Showing posts with label সুইজ়ারল্যান্ড. Show all posts
Showing posts with label সুইজ়ারল্যান্ড. Show all posts

Tuesday, June 23, 2026

সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় কী অর্জন হলো, এরপর কী হতে পারে

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আলোচনার প্রথম দিনের অগ্রগতিকে ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ বলে উল্লেখ করেছে মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান। এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর পথনকশা’ নিয়ে একমত হয়েছে।

১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতে এ আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই সমঝোতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয় এবং পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি তৈরি করা হয়।

সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নে গত রোববার টানা ১৮ ঘণ্টার বৈঠক হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

প্রথম দিনের বৈঠক শেষে কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ডি-কনফ্লিকশন বা সংঘাত এড়াতে একটি সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধে কাজ করা। পাশাপাশি একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেলও চালু করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনাকে সহায়তা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

গতকাল সোমবার ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল ছিল খুব খুব ভালো একটি দিন। আমরা অনেক ভালো অগ্রগতি করেছি। আমরা ঠিক সেটাই করেছি, যা আমরা করতে চেয়েছিলাম।’

উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও যোগাযোগ চ্যানেল

বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যস্থতার রাজনৈতিক তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ‘৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর একটি পথনকশা’ নিয়ে একমত হয়েছে। আগামী দুই মাসে আরও কারিগরি আলোচনা চলবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধান আলোচকেরা নিয়মিতভাবে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দেবেন এবং পরমাণু, নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি–বিরোধ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপ পরিচালনা করবেন।

আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক জ্যেষ্ঠ ফেলো থমাস ওয়ারিক আল–জাজিরাকে বলেন, পরবর্তী ধাপের কারিগরি আলোচনা রাজনৈতিক সমঝোতার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হতে পারে এবং ৬০ দিনের সময়সীমার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে।

এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এর মধ্যে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারবে কি না, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ কী, আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের পরিসর ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি অন্যতম।

পারমাণবিক ইস্যুর বিষয়ে ওয়ারিক বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ বা মান কমিয়ে ফেলা। এতে কয়েক হাজার মানুষ লাগতে পারে। সম্ভবত এক হাজার মার্কিন নাগরিককে ইরানের কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনায় যেতে হতে পারে...আমি কল্পনাও করতে পারি না, ইরান এমন একটি ধারণা নিয়ে খুব বেশি খুশি হতে পারবে।’

পক্ষগুলো হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি ‘যোগাযোগব্যবস্থাও’ তৈরি করেছে। দুর্ঘটনা ও ভুল–বোঝাবুঝি এড়িয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এটার লক্ষ্য।

এই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। সমুদ্রের তথ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ড জানায়, রোববার প্রণালিটি দিয়ে ১২টি জাহাজ চলাচল করেছে। তবে আগের দিন করেছিল ৩৫টি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার মুখে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়েছিল।

সোমবার ভ্যান্স বলেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সমন্বয়ব্যবস্থা ও হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের জন্য আরেকটি ব্যবস্থা গঠন করা হবে।

ভ্যান্স জানান, আগামী ‘দিন ও সপ্তাহগুলোয়’ কারিগরি আলোচনা চলবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কারিগরি দলগুলো ‘যথাযথ তদারকির’ মাধ্যমে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।

ভ্যান্সের ভাষ্যমতে, ‘চূড়ান্ত চুক্তি হলো একটি বাড়ির মতো। আমরা এর ভিত্তি তৈরি করেছি। আমরা এখনো বাড়ি তৈরি করিনি, তবে একটি ভালো ভিত্তি স্থাপন করেছি।’ সামনে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

লেবাননের জন্য ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠন

চুক্তির আওতায় একটি ডি-কনফ্লিকশন বা সংঘাত এড়াতে সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের শর্তসমূহ বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি লেবাননের যুদ্ধ অবসানের পথে ‘বড় অগ্রগতি’ ঘোষণা করেছেন। তবে সংঘাত এড়াতে গঠিত সমন্বয় সেলের কার্যকারিতা এই সমঝোতার প্রথম বড় পরীক্ষা বলে সতর্ক করেন তিনি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল যত দিন প্রয়োজন মনে করবে, তত দিন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ‘নিরাপত্তা জোনে’ অবস্থান করবে। ইসরায়েল ঘোষিত এই বাফার বা নিরাপত্তা জোনের আয়তন প্রায় ৬০২ বর্গকিলোমিটার, যা লেবাননের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৬ শতাংশ।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল যদি ভালোভাবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল না ছাড়ে, তাহলে ২০০০ সালের মতো অপমানজনকভাবে অঞ্চলটি ছাড়তে তাদের বাধ্য করা হবে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে হিজবুল্লাহর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল–জাজিরার প্রতিবেদক নুর ওদেহ বলেন, ইসরায়েলের বিশ্লেষকেরা সুইজারল্যান্ড আলোচনার ফলাফলকে কৌশলগত দ্বিধা হিসেবে দেখছেন।

নুর ওদেহ বলেন, ‘হিজবুল্লাহর সঙ্গে আগের যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সমন্বয় করে করা হয়েছিল। এতে ইসরায়েল স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল…।’

‘কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন…ইসরায়েল মনে করছে, তাকে বাধ্য হয়ে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির বর্তমান (সরকারের) চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণের মূল বিষয় হলো—ইসরায়েলকে যাতে এমন কোনো ছাড় দিতে না হয়, যাতে সম্পূর্ণভাবে জনগণের আস্থা হারাতে না হয়।’

৬০ দিনের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ‘খুবই কঠিন’ হবে

এ আলোচনাপ্রক্রিয়া লেবানন পরিস্থিতিতে বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নিয়ে কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জোই হুড বলেন, লেবানন বা ইসরায়েল—কোনো দেশের সরকার এই আলোচনায় সরাসরি যুক্ত নেই। অথচ তাদের এখন চুক্তি বাস্তবায়ন করতে বলা হচ্ছে।

জোই হুড বলেন, ‘এটি ইরানকে কার্যত লেবাননের ওপর ভেটো ক্ষমতা দিচ্ছে। মনে হচ্ছে সমঝোতা স্মারক যেন বলছে, আমরা ইরানের প্রক্সি শক্তিসহ তাদের আঞ্চলিক নেতৃত্বের ভূমিকা মেনে নিচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মার্ক কিমিট বলেন, লেবাননকে বৃহত্তর আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করায় বিষয়টি ‘অত্যন্ত জটিল’ হয়ে পড়েছে।

কিমিটের ভাষ্যমতে, বাস্তবতা হলো, একটি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ক্ষেত্রে দুই দেশের ভেতরের সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা বাইরের শক্তিগুলোর তেমন একটা নেই।

তবে প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এই সমঝোতার কিছু প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। আল–জাজিরার প্রতিবেদক হেইদি পেটার জানান, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ শহরে ‘শান্ত তবে সতর্ক পরিস্থিতি’ বিরাজ করছে। কারণ, সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

হেইদি পেটার ভাষায়, ‘এই শহর ও আশপাশের গ্রামগুলোয় খুব ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী কয়েকটি দিন পার হওয়ার পর এমনটি ঘটেছে।’

সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের পাশের বার্গেনস্টক লাক্সারি হোটেল কমপ্লেক্সে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের আগে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি উপস্থিত হন।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ সম্পদ ও পারমাণবিক ইস্যুতে অগ্রগতি

আরাগচি জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসবের কোনোটি নিশ্চিত করেনি।

আরাগচি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানের তেল রপ্তানি ও পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, কিছু জব্দ ইরানি সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে।

এসব ইরানের প্রধান শর্ত উল্লেখ করে আরাগচি দাবি করেন, এখন এসব পূরণ হয়েছে।

তবে বিশ্লেষক থমাস ওয়ারিক সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার হবে—এমন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে।

ওয়ারিক বলেন, ‘কংগ্রেস এখন এই চুক্তি নিয়ে খুব অসন্তুষ্ট। ইরান যেসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়, তা কংগ্রেস আদৌ অনুমোদন দেবে কি না, তা একেবারেই পরিষ্কার নয়।’

সোমবার ভ্যান্স বলেন, ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হলে, তা মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার কাজে ব্যবহৃত হবে। তিনি বলেন, ‘এগুলো মার্কিন কৃষকদের সমৃদ্ধ করবে এবং একই সঙ্গে ইরানের জনগণকে খাদ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অগ্রগতি

ভ্যান্স বলেন, ‘ইরানিরা আইএইএর পরিদর্শকদের তাদের দেশে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে। এটি মার্কিন জনগণের জন্য একটি বড় অগ্রগতি। এটি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চিরতরে বন্ধ করার প্রথম ধাপ।’

আইএইএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছু আলোচনা সোমবারই শুরুর কথা রয়েছে উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, পারমাণবিক আলোচনায় আরও অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির (জেসিপিওএ) আওতায় সংস্থাটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করছিল। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

পরবর্তী সময়ে গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান আইএইএর পরিদর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। ওই যুদ্ধে ইসরায়েল দেশটির পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রও ওই যুদ্ধে অংশ নিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ওয়াশিংটন–তেহরানের বিরোধের প্রধান বিষয়।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানাচ্ছে, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। কিন্তু ইরান ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে এসেছে, তারা এটি করবে না। তবে কখনো কখনো তারা তৃতীয় কোনো দেশের কাছে তা হস্তান্তরের সম্ভাবনা বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরান সরাসরি হস্তান্তরের বদলে নিজেদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম ঘনত্ব কমানোর বিকল্পকে সম্ভাব্য একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

বৈঠক শুরুর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
বৈঠক শুরুর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ছবি: রয়টার্স

Friday, January 23, 2026

দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প কতগুলো মিথ্যা বলেছেন

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ইউরোপীয় মিত্রদের তিরস্কার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বুধবার সেখানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি আবারও গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।

বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ডের ইতিহাস বিকৃত করে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে আক্রমণ করেছেন এবং অর্থনীতি ও নিজের রেকর্ড নিয়ে পুরোনো কিছু মিথ্যা তথ্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।

এখানে ট্রাম্পের বক্তব্যের তথ্য-যাচাই তুলে ধরা হলো।

ট্রাম্প যা বলেছেন

‘যুদ্ধের পর আমরা ডেনমার্কের কাছে গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটি ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। এটি অত্যন্ত বোকামি ছিল; কিন্তু আমরা তা করেছি। আমরা এটি ফিরিয়ে দিয়েছি।’

ট্রাম্পের এ বক্তব্য বিভ্রান্তিকর। এখানে তিনি সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা বোঝাচ্ছিলেন; কিন্তু সেই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব বা নিয়ন্ত্রণ দেয়নি।

১৯৪১ সালে নাৎসিরা ডেনমার্ক আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনিশ রাষ্ট্রদূত এ চুক্তি করেন। চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অধিকার দেওয়া হয়।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক স্টিভেন প্রেস বলেন, ‘চুক্তিটি আইনিভাবে নড়বড়ে ছিল। কারণ, এতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনিশ রাষ্ট্রদূত ছাড়া ডেনমার্ক রাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। ওই রাষ্ট্রদূত মূলত একটি নির্বাসিত সরকার হিসেবে কাজ করছিলেন।’

কোপেনহেগেনের ডেনিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক মিকেল রুঞ্জ ওলেসেন বলেছেন, ওই রাষ্ট্রদূত একতরফাভাবে চুক্তিটি করলেও তিনি নিশ্চিতভাবেই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেননি। তিনি শুধু সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অধিকার দিয়েছিলেন।

চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের কথা একাধিকবার উল্লেখ আছে। সেখানে ডেনমার্ককে দ্বীপটির মাতৃভূমি বলা হয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্বীকৃতি ও সম্মানের কথা পুনর্ব্যক্ত করছে।

ওলেসেন আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করার সিদ্ধান্ত নিলে ডেনমার্কের কিছুই করার থাকত না; কিন্তু এর কোনো আইনি ভিত্তি থাকত না।

অধ্যাপক স্টিভেন প্রেস বলেন, ‘ট্রাম্পের বক্তব্য তখনই সঠিক বলে গণ্য হতো, ‘যদি আমরা আন্তর্জাতিক চুক্তি বা জনমতের চেয়ে নিছক পেশিশক্তিকেই সার্বভৌমত্বের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিশ্বাস করতাম।’

কিন্তু অধ্যাপক প্রেস বলেন, ‘জোর যার মুল্লুক তার—এমন পেশিশক্তির রাজনীতির বাইরে গ্রিনল্যান্ড দখল করা কিংবা এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করার কোনো আইনি অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের ছিল না।’

১৯৫১ সালেও তৎকালীন ট্রুম্যান প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে একটি সামরিক চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবার দ্বীপটির ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়, যার বিনিময়ে তারা সেখানে কেবল সামরিক ঘাঁটি তৈরির সুযোগ পায়।

অধ্যাপক প্রেস বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বই সেখানে অতীত ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির আইনি ভিত্তি দিয়েছে।

ট্রাম্প যা বলেছেন

‘আমি (ক্ষমতায়) আসার আগ পর্যন্ত ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর (প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির) ২ শতাংশ ব্যয় করার কথা ছিল; কিন্তু তারা তা করত না। এমনকি বেশির ভাগ দেশ কোনো অর্থ ব্যয় করত না। বলতে গেলে ন্যাটোর শতভাগ ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হতো। আমি সেটি বন্ধ করেছি। আমি বলেছি, এটা অন্যায্য। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমি ন্যাটোর দেশগুলোকে ৫ শতাংশ ব্যয় করতে রাজি করিয়েছি এবং এখন তারা তা দিচ্ছে।’

ট্রাম্পের এই দাবিও বিভ্রান্তিকর। কয়েক বছর ধরেই তিনি ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর সামরিক ব্যয়ের বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করে আসছেন। মূলত সদস্যদেশগুলো তাদের জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে সরাসরি এই জোটে অর্থ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া দেশগুলো তাদের জিডিপির একটি নির্দিষ্ট অংশ নিজেদের সামরিক খাতে ব্যয় করতেও রাজি আছে।

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের চাপের কারণে ন্যাটোর সাধারণ তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান কিছুটা কমেছে। আগে এই জোটের কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ দিত যুক্তরাষ্ট্র, যা ২০১৯ সালে ১৬ শতাংশে এবং এই মাসে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০১৪ সালে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে তাদের সামরিক ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছিল। ২০১৬ সালে ৩০টির বেশি দেশের মধ্যে মাত্র চারটি দেশ এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছিল। ২০২০ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটটিতে।

তবে ২০২৪ সালে ১৮টি এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ৩১টি দেশ এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। ন্যাটো কর্মকর্তারা সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পকে কিছুটা কৃতিত্ব দিলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণই দেশগুলোকে ব্যয় বাড়াতে বেশি বাধ্য করেছে।

এ ছাড়া গত বছর ট্রাম্পের জোরাজুরিতে ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিক ব্যয় ৫ শতাংশে উন্নীত করতে সদস্যদেশগুলো সম্মত হলেও ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত কোনো দেশই সেই লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারেনি।

ট্রাম্প যা বলেছেন

‘ইউরোপকে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং এখন রাশিয়ার কবল থেকে রক্ষা করা ছাড়া ন্যাটোর কাছ থেকে আমরা কিছুই পাইনি।’

এটি মিথ্যা। ন্যাটো তাদের ইতিহাসে মাত্র একবারই ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা’ (আর্টিকেল ৫) কার্যকর করেছিল, আর তা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে নাইন ইলেভেন হামলার পর।
ন্যাটোর আর্টিকেল ৫ অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্যদেশের ওপর আক্রমণের অর্থ তা জোটের সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হয়। এই ধারার অধীন ন্যাটোর মিত্রদেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় রাডার বিমান মোতায়েন থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরে নৌবাহিনীর টহল—সবখানেই মিত্ররা পাশে ছিল।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধ করতে মিত্র দেশগুলো হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছিল। শুধু ডেনমার্কই ১৮ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল, যাদের মধ্যে ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৪৩ জন নিহত হন।

ট্রাম্পের অন্যান্য মিথ্যা দাবি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও কিছু ভুল ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন, যা ইতিপূর্বে নিউইয়র্ক টাইমস যাচাই করেছে

১. ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে এসেছেন, যা সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে এই অঙ্ক তাঁর নিজের হোয়াইট হাউসের হিসাবের চেয়েও দ্বিগুণ এবং এর বড় অংশই কেবল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ‘প্রতিশ্রুতি’, যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

২. ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত গ্রীষ্মে তাঁর স্বাক্ষরিত রিপাবলিকান কর ও অভ্যন্তরীণ নীতি বিলে ‘সামাজিক নিরাপত্তার ওপর কোনো কর রাখা হয়নি’। এটি বিভ্রান্তিকর। কারণ, ওই আইনের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা আয়ের ওপর কর কিছুটা কমানো হলেও তা পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়নি।

৩. ট্রাম্পের দাবি, চীনে কোনো বায়ুকল নেই। অথচ বাস্তবতা হলো, বর্তমানে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে চীনের সবচেয়ে বেশি বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।

৪. জো বাইডেনের প্রশাসন ইউক্রেনকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে সরকারি ও স্বতন্ত্র বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত অঙ্কটি ট্রাম্পের দাবি করা অর্থের প্রায় অর্ধেক।

৫. ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং অন্যগুলোতে এখনো যুদ্ধ থামেনি।

৬. ট্রাম্প দাবি করেন, বাজারে মুদিপণ্যের দাম ‘কমে আসছে’। অথচ বাস্তবে এখনো নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

৭. ট্রাম্প বলেছেন, ওষুধের দাম ৫০০ থেকে ৮০০ শতাংশ এমনকি ২০০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সরকারি ও স্বতন্ত্র পরিসংখ্যান বলছে, ওষুধের দাম উল্টো বেড়েছে।

৮. বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ১১ হাজার ৮৮৮ জন খুনিকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন। তাঁর এ দাবি ভুল ও বিভ্রান্তিকর। এই সংখ্যার মধ্যে এমন অভিবাসীও রয়েছেন, যাঁরা ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে দেশটিতে ঢুকেছেন।

৯. কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাহাজে তাঁর সামরিক হামলার ফলে সমুদ্রপথে মাদক পাচার ৯৭ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনটি ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

Friday, September 27, 2024

‘সুইসাইড পড’ ব্যবহার করে প্রথম স্বেচ্ছা মৃত্যুবরণ মার্কিন বৃদ্ধার

প্রথমবারের জন্য ব্যবহার করা হলো ‘সুইসাইড পড’ বা আত্মহত্যার যন্ত্র। এই যন্ত্রের সহায়তায় স্বেচ্ছা মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৪ বছর বয়সী এক আমেরিকান বৃদ্ধা।

সুইজ়ারল্যান্ড-জার্মানির সীমান্তবর্তী শ্যাফহাউসেনের পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকার এক মাঠে বসানো হয়েছিল যন্ত্রটি। সেখানেই ‘সুইসাইড পডটি প্রথমবারের জন্য ব্যবহার করা হয়। এরপর মার্কিন নারী সোমবার বিকালে ওই যন্ত্রের পোর্টেবল থ্রিডি-প্রিন্টেড চেম্বারে নিজের জীবন শেষ করেন।

তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। এর পরেই আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া এবং সহায়তার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, ওই যন্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা এক্সিট ইন্টারন্যাশনালের সহসভাপতি ফ্লোরিয়ান উইলেট, একজন ডাচ সাংবাদিক ও দুই সুইস নাগরিক।

অভিযোগ রয়েছে, ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর সময়ে একমাত্র ফ্লোরিয়ানই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এক্সিট ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, ওই মার্কিন নারী গুরুতর রোগে ভুগছিলেন। সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডই একমাত্র দেশ যেখানে আত্মহত্যায় বৈধতা রয়েছে। বাইরে থেকে কেউ আত্মহত্যায় সাহায্যও করতে পারে। তবে সুইজারল্যান্ডের প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিতর্কিত পড ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

‘সুইসাইড পড’ আসলে গোলাকার কফিন আকৃতির একটি যন্ত্র। যার আসল নাম ‘সারকো পড ক্যাপসুল’। ছোট্ট ক্যাপসুলের মতো দেখতে এই যন্ত্রটি বহনযোগ্যও! যেখানে প্রয়োজন সেখানেই নিয়ে যাওয়া যায় এই সারকোকে। মূল মেশিন থেকে বিচ্ছিন্ন করলে একে দেখতে লাগে খানিকটা কফিনের মতো। সেই কফিনে একবার শুয়ে পড়লেই নিমেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ব্যবহারকারী। যন্ত্রটিতে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। কফিনে ঢুকে আত্মহত্যায় ইচ্ছুক ব্যক্তি একটি বোতাম টিপলেই নাইট্রোজেনে ভরে যায় ক্যাপসুলটি। এতে প্রথমে অক্সিজেন কমে আসায় অস্বস্তি বোধ করলেও ধীরে ধীরে জ্ঞান হারান স্বেচ্ছা মৃত্যুবরণকারী। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাইপোক্সিয়া এবং হাইপোক্যাপনিয়ায় মারা যান।

এক্সিট ইন্টারন্যাশনালের সুইস অ্যাফিলিয়েট ‘দ্য লাস্ট রিসোর্ট’-এর সহসভাপতি ফ্লোরিয়ান উইলেট মার্কিন নারীর মৃত্যু নিজের চোখে দেখেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা ওই নারীর মৃত্যুকে শান্তিপূর্ণ, দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
সুইজারল্যান্ডের পুলিশ মঙ্গলবার জানিয়েছে, মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনাসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ডাচ সংবাদপত্রের একজন ফটোগ্রাফারকে সন্দেহভাজন তালিকায় রাখা হয়েছে। কারণ তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং আত্মহত্যার যন্ত্র ব্যবহারের ছবি তুলেছিলেন।

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

mzamin