Tuesday, May 10, 2011

নাদালকে হারিয়ে শিরোপা জোকোভিচের

একের ভেতর তিন যাকে বলে, মাদ্রিদ মাস্টার্সে কাল তা-ই করলেন নোভাক জোকোভিচ। ফাইনালে রাফায়েল নাদালকে হারিয়ে জিতলেন শিরোপা। সেই সঙ্গে নিজের টানা জয়ের রেকর্ডটাকে নিয়ে গেছেন ৩৪-এ। আর একটা কী? গত দুই বছরের মধ্যে নাদালকে দিলেন ক্লে কোর্টে পরাজয়ের তেতো স্বাদ। কাল ৫-৭, ৪-৬ গেমের পরাজয়ের আগে ২০০৯-এর মে মাসে রবিন সোদারলিংয়ের কাছে ফরাসি ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে সর্বশেষ হেরেছিলেন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়। মেয়েদের শিরোপা জিতেছেন চেক প্রজাতন্ত্রের পেত্রা কিভিতোভা।

মরিনহোর পাশে ভালদানো

হোসে মরিনহোকে ৫ ম্যাচের জন্য ডাগ-আউটে নিষিদ্ধ করেছে উয়েফা। এই শাস্তি সম্পর্কে মরিনহো কোনো মন্তব্য করেননি। রিয়াল মাদ্রিদের কোচের কথা বলার দরকারও নেই। কারণ, ক্লাবের অকুণ্ঠ সমর্থন তিনি পাচ্ছেন। ক্লাব থেকে আগেই জানিয়ে দিয়েছে, শাস্তির বিপক্ষে আপিল করা হবে। আর মরিনহোর পাশে দাঁড়িয়ে হোর্হে ভালদানো উয়েফাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন। রিয়াল মাদ্রিদের পরিচালকের দাবি, মরিনহোকে অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
গত মাসের শেষে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষে রেফারি এবং উয়েফার কড়া সমালোচনা করেছিলেন মরিনহো। রিয়াল চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়লেও পরশু লা লিগায় সেভিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ৬-২ গোলে। সেভিয়ার বিপক্ষে এই জয়ের পরই মরিনহোর শাস্তি সম্পর্কে স্প্যানিশ টেলিভিশনকে ভালদানো বলেছেন, ‘এটা মাত্রাতিরিক্ত।’ ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এর পরই আসল খোঁচাটা দিয়েছেন ভালদানো, ‘মৌসুমজুড়ে অনেক কোচই কঠোর মন্তব্য করেছেন, কিন্তু তাঁদের সাজা হয়েছে কম।’
এদিকে সংবাদ সম্মেলন বর্জন করার কাজটা অব্যাহতই রেখেছেন মরিনহো। পরশুর বড় জয়ের পরও সাংবাদিকদের দর্শন দেননি রিয়ালের পর্তুগিজ কোচ।

শিরোপার আরও কাছে ম্যানইউ

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অবধ্য-অপরাজেয়ই থাকল। অতিথি চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শিরোপার আরও কাছে নিয়ে গেল ‘রেড ডেভিল’রা।
প্রথমার্ধে হাভিয়ের হার্নান্দেজ ও অধিনায়ক নেমানিয়া ভিদিচের দুই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। সঙ্গে নিশ্চিত হয়, পরের দুটি ম্যাচ থেকে আর একটি মাত্র পয়েন্ট পেলেই লিভারপুলের আঠার পেরিয়ে রেকর্ড ঊনিশতম ইংলিশ শিরোপা জিতবে অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল। ম্যানইউর পরের ম্যাচটি ১৪মে ব্ল্যাবার্নের বিপক্ষে।
অনেক আগে থেকেই শিরোপা জয়ের ক্ষণ গুনে আসা ফার্গুসন এত দিনে বলেছেন, সত্যিই তাঁর দল শিরোপা দেখতে পাচ্ছে, ‘আমি তো আমার খেলোয়াড়দের চিনি, ওরা একটা পয়েন্ট ঠিকই পাবে। এ নিয়ে আমার আর কোনো সন্দেহ নেই।’ কোচের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়েছেন ১২তম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের পথে থাকা অভিজ্ঞ রায়ান গিগসও, ‘অঙ্কের হিসাবে এখনো আমরা শিরোপা জিতে যাইনি। তবে খুব কাছে চলে এসেছি।’
চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তি আর কী বলবেন! ম্যানইউর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছেন চেলসির ইতালিয়ান কোচ, ‘ইউনাইটেড আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে এবং জয় তাদেরই প্রাপ্য।’ চেলসি আসলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছে প্রথম ২০ মিনিটেই। ৩৭ সেকেন্ডে হার্নান্দেজের গোলের পর ভিদিচ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর আর চেলসি ম্যানইউকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো খেলতে পারেনি। ৬৮ মিনিটে ল্যাম্পার্ডের গোল শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে।

ইংল্যান্ডকে দিলশানের চ্যালেঞ্জ

শুরুতেই ইতিহাস গড়তে চান তিলকরত্নে দিলশান। শ্রীলঙ্কার আর কোনো অধিনায়ক যা পারেননি, সেটাই করতে চান। টেস্ট সিরিজ জিতে আসতে চান ইংল্যান্ড থেকে। ১৯৯৮ সালে অবশ্য একবার একমাত্র টেস্টটি জিতে এসেছিল শ্রীলঙ্কা। ওভালের সেই ম্যাচে দুই ইনিংসে ১৬ উইকেট নিয়েছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। সর্বশেষ সফরে ২০০৬ সালের সিরিজেও একটা টেস্ট জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। ট্রেন্ট ব্রিজের সেই টেস্টেও দ্বিতীয় ইনিংসে মুরালির আট উইকেট, ১-১ ড্র করেছিল সিরিজ।
মুরালি নেই। নেই ওই সিরিজে খেলা চামিন্ডা ভাস আর সদ্যই টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া লাসিথ মালিঙ্গাও। এবার অধিনায়ক দিলশানের হাতে তরুণ আর অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণই। কিন্তু তাঁদের ওপরই আস্থা রাখছেন দিলশান, ‘তরুণদের সুযোগ দিতেই হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওরা কতটা ভালো সেটা প্রমাণের দারুণ একটা সুযোগ ওরা পাচ্ছে। অধিনায়ক হিসেবে আমার দলের তরুণ বোলারদের ওপর অগাধ আস্থা। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ খুবই শক্তিশালী। কিন্তু আমার দলের ফাস্ট বোলার আর স্পিনারদের ওপর আমার সেই বিশ্বাস আছে। আমি জানি, এই তরুণ ফাস্ট বোলাররা চ্যালেঞ্জ নেবে, দলের জন্য সেরাটাই দেবে।’
শুধু বোলার নন, প্রত্যেকে যাতে নিজের সেরাটা ঢেলে দেন, দিলশান সেটাই নিশ্চিত করতে চান। এ কারণে তিনি নিজে আইপিএল থেকে আগেভাগে ছুটি নিয়ে দেশে ফিরছেন। দলের সবার উদ্দেশে প্রেরণাদীপ্ত একটা ভাষণও নাকি দেবেন। অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে এই মারকুটে ব্যাটসম্যানকে অনেক দায়িত্বশীলও মনে হচ্ছে। কথাবার্তায়ও সেই ছাপ স্পষ্ট, ‘গ্রীষ্মের শুরুতে ইংল্যান্ডকে তাদের মাটিতেই হারানো মোটেও সহজ কাজ নয়। কিন্তু ছেলেদের ওপর আমার আস্থা আছে। ইংল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগে আমি সবার সঙ্গে কথা বলব। আমরা ইংল্যান্ডে একটা উদ্দেশ্য নিয়েই যাচ্ছি—টেস্ট সিরিজ জয়। আমরা সেখানে ড্র বা কোনোমতে টিকে থাকার লক্ষ্য নিয়ে যাব না। আমি সত্যিই আগ্রহের সঙ্গে সিরিজটার দিকে তাকিয়ে আছি।’
কদিন আগেই অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাঠে হারিয়ে অ্যাশেজ জেতার পর এটাই ইংল্যান্ডের প্রথম সিরিজ। প্রতিকূল কন্ডিশনে সেই ইংল্যান্ডকে হারানোর হুমকি—বড় চ্যালেঞ্জই নিচ্ছেন দিলশান। সেই চ্যালেঞ্জটা মাঠে অনূদিত হয় কি না—সেটি বোঝা যাবে ২৬ মে শুরু প্রথম টেস্টে। এর আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে শ্রীলঙ্কা।

ব্লাঁকে জিদানের সমর্থন

এরই মধ্যে সমর্থন অনেকেই দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বড় সমর্থনটা লরাঁ ব্লাঁ পেলেন সদ্যই। ফ্রান্স দলের কোচের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁরই সাবেক সতীর্থ জিনেদিন জিদান। ফরাসি ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা বলেই নয়, বিতর্কের মূল বিষয় অভিবাসী ফরাসিরা, আর জিদান তাঁদেরই একজন বলে এই সমর্থনের গুরুত্ব আরও বেশি।
বিতর্ক শুরু হয়েছিল ব্লাঁর কথিত একটি ‘সুপারিশ’ ফাঁস হয়ে যাওয়ায়। ফ্রান্সের ওয়েবসাইট মিডিয়াপার্ট ফরাসি ফুটবল কর্তাদের একটি সভার আলোচ্য বিষয়গুলো প্রকাশ করে দেয়। সেই বৈঠকে টেকনিক্যাল পরিচালক ফ্রাঙ্কোইস, ব্লাঁসহ আরও কয়েকজন নাকি সুপারিশ করেন, কিশোর ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলোয় আফ্রিকান-আরব খেলোয়াড়দের জন্য কোটা পদ্ধতি চালু করার। মূল ফরাসিদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসী ফুটবলারদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এই কোটা করা হলে ফরাসি শ্বেতাঙ্গ ফুটবলাররা বাড়তি সুযোগ পাবেন।
এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর খোদ ব্লাঁরই বিশ্বকাপজয়ী সাবেক সতীর্থদের কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন। প্যাট্রিক ভিয়েরা যেমন ব্লাঁকে বলেছেন ‘বর্ণবাদী’। কোচের বিরুদ্ধে তদন্তও চলছে। প্যারিসে শুনানিতে হাজির হতে হবে ব্লাঁকে। দলের টেকনিক্যাল পরিচালক বরখাস্তও হয়েছেন। ব্লাঁর পদত্যাগের খবরও শোনা যাচ্ছিল। যদিও সেই খবর উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন।
প্যারিসে শুনানির আগে অতিজরুরি সমর্থন ব্লাঁ পেলেন আলজেরীয় বংশোদ্ভূত জিদানের কাছ থেকে। এত দিন চুপ করে থাকা বিশ্বকাপ জয়ের মূল কারিগর বলেছেন, ‘অবশ্যই ব্লাঁর পদত্যাগ করা ঠিক হবে না। যা ঘটছে তাতে ও অবশ্যই মানসিকভাবে আঘাত পাচ্ছে। ও খুব ভালোমতোই কাজ করছিল। আমাদের এসব নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি না করাই উচিত। এসব ঘটনার কারণে ও সরে দাঁড়ালে সেটি হবে পাগলামি। ওর অবশ্যই কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।’
ব্লাঁ মোটেও বর্ণবাদী নন বলেও মন্তব্য করেছেন জিদান। এও বলেছেন, আফ্রিকান-আরব ফুটবলারদের উঠে আসার পথে ব্লাঁ বাধা হতে চান—এমনটা তাঁর মোটেও মনে হয় না।

রিয়াল ৬ রোনালদো ৪

সব রাগ, ক্ষোভ, হতাশা একসঙ্গে বিস্ফোরিত হলো। ভিসুভিয়াসের মতো ফুঁসে উঠল রিয়াল মাদ্রিদ। লিগে গত ম্যাচে রিয়াল জারাগোজার কাছে হার, চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার হাতে বিদায় হওয়ার জ্বালা জুড়াল হোসে মরিনহোর দল। পরশু স্প্যানিশ লিগে সেভিয়াকে ৬-২ গোলে উড়িল দিয়ে বার্সার শিরোপা-উৎসবকে প্রলম্বিত করল রিয়াল।
দলগত দ্বৈরথে হয়তো হেরে বসেছেন, ব্যক্তিগত দ্বৈরথে জিততে মরিয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পরশু একাই করলেন ৪ গোল। লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রোনালদো এখন মেসির ওপরে। ৩১ ম্যাচে ৩৩ গোল। মেসির গোলসংখ্যা ৩১। মেসির মতো মৌসুমে গোলের ফিফটি করার সম্ভাবনার সামনেও দাঁড়িয়ে রোনালদো। ৫১ ম্যাচে ৪৬ গোল তাঁর। লিগে এখনো রিয়ালের বাকি আছে তিন ম্যাচ।
এই মৌসুমেই লিগে আরেক ম্যাচে চার গোল করেছিলেন রোনালদো। রেসিং সান্তাদারকে ওই ম্যাচে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল রিয়াল। পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ থেকে সাতে নেমে যাওয়া সেভিয়াও বিধ্বস্ত হলো মাদ্রিদীয় অহংয়ের বুলডোজারে। রোনালদো-ঝড়ের পূর্বাভাস অবশ্য প্রথমার্ধে ছিল না। ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল রিয়াল। সার্জিও রামোস, রোনালদো আর কাকা করেছিলেন একটি করে গোল। ৬১ মিনিটে একটি গোল শোধ করে দেন আলভেরো নেগ্রেদো। তাতেই যেন খেপে ওঠেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। ৬৫, ৭০ ও ৭৫—প্রতি পাঁচ মিনিটে একটি করে গোল সেভিয়ার জালে ঢোকান। ৮৪ মিনিটে নেগ্রেদো আরেকটি গোল শোধ করেন বটে, কিন্তু ততক্ষণে গোল উদ্যাপনের শক্তিও যেন হারিয়ে ফেলেছিল সেভিয়া।
এমন নয় যে এই বড় জয় বার্সার শিরোপা সম্ভাবনাকে শঙ্কায় ফেলে দিল। তবে এই জয় দিয়ে অনেকটাই ভারমুক্ত হতে পারল কিছুদিন ধরে একের পর এক ধাক্কা সামলাতে থাকা রিয়াল। উয়েফার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মরিনহোর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী কোচ আইতর কারাঙ্কা আবারও রেফারি প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেছেন, ‘এই রেফারি খেলার ধারায় ব্যাঘাত ঘটাননি।’
বার্সেলোনার জয়: মৌসুমের দ্বিতীয় কাতালনা ডার্বিও জিতল বার্সেলোনা। এসপানিওলের মাঠ থেকে মৌসুমের মাঝে প্রথম ডার্বিটা বার্সা জিতে এসেছিল ৫-১ গোলে। আর কাল নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে এসপানিওলকে হারাল ২-০ গোলে। ২৯ মিনিটে বার্সাকে প্রথম এগিয়ে দিয়েছিলেন ইনিয়েস্তা। ৪৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জেরার্ড পিকে।

সাত বছর পর আবার মিলান

মৌসুমের মাঝপথে নিজেদের মাঠে এএস রোমার কাছে হেরে গিয়েছিল এসি মিলান। শিরোপা-স্বপ্নটাও ধাক্কা খেয়েছিল তাতে। পরশু এর প্রতিশোধ নিতে পারেনি মিলান, রোমার মাঠ থেকে ফিরেছে গোলশূন্য ড্র করে।
তবে এ নিয়ে কোনো দুঃখবোধ নেই মিলানে, বরং সেখানে চলছে উৎসব। রোমার সঙ্গে ড্র করাতেই যে নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের ১৮তম সিরি ‘আ’ শিরোপা। ড্র করতে পারলেই দুই ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে—এটা জেনেই রোমার মাঠে গিয়েছিল এসি মিলান। জিততে পারেনি ঠিক, তবে মিলান হেরে যাবে, এ ম্যাচে তা-ও কখনো মনে হয়নি।
প্রতিশোধ না নিতে পারা বা ড্র করার দুঃখ মিলানকে ছোঁবে কী করে! প্রায় সাত বছর পর পাওয়া শিরোপা তাদের ভাসাচ্ছে অন্য রকম এক আনন্দে। সান সিরোর জিওসেপ্পে মিয়াৎজা স্টেডিয়ামটা একই শহরের ক্লাব ইন্টারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে মিলান। গত ৫টি মৌসুম সান সিরোতে উৎসব করেছে ইন্টার। চোখের সামনে সান সিরোর এক পাশে আলোর রোশনাই দেখতে দেখতে ক্লান্ত মিলানের সমর্থকেরা। এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টারকে আঁধারে ডুবিয়ে উৎসব চলছে তাদের।
সবচেয়ে বেশি খুশি মনে হয় কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি। মিলানে এসে প্রথম মৌসুমেই ‘স্কুডেট্টো’ জিতলেন। তবে কৃতিত্ব তিনি ভাগ করে দিয়েছেন সবাইকেই, ‘আমি খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাই। আর ধন্যবাদ জানাই সভাপতিকে। তিনি আমাকে দারুণ একটি দল দিয়েছেন।’
একটি সাফল্যের তৃপ্তিতে আচ্ছন্ন না হয়ে অ্যালেগ্রি দিচ্ছেন আরও সাফল্য নির্মাণের প্রতিশ্রুতি, ‘প্রথম মৌসুমেই শিরোপা জিতেছি আমি। এটা খুবই তৃপ্তির। ভবিষ্যতে দল হিসেবে আমাদের আরও ভালো হতে হবে, যদিও দলটি এখনই অনেক শক্তিশালী। সভাপতি বলেছেন, তিনি আমাদের বিশেষ উপহার দেবেন।’
মিলানের খুশির বন্যার মধ্যেও এত দিন হজম করে চলা কিছু সমালোচনার জবাব দিয়েছেন জেনারো গাত্তুসো ও ক্লারেন্স সিডর্ফ। ‘মিলান বুড়োদের দল’ কিংবা ‘এই বুড়োদের দিয়ে আর হবে না’ ধরনের কথা যাঁরা বলেছেন; জবাবটা তাঁদেরই দিয়েছেন তাঁরা। ‘অনেকেই বলেছে, আমরা শেষ হয়ে গেছি। তাই সাত বছর পর লিগ জয়টা আমাদের জন্য অসাধারণ এক ব্যাপার’—বলেছেন গাত্তুসো। সিডর্ফের কথা, ‘দুর্দান্ত এই মুহূর্তটা আমাদের জন্য ৭ বছর পর এল। বছরটাকে সুন্দর করে তুলতে এবার আমাদের জিততে হবে ইতালিয়ান কাপ।

টেস্ট দলে দুই চন্দরপল

শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলে রাখা হয়েছে শিবনারায়ণ চন্দরপলকে। ‘শেষ পর্যন্ত’ বলার কারণ, সাবেক অধিনায়কের থাকা না-থাকা নিয়ে অনেক খবরই বাতাসে উড়ছিল। কয়েক দিন আগে ছড়াল বোর্ডপ্রধানের সঙ্গে ‘উত্তপ্ত’ চিঠি চালাচালির পরও চন্দরপলকে টেস্ট দলে রাখা হচ্ছে। এরপরই ‘লাইন অ্যান্ড লেংথ নেটওয়ার্ক’-এ বিস্ফোরক এক সাক্ষাৎকারে কোচ, টিম ম্যানেজমেন্ট, বোর্ডকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন সাবেক অধিনায়ক। তারপর শোনা গেল সাবেক অধিনায়ককে ছুড়ে ফেলা হবে উইন্ডিজ ক্রিকেটের মূল স্রোত থেকে। হয়তো এই লড়াইয়ের একটা সমাপ্তি চায় বলেই দলে রাখা হলো ১২৯ টেস্ট খেলা ব্যাটসম্যানকে।
এটিকে ঠিক তাঁর ফেরা বলা যাবে না। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বশেষ টেস্টেও খেলেছেন ৩৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। তবে প্রায় দুই বছর পর ফিরেছেন আরেক চন্দরপল। শীর্ষ ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে ডাক পেয়েছিলেন ক্রেইগ ব্রাফেট, কিন্তু খেলা হয়নি। ১৮ বছর বয়সী ওপেনারকে বলা হচ্ছে ‘চন্দরপলের ডানহাতি সংস্করণ’, স্কুল ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেট মিলিয়ে গোটা পঞ্চাশেক সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। পিঠের চোট কাটিয়ে প্রায় দুই বছর পর ফিরেছেন ফাস্ট বোলার ফিদেল এডওয়ার্ডস। আছেন টেস্ট দলের নিয়মিত মুখ ব্রেন্ডন ন্যাশও। দুই ম্যাচে টেস্ট সিরিজ শুরু ১২ মে, গায়ানায়।
টেস্ট সিরিজের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: কার্লটন বাফ, দেবেন্দ্র বিশু, ক্রেইগ ব্রাফেট, ড্যারেন ব্রাভো, শিবনারায়ণ চন্দরপল, ফিদেল এডওয়ার্ডস, ব্রেন্ডন ন্যাশ, রবি রামপল, কেমার রোচ, আন্দ্রে রাসেল, ড্যারেন স্যামি, মারলন স্যামুয়েলস, রামনরেশ সারওয়ান, লেন্ডল সিমন্স, ডেভন স্মিথ।

ওসামা নিহত হওয়ার খবর শুনেই মারা গেলেন তাঁর শাশুড়ি

মার্কিন অভিযানে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার খবর শুনে তাঁর এক শাশুড়ি মারা গেছেন। আরবি ভাষায় প্রকাশিত লন্ডনভিত্তিক সংবাদপত্র আশারক আল আসাত গতকাল রোববার এই খবর প্রকাশ করে।
ওসামার প্রথম স্ত্রী নাজয়ার মা নাবিহ আল ঘানিম সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে লাটাকিয়ায় বাস করতেন।
খবরে বলা হয়, ওসামার শাশুড়ি ৭০ বছর বয়সী ঘানিম তাঁর জামাতা নিহত হওয়ার খবর শুনেই মূর্ছা যান। লাটাকিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবরে আরও বলা হয়, ওসামার স্ত্রী নাজয়া নাইন-ইলেভেনের কিছুদিন আগে আফগানিস্তান ছেড়ে সিরিয়ায় যান। বর্তমানে তিনি সিরিয়াতেই অবস্থান করছেন।
ওসামা-নাজয়া দম্পতির ১১টি সন্তান রয়েছে। ১৭ বছর বয়সে ওসামা তাঁর জ্ঞাতি বোন নাজয়াকে বিয়ে করেন।

ছেলের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আওলাকির বাবা

ছেলের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইয়েমেনের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আনোয়ার আল-আওলাকির বাবা নাসের আওলাকি। গত বৃহস্পতিবার তিনি নিজ শহর শাবওয়ার কাছাকাছি একটি গ্রামে মার্কিন ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান।
ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন দলের সাবেক কৃষিমন্ত্রী নাসের আওলাকি বলেন, ‘তিনটি চালকবিহীন বিমান ২৪ ঘণ্টাই আমার গ্রামের ওপর দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আমি নিশ্চিত এগুলো মার্কিন। তারা বিন লাদেনকে হত্যা করেছে এখন আমার ছেলের পিছু নিয়েছে।’
বিন লাদেনের মৃত্যুর পর কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার মনে এই ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে আওলাকি এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রকৌশলী আনোয়ার আওলাকি আল-কায়েদার সবচেয়ে কার্যকর শাখা আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলার আধ্যাত্মিক গুরু।
২০০৯ সালের নভেম্বরে টেক্সাসের ফোর্ড হুডে ১৩ জনকে হত্যাকারী মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনস্তত্ত্ববিদের সঙ্গে আওলাকির যোগাযোগ ছিল। এ তথ্য প্রকাশের পর গত বসন্তে আওলাকিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ ছাড়া নাইজেরিয়ার এক ছাত্রের সঙ্গেও আওলাকির যোগাযোগ ছিল। যিনি ওই বছর বড়দিনে ডেট্রয়েটের একটি যাত্রীবাহী বিমান উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আওলাকি এখন শাবওয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দুর্গম এলাকায় লুকিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হয়। তিনি আল-কায়েদার পরবর্তী প্রধান হবেন বলে যে সম্ভাবনার কথা পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে শোনা যাচ্ছে তা বাতিল করে দিয়ে তাঁর বাবা বলেছেন, আনোয়ার কেবলই প্রখর দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন একজন মানুষ এবং একজন ভালো বক্তা, কোনো নেতা নন।

হত্যার ঘোষণা দিয়ে লাদেনের মর্যাদা বাড়িয়েছেন ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন হত্যার ঘোষণা দেওয়ায় সমালোচনা করেছেন সুইজারল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উয়েলি মোরার। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে ওই হত্যার ঘোষণা দেওয়ায় আল-কায়েদা নেতার মর্যাদা বেড়েছে।
সুইস পত্রিকা ডার সনটাগকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে গতকাল রোববার মোরার বলেন, ‘এটা আমার জন্য একটা সমস্যা যে একজন প্রেসিডেন্ট এ ধরনের সংবাদের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি একজন সন্ত্রাসীকে তাঁর পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। লাদেন পেয়েছেন শহীদের মর্যাদা।’
মোরার বলেন, লাদেনকে হত্যার ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র দিতে পারতেন। অথবা লিখিত আকারেও তা ঘোষণা করা যেত।
সুইজারল্যান্ডের কট্টর ডানপন্থী দল সুইস পিপলস পার্টির সদস্য মোরার দাবি করেছেন, এই ঘোষণা হয়তো ওবামার রাজনৈতিক প্রচারাভিযানের জন্য সহায়ক হবে। তিনি বলেন, একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া ঠিক হয়নি। এতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে উত্সাহ পাবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ২ মে জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে বলেন, পাকিস্তানের একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে লাদেনকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে লাদেনকে হন্যে হয়ে খুঁজেছে যুক্তরাষ্ট্র।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শেষ দফা ভোট কাল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ষষ্ঠ ও শেষ দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। ইতিমধ্যে পাঁচ দফা ভোট নেওয়া হয়েছে। এদিকে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, চার দফা ভোটেই তাঁদের জোট জিতে গেছে। শেষ দফার ভোটে তাঁদের কেবল আসন বাড়ানোর পালা। তবে বামফ্রন্টের দাবি, তারা আবারও জয়ী হবে। গঠন করবে অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার।
বিধানসভার ২৯৪ আসনের নির্বাচনে ইতিমধ্যে পাঁচ দফায় ২৮০টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের জঙ্গলমহলের মাওবাদী-অধ্যুষিত ১৪টি আসনে ভোট গ্রহণ এখনো হয়নি। কাল এসব আসনে ভোট নেওয়া হবে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচন নিয়ে কোনো জনমত সমীক্ষা বা বুথ-ফেরত সমীক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাই ২৮০ আসনের ফলাফল কী হতে পারে, এ ব্যাপারে কোনো সংবাদমাধ্যম পূর্বাভাস দেয়নি। কোনো জোটের জয়-পরাজয় নিয়ে মন্তব্যও করেনি। তবে দুই প্রধান জোট বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস-তৃণমূল পঞ্চম দফা নির্বাচন শেষে ঘোষণা দেয়, তারাই নতুন সরকার গঠন করবে।
নিজের জোট জিতে গেছে দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সিপিএমের দিন শেষ। শেষ দফা ভোটের দিনই জনগণ এই রাজ্য থেকে ব্যালটের মাধ্যমে সিপিএমকে বিদায় জানাবে।
বামফ্রন্টও জোরালো দাবি করেছে, তারা এবারও গড়তে চলেছে এই রাজ্যের নতুন সরকার। পরিবর্তন নয়, প্রত্যাবর্তন হবে বামফ্রন্টের। গড়া হবে অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছেন, জয় তাঁদের অবধারিত। তাঁরাই জিতছেন এবারের নির্বাচনে।
আগামী শুক্রবার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।

মিসরাতায় গাদ্দাফি বাহিনীর হামলা

লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিসরাতার জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রধান পাইপলাইনে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে গাদ্দাফির অনুগত সেনারা। এর ফলে দুই মাসেরও বেশি সময় থেকে অবরুদ্ধ থাকা মিসরাতায় মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালি থেকে ৪০ জন উপদেষ্টা লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজিতে বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, ইতালি তাদের অস্ত্র সরবরাহ করবে।
গত শনিবার লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নয়জন বিদ্রোহী সেনা নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে।
লিবিয়া থেকে একটি নৌকায় করে আসা অন্তত ৫০০ শরণার্থীকে উদ্ধার করেছে ইতালি। নৌকাটি ইতালির নৌ-সীমার মধ্যে চরে আটকে গেলে দেশটির কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া অনেকেই এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে লিবিয়ায় গিয়ে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিল।
মিসরাতায় তেল সরবরাহকারী প্রধান পাইপলাইন ধ্বংস করে দেওয়ায় শহরটিতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেবে। ফলে বিদ্যুত্ বিপর্যয় দেখা দেবে। পরিবহনব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়বে। গাদ্দাফি বাহিনী দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে শহরটি অবরুদ্ধ করে রাখায় খাদ্য ও ওষুধের সংকটে এমনিতেই মানবিক বিপর্যয় রয়েছে। এখন এই বিপর্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লিবিয়ায় সরকারবিরোধীদের গঠিত ট্রানজিশনাল ন্যাশনাল কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হাফিজ ঘোগা বলেন, গাদ্দাফি ও তাঁর সেনারা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই তারা সাধারণ জনগণের ওপর আরও শক্তি প্রয়োগ করছে। তিনি জানান, জিনতান ও ওয়েজিন শহরে গাদ্দাফি বাহিনীর রকেট হামলার কারণে অন্তত ২০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
এএফপির প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকেরা জানান, তাঁরা জিনতান হাসপাতালের মর্গে অন্তত নয়জন বিদ্রোহী সেনার লাশ দেখেছেন। একদল চিকিত্সকের বরাত দিয়ে সাংবাদিকেরা জানান, আহত ৫০ জনের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইতালির কোস্টগার্ডের মুখপাত্র অ্যান্তনিও মোরানা জানান, রোববার সকালের দিকে একটি নৌকা থেকে অন্তত ৫০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও আছে। গভীরতা কম থাকায় কোস্টগার্ডের টহল নৌকা ওই নৌকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারছিল না। অনেক কষ্টে তাদের উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ডের একটি সূত্র জানায়, হঠাত্ করে চরে আটকে যাওয়ায় নৌকায় থাকা অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পানিতে লাফিয়ে পড়ে। এতে কেউ কেউ আহত হয়। তাদেরও উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাগদাদের একটি আটককেন্দ্রে সংঘর্ষে নিহত ১৮

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি আটককেন্দ্রে গতকাল রোববার নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বন্দীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
বাগদাদের নিরাপত্তাবিষয়ক মুখপাত্র মেজর জেনারেল কাসিম আল-মৌসাবি জানান, বাগদাদের মধ্যাঞ্চলীয় কারাদা নামক জায়গায় অবস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদবিরোধী একটি ইউনিটের আটককেন্দ্রে ওই বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রথমে একজন বন্দী এক নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নেন এবং গুলি করে সাতজন নিরাপত্তারক্ষী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে হত্যা করেন। এ সময় ওই বন্দী অপর এক বন্দীর হাতেও অস্ত্র তুলে দেন। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরাপত্তারক্ষীরা পাল্টা গুলি চালিয়ে ওই আটককেন্দ্রের ১১ বন্দীকে হত্যা করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তিন-চার ঘণ্টাব্যাপী ওই বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশের কমপক্ষে ছয় সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া আটজন পুলিশ কর্মকর্তা ও ছয়জন বন্দী আহত হয়েছেন। আহত বন্দীদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বাগদাদের আল-কিনদি হাসপাতালে নিয়ে চিকিত্সা দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
আল-মৌসাবি জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ‘বাগদাদের আমির’ খ্যাত আল-কায়েদার নেতা হুথাইফা আল-বাতাবিও রয়েছেন। তিনি গত বছরের অক্টোবরে বাগদাদের একটি ক্যাথলিক গির্জায় হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। ওই হামলায় ৬৮ জনের প্রাণহানি হয়।

যুক্তরাজ্যে লিবডেমদের প্রতি জোট ছাড়ার আহ্বান লেবারের

মন্ত্রিসভা ছেড়ে নিজেদের পক্ষে যোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন জোটের শরিক লিবডেম বা লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড গতকাল রোববার বলেছেন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের জন্য তাঁর দলের দরজা খোলাই আছে।
সম্প্রতি নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে গণভোট ও আঞ্চলিক নির্বাচনে চরম ভরাডুবি হয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের। তারা ছিল বর্তমান নির্বাচনব্যবস্থা ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু দেশের মানুষ এর বিপক্ষেই রায় দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দল প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কনজারভেটিভ পার্টি বর্তমান ব্যবস্থার পক্ষেই অবস্থান নেয়। অথচ গত বছরের মে মাসে সাধারণ নির্বাচনের পর নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েই লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের নিয়ে জোট সরকার গঠন করেছিল কনজারভেটিভরা। নির্বাচনের পর লিবারেল ডেমোক্র্যাটস নেতা উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ অভিযোগ করেন, তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের দৈনিক পত্রিকা অবজারভারকে মিলিব্যান্ড বলেন, ‘লিবারেল ডেমোক্র্যাটসরা যদি এই টোরি-নীতির পক্ষে না থাকতে চান, তাহলে তাঁদের উচিত নিজেদের বিশ্বাসের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বা মন্ত্রিসভা ত্যাগ করা। তাঁরা আমাদের সঙ্গেও কাজ করতে পারেন। আমার দরজা সব সময় খোলা।’
গণভোটের পর থেকে ক্ষমতাসীন জোটের দুই শরিকের মধ্যে অস্থিরতা চলছে। যদিও ক্যামেরন ও ক্লেগ বলে আসছেন, উত্তেজনা কমবে, জোট আবার শক্তিশালী হবে।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের অন্যতম নেতা বাণিজ্যমন্ত্রী ভিনস ক্যাবল মধ্য-ডানপন্থী কনজারভেটিভদের ‘নিষ্ঠুর’ অভিহিত করে বলেছেন, তাদের জোট এখন আরও ‘স্বার্থনির্ভর’ হবে।
মিলিব্যান্ড গতকাল বলেন, কনজারভেটিভদের নেতৃত্বাধীন জোটে থাকবে, নাকি আরও প্রগতিশীল নীতির পক্ষে অবস্থান নেবে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এটাই সময়।
লেবার পার্টির নেতা আরও বলেন, ‘নৌকা বদলের জন্য লিবারেল ডেমোক্র্যাটসদের মন্ত্রীরা ইতিমধ্যে অনেক দেরি করে ফেলেছেন, তবে এখনো সুযোগ আছে।’

কান্দাহারে দ্বিতীয় দিনের মতো তালেবানের হামলা

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারে গতকাল রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। দুই দিনের হামলায় পুলিশের দুজন সদস্যসহ ১৮ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছে।
তালেবান জঙ্গিরা কান্দাহারে গত শনিবার কয়েকজন আত্মঘাতী হামলাকারী এবং রকেটচালিত গ্রেনেড দিয়ে সমন্বিতভাবে কয়েকটি সরকারি ভবনে হামলা চালায়। স্থানীয় গভর্নরের কার্যালয় ও গোয়েন্দা কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়। এরপর তালেবানবিরোধী অভিযান শুরু করে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রত্যক্ষদর্শী একজন সাংবাদিক জানান, কান্দাহার শহরের বিভিন্ন সড়ক জনশূন্য হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, তালেবান জঙ্গিরা ট্রাফিক পুলিশ ভবন দখল করে রেখেছে। সেখান থেকেই তারা গুলি ও রকেট ছুড়ছে। গতকাল কান্দাহারে ব্যাপক গুলিবিনিময় ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানায়, দুই দিনে অন্তত ১০টি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। আফগান বাহিনী ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন বিদেশি সেনাদের সহায়তা নিয়ে তালেবানবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
কান্দাহারের প্রধান হাসপাতালের চিকিত্সক মোহাম্মদ হাসিম জানান, তাঁরা দুজন পুলিশ ও দুজন বেসামরিক নাগরিকের মরদেহ পেয়েছেন। আহত হিসেবে ৪৬ জনের নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। কান্দাহারের প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র জালমে আইয়ুবি বলেন, অভিযানে শনিবার পর্যন্ত ১৪ জন তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে।
কান্দাহার সীমান্ত পুলিশের কমান্ডার জেনারেল আবদুল রেজাক বলেন, ‘ভবনটির গঠন কিছুটা জটিল। তাই সেখানে অবস্থান নেওয়া তালেবান অস্ত্রধারীদের পরাজিত করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে শিগগিরই আমরা ভবনটি জঙ্গিমুক্ত করতে পারব।’
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গিরা পরাজিত হয়েছে। সেই পরাজয় ঢাকার জন্য তারা বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা শুরু করেছে। তবে তালেবান মুখপাত্র ইউসুফ আহমাদি বলেন, ‘পাকিস্তানে মার্কিন অভিযানে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে গত শনিবার সরকারি বিভিন্ন ভবনে হামলা চালানো হয়েছে—এমনটা ভাবার কারণ নেই। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা এই হামলা চালাচ্ছি।’

ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রও নিরাপদ থাকবে না

আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে নিহত হওয়ার আগে ধারণ করা শেষ অডিও বার্তায় হুঁশিয়ারি করে বলেছেন, ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রেরও নিরাপত্তা থাকবে না। গতকাল রোববার একটি ইসলামপন্থী ওয়েবসাইটে এ কথা বলা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে উদ্দেশ করে ওই বার্তায় লাদেন বলেন, ‘ফিলিস্তিনে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদে থাকার স্বপ্নও দেখতে পারে না। গাজায় আমাদের ভাইদের নিরাপত্তাহীন রেখে আপনারা শান্তিতে ঘুমাবেন, তা মোটেই উচিত হবে না।’
আল-কায়েদার যোগাযোগের ওয়েবসাইট শামিখ-১ ডট নেটে বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। বার্তায় লাদেন হুঁশিয়ারি করে বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রতি আপনার (ওবামা) সমর্থন যত দিন থাকবে, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আপনার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইও তত দিন চলবে।’
লাদেন নাইন-ইলেভেনের ঘটনার স্পষ্ট উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘ওই ঘটনা প্রমাণ করে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমাদের বীর যোদ্ধারা আপনাকে কোন বার্তাটি দিয়েছিলেন।

পাকিস্তানেই আছেন লাদেনের স্ত্রী-সন্তানেরা

ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর থেকে তাঁর তিন স্ত্রী ও আট সন্তান এখনো পাকিস্তানে আটক আছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লাদেনের একাধিক স্ত্রী ও সন্তানদের আটক রাখা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ তাঁদের নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেনি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহমিনা জানজুয়া বলেন, ইয়েমেন বা অন্য কোনো দেশে থেকে লাদেনের পরিবারের সদস্যদের হস্তান্তর করার কোনো প্রস্তাব আসেনি। বর্তমানে তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ না করে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেন, তাঁদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
গত সোমবার পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় মার্কিন অভিযানে আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন লাদেনের ইয়েমেনি স্ত্রী আমাল আহমেদ আবদুলফাত্তাহ। তিনি তদন্তকারীদের বলেছেন, ২০০৬ সালে অ্যাবোটাবাদের সেই বাড়িটিতে ঢোকার পর থেকে তিনি কখনো ওপরতলা থেকে নিচে নামেননি।
লাদেনের সন্তানদের বয়স প্রকাশ করা হয়নি। জীবদ্দশায় বিন লাদেনকে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থাকতে হলেও তিনি সব সময় পরিবারকে কাছে রাখতেন। তাঁর এক ছেলে খালিদ সোমবারের অভিযানে নিহত হন। একজন সামরিক কর্মকর্তা জানান, লাদেনের সবচেয়ে অল্পবয়সী স্ত্রী আমাল আহমেদ আবদুলফাত্তাহকে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তারা জানান, আটক নারী ও শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইএকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে লাদেন হত্যায় মার্কিন অভিযান এবং কীভাবে তিনি প্রায় ১০ বছর গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে জানা যেতে পারে।

লাদেনকে কারা সহায়তা দিয়েছে, খুঁজে বের করুন

আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন কী ধরনের সহায়তা নেটওয়ার্কের মদদে পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকতে পেরেছিলেন, তা তদন্ত করে দেখার জন্য সে দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা এ কথা বলেন। গতকাল সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।
ওবামা বলেন, ‘আমরা মনে করি, পাকিস্তানের ভেতরে বিন লাদেনের একটা সহায়ক গ্রুপ ছিল। কিন্তু আমরা জানি না তারা কারা, সরকারের ভেতরের, না বাইরের লোক। পাকিস্তানকেই তা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, সে দেশের (পাকিস্তান) কেউ না কেউ তাঁকে অবশ্যই সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, সহায়তাকারীদের মধ্যে পাকিস্তানের কোনো সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন কি না, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি আমাদের তদন্ত করে দেখতে হবে। আর পাকিস্তান সরকারের তা তদন্ত করে দেখাটা আরও জরুরি।’
সাক্ষাৎকারে ওবামাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কি মনে করেন পাকিস্তান সরকার কিংবা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানত বিন লাদেন সেখানে বাস করছেন?’ ওবামা বলেন, ‘আমরা মনে করি, পাকিস্তানে ওসামার কোনো না কোনো ধরনের সহায়ক নেটওয়ার্ক ছিল। কিন্তু কে বা কারা তাঁকে সহায়তা করেছে, তা আমরা জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। আর তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

নিরাপত্তা চান তিলকারত্নে

সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন হাশান তিলকারত্নে। এতে অবশ্য এই সাবেক ক্রিকেটারের সমস্যা নেই। বরং ম্যাচ পাতানো সম্পর্কে সবকিছু খুলে বলতেই তিনি রাজি। কিন্তু এর আগে দিতে হবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। ‘ম্যাচ পাতানোর প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আমি এর সঙ্গে জড়িত সবার নামই ফাঁস করে দেব। কিন্তু এর আগে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’—বলেছেন তিলকারত্নে।
সাবেক লঙ্কান অধিনায়কের স্ত্রী অপ্সরীও বলেছেন, তিলকারত্নে মুখ খোলার পর থেকেই তাঁরা একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন। স্বাভাবিকভাবেই স্বামীর জীবন নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তা ছাড়া তিলকারত্নে এখন বিরোধী দলের হয়ে সক্রিয় রাজনীতিও করছেন। অনেকে এর মধ্যে রাজনৈতিক গন্ধও খুঁজে পেতে পারেন। কিন্তু তিলকারত্নে বেশ জোর দিয়েই বলেছেন, ‘আমি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে কিংবা কাউকে বিপদে ফেলতে এই মন্তব্য করিনি। সৎ অবস্থানে থেকেই এই মন্তব্য করেছি। আমি চাই, খেলাটা আর খেলোয়াড়েরা সুরক্ষিত থাকুক।’
কদিন আগে সাবেক এই ক্রিকেটার মন্তব্য করেন, ১৯৯২ সালের পর থেকেই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানো চলছে। কোনো কোনো ক্রিকেটারকে তিনি সামনাসামনি ম্যাচ পাতানোর জন্য উৎকোচও নিতে দেখেছেন। তিলকারত্নের এমন মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই ঝড় ওঠে। যদিও আইসিসি থেকে এ ব্যাপারে খুব একটা উদ্যোগী মনে হচ্ছে না। এই ‘নির্লিপ্ততা’র জন্য আইসিসির কঠোর সমালোচনা করেছেন সংস্থাটির সাবেক সভাপতি এহসান মানি।
‘আইসিসি যে এই প্রসঙ্গে একেবারেই চুপটি মেরে আছে, এতে আমি যারপরনাই বিস্মিত। তিলকারত্নের মন্তব্যটি কিন্তু গুরুতর। আইসিসিরও উচিত গুরুত্বের সঙ্গে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া। পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দেওয়া, এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে তাদের অবস্থান কী। এই নির্লিপ্ততা খেলাটাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে মোটেও সহায়ক হবে না’—বলেছেন মানি।
এদিকে ভারত থেকে প্রকাশিত স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড ইন্ডিয়া বলেছে, তাদের আগামী সংখ্যায় ক্রিকেটের সঙ্গে বাজিকরদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক অজানা তথ্য তারা ফাঁস করে দেবে। পত্রিকাটি দাবি করেছে, বাজিকরেরা বেশ কিছু ভারতীয় ক্রিকেটারের নামও বলেছে। সেই নামগুলো অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাময়িকীটি সেসব তথ্য দেবে আইসিসিকে।