Wednesday, August 27, 2025

জম্মু-কাশ্মীরে ভূমিধস–হড়পা বান, ভূমিধসে নিহত ৩০

অবিরাম অঝোরধারায় বৃষ্টিতে ভূমিধস ও হড়পা বানে জম্মু–কাশ্মীরের জনজীবন বিপর্যস্ত। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জম্মুতে বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথে ধস নামায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২৩ জন। জম্মুর রিয়াসি জেলার এসএসপি পরমবীর সিং আজ বুধবার এই খবর জানিয়ে বলেছেন, ভারী বৃষ্টির দরুন উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ধসের নিচে মোট কতজন আটকে রয়েছেন, এখনই বলা যাচ্ছে না।

এবার গোটা উত্তর ভারতে অভাবনীয় বৃষ্টি হচ্ছে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখন্ড ও জম্মু–কাশ্মীরজুড়ে প্রকৃতির তাণ্ডব চলছে। প্রায় প্রতিদিনই হয় ভূমিধস নতুবা হড়পা বানে ভেসে যাচ্ছে জনপদ। মৃত্যু হচ্ছে মানুষ ও গবাদিপশুর। ভেঙে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ও ফসলের। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের কারণে যোগাযোগব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাটের হাল শোচনীয়। বেশ কিছু সেতু ভেঙে গেছে। উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। মোবাইল টাওয়ার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পানীয় জলের পাইপলাইনের।

জম্মু–কাশ্মীরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে তিন দিন ধরে। জম্মুর পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। এই অঞ্চলের ডোডা, কিস্তোয়ার, সাম্বা, কাটরা, রিয়াসি, উধমপুর ও জম্মু জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। প্রতিটি নদী বইছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। বহু স্থানে হড়পা বানে ভেসে গেছে জনপদ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আরও দুই–তিন দিন এমন বর্ষা চলবে।

বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম ধস নামে দুপুরে। পরে রাতে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী আগে থেকে তৈরি ছিল। ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। সেই কাজে হাত লাগায় সেনাবাহিনীও। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হতে থাকে।

গতকাল রাত পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার মানুষকে নিরাপদে সরানো হয়েছে। তাঁদের অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাশিবির খোলা হয়েছে। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বৈষ্ণোদেবী মন্দির কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার রাতেই যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে।

হিমাচল প্রদেশের মানালির অবস্থাও শোচনীয়। বিপাশা নদীর প্লাবনে ভেসে গেছে শহরের বহু এলাকা। ভেঙে গেছে এক বহুতল হোটেলসহ বেশ কিছু দোকানঘর। মানালি–লেহ্ সড়কের বহু এলাকা প্লাবিত। আটকে রয়েছে বহু গাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন।

বিপর্যয়ের কারণে জম্মু–কাশ্মীরে রেল পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়ার উন্নতি ও ভেঙে যাওয়া রেললাইন মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। বিপর্যয়ের কারণে বিমান পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-08-27%2Fv9v3m2re%2Fjammu-kashmir.jpg?rect=0%2C0%2C5464%2C3643&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ভারতের জম্মুতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর পানিতে প্লাবিত হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি মন্দির। ২৬ আগস্ট, জম্মু। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের অনেকেই হয়তো একজন একনায়ক চাইতে পারেন: ট্রাম্প কেন এমন কথা বলছেন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কোনোভাবেই একনায়ক হতে চান না।

তবে গত সোমবার তিনি এটাও বলেছেন, অনেকেই আসলে একনায়ক চান।

সমালোচকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁরা বলেন... “তিনি একজন একনায়ক। তিনি একজন একনায়ক।” অনেক মানুষ বলছেন, “আমাদের বোধ হয় একজন একনায়ক দরকার।” আমি একনায়ক পছন্দ করি না। আমি একনায়ক নই।’

কেন ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন? তিনি হয়তো প্ররোচনা দিচ্ছেন। আবার এমনও হতে পারে, যিনি নিজে সর্বোচ্চ ক্ষমতা চান এবং তা অর্জনে সক্রিয়, তিনিই হয়তো ইঙ্গিত দিচ্ছেন, একনায়কত্ব ভালো, এমনকি মানুষের কাছেও এটি জনপ্রিয় হতে পারে।

কে বলতে পারে

তবে এটা বলা যায়, ট্রাম্প কমবেশি ঠিকই বলেছেন। ক্রমেই অনেক মানুষ একনায়কতন্ত্রের ধারণা আমলে নিচ্ছেন। তাঁরা ট্রাম্পের সমর্থক।

অবশ্য এই সমর্থকেরা সরাসরি ‘হ্যাঁ, আমি একনায়ক চাই’—এমন কথা বলেন না। কিন্তু জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকানরা লক্ষণীয় মাত্রায় সেদিকেই ঝুঁকছেন।’

এই সুযোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার নতুন করে তাঁর ক্ষমতার পরিধি বৃদ্ধির কথা বলছেন। অথচ তাঁর সমর্থকদের ভেতর যাঁরা একসময় সীমিত সরকার ও ফেডারেল ব্যবস্থার পক্ষপাতী ছিলেন, তাঁরাও এ নিয়ে তেমন কোনো আপত্তি তুলছেন না।

গত বছর এ নিয়ে সম্ভবত সবচেয়ে বিস্ময়কর জরিপটি প্রকাশিত হয়। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যামহার্স্ট ক্যাম্পাসের এক সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের কাছে ট্রাম্পের ‘মাত্র এক দিনের জন্য’ ‘একনায়ক’ হতে চাওয়ার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। ট্রাম্প বিষয়টিকে কৌতুক দাবি করলেও ৭৪ শতাংশ রিপাবলিকান এই ধারণাকে সমর্থন করেছেন।

তবে সেটি ছিল মাত্র এক দিনের ব্যাপার। একে খুবই সীমিত ধরনের একনায়কতন্ত্র বলা যায়। হয়তো কিছু মানুষ মনে করেছিলেন, জরিপে সমর্থন দিয়ে তাঁরা সেই ‘রসিকতায়’ অংশ নিচ্ছেন।

এ ধরনের উদাহরণ আরও অনেক আছে। আরও সূক্ষ্মভাবে প্রশ্ন তুললে বোঝা যায়, ট্রাম্প আমলের রিপাবলিকান দল ক্রমেই স্বৈরশাসনের প্রতি কৌতূহলী হয়ে উঠছে।

জরিপে সাধারণত দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি রিপাবলিকান চান ক্ষমতার ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কম নিয়ন্ত্রণ থাকুক। অন্যদিকে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকে কোনো না কোনোভাবে সমর্থন করেছেন।

প্রথম অংশ থেকেই শুরু করা যাক

চলতি বছরের শুরুর দিকে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, ৫৯ শতাংশ রিপাবলিকান ও রিপাবলিকানপন্থী স্বতন্ত্র ভোটার একমত হয়েছেন, দেশের অনেক সমস্যার সমাধান আরও ভালোভাবে করা যেত, ‘যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কংগ্রেস ও আদালত নিয়ে এতটা ভাবতে না হতো।’

গত বছর একই ধরনের দুটি জরিপের ফলাফলের তুলনায় এবারের সংখ্যা বেশি। তবে সব জরিপে দেখা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা এই মনোভাবকে সমর্থন করছেন। পিউয়ের জরিপে দেখা গেছে, যাঁরা নিজেদের ‘দৃঢ়ভাবে রিপাবলিকান’ মনে করেন, তাঁদের মধ্যে এ সমর্থনের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ শতাংশে।

অবশ্য ট্রাম্পের বাধাবিপত্তি কমানোর পক্ষে মত দেওয়া আর তিনি একনায়ক হোন সেটা চাওয়া—এক কথা নয়।

কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যাবে, রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ এ ধরনের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার পক্ষে; প্রতি ১০ জনে ৩ থেকে ৪ জন।

জরিপের কিছু উল্লেখযোগ্য ফলাফল

চলতি বছরের শুরুতে সিবিএস নিউজ ইউগভের এক জরিপে দেখা যায়, ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন, আদালতকে ট্রাম্পের নীতিমালা পর্যালোচনার অধিকার দেওয়া উচিত নয়।

একই সময়ে অ্যাক্সিওস/পিআরআরআইয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ২৮ শতাংশ রিপাবলিকানের মতে, কংগ্রেস বা সুপ্রিম কোর্ট দেশকে ‘পিছিয়ে দেয়’ বলে মনে হলে প্রেসিডেন্টের এসব প্রতিষ্ঠানকে উপেক্ষা করার ক্ষমতা থাকা উচিত।

গত ডিসেম্বরে মনমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে গিয়ে যদি ‘কিছু আইন ও সংবিধানের ধারা স্থগিত করেন’ তাতেও তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। অন্যদিকে মাত্র ২৩ শতাংশ বলেছেন, এতে তাঁরা ‘ভীষণভাবে বিরক্ত’ হবেন। বাকিরা মাঝামাঝি অবস্থানে ছিলেন।

২০২৩ সালের শেষের দিকে ফক্স নিউজের এক জরিপে ২৮ শতাংশ রিপাবলিকান বলেন, দেশকে সঠিক পথে ফেরাতে এমন একজন প্রেসিডেন্ট দরকার যিনি প্রয়োজনে ‘কিছু নিয়ম ও আইন ভেঙে ফেলতে প্রস্তুত’।

পিআরআরআইয়ের আরেকটি জরিপ অনুসারে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ২৪ শতাংশ রিপাবলিকান মত প্রকাশ করেছিলেন, ট্রাম্প যদি নির্বাচনে হেরে যান, তাহলে তাঁর উচিত ক্ষমতায় ফিরে আসতে ‘প্রয়োজনীয় যেকোনো উপায়’ অবলম্বন করা।

সারকথা হলো, রিপাবলিকানদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা তারও বেশি মানুষ ট্রাম্পের ক্ষমতা দখল, প্রয়োজনে আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন এবং কংগ্রেস ও আদালতের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা বাধা ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাওয়াকে সমর্থন করেন।

স্পষ্ট করে বললে, এটা কেবল ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বোঝাপড়া না থাকার বিষয় নয়। ট্রাম্পের নাম ছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারীদের সাধারণভাবে প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে এ ধরনের প্রশ্ন করে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটরা এ–জাতীয় ধারণা সমর্থনের ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের তুলনায় অনেক কম আগ্রহী।

ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য তাহলে আমাদের কী ইঙ্গিত দিচ্ছে

রিপাবলিকানরা কেন ট্রাম্পের ক্ষমতা দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন না, এসব তথ্য থেকে সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। সেই দিক বিচারে প্রেসিডেন্ট আসলে একটি বাস্তব সমস্যার দিকেই ইশারা করছেন।

ট্রাম্পের ক্ষমতা দখলের চেষ্টাকে বৈধতা দিতেই একনায়কতন্ত্রের প্রতি এই সমর্থনের কথা বলছেন—এই ধারণাটিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার নয়। ট্রাম্প প্রায়ই তাঁর মনের কথা প্রচার করতে ‘অনেকেই বলেছে’ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকেন।

যদি অনেক মানুষ আংশিক বা পুরোপুরিভাবে একজন একনায়ককে চান, তাহলে সম্ভবত ট্রাম্পের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাবিও ততটা অযৌক্তিক নয়।

ট্রাম্প যে প্রেক্ষাপটে এই ধরনের দাবি উপস্থাপন করছেন, সেটিও বিবেচনাযোগ্য। দেশের উগ্র ডানপন্থীদের মধ্যে একটি ধারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে যে দেশ ধীরে ধীরে আরও কর্তৃত্ববাদী সরকারের দিকে যাচ্ছে।

মানুষ এই ধারণা যত বেশি সমর্থন করবে, অন্য দলের আগে নিজেদের পক্ষ থেকে কর্তৃত্ববাদী শাসন চালানোর কথা ততটাই যৌক্তিক মনে হবে।

এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প যে বীজ বপন করেছেন, সেটিকে তিনি সজীব করে তোলেন কি না। ওপরের আলোচনায় স্পষ্ট, এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া কতটা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

গাজার নাসের হাসপাতালে নৃশংস হামলা, পাঁচ সাংবাদিকসহ নিহত ২০

গাজার নাসের হাসপাতালে নৃশংস হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে পাঁচজনই সাংবাদিক। এ খবর দিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু। এতে বলা হয়, সোমবার গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় নাসের হাসপাতালে হামলা চালায় ইসরাইলের সেনারা। এতে অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে পাঁচজনই সাংবাদিক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে আল জাজিরার সাংবাদিকও রয়েছেন। এছাড়া প্যালেস্টাইন টিভির একজন ক্যামেরাম্যানও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তার নাম হুসইেন আল মারসি। আর আল জাজিরার নিহত সাংবাদিকের নাম মোহাম্মদ সালমান। বার্তা সংস্থা এপির হয়ে কাজ করতেন এমন এক নারী সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার নাম মারিয়াম আবু দাগ্গা। ইসরাইলের হামলায় আরেক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তিনি ফটোসাংবাদিক ছিলেন। তাকে মোয়াজ আবু তহা নামে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র আনাদোলুকে নিশ্চিত করেছে যে, তিউনিশিয়ার মরোক্ক নিউজে কাজ করা আহমেদ আবু আজিজ নামের এক সাংবাদিকও প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরাইলের হামলায় আগেই আহত হয়েছিলেন এই গণমাধ্যমকর্মী। ফিলিস্তিনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ বলেছে, ইসরাইলের হামলায় ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকার্যক্রম পরিচালনার সময় হতাহতের শিকার হন তারা।

হামলার কথা স্বীকার করেছে ইসরাইল। বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। দাবি করেছে কোনোভাবেই সাংবাদিক হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়নি। এই বিমান হামলার বিষয়ে জরুরি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে তেল আবিব।
গাজায় সাংবাদিক হত্যার বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেই তেল আবিবের হামলায় বহু সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেককেই টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

উপত্যকাটির সরকারি মিডিয়া দপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৪৫ জন সাংবাদিককে হত্যা করেছে ইসরাইল। যারা বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হয়ে কাজ করেছেন। ইসরাইল আন্তর্জাতিক কোনো মিডিয়ার সাংবাদিককে সেখানে প্রবেশ করতে দেয় না। তাই স্থানীয় সাংবাদিকেরাই সংবাদমাধ্যমগুলোর একমাত্র খবর সংগ্রহের উপায় ছিলেন। তবে ইসরাইলের টার্গেট হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তারা। 

mzamin

গাজায় ৯০ শতাংশ স্কুল ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটরঃ ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হামলার অন্যতম লক্ষ্য স্কুল ও হাসপাতালগুলো। ২২ মাসের বেশি সময় ধরে হামলা চালিয়ে উপত্যকাটির ৯০ শতাংশের বেশি স্কুল ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘের পরিচালিত স্কুলও রয়েছে। এই স্কুলগুলো এখন পুনরায় নির্মাণ করা ছাড়া আর ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় নেই।

গত রোববার জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় গাজার ৫৬৪টি স্কুলের মধ্যে ৯৭ শতাংশের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর ৫১৮টি বা ৯১ দশমিক ৮ শতাংশ স্কুলের কার্যক্রম আবার শুরু করার জন্য সেগুলোর পুনরায় নির্মাণ বা বড় পরিসরে সংস্কারকাজের প্রয়োজন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় নৃশংস হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে উপত্যকাটির বাসিন্দারা বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ আশ্রয় নিচ্ছে স্কুলগুলোতে। হামলায় স্কুলগুলো ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি সেখানে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিরাও নিহত হচ্ছেন। এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে জাতিসংঘ।

ইউএনআরডব্লিউএর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের শুরু থেকে গত ১৮ জুলাই পর্যন্ত গাজার স্কুলগুলোতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এসব স্কুলে ইসরায়েলের হামলায় তাঁদের মধ্যে অন্তত ৮৩৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৫২৭ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত উপত্যকাটিতে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ।

গাজার স্কুলে হামলা নিয়ে ৭ আগস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। তাতেও ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছিল। মানবাধিকার সংস্থাটি তখন গাজায় পাঁচ শতাধিক স্কুলে ইসরায়েলি হামলার কথা জানিয়েছিল। ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও এসব হামলার দায় চাপিয়েছিল তারা।

এইচআরডব্লিউর ওই প্রতিবেদনে সংস্থাটির সংকট, সংঘাত ও অস্ত্রবিষয়ক সহযোগী পরিচালক গ্যারি সিম্পসন বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে আশ্রয় দেওয়া স্কুলে হামলা গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছে। নিরাপত্তার খোঁজে থাকা এই বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর সহ্য করা উচিত হবে না।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে ইসরায়েলে বিক্ষোভ

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বৈঠক বসার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা করা হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির নতুন সমঝোতা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে সেখানে। গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যখন হামাস রাজি হয়েছে, তখন ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় এমন বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির ওই প্রস্তাব এনেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজায় বাকি ৫০ জন জীবিত ও মৃত জিম্মির অর্ধেকের মুক্তি দেওয়ার কথা। গত মাসে একই প্রস্তাব এনেছিল ইসরায়েলও। তবে হামাস প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর এখন উল্টো পথে হাঁটছে তারা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দিন কয়েক আগে গাজা থেকে সব জিম্মিকে মুক্তির জন্য আলোচনা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে আজ সকালে ইসরায়েলের তেল আবিব শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এএফপির খবরে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা শহরটির রাস্তা অবরোধ করেন। তাঁদের অনেকের হাতে ছিল জিম্মি ব্যক্তিদের ছবি ও ইসরায়েলের পতাকা। বিক্ষোভ থেকে সংঘাত বন্ধ ও জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দাবি তোলা হয়। রুবি চেন নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘জিম্মিদের মুক্তির চেয়ে হামাসের ধ্বংসকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন নেতানিয়াহু।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-08-26%2Frqkvbqji%2Fgaza-school.JPG?rect=0%2C0%2C3768%2C2512&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ইসরায়েলের হামলার মুখে গাজা নগরী থেকে পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। এ সময় রাস্তার ধারে দুই অসহায় শিশু। আজ মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায়। ছবি: রয়টার্স

মিসরে সমুদ্রতলে প্রাচীন শহরের খোঁজ

মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া উপকূলে সমুদ্রগর্ভে চাপা পড়ে থাকা এক প্রাচীন শহরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলছেন, আবু কির উপসাগরের গভীরে ডুবে থাকা শহরটির গোড়াপত্তন দুই হাজার বছরের আগে। এটি হতে পারে প্রাচীন কানোপাস নগরীর সম্প্রসারিত অংশ।

দেশটির প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই শহরের বেশ কিছু নিদর্শন গত বৃহস্পতিবার ধাপে ধাপে পানির নিচ থেকে তুলে আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজরাজড়াদের মূর্তি, চুনাপাথরের তৈরি ভবনের ধ্বংসাবশেষ ও ডকইয়ার্ডের (জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের কারখানা) অংশবিশেষ।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলছেন, টলেমাইক রাজাদের প্রায় ৩০০ বছরের শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল কানোপাস নগরী। তারই সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে এই শহর গড়ে ওঠে। পরে রোমান সাম্রাজ্যের আনুমানিক ৬০০ বছরের শাসনামলে সেটি আরও সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু ভূমিকম্প ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ধীরে ধীরে তলিয়ে যায় শহরটি। হারিয়ে যায় কানোপাস ও পাশের বিখ্যাত বন্দরনগরী হেরাক্লিয়ন।

বৃহস্পতিবার উদ্ধার অভিযান চলাকালের কিছু ছবি ও ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বড় বড় ক্রেন দিয়ে ধীরে ধীরে পানির নিচ থেকে তুলে আনা হচ্ছে বেশ কয়েকটি মূর্তি ও চুনাপাথরের তৈরি ভবনের ধ্বংসাবশেষ। এ সময় সেখানে থাকা ডুবুরিরা হাততালির মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন।

মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি বিষয়ক মন্ত্রী শেরিফ ফাতহি বলেন, ‘সমুদ্র তলদেশে প্রাচীন এই শহরের স্থাপনাসহ আরও অনেক কিছু খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে সেসব স্থাপনার সামান্যই তুলে আনতে পেরেছি আমরা। বাকি সব রয়ে যাবে আমাদের ডুবে যাওয়া ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে।’

প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার অন্যতম একটি কেন্দ্র ছিল আলেকজান্দ্রিয়া। মানবসভ্যতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরও বর্তমানে সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সমুদ্র–তীরবর্তী এই শহর প্রতিবছর গড়ে তিন মিলিমিটার করে দেবে যাচ্ছে। জাতিসংঘের গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যেই শহরটির এক–তৃতীয়াংশ ডুবে যেতে পারে নয়তো বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে।

ক্রেন দিয়ে সমুদ্র তলদেশ থেকে তুলে আনা হচ্ছে মাথাবিহীন একটি মূর্তি। বৃহস্পতিবার মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়া উপকূলে
ক্রেন দিয়ে সমুদ্র তলদেশ থেকে তুলে আনা হচ্ছে মাথাবিহীন একটি মূর্তি। বৃহস্পতিবার মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়া উপকূলে। ছবি: এএফপি

চমক দেখাবেন তামান্না

বলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া। এবার তিনি ‘রাগিনী এমএমএস-৩’র মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করবেন। এর আগে ‘রাগিনী এমএমএস’র দ্বিতীয় কিস্তির প্রধান আকর্ষণ ছিলেন সানি লিওন। কিন্তু এবার চমক দেখাবেন তামান্না। ছবিটির নির্মাতা একতা কাপুর ইতিমধ্যে নতুন এই কিস্তি ঘিরে পরিকল্পনা শুরু করেছেন। এর আগে ২০১১ সালে মুক্তি পায় সিরিজের প্রথম ছবি, আর ২০১৯ সালে সানি লিওনকে নিয়ে তৈরি হয় ‘রাগিনী এমএমএস রিটার্নস’। জানা গেছে, এবার সেই ধারাবাহিকতার তৃতীয় পর্বের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, একতা কাপুর অনেকদিন ধরেই নতুন কিস্তি বানানোর কথা ভাবছিলেন। অবশেষে উপযুক্ত গল্প পেয়েছেন এবং চলতি বছরের শেষের দিকেই শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আরও জানা গেছে, সম্প্রতি তামান্নার সঙ্গে নাকি চিত্রনাট্য নিয়ে আলোচনা করেছেন পরিচালক একতা। ছবির ভৌতিক টুইস্ট শুনে অভিনেত্রী নিজেও নাকি অবাক হয়েছেন। চমক হিসেবে ছবিতে এবারো থাকবে জমজমাট গান। আশা করা যাচ্ছে, সবমিলিয়ে দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলবে ‘রাগিনী এমএমএস-৩’।
mzamin