Sunday, August 15, 2010
অবৈধ ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ by বদিউল আলম মজুমদার
সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক ফরমান জারি করে অতীতে সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে, আর সে জন্যই সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের বুকে যাতে সামরিক শাসনের জগদ্দল পাথর আর চেপে বসতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতেই এ কমিটি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে এটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে এ বিষয়ে তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে (প্রথম আলো, ২১ জুলাই ২০১০)।
তাই এটি সুস্পষ্ট যে পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের আরেকটি অন্যতম উদ্দেশ্য হলো অবৈধ ক্ষমতা দখল রোধ, যাতে ভবিষ্যতে ক্ষমতা পরিবর্তন হয় বুলেটের পরিবর্তে ব্যালটের মাধ্যমে। অনেকে জোর করে ক্ষমতা দখলকে দেশদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য করে কঠোর শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধানেরও প্রস্তাব করছেন। পঞ্চম সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত রায়ে আদালতও অবৈধ ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।
অবশ্যই সামরিক বাহিনী কিংবা তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় অবৈধ ক্ষমতা দখল বন্ধ করতে হবে। সংবিধানকে সমুন্নত রেখে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। কমিটি এ ব্যাপারে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর সংবিধান, যেগুলোতে এ ধরনের বিধান রয়েছে, পর্যালোচনা করে দেখার কথা ভাবছে বলে আমরা সংবাদপত্রে পড়েছি। কিন্তু সংবিধানে কঠোর শাস্তির বিধান, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে কি তা বন্ধ করা যাবে?
এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো পর্যন্ত যেতে হবে না। আমরা পাকিস্তানের উদাহরণ টানতে পারি। জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে ১৯৭৩ সালে প্রণীত পাকিস্তানের সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘৬.(১) কোনো ব্যক্তি যে সংবিধানকে ক্ষমতাবলে বাতিল করে, পরিবর্তন করে, অথবা জোর করে বা শক্তি প্রদর্শন করে বা অন্য কোনো অসাংবিধানিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন করার প্রচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র করে, সে ব্যক্তি চরম দেশদ্রোহিতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হবে। (২) কোনো ব্যক্তি (১) ধারায় উল্লিখিত কার্যক্রমের সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান করলে, সে ব্যক্তিও একইভাবে চরম দেশদ্রোহিতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হবে। (৩) সংসদ আইনের মাধ্যমে চরম দেশদ্রোহিতার শাস্তি নির্ধারণ করবে।’ দেশদ্রোহিতার শাস্তি সাধারণত মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্তু ১৯৭৩ সালের সংবিধান রচনার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী পাকিস্তানি জেনারেল জিয়াউল হকের মৃত্যুদণ্ড হয়নি। বরং মৃত্যুদণ্ড হয়েছে সংবিধান প্রণয়নকারী জনাব ভুট্টোর। তাই কঠোর শাস্তির বিধান করে অবৈধ ক্ষমতা দখল এড়ানো যায় না। এ ছাড়া জেনারেল পারভেজ মোশাররফ এখনো বহালতবিয়তেই আছেন। অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা দখলকারীরা সংবিধান পড়েও ক্ষমতা দখল করেন না।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও বাংলাদেশের উচ্চ আদালতই বহুবার সামরিক শাসনের বৈধতা দিয়েছেন, যদিও আমাদের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় অবৈধ ক্ষমতা দখলকে চিরতরে বিদায় জানানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে এবং বিচার বিভাগের অতীতের ভুল স্বীকার করেছে। আমরা আদালতের এ আকাঙ্ক্ষাকে সাধুবাদ জানাই। প্রসঙ্গত, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক চোরাগলি আছে, যা ব্যবহার করে বিচারকেরা অতীতে সামরিক সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, সময়ের প্রয়োজনীয়তা, রাজনৈতিক প্রশ্ন, সফল বিপ্লব মার্জনা প্রদান ইত্যাদি যুক্তি কাজে লাগিয়ে তাঁরা জবরদখলদারদের কার্যক্রমকে সমর্থন দিয়েছেন।
আমাদের অতীতের দিকে তাকালে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয় যে অধিকাংশ অবৈধ ক্ষমতা দখলের জন্য দখলকারীরা যতটুকু দায়ী, রাজনীতিবিদেরা তার চেয়ে কম দায়ী নন। রাজনীতিবিদেরাই অনেক ক্ষেত্রে দখলকারীদের উৎসাহিত করেছেন এবং প্রশ্রয় দিয়েছেন। সংসদে আইন পাস করে তাঁদের বৈধতা দিয়েছেন। রাজনীতিবিদদের মদদ ও সহায়তা ছাড়া অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা জোর করে ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে না, কেড়ে নিলেও টিকে থাকতে পারে না। এ ছাড়া আমাদের দেশে সামরিক শাসক কিংবা তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না, যার প্রমাণ জেনারেল এরশাদ, যিনি বর্তমান জোট সরকারেরই শরিক। শুধু তা-ই নয়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁকে নিয়ে অনেক অনৈতিক খেলাও খেলা হয়েছে।
আর রাজনীতিবিদেরাই তাঁদের সীমাহীন দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন, স্বার্থপরতা, সংবিধান ও আইনের লঙ্ঘন, দুঃশাসন এবং সাধারণ জনগণের অধিকার হরণ ও বঞ্চনার মাধ্যমে যে বিষবৃক্ষ রোপণ করেন, তারই বিষফল অবৈধ ক্ষমতা দখল। এ ছাড়া তাঁদের যথেচ্ছাচারের কারণে সৃষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম দুরবস্থায়ও অবৈধ ক্ষমতা দখলকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়লে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও ভেঙে পড়ে, যা অবৈধ ক্ষমতা দখলের পথ সুগম করে। রাজনীতিকদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, হানাহানি, চতুর্যপূর্ণ আচরণ ও মৌলিক বিষয়ে সমঝোতার অভাবও অগণতান্ত্রিক পন্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক হয়েছে। উপরন্তু অস্ত্রের মুখে অবৈধ ক্ষমতা দখল রাজপথকেন্দ্রিক, অনিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিরই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি।
উদাহরণস্বরূপ, ১১ জানুয়ারি ২০০৭-এর ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটের দিকে তাকানো যাক। সম্প্রতি ব্যারিস্টার রফিকুল হক চারজন বিএনপি নেতাকে ওই দিনের দুঃখজনক ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, তাঁরাই মূলত সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর পেছনে ছিলেন, যার মাধ্যমে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানো হয়, যাতে বিচারপতি কে এম হাসান পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারেন। আমার মনে হয়, শুধু ওই একটি সিদ্ধান্তই নয়, গত জোট সরকার আরও অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছিল, যা পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই ভেঙে পড়তে সহায়তা করেছিল। যেমন—সংবিধানে নির্ধারিত সব বিকল্প নিঃশেষ না করে রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিনের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ, তাঁর প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণের পর হাইকোর্টে দায়ের করা মামলা প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালনা করতে না দেওয়া, নির্বাচন কমিশনে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দান, ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটারের ছড়াছড়ি, প্রশাসনের চরম দলীয়করণ ইত্যাদি। বলাবাহুল্য যে এগুলো করা হয় একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতায় পুনরায় অধিষ্ঠিত হওয়া নিশ্চিত করতে। আর তা করা হয় জোট সরকারের আমলে সৃষ্ট লুটপাটতন্ত্র অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে।
এসব অপকর্মের ফলে নির্বাচন কমিশন তার কার্যকরতা হারিয়ে ফেলে এবং কমিশন চরম আস্থার সংকটে নিপতিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুরোপুরি দলীয় সরকারে পরিণত হয় এবং অকার্যকর হয়ে পড়ে। উচ্চ আদালত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে অপারগ হয়ে পড়ে। এসব প্রতিষ্ঠানই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার খুঁটি হিসেবে কাজ করে। আর খুঁটি ভেঙে পড়লে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে বাধ্য। ১১ জানুয়ারি তা-ই ঘটেছিল। একটি বেলুনকে ক্রমান্বয়ে ফুলাতে থাকলে যেমন এটি একসময় ফুটে যেতে বাধ্য, তেমনিভাবে সীমাহীন ম্যানিপুলেশনের কারণে আমাদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিও ভেঙে পড়েছিল। অন্যভাবে বলতে গেলে, জোট সরকারের আমলের সব অপকর্মের কারণে নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন সম্ভব ছিল না, সে কারণেই ২২ জানুয়ারি তারিখের নির্ধারিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
প্রকৃতিতে যেমন শূন্যতা বিরাজ করে না, তেমনিভাবে রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রেও তা বজায় থাকতে পারে না। কারণ রাষ্ট্র একটি স্থায়ী সত্তা। তাই ১১ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখে সেনাসমর্থিত একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে, আমাদের মধ্যে হয়তো গৃহযুদ্ধ বেধে যেত, যার ফলেও নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন করা সম্ভব হতো না। অর্থাৎ জোট সরকারের সব অন্যায়, অপকর্ম ও অনৈতিক ম্যানিপুলেশনই ১১ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখে অনুষ্ঠিত ক্ষমতা বদল ও পরবর্তীকালে নির্বাচন স্থগিতের জন্য মূলত দায়ী। আর সরকারবিরোধীদের অনিয়মতান্ত্রিক ও সহিংস আন্দোলন বারুদস্তূপে জ্বলন্ত দেশলাইয়ের কাঠি ছুড়ে দেওয়ারই কাজ করেছে।
একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন—পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বারবার সামরিক সরকার এসেছে, কিন্তু ভারতে তা ঘটেনি কেন? এর কারণ হলো, ১৯৪৭ সালের পর ভারতে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়—স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন ইত্যাদি—যেগুলো তাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। এ ছাড়া ভারতে একটি অতি শক্তিশালী নাগরিক সমাজ বিরাজমান, যা রাজনীতিবিদদের বাড়াবাড়ি প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
এ ছাড়া আমাদের রাজনীতিবিদেরা অতীতে সংবিধানকে পদদলিত এবং আদালতের রায় অমান্য করেতেও দ্বিধা করেননি। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের সংবিধানে (অনুচ্ছেদ ৫৯) প্রশাসনের সর্বস্তরে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো সরকারই সব স্তরে তা করেনি। এমনকি উচ্চ আদালতের রায়ও তাঁরা নির্বিচারে উপেক্ষা করেছেন। আইন বাস্তবায়নও তাঁরা করেন পছন্দমাফিক। তাই আইনের শাসন আমাদের নাগরিকদের জন্য বহুলাংশে মরীচিকাসম।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে অনেক অঙ্গীকারও আমাদের রাজনীতিবিদেরা অতীতে করেছেন, যা তাঁরা রক্ষা করেননি। এর একটি বড় উদাহরণ হলো নব্বইয়ের তিনজোটের রূপরেখা। ওই রূপরেখার মাধ্যমে আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অনেকগুলো সংস্কারের অঙ্গীকার করেছিল। তাঁরা অঙ্গীকার করেছিলেন জাতীয় সংসদকে সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার এবং নির্বাচিত সরকারকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া, পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমেই যা কার্যকর হয়ে গিয়েছিল, দুর্ভাগ্যবশত অন্য সবগুলো অঙ্গীকারই তাঁরা ভঙ্গ করেন। শুধু তা-ই নয়, এমনকি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানেও নির্বাচিত সরকার পরবর্তীকালে ব্যর্থতা প্রদর্শন করেছিল। বিদেশি মধ্যস্থতাকারী এনেও আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পদ্ধতি সম্পর্কে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি। মনে আছে কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে স্যার নিনিয়ন স্টিফেনের দূতিয়ালির কথা!
আমাদের রাজনীতিবিদদের অনেকের অসদাচরণ এবং স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ হতে অনীহাও আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অতীতে সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত এখনো এ অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। আমাদের সংসদ সদস্যরা এখনো সম্পদের হিসাব দিতে নারাজ, তাঁরা নিজেদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করে নিজস্ব স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রকাশ করতে অসম্মত। তাঁরা দেশের অসংখ্য দারিদ্র্যপীড়িত ও নগ্নভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা না ভেবে নিজেদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি, আবাসিক এলাকায় প্লটসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতেই লিপ্ত। উল্লেখ্য যে সম্পদের হিসাব প্রদান ও আচরণবিধি প্রণয়নের অঙ্গীকার দিনবদলের সনদেও অন্তর্ভুক্ত আছে।
পরিশেষে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতা দখলকে দেশদ্রোহিতা হিসেবে ঘোষণা করে এর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান করা যেতেই পারে—এ ব্যাপারে কারোরই আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে, জনপ্রিয় কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই, এখন ‘শুধু সংবিধান সংশোধন নয়, প্রয়োজন রাজনীতিকদের সংশোধন’ (প্রথম আলো, ২৩ জুলাই, ২০১০)। বস্তুত তাঁদের সদাচরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রীতি-নীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনই অবৈধ ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে সর্বাধিক কার্যকর রক্ষাকবচ হতে পারে। এ ছাড়া আমাদের দণ্ডবিধির ১২৪ ও ১২৪ক ধারায় রাষ্ট্রপতি বা সরকারের আইনানুগ ক্ষমতা প্রয়োগে বাধাদান এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা এখনো ব্যবহার করা যায়।
ড. বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক)।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোজার ঐতিহাসিক পটভূমি -সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আগমন করে দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিন সাওম পালন করে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার? তোমরা এই দিনে সাওম পালন কর কেন? তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলকে শত্রুর কবল থেকে নাজাত দান করেছেন। তাই হজরত মূসা (আ.) এ দিনে সাওম পালন করেছেন। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসা (আ.)-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিন সাওম পালন করেন এবং সবাইকে সাওম পালনের নির্দেশ দেন।
রোজা নামাজের মতো একটি পুরোনো প্রতিষ্ঠান এবং পূর্ববর্তী বিভিন্ন ধর্মে রোজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, চীন, জাপান, কোরিয়া, মিসর ও গ্রিসে রোজার প্রচলন ছিল। হজরত মূসা (আ.) তুর পাহাড়ে আল্লাহর কাছ থেকে তাওরাত প্রাপ্তির আগে ৪০ দিন পানাহার ত্যাগ করেছিলেন। হজরত ঈসা (আ.) তাঁর ধর্ম প্রচারের শুরুতে ইঞ্জিল পাওয়ার আগে ৪০ দিন রোজা রেখেছিলেন। হজরত মূসা (আ.), হজরত ঈসা (আ.) এবং তাঁদের অনুসারীরা সবাই রোজা পালন করেছেন। ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের জন্য রোজা পালনের বিধান ছিল। ইহুদিদের ওপর প্রতি শনিবার বছরের মধ্যে মহররমের ১০ তারিখে আশুরার দিন এবং অন্যান্য সময় রোজা ফরজ ছিল।
খ্রিষ্টানদের ওপর মুসলমানদের মতো রোজা ফরজ ছিল। বাইবেলে রোজাব্রত পালনের মাধ্যমেই আত্মশুদ্ধি ও কঠোর সংযম সাধনার সন্ধান পাওয়া যায়। বিভিন্ন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার মধ্যেই রোজা পালনের ইতিহাস পাওয়া যায়। এ ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রোজা পালনের ধারা অব্যাহত ছিল। মানব শুদ্ধির জন্য আদিম যুগ থেকেই অনেক গোত্র, বর্ণ, সমপ্র্রদায় এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মধ্যে রোজা প্রচলিত ছিল। যদিও ধরন ও প্রক্রিয়াগতভাবে এতে কেবল সংখ্যা, নিয়মকানুন ও সময়ের ব্যবধান কিছুটা ভিন্নতর ছিল।
ইসলাম প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত, সক্ষম, সুস্থ, মুকিম ও বুদ্ধিমান মুসলমান নর-নারীর ওপর বছরে এক মাসব্যাপী চরম ধৈর্য, সংযম ও কঠিন উপাসনামূলক কার্যাবলিসহ রোজা পালনের বিধান আবশ্যক করেছে, যা দ্বারা ইসলামের তৃতীয় অবশ্যকরণীয় মৌলিক ভিত্তি গঠিত হয়। রমজান মাসে রোজা ফরজ হওয়া সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘ওহে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা খোদাভীতি অর্জন করতে পারো।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৩)
পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের রোজার জন্য নির্ধারিত। রোজার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য এই যে এটি নারী-পুরুষের মনকে প্রশিক্ষণ দেয় এবং তাদের নৈতিক মূল্যবোধকে উন্নত করে। রোজা সংযমের মাধ্যমে রিপু দমন করে এবং রোজাদারদের দেহ ও মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। রোজা নর-নারীকে স্বার্থপরতা, জাগতিক মন্দ চিন্তা-ভাবনা থেকে বিরত রাখে। প্রাথমিকভাবে রোজা হচ্ছে একটি আত্মিক অনুশাসন, নিয়ম শৃঙ্খলাপূর্ণ ইবাদত, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন।
রোজার বহুবিধ শারীরিক উপকারিতাও রয়েছে। রোজাকালীন প্রত্যেক রোজাদারের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং দৈহিক সুস্থতা হাসিল হয়। মানুষের পরিপাক অঙ্গসমূহের ক্ষমতা উন্নয়ন হয় এবং বুদ্ধি-বিবেক জাগ্রত হয়। রোজার সময় পরিপাক অঙ্গসমূহ বিশ্রামে থাকার ফলে তাঁদের অধিক কাজকর্ম করার শক্তি ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রোজার সময় একজন রোজাদার ক্ষুধা ও তৃষ্ণার জ্বালা-যন্ত্রণা তীব্রভাবে বহন করেন এবং এভাবে যেকোনো কঠিন সময়ে জীবনকে কঠিন কাজের জন্য অভ্যস্ত করে নেওয়ার দীক্ষা নেন। রোজা অবস্থায় দেহের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সহাস্যবদনে কঠিন কষ্টের মোকাবিলা করতে পারেন। কেননা যে ব্যক্তি কোনো দিন ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত থাকেনি, সে কখনো ক্ষুধার্ত মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারে না। অপর দিকে কোনো ব্যক্তি যখন রোজা রাখেন এবং উপবাসে থাকেন তখন তিনি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেন যে যারা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, তারা যে কত দুঃখ-কষ্টে ও বিপদ-আপদে দিনাতিপাত করছে। আর তখনই অনাহারক্লিষ্ট দৈহিক মানসিকভাবে দুর্বল অসহায় মানুষের প্রতি ধনী রোজাদারদের অন্তরে সাহায্য-সহানুভূতির উদ্রেক হয়।
রোজার নৈতিক তাৎপর্য এই যে একজন রোজাদার মুসলিম সাধক তখন শুধু অপকর্মসমূহ থেকে বিরত থাকেন না, বরং অন্যান্য মন্দ কাজ, বাক্যালাপ থেকেও বিরত থাকেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রোজা একটি বর্ম, নারী-পুরুষকে নিরর্থক বাক্যালাপ, বেহুদা কথাবার্তা, কার্যাবলি, অপকর্মসমূহে নিমগ্ন থাকা হতে রক্ষা করে।’ (মুসনাদে আহমাদ) রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ লোকেরা সাধারণত পবিত্র ও খাঁটি হয়ে থাকেন এবং পুণ্যময় কার্যাবলি, মহৎ চিন্তা-ভাবনা এবং সৎ সহচার্যে সময় অতিক্রম করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন রমজান মাস উপনীত হয় তখন জান্নাতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হয়, জাহান্নামের দ্বারসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে জিঞ্জিরাবদ্ধ করা হয়।’ (তিরমিজি)
রোজাদারদের জন্য স্বর্গসমূহের দরজা এ জন্য খুলে দেওয়া হয় যে তাঁরা শারীরিক কামনা-বাসনার ঊর্ধ্বে উন্নীত হন এবং মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ও মানবতার সেবায় নিজেদের নিমগ্ন রাখেন। নরকসমূহের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, কারণ তাঁরা এমন সব মন্দ কাজ বর্জন করেন, যা তাঁদের নরকাগ্নির দিকে পরিচালিত করতে পারে। আর শয়তানকে জিঞ্জিরাবদ্ধ করা হয়, কারণ তাঁরা এমন সব রিপু বা কুপ্রবৃত্তিসমূহকে জয় করেন যার মাধ্যমে শয়তানেরা মানুষকে কাবু করে ফেলে। রমজান মাস আত্মিক অগ্রগতি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক ও উপযোগী।
রোজা বাস্তবিকই আত্মিক নিয়মানুবর্তিতার একটি উপায়। রোজার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে স্রষ্টার ঐশী আনন্দ অন্বেষণ করা, তাঁর দয়া, অনুগ্রহ, ক্ষমা ও নরকাগ্নি থেকে নিষ্কৃতি লাভ করা। এভাবে রোজা মানুষের আত্মিক উন্নতি জাগ্রত করে। রোজা মানুষকে নৈতিক শৃঙ্খলার ব্যাপারে প্রকৃত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেয়। কঠোর সিয়াম সাধনা, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও জীবনের চরম কঠিন পরীক্ষার জন্য আগত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত থাকার শিক্ষা দেয়। রমজান মাসে একজন রোজাদার লোক তাঁর মন্দ চাহিদাগুলোকে জ্বালিয়ে দেন। এ ছাড়া তাঁর শারীরিক চাহিদাগুলোর নিয়ন্ত্রণসহ অসৎ কার্যাবলি পরিত্যাগ করার নৈতিক শিক্ষা লাভ করেন। মানুষকে দয়া, ক্ষমা ও মুক্তির দিকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং আত্মিক, নৈতিক ও চারিত্রিক কল্যাণের ধারক বানানোর নিমিত্তে আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর রোজা ফরজ করেছেন। এমনিভাবে মাহে রমজানে রোজা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে সাম্য মৈত্রী, ঐক্য, সংযম ও সহনশীলতা প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। পবিত্র রমজান মাসে সমাজের ধনী-দরিদ্র সবাই সমানভাবে বিশেষত পানাহারের ব্যাপারে একই মর্যাদায় উপনীত হয় এবং তা মানুষকে ভোগে বিতৃষ্ণ, ত্যাগে উদ্বুদ্ধ এবং আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করে নিঃসন্দেহে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাইতিতে কারসাজি ভেস্তে গেছে by ফরিদা আখতার
দুর্যোগ কেটে যাওয়ার পরও হাইতির মানুষের দরদির অভাব হয়নি। হাইতির কৃষকদের উপহার হিসেবে ৪৭৫ টন জিএম বীজ উপহার দেওয়ার জন্য বহুজাতিক জিএম বীজ ও কীটনাশক কোম্পানি মনসান্তো এগিয়ে এল। শুধু জিএম বীজ নয়, এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব সার ও কীটনাশক মিলে একটি উপহার উইনার প্রজেক্ট নামের একটি সংগঠন মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে হাইতির সরকারকে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করে। মনসান্তো প্রচার করতে থাকে যে এটা তাদের নেহাত উদারভাবে দেওয়া ‘উপহার’ বা গিফট। কিন্তু সবাই জানে এই পেটেন্ট করা বীজ থেকে ফসল হলে হাইতির কৃষকদের মনসান্তোকে রয়ালটি দিতে হবে। অর্থাৎ গুনে গুনে ডলার দিতে হবে। উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও ব্যবসায়িক কাজ হিসেবে মনসান্তো হাইতির কয়েকটি এলাকায় জিএম ভুট্টা বীজ দিতে শুরু করেছে। এমন একটি বিশাল দুর্যোগের পর মনসান্তোর এই কর্মকাণ্ডের কারণে হাইতির কৃষকদের স্বাধীনভাবে ফসল উৎপাদনের অধিকার বলে আর কিছু থাকবে না। হাইতির পরিবেশবিদেরা এই উদ্যোগকে দ্বিতীয় ভূমিকম্প বলে আখ্যায়িত করেন।
তা ছাড়া এই উপহারের মধ্যে আরও একটু কিন্তু আছে। কৃষকেরা বুঝেছেন যে একবার এই বীজ ব্যবহার করে নিভরশীল হয়ে পড়লে এই বীজের সরবরাহকারী একমাত্র মনসান্তোই থাকবে। উপহার তো একবারই দেবে, পরে কৃষকের পকেট থেকেই কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার মনসান্তোর কাছে উপহার যাবে!
মনসান্তোর জন্য আফসোসের বিষয় হচ্ছে হাইতির কৃষকেরা মনসান্তোর এই বদান্যতায় মুগ্ধ হতে পারেননি। তাঁরা এই উপহারের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। কারণ তাঁরা মনসান্তোর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানেন, বিশেষ করে মনসান্তো এমন সব বিষাক্ত আগাছানাশক উৎপাদন করেছে, যার প্রভাব দীর্ঘদিন থেকে যায়। যেমন গত শতাব্দীর ষাটের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় গেরিলাদের মারার জন্য এজেন্ট অরেঞ্জের (Agent Orenge) প্রস্তুতকারক হিসেবে মনসান্তো যে ভূমিকা রেখেছে, হাইতির মানুষ তা জানে। ভিয়েতনাম সরকারের দাবি অনুযায়ী এজেন্ট অরেঞ্জের কারণে সেই সময় চার লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল কিংবা পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল এবং পাঁচ লাখ বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নিয়েছে।
মনসান্তোর এই উপহারের মধ্যে জিএম ভুট্টা এবং জিএম টমেটো বীজ রয়েছে। জিএম ভুট্টাকে Maxim XO নামের fungicide বা ছত্রাকনাশক এবং টমেটো বীজে thiram নামের অতি বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান দ্বারা ট্রিট করা হয়েছে। এগুলো অতি ক্ষতিকর এবং তাই প্রতিরোধক পোশাক ছাড়া এই বিষ ব্যবহার করা যায় না, যা কৃষকের পক্ষে করা কোনোমতেই সম্ভব নয়। কাজেই হাইতির কৃষকেরা জেনেশুনে এমন বিষাক্ত বীজ নিতে আগ্রহী নন। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় দয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। হাইতির কৃষক নেতা সাবানেজ জিন-ব্যাপ্টিস্টে আইপিএস নিউজ -এর কাছে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের স্থানীয় বীজ রক্ষা করতে চাই এবং কৃষকের জমির ওপর অধিকার রক্ষা করাও আমাদের কর্তব্য। হাইব্রিড এবং জিএমওর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আমাদের দেশের ফসলের বৈচিত্র্য এবং কৃষিকে রক্ষা করতে হবে।’
কৃষকদের কথা হচ্ছে, বীজ ও পানি মানবতার সম্পদ। এই বীজ ও পানি নিয়ে কেউ ব্যবসা করবে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ বর্তমানে মাত্র গুটি কয় বহুজাতিক কোম্পানি যেমন মনসান্তো, সিনজেন্তা, ডু-পন্ট এবং বায়ার বিশ্বের বীজ ব্যবসার অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে। মনসান্তো ইতিমধ্যে তুলা, ভুট্টা এবং সয়াবিনের ওপর ৬৫০টি পেটেন্ট নিয়েছে।
এ ঘটনায় বিরক্ত হয়ে পাপায় কৃষকেরা আন্দোলন করে ৬০ হাজার বস্তা (৪৭৫ টন) হাইব্রিড ভুট্টা ও সবজি বীজ জ্বালিয়ে দিয়েছেন। http://www.foodsafetynews.com/2010/06/ haitian-farmers-burn-monsanto-hybrid-seeds/। হিনচে নামের একটি কৃষি শহরে কৃষকেরা লাল টি-শার্ট গায়ে দিয়ে মাথায় খড়ের হ্যাট পরে এই বীজগুলো প্রতীকীভাবে পুড়িয়ে দেন। http://planetgreen.discovery.com/food-health/whats-wrong-with-monsanto-helping-post-earthquake-haiti.html অন্যান্য সামাজিক আন্দোলনও এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে জিএম বীজ আমদানির ব্যাপারে তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মনে করেন, এর ফলে স্থানীয় জাতের বীজ ব্যবহার ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও হাইতিতে জিএমও ব্যবহারে কোনো আইনি বাধা নেই, তবুও হাইতির কৃষি মন্ত্রণালয় মনসান্তোর কাছে চিঠি দিয়ে রাউন্ড আপ-রেডি নিভরশীল বীজের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে জানতে চায়, তাদের দেওয়া বীজ জিএমও কি না। মনসান্তো এই চিঠির জবাবে আশ্বস্ত করেছে যে জিএম বীজ তারা দেবে না। শাবাশ!
হাইতির খাদ্য সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে নিজ দেশের উপযুক্ত খাদ্য উৎপাদন করার মতো খাদ্যনীতি প্রণয়ন করার দাবি উঠেছে। জিএম বীজ ব্যবহারের আগে মনে রাখতে হবে, একবার এই বীজ পরিবেশের মধ্যে ঢুকে গেলে তা যে ক্ষতি করে তা থেকে ফিরে আসা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কৃষকদের এই সাবধানতা।
ফরিদা আখতার: নারী আন্দোলনের নেত্রী।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধু হত্যা ও পাকিস্তানি যোগসূত্র by সোহরাব হাসান
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি চক্র প্রথমে বাংলাদেশকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণা সম্ভবত ভুট্টোকে নতুন সরকারের সঙ্গে সখ্যগড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে।
ভুট্টোর এই পদক্ষেপ কি নিছক কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ, না একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ? বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পাকিস্তান সরকার ও তার প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো যে শুধু নীরব দর্শক ছিলেন না, ১৫ আগস্টের পূর্বাপর কিছু ঘটনা তাই প্রমাণ করে।
১৯৭৩ সালে ভুট্টো প্রণীত পাকিস্তানের সংবিধানে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ শব্দটি বহাল রাখা হয়। সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের জনগণ যখন বিদেশি আগ্রাসন থেকে মুক্ত হতে পারবে এবং তার প্রভাব-প্রতিপত্তির বাইরে আসতে পারবে, তখন সেটি ফেডারেশনের প্রতিনিধিত্ব করবে।’
পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় এবং মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয় একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সেনারাও চলে যান। এর পরেও ‘বিদেশি আগ্রাসন’-এর কথা বলার অর্থ স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি কারগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগমুহূর্তে ভুট্টো পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো রকম যোগসূত্র রাখার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে বাঙালি নেতা বলেছিলেন, ‘তোমরা সুখে থাক। পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।’ (১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্সময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ)।
শেখ মুজিবের এই চূড়ান্ত জবাব সহজভাবে নেননি ভুট্টো। ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে তিনি ‘পাকিস্তানের দুই অংশ’কে এক করার তৎপরতা চালাতে থাকেন। বিশেষ উপদেষ্টা মাহমুদ আলীকে লন্ডনে পাঠান বাংলাদেশের সঙ্গে কনফেডারেশন করার উদ্দেশ্যে। বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান’-সংক্রান্ত বিষয়াদি তদারক করা।
মাহমুদ আলী ভেবেছিলেন, লন্ডন থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন আদায় করবেন। কিন্তু সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
বাংলাদেশে আগস্টের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যখন খন্দকার মোশতাক ক্ষমতাসীন, ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মেয়ে বেগম আখতার সোলায়মান (বেবী) ভুট্টোকে এক চিঠিতে লেখেন:
‘আমি সব সময় আপনাকে একজন অসীম সাহসী, অসাধারণ প্রজ্ঞা ও ব্যতিক্রমী দূরদর্শী মানুষ হিসেবেই জানি। “বাংলাদেশ” বিষয়ে আপনি সকল প্রত্যাশাকে অতিক্রম করে গেছেন। আপনি মুসলিম ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন দেখিয়ে অত্যন্ত উদারতার পরিচয় দিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, বেগম আখতার সোলায়মান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন।
সৌদি বাদশাহ খালেদ খন্দকার মোশতাকের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, ‘আমার প্রিয় ভাই, নতুন ইসলামি প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আপনাকে আমি নিজের ও সৌদি জাতির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ (হু কিলড মুজিব, এ এল খতিব)
দুই মাস আগে, ১৯৭৫-এর জুনে জুলফিকার আলী ভুট্টো কাকুলের পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে সেনা কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে বলেন, ‘এ অঞ্চলে শিগগিরই কিছু পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।’ (জুলফি ভুট্টো অব পাকিস্তান, স্ট্যানলি উলপার্ট)
এ এল খতিবের প্রশ্ন, দুই মাস আগে তিনি কীভাবে পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিলেন?
মুসলিম লীগের নেতা খাজা খয়েরউদ্দিন, যিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কারণে স্বাধীনতার পর কারাগারে ছিলেন, তিনি ভুট্টোকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন, ‘এখন থেকে শুরু হোক’।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সাংবাদিক জেড এ সুলেরি বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারত না যদি মুজিব বেঁচে থাকতেন।
চরম ডান ও বামের যোগাযোগ: এ এল খতিব তাঁর হু কিলড মুজিব বইয়ে আরও লিখেছেন, ‘১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে পাকিস্তান স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই এখানে স্বাধীনতাবিরোধী দলগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং জুনে ভুট্টোর ঢাকা সফরের পর তারা মুজিববিরোধিতায় নামে। তাঁর সফরসঙ্গী সাংবাদিক ওয়াজিদ শামসুল হাসান ঢাকা থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি দপ্তরে ডি পি ধরের (ইন্দিরা গান্ধীর অন্যতম পরামর্শক) লোক আছে।’ যা ছিল সর্বৈব মিথ্যা।
শুধু ১৯৭৫ নয়, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর থেকেই ভুট্টো বাংলাদেশবিরোধিতার প্রচারণা চালাতে থাকেন। তিনি বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালান। এ ব্যাপারে তিনি পাকিস্তানে অবস্থানরত কথিত বাঙালি নেতাদের ও রাজা ত্রিদিব রায়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অপপ্রচার চালিয়েছেন, বাংলাদেশে মুসলমানদের ধর্মকর্ম পালন করতে দেওয়া হয় না। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী কামাল হোসেন এই নিবন্ধকারককে বলেছেন, ‘আমরা যেখানে যেতাম, এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হতাম।’ ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সেঅনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিব সৌদি বাদশাহ ফয়সালের সঙ্গে দেখা করে স্বীকৃতির অনুরোধ জানালে তিনিও ইসলামী প্রজাতন্ত্র করার প্রস্তাব দেন। শেখ মুজিব রাজি হননি।
বাংলাদেশের ভেতরে যাঁরা শেখ মুজিবকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, ভুট্টো তাঁদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন।
মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির একাংশের নেতা আবদুল হক একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালান। কিন্তু সেই লড়াইয়ের অর্থ ও অস্ত্র আসবে কোত্থেকে? তাঁরা ধরনা দিলেন পাকিস্তানের কাছে। ১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ‘আমার প্রিয় প্রধানমন্ত্রী’ সম্বোধন করে এক চিঠি লেখেন তিনি। চিঠির ভাষা ছিল নিম্নরূপ:
‘আমার প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
পুতুল মুজিব চক্র এখন জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অর্থ, অস্ত্র ও ওয়ারলেস সরঞ্জাম প্রদানের আবেদন জানাচ্ছি।’
১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর আবদুল হক লিখিত চিঠিটি ভুট্টোর কাছে পৌঁছায় ১৯৭৫ সালের ১৬ জানুয়ারি। চিঠিটি পাওয়ার পর তিনি ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে মন্তব্য করেন এবং এই ‘সৎ লোকটি’কে (আবদুল হক) ‘কার্যকর সাহায্য’ দেওয়ার সুপারিশ করেন।
আবদুল হক চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন সিলেটের মাহমুদ আলীর মাধ্যমে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মাহমুদ আলী দখলদার পাকিস্তানিদের পক্ষ নেন এবং এর ইনাম হিসেবে ভুট্টো তাঁকে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত (তাঁদের ভাষায় পূর্ব পাকিস্তান) বিশেষ উপদেষ্টার পদে বসান।
ভুট্টোর আরেকজন এজেন্টের নাম আবদুল মালেক। বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা চালানোর উদ্দেশ্যে তিনিও সৌদি আরব যান। সেখান থেকে ১৯৭৫ সালের ২২ জানুয়ারি ভুট্টোকে চিঠি লেখেন ‘আমার প্রিয় নেতা’ সম্বোধন করে।
মালেক লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের ৬৫ মিলিয়ন মুসলমান তাদের মুক্তির জন্য আপনার দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব লাভের জন্য গভীর উৎকণ্ঠার সঙ্গে অপেক্ষা করছে।’ (জুলফি ভুট্টো অব পাকিস্তান, স্ট্যানলিউলপার্ট)।
এই চিঠির জবাবে ভুট্টো ধর্মমন্ত্রী মাওলানা কায়সার নিয়াজীকে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে পাঠান। উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক, আর্থিক সাহায্য তথা অস্ত্রের জোগান নিশ্চিত করা। ভুট্টো ভেবেছিলেন, এঁদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তন করে ইসলামি রিপাবলিক নামকরণের জন্য মুজিব সরকার কিংবা তাঁর উত্তরসূরির প্রতি (তখনই তাঁরা উত্তরসূরি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল!) চাপ সৃষ্টি করা। একইভাবে ভুট্টো চেয়েছেন, পাকিস্তানি স্টাইলে বাংলাদেশের ইসলামি রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করাতে রাজি করাতে।
বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য অর্থনীতিবিদ মুশাররফ হোসেন পঁচাত্তরের জানুয়ারিতে করাচি গিয়েছিলেন থার্ড ওয়ার্ল্ড ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে। তাঁর মামা ছিলেন পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের গভর্নর। তাঁর বাসায় যে কয়জন বিশিষ্ট পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে আলাপ হয়, তাঁদের একজন জানতে চাইলেন, বাংলাদেশ আবার পাকিস্তানের প্রদেশ হবে কি না। জবাবে মুশাররফ হোসেন বলেছিলেন, বাংলাদেশ তো এখন একটি স্বাধীন দেশ। তখন সেই ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ওকে তো মেরে ফেলবে কয়েক দিনের মধ্যে।’ (আগস্ট স্মৃতি, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা, ১৯৯৮)
আমেরিকান গবেষক ও লেখক স্ট্যানলি ওলপার্টের লেখা ভুট্টোর জীবনীতেও তাঁর (ভুট্টোর) মুজিববিরোধী তৎপরতার বর্ণনা আছে। ওলপার্টের বইয়ে আছে ‘দুই বছর যাবৎ ভুট্টো কয়েকটি মুজিববিরোধী দলকে তাঁর গোপন স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে অর্থসাহায্য অব্যাহত রাখেন এবং এর বিনিময়ে ফল লাভ করেছিলেন।’ ২০০০ সালে স্ট্যানলি ওলপার্টের ঢাকা সফরের সময় লন্ডন-প্রবাসী সাংবাদিক আবদুল মতিন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘বিনিময়ে ফল লাভ বলতে আপনি কী বুঝিয়েছেন? মুজিব হত্যায় কি পাকিস্তান জড়িত ছিল?’ ওলপার্টের উত্তর, ‘হ্যাঁ, আপনি তা বলতে পারেন।’ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব: কয়েকটি ঐতিহাসিক দলিল, র্যাডিক্যাল এশিয়া পাবলিকেশন্স, লন্ডন, ২০০৮)
যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় নানা অপকৌশল: ১৯৭৩ সালের ৬ জুলাই ভুট্টো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে জাতীয় পরিষদের অনুমোদন নিলেও তা ঠেকিয়ে রাখেন পরের বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বন্দী বিনিময় নিয়ে তিনি দরকষাকষি করতে থাকেন বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে। তিয়াত্তরের আগস্টের শেষ দিকে ভুট্টো প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আজিজ আহমদকে দিল্লি পাঠান। ২৮ আগস্ট জনাব আহমদ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ প্রতিনিধি পি এন হাকসারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ভিত্তিতেই ৯৩ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীর প্রত্যাবাসনের কাজ শুরু হয়। চুক্তিতে পাকিস্তানে আটক বাঙালি এবং বাংলাদেশে আটক অবাঙালিদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়। অপরদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ১৯৫ জন পাকিস্তানি বন্দীর বিচারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারত বলেছে, আপাতত এই যুদ্ধাপরাধীরা তাঁদের হেফাজতে থাকুক। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ঢাকা ও ইসলামাবাদ এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৮তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টো স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ১৯৫ জন পাকিস্তানি বন্দীকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবেন না। শেখ মুজিবকে দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন বা কমনওয়েলথ গঠন করাতে পারবেন, সেই আশা ভুট্টো ছেড়ে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তিনি একাত্তরের অন্ধকার দিনের স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য দুই দেশের ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্ককে পুনরুদ্ধারের বাসনা ব্যক্ত করেন। (২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভুট্টোর ভাষণ)
এরপর ভুট্টো একটি ফরাসি বার্তা সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে দেন, পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীদের ‘দ্রুত’ ছেড়ে না দেওয়া হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সমস্ত প্রক্রিয়া নস্যাৎ হয়ে যাবে। চুয়াত্তরের ৮ এপ্রিল দিল্লিতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অবশিষ্ট ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ভুট্টোর প্রতিক্রিয়া: ইন্দিরার সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে যখন শেখ মুজিব দিল্লি যান, তখন ভুট্টো বেইজিংয়ে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দৃশ্যত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আছে। কিন্তু ফারাক্কাসহ বহু অমীমাংসিত বিষয়ে মুজিব-ইন্দিরা বৈঠক মতৈক্য ছাড়াই শেষ হয়। ফারাক্কা বাঁধের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রবল আপত্তি ছিল।
ভুট্টো জুনে তাঁর প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফর স্থগিত রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফারাক্কা প্রশ্নে বাংলাদেশ-ভারত বিরোধের খবর জানতে পেরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
ভুট্টোর বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা সম্পর্কে শেখ মুজিব অনবহিত ছিলেন, বলা যাবে না। তাঁর ইসলামি সম্মেলন সংস্থার শীর্ষ বৈঠকে যোগদান কিংবা বাংলাদেশে ভুট্টোকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের কাছে পাওনা আদায় এবং আটকে পড়া বিহারিদের ফেরত পাঠানো। দুটি বিষয়েই ভুট্টো শীতল মনোভাব দেখান। সম্পদের দায়দেনা বুঝিয়ে দিতে বলার প্রত্যুত্তরে তিনি শিষ্টাচারবর্জিত ভাষায় বলেছিলেন, ‘আমি ব্ল্যাংক চেক নিয়ে আসিনি।’
বাংলাদেশ সফরের আগে ভুট্টো একটি অগ্রবর্তী দল পাঠিয়েছিলেন, যারা সাবেক মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামী দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল উপহার হিসেবে বাসমতি চালও নিয়ে এসেছিল। দেশে ফিরে গিয়েও ভুট্টো বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা অব্যাহত রাখেন। (হু কিলড মুজিব, এ এলখতিব)।
বাংলাদেশের নেতা এসব অপতৎপরতা সম্পর্কে জানতেন। এর প্রতিক্রিয়াও লক্ষ করা যায় বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন ভাষণ ও সাক্ষাৎকারে। ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘ভুট্টো সাহেব বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশের অবস্থা কী? ভুট্টো সাহেবকে জিজ্ঞাসা করি, ফ্রন্টিয়ারের অবস্থা কী? অ্যারোপ্লেন দিয়ে গুলি করে মানুষ হত্যা করছেন। সিন্ধুর অবস্থা কী? ঘর সামলান বন্ধু, ঘর সামলান। এরপর তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমার সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধুত্ব হতে পারে না।’
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগ পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হয়নি।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ -আটক শ্রমিকদের মুক্তিই শান্তি নিশ্চিত করতে পারে
এবারে তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক-অসন্তোষের পেছনেও ছিল মজুরি-বঞ্চনা। তাঁরা যে মজুরি পেয়ে আসছিলেন তাতে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাঁদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি দীর্ঘদিনের। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শেষ পর্যন্ত যে মজুরিকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়া সত্ত্বেও শ্রমিকেরা নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, চলতি মাস থেকে তা বাস্তবায়ন করার। অন্যদিকে মালিকপক্ষ প্রথমে নতুন মজুরিকাঠামো মানতেই চায়নি। পরে সরকারের চাপে মানলেও নভেম্বর থেকে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দেয় এবং এতে শ্রমিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যে কারণে কিছু কিছু কারখানায় সহিংস ঘটনা ঘটে। এর পেছনে ষড়যন্ত্র না খুঁজে সবার উচিত শিল্পে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালানো।
শ্রমিকদের হয়রানি করলে বা কারাগারে আটক রাখলে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিদেশি কোনো সংস্থা দাবি করেছে বলেই নয়, তৈরি পোশাকশিল্পে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আটক সাধারণ শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। আশা করি, এ ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উন্নয়ন প্রকল্পে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ -আমলে নিন বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের দেশভিত্তিক সহায়তা কৌশলপত্রে (সিএএস) বাংলাদেশের জন্য ২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫ পর্যন্ত ৬৫৫ কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ গত তিন বছরে বাংলাদেশে সংস্থাটির দেওয়া ঋণের দ্বিগুণ। এই ঘোষণা আমাদের আশ্বস্ত করতে পারত, যদি না এর সঙ্গে নানা শর্ত জুড়ে দিত। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের যেকোনো বড় উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মুখে পড়ে। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সংস্থাটি বিভিন্ন প্রকল্পে ৩১টি দুর্নীতির ঘটনা নিয়ে তদন্ত করেছে। সে সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার। দুর্নীতির দায়ও তাদের নিতে হবে। বিশেষ করে, জোট আমলে স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ খাতে যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যে কারণে সংস্থাটি বিদ্যুৎ খাতে সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছিল।
এ ছাড়া তৎকালীন সরকার রাজনৈতিক কারণে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দিয়ে খারাপ নজির সৃষ্টি করেছিল।
আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছি বলে মনে হয় না। না হলে বর্তমান সরকারের আমলেও কেন উন্নয়ন প্রকল্পে অনুরূপ দুর্নীতির অভিযোগ উঠবে? দরপত্র আহ্বান নিয়ে অনিয়ম ও ত্রুটির কারণে কয়েকটি প্রকল্পের অর্থ আটকে দেওয়া কিংবা এক মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য বিদেশি কোম্পানির স্থানীয় এজেন্টের তদবিরবাজির খবর আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা বিশ্বব্যাংকের ঋণ বৃদ্ধিকে সরকারের প্রতি আস্থার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। তাতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু দরপত্রে অনিয়ম কিংবা তদবিরবাজির কারণে বরাদ্দ আটকে থাকলে ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ হলেই কী লাভ? এ ব্যাপারে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা যথার্থই বলেছেন, কোনো প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরকারেরই উচিত তদন্ত করা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও মানব উন্নয়নের অগ্রগতির প্রশংসা করেছে দাতা সংস্থাগুলো। সেটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। কিন্তু দেশব্যাপী বিদ্যুৎ-সংকট প্রকট হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক বা অন্য দাতা সংস্থার ঋণ বন্ধ থাকা উদ্বেগজনক।
আশা করি, সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন এবং বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ সম্পর্কে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। ভবিষ্যতে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প যাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের শিকার না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, মধ্য আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্নও অপূর্ণ থেকে যাবে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্যাতনে বাধ্য হয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আশতিয়ানি
আশতিয়ানির আইনজীবী হুতান কিয়ান গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেছেন, স্বামী হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য তাঁর মক্কেলকে নির্যাতন করা হয়েছে। ইরানের তাবরিজ কারাগারের ভেতর আশতিয়ানির ওই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তিনি চার বছর ধরে ওই কারাগারে বন্দী আছেন।
আইনজীবী কিয়ান বলেন, ‘ক্যামেরার সামনে স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য আশতিয়ানিকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে।’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরও নথি প্রকাশের ঘোষণা উইকিলিকসের
অ্যাসেঞ্জ বলেন, তাঁদের ভান্ডারে আফগান যুদ্ধবিষয়ক বাকি যে গোপন তথ্য মজুদ রয়েছে, তা প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়েবসাইট। তবে নথি প্রকাশের সময়ের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
গত মাসে উইকিলিকস আফগান যুদ্ধবিষয়ক ৭০ হাজারের বেশি নথি প্রকাশ করে। নয় বছর ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধের ব্যাপারে যখন মার্কিন জনগণ ও কংগ্রেসের সমর্থন কমে আসছে, এ সময় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বলেছে, মার্কিন সেনাদের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা। এতে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা ও তাদের তথ্যদাতারা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের মুখপাত্র জিওফ মোরেল এক বিবৃতিতে বলেন, আরও নতুন নথি প্রকাশ করলে তা উইকিলিকসের জন্য হবে চরম দায়িত্বহীন কাজ।
এর আগে মোরেল বলেছিলেন, পেন্টাগনের ডেটাবেজ বা অন্য কোনো রেকর্ড থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেসব তথ্য-প্রমাণ উইকিলিকসের হাতে গেছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সেগুলো ফিরে পেতে চায়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রুশ পরমাণু স্থাপনার কাছে চলে এসেছে দাবানল
জরুরি মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়াজুড়ে ৬৫ হাজার হেক্টর জমির পাঁচ শতাধিক স্থান এখনো জ্বলছে। দেশটিতে হাজার বছরের ইতিহাসের ভয়াবহতম দাবানলে এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাশিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিখাইল তারকোভ গত বৃহস্পতিবার বলেন, নিঝনি নোভগোরোদ প্রদেশের সারোভ শহরে অবস্থিত দেশের প্রধান পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের কাছে চলে আসা দাবানল নিয়ন্ত্রণ করতে সেখানে কয়েক হাজার উদ্ধারকর্মী ও সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
মরদোভিয়ায় জরুরি মন্ত্রণালয়ের প্রধান মেজর জেনারেল ভায়াচেশ্লাভ করমিলিৎসিন এক বিবৃতিতে বলেন, দুই দিন আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আগুনের তীব্রতা যত ছিল, এখন তা ভয়ানক অবস্থা ধারণ করেছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিয়ানমারে নির্বাচন ৭ নভেম্বর
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘বহুদলীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন আগামী ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।’ রাষ্ট্রীয় বেতার ও টেলিভিশনে এই ঘোষণা প্রচার করা হয়। ঘোষণায় জানানো হয়, রাজনৈতিক দলগুলো ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করতে পারবে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং সব দল বিশেষ করে গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে এনএলডি ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের অভিযোগ সু চিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে এবং বিভিন্ন উদ্দেশ্যে জান্তা সরকার বিভিন্ন অযৌক্তিক আইন জারি করেছে।
সু চির নির্বাচন রুখতে সরকার নির্বাচনের তারিখও সেভাবে ঠিক করেছে বলে মনে হচ্ছে। কেননা, সু চির সর্বশেষ গৃহবন্দীর মেয়াদ শেষ হবে ১৩ নভেম্বর। আইন অনুযায়ী বন্দী থাকাবস্থায় তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। এ জন্য ১৩ নভেম্বরের আগে নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ ১৯৯০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জেতে এনএলডি। কিন্তু তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি সামরিক জান্তা।
গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উত্তরণের লক্ষ্যে জান্তা ঘোষিত রোড ম্যাপের চূড়ান্ত পর্যায় এই নির্বাচন। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করছে সরকার। এসব আইনের সমালোচনা করেছে সু চি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আইনি বাধার কারণে সু চিসহ প্রায় দুই হাজার রাজবন্দী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণার জন্য সভা-সমাবেশ ও শোভযাত্রার ওপর কঠোর সব বিধিনিধেষ আরোপ করা হয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু ২১ আগস্ট
মুখপাত্র সের্গেই নোভিকভ বলেন, ২১ আগস্ট রাশিয়া থেকে সরবরাহ করা ইউরেনিয়াম জ্বালানি বুশেহর চুল্লিতে স্থানান্তর করা হবে। তিনি বলেন, ওই মুহূর্ত থেকে বুশেহরের কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তির স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
যত দিন পর্যন্ত না ইরান প্রমাণ করতে পারবে যে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে না, তত দিন পর্যন্ত কেন্দ্রটি চালু না করার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়া বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা বুশেহর প্রকল্পকে প্রভাবিত করবে না।
বুশেহর কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১৯৯৫ সালে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি করে রাশিয়া। তবে প্রকল্পটি শেষ করতে অনেক সময় নেয় রাশিয়া। এই বিলম্বের জন্য কারিগরি সমস্যাকে দায়ী করেছে রাশিয়া।
রোসাটমের মুখপাত্র নোভিকভ বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য রোসাটমের প্রধান সের্গেই কিরিয়েনকো বুশেহরে যাবেন। ইরানের অ্যাটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশনের প্রধান আলী আকবর সালেহিও অনুষ্ঠানে থাকবেন।
রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন গত মার্চ মাসে বলেন, চলতি গ্রীষ্মেই বুশেহর কেন্দ্র চালু করা হবে।
ইরানের কয়েকজন আইনজীবীর অভিযোগ, পশ্চিমা চাপে কেন্দ্রটি চালু করতে বিলম্ব করছে রাশিয়া।
ইরানের অ্যাটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশনের প্রধান আলী আকবর সালেহি ইরানের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনের খবর নিশ্চিত করেছেন।
সালেহি বলেন, আগামী সপ্তাহে কেন্দ্রের ভেতরে জ্বালানি স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে। চুল্লিতে জ্বালানি স্থানান্তর করতে সাত থেকে আট দিন লাগবে।
এর আগে ইরানের শীর্ষস্থানীয় পরমাণু কর্মকর্তা মাহমুদ জাফারি বলেন, বুশেহর প্রকল্পের মূল পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ সফলতার সঙ্গে শেষ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এ প্রকল্প চালু করা যাবে। তিনি বলেন, সব ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য বৃহস্পতিবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।
জাফারি বলেন, সব যন্ত্রপাতি স্থাপন ও পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রটি এখন চালুর জন্য প্রস্তুত।
১৯৯৯ সালেই বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার বিলম্বিত হতে পারে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন উভয়েই বলেছেন, ২০১৫ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে রেখে আগামী বছরের জুলাই থেকে সেনা প্রত্যাহারের কাজ শুরু হবে।
সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা যেভাবে আফগান যুদ্ধ সামলাচ্ছেন, তাতে বেশির ভাগ মার্কিনই অসন্তুষ্ট।
এদিকে চলতি মাসের শেষের দিকে ইরাকে যুদ্ধাভিযান শেষ করবে মার্কিন বাহিনী। এরপর ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের কাজ শুরু হবে। যদিও ইরাকি সেনাবাহিনীর প্রধান গত বুধবার বলেছেন, মার্কিন সেনাদের ইরাকে আরও এক দশক থাকার প্রয়োজন।
গত মাসে জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টালের কাছ থেকে আফগান কমান্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেনারেল পেট্রাউস। সাময়িকীতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করার পর তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।
সপ্তাহান্তে জেনারেল পেট্রাউস তাঁর প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আফগান অভিযান সম্পর্কে কথা বলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘নৌ-মহড়ার নামে চীনকে ঘিরে ফেলতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র’
গত মাসে কোরিয়া উপদ্বীপের অদূরে জাপান সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে নৌ-মহড়া চালায়। চীন সে সময় ওই মহড়ার নিন্দা জানায়। গত সপ্তাহে পেন্টাগন বলেছে, মার্কিন রণতরী ‘জর্জ ওয়াশিংটন’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে আবার চীনের জলসীমাসংলগ্ন পীতসাগরে নৌ-মহড়া দেবে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, উত্তর কোরিয়াকে হুঁশিয়ারি দিতে তারা এ মহড়া দিতে যাচ্ছে। তবে অ্যাডমিরাল ইয়াং ই তাঁর নিবন্ধে ওই মহড়ার পরিকল্পনাকে পরিষ্কারভাবেই চীনের প্রতি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত ইয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে চীনকে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ইস্যুতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে তারা চীনকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে চাইছে এবং চীনের প্রধান প্রধান স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করে বসছে। তিনি বলেন, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের উসকানি দিতেই ওই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এটা চীনের জলসীমায় অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
এর আগে গত শুক্রবার দৈনিক পত্রিকা চায়না ডেইলিতে লেখা এক প্রবন্ধে ইয়াং ই বলেন, ওয়াশিংটনকে এ ধরনের ‘হঠকারী সিদ্ধান্তের’ জন্য বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়ার পাল্টা জবাব হিসেবে চীন আপাতত একই স্থানে কোনো মহড়া দেবে না। তবে মার্কিন মহড়ার কারণে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্কে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুমোট বাতাস ইংল্যান্ড দলে
ইতালিয়ান এই কোচের আরও কিছু খুঁত ধরা পড়ছে ইংলিশ মিডিয়ায় এমনও শোনা যাচ্ছে, দলের বাকি সবার সঙ্গেও নাকি সম্পর্ক তাঁর খুব একটা ভালো নয়। অন্তত দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ যে ভালো নয় সেটি পরিষ্কার। হাঙ্গেরি ম্যাচের দল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওই দলের দুই খেলোয়াড় জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দলে খেলার কোনো ইচ্ছে নেই তাঁদের। গোলরক্ষক পল রবিনসন আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওয়েস ব্রাউন নিজে থেকে সরে যাওয়ার পর এই প্রশ্নটা উঠছে, ক্যাপেলো নিজে কি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন না?
না, বলেন না! গোমড়ামুখো ক্যাপেলো নাকি হাঙ্গেরি ম্যাচের আগের তিনটি দিন খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথাই বলেননি! এই তথ্য জানিয়ে ইংলিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের ভেতরের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘খেলোয়াড়েরা আশা করেছিল ক্যাপেলো তাঁদের সঙ্গে বসে লম্বা একটা বৈঠক করবেন। বলবেন, বিশ্বকাপের দুঃস্মৃতি পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে।’
কথা বলা দূরের কথা, ক্যাপেলোর আচার-আচরণেও নাকি কেমন জানি একটা নিরাসক্ত ভাব। হাঙ্গেরি ম্যাচের সময় যেমন পুরোটাই তিনি বসে কাটিয়েছেন বেঞ্চে। ৪ মিনিটের মধ্যে স্টিভেন জেরার্ডের ২ গোলে পুরো ওয়েম্বলি যখন গর্জে উঠেছিল, সেই সময়টাতেও ভাবলেশহীন বসে ছিলেন ক্যাপেলো। বিশ্বকাপের ধাক্কা কি এতটাই পাথর বানিয়ে দিয়েছে তাঁকে!
এরই মধ্যে এই খবরও বেরিয়েছে, হাঙ্গেরি ম্যাচের দল ঘোষণার সময় ক্যাপেলো ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলারদের নিয়ে যেসব চাঁছাছোলা মন্তব্য করেছেন, সেটিও নাকি পছন্দ হয়নি কোনো কোনো খেলোয়াড়দের। ক্যাপেলোর সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব বাড়ছেই। যদিও ক্যাপেলো দৃঢ়কণ্ঠেই জানিয়েছেন, ‘আমার পেছনে সব খেলোয়াড়েরই সমর্থন আছে। আমাকে তো ওদের সঙ্গেই কাজ করতে হয়। ওরা আমার ওপর আস্থা রাখলেই কেবল আমরা জিতব। আর আমরা জিতলে সমর্থকেরাও আমাদের ওপর আস্থা রাখবে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। কখনোই তাদের সঙ্গে কোনো সমস্যা হয়নি আমার।’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বেকেনবাওয়ারের সম্মানে
আবার বায়ার্নে ফিরে বেকেনবাওয়ার তারপর ক্লাবের নানা পদ অলংকৃত করেছেন। গত বছর বায়ার্নের বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ক্লাব তাঁকে করেছে সাম্মানিক সভাপতি।
কিন্তু বায়ার্ন তাঁর জন্য কোনো বিদায়ী ম্যাচের আয়োজন করেনি। এত দিন পর জার্মানির চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটির মনে হয়েছে জার্মানির এই কিংবদন্তির সম্মানে একটা বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করা উচিত! সেই আয়োজনই করেছে বায়ার্ন। আগামী শুক্রবার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বেকেনবাওয়ারের সম্মানে ম্যাচ খেলবে বায়ার্ন ও স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। হোসে মরিনহোর রিয়াল ২৮ আগস্ট স্প্যানিশ লিগে নামার আগে এই ম্যাচটিকে নিচ্ছে প্রস্তুতির একটা বড় উপলক্ষ হিসেবে।
বায়ার্নের বর্তমান চেয়ারম্যান কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগে বলেছেন, ‘তাঁর বায়ার্ন ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় যা ঘটেছিল, তা হওয়া উচিত ছিল না। সন্দেহাতীতভাবে তিনি (বেকেনবাওয়ার) ক্লাবের ইতিহাসের সেরা ব্যক্তিত্ব।’ ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৭—১৩ বছর বায়ার্নে খেলে বেকেনবাওয়ার চারটি লিগ শিরোপার সঙ্গে তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ জিতিয়েছেন দলকে। এরপর ১৯৭৭ সালে তিন বছরের জন্য খেলতে চলে যান নিউইয়র্ক কসমসে, পেলেকে সতীর্থ হিসেবে পান সেখানে। ওই কসমসের হয়েই খেলোয়াড়ি জীবনের সমাপ্তি টেনেছেন ১৯৮৩ সালে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথম দিনেই মাঠে চেলসি-ম্যান সিটি
চেলসির প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত সহজ, প্রিমিয়ারে উঠে আসা ওয়েস্টব্রম উইচ আলবিয়ন। ওয়েস্টব্রমের কোচ রবার্তো ডি মাত্তেও যখন চেলসিতে খেলতেন, দলবদলের বাজারে চেলসির ৫০ লাখ ইউরো খরচ করাটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু গত কয়েক বছরের বিচারে এটাকে বলা যায় রীতিমতো অস্বাভাবিক। অথচ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এবারই দলবদলে চেলসির বেশি কৌশলী হওয়া উচিত ছিল। দলের বেশির ভাগ মূল ফুটবলারেরই বয়স ৩০ পেরিয়ে গেছে, অনেকে তাই চেলসিকে ‘বুড়োদের ক্লাব’ও বলতে শুরু করেছে। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় লিগ চ্যাম্পিয়নদের বাজে ফলাফলের দায় অনেকে দিচ্ছে ওই বয়সকেই।
তবে কার্লো আনচেলত্তি এই দলে নেই। চেলসি কোচের ধারণা, বয়সী ফুটবলার মোটেও কোনো বাধা নয়, বরং আশীর্বাদ, ‘আমার খেলোয়াড়েরা এবার আরও ভালো খেলবে, কারণ তারা এখন এক বছর বেশি অভিজ্ঞ। আমাকে দেখুন, আমার বয়স বাড়েনি, বরং আমি এখন বেশি অভিজ্ঞ। গত বছরের চেয়ে আমি এবার আরও ভালো ম্যানেজার।’ পুরোনোদের ওপর আনচেলত্তির আস্থা যে অগাধ, এর প্রমাণ ল্যাম্পার্ড, টেরিদের সঙ্গে এবার কেবল ইয়সি বেনায়ুনের যোগ হওয়া। ৫০ লাখ ডলারে ইসরায়েলি মিডফিল্ডারকে কিনেছে চেলসি। আনচেলত্তির জন্য সুখবর, ইনজুরির জন্য গত দুই মৌসুমেরই অর্ধেক খেলতে না পারা মাইকেল এসিয়েন এবার পুরোপুরি ফিট। খেলেছেন সবগুলো প্রস্তুতি ম্যাচই।
কার্লোস তেভেজ, মিকাহ রিচার্ডস, প্যাট্রিক ভিয়েরা, রবিনহো, শন রাইট-ফিলিপস, ক্রেইগ বেলামি, এমানুয়েল আদেবায়োররা ছিলেনই। সিটিতে এবার যোগ হয়েছেন ডেভিড সিলভা, ইয়াইয়া তোরে, আলেক্সান্দার কোলারভ ও জেরম বোয়াটেং। সিটির মালিক শেখ মানসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান খরচ করেছেন প্রায় সাড়ে আট কোটি পাউন্ড। এখানেই শেষ নয়, দলবদলের জানালা বন্ধ হওয়ার আগে ইস্টল্যান্ডে দেখা যেতে পারে জেমস মিলনার ও মারিও বালোতেল্লিকেও। এতসব ভালো ফুটবলারের মধ্য থেকে সঠিক সমন্বয় খুঁজে বের করাই কোচ রবার্তো মানচিনির মূল চ্যালেঞ্জ। প্রথম দিনেই তাদের প্রতিপক্ষ টটেনহাম হটস্পার, সিটিকে টপকে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলেছে যারা।
এর চেয়ে বড় ম্যাচ অবশ্য আগামীকাল। মৌসুমের দ্বিতীয় দিনেই অ্যানফিল্ডে মুখোমুখি হচ্ছে দুই শিরোপাপ্রত্যাশী লিভারপুল ও আর্সেনাল। আরেক ‘দৈত্য’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে নামছে পরশু, প্রতিপক্ষ এবার প্রিমিয়ারে উঠে আসা নিউক্যাসল ইউনাইটেড।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বার্সেলোনাও নামছে
ইউরোপে ফুটবল লিগে শুরুটা হয় সুপার কাপ দিয়েই। আগের মৌসুমের লিগ আর কাপ—এই দুই প্রতিযোগিতার দুই জয়ী দলকে নিয়ে হয় পরের মৌসুমের উদ্বোধন। ইংল্যান্ডে কমিউনিটি শিল্ড যেমন, স্পেনে তেমনই সুপার কোপা ডি এসপানা। পার্থক্য হলো, এখানে ম্যাচটা হয় দুই লেগে। প্রথম লেগটা আজই। তাতে গতবারের লিগজয়ী বার্সেলোনার মুখোমুখি কাপজয়ী সেভিয়া। ফিরতি লেগ ২১ আগস্ট, ন্যু ক্যাম্পে।
রিয়াল-বার্সার দ্বৈরথের কারণে এমনিতেই স্প্যানিশ লিগ হয় জমজমাট। স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছে বলে এবার তাদের ঘরোয়া লিগে চোখ থাকবে বিশ্বের সবার। বেশি চোখ থাকবে বার্সেলোনার ওপরই। বিশ্বকাপ জেতা দলটার আটজনই তো বার্সেলোনার।
একের পর এক সাফল্য অনায়াসে ধরা দিতে থাকলে একটা আত্মতৃপ্তি চলে আসে। গা-ছাড়া ভাবও দেখা দেয়। তবে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা আশ্বস্ত করলেন এই বলে, ‘বার্সার কাছে জয়টাই শেষ কথা। কারণ আমরা সবাইকে আনন্দ দিতে চাই।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফুটবলই ছেড়ে দেবেন তেভেজ
তাহলে টিকে আছেন কী করে তেভেজ? টিকতে পারছেন কই! কদিন আগে একবার ক্ষোভ ঝেড়েছেন ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট হুলিও গ্রন্দোনার ওপর। আর এবার বললেন, ফুটবলই আর টানছে না তাঁকে। মাত্র ২৬ বছর বয়স; এখনই হতাশায় ছেয়ে গেছে তাঁর পৃথিবী। এবার ফুটবল ছেড়ে দেশে ফিরে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চান!
এই তো সেদিন, ম্যারাডোনার সঙ্গে ‘মিথ্যাচার’ করায় গ্রন্দোনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যমে। দ্রুত তাঁকে ডেকে বৈঠকে বসেছিলেন গ্রন্দোনা। ৪০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে তেভেজ বলেছেন, ‘আমি হুলিওর সঙ্গে ৪০ মিনিট কথা বলেছি। আমি যা মনে ভাবি, যা অনুভব করি তাই বলেছি। উনিও তাঁর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। উনি আমাকে অনেক কিছু বলেছেন, যা শুধু আমাদের মধ্যে থাকবে। আমরা দুজনই এখন খুশি। সবকিছু ঠিক আছে।’
কিন্তু সবকিছু ঠিক থাকে কী করে? কারণ বুয়েনস এইরেসে বসেই তেভেজ যে ফুটবলের প্রতি টান উঠে যাওয়ার কথা বললেন। বললেন, বিশ্বকাপে এই ব্যর্থতার পর ফুটবল খেলার আর কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না ম্যানচেস্টার সিটির তারকা। এখন অবসরে যেতে চান, ‘আমার অবসর নেওয়ার আর বেশি সময় বাকি নেই। এখনই ফুটবল ছাড়াটা কঠিন ব্যাপার। কিন্তু এমন অতৃপ্ত মন নিয়ে ফুটবল খেলা যায় না। বিশ্বকাপের ধাক্কাটা আমি কাটিয়েই উঠতে পারছি না। বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে আর্জেন্টিনায় ফেরার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমাদের দলের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। সবকিছু ভালো ছিল। কিন্তু যে অভিজ্ঞতা হলো, এটাই আমি নিতে পারছি না। এখন আমি পরিবারে সঙ্গে আলাপ করছি, আমি ফুটবল ছেড়ে দিয়ে দেশে ফিরে যেতে চাই।’
বয়স যা হয়েছে, ন্যূনতম আরেকটা বিশ্বকাপ খেলতে পারার কথা তেভেজের। কিন্তু এই বিশ্বকাপের হার কি তাহলে ‘এল অ্যাপাচি’কে শেষই করে দিল!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাফ চ্যাম্পিয়নস লিগ কত দূর
দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর কাজী সালাউদ্দিনের অন্যতম বড় পরিকল্পনা ছিল এটা। কিন্তু পরিকল্পনা থাকলেই তো হয় না, অংশ নেওয়া দেশের ক্লাবগুলোর ঘরোয়া সূচির সঙ্গে সমন্বয় করা গেল কই! ‘সমন্বয়’ করেই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে’—ঘোষণা দিয়েছিলেন সালাউদ্দিন।
ঘোষণাটা বাস্তবায়ন করতে দেরি কেন? কিংবা আদৌ কি সাফ চ্যাম্পিয়নস লিগ হবে? প্রশ্নগুলো আসছেই। কাল যোগাযোগ করা হলে সালাউদ্দিন বললেন, ‘ডিসেম্বরে ঢাকায় মহিলা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ করব। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগটা এ বছর করা যাচ্ছে না। ৮ দেশের ঘরোয়া সূচি মেলানো কঠিন। ডিসেম্বরে মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের সময় সাফের সভা হবে। তখন চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে অগ্রগতির খবর দেওয়া যাবে। তবে আগামী বছর অবশ্যই এই টুর্নামেন্ট করতে চাই।’
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের আদলে সাফ চ্যাম্পিয়নস লিগ করার পরিকল্পনা থাকলেও সেটা বাস্তবায়ন কঠিনই। এ অঞ্চলের ফুটবলে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলার সংস্কৃতি নেই। এ কারণেই অন্তত বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপের ক্লাব দল পেলেও যেকোনো এক দেশে টুর্নামেন্ট করার কথা জানিয়েছিলেন সালাউদ্দিন। প্রথমবার বাংলাদেশে করতে চেয়েছেন।
কিন্তু আর দশটা পরিকল্পনার মতো এটিও দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ল। সালাউদ্দিন এর পেছনে কিছু কারণও দেখছেন। বাংলাদেশের ৭-৮টি দল নিয়ে যেখানে একটা টুর্নামেন্ট করা যায় না সময়মতো, সেখানে সাফের ৮ দেশের ক্লাব না হলেও অন্তত ৪-৫টি দেশের ক্লাব দলকে একসঙ্গে পাওয়া সহজ ব্যাপার নয়। সালাউদ্দিন বলছেন, ‘ডিসেম্বরে সব দেশের প্রতিনিধি সাফের সভায় যোগ দেবেন ঘরোয়া সূচি নিয়ে। তখনই বলা যাবে আগামী বছর কোন মাসে টুর্নামেন্টটি করতে পারব।’
বছরখানেক আগে সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে সাফের নতুন কমিটি এসে তাও কিছুটা নড়াচড়া দিয়েছে, তার আগ পর্যন্ত এই সংগঠন সাফ টুর্নামেন্ট ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। উদ্যোগের অভাব, আর্থিক সংকট, ঘরোয়া সূচি মেলাতে না পারা, সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে কখনো কখনো প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়াই ছিল এর কারণ। বিশেষ করে ভারত কখনোই সাফকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।
এবার সাফের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ভারতের কর্মকর্তা আলবার্তো কোলাসো। প্রস্তাবিত চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য সময় বের করতে এখন ভদ্রলোক চিঠি লেখেন সাফ দেশগুলোকে। সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন ঢাকায়। কিন্তু কাজের কাজ তেমন হচ্ছে না। সদস্যদেশগুলোর কেউ চিঠির উত্তর দেয়, কেউ নাকি দেয়ই না!
সালাউদ্দিন সেটাই বললেন, ‘চিঠিপত্র লেখালেখি করেছেন জেনারেল সেক্রেটারি। উত্তরের অপেক্ষায় থাকতে হয়। আসলে ঘরোয়া সূচিটাই বড় বাধা হয়ে গেছে। ইউরোপে সবকিছু এমনভাবে ঠিক করা আছে, কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু এই অঞ্চলে একেক দেশের মৌসুম একেক সময়। তবে একবার শুরু করা গেলে আশা করি সমস্যা থাকবে না। চ্যাম্পিয়নস লিগ আমরা করবই।’
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে সালাউদ্দিন পার করেছেন ২৬ মাস। এই সময়ে সব ঘরোয়া কর্মসূচিই সময়মতো ঠিকভাবে করা যায়নি। সাফের কোনো পরিকল্পনা সময়মতো বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে তাই সংশয় থাকে। তার পরও আশা নিয়েই মানুষ বাঁচে। সালাউদ্দিনও আশায় আছেন, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কাছ থেকে কিছু অনুদান মিলবে সাফের জন্য। ওটা পেলে সাফ এগিয়ে চলার গতি পাবে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোনালদো ‘প্রথম’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
-
▼
2010
(9402)
-
▼
August
(731)
-
▼
Aug 15
(20)
- অবৈধ ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ by বদিউল আলম ম...
- রোজার ঐতিহাসিক পটভূমি -সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম by মু...
- হাইতিতে কারসাজি ভেস্তে গেছে by ফরিদা আখতার
- বঙ্গবন্ধু হত্যা ও পাকিস্তানি যোগসূত্র by সোহরাব হাসান
- হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ -আটক শ্রমিকদের মুক্তি...
- উন্নয়ন প্রকল্পে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ -আমলে নিন বিশ্ব...
- নির্যাতনে বাধ্য হয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আশতিয়ানি
- আরও নথি প্রকাশের ঘোষণা উইকিলিকসের
- রুশ পরমাণু স্থাপনার কাছে চলে এসেছে দাবানল
- মিয়ানমারে নির্বাচন ৭ নভেম্বর
- ইরানের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু ২১ আগস্ট
- আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার বিলম্বিত হতে পারে
- ‘নৌ-মহড়ার নামে চীনকে ঘিরে ফেলতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র’
- গুমোট বাতাস ইংল্যান্ড দলে
- বেকেনবাওয়ারের সম্মানে
- প্রথম দিনেই মাঠে চেলসি-ম্যান সিটি
- বার্সেলোনাও নামছে
- ফুটবলই ছেড়ে দেবেন তেভেজ
- সাফ চ্যাম্পিয়নস লিগ কত দূর
- রোনালদো ‘প্রথম’
-
▼
Aug 15
(20)
-
▼
August
(731)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...