Showing posts with label মাদারীপুর. Show all posts
Showing posts with label মাদারীপুর. Show all posts

Saturday, April 26, 2025

অল্প টাকায় ইতালি নেয়ার প্রলোভন: মাফিয়াদের ভয়াবহ নির্যাতনের পর নিখোঁজ মাদারীপুরের ৩ যুবক

অল্প টাকায় লিবিয়া দিয়ে ইতালি নেয়ার প্রলোভন। এরপর লিবিয়ার বন্দি শিবিরে আটকে রেখে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হাওয়া বেগম ও বাবুল মাতুব্বর নামে দুই দালালের বিরুদ্ধে। মাফিয়াদের ভয়াবহ নির্যাতনের পর নিখোঁজ মাদারীপুর সদর উপজেলার হাউসদী গ্রামের ৩ যুবক। এই ঘটনায় আদালতে মামলা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে দালালচক্র। উল্টো ভুক্তভোগীদের মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছে দালালরা। তবে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। এই ঘটনায় লিবিয়ায় অবস্থানরত এক দালালের হুমকির অডিও রেকর্ডে এসেছে এই প্রতিবেদকের হাতে। মাদারীপুর সদর উপজেলার মধ্য হাউসদী এলাকার বাবুল ফকিরের ছেলে মারুফ হোসেন এবং তার ভাগনে মহিউদ্দিন মোড়ল লিবিয়ায় অবস্থানরত দালালের কাছে বন্দি। লিবিয়ার অবস্থারত এক দালাল বাবুল ফকিরকে হুমকি দিচ্ছে। তার হুমকির অডিও রেকর্ড নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো বাবুল ফকির (লিবিয়ায় বন্দি মারুফের পিতা): ভাই ভাই আমি গরিব মানুষ। টাকা জোগার করার সময় দেন। অপর প্রান্ত থেকে দালালের হুমকি, তোরে তো এক ঘণ্টা সময় দিয়েছি। এরপর প্রকাশ গালাগালি করে দালাল। এরপর ভুক্তভোগী করুন কণ্ঠে বলেন, একটু দয়া করেন ভাই, একটু দয়া করেন। মোটরসাইকেল বেইচ্যা আপনারে এক লাখ টাকা দিতেছি। এতগুলো টাকা কোথা থেকে দিমু?

দালাল: এর আগে তিনদিন দিছি সময়। ওগো যে ছাড়াই আনছি ওগো তো কম টাকা লাগতেছে। তোরা কি এহন জানোস বর্তমানে মাফিয়াগো হাতে গেলে কতো টাকা লাগে? ওগো তো কম টাকা লাগতেছে। এক এক জনের ২০ লাখ টাকা লাগে। এরপর ভুক্তভোগী মারুফের বাবা বলেন, দিমু তো। আপনারা আনছেন ছাড়াই দিমু আপনাগো টাকা। এরপর দালাল বলেন: তোগো একটা সুযোগ দিছি। আজকে এক লাখ দিবি, পরশু পাঁচ লাখ করে দুইজনে দশ লাখ দিবি। পরের দিন ক্লিয়ার করে দিবি। ভুক্তভোগীর বাবা: ঠিক আছে ভাই একটু আমারে সময় দেন। এরপর দালালের হুঙ্কার, টাকা দিতে যতক্ষণ লেট হইবে ততক্ষণ ওদের ওপর লাঠি চলবে। পরে ভিডিও কইর‌্যা পাঠাই দেবোনে।

ভুক্তভোগী মারুফের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন: ভাই এমন কইরেন না, ভাই দয়া করেন। এরপর দালাল আদেশ দেয়, টাকা দিয়া ফোন দিবি, একেবারে সন্ধ্যার আজানের পর। এরপর ফোন কেটে দেয়। এভাবেই লিবিয়ায় বন্দিদের আটকে রেখে স্বজনের কাছে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে।

সরজমিন জানা গেছে, মাদারীপুরে সদর উপজেলার মধ্য হাউসদী গ্রামের মারুফ হোসেন, মহিউদ্দিন মোড়ল, সোলায়মান আকন। উভয়ের বয়স ২০। বাড়িতে থাকতে দালালচক্র ওদের প্রলোভন দেখায় ইতালির মোটা বেতনের। এরপর লিবিয়া নিয়ে আটকে রেখে চালায় নির্যাতন। নির্যাতনের সময় স্বজনদের মোবাইলে শোনানো হয় নির্যাতনের বর্ণনা। টাকার জন্য লিবিয়ায় অবস্থানরত দালালরা মোবাইল ফোনে দেয় হুমকি। এরপর আদায় করা হয় টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দালালরা কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে মানবপাচার করে থাকে। প্রথম ধাপের দালালরা গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল মানুষদের অল্প টাকা ইতালি নেয়ার প্রলোভন দেখায়। এরপর তাদের ফাঁদের পা দিলেই তারা ভুক্তভোগীদের লিবিয়াতে অবস্থানরত মাফিয়াদের হাতে তুলে দেয়। এরপর বন্দি শিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন করে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এই নির্যাতনে অনেকেই প্রাণ হারায়। এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান, পুলিশ প্রশাসন, ব্যাংক কর্মকর্তরাও জড়িত। স্বজনরা জানান, দালালে প্রলোভনে ছয় মাস আগে ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার মধ্য হাউসদী গ্রামের মারুফ হোসেন, মহিউদ্দিন মোড়ল ও সোলায়মান আকন। প্রথম কিছুদিন তাদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ থাকলেও এখন যোগাযোগ নেই। লিবিয়ায় নেয়ার পরে তাদের অমানুষিক নির্যাতন করে। ভিটেমাটি বিক্রি করার পাশাপাশি চড়াসুদে টাকা এনে দালালদের হাতে তুলে দেয় স্বজনরা। দালালরা লাখ লাখ টাকা আদায়ের পর দীর্ঘদিন ধরেই নেই যোগাযোগ। বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তাও জানে না স্বজনরা। এই ঘটনায় স্থানীয় দালাল হাওয়া বেগম ও বাবুল মাতুব্বরের নামে ভুক্তভোগী পরিবার একাধিক মামলা করেছে। এরপরও মিলেনি সন্ধান। গ্রেপ্তার হয়নি দালালচক্র। উল্টো আরও হুমকি দিচ্ছে।

নিখোঁজ সোলায়মান আকনের মা সালমা আক্তার বলেন, ছেলেকে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন করে দফায় দফায় মুক্তিপণের জন্য টাকা আদায় করে। কয়েক দফায় বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৫ লাখ ৪০ হাজার দেয়া হয়েছে। এরপরও ছেলের সন্ধান পাইনি। উল্টো আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে স্থানীয় দালাল হাওয়া বেগম এবং বাবুল মাতুব্বর। নিখোঁজ মারুফের বাবা এবং অপর নিখোঁজ মহিউদ্দিন মোড়লের মামা বাবুল ফকির বলেন, স্থানীয় দালাল হাওয়া বেগম এবং বাবুল মাতুব্বর আমাদের সহজে ইতালি নেয়ার প্রলোভন দেখায়। এরপর লিবিয়াতে নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে। আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে ওই দালালচক্র। এরপরও তাদের সন্ধান পাইনি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাওয়া বেগম ও বাবুল মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাড়িতে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি। বাবুল মাদারীপুর শহরের চরমুগরিয়া বন্দর শাখা সোনালী ব্যাংকে দীর্ঘদিন থেকে কর্মরত। তবে মামলা পরে অনুপস্থিত রয়েছেন সেখানেও। এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার ওসি আদিল হোসেন জানান, দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হুমকি দিয়ে থাকলে সেটাও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, মানবপাচারের বিষয় তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

mzamin

Monday, March 10, 2025

আ'লীগের দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব: প্রতিশোধ ও প্রভাব বিস্তার করতেই তিন ভাইকে খুন by মো. আলিউল আহসান কাজল

নিহত সাইফুল সরদার ছিলেন মাদারীপুরের খোয়াজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এই পদ ব্যবহার করে এলাকায় হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিরোধ্য। নিজের চাচা হোসেন সরদারকে গত বছর হাতুড়িপেটা করে পঙ্গু করে দেন। হোসেনও ছিলেন আওয়ামী লীগের লোক। শনিবার দুপুরে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে সাইফুলসহ তিনজন নিহত হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই মাদারীপুর সদর থানায় নিহতের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে হোসেন সরদারকে প্রধান আসামি করে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সরজমিন জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সদর উপজেলার খোয়াজপুরে কীর্তিনাশা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল সাইফুল। গত বছর খোয়াজপুর এলাকার বালু ব্যবসায়ী হোসেন সরদারকে (৬০) প্রকাশ্যে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেন তিনি। এলাকায় সালিশ মীমাংসায় প্রভাব বিস্তার করতেন সাইফুল। অভিযোগ রয়েছে- মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা ও প্রভাব বিস্তার করে হাটের ইজারা নিয়েছিলেন তিনি। এলাকায় হিটার সাইফুল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সদর থানায় এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। কিছুদিন জেল খেটে আবার শুরু করতেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এসব ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই হোসেনের নেতৃত্বে সাইফুল গ্রুপের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান। শনিবার সাইফুল (৩৫), তার ভাই আতাউর সরদার (৪০) এবং চাচাতো ভাই পলাশ সরদারকে (১৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দু’ভাগে বিভক্ত ছিল জেলা আওয়ামী লীগ। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিতেন সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান এবং অপরপক্ষের নেতৃত্ব দিতেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম। সাইফুল নাসিম সমর্থিত খোয়াজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আর হোসেন ছিলেন শাজাহান খান সমর্থিত আওয়ামী লীগ নেতা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সিন্ডিকেট ও খোয়াজপুর-টেকেরহাট বাজারের ইজারা দখল নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। গত বছরের পা ভাঙার প্রতিশোধ ও পুরো সিন্ডিকেট দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন হোসেন সরদার। এ নিয়ে মাসখানেক আগে দু’গ্রুপের মধ্যে হামলা ভাঙচুরেরও ঘটনা ঘটে। শনিবার সাইফুল ও তার ভাই আতাউর সরদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে হোসেন সরদারের লোকজন। গুরুতর আহত হয় আরেক ভাই অলিল সরদার ও চাচাতো ভাই পলাশ সরদার (১৫)সহ আটজন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পলাশের মৃত্যু হয়।

সাইফুলের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জানান, এক সময় এলাকায় খুব প্রভাব ছিল সাইফুলের। বিভিন্ন বিচার সালিশিও করতেন তিনি। মানুষ তার কথা মানতো। সম্প্রতি সাইফুল লোকজন নিয়ে হোসেনের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে তার লোকজনকে মারধর করে। হোসেনের লোকজন আবার সাইফুলের এক মামাকে তুলে নিয়ে মারধর করে। সেই ঘটনা মাসখানেক আগে মীমাংসাও হয়ে গেছে। নিহতের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী ড্রেজারের ব্যবসা করতো। সরকারের কাছ থেকে হাট ইজারা নিয়েছিল। হাট ঘাট ব্যবসা-বাণিজ্য দখল করে নেয়ার জন্য তারা তাকে হত্যা করেছে। হোসেন জমি বিক্রি করে এলাকার সমস্ত লোকজন নিয়ে রামদা, সেনদা-অস্ত্রশস্ত্র্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়ির তিন দিক থেকে আক্রমণ করে। আমরা পালানোর চেষ্টা করি। পরে আমাদের বাড়ি-ঘর লুটপাট করে আগুন দিয়ে দেয়। আমার স্বামীসহ আমার দুই ভাসুরকে মেরে ফেলে। ছোট ভাই পলাশকেও মেরে ফেলে।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি বালু ব্যবসা ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই ঘটেছে। এই মামলার ভিকটিম সাইফুল তার বংশীয় চাচা হোসেন সরদারকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেন। সেই ঘটনায় মামলা হলে জেলা পুলিশ তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাইফুলের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মূলত বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

mzamin

Sunday, October 6, 2024

মাদারীপুর থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছে রোহিঙ্গারা

মাদারীপুর থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাচ্ছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকরা। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। এদিকে এ ঘটনায় নির্বাচন অফিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। এরইমধ্যে এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জাদির মুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৩ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা জমিলা খাতুন, পিতার নাম আবুল কালাম এবং মাতার নাম মাহমুদা খাতুন। অথচ তিনি গত ১লা ফেব্রুয়ারি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত এলাকা থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন। আবেদন করেছেন পাসপোর্টের জন্য। তিনি যে ঠিকানা ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন সেই এলাকার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও চেনেন না ওই নামে কাউকে। এ ব্যাপারে চরজানাজাত ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির সরকার বলেন, যে নারীর কথা বলা হয়েছে তিনি এই ইউনিয়নের বাসিন্দা নন। তাকে আমি চিনি না।

অভিযোগ রয়েছে মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলি আহম্মদ এবং শিবচর উপজেলা নির্বাচন কর্মকতা এসএম কাদেরের জোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই নারীকে ভোটার তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রদান করা হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, জমিলা খাতুন ও তার স্বামী মুক্তাবিজ ইসলাম পরিবারসহ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার জাদির মুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৩ নম্বর ব্লকে বসবাস করতেন। কয়েক বছর আগে মুক্তাবিজ ইসলাম বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বর্তমানে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। এরপর তার স্ত্রী জমিলা খাতুনকে সৌদি আরব নেয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিক বানিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, মাদারীপুরের স্থানীয় ঠিকানা ব্যহার করে ভোটার হচ্ছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা একাধিক রোহিঙ্গা। টাকার বিনিময়ে এমনটা করছেন নির্বাচন অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ১লা অক্টোবর মাদারীপুর সদর উপজেলায় এক নাগরিক ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে ভোটার হতে আসে। পরে তার জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে না পাওয়ায় তার ভোটার হওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) বানিয়ে পাসপোর্ট করে মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা দেশে চলেও যাচ্ছে।
জানা যায়, রোহিঙ্গারা তাদের নাম-পরিচয় গোপন করে স্থানীয় কোনো পরিবারের স্বামী-স্ত্রীকে পিতা-মাতা বানিয়ে জনপ্রতিনিধি এবং নির্বাচন অফিসের কতিপয় কর্মচারীকে ম্যানেজ করে ভোটার আইডি কার্ড বানাচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধিকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে এনআইডি তৈরি করছে। পাসপোর্ট বানিয়ে বাংলাদেশি সেজে বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। একটি এনআইডি তৈরি করতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া প্রসঙ্গে জমিলা খাতুনের স্বামী সৌদি আরবে অবস্থানরত মুক্তাবিজ ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপে দাবি করেন তিনি মিয়ানমারের নাগরিক হলেও তার স্ত্রী জমিলা খাতুন বাংলাদেশের নাগরিক। কীভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়েছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, আমি রোহিঙ্গা হয়েছি তাতে কি হয়েছে? রোহিঙ্গারা কি বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাবে না?

স্থানীয়রা জানান, রোহিঙ্গারা নানা কৌশলে ভোটার হচ্ছেন। এ দায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচন অফিস এড়াতে পারে না। টাকার বিনিময় ছাড়া এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি খুব সহজ নয়। কমপক্ষে পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করে এই কার্ড পাওয়া যায়। আবেদনপত্র জমা দেয়ার পর তথ্য সংগ্রহ, পরিচিতি যাচাই, উপজেলা সার্ভারে প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে এনআইডি কার্ড দেয়া হয়। এজন্য বেশ সময়ও লাগে। উল্লিখিত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যদি কার্ড পেয়ে থাকে, তাহলেও বলতে হবে এক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসএম কাদের বর্তমানে ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলি আহম্মদ নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, শিবচর উপজেলায় এক রোহিঙ্গা নারী ভোটার হয়েছে, এমন ঘটনা জানার পর পুলিশ সুপারকে তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করেছি। পরে পুলিশ সুপারের তদন্তে বিষয়টি সত্যতা পাওয়া যায়। পরে আমরা সেই রোহিঙ্গা নারীর নাম তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। এ ছাড়াও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের শৃঙ্খলা শাখা থেকে অভিযুক্ত আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। রোহিঙ্গারা ভোটার হচ্ছে কিনা জানা নেই। তবে গত ১লা অক্টোবর মাদারীপুর সদর উপজেলায় এক নাগরিক ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে ভোটার হতে আসে। পরে তার জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে না পাওয়ায় তার ভোটার হওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। 

mzamin