Tuesday, August 20, 2019

ইন্দো-বাংলা সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়- জয়শঙ্কর : ভারত বাংলাদেশের সত্যিকারের বন্ধু- হাসিনা

শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে এস জয়শঙ্কর
সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শংকর বলেছেন, গত পাঁচ বছরে ইন্দো-বাংলা সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের অপূর্ব সম্পর্ক ও চমৎকার সহযোগিতা রয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করেন জয়শঙ্কর। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে গত পাঁচ বছরে ইন্দো-বাংলা সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জয়শংকর।
বাংলাদেশে জ্বালানি এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করে এস জয়শংকর বলেন, ‘জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। কারণ এ প্রকল্পের ব্যয় কম।’
জয়শংকর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন। শেখ হাসিনা আমন্ত্রণের জন্য মোদিকে ধন্যবাদ দেন ও শুভেচ্ছা জানান।
ভারতীয় মন্ত্রী দুদেশের মানুষের ভ্রমণ সহজ করা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দুদেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানোর প্রতি জোর দেন।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, 'দুদেশের মধ্যকার যোগাযোগের ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল, সড়ক ও বিমান যোগাযোগে অনেক রুট খোলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের অপূর্ব সম্পর্ক ও চমৎকার সহযোগিতা রয়েছে। দুদেশ অনেক সমস্যা দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান করেছে।
স্থল সীমান্ত চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব উদাহরণ সৃষ্টি করে এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে...ভারতের সংসদে সব দল সর্বসম্মতভাবে স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল সমর্থন করেছিল।’
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ভারত ব্যবহার করতে পারে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
ভারতকে বাংলাদেশের সত্যিকারের বন্ধু আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় থেকে বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে যাচ্ছে নয়াদিল্লি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাস ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কাশ্মীর: 'বাড়ি বাড়ি গিয়ে যুবকদের তুলে নেয়া হচ্ছে' by শুভজ্যোতি ঘোষ

ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সরকার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পর গত দুসপ্তাহে শত শত যুবককে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করছে, সেখানে কমপক্ষে চার হাজার লোককে বন্দী করা হয়েছে।
কাশ্মীরি রাজনীতিবিদ শেহলা রশিদ দিল্লিতে একের পর এক টুইট করে বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রাতে বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে তরুণ যুবকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
"তারা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করছে, খাবার ফেলে দিচ্ছে বা চালের বস্তায় তেল ঢেলে দিচ্ছে এবং শেষে বাড়ির যুবকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি আরও লিখেছেন, সোপিয়ানের একটি আর্মি ক্যাম্পে চারজন যুবককে ধরে নিয়ে গিয়ে জেরা ও নির্যাতন করার সময় তাদের সামনে মাইক্রোফোন ধরে রাখা হয়েছিল - যাতে তাদের চিৎকারের আওয়াজ শুনে গোটা এলাকা ভয় পায়।
তবে সোপিয়ানের আর্মি ক্যাম্পে কাশ্মীরি যুবকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তার অডিও মহল্লায় শোনানো হয়েছে বলে শেলা রশিদের দাবিকে সামরিক বাহিনীর সূত্রে 'ফেক নিউজ' বলে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আর শেহলা রশিদের এইসব অভিযোগকে মিথ্যা রটনা বলে দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দাবি করেছেন আইনজীবী অলক শ্রীবাস্তব।
তিনি প্রশ্ন তুলছেন, "ওই সব কথিত নির্যাতনের অডিও বা ভিডিও কোথায়? কিংবা নির্যাতিতদের নাম, পরিচয় বা ঘটনা কোথায় ঘটেছে সেগুলোই বা কেন তিনি জানাতে পারছেন না?"
ভারত শাসিত কাশ্মীরে এখনও চলাফেরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ চলছে
ঠিক দুসপ্তাহ আগের আর এক সোমবারে ভারতীয় পার্লামেন্টে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষিত হওয়ার পর থেকে সেখানে এযাবত কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসন আগাগোড়াই অস্পষ্টতা বজায় রেখেছে।
তবে সরকারি মুখপাত্র নির্দিষ্টভাবে কোনও সংখ্যা জানাতে অস্বীকার করলেও বার্তা সংস্থা এএফপি কাশ্মীরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্ধৃত করে বলছে, আটকের সংখ্যা কিছুতেই চার হাজারের কম হবে না।

স্কুল-কলেজে তালা

এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে সোমবার থেকে আবার স্কুল খোলার কথা থাকলেও বেশির ভাগ স্কুলই খোলেনি, বা খুললেও বাচ্চারা আসেনি।
এদিকে দুসপ্তাহ পরে আজ সরকার আবার জম্মু ও কাশ্মীরে সব স্কুল খোলার উদ্যোগ নিলেও সে চেষ্টা কার্যত ভেস্তে গেছে।
শ্রীনগর থেকে বিবিসির রিয়াজ মাসরুর এদিন বলছিলেন, "আজ থেকে আবার স্কুল খোলার ঘোষণা হলেও শহরে তা কার্যকর করা হয়নি।"
"প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ক্লাস এইট পর্যন্ত বাচ্চারা স্কুলে আসবে - পরে সেটাকে শুধু ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্য চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে কারফিউ-র ভেতর বাবা-মারা শেষ পর্যন্ত ওই ছোট বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর ঝুঁকি আর নেননি।"
ফলে প্রশাসন যা-ই দাবি করুক কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দূরে - আর তারই মধ্যে শত শত যুবককে আটক করা বা তুলে নেওয়ার খবর যথারীতি আরও আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।

জামাত সমর্থকরাই টার্গেট?

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীনাক্ষি গাঙ্গুলিও বিবিসিকে বলছিলেন পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক।
তার কথায়, "দেখুন ডিটেনশন তো শুধু গত দুসপ্তাহে নয় - তার বহু আগে থেকেই হচ্ছে। ইয়াসিন মালিক কিংবা হুরিয়াতের আরও বহু নেতাকে তো অনেকদিন ধরেই আটকে রাখা হয়েছে।"
সেনাবাহিনী ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গিয়ে কাশ্মীরি যুবকদের নির্যাতন করছে - শেহলা রশিদের টুইট
"সরকার যদিও বলছে যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা খুব অল্প কিছু লোককে আটক করেছে, আমরা কিন্তু বলব আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তারা এখানে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। আমরা এনিয়ে খুব শিগগিরি বিবৃতিও দেব।"
"এসব ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হল স্বচ্ছতার সঙ্গে আটককৃতদের নামের তালিকা প্রকাশ করা, যাতে পরিবারের লোকজন জানতে পারে তারা কোথায়।"
"তাদেরকে আইনি সহায়তা দেওয়া দরকার, ডিটেনশনের মেয়াদ যাতে অনির্দিষ্টকাল না-হয় সেটা যেমন দেখা দরকার - তেমনি ডিটেনশন ছাড়া অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যেত কি না, সেটাও জাস্টিফাই করতে হয়। কিন্তু কাশ্মীরে ভারত সরকার কোনওটাই এখনও করেনি", বলছিলেন মীনাক্ষি গাঙ্গুলি।
শ্রীনগরের লেখক ও গবেষক বশির আসাদও অবশ্য দিল্লিতে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রচুর লোককে আটক করা হচ্ছে এবং এখানে মূলত নিশানা করা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ও ভাবধারার লোকজনকে।"
"বস্তুত কাশ্মীরে জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল মাসদুয়েক আগেই, এখন তাদের সমর্থকদের জেলে আসা-যাওয়া লেগেই আছে", বলছিলেন মি আসাদ।
এএফপি যদিও দাবি করেছে, কাশ্মীরের জেলে আর জায়গা নেই বলে আটক বহু ব্যক্তিকে বাকি ভারতেও পাঠাতে হচ্ছে, বশির আসাদ অবশ্য পরিস্থিতি ততটা খারাপ বলে মনে করছেন না।
এএফপি বলছে, কাশ্মীরে কমপক্ষে চার হাজার লোকেক আটক করা হয়েছে।

ভারতীয় হিসেবে গর্বিত নই: অমর্ত্য সেন

কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার কোনো সমাধান হবে বলে আমি মনে করি না।’ গতকাল সোমবার এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ‘গর্বিত নন’ বলে জানিয়েছেন তিনি।
একাধিক স্তরে সরকারের সিদ্ধান্তের ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ৮৫ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী বলেন, ‘প্রাচ্যের দেশ হিসেবে ভারতই প্রথম গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে গিয়েছিল। বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনের জন্য এত কিছু করার পরেও বর্তমান পদক্ষেপে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলছি। একজন ভারতীয় হিসেবে এ ব্যাপারে আমি গর্বিত নই।’
৫ আগস্ট ভারতের বর্তমান বিজেপিশাসিত কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ অঞ্চল হিসেবে সুবিধা দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দ্বিখণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। মোদি সরকারের এ সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ।
নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতীয় সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে এক দেশ এক সংবিধানের আওতায় চলে আসে। আগে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য আলাদা সংবিধান এবং পতাকা ছিল। এবার সেসব বাতিল হয়ে গেছে। দ্বিখণ্ডন বিলটি ভারতের বেশ কয়েকটি বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র নেতাদের সমর্থন পেয়েছে। এমনকি কংগ্রেস নেতাদের একাংশও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদের প্রশংসা করেছে।
অন্যান্য রাজ্যের জনগণ জম্মু ও কাশ্মীরে জমি কেনার ব্যাপারে যে প্রত্যাশা জানাচ্ছেন, সে ব্যাপারে অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘এ সিদ্ধান্ত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের জনগণের নেওয়া উচিত। কারণ, এটি তাদের জমি।’
জম্মু ও কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন তিনি।
অমর্ত্য সেন বলেন, ‘জনগণের নেতাদের কণ্ঠস্বর না শুনে আপনারা স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার পাবেন বলে আমি মনে করি না। হাজার হাজার নেতাকে দমিয়ে রেখে, অতীতে দেশকে নেতৃত্বদানকারী এবং সরকার গঠনকারী নেতাসহ অনেককে কারাগারে রেখে গণতন্ত্র সফল হবে না।’
সরকার বলছে,সতর্কতার কারণে জম্মু ও কাশ্মীরে কড়া নিরাপত্তা জারি হয়েছে। অমর্ত্য সেন বলেন, ‘এটি পুরোনো ঔপনিবেশিক অজুহাত। ব্রিটিশরা এভাবেই ২০০ বছর ধরে দেশ চালিয়েছিল।’
জম্মু ও কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অমর্ত্য সেন। ছবি: বিবিসির ফাইল ছবি।

ঈদযাত্রায় ১৭৬ দুর্ঘটনায় নিহত ২২৩

এবারের ঈদযাত্রায় সারাদেশে ১৭৬টি দুর্ঘটনায় ২২৩ জন নিহত ও ৬৭০ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। গত ৬ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১২ দিনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
এরমধ্যে ১৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৯৭ জন৷ আহত হয়েছেন ৬২৭ জন।
সোমবার (১৯ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা, নিউজ পোর্টাল এবং টেলিভিশনের সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪৬টি। এতে নিহত হন ১৯৭ জন৷ এরমধ্যে ১৫৯ জন পুরুষ ও ৩৮ জন নারী। আর আহত হয়েছেন ৬২৭ জন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। ৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৯ জন।
নৌপথে দুর্ঘটনা
নৌপথের ২১টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩২ জন। ৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
রেলপথ দুর্ঘটনা
রেলপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় যানবাহনের ধরন ও সংখ্যা
সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল-৫৩, বাস-২৭, ট্রাক-১৮, পিকআপ-২৩, লরি-১, ট্রাক্টর-২, প্রাইভেটকার-১২, মাইক্রোবাস-৮, পুলিশ ভ্যান-১, ভটভটি-১১, নসিমন-৯, অটোরিকশা-৪৩, মাহিন্দ্র-৩ ও টমটম-১টি। মোট-২১২টি।
পর্যবেক্ষণ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহাসড়কের চেয়ে আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনার মাত্রা বেশি ছিল। মহাসড়কে ৬৫ ও আঞ্চলিক সড়কে ৮১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঈদপূর্ব যাত্রায় ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ রুটে ভয়াবহ যানজটে ঘরমুখী মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন। পথে পথে পশুবাহী যানবাহনে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি হয়েছে। ঢাকা শহরের ফিটনেসবিহীন লোকাল বাসগুলো বিভিন্ন মহাসড়কে যাত্রীবহনের কারণে যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সব রুটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। স্বল্পগতির যানবাহন সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলাচল করেছে। প্রথম দিন থেকেই ট্রেনের ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রীদের অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। নৌপথে অব্যবস্থাপনা বরাবরের মতোই বিদ্যমান ছিল। প্রতিশ্রুতি থাকলেও সড়ক, নৌ ও রেলপথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান ছিল না।
দুর্ঘটনার কারণ
ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক; অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক করার প্রবণতা; বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো; সড়ক-মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল এবং যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা।
সুপারিশ
গণপরিবহনকেন্দ্রিক অসুস্থ সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি–দুর্নীতি বন্ধ করে টেকসই পরিবহন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। পর্যাপ্ত দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আধুনিক সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি রেল ও নৌপথকে বিস্তৃত ও মানসম্পন্ন করতে হবে। রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টিও ভাবতে হবে। জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মনে করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
গত ১৫ আগস্ট ফেনীতে পিকনিকের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ৭ জন নিহত হন

আসামে বিশাল বন্দিশিবির নির্মাণের পরিকল্পনা, আতঙ্কে মুসলিমরা -নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট

ভারতে কমপক্ষে ৪০ লাখ মানুষ বিদেশি অভিবাসী ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকিতে। এর বেশির ভাগই মুসলিম। ভারত সরকার কট্টর হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এর অধীনে নাগরিকত্বের জনপ্রিয় যে ধারা তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে সরকার এবং নতুন করে নাগরিকত্বের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে আসাম রাজ্য সরকার ফরেনার ট্রাইব্যুনাল দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধি করছে। পরিকল্পনা নিয়েছে নতুন নতুন বিশাল সব বন্দিশিবির নির্মাণের। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মুসলিমরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
সাংবাদিক জেফ্রে জেটলম্যান ও হরি কুমারের লেখা প্রতিবেদনটির শিরোনাম-‘ইন্ডিয়া প্ল্যানস বিগ ডিটেনশন ক্যাম্পস ফর মাইগ্রেন্টস অ্যান্ড মুসলিমস আর অ্যাফ্রেইড’।
এতে তারা আরো লিখেছেন, আসামে অভিবাসীদের ধরপাকড় শুরু হতে যাচ্ছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে পাহাড়ি এ রাজ্যে যেসব বিপুল সংখ্যক নাগরিকের নাগরিকত্ব এখন প্রশ্নের মুখে, তারা জন্মেছেন এই রাজ্যে। তারা এখানে নির্বাচনে ভোট দেয়া থেকে সব রকম নাগরিক সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু রাজ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুততার (র‌্যাপিডলি) সঙ্গে ফরেনার ট্রাইব্যুনাল বৃদ্ধি করছে। একই সঙ্গে নতুন নতুন বিশাল আকারের বন্দিশিবির নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। শত শত মানুষকে বিদেশি অভিবাসী হিসেবে সন্দেহজনকভাবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে পদস্থ বর্ষীয়ান এক মুসলিম যোদ্ধাও।
স্থানীয় অধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, নাগরিকত্বের প্রাথমিক তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বেদনায় এবং জেলে যাওয়ার আতঙ্কে এরই মধ্যে কয়েক ডজন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসক দল পিছু হটছে না। উপরন্তু তারা ভারতের অন্যান্য অংশে নাগরিকদের নাগরিকত্ব প্রমাণের এমন ধারা চালু করার প্রত্যয় ঘোষণা করছে। মে মাসে লোকসভা নির্বাচনে নতুন করে নির্বাচিত হওয়ার আগে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী কর্মসূচির অংশ এটা। তার সরকারের জনপ্রিয়তার কৌশল এটি। ওদিকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছেই। আসাম উদ্বেগের সঙ্গে নাগরিকত্ব পর্যবেক্ষণ করছে। এই ধারা শুরু হয়েছে এক বছর আগে। তা শেষ হওয়ার কথা ৩১শে আগস্ট। এই ঘটনাটি মুসলিমদের পেছনে ঠেলে দেয়ার আরেকটি উদ্যোগের সঙ্গে মিলে গেছে, যা ঘটছে আসাম থেকে কমপক্ষে ১০০০ মাইল দূরে।
দু’সপ্তাহেরও কম সময় আগে ভারতের মোদি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরে ‘স্টেটহুড’ একতরফাভাবে কেড়ে নিয়েছে। এর ফলে জম্মু-কাশ্মীর তার বিশেষ স্বায়ত্তশাসন হারিয়েছে। চলে গেছে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে। তবে স্থানীয় কোনো নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করা হয়নি। এসব নেতার অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওদিকে আসামের প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ অধিবাসীকে প্রমাণ করতে হচ্ছে ডকুমেন্টসহ যে, তারা বা তাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালের শুরুর দিকের আগেই ভারতে গিয়েছেন।
কিন্তু এমনটা প্রমাণ করা অতো সহজ নয়।
অনেক পরিবার আছে যারা কয়েক দশকের সম্পত্তির দলিলের ওপর ভিত্তি করে অথবা জন্ম সনদে পূর্বপুরুষদের নাম যুক্ত করছেন।

গ্রহাণু আঘাত করবে পৃথিবীতে: এলন মাস্ক

পৃথিবীতে গ্রহাণুর আছড়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে
বিশাল এক গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হেনে মানবসভ্যতা নিশ্চিহ্ন করে দেবে। আমাদের হাতে তা ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলন মাস্ক এমন ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। মিসরীয় বিশৃঙ্খলার দেবতা অ্যাপোপহিসের নামে নামকরণ করা একটি গ্রহাণু বিপজ্জনকভাবে পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৯ হাজার মাইল দূর দিয়ে যাবে এ গ্রহাণুটি।

গতকাল সোমবার এ গ্রহাণুটি নিয়ে টুইট করেন মাস্ক। তিনি বলেন, ‘দারুণ একটি নাম। তবে এ গ্রহাণুটি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। তবে আরও বড় একটি পাথর পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে তা ঠেকানোর কোনো উপায় আমাদের হাতে নেই।’

আইএএনএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল আকাশজুড়ে উজ্জ্বল আলো জ্বলে উঠবে। এখন ধীরে ধীরে তা উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। একপর্যায়ে এটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দেখা যাবে। এক হাজার ১০০ ফুট প্রশস্ত গ্রহাণুটির কারণে পৃথিবীতে ক্ষতির আশঙ্কা কম।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির গবেষক মেরিনা ব্রজোভিক বলেন, ২০২৯ সালে পৃথিবীর সন্নিকটে গ্রহাণু চলে আসার ঘটনা বিজ্ঞানের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। অপটিক্যাল ও রাডার টেলিস্কোপ দিয়ে এটি পর্যালোচনা করা হবে। আমরা এর পৃষ্ঠদেশ পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাব।

পৃথিবীর কাছ দিয়ে এত বড় আকারের গ্রহাণু অতিক্রম করার ঘটনা দুর্লভ। একই দূরত্ব দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিটার আকারের গ্রহাণু অতিক্রম করার ঘটনা আগেও পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকেরা। তবে অ্যাপোপহিসের সমান আকারের গ্রহাণু সচরাচর পৃথিবীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করে না।

দক্ষিণ গোলার্ধে রাতের আকাশে খালি চোখে আলোর গোলকের মতো দেখা যাবে গ্রহাণুটিকে।

নাসার সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বলা হয়, অ্যাপোপহিসের পৃথিবীতে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা সামান্য। এখন থেকে অনেক দশকের মধ্যে লাখে একবার এ ধরনের আশঙ্কা থাকতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এর অবস্থানের সঠিক পরিমাপ বুঝে এর প্রভাবের বিষয়টি বের করা যাবে।

বর্তমানে যে ২ হাজার ‘প্রটেনশিয়ালি হ্যাজারডাস অ্যাস্টরয়েডস’ (পিএইচএএস) রয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে এই অ্যাপোপহিস।

জেট প্রপালশন ল্যাবের জ্যোতির্বিদ ডেভিড ফারনোচিয়া বলেন, গ্রহাণুর প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে ছোট বরফধসের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

কাশ্মীরিদের মনে গভীর ক্ষত: ল্যানসেট

কাশ্মীরের শ্রীনগরে কড়া নিরাপত্তা। ছবি: এএফপি
বছরের পর বছর একধরনের সহিংস পরিবেশে রয়েছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জনগণ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট বলছে, এতে কাশ্মীরের জনগণ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি হচ্ছে।
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দানকারী ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল নিয়ে গত শনিবার ল্যানসেট ‘কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ ঘিরে ভয় ও অনিশ্চয়তা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন বলছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলছেন নতুন সিদ্ধান্তে কাশ্মীরের পরিস্থিতি বদলাবে। ল্যানসেট বলছে, কাশ্মীরবাসীর মনের গভীর ক্ষত নিরাময়ও জরুরি।
ল্যানসেট বলছে, কাশ্মীরের সাধারণ জনগণ গণবিক্ষোভ, রাষ্ট্র অনুমোদিত সেনা অভিযান, পুলিশ ও বিদ্রোহীদের মধ্যে গোলাগুলি, বনধ এবং কারফিউয়ের চক্রে আটকে গেছে। এই পরিস্থিতি কাশ্মীরের জনগণের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলেছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশ্মীরিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। তাদের মনস্তাত্ত্বিক সংকটের বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদআউট বর্ডারস (এমএসএফ) ১৯৮৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে সংঘর্ষে কাশ্মীরের ক্ষতিগ্রস্ত দুটি গ্রামীণ জেলায় সমীক্ষা চালায়। এমএসএফ বলছে, কাশ্মীরের প্রায় অর্ধেক জনগণ কদাচিৎ নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারে। প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন চোখের সামনে মানুষকে মরতে দেখেছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, এই অঞ্চলের মানুষেরা উদ্বেগ এবং মানসিক অসুস্থতার (পোস্ট-ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার পিটিএসডি) শিকার।
এমএসএফের এই সমীক্ষার বরাত দিয়ে ল্যানসেট বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ ও পিটিএসডি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রায় ৩০ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক কাশ্মীরি তামাক সেবন করে। তবে বহুদিনের অস্থিরতা সত্ত্বেও কাশ্মীরিদের গড় আয়ু এখনো ভারতবাসীর সার্বিক গড় আয়ুর চেয়ে বেশি। পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৮ দশমিক ৩ বছর, নারীদের ক্ষেত্রে ৭১ দশমিক ৮ বছর। ল্যানসেট ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত বলেছে।
কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এক প্রতিবেদন গত মাসে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন বলছে, ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত কাশ্মীরে বহু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সীমান্তে গোলাগুলি, যৌন সহিংসতা, মানুষকে নিখোঁজ করে দেওয়া। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরকারি বাহিনীর অব্যাহত অভিযানের কথা বলা হয়েছে। তবে ভারত পাকিস্তান দুই দেশই ওই সময়ের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান নেই: অমর্ত্য সেন

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন
কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের সমালোচনা করে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর জোর দিয়ে মানুষের অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। আমার মনে হয় না গণতন্ত্রের চর্চা ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সোমবার (১৯ আগস্ট) ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

৮৫ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী বলেন, ভারত গণতন্ত্রের আর্দশ মানছে না। আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এখন আর আমি গর্ব করি না। একটা সময় ছিলো পাশ্চাত্যের দেশগুলোর বাইরে একমাত্র ভারতে গণতন্ত্রের চর্চা হতো। ভারত এখন গণতন্ত্রের সেই পথ হারিয়েছে।

সম্প্রতি ভারত সরকার সংবিধানে কাশ্মীরকে দেওয়া মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে জম্মু কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে জম্মু কাশ্মীরের জমি ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষও কিনতে পারবেন। এই অধিকার কেবল কাশ্মীরের জনগণেরই ছিলো।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও জমি ক্রয় প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, কাশ্মীরের জনগণের উপরই এই সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার দেওয়া উচিত। তারাই ঠিক করবে জমি ক্রয় বিক্রয় বিষয়ে, এই জমি তাদের অধিকার।

কাশ্মীরের নেতাদের গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি মনে করি না, মানুষকে ভয় দেখিয়ে কণ্ঠস্বর রোধ করে ভালো কিছু পাওয়া যায়। নেতাদের গ্রেফতার করে, আটকে রেখে গণতন্ত্র দমন করে অতীতেও ভালো ফল পাওয়া যায়নি।

কড়া নিরাপত্তায় মোড়ানো কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে জম্মু কাশ্মীরের উপর উপনিবেশিক অত্যাচার। ঠিক এভাবেই ২০০ বছর বিট্রিশরা আমাদের শাসন করেছিলো।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার পরিচালিত স্কুলে দুপুরের খাবার হিসাবে দেওয়া হল নুন-ভাত!

নুন এবং ভাত। সোমবার রাজ্য সরকার পরিচালিত একটি স্কুলে কয়েকশ ছাত্রীদের মধ্যাহ্নভোজ হিসাবে এটাই দেওয়া হয়েছিল।হুগলি জেলার চুঁচুড়া বালিকা বাণীমন্দির বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এই খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ে ছুটে যান স্থানীয় বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে দুপুরের খাবার  নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। শুধু সেটাই নয়, এ বিষয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জবাবও দাবি করেন তিনি। "মিড ডে মিল নিয়ে এই দুর্নীতি সহ্য করা হবে না" বলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেন লকেট। তবে শতাধিক স্কুল ছাত্রীর মেঝেতে বসে নুন-ভাত খাওয়ার ছবি ভাইরাল হয়ে যায় এবং সব স্তরেই নিন্দার ঝড় ওঠে।একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এই ঘটনাকে "দিনে দুপুরে ডাকাতি" বলে উল্লেখ করেন।

হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, "স্থানীয় লোকেরাই এই বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করেছে।" সোমবার তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকাটি পরিদর্শন গেছিলেন, তখনই বিদ্যালয়ে ওই নুন-ভাত পরিবেশন করা নিয়ে একটি ফোন পেয়ে সেখানে ছুটে যান তিনি।

বিদ্যালয়ের বারান্দায় একটি ব্ল্যাকবোর্ডে, মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে সাদা চক দিয়ে লেখা ছিল: "ফ্যানা ভাত আর নুন"।

পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত দরিদ্র লোকেরা এই খাবার খেয়ে থাকে, যদিও তার মধ্যে অন্তত একটু তেল ও মরিচ দেয় তাঁরা।

"মিড ডে মিলের খাবারের টাকা চুরি করা হচ্ছে। শীর্ষ তৃণমূলের লোকেরা এতে জড়িত। আমি স্কুল অ্যাকাউন্টে দেখেছি যে ৫,০০০ ডিম ২৫,০০০ টাকায় কেনা হয়েছে, কিন্তু এখানে মেয়েরা ডিম পায় না। ডিম কোথায় গেল?" প্রশ্ন করেন স্থানীয় বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি আরও দাবি করেছেন যে প্রায় আড়াই শতাধিক চালের ব্যাগও বিদ্যালয় থেকে হাপিস হয়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি তুলে তিনি বলেন,  "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরকালই কন্যাশ্রী নিয়ে গর্ব করেন। কিন্তু তৃণমূলের কি লজ্জা নেই, মেয়েদের প্লেট থেকে খাবার চুরি করে তাঁরা"।

‘পুলিশি নিরাপত্তা'র আর্জি জানালেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়

এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা স্কুল কমিটির প্রধান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য এবং চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যানও।

যদিও স্কুল কমিটির প্রধান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, ব্যাংকে টাকা ছিল তবে কিছু শিক্ষকের অসহযোগিতার কারণে সোমবার এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন বিদ্যালয়ে শাকসবজি এবং ডিম কেনার মতো নগদ টাকা ছিল না। নুন-ভাত খেতে দেওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রম, দাবি করে তিনি বলেন সাধারণত মিড ডে মিলের খাবারে প্রোটিন থাকেই।

ঘটনায় ওই ছবি ভাইরাল হওয়ার পরে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। এই ঘটনায় তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাঁরা। পাশাপাশি গত ছয় মাস ধরে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন নেই তাও তদন্ত করার দাবি উঠেছে।

>>>সূত্র: এনডিটিভি

স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর থেকে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে হাজার হাজার মানুষ গ্রেফতার: সরকারি সূত্র

অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের পর সেখানে প্রবল বিক্ষোভ দেখা দিতে পারে এই আশংকায় রাজ্যের হাজার হাজার অধিবাসীকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সরকারি সূত্রগুলো এই তথ্য দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেজিস্ট্রেট বলেন, জননিরাপত্তা আইনে (পিএসএ) অন্তত ৪,০০০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইনে কোন অভিযোগ আনা ছাড়াই কাউকে দুই বছর পর্যন্ত আটক রাখতে পারে নিরাপত্তা বাহিনী।

ওই মেজিস্ট্রেট বলেন, আটককৃতদের বেশিরভাগকে কাশ্মীরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ কাশ্মীরের কারাগারগুলোতে আর ঠাই নেই। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে সহকর্মীদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্য জানিয়েছেন। দুই সপ্তাহ আগে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের দিন থেকেই রাজ্যটির সঙ্গে বাইরের বিশ্বের সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

কত মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার কোন হিসাব দিতে কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করে আসছে। তবে গত কয়েক দিনে শতাধিক স্থানীয় রাজনীতিক, এক্টিভিস্ট ও বুদ্ধিজীবীকে গ্রেফতারর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে জম্মু-কাশ্মীরে সরকারের মুখপাত্র রোহিত কানসাল জানান যে আটককৃতদের সম্পর্কে কেন্দ্রের কাছে কোন পরিসংখ্যান নেই।

কিন্তু বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে এএফপি ব্যাপক ধরপাকড়ের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা আটক সংখ্যা ৬,০০০-এর মতো বলে উল্লেখ করেন।

আরেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, এই সংখ্যা শুধু কারাগারে পাঠানো লোকজনের সংখ্যা। কিন্তু যাদেরকে স্থানীয় থানায় আটক করে রাখা হয়েছে তাদের কোন রেকর্ড নেই।

ইরানের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে বাংলাদেশের বেসরকারি খাত

ইরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অ্যাটাশে বলেছেন যে, তার দেশের বেসরকারি খাত ইরানের বেসরকারি খাতের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।

ইরান চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রিজ, মাইনস অ্যান্ড এগ্রিকালচারের (আইসিসিআইএমএ) ডেপুটি প্রধান মোহাম্মদ রেজা কারবাসির সাথে শনিবার এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অ্যাটাশে মোহাম্মদ সবুর হোসেন।

বৈঠকে দুই পক্ষ দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা, সক্ষমতা এবং পারস্পরিক অভিন্ন খাতগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কারবাসি বলেন যে, “দুঃখজনকভাবে দুই দেশের মধ্যে ভালো রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই”।

সবুর হোসেন দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের ইতিহাসের উপর জোর দিয়ে বলেন যে, দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য দুই দেশের বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিভিন্ন খাতে প্রচুর চাহিদা রয়েছে, এর মধ্যে পেট্রোকেমিক্যালও রয়েছে এবং ইরানও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে তাদের চাহিদা মেটাতে পারে”।

তার মতে, দুই দেশের মধ্যে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যেতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে সরকার সবকিছু করবে-প্রধানমন্ত্রী

দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরো উন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে। বলেছেন, আমাদের দেশে রাবেয়া ও রোকেয়া জমজের সফল অস্ত্রোপচারের মতো আরো জটিল কাজ যাতে করা যায় সেজন্য আমরা সব ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা করবো। প্রধানমন্ত্রী সমপ্রতি ঢাকার সিএমএইচ-এ জমজ শিশুর সফল অস্ত্রোপচারকারী বাংলাদেশি ও হাঙ্গেরীয় চিকিৎসক এবং অন্যান্য কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দলের উদ্দেশে ভাষণে একথা বলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে এই অনুষ্ঠানে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল সার্ভিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. ফশিউর রহমান, ডিজিএমএস-এর কনসালটেন্ট সার্জন জেনারেল মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান, ড. হাবিবে মিল্লাত এমপি, হাঙ্গেরীয় চিকিৎসক দলের ডা. কেসাপোডি, ডা. কোসোকি এবং পাটাকি বক্তব্য রাখেন। এছাড়া, অন্যান্য চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বক্তব্য রাখেন। গত ২রা আগস্ট ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দীর্ঘ ৩৩ ঘন্টার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জমজ শিশুকে আলাদা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং হাঙ্গেরী সরকারের সংস্থা ডিফেন্সলেস পিপল ফাউন্ডেশনের (এডিপিএফ) সহযোগিতায় এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এর আগে জমজ শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাঙ্গেরী পাঠানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে-বিদেশে তাদের চিকিৎসার সকল খরচ বহন করেন। পাবনার চাটমোহর উপজেলায় তারা জন্মগ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো জমজ শিশুর অস্ত্রোপচারে জড়িত ছিল সেগুলোকে অভিজ্ঞতার আলোকে আরো উন্নত ও আধুনিকায়ন করতে হবে। শেখ হাসিনা এ সফল অস্ত্রোপচারের জন্য হাঙ্গেরীয় চিকিৎসক দলের সদস্যসহ সকল চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশি ও হাঙ্গেরীয় চিকিৎসরা একটি অসাধারণ কাজ করেছেন। জমজ শিশুদ্বয় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে শিগগিরই মায়ের কোলে ফিরে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, এ সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিকিৎসকরা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। রাবেয়া-রোকেয়ার সফল অস্ত্রোপচার বাংলাদেশের চিকিৎসকদের চোখ-কান খুলে দিয়েছে। তিনি বলেন, এ জটিল অস্ত্রোপচারে প্রবেশের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সুন্দর সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের সমন্বিত কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে সমঝোতা ও অভিজ্ঞতার উন্নয়ন হয়েছে। রাবেয়া-রোকেয়ার পিতা রফিকুল ইসলাম তার কন্যাদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরীর চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান।

২০২৩ সালের মধ্যে সব প্রাথমিকে ‘স্কুল মিল’

২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দেবে সরকার। শুরুতে চর, হাওর ও দুর্গম এলাকার স্কুলগুলোতে এই সুবিধা দেয়া হবে। এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার  কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে স্কুল মিল নীতি ছাড়া আরও সাত সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুমোদনের কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মিড ডে মিল অনেক জায়গায় পাইলট বেসেজে চালু হয়েছে। এগুলোকে কীভাবে সমন্বিতভাবে সারাদেশে ছড়ানো যায় তার জন্য এই নীতিমালা। এটি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সেল বা ইউনিট কাজ করবে।
কার্যক্রমের পরিধি সমপ্রসারণে প্রয়োজনবোধে প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী, স্কুল মিল উপদেষ্টা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সরকার মনোনীত উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে এই কমিটি কর্মপরিধি, কার্যকারিতা, অর্থায়ন ও মূল্যায়নে কাজ করবে। সরকার মনোনীত বিশিষ্ট ব্যক্তির সভাপতিত্বে এই কমিটির সদস্যদের নির্দিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল মিল কর্মসূচির প্রধান নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। শফিউল আলম বলেন, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি চাহিদার ক্যালরির ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। যা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৩-১২ বছরের ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, অর্ধদিবস স্কুলের ক্ষেত্রে দৈনিক প্রয়োজন অনুপুষ্টিকণার চাহিদা ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করা। এছাড়া জাতীয় খাদ্যগ্রহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তির ১০-১৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এবং ১৫-৩০ শতাংশ চর্বি থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। ন্যূনতম খাদ্য তালিকার বৈচিত্র বিবেচনায় নিয়ে ১০টি খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে ন্যূনতম চারটি খাদ্যগোষ্ঠী নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে তিন উপজেলার স্কুলে রান্না করা খাবার এবং ১০৪টি উপজেলায় বিস্কুট খাওয়ানো হচ্ছে। ১০৪টির মধ্যে ৯৩টি উপজেলায় সরকার ও ১১টি উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অর্থায়ন করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা দেখেছি যে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে। রান্না করে খাবার দিলে ১১ শতাংশ উপস্থিতির হার বাড়বে। শুধু বিস্কুট দিলে উপস্থিতির হার বাড়ে ৬ শতাংশ। কর্মসূচির আওতাধীন এলাকায় ঝরে পড়ার হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং শারীরিক অবস্থারও অনুকূল দেখতে পেয়েছি। রান্না করা খাবার এলাকায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিস্কুট দেয়া এলাকায় রক্ত স্বল্পতা কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এই বিবেচনায় জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি অনুমোদিত হয়েছে মন্ত্রিসভায়। অতিরিক্ত সচিব বলেন, একই বিস্কুট বাচ্চারা খেতে চায় না- খাবারের বৈচিত্র বিবেচনায় আমরা বিস্কুট, কলা ও ডিম কমন রাখার চেষ্টা করছি। আর বৃহস্পতিবার অর্ধদিবসে শুধু বিস্কুট রাখব। শুধু বিস্কুট দিলে প্রতিদিন প্রতি শিক্ষার্থীর ৯ টাকা হারে বছরে ২ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, পাঁচ দিন রান্না করা খাবার ও এক দিন বিস্কুট দিলে খরচ হবে ৫ হাজার ৫৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিস্কুট এবং ডিম, কলা ও রুটি দিলে ২৫ টাকা হারে খরচ হবে ৭ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আমরা সব মডেলে চালাব, যেখানে যেটা প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পরিকল্পনা আছে সব ইউনিয়নে চালাব। ২০২৩ সালের মধ্যে সারাদেশে কাভার করা হবে। সরকারের সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটির সম্পৃক্ততা ছাড়া সফল করা যাবে না। কারণ স্কুলগুলোতে রান্নাঘর করতে হবে। এজন্য পিপিপি মডেলে করতে পারলে সফল হবে। দেশে ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১৫ হাজার ৩৪৯টি স্কুলের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে খাওয়ানো হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে ৪৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্প চলবে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এদিকে, সাত সপ্তাহ পর মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরও দুইটি আইনের খসড়া ও দুইটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৯-অনুযায়ী, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরও চ্যান্সেলর থাকবেন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষাবিদসহ ১৩ সদস্যের একটি সিন্ডিকেটও থাকবে। বৈঠকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৯ এর খসড়ায় অনুমোদন পায়। অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ি মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও ছয় সদস্যের একটি পরিচালনা বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা দেওয়ার নামে যেখানে সেখানে যেন মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না পারে, তার জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করছে সরকার। এজন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সম্পর্কিত সমন্বিত/বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, মন্ত্রিসভায় সরকারি মালিকানাধীন রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) ও চীনের বেসরকারি কোম্পানি শেনজেন স্টার ইনস্টু্রমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ পাওয়ার ইক্যুপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কোম্পানি প্রিপেইড মিটার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) আওতায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে আরেকটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

ওরা যাবে কোথায়? by মারুফ কিবরিয়া

খোলা আকাশের নিচে বসা জাফর। পেশায় রিকশাচালক। ঘর নেই। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনদিন ধরে এভাবেই কাটছে। কখনো রিকশায় আবার কখনো বা ভ্যানগাড়িতে শুয়ে বসে কাটছে তার সময়। আর সঙ্গে ভর করেছে একরাশ চিন্তা। আকস্মিক আগুনে পুড়ে যায় মাথাগোঁজার শেষ ঠাঁইটুকু।
এই শহরে আর কোথাও থাকার জায়গা নেই জাফরের। বেশি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন স্ত্রী সন্তানের কথা ভেবে। তাদের নিয়ে কোথায় উঠবেন। আগুনে যে ঘর পুড়ে গেছে তার পুনর্বাসন হবে কি? এই প্রশ্ন শুধু সম্প্রতি মিরপুরের চলন্তিকায় অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো জাফরের নয়। পুরো বস্তিবাসীর। মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, কাউন্সিলরা আসছেন যাচ্ছেন। পুনর্বসানের আশ্বাসও দিচ্ছেন। তাতেও পাচ্ছেন না ভরসা। কারণ এদেশে বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের পর পুনর্বাসনের দৃষ্টান্ত খুব একটা সুখকর নয়। তাইতো কারো আশ্বাসে মন ভরছে না বস্তির বান্দিাদের। শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ আগুনে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় মিরপুর ৭ নং সেকশনের এলাকার ওই বস্তি। পুড়ে ছাই হয়ে যায় অসংখ্য নিম্ন আয়ের মানুষদের ঠিকানা। যেখানে দিনশেষে পরিশ্রান্ত দেহের ঠাঁই হয় তাদের। কিন্তু গত চারদিন ধরেই তারা নেই আপন ঠিকানায়। কেউ আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে আছেন, কেউ আত্মীয়ের বাসায়। আর যারা কোথাও স্থান পাননি তাদের ঠাঁই হয়েছে বস্তির চার পাশের সড়কে। খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় এমপি, কাউন্সিলর ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের তত্ত্বাবধানে খাবার পেলেও পাচ্ছেন না থাকার ব্যবস্থা। এমনকি গত চারদিনে গোসল ছাড়াও রয়েছেন কেউ কেউ। ঢাকা উত্তরের সিটি করপোরেশন বলছে, আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় পুরো বস্তি। যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
ঝিলপাড় বস্তির বাসিন্দা রিকশাচালক জাফর বললেন, আগুনে তো আমার কিচ্ছু নাই। সব পুইড়া শ্যাষ। বউ বাচ্চা নিয়া কই যামু? গত তিনদিন ধইরা এই রাস্তায় সময় কাটতাছে। রাইতে থাকার কোনো ঠিক নাই। নিজের রিকশা আছে। সেইটার উপর ঘুমাই। কারো খালি ভ্যান পাইলে ওইখানেও ঘুমাই। এমনে কইরা কয়দিন? আমার যে ঘর পুইড়া গেল সেইটা আবার পামু তো? হ্যারা তো আইসা বইলা গেছে। আমাগোরে এইখানেই ঘর তুইলা দিবো। কিন্তু এতদিন কই থাকমু। এই তিন দিন ধইরা গোসল করার জায়গাও পাইতাছি না। খালি খাবার পাইতাছি। কাপড় চোপড় সব পুইড়া গেছে। এক কাপড়ে আর কত থাকমু? বস্তির আরেক বাসিন্দা নূরজাহান বেগম। চারপাশ থেকে আগুন ধেয়ে আসছিল তার ঘরের কাছে। এমন সময় কোনোমতে জানে বেঁচে ফিরেন নুরজাহান। তিনিও চলন্তিকা মোড়ে গৃহহারা অবস্থায় রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচেই দিন পার করছেন নূরজাহান। তিনি বলেন, আমাগো তো কিছুই আর নাই। সব শেষ হইয়া গেল। একটা ছোট্ট বস্তা হাতে নিয়া বাইর হইছি। এইডার মধ্যে খালি কয়ডা পান সুপারি আছিলো।
চলন্তিকা মোড়ে একটি ছোট ব্যাগ হাতে বসেছিলেন দুলাল নামের এক ষাটর্ধো বৃদ্ধ। খানিক সময় পর পর বিলাপ করছেন। শুক্রবার রাতের সেই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে এখনো ভাসছে তার। দুলাল বলেন, বয়স্ক মানুষ আমি। বউ পোলারা সবাই গ্যারামের বাড়িতে। আমি রাজমিস্ত্রির কাম করি। ঈদের পর পর একটা কাম ছিল তাই চইলা আইছি। ঘরে একাই ছিলাম। আগুন আগুন শুইনা  ঘরতে বাইরে আইছি। সব শেষ হইয়া গেল। কই থাকুম এহন? আমাগো ঘর কেডা ঠিক কইরা দিবো?
বস্তিতে বাস করা মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি লেখাপড়া করি। থাকার জায়গা বলতে এই বস্তিরই একটি ছোট্ট রুম। এখানেই আমার জন্ম। বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। আগুনের সময় বাইরে ছিলাম। এখন তো আমাদের থাকার জায়গা নেই। রাস্তাতেই কাটাচ্ছি। বাসার মহিলারা স্কুলে আশ্রয়ে আছে। কিন্তু আজ তিনদিন হলো আমার কোনো গোসল নেই। এক কাপড়ে আছি। কিভাবে যে বেঁচে আছি সেটা শুধু আমিই বলতে পারবো। নাহার আক্তার নামের এক পোশাক শ্রমিক বলেন, বাপ মা লইয়া দুইটা রুম ভাড়ায় থাকি এইখানে। দুইটাই পুইড়া শেষ হইয়া গেল। গত দুইদিন ধইরা খাবার আসতেছে। কিন্তু থাকার জায়গা নাই। পাশের আরেকটা খালার বাসায় একদিন আছিলাম। বাপ মা লইয়া কাইল রাতে রাস্তায় কাটাইছি। খালার বাসায় তো বেশি জায়গা নাই। কত কষ্ট করতাছি কেউ দেখতেছে না। এহন আমাগো থাকার জায়গা ঠিক হইবো কবে তাও জানি না।
মিরপুরের বিভিন্ন বাসায় কাজ করেন নুরীন আক্তার। দুই ছেলে নিয়ে গত ৫ বছর ধরে ঝিলপাড় বস্তিতে বসবাস করেন তিনি। আগুনে মাথা গোঁজার জায়গাটুকু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে নুরীনের। বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতনে বিলি করা ত্রাণের খাবার ভাগ্যে জুটলেও খোলা আকাশের নিচেই কাটছে তার। নুরীন বলেন, দুইটা ছেলে আমার। ওগো মুখে খাওন তুলনের লাইগা মাইনশের বাসা বাড়িতে কাম করি। থাকি ছোট্ট ঘর ভাড়া কইরা। তিন হাজার টাকা ভাড়া দিতাম। ঢাকা শহরে এর থেকে আর কমে তো বাসা ভাড়া পাওয়া যায় না। আর আমার রোজগারও নাই। এখন দুইটা ছেলেরে নিয়া যামু কই। রাস্তায় তো আছি এই তিন দিন। আর কয়দিন থাকোন লাগবো কে জানে।
বস্তিতে আগুন লাগার খবর জানেন না সাদ্দাম হোসেন নামের এক রিকশাচালক। ঈদের সময় ময়মনসিংহে বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ফিরে দেখেন তার ঘরটি পুড়ে গেছে। তিনি জানান, মোল্লা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। কিছুই জানতেন আগুন লাগার বিষয়ে। রোববার ঢাকায় এসে দেখেন তার ঘরটি পুড়ে গেছে। দুদিন ধরে বাইরে বাইরেই থাকছেন সাদ্দাম।
বস্তিবাসীদের একাংশ সাময়িকভাবে ঠাঁই পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতন, মিরপুর বাংলা স্কুলসহ আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ঢাকা উত্তরের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাইউল খান জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াদের নিয়মিত খাবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মিরপুরের চারটি স্পটে ঘটনার দিন থেকে নিয়মিত খাবার দেয়া হচ্ছে। এদিকে, পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি জানান, প্রধানমন্ত্রী, এমপি এমনকি আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তত্ত্বাবধায়নে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে সব ধরণের দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। কেউ যেন খাবারের কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল করা হচ্ছে। এর আগে গতকাল দুপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় তিনি বস্তিবাসীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যতদিন পর্যন্ত আপনাদের সাহায্য দরকার আমরা করবো, আমাদের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা আপনাদের পাশে থাকবেন। অবশ্য মন্ত্রীর বিদায়ের ক্ষণিক সময় পরই বস্তিবাসীরা প্রধান সড়কে এসে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা মিনিট পাঁচেকের মতো সড়কে অবস্থান নেন। ব্যানার ফেস্টুন হাতে নিয়ে বস্তিবাসিন্দারা ক্ষোভের কথা জানান।

গণহত্যার অভিযোগ সত্ত্বেও মিয়ানমার সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া by শিবানি মাহতানি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, চীন, ভারত ও অন্যঅন্তত তিনটি দেশ মিয়ানমার সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। এসব অস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার কাজেও ব্যবহৃত হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক জাতিসংঘ প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কয়েক ডজন মিয়ানমার কোম্পানি (এগুলোর কয়েকটি ২০১৬ সালে অবরোধ প্রত্যাহারের আগে পর্যন্ত মার্কিন কালো তালিকায় ছিল) মিয়ানমার সামরিক বাহিনীকে ১০ মিলিয়ন ডলার দান করেছে। মিয়ানমার থেকে সাত লাখ রোহিঙ্গাকে সেনাবাহিনীর বহিষ্কারের পর এসব কোম্পানি গণহত্যার স্থানগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করছে।

বহিষ্কারের দুই বছর পরও লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতে অবস্থান করছে। মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসন কবে হবে তা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না।

জাতিসংঘ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় ও বিদেশে ব্যবসায়িক চুক্তি থেকে বিপুল আয়ের ফলে দায়মুক্তি নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজটি করে যেতে পেরেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এতে সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত ১৪০টি কোম্পানির কথা বলা হয়।

এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে বলা হলেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র তাতে সাড়া দেননি।

জাতিসংঘের এই মিশনটির দায়িত্ব হলো মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করা। গত সোমাবার মিশনটি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র অবরোধ ও এর সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং লাইং ও তার উপ-প্রধানের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করে।  এছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও কানাডা মিয়ানমারের আরো কিছু জেনারেল ও সৈন্যের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে।

জাতিসংঘ মিশনের সদস্য ক্রিস সিদোটি বলেন, সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামরিক বাহিনীকে পরিচালনাকারী লোকদের বিরুদ্ধে পূর্ণ অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করার পদক্ষেপ দেখতে চাই।

মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ২০১১ সাল পর্যন্ত নিরঙ্কুশভাবে দেশটি পরিচালনা করত। ২০১৫ সালে দেশটি গণতান্ত্রিক শাসনের প্রত্যাবর্তন ঘটে। ওই নির্বাচনে আং সান সু চির দল বিপুলভাবে জয়ী হলেও এখনো সামরিক বাহিনী ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী। তারা পার্লামেন্টে ব্যাপক উপস্থিতি বজায় রেখেছে, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও আছে এই বাহিনী থেকে। তারা অর্থনীতিকেও নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রভাবের মাধ্যমে।

প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যকার অব্যাহত সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, রকেট লাঞ্চার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ইত্যাদি উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে সংগ্রহ করে মিয়ানমার। এ কাজে জড়িত কোরিয়া মাইনিং ডেভেলপমেন্ট ট্রেডিং করপোরেশনকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কাশ্মীর নিয়ে টানাপড়েন বাড়ছে চিনের সঙ্গেও

কাশ্মীর নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের জের শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের অশ্বক্ষুরাকৃতি টেবিল পর্যন্ত গড়াল না ঠিকই। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে চিনের কাঁটা ধারালো হল বলেই মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের সঙ্গে নতুন করে ক্ষত তৈরি হল দ্বিতীয় মোদী সরকারের। এ বারে কাশ্মীর নিয়ে। উহান বৈঠকের পর আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং-এর দ্বিতীয় ঘরোয়া আলোচনা হতে চলেছে। তার আগে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার বিষয়টি নিয়ে চিন নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধিতার তাস খেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ আটচল্লিশ বছর পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনায় উঠে এসেছে জম্মু ও কাশ্মীর। পাকিস্তান এবং পরে চিনের অনুরোধে। এটা ঠিকই যে, রাষ্ট্রপুঞ্জের সিলমোহর মারা কোনও ভারত-বিরোধী বিবৃতি দেয়নি পরিষদ। পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে চারটি দেশই মোটের উপর ভারতের পাশে থেকেছে। কিন্তু সূত্রের বক্তব্য, বিষয়টি এখানেই মিটে যাচ্ছে না।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি করানোর পিছনে পাকিস্তানের প্রতি চিনের সখ্যই একমাত্র কারণ নয়। এর পিছনে রয়েছে বেজিং-এর নিজস্ব স্বার্থ এবং উদ্বেগও। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনায় কাশ্মীর নিয়ে মোদী সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ঘোর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, এর ফলে চিনের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত কাল বৈঠকের আগে এবং পরে এবং বৈঠকের ভিতরে চিনের স্থায়ী প্রতিনিধিও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন। ইঙ্গিত স্পষ্ট।

আগামী মাসে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে যখন কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার নিয়ে ইসলামাবাদ উত্তাল হবে, তাতে প্রবল ইন্ধন থাকবে বেজিং-এরও। সূত্রের মতে, চিন সতর্ক হয়ে গিয়েছিল সম্প্রতি সংসদীয় অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তৃতার সময়েই। যেখানে অমিত শাহ বলেছিলেন, জম্মু ও কাশ্মীর বলতে গিলগিট, বালটিস্তান, পাক শাসিত কাশ্মীর এবং আকসাই চিনকেও বোঝায়।

আকসাই চিনে পিপলস লিবারেশন আর্মির উপস্থিতি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন সে দিন। অথচ, এত দিন পর্যন্ত আকসাই চিনকে ভারত ‘বিতর্কিত ভূখণ্ড’ বলেছে। চিনের বক্তব্য, লাদাখকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করে বিভাজিত করার পর আকসাই চিন নিয়েও সক্রিয় হবে ভারত। পাশাপাশি ১৯৬২-র যুদ্ধের পরে চিনের হাতে পাকিস্তানের তুলে দেওয়া ৫১৮৩ বর্গ কিলোমিটার জমি নিয়েও এ বার টানাপড়েন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বেজিং-এর। গত কাল রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন উত্তাপ আরও বাড়িয়ে চিন এবং পাকিস্তানকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ শানানোয়, বিষয়টি ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে টানটান করে তুলল বলে মনে করা হচ্ছে।

চিন তার সামরিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্য দেশকেও (বিশেষত রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী এবং অন্য অস্থায়ী সদস্য দেশগুলিকে) সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। গত কাল রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধির

বক্তব্য ইতিমধ্যেই কপালে ভাঁজ ফেলেছে সাউথ ব্লকের কর্তাদের। কাশ্মীর সমস্যার সমাধান ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়, এ কথা বলার পরেও যিনি যোগ করেছেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ এবং প্রস্তাবগুলিকেও মান্যতা দিতে হবে। অথচ ভারতের বরাবরের অবস্থান, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ কোনও তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো বরদাস্ত করা হবে না। রাশিয়ার এ হেন মন্তব্যের পিছনে বেজিং-এর ইন্ধন রয়েছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এখন।
>>আনন্দবাজার পত্রিকা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আদৌ শুরু হচ্ছে কি? by মিজানুর রহমান

ঝুলে যাওয়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে নাটকীয়ভাবে ফের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আগামী ২২শে আগস্টকে টার্গেট ধরে মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়নে   সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন আগেই জানিয়েছেন- ‘ছোট আকারে’ হলেও বাস্তুচ্যুতদের একটি দল যেনো চলতি মাসেই মিয়ানমারে ফেরত যায়- সেটি নিশ্চিত করতে বন্ধু রাষ্ট্র চীন ও ভারত উভয় দেশকে নিয়মিতভাবে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বাংলাদেশের কর্মকর্তারা এখনও এ নিয়ে মুখ খুলছেন না। তারা নিজেরা ‘ধোঁয়াশা’র মধ্যে রয়েছেন বলে জানাচ্ছেন। যদিও এ নিয়ে ঢাকায় এবং কক্সবাজারে গতকালও দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ‘আশাবাদ’, ‘দৃঢ় আশাবাদ’ ব্যক্ত করা হলেও প্রত্যাবাসনের ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট বা মাঠ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার মূখ্য সমন্বয়ক কক্সবাজারস্থ বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম এক দিন আগেও বলেছেন, নতুন করে প্রত্যাবাসন শুরুর কোন খবর তার কাছে নেই। মিয়ানমারের বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা প্রত্যাবাসন জটিলতা দূরীকরণে ২২ শে আগস্টকে টার্গেট ধরে পরবর্তী কার্যক্রমের পথে এগিয়ে যেতে ঢাকা-নেপি’ড সম্মতির বিষয়টি স্বীকার করলেও ওই তারিখ প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে কি-না? সে বিষয়ে খোলাসা করে কিছু বলছেন না।
এ অবস্থায় প্রশ্ন ওঠেছে প্রস্তাবিত তারিখে কি আদৌ প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে? এর জবাব ‘হ্যাঁ’ হলে প্রশ্ন থেকে যায় কিভাবে এটি বাস্তবায়ন হবে? প্রত্যাবাসনে যে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তা হল- বাস্তুচ্যুতদের সম্মতি। রাখাইন পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের অবহিত করা এবং তারা ফিরতে রাজী কি-না? সেই মতামত নেয়া।  কূটনৈতিক সূত্রের খবর দ্বিতীয় দফায় মিয়ানমারের তরফে ‘গ্রহণে’ অনাপত্তিপ্রাপ্ত ৩ হাজার ৪’শ ৫০ জন রোহিঙ্গার একটি তালিকা জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে দিয়েছে বাংলাদেশ, তারা ফিরতে রাজী কি-না? সেই চূড়ান্ত মতামত যাচাইয়ে জন্য। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইউএনএইচসিআর মতামত জরিপ করেছে কি-না? জরিপ সম্পন্ন করে থাকলে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা হয়েছে কি-না? সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারেননি।
এদিকে ২২ শে আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে মর্মে বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে কক্সবাজারে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে দেশী-বিদেশী সংবাদ মাধ্যম যেসব রিপোর্ট করেছে- তাতে নাগরিকত্ব, সম-অধিকারসহ মৌলিক দাবিগুলোর বিষয়ে মিয়ানমারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং এর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া রোহিঙ্গারা ফিরে যাবেন না বলে ধারণা দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত রিপোর্টের বিষয়ে সেগুনবাগিচা এবং ইয়াংগুনের বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরও মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। এক কর্মকর্তা বলেন, এটা ঠিক উভয় পক্ষ প্রত্যাবাসনের ‘প্রক্রিয়া’ শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এ জন্য একটি তারিখও ঠিক হয়েছে। গত নভেম্বরে প্রত্যাবাসন না হওয়া এবং অনর্দিষ্টকালের জন্য এটি স্থগিত হয়ে যাওয়া বা ঝুলে যাওয়া প্রক্রিয়াটি আমরা প্রস্তাবিত তারিখে শুরু করতে চাই। এ বিষয়ে উভয়ে সম্মত। কিন্তু ওই তারিখেই লোকজন ফেরত যেতে শুরু করবে বিষয়টি এমন নয়। বা চলতি মাসে ফেরত পাঠানো না গেলে এটি ফের ঝুলে যাবে, গত নভেম্বরের মত এবার তা হবে না বরং উদ্যোগটি চলমান থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ফিজিক্যাল বা মাঠ পর্যায়ে লোক ফেরৎ যাওয়া শুরু করা না যায়। এ বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ইয়াংগুনের এক কর্মকর্তা বলেন, রয়াটর্সের রিপোর্টে দু’টি পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিন্ট থো’কে উদ্বৃত করে বার্তা সংস্থাটি বলেছে, ৩ হাজার ৫৪০ জনকে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ মিয়ানমার একমত হয়েছে। আসলে এই সংখ্যাটি হবে ৩ হাজার ৪’শ ৫০। রিপোর্টে দুই দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার প্রেক্ষিতে রয়টার্স লিখেছে- বাংলাদেশের পাঠানো ২২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা থেকে ওই বাস্তুচ্যুতদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। প্রকৃত তথ্য হচ্ছে- প্রায় ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে দেয়া হয়েছে। তা থেকে তারা যাচাই-বাছাই করছে এবং ঢাকায় অনাপত্তি পাঠাচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় পরিবার ও গ্রাম ভিত্তিক যাছাই-বাছাই’র পর মিয়ানমার যাদের বিষয়ে অনাপত্তি দিয়েছে তাদের মধ্য থেকে মংডু এবং বুথিডংয়ের ৩ হাজার ৪’শ ৫০ জনের একটি তালিকা ইউএনএইচসিআরকে দেয়া হয়েছে, তাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত গ্রহণের জন্য। প্রথম দফায় এদের ফেরানোর টার্গেট রয়েছে। এদের মধ্যে যে ক’টি পরিবার প্রথমে স্বেচ্ছায় ফিরতে রাজী হবে তাদের আগে পাঠানো হবে। সেই দল যত ছোট অর্থাৎ ১০ জন হলেও বাংলাদেশ ফেরত পাঠাবে। বাকীরা রাজি হলে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে যাবে। ঢাকা ও ইয়াংগুনের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের হঠাৎ সক্রিয়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ, রোহিঙ্গা ঢলের দু’বছরপূর্তি (২৫শে আগস্ট) এবং সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে তারা ‘লোক দেখানো প্রত্যাবাসন’ চাইছে কি-না? তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তবে এখানে চীন মধ্যস্থতায় থাকায় ঢাকা খানিকটা আস্থা পাচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায় মিয়ানমারের ‘রাজনীতি’ বা ‘অসত্য’ প্রচারের বিষয়ে ঢাকা সচেতন রয়েছে। কর্মকর্তারা জোর দিয়েই বলছেন, প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ পুরোপুরি প্রস্তুত। মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তারাও রোহিঙ্গাদের আশ্বস্থ করার চেষ্টা করেছেন। এখন দেখার বিষয় কতজন যেতে রাজী হয়। তবে এটা নিশ্চিত যে একজনকেও জোর করে ফেরৎ পাঠাবে না বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের যে অঙ্গীকার এবং মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয়ার পর বিশ্বাঙ্গনে বাংলাদেশ যেভাবে প্রশংসিত হয়েছে, সেই মর্যাদা অবশ্যই রক্ষা করা হবে। বন্ধু রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় পূর্ণ নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার নিয়েই রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। কোন অবস্থাতেই এর ব্যত্যয় হবে না।

ভ্রমণপিপাসুরা ছুটছে কিশোরগঞ্জের হাওরে by আশরাফুল ইসলাম

বর্ষার হাওর এখন কূলহীন সাগর। চারদিকে বিশাল জলরাশি। এর বুকে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর একেকটাকে ছোট দ্বীপের মতো লাগে। দূর থেকে মনে হয়, কচুরিপানা হয়ে যেন পানিতে ভাসছে গ্রামগুলো। হাওরজুড়ে গলা ডুবিয়ে থাকে হিজল গাছের সারি। পানির নিচ থেকে জেগে ওঠা করচের বন, হাঁসের ডিমের মতো সাদা ফল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বরুন গাছ, কিংবা গাঙ্গেয় মিঠা পানিতে শুশুকের লাফ-ঝাঁপ দেখলে বিনোদিত না হয়ে পারা যায় না। এই সৌন্দর্য মন কাড়ে যে কারও। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য যেন সৌন্দর্যের বিপুল পসরা সাজিয়ে বসে আছে হাওর।
প্রতি বর্ষাতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসেন এই হাওরে। এবারের ঈদ যেন দর্শণার্থীদের আরো বেশি হাওরপ্রেমী করে তুলেছে। মানুষজন দলবেঁধে ছুটছেন হাওরের বিভিন্ন মনোরম স্থানে। জেলার হাওরের পাড়ে পাড়ে এখন ভ্রমণপিপাসুদের কলরব। তাদের বাঁধভাঙা ঢল আর উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হাওর যেন পরিণত হয়েছে পর্যটনের এক স্বর্গপুরীতে। শুকনো মৌসুমে হাওর মানে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ধুলোউড়া মেঠোপথ, রুপালি নদী। বর্ষায় এই রুপালি নদীগুলোই ফুঁসে উঠে। দুই তীর ছাপিয়ে প্লাবিত করে ফসলি মাঠ। এই প্লাবিত মাঠই বর্ষার হাওর। হাওর অধ্যুষিত অন্যতম একটি জেলা কিশোরগঞ্জ। এই বর্ষায় অন্যবছরের চেয়ে হাওরে পানি তুলনামূলকভাবে বেশি এসেছে। এই পানির টানে এবারের ঈদে হাওরের বেশ কয়েকটি স্থানে ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের। এরমধ্যে রয়েছে করিমগঞ্জ উপজেলার চামড়াঘাট, বালিখলা ও হাসানপুর ব্রিজ, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সংযোগ সড়ক ও বেড়িবাঁধ, শিমুলবাঁকের হিজলবন, মিঠামইনের কামালপুরে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের বাড়ি, দিল্লির আখড়া, নিকলী বেড়িবাঁধ, ছাতিরচরের হিজলবন এবং তাড়াইলের হিজলজানি হাওর।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে সবচেয়ে কাছে হাওরের স্পর্শ পাওয়া যায় করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা এলাকায়। বালিখলা থেকে মিঠামইনে যাওয়ার পথে হাওরের পানিতে ভাসছে একটি সেতু। হাসানপুর গ্রামের পাশে গড়াভাঙ্গা নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি হাসানপুর ব্রিজ নামে পরিচিত। প্রায় ১৫৭ মিটার দীর্ঘ ব্রিজের সাথে রয়েছে ১.১৭ কিলোমিটার অলওয়েদার সড়ক ও ১.৬৫ কিলোমিটার সাবমার্সিবল সড়ক। এবারের ঈদে জেলার হাওরের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দপর্যটকের ঢল নেমেছে বালিখলা এলাকায়। বালিখলা এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তারা হাওরের বিপুল সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। অনেকেই আবার হাওরের বহমান পানির স্রোতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন। বালিখলা ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে অনেকেই ছুটছেন হাওর ভ্রমণে। নৌকাযোগে ছুটে যাচ্ছেন অদূরের হাসানপুর ব্রিজে। সেখানে ফটোসেশন, আড্ডা আর ঘুরেফিরে সময় কাটানোর পাশাপাশি ব্রিজের সাবমার্চেবল সড়ক অংশে পা ভেজাচ্ছেন হাওরের জলে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাওরের সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিন ভ্রমণপিপাসু মানুষ দলবেঁধে ছুটে আসছেন।
বালিখলা ও হাসানপুর ব্রিজ ছাড়াও হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলীতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ। নির্মিত হচ্ছে উপজেলাগুলোর সংযোগ সড়ক। এসব বেড়িবাঁধ বা সড়কে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে তাকালে ৩০-৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো গ্রাম চোখে পড়ে না। বাঁধ বা সড়কে দাঁড়িয়ে হাওর দেখা সাগর দেখার মতোই উপভোগ্য। হাজারো দর্শনার্থী রোজ ছুটছেন হাওরের নির্মল বাতাসে বুকভরে নিঃশ্বাস নেয়ার পাশাপাশি হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।
হাওরের নান্দনিক স্থানের মধ্যে দর্শনার্থীদের কাছে পছন্দের একটি নাম নিকলী বেড়িবাঁধ। নিকলী উপজেলা সদরে হাওরের ঢেউয়ের কবল থেকে রক্ষা করতে ২০০০ সালে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১০ সালে নিকলী উপজেলা পরিষদের সামনের প্রতিরক্ষা দেওয়াল বাঁধটিকেও বেড়িবাঁধ আকারে করে এর সাথে সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই দীর্ঘ ৬ কিলোমিটারের এই হাওর রক্ষা বাঁধটিকে কেন্দ্র করে নিকলী পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বর্ষা এলেই জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন নিকলীতে। ফলে ঈদের আগে থেকেই দর্শণার্থীরা নিকলী বেড়িবাঁধে ভিড় জমাতে থাকেন। ঈদের পর থেকে নির্মল আনন্দের খোঁজে দর্শনার্থীরা বেছে নিয়েছেন হাওরের এই স্থানটিকেই। ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা এমনকি রাত পর্যন্ত সব বয়সীদের উপচে পড়া ভিড় সেখানে লেগেই রয়েছে। এছাড়া নিকলী উপজেলা সদরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থাকায় সেটিও দর্শনার্থীদের আগ্রহী করছে। নিকলী বেড়িবাঁধ থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও স্পিডবোট ভাড়ায় নিয়ে দর্শণার্থীরা হাওরের মাঝে ভেসে বেড়ানোরও সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এবারের ঈদের পরের দিন থেকে নিকলীতে প্রতিদিন লাখো মানুষ ভিড় করছেন। রোদারপুড্ড সেতু থেকে শুরু হওয়া দর্শনার্থীদের এই ভিড় দেখতেও চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। দর্শনার্থীরা শুধু হাওর-ই দেখছেন না, ঢেউয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নামছেন গোসল, জলকেলি ও সাঁতারে।
হাওরে বর্ষা থাকে বছরের প্রায় ছয় মাস। পানি আসতে শুরু করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে। শেষ হয় আশ্বিন-কার্তিকে। এই পুরো সময় জুড়েই হাওরে পর্যটকদের ভিড় থাকে। শ্রাবণ মাস শেষে এখন ভাদ্র মাস চলছে। হাওরে টুইটম্বুর পানি। ঈদের ছুটিতে হাওরদর্শন যেন ঈদের আনন্দকে আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। ঈদের আমেজে প্রতিদিনই হাওরে ছুটছেন লাখো মানুষ। যেন এক মহামিলনের উৎসবে মাতোয়ারা বিনোদনপ্রেমীরা।
দর্শনার্থীরা বলছেন, প্রতিদিন হাওরে হাজার হাজার মানুষ আসছেন একটু নির্মল আনন্দময় পরিবেশে সময় কাটাতে। হাওরের মতো এমন পরিবেশ এখন আর কোথাও দেখা যায় না।
হাওরে ঘুরতে আসা দর্শণার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক রয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) বলেন, হাওরের এবার দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগম ঘটছে। তবে দর্শনার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণের ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত। নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

ট্রাম্পের কেন কাশ্মির প্রশ্নে মধ্যস্ততা করা উচিত by সাবিনা সিদ্দিকি

সাম্প্রাতিক সময়ে কাশ্মির প্রশ্নে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্ততার প্রস্তাব দিয়ে একটি বিতর্ক চাঙ্গা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটি বিরোধপূর্ণ হয়ে রয়েছে। কাশ্মিরের ৫৫ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত, পাকিস্তান ৩০ ভাগ ও চীন ১৫ ভাগ। এই ইস্যু নিয়ে কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছে এবং ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই পরমাণু শক্তিধর হওয়ায় এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাশে বসে সংবাদ সম্মেলন করার সময় ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ধরনের আলোচনা করার ব্যবস্থা করার জন্য তাকে বলেছেন। ট্রাম্প বলেন, দুই সপ্তাহ আগে [ওসামায় জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে] নরেন্দ্র মোদির সাথে ছিলাম আমি। আমরা এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। তিনি সত্যিই আমাকে বলেছেন, আপনি কি মধ্যস্ততা বা দূতিয়ালি করতে রাজি হবেন? আমি বললাম, কোথায়? তিনি বললেন, কাশ্মির।

কিন্তু তিনি যখন মধ্যস্ততা হতে রাজি হবেন বলেছিলেন, তখন সম্ভবত ট্রাম্প বুঝতে পারেননি এই বিষয়ে বরফ গলানো সহজ নয়। এমনকি গত সাত দশকে জাতিসংঘ পর্যন্ত কাশ্মিরের সন্তোষজনক সমাধান দিতে পারেননি। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা কল্যাণকর হবে। তবে দুই পক্ষ রাজি হলেই কেবল মধ্যস্ততার কাজটি হতে পারে।

প্রায় সাথে সাথেই কাশ্মির প্রশ্নে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা অস্বীকার করে ভারত। এ নিয়ে দেশটির পার্লামেন্টেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পকে আবারো সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করে, তিনি কাশ্মির প্রশ্নে তার মধ্যস্ততা করার প্রস্তাবে উভয় পক্ষ রাজি হয়েছে কিনা। ট্রাম্প বলেন, মধ্যস্ততার প্রস্তাবটি গ্রহণ করা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী মোদির ওপর। অর্থাৎ, ভারতের প্রকাশ্য অবস্থান যাই হোক না কেন, বিষয়টি নিয়ে দুই নেতার সাথেই আলোচনা হয়েছে।

দৃশ্যত, পাকিস্তান সুযোগটিকে স্বাগত জানালেও ভারত তা বিবেচনা করতে পর্যন্ত রাজি নয়। কারণ তারা কাশ্মিরকে আন্তর্জাতিক বিরোধ হিসেব স্বীকার করতে চাচ্ছে না। এর বদলে তারা দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু হিসেবে এটিকে তুলে ধরতে চায়। ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র বিবেচনা করে ট্রাম্পও মনে হচ্ছে ভারতকে ক্ষ্যাপাতে চান না। বোধগম্যভাবেই মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা কাশ্মির বিরোধকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ইস্যু মনে করে।

তা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, আফগানিস্তানের ১৬ বছরের যুদ্ধ অবসানে পাকিস্তানের সহায়তার বিনিময়েই এই প্রস্তাব দেয়া হয়ে থাকতে পারে। মার্কিন নির্বাচন ঘনিয়ে আসতে থাকায় ট্রাম্প চাইবেন আফগানিস্তানে সফল হতে, সৈন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনতে। আর তা করতে পাকিস্তানের সহায়তা প্রয়োজন ভারতের। কাশ্মির সমস্যার সমাধান হয়তো আফগানিস্তানের বিভিন্ন পক্ষের মধ্য যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রয়াসের পুরস্কার হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অতীতে ভারত ও পাকিস্তান উভয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একসাথে উপকৃত হয়েছে, এমন ঘটনাও আছে। সিন্ধুর পানি বণ্টন চুক্তি, কার্গিল সঙ্ঘাত বন্ধ ইত্যাদি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাছাড়া ভারতীয় গুপ্তচর কূলভূষণ যাদবের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় উভয় দেশই মেনে নিয়েছে। অর্থাৎ প্রায়ই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্ততায় দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর সমাধান হতে পারে।

তৃতীয়ত, আফগানিস্তানের মতো কাশ্মিরেও কোনো সামরিক সমাধান নেই। একমাত্র বাস্তব ও স্থায়ী সমাধান হতে পারে ব্যালটের মাধ্যমে। আর কাশ্মিরি জনগণকে জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদে দেয়া অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় কাজটি করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজই হবে।

বস্তুত, কাশ্মির সমস্যার সমাধানের চেষ্টা আগেও যুক্তরাষ্ট্র করেছে। কিন্তু অতীতের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। অতীতে যখন পাকিস্তান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ, ভারত ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের পাশে, তখন ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করত না নয়া দিল্লি।

অবশ্য ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনাও রয়েছে। ওয়াশিংটনের কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্ত্বেও মস্কোর কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাছাড়া ইরান থেকে তেল কেনা নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে ভারতের বদলে আফগান পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করায় ওয়াশিংটন-দিল্লি সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটেছে।

ডেঙ্গুর মশা খুঁজছে ড্রোন by পরতিোষ পাল

কলকাতায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবার কাজে লাগানো হচ্ছে ড্রোন। গত বছর কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তÍ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।  এবার তাই আগেভাগেই সতর্ক হয়েছে কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে কয়েক মাস ধরে শহরের পাঁচটি বরো এলাকায় (কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে একটি বরো)  ক্যামেরা লাগানো ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হয়েছে।  ড্রোন ক্যামেরার তোলা ছবিতে ধরা পড়েছে ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশার বংশবৃদ্ধির চিত্র। কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ-সহ পুর স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দেখানো হয়েছে সেই সব ছবি। পুরসভার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তপন কুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, গত বছর কলকাতার যে সব বরো এলাকায় ডেঙ্গি রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, মূলত সেখানকার উঁচু বাড়ির ছাদে, পরিত্যক্ত কারখানায় ও জঙ্গলে ড্রোনের সাহায্যে ছবি তোলা হয়েছে। ৪৮৪টি ছবির অনেকগুলিতেই ধরা পড়েছে এডিস মশার বংশবিস্তার। স্বাস্থ্য উপদেষ্ট জানিয়েছেন, ড্রোন ক্যামেরার ছবি এবং রিপোর্ট নিয়ে বৈঠকে আলোচনার পরে ঠিক হয়েছে, পুরসভার পতঙ্গ বিশেষজ্ঞ দল সেই ছবি দেখে মশা নিধনের প্রক্রিয়া স্থির করবে। আর দুর্গম স্থানে ও বহুতলের ছাদে ড্রোনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে মশা মারার তেল।
জ্যোতি বসু স্মরণে মিউজিয়াম
ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি কমিউনিষ্ট নেতা হিসেবে পরিচিত জ্যোতি বসু। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ তিন দশক তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। একসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী করার জন্য তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর জ্যোতি বসুর স্মরণে মিউজিয়াম ও গবেষণা কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কসবাদী কমিউনিষ্ট পার্টি। সেজন্য বামফ্রন্ট আমলেই নিউ টাউনে জমি কেনা হয়েছিল। কিন্তু ২০১১ সালে সরকার বদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসায় আর সেই জমি হস্তান্তর করা হয়নি। এবার জ্যোতি বসুর জন্মদিন ৮ জুলাইয়ের আগেই যাতে সেই জমি হাতে পাওয়া যায় সেজন্য সমস্ত ছুৎমার্গ ভুলে বাম নেতারা বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য অন্য একটি জমি নেবার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু মার্কসবাদী কমিউনিষ্ট পার্টির নেতারা তাতে রাজি হননি। বামফ্রন্ট আমলেই নিউটাউনে ৫ একর জমি কিনেছিল মার্কসবাদী কমিউনিষ্ট পার্টি। ঠিক হয়, সেখানে জ্যোতি বসু ব্যবহার্য্য বিভিন্ন জিনিস রাখার পাশাপাশি জ্যেতি বসু সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড সোস্যাল স্টাডিজ  গড়ে তোলা হবে। বাম নেতারা  মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছেন,  নির্দিষ্টভাবে কেনা জমি তাদেরই দিতে হবে। সব টাকা তারা আগেই দিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু  জমি হস্তান্তর করেনি সরকার। পার্টির নেতারা একাধিকবার হিডকো চেয়ারম্যান এবং পুর নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এদিন অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জন্মদিনের আগেই জমি হস্তান্তরের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী, পলিটব্যুরোর সদস্য রবীন দেব ও শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য।
কাটমানি নিয়ে নচিকেতার গান
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন কাটমানি শব্দটি নিয়ে চলছে জোর তোলপাড়। সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ থেকে, মানুষের কাছ থেকে নেতারা কমিশন বাদ কিছু টাকা কেটে রাখার অঘোষিত নিয়ম চালু করেছিলেন।  সঙ্গে জোরজবরদস্তি তোলা আদায় করে চলেছে শাসক দলের ছোটবড় সব নেতা। এই কাটমানি ও তোলার দাপটে সাধারণ মানুষ যে অতীষ্ঠ সেটা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুধাবন করেছেন। আর তাই সম্প্রতি দলের নেতা-কর্মীদের এক বৈঠকে  ‘কাটমানি’র টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তার পর থেকে  রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে। চাপের মুখে তৃণমূলের অনেক নেতা মুচলেকা দিয়েছেন টাকা ফেরত দেবেন বলে। অনেকে ইতিমধ্যেই টাকা ফেরত দিতে শুরু করেছেন। আবার অনেক নেতাই ভয়ে বাড়ি ছেড়ে লুকিয়ে রয়েছেন। আর এই কাটমানির প্রভাব নিয়েই এবার গান লিখেছেন নচিকেতা চক্রবর্তী। নিজেই সেই গানে সুর দিয়ে তা ইউটিউবে লোডও করে দিয়েছেন। তার পর থেকে সেই গান নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে ঘুরছে।  সেই আবহকেই এবার সুরে বাঁধলেন নচিকেতা। বৃদ্ধাশ্রম গানের স্রষ্টা এবার শুনিয়েছেন,  খেয়েছেন যারা কাটমানি, দাদারা অথবা দিদিমণি, এসেছে সময়... ফেরত দিন, আসছে দিন...। রীতিমত কাটমানি নিয়ে কাটাছেঁড়া করেছেন শিল্পী। নেতা-মন্ত্রী-আমলা, কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। নচিকেতা বলেছেন, এমন গান এই প্রথম লিখলাম, তেমন তো নয়। যখনই এমন পরিস্থিতি এসেছে আমি লিখেছি। সত্যি কথাটা জোর দিয়ে বলেছি। মানুষের মনের কথা গানের মাধ্যমে সঠিক মাত্রার ‘স্যাটায়ার’ -এর তড়কা লাগিয়ে সকলের সামনে নিয়ে আসার জন্য নচিকেতাকে অশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিজেপির সাংসদ ও গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। নচিকেতার কাটমানি নিয়ে গানের একটি ভিডিও নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে পোষ্টও করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তবে নিজেকে এখনও মমতার অনুগামী জানিয়ে নচিকেতা বলেছেন, দলীয় নেতাদের বিভিন্ন কাজকর্মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিতে একটা প্রভাব তো পড়ছিলই। মমতা এই কাটমানি ফেরত দেওয়ার কথা বলে নতুন একটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিজেপির এনকাউন্টার তত্ত্ব
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার স্বপ্নে বিভোর ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা। তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙ্গে নেতা কর্মীদের দলে আনার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় বিজেপির রাজ্য নেতা সায়ন্তন বসু ও রাজু বন্দ্যেপাধ্যায়। এনকাউন্টার তত্ত্বকে সামনে এনে আলোড়ন তৈরি করেছেন। বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশে এই এনকাউন্টার তত্ত্ব ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশে এনকাউন্টারে বেশকিছু ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ অবশ্য  নিহতদের দুস্কৃতী বলে দাবি করেছে। এই নিয়ে দেশ জুড়ে প্রবল সমালোচনাও হয়েছে। এবার সেই তত্ত্বকেই পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতিবাজদের মোকাবিলায় হাজির করেছেন রাজ্যের বিজেপি নেতারা। রাজ্য বিজেপির সম্পাদক সায়ন্তন বসু পশ্চিমবঙ্গে দুষ্কৃতীরাজ বন্ধ করতে এনকাউন্টারে ভরসা রেখে বলেছেন, কোনও দুষ্কৃতীকে রেয়াত করা হবে না। হয় গ্রেপ্তার করা হবে, নয়তো এনকাউন্টার করে মারা হবে। এ ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেছেন, অপরাধ করে কোনও দুষ্কৃতীকে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। আরেক বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ও পুলিশকে ‘এনকাউন্টার’-এর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ও তোলাবাজদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুন। প্রয়োজনে এনকাউন্টার করুন। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কি ফিরে আসবে সত্তরের দশকের নৈরাজ্যের ছবিটি।
নামাজ ঠেকাতে হনুমান চালিশা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন ধর্মকে যে কোনও ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে ফেলা হচ্ছে। গত লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির সাফল্যের পর থেকে এটা বেশি বেশি করে ঘটে চলেছে। আর তাই এবার জুম্মাবারে রাস্তার উপরে বসে মুসলিমদের নামাজ পড়ার যে দীর্ঘদিনের রীতি চলে আসছে তাকে ঠেকাতে বিজেপি উঠেপড়ে লেগেছে। বিজেপি যুব মোর্চার নেতাদের দাবি, মুসলিমরা যদি রাস্তা আটকে নামাজ পড়তে পারেন তবে আমরাও রাস্তা আটকে হনুমান চালিশা পড়বো। যেমন বলা তেমন কাজ। সম্প্রতি বিজেপি যুব মোর্চার নেতা ও কর্মীরা হাওড়ায় পথ আটকে হনুমান চালিশা পাঠ করেছে।  বিজেপির যুব মোর্চা নেতা ও পি সিং বলেছেন, মমতার রাজত্বে আমরা দেখেছি জিটি রোড সহ বড় বড় রাস্তা আটকে শুক্রবারে নামাজ পড়া হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সময় মত নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে পারেন না। এমনকি মুমূর্ষু রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও যেতে পারে না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতদিন এই অবস্থা চলবে ততদিন আমরাও পথ আটকে হনুমান চালিশা পাঠ করবো। যুব মোর্চার নেতা দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, রাস্তা আটকে নামাজের প্রতিবাদে আমাদের এই হনুমান চালিশা পাঠের আসর মাঝে মাঝেই বসবে। তবে বিজেপি বিরোধীদের মতে, রাজ্যে বিভেদের রাজনীতিকে উসকে দিতেই বিজেপি এ সব শুরু করেছে। মুসলিম নেতাদের মতে, জুম্মাবারে বহু মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়েন। তাদের মসজিদে জায়গা দেওয়া যায় না বলেই অল্প সময়ের জন্য তারা রাস্তার ধার ঘেষে নামাজ পড়েন। এটা বহু দিন ধরেই চলে আসছে। এতদিন এ বিষয়ে কেউ কোনও কথা বলেন নি।

পাকিস্তান, শান্তি ও আফগানিস্তান ত্রিভূজ by জাভেদ ফালাক

আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে পাকিস্তান – এ কথা প্রমানিত সত্য। আর বাস্তবতা হলো, আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করছে পাকিস্তানের শান্তি। অস্বীকার করার উপায় নেই যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র দুটির মধ্যে কেবল ২৬ শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ সরন্ধ্র সীমান্তই নেই, সেইসাথে একই মতাদর্শ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের অধিকারী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও বিপদ কেবল বাড়ছেই।
তবে এটা সত্য যে দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু তারপরও নির্দ্বিধায় বলা যায়, পাকিস্তান সবসময় যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ব্যাপারে ইতিবাচক ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু আফগানিস্তান সবসময় পাকিস্তানকে দেখেছে সন্দেহের চোখে।
দুই দেশের সম্পর্ক কেন এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাকিস্তান যে ডুরান্ট লাইন উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তা আফগানিস্তানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ঘায়ের ওপর নুনের ছিটার মতো আফগানিস্তান সবসময় তালেবানকে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করছে। অথচ সন্ত্রাসবাদের কারণে পাকিস্তানের ৭০ হাজার জীবনের ক্ষতি হয়েছে, দরিদ্রপীড়িত দেশটিতে ইতোমধ্যেই ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অধিকন্তু, পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার জন্য পাকিস্তানের চির-প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও ইউএসএসআরের সাথে গাটছড়া বেঁধেছিল আফগানিস্তান। ফলে ইতিহাসজুড়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ছিল সবসময় বিপরীত অবস্থানে।
৯/১১-এর পর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধ শুরু হলে আফগানিস্তানে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার সূচনা ঘটে। আর এর প্রভাব সহজেই পাকিস্তানে অনুভূত হয়। এটা সুস্পষ্ট বিষয় যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে শান্তি আনার জন্য সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব হলো মূল ভিত্তি।
সম্প্রতি মস্কোতে তালেবান ও আফগানিস্তানের মধ্যে মতবিনিময় হয়। এতে রাশিয়া মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা পালন করায় শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কিছুটা আশাবাদের সঞ্চার হয়। তবে আমরা একটু খতিয়ে দেখলে বুঝতে পারব যে চলমান আফগান-নেতৃত্বাধীন, আফগান মালিকানাধীন শান্তিপ্রক্রিয়ায় পাকিস্তান সবসময়ই সৌহার্দ্যমূলক ভূমিকা পালন করছে, অগ্রসর অবস্থানে থেকেছে। শান্তিপ্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সহায়তা করাটা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একে অপরের জন্য অপরিহার্য। পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই কাজ করতে পারে না।
সন্দেহ নেই যে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানকে ওই অবস্থা থেকে বের করে আনা হবে বিশেষভাবে পাকিস্তানের জন্য ও সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ। তবে ইতোমধ্যেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মু্ক্তি পাওয়ার কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের উচিত হবে পাকিস্তানের প্রতি দোষারোপ বন্ধ করা। এছাড়া প্রতিবেশী দেশের সাথে থাকা আস্থার ঘাটতি অবসান নিয়েও পাকিস্তানের সুস্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা উচিত। অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে আফগানিস্তানের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভূগোল। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবশ্যই নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এসবের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব নিকট প্রতিবেশীর উচিত হবে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। মনে রাখতে হবে যে আমরা বিশ্বায়নের বিশ্বে বসবাস করছি। এ কারণে আমাদের প্রয়োজন হবে পরিস্থিতির দিকে নগর রাখা এবং চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু করা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ২০১১ সালে নিউ সিল্ক রোড প্রকল্প, রাশিয়া ইউরো এশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন পরিকল্পনা ও চীন ২০১৪ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ সামনে এনেছে।
চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর এগিয়ে নিতে পাকিস্তান ও চীন অনেক অগ্রগতি হাসিল করেছে। এসব প্রকল্প জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ২৩৪৪-এ রয়েছে। এ কারণে আফগানিস্তানের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য এসব প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় সাধন প্রয়োজন।
পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার জন্য ভারতের আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করা এবং সেইসাথে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সম্প্রীতিমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে আত্মপ্রকাশ খুবই অবাক করা ও বাজে কাজ।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে অবশ্যই একসাথে বসতে হবে তাদের ভবিষ্যতের প্রজন্মগুলার স্বার্থে অবিশ্বাসের সব মেঘ দূর করার জন্য।

কাশ্মীর নিয়ে নীলনকশায় স্বর্ণমন্দিরের সেই রিকশাওয়ালা!

কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূলে যে ব্যক্তিটি রয়েছেন, তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। গত জুলাইয়ের শেষে কাশ্মীরে তার দুই দিনের সফরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৩৭০ ধারা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ।

নরেন্দ্র মোদির ডান হাতখ্যাত অজিত দোভাল কাশ্মীরে দুই দিনের সফর শেষ করে আসার পরই নতুন করে সেনা মোতায়েনের এ ঘোষণা দেয় কেন্দ্র সরকার। এরপর থেকে কয়েক দফায় সেনা মোতায়েন করা হয় উপত্যকাটিতে।

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পরও উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখতে কাশ্মীর গিয়েছেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অজিত দোভালকে তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এ পদটি প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পদাধিকার বলে চিরশত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে তাকেই কথা বলতে হয়, অস্ত্রাগারগুলো পরিদর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৌশলগত সক্ষমতা, জঙ্গি হামলার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও দেশের সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা করেন তিনি।

গোয়েন্দা হিসেবে জম্মু-কাশ্মীর এবং যুক্তরাজ্যে তিন দশকের মতো সময় কাজ করেছেন তিনি।

কিন্তু কে এই অজিত দোভাল? জেমস বন্ড হিসেবে পরিচিত হওয়ার ক্ষেত্রে তার বিশেষ একটি কীর্তি সব সময় আলোচনায় ওঠে আসে।

আসুন জেনে নিই অজিত দোভালের অজানা সেই কীর্তির কথা।

১৯৮৪ সালে জুনের প্রথম সপ্তাহ (৩-৮ জুন)। আজ থেকে ঠিক ৩৪ বছর আগে অমৃতসরের (পাঞ্জাব) স্বর্ণমন্দিরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে অপারেশন ব্লু স্টার পরিচালনা করেছিল ভারতীয় সেনারা। ওই অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল, হরমন্দির সাহিব কমপ্লেক্সকে খালিস্তান সমর্থক জার্নেইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে এবং তার সমর্থকদের হাত থেকে মুক্ত করা।

জানা যায়, অপারেশন ব্লু স্টারের জন্য একটি কক্ষে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক চলছিল। তার মধ্যেই এক রিকশাওয়ালা সেই ঘরে প্রবেশ করে এবং জঙ্গিদের গতিবিধি ও তাদের বিষয়ে সংগ্রহ করা তথ্য জানায়৷ আর এই রিকশাওয়ালাই হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডানহাত এবং বর্তমানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

১৯৮৮ সালে খালিস্তানি জঙ্গিদের হাত থেকে পাঞ্জাবের স্বর্ণমন্দির রক্ষা করার পিছনে যার সব থেকে বড় অবদান ছিল।

শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত থেকে স্বর্ণমন্দির রক্ষা করতে অজিত দোভাল তখন এক অভিনবপন্থা বেছে নিয়েছিলেন। স্বর্ণমন্দিরে যখন দখল নিয়েছে জঙ্গিরা সেই সময় ওই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় রিকশাওয়ালা সেজে হাজির হন তিনি। খালিস্তানি জঙ্গিদের কাছে নিজেকে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর এজেন্ট বলে পরিচয় দিয়েছিলেন অজিত।

ভারতীয় সেনাদের অভিযানের দিন কয়েক আগে খালিস্তানি জঙ্গিদের প্রভাবিত করে সেই রিকশাওয়ালা ঢুকেছিল মন্দিরের ভিতরে। পাক গুপ্তচর হওয়ায় খালিস্তানি জঙ্গিরা তাকে মন্দিরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে দেখিয়েছিলেন সার্বিক পরিস্থিতি। সেই রিকশাওয়ালার থেকে মন্দিরের ভেতরে জঙ্গিদের অবস্থান এবং গতিবিধি সম্পর্কে অবগত হয় ভারতীয় সেনা। এবং খালিস্তানি জঙ্গিদের হটিয়ে স্বর্ণমন্দিরের দখল নেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

তার কীর্তি, তার সাহসিকতার জন্যই অজিত দোভালকে হলিউডের জনপ্রিয় চরিত্র জেমস্ বন্ডের মতোই ভারতের জেমস্ বন্ড মনে করা হয়৷ বর্তমানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা৷ তাকে প্রধানমন্ত্রীর ডানহাত বলেও মনে করা হয়৷

সেই অভিযানের একজন সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা করন খার্ব। তিনি বলেন, মন্দিরে ঢোকার জন্য দোভাল একজন রিকশাচালকের ছদ্মবেশ নিয়েছিল। দোভাল ভেতরে গিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বোঝাতে সক্ষম হন যে, তিনি পাকিস্তান থেকে এসেছেন এবং ‘খালিস্তান’নামে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাতে তিনি তাদের সহায়তা করতে চান।

পুলিশ প্রথমে ভেবেছিল মন্দিরের ভেতরে আনুমানিক ৪০ জনের মতো সন্ত্রাসী আছে। কিন্তু দোভালই প্রথম জানান যে, ভেতরে অন্তত ২০০ সন্ত্রাসী প্রস্তুতি নিয়ে আছে। বাইরে থেকে যা বোঝা ছিল একেবারেই অসম্ভব। সরকার সন্ত্রাসীদের হটাতে সেনা অভিযানের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু দোভাল ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সরকারকে এমন পদক্ষেপ নিতে বারণ করেন।

করন খার্ব বলেন, দোভালের পরামর্শেই সরকার প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই মন্দিরের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে নয় দিনের মাথায় সন্ত্রাসীরা আত্মসমর্পণ করে।

ভারতের কোনো সরকারি দফতরের ওয়েবসাইটেই দোভালের প্রোফাইল নেই। ২০১৫ সালে মুম্বাইতে দেয়া তার এক বক্তৃতার আগে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় বলা হয়েছিল, তার জন্ম ১৯৪৫ সালে, উত্তরাখন্ডে। ১৯৬৭ সালের পুলিশে যোগ দেয়ার আগে তিনি ইউনিভার্সিটি অব আগ্রা থেকে ইকোনোমিকসে মার্স্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন।

১৯৬৮ সালে আইপিএস অফিসার হিসেবে যোগ দেয়ার পর ১৯৭২ সালে দোভাল গোয়েন্দা বিভাগে যোগ দেন। গোয়েন্দা হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীর এবং যুক্তরাজ্যে তিন দশকের মতো সময় কাজ করেছেন।

তার জীবনের উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হল, তিনি তার চাকরি জীবনে মাত্র সাত বছরই ইউনিফর্ম পরেছিলেন, কারণ তাকে বিভিন্ন মিশনের জন্য বেশিরভাগ সময়ই দেশের বাইরে থাকতে হতো, যা অত্যন্ত গোপনীয়ও ছিল৷
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অজিত দোভাল। ছবি: সংগৃহীত

‘আমাদের ঈদ কাটে আকাশে, দেশে দেশে’ by শামিউল আলম

আমরা যারা ফ্লাইটে কাজ করি, আমাদের ঘুমের আর বিশ্রামের কোনও রাতদিন নেই। অন্য পেশাজীবীদের মতো আমাদের কোনও রুটিন নেই। ধরাবাঁধা অফিস নেই আমাদের। আজ এই দেশ তো কাল ওই দেশ। বলা যায় আধুনিক যুগের যাযাবর!

ঈদের দিনেও আমাদের দায়িত্ব সামলাতে হয়। এ কারণে ইচ্ছে থাকলেও ইচ্ছে থাকে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ উদযাপন করার সুযোগ মেলে কম। কাজের খাতিরে গত নয়টি ঈদের মতো এবারও আমার ঈদুল আজহা কেটেছে দেশের বাইরে। এবার ঈদ করেছি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে। গত ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ছিলাম কাতারের রাজধানী দোহায়। ঈদ উপলক্ষে দেশে আসা প্রবাসীদের নিয়ে ফ্লাইট ঢাকায় নামে ৮ আগস্ট সকালে। বাসায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর। এরপর রাজ্যর ক্লান্তি নিয়ে ঘুম। পরের দিনের ডিউটি রোস্টার দেখতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘুম থেকে উঠেছিলাম। দেখলাম ৯ আগস্ট বিকালে আবুধাবিতে আমার ফ্লাইট। খুশি লাগলো। কারণ সেদিন গেলে দেশে ফিরবো ঈদের আগের দিন (১১ আগস্ট)। ঈদ পাবো দেশে!
ঈদে কী করবো সেই পরিকল্পনা করে ফেললাম। কিন্তু এয়ারক্রাফট রওনা দেওয়ার আগে খবর এলো, আমাদের ক্রু সদস্যদের মধ্যে একদল চলে আসবে ঈদের আগের দিন। আর অন্যরা থেকে যাবে। তারা ফিরতে পারবে ঈদের দিন (১২ আগস্ট)। আমার নাম ছিল পরের টিমে, তাই সব পরিকল্পনা সেখানেই মাটি! অগত্যা নিজেকে মানিয়ে আরেকদল যাত্রী নিয়ে রওনা দিই আবুধাবিতে, যারা ঈদের আগে দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। ৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট পরে গন্তব্যে পৌঁছাই আমরা। তখন স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা। পরদিন (১০ আগস্ট) পবিত্র হজ। সেদিন দুপুরে ঘুম থেকে উঠে ভাবছিলাম কী করবো। আগামীকাল আবুধাবিতে ঈদ।

আবুধাবিতে প্রবাসীরা বেশি। নানান দেশের নানান মানুষ। ঈদ উপলক্ষে কোনও বাড়তি আয়োজন নেই। মহাসড়কের মাঝে ঈদ লেখা আলোকসজ্জা। কিন্তু শহরে আলাদাভাবে কোনও কিছু চোখে পড়লো না। সব প্রতিদিনের মতো। ঈদ উপলক্ষে আবুধাবিতে সরকারি বন্ধ পাঁচদিন। কিন্ত কাজ-কর্ম থেমে নেই। দোকান-পাট খোলা, যে যার মতো ব্যস্ত। ঈদ এ দেশে বাড়তি কোনও আনন্দ যোগ করে না বুঝলাম। আবুধাবির মানুষ বেশিরভাগই ছুটিতে ইউরোপ কিংবা ভারতে বেড়ায়। তার আগে কোরবানির জন্য ব্যাংক কিংবা ক্যাটেল মার্কেটে টাকা দিয়ে যায় তারা।

আবুধাবিতে পশু কোরবানি দেওয়ার নির্দিষ্ট জায়গা আছে। এর বাইরে গেলে সিটি করপোরেশন জরিমানা করে। নির্দিষ্ট জায়গায় কোরবানি দেওয়ার পর সেই মাংস বিভিন্ন দরিদ্র মুসলিম দেশে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়। বাংলাদেশে আসা উট-দুম্বার মাংসগুলো সেখানকারই। এই হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঈদ। কোনও বাড়তি আয়োজন, উচ্ছ্বাস, উদযাপন ছাড়াই স্বাভাবিক একটি দিনের মতো।

বন্ধুর গাড়িতে চড়ে ১০ আগস্ট বিকালে দুবাইয়ের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ি। সে শারজাহ প্রবাসী। আমার এক সহকর্মীও ছিল। আবুধাবি থেকে দুবাই দেড় ঘণ্টা লাগলো। সেদিন রাতে দুবাই ক্যাটেল মার্কেট থেকে কোরবানির জন্য একটি ছাগল কেনা হলো। এটি দুবাইয়ের একমাত্র পশু বিক্রয়কেন্দ্র। অত্যন্ত গোছানো পশুর হাট। এখানে পশু কেনাবেচার জন্য ক্রেতাকে কোনও হাসিল দিতে হয় না। মার্কেট থাকে সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে। তারা বিভিন্ন অংশে পশু রাখার জন্য জায়গা রেখে ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেয়। ব্যবসায়ীরা সারাবছর সেখানে পশু কেনাবেচা করে। ক্রেতার কাছ থেকে পশুর দাম ছাড়া এক টাকাও নেয় না কেউ। সব জায়গায় বড় বড় ফ্যান, লাইট ও পশুকে পানি খাওয়ানোর সুব্যবস্থা আছে। দূর-দূরান্তে পশু পরিবহনের জন্য আলাদা পিকআপ স্ট্যান্ড, ক্রেতাদের জন্য গাড়ি পার্কিংসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় ক্যাটেল মার্কেটে।

আমাদের কেনা ছাগল নিয়ে চলে আসি আমিরাতের আরেক শহর শারজাহতে। তবে ঈদের দিন (১১ আগস্ট) ভোরে ফজর শেষে ঈদের নামাজ পড়তে যাই দুবাইয়ে। ব্যাপারটা এমন থাকি– ঢাকায়, নামাজ পড়ি নারায়ণগঞ্জে। জামাত ছিল সকাল ৬টা ৭ মিনিটে। নামাজ ঠিক সময়মতোই শুরু হয়। আমি যে বাসায় ছিলাম সেটি শারজাহর সীমান্তে। ভবনের এক দরজা দুবাইয়ে, আরেক দরজার পাশের রাস্তা শারজাহতে।

নামাজ পড়ে ছাগল কোরবানির পর বিরিয়ানি রান্না হয়। খেয়েদেয়ে আবুধাবির উদ্দেশে বের হই আমরা। ঘণ্টায় কখনও ১২০ মাইল, কখনও আবার ১৬০ মাইল গতিতে চলেছে গাড়ি। আবুধাবি এসে শেখ যায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে যাই। এটি মক্কা-মদিনার পরে ইসলামি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ। এখানে ২৪ ঘণ্টা কোরআন তেলওয়াত হয়। মুসলিম-অমুসলিম সবার জন্য এর দুয়ার উন্মুক্ত থাকে। বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা মসজিদটি দেখতে আসেন।

শেখ যায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে এশার নামাজ পড়ে আমরা হোটেলে ফিরি। তখন দেশে ফেরার ফ্লাইটের বাকি আরও পাঁচ ঘণ্টা। স্যুটকেস গুছিয়ে ঘুম দিই। এরপর ফ্লাইটের জন্য বেরিয়ে পড়ি। বিমানে উঠে দেখি সব আসন পূর্ণ। আজ (১২ আগস্ট) বাংলাদেশে ঈদ। প্রবাসীদের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। সবাই আনন্দে আত্নহারা। সবার হাতেই পরিবারের জন্য কেনা উপহার। তাদের নিয়ে ফ্লাইট ছাড়ে স্থানীয় সময় ভোর পৌনে ৫টায়। চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় পৌঁছাই দুপুর দেড়টায়। সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বাসায় যেতে যেতে বিকাল সাড়ে ৩টা।

সবাই আমার অপেক্ষায়। পরিবার-পরিজনকে হয়তো অন্য পেশাজীবীদের মতো অত সময় দিতে পারি না, তবে সহকর্মীরাও আমার আরেকটি পরিবার। গত পাঁচ বছরের ১০টি ঈদ তাদের সঙ্গে মাঝ আকাশে ও ভিনদেশের মাটিতে কেটেছে। সব আনন্দ, উপলক্ষ্য কিংবা সুখে-দুঃখে তারা পরিবারের মতোই আমার পাশে থাকে, যাদের ওপর নিশ্চিন্তে ভরসা করতে পারি। তাই সহকর্মীরাও আমার আপনজন, এয়ারক্রাফট আমার ঘর। তাদের নিয়েই আমার জীবন। ঈদে সাধারণত একসঙ্গে নৈশভোজ করে, ছবি দেখে ও দলবেঁধে ঘুরে আমাদের দিন কাটে। মন খারাপের কোনও অবকাশ নেই।

জীবনটা মন্দ নয়! ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট কাতার, ৯ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট আবুধাবি, আর এখন লন্ডনে। আমার কিছু ত্যাগ ও কর্ম অন্য কারও জন্য খুশির উপলক্ষ্য। এটাই প্রাপ্তি। দেশে ফেরার পরদিন (১৩ আগস্ট) সারাদিনই বাসায় ছিলাম, পরিবারের সঙ্গে। ১৪ আগস্ট সকালে চলে আসি লন্ডন। এই লেখাটা লন্ডনের হোটেলে বসেই সাজানো। এভাবেই চলে যাবে যাযাবর দিন, আসবে নতুন ঈদ। হয়তো নতুন কোনও দেশে, নতুন কোনও বন্ধু আর সহকর্মীর সঙ্গে।

>>>লেখক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু শামিউল আলম