Thursday, January 13, 2011

বেদনানাশক ওষুধ কেনার নির্দেশ দিয়েছিলেন জ্যাকসনের চিকিৎসক

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন মারা যাওয়ার আগে প্রায় এক মাসে ২৫৫ শিশি উচ্চমাত্রার বেদনানাশক ওষুধ (প্রোপোফল) ক্রয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক কনরাড মারে। ওই ওষুধের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের দায়ে মারেকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে কি না, সে বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুনানি চলছে লস অ্যাঞ্জেলসের আদালতে।লস অ্যাঞ্জেলসের একটি ওষুধের দোকানের মালিক টিম লোপেজ গত সোমবার আদালতে জানিয়েছেন, ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মারে তাঁর দোকান থেকে ২৫৫ শিশি উচ্চশক্তির বেদনানাশক ওষুধ কেনার নির্দেশ দিয়েছিলেন মারে। ২০০৯ সালের ২৫ জুন মারা যান জ্যাকসন।
মারের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এবং তাঁদের একটি ছেলে আছে এমন এক নারী গত সপ্তাহে আদালতকে জানান, শান্তা মানিকার অ্যাপার্টমেন্টে ওই সময় মারের ঠিকানায় কিছু বেদনানাশক ওষুধ এসেছিল। ২০০৯ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত তাঁরা ওই বাসায় ছিলেন।এর আগে জ্যাকসনের দেহরক্ষী আলবার্তো আলভারেজ আদালতকে বলেছেন, জ্যাকসনের মৃত্যুর পর প্যারামেডিকসরা পৌঁছার আগেই মরদেহের পাশ থেকে ওষুধের শিশিসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন মারে।

মস্কো-ওয়াশিংটন পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর

মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি গতকাল মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির অধীনে মার্কিন কোম্পানিগুলো রাশিয়ার কাছে পারমাণবিক চুল্লি ও উপকরণ বিক্রি করতে পারবে। কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। পরমাণু জ্বালানির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রশ্নে সম্পাদিত এই সহযোগিতা চুক্তিটি ‘১২৩ চুক্তি’ নামেও পরিচিত। রাজধানী মস্কোয় গতকাল রাশিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বের্লি ও রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রেবকভ চুক্তির কাগজপত্র বিনিময় করেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন।

সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কয়েক দশক পিছিয়ে চীন

চীন বলেছে, সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তির দিক দিয়ে তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নত দেশের চেয়ে কয়েক দশক পিছিয়ে আছে এবং তারা এখনো পর্যন্ত কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের বেইজিং সফরের সময় এ কথা বলেছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াং গুয়াংলাই।
তিন দিনের সফরে চীনের উদ্দেশ্যে গত শনিবার বিমানে ওঠার পর গেটস বলেছিলেন, চীনের সামরিক শক্তি ও অস্ত্রসম্ভার বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। চীন প্রথমবারের মতো রাডার ফাঁকি দিতে পারে—এমন জঙ্গি বিমান বানিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের তৈরি আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধবিমানবাহী মার্কিন রণতরীতে আঘাত হানতে সক্ষম। এসব কারণে তিনি মার্কিন অস্ত্রসম্ভার বৃদ্ধি ও উন্নতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন।
চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াং বলেন, ‘অস্ত্রের মানোন্নয়ন ও গবেষণায় আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, তা কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এর জন্য কোনো দেশ হুমকির মুখে পড়বে না।’
চীন গত মাসে প্রথম রাডার ফাঁকি দেওয়ার উপযুক্ত জঙ্গি বিমান তৈরির ঘোষণা দেয়। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘জে-২০’ নামের ওই জঙ্গি বিমান সফলভাবে প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। এ সংক্রান্ত ছবিও ছাপা হয়েছে রাষ্ট্রীয় পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস ও বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার ওয়েবসাইটে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় চেংদু শহরের আকাশে ১৫ মিনিট ওড়ার পর সফলভাবে তা অবতরণ করে। এ ছাড়া চীন সম্প্রতি তৈরি করেছে আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, যা যুদ্ধবিমানবাহী মার্কিন রণতরীতে আঘাত হানতে সক্ষম। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র চীনই প্রথম তৈরি করেছে।
গেটস বলেছেন, ‘সব ক্ষেত্রেই আমরা নজর রাখছি। চীনের রণতরীবিধ্বংসী ও আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নের বিষয়টি প্রতিরক্ষীমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে আমাদের উদ্বিগ্ন করে রেখেছে।’ তবে বেইজিংয়ে চীনা ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে উভয় পক্ষই দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়ে রাজি হয়েছে।
গেটস বলেন, ‘যোগাযোগ বৃদ্ধি ও ভুল বোঝাবুঝি কমানোর লক্ষ্যে আমরা জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছি। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক খুবই মজবুত এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্পর্ক নেই।’ তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি নিয়ে গত বছর চীন ও মার্কিন সামরিক সম্পর্কের বেশ অবনতি হয়। এ ছাড়া পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নৌ-মহড়ার তীব্র প্রতিবাদ জানায় চীন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গেটস। এ সময় জিনতাও জানিয়েছেন, গেটসের এই সফর দুই দেশের সামরিক বাহিনীর সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত এবং এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে বিনিময় বাড়বে। জবাবে গেটস জানিয়েছেন, তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি হবে।

ভারতীয়রা ধনী হচ্ছে হারাচ্ছে স্বাস্থ্য

ভারতীয়রা ধনী হচ্ছে। কিন্তু তারা হারাচ্ছে স্বাস্থ্য। অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে। যা তাদের জীবন থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত কেড়ে নিতে পারে। এতে দেশটির অর্থনীতির বিকাশ হুমকির মুখে পড়তে পারে। ব্রিটেনের ল্যানসেট ম্যাগাজিনে গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এ দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ভারতের গোয়ার সাংগথ সেন্টারের ভিক্রম প্যাটেলের নেতৃত্বে দীর্ঘসূত্রী রোগ ও জখম বিষয়ে করা অপর এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, আর্থসামাজিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হওয়ায় ভারতীয়রা কায়িক শ্রমবিমুখ হয়ে পড়ছে। এতে স্থূলতার হার বাড়ছে। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে।
পকেটে অতিরিক্ত টাকা আসার সুবাদে ভারতীয়রা ঝুঁকছে চর্বিযুক্ত খাবারের দিকে। তারা আয়েশ করছে। অপেক্ষাকৃত কম ব্যায়াম করছে। পরিণামে স্থূলতার হার বাড়ছে। শরীরে বাসা বাঁধছে নানা ধরনের রোগ। এদিকে মদ্যপান করে অনেকে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। এতে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে।
প্যাটেলদের গবেষণাপত্রে বলা হয়, ভারতে দীর্ঘসূত্রী রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রতি পাঁচজনের একজন দীর্ঘসূত্রী রোগে ভুগছে। প্রতি ১০ জনের একজন ভুগছে একাধিক রোগে। হূদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিক প্রতিরোধে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারকে আরও সোচ্চার হতে হবে।
ল্যানসেট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত গবেষণায় ‘ইন্ডিয়া: টুয়ার্ডস অ্যা ইউনিভার্স হেলথ কেয়ার সিস্টেম বাই ২০২০’ লক্ষ্য অর্জনে আরও উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোনালদিনহো ফ্লামেঙ্গোর

শৈশব-কৈশোরের দল গ্রেমিও কিংবা পালমেইরাস কিংবা ইংলিশ ক্লাব ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স নয়, রোনালদিনহোর ঠিকানা যে শেষ পর্যন্ত ফ্লামেঙ্গোতেই হচ্ছে, এসি মিলানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আদ্রিয়ানো গ্যালিয়ানি আগেই সে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। হলোও তা-ই। বেশ কয়েক দিনের নাটকের পর মিলানের দর-কষাকষিতে ব্রাজিলের ফ্লামেঙ্গোতেই আশ্রয় হলো রোনালদিনহোর। ৩০ বছর বয়সী রোনালদিনহো এবং তাঁর নতুন ক্লাব ফ্লামেঙ্গো দুই পক্ষই নিশ্চিত করেছে চুক্তির বিষয়টি। দুবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের সঙ্গে ফ্লামেঙ্গোর চুক্তিটা হয়েছে চার বছরের, তাঁর মাসিক বেতন প্রায় নয় লাখ ডলার। গ্রেমিওর সঙ্গে চুক্তি না হলেও ফ্লামেঙ্গোর হয়ে দেশে ফিরতে পেরে নিশ্চয়ই খুশি রোনালদো ডি অ্যাসিস মরেইরা ওরফে রোনালদিনহো। ২০১৪ বিশ্বকাপ যে দেশের মাটিতেই!

সাকিবদের বিশ্বকাপ-সঙ্গী বেক্সিমকো

নিলামে আর কেউ অংশ নেয়নি বলে প্রারম্ভিক মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকাতেই বিক্রি হয়েছে ২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের স্পনসরশিপ। সেটা কিনেছে বেক্সিমকো গ্রুপ। কাল রাজধানীর একটি হোটেলে বিসিবির সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই করেছে তারা।
এসব ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ না নিলে বা প্রারম্ভিক মূল্যের চেয়ে বেশি দাম না পেলে বিসিবি সাধারণত আলোচনার মাধ্যমে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু স্পনসরশিপ নিলামে সেটা হয়নি বলে কাল চুক্তির সংবাদ সম্মেলনে জানালেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী মনজুর আহমেদ। ব্যাখ্যা করেছেন না হওয়ার কারণটাও, ‘সময়স্বল্পতার কারণে সেটার সুযোগ ছিল না।’
ন্যূনতম দামে বিক্রি হলেও বিশ্বকাপের স্পনসরশিপ বিক্রি করে বিসিবির এটাই সর্বোচ্চ আয়। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্পনসরশিপ কিনে আগের সর্বোচ্চ দামটা (৩০ হাজার ডলার) দিয়েছিল ইউসিবিএল। এ ছাড়া ২০০৭ বিশ্বকাপে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় স্পনসরশিপ কিনেছিল ইস্পাহানি লিমিটেড। গত বিশ্বকাপের মতো এবারের বিশ্বকাপেও প্রথম পর্ব পার হতে পারলে বাড়তি আয় হবে বিসিবির। চুক্তি অনুযায়ী কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলতে পারলে প্রতিটি ম্যাচের জন্য আরও প্রায় ৫৮ লাখ টাকা করে দেবে বেক্সিমকো।
জাতীয় দলের স্পনসর হিসেবে বিশ্বকাপে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করারও উদ্যোগ নেবে বেক্সিমকো। ২২ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে জাতীয় দলের জন্য শুভেচ্ছা বার্তা সংগ্রহ করবে তারা। এসব শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে বিশাল আকৃতির একটি ব্যাট তৈরি করে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বেক্সিমকো সেটি উপহার দেবে বাংলাদেশ দলকে।এ ছাড়া বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ দলের জন্য থিম সংও তৈরি করবে স্পনসর কোম্পানি, যা প্রচারিত হবে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে। স্পনসরশিপ-সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন বেক্সিমকো মিডিয়া লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ইন্তেখাব মাহমুদ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, কোচ জেমি সিডন্স, বেক্সিমকোর ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, পরিচালক শায়ান এফ রহমান, বিসিবির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল, পরিচালক জালাল ইউনুস ও প্রধান নির্বাহী মনজুর আহমেদ।বিশ্বকাপ উপলক্ষে বেক্সিমকোর সর্বোচ্চ স্পনসর মানি নিয়ে এগিয়ে আসার একটা কারন অবশ্যই ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা। সেই জনপ্রিয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়েই সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি বললেন, ‘সামনে আমরা এশিয়া কাপ করব, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ করব। এসবের জন্য ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম দরকার। সরকারের একার পক্ষে এত কিছু করা সম্ভব নয়। স্পনসরদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এমিরেটস আর্সেনালের মাঠ করে দিয়েছে। স্পনসররা চাইলে আমাদের দেশেও সেরকম হতে পারে।’
এমনিতে গ্রামীণফোন বাংলাদেশ দলের অফিশিয়াল স্পনসর হলেও বিশ্বকাপের বিপণননীতির কারণে বিশ্বকাপের সময়টাতে দূরেই থাকতে হবে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই মুঠোফোন কোম্পানিকে। বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ স্পনসর হিসেবে বেক্সিমকোর মেয়াদ আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বলে জানিয়েছে বিসিবি সূত্র। তবে গ্রামীণফোনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বেক্সিমকো চাইলে টিম স্পনসরের সুবিধা নিতে পারে আরও আগে থেকেই।

বিশ্বকাপের উত্তেজনায় পথ ক্রিকেট

পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার জমিদারবাড়ির সামনের রাস্তায় ছেলেবেলায় ক্রিকেট খেলতেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান। গলির দেয়ালে স্টাম্প এঁকে, নয়তো স্টাম্পের মতো লাঠি দিয়ে কাঠের ব্যাট বানিয়ে টেপ টেনিস দিয়ে খেলতেন মিনহাজুল আবেদীন আর খালেদ মাহমুদ।
স্মৃতির ডানায় ভর করে কাল সেই সব সোনালি দিনে ফিরে গেলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কেরা। পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে স্বল্প দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট এখনো খেলে অনেকে। এসব ক্রিকেটারকে একই মঞ্চে আনতেই ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) শুরু করতে যাচ্ছে ভিন্ন আমেজের ‘পোলার আইসক্রিম পথ ক্রিকেট’। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উত্তেজনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
উদ্যোগটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ভারত-পাকিস্তানে সিক্স-এ-সাইড ক্রিকেট দারুণ জনপ্রিয়তা পেলেও বাংলাদেশে এখনো বড় পরিসরে এ ধরনের ক্রিকেট জনপ্রিয়তা পায়নি। কোয়াবের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ঢাকায় নকআউট পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ১০০টি দল। অনূর্ধ্ব-২০ বছর বয়সীদের এই টুর্নামেন্ট চলবে ২১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
‘পথ ক্রিকেট’ হলেও ম্যাচগুলো রাস্তায় হবে না, হবে ধানমন্ডি ৮ নম্বর ক্লাব মাঠে। আজ থেকে শুরু হবে দলগুলোর নাম নিবন্ধন কার্যক্রম, চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। চাইলে অনলাইনেও নাম নিবন্ধন করা যাবে এই ঠিকানায়: www.streetcricketbd.com। এ ছাড়া পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান পোলার আইসক্রিমের ‘স্ট্রিট ক্রিকেট’ ফেস্টুন লাগানো আউটলেটগুলো থেকেও নেওয়া যাবে নিবন্ধন ফরম। নিবন্ধন ফি এক হাজার টাকা। তবে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। ট্রফির পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন দলকে ৫০ হাজার ও রানার্সআপ দলকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
কাল এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোয়াবের সহসভাপতি খালেদ মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান, মিনহাজুল আবেদীন, ফারুক আহমেদ, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান পোলার আইসক্রিমের প্রধান নির্বাহী তৌফিকুর রহমান, কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পালসহ অনেকে।

বাটদের ভাগ্য ৫ ফেব্রুয়ারি

সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফের ভাগ্যে কী আছে, জানা যাবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি। ছয় দিনের শুনানি শেষে কাল রাতে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আইসিসির গঠিত তিন সদস্যের স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল। তত দিন পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধই থাকবেন অভিযুক্তত্রয়ী। গত জুলাই-আগস্টে পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ সেপ্টেম্বর এই তিনজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে আইসিসি।
নতুন করে জানা গেছে, শুধু আলোচিত লর্ডস টেস্ট নয়, পাকিস্তানের জেতা ওভাল টেস্ট নিয়েও বাটের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এর আগে আমিরের আইনজীবী শহীদ করিম ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেছিলেন রায় আরও কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে দিতে। পাকিস্তানের জিয়ো টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেদের আবেদনের পক্ষে করিমের যুক্তি ছিল, ‘আমরা মাননীয় বিচারকদের কাছে আবেদন করেছি রায় ঘোষণার আগে মামলার সব দিক খুব ভালোভাবে ও সতর্কতার সঙ্গে ভেবে দেখতে। তাঁরা মানবেন কি না, এটা তাঁদের ব্যাপার।’ এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ট্রাইব্যুনাল রায় পেছাল কি না, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।
তবে শুনানির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নেই আমিরের আইনজীবীর, ‘শুনানি খুব ভালো ও নিরপেক্ষ হয়েছে, আমি সন্তুষ্ট। আমার দিক থেকে বলতে পারি, আমি যথেষ্ট আশাবাদী। বাকিটা নির্ভর করছে বিচারকদের ওপর।’ নির্দোষ প্রমাণিত হবেন বলে আশাবাদী আমিরও। হাসিমুখে শুনানি কক্ষ থেকে বেরিয়ে ১৮ বছর বয়সী পেসার বললেন, ‘পুরো জাতির দোয়া কারও সঙ্গে থাকলে ভয়ের কী আছে। আমি আশাবাদী। সবকিছু যেভাবে হয়েছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট। এখন স্রেফ ভালো খবরের অপেক্ষা করছি। গত কয়েকটা রাত আমি চোখ বন্ধ করতে পারিনি। আশা করি, ভালো খবর পেলে শান্তিমতো ঘুমাতে পারব।’
কাতারের দোহায় রুদ্ধদ্বার শুনানি শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। মাইকেল বেলোফ কিউসির নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন আলবি সাচ ও শারদ রাও। অভিযুক্তত্রয়ী প্রতিদিনই শুনানিতে যাওয়া-আসা করেছেন আলাদাভাবে। ছয় দিনের শুনানিতে সবচেয়ে কঠিন জেরার মুখে পড়তে হয়েছে সালমান বাটকে। প্রথম বিবৃতিতে আসিফ বলেছিলেন, বাট তাঁকে বলের গতি বাড়াতে বলায় অতিরিক্ত চেষ্টা করতে গিয়েই ‘নো বল’ হয়েছিল। এরপর আসিফের আইনজীবী আলেক্সান্ডার ক্যামেরন বাটকে জেরা করেন। পরে বাটের আইনজীবী ইয়াসিন প্যাটেলও আসিফকে পাল্টা জেরা করেন। তবে আমিরকে জেরা করেননি অন্য দুই ক্রিকেটারের আইনজীবীদের কেউ।
বাট ও আসিফের বক্তব্যে বড়সড় রকমের ভিন্নতা পাওয়ার পর শুনানি নাটকীয় মোড় নেয়। শুনানিতে উপস্থিত এক সূত্র জানায়, দুজনের বক্তব্যের ভিন্নতা ক্রিকেটারদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। সাবেক অধিনায়ক হিসেবে বেশি বিপদে আছেন বাটই। শাস্তি হলে তাঁরই সবচেয়ে বেশি হবে। তিন ক্রিকেটারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে জেরা করা হয়েছে তাঁকেই এবং একজন সাক্ষীর বক্তব্য বিশেষ করে দারুণভাবে তাঁর বিপক্ষে গেছে। তবে আসিফ ও আমিরের বড় শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও বয়স কম বলে আমিরের কম শাস্তি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল সেসব বিবেচনায় নেবে কি না, তা একমাত্র সময়ই বলতে পারবে।

মেসির চমক চমকিত মেসি

বর্ষসেরার নাম ঘোষণার জন্য মঞ্চে এলেন পেপ গার্দিওলা। যেন জীবনের কঠিনতম এক দায়িত্ব চেপেছে তাঁর কাঁধে। কঠিনই তো। গার্দিওলার এই ঘোষণা তাঁর এক প্রিয় শিষ্যের মুখ উজ্জ্বল করবে, তো কষ্ট পাবে বাকি দুজন!
খামের ভেতর থাকা নামটি এক পলক দেখে ফিফা ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করলেন বার্সেলোনা কোচ। চমক! যাঁর নাম ঘোষিত হলো, তিনি নিজেও যেন একটু চমকে গেলেন। মঞ্চে পৌঁছানোর পরও লিওনেল মেসির চোখেমুখে থাকল বিস্ময়ের আভা। গুরু গার্দিওলার হাত থেকে সোনালি বলের ঝা-চকচকে ট্রফিটা নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া জানালেন, বিস্ময় সেখানেও, ‘আমি আসলেই বিস্মিত।’ পরের বাক্যটায় মিশে থাকল টানা দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ, ‘একই সঙ্গে উচ্ছ্বসিতও।’
২০১০ ফিফা ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার হাতে নিয়ে মেসি ভাঙলেন একটা অলিখিত রেওয়াজ। বিশ্বকাপে সফল না হয়েও জিতলেন বর্ষসেরার পুরস্কার। বিশ্বকাপে একটি গোলও পাননি, দল বাদ পড়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। আগের পাঁচ বিশ্বকাপের বছরে এই পুরস্কার গেছে বিশ্বকাপে নজরকাড়াদেরই দখলে। এ কারণে মেসির নির্বাচিত হওয়াটা অনেকের কাছে বিস্ময়। তবে পুরস্কারটা অপাত্রে যায়নি। বর্ষসেরা বলতে যদি পুরো বছরের সেরাকেই বোঝায়, তাহলে মেসিই বরং যোগ্যতম। ২০১০ সালে তিনি গোল করেছেন ৬০টি!
পরনে কাককালো স্যুট, সাদা শার্টের পর কেতাদুরস্ত বো-টাই; পরশু জুরিখের অনুষ্ঠানে মেসিকে একটু অচেনাই দেখাচ্ছিল। এই পুরস্কার তাঁর দুই বার্সা-সতীর্থ পেলেই খুশি হতেন, মেসি সেটি আগেও জানিয়েছিলেন। বলেছেন পুরস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়েও, ‘এবার আসলে সবাই জাভি আর আন্দ্রেসের কথাই বলছিল। দুর্দান্ত একটি বছর কাটানোয় এই পুরস্কারের দাবিদার ওরাও ছিল। এবার ওরা বিশ্বকাপ জিতেছে। আমিও তাই ভেবেছিলাম, ওদের একজনই সেটা জিতবে। এটা তাই আমার জন্য আনন্দময় বিস্ময়।’
নাম ঘোষণার আগে ইনিয়েস্তা-জাভি ছিলেন বেশ টেনশনে। এই দুজনের সামনে যে সুযোগ ছিল প্রথম স্প্যানিয়ার্ড হিসেবে ফিফা বর্ষসেরা হওয়ার। কিন্তু সেই ইতিহাস গড়া হলো না। তবে মেসি মনে করেন, ‘এমন নয় আমি পুরস্কার জিতেছি বলে ওরা মন খারাপ করেছে।’ পরে জাভি-ইনিয়েস্তা দুজনই বলেছেন, এই পুরস্কার মেসিরই প্রাপ্য। জাভি তো এমনও বলে দিলেন, ‘ও আসলে আমাদের সবার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে।’ স্পেনের সংবাদমাধ্যম অবশ্য হতাশ। যদিও পরশুর অনুষ্ঠান স্প্যানিশ ফুটবলেরই জয়গান গাইল।
সুযোগ থাকলে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জিতেই এই পুরস্কার হাতে তুলতেন। সেটি হয়নি বলে আক্ষেপের শেষ নেই। তবে মেসি জানালেন, ২০১১ সালই হবে আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর প্রথম বড় শিরোপা জয়ের বছর। এবারই যে কোপা আমেরিকা! মাত্র ২৩ বছর বয়সেই দুবার ফিফা বর্ষসেরা হলেন এই আর্জেন্টাইন। এবার অবশ্য ফিফা বর্ষসেরার সঙ্গে ইউরোপ-সেরার পুরস্কার ব্যালন ডি’অরও যুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ টানা দুবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন মার্কো ফন বাস্তেন (’৮৮ ও ’৮৯ সালে)।
এই পুরস্কারের সবচেয়ে পরিচিত মুখ মার্তা। ব্রাজিলের এই নারী-ফুটবলার এ নিয়ে টানা পাঁচবার জিতলেন এই পুরস্কার। তার পরও পরশু আনন্দে কেঁদেই ফেলেছেন। গত বছর ইন্টার মিলানকে ঐতিহাসিক ট্রেবল জেতানোয় হোসে মরিনহো হয়েছেন বর্ষসেরা কোচ। যদিও এই পুরস্কার হাতে নিয়ে এই পর্তুগিজ বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত নয়, দলগত পুরস্কারই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ এএফপি, রয়টার্স।

কে পেয়েছেন কত ভোট
ফিফার সদস্যদেশগুলোর কোচ-অধিনায়ক এবং একজন নির্বাচিত সাংবাদিক সেরা খেলোয়াড়দের বেছে নিয়েছেন। মেসি পেয়েছেন ২২.৬৫ শতাংশ ভোট, ইনিয়েস্তা ১৭.৩৬ এবং জাভি ১৬.৪৮ শতাংশ ভোট। ১৪.৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন ওয়েসলি স্নাইডার।
ফিফা বর্ষসেরা ২০১০
ফুটবলার
লিওনেল মেসি
মহিলা ফুটবলার
মার্তা
কোচ
হোসে মরিনহো
মহিলা কোচ
সিলভিয়া নেইদ
পুসকাস অ্যাওয়ার্ড (গোল)
হামিট আলটিনটপ (তুরস্ক)
ফিফা-ফিফপ্রো একাদশ
গোলরক্ষক ক্যাসিয়াস
ডিফেন্ডার
মাইকন, লুসিও, পিকে, পুয়োল
মিডফিল্ডার
স্নাইডার, জাভি, ইনিয়েস্তা
স্ট্রাইকার
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ডেভিড ভিয়া, মেসি

ইংল্যান্ডকে অস্ট্রেলিয়ার ১৫৮ রানের চ্যালেঞ্জ

অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে ক্যামেরুন হোয়াইট নিজের অভিষেকেই টস জিতলেন। অ্যাডিলেড ওভালের ব্যাটিং উইকেটে প্রথমে ব্যাট করার ইচ্ছাও পূরণ করলেন সঙ্গে সঙ্গে। অধিনায়কের ইচ্ছার সঙ্গে নিজেদের ব্যাটিংকে মিলিয়ে অসি ব্যাটসম্যানরা দলের স্কোরকে নির্ধারিত ২০ ওভারে নিয়ে গেলেন ১৫৭তে।
শেন ওয়াটসনের ৩১ বলে ৫০ ও ওয়ার্নারের ২৮ বলে ৩০ রানের ওপর ভর করে শুরুটা ভালোই করে অস্ট্রেলিয়া। ৮৩ রানের ওপেনিং জুঁটি গড়ে দেয় ভালো সংগ্রহের ভিত। এরপরে, মাইক হাসির ২৮ ও ডেব্যুট্যান্ট ফিঞ্চের ১৫ রান অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গেছে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের দিকে।
ইংল্যান্ডের পক্ষে অভিষিক্ত ওয়াকস ৩৪ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। তবে সবচেয়ে সফল ইংলিশ বোলার ছিলেন ইয়ার্ডি। ২৮ রানের বিনিময়ে তাঁর সংগ্রহ ২ উইকেট।

দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়াটাই হবে বড় অর্জন

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ যদি দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারে, তাহলে সেটিই হবে বড় অর্জন’—এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নিয়ে প্রথম আলো অনলাইনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ কথা বলেন।
মিনহাজুল বলেন, ‘সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ভালো করলেও বিশ্বকাপ ক্রিকেট সম্পূর্ণ অন্য মেজাজের প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় সব দেশই পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে খেলতে আসে। গ্রুপ পর্যায়ে বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হবে ভারত, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোর। যারা অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। তাই দুই সহযোগী সদস্য হল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি বাকি চার অভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে একটিতে যদি দল জয় পায়, তাহলেই আমি খুশি।’
সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশের অন্যতম ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব মিনহাজুল আবেদীন আরও বলেন, ‘তিনটি জয় যদিও দ্বিতীয় রাউন্ডে কোয়ালিফাই করার জন্য যথেষ্ট। তবে আমি মনেপ্রাণে চাই, বাংলাদেশ আরও ভালো খেলুক। নিজ দেশের মাটিতে, বিশাল সমর্থনের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ যদি আরও দুই-একটি ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে সেটি হবে বোনাস।’
অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার হিসেবে অভিহিত করে মিনহাজুল বলেন, ‘সাকিব বাংলাদেশ দলের সেরা ক্রিকেটার। দলের সেরা ক্রিকেটারকে কেন্দ্র করেই দলের সবকিছু পরিচালিত হয়, বাংলাদেশ দলেরও সেরা খেলোয়াড় সাকিব।’ দলের সেরা খেলোয়াড়কে অধিনায়ক নির্বাচন করে বিসিবি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।দেশের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া সাকিবের জন্য বড় কোনো চাপ হয়ে দেখা দেবে না বলেই বিশ্বাস মিনহাজুলের। তিনি বলেন, ‘সাকিবকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনি। সে মানসিকভাবে প্রচণ্ড শক্ত। তাই সব ধরনের চাপ ও কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।’
চলতি ঘরোয়া ক্রিকেটে শাহরিয়ার নাফীস ও অলোক কাপালির চমত্কার পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের সময় নির্বাচকদের চাপে ফেলবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ‘একটি দলে সাত-আটজন খেলোয়াড় থাকে অটোমেটিক চয়েজ। দল নির্বাচনের সময় একজন বা দুজন খেলোয়াড় এদিক-ওদিক হতেই পারে।’
মাশরাফি বিন মুর্তজা ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ দলে থাকতে না পারাটা হবে চরম দুর্ভাগ্যের ব্যাপার—এমনটাই মনে করেন মিনহাজুল। মাশরাফি নিজেও দারুণ দুর্ভাগ্যের শিকার বলেই মনে করেন মিনহাজুল। মিনহাজুল বলেন, ‘মাশরাফি দুর্দান্ত একজন পেসার। একজন উইকেট টেকার। আমি মনেপ্রাণেই চাইব মাশরাফির সুস্থতা। মাশরাফিকে ছাড়া দলের বোলিং আক্রমণ অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।’

শিল্পি- সরলতার খোঁজে by বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

বিদ্যাসাগর থেকে, বিষ্ণু দে থেকে, জয়নুল আবেদিন থেকে সফিউদ্দীন পর্যন্ত সবাই কলোনির কলকাতা ছেড়ে সাঁওতাল পরগনায় পালিয়েছেন। সমাজসংস্কারক বিদ্যাসাগর কি সমাজসংস্কারের অর্থহীনতায় ক্লান্ত বোধ করেছেন? মার্কসিস্ট বিষ্ণু দের বিশ্ববীক্ষায় কি ঘুণ ধরেছিল? মানবতাবাদী জয়নুল আবেদিন কি কলোনির জীবনধারায় অবসন্ন বোধ করেছেন?

স্মৃতি ও গল্প- সেই আমি এই আমি by আতিকুল হক চৌধুরী

মার ছোট মামা যেদিন কলকাতা থেকে আমাদের সাহেবগঞ্জের বাসায় পদার্পণ করলেন, সেদিন থেকে এক এক করে দৃশ্যপট সব বদলে যেতে লাগল। পুরনো সব কিছুই সরে যেতে থাকল। আসতে থাকল সব নতুন নতুন। আব্বা পাজামা, পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি পরতেন। আম্মা নীল রঙের একটি বোরকা পরতেন। আমি কালো-সাদা হাফপ্যান্ট ও নীল রঙের শার্ট পরতাম, স্যান্ডেল পরতাম।