Friday, July 29, 2016

ওবামার সেরা সাত ভাষণ

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থী মনোনয়নের আনুষ্ঠানিকতায় ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সম্মেলনের তৃতীয় দিনে তিনি এক আবেগঘন বক্তৃতায় দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আশাবাদী ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরেন। সম্মেলনের এ ভাষণকে ওবামার সেরা ভাষণগুলোর একটি বলে জানিয়েছে ইউএসএ টুডে। ওবামার সেরা সাতটি ভাষণের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এখানে তুলে ধরা হল- ডেমোক্রেটিক সম্মেলন ২০০৪ : ২০০৪ সালে ডেমোক্রেটিক দলের কনভেনশনে ঐতিহাসিক এক ভাষণ দেন বারাক ওবামা। সে সময় তিনি ছিলেন ইলিনয় রাজ্যের সিনেটর প্রার্থী। ১৯২৮ সালের পর ওবামাই প্রথম ব্যক্তি যিনি কংগ্রেস সদস্য কিংবা গভর্নর না হয়েও সম্মেলনে ভাষণ দেন। সেই ভাষণে ওবামা তার পারিবারিক জীবনের শেকড় থেকে শিখর পর্যন্ত ঘটনাবলি আমেরিকান স্বপ্নের সঙ্গে মিশিয়ে অত্যন্ত আবেগমথিত উপায়ে উপস্থাপন করেন। কীভাবে তার কেনিয়ান বাবা পড়াশোনা করতে আমেরিকায় এসেছিলেন এবং কানসাসের সামরিক পরিবারের মেয়ে বিয়ে করেছিলেন।
কীভাবে ওবামা মার্কিন রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন এবং আমেরিকানদের স্বপ্ন পূরণে ডেমোক্রেট দলের সঙ্গে পথ পাড়ি দিচ্ছেন। সেই ভাষণে ওবামা বলেন, ‘আমার বাবা-মা আমাকে কেবল অসম্ভব ভালোবাসাই দেননি। তারা আমাকে একটি আফ্রিকান নাম দিয়েছেন বারাক (নামের অর্থ শান্তিপূর্ণ)। বাবা বলেছিলেন, শান্ত সহিষ্ণু আমেরিকায় বারাকের সাফল্য কোথাও আটকাবে না। তারা আমাকে সেরা স্কুলে ভর্তি করেছিলেন। যদিও তারা ধনী ছিলেন না। কেননা উদার আমেরিকায় সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে ধনী হওয়া লাগে না।’ কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ : ক্ষমতার মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি মিসরের কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। ভাষণের শুরুতে তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মধ্যে একটি প্রচণ্ড উত্তেজনার মুহূর্তে মিলিত হয়েছি, যে উত্তেজনার শেকড় গ্রথিত রয়েছে ঐতিহাসিক উপাদানের মধ্যে যা কিনা নীতি সম্পর্কিত যে কোনো চলমান বিতর্ককে অতিক্রম করে যায়। ইসলাম ও পশ্চিমের মধ্যকার সম্পর্কের মধ্যে যেমন রয়েছে সহাবস্থান ও সহযোগিতা, তেমনি রয়েছে সংঘাত ও ধর্মযুদ্ধের ঘটনাও। তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মের অন্তঃস্থলে একটি নিয়ম আছে, সেটা হল- আমরা অন্যের প্রতি তা-ই করি যা আমরা অন্যের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি। এই সত্য জাতি ও মানুষের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
এ বিশ্বাস নতুন কিছু নয়; এটা কালো, সাদা বা বাদামি নয়; সেটা খ্রিস্টান বা মুসলমান বা ইহুদিও নয়। এটা হল সেই বিশ্বাস যা সভ্যতার দোলনাতেই স্পন্দিত হয়েছিল, এবং এটা হল সেই বিশ্বাস যা স্পন্দিত হয়েছে সভ্যতার দোলনায় এবং এখনও যা বিশ্বজুড়ে লাখো-কোটি মানুষের বুকে স্পন্দিত হয়ে চলেছে। এটা হল অন্য মানুষের প্রতি আস্থা, এবং এটা তা-ই যা আজ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আমাদের সেই সামর্থ্য আছে- যে পৃথিবী চাই তাকে বানানোর, তবে শুধু যদি কী লিখা আছে সেটা মনে রেখে আমাদের মনে নবসূচনা সৃষ্টির সাহস থাকে। পবিত্র কোরআন আমাদের বলে, হে মানবজাতি, আমি তোমাদের পুরুষ ও নারী হিসেবে সৃষ্টি করিয়াছি; আমি তোমাদের জাতি ও গোত্রে ভাগ করিয়াছি যাতে তোমরা একে অন্যকে জানিতে পার।’ নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ ২০০৯ : মার্কিন ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন বারাক ওবামা। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ পুরস্কার গ্রহণ অনেকের কাছেই অস্বস্তির ছিল। কেননা যুক্তরাষ্ট্র তখন দুটো যুদ্ধের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। আফগানিস্তান ও ইরাকে তার যুদ্ধফ্রন্ট খোলা।
শান্তি পুরস্কার গ্রহণকালে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন ওবামা। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘নেলসন ম্যান্ডেলা বা আর যারা এই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন, তাদের পরিমাপ করার মতো শিক্ষা-দীক্ষা বা যোগ্যতা আমার নেই। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্বশান্তির প্রতি তৈরি হওয়া নতুন নতুন হুমকি থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারি না। এটা শুধু সন্ত্রাসবাদিতা নয়, বরং নাগরিক আÍবিরোধ ও গণ-গোলাগুলি পৃথিবীকে হুমকিতে ফেলেছে। আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, আমরা একটি কঠিন সময় পার করছি। শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলেই হবে না, তার নৈতিক নায্যতাও খতিয়ে দেখতে হবে।’ সেলমা ভাষণ ২০১৫ : আমেরিকার ইতিহাসে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সেলমা’ পদযাত্রার ৫০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামা তার ভাষণে বলেন, ‘ওই ঘটনাটি ছিল একটি মাইলফলক। অধিকার রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক, শুধু কৃষ্ণাঙ্গদের জন্যই নয়, সব আমেরিকানের জন্যও।’ এ সময় শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে ওবামা আরও বলেন, ‘সেই বর্ণবাদের ছায়া আমাদের জাতির ওপর থেকে এখনও সরে যায়নি। আমরা জানি,
আমাদের সেই পদযাত্রা শেষ হয়নি। চূড়ান্ত বিজয় এখনও অর্জিত হয়নি।’ কৃষ্ণাঙ্গ গির্জায় হামলা ২০১৫ : যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের এক গির্জায় শ্বেতাঙ্গ বন্দুকধারীর হামলায় ৯ জন নিহত হন। এরপর ৫ হাজার মানুষের সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদের সংকট নিয়ে এক আবেগঘন ভাষণ দেন। ওবামা বলেন, ‘একটি জাতি হিসেবে এই ভয়ংকর ট্র্যাজেডিতে ঈশ্বর আমাদের অপার কৃপা করেছেন, কারণ আমরা কোথায় অন্ধ হয়ে আছি, তা আমাদের দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।’ ওবামা এতটাই আবেগপূর্ণ কণ্ঠে তার কথাগুলো উচ্চারণ করতে থাকেন, শুনে মনে হচ্ছিল তিনি যেন ধর্মীয় নীতি-উপদেশ দিচ্ছেন। চার্চের বাদকদের যন্ত্রসঙ্গীতে তার সবচেয়ে আবেগঘন কথা আরও জোরালো হয়ে উঠেছিল। রজার বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ২০১৬ : নিউ জার্সির রজার বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ভাষণে ওবামা বলেন, ‘রাজনীতিতে এবং জীবনে- দুই ক্ষেত্রেই অজ্ঞতা চলে না। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না, তুমি যে বিষয়ে কথা বলছ, সে বিষয়ে তুমি জানো না।’ ডেমোক্রেটিক সম্মেলন ভাষণ ২০১৬ : এই ভাষণে হিলারিকে সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি ভোটারদের উদ্বেগ আমলে নিয়ে তাদের হতাশা উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেন ওবামা।

চীন সাগরে বেইজিং-মস্কোর যৌথ মহড়ার ঘোষণা

দক্ষিণ চীন সাগরে আগামী সেপ্টেম্বরে যৌথ সামরিক মহড়া চালাবে চীন ও রাশিয়া। বেইংজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়। দক্ষিণ চীন সাগরের বিশাল এলাকায় চীনের মালিকানা দাবিকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল নাকচ করে দেয়ার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এ ঘোষণা এল। খবর এএফপির। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়াং ইউজুন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের সংশ্লিষ্ট সাগর ও আকাশে এ মহড়া চালানো হবে। তবে তৃতীয় কোনো দেশকে লক্ষ্য করে এ মহড়া হচ্ছে না।
হেগের আন্তর্জাতিক স্থায়ী সালিশ আদালত সম্প্রতি এক রায়ে বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের মালিকানা দাবির কোনো বৈধ ভিত্তি নেই। ফলে উনিশশ’ চল্লিশের দশক থেকে চীনা মানচিত্রে দক্ষিণ চীন সাগরের যে মালিকানা দেখানো হচ্ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়। দক্ষিণ চীন সাগরে চীন কৃত্রিম দ্বীপসহ বহু সামরিক স্থাপনা তৈরি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য চীন এসব করছে বলে মনে করা হয়। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বিরোধ বাড়ছে। পাশ্চাত্যকে লক্ষ্য করে চীন ও রাশিয়া বিভিন্ন সময় যৌথ মহড়া চালায়। এ দেশ দুটোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের মধ্যে প্রায়ই বৈঠকের আয়োজন করা হয় এবং সিরিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান নিয়ে থাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ওই সদস্য দেশ দুটো।

যুদ্ধ এখনও অসমাপ্ত!

শ্রাবণ মাসের অর্ধেকটা চলে গেল। প্রকৃতিও এ মাসের চেহারা দেখাতে কার্পণ্য করছে না। কিন্তু কিছুতেই যেন বৃষ্টিমুখর এই ঋতুর অনুভূতি মনের ভেতরে প্রবেশ করাতে পারছি না। কিছুদিন আগেও বর্ষাকাল এলে একটু বৃষ্টিতে ভিজতাম অথবা খোলা বারান্দায় গিয়ে বসতাম। প্রাণভরে উপভোগ করতাম রিমঝিম রিমঝিম বৃষ্টির গান। এই মুহূর্তে মনের সেই অনুভূতি নেই। নেই মানে একেবারেই নেই। এমনকি গান শোনার জন্য পেনড্রাইভে নতুন যে গানগুলো ডাউনলোড করিয়েছিলাম সেসবও শুনে ওঠা হচ্ছে না। মনের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা, এক ধরনের অশান্তি কাজ করছে! জঙ্গি হামলা, জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের যুদ্ধ, জঙ্গিদের মৃতদেহের ছবির সঙ্গে চোখের সামনে ভেসে উঠছে ডাচ্-বাংলা চেম্বারের সভাপতি হাসানের ছবি। এমন একজন ব্যবসায়ী কয়েক দিন উধাও থাকার পর বুড়িগঙ্গায় তার লাশ ভেসে উঠেছে। হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের লাশগুলো কুপিয়ে বীভৎস করার কথা শুনে মনে হয়েছে খুনিরা লাশের ওপরও প্রতিশোধ নিয়েছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও এসব খুনি তাণ্ডব চালাচ্ছে। ৫-৬ বছর আগে মালয়েশিয়ার পেনাং বন্দরে একজন পাকিস্তানি জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। হঠাৎ করে তার কথা আবার মনে পড়ে গেল।
তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে ভালো করেছ। আমি এই বন্দর থেকে করাচিতে আমার পরিবারের কাছে কিছু টাকা পাঠাতে ব্যাংকে এসেছিলাম। আমার ভয় হয়, করাচিতে আমার স্ত্রী ব্যাংকে এসে সে টাকা তুলে নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন কিনা। কারণ ব্যাংকের গেটে, রাস্তায় যে বোমাবাজি হবে না আর সে বোমায় যে আমার স্ত্রী উড়ে যাবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। একসঙ্গে থাকলে তোমাদেরও এসব ধকল সামলাতে হতো।’ এখন দেখছি আমাদের দেশটাকেও কারা যেন সেই দিকে নিতে চাচ্ছে। আমাদের দেশে পাকিস্তানি আইএসআই এসব করাচ্ছে কিনা সে কথাও মন থেকে মুছে ফেলতে পারছি না। এই মুহূর্তে ধানমণ্ডির ব্যবসায়ী মানুষটির কথাই বেশি করে মনে হচ্ছে। ভদ্রলোক সপরিবারে সেখানে বসবাস করতেন। শনিবার সকালে ওষুধ কেনার কথা বলে নিচে নেমেছিলেন। মঙ্গলবার তার লাশ বুড়িগঙ্গায় পাওয়া গেল। ভেসে উঠেছে তার পচে-গলে ফুলে ওঠা বীভৎস লাশ। এমন একটি মৃত্যুই বোধহয় তার ভাগ্যে লেখা ছিল? কী জানি হতেও পারে! কিন্তু আমি যেহেতু ভাগ্যে বিশ্বাস না করে কর্মে বিশ্বাস করি, সে বিশ্বাসে কর্মের বিষয়টিই এসে যায়। কর্মদোষে যদি তার জীবন যায় তাহলে সে বিষয়টিও তো জানা দরকার।
নাকি কুমিল্লার তনু, চট্টগ্রামের মিতু এদের মতো মৃত্যু হয়েছে তার। তনু, মিতু কারোরই তো কর্মদোষের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না। তাদের ক্ষেত্রে কে কতটুকু বিচার পাবে তা জানি না। ব্যবসায়ী হাসানের ক্ষেত্রেইবা কী হবে তাও বলতে পারছি না। দ্রুত তদন্ত করে তার মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্ট করতে না পারলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারছি না। জঙ্গি দমনে যেভাবে আইনশৃংখলা বাহিনীকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে, তাতে করে হাসানের মৃত্যু নিয়ে কার কতটুকু মাথাব্যথা আছে বা সময়-সুযোগ আছে সে কথাও বলা যাচ্ছে না। কারণ তনু ও মিতু হত্যার কথা মনে উঠলে হাসানের হত্যা রহস্যের কূলকিনারার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এসব হত্যা রহস্যের ঘটনা যখন মনে জায়গা করে নেয়, তখন মন আর সুস্থ থাকে না। সুস্থ চিন্তা-চেতনা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। কল্যাণপুরের জঙ্গিদের নিয়ে নানা লোকে নানা কথা বলছেন। সেসব কথা জল্পনা-কল্পনার নানা ডালপালা গজিয়ে চলেছে। মিডিয়াগুলো থেকে জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের পর নানাধর্মী বিশ্লেষণের কথা কানে আসছে। এক ধরনের সরকারবিরোধী শক্তি ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের সাফল্যকে ম্লান করতে চাচ্ছে। অথচ পুলিশ যদি সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি না করত, জঙ্গিদের রুখে না দিত তাহলে দেশ ও জাতি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতো। ২-১টি ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্রায়ই অতি চাতুর্যের সঙ্গে এমন সব কথা বা ঘটনা প্রচার করে যে,
তাতে জনমনে প্রশ্ন এবং সন্দেহের উদ্রেক ঘটে। তারা এক মণ দুধে এক ফোঁটা টক ফেলার মতো কাজ করে। আর তাতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সরকারের পক্ষে দেশের এতগুলো চ্যানেলের কে কোথায় এসব করে চলেছে সবসময় তা নজরদারি করা সম্ভব হয় না। আর যারা সরকারবিরোধী শক্তি, তারা তো এটাকে ‘একে তো নাচুনি বুড়ি তার ওপর আবার ঢোলের বাড়ি’ হিসেবে নিয়ে দেশ ও জাতিকে অশান্ত করার কাজটিই করে চলেছে। প্রকারান্তরে তারা আমাদের দেশটিকে পাকিস্তানের মতো জঙ্গি এবং অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করছে। এসব দুঃখবাদী (sadist) মানুষের সংখ্যা একেবারে কমও নয়। সরকারের ক্ষতিকেই আখেরে তারা লাভ হিসেবে বিবেচনা করছেন। অভিজ্ঞ মহলের কথা, মসজিদে মসজিদে যেমন জঙ্গিবাদে উৎসাহী খুতবা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনি কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের চাতুর্যপূর্ণ কথাবার্তাও বন্ধ হওয়া দরকার। কারণ এটা দলাদলি, বিভক্তি বা বিভেদের সময় না হলেও একটি গ্রুপ তাতে বিশ্বাসী নয়। তাই ওই শ্রেণী বা গোষ্ঠী থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে আবারও ’৭১-এর কথা মনে করতে হবে। ’৭১-কে সামনে এনে প্রগতিশীল শক্তিকে আবারও একজোট হতে হবে। কারণ যুদ্ধ এখনও অসমাপ্ত।
মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট

‘সুইং বোলারদের মোকাবেলায় মানসিক প্রস্তুতি জরুরি’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ দু’দলেরই বোলিং আক্রমণ পেস-নির্ভর। জেমস অ্যান্ডারসন, ক্রিস ওকস, ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদির মতো পেসারদের মোকাবেলা করতে হবে টাইগার ব্যাটসম্যানদের। সুইং বোলারদের মোকাবেলার জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকা জরুরি বলে মনে করেন বাঁ-হাতি ওপেনার সৌম্য সরকার। পেস বোলারদের বিপক্ষে ভালো কিছু ইনিংস খেলেছেন তার সঙ্গী আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল। তামিমকে অনুসরণ করতে চান সৌম্য। ব্যাটিং অনুশীলনে সুইং সামলানো নিয়ে কাজ করছেন তিনি। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সৌম্য বলেন, ‘বোলাররা তো অবশ্যই সুযোগ নেবে। ব্যাটসম্যানদের সুইং দেখে বুঝেশুনে খেলতে হবে। বোলিং মেশিনে সুইং বাড়িয়ে অনুশীলনের সুযোগ রয়েছে আমাদের। তবে আমার মনে হয়, সুইং বোলিং খেলতে মানসিক প্রস্তুতিটা বেশি জরুরি।’
আগামী বছর ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে হবে বাংলাদেশকে। পেস সহায়ক উইকেটে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন সৌম্যও। তিনি বলেন, ‘ওখানে তো সব বাউন্সি উইকেট। ওদের ওখানে সুইং অনেক বেশি হবে। সেভাবে চিন্তা করেই প্রস্তুত হতে হবে। আমার মনে হয়, সুইং বল নিয়ে অনুশীলন করলে আমরা ভালো করব।’ গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন সৌম্য। এরপর থেকেই ওয়ানডে ক্রিকেটে জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত আলো ছড়িয়েছেন। ১৬ ওয়ানডেতে ৪৯.৪২ গড়ে এক সেঞ্চুরি ও চার হাফ সেঞ্চুরিতে তার রান ৬৯২। তবে টি ২০ ক্রিকেটে নজর কাড়তে পারেননি এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। ১৯ ম্যাচে ১৫.৭৩ গড়ে রান ২৯৯।
টি ২০তে ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘টি ২০ অনেকদিন খেলেছি। চেষ্টা করছি এ সংস্করণেও ভালো করতে। তবে সফল হতে পারিনি। ভুল বেশি করেছি।’ ক্যারিয়ারের শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলা সৌম্যর সর্বশেষ টি ২০ বিশ্বকাপ ভালো যায়নি। রানখরায় ভুগেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগেও খুব একটা ভালো করতে পারেননি। কয়েকটি বড় ইনিংসই তাকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে চাই। সব ফরম্যাটেই পারফর্ম করতে হবে। পারফর্ম ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়।’ অনুশীলনে এখন নিজেদের সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন ক্রিকেটাররা। সৌম্য বলেন, ‘সবার সমস্যা এক নয়। আমার যে সমস্যা ছিল তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। ব্যাটিং সেশনে অনুশীলনের সময়ে চেষ্টা করব আরও উন্নতি করার।’

তানজিন তিশার সুসময়

নিজ প্রতিভাগুণে মিডিয়ায় বেশ আলো ছড়াচ্ছেন মডেল-অভিনেত্রী তানজিন তিশা। গেল ঈদে দুটি নাটকে অভিনয় করে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। সে ধারাবাহিকতায় আসছে কোরবানির ঈদের জন্য অভিনয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এ ফাঁকে নতুন তিনটি বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজও শেষ করেছেন তিনি। দুটি প্রসাধনী ও একটি খাদ্যপণ্যের এ বিজ্ঞাপনগুলোর শুটিং ঢাকার বাইরে হয়েছে। তিনটি বিজ্ঞাপনই নির্মাণ করেছেন কলকাতার নির্মাতা সনক মিত্র। এ প্রসঙ্গে তানজিন তিশা বলেন, 
সব সময়ই আমি মানসম্মত পণ্যের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার ইচ্ছে পোষণ করি। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন তিনটি ভালো বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। তিনটি বিজ্ঞাপনই বেশ ভালো হয়েছে। আমার বিশ্বাস প্রচারে এলে বিজ্ঞাপন তিনটি দর্শকেরও খুব ভালো লাগবে।’ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের প্রতিও ঝোঁক রয়েছে তিশার। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘মানসিকভাবে আমি চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। শিগগিরই একটি বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ শুরু করব। চলচ্চিত্রে কাজ করলেও নাটক থেকে দূরে সরে যাব না। ছোটপর্দার কারণেই কিন্তু আমি আজকের তানজিন তিশা। তাই এই মাধ্যমকে অবহেলা করার কোনোই কারণ নেই বা সুযোগও নেই।’