Thursday, November 30, 2017

উত্তর কোরিয়ার আস্ফালন, তবে কী যুদ্ধ হবেই?

ওয়াশিংটন ডিসি, ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়া যেকোনো স্থানে আঘাত করতে সক্ষম এমন ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে উত্তর কোরিয়া। শুধু তা-ই নয়। তারা এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণও করেছে। কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে যে যুদ্ধের উত্তেজনা চলছে তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার এই কর্মকাণ্ড। তারা ঠাণ্ডা মাথায় একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে, যেকোনো মুহূর্তে সেখানে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।
ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে যুদ্ধজ্বর। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমন অবস্থায় পিয়ংইয়ংয়ের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় পূর্বদিকে উৎক্ষেপণ করা হয় আন্তঃমহাদেশীয় ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমরা এ বিষয়টি দেখবো। উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর পরই দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জানান দিয়েছে তারাও কম কিছু নয়। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া তা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য কোনো হুমকি নয়। এর দু’মাস আগে জাপানের উপর দিয়ে উত্তর কোরিয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল সেপ্টেম্বরে। সে সময় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তর কোরিয়া আগেভাগেই সতর্ক করে দেয় তারা যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে তা গুয়ামে আঘাত করতে সক্ষম। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। এরপর তারা নতুন যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছে তার নাম হাউসং-১৪। উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ পিয়ঙ্গান প্রদেশ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এরপর তা প্রায় ৫০ মিনিট আকাশে ভ্রমণ করে। অতিক্রম করে ১০০০ কিলোমিটার। এরপর ২৮০০ মাইল উচ্চতায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। এরপর তা আছড়ে পড়ে জাপান সাগরে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। এর কয়েক ঘণ্টা পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বলেছেন, আমরা এ বিষয়টি দেখবো। এটা এমন একটি পরিস্থিতি যা আমাদেরকে ‘হ্যান্ডেল’ করতে হবে। ওদিকে ক্ষেপণাস্ত্রটি যখন আকাশে উড়ছিল তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স। এরপরই হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্প বলেন, কিছুক্ষণ আগে উত্তর কোরিয়া থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব শান্তি, আঞ্চলিক শান্তিকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জিম মাত্তিস।

ন্যাটো জোট থেকে সত্যিই বেরিয়ে যাবে তুরস্ক? by সিরাজুল ইসলাম

মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটের মধ্যে নতুন করে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে এবং তা বেশ শক্তভাবে শুরু হয়েছে। এই টানাপড়েন চলছে প্রধানত তুরস্ককে নিয়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, এই জোট থেকে তুরস্ক বের হয়ে যেতে পারে। তুরস্ক যদি ন্যাটো জোট থেকে বের হয়ে যায় তাহলে ধারণা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, এই জোটের সূতার পাক খুলতে শুরু করবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার বন্ধন আলগা হয়ে যাবে। পরিণতিতে জোট ভেঙেও যেতে পারে। কারণ ইউরোপের দেশগুলো ন্যাটো জোট নিয়ে এখন আর আগের মতো সন্তুষ্ট নেই।
৬৮ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটো জোটের জন্ম হয়। প্রথমে ১২টি দেশ নিয়ে এ জোট যাত্রা শুরু করে এবং প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর জোটে নতুন সদস্য নিয়ে এর বিস্তৃতি বাড়ানো হয়। জোটের পরিসর বাড়ে তুরস্ক ও গ্রিসের যোগদানের মধ্যদিয়ে। ন্যাটো জোটে রয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধর তিন দেশ আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। শুধু তাই নয়, এ তিনটি দেশ পরমাণু অস্ত্রের অধিকারীও বটে। যাহোক, তুরস্ক হচ্ছে- ন্যাটো জোটের একমাত্র মুসলিম সদস্য এবং অবশ্যই অনেক পুরনো সদস্য দেশ। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে তুরস্ক রয়েছে আজ ৬৫ বছর। এর মধ্যে দেশটি ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত জোটের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- এ জোটে তুরস্ক ততটা মর্যাদার অধিকারী নয়, যতটা মর্যাদা অন্য সদস্য দেশগুলোকে দেয়া হয়। একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টি খানিক পরিষ্কার হবে। সেটা হচ্ছে- তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে বেশ কয়েকবার এবং ধারণা করার অনেক কারণ রয়েছে যে, এসব সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনে আমেরিকাসহ ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিধর দেশগুলোর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সমর্থন ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সারা বিশ্বে যত সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে তার প্রতিটি ঘটনায় আমেরিকার সরাসরি কিংবা পরোক্ষ সর্থন ছিল বলে একটা ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানগুলোর বিষয়েও সে ধারণা বর্তমান। তুর্কি নাগরিক ওসমান ওলচে যখন ন্যাটো জোটের মহাসচিব হন তখন তুরস্কে সেনাশাসক ক্ষমতায়। ফলে, সে ধারণা আরো জোরদার হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালে তুরস্কে যে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে তার পেছনে আমেরিকার সরাসরি হাত রয়েছে বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট এরদোগানসহ তুর্কি নেতারা। এছাড়া, সিরিয়া লড়াইয়ে আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের অনেক দেশের সঙ্গে ছিল তুরস্ক। কিন্তু আমেরিকা সিরিয়ার কুর্দি গেরিলাদেরকে সমর্থন ও অস্ত্র দিচ্ছে যা তুরস্কের কাছে মোটেই পছন্দ নয়। সিরিয়ায় তৎপরতা কুর্দি গেরিলাদেরকে তুরস্ক শত্রু মনে করে এবং তুরস্কে তৎপর কুর্দি গেরিলা গোষ্ঠী পিকেকে’র সঙ্গে সিরিয়ার কুর্দি গেরিলাদের সম্পর্ক রয়েছে বলে আংকারা অভিযোগ করে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে তুরস্কের স্বার্থ না দেখে আমেরিকা তার নিজের ও ইসরাইলের স্বার্থ দেখতে ব্যস্ত বলে মনে করছে তুরস্ক। কুর্দি গেরিলাদেরকে ক্ষমতায়ন করে সিরিয়ায় দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা যা তুরস্কের জন্য চরম বিপদের কারণ হবে। এছাড়া ইরাক, ইরান ও সিরিয়ায় আলাদা কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার করবে। ফলে, কুর্দি ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে তুরস্কের চরম দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এরদোগান এখন সম্ভবত পরিষ্কার করে বুঝে গেছেন যে, “আমেরিকা যার বন্ধু তার আর শত্রুর দরকার নেই।”
যে ন্যাটো জোটের সঙ্গে তুরস্কের দীর্ঘ ৬৫ বছরের সম্পর্ক সেই সারথীর সঙ্গে আজকাল সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। তবে সম্প্রতি যে কারণে ন্যাটো সঙ্গে তুরস্কের টানাপড়েন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে তা হলো- নরওয়েতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ন্যাটোর মহড়ায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ও আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের নাম ও ছবি শত্রু তালিকায় রাখা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ১৭ নভেম্বর মহড়া থেকে ৪০ জন তুর্কি সেনাকে দেশে ফেরত আনার নির্দেশ দেন এরদোগান। এছাড়া, সিরিয়া ইস্যুতে তুরস্কের প্রথম দিককার ভূমিকা আর বর্তমানের ভূমিকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সিরিয়া ইস্যুতে প্রথম দিকে এরদোগানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো, আমেরিকা, সৌদি আরব ও ইসরাইলের কাতারে ছিল। কিন্তু ইরান ও রাশিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগের পর তুরস্ক ধীরে ধীরে সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে এবং এখন সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা প্রদানকারী তিন দেশের একটি হলো তুরস্ক। অন্য দু দেশ ইরান ও রাশিয়া।
ন্যাটোর মহড়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করার পর প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সিনিয়র উপদেষ্টা ও পেট্রিয়টিক পার্টির চেয়াম্যান ইউনুস সোনার ন্যাটো জোটে তুরস্কের সদস্য পদের বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করার জন্য দেশটির জাতীয় সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুৎনিককে খুব পরিষ্কার করে বলেছেন, ন্যাটো জোট থেকে তুরস্কের বেরিয়ে আসাটা নিশ্চিত, তা ঠেকানো যাবে না। এছাড়া, ২০ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট এরদোগানের শীর্ষ পর্যায়ের আরকে উপদেষ্টা ইয়ালচিন তোপচু জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রতি ন্যাটো জোটে তুরস্কের সদস্যপদের বিষয়টি নতুন করে ভাবার আহ্বান জানান।
স্পুৎনিককে ইউনুস সোনার বলেন, ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ভাবা হচ্ছে এবং তুরস্ক এরইমধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি জানান, ইরাকের কুর্দিস্তানে সাম্প্রতিক গণভোটের যে বিরোধিতা করেছে তুরস্ক তা ন্যাটো জোটের কাঠামোর ভেতরে থেকে করা হয় নি বরং ইরান, রাশিয়া ও ইরাকের সঙ্গে মিলে করা হয়েছে। এছাড়া, সিরিয়া ইস্যুতে তুরস্ক বর্তমানে যে অবস্থান নিয়েছে তাও ন্যাটোর সঙ্গে মানানসই নয় বলে জানান ইউনুস সোনার।
ন্যাটোর সঙ্গে তুরস্কের টানাপড়েনের আরেকটি উদাহরণ তুলে ধরেছেন তুরস্কের এ রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, প্রকৃত সত্য হচ্ছে- কাতার ইস্যুতে যে সংকট তৈরি হয়েছে তার মূলে রয়েছে মার্কিন প্রেসক্রিপশনে মুসলিম ন্যাটো গড়ার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান। সৌদি নেতৃত্বে একটি সুন্নি সামরিক জোট গঠনের জন্য আমেরিকা এই পরিকল্পনা প্রণয়ণ করে এবং তুরস্ক তা মেনে নেয় নি। বরং এর বিপরীতে গিয়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলেছে তুরস্ক।
সোনার জোর দিয়ে বলেন, যদিও তুরস্ক এখনো ন্যাটোর সদস্য দেশ হিসেবে রয়েছে তবে তার পররাষ্ট্রনীতি ন্যাটোর সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, শুধু ন্যাটোর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হচ্ছে তাই নয় বরং তুর্কি সামরিক বাহিনী থেকে ন্যাটোপন্থি লোকজনকে বের করে দেয়া হচ্ছে যা নিয়ে আমেরিকার বার বার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোনার বলেন, নরওয়েতে মহড়ার সময় প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও কামাল আতাতুর্কের ছবি শত্রু তালিকায় রাখা কোনো সাধারণ ঘটনা নয় এবং এটা ছোটখাটো ভুল নয় বরং এ ঘটনার মধ্যদিয়ে ন্যাটো ও তুরস্কের মধ্যকার দূরত্ব ফুটে উঠেছে। তিনি জানিয়েছন, ন্যাটো জোটে থাকার পক্ষে তুরস্কে এখন খুব কম মানুষের সমর্থন পাওয়া যাবে। তুরস্কে এখন রাজনৈতিক আবহাওয়া এমন যে, আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের সঙ্গে সহযোগিতা করার বিরোধী সবাই। তুরস্কের প্রেট্রিয়টিক পার্টির প্রধান বলেন, ন্যাটো জোট থেকে তুরস্ক বেরিয়ে গেলে এ জোট পতনের দিকে এগিয়ে যাবে।
প্রশ্ন উঠতে পারে ন্যাটো জোট ছেড়ে কোথায় যাবে তুরস্ক? দেশটি কী একাকি থাকবে? না, তেমন কোনো কারণ নেই বরং তুরস্ক ন্যাটো জোট ছেড়ে সাংহাই সহযোগিতা পরিষদে যোগ দিতে পারে এবং সেখানেই দেশটি বেশি লাভ খুঁজে পাবে বলে মনে করছে। সে লাভ হবে দুপক্ষের জন্যই। ইউনুস সোনার মনে করেন, ন্যাটো জোট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে তুরস্ক ইউরেশিয়া কাঠামোয় যোগ দিলে ইউরেশিয়াকে নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারবে আংকারা।
ইউনুস সোনার বলছেন, ন্যাটো জোট থেকে শুধুমাত্র তুরস্কই বেরিয়ে আসার চিন্তা করছে না বরং ইউরোপের বেশকিছু দেশ একই চিন্তা করছে। এরইমধ্যে এসব দেশ ন্যাটোর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে পথ চলতে শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। ইউনুস সোনার জানান, ইরান ইস্যুতে আমেরিকার অবস্থানে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি চরম উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি ইউক্রেনে ন্যাটো জোটের কার্যক্রমে কিছু সদস্য দেশ উদ্বিগ্ন। তিনি দাবি করেন, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ভবিষ্যতে এসব দেশ তুরস্কের পথ অনুসরণ করবে। ফলে, যে ন্যাটো জোট আমেরিকা তৈরি করেছিল সেই জোটে আমেরিকা একাই থাকবে। সোনার মনে করেন, তুরস্কের বেরিয়ে যাওয়াটা ন্যাটো জোটে মৌলিক পরিবর্তন আনার পথ উন্মুক্ত করে দেবে।#
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, রেডিও তেহরান।

ঢাকায় পৌঁছেছেন পোপ

পোপ ফ্রান্সিস তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছুলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ তাকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাভারে যাচ্ছেন পোপ ফ্রান্সিস। সেখানে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। পোপ ফ্রান্সিস সাভার থেকে ঢাকার ধানমন্ডিতে এসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে স্মৃতি বিজড়িত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। ঢাকায় এই সফরের প্রথম দিনে বিকেলে বঙ্গভবনে যাবেন পোপ ফ্রান্সিস। সেখানে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের সাথে বৈঠক করবেন। বঙ্গভবনেই মন্ত্রীসভার সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে এক অনুষ্ঠানে পোপ ফ্রান্সিসের বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। সফরের দ্বিতীয়দিন শুক্রবার সকালে পোপ ফ্রান্সিস সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রার্থনা করবেন। এরপর তিনি বারিধারায় ভ্যাটিকান দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাক্ষাৎ দেবেন। ভ্যাটিকান দূতাবাসেই তিনি রাতে থাকবেন। শুক্রবার বিকেলে তিনি কাকরাইলে রমনা ক্যাথেড্রালে যাবেন।সেখানে আর্চবিশপদের সাথে বৈঠক করবেন। এছাড়া আন্তঃধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত ঐক্য বিষয়ক এক সভায় যোগ দেবেন। সফরের শেষদিনে পোপ ফ্রান্সিস মাদার টেরিজা হাউজ পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। তিন দশকে এই প্রথম কোন পোপ বাংলাদেশে সফরে এলেন। সর্বশেষ পোপ দ্বিতীয় জন পল ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।

ভিডিও শেয়ারে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন ট্রাম্প

নির্বাচনের সময় থেকেই মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারে মেতে উঠেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েও তা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পরেই বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে অভিবাসী গ্রহণ এবং ভ্রমণে আসতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। যদিও আদালতের হস্তক্ষেপে তিনি শতভাগ সফল হতে পারেননি। তবু মুসলিমবিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য যেন ট্রাম্প এক পায়ে খাড়া। এমন অবস্থায় সম্প্রতি তিনটি মুসলিমবিদ্বেষী উসকানিমূলক ভিডিও টুইট করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। ভিডিওগুলো ব্রিটেনের চরম ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্রিটেন ফার্স্ট দলের। ট্রাম্প তাদের টুইটটি রি-টুইট করেছেন। ব্রিটেন ফার্স্ট দলের উপনেতা জেইডা ফ্রানসেনের প্রথম টুইটবার্তায় এক ভিডিওতে দাবি করা হয়, একজন মুসলিম অভিবাসী ক্র্যাচ নিয়ে চলা এক প্রতিবন্ধীর ওপর হামলা করেছে। এর পর তিনি আরও দুই ব্যক্তির একই ধরনের দুটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন তারাও মুসলমান। এর একটিতে দেখানো হয় মুসলিমরা একটি খ্রিস্টান মূর্তি ভাঙছে, অন্যটিতে তারা এক বালককে হত্যা করছে। এই তিনটি ভিডিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করেন। ২০১১ সালে ব্রিটেন ফার্স্ট গঠন করা হয়। উগ্র ডানপন্থী ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) সাবেক সদস্যরা এটি গঠন করে। ‘যুক্তরাজ্যের ইসলামীকরণ’ উল্লেখ করে দলটি বিতর্কিত বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

পোপকে মুসলিম নেতা মনে করে রোহিঙ্গারা!

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস সম্পর্কে কী ভাবছেন বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা? এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে পোপ সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের চমকপ্রদ ভাবনার কথা জানা গেছে। পোপের মাথায় টুপি দেখে অনেক রোহিঙ্গা ধারণা করছেন, তিনি একজন মুসলিম নেতা। কেউ কেউ মনে করেন- তিনি আসলে একজন বাংলাদেশি রাজনীতিক। আবার কারও ধারণা- পোপ যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কোনো ব্যক্তি বা ধনাঢ্য রাজা। সোমবার থেকে চার দিনের সফরে সংঘাত পীড়িত মিয়ানমারে অবস্থান শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে তিন দিনের সফরে বাংলাদেশ আসছেন পোপ ফ্রান্সিস। ঢাকায় সফরকালে শুক্রবার পোপ বাংলাদেশে আশ্রিত একদল রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নিষ্ঠুরতার বর্ণনা তাদের কাছ থেকে সরাসরি শোনবেন তিনি। পোপের ঐতিহাসিক সফরকে ঘিরে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে তার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে পোপের সফরের খবর প্রচার করা হচ্ছে। তবে যেই রোহিঙ্গাদের ঘিরে পোপের সফর নিয়ে এত আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই তাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- পোপ কে?
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন বাংলাদেশি শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে পোপের কথা জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই খ্রিস্টান ধর্মগুরুর কথা উল্লেখ করতেই কারও মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে, কেউ ভ্রূ চমকাচ্ছে। এএফপি জানিয়েছে, পোপের একটি ছবি দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়- ছবির এই ব্যক্তি কে। জবাবে রোহিঙ্গাদের অনেকেই অনুমান করে বলেন, ছবির এই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিখ্যাত ব্যক্তি (সেলিব্রেটি) বা ধনাঢ্যশালী রাজা। কারও মতে, পোপ আসলে বাংলাদেশের একজন রাজনীতিক। আবার পোপের মাথায় টুপি দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, তিনি কোনো মুসলিম নেতা হতে পারেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ৪২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল কাদেরের কাছে। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, তাকে সংবাদে দেখেছি। কিন্তু তিনি কী করেন? তিনি কী গুরুত্বপূর্ণ কেউ?

যুবলীগের মঞ্চে আগুন, গৌরীপুরে ১৪৪ ধারা জারি

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের মঞ্চে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বঙ্গবন্ধু চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে মঞ্চের একপাশের কাপড় পুড়ে গেছে। এদিকে এ ঘটনা কেন্দ্র করে পুরো শহরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।  
এ ঘটনার পর উপজেলার সম্মেলন স্থান বঙ্গবন্ধু চত্বর, হারুণ পার্ক ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মর্জিনা আক্তার জানান, গৌরীপুরে আওয়ামী যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের মঞ্চে আগুনের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকায় দুপুর ১২টায় সম্মেলন স্থান বঙ্গবন্ধু চত্বর, হারুণ পার্ক ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক তপন সাহা জানান, গৌরীপুর উপজেলা যুবলীগ ১৪ বছর পর কাউন্সিলকে ঘিরে মঞ্চ তৈরি করা হয়। ওই মঞ্চ পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছে।

বাবার সঙ্গে সভায় গিয়ে লাশ হল সজীব

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাবার সঙ্গে ধর্মীয় সভায় গিয়ে ডোবা থেকে নিখোঁজ শিশু সজীবের (৯) ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ডোবা থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সজীব সৈয়দপুরের নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র। সে দক্ষিণ নিয়ামতপুরের মনসুর আলীর ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, গত ২৬ নভেম্বর  সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের রূপসী বাংলা রেস্তোরাঁর কাছে ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় সেও বাবার সঙ্গে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে ডোবায় ওই ছাত্রের মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে সৈয়দপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এর পর পরিবারের লোকজন সজীবের পরিধেয় কাপড়-চোপড় দেখে শনাক্ত করেন। সৈয়দপুর থানার ওসি শাহজাহান পাশা জানান, শিশুটি প্রতিবন্ধী ছিল। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রূপা হত্যার বিচার শুরু

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ঢাকার আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের শিক্ষার্থী রূপা খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বুধবার এ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. রবিউল হাসান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। আগামী ৩ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) একেএম নাছিমুল আক্তার জানান, বুধবার আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে তাদের আইনজীবী শামীম চৌধুরী আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি, মামলাটি অধিকতর তদন্ত ও জামিনের জন্য পৃথক তিনটি আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এবং আইনজীবী এস আকবর খান ও আতাউর রহমান খান আসামিদের বিরুদ্ধে শুনানিতে অংশ নেন। পরে আদালত তিনটি আবেদনই খারিজ করে আসামি ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর, সুপারভাইজার সফর আলী এবং সহকারী শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। উল্লেখ্য, ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্তানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। রূপার ভাই হাফিজুর রহমান ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর, সুপারভাইজার সফর আলী এবং সহকারী শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে তারা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। ২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আছে। ৩১ আগস্ট রূপার লাশ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তার লাশ সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে দাফন করা হয়।

চুক্তির পরও আসছে রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও থামছে না রোহিঙ্গা ঢল। গত সপ্তাহেও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা জানান, কৌশল পরিবর্তন করে মিয়ানমার সেনারা এখন মানসিক নির্যাতন শুরু করছে। এ কারণে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্রোত অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ নিউজ সেন্টারের এক খবরে বলা হয়, সহিংসতার কারণে রাখাইন থেকে এখনও পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা। গত সপ্তাহে প্রায় ১৮০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংগঠন (আইওএম) জানায়, সোমবার পাঁচ সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে আসেন ত্রিশ বছরের এক নারী। তিনি আইওএমকে জানান, সাত দিন আগে রাখাইন ছাড়েন তিনি। সেখানে তাদের গ্রাম পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে সেনারা। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। তবে এখনও উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক যুগান্তরকে বলেন, প্রতিদিনই রোহিঙ্গারা এপারে ঢুকছে। যারা আসছে তাদের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে আরও হাজার খানেক রোহিঙ্গা এসেছে। স্থানীয়রা জানান, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া, পশ্চিমপাড়াসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ’ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট হয়ে এ দেশে এসেছে ১১৭ জন। এ ছাড়া রাতের আঁধারে ট্রুলার বা ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আসছে রোহিঙ্গারা। ২৬ নভেম্বর মিয়ানমারের মংডুর বুচিডং থেকে পালিয়ে এসে টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া কামাল উদ্দিন নামের রোহিঙ্গা যুবক জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী নির্যাতনের ধরন পাল্টিয়েছে। তারা বর্তমানে শারীরিক নির্যাতন বাদ দিয়ে মানসিক নির্যাতন শুরু করেছে। ২৭ নভেম্বর অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গা মোহাম্মদ জাবের জানান, সমঝোতা নিয়ে মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা বিশ্বাসী নয়। এখনও মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্তে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছে। রোহিঙ্গা মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মিয়ানমারে এখনও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে সেই দেশের মগ ও সেনারা। ঘরবাড়ি থেকেও বের হতে দিচ্ছে না তারা। তাই এখনও রোহিঙ্গা মুসলিমরা বাংলাদেশে আসছে। এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে এবং তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের একটি অংশ নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী হলেও বড় অংশই বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার পক্ষে। বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী আয়েশা নুর বলেন, ‘জান হাতে নিয়ে মিয়ানমার থেকে অনেক কষ্টে এ দেশে এসেছি। মরতে আবার ওই দেশে যাব কেন?’ আবার অনেক রোহিঙ্গা দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আজ হোক,
কাল হোক স্বদেশে ফিরে যেতে চাই আমরা।’ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ যাতে ইন্ধন দেয়ার পাশাপাশি বাধার সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন। টেকনাফ ২ বিজিবির মেজর আরিফুল ইসলাম বলেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত আছে। গত কয়েকদিনে দেড় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা এসেছে বলে জানান তিনি। উখিয়া-টেকনাফে চলছে মিয়ানমারের অবৈধ মোটরসাইকেল : রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার সময় নিজেদের মূল্যবান মালামালের সঙ্গে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও নিয়ে আসছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাকের ডগায় অবৈধ এসব মোটরসাইকেল চলাচল করলেও নেয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে এসব মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় উখিয়ায় ৩ আরোহী নিহত হয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, মোটরসাইকেলগুলো জব্দ না করলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের বলেন, এসব অবৈধ মোটরসাইকেল জব্দ করতে অভিযান চালানো হবে। বিলুপ্ত বন, খাদ্য সংকটে বন্যপ্রাণীরা : উখিয়া-টেকনাফের বনভূমিতে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী ক্যাম্প ও ঝুপড়ি ঘর গড়ে ওঠায় সংকটে পড়েছে বন্যপ্রাণীরা। তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ে অনেক প্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। আবার অনেক প্রাণী তাদের স্থান পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশরাফ বলেন, এক স্থানে এত মানুষের বসবাসের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে, সেটাই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে পাহাড়-জঙ্গল যেভাবে কাটা পড়ছে তাতে বন্যপ্রাণীর খাবার সংকটসহ সব সমস্যাই হবে। ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন : উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে মিয়ানমার নাগরিকদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কাজ এগিয়ে চলছে। পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশন অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকের হোসেন জানান, বুধবার পর্যন্ত ৭ লাখ ২ হাজার ১০৭ জন রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন। পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অস্থায়ী এ আদালত বসেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এই দুই মামলায় খালেদা জিয়া আজ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। কিন্তু তিনি আজ আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন। দুই মামলায় তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেওয়ার দিন ধার্য ছিল আজ। ওই আদালতের পেশকার মোকাররম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আগামী ৫, ৬ ও ৭ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাফাই সাক্ষ্যের জন্য একই দিন ধার্য আছে। যোগাযোগ করা হলে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানিয়েছেন, আগামী শুনানির দিনে খালেদা জিয়া অবশ্যই আদালতে হাজির হবেন। ২৩ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থন করে পঞ্চম দিনের মতো বক্তব্য তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন। মামলা দুটি দুদকের করা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মোট ৩৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় দুর্নীতির অভিযোগে করা। দুর্নীতির মামলাগুলো বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় করা। বাকি মামলাগুলো গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা হয়েছে। ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এর মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আর ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়াসহ চারজন।

আদালতে দাঁড়িয়ে বিষ খেয়ে যুদ্ধাপরাধীর আত্মহত্যা

হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দাঁড়িয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে এক যুদ্ধাপরাধী। তার নাম স্লোবোদান প্রালিয়াক। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সাবেক যে ছয়জন বসনীয় ক্রোয়াট রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে, তাদের অন্যতম হচ্ছেন প্রালিয়াক। পূর্ব মোস্তার শহরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। যুগোশ্লাভ যুদ্ধাপরাধ মামলায় চূড়ান্ত আপিলের শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়েছিল এই ছয়জন অভিযুক্তকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায়ে তার কারাদণ্ড বহাল রাখার ঘোষণা শোনার পর প্রালিয়াক বিচারককে বলেন, ‘আমি বিষ খেয়েছি।’ বিবিসি জানায়, প্রালিয়াক উঠে দাঁড়ান এবং মুখের কাছে হাত তোলেন, মাথাটা পেছনদিকে এমনভাবে হেলান যাতে মনে হয় তিনি গেলাস থেকে তরল কিছু পান করছেন। বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি সঙ্গে সঙ্গে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে দেন এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন।
বিচারক বলেন, ‘ঠিক আছে, আমরা স্থগিত...আমরা স্থগিত...দয়া করে পর্দা টেনে দিন। যে গ্লাস থেকে তিনি কিছু একটা পান করলেন সেটা কেউ সরাবেন না।’ পর্দা টেনে দেয়ার আগে আদালত কক্ষে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বসনীয় ক্রোয়াট প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রথমসারির সৈন্যদের সাবেক অধিনায়ক প্রালিয়াককে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে কারাদণ্ড দেয়া হয়। জাতিসংঘ যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ে বলা হয়, ১৯৯৩ সালের গ্রীষ্মে সৈন্যরা প্রোজোর এলাকায় মুসলিমদের যখন ব্যাপক ধরপাকড় করছিল, তখন খবর পেয়েও তিনি তা বন্ধ করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেননি। মুসলিমদের হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং পূর্ব মোস্তারে মসজিদ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনার খবর জানার পরেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

১০০ কোটি ডলার দিয়ে সৌদি প্রিন্সের মুক্তি

দুর্নীতির অভিযোগে আটক সৌদি প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহকে ১০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে মুক্তি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় তিনি আটক ছিলেন। প্রিন্স মিতেব সৌদি কর্তৃপক্ষকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করতে সম্মত হলে তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেয়া হয়। সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে দু’পক্ষ ‘গ্রহণযোগ্য সমঝোতায়’ এসেছে। খবর রয়টার্সের। এক সময় প্রিন্স মিতেবকে সৌদি সিংহাসনের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ৪ নভেম্বর বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন। সেই অভিযানে ২০০ জনেরও বেশি রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। প্রিন্স মিতেব ছিলেন তাদের অন্যতম। প্রিন্সেস নওফ বিনতে আবদুল্লাহ নামে মিতেবের এক বোন এক টুইটার বার্তায় তার মুক্তির কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর। তিনি আপনাকে নিরাপদে রাখবেন।’ প্রিন্স মিতেব সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের চাচাতো ভাই। মিতেব দেশটির অভিজাত বাহিনী ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান ছিলেন। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজপরিবারের অনেক সদস্যকে আটক করা হয়।
মিতেব সেসব সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন। সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশা আবদুল্লাহর ৬৪ বছর বয়সী এই পুত্রকে আটক করার অল্পক্ষণ আগে পদচ্যুত করা হয়। দুর্নীতিবিরোধী ওই অভিযানের প্রথম দিকে ১৭ জন প্রিন্স, চারজন মন্ত্রী ও সাবেক মন্ত্রী ও কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আটক করে রাখা হয়েছে। তাদের সবাইকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের সবার ব্যক্তিগত সম্পদও জব্দ করা হয়েছে। বিবিসি জানায়, প্রিন্স মিতেব ছাড়া আরও তিন ব্যক্তি সৌদি সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুবরাজ মোহাম্মদ বলেন, আটককৃতদের বেশিরভাগই তাদের মুক্তির জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক ‘সমঝোতা’য় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে যে নথিপত্র ছিল, তা তাদের দেখালে তাদের ৯৫ ভাগই তৎক্ষণাৎ সমঝোতার জন্য রাজি হয়ে যায়।’

মিয়ানমারে আজও সহিংসতার ক্ষত

মিয়ানমারের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের পূর্বনির্ধারিত একটি উন্মুক্ত সমাবেশ ও প্রার্থনা সভায় অংশ নিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। বুধবার সকালে দেশটির রাজধানী ইয়াঙ্গুনে ঐতিহাসিক এই প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশ মিয়ানমারের বেশির ভাগ মানুষই বৌদ্ধ। দেশটিতে মাত্র সাত লাখ ক্যাথলিক খ্রিস্টান রয়েছেন। পোপকে দেখতে জড়ো হন প্রায় দেড় লাখ ক্যাথলিক খ্রিস্টান। সভায় দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাসহ সু চি প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে পোপ ফ্রান্সিস তার ভক্ত ও অনুসারীদের ক্ষমা ও ভালোবাসার মাধ্যমে ঘৃণা ও বিদ্বেষের জবাব দেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ না নেয়ার আহ্বন জানান তিনি। তবে এদিনও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধনের শিকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের কথা উল্লেখ করেননি পোপ। মিয়ানমার দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সহিংসতার ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি বলেন, ‘আমি জানি দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমার ‘সহিংসতার ক্ষত’ বয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা মনে করতে পারি যে, ক্ষোভ ও প্রতিশোধ থেকে মনে শান্তি আসে। তার পরও প্রতিশোধের পথ যিশুখ্রিস্টের পথ নয়।’একই সঙ্গে মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সব জাতিগোষ্ঠীকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রার্থনা সভায় মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে তিনি বলেন, প্রতিশোধপরায়ণতা কখনও শান্তি বয়ে আনতে পারে না। ক্ষমা ও উদারতা যিশুখ্রিস্টের প্রকৃত শিক্ষা। মিয়ানমার সফরে গিয়ে কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়েন পোপ ফ্রান্সিস। প্রথম দিনেই তাকে বাধ্য করা হয় দেশটির সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করতে। ভ্যাটিক্যান সূত্র জানায়, মিডিয়াবান্ধব হিসেবে পরিচিত পোপ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও তেমন একটা কথা বলছেন না। মিয়ানমারে সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি করে রাখা হয়েছে। রাখাইনে সেই আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত নিষিদ্ধ রয়েছেন সংবাদকর্মীরা। পোপকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি দেয়া হয়, রোহিঙ্গাদের প্রশ্ন তুললেই সে দেশে থাকা ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়ন নেমে আসতে পারে। এই বাস্তবতায় তিনি সু চির সঙ্গে তার একান্ত বৈঠক সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। সু চিও এ ব্যাপারে কথা বলেননি। এদিকে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইহুদি ধর্মযাজকরা। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে ইসরাইলি সরকারের বিরুদ্ধে এক পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন ইহুদি রাব্বিরা। পিটিশনের নেতৃত্বে থাকা রাব্বি ডভ পেরেজ ইলকিন্স বলেন, এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে রাব্বিদের একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দ্য রাব্বিনিক কল ফর হিউম্যান রাইটস নামে একটি ইহুদি মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে এই পিটিশন স্বাক্ষর অভিযান পরিচালিত হয়। এই পিটিশনে ইসরাইল সরকারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পিটিশনে বলা হয়েছে, ইহুদি ও মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিয়ানমার সেনাবহিনীর অস্ত্র প্রদান বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে মার্কিন বা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর নির্মম জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে।’ এদিকে রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দেশটির সরকারের কাছ থেকে প্রতিবেদন চেয়েছে জাতিসংঘ। ছয় মাসের মধ্যে ওই প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের নারী অধিকারবিষয়ক একটি পর্যবেক্ষক প্যানেল মিয়ানমার সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানায়। নারী-বৈষম্য বিলোপ সনদ সিডও’র পক্ষ থেকে মিয়ানমারে আগস্ট থেকে চলা সহিংসতায় নিহত নারী ও কিশোরীদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

মহাক্ষমতাধর ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা উ. কোরিয়ার

নতুন ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এটি পুরো আমেরিকা মহাদেশের যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটিকে বলা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী আইসিবিএম। এর পাল্লা ১৩ হাজার কিলোমিটার। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, পরমাণু দেশ হওয়ার যে বাসনা তাদের ছিল তা পূরণ হয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও সিএনএনের। বুধবার ভোরের অন্ধকারের মধ্যে হোয়াসং-১৫ নামের ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হলেও সেটি ঘোষণা দেয়া হয় দুপুরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠানে। দেশটির নেতা কিম জং উন ব্যক্তিগতভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের আদেশে সই করেন। মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি সংগঠন বলছে, উত্তর কোরিয়ার এ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো অংশে আঘাত হানতে সক্ষম। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, পিয়ংইয়ং থেকে উৎক্ষেপণের পর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছায় তারপর নেমে এসে বুধবার সকালে উত্তর কোরিয়া থেকে ৯৬০ কিলোমিটার দূরে জাপানের জলসীমায় পড়ে। তবে আগে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের ওপর দিয়ে উড়ে গেলেও এবার সেটি করেনি। যে কোনো ধরনের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে উত্তর কোরিয়া। বুধবারের পরীক্ষার পর কিম উত্তর কোরিয়াকে শান্তিকামী দেশ বলে মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তারা সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবে। উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের সর্বশেষ পরীক্ষাটি চালিয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে। ওই মাসেই তারা পারমাণবিক অস্ত্রের ষষ্ঠ পরীক্ষাটি চালায়। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হুমকিই তাদের লক্ষ্য থেকে সরাতে পারবে না।
নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে ‘সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ ঘোষণা করার এক সপ্তাহের মাথায় আবারও ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালাল পিয়ংইয়ং। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বুধবারই জরুরি বৈঠকে বসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস সাংবাদিকদের বলেন, উত্তর কোরিয়ার এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ছিল আগের যে কোনোটির চেয়ে বেশি। আর তারা যা করছে, তা পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি। হোয়াইট হাউস জানায়, মিসাইলটি আকাশে থাকতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শুধু আপনাদের বলতে চাই, আমরা এটা দেখে ছাড়ব। আমরা এ পরিস্থিতি সামাল দেবই।’ এর আগে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে ‘আগুন ও ক্ষোভ’ দেখানোর হুমকি দিয়েছিলেন। তবে বুধবারের পরীক্ষার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, কূটনৈতিক পন্থা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস’ এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো স্থানে সেটি আঘাত হানতে সক্ষম। তবে বুধবারের পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়া হালকা কোনো মক ওয়্যারহেড ব্যবহার করেছে বলেই সংগঠনটি মনে করছে। সে ক্ষেত্রে এ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ওই দূরত্বে পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব নাও হতে পারে, কারণ পারমাণবিক ওয়্যারহেডের ওজন অনেক বেশি। উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের উসকানিমূলক আচরণ মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও জার্মানি।

বাংলাদেশে তৈরি পণ্য বিক্রি করছে ট্রাম্পের কোম্পানি

এ ছাড়া অনলাইন শপটি চীনের তৈরি কিছু পণ্যও বিক্রি করছে। ট্রাম্পের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক এখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই। আর এগুলো পরিচালনা করেন তার ছেলে এরিক এবং ডোনাল্ড জুনিয়র। খবর দ্য ডেইলি বিস্ট। ওয়াশিংটন পোস্টের অপর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কার নামে একটি পোশাকের ব্র্যান্ড রয়েছে। আর এ ব্র্যান্ডের কাপড় তৈরি হয় বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশে। ৯৭ শতাংশ কাপড়ই এ দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ থেকে জিন্স জ্যাকেটই বেশি আমদানি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও তার ফ্যাশনকে অনেকে অনুকরণ করেন। তাই ইভাঙ্কা ট্রাম্প ব্র্যান্ডের প্রচলনও বেশ। ২০১৬ সালে পোশাক বিক্রির তালিকায় এ ব্র্যান্ড ছিল এগিয়ে। এ ব্র্যান্ডটি তাদের পোশাক তৈরিতে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের মান অনেক ভালো হওয়ায় এখানকার কাপড়ের অনেক চাহিদা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় শ্রমিক ইস্যু নিয়ে নানা কথা থাকলেও এখানকার কাপড় অনেক উন্নত মানের। তাই ইভাঙ্কা ট্রাম্পের ব্র্যান্ড ছাড়া অন্য নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোও বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘হায়ার অ্যামেরিকান’ ও ‘মেইড ইন অ্যামেরিকা’ নামের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য উৎপাদন করে দেশে বিক্রি করার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। এর মধ্যেও ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইভাঙ্কা ট্রাম্প ব্র্যান্ডের পোশাক বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা হয়। পোশাকের মান ধরে রাখার জন্য তারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক নিচ্ছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৫২০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৬২ কোটি ডলার। অর্থাৎ গেল অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৫২৯ কোটি ডলার।

সরকার ২৫ হাজার টন সার আমদানি করবে

সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে। প্রতি টনের মূল্য হবে ৩৮৯ মার্কিন ডলার। ওই হিসাবে মোট ব্যয় হবে ৮০ কোটি ২২ লাখ টাকা। বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সৌদি আরবের মাডেনের সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সম্পাদিত চুক্তির আওতায় এই সার আমদানি করা হবে। বৈঠকে ১৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পৃথক তিনটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৈঠকে শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসন্ন রবি মৌসুমের চাহিদা মেটানোসহ মজুদ বাড়াতে সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া ‘রূপকল্প-৯ : ২ডি সাইসমিক প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সিসমিক জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে ৯০০ জন জনবল সরবরাহের জন্য সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। আর্নিফ এন্টারপ্রাইজ এ জনবল সরবরাহ করবে। মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০’-এর আওতায় রূপকল্প-৩ প্রকল্পের অধীন কসবা-১ (গ্রুপ-এ) এবং রূপকল্প-১ প্রকল্পে সালদা (নর্থ)-১ (গ্রুপ-বি) জন্য বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

রূপপুরে পারমাণবিক প্রকল্পে নিজ হাতে ঢালাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজ হাতে ঢালাই দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের মূল কাজের ‘রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি পারমাণবিক প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী আকাশপথে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প এলাকায় গিয়ে পৌঁছেন। এ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নতুন দিগন্তের আরেক মাইলফলক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। কংক্রিট ঢালাই শুরুর পর আগামী ৬৮ মাসের মধ্যেই এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ১ হাজার ৬২ একর জায়গার ওপর রাশান ফেডারেশনের সহযোগিতায় প্রকল্পের অন্যান্য কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রকল্প পরিচিতি তুলে ধরবেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শৌকত আকবর। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিনিধি রোসাটমের মহাপরিচালক মি. আলেক্সি লিখাচেভ, ভূমিমন্ত্রী মো. শামসুর রহমান শরীফ। সব শেষে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনায় রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে ৫ হাজার ৮৭ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ। এখন চলছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় বা শেষ পর্যায়ের কাজ। এরই অংশ হিসেবে আজ উদ্বোধন হল বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল স্থাপনার ‘রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং (উৎপাদন কেন্দ্র)’ নির্মাণ কাজের। এরই মধ্যে গুটিয়ে আনা হয়েছে স্থাপনাটির ফাউন্ডেশনের (ফাস্ট কংক্রিট পোরিং ডেট বা এফসিডি) সার্বিক কার্যক্রম। দুই পর্যায় মিলে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৮০ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির কাজ ২০১৩ সালে শুরু হয়েছে। প্রকল্প সমাপ্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে।
দুই ইউনিটের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২৪শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের জন্য থ্রি প্লাস রিঅ্যাক্টর বসবে। যেটি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তি, যা কেবল রাশিয়ায় একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রয়েছে। আর বাংলাদেশের রূপপুরই হবে এর দ্বিতীয় ব্যবহার। ২০২০ সালের মধ্যেই রিঅ্যাক্টর ভেসেলসহ সব যন্ত্রপাতিই রাশিয়া থেকে চলে আসবে। তার পর প্রকল্প এলাকায় তা সংযোজন করা হবে। উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে আইয়ুব সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু অর্ধশতাব্দীকাল ধরে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। এতকাল ধরে এটি ছিল শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সরকারের আমলে রূপপুর ইস্যু হালে পানি পায়। চুক্তি হয় রাশিয়ার সঙ্গে। রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটমের) নেতৃত্বে ২০১৩ সালে শুরু হয় দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে ২৬০ একর জমি পর্যাপ্ত না হওয়ায় রূপপুর চরের আরও ৯৯০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। নতুনভাবে অধিগ্রহণ করা পদ্মার বিশাল চরে চলছে মাটি ভরাটের কাজ। এদিকে মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে তৈরি হচ্ছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। ইতিমধ্যেই তিনটি সুউচ্চ বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এ এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ তলা ১১টি বিল্ডিং এবং ১৬ তলা ৮টি বিল্ডিংয়ের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ২২টি সুউচ্চ বিল্ডিং তৈরি হবে এ চত্বরে। এ ছাড়া থাকবে মাল্টিপারপাস হল, মসজিদ ও স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

পোপ বাংলাদেশের পক্ষেই আছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, আমরা যখন রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিপদে আছি, তখন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সফর গুরুত্ব বহন করে। পোপ বাংলাদেশের পক্ষেই রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন পোপ। এর আগে সকালে তার সফর নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। উল্লেখ্য, শান্তি ও সংহতির বার্তা নিয়ে সোমবার থেকে চার দিনের সফরে সংঘাত পীড়িত মিয়ানমারে অবস্থান করছেন পোপ ফ্রান্সিস। গত আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হলে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। তখন তিনি রোহিঙ্গাদের ‘রোহিঙ্গা ভাই ও বোন’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তবে মিয়ানমার সফরকালে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিও উচ্চারণ করেননি তিনি। এ অবস্থায় মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার জন্য প্রশংসিত পোপের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে তার অবস্থানের বিষয়ে আশাবাদ জানালেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশে পোপের সফরসূচি: ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতা পোপ ফ্রান্সিস তিন দিনের সফরে আজ বিকালে ঢাকায় আসছেন। বিশেষ বিমানে বিকাল ৩টায় ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছবেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। বিমানবন্দর থেকে পোপ সরাসরি সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তার পর তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেখানে তিনি স্মৃতিগ্রন্থে স্বাক্ষর করবেন। পোপ প্রথম দিনেই বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সুশীলসমাজ ও কূটনৈতিক মহলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে পোপ বক্তব্য রাখবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার সকাল ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্রিস্টধর্মীয় উপাসনা ও যাজক অভিষেক অনুষ্ঠানে পোপ বক্তব্য রাখবেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পোপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিকালে ক্যাথেড্রাল পরিদর্শন করবেন এবং রমনায় প্রবীণ যাজক ভবনে পোপের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশপদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পোপ বক্তব্য রাখবেন। তার পর আর্চবিশপ হাউসের মাঠে শান্তির জন্য আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃমাণ্ডলিক সমাবেশে পোপ বক্তব্য রাখবেন। পোপ তার সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে মাদার তেরেসা ভবন ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করবেন। তার পর তেজগাঁও গির্জায় যাজকবর্গ, ব্রাদার-সিস্টার, সেমিনারিয়ান ও নবিশদের সমাবেশে পোপ বক্তব্য রাখবেন। তিনি তেজগাঁওয়ে পুরনো গির্জা পরিদর্শন করবেন। বিকালে নটর ডেম কলেজে যুব সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখবেন। শনিবার ৫টার দিকে রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সফরকালে পোপ লা মেরিডিয়ান হোটেলে থাকবেন। ওই হোটেলে বিশাল মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। পোপের সফর কভার করার জন্য প্রায় ৩০০ বিদেশি সাংবাদিক ঢাকায় আসছেন।

শাজনীন হত্যায় শহীদুলের ফাঁসি কার্যকর

বহুল আলোচিত শাজনীন তাসনিম রহমানকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহীদুল ইসলাম শহীদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। রায় কার্যকরের পর কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. মিজানুর রহমান কারাফটকে এসে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফাঁসি কার্যকরের পর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার ভাই মহিদুল ইসলাম লাশ গ্রহণ করেন। রাতেই তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর থানার ডাংগাদুর্গাপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। কারাসূত্র জানায়, ফাঁসির রায় কার্যকরের সময় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম, কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মো. মঞ্জুরুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার দুপুরে শহীদের বাবা সিদ্দিক মোল্লা, মা, ভাই, বোন কারাগারে তার সঙ্গে শেষ দেখা করেন। কারাসূত্র জানায়, সাক্ষাৎকালে শহীদ স্বাভাবিক থাকলেও তার বাবা-মা ও ভাই-বোন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এক পর্যায়ে শহীদও আবেগে আপ্লুত হয়ে যান। পরে অশ্রুসজল চোখে পরিবারের সদস্যরা কারাগার ত্যাগ করেন। প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের মেয়ে শাজনীন তাসনিম রহমান গুলশানে নিজ বাড়িতে খুন হন। ২০০৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শাজনীনকে ধর্ষণ ও খুনের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতার দায়ে ছয় আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৮ বছর পর গত বছরের ২৯ মার্চ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বেঞ্চে হাইকোর্টে ফাঁসির আদেশ পাওয়া আসামিদের আপিলের শুনানি শুরু হয়। তিন সদস্যের ওই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। গত ৫ এপ্রিল বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি মো. ইমান আলীকে যুক্ত করে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ গঠন করা হয়। ৬ এপ্রিল থেকে ওই বেঞ্চে আসামিদের আপিল শুনানি শুরু হয়। ২ আগস্ট আসামিদের মধ্যে শহীদুল ইসলাম শহীদের ফাঁসির রায় বহাল রেখে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। বাকি চারজনকে খালাস দেন আপিল বিভাগ। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- হাসান, বাদল, মিনু ও পারভীন।

বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর ১৫৯তম জন্মদিন আজ

ব্রিটিশশাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন আশ্চর্যজনক যন্ত্র আবিষ্কার করে বিশ্বে হইচই ফেলে দেন এক বাঙালি বিজ্ঞানী। তিনি হলেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু। আজ তার ১৫৯তম জন্মদিন। তিনি ১৮৫৮ সালে ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহ শহরে মাতুলালয়ে জন্ম নেন। তার বাবার নাম ভগবান চন্দ্র বসু। তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। বাবার চাকরির সুবাদে জগদীশ ছেলেবেলার বেশির ভাগ সময় কাটান ফরিদপুরে। ১১ বছর বয়সে ১৮৬৯ সালে জগদীশ চন্দ্র বসু কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে ভর্তি হন।
১৬ বছর বয়সে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন সর্বোচ্চ মেধা তালিকায় বৃত্তি নিয়ে। ১৮৭৭ সালে এফএ পাস করেন। ১৮৮০ সালে ডাক্তারি পড়ার জন্য জগদীশ চন্দ্র বসুকে বিদেশে পাঠান তার বাবা। ১৯৮৪ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৮৮৫ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভৌত বিজ্ঞানের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। মূলত জগদীশ চন্দ্র বসুই বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক। ১৮৯৬-৯৭ সালে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন ও রয়্যাল ইন্সটিটিউশনে বক্তৃতা দেয়ার জন্য জগদীশ চন্দ বসুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ব্রিটিশ সরকার ১৯১৬ সালে তাকে নাইট উপাধি দেয়। ১৯২৭ সালে বিজ্ঞানী বসুকে নির্বাচিত করা হয় ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে। ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি বিহারের গিরিডিতে মৃত্যুবরণ করেন।

গাফ্ফার চৌধুরীর অবস্থা উন্নতির দিকে

সাংবাদিক, কলামিস্ট ও একুশের অমর গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তার মেয়ে বিনিতা চৌধুরী জানান, তার বাবার অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলা হয়েছে।  অক্সিজেন মাস্ক ছাড়াই তিনি শ্বাস নিতে পারছেন। তবে হাঁপানির কারণে শ্বাস নিতে খানিকটা কষ্ট হচ্ছে। তিনি একটু একটু করে কথা বলতে ও তরল খাবার খেতে পারছেন।
ডাক্তাররা আজ তাকে বেড থেকে তুলে চেয়ারে বসিয়েছিলেন। ফুসফুসের সংক্রমণ সারাতে জীবাণুরোধক দেয়া হচ্ছে। বিনিতা আরও জানান, তার বাবা গাফ্ফার চৌধুরী সুস্থতার জন্য সবার প্রতি দোয়া করার অনুরোধ জানিয়েছেন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুুরী গত ২২ দিন ধরে লন্ডনের মিডলসেক্সের নর্থ উইক পার্ক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

লেকহেড স্কুল রোববার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে

জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া রাজধানীর লেকহেড গ্রামার স্কুলের বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি হবে রোববার। ততদিন পর্যন্ত স্কুলটি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়ার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেন আদালত। উল্লেখ্য, জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা, ধর্মীয় উগ্রবাদে উৎসাহ দেয়াসহ কয়েকটি অভিযোগে ৬ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকায় লেকহেড গ্রামার স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেয়। এর পর ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট ইলিয়াস মেহেদী পর দিন ওই স্কুলে গিয়ে সিলগালা করে দেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ১৪ নভেম্বর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লেকহেড স্কুলের ধানমণ্ডি ও গুলশানের শাখা খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ। তবে লেকহেড স্কুল কর্তৃপক্ষকে জঙ্গিবাদসহ যে কোনো বিষয়েই সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করার নির্দেশও দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে ১৯ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানোর আদেশ দেন। এর পর হাইকোর্টের রায় ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে আদেশ দেন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে রোববার আপিলের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মিরপুরে স্কুলে হামলার চেষ্টা করেছিল জঙ্গি মাহি

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে গ্রেফতার বাংলাদেশের জঙ্গি আফতাব ওরফে মাহি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। কলকাতা পুলিশকে সে জানিয়েছে, ঢাকার মিরপুরের একটি স্কুলে সহযোগীদের নিয়ে সে (মাহি) হামলার চেষ্টা করেছিল। স্কুলের প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালকে খুনের জন্য রিভলবার ও পটাশিয়াম সায়ানাইড নিয়ে সে এবং আরও দুই জঙ্গি স্কুলে ঢুকতে চাইলে র‌্যাব তাদের আটকে দেয়। এ সময় র‌্যাবের সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রুবেল নামের এক জঙ্গি ধরা পড়ে। কিন্তু পালিয়ে যায় মাহি ও তার আরেক সহযোগী সোহেল।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ ঘটনার পরই মাহি পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে। বুধবার জঙ্গি মাহিকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। মাহি গ্রেফতার হওয়ার পরই ঢাকায় র‌্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে কলকাতা পুলিশ। কারণ মাহি জানায়, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপককে খুনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু র‌্যাব জানিয়ে দেয়, মাহি অধ্যাপক নয়, স্কুলের প্রিন্সিপালকে খুনের চেষ্টা করে পলাতক রয়েছে। এরপরই ফের জেরা শুরু করে কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশ জানায়, আল কায়দা তথা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) জঙ্গি উমর ফারুক ওরফে মহম্মদ আফতাব ওরফে মাহি বাংলাদেশে একাধিক নাশকতা, খুনের ঘটনায় জড়িত। ঢাকায় ব্যর্থ সেনা বিদ্রোহের নায়ক পলাতক মেজর জিয়ার পরামর্শে ভারতে আসে মাহি। তারপর থেকেই কলকাতা, পাটনা, রাঁচিতে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে থাকে সে। মাহি শিলিগুড়ি ও দুর্গাপুরেও আল কায়দার ঘাঁটি তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছিল। রাজ্যের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মাহি, তামিম ও নয়ন নামে আরও কয়েকজন বাংলাদেশে একাধিক অপরাধমূলক ঘটনায় জড়িত। মাহি গ্রেফতার হওয়ার পর তামিম ও নয়নের খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে দুর্গাপুর এবং শিলিগুড়িতে মাহির ডেরা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। কারণ এই দুটি জায়গায় বেশ কিছুদিন ধরে ডেরা বেঁধেছিল সে। স্বভাবতই, সেই দুই ডেরায় কে বা কারা আসা-যাওয়া করত তা জানতে চাইছেন এসটিএফের গোয়েন্দারা। একই সঙ্গে স্বপন তামিমরা যাতে বাংলা ছেড়ে পালাতে না পারে তার জন্য রাজ্যের সীমান্তবর্তী থানাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। কোনো জঙ্গি যাতে সীমান্ত টপকে রাজ্যে আসতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর দেয়া হয়েছে।

বগি লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভাটেরা রেলস্টেশনে ‘জালালাবাদ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ভাটেরা রেলস্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে এ ঘটনা ঘটে। আখাউড়া-সিলেট রেলপথের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এরফানুর হক জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী জালালাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় স্টেশনে আটক পড়েছে সিলেট থেকে ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি। খবর পেয়ে কুলাউড়া জংশন থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ভাটেরা স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। উদ্ধারকারী ট্রেনটি এসে বগি উদ্ধারের কাজ শেষ করলেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে জানান ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এরফানুর।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে অর্ধদিবস হরতাল চলছে

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার ডাকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে অর্ধদিবস হরতাল পালিত হচ্ছে। হরতাল সফল করতে সকাল থেকে রাজধানীর পল্টন, প্রেসক্লাব, গুলিস্তান, দৈনিক বাংলা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করছেন বামপন্থী নেতাকর্মীরা। শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ করছেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোটের’ নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত হরতালকে ঘিরে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। রাজধানীর সব জায়গায়  যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, সকাল ৬টায় হরতালের শুরুতেই প্রগতিশীল ছাত্রজোটের কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড় থেকে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। শুরুতে পুলিশের সাঁজোয়া যান হরতালকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সঙ্ঘাত এড়াতে তারা মিছিল নিয়ে শেরাটন মোড় হয়ে কাঁটাবনের দিকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তারা ফের শাহবাগে এসে অবস্থান করে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নিয়েছেন। পুলিশ এক ধরনের শব্দ তৈরি করে তাদের বারবার সরিয়ে দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স। উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে গ্রাহক শ্রেণি নির্বিশেষে প্রতি ইউনিট (এক কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের দাম বেড়েছে গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। দাম বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশে হরতাল ডাকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। বুধবার এ হরতাল পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি।

আখেরাতের মামলায় ফেল করলে কোনো খালাস নেই: চরমোনাইপীর

মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বুধবার চরমোনাইর তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল শেষ হয়েছে। চরমোনাই পীর সৈয়দ মাও. মো. রেজাউল করিম মোনাজাত পরিচালনা করেন। এতে বিশেষ করে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের শান্তি কামনা করা হয়। এর আগে সমাপনী বয়ানে মাও. রেজাউল করিম বলেন, দুনিয়া হল আখেরাতের কামাইয়ের জায়গা। দুনিয়ার মামলায় একবার ফেল করলে আবার উচ্চ আদালতে তদবির করে খালাসের আশা করা যায়। কিন্তু আখেরাতের মামলায় ফেল করলে কোনো খালাস নেই। এজন্য আল্লাহ এবং রাসুলের নীতি গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করতে হবে। ‘বাংলার জমিনে ইসলামী হুকুমাত কায়েম করতে’ চরমোনাই পীর আগামী নির্বাচনে হাতপাখায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। মোনাজাতে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ প্রমুখ অংশ নেন। মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা কয়েকশ’ বাস, ট্রাক, ট্রুলার ও লঞ্চে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।

কাঁঠালবাড়ী ও শরীয়তপুর-চাঁদপুরে ফেরি চলাচল বন্ধ

ঘনকুয়াশার কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে নৌদুর্ঘটনা এড়াতে বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি চলাচল। বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মিয়া জানান, ভোর থেকে কুয়াশার প্রকোপ বাড়তে থাকে।
এ কারণে নৌরুটে কাছের বস্তুটিও দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে ভোর ৫টায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এদিকে মাঝ পদ্মায় ছয়টি ফেরি নোঙর করে রয়েছে। এদিকে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘন কুয়াশার কারণে নির্দেশনামূলক বাতি অস্পষ্ট হয়ে আসে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে গেলে ফের ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে।

চলন্ত গাড়িতে শিশু ধর্ষণচেষ্টা, চালক আটক

গাজীপুরে চলন্ত গাড়িতে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের এক চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমবাগ মধ্যপাড়ার জালালের মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকৃত শিশুটি আমবাগ এলাকায় তার মায়ের সঙ্গে থেকে ভিক্ষা করে। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহে। অভিযুক্ত চালক রুবেল (২৪) গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আমবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।   কোনাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,  রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোনাবাড়ি থেকে এক শিশুসহ ৩ যাত্রীকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত একটি  ইজিবাইক বাঘিয়া এলাকায় যাচ্ছিল। শিশুটি আমবাগ এলাকার বাসায় ফিরছিল। পথে নছর মার্কেট এলাকায় দুই যাত্রী নেমে যায়। পরে শিশুটিকে নিয়ে চালক বিভিন্ন নির্জন পথ দিয়ে ঘুরে আমবাগ মধ্যপাড়ার জালালের মার্কেট এলাকায় যায়। সেখানে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি কান্নাকাটি করে। কান্নার শব্দ পেয়ে পথচারীরা এগিয়ে গিয়ে চালক রুবেলকে হাতেনাতে ধরে ফেলে উত্তমমধ্যম দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ইজিবাইকচালক রুবেলকে আটক করে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

ঘনকুয়াশার কারণে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে  ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ওই নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে ওই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়। ঘনকুয়াশার কারণে মাঝ পদ্মায় কুয়াশায় অবরুদ্ধ হয়েছিল দুটি ফেরি। এ ছাড়া পাটুরিয়াঘাটে ৭টি ও দৌলতদিয়াঘাটে ৬টি ফেরি নোঙর করে রাখা হয় বলে জানান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) পাটুরিয়াঘাটের ব্যবস্থাপক(বাণিজ্য) খন্দকার মো. তানভির হোসেন। তিনি বলেন, বুধবার রাত থেকে পদ্মা নদীর অববাহিকায় ঘনকুয়াশা পড়তে থাকে। পরে রাত ৩টার দিকে কুয়াশার মাত্রা বেড়ে গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে বাধ্য হয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে ফেরি চলাচল ফের স্বাভাবিক হয়।

Wednesday, November 29, 2017

রোহিঙ্গা ক্যাম্প: পোপের যেখানে যাওয়া হবে না by নাজমুস সাদাত পারভেজ

মিয়ানমার সফরে রয়েছেন পোপ ফ্রাঁসিস। সেখানে তিনি সাক্ষাৎ করছেন দেশটির সেনাপ্রধান সহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে। গতকাল সাক্ষাৎ হয়েছে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি, প্রেসিডেন্ট হতিন কাইওয়ার সঙ্গেও। যে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে তিনি মিয়ানমারে রয়েছেন, সেই রোহিঙ্গাদের ক্যামেপই যাওয়া হচ্ছে না তার। রোহিঙ্গা ক্যামপগুলোকে পোপের চোখের আড়ালে রাখতে চায় মিয়ানমার। কারণ, সেখানকার পরিস্থিতি এক বাক্যে অমানবিক।
স্কাই নিউজের বিশেষ সাংবাদিক আলেক্স ক্রাওফর্ড কৌশলে প্রবেশ করেন মিয়ানমারের একটি রোহিঙ্গা ক্যামেপ। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের কার্যত আটকে রাখা ওইসব ক্যামেপ প্রবেশ করতে পারাটা একটি দুরূহ ব্যাপার। সেখানে সহজে বহিরাগত কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না। এসব ক্যাম্পে শত শত রোহিঙ্গা জীবনের হুমকি নিয়ে বসবাস করেন। আলেক্স ক্রাওফর্ড প্রথমে তার দল নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যামেপ প্রবেশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি চান। তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয় নি। অবশ্য অনুমতি না দেয়ার ব্যাপারটিও তেমন অস্বাভাবিক কিছু না। মিয়ানমারের এইসব রোহিঙ্গা ক্যামেপ সহজে কোনো স্থানীয় কিংবা আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। এমনকি আন্তর্জাতিক দাতা এবং সাহায্য সংস্থাও খুব সহজে সেখানে ঢুকতে পারে না। ওই ক্যামপগুলো কার্যত রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার বস্তি। সেখানে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর কাজে নিয়োজিত একজন কর্মী জানান, ওই ক্যামেপ ঢোকার জন্য অন্তত এক ডজন কাগজপত্র ও ফরম পূরণ করে তারপর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর নিয়ে তবেই সেখানে প্রবেশ করতে পেরেছেন তারা। এই কঠোর নজরদারির কারণ জানিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিরাপত্তার কারণেই এতো কঠিন নিয়মকানুন আরোপ করা হয়েছে। ক্যামেপ বসবাস করা রোহিঙ্গা আততায়ীরা অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত। তবে আলেক্স ক্রাওফর্ড ওই ক্যামেপ প্রবেশ করে যা দেখেছেন, তা কর্তৃপক্ষের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিকল্পপথে ওই ক্যামেপ ঢোকেন আলেক্স ও তার দল। এতে তাকে সাহায্য করে মিয়ানমারের কিছু স্থানীয় নাগরিক। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদেরকে সাহায্য করেন। এ ক্ষেত্রে ধরা পড়লে তাদেরকে অত্যাচারের শিকার হতে হতো।
ক্যামেপ ঢুকে সাংবাদিকরা একটি মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তারা দেখেন, শত শত রোহিঙ্গা নিজের দেশেই নির্বাসিত অবস্থায় আছেন। তারা নিজেদের জীবনের নানা দুর্ভোগের কথা ওই সাংবাদিকদের খুলে বলেন। খুলে বলেন কিভাবে নিজের দেশে অধিকারবঞ্চিত অবস্থায় চূড়ান্ত নিগ্রহের শিকার হয়ে যাচ্ছে একটি জাতি। তারা জানান, তাদের বাচ্চাদেরকে স্কুলে যেতে দেয়া হয় না। তাদেরকে দেয়া হয় না কোনো চাকরি-বাকরি। জীবনের প্রতি পদে পদে তাদেরকে শিকার হতে হয় নানান বাধার। আর এইসব দুর্ভোগের একটিই কারণ। তারা মুসলিম- এটাই তাদের দোষ। তারা সে দেশের একটি সংখ্যালঘু সমপ্রদায়, যাদেরকে অস্বীকার করে তাদের আপন মাতৃভূমি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করতে থাকা এসব রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলে আখ্যায়িত করে মিয়ানমার। তাদেরকে মিয়ানমারের নাগরিক বলে গণ্য করা হয় না। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের চোখে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। সে দেশে অবস্থানরত সাংবাদিক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে বার বার বলা হয় রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করতে। বলা হয়, রোহিঙ্গা মুসলিম নামে মিয়ানমারে কিছুই নেই। তারা সীমান্তবর্তী বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া অবৈধ বাংলাদেশি।
ওই ক্যাম্পে অবস্থানরত একজন রোহিঙ্গা জানান, আমাদের রাখাইনের রাজধানী সিতওয়েতে যাওয়া নিষেধ। সরকার আমাদেরকে সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। সেখানে গেলে আমাদের মেরে ফেলা হবে। আরেকজন রোহিঙ্গা বলেন, আমি চুলা জ্বালানোর লাকড়ি কুড়াচ্ছিলাম। এমন সময় পুলিশ বিনা অপরাধে আমাকে আটক করে। তারা আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে। বলে আমি নাকি সন্ত্রাসী। এরপর আমাকে আদালতে চালান করা হয়। আদালত আমাকে সন্ত্রাসী সাব্যস্ত করে ২৫ মাসের কারাদণ্ড দেয়! আলেক্স ক্রাওফর্ড যে ক্যামেপ প্রবেশ করেন, সেখানে শত শত রোহিঙ্গা বসবাস করেন। এদের বেশির ভাগই ২০১২ সালে রাখাইনের অন্য অংশে সংঘটিত সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত হন। ওই সহিংসতার সময় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে একজন বৌদ্ধ যুবতীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ আনা হয়েছিলো। এর প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক নৃশংসতার মতো অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। ওই সময়ও জ্বালিয়ে দেয়া হয় রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি। এরপর ওইসব গৃহহারা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের এনে এই ক্যামেপ রাখা হয়। তারা সেখানে বেঁচে আছে কোনো রকমের মানবিক অধিকার এবং স্বাধীনতা ছাড়া। দুই বছর ধরে এই সহিংসতার তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রতি চালানো অত্যাচারকে সংস্থাটি তুলনা করেছে ১৯৯৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের সঙ্গে। তবে, এতকিছুর পরেও মিয়ানমারের সরকার কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সমপর্কে কোনো ধরনের সহানুভূতি নেই। তারা রোহিঙ্গাদের উল্টো আততায়ী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করে। সমপ্রতি রোহিঙ্গাদের উপরে চালানো নিপীড়নকে জাতি নির্র্মূলের পরিষ্কার উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ। তবে এ অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। ক’দিন আগে মিয়ানমারের বৌদ্ধবাদীদের সংগঠন বা মা বা থা-এর নেতা ইউ ইয়ান্দ্রা সিক্কা ভিয়ন্থা দাবি করেন যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জাতি নিধনের খবরগুলো মিথ্যা। লাখ লাখ রোহিঙ্গার মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়াকে তিনি স্বেচ্ছানির্বাসন হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, ওইসব রোহিঙ্গা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশে চলে গেছে। কোনো রকম বলপ্রয়োগ কিংবা অত্যাচার করে তাদেরকে মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য করা হয় নি।
রোহিঙ্গারা গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মা বা থা-এর অন্য একজন নেতা বলেন, এটা কোনোভাবেই সম্ভব না যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ওইসব কুৎসিত রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণ করবে! সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গারা ইচ্ছে করে নিজেরা নিজেদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে চলে গেছে। এটা করে তারা আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করছে। ওইসব সন্ত্রাসী এখন বাংলাদেশে চলে গেছে এবং যাওয়ার সময় তাদের পরিবার পরিজনকে সঙ্গে করে নিয়ে গেছে।
পোপ ফ্রাঁসিসের মিয়ানমার সফর মূলত দেশটির উত্তপ্ত রোহিঙ্গা পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে। তবে, সত্যিকারে পরিস্থিতি আসলে কতটা উত্তপ্ত সেটা রোহিঙ্গা ক্যামপগুলো পরিদর্শন না করলে হয়তো বা পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।
(স্কাই নিউজ অবলম্বনে)

‘অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমাকে বাথরুমে আটকে ফেলেন উইন্সটেন’

নতুন ছবিতে অভিনয়ের প্রলোভন দিয়ে অভিনেত্রী কাদিয়ান নোবেলকে নিজের হোটেল স্যুটে ডেকে নেন হলিউড প্রযোজক হারভে উইন্সটেন। এরপর তার শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গগুলোতে তার হাত সঞ্চালিত হতে থাকে। অনাচারে মেতে ওঠেন উইন্সটেন। এক পর্যায়ে  সেখান থেকে পালাতে চেষ্টা করেন অভিনেত্রী কাদিয়ান নোবেল। কিন্তু তা টের পেয়ে তাকে বাথরুমে আটকে ফেলেন হারভে উইন্সটেন। এক পর্যায়ে হারভেকে ‘ওরাল সেক্সে’ আনন্দ দিতে বাধ্য করেন।
কাদিয়ান নোবেলকে দিয়ে নিজের শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত বোলান। ‘মাস্টারবেট’ করান। এসব অভিযোগ এনে নিউ ইয়র্কে সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সোমবার মামলা করেছেন নোবেল। হারভে উইন্সটেনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণের অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক নারী, অভিনেত্রী তার বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ করেছেন। তার যৌন লালসার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী অ্যানজেলিনা জোলি, গোয়েন পালট্রোসহ প্রথম সারির অনেক অভিনেত্রী। তাই উইন্সটেনের বিরুদ্ধে ‘সেক্স ট্রাফিকিং’ মামলা করেছেন অভিনেত্রী নোবেল। তিনি এতে বলেছে, ফ্রান্সে যখন তাদের সাক্ষাৎ হয় কান চলচ্চিত্র উৎসবে তখনই তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন উইন্সটেন। তিনি বলেছেন, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির কথা। তখন ফ্রান্সের লা ম্যাজেস্টিক হোটেলে নিজের নতুন ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেয়ার প্রলোভন দিয়ে আমাকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন উইন্সটেন। ভেতরে প্রবেশ করার পর পরই তিনি আমার শরীরের উপরের অংশ ও নিতম্ব মর্দন করতে থাকেন। এ সময় আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি কৌশলে আমাকে তার বাথরুমে আটকে ফেলেন। তাকে পরিপূর্ণ আনন্দ না দেয়া পর্যন্ত আমাকে দিয়ে ‘মাস্টারবেট’ করান। তাই আমি এখন বিচার প্রার্থনা করছি। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বৃটেনের নেক্সট টপ মডেল প্রতিযোগিতায় অংশ নেন কাদিয়ান নোবেল। তখনই তিনি প্রথম হারভে উইন্সটেনের নজরে আসেন। কাদিয়ান নোবেল জামাইকান বংশোদ্ভূত। তিনি একজন সিঙ্গেল নারী। এখন চেষ্টা করছেন অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার। মামলায় তার প্রতিনিধিত্ব করছেন স্টুয়ার্ট মারমেলস্টেইন। তিনি বলেছেন, হোটেল কক্ষের ঘটনা পর্যন্ত তার মক্কেলকে ছবিতে একটি রোল দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার সবটা শেষ হয়ে যায় ওই ঘটনায়।

Tuesday, November 28, 2017

পোপ-হ্লাইং বৈঠক: ১৫ মিনিটের বৈঠকে কি বার্তা দিলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

মাত্র পনের মিনিটের বৈঠক। এর মধ্যেই পোপ ফ্রাঁসিসকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং জানিয়ে দিলেন, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নেই। সেনাবাহিনীতেও তা নেই। সেনারা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করে। মিয়ানমারের মাটিতে পা রাখার পর সোমবারই দেশটির সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন পোপ। আজ মঙ্গলবার তার বৈঠক করার কথা রয়েছে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি সহ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নেতাদের সঙ্গে।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন আইরিশ  ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়, পোপের এ সফরকে মূলত মিয়ানমারে সংখ্যালঘু ক্যাথোলিক খ্রিস্টানদের অবস্থার উন্নতির জন্য ভাবা হয়। কিন্তু মানবাধিকার বিষয়ক কর্মীরা প্রত্যাশা করছেন, তিনি অং সান সুচির সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবেন। বিশেষ করে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের বিরুদ্ধে। এ জন্য বিশ্ববাসীর চোখ এখন পোপের দিকে। তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে সরকার গঠন করা সুচিকে কতটা চাপে ফেলতে পারেন, নাকি হিতে বিপরীত হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। সোমবারের বৈঠক নিয়ে ভ্যাটিকানের মুখপাত্র গ্রেগ বারকি বলেছেন, পোপ ও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং গণতান্ত্রিক এই পটপরিবর্তনের সময় তাদের মহান দায়িত্বশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় সেনাপ্রধান হ্লাইংকে তার সফর উপলক্ষে স্বারক পদক উপহার দেন। অন্যদিকে পোপকে সেনাপ্রধান হ্লাইং উপহার দেন নৌকার আকৃতির একটি বাদ্যযন্ত্র, চাল রাখার অলংকৃত বোল বা গামলা। এরপর সেনাপ্রধান তার ফেসবুকের পোস্টে বলেন, মিয়ানমারে কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নেই। এখানে উল্লেখ্য, ২৫ শে আগস্ট নৃশংসতা শুরু হওয়ার পর রাখাইনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায় সেনাবাহিনী। তারা গণধর্ষণ, হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ সহ সব রকম ঘৃণ্য অপরাধ করেছে। এর ফলে জীবন বাঁচাতে কমপক্ষে ৬ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে আরো উল্লেখ করা যেতে পারে, সারাবিশ্ব যখন রাখাইনে রোহিঙ্গা জাতি নিধন নিয়ে  ক্ষুব্ধ তখন এটাকে গণহত্যা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন সম্প্রতি মিয়ানমারের কট্টরপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষু থা পারকা। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় (রোহিঙ্গা ইস্যুতে) যা বলছে পরিস্থিতি আসলে তা নয়। এটা মোটেও কোনো গণহত্যা নয়। এমন মন্তব্য করেছেন ইয়াঙ্গুনের ডাম্মারইয়োন মনাস্টেরি’র ভিক্ষু থা পারকা (৪৬)। তিনি সেখানে শতাধিক ভিক্ষুর নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের প্রধান হুমকি কি? তা হলো ইসলাম। মিয়ানমারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জাতীয় পর্যায়ের গ্রুপ মা বা থা অর্থাৎ দ্য এসোসিয়েশন ফর দ্য প্রটেকশন অব রেস অ্যান্ড রিলিজিয়ন-এর ভিক্ষুদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। কিন্তু জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ সব পর্যবেক্ষক বলছে, রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংস নির্যাতন করা হয়েছে। নির্বিচারে তাদের ওপর বর্ণবাদী, ধর্মীয় আগ্রাসন চালানো হয়েছে। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং তা বেমালুম এড়িয়ে গেলেন পোপের সঙ্গে বৈঠকে। সাফ জানিয়ে দিলেন মিয়ানমারে কোনো ধর্মীয় বৈষম্য নেই। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এক সপ্তাহের সফরে পোপ ফ্রাঁসিস মিয়ানমারে পৌঁছেছেন সোমবার। সেখান থেকে তিনি আসবেন ঢাকা। এখানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনি প্রার্থনা সভা করবেন। তাতে ৮০ হাজার মানুষের যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।

Monday, November 27, 2017

রোহিঙ্গা সংকটে সমঝোতা: চীনের হাত স্পষ্ট, হাত কামড়াচ্ছে ভারত

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে যে সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাতে স্পষ্টই চীনের ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ দেখতে পাচ্ছে ভারত। একইসঙ্গে তারা কিছুটা হাতও কামড়াচ্ছে!
ভারতের আফসোসের কারণ— প্রায় তিন মাস সময় পাওয়ার পরও রোহিঙ্গা প্রশ্নে দিল্লি কোনও নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারলো না। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চীন হয়তো নাক গলাবে না, ভারতের এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। কারণ চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পেশ করা ফর্মুলার বেশকিছুটা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মেনে নিলো মিয়ানমার ও বাংলাদেশ।
গত ২৩ নভেম্বর নেপিদোতে ওই দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিকালে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই সমঝোতার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। তখন মুখপাত্র রবীশ কুমার নিজের অস্বস্তি গোপন করতে না পেরে বলে ফেলেন, ‘যেটা এখন ঘটছে সে বিষয়ে কী মন্তব্য করবো বলুন তো? আর রাখাইন প্রদেশের বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিয়ে কী করা উচিত, তা আমরা আগে অনেকবারই বলেছি। মনে হয় না এর পুনরাবৃত্তির কোনও প্রয়োজন আছে।’
ভারতে তখন বেজেছে বিকাল সাড়ে ৪টা।
নেপিদোতে সই-সাবুদ শেষ হয়ে গেছে এর বেশ আগেই। ঘটনা হলো, তারপর প্রায় সাড়ে তিন দিন কেটে গেলেও ভারত এই সমঝোতা নিয়ে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া দেয়নি। না গণমাধ্যমে, না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে।
এদিকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে কথা মুখ ফুটে বলতে পারছে না, তা সরাসরি বলে দিলো দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘দ্য হিন্দু’র সম্পাদকীয়। সেখানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতাকে ‘চায়না প্ল্যান’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। চীনের মধ্যস্থতাতেই যে মূলত দুই দেশ মুখোমুখি আলোচনার টেবিলে বসে দলিলে স্বাক্ষর করেছে তা পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে জানানো হয়েছে দ্ব্যর্থহীন ভাষায়।
ভারতের কূটনৈতিক মহলের আক্ষেপ ঠিক এই জায়গাতেই— যে কাজটা আগে উদ্যোগ নিলে হয়তো দিল্লি করতে পারতো, শেষবেলায় এসে চীন কিনা বাজিমাত করে দিলো!
মিয়ানমারে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন এমন এক সাবেক কূটনীতিক রবিবার (২৬ নভেম্বর) বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ‘মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ। কাজেই রোহিঙ্গা সমস্যা আমাদের জন্য এক উভয় সংকট। অতএব কিভাবে ভারসাম্য রাখা উচিত গত তিন মাস ধরে আমরা শুধু সেসবই ভেবে গেলাম। অথচ চীনের জন্যও পরিস্থিতি একই রকম ছিল। কিন্তু তারা ঠিক মোক্ষম সময়ে এসে একটা নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়ে গেলো।’
দিনকয়েক আগেই চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং উই বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরে এসে তার তিন দফা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ফর্মুলা পেশ করেন। পরে বেইজিংয়ের দাবি ছিল— দুই দেশই তা মেনে নিয়েছে।
অথচ গত সেপ্টেম্বরে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও ঢাকায় গিয়েছিলেন। এমনকি রোহিঙ্গা সংকটের একেবারে শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও মিয়ানমার সফরে গিয়েছিলেন। মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে সুষমা স্বরাজ ও শেখ হাসিনার কথাবার্তা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবরাও গত তিন মাসে নিউ ইয়র্ক, কলম্বো, এমনকি দিল্লিতেও একাধিকবার নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন। কিন্তু সেগুলো মোটেও ফলপ্রসূ হয়নি।
এ কারণে রোহিঙ্গা প্রশ্নে ভারতের ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ দ্বিধাই শেষ পর্যন্ত কাল হলো। আর চীন এসে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলো এ ধরনের বিরাট সংকটে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ কার ওপর বেশি ভরসা রাখতে রাজি।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহল অবশ্য দাবি করছে, চীনের আগে প্রথমে তারা ভারতের ওপরেই ভরসা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের সিদ্ধান্তহীনতা আর দোলাচলই শেষ পর্যন্ত চীনের দিকে ঠেলে দিয়েছে তাদের। কারণ বাংলাদেশ একটা প্রত্যাবাসন সমঝোতা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আর তাদের হাতে সময়ও ফুরিয়ে আসছিল দ্রুত। এই সমঝোতার বাস্তবায়ন কতটা ফলপ্রসূ হবে, কতজন রোহিঙ্গাকে কত দ্রুত ফেরানো যাবে সেগুলো অন্য প্রশ্ন। কিন্তু আপাতত চীনের মধ্যস্থতাতেই যে দুই দেশের মধ্যে একটা ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট’ সম্ভব হয়েছে তা নিয়ে কেউই সন্দেহ প্রকাশ করছেন না।
বাংলাদেশের একজন শীর্ষ কূটনীতিক হাসতে হাসতে এই প্রতিবেদককে বলছিলেন, “এমনটাই তো হওয়ার কথা ছিল, তাই না? মিয়ানমারে চীনের লগ্নি ১০০ বিলিয়ন ডলার হলে সেই তুলনায় সেখানে ভারতের ১০ ভাগও বিনিয়োগ নেই। আমরা এখন বুঝে গেছি— মিয়ানমারের জন্য ভারত বা জাপান ‘বয়ফ্রেন্ড’ হতে পারে, কিন্তু তারা সংসার পেতেছে চীনের সঙ্গেই!”
সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন

অর্থের বিনিময়ে ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের যৌন সম্পর্ক

অর্থের বিনিময়ে অপরিণত এক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন নিউ ইয়র্ক সিটির এক শিক্ষক। বিছানায় তার সঙ্গে এমন কোনো অশালীনতা নেই, যা তিনি করেন নি। এ অভিযোগে মামলা হয়েছে স্প্যানিশ ওই শিক্ষক মার্টিন হাউফিল্ড (৫৬)। তিনি আবার আইনজীবীও। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার খরচ যোগাতে ছাত্রছাত্রীরা ‘সুগার ড্যাডি’দের দ্বারে ধরনা দেয়। সুগার ড্যাডি হলো একশ্রেণির পুরুষ, যারা ছাত্রছাত্রীদের মোটা অংকের অর্থ দেয়।
বিনিময়ে তাদেরকে তারা সফরসঙ্গী করে। তাদের সঙ্গে রাখে। বিভিন্ন কাজ করায়। আবার কেউ কেউ এসব ছাত্র বা ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। এমন একজন সুগার ড্যাডি হলেন মার্টিন হাউফিল্ড। অভিযোগ আছে, তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে এমনই এক চুক্তিতে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বছর নর্থ কুইন্স কমিউনিটি হাই স্কুলে ওই বালিকার শ্রেষ্ঠ সম্পদ তিনি লুটে নেন। বিনিময়ে তাকে উপহারে ডুবিয়ে দেন। নগদ অর্থ তুলে দেন হাতে। গত ২৫ শে নভেম্বর এ বিষয়েটি রিপোর্ট করে দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট। এতে বলা হয়, সুগার ড্যাডির ফাঁদে ফেলে মার্টিন হাউফিল্ড ওই বালিকাকে ২০০০ ডলারের ইন্টার্নশিপের ফি পরিশোধ করেছেন। তা করেছেন নিউ ইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন-এর মাধ্যমে। ওই বালিকার পড়ালেখা চালিয়ে নেয়ায় সহায়তা বাবদ তার আইনী প্রতিষ্ঠান ওই ফি পরিশোধ করে। কিন্তু এর বিনিময়ে ওই বালিকার কাছে তার একটিই চাওয়া ছিল। তা হলো তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা। এ বিষয়ে তদন্ত করেছে স্পেশাল কমিশনার অব ইনভেস্টিগেশনের অফিস। তাতে দেখা গেছে, ওই স্কুলে ওই ছাত্রীর দিকে কুদৃষ্টি নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন শিক্ষকরূপী মার্টিন। তাকে এক সময় প্রস্তাব দিয়েছেন, আমি কি তোমার সুগার ড্যাডি হতে পারি! এতে সম্মতি জানিয়েছে ওই বালিকা। ফলে প্রতি মাসে তিনি তাকে দিয়েছেন ৩০০ ডলার করে। বলেছেন, এই অর্থের বিনিময়ে আমি তোমাকে যা করতে বলবো তাই করতে হবে তোমাকে।
এরপর মার্টিনের সঙ্গে তাকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়। তদন্তকারীদের কাছে এ কথা বলেছে ওই ছাত্রী। নিউ ইয়র্ক পোস্ট রিপোর্টে বলেছে, তদন্তে দেখা গেছে, মার্টিন হাউফিল্ড ওই ছাত্রীকে প্রস্তাব দেন তার ন্গ্ন ছবি পাঠাতে। নির্দেশ মতো ওই ছাত্রী তাই করে। সে আরো বলেছে, মার্টিন হাউফিল্ড তাকে শপিং মলে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় তাকে কিনে দিয়েছেন সবচেয়ে দামী একজোড়া স্নিকার্স ও ভিক্টোরিয়া সিক্রেট থেকে অন্তর্বাস। পুলিশ ও তদন্তকারীদেরকে ওই ছাত্রী আরো বলেছে, প্রথমেই চাদরের নিচে তাকে পাঁজাকোলা করে নিতেন মার্টিন। পরে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন। শপিং শেষে গাড়ির ভিতরে ওরাল সেক্সে মেতে উঠতেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, ফোন সেক্সেও বাধ্য করা হতো তাকে। নিজের নগ্ন ছবিও পাঠাতেন ওই ছাত্রীকে। এর প্রতিটি পর্বের জন্য তাকে অর্থ দিতেন ওই শিক্ষক।

কেন তৃতীয় পক্ষ লাগবে?

নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সইকে ‘বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও স্থায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকায় আয়োজিত দূত সম্মেলনের (এনভয় কনফারেন্স) উদ্বোধনীতে দেয়া বক্তৃতায় গতকাল প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সমস্যা সমাধানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে গত বৃহস্পতিবার নেপিডতে সই হওয়া ‘দ্বিপক্ষীয় অ্যারেঞ্জমেন্ট’ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা ’৯৮ সালের স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তি চুক্তির কথা স্মরণ করেন। বলেন, সেই সমস্যার সামরিক (মিলিটারিলি) সমাধানে না গিয়ে আমরা রাজনৈতিকভাবে সমাধান করেছিলাম। সেই সময়ে ৬৪ হাজার শরণার্থী, যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল তাদের ফিরিয়ে এনেছিলাম। এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল।
আমরা সেখানে তৃতীয় কাউকে ডাকিনি। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গেও আমরা দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চুক্তি করেছি। সেখানে তৃতীয় পক্ষকে কেন ডাকতে হবে? বাংলাদেশ মানবিক কারণে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে অনেক নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ রয়েছেন। ’৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা এসেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের ফেরাতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় আমরা অন্তত একটা সমঝোতা করতে পেরেছি, যার মাধ্যমে আমরা আশা করি মিয়ানমার নাগরিকদের তাদের বসতভিটায় ফেরত পাঠাতে পারব। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তারপরও যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমরা একটা ভালো সদ্ভাব রেখেই সমস্যাটির সমাধান করতে চাই। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রশংসা করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশ আমাদের সমর্থন দিয়েছে, সাধুবাদ জানিয়েছে। তারা জানতে চাচ্ছে- কী কী লাগবে। তারা সব করতে রাজি আছে। অতীতে বাংলাদেশ সম্ভবত এত বড় কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। রোহিঙ্গাসহ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইস্যুতেও কূটনীতিকদের বিশ্বাঙ্গনে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে আপনাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। বক্তৃতার শুরুতে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ডিপ্লোমেসিতে আগে পলিটিক্যাল বিষয়টা গুরুত্ব পেত। এখন ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি চালু হয়ে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আপনাদের চেষ্টা আরো জোরদার করতে হবে। আমরা কীভাবে আমাদের পণ্য অন্য দেশে পাঠাতে পারি, সে দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। রপ্তানির নতুন বাজার সৃষ্টি, আর বেশি করে জনশক্তি প্রেরণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে দূতদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় অন্তত দু’দফায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয়ে রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তারা আমার দেশের নাগরিক, তাদের ভালো মন্দ দেখা, তাদের সুযোগ-সুবিধা দেখা, অসুবিধাগুলো দূর করা- এটা কিন্তু আপনাদের কর্তব্য।’ রাষ্ট্রদূতদের অন্তত সপ্তাহ বা মাসে একটা দিন প্রবাসীদের সময় দেয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সমস্যাগুলো শুনবেন এবং সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। এটা ভুলে গেলে চলবে না তারাই কিন্তু মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্থ উপার্জন করে এবং তারা যে টাকা পাঠায় সেটাই আমাদের রিজার্ভের একটা বড় অংশ। অর্থনীতিতে তারা বিরাট অবদান রাখছে। আর আমরা যে এতগুলো কূটনৈতিক মিশন চালাচ্ছি তার সিংহভাগ উপার্জন কিন্তু তারা করছে। কাজেই সেক্ষেত্রে তাদের একটা গুরুত্ব আমাদের কাছে রয়েছে। যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশি সংখ্যায় অনেকে রয়েছেন সেসব স্থানে স্কুল করা, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দূতাবাসে কর্মরতদের সমস্যা প্রসঙ্গে বলেন, আমি জানি বিদেশে দূতাবাসে কাজ করতে প্রায়শই বিভিন্ন কারণে সমস্যাসঙ্কুল পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। আমার সরকার বিদেশে দূতাবাসের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছে। আপনারা জানেন, আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছি। বৃদ্ধি করা হয়েছে নানা সুযোগ-সুবিধা। প্রশাসনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে হয় এদিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। বিভিন্ন পর্যায়ে ১১৬টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ১২টি দেশে নতুন দূতাবাস স্থাপনসহ নতুন ১৭টি মিশন খোলা হয়েছে। ২০১২ সালে বৈদেশিক ভাতা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং সন্তানদের শিক্ষাভাতা বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষাভাতা প্রাপ্তির ঊর্ধ্বসীমা ২৩ বছর করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে আপনারা একেকজন একেকটি বাংলাদেশ। আপনাদের কাজ নিছক চাকরি করা নয়, আরো অনেক বড় এবং মহান কিছু। দেশের ১৬ কোটি মানুষের হয়ে আপনারা সেখানে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ‘কাজেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সব সময় দেশের স্বার্থে আপনাদের কাজ করতে হবে।’
বক্তৃতায় দেশের চলমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমরা উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিয়ে চলেছি। আগামী দিনে জনগণ ভোট দিলে ক্ষমতায় আসবো, না দিলে আসবো না। নির্বাচনের ফল যাই হোক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয় এমন কিছু যেন না হয়।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রশ্নে সরকারের জিরো টলারেন্সনীতির পুনরোল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই মাটিতে কোনরকম জঙ্গিবাদ আমরা হতে দেব না। আমাদের ভূখণ্ডকে কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্যও আমরা ব্যবহার করতে দেব না। আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান চাই। বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বড়াতে কূটনীতিকদের সর্বদা তৎপর থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হবে সমতার ভিত্তিতে। কারো মুখাপেক্ষী হয়ে না। ভিক্ষা নয়, আমরা মর্যাদার আসন চাই। বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে বলেও মন্তব্য করেন সরকার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তঃসংযোগ বা কানেকটিভিটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক অভিবাসন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা ইত্যাদি নিশ্চিত করার বিষয়েও রাষ্ট্রদূতদের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। যুদ্ধরাপরাধী এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, আপনারা জানেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জাতির পিতার খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। এটা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার ও দুঃখজনক। এরচেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু হয় না। কূটনৈতিক মিশনে চাকরি পাবার যোগ্যতার মাপকাঠি ছিল তারা জাতির পিতার হত্যাকারী। একটা দেশের রাষ্ট্রপতিকেই শুধু নয় তারা নিরপরাধ শিশু ও নারী হত্যাকারী। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে সেই খুনিদের বিচার করে বিচারের রায় কার্যকর করেছি। তবে, এসব খুনি এখনও বিভিন্ন দেশে রয়ে গেছে (পলাতক)। তারা বসে নেই এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আর একাত্তরে গণহত্যাকারীরা বিভিন্ন দেশে যারা রয়ে গেছে তারা নানা ধরনের অপপ্রচার দেশের বিরুদ্ধে চালাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু সংস্থাও আছে। এদের মধ্যে অনেকে পঁচাত্তরের পর দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় অনেক অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপপ্রচার যেন কোনোভাবেই আমাদের দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য বিশ্বের কাছে বাস্তব অবস্থা তুলে ধরতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার দীর্ঘ ৫৫ মিনিটের বক্তৃতায় বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। এ সময় তিনি মোটাদাগে কয়েকটি অভিযোগও করেন। যার মধ্যে রয়েছে- ৭৫ পরবর্তী সময়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজ না হওয়া, বিভিন্ন বিদেশ মিশন বন্ধ করে দেয়া, জাতির জনকের বিদেশি মিশনে পোস্টিং দেয়া এবং আদালতের রায়ে একজন ব্যক্তির এমডি পদ হারানোর কারণে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন আটকে যাওয়া ইত্যাদি। এ সময় চ্যালেঞ্জ নিয়ে পদ্মা সেতুসহ জনগণের কল্যাণে তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে তুলে ধরেন। বক্তৃতার একেবারে সমাপনী লগ্নে প্রধানমন্ত্রী তার মা-বাবা ভাই-ভাবিসহ স্বজন হারানোর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমি সব হারিয়েছি। সব শোককে ধারণ করে আমি দেশের মানুষকে নিয়ে একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বক্তব্য দেন; পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, এইচটি ইমাম, তৌফিক-ই-ইলাহী, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমশের মবিন চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিকরাও অংশ নেন।

দেশে জন্মগত হিমোগ্লোবিন ডিজঅর্ডারের বাহক ৮৪ লাখ

বাংলাদেশে বর্তমানে থ্যালাসেমিয়াসহ জন্মগত হিমোগ্লোবিন ডিজঅর্ডারের বাহক প্রায় ৮৪ লাখ মানুষ। এছাড়াও দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কোন না কোনভাবে রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত। এর বাইরে হিমোফিলিয়া রোগীর সংখ্যাও আনুমানিক প্রায় ২০ হাজার। দিন দিন-এর ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে এক আন্তুর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই তথ্য জানিয়েছেন। হেমাটোলজি সোসাইটি অফ বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ৩য় আন্তর্জাতিক এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, এমপি। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ব্লাড ক্যানসারের চিকিৎসা সেবা নিয়েও বিশদভাবে আলোচনা করেন। দেশে বর্তমানে ৩টি প্রতিষ্ঠানে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের সুযোগ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টটেশন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা শিগগিরই এ সরকারের মেয়াদে কার্যক্রম শুরু করবে। ৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজে রক্তরোগ চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। ব্লাড ক্যানসার ও হিমোফিলিয়া রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যা অধিকাংশ রোগীর পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। এসব রোগের ব্যয়ভার সহনীয় করার জন্য কনফারেন্স হতে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়। এছাড়া হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশে ক্রমবর্ধমান ভাবে বিভিন্ন রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ হেমাটোলজি ইনস্টিটিউট ও হেমাটোলজি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে হেমাটোলজি সোসাইটি অফ বাংলাদেশ-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগমের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ,সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ খান, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড-এর বিশিষ্ট রক্তরোগ বিশেষজ্ঞগণসহ প্রায় ২৫০ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।