Thursday, September 9, 2010

বিশ্ব শেয়ারবাজারে পতন অব্যাহত

দরপতনে মাথায় হাত দিয়ে
বসে আছেন তাইওয়ানের একজন বিনিয়োগকারী
গতকাল বুধবারও এশিয়া এবং ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোয় দরপতন অব্যাহত ছিল। এর আগের দিন মঙ্গলবার বড় ধরনের দরপতন ঘটেছিল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আমেরিকা ও জাপানের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে নেতিবাচক চিত্র থেকে এ ধারণাই ছড়িয়ে পড়েছে যে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্ব অর্থনীতি তেমন জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে না। তাই শিল্প খাত ও রপ্তানি থেকে আয়ের সম্ভাবনাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।গতকাল ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে লন্ডনের এফটি-১০০ সূচক শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ, ফ্রাঙ্কফুর্টের ড্যাক্স সূচক দশমিক ৪০ শতাংশ ও প্যারিসের ক্যাক সূচক দশমিক ২০ শতাংশ হারে কমে গেছে।আগের দিনের তুলনায় এই পতনের হার কম হলেও তা বিশ্ব অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে অব্যাহত হতাশারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক বাজার বিশ্লেষক।এশিয়ার প্রধানতম শেয়ারবাজার জাপানের টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের নিক্কি-২২৫ সূচক ১ দশমিক ৭০ শতাংশ হারে কমে গেছে। নিক্কি সূচকের এই পতন ১৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।এশিয়ার মধ্যে চীনের সাংহাই সমন্বিত সূচক ২ শতাংশ, হংকংয়ের হ্যাঙসেঙ সূচক দশমিক ১০ শতাংশ, সিউলের কসপি সূচক ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, তাইওয়ানের তাইপে ভারিত সূচক আড়াই শতাংশ এবং সিডনি এসপি সূচক ১ দশমিক ৪০ শতাংশ হারে পড়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লজ্জাজনক তারেক-বন্দনা by রোবায়েত ফেরদৌস, শরিফুজ্জামান শরিফ, নাসির নোমান, সরদার আমিন, ওমর ফারুক, শাওন্তী হায়দার ও শবনম আযীম

সে এক সময় ছিল, যখন রাজদরবারে কিছু লোক থাকত, যারা সঙ সেজে, চটুল রসিকতা করে, কারও জন্য সুপারিশ করে বা রাজা বা রাজপরিবারের সদস্যদের স্তুতি করে ক্ষুন্নিবৃত্তি করত। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বুদ্ধিবৃত্তি করে যাঁদের ক্ষুন্নিবারণ করার কথা, অবাক বিস্ময়ে দেখি, তাঁরাও চাটুকারিতাকেই নিজেদের প্রধান কাজ হিসেবে জাতির সামনে প্রকাশ করতে চাইছেন। প্রিয় পাঠক, দেখেছেন নিশ্চয়ই, ৪ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোসহ দেশের প্রায় সব দৈনিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তারেক-বন্দনার খবর বেশ ফলাও করে বেরিয়েছে। ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফর ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্দনা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছুসংখ্যক শিক্ষক এমন চাটুবাক্য ব্যবহার করেছেন, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের এহেন লাগামহীন মোসাহেবিতে আমরা যারপরনাই লজ্জিত হয়েছি। পাঠক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহি-মোসাহেবনামার কিছু নমুনা দেখুন:
‘দেশের আকাশ-বাতাসসহ প্রতিটি কণা আজ “আমি তারেক জিয়া বলছি” ডাকটি শুনতে চায়।’ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এভাবেই বন্দনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবুল বাশার। প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র হওয়ায় তাঁকে ভালোবাসি। তাঁকে ভালোবাসি, কারণ, তিনি একজন সুযোগ্য নেতার কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছেন।’ কলা অনুষদের ডিন সদরুল আমিন বলেন, ‘আমরা চাই, তারেক জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসুন। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে, তা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে সরকার তুলে নেবে বলে আমরা আশা করি।’ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, ‘ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তারেক রহমানের সুদৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত জেনেই তারা উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছে। তারেক রহমান দেশের বাইরে বসে আত্মসমালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণ করছেন।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমান তারুণ্যের অহংকার। তাঁর দেহে দেশপ্রেম ও স্বাধীনচেতার রক্ত বইছে। জনগণ তাঁকে দেশের নেতৃত্বে দেখতে চায়।’ অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন, ‘আজ আমরা মিছিলে মিছিলে বাকশালের আওয়াজ শুনতে পাই। এদের থামাতে হবে। এ জন্য প্রাণপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দরকার।’ অধ্যাপক আকতার হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমানকে তাঁর পিতার গুণে গুণান্বিত হতে হবে। তা থেকে বিচ্যুতি ঘটলে মনে রাখতে হবে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।’ (প্রথম আলো, ৪ সেপ্টেম্বর, পৃষ্ঠা-৩)
পাঠক, আপনারাই বিচার করুন, এসব স্তুতি কোনো শিক্ষকের মুখ থেকে বের হতে পারে? নাকি বের হওয়া উচিত? নৈতিকতা, সাংস্কৃতিক মান আর রুচিবোধ তাহলে কোথায় গিয়ে ঠেকল? এত দিন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাঢ় নীল, ধবধবে সাদা, হালকা গোলাপি, মেজেন্টা, ফিরোজা ইত্যাকার নানাবিধ রঙে রঞ্জিত/বিভক্ত হতে দেখেছি। আর সেই বিভক্তির কারণে শিক্ষকদের মধ্যে শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষের আলোচনার চেয়ে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা, পরচর্চার আধিক্য লক্ষ করেছি। এর যে ব্যতিক্রম নেই তা নয়, কিন্তু তা সামান্যই। শিক্ষকদের বর্ণকেন্দ্রিক বিভক্তির বাইরে আমরা ৩ সেপ্টেম্বর হঠাৎ নতুন নামের একটি সংগঠনের আবির্ভাব দেখলাম। নামটির সঙ্গে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থ শব্দটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা খুশি হতাম যদি সেই সংগঠনের সভায় প্রকৃত জাতীয় সমস্যা আর জনস্বার্থ নিয়ে আলোচনা হতো। আমাদের জাতীয় সম্পদ নিয়ে লুটপাটের মহা-আয়োজন, নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব নিরসনের মতো বিষয় যদি আলোচনা হতো, তাহলে জাতি উপকৃত হতো। কিন্তু সেদিনের সভায় শিক্ষকেরা ব্যক্তি-বন্দনায় মালকোঁচা মেরে অংশ নিয়েছেন। ভাবতে অবাক লাগে, তাঁরা প্রায় সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। প্রশ্ন রাখতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে কী করা যায়, শিক্ষার্থীদের সবাইকে ইন্টারনেট-সুবিধার আওতায় কীভাবে নিয়ে আসা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টি কেন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে—এ বিষয়ে কোনো আলোচনা সভা আহ্বান করলে এবং এসব শিক্ষকের বাসায় গিয়েও আমন্ত্রণ জানালেও কি তাঁরা এত সংখ্যায় দল বেঁধে আসতেন? আশঙ্কা এক শ ভাগ। তাহলে তাঁরা সেদিন দল বেঁধে কেন গেলেন? গেলেন তাঁদের প্রাণপ্রিয় নেতা তারেকের বন্দনা-কোরাসে যোগ দিতে। সত্যিই বিস্ময়কর!
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের কাছে জাতির প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি। এখনো সংকটের সময় মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। মানুষ মনে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকেরা বিবেকের তাড়নায় বুদ্ধি, মেধা আর বিচক্ষণতা দিয়ে অশুভ শক্তি বিনাশের মন্ত্র মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। কিন্তু যাঁদের কাছে এই প্রত্যাশা, সেই শিক্ষকেরা আজ এমন কিছু মন্তব্য করছেন, যা আমাদের ব্যথিত করছে। তাঁরা যাঁর বন্দনা করেছেন, স্তুতি গেয়েছেন, তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির অনেক বিতর্কের জন্মদাতা। তাঁকে কেন্দ্র করে আমাদের নীতিহীন রাজনীতির বৃক্ষে অনেক ডাল ও পত্র পল্লবিত হয়েছে; যা শুধু তাঁরই নয়, তাঁর পরিবার, দল—সর্বোপরি আমাদের কারও জন্য সুখকর নয়। তাঁর নেতৃত্বে হাওয়া ভবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘তরুণ তুর্কিরা’ যে কতটা বেপরোয়া আর ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিল, এ জাতি তা জানে। সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, স্বজনপ্রীতি, বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে হামেশা যাঁর নাম উচ্চারিত হয়, যে নাম রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্লাসে দুর্নীতির সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহূত হয়, তাঁকে নিয়ে এই প্রশংসা; আর প্রশংসাকারী হচ্ছেন মহান পেশায় নিয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত(?) শিক্ষকেরা! এ লজ্জা রাখি কোথায়?
জরুরি অবস্থার পর বিএনপি দুর্নীতির দুর্গ-খ্যাত ওই হাওয়া ভবন ত্যাগ করেছিল নিভৃতে; জানা যায়, তারেক রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসন বা তাঁদের দলের নেতারা ওই পথ আর মাড়াননি। এই ভবন এখনো তাঁদের বিব্রত করে। এই নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, জনপ্রশাসন ধ্বংস, জঙ্গিবাদের উত্থান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, দুর্বৃত্তদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, খুনিকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো নিকৃষ্ট কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ শুধু আওয়ামী লীগের কর্মীরাই করেন এমনটি নয়, দেশের মানুষও অনেকাংশে তা বিশ্বাস করে। অথচ শিক্ষকেরা তাঁরই বন্দনায় মেতে উঠেছেন। বন্দনা-সভায় উপস্থিতদের কেউ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, কেউ পদার্থবিজ্ঞানী, কেউ জীববিজ্ঞানী বা কেউ সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত। আলোচকদের কেউ কবিতার ভাষায়, কেউ করুণ কণ্ঠে, কেউ বা ভবিষ্যৎ বেত্তা হিসেবে জ্বালাময়ী, চাটুরসসমৃদ্ধ আর আবেগঘন বক্তৃতা করেছেন। ওই সভায় উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, জীববিজ্ঞানী, বন্দনাকারীরা কোনো না কোনোভাবে তারেককে মহান নেতা বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। ভাবতে অবাক লাগে, এঁরা কি বুদ্ধিজীবী! এত নিচে নামতে পারে শিক্ষকদের সাংস্কৃতিক রুচি, এই নৈতিক অধঃপতন জাতির জন্য সত্যিই ভয়ংকর আর বিপজ্জনক!
আজ এ কথা বলার সময় এসেছে যে সামরিক শাসকেরা রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্যই শুধু কঠিন করেননি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত(?) কিছু মানুষের বোধশক্তিকে ধ্বংস করেছেন, সমাজে সীমাহীন লোভ তৈরি করেছেন আর বিবেককে বন্ধক দিতে প্ররোচিত করেছেন। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা কেন তাঁদের সন্তানের বয়সী একজন বহুল বিতর্কিত ‘রাজনৈতিক-আপদে’র বন্দনা করতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন? হয়তো রাজনৈতিক আনুকূল্য নিয়ে আরও বেশি হালুয়া-রুটির ভাগ নেওয়া। আগে যিনি হালুয়া পেয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য ভবিষ্যতে আরও বেশি অংশীদারি। তাঁরা বিবেক বন্ধক রেখে প্রতিযোগিতায় নামেন, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েন বলেই আজ আর শিক্ষকদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক, সরদার ফজলুল করিম, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আনিসুজ্জামান কিংবা হুমায়ুন আজাদদের প্রতিচ্ছবি দেখি না। এটা শুধু লজ্জারই নয়, শঙ্কারও। সমাজকে, বুদ্ধি-বিচক্ষণতাকে, শিক্ষিত মানুষের মগজ আর ব্যক্তিত্বকে লোভ-নীতিহীনতা যখন গ্রাস করেছে, অবক্ষয় যখন গাঢ় হচ্ছে, তখন আমাদের বাতিঘরগুলোর আলো নিভে যাচ্ছে; এখান থেকে মুক্তি মিলবে কবে? তারেক-জয়ের বন্দনা শুনতে চাই না, জাতির আলোকিত সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে সত্য-ন্যায় আর সুন্দরের কথা শুনতে চাই, তা যদি নির্মমও হয়। কিন্তু কষ্টের ব্যাপার হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ আজ নিজেদের মৌলিক পরিচয়ে পরিচিত হতে চায় না, শ্রেণীকক্ষে ছাত্রদের সক্রেটিসের দর্শন পড়ালেও নিজেরা সত্য কথাটি বলতে চান না। তাঁরা পরিচিত হতে চান আওয়ামী বা বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে, আর সেই কারণে হয়তো ক্যাম্পাসে ব্যানার হাতে মিছিল করেন নেতা বা নেত্রীর নামের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করে মাসের পর মাস ফেলে রেখে পরচর্চা আর বন্দনায় সময় ব্যয় করেন, রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে গিয়ে ‘হাজিরা খাতায় নাম তুলতে’ ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি মিলবে কবে? আদৌ মিলবে কি?
লেখকেরা: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও প্রকৌশলী।

নবরূপে বিশ্ববেহায়া by এ জেড এম আবদুল আলী

সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিলের খবর যেদিন বের হয়েছে, সেদিনকার অনেকগুলো খবরের কাগজ আমি দেখেছি এবং দেখে বিস্মিত হয়েছি। অনেক খবর, অনেক মন্তব্য প্রতিবেদন পড়েছি। পঞ্চম সংশোধনী বেআইনি ঘোষণার পর সপ্তম সংশোধনীও যে ওই একই পথে যাবে, তা মোটামুটি সবাই আমরা জানতাম। কিন্তু আমি বিস্মিত হয়েছি অন্য একটি কারণে। কোনো খবর, কোনো মন্তব্য প্রতিবেদনের কোথাও এ কথাটি উল্লেখ করেননি যে এরশাদ একজন ‘বিশ্ববেহায়া’। এই নাম তাঁকে দিয়ে গিয়েছিলেন শিল্পী কামরুল হাসান তাঁর মৃত্যুর খানিক আগে। তাঁর দেওয়া এই নাম, তা যে কতখানি সত্য, তার প্রমাণ পাওয়া গেল সপ্তম সংশোধনীসংক্রান্ত রায়টি যেদিন বের হলো, সেদিনই। আর কেউ কিছু বলার আগেই এরশাদ উচ্চকণ্ঠে স্বাগত জানালেন সেই রায়কে। অত বড় একটি অপকর্ম করে সেই অপকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ না করে বললেন, হাইকোর্টের এই রায়ে তিনি খুশি। রায় তিনি মাথা পেতে নিচ্ছেন, কেননা তিনি আইন ও সংবিধানের শাসনে বিশ্বাসী! সেদিনই তাঁর দলের এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি বললেন, ক্ষমতা গ্রহণের কোনো ইচ্ছে তাঁর ছিল না। কিন্তু জাতির এক ‘ক্রান্তিকালে’ তিনি বাধ্য হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। কথাগুলো বলে তিনি প্রমাণ করলেন যে এরশাদ শুধু একজন বিশ্ববেহায়াই নন, একজন ‘বিশ্ব মিথ্যুক’ও বটে। ১৯৮২ সালের যে সময় তিনি ক্ষমতা দখল করেছিলেন, তখন দেশে কোনো রকম ক্রান্তিকাল ছিল না। বরং সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। রাষ্ট্রপতি সাত্তার বেশ ভালোভাবেই দেশ পরিচালনা করছিলেন। ‘গালকাটা কামাল’, ‘ইমদু’ নামের অপরাধীকে পাকড়াও করে তিনি দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। দ্রব্যমূল্য ইত্যাদিও নিয়ন্ত্রণে ছিল। এমন সময় এরশাদ রাষ্ট্রপতি সাত্তারকে বন্দুকের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করলেন। যদিও তিনি এর আগে মাস দশেক থেকেই ষড়যন্ত্র করছিলেন, তবু এরশাদ বললেন, দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করার জন্য তিনি বাধ্য হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। তাঁর কোনো রকম রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই! কিছুদিন পরই একটি নির্বাচন দিয়ে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা ত্যাগ করবেন।
এহেন ডাহা মিথ্যে কথা বলে তিনি পরবর্তী প্রায় নয় বছর ক্ষমতায় রইলেন। দুর্নীতি দমন করবেন বলে ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনি দেশটিকে একটি তস্করতন্ত্র বা ক্লেপ্টোক্র্যাসিতে পরিণত করলেন। এ দেশের আর একজন বহুরূপী রাজনীতিবিদ মওদুদ আহমদের মতো তিনিও মুখটি শুকনো শুকনো রেখে হাসি হাসি ভাব করে নানা রকম সিরিয়াস মিথ্যে কথা বলতে লাগলেন। রতনে রতন চেনে।
সেই মওদুদ আহমদকে উপরাষ্ট্রপতি বানালেন এরশাদ। এমনিতেই তাঁর কুবুদ্ধির অভাব ছিল না, কিন্তু মওদুদ আহমদ এসে তাঁকে আরও কুপরামর্শ দিতে শুরু করলেন। অন্যায়ের ষোলকলা পূর্ণ হলো।
কী পারেন না এরশাদ? তাঁর পক্ষে সবই সম্ভব। ১৯৯৬ সালে সদ্য জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এরশাদ তাঁর জাতীয় পার্টি নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধলেন এবং সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলো। কিন্তু এরশাদের দল সেখানে এমনভাবে রইল যে শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে কোনো রকম অগ্রগতি করতে পারল না। এ ব্যাপারে এরশাদ তাঁকে কোনো রকম সহযোগিতা করলেন না। এর আগে তাঁর প্রায় নয় বছরের শাসনামলে তিনি ওই সব খুনিকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে থাকতে দিলেন। কারও বিরুদ্ধে কোনো রকম পদক্ষেপ নিলেন না।
এবার এরশাদের দল যথেষ্ট পরিমাণে আসন না পাওয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির পদ আদায় করতে পারলেন না। তা না হলে তিনি বলেই বেড়াচ্ছিলেন যে তিনিই রাষ্ট্রপতি হবেন। তাঁর মতে, ‘ওয়ান্স এ প্রেসিডেন্ট অলওয়েজ এ প্রেসিডেন্ট।’ তিনি শেষ পর্যন্ত মহাজোটে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবরকে বাড়িতে ছোট মাছ দিয়ে ডিনার খাইয়ে আপ্যায়ন করেছেন। অর্থাৎ তিনি বরাবরই দুই নৌকায় পা রেখে চলেছেন। চরম সুবিধাবাদের এ রকম উদাহরণ আমাদের দেশের রাজনীতিতে আর মাত্র একজনই আছেন।
এখন কী হবে? এরশাদ সাহেব বলে বেড়াচ্ছেন, শেখ হাসিনা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাঁকে যাতে আর কোনো বিচারের সম্মুখীন না হতে হয়, তা তিনি দেখবেন। অন্যদিকে, অনেক অভিজ্ঞ আইনবিদই বলছেন, প্রচলিত আইনেই তাঁর বিচার সম্ভব। একজন আইনবিদ আনিসুল হক বলেছেন, মিলিটারি অ্যাক্টে তাঁর বিচার হওয়া সম্ভব। আমরা মনে করি, তাঁর বিচার হওয়া উচিত। তা সে যে আইনেই সম্ভব হোক। তিনি ইতিমধ্যে বিএনপির আমলে পাঁচ বছর জেল খেটেছেন। এবারও তাঁর কমপক্ষে একটি প্রতীকী শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি এক দিন হলেও যেন জেলে কাটান। এবং জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি যেন জনসমক্ষে তাঁর সব অপকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাঁর প্রবর্তিত ‘রাষ্ট্রধর্ম’ যেন অবিলম্বে বাতিল হয়ে যায়। এ দেশে কোনো মানুষ যেন নিজেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক মনে না করে।
দেশে আবার সেনাশাসনের কথা অনেকে বলছেন, সেনাপতিরা যেহেতু সংবিধান দেখে ক্ষমতা গ্রহণ করেন না, সেহেতু ভবিষ্যতের সেনাদের অবৈধ ক্ষমতা গ্রহণের আশঙ্কা থেকেই যায়। কথাটি ঠিক। তবে আমরা মনে করি, যদি এ রকম কোনো ম্যান্ডেটরি আইন করা যায়, যাতে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের কমপক্ষে ২০ বছরের জন্য জেলে যেতেই হবে, তাহলে এর প্রবণতা কমবে। পূর্ব এশিয়ার কোনো কোনো দেশে এ রকম ম্যান্ডেটরি প্রাণদণ্ডের বিধান রয়েছে। সেসব দেশে আইনে আছে, কারও কাছে একটি বিশেষ পরিমাণের বেশি মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে প্রমাণিত হলে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ হবেই। বিচারকেরা চাইলেও তাঁর প্রতি কোনো রকম সহানুভূতি দেখাতে পারবেন না। তাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিতেই হবে। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের যদি ওই রকম ম্যান্ডেটরি জেল খাটার শাস্তির বিধান করা যায়, তাহলে ওই ধরনের ক্ষমতা দখলের প্রবণতা কমতে বাধ্য। আমাদের দ্বিতীয় একটি প্রস্তাব রয়েছে। এরশাদ নিজে একজন প্রচণ্ড ইসলামভক্ত মানুষ। তাই তিনি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখন সেই ইসলামি শরিয়া আইনেই তাঁর শাস্তি হতে পারে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত।
আসলে আমার এত কড়া কড়া কথা লেখার উদ্দেশ্য একটাই—এ দেশের মানুষের মনে সচেতনতা তৈরি করা। গণতন্ত্রকে এভাবে বারবার জিম্মি করে রাখার অধিকার কারও নেই। অনেক আগে একটি ইংরেজি চলচ্চিত্র দেখেছিলাম। ডেসপারেট আওয়ার্স নামে ওই ছবিটিতে দেখিয়েছিল, কী করে তিনজন জেল-পালানো খুনি আসামি একটি বাড়িতে ঢুকে লোকজনকে জিম্মি করে কয়েক দিন বাড়িটি চালিয়েছিল। তারা প্রতিদিন ওই বাড়ির একজন মানুষকে জিম্মি করে বাকি সবাইকে বাইরে বের হয়ে নিজ নিজ কাজে যেতে দিত। বাড়ির লোকজনকে বলা হয়েছিল, তারা যদি বের হয়ে কাউকে বলে যে তাদের বাড়িটি জেল-পালানো খুনিরা দখল করে রেখেছে, তাহলে বাড়ির জিম্মি ব্যক্তিটিকে হত্যা করা হবে। এভাবেই ওই জবরদখলকারী খুনিরা গোটা বাড়িটাকে জিম্মি করে রেখেছিল। জোর করে ক্ষমতা দখলকারী—সেনাপতি জিয়া ও পরে এরশাদ—ঠিক ওই একইভাবে গোটা দেশকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। জিয়া, মোশতাক ও বিচারপতি সায়েম কর্তৃক জারি করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করার কোনো পদক্ষেপ নেননি এরশাদ। জাতির জনকের ওই সব আত্মস্বীকৃত খুনিকে রাষ্টদূত পদে থাকতে দিয়ে যে অন্যায় তিনি করেছিলেন, তার জন্য কি কোনো শাস্তিই তিনি পাবেন না?
আমার বিশ্বাস, তা হতে পারে না। গণতান্ত্রিক কোনো দেশে বিচারের বাণী এভাবে কাঁদতে পারে না। এরশাদের বিচার এবং শাস্তি না হলে শহীদ নূর হোসেন, ডাক্তার মিলনদের আত্মার শান্তি হবে না, হতে পারে না।
এ জেড এম আবদুল আলী: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

মাহে রমজানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজান রহমত, বরকত, মাগফিরাত, নাজাত ও আল্লাহর কালাম আল-কোরআন নাজিলের মাস। আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজানের রোজা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে; ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলার শিক্ষা দেয়। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, আত্মঅহংবোধ ভুলে গিয়ে সুখী ও সুন্দর সমৃদ্ধিশালী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাসই হলো মাহে রমজান। উন্মতে মুহাম্মদীর নৈতিক চরিত্র উন্নত করে সাহাবায়ে কিরামের মতো আদর্শ জীবন গঠন করার প্রশিক্ষণ এ রমজান মাসেই গ্রহণ করতে হয়। রোজা মানুষকে প্রকৃত ধার্মিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়।
বিশ্বব্যাপী মাহে রমজান ইবাদত-বন্দেগির মাস হিসেবে পালিত হয়। রোজাদারদের ইবাদত-বন্দেগির ভেতর দিয়ে সব ধরনের অন্যায়-অত্যাচার, অশোভন-অনাচার, দুরাচার-পাপাচার ও যাবতীয় অকল্যাণকর কাজকর্ম থেকে বিরত হয়ে সংযম সাধনার পথ ধরে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়। ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করে একত্রে ইফতার, দীর্ঘ তারাবি নামাজ, সেহির—এ সবকিছুর মধ্য দিয়ে একজন রোজাদার ব্যক্তি মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়। আর ঈদুল ফিতরের উৎসব উদ্যাপনের মাধ্যমে মাহে রমজানের পরিসমাপ্তি ঘটে। রমজান মাসের সম্পূর্ণ কার্যক্রমটি ইসলামি সংস্কৃতির মহান ঐতিহ্য বহন করে নিঃসন্দেহে। সত্যিকার মুমিন হিসেবে গড়ে ওঠার অনুপম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাস এ রমজানুল মোবারক।
মাহে রমজানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া অর্জন করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সকল প্রকার নাফরমানি কাজ থেকে দূরে থাকার নামই তাকওয়া। মানুষের মনের গোপন কোণে যে কামনা-বাসনা আছে, আল্লাহ তাআলা সে সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল। আল্লাহর কাছে বান্দার মান-মর্যাদা নির্ধারণের একমাত্র উপায় তাকওয়া। এ তাকওয়াই মানুষের মনে সৎ মানবিক গুণাবলি সৃষ্টি করে। সুতরাং যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে বিরত থেকে ভালো কাজ করতে পারলেই রোজা পালন সফল ও সার্থক হবে। এভাবে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জিত প্রশিক্ষণ দ্বারা নিজেদের একজন সৎ, খোদাভীরু নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হতে হবে।
রমজান মাস থেকে তাকওয়া শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। খোদাভীতি অর্জন করার ক্ষেত্রে রোজার কোনো বিকল্প নেই। রোজার শিক্ষা নিয়ে তাকওয়ার গুণাবলি অর্জনের মধ্য দিয়ে মানুষ ইহকালীন কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তি লাভ করতে পারে। ঈমান ও আত্মবিশ্লেষণের সঙ্গে রোজা রাখলে জীবনের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এ শিক্ষা যদি বাকি ১১ মাস কাজে লাগানো যেত, তাহলে পৃথিবীতে এত অশান্তি, অনাচার থাকত না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে ‘যে সংশোধিত হলো, সেই সফলকাম হলো।’ (সূরা আল-আ‘লা, আয়াত-১৪)
মাহে রমজান মানুষকে ঐশ্বরিক গুণে গুণান্বিত হওয়ার এবং নিজেকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার শিক্ষা দেয়। আল্লাহর প্রতি প্রগাঢ় বিশ্বাস থেকে রোজাদার ব্যক্তির মনে সৃষ্টিকর্তার প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাস জন্মে এবং আল্লাহর প্রেমে তার অন্তর উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। রোজাদার একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজের ক্ষুধা, তৃষ্ণা, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ প্রভৃতি রিপু দমনপূর্বক রোজা পালন করেন। রোজার মাধ্যমে মানুষ পরমতসহিষ্ণুতা ও হতদরিদ্রের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা লাভ করে। তাই মাহে রমজানে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার দৃপ্ত শপথ নিতে হবে।
মাহে রমজানের রোজা মানুষের ভেতর ও বাহির—দুই দিকের সংশোধন করে। মানুষের বাতেন বা ভেতরের অবস্থা পরিবর্তন করা অর্থাৎ আলোকিত করা এবং তার স্বভাব, চরিত্র, আচার-আচরণ সংশোধনপূর্বক প্রকাশ্যভাবে সুন্দর করে গড়ে তোলা রোজার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে রোজা মানুষকে পার্থিব লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, পরচর্চা, পরনিন্দা, মিথ্যাচার, প্রতারণা, অতিরিক্ত সম্পদ অর্জনের আকাঙ্ক্ষা প্রভৃতি থেকে দূরে সরিয়ে রেখে আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়।
রোজা মানুষকে সংযমী মনোভাব গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ দেয়। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এ সংযমিতার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ নিজের নফস বা অন্তঃকরণকে পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। মাহে রমজানের এ শিক্ষাকে সবর বা ধৈর্য ও সহনশীলতার শিক্ষা বলা হয়। রমজান মাসে রোজাদার ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ক্ষুধার্ত থাকেন এবং অনাহারি, অর্ধাহারিদের সঙ্গে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তাই মাহে রমজান মানুষকে দুঃখীজনের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষা দেয়, সৃষ্টিজগতের প্রতি উদার. সহমর্মিতা ও দয়াশীল হতে শিক্ষা দেয়। মাহে রমজানের এ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়, শুধু রমজান মাসে নয়, সমগ্র জীবনে যদি সবাই দুঃখীজনের পাশে থাকি, তবে মানব সমাজে আর কোনো রকম অসাম্য থাকতে পারে না।
মাহে রমজানের রোজা পালন করে মানুষ ইবাদত-বন্দেগির দ্বারা আল্লাহর অশেষ নিয়ামতের শোকর আদায় করতে শেখে এবং আল্লাহর বিধি-বিধানের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারে। রোজার জন্য আল্লাহ পাক নিজে সওয়াব প্রদানের সুসংবাদ দিয়েছেন। ইসলামের নির্ধারিত প্রতিটি ইবাদতই একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য হয়ে থাকে। এমনিভাবে যদি কেউ সমস্ত কামনা-বাসনা ত্যাগ করে ঐকান্তিকতার সঙ্গে রোজা রাখে এবং ধৈর্যের সঙ্গে যাবতীয় কষ্ট সহ্য করে তাহলে সে অবশ্যই সৌভাগ্যের অধিকারী হতে পারে।
রোজা বা সিয়াম সাধনার দ্বারা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক স্নেহ, ভালোবাসা, মায়া-মমতা, আন্তরিকতা, দানশীলতা, বদান্যতা, উদারতা, ক্ষমা, পরোপকারিতা, সহানুভূতি, সমবেদনা প্রভৃতি সদাচরণ জন্মায়। মাহে রমজানের যে মহান শিক্ষা তা গ্রহণ করে আমাদের সমাজ ও পারিবারিক জীবনে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রোজা আমাদের যে পরহেজগারি শিক্ষা দেয় সে অনুযায়ী মানব জীবন পরিচালিত করা উচিত। মাহে রমজানে যে সংযম সাধনার শিক্ষা রয়েছে, আমাদের জাতীয় জীবনে তার যথার্থ প্রতিফলন ঘটাতে হবে।তাই রোজাদারের রোজা রেখে যথাসম্ভব বেশি পরিমাণে নেক কাজ করা দরকার এবং প্রতিটি ভালো কাজেই অংশগ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।
প্রকৃতপক্ষে মাহে রমজান মুসলমানের ব্যক্তিগত জীবন থেকে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক জীবনসহ সর্বস্তরে অনুশীলনের দীক্ষা দিয়ে যায়। তাই আসুন, রোজার প্রকৃত শিক্ষা ও উদ্দেশ্যের প্রতি যত্নবান হয়ে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজেদের মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করি, মানবিক গুণাবলিতে জীবনকে আলোকিত করি; তাহলে মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা অর্থবহ হবে। তখন মানুষের মধ্যে গড়ে উঠবে সুমধুর সম্পর্ক, বিদায় নেবে অরাজকতা, অন্যায়-অনাচার এবং দুর্নীতি ও ভেজালমুক্ত হয়ে আদর্শ জাতি হিসেবে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব। রমজান মাসের পরিসমাপ্তি বয়ে আনুক সমাজ জীবনে আমূল পরিবর্তন, খোদাভীতি, আত্মসংযম ও মানবপ্রেম। মাহে রমজানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আলোকে যেন সারা জীবন সৎভাবে অতিবাহিত করে আল্লাহর অশেষ করুণা ও ক্ষমা লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে পারি, আল্লাহ পাক আমাদের সেই তাওফিক দান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

শকুনের জন্য শোক -প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সব প্রাণ গুরুত্বপূর্ণ

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ‘শকুন’ গল্পে গ্রামের ছেলেরা পিটিয়ে শকুন মেরে উল্লাস করে। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের আবহে সেই শকুনটি যেন স্বৈরশাসক আইয়ুব খান এবং সেনাশাসনের তাঁবেদার ‘মৌলিক গণতন্ত্রী’ মাতবরদের প্রতীক হিসেবে এসেছিল। গল্পের শকুনটির মৃত্যু যেন শোষকদের পরাজয়েরই প্রতীক। কিন্তু এখন দেশের ৯৮ শতাংশ শকুন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সংবাদে খুশি না হয়ে দুঃখ ও উদ্বেগই জাগছে। সম্প্রতি ঢাকায় এক সেমিনারে দেশের পাখিপ্রেমিক ও প্রাণী বিশেষজ্ঞরা সেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাঙালি সংস্কৃতিতে শকুন কোনো দিন আদর বা প্রীতি পায়নি। পাখিটির রূপহীনতা আর মৃত পশু ভক্ষণের স্বভাবই এর জন্য দায়ী। তা হলেও প্রকৃতির কাছে শকুনের মূল্য অসামান্য। আর সব পাখির মতো শকুনও প্রাণিজগতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এরও গুরুত্ব রয়েছে। শকুন প্রকৃতির ‘ক্লিনার’ হিসেবে মৃত প্রাণী ভক্ষণ করে বলেই মৃত প্রাণীর দেহের জীবাণু অন্য প্রাণীকে আক্রমণ করতে পারে না। কিন্তু দেশময় গবাদিপশুকে ডাইক্লোফেনাকসহ বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ানোয় এসব পশু মরে গেলে তার মাংস খেয়ে দলে দলে শকুনের মৃত্যু হচ্ছে। শকুনের দোয়ায় গরু না মরলেও গরুর দেহের বিষে শকুন মরছে। বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, শকুন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে গবাদিপশুর অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা ও খুরা রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি এলাকায় গরুর অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগে মৃত্যু এবং মানুষের মধ্যে তার সংক্রমণের পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে ‘লাল হুঁশিয়ারি’ জারি হয়েছে। এ ঘটনায় যদি শকুনের গুরুত্ব সবাই উপলব্ধি করে, তবে শকুনও বাঁচে, মানুষও বাঁচে।
প্রথম আলোর সংবাদে বিশেষজ্ঞরা শকুন রক্ষায় গবাদিপশুর ব্যথানাশক ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ও ক্লিটোফেনাক নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন। আশা করি, সরকার দ্রুতই তা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু মানুষ ও প্রাণিকুলের জন্য ক্ষতিকর এমন অনেক ওষুধ ও রাসায়নিকের দেদার ব্যবহূত হয়ে চলেছে, যা চিহ্নিত ও নিষিদ্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু দেখা যায়, মৃত্যু, বিপর্যয় ও মহামারি না হওয়া পর্যন্ত কারও টনক নড়ে না।
অনেক সময় দেখা যায়, এ ধরনের পরিস্থিতি একশ্রেণীর ওষুধ কোম্পানির জন্য পোয়াবারো হয়ে ওঠে। তাই সরকারকে সঠিকভাবে রোগের কারণ চিহ্নিত করা, প্রতিকারের যথাযথ উপায় খুঁজে বের করা এবং বাণিজ্যিক অভিলাষ প্রতিরোধেও সজাগ থাকতে হবে।

আমলাতন্ত্রের অযাচিত হস্তক্ষেপ -নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবেই কাজ করার কথা। কিন্তু বিধি প্রণয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের টক্কর লেগে আছে। অনেক সময় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কমিশনের কাজকর্ম চালানো দুরূহ হয়ে পড়ে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যা যা প্রয়োজন, তা তাদেরই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব তাদের সহায়তা করা; পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি নয়।
রোববার এক সেমিনারে নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের কাজে যদি কেউ সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে তা হলো আমলাতন্ত্র; রাজনৈতিক দল নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনের সচিব নিয়োগ এবং সারা দেশে নির্বাচন কমিশনের সার্ভার স্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতাও তুলে ধরেন। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর অনুমোদনের পরও সার্ভার স্টেশন তৈরি না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যাঁরা বাধা সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
বেশ কিছুদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের সচিবের পদটি খালি আছে। কমিশনের সাবেক সচিব মুহম্মদ হুমায়ুন কবির গত জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও কয়েকটি উপনির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিদেশে থাকাকালে সচিবকে সরিয়ে দেওয়া কেবল নজিরবিহীন নয়, কমিশনের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপও বটে। সিইসি কমিশনের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য তিনজনের নাম পাঠালেও সংস্থাপন মন্ত্রণালয় অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত কাউকে নিয়োগ দেয়নি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেবল সচিব নন, সব পর্যায়ের কর্মকর্তা বাছাইয়ের ক্ষমতাও কমিশনকে দিতে হবে। কমিশনকে না জানিয়ে সম্প্রতি দুই কমিশনারের বাসভবন থেকে নিরাপত্তা প্রহরী তুলে নেওয়াও সমীচীন হয়নি।
আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভাগুলোর নির্বাচন হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু আইনি জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধার কারণে তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে জানিয়েছে, বিধি পরিবর্তন না করা হলে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। বর্তমান আইনে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ওয়ার্ডের সীমা পুনর্নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা যাবে না। গত সোমবার মন্ত্রিসভা বিধানটি বাতিল করে দেওয়ায় সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।
নির্বাচন কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারে, সেই নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে। সব পর্যায়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে এর বিকল্প নেই। অতএব, নির্বাচন কমিশন সব ধরনের হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে—সেটাই প্রত্যাশিত।

অবশেষে গিলার্ডই অস্ট্রেলিয়ায় সরকার গঠন করছেন

শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র সাংসদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় থাকছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। গতকাল মঙ্গলবার দুইজন স্বতন্ত্র সাংসদ গিলার্ডের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। এতে সরকার গঠন নিয়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হলো।
প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশ পরিচালনার জন্য লেবার পার্টি প্রস্তুত।’ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল।
২১ আগস্টের নির্বাচনে গিলার্ডের লেবার পার্টি কিংবা বিরোধী নেতা টনি অ্যাবটের নেতৃত্বাধীন লিবারেল-ন্যাশনাল জোট—কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৭৬টি আসন পেতে ব্যর্থ হয়। এতে স্বতন্ত্র সাংসদ বব কাটার, টনি উইন্ডসর ও রব ওয়াকেশট ‘কিংমেকার’ হয়ে ওঠেন।
সরকার গঠনের জন্য লেবার পার্টি ও বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওই তিন সাংসদ। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁদের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়। বব কাটার অ্যাবটের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে উইন্ডসর ও ওয়াকেশট সমর্থন জানান জুলিয়া গিলার্ডকে।
গতকাল মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজের সামান্য পর নর্থ কুইন্সল্যান্ডের বব কাটার ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হয়ে ঘোষণা করেন, তিনি লিবারেল-ন্যাশনাল জোটের পক্ষে রয়েছেন। তিনি বলেন, কুইন্সল্যান্ডের কেভিন রাডের প্রতি যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তাতে তিনি ক্ষুব্ধ।
কাটার বলেন, ‘কেভিনের ভাবনা ও আমার ভাবনা প্রায় একই রকম।’ তিনি আরও বলেন, কেভিনের সঙ্গে তাঁর ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড ক্ষমতাচ্যুত হন।
কাটারের ঘোষণার এক ঘণ্টা পর উইন্ডসর গিলার্ডের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
শেষে ওয়াকেশটের ঘোষণার মাধ্যমে গিলার্ডের ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ওয়াকেশট বলেন, সরকারের প্রতি তিনি আস্থা প্রকাশ করছেন। তার মানে হলো জুলিয়া গিলার্ডের প্রতিও তাঁর আস্থা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার জনগণ আমার প্রতি, লেবার পার্টি ও পার্লামেন্টের প্রতি একটি বার্তা পাঠিয়েছেন...আমি সেই বার্তা জোরালো ও পরিষ্কারভাবে শুনতে পেরেছি।’
উইন্ডসর ও ওয়াকেশটের সমর্থনের পর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৭৬ আসন স্পর্শ করে লেবার পার্টি। অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত অ্যাবটের জোট পেয়েছে ৭৪টি আসন।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সপ্তমবারও ব্যর্থ হলো নেপাল

নেপালের পার্লামেন্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সপ্তমবারের মতো ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় শিগগির নতুন সরকার গঠন করা না হলে দেশ গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়বে বলে পার্লামেন্টের স্পিকারের আশঙ্কাই সত্যি হলো।
মাওবাদীদের ক্ষমতা ভাগাভাগির চাপের মুখে ৩০ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল পদত্যাগ করেন। মূলত তারপর থেকে দেশটিতে কোনো সরকার নেই। তখন থেকে নতুন একটি সরকার গঠন করে একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সাতবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো দেশটির পার্লামেন্ট।
২০০৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের আগ পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে লিপ্ত ছিল মাওবাদীরা। নির্বাচনে তারা সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও দেশশাসনের কর্তৃত্ব পায়নি।

নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্মের সন্ধান

রোমানিয়ায় নতুন প্রজাতির বেঁটে ও মোটাসোটা শিকারি ডাইনোসরের জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ওই প্রজাতির পায়ে দুই জোড়া থাবা ছিল। ডাইনোসর যুগের শেষ বছরগুলোতে ইউরোপে শিকারি ডাইনোসরগুলো দেখতে কেমন ছিল, তা জানতে এই জীবাশ্ম সহায়তা করবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।
ডাইনোসরটির নাম ‘ব্যালাউর বনডক’। এর মানে ‘বেঁটে ড্রাগন’। ডাইনোসরের ভেলোসির‌্যাপটর প্রজাতির সঙ্গে এদের সম্পর্ক রয়েছে। ওই প্রজাতির চেয়ে এদের ২০টি বৈশিষ্ট্য আলাদা।
গত সোমবার প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস সাময়িকীতে নতুন প্রজাতির এই ডাইনোসরদের নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। গবেষণাপত্রের লেখক মার্ক নোরেল বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কিছুর অকল্পনীয় সন্ধান পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। ব্যালাউর বনডক বেশ মোটাসোটা। এর হাত-পা অকল্পনীয় খাটো। এ থেকে বোঝা যায়, ডাইনোসর যুগের শেষ সময়ে ওই অঞ্চলের প্রকৃতি কত অস্বাভাবিক ছিল।’
গবেষণাপত্র থেকে জানা গেছে, লেজসহ ব্যালাউর বনডকের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১ দশমিক ৮ মিটার থেকে ২ দশমিক ১ মিটার পর্যন্ত। শক্তিশালী পেছনের পায়ে ভর দিয়ে চলাফেরা করত এটি।

লন্ডনে রেলকর্মীদের ধর্মঘট, লাখ লাখ যাত্রীর দুর্ভোগ

কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে লন্ডনে পাতাল রেলের কর্মীরা ধর্মঘট করায় লাখ লাখ যাত্রী বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। গত সোমবার দুই দফায় কর্মীরা কর্মস্থল ত্যাগ করলে যাত্রীরা এ দুর্ভোগের মুখে পড়েন।
কর্মকর্তারা বলেন, স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটায় ব্যবস্থাপনা কর্মীরা কর্মস্থল ছেড়ে যান। এর চার ঘণ্টা পর সকাল নয়টায় ট্রেনের ড্রাইভার, সিগন্যালার এবং স্টেশনের কর্মীরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এর ফলে নর্দার্ন লাইন ছাড়া বাকি সব লাইনের ট্রেন চলাচল আংশিক অথবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে ট্রেনের লাখ লাখ নিয়মিত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। কাজে যাওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে তাঁদের বাস, ট্যাক্সি এবং নৌকায় চড়তে হয়। তাঁদের চলাচলের জন্য টেমস্ নদীতে অতিরিক্ত নৌকার ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া প্রায় ১০০ অতিরিক্তি যাত্রীবাহী বাস নামানো হয়।

ইসরায়েলের বসতি নির্মাণ নিয়ে বিরোধ মীমাংসার আহ্বান আব্বাসের

ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণের ওপর ইসরায়েলের ১০ মাসের আংশিক স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন স্থগিতাদেশের মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা হবে না।
মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, বসতি নির্মাণের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল না রাখলে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসবেন। গত সোমবার তিনি বলেন, বসতি ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটন থেকে দেশে ফেরার পথে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, শান্তি আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওবামা প্রশাসন।
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আবারও মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে দুবার বৈঠকে মিলিত হবেন। প্রথম দফার বৈঠক হবে মিসরের অবকাশ কেন্দ্র শার্ম আল-শেখে। দ্বিতীয় বৈঠক হবে জেরুজালেমে।

রাজাপক্ষে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এ ক্ষেত্রে তাঁর পথ পরিষ্কার করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি পর পর তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়া-সংক্রান্ত সংবিধানের সংশোধনীটি পার্লামেন্টেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে পাস করা যাবে। এ জন্য কোনো গণভোটের প্রয়োজন হবে না।
প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের তরফ থেকে ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি বিল আজ বুধবার পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে। আলোচনা শেষে আজই বিলটির ওপর ভোটাভোটি হবে। ২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টে বিলটি পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াং সদস্যের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন তিনি। বিলটি পাস হলে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে না পারার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না।
রাজাপক্ষে এ বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২০১৬ সালে তাঁকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু সংশোধনী পাস হলে এর পরও তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
গতকাল রাজাপক্ষের বড় ভাই ও বর্তমান পার্লামেন্টের স্পিকার কমল রাজাপক্ষে পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাসের জন্য কোনো গণভোটের প্রয়োজন হবে না। পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন পাওয়া গেলেই বিলটি পাস করা যাবে।
এদিকে সংবিধান সংশোধন উদ্যোগের প্রতিবাদে গতকালশ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় একদল আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় একটি কফিনকে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে তুলেধরে পোড়ানো হয়।
রাজাপক্ষের মন্ত্রিসভা গত সপ্তাহে প্রস্তাবিত এ সংবিধান সংশোধনী বিলটি অনুমোদন করে।
রাজাপক্ষে ২০০৫ সালে প্রথমবার ক্ষমতা আসেন। এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তামিল টাইগার গেরিলাদের পরাজিত করে কয়েক দশকের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বর্তমানে তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে রাজাপক্ষে মূলত ক্ষমতা আরও সুসংহত করতে চাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতাদের দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

সাকিনাহর মৃত্যুদণ্ডের স্থগিতাদেশ এখনো বহাল: ইরান

ব্যভিচারের দায়ে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ইরানি নারী সাকিনাহর মৃত্যুদণ্ডাদেশ এখনো স্থগিত আছে। গতকাল মঙ্গলবার তেহরানের পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়।
ইরানের আদালত সাকিনাহ্ মোহাম্মাদী আশতিয়ানিকে পাথর ছুড়ে হত্যার রায় দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার কঠোর সমালোচনা করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে রায় অস্থায়ীভাবে স্থগিত ঘোষণা করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
স্বামীর হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার দায়ে দুই সন্তানের জননী সাকিনাহেক ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাশত গতকাল সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাকিনাহর মামলা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। অবৈধ সম্পর্কের জন্য দেওয়া দণ্ডাদেশ স্থগিত রয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সাকিনাহর ছেলে সাজ্জাদ গত সোমবার বলেন, পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার পর তাঁর মায়ের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তিনি বলেন, ‘রমজান শেষ হয়ে আসছে। ইসলামি আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর আবারও শুরু করা যাবে।’
এদিকে সাকিনাহর জীবন রক্ষায় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভ্যাটিকান।
সাকিনাহর ছেলে ইতালির একটি বার্তা সংস্থার কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর মায়ের জীবন বাঁচানোর আকুতি জানানোর পর ভ্যাটিকান এ কথা জানাল।
ভ্যাটিকানের মুখপাত্র ফেডেরিকো লমবারডি এক বিবৃতিতে জানান, তাঁরা বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবারই জানা আছে। আর পাথর ছুড়ে হত্যা সে তো আরও বর্বরোচিত ব্যাপার।’
ফেডেরিকো জানান, সাকিনাহর জীবন রক্ষায় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেবে ভ্যাটিকান, তবে এ ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো অনুরোধ বা আহ্বান জানানো হবে না।

পরস্পরকে অভিনন্দন জানালেন দুই দেশের কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হওয়ায় গত সোমবার পরস্পরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশ দুটির কর্মকর্তারা। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি এবং তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বৈঠককে কেন্দ্র করে চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর এই দুটি দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
দুই দেশের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল বেইজিং সফর করছে। গতকাল মঙ্গলবার চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওয়াং কিসানের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠক হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের চার দিনের সফরের উদ্দেশ সম্পর্কে কোনো পক্ষ থেকেই স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
উপপ্রধানমন্ত্রী ওয়াং কিসান অবশ্য বলেন, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থমাস ডনিলসন এবং মার্কিন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের চেয়ারম্যান ল্যারি সামারসের সঙ্গে আলোচনায় তিনি চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।
ল্যারি সামারস বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার প্রতি জোর দিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরকেও দারুণ গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বৈঠকের আগে সামারস আরও বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশই লাভবান হবে। এর মাধ্যমে আমরা পরস্পরের চিন্তাভাবনাগুলো সম্পর্কে বুঝতে পারব।
এর আগে চীনের ক্ষমতাসীন দল কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম নেতা লি ইউয়ানচাও বলেন, কিছু বিষয় ছাড়া চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সঠিক পথেই রয়েছে।

কাশ্মীরে কারফিউ, তিন মাসে ৬৯ বিক্ষোভকারী নিহত

নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চারজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গতকাল মঙ্গলবার আবারও কারফিউ জারি করা হয়। কারফিউ কড়াভাবে পালনের জন্য হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
গত ১১ জুন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্র নিহত হওয়ার পর থেকে কাশ্মীরে বিক্ষোভ শুরু হয়। টানা তিন মাসের এ বিক্ষোভ দমনে কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। বিগত তিন মাসের বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৬৯ জন নিহত হয়। তাদের অধিকাংশ বয়সে তরুণ। গতকালের কারফিউ চলাকালে সেনারা কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরসহ আশপাশের এলাকার রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয়। লোকজনকে বাইরে বের হতে কঠোরভাবে বারণ করে দেওয়া হয়। এ সময় শ্রীনগর ও এর আশপাশ দৃশ্যত এক অবরুদ্ধ নগরে পরিণত হয়
সেনারা শ্রীনগরের আশপাশের এলাকা ও অন্যান্য শহর অবরোধ করে রাখে এবং হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ঠেকাতে বাসিন্দারা যাতে বাড়ির বাইরে বের হতে না পারে, সেজন্য তারকাঁটা, লোহার গেট ও পরিত্যক্ত গাড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। শ্রীনগরে পুলিশ কর্মকর্তা পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা শান্তি বজায় রাখতে কারফিউ কঠোরভাবে বলবৎ করেছি।’
কাশ্মীরে ভারতীয় শাসন অবসানের দাবিতে গত সোমবার রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় পলহেলান গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চারজন নিহত হন।
স্থানীয় লোকজন দাবি করেছেন, বিক্ষোভ মিছিলটি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কোনো ইটপাটকেল ছোড়া হয়নি সেখান থেকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনী বিনা উসকানিতে তাদের ওপর গুলি ছোড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোকজন শ্রীনগর ও মুসলিম অধ্যুষিত অন্যান্য শহরের বিভিন্ন রাস্তায় সোমবার সন্ধ্যায় বের হয়ে আসেন এবং মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ভারতবিরোধী বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে ভারতবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।

তেল-গ্যাসসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভারতে বন্ধ্ পালিত

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে ২৪ ঘণ্টার ভারত বন্ধ্ পালিত হয়েছে। বনেধর ডাক দেয় বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন সিটু এবং জাতীয় কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসিসহ ভারতের নয়টি শ্রমিক সংগঠন।
অন্য যেসব শ্রমিক সংগঠন এই বনেধ্র ডাক দেয় তাদের মধ্যে ছিল এআইটিইউসি, এইচএমএস, আইএনটিইউসি, এআইইউটিইউসি, ইউটিইউসি, এলপিএফ এবং বিএমএস। তবে এবারে ধর্মঘটের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয় রেল ও বিমান পরিষেবাকে। পবিত্র ঈদের কথা ভেবে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম সংখ্যালঘু এলাকাকে বনেধ্র আওতা থেকে মুক্ত রাখা হয়।
এই বনেধর ডাকে তিনটি বামশাসিত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও ত্রিপুরার জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। অন্যান্য রাজ্যেও কম বেশি এই বনেধর প্রভাব পড়ে গতকাল রাস্তাঘাটে যান চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। শিল্পকারখানায় কাজ হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল। দমদম বিমান বন্দর থেকে কোনো বেসরকারি বিমান সংস্থার বিমান আকাশে ওড়েনি। তবে হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশনে ট্রেন চলেছে। চলেছে পাতাল রেলও।
এদিকে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস বনেধর বিরোধিতা করে। তারা বনেধর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, সমাবেশ ও পিকেটিং করেছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন খাদ্যনিরাপত্তার জন্য হুমকি

রাশিয়ায় খরা ও পাকিস্তানে বন্যা বৈশিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেখা দিচ্ছে আকস্মিক বন্যা ও খরা। এ কারণে বিশ্বের খাদ্যনিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে সমবেত এক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।
২০তম ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার উইক’ উপলক্ষে গত রোববার শুরু হওয়া ওই সম্মেলনে ১৩০টি দেশের প্রায় আড়াই হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন। সম্মেলন শেষ হবে আগামী শনিবার।
সম্মেলনে ভারতের বিজ্ঞান ও পরিবেশ কেন্দ্রের প্রধান সুনিতা নারায়ণ বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আরও পানি ও বৃষ্টিমুখর দিন চাই, যেন তা খরা মোকাবিলায় সহায়ক হয়। আবার বন্যা হওয়ার মতো অত বেশি বর্ষণও চাই না।’
সুনিতা নারায়ণ এমন সময় এসব কথা বললেন, যখন পাকিস্তানে স্মরণকালের ভয়াবহতম বন্যার পর ৮০ লাখ মানুষ এখন বেঁচে থাকার জন্য ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ওদিকে রাশিয়া এখনো স্মরণকালের ভয়াবহ খরা ও দাবদাহ মোকাবিলা করছে। খরা ও দাবানলে দেশটির এক-চতুর্থাংশ ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকট মেটাতে সরকার খাদ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গমসহ অন্যান্য খাদ্য-মূল্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক খাদ্য-সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের প্রধান কোলিন চারট্রেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বৃষ্টিনির্ভর ফসলের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার কৃষকের জীবিকা বৃষ্টিপাতের ক্রমবর্ধমান হ্রাসের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’
ওয়ার্ল্ড ওয়াটার উইকের পরিচালক জ্যাঁ বারগ্রেন স্বীকার করেন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষির ব্যাপক ক্ষতি করছে।

পাকিস্তানে গাড়িবোমা হামলায় ২০ জন নিহত

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে গাড়িবোমা হামলায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
কোহাটের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা খালিদ খান জানান, এটি একটি গাড়িবোমা হামলা। গাড়িটি পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে পার্ক করা, কিংবা কোনো আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এটির বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রাদেশিক তথ্যমন্ত্রী মিয়া ইফতেখার হোসেন জানান, হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫০ জনেরও বেশি। কোহাট পুলিশের মুখপাত্র ফজল নাইম নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
হামলায় পুলিশ সদর দপ্তর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের বেশ কয়েকটি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। কেউ এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। তবে কর্তৃপক্ষের ধারণা, তালেবান জঙ্গিরা এ হামলা চালিয়েছে। গত সপ্তাহে লাহোরে চালানো তালেবানের হামলায় ৩৫ জন নিহত হন।

রাজশাহীতে সোনালী ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং চালু

সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের রাজশাহী করপোরেট শাখায় অনলাইন ব্যাংকিং চালু করা হয়েছে। এ নিয়ে সোনালী ব্যাংকের ৫৩টি শাখায় অনলাইন ব্যাংকিং চালু হলো।
ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক হাসান ইকবাল প্রধান অতিথি হিসেবে গত রোববার এই অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মমতাজ পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক গোলাম ফারুক ও জোবেদা খাতুন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাসান ইকবাল বলেন, অচিরেই এই শাখায় এটিএম বুথও চালু করা হবে।
হাসান ইকবাল আরও বলেন, রাজশাহীতে সোনালী ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং ও মার্চেন্ট ব্যাংকিং চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে এই শাখার গ্রাহকেরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস করে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের ব্যাংক হিসাবের স্থিতি ও সংক্ষিপ্ত হিসাববিবরণী জানতে পারবেন।

জুলাই মাসে বিনিয়োগ বোর্ডে ১৫৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে

বিনিয়োগ বোর্ডে গত জুলাই মাসে ১৫৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে।
নিবন্ধিত এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা, যা আগের মাসের চেয়ে তিন হাজার ২০৫ কোটি ছয় লাখ টাকা বেশি।
জুন মাসে মোট নিবন্ধিত শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৫২১ কোটি ছয় লাখ টাকা।
জুলাই মাসে মোট নিবন্ধিত শিল্পের মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগে ১৪৩টি শিল্পের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ চার হাজার ৯৮০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ৩৪টি শতভাগ বিদেশি ও ছয়টি যৌথ বিনিয়োগসহ মোট ১০টি শিল্পের বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৪৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
গত জুন মাসে বিনিয়োগ বোর্ডে স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত ১৩৪টি শিল্প ইউনিটের বিনিয়োগ ছিল দুই হাজার ২৫১ কোটি টাকা এবং যৌথ ও শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে নিবন্ধিত ১৯টি শিল্পের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৭০ কোটি ছয় লাখ টাকা।
তার মানে, জুলাই মাসে জুন মাসের তুলনায় স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব বৃদ্ধি পেয়েছে ১২২ শতাংশ, যৌথ ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭৬ শতাংশ এবং মোট বিনিয়োগ প্রস্তাব বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১২৭ শতাংশ।
তবে গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছরের জুলাই মাসে মোট বিনিয়োগ ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
গত জুলাই মাসে মোট নিবন্ধিত শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ৮৫৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
প্রতিবেদনাধীন মাসে স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত শিল্পের সর্বাধিক বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে বস্ত্র খাতে ৬৯ শতাংশ, এরপর যথাক্রমে সেবা খাতে ১০ শতাংশ, ফুড অ্যান্ড এলাইড খাতে ৭ শতাংশ, কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে ৫ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনাধীন মাসে বিনিয়োগ বোর্ডে নিবন্ধিত শিল্পে মোট ২৯ হাজার ৯১৬ জনের কর্মসংস্থানের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

ডিএসই সভাপতির প্যাড ও স্বাক্ষর জাল করে সদস্যপদ বিক্রির চিঠি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নতুন সদস্যপদ বিক্রির মিথ্যা প্রচারণায় নেমেছে একটি চক্র। সংস্থাটির সভাপতি শাকিল রিজভীর নাম ব্যবহার করেই এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। চক্রটি শাকিল রিজভীর প্যাড ও সই জাল করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চিঠি দিয়ে সদস্যপদ কেনার আহ্বান জানাচ্ছে।
এসব চিঠিতে প্রতিটি সদস্যপদের দাম চাওয়া হয়েছে ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর এসব টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রহণ ও বিতরণ শাখার একটি নম্বরে (১০৯০১০০০১২০৮১) জমা দিতে বলা হয়েছে।
তবে ডিএসই বলছে, সদস্যপদ বিক্রির কোনো সিদ্ধান্ত সংস্থাটি নেয়নি। সভাপতি হিসেবে শাকিল রিজভীও এ ধরনের কোনো চিঠি ছাড়েননি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শাকিল রিজভীর নাম ব্যবহার করে কোনো মহল এ চিঠির মাধ্যমে প্রতারণায় নেমেছে। তাই এ ধরনের চিঠির ভিত্তিতে কেউ যেন আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে না পড়েন সেই অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএসই।
ডিএসই আরও জানায়, এ চিঠির ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
জানা গেছে, একাধিক ব্যক্তির কাছে ডিএসই সভাপতির নামে বিতরণ করা চিঠিতে গত ২৫ আগস্ট অর্থমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিএসইর সদস্যপদ বিক্রির বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সদস্যপদ প্রাপ্তির শর্ত হিসাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে সম্পদের বৈধতার ছাড়পত্র ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনাপত্তিপত্র সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে
পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ ডিএসইর প্রশাসনিক শাখায় জমা দিয়ে সদস্যপদ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
তবে ডিএসই সূত্র বলছে, তারা নিশ্চিত হয়েছে যে অর্থমন্ত্রণালয়ে উল্লিখিত দিনে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তা ছাড়া একটি অলাভজনক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে সদস্যপদ বিক্রির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবেই ডিএসইর এখতিয়ারভুক্ত। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ কোনো নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই এ ধরনের চিঠির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
তবে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ডিএসইতে বর্তমানে মোট সদস্যপদ রয়েছে ২৩৮টি। এর মধ্যে ২১২টির মতো সক্রিয় রয়েছে। ২০০৪ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ৩৫টি নতুন সদস্যপদ বিক্রি করা হয়েছিল। ওই সময় প্রতিটি সদস্যপদের মূল্য রাখা হয়েছিল ৮০ লাখ টাকা। জানা গেছে, মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে একটি পুরোনো সদস্যপদ এখন ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকায় হাতবদল হচ্ছে।
তবে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিএসইর আওয়ামীপন্থী সদস্যরা নতুন সদস্যপদ ছাড়ার ব্যাপারে বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা করেছে। যেহেতু বিএনপির সময় নতুন সদস্য বিক্রি করা হয়েছে, সেহেতু তাদের মধ্যেও এ ব্যাপারে জোর আগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজার চাঙ্গা থাকায় সরকারের ভেতরে-বাইরে অনেকেই সদস্যপদ কেনার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। আর এ সুযোগেই একটি মহল মিথ্যা প্রচারণায় সক্রিয় হয়েছে বলে ডিএসইর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

দুই মাসে প্রবাসী-আয় সামান্য হারে কমেছে

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংক-ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে ১৮১ কোটি ৫৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন।
আর গত অর্থবছরের একই সময়ে পাঠিয়েছিলেন ১৮২ কোটি ডলার। তার মানে দুই মাসে প্রবাসী-আয়ের মোট প্রবাহ সামান্য কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, এ বছর আগস্ট মাসে ৯৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী-আয় দেশে এসেছে। অন্যদিকে গত বছরের আগস্ট মাসে প্রবাসী-আয়ের পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ৫১ লাখ ডলার।
মূলত ঈদ সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের জন্য।
সাধারণত প্রতিবছরই দুই ঈদের আগে প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ অনেকটা বৃদ্ধি পায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থাৎ জুলাই মাসে প্রবাসী-আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। আর গত বছর জুলাই মাসে এর পরিমাণ ছিল ৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।
প্রবাসী-আয়ের উচ্চ প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এই প্রবাসী-আয়ের উচ্চ প্রবাহই চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
চলতি হিসাবে মূলত কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেনের হিসাব প্রতিফলিত হয়। নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত মানে নিয়মিত লেনদেনের ক্ষেত্রে দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরের পর আর কোনো অর্থবছরেই বাংলাদেশকে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির সম্মুখীন হতে হয়নি, বরং প্রতিবছরই উদ্বৃত্তাবস্থা বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রবাসী-আয়ের প্রবাহ তার আগের অর্থবছরের তুলনায় সোয়া ১৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে বছর প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা ব্যাংকব্যবস্থার মাধ্যমে এক হাজার ৯৭ কোটি ৩২ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তাঁরা পাঠিয়েছিলেন ৯৬৮ কোটি ৯২ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ।

আমিরের বয়স কম তো কী

বাড়ির ছোট ছেলেটি অন্যায় করে ফেললে সবাই বলে—বয়সের দোষ। এই বয়সের কারণেই মোহাম্মদ আমিরের অপরাধকে লঘু করে দেখার সুপারিশ করেছিলেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত। প্রায় একই রকম বলেছিলেন জিওফ বয়কট, মাইকেল আথারটনরা।
কিন্তু পুরো দুনিয়াই এমন সহানুভূতিশীল নয়। তাই সুনীল গাভাস্কারের সুরে সুর মিলিয়ে খোদ পাকিস্তান দলের সহকারী ম্যানেজার শাফকাত রানা বললেন, বয়স কোনো অজুহাত হতে পারে না। পরশু কার্ডিফে পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দলের সংবাদ সম্মেলনে যথারীতি স্পট-ফিক্সিং প্রসঙ্গ এসেছিল। এসেছিল, বয়সের কারণে মোহাম্মদ আমিরকে ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গও। কিন্তু রানা ‘ন্যায় বিচারের’ই পক্ষপাতী।
রানা বলছেন না যে সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ বা আমির দোষী প্রমাণিত হয়ে গেছেন। কিন্তু দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি কমানোর কোনো যুক্তি দেখেন না রানা, ‘আমি মনে করি না, এই ঘটনায় কোনো খেলোয়াড়ের বয়স বিবেচ্য হতে পারে। সবার জন্য আইন একই হওয়া উচিত। আমির আইন ভেঙেছে প্রমাণিত হলে তার বয়স কম, সেটা কোনো যুক্তিই হতে পারে না। দোষী প্রমাণিত হলে বাকি সবার মতোই শাস্তি দেওয়া উচিত তাকে।’
আমিরদের বিপক্ষে বিতর্কিত সেই লর্ডস টেস্টেই ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরি করা স্টুয়ার্ট ব্রডও মনে করেন, বয়স অপরাধ করার জন্য কোনো যুক্তি হতে পারে না। রীতিমতো যুক্তি দিয়ে স্টুয়ার্ট ব্রড বুঝিয়েছেন, বয়স এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। নিজেকে দিয়েই উদাহরণ দিয়েছেন ব্রড, ‘আমি আইসিসি থেকে এত্ত পরিমাণে বই, তথ্য পেয়েছি যে পাল্টা কোনো যুক্তিই আর দেওয়া চলে না। ইংল্যান্ড দলে আসার পর থেকেই আইসিসির এ সংক্রান্ত নির্দেশনা গুলো জানছি। তারা এমন কিছু ভিডিও দেখিয়েছে যাতে সব বিষয় পরিষ্কার বোঝা গেছে। যেখানে পরিষ্কার দেখানো হয়েছে, কোনটা করা যাবে, কোনটা করা যাবে না।’
ব্রডের সঙ্গে প্রায় একমত সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনি ডেইলি মেইল-এর কলামে লিখেছেন, ‘এটা যদি ওর প্রথম অন্যায় হয়, তাহলে হয়তো একটু নরম হওয়া উচিত। কিন্তু তার নামে যদি আগেও অন্যায়ের অভিযোগ থাকে, তাহলে শাস্তিটা যথেষ্ট শক্তই হতে হবে। ন্যায়-অন্যায় বোঝার মতো যথেষ্ট বয়স হয়েছে ওর।’
হ্যাঁ, আমিরের বয়স হয়েছে, ন্যায়-অন্যায় তিনি বোঝেন; এ কথা তাঁর পরিবারের লোকজনও মানছেন। এসব বোঝানো হয়েছে বলেই আমির কখনো অন্যায় কিছু করতে পারেন না, এই বিশ্বাসটাও ছাড়ছেন না আমিরের ভাইবোনেরা।
আমিরের পাঁচ ভাইয়ের একজন মোহাম্মদ নাভিদ বলেছেন, ‘আমির বাড়িতে ফোন করে বলেছে, ও পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে বলতে পারে, ও কোনো অন্যায় করেনি। আমরা যা শুনছি, বিশ্বাস করতে পারছি না।’ এই একই বিশ্বাস বুকে নিয়ে আছেন আমিরের একমাত্র বোন রিফাতও।
রিফাতরা ভাই সম্পর্কে এমন সব খবরাখবর পড়ে ভেঙে পড়েছেন। তাই বলে আমিরের ওপর থেকে বিশ্বাস তুলে নিচ্ছেন না, ‘আমরা খুবই হতাশ। কিন্তু আমরা নিশ্চিত, ভাইয়া এমন কিছু করতে পারে না। ও দেশের জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সততা বিক্রি করতে পারে না।’
আমিরকে তাঁর বোন যতটা চেনেন, তার চেয়েও বেশি চেনেন ফুফু তাহিরা মেহমুদা। কোলে-পিঠে করে মানুষ করা ছেলেটি এমন অন্যায় করতে পারে, এ যেন চোখে দেখলেও মানতে রাজি নন তিনি, ‘ছেলেটা আমার কোলে বড় হয়েছে। আমি জানি, এসব কলঙ্কই রাজনৈতিক কারণে রটানো হচ্ছে।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ষড়যন্ত্র-তত্ত্বটাই আমিরের পরিবারে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বেশি। নাভিদের তো ধারণা, তাঁর ভাইয়ের সাফল্যে ঈর্ষাকাতর হয়ে কেউ করছে এসব!

আফতাবের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে ভাড়াটে

জাতীয় দলের ক্রিকেটার আফতাব আহমেদের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে তাঁর এক ভাড়াটে। গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে আফতাবের আসকার দীঘির পশ্চিম পাড়ের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর আফতাবকে নগরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর মাথায় পাঁচটি সেলাই লেগেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফতাবের বাড়ির এক ভাড়াটেকে বেশ কিছু দিন ধরে বাসা ছেড়ে দিতে বলে আসছিল আফতাবের পরিবার। কিন্তু ওই ভাড়াটে তা মানেনি। কাল রাত সোয়া নয়টার দিকে লোডশেডিং চলাকালে আফতাবদের বাড়ির আঙিনায় এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওই ভাড়াটে ঘর থেকে হারিকেন এনে আফতাবের মাথায় আঘাত করে। এতে আফতাবের মাথা ফেটে যায়। এরপর তাঁকে স্থানীয় সেন্টার পয়েন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তার ক্ষতস্থানে পাঁচটি সেলাই দিয়ে তাঁকে বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিতে বলেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে আফতাবের ভক্তরা জড়ো হয়ে ভাড়াটেকে মারধর করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘আফতাব ভাড়াটের আঘাতে আহত হয়েছেন। তবে আমরা এখনো ভাড়াটের নাম জানি না। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মামলাও হয়নি।’ পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ৩২ বছর বয়সী ওই ভাড়াটের নাম আবু তাহের।

ইজাজ বাট কোথায়

পাকিস্তান ক্রিকেটের এই ঘোর অমানিশায় কোথায় তিনি? এই সংকটময় মুহূর্তে যাঁর শক্ত হাতে হাল ধরার কথা, দেওয়ার কথা সুস্পষ্ট নির্দেশনা, সেই ইজাজ বাটের কোনো সাড়াশব্দই নেই। শুরুর দিকে তবু কিছুটা তৎপরতা দেখা গেছে, কিন্তু আইসিসি তিন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে আর কোনো খোঁজই পাওয়া যাচ্ছে না পিসিবিপ্রধানের। জিওফ লসন ও আরিফ আলী খান আব্বাসীর মতো ক্রিকেট ব্যক্তিত্বরা তো মনে করেন, বাটের কারণেই ডুবছে পাকিস্তান ক্রিকেট।
সপ্তাহখানেক আগেও একবার বাটকে তুলোধুনো করেছিলেন লসন। ক্রিকইনফোর একটি শোতে সাবেক পাকিস্তান কোচ আবারও ধুয়ে দিয়েছেন বাটকে, ‘এত সংকটের মধ্যেও চেয়ারম্যানের মুখ থেকে বলতে গেলে কিছুই শুনিনি আমরা। বিপদ দেখলেই তিনি লুকিয়ে যান, মোটেও যোগ্য নেতা নন। পাকিস্তানের দরকার শক্ত নেতৃত্ব, যে তাদের সামনে এগিয়ে নিতে পারবে।’ অনেকটা একই রকম ভাষ্য পিসিবির সাবেক প্রধান নির্বাহী আব্বাসীরও, ‘পিসিবির চেয়ারম্যান যেভাবে পুরো ব্যাপারটা সামলাচ্ছেন, আমি তাতে বিস্মিত...যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানের হাইকমিশনার এত এত কথা বলছেন, যেটা তাঁর কাজ নয়...বিস্ময়কর হলো, চেয়ারম্যান পুরো অদৃশ্য হয়ে গেছেন...!

ব্ল্যাক ক্যাপদের নিয়েও ক্রোর সন্দেহ

গত বছর নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররাও স্পট-ফিক্সিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন বলে সন্দেহ মার্টিন ক্রোর। বিশেষ করে, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্টটি নিয়েই বেশি সন্দেহ সাবেক কিউই অধিনায়কের। ওই টেস্টের দুই ইনিংসে ৯৯ আর ২৬৩ রানে অলআউট হয়ে ১৪২ রানে ম্যাচ হেরেছিল স্বাগতিকেরা।
কেন সন্দেহ ওই টেস্ট ম্যাচটি নিয়ে, নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ক্রো, ‘অনেক ক্যাচ পড়েছিল সে ম্যাচে। জীবনে নিউজিল্যান্ড দলের এমন বাজে ফিল্ডিং দেখিনি আমি। বিশেষ করে, মনে আছে, মিড অনে পিটার ফুলটনের পাকিস্তানি অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফের ক্যাচ ড্রপ করাটা। খুবই সহজ ক্যাচ হতে পারত সেটা।’
শুধু ফুলটনই নন, তাঁর সতীর্থরাও ক্যাচ ফেলার মহড়া দিয়েছিলেন সেই টেস্টে। ক্যাচ পড়েছিল মোট পাঁচটি। এ ছাড়া হাতছাড়া হয়েছিল একটা রান আউটের সুযোগও। এমন বাজে ফিল্ডিং দেখেই তখন স্পট-ফিক্সিংয়ের সন্দেহ হয়েছিল ক্রোর, ‘ম্যাচটা সহজেই জিতেছিল পাকিস্তান। তবে আমি বলতে চাচ্ছি না যে ম্যাচটা পাতানো ছিল। তবে যা ঘটেছিল, সেটা স্পট-ফিক্সিংয়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।’

নিয়াজ ২২তম ৪০তম জিয়া

মালয়েশিয়া ওপেন দাবায় খেলেছেন ১৮টি দেশের ১৭ গ্র্যান্ডমাস্টারসহ ১৩৩ দাবাড়ু। এই টুর্নামেন্টে খেলেছেন বাংলাদেশের তিনজন দাবাড়ু। তবে সেরা ২০-এ কেউই নেই। ৯ খেলায় ৬ পয়েন্ট পেয়ে ২২তম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, ৫ পয়েন্ট নিয়ে ৪০তম জিয়াউর রহমান, সাড়ে ৩ পয়েন্ট পাওয়া আবদুল্লাহ আল সাইফ হয়েছেন ১০৮তম। কাল শেষ রাউন্ডে নিয়াজ হারিয়েছেন ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টার অরুণ প্রাসাদকে, সাইফ জিতেছেন ব্রুনাইয়ের মুনির আজিজের বিপক্ষে, চীনের ওয়াং লির কাছে হেরে গেছেন জিয়াউর রহমান। ৭ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ভিয়েতনামের গ্র্যান্ডমাস্টার কাও সাং।

চীনা ফুটবলে ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারি

পাকিস্তান ত্রয়ীর স্পট-ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে পুরো ক্রিকেটবিশ্বই কাঁপছে অস্থিরতায়। ক্রিকেটের মতো দুনিয়া কাঁপিয়ে না দিলেও ‘ম্যাচ-ফিক্সিং’ কেলেঙ্কারিতে টালমাটাল চীনের ফুটবল অঙ্গনও।
ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে এ বছরের শুরুতেই চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (সিএফএ) প্রধান ন্যান ইয়াংসহ আরও অনেক ফুটবল কর্মকর্তা-রেফারিকে গ্রেপ্তার করেছিল চীনা পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় আরও তিনজন সাবেক ফুটবল কর্তাকে আটক করা হয়েছে গত সপ্তাহে। সিএফএর সাবেক প্রধান জিয়ে ইয়ালংও আছেন এঁদের মধ্যে। বাকি দুজন সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সিএফএর রেফারি কমিশনের সাবেক প্রধান।
জুয়া, ম্যাচ পাতানো আর অসৎ রেফারিংয়ে জর্জরিত চীনের পেশাদার ফুটবল লিগ। এর সঙ্গে জাতীয় দলের বাজে পারফরম্যান্স যোগ হয়ে চীনা সমর্থকদের কাছে ফুটবল হয়ে উঠেছে এক স্বপ্নভঙ্গের নাম। ঘুষ আর ম্যাচ পাতানোর এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে এ বছরের শুরুতে। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে তখনই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল জিয়ে ইয়ালংয়ের উত্তরসূরি ন্যান ইয়ং ও সিএফএতে তাঁর দুই শীর্ষ সহযোগীকে। রেফারিসহ অসংখ্য কর্মকর্তাকেও আটক করা হয় তখন।
২০০৫ সালে চার বছরের জন্য সিএফএর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে ফুটবলের সঙ্গে সংশ্রবহীন ছিলেন জিয়ে ইয়ালং। ন্যান ইয়ং তখন জাতীয় দল ও পেশাদার লিগের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন। ন্যান ও তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক দুই কর্মকর্তা সিএফএর সহকারী প্রধান ইয়াং ইয়ামিনি ও রেফারিং কমিশনের প্রধান ঝেং জিয়ানকিয়াংয়ের বিচারও হয়তো শুরু হতে যাচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ শেষ করে আদালতে জমা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এবার চাকরিটাও গেল ডমেনেখের

ফরাসি জাতীয় দলকে কোচিং করানোর অধিকার হারিয়েছেন কলঙ্কিত বিশ্বকাপ শেষেই। নতুন কোচ লঁরা ব্লাঁও তাঁর অভিযাত্রা শুরু করে দিয়েছেন। তার পরও ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) বেতনের খাতায় নাম ছিল রেমন্ড ডমেনেখের। অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর চাকরিটাও শেষ করে দিল এফএফএফ।
‘অনেক অসদাচরণের দায়ে’ ডমেনেখকে বরখাস্ত করার খবর গত পরশু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এফএফএফের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ফার্নান্ড দুসাউসয়, ‘অনেক অসদাচরণের দায়ে তাঁকে বরখাস্ত করার চিঠি গত শুক্রবারই বিনা বাক্যব্যয়ে গ্রহণ করেছেন রেমন্ড ডমেনেখ। উনি চাইলে আদালতে
এর বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে চুক্তির যেসব ধারা ছিল, তাতে তিনি আপিল করলে আমি বিস্মিত হব।’
জাতীয় দলের খেলা দেখতে বসনিয়ায় যাওয়া দুসাউসয় জানিয়েছেন, ডমেনেখের বিপক্ষে অভিযোগগুলোও। অজনপ্রিয় এই ফরাসি কোচের বিপক্ষে বড় অভিযোগ, কোচ আলবার্তো পাহেইরার সঙ্গে হাত না মেলানো। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের পর ডমেনেখ ব্রাজিলিয়ান এই কোচের সঙ্গে পুরোনো কথার জের ধরে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ডমেনেখের বিপক্ষে আরও অভিযোগ, নিকোলাস আনেলকার অসৌজন্যমূলক আচরণের ব্যাপারে তখনই তৎকালীন এফএফএফ প্রেসিডেন্ট জাঁ-পিয়েরে এসকালেত্তেকে না জানানো। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের বিরতিতে আনেলকা যখন অশ্লীল ভাষায় কোচকে গালাগাল করেছিলেন, তখন দক্ষিণ আফ্রিকাতেই ছিলেন এসকালেত্তে।
আনেলকাকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে খেলোয়াড়েরা যখন ধর্মঘট করছিলেন, তখন তাঁদের হয়ে বিবৃতি পড়েছিলেন ডমেনেখ। সেটিও তাঁর বিরুদ্ধে আচরণ ভঙ্গের অভিযোগ হিসেবে এসেছে। আর এসব অভিযোগ মিলেই চাকরিটা খুইয়েছেন তিনি।
তাঁকে বরখাস্ত করে দুসাউসয় খুব আনন্দ পেয়েছেন, তা নয়। একসময়ের ঘনিষ্ঠ মানুষ ডমেনেখকে একদিন বরখাস্ত করতে হবে, এটা নাকি দুসাউসয় কখনো কল্পনাও করেননি, ‘আমি যখন অপেশাদার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন থেকে ডমেনেখের সঙ্গে কাজ করেছি। তাঁর সঙ্গে আমার কখনো কোনো ঝামেলা হয়নি। অথচ এখন আমাকেই তাঁর বরখাস্তের চিঠিতে সই করতে হলো। কখনো ডমেনেখকে বরখাস্ত করতে হবে, এটা কল্পনাও করিনি।

দাবাড়ুরা নিজেরাই নিজেদের কোচ

গত বছর অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতির জন্য দাবাড়ুরা কোচ হিসেবে পেয়েছিলেন লাটভিয়ার গ্র্যান্ডমাস্টার ইগর রাউসিসকে। কিন্তু বাংলাদেশ দাবা দল এবার অলিম্পিয়াডে যাচ্ছে কোচ ছাড়াই। এশিয়ান গেমসেও দাবা দলের কোচ নেই।
অগত্যা খেলোয়াড়েরা নিজেরাই নিজেদের কোচ। এভাবেই ‘কোচ’ বনে গেছেন অলিম্পিয়াডে খেলতে যাওয়া পাঁচ দাবাড়ু—আবু সুফিয়ান (শাকিল), মেহেদী হাসান (পরাগ), দেবরাজ চ্যাটার্জী, মোহাম্মদ জাবেদ ও মিনহাজউদ্দিন আহমেদ (সাগর)।
ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে গত ১০ আগস্ট থেকে গতকাল পর্যন্ত মিরপুর ক্রীড়াপল্লিতে হয়েছে অলিম্পিয়াডের ক্যাম্প। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর রাশিয়ার খান্তি মিনসিস্কে অলিম্পিয়াড ও ১২-২৭ নভেম্বর চীনের গুয়াংজুতে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য দলটি আজ নেপালে যাচ্ছে হিমালয় ওপেনে খেলতে। একই উদ্দেশ্যে কোচ ছাড়া ক্যাম্প করে লাভ কতটা হলো?
আবু সুফিয়ান বলছেন, ‘একেবারেই লাভ হয়নি বলব না। ওপেনিং নিয়ে সমস্যাগুলো সবাই একসঙ্গে আলোচনা করেছি। এতে আমরা উপকৃতই হয়েছি। তবে কোচ থাকলে অবশ্যই ভালো হতো।’
আগের কমিটি বিদেশি কোচ এনেছিল। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি কোচ আনতে ব্যর্থ। কেন ব্যর্থ? ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস হোসাইনের ব্যাখ্যা, ‘আমাদের টাকার সমস্যা আছে। সে জন্য আমরা কোচ আনতে পারিনি।’
টাকার সমস্যার কথা বলে ফেডারেশন কোচ আনবে না—এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় দাবাড়ুদের কাছে। দাবাড়ুরা প্রশ্ন রাখলেন, ‘তাহলে কমিটি পরিবর্তন করে দাবার কী লাভ হলো?’

পুরোনো পাপী বাট-আকমল

নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর মতো বিস্ফোরক নয়, তবে চমকপ্রদ একটি খবর দিয়েছে ইংল্যান্ডেরই আরেক পত্রিকা ডেইলি মেইল। স্পট-ফিক্সিং নিয়ে সাম্প্রতিক তোলপাড়ের আগেই নাকি আইসিসির সন্দেহের রাডারে ধরা পড়েছিলেন সালমান বাট ও কামরান আকমল! গত জুনের এশিয়া কাপে গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বাট ও আকমলের টেলিফোন কথোপকথনের বিস্তারিত প্রমাণ চেয়ে গত ২১ আগস্ট চিঠি দিয়েছে আইসিসি। পত্রিকাটির দাবি, দুই পাকিস্তানি চিঠি পেয়েছেনও। তবে তাঁরা দুজন বা পাকিস্তান বোর্ড এখনো কোনো জবাব দেয়নি।
এশিয়া কাপের সময় ম্যাচ পাতানো বিতর্ক উঁকি দিতে দিতেও মিলিয়ে গেছে। তবে বাট বা আকমল নন, তখন সন্দেহের তীর ছিল মোহাম্মদ আমিরের দিকে। ড্রেসিং রুমে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও হেলমেটের নিচে মোবাইলে কথা বলেছেন আমির, এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল টিভিতে ও পত্রিকার পাতায়। তবে স্রেফ হেলমেট ঠিক করছিলেন, হাতে ফোন ছিল না—এই কথা বলে পার পেয়ে যান আমির।
স্পট-ফিক্সিং বিতর্কে বাট, আমির, আসিফের সঙ্গে শুরুতে নাম এসেছিল আকমলেরও। সেই অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেও নতুন এই খবরে আবারও সন্দেহের মেঘ জমছে পাকিস্তান উইকেটকিপারকে ঘিরে। আরেকটি নতুন খবর জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পত্রিকা কুরিয়ার মেইল, সিডনি টেস্ট নিয়ে আকমলকে নাকি নোটিশ পাঠিয়েছে আইসিসি। মাইক হাসির তিনটিসহ সিডনিতে চারটি ক্যাচ ছেড়েছিলেন আকমল। নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড তার দুই দিন আগেই দাবি করেছে, ইয়াসির হামিদ নাকি তাদের বলেছিলেন, সিডনি টেস্ট ছিল পাতানো। হামিদ অবশ্য ট্যাবলয়েডটির দাবি অস্বীকার করেছেন। তবে ডেইলি টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, স্রেফ অস্বীকারেই পার পাচ্ছেন না পাকিস্তান ওপেনার। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা বিভাগ।
অনেক বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন, ম্যাচ গড়াপেটার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা জানেন কি না, বা তাঁদের জানানো হয়েছে কি না। পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি কিন্তু জানালেন, যথেষ্টই সচেতন করা হয়েছে তাঁদের, ‘আইসিসির কর্মকর্তারা আসছেন এবং নিয়মিতই আমাদের এসব বলছেন। তার পরও কোনো সমস্যা হলে দলের ম্যানেজার তো আছেনই, তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়। আমার ধারণা, আমরা সবাই এসব নিয়ে যথেষ্ট সচেতন, আইসিসি তাদের কাজ ঠিকভাবেই করছে।’
স্পট-ফিক্সিং কাণ্ড আলোয় আসার পর আইনজীবী ইশতিয়াক আহমেদের করা মামলায় সাত পাকিস্তানি ক্রিকেটার, ক্রীড়ামন্ত্রী ও পিসিবিপ্রধানের লাহোর হাইকোর্টে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল কাল। তবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেছেন প্রধান বিচারপতি খাজা মোহাম্মদ শরিফ। ‘তদন্ত চলার সময় এ ধরনের মামলা অপরিণতই থাকে’—কোর্টে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ কথা বলার পর মুলতবির আদেশ দেন বিচারপতি। মুলতবি না করলেও অবশ্য হাজিরা দেওয়া সম্ভব হতো না সাত ক্রিকেটারের, কালই যে ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ!

বিসিবি নতুন প্রধান নির্বাহী পাচ্ছে আজ

নিয়োগ-প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে গেছে আগেই। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন মঞ্জুর আহমেদ। গতকাল রাতেই তাঁর ঢাকায় এসে পৌঁছার কথা।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে গত প্রায় আড়াই বছর বিসিবি চলেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে ছিলেন বোর্ডের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। নতুন প্রধান নির্বাহী দায়িত্ব নিলে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ফিরে যাবেন পুরোনো দায়িত্বে।
নতুন প্রধান নির্বাহী খুঁজতে বিসিবি তিনবারের চেষ্টায় খুঁজে পেয়েছে প্রকৌশলী মঞ্জুর আহমেদকে। সর্বশেষ ব্রুনাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ ইংল্যান্ডের

স্পট ফিক্সিং আর ম্যাচ পাতানোর বিতর্কে এমনিতেই টালমাটাল পাকিস্তানের ক্রিকেট। মাঠেও কোনো সুসংবাদ দিতে পারলেন না শহীদ আফ্রিদিরা। কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোর গড়ে অলআউট ৮৯ রানেই। এর আগে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ১২৫/৯; গত ফেব্রুয়ারিতে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
৬ উইকেট হাতে রেখেই ১৪ ওভারে এই অল্প রান টপকে গেল ইংল্যান্ড। টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা জিতে নিল দুই ম্যাচের এই সিরিজ।
প্রথমে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান পাঁচ ওভারে ২২ রান তুলতেই হারিয়ে বসে চার উইকেট। সেখান থেকে আর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সর্বোচ্চ ১৭ রান করেছেন উমর আকমল। ব্রেসনান ৩টি, সাইডবটম, ব্রড ও সোয়ান নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। জবাবে খেলতে নেমে ১৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকেরা। কলিংউড করেন সর্বোচ্চ ২১ রান। ম্যাচ সেরা হয়েছেন টিম ব্রেসনান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামী পরশু, চেস্টার-লি-স্ট্রিটে।

তাঁর ব্রাজিল-আক্ষেপ

সেই ১৯৯৯ সালের কথা। ইকার ক্যাসিয়াস, কার্লোস পুয়োল, জাভিদের তখনো জাতীয় দলে অভিষেক হয়নি। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ক্লাবের মূল দলেই সুযোগ পাননি তখনো। বর্তমান স্পেন দলের কাছে সে এক সুদূর অতীতের গল্প।
সেই সুদূর অতীতেই স্পেন সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিলের। তারপর ফুটবল-নদীতে অপরিমেয় জল গড়িয়েছে। ব্রাজিল এরপর আরও একটি বিশ্বকাপ জিতেছে। ক্রমেই আধুনিক ফুটবলের শ্রেষ্ঠতম দলে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়েছে স্পেন; জিতেছে সর্বশেষ ইউরো ও বিশ্বকাপ। কিন্তু সর্বকালের সফলতম ফুটবল দল ব্রাজিলের মুখোমুখি আর হওয়া হয়নি স্পেনের।
বছর না ঘুরতেই আবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে গিয়ে বুয়েনস এইরেসে এই দুঃখের কথা বললেন বিশ্বসেরা দলের অধিনায়ক ক্যাসিয়াস। ক্যারিয়ারটা শেষ হতে চলল, কিন্তু ফুটবল সৌন্দর্যের দেশ ব্রাজিলের সঙ্গে তাঁর খেলা হলো না!
ব্রাজিলের পাশের দেশে বসে ক্যাসিয়াস বললেন, ‘এই দলটার সঙ্গে আমার কখনো খেলার সুযোগ হলো না। আমি ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে চাই। আমরা সবাই ব্রাজিলের বিপক্ষে একবার খেলতে চাই। আমার মনে হয়, আমরা সর্বশেষ বছর বারো আগে একবার মুখোমুখি হয়েছিলাম।’
ক্যাসিয়াসের এই চাওয়ার ভেতর কোনো দম্ভ খুঁজতে যাবেন না। ব্রাজিলকে ‘দেখিয়ে দেওয়া’ বা এমন কোনো উদ্দেশ্য তাঁর নেই। আসলে দম্ভ বা অহংকার ব্যাপারটাকেই যতদূর সম্ভব ঠেলে রাখতে চাইছেন ক্যাসিয়াসরা।
বিশ্বকাপ জয়ের আত্মতৃপ্তিতে নিজেরা যেন ভেসে না যান, সে নিয়ে সাবধানতার শেষ নেই। ক্যাসিয়াস তাই নিজেকে এবং একই সঙ্গে সতীর্থদের সতর্ক করে দিলেন সাফল্যে ভেসে যাওয়ার বিপদ সম্পর্কে।
এই কথাটাই বিশ্বকাপের পর থেকে বারবার বলছেন কোচ ভিনসেন্তে দেল বস্ক। বিশ্বকাপ জয়ে স্পেন এমন কিছু ‘রাজা’ হয়ে যায়নি। দেল বস্কের ভয়, এই দলের খেলোয়াড়েরা না নিজেদের সেই রাজা ভাবা শুরু করে, ‘এই দলটার সবচেয়ে খারাপ যেটা হতে পারে তা হলো, তারা হয়তো নিজেদের দুনিয়ার সম্রাট ভাবা শুরু করল। আমরা স্রেফ অন্য সব দলের মতো একদল খেলোয়াড় এবং একজন কোচ; একটা বিশ্বকাপ জিতেছি, এই যা। এতে নিজেদের আরও ওপরে তুলে ধরার দায়িত্বও বর্তেছে আমাদের ওপর।’
জাভি-ইনিয়েস্তাদের সম্পর্কে লোকেরা যে ‘সোনালি প্রজন্ম-ট্রজন্ম’ বলছে, এটাও শুনতে রাজি নন দেল বস্ক। তিনি বলছেন, অনেক পরিশ্রমে তৈরি করা এক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে স্পেনের সাফল্য, এটা বিশেষ কোনো প্রজন্মের ব্যাপার নয়, ‘আমার ধারণা, আমাদের সাফল্যের কারণ আমাদের সুদৃঢ় ভিত্তি; শুধু একটা ভালো প্রজন্ম নয়। আমরা বিশ্বকাপের পর খুব একটা বদলাইনি। আর বিশ্বকাপ জিতেছি কৌশলগত কারণে এবং আমাদের সবার চেষ্টায়।’