Tuesday, September 3, 2019

এমপিপুত্র সুনাম রিফাত হত্যার নির্দেশদাতা: -রিশান ফরাজী

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ৬ কিশোরকে শিশু কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ সময় মামলার পরবর্তী তারিখ ১৮ই সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে আদালত। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজী এ আদেশ দেন।
এ সময় আদালত চত্বরে আসামিদের ঢোকানো এবং গাড়িতে ওঠানোর সময় রিফাত হত্যার অন্যতম আসামি রিশান ফরাজী চিৎকার করে বলেন, সুনাম দেবনাথ আমাদের লিডার, সুনাম দেবনাথই আমাদের নির্দেশদাতা, সে কেন আসামি হয়নি, তাকে কেন আসামি করা হলো না।
রিশান ফরাজি আরও বলেন, মিন্নি কেন সাত নম্বর আসামি? রিশান ফরাজি বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ মো. দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে এবং চার্জশিটভুক্ত এক নম্বর আসামি রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই। যে সুনাম দেবনাথের কথা রিশান ফরাজী চিৎকার করে বলেন, সেই সুনাম দেবনাথ হচ্ছেন বরগুনা-১ আসনের বর্তমান সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক।
রিফাত হত্যাকান্ডের তদন্ত এবং এরপর রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা, সঙ্গে মাদক ব্যবসা জড়িত থাকার অভিযোগ পুরো ঘটনাকে ভিন্ন এক মাত্রা দেয়। অভিযোগ ওঠে, বড় কিছু আড়াল করতেই পেছন থেকে ক্ষমতাশালীরা কলকাঠি নাড়ছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, নয়ন বন্ড নামে বরগুনাবাসীর কাছে পরিচিত সেই সাব্বির আহম্মেদ ওই শহরে একটি গ্যাংয়ের নেতা, যাদের মদদ দেন এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথ।
যদিও এর আগে গণমাধ্যমে দেয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে পিতা ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং পুত্র সুনাম দেবনাথ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে সুনাম দেবনাথ বলেন, রিফাত হত্যাকান্ড এবং এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। কখনো ছিলও না। আমি এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এমন একটি আলোচিত হত্যাকান্ডে জড়িত থাকলে কারোরই রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় জড়িত থাকলে আমিও রেহাই পেতাম না। সকল অভিযুক্তরাই রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ হত্যাকান্ডে আমি জড়িত না থাকায় স্বীকারোক্তিতে আমার নাম কেউ বলেনি। কিন্তু চার্জশিট দাখিলের পর অভিযুক্তদের আমার বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য ষড়যন্ত্রমূলক। একটি মহল আমার বাবা ও আমার সম্মান ক্ষুণ্ন ও হয়রানি করতে অভিযুক্তদের প্ররোচনা দিচ্ছেন।

রোহিঙ্গা: টেকনাফের শরণার্থীদের ব্যবহৃত মোবাইল সিম বন্ধের জন্য সাত দিনের নোটিশ দিল বিটিআরসি

ছবিঃ -মানবজমিন
রোহিঙ্গাদের কাছে মোবাইল সুবিধা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিটিআরসি)।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় মোবাইল সিম বিক্রি, রোহিঙ্গাদের মোবাইল সিম ব্যবহার বন্ধসহ সবরকম মোবাইল সুবিধা বন্ধ করতে হবে।
রবিবার বিটিআরসি এই নির্দেশনা দিলেও, সোমবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

কী বলা হয়েছে বিটিআরসির নির্দেশনায়

'রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্ব বিবেচনা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও জন সুরক্ষার স্বার্থে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যেন কোনরকম মোবাইল সুবিধা না পায়, সেজন্য আগে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিটিআরসির ক্যাম্প পরিদর্শন কমিটি, গোয়েন্দা সূত্র ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে রোহিঙ্গাদের হাতে ব্যাপক হারে সিম/রিম ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে'।
'তাই আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোন প্রকার সিম বিক্রিসহ সকল প্রকার মোবাইল সুবিধা বন্ধের নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে বিটিআরসিকে অবহিত করতে হবে'।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাতদিনের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে
এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর নির্দেশের পর বিটিআরসি এই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

কীভাবে সিম পায় রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশে মোবাইল সিম কিনতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপির মতো পরিচয় ও ছবিযুক্ত আইডি কার্ড দরকার হয়। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় তথ্যাগারের সঙ্গে আঙ্গুলের ছাপ মেলার পরেই একজনের নামে সিম বিক্রি করা হয়ে থাকে।
তাহলে রোহিঙ্গারা সিম কিনছেন কীভাবে?
কক্সবাজারের সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ বলছেন, ''প্রথম দিকে যখন রোহিঙ্গারা আসে, তখন বিভিন্ন এনজিও তাদের নানারকম খাদ্য ও দরকারি সামগ্রীর পাশাপাশি মোবাইল ও সিম কার্ড দিয়েছে। তখন অনেক কোম্পানির লোকজন ক্যাম্পে সিম বিক্রি করেছে।''
পরবর্তীতে কড়াকড়ি আরোপ করার পরে বাংলাদেশি নানা ব্যক্তির সঙ্গে টাকাপয়সার চুক্তিতে তাদের নামে সিম কেনা হয় বা সিমের মালিকানা দেয়া হয়। কিন্তু সেসব সিম ব্যবহার করেন রোহিঙ্গারা।
বিবিসির কথা হয় সাতবছর ধরে বাংলাদেশে থাকা একজন রোহিঙ্গার সঙ্গে। তিনি তখন বাজার থেকেই সিম কিনেছিলেন।
কিন্তু এনআইডি আর আঙ্গুলের ছাপের কড়াকড়ি আরোপ করার পরে বাংলাদেশি একজনের পরিচয় পত্র দিয়ে সিমটি রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেন। কিন্তু এখনো তিনিই সেটি ব্যবহার করছেন।
অন্যের নাম ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা সিম কিনছেন বলে বলছেন স্থানীয় সংবাদদাতারা

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরে ড্রোন মোতায়েন করতে পারে বৃটেন

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরে মনুষ্যবিহীন ড্রোন মোতায়েন করতে পারে বৃটেন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বৃটিশ পতাকাবাহী ট্যাংকারকে প্রহরা দিচ্ছে বৃটিশ যুদ্ধজাহাজ। এক্ষেত্রে আকাশপথে প্রহরা বা নজরদারি বাড়াতে বৃটিশ ড্রোন সহায়তা করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগরকে জোটবাহিনী নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। আগে থেকেই ওই অঞ্চলে আকাশপথে নজরদারি করছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া পাঠাচ্ছে পি-৮ নৌ প্রহরার বিমান। বৃটেন যদি ড্রোন মোতায়েন করে তাহলে ওই অঞ্চলকে অধিক নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলবে জোট। এ খবর দিয়েছে অনলাইন স্কাই নিউজ।

এতে বলা হয়েছে, কুয়েতের কাছে ঘাঁটিতে রয়েছে বৃটিশ বিমান বাহিনীর বেশ কিছু সংখ্যক রিপার নামের ড্রোন। এগুলো ইরাক ও সিরিয়ার আকাশে মিশন পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু যদি সিদ্ধান্ত পাকা হয়ে যায় তাহলে এই ড্রোনকে নতুন কাজ দেয়া হবে। তারা পারস্য উপসাগরের আকাশে বৃটিশ ট্যাংকারকে প্রহরা দেবে। স্কাই নিউজ লিখেছে, খবর পাওয়া যাচ্ছে বৃটেনের স্টেনা ইমপেরো ট্যাংকার আটকের পর থেকে বাণিজ্যিক নৌযানগুলোতে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল ইরানের নৌবাহিনী। তারা জানতে চেয়েছে, ওই নৌযানে কোনো বৃটিশ নাবিক আছেন কিনা। এই ধারা জোরালো ছিল জুলাইয়ে। তবে এখন দৃশ্যত তা বন্ধ হয়েছে। তবে বিষয়টি একটি শিহরণ সৃষ্টি করেছে এবং বৃটেনকে ভাবাচ্ছে আরো সঙ্কট নিয়ে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা বৃটিশ নৌবাহিনীর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা কমোডর ডিন ব্যাসেট বলেছেন, পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাকর। এখনও বৃটিশ নৌযানের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি আছে। ইরান আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলছে এমনটা বলার মতো কিছুই আমরা দেখতে পাইনি। প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয় তিনি উড়িয়ে দেননি। বলেছেন, আমরা যখন ইরানকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি তখন রয়েল নেভি ও আমার কমান্ডে থাকা জাহাজগুলো এরই মধ্যে এসব হুমকি থেকে বৃটিশ বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত।

বৃটেনের ফ্রিগেট এইচএমএস মন্টরোজ স্থায়ীভাবে অবস্থান করছে বাহরাইনে নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে। কয়েক মাসে সে হরমুজ প্রণালীতে ৩৮ বার চলাচল করেছে। এ সময়ে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১২০ মাইল সমুদ্রপথে ৬০ লাখ টনেরও বেশি কার্গোকে প্রহরা দিয়েছে সে। সম্প্রতি এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ডানকান ও দুটি যুদ্ধজাহাজ- এইচএমএস কেন্ট এবং এইচএমএস ডিফেন্ডার। মন্টরোজের ক্যাপ্টেন কমান্ডার উইল কিং বলেছেন, নিকট ভবিষ্যতে ওই এলাকায় অবস্থান নেবে নৌবাহিনী।

যদিও আগস্টে ইরানের ট্যাংকার গ্রেসি-১ মুক্ত করে দিয়েছে জিব্রাল্টার, তবু স্টেনা ইমপেরো এখনও ইরানের বন্দর আব্বাসে অবস্থান করছে। ওই সময় থেকেই গ্রেসি-১ এর নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেয়া হয়েছে আদ্রিয়ান দারিয়া ১। এটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে এখনও চলমান অবস্থায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবরোধ থাকার কারণে সে কোনো বন্দরে ভিড়তে পারছে না।

বৃটেনে ‘টাইটানিক ব্যাটল’

‘টাইটানিক ব্যাটলের’ মুখোমুখি হচ্ছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বৃটেনে আজ রাতে বিদ্রোহী এমপিদের তোপের মুখে তার এক কঠিন পরীক্ষা। চুক্তিবিহিন ব্রেক্সিট বন্ধ করতে পার্লামেন্টে ভোট দেবেন এমপিরা। এতে সরকার পরাজিত হলে আগামী ১৪ই অক্টোবর আগাম নির্বাচন ঘোষণা করতে পারেন বরিস জনসন। ক্ষমতাসীন দল কনজার্ভেটিভের কোনো এমপি পার্লামেন্টের ভোটে তার বিরুদ্ধে ভোট দিলে তিনি তাকে বহিষ্কার করার হুমকি দিয়েছেন। তার এই হুমকিকে ‘আগ্রাসী’ বলে অভিহিত করেছেন ফিলিপ হ্যামন্ড। অন্যদিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছেন জাস্টিন গ্রিনিং। এসব নিয়ে তীব্র এক উত্তেজনা বিরাজ করছে বৃটেনে।
অনলাইন ডেইলি মেইল লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন চুক্তিবিহিন ব্রেক্সিট থামানোর বিষয়ে আজ রাতে হাউজ অব কমন্সে ভোট ডেকেছেন। এই ভোটকে তার ওপর আস্থা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব এমপি চুক্তিবিহিন ব্রেক্সিট বন্ধের চেষ্টা করবেন তাদেরকে বহিষ্কার না করতে আহ্বান জানিয়েছেন কর্ম ও পেনশন বিষয়কমন্ত্রী আম্বার রাড। ডেইলি মেইলই বরিস জনসনের এই লড়াইকে ‘টাইটানিক ব্যাটল’ বা টাইটানিক যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এতে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বৃটেনকে রাখার পক্ষে যারা তাদেরকে আস্থায় নেয়ার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করছেন বরিস জনসন। কারণ, এই ভোট বৃটেনের ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে পারে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর হুমকি সত্ত্বেও বিদ্রোহীরা পিছু হটছেন না। এ অবস্থায় তিনি আগামী ১৪ই অক্টোবর আগাম নির্বাচন দেয়ার হুমকি দিতে পারেন।
আজ রাতে হাউজ অব কমন্সে ভোটের আগে ধারণা করা হচ্ছে কমপক্ষে এক ডজন এমপি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। তাদের উদ্দেশ্য থাকবে এই ভোটে সরকারকে পরাজিত করে হাউজ অব কমন্সের নিয়ন্ত্রণ নেয়া। এমন অবস্থায় সোমবার রাতে এক প্রাইভেট মিটিংয়ে কনজার্ভেটিভ এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্যরা রানিমেডে ও ওয়েইব্রিজে এমপি ফিলিপ হ্যামন্ডকে পুনঃনির্বাচিত করেছেন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। এরপরই মঙ্গলবার তিনি সরকারের ‘আগ্রাসী’ কৌশলের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যদি তাকে বরখাস্ত করা হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে সারাজীবন লড়াই করতে হবে। ফিলিপ হ্যামন্ড প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, আমি পার্লামেন্টে বিল সমর্থন করবো। আমি মনে করি বিলটি পাস করানোর মতো সংখ্যা আমাদের আছে।
১০ ডাউনিং স্ট্রিটের ব্রেক্সিট বিষয়ক প্রধান ডমিনিক কামিংসেরও কড়া সমালোচনা করেছেন ফিলিপ হ্যামন্ড। তিনি বলেছেন, এই দল (কনজার্ভেটিভ) আমার। জনগণের বিরুদ্ধে এই দল অবস্থান নিতে যাচ্ছে। যে জনগণ হলো এই সরকারের হৃদপিন্ড। তাই আমি তাদের পক্ষ নিতে যাচ্ছি। এই সরকার কনজার্ভেটিভ পার্টির ভবিষ্যতের কোনো পরোয়া করে না। ওদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে থাকা রিমেইনার্সদের পক্ষ নিয়ে আগেভাগেই নিজের শাস্তি নিয়ে নিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী জাস্টিন গ্রিনিং। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন কনজার্ভেটিভ দলের হয়ে তিনি আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। মঙ্গলবার রাতে তিনি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেবেন। ওদিকে মঙ্গলবার সকালে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রাইভেট আলোচনায় মিলিত হয়েছিলেন একদল সিনিয়র নেতা। তার মধ্যে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ডেভিড গাউকে, গ্রেগ ক্লার্ক ও ক্যারোলাইন নোকস।
এডিনবার্গের কোর্টে উঠছে পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত
বৃটিশ পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত আবার আদালতে উঠছে আজ। এডিনবার্গের কোর্টে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা। আন্তঃদলীয় পার্লামেন্টারিয়ানদের একটি গ্রুপ চাইছেন এই কোর্ট থেকে এমন একটি রায় দেয়া হোক যে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অবৈধ কাজ করছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
বিচারক লর্ড ডোহার্টি বলেছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে, জনস্বার্থে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই শুনানিটা করতে হবে। তবে এমন উদ্যোগের বিরোধিতা করছে সরকার। তারা যুক্তি দেখাচ্ছে যে, পার্লামেন্ট স্থগিত করার বিষয়ে সরকার তার বৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করছে। মঙ্গলবারের এই শুনানিতে অংশ নিতে অনুমোদন চেয়েছেন দ্য লর্ড এডভোকট জেমস উলফি কিউসি।
তিনি আবেদন জমা দিয়েছেন আদালতের শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য। বিষয়টি বৃহস্পতিবার লন্ডনের হাইকোর্টেও উঠবে। সেখানেও অংশ নিতে চেয়েছেন তিনি। যদি তিনি অনুমোদন পেয়ে যান তাহলে এমন যুক্তি তুলে ধরবেন যে, পার্লামেন্ট স্থগিত করা হলে যাচাই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় এবং তা হয়ে ওঠে নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার।
আগস্টের শুরুতে আদালতে প্রথম গিয়েছিলেন এসএনপি দলের এমপি জোয়ানা চেরি ও লিবারেল ডেমোক্রেট দলের নেতা জো সুইনসনের নেতৃত্বাধীন এমপিরা। তবে পার্লামেন্ট স্থগিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অনুরোধ অনুমোদন করেছেন রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

আরব বিশ্বের কাছে কাশ্মীরের চেয়ে ভারতের গুরুত্ব কেন বেশি

ভারতীয় সংবিধানের যে ৩৭০ ধারায় কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল সেটি বিলোপ করার পর কাশ্মীর নিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনা হচ্ছে।
এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে পাকিস্তান। তারা আশা করেছিল মুসলিম বিশ্ব এই ইস্যুতে সোচ্চার হোক, আওয়াজ তুলুক কাশ্মীরিদের অধিকারের পক্ষে।
কাশ্মীরকে বিবেচনা করা হতো ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে। তবে বিষয়টি নিয়ে যখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হলো, তখন কাশ্মীরিদের অনেকেই আশা করেছিল কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থায় এর সমাধান হবে।
ভারতেও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীসহ আরো কয়েকটি দলের নেতারা সম্প্রতি কাশ্মীরে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি দেখতে কিন্তু তাদেরকে রাজধানী শ্রীনগরের বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফিরে এসে রাহুল গান্ধী বলেছেন, "কাশ্মীরের পরিস্থিতি ভাল নয়।"
এর মধ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেলে সেখানে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সেদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'জায়েদ মেডাল'ও দেওয়া হয়েছে তাকে। এছাড়াও আবুধাবিকে নরেন্দ্র মোদির 'দ্বিতীয় বাসস্থান' হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমীরাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
অনেকেই বলছেন, এর মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্য কিম্বা আরব বিশ্বের কাছে কাশ্মীরের চেয়ে ভারতের গুরুত্বই বেশি।
সৌদি আরবে ভারতের সাবেক কূটনীতিক তালমিজ আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন, "পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো মূলত কাশ্মীরকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলেই মনে করে। এটাই তাদের সামগ্রিক ধারণা। তারা মনে করেন এই দুটো দেশেরই উচিত এর নিষ্পত্তি করা।"
"তারা মনে করে কাশ্মীর কোন আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়। সংবিধান থেকে যে ৩৭০ ধারাটি বাতিল করা হয়েছে সেটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও সাংবিধানিক বিষয় বলেও তারা মনে করে," বলেন তিনি।
একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্সের গবেষক ফজলুর রহমানও। তিনি বলেছেন, "আন্তর্জাতিক রাজনীতি এখন বাস্তবতাবাদের যুগে প্রবেশ করেছে। নীতি নৈতিকতার যুগ এখন আর নেই।"
"আপনি যদি আমেরিকা কিম্বা ইউরোপের দিকে তাকান তাহলেও একই জিনিস দেখতে পাবেন। সেখানেও আঞ্চলিক রাজনীতি ও তাদের নিজস্ব বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে," বলেন মি. রহমান।
তিনি আরো বলেন, ভারতের বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি গত আট দশ বছরে আমূল বদলে গেছে।
তালমিজ আহমেদ বলেন, ভারতের সাথে আরব বিশ্বের সম্পর্কে বড়ো ধরনের পরিবর্তন আসে ২০০১ সালে যখন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্ত সিং সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন।
মি. আহমেদ সেসময় সৌদি আরবে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিনি বলেন, "আরব বিশ্বের সাথে ভারতের রাজনৈতিক সংলাপ শুরু হয় ২০০১ সালে। সৌদ আল-ফয়সালের সাথে তখন যশবন্ত সিং-এর দীর্ঘ এক বৈঠক হয়েছিল। সেসময় কাশ্মীর ইস্যুতে সৌদি নেতা তাদের বক্তব্য পড়ে শোনালে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে তিনি এর কোনটার সাথেই দ্বিমত পোষণ করেন না।"
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে নরেন্দ্র মোদি।
তার মতে, এটা ছিল কাশ্মীরের প্রতি সৌদি আরবের বার্তা।
তালমিজ আহমেদ বলেন, এর পর থেকে সৌদি আরব ও ভারতের মধ্যে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সূচনা হয় যাতে বলা হয় যে অন্য কোন দেশের সাথে সম্পর্ক তাদের সম্পর্কে কোন প্রভাব ফেলবে না।
২০০৬ সালে এই সম্পর্ক আরো উষ্ণ হয় যখন ভারত তার প্রজাতন্ত্র দিবসে সুলতান আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়।
গত বছর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ভারত সফর করেছেন।
তালমিজ আহমেদ বলেন, "ভারত ও আরব বিশ্বের মধ্যে সম্পর্কে প্রথমদিকে জ্বালানী ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ২০১০ সালের পর এটি বদলে যায় এবং রিয়াদ ভারতের সাথে 'কৌশলগত অংশীদারিত্বের' কথা ঘোষণা করে।
এর পর থেকে পাকিস্তানের সাথে আরব বিশ্বের সম্পর্ক দুর্বল হতে শুরু করে কীনা এই প্রশ্নের জবাবে মি. আহমেদ বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আসলে এভাবে কাজ করে না যে একটি দেশের সাথে সম্পর্ক তৈরি হলে আরেকটি দেশের সাথে সম্পর্ক ভেঙে যাবে।"
"মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। তবে তার ভিত্তি আলাদা," বলেন তিনি।
"পাকিস্তানের সাথে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় তারা। কিন্তু এর সাথে ভারতের কোন সম্পর্ক নেই।"
ভারতের সাথে তারা যে সম্পর্ক তৈরি করেছে তার মধ্যে রয়েছে জ্বালানী, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমন।
অন্যদিকে ফজলুর রহমান বলেন, গত ১০ বছরে ভারতের অর্থনীতি অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানের কথাও এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে এদুটো বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান আগের তুলনায় বেশ খারাপ হয়েছে।"
সৌদি কোম্পানি আরামকো ভারতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে।
তিনি বলেন, আরব বিশ্বের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই দুটো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু পাকিস্তান তো দাবি করে যে তারা 'নিজেরাই সন্ত্রাসের সবচেয়ে বড় শিকার' এর জবাবে তিনি বলেন, "আপনি সন্ত্রাসের শিকার হতে পারেন কিন্তু আপনি তো এটা দেখাতে পারেন না যে এবিষয়ে আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।"
তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের অর্থনীতি এতোটাই খারাপ হয়েছে যে আরব দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তানকে এখন অনেকটাই বোঝার মতো মনে করছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতির সাথেও তাদের অবস্থানের পার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।
"মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তান সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে অতীতে এই দেশটি তাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে সমর্থন দিয়েছে কিন্তু ইয়েমেন, সিরিয়া কিম্বা লেবানন ইস্যুতে সেভাবে সমর্থন দেয়নি। এমনকি ইয়েমেনে সৈন্য পাঠাতেও তারা অস্বীকার করেছে।"
তিনি বলেন, "সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-এ ভারত, ইসরায়েল, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন যে রাজনীতি তৈরি হয়েছে তা থেকে পাকিস্তান যেন ক্রমশই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।"
ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের প্রতিবাদ

সিলেটের ঐতিহাসিক দুই স্থাপনা দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ ও লাগোয়া আলী আমজাদের ঘড়ি পরিদর্শন করেছেন। আজ দুপুরে তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এ ব্রিজ পরিদর্শনে যান। মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রথমে কিন ব্রিজের উত্তর পাড়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে ব্রিজের দক্ষিণ পাড় পর্যন্ত ঘুরে দেখেন। এসময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তাকে পুরো ব্রিজ হেঁটে দেখান। মিলার লোহার কাঠামোয় তৈরি ব্রিজটি ও আলী আমজাদের ঘড়ি এবং তার সাইরেন শুনে মুগ্ধ হন। সিলেটের ঐতিহ্য হিসেবে এই ব্রিজটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। এ লক্ষ্যে গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ওই ব্রিজ দিয়ে রিকশাসহ সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, ক্বীন ব্রিজের সঙ্গে আলী আমজদের ঘড়ি সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।
ক্বীন ব্রিজের মেরামত কাজ চলছে শুনে দেখতে এসেছি। ক্বীন ব্রীজ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া ও এর সৌন্দর্য বাড়ানোর প্রদক্ষেপে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ভূয়শী প্রশংসা করে মিলার বলেন, এই ব্রিজ বৃটিশদের তৈরী। এটি অন্য যে কোন দেশের চেয়ে লম্বা পায়ে হাটার ব্রিজ। সিলেরে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এ সময় বলেন, কীন ব্রিজ একটি ঐতিহ্যবাহী ব্রিজ।

এসময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সরকারের যুগ্ম সচিব বিধায়ক রায় চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রকৌশলী শামছুল হক পাঠোয়ারীসহ সিসিকের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত হত্যা : যা আছে ১২৩২ পৃষ্ঠার চার্জশিটে by মো. মিজানুর রহমান

দেশের আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মিন্নি ও নয়ন বন্ড। নিজেদের প্রেমের সম্পর্কে বাধা দূর করার জন্যই মিন্নি নিজ স্বামী রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে এই মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে স্বাক্ষর করেছেন আদালত। বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী সোমবার বিকেলে ১২৩২ পৃষ্ঠার চার্জশিটে স্বাক্ষর করেন।

চার্জশিটে মিন্নির বিরুদ্ধে ‘হত্যার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে রিফাত হত্যার আগে ও পরে মিন্নির সাথে ঘাতক নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও চার্জশিটে রিফাতকে নয়ন বন্ডরা কুপিয়ে জখম করার পরও নয়ন বন্ডের সঙ্গে ফোনে ও ক্ষুদে বার্তায় মিন্নির যোগাযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তার আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে মিন্নির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিপরীতে নয়ন বন্ডের মায়ের নামে নিবন্ধিত একটি সিম গোপনে মিন্নি ব্যবহার করত, এমন অভিযোগ এনে ওই নম্বরের সঙ্গে নয়ন বন্ডের বিভিন্ন সময়ে কল লিস্ট ও কল ডিটেইলস জমা দেয়া হয়েছে আদালতে।
এছাড়াও আলামত হিসেবে নিহত নয়ন বন্ডের বাসা থেকে জব্দ স্যালোয়ার কামিজ, আই ভ্রু, মিন্নির ছবি, মাথা আচড়ানো চিরুনি, চিরুনিতে পেচানো নারীদের চুল জমা দেয়া হয়েছে। চার্জশিটে বিবরণীতে অধিকাংশ জায়গায় মিন্নির বিরুদ্ধে রিফাত হত্যায় ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে।

নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির সম্পর্কে সৃষ্ট বিরোধীতার জেরেই রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে মিন্নি ও নয়ন বন্ড এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। বিবরণীতে বলা হয়, প্রথমে মিন্নি নয়নকে বিয়ে করে। বিষয়টি গোপন রেখে ফের রিফাত শরীফকে বিয়ে করে মিন্নি এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ ও বাসায় যাতায়াত অব্যাহত রাখে। এ নিয়ে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নির দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়। সবশেষ হেলাল নামের এক যুবকের কাছ থেকে রিফাত শরীফের মোবাইলফোন কেড়ে নেয়া থেকে নয়নের সঙ্গে রিফাতের দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত রূপ নেয়। সবমিলিয়ে মিন্নি ও নয়ন বন্ড মিলে রিফাত শরীফকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর ভূবন চন্দ্র হাওলাদার দন্ডবিধি আইনের ১২০-বি (১) ধারা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধারায় কেউ অপরাধ সংগঠিত করলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাবাস বা দুই বছর বা ততোধিক মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দন্ডিত হতে পারেন। আদালত অপরাধ বিবেচনায় এর যে কোনো একটি শাস্তি দিতে পারেন।

মিন্নির আইনজীবী মো. মাহবুবুল বারি আসলাম বলেন, মামলার শুরু থেকে পুলিশের তদন্ত যে প্রক্রিয়ায় এগিয়েছিল, আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম। এই মামলার বাদীকে ভিকটিম রিফাত শরীফ মৃত্যুর আগে জবানবন্দিতে মিন্নিকে সাক্ষী করতে বলেছেন বলে আমরা জেনেছি। সেভাবেই মামলাটি দায়ের করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই মাঝপথে নাটকীয় মোড় নিয়ে এখন যে পর্যায়ে এসে চার্জসীট হয়েছে, এটা সত্যি দুঃখজনক। উচ্চ আদালত মিন্নিকে জামিন দেওয়া এবং জামিনের আদেশ পরবর্তী চার পৃষ্ঠার রায়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য ও নির্দেশনার পরপরই হঠাৎ এ চার্জসীট দাখিল আমাদের অবাক করেছে। মূলত মিন্নির জামিন বাতিলে আপিলের গ্রাউন্ড তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য ছিল।

মামলার তদন্ত র্কমর্কতা মো. হুমায়ুন কবরি বলেন, মিন্নির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তা, পরকিল্পনাসহ সুনর্দিষ্টি প্রমাণ পাওয়ায় মিন্নিকে মামলার সাত নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমরা নিরবিচ্ছন্ন ও গভীর তদন্তরে পর রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মামলায় চার্জসীট আদালতে দাখিল করেছি।

অন্যদিকে মিন্নির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে পুলিশ এই মামলায় মিন্নিকে আসামি করেছে।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় পুলিশের দাখিল করা মূল চার্জসীট দুটি খণ্ডে মোট ৩৪ পৃষ্ঠার। এর প্রথম খণ্ডে মিন্নিসহ অন্য ১ জনের বিরুদ্ধে একটি খ- ১৬ পৃষ্ঠার এবং কিশোর অপরাধীদের অভিযোগ পত্র ১৮ পৃষ্ঠার। এছাড়াও ১৫ জন আসামির ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মামলায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারায় বিভিন্ন সময়ে পুলিশের গ্রহণ করা ৭৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ৫০ টির বেশি আলামতের জব্দ তালিকা ও বিভিন্ন সময়ে আসামিদের ব্যবহৃত মুঠোফোনের কল ডিটেইলস চার্জশিটের সঙ্গে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।

আলামত হিসেবে একটি স্যামসাং ও একটি একটি ধূসর রঙের অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, হত্যায় ব্যবহৃত রামদা, বন্ড ০০৭ গ্রুপের সদস্যদের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের প্রোফাইল ছবির একটি স্ক্রিনশট, ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাসের কপি ১২ কপি স্ক্রিনশট, বন্ড ০০৭ গ্রুপের ১১ জন সদস্যের প্রোফাইল ছবির ১১টি স্ক্রিনশট, বন্ড ০০৭ গ্রুপের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে দেয়া ১১ জন সদস্যের ম্যাসেজের ১১ কপি স্ক্রিনশটের প্রিন্টেড কপি জমা দেয়া হয়েছে।

পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে বয়সের ভিত্তিতে দাখিল করা দুই খণ্ডের চার্জশিটের প্রথম খন্ডে মিন্নিসহ ১০ জন আসামী রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে রিফাত ফরাজীকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে ১৪ জন কিশোরের নাম। এতে রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই রিশান ফরাজীকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।

মিন্নির জামিন শুনানীর জন্য বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলার মূল নথি রয়েছে। বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থেকে মূল নথি আসার পর বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগের উপর শুনানি শেষে আদালত ওই চার্জসীট গ্রহণ করলে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।

চার্জশিটে ২৪ আসামির মধ্যে ৯ জন পলাতক এবং বাকি ১৫ জন কারাগারে রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন, মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯), মো. মুসা (২২), আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)। অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন, মো. রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী (১৭), মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার (১৫), মো. আবু আবদুল্লাহ্ ওরফে রায়হান (১৬), মো. ওলিউল্লাহ্ ওরফে অলি (১৬), জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন (১৭), মো. নাইম (১৭), মো. তানভীর হোসেন (১৭), মো. নাজমুল হাসান (১৪), মো. রাকিবুল হাসান নিয়ামত (১৫), মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ (১৭), মারুফ মল্লিক (১৭), প্রিন্স মোল্লা (১৫), রাতুল শিকদার জয় (১৬) ও মো. আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ (১৬)।

ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক

মাত্র ১৫ বছর বয়সী একটি বালকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন ৪৩ বছর বয়সী এবং বিবাহিতা একজন শিক্ষিকা। তিনি দু’সন্তানের মা। এক পর্যায়ে তিনি তাকে নিয়ে হোটেলরুমে উঠার পরিকল্পনা করেন। বুকিং দেন হোটেল। এসব অভিযোগে ওই শিক্ষিকাকে দু’বছরের জেল দিয়েছে লিভারপুল ক্রাউন কোর্ট। বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ বলছে ওই শিক্ষিকার নাম লিডিয়া বেটি-মিলিগ্যান (৪৩)। তিনি একজন সহকারী শিক্ষিকা। তার বিরুদ্ধে আদালতে শুনানিতে বলা হয়েছে, ১৫ বছর বয়সী ওই ছাত্রের সঙ্গে সাক্ষাত হওয়ার পর তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলা শুরু করেন তিনি।
তারপর তাকে আস্তে আস্তে যৌনতায় উদ্বুদ্ধ করেন। তবে সব সীমা লঙ্ঘন করেন হোটেল বুকিং দিয়ে- এ কথা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। আদালতে তিনি বলেছেন, তিনি শুধু ওই ছাত্রকে বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। নিজের বিরুদ্ধে যৌনতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেছেন, শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার কোনোই আগ্রহ তার নেই। কিন্তু লিভারপুল ক্রাউন কোর্টের এক জুরি শুনানির এক ঘন্টার মধ্যেই তাকে অভিযুক্ত করেন। বলেন, একটি শিশুকে যৌনতায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য তিনি অভিযুক্ত। দু’সন্তানের মা বেটি-মিলিগ্যানের বিরুদ্ধে জেল ঘোষণা দিয়ে বিচারক গ্যারি উডহল বলেন, ওই শিশুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন আপনি। আমি এ বিষয়ে যথার্থই বুঝতে পেরেছি।
জুরিদের শুনানিতে ওই বালককে পাঠানো এসএমএস পড়ে শোনানো হয়। তাতে ওই বালককে তিনি লিখেছেন, সে খুবই বিস্ময়কর। তিনি আরো লিখেছেন, তিনি খেতে পারেননি। ঘুমাতে পারেননি। এছাড়া তিনি এসএমএসে চুম্বনের ইমোজি ব্যবহার করেছেন। আর শেষে ব্যবহার করেছেন ইংরেজি শব্দ ‘বেবিস’। এ ছাড়া বেটি-মিলিগ্যানের এক বন্ধু তাকে মিসেস রবিনসন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বেটি যখন তার দু’জন যুবক সহকর্মীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক বা রিলেশনশিপ নিয়ে আলোচনা করতেন তখন তারা তাকে ওই নামে অভিহিত করতেন। এখানে উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের ছবি ‘দ্য গ্রাজুয়েট’-এর একটি চরিত্রের নাম মিসেস রবিনসন। এই টার্মটি ব্যবহার করা হয় একজন বয়সী নারীকে বুঝাতে, যিনি কম বয়সী পুরুষকে শিকারে পরিণত করার চেষ্টা করেন।
ছাত্র-শিক্ষিকার সম্পর্কের এই বিষয়টি প্রথম একজন সহকর্মীর নজরে আসে। ওই সময় ১৫ বছর বয়সী ওই বালকের বিষয়ে অতিমাত্রায় মনোযোগ দিচ্ছিলেন শিক্ষিকা বেটি মিলিগ্যান। এ ছাড়া ওই ছাত্রের সঙ্গে খুব বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠার চেষ্টা করছিলেন। শিক্ষাজীবনে তার রয়েছে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা। এক পর্যায়ে ওই বালককে অঙ্কনে তিনি বোনাস নম্বর দেন। এ সময় ওই সহকর্মী কৌতুক করেছিলেন ওই বালকের সঙ্গে। তিনি বলেছিলেন, তাকে অবশ্যই ওই শিক্ষিকার প্রিয় হয়ে উঠতে হবে। এরই মধ্যে হোটেলে তাদের মধ্যে দেখা করার পরিকল্পনা নিয়ে পাঠানোর এসএমএস বার্তা ওই বালকটি দেখায় ওই সহকর্মীকে। ব্যাস, আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়তে থাকে সব। স্কুল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বেটি মিলিগ্যানকে। খবর দেয়া হয় পুলিশে। আদালতের শুনানিতে বলা হয়েছে, বেটি মিলিগ্যানের চরম অনৈতিক আচরণে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাশ্মীর পরিস্থিতি ‘অগ্রহণযোগ্য’: যুক্তরাষ্ট্রকে কণ্ঠ জোরালো করার আহ্বান

দখলীকৃত কাশ্মীরে ভারতের ‘অগ্রহণযোগ্য’ পদক্ষেপের বিষয়ে দৃষ্টি আহ্বান আকর্ষণ করলেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দল থেকে শক্তিধর অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত রোববার ৫৬তম কনভেনশন অব ইসলামিক সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার (আইএসএনএ) সম্মেলনে আলাদা আলাদা বক্তব্যে তারা অবরুদ্ধ কাশ্মীরের মানুষের পরিণতির কথা তুলে ধরেন। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বার্নি স্যান্ডার্স। সেখানকার সব রকম যোগাযোগ নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি করেন তিনি। কাশ্মীরি জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক আইন ও জাতিসংঘ সমর্থিত শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জোরালো কণ্ঠে কথা বলারও আহ্বান জানান বর্ষীয়ান এই নেতা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বার্নি স্যান্ডার্স কাশ্মীরে দখলদারিত্ব সম্প্রসারণে ভারতীয় উদ্যোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভারত সরকার কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করেছে।
ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন করা হয়েছে। যোগাযোগ ‘ব্লাকআউট’ করা হয়েছে। এতে সেখানে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তার নামে যে দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে তাতে কাশ্মীরের জনগণকে মেডিকেল সেবা নেয়ার অধিকারও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এমনকি ভারতীয় অনেক সম্মানিত চিকিৎসক স্বীকার করেছেন যে, ভ্রমণের ওপর ভারত সরকারের চাপিয়ে দেয়া বিধিনিষেধের কারণে রোগিদের প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষার সেবা এখন হুমকিতে।
অন্যদিকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে এতে বক্তব্য তুলে ধরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বিষয়ে সবার বোঝা উচিত বলে বক্তব্য রাখেন। এটি হলো ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির অঙ্গ সংগঠন। ইমরান খান বলেন, আমি এক্ষেত্রে আমার মতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু আইএসএনএ’র প্লাটফর্ম থেকে আপনাদের উচিত এ বিষয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টা নেয়া এবং মানুষকে বিষয়টি বোঝানো, যে কি ঘটছে। আরএসএস সম্পর্কে পশ্চিমা সমাজের কাছে আপনাদেরকে পরিষ্কার করে জানানো উচিত। আরএসএস বিশ্বাস করে বর্ণবাদী হিন্দুত্ববাদী সভ্যতার আধিপত্য এবং ভারত থেকে মুসলিম জাতির নির্মূল। ইমরান খান এ বিষয়ে মানুষকে গবেষণা করতে এবং এর উৎস খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আবার বিজয় পাওয়ার পর তারা আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসছে। আমরা কথা বলছি এমন একটি দেশ (ভারত) সম্পর্কে, যেখানে একশ’ কোটিরও বেশি মানুষ আছে। দেশটিতে আছে পারমাণবিক অস্ত্র। আর এই দেশটি পরিচালিত হচ্ছে একটি উগ্রপন্থি আদর্শ দিয়ে। নাৎসীরা যা প্রমাণ করেছে তাহলো, একটি ক্ষুদ্র, সুসংগঠিত আদর্শিক গ্রুপ একটি দেশকে কব্জায় নিতে পারে। ভারতে ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছে। ভারতে বিরাজ করছে একটি উগ্রবাদী আদর্শ।
ইমরান খান আরো বলেন, ভারতে বিজেপি সরকার জনসংখ্যাতত্ত্বকে পাল্টে দিতে চায়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি এলাকায় মুসলিমদেরকে সংখ্যালঘু বানাতে চায়। এ জন্য সেখানে তারা বহিরাগতদের নিতে চায়। আর এর মধ্য দিয়ে জনসংখ্যাতত্ত্ব পাল্টে দিতে চায়। এটা হলো চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৪৯-এর লঙ্ঘন। একটি দখলীকৃত ভূখন্ডে আপনি জনসংখ্যাতত্ত্ব পাল্টে দিতে পারেন না। আমরা বিশ্বাস করি কাশ্মীরে যা ঘটছে তা হলো, জনগণের মধ্যে আরএসএসের দুর্বৃত্তদের মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। আমার ভয় হচ্ছে, এই আদর্শ সেখানে থামবে না। তারা একটি বোতলের ভিতর থেকে দৈত্যকে ছেড়ে দেবে, যা আর বোতলের ভিতরে ফিরে যাবে না। এটাই হলো হিন্দুত্ববাদী আধিপত্যের ঘৃণা। এই ঘৃণা মুসলিমরা ছড়িয়ে দিচ্ছে না।

ভারত-পাকিস্তান সংলাপে আন্তর্জাতিক তৎপরতা, পাকিস্তানের পূর্বশর্ত

কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা লাঘবে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিধর কিছু দেশ। এই দুটি দেশের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য কোনো পথ খুঁজে পেতে চেষ্টা করছে তারা। ভারত ও পাকিস্তান মারাত্মক এক যুদ্ধের পথে চলে যেতে পারে এমন এক ভয়ঙ্কর আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে প্রভাবশালী দেশগুলো জোরালো ওই উদ্যোগ নিয়েছে। চেষ্টা হচ্ছে কোনো চ্যানেল বের করে আলোচনার একটি পন্থা খুঁজে পেতে। তবে ভারতের সঙ্গে এমন আলোচনার আগেই সুনির্দিষ্ট কিছু পূর্বশর্ত দিয়েছে পাকিস্তান। এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের পাকিস্তানি সংস্করণ অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

প্রভাবশালী দেশগুলোর পর্দার আড়ালে ওই প্রচেষ্টা সম্পর্কে জানেন এমন কূটনৈতিক সূত্রগুলো এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে বলেছেন, উত্তেজনা প্রশমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য শক্তিধর দেশগুলো যোগাযোগ রক্ষা করছে ইসলামাবাদ ও নয়া দিল্লির সঙ্গে। এক্ষেত্রে আগের মতো অবস্থানে নেই পাকিস্তান। তারা ভারতের সঙ্গে এমন আলোচনায় পূর্বশর্ত দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে দখলীকৃত কাশ্মীর থেকে অবিলম্বে কারফিউ প্রত্যাহার করতে হবে এবং সেখানকার রাজনৈতিক সব নেতাকে মুক্তি দিতে হবে।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের একটি নিবন্ধ। তাতে তিনি ভারতের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানের আগ্রহের কথা জানান। তিনি তাতে জানিয়ে দেন, এমন আলোচনার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে গৃহীত পদক্ষেপ থেকে পিছু হটতে হবে। ইমরান খানের দৃষ্টিতে কাশ্মীরে ভারতের ‘দখলদারিত্ব সম্প্রসারণ অবৈধ’। রোববার এ বিষয়ে পাকিস্তানের মুলতানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে কখনোই দ্বিপক্ষীয় সংলাপ থেকে বিরত ছিল না পাকিস্তান। তবে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজমান তা কোনো রকম সমঝোতার জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি এ সময় প্রধানমন্ত্রী ইমরানের অবস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এখন ভারতকে যেকোন আলোচনার আগে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

পক্ষান্তরে সূত্র দাবি করছে, পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করার জন্য চ্যানেল খুঁজতে আগ্রহী ভারত। এতদিন শান্তির জন্য আলোচনায় বসার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এসেছে। সূত্রমতে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রতি কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনমন ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করার বিষয় পর্যালোচনা করার আহ্বান জানাচ্ছে ভারত। সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, গত ৫ই আগস্ট কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নেয়ার পর বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজমান তাতে ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না পাকিস্তান। এমনকি কোনো সিদ্ধান্ত পর্যালোচনাও করবে না। সরকারের ওই কর্মকর্তা বলেন, এক্ষেত্রে নয়া দিল্লি পাকা খেলোয়াড়ের ভূমিকায় বলেই মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে প্রস্তুব একথা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের বলার মধ্য দিয়ে ভারত চাইছে আমরা এবং বাকি বিশ্ব কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিই।

ওই কর্মকর্তা ভারতের এমন উদ্দেশের বিরুদ্ধে বলেন, পাকিস্তান সরকার এখন একটি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। তা হলো, ৫ই আগস্টের পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে না গেলে বা তার কাছাকাছি অবস্থায় ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনার জন্যই শুধু চাপ দিচ্ছেন এমন না। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যেন আক্রমণ করে কথা বলা চন্ধ করেন এ জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আস্থায় নেয়ারও চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু ইমরান খান পিছু হটতে রাজি হন নি। ইসলামাবাদ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পেলেও তৎপরতা বন্ধ করেননি আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখনও উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত রাখতে উভয় পক্ষের ওপর চাপ দিচ্ছে তারা। তারা বলছেন, উন্নততর শুবুদ্ধির উদয় হোক। কিন্তু পাকিস্তান দৃশ্যত নিকট ভবিষ্যতে এ ইস্যু থেকে পিছ পা হবে বলে মনে হয় না। কমপক্ষে জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশন পর্যন্ত তো তারা এ ইস্যুকে জিইয়ে রাখবে। কারণ, ভারতের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে উত্তাপ ছড়াতে চায় পাকিস্তান।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউন লিখেছে, ইসলামাবাদে তেমন সাড়া না পেলেও কাশ্মীরে মানবিক সঙ্কটের রিপোর্টে ভারতের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি করছে বিশ্ব। পাকিস্তান সরকারের  কর্মকর্তারা বলেন, ভারত সরকার দাবি করছে কাশ্মীরের সার্বিক অবস্থা ভাল। কিন্তু পক্ষান্তরে সেখানে ক্রমবর্ধমান হারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ এমন উত্তাপ ছড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান ডেমোক্রেট নেতা বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার দল থেকে প্রার্থী হতে চাইছেন। তিনি কাশ্মীরে ভারতের দখলদারিত্বকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। উপরন্তু কাশ্মীর নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ জাতিসংঘের অধীনে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আসামের নাগরিক তালিকা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে: বাদ পড়াদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে বলা হবে -আসামের অর্থমন্ত্রী

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। খোদ ভারতেই এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠছে। ক্ষোভ-হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নীরবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে ভারতের শাসক দল বিজেপি বা আসাম রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা যে বক্তব্যই দেন না কেন তার প্রতিক্রিয়া দেখাবে না ঢাকা। বাংলাদেশের বিদেশ নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা বলছেন, এনআরসি নিয়ে  ভারতের বিদেশমন্ত্রী ঢাকাকে উদ্বিগ্ন না হওয়ায় যে বার্তা দিয়েছেন তাতে ভরসা রাখছে বাংলাদেশ। যদিও আসামের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মার একটি বক্তব্য বিপুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক তালিকা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে বলা হবে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে।
ওদিকে, জাতিসংঘের তরফে আসাম পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কোন মানুষকেই রাষ্ট্রহীন করা যাবে না। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভারতকে এটা নিশ্চিত করতে হবে, আসামে একজন ব্যক্তিও রাষ্ট্রবিহীন হয়ে পড়বেন না এবং তাঁদের পুরো প্রক্রিয়ায় তথ্যগত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। বলা হয়েছে, তাদের নাগরিক অধিকার রক্ষা করা হবে।
এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ বা অস্বস্তি কেন? আসামে নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়- শুরু থেকেই ঢাকা এটি বলে আসছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এটিকে দেশটির অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলার পরও বাংলাদেশে এ নিয়ে উদ্বেগ বা অস্বস্তি কেন? জবাবে ঢাকার কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা যেটা বলার চেষ্টা করেন তা হলো- দেশটির শাসক দলের তরফে যেসব কথাবার্তা হচ্ছে তাতে এনআরসির দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়া শেষে যারা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসাবে প্রমাণে ব্যর্থ হবেন তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এজন্য তারা আগেবাগেই নাকী বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলবে। উদ্বেগের বিষয়টি এখানেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসীনের মতে বাংলাদেশের এখনই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার আর প্রস্তুতি নেয়ার দরকার আছে। তিনি মনে করেন- আইন-আদালতের পর্যালোচনায় এনআরসির বাদ পড়াদের সংখ্যা হয়ত আরও কমে আসবে। কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশের যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে যে ঘটনা ঘটে গেছে, সেরকম পরিস্থিতি যাতে আর তৈরি না নয়, সে ব্যাপারে বাংলাদেশের সতর্ক থাকা উচিত। বিবিসি বাংলাকে এই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক বলেন, ওরা এদের বাংলাদেশি বলার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের পরিষ্কার করে বলা উচিত যে, এরা বাংলাদেশি নয়, এদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোন ধরণের দায়িত্ব নেবে না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেই বার্তাটা এখনই পরিষ্কার করে দেয়া উচিত। কূটনীতিক হুমাযুন কবির মনে করেন, এখনই বাংলাদেশের সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ যেভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তালিকায় বাদ পড়াদের ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, তাতে ভবিষ্যতে এটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পরে। তার মতে, রাজনৈতিক বক্তব্য যা-ই হোক না কেন? এ ধরণের ঘটনায় দ্বিপক্ষীয় একটি বিষয়ও থাকে। সেখানেই বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। এটা যেন সেই পর্যায়ে না গড়ায়। এজন্য এখন থেকেই বক্তব্য তুলে ধরতে হবে।
এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের ফেরত নিতে বলা হবে বাংলাদেশকে
আসামের এনআরসি বা নাগরিকপঞ্জী থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে জানিয়েছেন আসামের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি ভারতের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম নিউজ ১৮ কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলবো ও বলবো তাদের এসব লোককে ফিরিয়ে নিতে। যতদিন এসব মানুষকে ফেরত নেয়া না হচ্ছে, ততদিন তাদেরকে আমরা ভোটাধিকার দেবো না। এক্ষেত্রে তারা বিশেষ কিছু সুযোগ সুবিধা পাবে। হিমান্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ভারতের বন্ধু বাংলাদেশ সরকার। তারা আমাদের সহযোগিতা করছে। এনআরসি তালিকায় নাম না থাকা মানুষদের ফেরত পাঠাতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, এনআরসি তালিকায় নাম নেই মানে এটা নয় যে তাদের বিদেশি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তাদের ব্যাপারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। কিন্তু তত দিন পর্যন্ত ভারতের কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাদের অংশ নিতে দেয়া হবে না।’
উল্লেখ্য, আসামে অবৈধ অভিবাসী শনাক্তকরণের জন্য প্রণীত এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় শনিবার। ওই তালিকায় চূড়ান্তভাবে ঠাঁই হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ মানুষের। বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগের দিন শুক্রবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল রাজ্যের মানুষদের শান্ত থাকার আবেদন জানান। তিনি বলেন, কেউ যেন আতঙ্কগ্রস্ত না হন। যাদের নাম তালিকায় থাকবে না, তারা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে (এফটি) আবেদন জানাতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, নাগরিকত্ব প্রমাণে সরকার তাদের সব রকমের সহায়তা দেবে।
আসামের এনআরসি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) প্রক্রিয়া একটি সংবিধিবদ্ধ, স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়া। সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে এই প্রক্রিয়া সমপন্ন হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি বৈষম্যহীন ও এতে পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার বা অবিচার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার রবিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আসামের নাগরিক পঞ্জীকরণে যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের এখনই বিতাড়িত করা হবে না। তাদের রাষ্ট্রহীন ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং নিজেদের তালিকাভুক্ত করার জন্য যেসব পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, সেসব প্রক্রিয়ায় সকলকেই সাহায্য করবে ভারত সরকার। রবিশ বলেন, এনআরসিতে যাদের নাম নেই, তাদের এখনই আটক করা হবে না। তারা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। তাদের প্রত্যেককে আইনি সহায়তা দেয়া হবে। এনআরসিতে নাম নেই মানে তারা রাষ্ট্রহীন, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
প্রসঙ্গত, শনিবার আসামের এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাতে নাম নেই ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির ভাতিজা, প্রাক্তন বিধায়ক। এমনকি তালিকায় নাম নেই বহু রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাক্তন আমলাকর্মীরও। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তালিকায় বাবার নাম থাকলেও, বাদ পড়েছে ছেলে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নাগরিক পঞ্জীকরণ প্রক্রিয়ায় যারা নিজেদের নাগরিক প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের ভবিষ্যৎ কী? তাদের বিতাড়িত করা হবে কিনা? আটক করা হবে কিনা? রোববারের বিবৃতিতে এসব প্রশ্নের উত্তরই দিয়েছেন রবিশ।
এদিকে, আসাম সরকার জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা দেবে রাজ্য সরকার। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়াদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রবিশ জানান, যাদের নাম নেই তারা ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন করতে হবে ১২০ দিনের মধ্যে। সব আবেদনেরই তদন্ত করা হবে। আবেদনের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপরও ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না হলে তিনি আসামের হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন। সেখানেও কাঙ্ক্ষিত রায় না পেলে তার অধিকার থাকবে শীর্ষ আদালতে আবেদন করার।
রবিশ রোববার বলেন, ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, সরকার স্রেফ তা পালন করেছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া কোনো নির্দিষ্ট শাসক পরিচালিত নয়। গোটা প্রক্রিয়ায় নজরদারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট এবং সরকার কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ীই প্রক্রিয়াটি সমপন্ন হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টই প্রক্রিয়ার জন্য দিনক্ষণ বেঁধে দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরো বলেন, আসামের মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারত সরকার ১৯৮৫ সালে আসাম চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ভারত সরকার, আসাম সরকার, আসাম ছাত্র ইউনিয়ন ও অসম গণপরিষদের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়া এই চুক্তি কার্যকর করার অন্যতম একটি পদক্ষেপ এনআরসি।
আসাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আওয়ামী লীগ
আসাম পরিস্থিতি আওয়ামী লীগ পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু। আসামের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মার দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে চান না উল্লেখ করে মতিন খসরু বলেন, আসামের অর্থমন্ত্রী বলছেন ফেরত পাঠানো হবে,পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন এটা ঠিক নয়। আমরা মনে করি এটি সম্পূর্ণভাবে তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এখনই আমরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। সম্পূর্ণ বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। সোমবার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসন্ন চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ৮ দিনের সফরে চীন যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মতিন খসরু বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন চাইলেই সমাধান সম্ভব। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি যে বক্তব্য দেবে-সেটাই তাদের সরকারের বক্তব্য। চীন সফরে আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাদের যথাযথ ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ করব। যেন রোহিঙ্গারা সসম্মানে নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারে আমাদের জনসংখ্যা মাত্র ৪ লাখ, সেখানে রোহিঙ্গারা এসে রয়েছে ১১ লাখ। তাদের কারণে আমাদের পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটছে। চীন যদি যথাযথ ভূমিকা পালন করে তাহলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি সহজ হবে।

নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালো জনসন সরকার

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সরকার। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও টরি বিদ্রোহীদের মধ্যে এক শোডাউনের আগ দিয়ে কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাংসদ ফিলিপ লি। দেশটিতে ব্রেক্সিট নিয়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নাটকীয় এই পরিবর্তন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের ওপর বড় ধরণের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পার্লামেন্টে অধিবেশন শুরুর আগ দিয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সারিতে গিয়ে বসেন লি। এতে ১৯৯৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বৃটেনে সংখ্যালঘু সরকার বিরাজ করছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নপন্থি (ইইউ) সাংসদ লি। ১৯৯২ সালে কনজারভেটিভ পার্টিতে যোগ দেন। নিজের দল পরিবর্তন বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে দলটিতে যোগ দিয়েছিলাম। আজ সেটি ছেড়ে যাচ্ছি।
এই কনজারভেটিভ সরকার আগ্রাসী ও অনৈতিকভাবে একটি ভক্সগুর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে মানুষের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকিতে পড়ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বৃটেনের অখ-তাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আরো বড় পরিসরে, এতে আমাদের দেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র ও বিশ্বে আমাদের দেশের ভ’মিকাকে পতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সরকার রাজনৈতিক কৌশল, নির্যাতন ও মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। আর এসব করা হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে।
নিজের পদত্যাগপত্রে লি আরো বলেন, জনসনের অধীনে কনজারভেটিভ পার্টি লোকরঞ্জনবাদ ও ইংলিশ জাতীয়তাবাদের রোগে সংক্রমিত হয়ে পড়েছে।
সাম্প্রতিক মাসে এ নিয়ে বিভিন্ন দলের তিন জন সাংসদ নিজ দল ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটে যোগ দিয়েছেন। লি ছাড়া বাকি দুই জন হচ্ছেন, সাবেক লেবার এমপি চুকা উমুন্না ও সাবেক কনজারভেটিভ এমপি সারাহ ওলাস্টোন।

যেন ফসলের মাঠ! by মো. সোহাগ হোসেন

কাদা-পানি, ছোট-বড় গর্ত। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি রাস্তা। মনে হয়, যেন ফসল চাষের জন্যে প্রস্তুত করে রাখা খন্ড খন্ড জমি।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঝাটিবুনিয়া এলাকার একটি কাঁচা রাস্তার এই হাল। উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাটিবুনিয়া গ্রামের প্রধান রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত ঝাটিবুনিয়া জে আর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটি।

বৃষ্টির সময় কাঁচা এই রাস্তাটিতে পানি জমে থাকায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ওইসব গর্তে পানি জমে রাস্তাটি চাষের জমিতে পরিণত হয়েছে। 

বেহাল এ রাস্তা দিয়ে ঝাটিবুনিয়া জে আর বালিকা বিদ্যালয়, মই ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও এন ডব্লিউ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি ছাত্রছাত্রী এবং ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাটিবুনিয়া মহিষ কাট ও শ্রীনগরসহ ৫-৬ গ্রামের মানুষ চলাচল করেন।
এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে ছোট-ছোট যানবাহনও।

স্থানীয়দের চলাচলে কষ্টের প্রধান কারণ হলেও গ্রামীণ এ রাস্তাটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও উদ্যোগ নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও রাস্তাটি সংস্কারে কোন ভূমিকা রাখছে না। গ্রামবাসীরা জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছে তারা। কিন্তু কারও নজরে আসছে না রাস্তাটি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

জে আর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মোসা. লামিয়া জানায়, বৃষ্টির সময় রাস্তাটিতে খুবই কাদা হয়। এ সময় কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। দক্ষিণ ঝাটিবুনিয়া গ্রামের   মো. বজলুর রহমান সিকদার জানান, এ গ্রামে জন্মে আমরা অপরাধ করেছি। আমাদের ইউনিয়নের প্রায় রাস্তাই পাকা কিন্তু আমরা পড়ে আছি আগের জামানায়। কাদাযুক্ত রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আমিও এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।

এ ব্যাপারে আমড়াগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানো হবে। মির্জাগঞ্জ উপজেলা  চেয়ারম্যান খান মো. আবু বকর সিদ্দিকী জানান, রাস্তাটি দিয়ে চলাচলে ওই এলাকার লোকজনের খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের ব্যবস্থা করে এলাকাবাসীর কষ্ট লাঘব করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সুলতান  হোসেন বলেন, রাস্তাটি পাকা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

‘আইএসআইয়ের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছে বিজেপি ও বজরং দল’

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছে ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বজরং দল। পরে তারা তা প্রত্যাখ্যান করছে। এমন অভিযোগ এনেছেন কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং। তিনি আরো অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের পক্ষে মুসলিমদের চেয়ে অমুসলিমরা বেশি গুপ্তচরবৃত্তি করছে। এ বিষয়টি জনগণকে বুঝতে হবে। বিন্দ এলাকায় মহরানা প্রতাপের একটি মূর্তি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন বলে খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।

বিজেপি ও বজরং দলকে নিয়ে তার এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে তা নিয়ে। ক্যামেরায় তার এ বক্তব্য ধারণ করা হলেও তিনি পরে বিজেপির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছেন।
বলেছেন, মিডিয়া পক্ষপাতী হয়ে এমন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে তিনি এক টুইটে বলেছেন, তিনি তার বক্তব্যে অটল যে, বিজেপির আইটি সেলের বেশকিছু সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। তারা পাকিস্তানের আইএসআইয়ের পক্ষে কাজ করছিল ও তাদের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

এর আগের এক টুইটে দিগ্বিজয় সিং বলেছেন, আইএসআইয়ের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য বিজেপির কিছু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে তাদের কঠোর সাজা হওয়া উচিত। তিনি আরো অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রদেশ পুলিশ বিজেপির যেসব সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, এদেরকে পাকিস্তানি এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এদেরকে মুক্ত করানোর জন্য চেষ্টা করছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এমন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন শিবরাজ সিং। তিনি বলেছেন, খবরের শিরোনাম হতে এমন সব বিতর্কিত বিবৃতি দিচ্ছেন দিগি¦জয় সিং। তিনি ও তার নেতারা কথা বলেন পাকিস্তানি ভাষায়। পাকিস্তান উদ্ধৃত করে রাহুল গান্ধীকে। বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ যেমন জানে, তেমনি পুরো বিশ্ব ও পুরো দেশ তাদের দেশপ্রেম সম্পর্কে জানে।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারকে আক্রমণ করেন দিগি¦জয় সিং। তিনি বলেন, যদি শেখ আবদুল্লাহকে আস্থায় না আনতেন নেহরু তাহলে কাশ্মীর ভারতের অংশ হতো না। তিনি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীকে উদ্ধৃত করে বলেন, বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতা ঠিকই বিশ্বাস করতেন যে, কাশ্মীরের জনগণ সহ সব অংশীদারদের আস্থায় আনার মাধ্যমেই কেবল কাশ্মীর সঙ্কটের সমাধান হতে পারে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত ২৩ শে আগস্ট পাকিস্তানি অপারেটিভদের পরিচালিত একটি চক্রের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার সন্দেহে সাটনা থেকে ৫ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াড।

বজরং দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এর একজনের। তার নাম বলরাম সিং। গ্রেপ্তার করা ৫ জনের মধ্যে বলরাম সিং, সুনীল সিং ও শুভম মিশ্রকে পরে ভুপালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ বলেছে, একটি অ্যাপ ব্যবহার করে তারা ওই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। তারা যেসব বার্তা পাঠাতো এই অ্যাপে তার কিছুই রেকর্ড নেই। সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াড বলেছে, পাকিস্তানি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো এসব ব্যক্তি। তারা কৌশলগত তথ্য, ব্যাংকের বিস্তারিত হিসাব, আন্তঃসীমান্ত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে শেয়ার করতো পাকিস্তানি ওই চক্রের সঙ্গে। শুক্রবার ইস্যু করা এক বিবৃতিতে মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের মিডিয়া সমন্বয়ক নরেন্দ্র সালুজা অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে বজরং দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে বলরাম সিংয়ের। এ প্রসঙ্গে মধ্যপ্রদেশ মন্ত্রীপরিষদের সদস্য গোবিন্দ সিং বলেন, অনেক বছর ধরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত বিজেপির কিছু মানুষ। তাদের কাছে গোপন তথ্য ও সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহারের তহবিল ছিল।

লুঙ্গি ফুলিয়ে ৫ দিন সমুদ্রে ভেসেছিলো ইমরান by মিজানুর রহমান

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিল ইমরান হোসেন (১৪)। তারপর লুঙ্গি ফুলিয়ে দীর্ঘ ৫ দিন সমুদ্রে ভেসেছিলো সে। স্রোতে ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যায় ভারতীয় সীমানায়। বর্তমানে ভারতের রায়দিঘি থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে ইমরান।

বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশের অপরাধে ইমরানকে উদ্ধার করে সেখানকার জেলেরা রায়দিঘি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

জানা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মঠেরখাল গ্রামের ইসমাইলের মালিকানাধীন ট্রলারসহ ১২ জেলে নিয়ে  ২৬শে আগস্ট সমুদ্রে মাছ শিকার করছিলো ইমরান। পরদিন বলেশ্বর নদের মোহনায় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। মুহূর্তের মধ্যেই ইমরান ট্রলার থেকে ছিটকে সাগরে পড়ে যায়। এরপর স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।


ইমরান বুদ্ধি খাটিয়ে নিজের পরনের লুঙ্গি খুলে তাতে বাতাস ভরে ফুলিয়ে নেয়। তা ধরেই পাঁচ দিন সমুদ্রে ভেসে ছিল বলে জানায় ইমরান।

এদিকে ইমরানের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার ৩১শে আগস্ট রাতে পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর শনিবার সকালে ভারতের একদল জেলে ইমরানকে উদ্ধার করে রায়দিঘি থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ ইমরানকে রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ভারতীয় ট্রলার ‘এফবি বাবা পঞ্চানন’ এর চালক মনোরঞ্জন দাস সমুদ্রে মাছ ধরার সময় ইমরানকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন। ইমরানকে উদ্ধারকারী ট্রলারের মাঝি মনোরঞ্জন দাস জানান, আমরা দূর থেকে দেখলাম কি যেন ভাসছে। কাছাকাছি যেতেই দেখি একটি বালক লুঙ্গি ফুলিয়ে সেটা আকঁড়ে আছে। এর পরই তাকে ট্রলারে তুলে নেই আমরা।

ভারতের ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা প্রশাসক সুকান্ত সাহা বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধম্যে বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয় বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আমরা বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান করেছি। পরে জানতে পেরেছি ভারতীয় জেলেরা ইমরানকে উদ্ধার করে রায়দিঘি থানায় হস্তান্তর করেছে। ভারতের রায়দিঘি থানা পুলিশের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ইমরানকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে তারা।

ইমরান হোসেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মঠেরখাল গ্রামের ইসমাইলের ছেলে।

ট্রাম্পের উত্থান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিক্ষা ভুলিয়ে দিচ্ছে: সাদিক খান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কড়া সমালোচনা করেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। দু’জনকেই তিনি উগ্র ডানপন্থি নেতার উত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ডনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি ‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের পোস্টার বয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে বরিস জনসনকে নিয়ে বলেছেন, এ যাবতকালের মধ্যে অধিক ডানপন্থি। সাদিক খান বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের উত্থান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিক্ষাকে ক্ষীণ করে দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিক্ষা ভুলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের প্রভাবশালী অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান।

১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডে আগ্রাসন চালায় জার্মানি।
সেখান থেকেই শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। যুদ্ধ শুরুর ৮০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চলতি সপ্তাহান্তে একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হওয়ার কথা রয়েছে পোল্যান্ডের ওয়ারস’তে। ওই অনুষ্ঠানের আগ দিয়ে ট্রাম্পকে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের জন্য বৈশ্বিক পোস্টার বয় বলে আখ্যায়িত করেন সাদিক খান। তিনি বলেন, ট্রাম্পকে অনুসরণ করছেন বরিস জনসনসহ ইউরোপের অনেক নেতা। গার্ডিয়ানের অবজার্ভারে এক নিবন্ধে সাদিক খান বলেছেন, বরিস জনসন ও ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজে বৃটেনে একই রকম উগ্র-ডানপন্থি চিন্তাভাবনাকে সামনে এগিয়ে দিচ্ছেন। অবজ্ঞা প্রকাশ করা হচ্ছে ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি। এই ইইউ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ যাতে না হয় তা প্রতিরোধের জন্য। উল্লেখ্য, ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কমপক্ষে ৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

সাদিক খান বলেছেন, বৃটেনে প্রভাবটা দেখা যায়। এখানে নাইজেল ফারাজে ও তার ব্রেক্সিট পার্টি বরিস জনসনের অধীনে কনজার্ভেটিভ পার্টিতে খুব বেশি প্রভাবিত করে তাদেরকে ঠেলে দিয়েছে এমন এক অবস্থানে, যার ফলে তারা অধিক ডানপন্থি ও অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ৩১ শে অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকরের শেষ সময়সীমার আগে গত সপ্তাহে ৫ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে সাদিক খান বলেছেন, পার্লামেন্ট ও আমাদের গণতন্ত্রের প্রতি বরিস জনসনের অবজ্ঞা আমরা গত সপ্তাহে দেখেছি। গার্ডিয়ান লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের বিরোধ পুরনো। তবে সেই বিরোধে সর্বশেষ আরো একটু উত্তেজনা যোগ করলেন এবার সাদিক খান। এ বছর জুনে বৃটেনে রাষ্ট্রীয় সফরে আসেন ট্রাম্প। এ সময়ে তার ভাষাকে ‘একবিংশ শতাব্দীর ফ্যাসিস্ট’দের সঙ্গে তুলনা করেন সাদিক খান। ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ারফোর্স ওয়ান বৃটেনের মাটি স্পর্শ করার আগেই তিনি এর জবাব দেন। সাদিক খানকে তিনি ‘স্টোন কোল্ড লুজার’ হিসেবে আখ্যাযিত করেন। ট্রাম্প বলেন, সাদিক খান সব হিসাবেই লন্ডনের মেয়র হিসেবে ভয়ানক সব কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সফররত প্রেসিডেন্টকে নিয়ে বোকামির মতো সব ‘ন্যাস্টি’ কাজ করেছেন। সাদিক খানকে আরো আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতাকে আক্রমণ করে কথা বলার চেয়ে লন্ডনের অপরাধ দমনে মনোনিবেশ করা উচিত মেয়রের।
এ সপ্তাহান্তে গডানস্ক ও পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারস’তে সফরে যাচ্ছেন সাদিক খান। গডানস্কে ছোড়া হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম গুলিগুলোর একটি। তিনি বলেন, আমি বলছি না যে, আমরা ১৯৩০-এর দশকে অবস্থান করছি অথবা আরেকটি যুদ্ধ অপরিহার্য। তবে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিৎ। আমরা যদি এখন থেকে পদক্ষেপ নেই তাহলে ভিন্ন কোনো পথে যাত্রা করতে পারবো।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন ডানপন্থি ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির অধীনে পোল্যান্ডও একইধরণের হুমকির সম্মুখীন। দলটি ৩০টিরও বেশি শহর ‘সমকামিতা মুক্ত অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ইহুদি-বিদ্বেষ ক্রমাগত হারে বেড়ে চলেছে। এমন সময় পোলিশ সরকার নাজি যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে দেশটির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে কারাদ- নির্ধারণ করেছে। পদক্ষেপটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

ট্রাম্প একাধিকবার ন্যাটোর প্রয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জনসনের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, বৃটেনের উচিৎ ইইউ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া। ট্রাম্প জানান, তার বিশ্বাস যে, নতুন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বৃটেনের জন্য মহান নেতা হিসেবে প্রমাণিত হবে যিনি, দেশটিকে স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক সাফল্যের নতুন পথে ধাবিত করবেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ৮০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চলতি সপ্তাহান্তে ওয়ারস’তে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানটিতে যোগ দেয়ার কথা ছিল ট্রাম্পের। তবে ফ্লোরিডার দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় দরিয়ান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবশেষে সফরটি বাতিল করেন তিনি। তার জায়গায় অনুষ্ঠানটিতে যোগ দেবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

শিশুর কোলে শিশু

এক কিশোরীকে প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আক্কাস বেপারী নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। আক্কাসের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামে। অভিযোগ রয়েছে বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে একাধিক বার শারীরিক সম্পর্ক করেন একই গ্রামের মো. কালাম বেপারীর ছোট ছেলে আক্কাস বেপারী। ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা জানায় ওই কিশোরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে আক্কাসের পরিবারে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য চাপ আসে। সমাজের প্রভাবশালী মহল থেকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য নির্যাতিত ওই কিশোরীর পরিবারেও প্রস্তাব আসে। ওই কিশোরীর পরিবার এতে অসম্মতি জানিয়ে ন্যায়বিচারের জন্য বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে।
মামলার খবর পেয়ে আক্কাস ওই কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার (২৮শে আগস্ট) রাতে নির্যাতিত ওই কিশোরী একটি ছেলে সন্তানের মা হয়। জন্ম নেওয়ার চারদিন পার হয়ে গেলেও এখনো নাম রাখা হয়নি নবজাতকটির। এদিকে ওই নবজাতকের বাবা কে তা নিয়ে এলাকায় চলছে টানাহেঁচড়া। এ বিষয়ে নির্যাতিত ওই কিশোরী জানায়, আমি যে আমার পোলার একটা নাম রাখবো সেই সৌভাগ্যও আমার হয়নি। যেদিন আমি প্রসব বেদনায় ছটফট করেছিলাম সেদিনও আমাকে মারার জন্য আমার ঘরের দরজা কুপিয়ে গেছে আক্কাসের বাবা কালাম বেপারী। একটি প্রভাবশালী মহলের দাপটে তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলছে। ওই কিশোরী আরো জানায়, স্বামীর মর্যাদা না পেয়েও সন্তানের মা হয়েছি। আমার সন্তানের পরিচয় চাই।