরি ‘না’ করে দিয়েছে। বাকি তিনটির ব্যাপারে যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ব্যাংকটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে একটি অবস্থানপত্র জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিসিবিএল সমস্যাকবলিত ব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত। সরকার নিযুক্ত পরিচালক ও বেসরকারি পরিচালকদের সমন্বয়ে গঠিত এর পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাত্ এটি পরিচালিত হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে। তবে হতাশাজনক যে, গঠনের পর থেকে ব্যাংকটি সরকারকে এক টাকাও লভ্যাংশ দিতে পারেনি। পুঞ্জীভূত লোকসান, সঞ্চিতি ও মূলধন ঘাটতিসহ ব্যাংকটির আর্থিক পরিস্থিতিও খুব খারাপ।
বিসিবিএলের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারাও এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেননি। তাঁরাও বলছেন, বেসরকারি অন্য ব্যাংকগুলো বছরে যেখানে শত শত কোটি টাকা মুনাফা করছে, সেখানে এ ব্যাংকটি পুরোপুরিই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। নয় বছরে এতে ১৬ জন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাঁরা ব্যাংকের উন্নয়নের স্বার্থে ভালো কোনো পদক্ষেপ নেননি বা নিতে পারেননি। বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রতিবছরই যেখানে শাখা বাড়াচ্ছে, সেখানে ২৪ শাখা নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া ব্যাংকটির শাখা এখনো ২৪টিতেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার প্রস্তাব: বিসিবিএলের উন্নয়নের স্বার্থে অর্থ বিভাগের কাছে চারটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে—ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক পুনর্গঠন প্রকল্প প্রণয়নের মাধ্যমে বর্তমানের অনুমোদিত মূলধনের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকা শেয়ারের একাংশ কোনো সুযোগ্য বিনিয়োগকারীর কাছে এবং বাকি অংশ বিদ্যমান আমানতকারীদের কাছে বিক্রি করা, অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়ে যাওয়া এবং সরকারি মালিকানায় থাকা শেয়ার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় গ্রহণ করলে ব্যাংকটি পুরোপুরি বেসরকারি খাতে চলে যাবে অথবা একীভূত হয়ে যাবে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে।
শেয়ার কিনে নিতে চাইছে দুই প্রতিষ্ঠান: এদিকে সরকার ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের হাতে থাকা ব্যাংকটির শেয়ার কিনে নিতে অর্থ বিভাগে আবেদন করেছে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছে থাকা ১০০ টাকা মূল্যমানের ৩০ কোটি টাকার শেয়ার এবং তিন ব্যাংকের কাছে থাকা ১০০ টাকা মূল্যমানের ১০ কোটি টাকার শেয়ার প্রতিটি ১২৫ টাকায় কিনে নিতে চাইছে। অন্য প্রতিষ্ঠানটি চাইছে ১০০ টাকা মূল্যমানের সোনালী ব্যাংকের পাঁচ লাখ শেয়ার এবং অগ্রণী ব্যাংকের দুই লাখ শেয়ার কিনে নিতে।
১৯৯৭ সালে পাস হওয়া বাংলাদেশ কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (পুনর্গঠন) আইনের মাধ্যমে গঠিত বিসিবিএল একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এর অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৯২ কোটি টাকা।
শেয়ারের শ্রেণী বিভাজন: শুরু থেকেই বিসিবিএলের পরিশোধিত মূলধনকে ক, খ, গ—এমন তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। সরকার হলো ক শ্রেণী; সোনালী, অগ্রণী ও জনতা—এ তিন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক খ শ্রেণী এবং বন্ধ ঘোষিত বিসিআইয়ের আমানতকারীরা গ শ্রেণীর শেয়ারধারী। ব্যাংকটিতে ক শ্রেণীর শেয়ার রয়েছে মোট মূলধনের ৩২ দশমিক ৬০ শতাংশ বা ৩০ কোটি টাকা, খ শ্রেণীর শেয়ার ১০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বা ১০ কোটি টাকা এবং গ শ্রেণীর শেয়ার রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫২ শতাংশ বা ৫২ কোটি টাকা।
তবে গ শ্রেণীর শেয়ারের মধ্যে জিয়া সার কারখানা, যমুনা সার কারখানা, ঢাকা বিদ্যুত্ বিতরণকারী কোম্পানি (ডেসকো) এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ড—এ চার প্রতিষ্ঠানের আট কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সে হিসাবে সরকারের হাতে এ ব্যাংকের মোট শেয়ার রয়েছে ৫২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
অর্থ বিভাগের পর্যালোচনা ও মতামত: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রস্তাব ও সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে অর্থ বিভাগ যে অবস্থানপত্র তৈরি করেছে, এতে ব্যাংকটির করুণ দশার পেছনে একাধিক কারণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে পুনর্গঠন প্রকল্প প্রণয়নের ব্যাপারে সরাসরি নেতিবাচক মন্তব্য করেছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগ বলেছে, এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে গেলে ব্যাংকটির ব্যবসা সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে গোটা ব্যাংকিং খাতে। অর্থ বিভাগের মতে, বিসিবিএলের অবস্থা খারাপ, তবে এর ব্যবসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার মতো নয়। অন্য তিন প্রস্তাবের বিষয়ে আইনগত বাধা রয়েছে কি না, তা জানতে ইতিমধ্যেই আইন মন্ত্রণালয়ে নথি পাঠানো হয়েছে।
অর্থ বিভাগের মতে, ব্যবস্থাপনায় পেশাদারির অভাব, দুর্বল তদারক, অদক্ষ জনবল, জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া ইত্যাদি কারণে ব্যাংকটিতে বছরের পর বছর খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পুঞ্জীভূত লোকসান, মন্দ ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি ঘাটতি এবং সমন্বিত মূলধন ঘাটতি তো রয়েছেই।
অর্থ বিভাগ আরও বলেছে, বিসিবিএল স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি না হওয়ায় অবাধে এর শেয়ার হস্তান্তর সম্ভব নয়। আবার বাজারে ব্যাংকটির শেয়ার ছাড়াও এখন সমীচীন হবে না। কারণ, আর্থিক অবস্থার উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার ছাড়লে ভালো দাম পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে ব্যাপকমাত্রায় যেহেতু পুঞ্জীভূত লোকসান ও কু-ঋণ রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে শেয়ার ছাড়লে উল্টো বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

‘ইউনুস-সংকটের’ সমাধান আফ্রিদি!

তবে কি শহীদ আফ্রিদিকে ওয়ানডে অধিনায়ক ঘোষণা করেই সমাধান হবে ‘ইউনুস-সংকটের’। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড শেষ পর্যন্ত এমনটাই করতে পারে।
তবে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ও ওয়ানডে সহ-অধিনায়ক আফ্রিদি নিশ্চিত করেছেন, বোর্ডের কাছ থেকে অধিনায়কত্বের প্রস্তাব তিনি এখনো পাননি। তবে জানিয়েছেন, দেশের প্রয়োজনে সাড়া দিতে প্রস্তুত তিনি, ‘সহ-অধিনায়ক হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই দলের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়ার জন্য আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আমি অবশ্য আশা করছি, ইউনুসের ব্যাপারটির সমাধান হবে, কারণ সে আমার ভাইয়ের মতো।’ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পারফরম্যান্স পর্যালোচনা সভায় ইউনুস খানের অনুপস্থিতি গুঞ্জনটাকে আরও জোরালো করেছে। এর আগে বিভিন্ন সূত্র যেমন জানিয়েছে, দল নির্বাচনে আরও কর্তৃত্ব এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য অধিনায়ক করা হলেই কেবল দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন ইউনুস।
এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেটের ছোট-বড় যেকোনো সংকটে যাঁর কণ্ঠ সবার আগে শোনা যায়, সেই সরফরাজ নেওয়াজ বলেছেন, ওয়ানডে থেকেই বিদায় নেওয়া উচিত ইউনুসের, ‘টি-টোয়েন্টির মতো ওয়ানডে থেকেও ইউনুসের অবসর নেওয়ার সেরা সময় এখনই। শুধু টেস্টে সাধারণ একজন সদস্য হিসেবে খেলা চালিয়ে যাওয়াটাই ভালো।’ সাবেক এই ফাস্ট বোলার শুধু এটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি, বরাবরের মতোই চাঁছাছোলা সমালোচনা করেছেন ইউনুসের, ‘অধিনায়কত্ব নিয়ে এতসব বিতর্ক পাকিস্তান ক্রিকেটকেই আরও বিভ্রান্ত করছে। পদত্যাগ করে ইউনুস আসলে মানুষের সহানুভূতি আদায় করতে চাইছে এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ব্যর্থতা আড়াল করতে চাইছে। তার নিজেরই বোঝা উচিত, সে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের উপযুক্ত নয়। পিসিবির উচিত, আফ্রিদিকে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে এবং সালমান বাটকে টেস্ট দলের অধিনায়ক করা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পারফরম্যান্সের জন্য ইউনুসের বাদ পড়া উচিত।’

বান্ধবীর কাছে হেরে বিদায় সানিয়ার

জাপান ওপেনে সানিয়া মির্জার মধুচন্দ্রিমার সমাপ্তি ঘটল গতকাল। সেমিফাইনালে প্রিয় বান্ধবী ইতালির ফ্রান্সেসকা শিয়াভনের কাছে হেরে গেছেন ভারতের টেনিস-কন্যা। জাপান ওপেনের সেমিফাইনালে ওঠার পথে সানিয়া হারিয়ে এসেছেন সাহার পিয়ের ও মারিয়ন বার্তোলির মতো খেলোয়াড়কে। তবে কাল বিশ্বের ৬১ নম্বর খেলোয়াড়ের খেলায় সেই ঝলক আর পাওয়া গেল না। র্যাঙ্কিংয়ের ২৬ নম্বর খেলোয়াড়ের কাছে একেবারেই ভেঙে পড়ে হারলেন ২-৬ ও ১-৬ গেমে।
এ নিয়ে এই মৌসুমে তৃতীয় সেমিফাইনালে উঠে তিনটিতেই হারলেন। তবে জাপান ওপেন থেকে তাঁর বাড়তি প্রাপ্তি ১৩০ র্যাঙ্কিং পয়েন্ট আর ১০২০০ মার্কিন ডলার প্রাইজমানি।
অন্যদিকে সাংহাই মাস্টার্স ওপেনের সেমিফাইনালে উঠে গেছেন রাফায়েল নাদাল। পরশুর ম্যাচে যখন ১-১ সেটে সমতা, চোট নিয়ে কোর্ট ছেড়ে যেতে হয় নাদালের প্রতিপক্ষ ইভান লুবিচিচকে।
সাংহাই মাস্টার্স ওপেনের সেমিফাইনালে উঠেছেন নিকোলাই ডেভিডেঙ্কো, নোভাক জোকোভিচ ও ফেলিসিয়ানো লোপেজও।

চ্যাম্পিয়নস লিগে বোমাতঙ্ক

জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, এই তরুণ তাদের অনূর্ধ্ব-২২ দলের ক্রিকেটার। কিন্তু বেঙ্গালুরু পুলিশের দৃষ্টিতে তিনি ‘সন্দেহভাজন’। চ্যাম্পিয়নস লিগে কাল কেপ কোবরাস ও ভিক্টোরিয়া ম্যাচের আগে তাই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেএসসিএ) কমপ্লেক্স থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ওই তরুণকে। শুধু তা-ই নয়, বোমাতঙ্কে পিছিয়ে গিয়েছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের কালকের দুটি ম্যাচও। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ওই ক্রিকেটারকে। আর নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর শুরু হয়েছে প্রথম ম্যাচ।
বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার শঙ্কর বিদারি বলেছেন, শুক্রবার রাতে স্টেডিয়ামের এক কর্মচারীর কাছ থেকেই কিছু একটা আভাস পেয়েছিলেন তাঁরা। সে সূত্র ধরেই কমপ্লেক্সে চালানো হয়েছে তল্লাশি, ‘পুলিশ ওই রুমে ঢোকার পর বোমা খোঁজার যন্ত্রটি একটি ব্যাগের দিকে সংকেত দিচ্ছিল। তবে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তার পরও সতর্কতার কথা ভেবে আমরা ওই ব্যক্তিকে আমাদের হেফাজতে এনেছি।’ পুলিশ ধারণা করেছিল, ওই ব্যাগটি হয়তো বোমা বহনে ব্যবহূত হয়েছে।
কেপ কোবরাস ও ভিক্টোরিয়ার ম্যাচটি স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এ ঘটনার পর দুই দলকেই তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হোটেলে থাকতে বলা হয়েছিল। দর্শকদের স্টেডিয়ামে ঢোকানো হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির পর।
১৭ ওভারে নির্ধারিত ম্যাচে ভিক্টোরিয়া বুশরেঞ্জার্সকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে কেপ কোবরাস। ইনিংসের প্রথম তিন বলেই রব কুয়াইনি ও ব্রাড হজকে আউট করে যে ধাক্কা দিয়েছিলেন মন্ডে জন্ডেকি, তা থেকে আর বের হতে পারেনি বুশরেঞ্জার্স। ম্যাকডোনাল্ডের ২৯ ও হোয়াইটের ২৪ রানে তারা করে ৫ উইকেটে ১২৫ রান। হেনরি ডেভিডসের ৫৪ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে কোবরাস লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ৬ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই। তৃতীয় উইকেটে দুমিনির (১৮*) সঙ্গে ১১.৩ ওভারে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন ম্যাচ-সেরা ডেভিডস।

বিসিসিআইকে কপিলদের তোপ

পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ায় আগুন জ্বলছে পাকিস্তানের ক্রিকেটে। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েও এত দিন শান্তই ছিল ভারতের ক্রিকেটাঙ্গন। তবে রাহুল দ্রাবিড়ের বাদ পড়া এবং বোলিং কোচ ভেঙ্কটেশ প্রসাদ ও ফিল্ডিং কোচ রবিন সিংকে বরখাস্ত করার পর ভারতীয় ক্রিকেটেও এখন বিতর্কের ঝড়। তিনটি সিদ্ধান্তের একটির সঙ্গেও একমত হতে পারছেন না ভারতের সাবেকেরা।
শুধু সহকারী দুই কোচই কেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ব্যর্থতার বলি হলেন—এই প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক ও কোচ কপিল দেব, ‘খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য যদি প্রসাদ ও রবিনকে বরখাস্ত করা হয়, তাহলে তো একই কারণে কারস্টেনকেও বাদ দেওয়া উচিত। তাকেও বাদ দেওয়া হোক! আমরা খেলোয়াড়েরা শ্রমিকের মতো। বড় কর্তারা অফিসে বসে আদেশ করেন আর মাঠে খেলোয়াড় ও কোচদের ঘাম ছুটে যায়। এটাই আমাদের সিস্টেম। দয়া করে আপনারা বসদের কাছে এটা জিজ্ঞাসা করতে পারবেন?’
দুই কোচ বরখাস্ত হওয়ার খবর শুনে সাবেক কোচ মদন লালের প্রথম প্রতিক্রিয়াটি ছিল, ‘এ আর নতুন কী? আমার সঙ্গেও ওরা (বোর্ড) এমন করেছিল। ওরা আসলে এমনই।’ ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সিদ্ধান্তে একটুও অবাক হননি দুই মেয়াদে ভারতের কোচ থাকা অংশুমান গায়কোয়াড়, “আমি জানি না কেন ভেঙ্কি ও রবিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু অবাক হইনি। ১৯৯৯ বিশ্বকাপ থেকে যখন আমরা দেশে ফিরলাম, বিসিসিআইয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আমাকে ডেকে বলল, ‘কপিল দেবের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দাও।’ আমি বললাম, ‘ঠিক আছে স্যার, আপনার যেমন মর্জি।”
এদিকে রাহুল দ্রাবিড়কে যেভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে সেটা ভালো ঠেকেনি সাবেক দুই অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী ও অনিল কুম্বলের। দ্রাবিড়কে বাদ দেওয়ায় রীতিমতো বিস্মিত সৌরভ, ‘আমি জানি না, এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না অন্য কিছু...কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে নির্বাচকেরা পরীক্ষা করতে চাইবেন বলে মনে হয় না। যেটাই হোক, এই সিদ্ধান্তে আমি খুবই অবাক হয়েছি।’ কুম্বলের মতে, আরেকটু সম্মান দ্রাবিড়ের প্রাপ্য ছিল, ‘তার মতো এমন ভাবমূর্তি এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে খেলা কারও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভালো করার পর এভাবে বাদ পড়া উচিত নয়। আমি হলে তাকে দলে রাখতাম।’
এদিকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ এগিয়ে আসছে আর শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই। ব্রেট লি ইতিমধ্যেই ভারতকে ৭-০-তে হোয়াইটওয়াশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। আর ভারতের হয়ে জবাব দিয়েছেন কাঁধের ইনজুরিতে দীর্ঘদিন বাইরে থাকা জহির খান, ‘অস্ট্রেলিয়ানরা এমনই। প্রতিপক্ষ নিয়ে ওরা বড় বেশি কথা বলে। ওদের উচিত অন্যদের নিয়ে মন্তব্য না করে নিজেদের দিকে তাকানো।’ ইনজুরি পুরোপুরি না সারায় প্রথম দুই ওয়ানডের দলে নেই জহির। তবে এই বাঁহাতি পেসার আশা করছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে জ্বলে উঠবেন দলের অন্য পেসাররা।

হেরে গেছে চেলসি

ইংলিশ লিগে চেলসির দুঃসময় কাটেনি। কাল টানা দ্বিতীয় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। অ্যাস্টন ভিলার কাছে চেলসি হেরেছে ১-২ গোলে।
চেলসি শিবিরকে হতাশায় ঢেকে দিতে চার মৌসুমের মধ্যে এদিন প্রথম গোল পেলেন জেমস কলিন। ৫২ মিনিটে তাঁর জয়সূচক গোলটির আগে অ্যাস্টন ভিলাকে সমতায় ফিরিয়েছেন ডানি। এর আগে ১৫ মিনিটে দিদিয়ের দ্রগবার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল চেলসি।
লিগে অ্যাস্টন ভিলার এটি ঘরের মাঠে টানা ষষ্ঠ জয়। আর চেলসির টানা দুটি পরাজয় এল অ্যাওয়ে ম্যাচে।

চীন ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ নির্মাণ করছে কি না যাচাই করবে ভারত

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর কোনো ধরনের বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা চীনের রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখবে ভারত। গত বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। চীন সরকার এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে এলেও এ ব্যাপারে প্রশ্ন তুলছে ভারত। ভারতের আশঙ্কা, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর কোনো বাঁধ নির্মাণ করা হলে তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ২০০৬ সালের নভেম্বরে ভারত ও চীন সরকার আন্তদেশীয় নদীগুলোর প্রবাহ নিয়ে আলোচনার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির ব্যাপারে রাজি হয়। এসব বিষয় নিয়ে এ পর্যন্ত তিনটি বৈঠক হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর কোনো ধরনের বড় আকারের বাঁধ তৈরির পরিকল্পনার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে চীন। তবে ভারত সরকার নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করবে সম্প্রতি তাদের ওই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না।
কর্মকর্তারা জানান, চীনের এই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার বিষয়টি প্রথম ভারত সরকারের গোচরে আসে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে। ২০০৯ সালের এপ্রিলে চীনের অন্যতম বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গেজহুবা করপোরেশনের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, চীনের জাংমু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝামাঝি অঞ্চলে একটি বড় জলবিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের জন্য ১১৪ কোটি ইউয়ানের (চীনা মুদ্রা) সরকারি কাজ পেয়েছে তারা। এ জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ওই এলাকায় তাদের একটি বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জিয়াচা, জোংডা, লেংডা, জিয়েসু ও ল্যাংঝেন অঞ্চলেও বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে চীনের।
এ ছাড়া তিব্বতেও একটি বড় জলবিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের জন্য বাঁধ নির্মাণ করছে বেইজিং। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ওই বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার তিব্বতি বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালান। এতে ছয়জন নিহত হয়। চীন এরই মধ্যে মেকং নদীতে বড় আকারের একটি বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এতে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মতো ভাটির দেশগুলো পরিবেশগত সমস্যার মধ্যে রয়েছে।

পাকিস্তানে সফল হওয়ার পর ভারতে হামলা চালাব

তালেবানের উপর্যুপরি হামলায় পাকিস্তান যখন রীতিমতো পর্যুদস্ত, তখনই সংগঠনটির প্রধান হাকিমুল্লাহ মেহসুদ ঘোষণা দিলেন, পাকিস্তানে চলমান অভিযান সফল হলে তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবে ভারত। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম হলেই তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে হামলা চালাবে।
ব্রিটেনের সংবাদভিত্তিক চ্যানেল স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে পাকিস্তানে তালেবানের প্রধান হাকিমুল্লাহ মেহসুদ এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমরা (পাকিস্তানে) একটি ইসলামি রাষ্ট্র চাই। যদি সেই অভিযানে সফল হই, তাহলে আমরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে অভিযান চালাব।’
স্কাই নিউজ বলেছে, হাকিমুল্লাহ মেহসুদের এই সাক্ষাত্কার তারা সম্প্রতি সংগ্রহ করেছে। হাকিমুল্লাহ সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাসদর দপ্তরসহ পাকিস্তানব্যাপী হামলার দায়দায়িত্বের কথাও স্বীকার করেছেন।
হাকিমুল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছি। কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে কাজ করছে। পাকিস্তানের বাহিনী যদি যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশমতো কাজ করা বন্ধ করে, তাহলে আমরাও লড়াই বন্ধ করব।’
ওয়াজিরিস্তানে গত আগস্টে মার্কিন চালকবিহীন বিমানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাকিস্তানে তালেবানের প্রধান বায়তুল্লাহ মেহসুদ নিহত হন। এর পরপরই সংগঠনটির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন হাকিমুল্লাহ মেহসুদ।
স্কাই নিউজ তাদের খবরে বলেছে, পাকিস্তানের তালেবান তাদের তহবিল সংগ্রহের জন্য মাদক উত্পাদন ও এর ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া তারা আফগানিস্তানের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করেও নিজেদের খরচ চালাচ্ছে।
আগস্টে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বায়তুল্লাহ মেহসুদ মারা যাওয়ার পর তালেবানের কমান্ডাররা ঘোষণা দিয়েছিলেন, একজন বায়তুল্লাহকে মেরে তালেবানকে দমানো যাবে না। এর পর হাকিমুল্লাহ মেহসুদের দ্রুত আবির্ভাবের ভেতর দিয়ে তালেবান কমান্ডারদের সেই দাবিই সত্য প্রমাণিত হলো। তালেবানের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই হাকিমুল্লাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, বায়তুল্লাহকে মারার প্রতিশোধ তিনি নেবেনই। এরই মধ্যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এক অভিযানে হাকিমুল্লাহ মারা গেছেন বলে খবর চাউর হয়ে যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ হয়। তারা বলেছিল, হাকিমুল্লাহ মেহসুদ মারা যাননি। এর কয়েক দিন পরই হাকিমুল্লাহ সাংবাদিকদের ডেকে জানিয়ে দেন, তিনি জীবিত আছেন। তাঁর এ ঘোষণার পরপরই পাকিস্তানজুড়ে শুরু হয় তালেবানের হামলা।

সমুদ্রের নিচে মালদ্বীপ মন্ত্রিসভার বৈঠক

বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে জনমত গঠনের লক্ষ্যে সাগর জলের ছয় মিটার নিচে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। এই বৈঠকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিশ্বব্যাপী ক্ষতিকর কার্বন উদিগরণের বিরুদ্ধে এক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রিসভার সদস্যরা পানির নিচের এই প্রতীকী বৈঠককে সামনে রেখে পানির নিচে ডুব দেওয়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যাপারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। মালদ্বীপ সরকারের মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, তাঁরা এই উদ্যোগকে তাঁদের ব্যস্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যে আনন্দের উপলক্ষ হিসেবেই নিয়েছেন। তবে এই আনন্দ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ হিসেবে পরিচিত মালদ্বীপ সমগ্র বিশ্বকে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেবে। তবে এই বৈঠকের সময় প্রত্যেক মন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন একজন করে ডুব-সাঁতার বিশেষজ্ঞ।
এদিকে, সমুদ্রের নিচের এই বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না মালদ্বীপের দুইজন মন্ত্রী। এদের মধ্যে একজন ডাক্তারি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার কারণে এবং আরেকজন রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে থাকার কারণে এই ঐতিহাসিক বৈঠকে যোগ দিতে পারছেন না।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ইতিমধ্যেই সমুদ্রের পানির নিচে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মালদ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র সাত ফুট ওপরে অবস্থিত। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে ভারত মহাসাগরের জলরাশির বুকে যেকোনো সময় মালদ্বীপের হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তামিলনাড়ুতে বাজির গুদামে আগুন লেগে ৩২ জন নিহত

আলোর উত্সব দেওয়ালি উদ্যাপনের আগের দিন গতকাল শুক্রবার রাতে ভারতের তামিলনাড়ুর একটি বাজির গুদামে আগুন লেগে ৩২ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরও ১০ জন।
তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাই শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরের থিরুভাল্লুর জেলার পাল্লিপট অঞ্চলের একটি বাজির গুদামে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পাল্লিপট অন্ধ্র প্রদেশের সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় অবস্থিত। এই গুদামে রাখা প্রচুর বাজি কেনার জন্য গতকাল সন্ধ্যার পর এখানে প্রচণ্ড ভিড় জমে। হঠাত্ গুদামে আগুন লাগলে গুদামের ভেতর থাকা অনেকেই বের হতে না পেরে আগুনে পুড়ে মারা যান। নিহত ও আহতদের সরকারি তিরুত্তালি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ বলছে, হতাহতদের বেশির ভাগই অন্ধ্র প্রদেশের চিতোর জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত তারা ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছে। এখন ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার অভিযান চলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। আগুন লাগার পর এলাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লাফিয়ে বাড়ছে কানাডীয় ডলারের মূল্য by সুব্রত নন্দী, টরন্

আমেরিকান ডলারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কানাডীয় ডলারের মূল্য। বৃহস্পতিবার মূল্যমানে মার্কিন ডলারকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল কানাডীয় ডলার ‘লুনি’। বাংলাদেশি টাকার সঙ্গে কানাডীয় ডলারের বিনিময়মূল্য ৬৭ দশমিক ৫০ টাকা। গত ১৬ মাসের মধ্যে হঠাত্ করে লুনির এ মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য লুনির মূল্যবৃদ্ধি ভালো খবর হলেও এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর কানাডায় কৃষিপণ্য ও শিল্প উত্পাদন মুখ থুবড়ে পড়বে।’ মুদ্রার মান বৃদ্ধিতে কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব কানাডা’র গভর্নর ম্যাক কার্নিও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কিছুদিন আগেও উপনির্বাচনের সময় কানাডার বিরোধী দলগুলোর চ্যালেঞ্জের কারণে হুমকির মুখে ছিল স্টিফেন হারপারের সংখ্যালঘু সরকার। এর মধ্যে কানাডীয় ডলারের মূল্যবৃদ্ধি হারপারের সরকারের জন্য নতুন শঙ্কার জন্ম দিতে পারে। তবে এ ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে হারপার বলেন, ‘সবাই জানে, কানাডার অর্থনীতি বিশ্বের যেকোনো উন্নত দেশের তুলনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে।’ তবে ব্যাংক অব কানাডা এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, কানাডীয় ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি হুমকির মুখে রয়েছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর কানাডীয় শিল্প-কারখানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে; কর্মরত অনেকে চাকরি হারাবে। কানাডায় বেকারত্বের হার প্রায় নয় শতাংশ।
তবে কানাডীয় ডলারের এ মূল্যবৃদ্ধিতে ওই দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ও ভারতীয়দের মধ্যে দেখা গেছে খুশির আভা। বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতিমধ্যেই দেশে টাকা পাঠানোর হিড়িক পড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তবর্ণ বিয়ের ব্যাপারে এক বিচারকের ‘না’

যুক্তরাষ্ট্রের লুসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একজন শ্বেতাঙ্গ বিচারক কেইথ বার্ডওয়েল বলেছেন যে তিনি শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ বিয়ে সমর্থন করেন না। তিনি সম্প্রতি এ রকম শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ একটি বিয়ের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে ‘না-সূচক’ রায় দিয়েছেন।
বার্ডয়েল অবশ্য এ জন্য নিজেকে একজন বর্ণবাদী মানুষ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। তিনি তাঁর পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, আন্তবর্ণ বিয়ে সাধারণত সুখের হয় না। তাই তিনি এ রকম আন্তবর্ণ বিয়ের লাইসেন্স প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে রায় দিয়েছেন বলে জানান। বার্ডওয়েল আরও বলেন, ‘আমার প্রচুর কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধু-বান্ধব রয়েছেন। আমার বড়িতেও রয়েছে তাঁদের অবাধ বিচরণ; এমনকি তাঁরা আমার টয়লেটও ব্যবহার করেন। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি তাঁদের আর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই মনে করি। আন্তবর্ণ বিয়ের ব্যাপারে আমি কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ মানুষের পরামর্শ গ্রহণ করেছি। তাঁরা সবাই মনে করেন আন্তবর্ণ বিয়ে কখনোই ভালো কোনো ফল বয়ে আনে না।’
আন্তবর্ণ বিয়েতে সন্তান নিয়েও জটিলতা তৈরি হয় বলে মনে করেন বার্ডওয়েল। বার্ডওয়েল বলেন, ‘এ ধরনের বিয়েতে সন্তানটির জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে।’ তিনি তাঁর বিচারক জীবনে চারটি আন্তবর্ণ বিয়ের লাইসেন্স প্রদানে না-সূচক রায় দিয়েছেন বলে জানান। এই চারটি আন্তবর্ণ বিয়ের প্রতিটির পাত্রপাত্রীই গত দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে তাঁর কাছে এসেছে।
এদিকে আন্তবর্ণ বিয়ের লাইসেন্স না পাওয়া ৩০ বছর বয়স্ক বেথ হামফ্রে ও ৩২ বছর বয়সী টেরেন্স ম্যাককে এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টে এর বিরুদ্ধে রিট করার কথা জানান। তাঁরা মনে করেন, তাঁদেরকে এই আন্তবর্ণ বিয়ের লাইসেন্স না দেওয়ার মধ্য দিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ উভয় বর্ণের মানুষের মধ্যে বৈষম্যকে উত্সাহিত করছেন বিচারক কেইথ বার্ডওয়েল।

মোহামেডানের সামনে নির্ভার ফেনী সকার

দু দলের প্রথম ম্যাচটায় মোহামেডান তাদের উড়িয়ে দিয়েছিল ৪-০ গোলে। কিন্তু দ্বিতীয়বার আবার যখন মুখোমুখি দু দল—প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। এটি সেমিফাইনাল, ফাইনালে ওঠার লড়াই।
আজকের এই ম্যাচের আগে ফেনী সকারই বেশি নির্ভার। তাদের হারানোর কিছু নেই। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি দলের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দাঁড়ানোটাই নবাগত দলটির জন্য অনেক কিছু। এরপর যদি কিছু আসে তা তো হবে বাড়তি প্রাপ্তি। গতবারের চ্যাম্পিয়নরাই বরং একটু চাপে আছে বলে মনে হলো। শেষ আটের বাধাটা পেরোনোর কথা ভেবেই বাড়তি সতর্ক হতে হচ্ছে মোহামেডানকে। কোয়ার্টার ফাইনালে নারায়ণগঞ্জের শুকতারা যুব সংসদ তাদের কাছে হার মেনেছিল টাইব্রেকার নামের ভাগ্য পরীক্ষায়।
তবে মোহামেডান কোচ মারুফুল হক অবশ্য চাপটাপ নিয়ে বেশি ভাবছেন না, ‘শেষ ম্যাচে আমাদের সমস্যা ছিল। খেলোয়াড়েরা সেদিন ভালো খেলতে পারেনি। আমার দলে সব বিভাগেই কোয়ালিটি প্লেয়ার আছে। তাই দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী আমি।’
ফেনী সকারের কোচ মিলন মোল্লা পুরো শক্তির দলকে আজ খেলাতে পারছেন না। দুই উইং ব্যাক মনু ও জাহিদ আজ খেলতে পারছেন না দুই হলুদ কার্ডের কারণে। দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে না পাওয়াটা বেশ হতাশার। তবে মনের মধ্যে একটা স্বপ্ন তাঁদের আছেই। মুখ ফুটে যদিও জয়ের কথা বলতে চাইলেন না মিলন, ‘আগের ম্যাচের চেয়ে আজ আমরা আরও ভালো খেলতে চাই।’ ফেনী সকারের কোনো বিদেশি খেলোয়াড় নেই। তাদের বড় ভরসা মোনায়েম হোসেন রাজু। টুর্নামেন্টের ৫ গোল করা এই স্ট্রাইকারের দিকেই তাকিয়ে আছেন সকারের কোচ। আজ সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

এগিয়ে গেল আনসার

জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারে মূল লড়াইটা হচ্ছে আনসার ও বিকেএসপির মধ্যে। প্রথম দিন বিকেএসপি জিতেছিল ১৫টি সোনা, আনসার ১৪টি। কাল ১৭টি সোনা জিতে বিকেএসপিকে ছাড়িয়ে গেল আনসার। কাল বিকেএসপি জিতেছে ১৪টি সোনা। দু দলের সোনার লড়াইয়ে আনসার এখন ৩১-২৯-এ এগিয়ে।
পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে কাল পুল মাতিয়েছে আনসারের জুয়েল আহমেদ, নাজমা খাতুন, ববিতা খাতুনেরা। নতুন রেকর্ড হয়েছে ৬টি। সব মিলিয়ে দু দিনে মোট রেকর্ড হলো ১৩টি। ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ১৫-১৭ বছর বয়সীদের গ্রুপে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ আনসারের জুয়েল আহমেদ (২ মিনিট ২১.২৮ সেকেন্ড)। জুয়েলের দিনের দ্বিতীয় রেকর্ডটি ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে (৫ মিনিট ১১.১৮ সেকেন্ড)। একই গ্রুপের ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে রেকর্ড গড়েছেন বিকেএসপির পলাশ চৌধুরী। ২ মিনিট ১০.৭১ সেকেন্ড সময় নেন তিনি। ২০০ মিটার ব্যাক স্ট্রোকে ১৮-২০ বছরের মেয়েদের রেকর্ডটি আনসারের ববিতার (৩:০১.৯১ সেকেন্ড)। আর মেয়েদের ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে ১১-১২ বছর বয়সী গ্রুপে ২ মিনিট ৩৬.৯৯ সেকেন্ডের নতুন রেকর্ড একই দলের নাজমা খাতুনের।
আজ প্রতিযোগিতার শেষ দিন।

মেসি নিজেও খুশি নন

গত মৌসুমে স্প্যানিশ লিগ, কাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলে করেছিলেন ৩৮টি গোল। দুর্দান্ত সেই ফর্মটা লিওনেল মেসি ধরে রেখেছেন এবারও। লিগে এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ৫ গোল তাঁর। তিনটি গোল করিয়েছেনও। সব মিলে ৯ ম্যাচে ৮ গোল। সেই মেসি যখন বার্সেলোনা জার্সি খুলে আকাশি-নীল পরে নেন, কেমন যেন ফ্যাকাসে দেখায় তাঁকে! জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মেসি সর্বশেষ গোল করেছিলেন সাত মাস আগে। বাছাইপর্বে সর্বশেষ সাত ম্যাচে এরপর গোলের দেখা পাননি। ২০০৭ কোপা আমেরিকা কিংবা গত বেইজিং অলিম্পিকে যে দুর্দান্ত প্লে-মেকার মেসিকে খুঁজে পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, সেই মেসিও হারিয়ে খুঁজছেন নিজেকে।
ভালো খেলাটা মেসি বার্সার জন্য জমিয়ে রাখেন—এমন একটা সমালোচনাও শুনতে হচ্ছে তাঁকে। কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনা তাঁকে আগলে রাখছেন। তবে মেসি নিজেও আর্জেন্টিনার পক্ষে তাঁর পারফরম্যান্সে খুশি নন, ‘আমি যেমনটা আশা করেছিলাম, তেমনটা হয়নি।’

আন্তওয়ার্ড ফুটবল ফাইনালে দর্শকের ভিড়

চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম ফুটবলে এত দর্শক বহু দিন দেখেনি। কত দিন দেখেনি—এটা বের করতেও অনেক হিসাব-নিকাশ করতে হলো। তবে এটা নিশ্চিত, গত মে মাসে পিসিএল টোয়েন্টি-২০ ক্রিকেটের ফাইনালে এত দর্শক দেখা যায়নি। বি-লিগের খেলায় যেখানে গ্যালারি শূন্য থাকে, সেখানে অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সী কিশোরদের খেলায় এত দর্শক স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশা জাগিয়েছে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে আগ্রাবাদ ওয়ার্ড টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পাঠানটুলি ওয়ার্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র থাকা ম্যাচে ১৮ মিনিটে আগ্রাবাদের মাসুদ রানা গোল করে। ২৯ মিনিটে তা পরিশোধ করে রিয়াজ। খেলা শেষে সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী পুরস্কার বিতরণ করেন।

ক্লার্কেই আস্থা অস্ট্রেলিয়ার

ব্যাপারটা অনুমিতই ছিল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ঘোষণা শুধু সেটিকেই বাস্তবে রূপ দিল। অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হয়েছে টেস্ট ও ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে। চমক অবশ্য সহ-অধিনায়কত্বে। ধারণা করা হয়েছিল এই দায়িত্ব পেতে পারেন ব্র্যাড হাডিন বা মাইকেল হাসি। তবে পেয়েছেন ভিক্টোরিয়া অধিনায়ক ক্যামেরন হোয়াইট।

ব্রাজিলের গা ঘেঁষে স্পেন

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ব্রাজিল। তবে ব্যবধান আরও কমিয়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে এখন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। গত দুই ম্যাচে ব্রাজিলের হার ও ড্র এবং স্পেনের দুটি জয়ে পয়েন্টের ব্যবধান এখন মাত্র ৩। টানা দুটি জয়ে দুই ধাপ এগিয়ে আর্জেন্টিনা এখন ৬ নম্বরে। ১৭ নম্বর থেকে শীর্ষ দশে ফিরেছে পর্তুগাল। আর ৬ থেকে ১২-তে নেমে গেছে রাশিয়া।
এই মাসের র্যাঙ্কিংয়ের বাড়তি একটি গুরুত্ব ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের প্লে-অফের ড্রয়ের জন্য। অনুমিতভাবেই এই ড্রয়ে এক ভাগে থাকছে ফ্রান্স (৯), পর্তুগাল (১০), রাশিয়া (১২) ও গ্রিস (১৬)। আরেক ভাগে আয়ারল্যান্ড (৩৪), বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (৪২) ও স্লোভেনিয়া (৪৯)। ১৯ অক্টোবর জুরিখে হবে প্লে-অফের ড্র।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশ
১. ব্রাজিল ২. স্পেন ৩. নেদারল্যান্ড ৪. ইতালি ৫. জার্মানি ৬. আর্জেন্টিনা ৭. ইংল্যান্ড ৮. ক্রোয়েশিয়া ৯. ফ্রান্স ১০. পর্তুগাল।

ম্যারাডোনাকে পেলের শুভেচ্ছা

পেলে বনাম ম্যারাডোনার অঘোষিত লড়াইটা এমনই এক মাত্রা পেয়েছে, এই দুজন যেন দুজনের চিরশত্রু। একজন আরেকজনের অমঙ্গলই কামনা করেন সব সময়! সেই ধারণা ভেঙে দিলেন পেলে। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে উঠে যাওয়ায় শুভকামনা জানিয়েছেন ব্রাজিলের জীবন্ত কিংবদন্তি, ‘আমি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নই। ওরা আমার বন্ধু।’
আর্জেন্টিনার অনিশ্চয়তা ঘেরা সময়টায় আরও অনেকের মতো পেলেও প্রার্থনা করেছেন, এই ঘোর দুঃসময় যেন কেটে যায় তাদের। যে যা-ই বলুক, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে উঠবে—এই আশা পেলে কখনোই ছাড়েননি বলে জানিয়েছেন, ‘এই ম্যাচের আগেই আমি বলেছিলাম, আর্জেন্টিনা না থাকলে বিশ্বকাপের আসল মজাটা থাকবে না।’ ম্যারাডোনাকেও শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি, ‘আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে উঠে যাওয়ায় ম্যারাডোনার জন্য ভালো হলো। ফুটবল যারা ভালোবাসে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে থাকবে না—এমনটা তারা ভাবতেই পারে না।’

ম্যারাডোনাকে সংবাদমাধ্যমের পাল্টা আঘাত

পাল্টা তোপ দাগলেন সাংবাদিকেরা। উরুগুয়ের বিপক্ষে জেতার পর সংবাদমাধ্যমের ওপর পুষে রাখা ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সমালোচনা করতে গিয়ে সীমা ছাড়িয়ে অশ্লীল গালিগালাজ করেছিলেন। ম্যারাডোনার কথাবার্তার বেশ কিছু প্রকাশেরও অযোগ্য! সে সবেরই পাল্টা উত্তর দিল আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম।
সেদিন ম্যারাডোনার তির্যক বাক্যবাণকে ‘ঘৃণার উত্সব’ শিরোনাম দিয়ে লা ন্যাসিওন লিখেছে, ‘ম্যারাডোনা আদ্যন্ত ক্রুদ্ধ ছিলেন, এর সঙ্গে ছিল বাড়তি উত্তেজনা। সব মিলে যেটি সাংবাদিকদের প্রতি বিদ্বেষের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।’ ম্যারাডোনার এই ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত নেতিবাচক ফল দেবে বলে মনে করছে পত্রিকাটি, ‘তাঁর আচরণ ছিল উসকানিমূলক, ঔদ্ধত্যপূর্ণ। এই অশ্লীল আচরণ বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হবে, যেটি লজ্জার মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলবে। দল আরও ধ্বংসের দিকে এগোবে।’
শুরুতে ম্যারাডোনাকে কোচ বানানোর সিদ্ধান্তটিকে স্বাগতই জানিয়েছিল আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয় দিয়ে দারুণ অভিষেকও হয়েছিল তাঁর। কিন্তু দ্রুতই এই মধুচন্দ্রিমা শেষ হয়ে যায়। বিশেষ করে বলিভিয়ার কাছে ১-৬ গোলে হারের লজ্জার পর সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি হয়। এরপর ইকুয়েডর, ব্রাজিল আর প্যারাগুয়ের কাছে টানা তিনটি পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনা পৌঁছে গিয়েছিল খাদের কিনারে। ১৯৭০ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে বাদ পড়ার শঙ্কা জেগেছিল আর্জেন্টিনার। পেরুর বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জয়ের পর উরুগুয়েকে তাদের মাটিতে হারিয়ে এসে মৃতপ্রায় স্বপ্নটা বাঁচিয়ে তুলেছে আর্জেন্টিনা।
উরুগুয়ের বিপক্ষে জয় সংবাদমাধ্যমকে হয়তো শান্তই রাখত। কিন্তু ম্যারাডোনাই উসকে দিয়েছেন তাদের। সেদিন বলেছিলেন, ‘এই জয় সাংবাদিক বাদে সব আর্জেন্টাইনের জন্য। ওরা আমাকে ধুলো-ময়লার মতো বিবেচনা করেছে। কিন্তু আমরা সসম্মানে বিশ্বকাপে উঠে গেছি। আমি এটা আর্জেন্টিনার প্রতিটি মানুষ আর আমার পরিবারকে উত্সর্গ করছি। কিন্তু একটা অংশ এর যোগ্য নয়। কারণ তারা আমাকে আবর্জনার মতো মূল্যায়ন করেছে।’
ম্যারাডোনার এমন আচরণকে অযৌক্তিক মনে করছে ক্লারিনও। আর্জেন্টিনার সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকটি লিখেছে, ‘যে রাতে তিনি তাঁর লক্ষ্য অর্জন করলেন, সে রাতে নিজেকে শান্ত আর মুহূর্তটা উপভোগ করার বদলে তিনি তাঁর আগ্রাসন উগরে দিলেন।’
এদিকে লা ন্যাসিওন বৃহস্পতিবার তাদের অনলাইন জরিপে দেখিয়েছে, এখনো ৭৯ শতাংশ পাঠক মনে করে, ম্যারাডোনাকে ছাঁটাই করাই হবে দলের জন্য মঙ্গলজনক। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) ওপর সংবাদমাধ্যম চাপও তৈরি করেছে। কিন্তু এএফএ সভাপতি হুলিও গ্রন্ডোনার এখন পর্যন্ত কোনো কোচকে ছাঁটাইয়ের রেকর্ড নেই। এবারও তা হচ্ছে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ওই মুহূর্তে ম্যারাডোনার এমন আচরণের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন গ্রন্ডোনা, ‘উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মানুষ রাগের মাথায় এমন অনেক কিছু করে বসে যার জন্য পরে সে অনুতপ্ত হয়। এমনটা সবারই হয়। সবার জীবনেই তা ঘটে। এমনটা অনেক সময় হয় যখন আপনি গাড়ি চালান। এটাই জীবন।’
ম্যারাডোনাকে ছাঁটাই করা নয়, বরং দলের উন্নতিতে কাজ করার জন্য সবাইকে মনোযোগ দিতে বলেছেন গ্রন্ডোনা, ‘আমি কোনো পরিবর্তনের কথা ভাবছি না। আমাদের মতো ডিয়েগোরও উন্নতি করার ক্ষমতা আছে।’
সব ভেদাভেদ ভুলে দলের উন্নতির জন্য সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনও। আর্জেন্টিনার সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই সেনানি বলছেন, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু বাজেভাবে হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক একটা আর্জেন্টিনা দলকে দেখতে চাইলে অবশ্যই আমাদের কিছু পরিবর্তন আনতে হবে, যে দলটা খেলা উপভোগ করবে, যন্ত্রণা নয়।’