Friday, November 12, 2010

আলোচনা- ''স্বর্ণকণা শোভে শত শত' মদির গন্ধভরা কণ্টকফল' by মুহম্মদ সবুর

"কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানোর" চেষ্টা কম করা হয়নি। ক্ষুধার্ত মুখগুলো পাহাড়ী গাছ থেকে হলুদ হবার অনেক আগেই সবুজ কাঁঠাল পেড়ে এনেছিল। কিন্তু কাঁচা কাঁঠাল আর যাই হোক গলাধঃকরণ সহজ নয়।

এমনিতেই সময় ছিল কাঁঠাল পেকে ওঠার। অর্ধপাকা কাঁঠাল সাবাড় প্রায়। কারো মাথায় যে কাঁঠাল ভেঙ্গে খাওয়া যাবে সে উপায়ও ছিল না। ১৩৭৮ বাংলা সনের জ্যৈষ্ঠ অর্থাৎ ১৯৭১-এর মে মাসে ত্রিপুরার পালটানায় প্রশিক্ষণার্থী হবার অপেক্ষায় এসে ক্যাম্পে ঘাঁটি গেড়ে বসা সেইসব যুবক। কাঁঠাল কিলিয়ে হতাশ হয়েছিল মনে আছে আজো। একাত্তরে রামগড় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যে এপ্রিলের শেষদিক থেকে শরণার্থীর ঢল নামে। পার্বত্য অঞ্চল। জনমনিষ্যি কম। খাবার সংকট তীব্র।

বিশেষ রচনা :ওমর খৈয়াম by ড. শামসুল আলম সাঈদ

শরীয়ত বিরোধী বেদাত সৃষ্টির জন্য তাঁদের ওপর জুলুম, অত্যাচার শুরু হলে তাঁরা পালিয়ে ইউরোপে চলে গিয়ে সেখানেই সাধনা করে জগৎ বিখ্যাত হন।

ওমর খৈয়ামের ওপরও বার বার নির্যাতন হয়েছিল। তিনি কৌশলে মোলস্নাতন্ত্রীদের এড়িয়ে সব দেশের ভেতর বিবেকের রশ্মি প্রজ্বলিত রাখেন
ওমর খৈয়ামের নাম শোনেনি বিশ্বে এমন একজন শিক্ষিত লোকও নেই। তিনি ইরান বা পারস্যের একজন কবি, গাণিতিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তাঁর অমর সৃষ্টি রুবাইয়াত ও বীজগণিত। তাঁর আবিষ্কৃত বীজগণিতের নাম আলজাবর বা এলজেব্রা, অঙ্কশাস্ত্রের আকর। তবে ওমর খৈয়ামের বিশ্বখ্যাতির মূলে রয়েছেন একজন ইংরেজ কবি, নাম এডওয়ার্ড ফিটস জেরাল্ড (১৮০৯-১৮৮০)।

নাটক- 'বিম্বিত স্বপ্নের বুদ্বুদ' by মোজাম্মেল হক নিয়োগী

দুলাল : ২৫/৩০ বছরের যুবক (গ্রামের পালা গানে প্রম্পট মাস্টার ছিল, পরে যাত্রাদলের বিবেক হয়।)
আসমা : ২০/২২ বছরের দুলালের প্রতিবেশীর চাচাতো বোন। দুলালকে আসমা ভালবাসে।
কুলসুম : ৪০/৪৫ বছরের আসমার মা।

রমজান : আসমার বাবা।
বিউটি : ২০/২২ বছরের যাত্রাদলের নায়িকা।
আশেক : ৪০/৪৫ বছরের প্রৌঢ়, গ্রামের পালা গানের প্রথম ম্যানেজার।
নিজাম : ৪০/৪৫ বছরের প্রৌঢ়, গ্রামের পালা গানের দ্বিতীয় ম্যানেজার।
মজিদ : ৩০/৩৫ বছরের আসমার বড় বোনের স্বামী যে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আসমাকে বিয়ে করে।

গল্প- 'জয়া তোমাকে একটি কথা বলবো' by জাহিদুল হক

সোহরাওয়াদর্ী উদ্যানের টিএসসি ঘেঁষা এলাকার একটি গাছের নিচে তুকা ঘাসের ওপর বসে আছে। ওর পাশে জয়া। তুকা ইউনিভার্সিটির মহসীন হলের ছাত্র। আর জয়া রোকেয়া হলের।

নির্জন দুপুরের ভ্যাপসা গরমেও গাছের ছায়ায় কিছুটা স্বস্তি আর শান্তির স্পর্শ পাচ্ছিল তুকা আর জয়া দু'জনেই।
তুকার মনে এখন একটা অস্বস্তির কাঁটা বিঁধছে। জয়াকে আজও কথাটা বলবে ভেবেও বলতে পারছে না। কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছে না কথাটা মুখ ফুটে বলতে।
বেশ কিছুদিন ধরে তুকা শুধু মাঝে মাঝে জয়াকে একটি সংলাপের পুনরাবৃত্তি করে বলছে, জয়া, তোমাকে একটি কথা বলবো!
জয়া হেসে বলে, কী কথা? বলো।
তুকা বলে, বলবো।

গল্প- 'নতুন বন্ধু' by আশরাফুল আলম পিনটু

ডিং ডং ডিং। ডোরবেল বাজতেই দরজা খুলল হিমু। শুভ আর ওর মা দাঁড়িয়ে আছে। হাসি হাসি মুখ। হিমুর মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন শিলা খালা। বললেন, 'তোমার মা নেই বাড়িতে?'

'আছে।' ছোট্ট জবাব দিল হিমু। সঙ্গে সঙ্গে মাও এলেন। খুশি হলেন ওদের দেখে।
'আসুন আপা, আসুন।' ওদের ড্রইংরুমে বসালেন মা। আদর করলেন শুভকে। তারপর হিমুকে বললেন, 'যাও, শুভকে নিয়ে খেলা করো। আমি নাস্তার জোগাড় করি।' শিলা খালা বললেন, 'নাস্তা-টাস্তা পরে। আপনি ব্যস্ত হবেন না। বসুন, গল্প করি।' দুই মা বসলেন গল্প করতে। আর শুভকে নিয়ে হিমু ভেতরের ঘরে গেল।
শিলা খালা মায়ের নতুন বান্ধবী। কয়েকদিন আগে পরিচয় হয়েছে। হিমুদের ইশকুলে ভর্তি হয়েছে শুভ। ওরা ক্লাস থ্রির ছাত্র। অনেক মা আসেন ইশকুলে।

গল্প- 'টপকে গেল টাপ্পু' by ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ

ঝাঁ ঝাঁ রোদ বাইরে। জ্যৈষ্ঠের দুপুরে। এমন দুপুরে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকতে বেশ লাগে টাপ্পুর। গা পোড়ানো গরম। মাথার ওপর শন শন করে ফ্যান ঘুরছে।

মাঝে মাঝে রাস্তা দিয়ে সুর করে হাঁক দিচ্ছে আইসক্রিমওয়ালা। এমন সুনসান দুপুরে কি অঙ্ক কষতে কারো ভালো লাগে।
রিনা বসিয়ে দিয়ে গেছে ছেলেকে।
-খবরদার টাপ্পু, একদম নড়বে না। অঙ্ক কষে তারপর ঘুমোতে যাবে। অঙ্ক কষার পর তোমার ছুটি।
মা কেন অমন করে? এমন নিরিবিলি দুপুরে কি অঙ্ক কষতে ভালস্নাগে? বড়রা কিছুতেই এসব বুঝতে চায় না।

এশিয়ার অলিম্পিক শুরু আজ

দুই বছর আগে বেইজিং অলিম্পিকে চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠান দিয়ে চমকে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকেই। আজও কি আরেকটি বিস্ময় উপহার দিতে চলেছে চীন?
আয়তনে অলিম্পিকের পরই এশিয়ান গেমস। দ্বিতীয় অলিম্পিক বলতে পারেন। এমনিতেই এশিয়ার অলিম্পিক নামেই পরিচিত এই আসর। কিন্তু আয়তনে এবার অলিম্পিককেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন ১৬তম এশিয়ান গেমস।
২০০৮ অলিম্পিকে ২৮টি খেলার ৩০২টি ইভেন্ট হয়েছিল, ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকেও সে রকমই হওয়ার কথা। কিন্তু আজ গুয়াংজুতে শুরু হতে যাওয়া ১৬ দিনের এই আসরে ৪২টি খেলার ৪৭৬টি ইভেন্ট থাকছে। পৌনে পাঁচ শ সোনার পদকের জন্য লড়াই করবেন ৪৫টি দেশের ৯৭০৪ জন ক্রীড়াবিদ। এঁদের সঙ্গী হচ্ছেন প্রায় পৌনে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা।
অধিকন্তু ন দোষায়। গুয়াংজু গেমস এবার চমকে দিতে চাইছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়েও। এবারই প্রথম কোনো গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্টেডিয়ামের বৃত্ত ভেঙে দিচ্ছে, হচ্ছে স্টেডিয়ামের বাইরে। হাইজিনশা দ্বীপসংলগ্ন পার্ল নদীর ওপরে থাকবে বর্ণিল সাজে সাজানো ৪৫টি নৌকা। তাতে সওয়ার হয়েই অংশগ্রহণকারী ৪৫টি দেশের প্রতিনিধিরা পৌঁছাবেন দ্বীপে। সেখানেই হবে মার্চ পাস্ট।
১৭০০ কোটি ডলার বাজেটের একটা বড় অংশ খরচ হচ্ছে শুধু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই। ২০০৮ অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সহকারী পরিচালক চেন ওয়েইয়ারই কাঁধে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনার ভার। কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে চেন বলেই দিয়েছেন, ‘এই অনুষ্ঠান চমকে দেবে পুরো বিশ্বকে।’
পদকের তালিকাতেও চীন আবারও চমকে দিতে চায়। এমনিতে এই আসরটিকে চীন নিচ্ছে ২০১২ অলিম্পিকের প্রস্তুতি হিসেবে। বেইজিংয়ে ৫১টি সোনাসহ ১০০টি পদক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে শীর্ষে ছিল চীন। স্বাগতিক দেশ বলেই যে এই সাফল্য নয়, লন্ডন অলিম্পিকে সেটা প্রমাণের তাগিদ আছে তাদের।
এমনিতে এশিয়ান গেমসে চীনেরই আধিপত্য। ২০০২ দোহা গেমসে ১৬৬টি সোনাসহ রেকর্ড ৩১৬টি পদক জিতেছিল চীন। দক্ষিণ কোরিয়া ৫৮টি সোনাসহ জিতেছিল ১৯৩টি পদক, ৫০টি সোনাসহ ১৯৮টি পদক জিতেছিল জাপান। এই তিন দেশের মধ্যেই এবারও আসল লড়াই। গত কমনওয়েলথ গেমসে দারুণ সাফল্য দেখানো ভারতও এবার নিজের নামটি দেখতে চায় পদক-তালিকার ওপরের দিকেই।
ভারত অবশ্য একটি নিশ্চিত সোনা আগেই ছেড়ে বসে আছে। এবারের গেমসে যুক্ত হওয়া পাঁচটি নতুন খেলার একটি ক্রিকেট। তাতে থাকছে না ভারত। অবশ্য বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে থাকবে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা। ক্রিকেটসহ বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে ১৬টি খেলায়।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ‘কাজ’ কী by মশিউল আলম

আগামী সংসদ নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। সরকারের দ্বিতীয় বছরই এখনো পেরোয়নি। তিন বছরেরও বেশি সময় হাতে আছে। এত আগে সাধারণত নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় না। বিশেষত যাঁরা সরকারে থাকেন, তাঁরা নির্বাচন নিয়ে ভাবতে ও কথা বলতে শুরু করেন তৃতীয় বা চতুর্থ বছরে গিয়ে। দিন যতই গড়াতে থাকে, ততই নির্বাচন নিয়ে তাঁদের শঙ্কা-উদ্বেগ বাড়ে। বিগত সরকারের শেষ বছরে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর দলীয় জনসভাগুলোতে বক্তব্যে এমন সতর্কবাণী উচ্চারণ করতে শোনা যেত, ‘আগামী নির্বাচনে জিততেই হবে, হেরে গেলে আমাদের পিঠের চামড়া থাকবে না।’
বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সরকারের দুই বছর না পেরোতেই নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করার প্রয়াস পেলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের প্রচার-প্রকাশনা ও তথ্য-গবেষণা সম্পাদকদের এক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ‘নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডের ওপর আগামী নির্বাচনে দলের ভাগ্য নির্ভর করবে। আমাদের কার্যক্রমের কারণে যদি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ক্ষমতায় আসে, তাহলে আমাদের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে।’ তিনি তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ দুর্নীতিকে ঘৃণা করে এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগের নামে কেউ দুর্নীতিতে যুক্ত হলে এবং আইন ভাঙলে মানুষের বিশ্বাসে আঘাত আসে। তাই কারও সামান্য স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আওয়ামী লীগের ওপর মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করা যাবে না। আওয়ামী লীগের আদর্শের সঙ্গে দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস জড়িত। আওয়ামী লীগের ওপর মানুষ আস্থা হারালে বা আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হলে যাঁরা পাকিস্তানের ভাবধারার জঙ্গিবাদী, অকার্যকর ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানাতে চান, সে ধরনের দেশ প্রতিষ্ঠা হবে। দেশের ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভর করে। আওয়ামী লীগ এই দায়িত্ব নিতে চায়। দলের নেতা-কর্মীদেরও সেভাবেই তৈরি হতে হবে।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে যে বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফ এতগুলো সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, সেখানেই তিনি বলেছেন, ‘আমরা সঠিক পথেই যাচ্ছি। সে পথ থেকে বিচ্যুত না হতে এলাকায় গিয়ে নেতা-কর্মীদের বোঝাতে হবে।’ তাঁর এই কথাগুলো সমস্ত সতর্কবাণীকে অর্থহীন করে দিতে পারে। মানুষ যখন বিশ্বাস করে যে সে সঠিক পথেই চলছে, তখন ওই পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তার মনে জাগে না; বারবার স্মরণ করিয়ে দিলেও সে তা আমলে নেয় না। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়ম, কাবিখা-কাবিটার গম-চাল নিয়ে নয়-ছয় এবং ‘ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ’ করার লড়াইয়ে নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি—এসব যদি ‘সঠিক পথ’ চলা হয়, তাহলে এই পথ আওয়ামী লীগকে কোথায় নিয়ে যাবে তা অনুমান করতে কষ্ট হয় না।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য যেদিন সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে, সেদিন পত্রপত্রিকার খবরগুলোর দিকে দৃষ্টি ফেরালেই আমরা সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের কিছু ‘কাজ’-এর নমুনা পেতে পারি। ১. পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় খুন হয়েছেন ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দীন ইসলাম ওরফে দিলা; এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে একই সংগঠনের সভাপতি শরিফউদ্দিনকে। ২. গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সরাফত হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তার কার্যালয় ও সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন, লাঞ্ছিত করেছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সায়াদ উদ্দিনকে। এই হামলার কারণ: প্রতি পরিবারে একজনকে চাকরি দেওয়াবিষয়ক সরকারি প্রকল্প ‘ন্যাশনাল সার্ভিস’-এর প্রশিক্ষণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার পছন্দের লোকেরা সুযোগ পাননি। ৩. সিলেটের বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলিতে ছাত্রলীগের চার কর্মী, এক ব্যবসায়ী ও এক পথচারী আহত। ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা এক ফটোসাংবাদিককে প্রহার করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন। ৪. তার আগের দিনের সংবাদপত্রের খবর, চট্টগ্রামে যোগাযোগমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিংয়ের পর রেলওয়ে শ্রমিকলীগের নেতা-কর্মীরা সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেছেন।
সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের জবরদস্তিমূলক আচরণ এখন এক সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। চাকরির জন্য ভর্তি পরীক্ষায় সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের হাঙ্গামা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা করা, যার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে পাবনার ঘটনা স্মরণ করা যায়, এবং নিজেদের মধ্যে মারামারি-খুনোখুনি—এগুলো যে সঠিক পথ নয়, তা সবাই বোঝেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের ‘কাজ’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন আমরা জানি না, কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, এগুলোই হচ্ছে তাঁদের কাজ; এবং সত্যিই এসব কাজের প্রভাব খুব ভালোভাবেই পড়বে আগামী নির্বাচনে। আওয়ামী লীগ আইনের শাসনে বিশ্বাসী—সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এই দাবি যদি সত্য হতো, তাহলে সরকারি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের ওপর দলটি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের জবরদস্তিমূলক আচরণ দেখা যেত না। আমার দলের লোকেরাই চাকরি পাবে, টেন্ডার পাবে, ব্যবসা পাবে, ভালো পদ পাবে—আওয়ামী লীগ মনে মনে এই অবস্থান স্থির করে নিয়েছে বলে সন্দেহ হয়। এবং এই সন্দেহ যদি অমূলক না হয়, তবে তো আইনের শাসনের কথা অবান্তর হয়ে যায়। ক্ষমতাসীন দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কত হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেসবের মধ্যে কতগুলো আসলেই হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা, আর কতগুলো গুরুতর অপরাধের অভিযোগের মামলা—তা বিচার করা হয়েছে কি না সন্দেহ। এবং এই মামলা প্রত্যাহারের সুবিধাটি পেয়েছেন শুধু ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরাই, বিরোধী দলের কেউই এ সুযোগ পাননি। বরং বিরোধী দলের অভিযোগ, তাঁদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
আইনের শাসনের কথা মুখে বললেই মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা যায় না। বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের আস্থা আপনা-আপনিই অর্জিত হয়। কিন্তু বাস্তবে উল্টো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ধারণা হয়ে গেছে এ রকম যে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ ঘটানো হয় না। ক্ষমতাসীনরা নিজেরাও হয়তো ভাবেন, আইন তাঁদের জন্য নয়, তাঁরা আইনের ঊর্ধ্বে। সরকার ও সরকারি দলের দায়িত্ব ও এখতিয়ারের মধ্যকার পার্থক্যও তাঁরা মানতে চান না। সরকারের প্রশাসন আইনানুগভাবে খাল উদ্ধার করতে গেছে, সরকারি দলের সাংসদ এসে ম্যাজিস্ট্রেটদের ভাগিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, কাউকে উচ্ছেদ করতে হলে আমিই করব। আইনপ্রণেতা সরকারের কাজ করবেন, সরকারি দলের নেতা জেলা প্রশাসককে ধমকাবেন—এভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা দূরে থাক, সরকারি প্রশাসনের যেটুকু কর্মদক্ষতা ও মনোবল এখনো আছে, তাও আর বেশি দিন থাকবে না।
‘আওয়ামী লীগের আদর্শের সঙ্গে দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস জড়িত।’ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এই বক্তব্য জনগোষ্ঠীর অন্তত অর্ধেকের জন্য সত্য। ‘দেশের ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভর করে।’ তাঁর এই বক্তব্যও একই রকম সত্য। এবং তিনি যে বললেন, আওয়ামী লীগ দেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিতে চায়—এই ঘোষণাও একটি দৃঢ় রাজনৈতিক ঘোষণা। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হবে কীভাবে? আওয়ামী লীগ আসলে নিজেকে কীভাবে দেখে? কীভাবে নিরূপণ করে নেতা-কর্মীদের? তাঁদের ‘কাজ’ আসলে কী? এবং তাঁদের অধিকাংশই এখন যেসব ‘কাজ’ করছেন, তা কেন করছেন? কেন নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি হচ্ছে? কেন তাঁরা সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করছেন? কেন সরকারি দপ্তরে, পরীক্ষাকেন্দ্রে, টেন্ডারবাক্সে হামলা করছেন? সোজা উত্তর: ব্যক্তিগত বৈষয়িক স্বার্থে। একই সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরস্পরকে খুন করতে উদ্যত হচ্ছেন, খুন করে ফেলছেন! সংকীর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থবোধ কতটা উদগ্র হয়ে উঠলে এমনটি ঘটতে পারে?
দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাদের পেছনে থেকে সাত বছর ধরে ‘দলের কাজ’ করেছেন যেসব তরুণ-যুবক, দল নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাঁদের মনে অনেক অধিকারবোধ তৈরি হয়েছে। সাত বছর রুটি-রুজির সংকটে ছিলেন তাঁরা, এখন দল ক্ষমতায়, এখনো কি সেভাবেই চলতে হবে? নিজের নেতা এখন সাংসদ, বা সাংসদ না হলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা। নেতার নিজের, তাঁর পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবের ভাগ্যোন্নয়ন হচ্ছে, ঘরবাড়ির চেহারা বদলে যাচ্ছে, সয়সম্পত্তি বাড়ছে। তাহলে কর্মীদের কেন রুটি-রুজির সংকট চলতেই থাকবে? কিছু টাকা-পয়সা কেন আসবে না তাদেরও ঘরে?
কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব? সরকার তো তাদের সবার জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে না। দেশে যত চাকরিপ্রার্থী শিক্ষিত বেকার; তত চাকরি তো নেই। সে জন্যই বলা হচ্ছে: দলের লোক ছাড়া কেউ চাকরি পাবে না। কিন্তু এভাবে আর কয়জনের কর্মসংস্থান করা সম্ভব? তাহলে উপায় কী? আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা উপায় বের করে নিয়েছেন: দেশজুড়ে নানা ‘অর্থকরী কর্মকাণ্ডে’ লিপ্ত হয়েছেন। এসবই তাঁদের ‘কাজ’। এই দল কী করে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেবে?
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

বাটা শুর ১৪৫ শতাংশ মধ্যবর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা

বাটা শু চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য ১৪৫ শতাংশ (১০ টাকার প্রতিটি শেয়ারে ১৪.৫০ টাকা) মধ্যবর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অর্ধবার্ষিক লাভ পর্যলোচনা ও অনুমোদনের পর বিষয়টি কার্যকর হবে।
ঘোষিত মধ্যকালীন লভ্যাংশের রেকর্ড ডেট ৮ ডিসেম্বর।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী বাটা শুর কর-পরবর্তী মোট লাভ ২১ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১৫.৭২ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল যথাক্রমে ২০ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও ১৪.৭৪ টাকা।

তারার আলো মেঘ খেয়ে ফেলছে

ধুলোর মেঘ খেয়ে ফেলছে নক্ষত্রের আলো
ছবিতে দেখা যাচ্ছে উদ্দেশ্যহীনভাবে ভেসে বেড়ানো গ্যাস ও ধুলোর মেঘকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দিচ্ছে নক্ষত্রের আলো। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে অপূর্ব সুন্দর এই চিত্রটি ধারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ছবিটি প্রকাশ করে নাসা।
ছবিতে বাঁয়ে ওপরের অংশে দেখা যাচ্ছে প্লেইয়াডেস নক্ষত্রপুঞ্জের সদস্য মেরোপে নামের নক্ষত্রটির অংশবিশেষ। তুলনামূলক নিচে ও ডানের বস্তুটি হচ্ছে গ্যাস ও ধুলোর মেঘ।
গত এক লাখ বছরের মধ্যে গ্যাস ও ধুলোর এই মেঘ সম্ভবত নক্ষত্রটির খুব কাছাকাছি চলে যায়। বিজ্ঞানীদের হিসাবে মেঘ ও মেরোপের
মধ্যকার দূরত্ব পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্বের চেয়েমাত্র সাড়ে তিন হাজার গুণ বেশি। এত কাছাকাছি চলে আসায় মেঘের ওপর মেরোপের আলোর নাটকীয় প্রভাব পড়ে। এর মাধ্যমে তারাটির মেঘটিকে ধীরে ধীরে ‘খেয়ে ফেলা’ নিশ্চিত হয়।
এ ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা হলো, মেঘের ধুলোর কণাগুলো মেরোপের আলোর চাপে স্তরীভূত হয়ে পড়ে এবং মেরোপমুখী হয়ে পড়ে। এই মেঘে তারাটির সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা ধুলোকণাগুলো সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত এবং আকারে সবচেয়ে বড়। এই মেঘের স্বাভাবিক পরিণতি হচ্ছে শক্তিশালী নক্ষত্র রশ্মির প্রভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

সিয়াওবোর সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না তাঁর স্বজনেরা

শান্তিতে এবারের নোবেল বিজয়ী চীনের মানবাধিকারকর্মী লিউ সিয়াওবোর সঙ্গে তাঁর স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া শান্তি পুরস্কার নিয়ে সিয়াওবো একটি বিবৃতি দিতে চেয়েছিলেন, সেটি কর্মকর্তারা আটকে দিতে পারেন বলে সন্দেহ করছেন সিয়াওবোর আত্মীয়রা। একটি মানবাধিকার সংগঠন গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছে।
ইনফরমেশন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি নামের সংগঠনটি জানায়, কারাবন্দী সিয়াওবোর সঙ্গে বুধবার দেখা করার জন্য তাঁর আত্মীয়রা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এতে সাড়া দেয়নি।
সিয়াওবোর দুই ভাই লিউ জিয়াওগুয়াং ও লিউ জিয়াওজুয়ান এবং তাঁর শ্যালক লিউ টং জানিয়েছেন, তাঁরা আশঙ্কা করছেন যে আগামী ১০ ডিসেম্বর শান্তি পুরস্কার দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁদের হয়তো সিয়াওবোর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হবে না।
চীনে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে ২০০৮ সালে একটি ইশতেহার প্রকাশ করেন সিয়াওবো। ওই ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে গত ডিসেম্বরে তাঁকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয় চীনা কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তানে ড্রোন হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছিলাম

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তাঁর সদ্য প্রকাশিত আত্মজীবনী ডিসিশন পয়েন্টস-এ পাকিস্তানে চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন থেকে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। বুশ বলেছেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, উগ্রপন্থী জঙ্গিদের পাকিস্তান দমন করবে না। এ কারণে তিনি ওই হামলার নির্দেশ দেন।
জর্জ বুশ লিখেছেন, পাকিস্তান সরকার ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল জটিল পর্যায়ের। তিনি স্বীকার করেন, উগ্রপন্থীদের সামাল দিতে গিয়ে পাকিস্তানকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে এবং আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করা জঙ্গিদের পাকিস্তানের সেনারা বেশ কয়েক বছর ধরে সফলতার সঙ্গেই মোকাবিলা করছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে মোশাররফ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন না বা করতে পারবেনও না।
বুশ লিখেছেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কিছু কর্মকর্তা তালেবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। আইএসআইয়ের বাকি কর্মকর্তারা মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেলে এবং সেখানে ভারত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করা যাবে, তার নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন।
বুশ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষের দিকে তিনি পাকিস্তানের বিষয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। ওই সময় তিনি আফগানিস্তান-ফেরত বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে একটি বাহিনী তাঁকে বলে, ‘আমাদের পাকিস্তানের কিছু (ব্যক্তির) পশ্চাৎদেশে লাথি মারার অনুমতি দরকার।’ বুশ তাদের সে অনুমতি দিয়েছিলেন।
বুশ লিখেছেন, ‘উগ্রপন্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আমি গোয়েন্দাদের অনুমতি দিয়েছিলাম। আমাদের সে সময়ের বহু কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়। এর কিছুদিন পরই আমি সে নির্দেশ দিই এবং সংবাদমাধ্যমগুলোতে চালকবিহীন বিমান হামলার খবর বের হতে থাকে।’
পাকিস্তান তার ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে। এ-জাতীয় প্রতিটি হামলার পর পাকিস্তান সেগুলোকে তার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে।
২০০৬ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনী ইন দ্য লাইন অব ফায়ার-এ পারভেজ মোশাররফ যুক্তরাষ্ট্র বোমা মেরে পাকিস্তানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল বলে উল্লেখ করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল টেলিফোন করে তাঁকে ওই হুমকি দিয়েছিলেন। বুশ তাঁর বইয়ে স্বীকার করেন, ২০০১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কলিন পাওয়েল মোশাররফকে টেলিফোন করে বলেছিলেন, পাকিস্তান তালেবান না যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থাকবে—সে সিদ্ধান্ত মোশাররফকেই নিতে হবে।
বুশ বলেছেন, পাকিস্তানের সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সব সময়ই পাকিস্তানের ভারতবিরোধী মানসিকতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে তাঁর যতবারই কথা হয়েছে, ততবারই তিনি ভারতের দোষ তুলে ধরেছেন।

মাউন্ট মেরাপির অগ্ন্যুৎপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯১

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে মাউন্ট মেরাপি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বুধবার ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আরও লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া ছাই ও ভস্মের কারণে বিমান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হংকং, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ার তিনটি এয়ালাইনসের সব বিমান বাতিল করা হয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর থেকে মাউন্ট মেরাপির জ্বালামুখ দিয়ে ছাই ও লাভা বের হচ্ছে। ওই এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পুষ্টিমান নেই এমন খাবারের সঙ্গে খেলনা বিক্রি নিষিদ্ধ

ফাস্টফুড রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের সঙ্গে খেলনা দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো নগর কর্তৃপক্ষ। এ-সংক্রান্ত নতুন একটি আইন পাস করা হয়েছে সেখানে। ওই আইন অনুযায়ী, যেসব খাবারে পুষ্টিমান নেই, সেসব খাবারের সঙ্গে শিশুদের খেলনা দেওয়া যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম কোনো নগরে এ ধরনের আইন পাস করা হলো। আগামী বছরের ডিসেম্বর থেকে এ আইন কার্যকর হবে। আইনটি সানফ্রান্সিসকোর বোর্ড অব সুপারভাইজরে আট-তিন ভোটে পাস হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, খেলনাসহ যেসব শিশুখাদ্য বিক্রি করা হচ্ছে, তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি নেই।
ফাস্টফুড জায়ান্ট ম্যাকডোনাল্ডস এ আইনের সমালোচনা করে দাবি করেছে, তাদের তৈরি শিশুখাদ্যে সরকার নির্ধারিত মান অক্ষুণ্ন রয়েছে।

বাগদাদে খ্রিষ্টানদের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা, নিহত ৩

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কয়েকটি জায়গায় গতকাল বুধবার খ্রিষ্টানদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ও মর্টার হামলা চালানো হয়েছে। এতে কমপক্ষে তিনজন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছে।
ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সকাল ছয়টা থেকে আটটার মধ্যে বাগদাদের বিভিন্ন এলাকায় খ্রিষ্টানদের বাড়ি লক্ষ্য করে মর্টারের দুটি গোলা ও ১০টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে তিনজন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার বাগদাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় মনসুর নামক এলাকায় খ্রিষ্টানদের তিনটি বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়। তবে এতে কারও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে গত সপ্তাহে বাগদাদের একটি গির্জায় ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত জিম্মি উদ্ধার অভিযানের সময় ৪৪ জন খ্রিষ্টান, দুজন যাজক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্য নিহত হন।

চীনে শিশু অধিকার সংরক্ষণকর্মীর কারাদণ্ড

চীনে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেলামিনসমৃদ্ধ দুধ খেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে প্রচারাভিযান চালানোয় এক ব্যক্তির সাজা হয়েছে। বেইজিংয়ের একটি আদালত গতকাল বুধবার ওই ব্যক্তিকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেন। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ রায়ের নিন্দা জানিয়েছে।
কারাদণ্ড পাওয়া ওই ব্যক্তির নাম ঝাও লিয়ানাই। জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তোলার অভিযোগে তাঁর কারাদণ্ড হয়েছে। তাঁর আইনজীবী পেং জিয়ান বলেছেন, আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করা হবে।
মানবাধিকার সংগঠন চায়না হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স এক বিবৃতিতে জানায়, আদালতের রায় শোনার পর ঝাও লিয়ানাই অসংযত হয়ে পড়েন। গায়ের কারা পোশাক ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন এবং আদালতের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি নির্দোষ। সাজার প্রতিবাদে তিনি অনশন করার হুমকি দিয়েছেন।
২০০৮ সালে মেলামিনসমৃদ্ধ দুধ খেয়ে ঝাও লিয়ানাইয়ের সন্তানসহ চীনে প্রায় তিন লাখ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ছয়টি শিশু মারা যায়।
এই খাদ্য-কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে লিয়ানাই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তাঁর সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য শিশুদের অভিভাবকেরাও যোগ দেন। এ অবস্থায় গত ডিসেম্বরে লিয়ানাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্চে তাঁর বিচার শুরু হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক উপপরিচালক ক্যাথরিন ব্যাবার বলেছেন, ‘শিশুদের অধিকার সংরক্ষণবিষয়ক এক কর্মীকে সাজা দেওয়ায় আমরা মর্মাহত। তিনি কোনো অপরাধ করেননি।

গাড়ি কিনতে সন্তান বিক্রির চেষ্টা!

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে গাড়ি কেনার শখ পূরণে নিজের শিশুসন্তানকে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির নানি ও নানির ছেলে-বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গত মঙ্গলবার পুলিশ এ তথ্য জানায়। শিশুটি এখন রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রয়েছে।
ফ্লোরিডার আইন প্রয়োগকারী বিভাগ (এফডিএলই) থেকে জানানো হয়, আট সপ্তাহ বয়সী শিশুটি বিক্রির দেনদরবার করেন শিশুটির নানি প্যাট্টি বিগবি (৪৫)। বিগবিকে এ কাজে সহযোগিতা করেন তাঁর বন্ধু লরেন্স ওয়ার্কস (৪২)। বিগবি শিশুটির দাম চেয়েছিলেন ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার। পরে ৩০ হাজার ডলারে বিক্রি করতে রাজি হন। বিক্রির অর্থ থেকে শিশুটির মা স্টিফেনি বিগবি ফ্লেমিংকে (২২) নয় হাজার ডলার দেওয়ার কথা ছিল।
এফডিএলইর একজন মুখপাত্র জানান, শিশু বিক্রির অর্থ দিয়ে ফ্লেমিং নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা চালানোর জন্যও অর্থের প্রয়োজন ছিল ফ্লেমিংয়ের। গত মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিগবি ও লরেন্সকে গত সপ্তাহে ফ্লোরিডার হলি হিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিগবি ওই শিশুটিকে গত অক্টোবরে তাঁর এক নারী আত্মীয়ের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দেন। ওই নারীই বিষয়টি পুলিশকে জানান। শিশুটিকে ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের সময় ৩০ হাজার ডলারের চেকসহ বিগবি ও ওয়ার্কসকে পুলিশ হাতেনাতে ধরে ফেলে। তবে ক্রেতাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

চীনকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বাড়ানোর আহ্বান ক্যামেরনের

চীনে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বাড়ানোর জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে এক হয়ে কাজ করতেও চীনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে চীন সফরের শেষ দিনে গতকাল বুধবার পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব আহ্বান জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন।
ডেভিড ক্যামেরন বলেন, চীনের রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা মানবাধিকার নিয়ে কিছু বলা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসন একটি দেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত করে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা জানান, ক্যামেরনের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য চীনের সমালোচনা করা নয়, বরং খোলামেলা কথা বলা।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের শাসন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আমাদের সরকার ও দেশকে শক্তিশালী করেছে।’ তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অনেকটা প্রসারিত হয়েছে। ফলে চীন যেমন লাভবান হয়েছে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ছোঁয়া লেগেছে। এখন চীন জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করলে বিশ্বের অর্থনীতি স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাবে।
বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে কাজ করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানান ডেভিড ক্যামেরন। তিনি বলেন, চীন আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখন সব দিক থেকে দেশটি যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তাতে এটা বাস্তবসম্মত নয়।
গত মাসে চীনের কারাবন্দী ভিন্নমতাবলম্বী নেতা লিউ সিয়াওবো শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ডেভিড ক্যামেরনই প্রথম পশ্চিমা নেতা, যিনি চীন সফর করলেন। ক্যামেরন চীন ছাড়ার আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। ওই বৈঠকে তিনি নোবেলজয়ী সিয়াওবোর প্রসঙ্গ তুলবেন বলে জানা গেছে। সিয়াওবোকে পুরস্কার দেওয়ায় নোবেল কমিটির সমালোচনা করে চীন। দেশটি একে ‘অপরাধীকে সাহস দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেছে। গত মঙ্গলবার চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাওয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ক্যামেরন। পরে তিনি চীনের মহাপ্রাচীর পরিদর্শন করেন।

শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে নেই মালিঙ্গা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। আর এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা পাচ্ছে না লাসিথ মালিঙ্গাকে। দুই বছর পর গত জুলাই-আগস্টে ভারতের বিপক্ষে যিনি টেস্ট দলে ফিরেছিলেন। পুরো সিরিজে অবশ্য খেলা হয়নি, দ্বিতীয় টেস্টে ছিলেন বিশ্রামে। তৃতীয় টেস্টের শেষ দিনে বল করেছিলেন মাত্র ৬ ওভার। তবে গত অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়ানডে সিরিজে ভালোই করেছিলেন ৩০ টেস্টে ১০১ উইকেটের মালিক।
১৬ সদস্যের টেস্ট দলে নতুন মুখ উইকেটরক্ষক কৌশল সিলভা। আছেন তিন স্পিনার—অজন্তা মেন্ডিস, সুরাজ রণদিভ ও রঙ্গনা হেরাথ। প্রথম টেস্ট গলে, পরের দুটি ২৩-২৭ নভেম্বর ও ১-৫ ডিসেম্বর। এএফপি।
শ্রীলঙ্কা টেস্ট দল: কুমার সাঙ্গাকারা (অধিনায়ক), মাহেলা জয়াবর্ধনে, তিলকরত্নে দিলশান, থারাঙ্গা পারানাভিতারানা, থিলান সামারাবীরা, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, প্রসন্ন জয়াবর্ধনে, থিলিনা কান্দাম্বি, অজন্তা মেন্ডিস, সুরাজ রণদিভ, রঙ্গনা হেরাথ, কৌশল সিলভা, ধাম্মিকা প্রসাদ, দিলহারা ফার্নান্ডো, থিলান তুষারা, সুরঙ্গা লাকমল।

বিশ্বকাপে শামিল বাংলাদেশের পর্যটন

বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞ দেশের পর্যটনশিল্পের প্রচার-প্রসারের সবচেয়ে ভালো মঞ্চ। ২০১১ বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং নবগঠিত বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। গতকালই বিশ্বকাপের লোকাল পার্টনার হিসেবে আইসিসির সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি দল, খেলোয়াড়-কর্মকর্তা, সাংবাদিকদের পাশাপাশি অসংখ্য দর্শক-সমর্থক বাংলাদেশে আসবেন। সে সময় দেশের পর্যটনকে তুলে ধরা হবে এই অতিথিদের সামনে। লোকাল পার্টনার হিসেবে আইসিসিও সব ধরনের প্রচার কার্যক্রমে বাংলাদেশের পর্যটনকে তুলে ধরবে। এর মধ্যে আছে আইসিসির অফিসিয়াল সম্প্রচার মাধ্যম স্টার স্পোর্টস ও ইএসপিএনে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের ওপর নির্মিত বিজ্ঞাপন প্রচার, ট্রফি ট্যুর আয়োজন, কক্সবাজারে আদিবাসী উৎসব, সাংবাদিকদের জন্য কান্ট্রি প্রেজেন্টেশন ও সুন্দরবন ট্যুর আয়োজন, এয়ারপোর্ট ও হোটেল ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি।

ইরানের কথাও ভাবছেন ম্যারাডোনা

ডিয়েগো ম্যারাডোনা—এ নামটিই যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক। তাঁকে ঘিরে থাকে এক ধরনের রহস্যের জাল। ম্যারাডোনাই সেই জাল ছড়িয়ে রাখতে ভালোবাসেন।
এই যেমন এখন গুঞ্জন চলছে ম্যারাডোনা কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন কোন দলের, তা নিয়ে। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবল মস্তিষ্কটি যে তাঁর, এটা নিয়ে সন্দেহ নেই। সমস্যা হলো ম্যারাডোনা একটু খেপাটে স্বভাবের বলেই পরিচিত। সেটা না হলে তাঁর বাড়ির দরজায় শীর্ষ দলগুলোর কর্তাব্যক্তিদের লাইন পড়ে যেত ম্যারাডোনাকে কোচ বানানোর জন্য।
এখনো আগ্রহের কমতি নেই। চীনের এক ক্লাব তো তাঁকে প্রস্তাব দিয়েই বসে আছে। যদিও ম্যারাডোনা এখন এতটা অখ্যাত দলের দায়িত্ব নিতে রাজি নন। বাতাসে গুঞ্জন ইরানের কোচ হওয়া নিয়েও। সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা সাফল্য না থাকলেও দল হিসেবে ইরান কিন্তু এখনো এশিয়ার পরাশক্তি। তিনবারের বিশ্বকাপ খেলা দলটি এশিয়ান কাপও জিতেছে তিনবার।
চীন সফরের পর ম্যারাডোনার ইরান সফর নির্ধারিত হয়ে আছে। সেটার দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও এটা জানা গেছে, ওই সফরে শুধু রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন ম্যারাডোনা। কিন্তু এই গুঞ্জনও একই সঙ্গে চলছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ইরানের কোচ হওয়ার জন্য ম্যারাডোনাকে প্রস্তাব দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ‘বন্ধু’ আহমাদিনেজাদের প্রস্তাবে ‘না’ বলে দেওয়া ম্যারাডোনার পক্ষে সম্ভব না-ও হতে পারে।
চীনা রেডক্রসের আমন্ত্রণে এশিয়ারই আরেক দেশে সফর করতে থাকা ম্যারাডোনার কাছেও ছুটে যাচ্ছে ইরানসংক্রান্ত প্রশ্ন। উত্তর খুঁজতে চীনে ম্যারাডোনার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করা ট্যাং কিনঘুইয়ের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন সাংবাদিকেরা। কৌতূহল মেটাতে ট্যাং যে জবাব দিলেন, তাতে কৌতূহল বাড়ল বৈ কমল না। ‘আমিও তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি কি ইরানের কোচ হচ্ছেন। জবাবে তিনি শুধু হেসেছেন।’ এই হাসিটাই ধন্দে ফেলে দিয়েছে সাংবাদিকদের। এর আগে সরাসরি প্রশ্নটার উত্তরে না-ই এসেছে। ম্যারাডোনার এই হাসির অর্থ কি তবে তিনি পদটি নিয়ে ভাবছেন!

সেই দিনে সেই সৌরভ

প্রায় দেড় দশকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের গুগলি, দুসরা নিতান্ত কম খেলেননি। ইদানীং নিজেই আবার একটি অনুষ্ঠানে লোকজনকে ডেকে এনে গুগলি করছেন! কাল ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই ‘গুগলি’র সামনে পড়ে গেলেন সেই সৌরভ গাঙ্গুলী, ‘বলুন তো, ঠিক ১০ বছর আগে আজকের দিনটায় কোথায় ছিলেন?’
একটু থমকে গেলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারলেন না। নিচের ঠোঁটটা কামড়ে ধরে খানিকক্ষণ চিন্তা করলেন। হঠাৎ পেয়ে গেলেন উত্তর। বোলারের মাথার ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়ার মতো সপাট ভঙ্গিতে বলে দিলেন, ‘এই ঢাকাতে ছিলাম। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে আমি তখন ফিল্ডিং করছিলাম। আমার টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হলো।’ একটু থেমে স্বগোক্তি করলেন, ‘কী অদ্ভুত ব্যাপার, সেই দিনটাতেই ঢাকায় ফিরে এলাম!’
ব্যাপারটাকে ক্রিকেট নিয়তির খেলা বলে ধরে নিতে পারেন। ঠিক ১০ বছর পর, আরেক ১০ নভেম্বর, দুপুরে ঢাকায় পা রাখলেন সেই সৌরভ গাঙ্গুলী; ১০ বছর আগে নাঈমুর রহমানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে টস করতে নেমেছিলেন যে সৌরভ।
এবার অবশ্য সঙ্গে তাঁর ব্যাট-প্যাড ভরা কফিন নেই, সতীর্থরা নেই। এবার উদ্দেশ্য বিশ্বকাপ—উপমহাদেশের বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা উদ্বোধন। গতকাল ঠিক মাঝরাতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সৌরভের উপস্থিতিতে শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপের ‘কাউন্টডাউন।’
উপলক্ষ যা-ই হোক, সৌরভ যখন বাংলাদেশে এসেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কথা না বললে হয়! সাংবাদিকদের শুরু করতে হলো না। সোফায় এসে বসে নিজেই এটা-ওটা বলার পর জিজ্ঞেস করলেন, ‘জিম্বাবুয়ে কবে আসছে?’ উত্তরটা শুনে এমন একটা ভঙ্গি করলেন, যার অর্থ হতে পারে—জিম্বাবুয়ের কপালে খারাবি আছে!
বাংলাদেশের ক্রিকেট তাহলে নিয়মিত অনুসরণ করছেন? ‘করব না! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারটে ম্যাচই দেখেছি। দারুণ খেলেছে ছেলেরা। খুব এনজয় করেছি’—সৌরভের চোখমুখ দেখে মনে হচ্ছিল, পরিচয়টা বুঝি তাঁর ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট-দূত’!
যে মিনিট পনেরো সাংবাদিকদের সঙ্গে কাটালেন, পুরোটা সময় এই ‘দূতিয়ালি’ চলল। বাংলাদেশ আদৌ উন্নতি করছে কি না—এ প্রশ্ন উঠলে যেন একটু রেগেই গেলেন, ‘অবশ্যই উন্নতি করছে। আমি যে সময় প্রথম দেখেছি, তখন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা খারাপ ছিল, এটা বলছি না। কিন্তু এখনকার এরা অনেক উঁচুমানের ক্রিকেট খেলছে। প্রমাণ তো সামনেই, নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ করে দিল বাংলাদেশ!’
কিন্তু এ তো ওয়ানডে ক্রিকেটের কথা গেল। টেস্টে ১০ বছরে কতটুকু এগিয়েছে? আদৌ কি এগোতে পেরেছে? সৌরভ ইতিবাচক কথা বলবেন, ঠিক করেই এসেছেন মনে হয়, ‘ওয়ানডের মতো এত না হলেও অল্প অল্প উন্নতি তো হচ্ছেই। ইংল্যান্ডে গিয়ে বাংলাদেশ ৩৫০-৪০০ রান করেছে। তামিম লর্ডসে সেঞ্চুরি করেছে। এটা তো অবশ্যই উন্নতির লক্ষণ। হ্যাঁ, আরও উন্নতির সুযোগ আছে। তবে সেটা তো রাতারাতি হবে না। সময় দিতে হবে।’
সময় দিতে হবে বলেও সৌরভ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, টেস্টই চূড়ান্ত কথা, ‘সব ফরম্যাটই ভালো। অর্থনৈতিক কারণে, দর্শকদের জন্য টি-টোয়েন্টি ভালো। কিন্তু মনে রাখতে হবে আসল ক্রিকেট হলো টেস্ট। টেস্টে ভালো করলে সব ফরম্যাটেই ভালো ফল আসবে।’
আশাবাদের পসরা সাজিয়ে বিমানবন্দরের লাউঞ্জে বসা সৌরভ এবার বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের দারুণ ফলাফল দেখতে পাচ্ছেন। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে ভারতের পরাজয়ের সাক্ষী এই বাঁহাতি বললেন, ‘আমরা সেবার খুব ধাক্কা খেয়েছিলাম। ইন্ডিয়ায় খুব প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। এবারও বাংলাদেশ ভালো করবে। এই দলে তামিম-সাকিবের মতো খেলোয়াড় আছে, অনেকগুলো ভালো স্পিনার আছে, কয়েকটা ছেলে বেশ জোরে বল করতে পারে—সব মিলিয়ে দারুণ প্রতিভাবান বেশ কিছু খেলোয়াড় আছে। উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে এরা ভালো করবেই। প্রমাণ তো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটাই।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিবদের পারফরম্যান্স তাহলে শুধু আমাদের বুঁদ করে ফেলেনি, সৌরভও মজেছেন। এমনই মজেছেন যে, এখন এই বাংলাদেশ দলটার অংশও হওয়ার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। উপদেষ্টা বা কোচ বা অন্য কোনো ভূমিকায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযানে সঙ্গী হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাঁর।
নিজেই বললেন, ‘পাকা কোনো আলোচনা হয়নি। বাংলাদেশ দল ভালো করছে। এই দলের সঙ্গী হওয়াটা অবশ্যই উপভোগ্য। আর আমি সব সময়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যাপারে আগ্রহী।’
কতটা আগ্রহী সেটা বোঝা গেছে সৌরভ আসার আগেই এক বিসিবি কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘ও কিন্তু এই অনুষ্ঠানে আসতে একটা টাকাও নেয়নি।’ সৌরভের সামনে প্রসঙ্গটা তুলতেই লজ্জা পেয়ে বললেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে কি আমার টাকা-পয়সার সম্পর্ক?’
অবশ্যই না। সম্পর্কটার মধ্যে একটা আত্মার টান তো আছেই।

কোপাতেই ‘শুরু’ দেখছেন মেসি

লিওনেল মেসির ট্রফি-কেসটা খালি থাকার কথা নয়। পুরস্কার তো আর ক্যারিয়ারে কম জেতেননি। চারটি লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ দুটি, ক্লাব বিশ্বকাপ, কোপা ডেল রে, স্প্যানিশ সুপার কাপ, সুপার কোপা ডি স্পানা—কী জেতেননি আর্জেন্টিনার ছোট্ট জাদুকর!
এ তো গেল দলগত অর্জনের তালিকা। ব্যক্তিগত অর্জনও কি কম? সব পুরস্কারের মধ্যমণি হয়ে বেশি আলো ছড়াচ্ছে নিশ্চয়ই দুটি পুরস্কার—ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় আর ইউরোপ-সেরার স্বীকৃতির স্মারক। এত এত পুরস্কার, এমন ঝলমলে আলো...তবু যেন ট্রফি-কেসটা অপূর্ণই। মেসির ট্রফি-কেসে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে জেতা কোনো পুরস্কার যে নেই!
আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে যে দুটি ট্রফি জিতেছেন, দুটোই বয়সভিত্তিক দলের হয়ে। একটি ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ, অন্যটি অলিম্পিক সোনা। সিনিয়র দলের হয়ে মেসি কিছুই জেতেননি।
ট্রফি-কেসের এই অপূর্ণতা একদমই ভালো লাগছে না বার্সা তারকার। এদিক দিয়ে ম্লান ট্রফি-কেসটাকে তিনি ভরিয়ে তুলতে চান উজ্জ্বল আলোয়। সামনেই কোপা আমেরিকা। নিজের ট্রফি-কেসটাকে পূর্ণতা দিতে এই উপলক্ষটাই বেছে নিয়েছেন বার্সেলোনা প্লে-মেকার।
‘আমি জাতীয় দলের হয়ে কিছু জিততে চাই। এই কোপা আমেরিকাই এর একটা সুযোগ’—ইএসপিএন রেডিওকে বলেছেন মেসি। এই কোপা আমেরিকাকেই মেসির বড় সুযোগ মনে করার কারণও আছে। আগামী বছরে লাতিন ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইটা হচ্ছে যে তাঁর নিজের দেশেই।
কোপা আমেরিকা জয়ে আর্জেন্টিনার বড় বাধা হতে পারে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের পর নতুন কোচের অধীনে নতুন করে সাজা ব্রাজিলকে দেখে নেওয়ার একটা সুযোগ সার্জিও বাতিস্তার আর্জেন্টিনা এ মাসেই পেয়ে যাচ্ছে। তবে ‘চিরশত্রু’দের বিপক্ষে ১৭ নভেম্বরের এই ম্যাচ নিয়ে মেসির রোমাঞ্চ বলতে রোনালদিনহোর মুখোমুখি হওয়া, ‘আমি জানি, তার এই ফেরাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার বিপক্ষে আবার খেলতে পারাটা হবে দারুণ। আর আমাদের জন্য ব্রাজিলকে হারানোটাও হবে দুর্দান্ত ব্যাপার।
ব্রাজিলের ম্যাচের ১১ দিন পর লিগের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি খেলবে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ২৮ নভেম্বরের সেই ‘এল ক্লাসিকো’ নিয়েও এখন থেকেই কথা বলতে হচ্ছে মেসিকে। এবার তো রিয়াল মাদ্রিদ মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলছে। বার্সেলোনা মাঝেমধ্যেই হারিয়ে ফেলছে তাদের ছন্দ। রিয়াল মাদ্রিদকে কি ভয় পাচ্ছেন মেসি?
‘ভয়? আমি ভয় পাব মাদ্রিদকে! প্রতিবার যেমন তাদের সমীহ করি, এবারও তাই করছি। গত মৌসুমের মতোই স্পর্শকাতর একটি ম্যাচ হবে এবারও’—ভয় না করলেও একটা সমীহ যে আছে, সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন মেসি। এরপরই জানিয়েছেন এল ক্লাসিকো জয়ের তীব্র জিগীষার কথা, ‘আমি জিততে চাই। বার্সেলোনার হয়ে অনেক কিছু জিতেছি। কিন্তু আমি সব সময়ই আরও চাই।’

শেষ পর্ব পর্যন্ত রইল উত্তেজনা

দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনে চারটি সেঞ্চুরি হয়েছিল। কাল একটু বিরতি নিলেন ব্যাটসম্যানরা! দুই ম্যাচে একটিও সেঞ্চুরি নেই। সে, না থাক। মিরপুর ও ধানমন্ডিতে জাতীয় লিগের এক দিনের ম্যাচে কাল যে লড়াই হলো, তাতে যার যার ম্যাচে জয় পেল রাজশাহী ও খুলনা। ঢাকার বিপক্ষে মিরপুরে ৭৯ রানে জিতেছে রাজশাহী। খুলনার বিপক্ষে ৩ উইকেটে হেরেও ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে বরিশাল। ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা; বাকি তিন দলেরই পয়েন্ট সমান—৮।
বরিশালকে হারিয়ে খুলনাই লিগ বেশি জমিয়ে দিল। শুরু থেকেই বরিশালকে চেপে ধরেছিলেন খুলনার বোলাররা। ওপেনার নাসিরউদ্দিন ফারুক ৪০ রান করে প্রতিরোধ করছিলেন; তাঁকে ফিরিয়েছেন ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেওয়া সাকিব আল হাসান। সাত নম্বরে নামা আরাফাত সালাউদ্দিন অপরাজিত ৬৪ রান করে একাই যা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২১৩ রানে আটকে যায় বরিশালের ইনিংস।
ওপেনার নাজমুস সাদাতের ৯৩ বলে করা ৭১ রানই (৫টি চার ও ২টি ছয়) মূলত খুলনাকে জয়ের দিকে এগিয়ে দিল। যদিও অন্য প্রান্ত থেকে নিয়মিত উইকেট পতন দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল। সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে নাজমুস যখন আউট হলেন, জয়ের জন্য তখনো খুলনার চাই ৩৫ রান। সে পথটুকু পাড়ি দিলেন জিয়াউর রহমান ও ডলার মাহমুদ।
মিরপুরে জুনায়েদ ও সাব্বির আহমেদের কল্যাণে রাজশাহী অবশ্য বেশ বড় পুঁজি করেছিল। ৪০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর সাব্বিরের সঙ্গে ৯৬ রানের জুটি গড়েছিলেন জুনায়েদ। ৭৬ বলে ৮টি চারে সাজানো জুনায়েদ আউট হওয়ার পর বিপাকে পড়ে রাজশাহী। ৮৯ বলে ৭৪ রান করে ইলিয়াস সানির বলে আউট সাব্বিরও। ৪৫তম ওভারে ২১৪ রানে ৭ উইকেট পড়ার পর উইকেটে এসেছিলেন ফরহাদ রেজা। এই অলরাউন্ডারের ১৪ বলে ৩৫ রানে ৮ উইকেটে ২৭৬ রানে গিয়ে থামে রাজশাহী।
ঢাকার হয়ে ৫৬ বলে ৩ উইকেট নিয়েছেন আশরাফুল। কিন্তু ঢাকার ব্যাটসম্যানদের যাওয়া-আসার মিছিলে অংশ নিয়ে ৩ রান করে আশরাফুল আউট হলেন সোহরাওয়ার্দীর বলে, শর্ট ফাইন লেগে জহুরুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে। একমাত্র শুভাগত হোম ৬২ বলে ৫৬ রান করে ঢাকার মান বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ৪০.১ ওভারে ১৯৭ রানে অলআউট ঢাকা।

গল্প- 'নাচে বানু নাচায়রে' by আতা সরকার

তখন আধেক সকাল। ঘুটঘুট্টি অন্ধকার টুটা-ফাটা হয়ে যাচ্ছে। গায়ে ফোস্কা পড়ার মত এক-আধটুকু আলো ফুটি-ফুটি করে ফুটেই বেরুচ্ছে। আর সাথে সাথে ঘুটঘুট্টিতে টোল পড়ে যাচ্ছে, অন্ধকার ফিকে হয়ে আসছে।

এ বেলাতেই তো মোরগ ডাকার সময়। তা মোরগ ডেকেই উঠল। বাজার-গঞ্জ। মহাজনি খাঁচা ছাড়া আর কোথাও মোরগ-মুরগি নেই। তাদেরও বাস অন্ধকারে- সেখানে কুপ্পি না জ্বালালে আলো চোখ মেলে না।
তাহলে মোরগটা এল কোন্ গেরস্থের বাড়ি থেকে? তা গেরস্থের ঘরের সেয়ানা মোরগ বাজার-গঞ্জে ছুটে আসে; বেশ্যাবাড়ির চারপাশে ঘুর-ঘুর করে। মোরগ ডাকে বিয়ান বেলায় আলো ফুটায়। বানুর ঘুম ভাঙ্গে তারও আগে। রাতভর বাঁধা মরদ চড়িয়েও ঘুমটা কেন জানি আজ ভাল হয় না।

গল্প- 'রূপকথার মতো' by নাসির আহমেদ

রূপকথার গল্পে পরীর অলৌকিক মায়াবী সৌন্দর্যের বর্ণনা পড়ে কত যে মুগ্ধ হয়েছে অনিক, বড় হয়ে সে সব ভেবে ওর খুব হাসি পেত। এমন সৌন্দর্য কি কোন নারীর হয়! এ স্রেফ রূপকথার বানোয়াট গল্প।

লোকের মুখে মুখে চালু হয়ে গেছে বলেই হাজার বছর ধরে নদীর মতো বহমান এ গল্প। শুনেছে কাউকে কাউকে নাকি পরীরা এসে নিয়েও যায়। সেও লোকমুখেই শোনা। আরিফ চাচা দেখতে খুবই সুদর্শন ছিলেন তার যৌবনে। মা বলতেন, জানিস তোর আরিফ চাচাকে মাঝে মাঝে জ্যোৎস্না রাতে এক পরী এসে নিয়ে যেত। গভীর রাতে দেখা যেত বিছানায় নেই, কোথাও নেই। তোর দাদীর সে কি কান্না! সারা বাড়িতে খোঁজাখুঁজি পড়ে যেত। তারপর দিনের বেলা হয়ত কোথাও খুঁজে পাওয়া যেত।

গল্প- 'বিয়ে' by আর্নল্ড বেনেট (অনুবাদঃ আবু তাহের মজুমদার)

ক. এ সম্পর্কিত কর্তব্য
প্রায়শই সেই অমর শ্রেণীর ব্যক্তিকে নিয়ে, যিনি বর্তমানের অবমূল্যায়ন করে অতীতের প্রশংসায় মেতে ওঠেন, বিশ্বস্তভাবে আলোচনা করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।

আমি এখানে হোরেস-এর উলেস্নখ করব না, যদিও পণ্ডিতসুলভ সব ঐতিহ্যের আলোকে করাই উচিত, কারণ হোরেস ছিলেন একজন চিকিৎসাতীত সুবিধাবাদী, তিনি বিয়ের প্রসঙ্গটি সব সময়ে এড়িয়ে যেতেন।
আমি যে তার খুব একটা ভক্ত তাও নয়। সমপ্রতি অতীতের একজন প্রশংসাকারী বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি আমাদের বলছেন যে, কপর্দকশূন্যতা এবং পাগলামী ভীষণভাবে বেড়ে চলেছে এবং যদিও এটার ঠিক বিপরীতটাই ঘটছে বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন।