Tuesday, May 13, 2014

র‌্যাবই নূর হোসেনকে বাইরে পাঠিয়েছে: খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে অপহরণ ও সাত খুনের ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন নূর হোসেনকে র‌্যাবই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গতকাল সোমবার একটি পত্রিকায় র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। সেখানে কর্নেল জিয়া বলেন, নূর হোসেন ঘটনার তিন দিন পর ভারতে পালিয়ে গেছেন। তিনি এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন। কর্নেল জিয়ার এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। আজ মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে অপহরণ ও পরে খুন হওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারের নারায়ণগঞ্জের বাসায় যান খালেদা জিয়া। সেখানে নিহত গাড়িচালক ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। সেখানে খালেদা জিয়া নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি নিহত নজরুল ইসলামের বাসায় তাঁর স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার তদন্তকাজে সন্দেহ প্রকাশ করে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া আরও বলেন, একজন মন্ত্রীর জামাতা হয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ (সাত খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য অভিযুক্ত) নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন।

র‌্যাব থাকলে আতঙ্ক থাকবে
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজিমিজি এলাকায় নিহত নজরুল ইসলামের বাসায় স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) বিলুপ্তি চান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, 'এই বাহিনী এখন জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। এদের আর প্রয়োজন নেই। র‌্যাব যত দিন থাকবে, তত দিন আতঙ্ক থাকবে। শান্তি থাকবে না।' এ সময় সেখানে নিহত তাজুল, লিটন, স্বপন ও জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়া নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন, গুমের ঘটনার উল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশে বলেন, 'অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। না হলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। তারাই আপনাদের পতন ঘটাবে।' নিহত নজরুল ইসলামের বাসা থেকে খালেদা জিয়া আইনজীবী চন্দন সরকারের বাসায় যান। সেখানে চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিমের পরিবার রয়েছেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। পরে দুইটার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা রয়েছেন।

টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার বন্ধ করার অভিযোগ
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করার সময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারের বাসায় স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর খালেদা জিয়ার বক্তব্য কয়েকটি টিভি চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করে। এ সময় ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের স্যাটেলাইট টিভি সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এসবি স্যাটেলাইট কোম্পানির মালিক আবদুল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

র‌্যাবই নূর হোসেনকে বাইরে পাঠিয়েছে: খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে অপহরণ ও সাত খুনের ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন নূর হোসেনকে র‌্যাবই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গতকাল সোমবার একটি পত্রিকায় র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। সেখানে কর্নেল জিয়া বলেন, নূর হোসেন ঘটনার তিন দিন পর ভারতে পালিয়ে গেছেন। তিনি এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন। কর্নেল জিয়ার এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। আজ মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে অপহরণ ও পরে খুন হওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারের নারায়ণগঞ্জের বাসায় যান খালেদা জিয়া। সেখানে নিহত গাড়িচালক ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। সেখানে খালেদা জিয়া নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি নিহত নজরুল ইসলামের বাসায় তাঁর স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার তদন্তকাজে সন্দেহ প্রকাশ করে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া আরও বলেন, একজন মন্ত্রীর জামাতা হয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ (সাত খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য অভিযুক্ত) নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন।

র‌্যাব থাকলে আতঙ্ক থাকবে
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজিমিজি এলাকায় নিহত নজরুল ইসলামের বাসায় স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) বিলুপ্তি চান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, 'এই বাহিনী এখন জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। এদের আর প্রয়োজন নেই। র‌্যাব যত দিন থাকবে, তত দিন আতঙ্ক থাকবে। শান্তি থাকবে না।' এ সময় সেখানে নিহত তাজুল, লিটন, স্বপন ও জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়া নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন, গুমের ঘটনার উল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশে বলেন, 'অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। না হলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। তারাই আপনাদের পতন ঘটাবে।' নিহত নজরুল ইসলামের বাসা থেকে খালেদা জিয়া আইনজীবী চন্দন সরকারের বাসায় যান। সেখানে চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিমের পরিবার রয়েছেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। পরে দুইটার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা রয়েছেন।

টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার বন্ধ করার অভিযোগ
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করার সময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারের বাসায় স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর খালেদা জিয়ার বক্তব্য কয়েকটি টিভি চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করে। এ সময় ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের স্যাটেলাইট টিভি সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এসবি স্যাটেলাইট কোম্পানির মালিক আবদুল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

অতিরিক্ত নগ্ন ও যৌন দৃশ্য থাকায় আটকে গেলো কামসূত্র থ্রিডি

‘কামসূত্র থ্রিডি’ চলচ্চিত্রটি নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্ক চলেছে। এবার সেই বির্তককে আরো সামনে নিয়ে আসলো ভারতীয় সেন্সর বোর্ড। কারণ মাত্রাতিরিক্ত অশ্লীলতার দায়ে চলচ্চিত্রটিকে ছাড়পত্র দেয়নি তারা।

সম্প্রতি শারলিন চোপড়া অভিনীত ‘কামসূত্র থ্রিডি’ চলচ্চিত্রটি সেন্সর বোর্ডের কাছে জমা দেয়া হয়। কিন্তু চলচ্চিত্র দেখার পর সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা এটিকে ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্রের নিয়ম অনুযায়ী ‘কামসূত্র থ্রিডি’ নির্মাণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে তরা। তবে কিছু দৃশ্য কর্তন করলে চলচ্চিত্রটিকে ছাড়পত্র দেয়া হবে বলে জানানো হয়।

‘কামসূত্র থ্রিডি’ চলচ্চিত্রটিতে শারলিন চোপড়ার বেশ কিছু নগ্ন ও যৌন দৃশ্য রয়েছে। এগুলো কর্তনের পর আবারও সেন্সরবোর্ডের কাছে চলচ্চিত্রটি জমা দেয়া হবে বলে জানায় পরিচালক।

অপরাধ, সমাজ ও রাষ্ট্র by সৈয়দ আবুল মকসুদ

তঁার কোনো নিকট আত্মীয়স্বজন ছিল না। আমরা ডাকতাম সাধু ভাই। সাধু তিনি ছিলেন না। প্রথম জীবনে তো নয়ই। ছিলেন লম্পট। তঁাকে ডাকা উচিত ছিল লুচ্চা ভাই। কিন্তু আমি যখন তঁাকে দেখি তখন তিনি লম্পট নন, নিম্ন আয়ের নিরীহ সজ্জন ব্যক্তি। জিন্দাবাহার লেনে এক ছাপাখানার দপ্তরি। ভালো বইবঁাধাই করতেন। সারা দিন বসে বসে কাজ করে রাতে নিয়মিতভাবে গঁাজা সেবন করে বুঁদ হয়ে থাকতেন। আমাকে বিশেষ স্নেহ করতেন। আমার বইটই পড়ার অভ্যাস ছিল বলে সেই পঞ্চাশের দশকে তিনি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন কার্ল স্যান্ডবার্গের পথে প্রান্তরে, সরদার জয়েনউদ্দিনের গল্পের বই বীরকণ্ঠীর বিয়ে, খরস্রোত প্রভৃতি বই। তিনি শুধু গাঞ্জুটিয়া ছিলেন না, ছিলেন একজন খুনি।

বিশ্ব বৌদ্ধদের জাতীয় উৎসব by প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু

বৈশাখী পূর্ণিমাকে বৌদ্ধ পরিভাষায় বুদ্ধপূর্ণিমা বলা হয়। রাজপুত্র সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণপ্রাপ্তি—এই তিনটি অনন্য ঘটনা শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে ঘটেছিল বলেই বৈশাখী পূর্ণিমার অপর নাম বুদ্ধপূর্ণিমা। যেসব সম্যক সম্বুদ্ধ জগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে আবির্ভূত হবেন, সবাই বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণপ্রাপ্ত হবেন। সেদিক থেকেও বৈশাখী পূর্ণিমা যুগে যুগে বুদ্ধপূর্ণিমা হিসেবে বিবেচিত হবে। মূলত বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের পর থেকে বুদ্ধবর্ষ গণনা শুরু হয়। গৌতম বুদ্ধ মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছেন আজ থেকে দুই হাজার ৫৫৭ বছর আগে। আজ থেকে নতুন বুদ্ধবর্ষ দুই হাজার ৫৫৮ বর্ষ শুরু হলো। গৌতম বুদ্ধ ৮০ বছর বয়সে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। সেই হিসাবে তিনি আজ থেকে দুই হাজার ৬৩৭ বছর আগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

বাম ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো কোথায়? by কুলদীপ নায়ার

কিছুদিন আগে আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম। বাংলাদেশে ভারতের চলমান লোকসভা নির্বাচন নিয়ে এত উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে, যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। সে দেশের জনগণ হাতের তালুর রেখার মতোই ভারতের লোকসভা নির্বাচনের খুঁটিনাটি খবর রাখে। তারা ভারতীয় সংবাদ চ্যানেলগুলো দেখে, যেগুলো পাকিস্তানের জনগণ দেখতে পায় না, কারণ ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো পাকিস্তানে নিষিদ্ধ৷

র‌্যাব বিলোপের দাবি এবং রাজনীতি by কামাল আহমেদ

গত ২৬ মার্চ বেশ তোড়জোড়ের সঙ্গে পালিত হয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত এই বাহিনীটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকার প্রধান প্রধান সংবাদপত্রগুলোতে ব্যয়বহুল ক্রোড়পত্রও প্রকাশিত হয়েছে, যাতে কয়েকজন অপরাধ বিষয়ে অভিজ্ঞ সাংবাদিক র‌্যাবের গুণকীর্তনের বয়ান দিয়েছেন। স্পষ্টতই এটা ছিল ভাবমূর্তি উন্নয়নের একটি উদ্যোগ। প্রচারণার জগতে ভিজ্যুয়াল নাটকীয়তার মূল্য বিবেচনায় র্যাব একটি বিজ্ঞাপনচিত্রও প্রকাশ করেছে, যেটা বলিউড এবং ঢালিউডের মিশ্রণ বলেই মনে হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায় যে একজন তরুণী একলা চলার পথে একদল দুষ্কর্মার হামলার শিকার হলে সেখানে হঠাৎ করে র‌্যাব সদস্যরা হাজির হয়ে তঁাকে কীভাবে বিপদ থেকে রক্ষা করছেন।

নবনির্বাচিত এমপিদের বরণ প্রক্রিয়া শুরু

ভারতের লোকসভা সচিবালয় নতুন সদস্যদের (এমপি) স্বাগত জানানোর বরণ প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। লোকসভার প্রায় ২৪টি শাখা এজন্য প্রায় এক মাস ধরে কাজ করছে। সোমবার নয় দফা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ১৬ মে ভোট গণনার পর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এদিকে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে লোকসভা সচিবালয় নতুন করে ম্যানুয়েল, বুকলেট, কার্যপ্রণালী বিধিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাপিয়েছে। সংসদীয় বিধি মোতাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়রকে খণ্ডকালীন স্পিকার নিয়োগ করবেন। এরপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য তারিখ অনুযায়ী ২ জুন লোকসভার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি খুব সম্ভবত ৪ জুন লোকসভার প্রথম অধিবেশনের শুরুতে রাজ্যসভা এবং লোকসভার যৌথসভায় ভাষণ দেবেন। ৩১ মের মধ্যে ১৬তম লোকসভার প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে।
কারণ ওই দিন ১৫তম লোকসভার মেয়াদ শেষ হবে। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই নবনির্বাচিত সদস্যরা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আসা শুরু করলে তাদের বিমানবন্দর, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন এন্ট্রি পয়েন্টে লোকসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হবে। নতুন সদস্যরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করে চিকিৎসাসেবা, পরিচয়পত্র, যানবাহনসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এজন্য তাদের ২০টার মতো ফরম পূরণ করতে হবে। তাদের জন্য পার্লামেন্ট ভবনের একটি কক্ষে অস্থায়ী ফটো স্টুডিও স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নতুন সদস্যরা তাদের পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তুলবেন। সূত্র মতে, অশোকা হোটেল এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে নবনির্বাচিত সদস্যদের অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদায়ী সদস্যরাও যাতে নতুনদের জন্য তাদের সরকারি বাসা ছেড়ে দেন সে জন্য বলা হবে। নতুন সদস্যদের স্বাগত জানানোর জন্য সংসদ সচিবালয় পুলিশ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন এজেন্সির মধ্যে সমন্বয় করবে। ইন্ডিয়া টুডে, দ্য হিন্দু, হিন্দুস্থান টাইমস

সরকারের নারায়ণগঞ্জ পরীক্ষা

সারা দেশের দৃষ্টি এখন নারায়ণগঞ্জের দিকে, আর নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাকিয়ে আছেন সারা দেশের দিকে, উদ্ধারের আশায়। ঢাকার ছায়ায় বেড়ে ওঠা এই শহরটিতে একসময় শান্ত, অন্তরঙ্গ একটি সাংস্কৃতিক জীবন ছিল, নিরুদ্বেগ নাগরিক জীবন ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটা সুনাম ছিল শহরটির, কিন্তু করপোরেট ইঁদুর-দৌড়ের মধ্যে এটি কখনো পড়েনি। আশির দশকে মাঝেমধ্যে নারায়ণগঞ্জ যেতাম, আমার এক বন্ধুর বাসায়। তার মা ছিলেন, বাবা ছিলেন না। মা কখনো ঢাকা আসতে চাইতেন না। ‘ঢাকায় মানুষের অকারণ নাভিশ্বাস ওঠে’, তিনি বলতেন, ‘ঢাকায় জীবন খুব অনিরাপদ।’ তিনি নিরাপদ নিস্তরঙ্গ নারায়ণগঞ্জে থেকেই একদিন পরপারে চলে গেলেন। আমার বন্ধুটি এরপর ঠাঁই নিল ঢাকায়। মেধাবী কিশোর ত্বকীকে যখন খুন করল ভয়ানক সন্ত্রাসীদের একটি দল, সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার জান্নাতবাসিনী মাকে বলেছে, ‘দেখে যাও, তোমার নিরাপদ শহরের কী অবস্থা।’ অপহরণ-খুন-শীতলক্ষ্যাকরণের মিছিল থেকে শেষ সাতটি প্রাণ বলি হওয়ার পর হঠাৎ করেই নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। যাদের বিরুদ্ধে এই সাত প্রাণ সংহারের অভিযোগ উঠেছে, তাদের তিনজনের গায়ে দুই সপ্তাহ আগেও ছিল আইনের পোশাক। এই পোশাক নিয়ে শুরুতে অনেক বিতর্ক ছিল; অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কালো কেন? কিন্তু কালো পোশাক যে দুর্বৃত্ত এবং সন্ত্রাসীদের মনে ভয় ধরায়নি, তা তো নয়। এই পোশাক তো মানুষের আস্থাও অর্জন করেছিল অনেক ক্ষেত্রে। জিঙ্গরা যেভাবে বাড়ছিল, বেপরোয়া হচ্ছিল, এই কালো পোশাকের জন্যই তাতে ভাটা পড়েছিল। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ঘটনার পর র‌্যাবের ওপর মানুষের আস্থা কী আর থাকবে? তা ছাড়া, আইনের রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন ভয়ানক দুর্যোগ নেমে আসে; আইনের সঙ্গে, নৈতিকতার সঙ্গে প্রহসন করা হয়,
মানুষের বিশ্বাসভঙ্গের মতো অপরাধ করা হয়। কলেজবেলা এক সিনেমা দেখেছিলাম, সেখানে নায়ক দিলীপ কুমার এক দুর্নীতিবাজ পুলিশ অফিসারকে বলেছিলেন, ‘এই পোশাক পবিত্র, এই পোশাক গায়ে দেওয়ার অধিকার তোমার নেই।’ দুর্নীতিবাজ অফিসার শুধু হুংকার দিয়ে যাচ্ছিল ‘শাট আপ’। দিলীপ কুমার শাট আপ হননি। কিন্তু সাধারণ মানুষ হয়। সাধারণ মানুষ নায়কদের মতো অমর, অজয় নয়। তাদের শক্তি নেই, তারা নেহাত ছাপোষার দল। তাদের ঘাড়েও মাথা একটি করেই। কাজেই সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে কেউ পোশাকের অমর্যাদা করে৷ একটা হুংকার দেওয়ার আগেই তারা শাট আপ হয়ে যায়। তা ছাড়া, সন্ত্রাসীরা এখন আর ছিঁচকে টাইপের নয়: এরা যাকে বলে রাঘববোয়াল। এদের এক শ রকমের ব্যবসা থাকে। পুলিশের খাতায় স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখা থাকে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় যে মূল অভিযুক্ত, তার শুধু বাংলাদেশ পুলিশের নয়, ইন্টারপোলের খাতাতেও নাম লেখা আছে। তার পরও তার নামে ১১ কি ১২ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এতগুলো আগ্নেয়াস্ত্র একজনের নামে কেন হবে—এগুলো দিয়ে ছোটখাটো একটা বাহিনীই তো চালানো যায়—সে প্রশ্ন কেউ করেনি। কাগজে দেখলাম, তার অবৈধ বালুমহাল উচ্ছেদ হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর আইনের রক্ষকদের মনে হলো, বালুমহালটি অবৈধ? এত দিন তাহলে কি এটি বৈধ ছিল? তার ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে অবৈধ অস্ত্র আর মাদকও উদ্ধার হয়েছে। এত দিন কি এগুলো বৈধ ছিল? ত্বকীকে হত্যা করার পর নারায়ণগঞ্জ ক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল। মানুষ পথে নেমেছিল, কারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাও পত্রপত্রিকায় লেখা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনে নড়ন-চড়ন হয়নি। প্রশাসন মানে সরকার। সরকার দেখল, অভিযোগ উঠেছে যাদের বিরুদ্ধে তারা তার দলের। ফলে একটা অলিখিত নির্দেশ জারি হয়ে গেল সবার ওপর: নড়ন-চড়ন নাস্তি। ত
বকীর বাবা রফিউর রাব্বি ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরলেন। বিচার না পেয়ে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী ত্বকী মঞ্চ তৈরি করলেন। সেই মঞ্চের একটি আলোচনা সভায় আমি গিয়েছিলাম। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সেই সভায় বলেছিলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ত্বকী হত্যার বিচার হতে হবে, তা না হলে সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। স্যারের কথাগুলো, দুঃখজনকভাবে সত্যি প্রমাণিত হলো। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, বড় সন্ত্রাসীদের শাস্তি না হলে মেজো-ছোট সন্ত্রাসীরাও উৎসাহিত হয়ে অপকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের তারকাখচিত সন্ত্রাসীদের কিছু হচ্ছে না দেখে পাথরঘাটা অথবা দুপচাঁচিয়ার সন্ত্রাসীরা যদি অপহরণ-ব্যবসায় নেমে পড়ে, তাহলে দেশটা মগের মুলুক হতে কত বাকি থাকে? সব অপরাধেরই শাস্তি হওয়া উচিত। এটি সরকারের একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। আমাদের সরকারের লোকজন তো আর ভিন্নগ্রহ থেকে আসেনি—তারাও তো রক্তমাংসের মানুষ। তাহলে একজন অপহৃত ব্যবসায়ী বা রাজনীতিকের স্ত্রী-সন্তান এবং আপনজনের বুকফাটা কান্না কেন তাদের টলায় না, তাদের বিবেকে ভয়ানক একটা মোচড় দেয় না? প্রাণহীন ত্বকীর ছবিটি দেখে চোখের পানি ফেলেনি এমন মানুষ নেই। তাহলে? আর রাজনীতিবিদ হলেই অপহৃতের পরিবারের জন্য সমবেদনা জাগাতে হবে না, এটা কি কোনো বিবেকের কথা হলো? ইলিয়াস আলী অপহৃত হয়েছেন আজ দুই বছর হলো। তার মেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একটি অনুরোধ জানিয়েছিল, তার বাবাকে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য। চিঠিটা পড়ে চোখের পানি ধরে রাখা কষ্টকর হয়েছে। এ রকম চিঠি প্রতিদিন, প্রতি রাতে লিখে যাচ্ছে অনেক শিশু, অদৃশ্য কাগজে, তাদের প্রার্থনার ভাষায়। তারা কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ বিএনপি নেতার ছেলেমেয়ে, কেউ বা অন্য কোনো দলের রাজনীতিবিদের। অথবা ব্যবসায়ী, অথবা সাধারণ মানুষের। এদের কথা ভেবেও অন্তত অপহরণ-খুন বন্ধের জন্য সরকারকে সব শক্তি নিয়ে নামতে হবে। এবং সরষের মধ্য থেকে ভূত তাড়াতে হবে। একজন সন্ত্রাসীকে গায়ে-মাথায় বড় হতে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে সুবিচার, বিবেক আর সুনীতির শরীরকে তিলে তিলে ক্ষয় হতে দেওয়া। কাগজে দেখলাম নারায়ণগঞ্জের সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডগুলোর পর বিএনপি তীব্র কণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছে, সরকারকে ব্যর্থ-ব্যর্থ বলছে। কিন্তু বিএনপির আমলে এই সন্ত্রাসীরা কি গায়ে-মাথায় বাড়েনি? কত সন্ত্রাসীই তো পাললেন বিএনপির ক্ষমতাবানেরা, তারা কোথায় এখন?
বিএনপির দুঃসময়ে তারা কি সাহায্যটুকু করছে? এখন আওয়ামী সরকার হয়তো ভাবছে, সন্ত্রাসীদের দরকার বিরোধীদের শায়েস্তা করার জন্য। বিএনপি যদি সরকারকে বলে, ‘সন্ত্রাসীরা আমাদের ক্ষতি ছাড়া লাভ কিছু করেনি, আপনাদেরও করবে না। সন্ত্রাসীদের ঝেড়ে ফেলে দিন,’ তাহলে একটা কাজের কাজ হয়, একটা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করা যায়। তার পরও যদি সরকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শূন্য-সহ্যবোধ না দেখায়, তাহলে মানুষ রাস্তায় নামবে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ নেমেছে। ভবিষ্যতে রাস্তায় নামা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। দেয়ালে পিঠ ঠেকলে মানুষ সামনে এগোতে চায়। এর কোনো বিকল্প থাকে না। ‘সন্ত্রাসীরা কোনো দলের নয়’—এ কথা আমাদের প্রধানমন্ত্রী বহুবার বলেছেন; আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির নেত্রীও বহুবার বলেছেন। তাহলে কেন সন্ত্রাসীরা কারাগারে অথবা পালিয়ে থাকার পরিবর্তে বুক চিতিয়ে হাঁটে, অথচ আইন মান্য করা, রুচিশীল শিক্ষিত, মেধাবী মানুষেরা তাদের শিকার হতে থাকেন? কাগজে দেখলাম, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের প্রধান অভিযুক্ত পলাতক হওয়ার পর তাঁর দোকান-মার্কেট, বালুমহাল ইত্যাদি দখলে নেওয়ার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন বিএনপির এক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা। ধরা যাক দেশে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হলো, বিএনপি ক্ষমতায় এল। তখন এই প্রভাবশালী যে সন্ত্রাসীদের জন্য একটা অভয়ারণ্য তৈরি করবেন না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক কারণে আশ্রয় দিলে কিছুদিন দলের লাভ হয়। মাস্তানি-সন্ত্রাসের একটা তাৎক্ষণিক ফায়দা হয়তো পাওয়া যায়। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয় সমাজের, দেশের। একইভাবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে দলীয় প্রভাবে আনা হলে, সরকারি দলের প্রতি আনুগত্যের মাপে চাকরিতে নেওয়া হলে, পদায়ন-পদোন্নতি নির্ধারিত হলে একটা সর্বব্যাপী অরাজকতা সৃষ্টি হয়। তাহলে যে প্রশ্নটি প্রধান হয়ে দাঁড়ায় তা হলো: এ রকম একটি দেশের জন্য কি একাত্তরে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম? সরকারের জন্য নারায়ণগঞ্জ একটি অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দেখা দিয়েছে। সরকার যদি কিছুদিন নড়াচড়া করে আবার নিষ্ক্রিয়তায় ফিরে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে সারা দেশে নারায়ণগঞ্জ ছড়িয়ে পড়বে। একসময় ফেরার উপায় থাকবে না। আর যদি সরকার সন্ত্রাসীদের মূল উচ্ছেদে নামে, নিজের মানুষ পরের মানুষ বিবেচনা না করে, সন্ত্রাসীদের ধরে, এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে, ত্বকীসহ সব খুন ও অপহরণের সুষ্ঠু বিচার করে, সারা দেশের অপহৃত ব্যক্তিদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারে, তাহলে আমার বন্ধুটি তার মাকে বলতে পারবে, শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, ঢাকাও এখন নিরাপদ৷
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

‘এখানে ছাত্রলীগ ভাড়া পাওয়া যায়’

পাওনা টাকা আদায় বাংলাদেশে সত্যিই এক বড় সমস্যা। আমরা নানা কারণেই লোকজনকে টাকা দিয়ে থাকি। কখনো বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছায়, কখনো কারও ব্যবসায় কিছু বিনিয়োগ করে লাভের আশায় বা নিছক সুদের লোভে। কখনো বা কাউকে সাহায্য করার জন্য শুধুই ধার হিসেবে। এসব টাকা ভুল লোকের হাতে গিয়ে পড়তেই পারে। টাকা দিলেন, কিন্তু বিদেশ যাওয়া হলো না, বা আশা করেছিলেন কিছু লাভ মিলবে, তা হয়তো মিলল না; কিন্তু টাকা তো ফেরত পাওয়া চাই! কিন্তু কীভাবে? এসব লেনদেনের কাগজপত্র অনেক ক্ষেত্রেই থাকে না, ফলে আইনের এখানে খুব কিছু করার থাকে না। আর থাকলেও বা কী! থানা-পুলিশের অবস্থা তো আমাদের জানা। বাংলাদেশে আইন-আদালতের ঝক্কি-ঝামেলায় কে যেতে চায়! এসব অসহায় ও বিপদাপন্নদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ছাত্রলীগ। আপনি কারও কাছ থেকে টাকা পান তো ছাত্রলীগের নেতাদের জানান,তাঁরা টাকা উদ্ধারে আপনাকে সহায়তা করবেন। ছাত্রলীগ যে অসহায় পাওনাদারদের গোপনে এ ধরনের ‘সেবা’ দিয়ে আসছিল, তা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা ছিল। সেবামূলক কাজ নাকি গোপনেই করতে হয়! গত মাস তিনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গোটা পাঁচেক অপহরণের ঘটনার পর এই ‘গোপন সেবা’ দেওয়ার বিষয়টি আর গোপন থাকল না। নানা অনুসন্ধানে বের হয়ে গেল এসব অপহরণের সঙ্গে ‘পাওনা টাকা উদ্ধারের’ বিষয় জড়িত। তবে ‘সেবামূলক কাজ’-এর ‘স্বীকৃতি’ সব সময় মেলে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফল হয় উল্টো।
এবার বিপদে পড়ে গেছেন ছাত্রলীগের চার নেতা-কর্মী। সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়—দুই তরফ থেকেই বহিষ্কারের শিকার হয়েছেন ‘বেচারা’ চার ছাত্রলীগ কর্মী। গত শুক্রবার এ ধরনের টাকা উদ্ধারকাজে অপহরণের ঘটনায় আটক ছাত্রলীগের ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঠানো হয়েছে আদালতে। একজন এখন আছেন তিন দিনের রিমান্ডে। এ ধরনের কাজকে তো তঁারা কখনো অপরাধ হিসেবে বিবেচনাই করেননি। পাওনা টাকা উদ্ধারে চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় কাজ করার ‘সেবা’ ছাত্রলীগের কেউ কেউ দিয়ে আসছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। পাওনাদারকে টাকা উদ্ধার করে দিয়ে যদি তাঁরা কিছু পেয়ে থাকেন, সেটা তো নিতান্তই ‘সার্ভিস চার্জ’! ছাত্রলীগ একটি বড় সংগঠন। এর সব নেতা-কর্মীর জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, ঠিকাদারির কাজ ভাগাভাগি করে দেওয়া বা চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির সুযোগ করে দেওয়া খুবই কঠিন। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নিশ্চয়ই এসব সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এসব কাজের চেয়ে অসহায় পাওনাদারদের সহায়তায় ছাত্রলীগকে কাজে লাগানোই তো ভালো! পাওনা টাকা আদায়ের জন্য অনেকেই মাথার চুল ছিঁড়ছেন, কিন্তু কোনো উপায় পাচ্ছেন না। এই হতভাগাদের বড় সহায় হতে পারে ছাত্রলীগ। টাকাও উদ্ধার হলো আর ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরাও কিছু পেল। এভাবে বিষয়টি ভেবে দেখলে ক্ষতি কী!
অনেক পাওনাদারের কাছে নিশ্চয়ই এটা এত দিন জানা ছিল না যে টাকা উদ্ধারের জন্য ছাত্রলীগকে ভাড়া করার যায়, এখন অনেকে জেনেছেন। কিন্তু তাঁরা কোথায় খুঁজতে যাবেন ছাত্রলীগের কর্মীদের! ফলে একটি নিয়মের মধ্যে কাজটি করাই ভালো, একটি কাঠামো দাঁড় করিয়ে ফেললেই হয়! পাওনা টাকা আদায়ের জন্য ‘এখানে ছাত্রলীগ কর্মী ভাড়া পাওয়া যায়’ ফুটপাত বা সরকারি জায়গা দখল করে এ ধরনের একটি ছোট অফিস-ধরনের কিছুও করা যেতে পারে! ‘ছাত্রলীগ ভাড়া খাটছে’ প্রথম আলোতে এমন একটি তরতাজা শিরোনাম আর সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন হওয়ার কারণে ছাত্রলীগের জন্য পরামর্শের ডোজটি হয়তো একটু বেশিই হয়ে গেল! কিন্তু এই পরামর্শ আসলে শুধু ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের জন্যই নয়, সবার জন্যই খাটে। সমাজের সবাই তো আমরা ভাড়াই খাটছি। অনেক রাজনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক ভাড়া খাটছেন ব্যবসায়ী বা ভূমি দখলদারদের হয়ে, অন্য কোনো দেশের স্বার্থে অথবা কোনো বিদেিশ কোম্পানির পক্ষে। একই কায়দায় ভাড়ায় খাটছেন অনেক আমলা, ভাড়া করা যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনকেও। দল ও গোষ্ঠীর হয়ে ভাড়ায় খাটছেন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী৷ সাংবাদিকেরাই বা এ থেকে বাদ যাবেন কেন? আমরাও খুব পিছিয়ে নেই। এটা যে ভাড়া খাটারই যুগ! ভাড়া খাটার জয় হোক।
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

কঠিন পরীক্ষায় মমতা, মুলায়ম

মমতা বন্দ্যোপাধায় , মুলায়ম সিং যাদব
ভারতের লোকসভা নির্বাচন শেষ হচ্ছে আজ সোমবার৷ নবম ও শেষ পর্বে আজ তিন রাজ্যের ৪১ আসনে ভোট গ্রহণ হবে৷ শেষ দফার নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতা মুলায়ম সিং যাদব৷ মমতা-মুলায়মের সামনে আজ যদি থাকে কঠিন পরীক্ষা, তাহলে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি ও আম আদমি পার্টির (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল আজ কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি৷ কেউই কারও কাছে হারতে চান না৷ উত্তর প্রদেশের বারানসি আসনে আজ দুজন সর্বশক্তি নিয়ে লড়াইয়ে নামছেন৷ তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই দ্বৈরথে কে হাসবেন শেষ হাসি, তা ঠিক করে দেবেন বারানসির মানুষ৷ লোকসভার এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো এক মাসের বেশি সময় ধরে৷ শুরু হয়েছিল ৭ এপ্রিল, শেষ হচ্ছে আজ৷ ফলাফল ঘোষণা করা হবে ১৬ মে৷ মমতার দল তৃণমূল এবং মুলায়মের সমাজবাদী পার্টি তাদের নিজ নিজ রাজ্যে ক্ষমতায়৷ রাজ্যের বাইরে তাদের কোনো উপস্থিতি নেই বললেই চলে৷ তাদের দুই রাজ্যে এবার বড় করে ভাগ বসাতে চাইছে মোদির বিজেপি৷ পশ্চিমবঙ্গে হয়তো খুব ভালো করতে পারবে না, কিন্তু উত্তর প্রদেশে থাবা বসাতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি বিজেপি৷ নির্বাচনের আগের সব জনমত জরিপে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, বিজেপিই সরকার গড়বে৷ এ জন্য উত্তর প্রদেশে তাদের ভালো করতেই হবে৷ পশ্চিমবঙ্গে লোকসভার আসন মোট ৪২টি৷ শেষ দফায় আজ ভোট হচ্ছে ১৭টি আসনে৷ এই ১৭ আসনের মধ্যে ১৬টি গতবার পেয়েছিল তৃণমূল৷ আর মুলায়মের রাজ্য উত্তর প্রদেশের ৮০ আসনের মধ্যে আজ ভোট ১৮ আসনে৷ এ ছাড়া বিহারে ছয়টি আসনে ভোট হচ্ছে৷ এবারই প্রথম কোনো দলের সঙ্গে গাঁটছড়া ছাড়াই নির্বাচন করছে মমতার তৃণমূল৷ ফলে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের সব কটিতে প্রার্থী দিয়েছে দলটি৷
এই রাজ্যে আগাগোড়াই কংগ্রেস বা বিজেপির অবস্থা খুব একটা শক্ত ছিল না৷ বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের শেষ পর্যায়ে তাদের সঙ্গে টক্কর দিয়েছে তৃণমূল৷ বামদের দুর্গ ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের তছনছ করে দিতেও সক্ষম হয়েছেন মমতা৷ তাই গতবার ১৯টি আসন পেলেও এবার তিনি বলছেন, সবগুলো আসনই তৃণমূলের হবে৷ এতটা না হলেও দলের নেতারা আশা করছেন, তাঁদের আসনসংখ্যা ৩০ এর ওপরে থাকবেই৷ পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নেই, বামফ্রন্ট তছনছ৷ তাই বলে সবটা একা তৃণমূলকে ছাড়তে রাজি নয় বিজেপি৷ এমনিতে এবার সারা দেশে বইছে মোদি হাওয়া৷ তার ওপর ক্ষমতায় থেকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে তৃণমূলের তেমন কিছু করতে না পারা এবং শেষবেলায় সারদা কেলেঙ্কারিতে জেরবার মমতা৷ এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবার তূণমূলের ভাগে কামড় বসাতে উদ্যত বিজেপি৷ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি রাহুল সিনহা তাই আশা করছেন, ‘আগের কোনো হিসাবনিকাশ এখন কাজ করবে না৷ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির হাওয়া এবার ভিন্নদিকে বইছে৷ আমি নিশ্চিত, তৃণমূল যতটা আশা করছে, তাদের জন্য তা ততটা সহজ হবে না৷’ উত্তর প্রদেশের বারানসিতে বিজেপির মোদি, এএপির কেজরিওয়াল ও কংগ্রেসের অজয় রায়ের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইটা হতে যাচ্ছে৷ কিন্তু পুরো রাজ্যের লড়াইটা চতুর্মুখী হবে বলেই মনে হচ্ছে৷ এতে কংগ্রেস ও বিজেপির পাশাপাশি থাকছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও বিরোধী দল মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি)৷ তবে মূল লড়াইটা হতে পারে বিজেপি ও বিএসপির মধ্যে৷ এসপির প্রধান মুলায়ম লড়ছেন বারানসির পাশের আসন আজমগড় থেকে৷ সেখানেও আজ ভোট৷ তিনি হয়তো জিতে যাবেন৷ কিন্তু তাঁর দল এসপির অবস্থা গতবারের মতো অতটা সংহত নয়৷ বিহারে নির্বাচন আজ ছয়টি আসনে৷ এই রাজ্যে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে উন্নয়নের বিষয়টি পাশে সরিয়ে জাতপাতের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন নরেন্দ্র মোদি৷ এই অনুভূতির ওপর ভর দিয়ে টক্কর দিতে চাইছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সঙ্গে৷ একই অস্ত্রে কাবু করতে চাইছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের জনতা দলকে (সংযুক্ত)৷ সিএনএন-আইবিএন৷

দুই নায়ক কি পারবেন?

তাপস পাল -দেব
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে আজ সোমবার পঞ্চম ও শেষ দফার নির্বাচন। রাজ্যে আজ ১৭টি আসনে ভোট হবে। এর মধ্যে কয়েকটি আসনের প্রতি দৃষ্টি থাকবে সবার৷ কারণ এসব আসনে ভাগ্য নির্ধারিত হবে কয়েকজন তারকার৷ এসব তারকার মধ্যে রয়েছেন কলকাতার অভিনেতা দেব, তাপস পাল, সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন, জাদুকর পিসি সরকার (জুনিয়র), জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা।
দেব, তাপস পাল ও ইন্দ্রনীল সেন তৃণমূলের প্রার্থী৷ ঘাটাল আসনে দেবের প্রতিদ্বন্দ্বী বামফ্রন্ট প্রার্থী সন্তোষ কুমার রানা। কৃষ্ণনগর আসনে তাপস পালের বিপক্ষে আছেন বিজেপির সত্যব্রত মুখার্জি ও বামফ্রন্টের শান্তনু ঝাঁ৷ আর বহরমপুরে ইন্দ্রনীল সেন লড়ছেন কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরীর বিপক্ষে৷ বারাসাত আসনে বিজেপির প্রার্থী জাদুকর পিসি সরকারের বিপক্ষে আছেন তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও বামফ্রন্টের মোর্তজা হোসেন৷  বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা লড়ছেন কলকাতা উত্তর আসনে। তাঁর প্রতিপক্ষ তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেসের সোমেন মিত্র৷ কলকাতা দক্ষিণ আসনে বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়ের বিপক্ষে প্রার্থী তৃণমূলের সুব্রত বক্সী৷ ডায়মন্ডহারবারে মমতার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লড়াই হবে বামফ্রন্টের আবুল হাসনাতের।