Saturday, May 26, 2018

এক রোহিঙ্গার আত্মহত্যা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় তোলপাড়

চলন্ত বাস থেকে  লাফিয়ে পড়ে ৫১ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গার আত্মহত্যা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় তোলপাড় চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিবৃতি দিয়ে তার মৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, অস্ট্রেলিয়া সরকার বসবাসের জন্য অপেক্ষাকৃত প্রতিকূল স্থান হিসেবে বিবেচিত পাপুয়া নিউগিনির  মানস দ্বীপে কেন ওই  রোহিঙ্গাকে প্রেরণ করেছিল? সামগ্রিকভাবে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের প্রতি ক্ষমতাসীন সরকারের ‘অমানবিক’ আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
লন্ডনের দি মেইল বলেছে, ওই ব্যক্তির ইতিপূর্বে সহিংস আচরণ করার রেকর্ড আছে। একবার তিনি একটি প্লাস্টিক ব্যাগ নিয়ে একজন ডাক্তারকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। এ জন্য পাপুয়া নিউগিনির পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল। কিন্তু পরে আদালতে তিনি মুক্তি পান।
মেইল বলেছে, সেলিম কিয়নিং নামের ওই ব্যক্তি এর আগে মোট ৬০ বার সহিংস আচরণ করেছেন। তবে ব্যারিস্টার গ্রেগ বার্নস বলেছেন, ‘আপনি যদি কোনো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন তাহলে তাদের কিন্তু ধৈর্য্যেরও একটা সীমা থাকবে।’ মি. বার্নস আরো যুক্তি দিয়েছেন, আমি একজন আইনজীবী হিসেবে বলবো, কোনো আদালতে তিনি কখনও দোষী সাব্যস্ত হননি। সে কারণে তিনি আইনের চোখে একজন নির্দোষ ব্যক্তি। আর যখন কারো মৃত্যু ঘটে তখন তার চরিত্র হনন করার কোনো চেষ্টাকে আমি সমর্থন করি না। বরং অস্ট্রেলিয়াকে অবশ্যই এই লোকদের প্রতি তারা কেমন আচরণ করেছে, সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। তারা তাদের প্রতি সদয় আচরণ করেনি। তারা যে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসায় ঔদাসীন্য দেখিয়েছে, তার দায় তাদের বহন করতে হবে।  
মেইল আরো জানায়, ইরানীয় কুর্দি উদ্বাস্তু ও সাংবাদিক বেহরুজ বুচানি এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, সেলিমের মৃত্যুতে দ্বীপের বাকি উদ্বাস্তুদের মধ্যে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। দু’বছর আগে মেডিকেল চিকিৎসার জন্য তাকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হয়েছিল কিন্তু চিকিৎসা ছাড়াই তাকে মানস দ্বীপে ফেরত পাঠানো হয়। 
দি অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলিশ বিশ্বাস করে যে, গত মঙ্গলবারের সকালে আগে থেকে শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু আশ্রয় শিবির থেকে দ্বীপের মূল শহরে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
মানস প্রাদেশিক পুলিশের অধিনায়ক ডেভিড ইয়াপু বলেন, লোকটির মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য গ্রহণ করেন। তার কথায়, মারা যাওয়ার কারণ জানা যায়নি। তবে এটা স্পষ্টতই একটি আত্মহত্যা।
কুর্দিশ উদ্বাস্তু বেহরুজ বুচানি বলেন, লোকটি দীর্ঘকাল ধরে একজন গুরুতর মৃগী রোগী ছিলেন। মি. বুচানি সোশ্যাল মিডিয়া বলেছেন, তারা তার গুরুতর অসুস্থতা উপেক্ষা করে তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল। এবং ৫ বছর  রোগে ভোগার পরে নিজেকে শেষ করে  দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। আমার কোনো ভাষা  নেই। যারা মানবিকতা বিসর্জন দিয়েছে তাদেরকে ধিক্কার জানাই।
গ্রিনস সিনেটর নিক ম্যাককিম গত বছর মানস দ্বীপ সফরকালে ওই রোহিঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। মঙ্গলবার ক্যানবেরায় ম্যাককিম বলেছেন, ‘‘আমাদের সরকারের শাস্তিমূলক নীতির বলি হয়ে আরেকটি জীবন ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো।’’
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এডভোকেসি গ্রুপ দৃশ্যত ওই আত্মহত্যার ঘটনাকে বিয়োগান্তক ও দুঃখজনক।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অস্ট্রেলিয়ার পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্টতই রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা তাদের নিজ গৃহে ফিরে যেতে পারবে না। তার কথায়, ‘এটা একটি পরিহাসমূলক  যে, অস্ট্রেলিয়া উদ্বাস্তুদের নিয়ে গত ৫ বছর ধরে একটি ‘ওয়েটিং গেম’ খেলেছে। তারা তাদেরকে প্যাসিফিক দ্বীপের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের রেখেছে। যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবা নিশ্চিত ছিল না। এই উদ্বাস্তুরা একটি কম নিরাপদজনক পরিবেশে থাকতে বাধ্য হয়েছে।
যিনি মারা গেলেন তিনি কিন্তু অ্যাসাইলাম সিকার রিসোর্স সেন্টারের কর্মরতদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। সেন্টার এক বিবৃতিতে বলেছে, এই ভদ্রলোককে আমরা আর লাইনের প্রথমেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবো না।
জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশন বলেছে, আরো ক্ষতি যাতে না ঘটে সেটা এড়াতে সরকারকে অবশ্যই অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। হাইকমিশনের প্রতিনিধি  নেই জিত ল্যাম বলেন, অনেকগুলো বছর  কেটে যাওয়া এবং অপরিহার্য সেবা কাটছাঁট করার কারণে উদ্বাস্তুদের জীবনমানের অবনতি ঘটে চলছিল। যারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে আশ্রয়  চেয়েছে, তাদের প্রতি তার দায়িত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে। যার জীবন প্রদীপ নিভে গেল তার পরিবারের প্রতি আমাদের শোক ও সহানুভূতি রইলো।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ঘটনাসহ গত বছরে মানস দ্বীপে সংঘটিত আরো দুটি আত্মহত্যার ঘটনার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছে। 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা রোহিঙ্গার মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত আছে এবং তদন্তের বিষয়টি পিএনজি কর্তৃপক্ষের কাছে রেফার করা উচিত।
এই রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হলেন সপ্তম ডিটেইনি, যাকে মানস দ্বীপে স্থানান্তরের পরে মৃত্যুর  কোলে ঢলে পড়লেন।
উল্লেখ্য যে, ওই প্রতিবেদনে নিহত রোহিঙ্গার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

হরমোনজনিত রোগী প্রায় ৫ কোটি: শহরের ২০ থেকে ৩০ ভাগ গর্ভবতী থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত

বাংলাদেশে সম্ভাব্য থাইরয়েড হরমোনজনিত রোগীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি (বিইএস) নামক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সংগঠন। সংগঠনটি বলছে, প্রায় তিন কোটি রোগীই জানে না তাদের এই সমস্যা রয়েছে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে বিইএস আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে ছয়টি মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। কিন্তু উন্নত বিশ্বে সাতটি মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সপ্তমটি হচ্ছে থাইরয়েড হরমোন বিষয়ক তথ্য অধিকার। থাইরয়েডজনিত রোগ বিশ্বের ১ নম্বর রোগ। সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা বলেন, তাই এই রোগ প্রতিরোধ কিংবা চিকিৎসার ক্ষেত্রে জনসচেতনতাই মুখ্য। থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি নিঃসৃত হওয়া উভয়ই রোগের সৃষ্টি করে। তাই বিয়ের আগে কিংবা গর্ভধারণের আগে নারীদের অবশ্যই থাইরয়েড পরীক্ষা করে নেয়া উচিত। এ রোগের সম্ভাবনা থাকলে যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করে তারপর গর্ভধারণ করা উচিত। নাইলে বাচ্চাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এ হরমোনের তারতম্যের ফলে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, হঠাত করে শরীর মোটা ও চিকন হওয়া, মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, হার্টের সমস্যা, চোখ ভয়ঙ্কর আকারে বড় হয়ে যাওয়া, বন্ধ্যাত্ব, এমনকি ক্যানসারের সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণত একজন পুরুষের বিপরীতে ১০ জন নারী থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে  চিকিৎসকরা বলেন, সব বয়সের মানুষের স্ক্রিনিং, আয়োডিনের অভাব, ভেজাল খাদ্য ও আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করা এ রোগের প্রধান প্রতিরোধক। এ ছাড়া সরকার খুব সহজে থাইরয়েডের বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং চালু করতে পারে। পাশাপাশি বাজারের লবণগুলোর আয়োডিনের মান নিশ্চিত করতে পারে। আমাদের গবেষণা অনুসারে বাজারের লবণে সঠিক আয়োডিনের মাত্রা নেই। এ ছাড়া প্রতিটি বাচ্চার জন্মগ্রহণের পর বাধ্যতামূলকভাবে থাইরয়েড পরীক্ষা নিশ্চিত করা উচিত। কেননা বিকলাঙ্গ বাচ্চা আমাদের কারও কাম্য নয়। আর বাবার এ সমস্যা থাকলে কোনো ঝুঁকি নেই বরং মাদের ক্ষেত্রে রয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে শহরের ২০ থেকে ৩০ ভাগ গর্ভবতী থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত। আর গ্রামের পরিস্থিতির কোনো রেকর্ড নেই। তাই ধারণা করা যায়, সেখানকার অবস্থা আরো করুণ। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, এই রোগের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দেশে আয়োডিনের ডোজ মাত্র ৩০০ টাকা আর সিঙ্গাপুরে এ খরচ ৫০ হাজার টাকা। আর অন্যান্য দেশে আরো বেশি। এদিকে এই রোগের পরীক্ষা করাতে দেশের সরকারি হাসপাতালে খরচ মাত্র ২৫০ টাকা আর বেসরকারিতে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এ ছাড়া দেশের সরকারি বেসরকারি সব হাসপাতালে হরমোন বিষয়ক চিকিৎসক রয়েছেন। পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগের ডাক্তাররা চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারেন। তবে, আমাদের দেশের চিকিৎসকদের প্র্যাকটিসের অভাবে তারাও সঠিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে পারেন না। এক্ষেত্রে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে চিকিৎসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিইএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. হাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহজাদা সেলিম প্রমুখ।

শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উয়ারি বটেশ্বর থেকে মুক্তিযুদ্ধ

বাংলাদেশ ভবন তৈরি হয়েছে সেদেশের সরকারের অর্থানুকূল্যে, শুক্রবার সেটিরই উদ্বোধন করেছেন ভারত আর বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রী-নরেন্দ্র মোদি এবং শেখ হাসিনা। অত্যাধুনিক দোতলা এই ভবনটিতে আছে একটি মিলনায়তন, জাদুঘর এবং গ্রন্থাগার। প্রায় ৪৬,০০০ বর্গফুট জায়গার এই ভবন উদ্বোধনের আগের রাত পর্যন্তও কাজে ব্যস্ত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আসা শিল্পী আর কর্মীরা। জাদুঘরটি চালু হচ্ছে প্রায় ৪০০০ বর্গফুট এলাকা নিয়ে। পরে এটিকে আরও বড় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আর গ্রন্থাগারের জন্য বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে প্রায় ৩৫০০ বই। এর মধ্যে অনেক বইই রবীন্দ্রচর্চা এবং রবীন্দ্র গবেষণা ভিত্তিক, যা ভারতে সহজলভ্য নয়। গ্রন্থাগার আর জাদুঘর টিতে রয়েছে অনেকগুলি ইন্টার অ্যাকটিভ, টাচ্‌ স্ক্রিন কিয়স্ক।
রয়েছে রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা শোনার জন্য অডিও কিয়স্ক। ছাপানো বই ছাড়াও ডিজিটাল বইও পড়তে পারবেন পাঠকরা। জাদুঘরেই দেখা হয়েছিল ভবনটির কিউরেটর তারিক সুজাতের সঙ্গে। তিনিই জানালেন, জাদুঘরটিকে মূলত ৪টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। শুরু হয়েছে উয়ারি বটেশ্বরে প্রাপ্ত ২৫০০ হাজার বছর পুরনো সভ্যতার নিদর্শন দিয়ে। শেষ হয়েছে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে। মাঝের অনেকটা সময় জুড়ে এসেছে রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গ। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন যেমন রয়েছে, তেমনই আছে অতি দুর্লভ কিছু ছবি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত নানা প্রত্ন নিদর্শনের অনুকৃতি। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলির মধ্যে উয়ারি বটেশ্বরে প্রাপ্ত প্রত্ন নিদর্শন যেমন আছে, তেমনই আছে ৬ষ্ঠ-৭ম শতকের পোড়ামাটির কাজ, ১৬শ’ শতকের নক্সাখচিত ইট প্রভৃতি। রয়েছে পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়ের নানা নিদর্শন, দেব-দেবীদের মূর্তি। কোনটা পোড়ামাটির, কোনটি ধাতব। মাঝখানে সুলতানী এবং বৃটিশ শাসনামলও এসেছে জাদুঘরটিতে রাখা নানা প্যানেলে। রয়েছে ঢাকার জাতীয় জাদুঘর থেকে আনা বেশ কিছু মুদ্রা।
‘এই পর্যায়টি শেষ হয়েছে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়ে। তারপরের বিভাগ শুরু হয়েছে ৫২’র ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক যে বিভাগ, তার আগে ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গটি এ কারণে রাখা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সূচনা তো সেই ৫২’তেই’- বলছিলেন তারিক সুজাত। নানা প্যানেলে আর ছবিতে ধরা রয়েছে ১৯৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে পাকিস্তানি সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যে ঐতিহাসিক মিছিল হয়েছিল, সেখানে গুলি চালনা আর ভাষা শহীদদের প্রসঙ্গ। ‘ঠিক তার পরের বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি যে সঙ্কলন বেরিয়েছিল, যেখানে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি’, তোফাজ্জেল হোসেনের ‘রক্ত শপথে আমরা আজিকে তোমারে স্মরণ করি’র মতো কালজয়ী গানগুলি ছিল। রয়েছে সেই সঙ্কলনটির ছবি।
তারপরে ৬২’র ছাত্র আন্দোলন, ৬৬’র আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এসব পেরিয়ে ’৭০-এর নির্বাচন প্রসঙ্গ রেখেছি প্যানেলগুলিতে’- জানাচ্ছিলেন মি. সুজাত। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রয়েছে একটি আলাদা গ্যালারি। তাতে দেখা যাচ্ছে যুদ্ধের সময়কার নানা দুর্লভ ছবি, শরণার্থী শিবির এগুলি। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে রয়েছে সম্পূর্ণ পৃথক একটি বিভাগ। পূর্ববঙ্গে শাহ্‌জাদপুর, শিলাইদহ, পতিসরের কাচারীবাড়ীর ছবি, সেখানে কবির ব্যবহৃত নানা জিনিসের অনুকৃতি দিয়ে সাজানো রয়েছে জাদুঘরের এই অংশটি। 
কয়েকটি ব্যবহৃত বস্তুও আনা হয়েছে শাহ্‌জাদপুর থেকে- কেরোসিনের বাতি, লবণ দানি, খাবার পাত্র। এগুলি অবশ্য উদ্বোধনের পরেই ফেরত চলে যাবে বাংলাদেশে। সুজাত বলছিলেন,  ‘যেসব প্রত্ননিদর্শন নিয়ে আসা হয়েছে, সেগুলি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হিসাবে বিশ্বভারতীতে এসেছে। বেশ অনেক বছর থাকবে। চিরস্থায়ীভাবে দেয়া হয়নি। সরকারের সঙ্গে বিশ্বভারতীর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী নিদর্শনগুলি এসেছে। ঠিক যেভাবে নানা যাদুঘরে প্রদর্শন বিনিময় হয় সারা পৃথিবীতেই।

ভারতীয় শাড়ির আধিপত্য টিভি সিরিয়ালের প্রভাব নেই

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর শপিংমল, মার্কেট, ফুটপাতসহ সবখানে জমে উঠেছে কেনাকাটা। কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, এলিফ্যান্ট রোড, গাউছিয়া, ফার্মগেটসহ বেশকিছু এলাকা ঘুরে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
দুপুরে নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা রিহানা বেগম জানান, পুরান ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে এসছি। একসঙ্গে একই দিনে সবার কাপড় কেনা সম্ভব নয়। তাই আজ মেয়ে আর বিয়ানকে নিয়ে কেনাকাটা একটু এগিয়ে রাখছি।
নিউমার্কেট এলাকায় ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে জননী শাড়ি বিতানের বিক্রেতা মো. আসিফ আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, আমাদের দোকানে সব শাড়িই ভারতীয় কালেকশান। এরমধ্যে রয়েছে কাতান, তসর, বম্বে বুটিকসসহ একাধিক শাড়ি। এসবের ভারতের কিছু উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে পুরস্কার পাওয়া কিছু শাড়ির নামকরন করা হয়েছে। ইতালিয়ান ক্রেফ শাড়িতে এক্সপেনসিভ মুগাসুতায় কাজ করা শাড়ি। কন্যাকুমারি নামের সিফন শাড়িতে হ্যান্ডমেইড স্টাইলিস্ট ডিজাইনের শাড়ি রয়েছে। তসরের উপর ক্যাটওয়াটের কাজ, এটাকে বলা হয় জয়পুর স্পেশাল ব্র্যান্ড। এসব শাড়ির মূল্য ২ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার পর্যন্ত। ১০ রোজা থেকে বিকিকিনি জমে উঠে যেটা ২৮ রোজা পর্যন্ত চলতে থাকে। তবে প্রতিবছরের তুলনায় এ বছর ক্রেতাদের সংখ্যা অনেক কম।
নিউমার্কেটের সিনথিয়া শাড়িজ-এর বিক্রেতা শাওন জানিয়েছেন, এ বছর ইন্ডিয়ান শাড়ি কালেকশান বেশি। তবে প্রতিবছরের মতো এবছর কোন টিভি সিরিয়ালের নামের সঙ্গে মিল রেখে শাড়ির নামকরণ করা হয়নি। সত্যি বলতে এই নামকরণ মূলত দোকনদার বা যারা পণ্য সরবরাহ করে থাকে তারা নিজেরাই ভারতের জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালের কিছু উল্লেখযোগ্য চরিত্রের নাম ব্যবহার করে থাকে। ১০ রোজা থেকে বেচাকেনা শুরু হয় যেটা ২৯ রোজ পর্যন্ত চলতে থাকে বলে জানান তিনি। মায়ের দোয়া শাড়ি হাউজের বিক্রেতা মো. ইউসুফ বলেন, এবছর ঈদের বাজার মন্দার থেকেও বেশি খারাপ। ক্রেতা নাই বললেই চলে। সকাল থেকে একটি শাড়িও এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়নি। নিজ চোখেই তো দেখতে পাচ্ছেন নরমাল বন্ধের দিনেও এর থেকে ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে।   
আধুনিকা জামদানি ফ্যাশনের বিক্রেতা মো. আলী হোসেন জানিয়েছেন, আমাদের দোকানে সব ঢাকাই জামদানি শাড়ি। যার মূল্য ৮৫০ থেকে শুরু করে ৮০-৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঢাকাই জামদানি শাড়ির এতো বেশি মূল্য কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্মান, সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য সব মিলিয়ে ঢাকাই জামদানি বিশ্ববাজারে প্রথম স্থানে রয়েছে। এছাড়া এই শাড়ির বিশেষত্ব হচ্ছে- সাধারণ জামদানি তৈরি করতে ১০-১৫ দিন সময় লাগে। কিন্তু দামি জামদানি শাড়ি তৈরি করতে প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস সময় লাগে। সময়, হাতের কাজ, শ্রমিকদের পারিশ্রমিক সব মিলিয়ে ঢাকাই জামদানির শাড়ির দাম অন্যান্য শাড়ির তুলনায় একটু বেশিই হয়ে থাকে।  বেবি শাড়িজ স্টোরের বিক্রেতা মো. সেলিম বলেন, বর্তমানে ভারতীয় কাবেরী শাড়ির চাহিদা বেশি। এছাড়া রয়েছে সিল্ক, হাফ সিল্ক। যার মূল্য ৩,৫০০ টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অভিযোগের সুরে তিনি মানবজমিন-এর প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর তেমন কোনো বিক্রি-বাট্টা নেই বললেই চলে। অন্যান্য ঈদে আজকে দোকানে এতোটাই ভিড় থাকতো যে আপনার সঙ্গে কথা বলারই সময় পেতাম না। ‘অহন দেহেন মাছি মারতাছি’।
নিউমার্কেট সংলগ্ন নূর ম্যানশন শপিং সেন্টারের ফয়সাল টেক্সটাইলের বিক্রেতা আশরাফুল জানান, এ বছর বাংলাদেশি সুতি থ্রি-পিসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ইন্ডিয়ান থ্রি-পিসের সংখ্যা খুবই কম। শুধুমাত্র ইন্ডিয়ান এলিজা থ্রি-পিসের চাহিদা একটু বেশি। এ বছর ভারতীয় নাটকের চরিত্রের সঙ্গে মিল রেখে কোনো পোশাক বাজারে এসেছে কিনা জানতে চাইলে উত্তরে তিনি বলেন, ভারতের বাজারের ডিমান্ডের সঙ্গে মিল রেখেই আমাদের দেশের বাজারের পোশাকের ডিমান্ড নির্ভর করে। গত বছর ভারতের বাজারে জরজেটের শাড়ির চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি যার প্রভাব আমাদের দেশের বাজারেও পড়েছিল। এ বছর ভারতে সুতি থ্রি-পিস বেশি চলছে বিধায় আমাদের দেশীয় মার্কেটেও সুতিটাই বেশি চলছে। বৃষ্টির কারণে কাস্টমার কম থাকলেও শবেবরাতের পর থেকেই আমাদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে, যেটা চলবে চাঁদ রাত পর্যন্ত।  রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ক্রেতাদের তেমন একটা ভিড় নেই। মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, এখনো সেভাবে বিক্রি শুরু হয়নি। অনেকে আসছেন জিনিস পছন্দ করতে। আবার অনেকে এসেছেন জিনিসপত্রের দাম দেখতে। বসুন্ধরা শপিং মলে কেনাকাটা করতে আসা রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মনিকা মনি বলেন, নতুন বিয়ে করেছি।
ঈদের ছুটিতে ১৬-২০ রোজার পরেই গ্রামের বাড়িতে চলে যাব। তাই খুব দ্রুত কিছু কেনাকাটা করতে হচ্ছে। প্রথমে শ্বশুর বাড়ির লোকদের কেনাকাটা শেষ করেছি এখন বাবা মা ভাই বোনদের জন্য কেনাকাটা করছি। জিনিসপত্রের দামের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বছর জামাকাপড়ের দাম তুলনামূলক একটু বেশি। দাম প্রথমে একটু বেশি চাইলেও দামাদামি করলে কিছুটা কমে পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে ফার্মগেট এলাকার ফুটপাতগুলোতে ছোটখাটো দোকান বা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। তবে নিউমার্কেটের ফুটপাত পুরোটাই হকার শূন্য। এসব ফুটপাতের কিছু হকার অস্থায়ীভাবে ইডেন মহিলা কলেজের সামনে দোকানে পশরা সাজিয়েছে। যেখানে গজ কাপড়, মেয়েদের প্রয়োজনীয় গার্মেন্টস, অর্নামেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান রয়েছে। যার অধিকাংশ কাস্টমার হচ্ছে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রীরা।

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কমিশন

সিটি নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ দিয়ে আচরণবিধি সংশোধনের ফলে ভোটের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এমপিরা এলাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা প্রচারণায় নামলে পরিস্থিতি ইসির নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে ইসি ভাবমূর্তির সংকটে পড়বে বলেও মন্তব্য করেছেন তারা। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এমপিরা যখন এলাকায় যান তখন নানা ধরনের প্রভাব তৈরি হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ, প্রশাসন তাদের কথা শোনে। কারণ, আমাদের এখানে স্থানীয় এমপিরা সবকিছুর শীর্ষে থাকেন। ফলে পরিস্থিতি ইসির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ভালো হয়নি। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার যে ধারণা সেদিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সবার সঙ্গে পরামর্শ করে বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তে সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মূলত এমপিরা স্থানীয় পর্যায়ে অনেক ক্ষমতাবান হন। যদি এটি বাস্তবায়ন হয় তাহলে প্রতিপক্ষ প্রচারণার সুযোগ পাবে না। এতে স্থানীয় পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এক কথায় বলা যায়, প্রচারণার জন্য প্রার্থীদের সমতল পরিবেশ থাকবে না। সুজন সম্পাদক বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিরা প্রচারের সুযোগ পেলে তার প্রভাব হবে ভয়াবহ। এমপিরা নিজ এলাকায় প্রচণ্ড প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী। যেসব দলের এমপি নেই তারা বৈষম্যের শিকার হবেন। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তরায় হবে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, সিটি করপোরেশনের আচরণবিধির এমন সংশোধনী ইসির ভাবমূর্তি সংকট আরও ঘনীভূত করবে। খুলনা সিটি নির্বাচনে গণগ্রেপ্তারে নীরব ভূমিকা, ভোটের দিন পুলিশের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকা- এসব নিয়ে ইসিকে প্রশ্নের সম্মুখে পড়তে হয়েছে। এ মুহূর্তে ইসির সিদ্ধান্তে জনমনে আরও প্রশ্ন ও সন্দেহ বাড়াবে; নিরপেক্ষতার সংকটও তৈরি করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি অন্য দেশেও সংসদ সদস্যদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রচারের সুযোগ থাকার কথা বলেছিলেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধ্যাপক তোফায়েল বলেন, কিন্তু তাদের নির্বাচনী কালচার আর বাংলাদেশের কালচার এক নয়। এখানকার এমপিরা স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনে সম্পৃক্ত। সেক্ষেত্রে তাদের দূরে রাখাই ভালো। এর আগে কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে কমিশন সিটি নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ প্রদানের উদ্যোগ নিলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তারা সরে এসেছিল। ২০০৯ সালে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন কমিশন এমপিদের নির্বাচনী প্রচারের বাইরে রাখার বিষয়টি বিধিমালায় যুক্ত করে। পরবর্তীকালে ২০১৫ সালে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারের সুযোগ দেয়া না দেয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তৎকালীন কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন। প্রাথমিকভাবে মন্ত্রী-এমপিদের নাম উল্লেখ না করে সরকারি সুবিধাভোগীদের প্রচারের (সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বাদ দিয়ে) সুযোগ করে দিয়ে খসড়া তৈরি করে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে সরকারি সুবিধাভোগীদের সফর ও প্রচারণায় অংশ নেয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মন্ত্রী-এমপিদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি করা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর কুমিল্লা সিটি ভোট সামনে রেখেও আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশন বেশি নিরপেক্ষতা দেখাতে গিয়ে সরকারি দলের প্রতি বেশি নিষ্ঠুর আচরণ করছে। এবারে গাজীপুর ও খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রী-এমপির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণারোপ না করার দাবি জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গত বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় এমপিদের প্রচারণার সুযোগ রেখে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণবিধিমালা সংশোধনের অনুমোদন দেয় ইসি।

কনডমের আকার নিয়ে জিম্বাবুয়ের অভিযোগ

চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের বানানো কনডমের আকার নিয়ে অভিযোগ করেছেন জিম্বাবুয়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, তার দেশে রপ্তানি হওয়া ওই কনডমের আকার খুবই ছোট। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই চীনা কোম্পানি বলেছে, ভিন্ন আকারে কনডম তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করছে তারা। এ খবর দিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে রাজধানী হারারেতে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনা কনডমের আকার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেভিড পারিরেনায়াত্তা। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকায়  এইচআইভি আক্রান্তের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। আমরা এ কারণে কনডম ব্যবহারকে উৎসাহিত করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমরা কনডম বানাই না। আমরা চীন থেকে এসব আমদানি করি। কিন্তু অনেকে অভিযোগ করেন যে, এসব কনডম বেশিই ছোট।’ পেরিরেনায়াত্তা বলেন, আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয়ভাবে কনডম তৈরি করা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পারে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ব্যাপারে চীনা কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বেইজিং দাক্সিয়াং অ্যান্ড হিজ ফ্রেন্ডস-এর প্রধান নির্বাহি ঝাও চুয়ান বলেন, তার প্রতিষ্ঠান ভিন্ন আকারে কনডম তৈরির কথা ভাবছে। তিনি বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের মতো গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী অবদান রাখার বাধ্যবাধকতা ও সামর্থ্য আমাদের রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো আকারের পণ্য আমরা উৎপাদন করবো তা নিয়ে নিশ্চিত হতে আমরা ওই অঞ্চলে জরিপ চালিয়ে দেখেছি।’
তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী তাদের গ্রাহকদের চাহিদা একে অপরের চেয়ে ভিন্ন। চীনের পুরুষদের পছন্দ চিকন কনডম। আকার নিয়েও অত মাথাব্যথা নেই তাদের। আবার উত্তর আমেরিকার গ্রাহকদের পছন্দ আরো নরম কনডম।
উল্লেখ্য, সাব সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলের সবচেয়ে মারাত্মকভাবে মরণব্যাধি এইচআইভি/এইডসের প্রাদুর্ভাব যেসব দেশে দেখা দিয়েছে, সেগুলোর একটি হলো জিম্বাবুয়ে। দেশটির মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ১৩.৫ শতাংশই এই ভাইরাসে আক্রান্ত। এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো কনডম ব্যবহার। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্বের শীর্ষ ৫টি কনডম আমদানিকারক দেশের মধ্যে জিম্বাবুয়ে একটি। অপরদিকে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমিশন বলছে, দেশটি বিশ্বের শীর্ষ কনডম উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির ৩০০টি কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর প্রায় ৩০০ কোটি জন্মনিরোধক কনডম তৈরি করে।

গার্ডিয়ানের চোখে বাংলাদেশের মাদকবিরোধী যুদ্ধ

বাংলাদেশের মাদক বিরোধী অভিযানকে ফিলিপাইনের মতো বলে বর্ণনা করেছে বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। অনলাইন দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত কয়েকজনকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজনের পরিবার দাবি করেছেন, তার নিহত স্বজন বিরোধীদলের কর্মী ছিলেন। তিনি কখনোই মাদক ছুঁয়ে দেখেন নি। এই পরিবারসহ আরো কয়েকটি পরিবার বলেছে, মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে এসব মানুষকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরপর যা ঘটে, কর্তৃপক্ষ তাকে রাত্রিকালীন বন্দুকযুদ্ধ বলে উল্লেখ করছে।
অবৈধ মাদকের রমরমা ব্যবসা, বিশেষত মেথামফেটামাইন বা ইয়াবার ব্যবসা বন্ধ করতে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ এই অভিযান শুরু করে। উত্তেজনা সৃষ্টিকারী এই মাদক সাধারণত প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরে ৩০ কোটি ইয়াবার পিল বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে। এর জন্য রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পলায়নপর রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের বহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা জেলেদের দায়ী করা হয়েছে। 
গত সপ্তাহে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকেই প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে ৯ মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়। এতে ১০ দিনে মৃতের সংখ্যা ৫২ জনে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে একজনের নাম আমজাদ হোসেন। পুলিশ বলছে, তাকে নিয়ে পুলিশ নেত্রোকোনার একটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হলে আমজাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে হত্যা, সহিংসতা ও মাদক সংক্রান্ত ১৪টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করি। পরে তার সহযোগীরা আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এসময় সে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
তবে আমজাদের ভাই মাহিদ আহমেদ আনসারি বলেন, আমজাদ মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের কয়েক ঘণ্টা আগে পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। হঠাৎ চালানো এই অভিযানে আমার ভাইকে ব্যাপক মারধর করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। তাকে হত্যা করা হয়েছে শুধু এ কারণে যে, সে বিরোধী দলের ছাত্র সংগঠনের একজন জনপ্রিয় কর্মী ছিল। তিনি বলেন, আমজাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো এ বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন উপলক্ষে  বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যমূলক হয়রানির অংশ।
গার্ডিয়ান আরো লিখেছে, অনেক অভিযান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ান (র‌্যাব) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। র‌্যাবের অভিযানে শুক্কুর আলী নিহত হয়। র‌্যাবের দাবি, শুকুর কুখ্যাত ইয়াবা ও ভাং ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। র‌্যাবের বিবৃতি অনুযায়ী, র‌্যাব কর্মকর্তারা চট্টগ্রামের একটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালায়। এ সময় তারা সশস্ত্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। উভয়পক্ষের গুলিবিনিময় শেষে ঘটনাস্থল থেকে শুকুরকে মৃত উদ্ধার করা হয়। তার অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
কিন্তু শুকুরের স্বজনরা বলছেন, সোমবার মধ্যরাতের পর সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়। নিহতের জামাই মোহাম্মদ সোহেল বলেন, কিছুক্ষণ পরই আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই। বাইরে এসে কিছুটা দূরে শ্বশুরকে পড়ে থাকতে দেখি। এটা পরিষ্কার যে, যারা তুলে নিয়ে গেছে, তারাই তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এটা সত্য না যে, তিনি মাদকের আস্তানায় ছিলেন। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মাদক নিতেন। কিন্তু এটা সত্য না যে তিনি মাদক বিক্রি করতেন।
ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী পিনাকি ভট্টাচার্য বলেন, পুলিশের গুলি করে হত্যা করার উন্মত্ততা দেশজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এগুলো পরিষ্কারভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যা। যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এসব বাহিনীর অবাধ ক্ষমতা আছে। তারা বিচারক ও জল্লাদের ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, একজন মন্ত্রী তো মাদকাসক্তদের গুলি করার কথা বলেছেন। আর প্রধানমন্ত্রী এটাকে ইসলামী উগ্রপন্থিদের নিধনের প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা যথাযথ জবাবদিহিতা ও নজরদারি ছাড়াই আরো একবার তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়।

চার মাসে ১২১২ খুন by শুভ্র দেব

দেশজুড়ে বাড়ছে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। সামাজিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে খুনের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের শুরুর চার মাসের চেয়ে চলতি বছরের চার মাসে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে সারা দেশে ১৯ হাজার ৬৭৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালে ৩ হাজার ৯৮৮, ২০১৪ সালে ৪ হাজার ৫১৪, ২০১৫ সালে ৪ হাজার ৩৬, ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৫৯১, ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৫৪৯ ও চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ২১২ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায় ২০১৭ সালের প্রথম চার মাসের খুনের তুলনায় ২০১৮ সালে খুনের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে ২৬৩টি। অথচ ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে খুন হয়েছে ২৯১ জন। একইভাবে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হয়েছে ২৫০টি, মার্চ মাসে ২৯৭, এপ্রিল মাসে ২৯৭। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি ২৫৬, মার্চে ৩২৭, এপ্রিলে ৩৩৮টি। পরিসংখ্যানে দেখা যায় গত বছরের চার মাসের তুলনায় চলতি বছরের চার মাসের খুনখারাবির সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি এসব খুনখারাবির ধরনও বেশ পাল্টেছে। নৃশংস, লোমহর্ষক ও অভিনব কায়দায় এখন হত্যাকাণ্ড ঘটছে।
১৯শে মে মৌলভীবাজারে শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এক জামাতা। ৫৫ বছর বয়সী ওই নারীর নাম রোকেয়া বেগম। হত্যাকারী জামাতার নাম আলি হোসেন। গভীর রাতে তার নিজ বাসায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাতারকাপন গ্রামের রাজ্জাক মিয়ার স্ত্রী। মেয়ে ও জামাতার সঙ্গে একই সঙ্গে শহরের শ্যামলী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় থাকতেন। রোকেয়ার পরিবার জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে তার জামাতা দা ও শাবল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ১৮ই মে শুক্রবার সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড পৌরসভার জঙ্গল মহাদেবপুর পাহাড়ের ত্রিপুরাপাড়া থেকে ফলিন ত্রিপুরার মেয়ে সুখলতি ত্রিপুরা (১৫) ও সুমন ত্রিপুরার মেয়ে ছবি রানী ত্রিপুরার (১১)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা দুজনেই বান্ধবী। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই কিশোরীকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছবি রানী ত্রিপুরার বাবা সুমন ত্রিপুরা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় স্থানীয় চৌধুরীপাড়ার ইসমাঈল হোসেনের ছেলে আবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
অপরাধ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয়, ইন্টারনেটের ভয়াবহতা, মাদকের ভয়াল বিস্তার, পারিবারিক সম্পর্কে ঘাটতি, পরকীয়া, জমিজমা নিয়ে বিরোধ, অতিমাত্রায় ক্ষোভ, সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা কারণে এসব ঘটনা বাড়ছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়াতে বন্ধ হচ্ছে না অপরাধ। এছাড়া বরাবরই নির্বাচনকালে বছরে দেশে অন্যরকম এক অস্থিরতা বিরাজ করে। তাই নির্বাচনের বছর আসলে অপরাধীরা বেশি তৎপর হয়ে উঠে। সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ জাতীয় নির্বাচনের বছর হওয়াতে এ বছরে অপরাধ প্রবণতা অনেক বেড়েছে। সময় যত যাবে অপরাধ আরো বাড়বে। কারণ, এসময় ঝিমিয়ে পড়া সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় সজাগ হয়। নেতাকর্মীরা তাদের প্রয়োজনে অপরাধীদের ব্যবহার করান। নির্বাচনকালীন আধিপত্য বিস্তারের একটা বিষয় থাকে। এসময় জেলে থাকা অপরাধীদের জামিনে বের করা হয়। সূত্র আরো জানিয়েছে, দেশে এখন মাদকের ভয়াবহতা খুব বেড়েছে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। আর এখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষই মাদকের সঙ্গে জড়িত।
অপরাধ বিজ্ঞানী তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, বর্তমান সময়ের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড পর্যালোচনা করা দেখা গেছে সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণেই এসব ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক দিক দিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায় গণতান্ত্রিক চর্চাটা খুব কম হচ্ছে। এর কারণে সব দলের মধ্যে একটা পাওয়া না পাওয়ার প্রবণতা রয়ে যায়। কে কার চেয়ে বেশি পেতে হবে। আমি কেন কম পেলাম। এ ধরনের কিছু বিষয় থেকে একটা রাজনৈতিক ক্ষোভ তৈরি হয়। আর এই ক্ষোভ থেকেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এই অপরাধ বিজ্ঞানী বলেন, রাজনৈতিক ক্ষোভটা একটাই পৈচাশিক হচ্ছে খুনের পর মরদেহের ওপরও সেই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিকৃত করার পাশাপাশি অনেক সময় খণ্ডিত করা মরদেহ। এর বাইরে সামাজিক কারণে ঘটে যাওয়া ঘটনারও কমতি নেই। সম্পত্তির জের, পরকীয়া, কলহ থেকে সামাজিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।
এর কারণ হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো তার দায়দায়িত্ব থেকে অনেক দূরে আছে। একটা সামাজিক বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে যা দরকার সেটা তারা করছে না। এজন্য মানুষের মধ্যে মানুষের দূরত্ব বাড়ছে। সমাজ কল্যাণ বিভাগের এই শিক্ষক মনে করেন, সামাজিক চর্চাটা ভালোভাবে করা দরকার। শুধু আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতা দিয়ে হবে না। কারণ, তাদের তৎপরতা অপরাধ হওয়ার পর দেখা যায়। তবে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সামাজিক সংস্থাগুলোতে মানবিকতার চর্চা দরকার। তাহলেই আমারা একটি সুন্দর, সংঘাতবিহীন সমাজ পাবো।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেলি ফেরদৌস মানবজমিনকে বলেন, সারা দেশে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার পেছনে সামাজিক, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মাদক অন্যতম। আবার পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়া, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, ইন্টারনেটের অপব্যবহার আছে। এর বাইরে ধর্ষণের পর ও পরকীয়ার জের ধরে থেকে কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটে। তিনি বলেন, পুলিশ কখনই চায় না দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হোক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশ সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। খুনের ঘটনা ঘটলে আসামিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

দোয়ারাবাজারে রসালো লিচু ডালে ডালে by মুহামম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী

ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় দেশীয় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। লিচুর গ্রাম মানিকপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের লামাসানিয়া, পরশ্বেরীপুর, বীরসিংহ, সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা আলীপুরে প্রত্যন্ত এলাকায় ডালে ডালে রসালো লিচুর সমাহার। প্রতি দিন গড়ে ছাতক বাজারসহ কয়েকটি বাজারে  লক্ষাধিক টাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে। এবছর ভালো ফলন হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। লাভজনক লিচু চাষে জড়িয়ে থাকা ওইসব এলাকার অন্তত শতাধিক চাষি এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন। ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর, গোদাবাড়ী, চানপুর, কচুদাইড়, বড়গল্লা, রাজারগাঁওসহ কয়েকটি গ্রামের বাড়িতে চোখ রাখলে দেখা যায় গাছে গাছে ঝুলে থাকা লিচুর অপরূপ দৃশ্য। প্রতি বছর ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার লিচু চাষিরা অন্তত কোটি টাকার লিচু বিক্রি করে থাকেন। দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের বালিউরা বাজার থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার। গ্রামীণ এ মেঠোপথ ধরে একটু এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে মানিকপুর ও লামাসানিয়া গ্রাম। যেখানে প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ছোট-বড় লিচু বাগান রয়েছে। প্রতিটি লিচু গাছে এখন শোভা পাচ্ছে দেশি জাতের রাসালো লিচু। জমিদার আমল থেকে মানিকপুর ও আশপাশের গ্রামের টিলায় লিচু চাষাবাদ শুরু হয়। এ দৃশ্য দেখার জন্য ছাতক-দোয়ারা তথা সিলেট-সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা ভিড় জমান এখানে। লিচু বাগানগুলোতে বাদুড়ের উপদ্রব ঠেকাতে ইতোমধ্যে সরকারিভাবে সোলার সিস্টেম প্রদান করা হয়েছে।  স্থানীয় লিচু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রিটিশ জমিদার আমলে গৌরীপুরের জমিদার হরিপদ রায় চৌধুরী ও তার ভাই শান্তি পদ রায় চৌধুরীর কাচারী বাড়ি ছিল মানিকপুর গ্রামে। জমিদারের লোকজন পরীক্ষামূলকভাবে ৩০টি লিচু গাছ রোপণ করেন। বর্তমানে শতবর্ষী এসব লিচু গাছ এখনোও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এরই ধারাবাহিকতায় নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুরসহ ৮টি গ্রাম ও ইসলামপুর ইউনিয়নের হাদা-চানপুর ও কুমারদানী গ্রামে নওসাদ মিয়ার বাগানবাড়িতে এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা, লামাসানিয়া, লাস্তবেরগাঁওয়ে বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে প্রতিটি গ্রামের নারী-পুরুষ সবাই লিচু বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছে। এমন কোনো বাড়ি নেই যার আঙিনায় ৪-৫টি লিচু গাছ নেই। বাগানভেদে ২৫-৩০ হাজার থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা আয় হবে বলে চাষিরা জানায়। আগত রমজানে প্রত্যন্ত এলাকায় লিচুর চাহিদা বেশি থাকবে বলে তখন আশাতীত মূল্য পাওয়ার আশা করছেন চাষিরা।  কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে স্থানীয় লিচু চাষি শুকুর আলী, আবদুর রহিম, হারুনুর রশীদ, জামাল উদ্দিন, সাইদুর রহমান, ডাক্তার ওসমান গনী, রোস্তম আলী, কেরামত আলী, আরব আলী, সুন্দর আলী, জয়নাল আবেদীন, মতিউর রহমান, বাদশা মিয়া, ফুল মিয়া, সিদ্দিক মিয়া, মাসুক মিয়া, মো. আব্দুল্লাহ, মজলু মিয়া, মানিক মিয়া, জয়নাল আবেদীন, আব্দুল হান্নান, জজ মিয়া, নাজির হোসেন, নিজাম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহররম আলী, মিলন মিয়া, স্বপন মিয়া, আকাশ মিয়া, ফারুক আহমদ, জসিম উদ্দিন, কাজী নিজাম উদ্দিন, হোসেন মিয়া, আলী আহমদ, কুদ্দুছ মিয়া সহ অসংখ্য চাষী লিচু চাষে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন।
বর্তমানে বাজারে প্রতি হাজার লিচু ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইতিমধ্যে মানিকপুরের লিচু চাষি মানিক মিয়া ও মানিকপুর জামে মসজিদের লিচুর বাগান প্রায় দুই লাখ টাকায় নিলাম হয়েছে। এখানকার চাষীরা বলেছেন এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় ফলন তেমন ভালো হয়নি। তাই চাষীরাও তেম দাম পাচ্ছেন না। তবে পার্শ্ববর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের লামাসানিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রত্যেক লিচু চাষিরা অভিযোগ করে বলেছেন, মানিকপুরে লিচুর বাগানগুলোতে সরকারিভাবে সোলার প্যানেল প্রদান করা হলেও লামাসানিয়া ও আশেপাশের লিচু চাষিদের পাখি ও বাদুড়ের উপদ্রব ঠেকাতে সোলার প্যানেল প্রদান করা হয়নি। পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় চাষিরা রাত-দিন কঠোর পরিশ্রম করেও বাদুড়ের উপদ্রুব ঠেকাতে পারছেন না।

রাঙ্গামাটিতে পাচার হচ্ছে বনের চারাগাছ by আলমগীর মানিক

রাঙ্গামাটিতে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কাঠ পাচারের অন্যতম স্থান রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে চলতি মৌসুমেও থেমে নেই কাঠ পাচার। জ্বালানি কাঠের নাম করে ৫ জনের অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও কতিপয় কর্মকর্তার মাধ্যমে কোটি টাকার চারাগাছ পাচার হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সকলের চোখের সামনে দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে। এই সিন্ডিকেটটির এবারের টার্গেট কুতুকছড়ি রেঞ্জের বিক্রয় ও কর্তন নিষিদ্ধ প্রাকৃতিক বনজ গাছ। ইতিমধ্যেই এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কুতুকছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন অনেকগুলো এলাকার প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে রাঙ্গুনিয়া-রাউজানের ইটভাটাগুলোতে অবাধে পাচার করা হয়েছে হাজার হাজার চারাগাছ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরের এই সময়টাতে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় মানিকছড়িতে নৌ-যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে কয়েকমাস পর্যন্ত উক্ত এলাকা থেকে জ্বালানি কাঠভর্তি কোনো গাড়ি যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু তারপরও মানিকছড়ি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪৫টি পর্যন্ত জ্বালানি কাঠভর্তি গাড়ি রাঙ্গুনিয়া-রাউজানের ইটের ভাটাগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টির খোঁজ নিতে গিয়ে কেঁচু খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার অবস্থা। এলাকাবাসীরে সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির বনবিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে মানিকছড়ির ৫ থেকে সাতজনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে জুম নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অধীনস্থ কুতুকছড়ি-ঘিলাছড়ির বনাঞ্চলের চারা গাছগুলো কেটে জ্বালানি কাঠের নাম করে পাচার করা হচ্ছে অবাধে।
সরজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র পরিলক্ষিত করা গেছে। বেলা ১২টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সময়ে কুতুকছড়ির নিকটস্থ খামার পাড়া, বোধিপুর ও কেসিং এই তিন এলাকা থেকে কাঠ ভর্তি করে একের একের জিপ গাড়ি মানিকছড়ির মুখে অবস্থান করে। পরে সেখান থেকে টিপি প্রদর্শন করে অন্তত দুইশো ফুট জ্বালানি কাঠভর্তি প্রতিটি জিপ গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে ইটভাটার গন্তব্যে। এই ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, আমরা বনবিভাগ থেকে বৈধভাবে টিপি সংগ্রহ করে সেটির মাধ্যমেই ব্যবসা করছি। বৈধ ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানিয়েছেন, সদর রেঞ্জের অথরিটিতে এই রুট থেকে জ্বালানি কাঠ ভর্তি জিপ গাড়ি ছাড়ার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ চারাগাছ কর্তন করে জ্বালানি কাঠ হিসেবে পাচার করা হচ্ছে বৈধ দেখিয়ে।  বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বনবিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, আমরা বিসিক শিল্পনগরী মাঠ থেকে জ্বালানি কাঠ পরিবহনের জন্য টিপি বরাদ্দ দিয়েছি। তিনি জানান, আমরা প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি টিপি দিয়েছি। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি টিপির বিপরীতে জ্বালানি কাঠ নেয়ার নিয়ম রয়েছে ৮০ সিএফটি। কিন্তু মানিকছড়ি চেকপোস্ট দিয়ে অতিক্রম করা জিপগুলোতে ১৭০ থেকে ২শ’ ফুট পর্যন্ত জ্বালানি কাঠ ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির অন্যতম প্রবেশ মুখ মানিকছড়ি হচ্ছে কয়েকটি রুটের অন্তস্থল। এই রুটটি দিয়ে পাচার হওয়া জ্বালানি কাঠবাহী জিপ গাড়িগুলো থেকে প্রতিরাতে আদায় করা হয় অন্তত ৪ হাজার ৬ শত টাকা করে। সংশ্লিষ্টদের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে চলা ৭ জনের সিন্ডিকেট চক্র এসব ক্ষুদ্র জ্বালানি কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গাড়ি প্রতি এই টাকাটি আদায় করে। তাদের হিসাবমতে আদায়কৃত এই টাকার একটি বড় অংশই (১৮০০/১০০০) আঞ্চলিক প্রধান দুটি দলকে দিতে হয়। এ ছাড়াও আরো অন্তত সাতটি খাতে যথাক্রমে, ৫০০, ১০০, ৩০০, ৫০০, ১০০, ১০০, ২০০ টাকা মিলে সর্বমোট ১৮শ টাকা। এই বিষয়ে জানতে সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রিটন বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। অপরদিকে মানিকছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইউছুপ বলেন, আমাদের পুলিশের কেউ এই ধরনের টাকা-পয়সার ব্যাপারে জড়িত নয়। এই বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কোনো তথ্যও নেই। এদিকে, স্থানীয় একাধিক সূত্র
জানিয়েছে, কুতুকছড়ির কেসিং, খামার পাড়া, বোধিপুরসহ আরো কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মণ চারাগাছ মজুদ করে রেখেছে সেই একই সিন্ডিকেট চক্র। জানাগেছে, স্থানীয় সিন্ডিকেট চক্র কর্তৃক অবৈধভাবে জ্বালানি কাঠ মজুদ করে রাখলে সেখানে বনবিভাগ কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করে সেসব কাঠ পরবর্তীতে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বনবিভাগ বিশেষ কাগজ টিপি ইস্যু করে। এই টিপির মাধ্যমেই প্রতিটি জিপ বা চাঁদের গাড়িতে করে সর্বোচ্চ ৮০ সিএফটি জ্বালানি কাঠ পরিবহন করতে পারে সংশ্লিষ্ট টিপি বহনকারী ব্যবসায়ী। কিন্তু বর্তমানে মানিকছড়ির বিসিক এলাকাকে দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টিপির বিপরীতে উক্ত এলাকায় সরজমিনে গিয়ে কোনো কাঠের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। দেখা গেছে সেই খামার পাড়া, বোধিপুর ও কেসিং এলাকা থেকে এই ১৭০ থেকে ২২০ সিএফটি কাঠ ভর্তি জিপ গাড়িগুলো তথাকথিত টিপি প্রদর্শন করে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে খুব শিগগিরই অত্রাঞ্চলের পাহাড়গুলো ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হবে।

মাদকবিরোধী অভিযান: মূল হোতারা আত্মগোপনে by রুদ্র মিজান

একের পর এক মাদকবিরোধী অভিযানে গা-ঢাকা দিয়েছে মাদক ব্যবসার মূল হোতারা। এই কয়েকদিনে বিপুল মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার হলেও মূল ব্যবসায়ীরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার আড়ালে। অভিযানের কারণে রাজধানীতে মাদক সেবন ও যত্রতত্র বিক্রি কমেছে। তবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে সাবধানতার সঙ্গে মাদক বিক্রি করছে নারী মাদক বিক্রেতারা। বিক্রির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশু-কিশোরদের। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবী, গুলিস্তান, কাওরানবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এসব দৃশ্য। ৪ঠা মে থেকে ২৪শে মে পর্যন্ত ৬৩৮টি অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। অভিযানে ৭৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই কয়েকদিনের অভিযানে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা মূল্যের মাদক জব্দ করা হয়েছে । মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে মাদকের অন্তত ৬শ’ বড় মাপের ব্যবসায়ী বা ডিলার রয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, ঢাকায় অন্তত ১শ’ ডিলার রয়েছে। তারা আত্মগোপনে থেকেই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।
মোহাম্মদপুরে একাধিক বাড়ি ভাড়া করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে জয়নাল আবেদিন পাচু ও তার স্ত্রী পাপিয়া। আজিজ মহল্লার জয়েন্ট কোয়ার্টারের ৭/৪/এ নম্বর বাড়িটি তাদের হলেও র‌্যাবের অভিযানের পর থেকে ওই বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে এই মাদক ব্যবসায়ী দম্পতি। এক সময়ে আদাবরের ছয় নম্বর সড়কের ১০৯ নম্বর জাপানি বাড়িতে থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতো তারা। এই দম্পতির অধীনে রয়েছে অর্ধশত খুচরা বিক্রেতা। বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর এলাকায় মাদক ব্যবসার মূল হোতা ইসতিয়াক। ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে সে। মাঝে-মধ্যে বিলাসবহুল গাড়িতে করে মোহাম্মদপুরে এলেও অভিযান শুরু পর থেকে দেখা মিলছে না তার। স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার প্রশ্রয়ে থাকার কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ। আদনান তানভীর নামে ইসতিয়াকের এক পার্সোনাল সেক্রেটারি রয়েছে। তানভীর থাকে হেমায়েতপুরে। সে মূলত ইসতিয়াকের মাদক ব্যবসার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা।
জানা গেছে, এই অভিযানের মধ্যেও থেমে নেই মিরপুরের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী কাল্লু, এডিসি ক্যাম্পের ফারদিন বাবরের মাদক ব্যবসা। তাদের লোকজন নীরবে মাদক বিক্রি করছে। বাবরকে এলাকায় বাবর হিজড়া হিসেবে চেনেন। মিরপুর-১১ ও ১২ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে তাদের অর্ধশত খুচরা মাদক বিক্রেতা সক্রিয় রয়েছে ওই এলাকায়। বাবরের সহযোগীরা এডিসি ক্যাম্প সংলগ্ন সিটি করপোরেশনের পরিত্যক্ত মার্কেটের আশপাশে অবস্থান নিয়ে ইয়াবা বিক্রি করে। বাবরের খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে রুবেল, আবুলসহ অন্তত ১০-১২ জন কিশোর রয়েছে। যাদের দিয়ে ইয়াবা বিক্রি করায় বাবর। অভিযান শুরুর পর বাবরকে ওই এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। তবে, তার অধীনে মাদক ব্যবসায় জড়িত খুচরা বিক্রেতাদের দেখা গেছে ওই এলাকায়।
পল্লবীর সি ব্লকের ১২ নম্বর সড়কের ২২ নম্বর বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটে প্রতিনিয়ত ১০-১২ জন কিশোরকে অবস্থান করতে দেখেছেন আশপাশের লোকজন। কিশোরদের সম্পর্কে ওই ফ্ল্যাটের মালিক সেলিনা প্রতিবেশীদের জানান, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের লালন-পালন করেন তিনি। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর তথ্য, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বাসায় রেখে লালন-পালন করার নামে তাদের দিয়ে ইয়াবা বিক্রি করেন এই নারী। সারাদিন বাসায় ইয়াবার নেশায় বুঁদ করে রাখা হয় কিশোরদের। সন্ধ্যার পরপর ইয়াবা দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ক্রেতাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। টাকা নেয়া হয় বিকাশে-রকেটে। গত মার্চে সেলিনার বাসা থেকে আল-আমিন নামে এক কিশোরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আল-আমিনের মা-বাবার অভিযোগ তাকে নেশায় বুঁদ করে রাখা হয়েছিল। আল-আমিনকে দিয়ে মাদক বিক্রি করাতো সেলিনা। কিছুদিন আগে তার বাসায় অভিযান চালায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বাসায় তালা দিয়ে সেলিনাসহ বাসার সবাই পালিয়ে যায়। ডিবির উপ-কমিশনার মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, এসব মাদক বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।
সূত্রমতে, কালশি মোড়ের লালমাট এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি করছে মোসাম্মৎ পাপিয়া। ওই এলাকার একাধিক বাড়ির মালিক পাপিয়া। তার অধীনে ১০-১২ জন নারী ইয়াবা বিক্রি করে। অভিযান শুরুর পর থেকে সাবধানতা অবলম্বন করছে এই চক্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থেকে রক্ষা পেতে সার্বক্ষণিক বাসার সামনে রয়েছে পাহারা। বাসার আশপাশে অচেনা কাউকে অবস্থান করতে দেখলেই খবর পৌঁছে যায় পাপিয়ার কাছে। পাহারার দায়িত্বে রয়েছে এক চা দোকানি। ওই দোকান থেকেই স্থানীয় থানার কয়েক অসাধু মাসোহারা নিয়ে থাকে বলে এলাকার লোকজন জানান।
একইভাবে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় নাজমা, পারভিন, রহিমাসহ বেশ কয়েক নারী সক্রিয়ভাবে মাদক বিক্রি করছে। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে ১০-১২ জন করে নারী ও শিশু মাদক বিক্রেতা। এসব বিষয়ে র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম বলেন, কৌশলে বিভিন্নস্থানে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব স্থানে এখনো মাদক বিক্রি হচ্ছে তার তথ্যও আমাদের কাছে রয়েছে। একে-একে সব স্থানেই অভিযান হবে। কোনোভাবেই মাদকের সঙ্গে যুক্তদের ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, গ্রীষ্মে বর্ষার আলামত by আব্দুল আলীম

বর্ষা শুরুর আরো কিছুদিন বাকি। গ্রীষ্মকালের এই সময়ে সূর্যের প্রচণ্ড তাপে খাঁ খাঁ করে চারদিক। জলাধারের পানি শুকিয়ে মাটিতে ফাটল ধরে। অনেক নদীই হারায় তার স্বাভাবিক নাব্যতা। তবে এ বছরের আবহাওয়া সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রায় দুই মাস আগে থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে থাকছে বজ্রপাত। মৌসুমের প্রায় এক মাস  আগেই প্রকৃতিতে পাওয়া যাচ্ছে গ্রীষ্মের আলামত। সারাদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জনজীবনে নেমে আসছে দুর্ভোগ। কখনো বা মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিতে ডুবে যাচ্ছে শহরাঞ্চলের রাস্তাঘাট। গ্রামাঞ্চলেও আগাম বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন কৃষকরা। আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আবহাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এল নিনো-লা নিনোর প্রভাব ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসময়ে এমন নিয়মিত বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে। সাধারণত লা নিনোর প্রভাবে ভারত বর্ষের অঞ্চলগুলোতে অসময়ে অধিক বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাস দেখা যায়। অন্যদিকে এল নিনোর প্রভাবে এই অঞ্চলে প্রচণ্ড খরা দেখা দেয়। এ সময় বর্ষা মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাতও হয়ে থাকে। তবে প্রচণ্ড খরা ভারতে হয়, বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, গ্রীষ্মকালেও এখন প্রতিদিন বৃষ্টিপাত এটা আবহাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। আমি মনে করি দুইটি কারণে আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক আচরণ হতে পারে। এর একটি হলো- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আবহাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এখন লা নিনো চলছে। যদিও লা নিনো প্রায় শেষের দিকে। এটির কারণে বর্ষাকাল শুরুর এতো আগে থেকেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। লা নিনোর এই সময়টাতে আমাদের দেশে ঝড়-বৃষ্টি একটু বেশি হয়। আবহাওয়া অস্থির থাকে। আরেকটি কারণ হতে পারে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় কয়েক বছর পর পর অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হয়তো এখন থেকে ঘন ঘন বন্যা হবে। আবার বর্ষাকাল শুরুর আগে চলতি বছরের মতো বৃষ্টিপাত শুরু হবে।
তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আব্দুল মান্নান মানবজমিনকে বলেন, গত মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। কিন্তু মে মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা তা এখনো হয়নি। মে মাসের প্রথমার্ধে চারদিকে খাঁ খাঁ করে। দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কিন্তু এবার পুরো মাস জুড়েই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সংখ্যাগত দিক থেকে বেশি। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন অল্প অল্প করে বৃষ্টি হলেও এই মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা সেটা এখনো হয়নি। তবে মাসের এখনো যে কয়দিন বাকি আছে সে কয়দিনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করলে হয়তো ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে এটা কাছাকাছি অন্যান্য কয়েক বছরের তুলনায় বৈরী। প্রকৃতপক্ষে মে মাসে এই ধরনের বৃষ্টিপাত আগেও হতো। তবে গত কয়েক বছর ধরে আবহাওয়া স্বাভাবিক আচরণ করছে না। এর কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হলো- এ বছর শীতকালে খুব বেশি বৃষ্টিপাত হয়নি। সারা দেশের গড় তাপমাত্রাও বেশি সময় ধরে খুব বেশি নিচে নামেনি। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা একটু বেশি ছিল। আবার বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে মৌসুম শুরুর আগে থেকেও  এমন বৃষ্টি  শুরু হতে পারে।

রাখাইনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার ফের আহ্বান বাংলাদেশের

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘সেফ জোন’ তৈরির পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘সশস্ত্র সংঘাতকালে অসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা’ বিষয়ক এক উন্মুক্ত আলোচনায় এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে মিয়ানমারের  রাখাইন রাজ্যে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘ বা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অংশীজনদের তত্ত্বাবধানে ‘সেফ জোন’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই ‘সেফ জোন’ সৃষ্টি না করার কারণে বাংলাদেশে আশ্রিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিজভূমি রাখাইন রাজ্যে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। রাষ্ট্রদূত মাসুদ আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয় আমাদেরকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, সহিংস এই সশস্ত্র সংঘাতের সময় অসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এমনকী জরুরি চিকিৎসা প্রদানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ছিল সম্পূর্ণ উদাসীন। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিকে সামনে রেখে ‘সশস্ত্র সংঘাতে অসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা’ প্রদানের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মাসুদ পাঁচদফা সুপারিশ উপস্থাপন করেন। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সশস্ত্র সংঘাতের কৌশলগত বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ ফিল্ড ম্যানেজমেন্টকে সহিংসতার অগ্রিম সতর্ক বার্তাসহ অসামরিক নাগরিকদের সম্ভাব্য হুমকির বিষয়গুলো অনুভব করার সামর্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো বাঞ্ছনীয়। মানবিক সাহায্য প্রদানকারী কর্মী এবং অসামরিক নাগরিকদের প্রয়োজনে বিভিন্ন ত্রাণ-সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে বাধাহীন ও নিরাপদ পথ অবশ্যই নিশ্চিত করা; স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংঘাতের বাইরে রাখার ব্যবস্থা নেয়া; কোনো দেশে পাঠানো অস্ত্র ও গোলাবারুদ যাতে অসামরিক নাগরিকদের ওপর সৃষ্ট সহিংস অপরাধের কাজে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনসমূহের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত না হয় সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে নিশ্চিত করা এবং এক্ষেত্রে তাদের দায়বদ্ধতা থাকা; নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা না করার যে বৈশ্বিক রীতি রয়েছে তা কার্যকর করা অত্যাবশ্যক। রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি যৌন সহিংসতায় অনেক শিশুর জন্ম হয়েছে। সশস্ত্র সংঘাতে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি, কারাগারে আটক ব্যক্তি এবং যৌন সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের পরিবার ও সম্প্রদায়ের ভীতি মোকাবিলার বিষয়টিকে আমলে নিতে হবে; আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা নিরূপণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক যাতে অসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংস অপরাধ করেও তার দায় থেকে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের চলতি এপ্রিল মাসের সভাপতি পোল্যান্ড এই উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে। এতে সদস্য ও পর্যবেক্ষক দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ৮৫ জন প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।

জলঢাকায় রসুনের থোকায় জীবন বাঁধা লাভলু মিয়ার

নীলফামারীর জলঢাকায় রসুনের থোকায়-থোকায় জীবন বাঁধা লাভলু মিয়ার (২৮)। বাপ-দাদার এ ব্যবসা একযুগেরও বেশি সময় ধরে করে আসছেন লাভলু মিয়া। তার জীবিকার ওপর নির্ভর করে পরিবারের পাঁচ সদস্যের ভরণ-পোষণ ও সন্তানদের লেখাপড়া। অন্য কোনো কর্ম জানা না থাকায় তিনি বাবার শেখানো এ পেশার ওপর নির্ভর করছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলা চত্বরে রসুন বিক্রির সময় কথা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। আলাপচারিতায়  বেরিয়ে আসে রসুন চাষ ও বিক্রির পদ্ধতি। লাভলু মিয়া জানায়, কার্তিক-অগ্রহায়ণে রসুন রোপণ করতে হয়। চৈত্র-বৈশাখে সেই রসুন তোলা হয়। একটি থোকায় ৮০-১০০টি রসুন থাকে। একটি থোকার ওজন আড়াই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত যার মূল্য ২০০-২৪০ টাকা। পূর্বে কাঁধে করে ভার (বাউঙ্কায়) বিক্রি করতাম। এখন ভ্যানে করে বিক্রি করি। সংগ্রহ করতাম উপজেলার বিভিন্ন কৃষকের কাছ থেকে। প্রতিদিন ৪০-৫০ থোকা বিক্রি হয়। এতে আমার আয় হয় ৫ থেকে ৬শ’ টাকা। যা দিয়ে সংসার চালাই। লাভলু মিয়া উপজেলার খালিশা খুটামারার নুরুল ইসলামের ছেলে। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এবারে ১৬০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জিত হয়নি।

আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: তিন লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ২ জন ডাক্তার by এম এ সাইদ খোকন

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে উপকূলীয় অঞ্চলে হতদরিদ্র ও জেলে পরিবারগুলো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভেঙে পড়েছে বরগুনার আমতলী উপজেলার স্বাস্থ্য সেবার মান। এখানে স্বাস্থ্যসেবা বলতে হাসপাতালে আসা আর যাওয়া। ন্যূনতম সেবাও পাচ্ছে না আমতলীর মানুষ। সরকার আমতলী উপজেলার তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা চিন্তা করে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করেছিল। সরকারের সে উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও ট্রমা সেন্টারটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। তিন লক্ষাধিক মানুষের জন্য রয়েছেন মাত্র ২ জন ডাক্তার। এ অঞ্চলের অসহায়, হতদরিদ্র পরিবারগুলো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক তথ্যে জানা গেছে, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২১ জন এমবিবিএস ডাক্তারের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ১৮টি পদই শূন্য রয়েছে। বর্তমানে ২ জন ডাক্তার দিয়ে ৩ লক্ষাধিক মানুষের নামমাত্র চিকিৎসাসেবা চলছে। ফার্মাসিস্টের ২টি পদের ১টি শূন্য, মেডিকেল টেকঃল্যাবের ৩টি পদের ১টিই শূন্য, ফিজিওথেরাপি ১টি পদের ১টিই শূন্য, অফিস সহকারী-কাম টাইপিস্টের ৩টি পদের ২টিই শূন্য, জুনিয়র মেকানিকের ১টি পদের ১টিই শূন্য, কমপাউন্ডারের ১টি পদের ১টিই শূন্য, কারডিওগ্রাফারের ১টি পদের ১টিই শূন্য, ঝাড়ুদারের ৫টি পদের ১ জন প্রেষণে সিএস অফিসে ১টি শূন্য। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে উপকূলীয় অঞ্চলে হতদরিদ্র ও জেলে পরিবাররা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালটি পটুয়াখালী ও বরগুনা দুই জেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। অপরদিকে প্রসূতি রোগীরা আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলে তাদের কৌশলে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবং তাদের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে প্রাইভেট ক্লিনিকে ডেলিভারি করানো হয়। এ কাজে হাসপাতালের একটি গ্রুপ জড়িত বলে তথ্যসূত্রে জানা যায়। টয়লেট-পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবহারের অবস্থা নেই। বিদ্যুতের লো-ভেল্টেজে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কাজের নিশ্চয়তা নেই। নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। জরুরি বিভাগে টাকা দাবি করেন কর্তব্যরতরা। এতসব সমস্যা নিয়ে চলছে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম। বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের টাকায় মোমবাতি কিনে জ্বালাতে হয়। কলাপাড়া, বরগুনা-তালতলীর অসংখ্য রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। বিশেষ করে কুয়াকাটা-ঢাকা ও বরগুনা-ঢাকা ও আমতলী-ঢাকা মহাসড়কের যানবাহন দুর্ঘটনায় আহত রোগী প্রতিদিন এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলেও ডাক্তার, যন্ত্রপাতি ও ওষুধের অভাবে চিকিৎসা থেকে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী দিলরুবা আক্তার জানান, হাসপাতালের মধ্যে লাইট নষ্ট। উপজেলা স্বাস্থ্য প. প. কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, অভিযোগ সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য লোকবল দরকার।
তিন জন ডাক্তারের মধ্যে আমি প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকি দু’জন ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়গুলো যথারীতি অবহিত করবেন বলে উল্লেখ করেন। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন শাহিন খান বলেন, বরগুনা জেলায় ১৩২ জন ডাক্তারের মধ্যে ডাক্তার আছে মাত্র ১৭ জন। এব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার জানিয়েছি।

সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের মনোনয়ন না দেয়ার দাবি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জাতীয় সংখ্যালঘু  মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ ৫ দফা জাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে তিন দশক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ সব দাবি জানানো হয়। সভায় লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক  এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই সরকারকে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠন, বর্ণবৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন এবং পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের বাস্তবায়নসহ পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণসহ জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সংসদে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, কোনও রাজনৈতিক দল বা জোট আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে এমন কাউকে মনোনয়ন দেবে না যারা অতীতে বা বর্তমানে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বা রাজনৈতিক নেতৃত্বে থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী, স্বার্থবিরোধী কোনও প্রকার কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বা আছেন। রানা দাসগুপ্ত বলেন, এমন  কাউকে নির্বাচনে প্রার্থী দেয়া হলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সেসব নির্বাচনী এলাকায় তাদের ভোটদানে বিরত থাকবে বা ভোট বর্জন করবে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, নির্বাচনের পূর্বাপর ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে ধর্ম ও সামপ্রদায়িকতার ব্যবহার, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় সব উপাসনালয়কে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার, নির্বাচনী সভাগুলোতে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান বা প্রচার নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি যারা এসব করবে তাদের প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসহ এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী আইনের যুগোপযোগী সংস্কার করতে হবে।
সূচনা বক্তব্যে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত আশা প্রকাশ  করে বলেন, সংখ্যালঘু জনজীবনের যে বিদ্যমান সমস্যা, সংকট, হতাশা তা  রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক দল যথাযথভাবে বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘ভোটব্যাংক’ বা ‘আপৎ’ ভেবে যদি তাদের রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে রাখা হয় তবে তা কারো জন্যে শুভ হবে বলে মনে করি না। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, স্বস্তি চাই, জীবনের নিরাপত্তা চাই, নাগরিক হিসেবে নাগরিকের মর্যাদা চাই, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ চাই- সে লক্ষ্যে ঐক্য পরিষদের সংগ্রাম চলছে, চলবে। রানা দাসগুপ্ত বলেন, বিগত তিন দশক ধরে গণতান্ত্রিক  পন্থায় এ সংগঠন তার আন্দোলন পরিচালনা করে এসেছে। সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় এ সংগঠন যেমন রাজপথে স্লোগান তুলেছে আবার সংগ্রামের অংশ হিসেবে এ দেশের সরকার, গণতান্ত্রিক সকল রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে অব্যাহত সংলাপ চালিয়ে গেছে, যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও বিশ্বপ্রেমের যে ঐতিহ্যের ধারা আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা রেখে গেছেন সে পথেরই পথিক আমরা। তা থেকে এখনো আমরা ভ্রষ্ট হইনি, হবোও না।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি হিউবার্ট গোমেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল সেলিম, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, বাসদের (বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল) সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

সাংস্কৃতিক কূটনীতি: হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের স্বার্থে সমস্যার কথা এখানে উত্থাপন করতে চাই না

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণে শুক্রবার ঠিক দুপুরে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে সকলের মধ্যে ছিল খুশির রেশ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ ভবনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। পূর্ব নির্ধারিত সূচিমতে বৈঠকটি এক ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সেটি কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন ব্রিফিংয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বৈঠক বিষয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশনের বরাতে দাবি করা হয়েছে বৈঠকটি ‘আধঘন্টা’ স্থায়ী হয়েছে। ওই রিপোর্টে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপিকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে মোটা দাগে নিরাপত্তা ও রাজনীতির বিষয়টি ছিল। প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়Ñ যদিও আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না তারপরও বলতে পারিÑ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি নিয়ে কথা হয়েছে। সেখানে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারত একই অবস্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের বহু আকাঙ্খিত তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে সেই বৈঠকে কোন আলোচনা হয়েছে কি-না?
সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধানের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিস্তা সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর বাংলাদেশের নেতৃত্বের আস্থা থাকার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন শাহরিয়ার আলম।
উল্লেখ্য, মোদির প্রতিবেশী অগ্রাধিকার নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই ‘প্রথম’ বলে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়ে আসছে। কিন্তু গত ১১ই মে নেপাল সফরে মোদি ‘নেপাল কামিং ফার্স্ট’ বা ‘নেপাল শীর্ষ অবস্থানে চলে আসছে’ বলে উল্লেখ করেন। মোদির ওই বক্তব্যের মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি হলো। পর্যবেক্ষকরা তাকিয়ে আছেন এবার দিল্লির তরফে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিষয়ে কি বলা হয় তা দেখার জন্য। আদৌ কি নেপাল ফার্স্ট হয়ে যাচ্ছে?
বাংলাদেশ-ভারত যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে পারবে- প্রধানমন্ত্রী: এদিকে শান্তি নিকেতনে দেয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় যেকোনো সমস্যা সমাধান করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘বাংলাদেশ ভবন’র উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকতে পারে। তবে আমরা দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র একসঙ্গে এগোতে চাই। পারস্পরিক সমস্যাগুলো আমাদের একে একে সমাধান করে নিতে হবে। এসময় দুই দেশের বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক বর্তমানে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
পারস্পরিক সহযোগিতায় দুই দেশ আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত বন্ধুত্ব অপরাপর বিশ্বের জন্য ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিতে পারি যে, উভয় দেশ সহযোগিতার এই মনোভাব ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একত্রে চলতে চায় এবং এ লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যকার অনেক সমস্যার নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে আমাদের এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আমি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের স্বার্থে এখানে তা উত্থাপন করতে চাই না। অবশ্য আমি বিশ্বাস করি যে বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা যায়। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠেও একই আশাবাদের কথা শোনা যায়। মোদি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, পরস্পরের বিকাশে সহযোগিতা করছে তা অন্যদের জন্যও একটি শিক্ষা, একটি উদাহরণ। শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছেন, তা অর্জনে ভারতের ‘পূর্ণ সমর্থন’ থাকবে বলেও আশ্বাস দেন মোদি।
নির্বাচনের কয়েক মাস আগে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল শান্তি নিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ এর উদ্বোধন এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেয়া। ওই অনুষ্ঠানের সাইড লাইনে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকও হয়েছে। তবে এই সফর ঘিরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিসহ দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো গত কয়েকদিন ধরেই ঘুরে ফিরে আসছে বিভিন্ন আলোচনায়। এসব অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি সেসব আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে, কেননা তার আপত্তিতেই তিস্তা চুক্তি আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। যদিও আগের রাতেই মমতা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর তিস্তা বা কোনো রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার জন্য নয়। এটি কালচারাল এক্সচেঞ্জের সফর।
বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা হয়তো এ কারণেই বলেছেন, আমরা অনেক সমস্যার সমাধান করে ফেলেছি। কিছুটা বাকি আছে, কিন্তু  আমি সে কথা বলে আমাদের এ চমৎকার অনুষ্ঠান নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু আমি আশা করি, যেকোনো সমস্যা আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমেই সমাধান করতে পারব।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ভবন দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভবন হবে এমন একটি অনন্য কেন্দ্র যেখানে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, রবীন্দ্রনাথ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে লেখাপড়া ও গবেষণা করতে পারবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত চত্বরে বাংলাদেশ ভবন স্থাপনে তিনি অভিভূত; প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ভারতী চত্বরে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পশ্চিম বাংলা সরকার, ভারত সরকার ভারতের বন্ধুভাবাপন্ন জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরদার হবে। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে এটি ছোট এক টুকরো বাংলাদেশ, যেখান থেকে বাংলাদেশের চেতনা প্রতিপালিত হবে। রবীন্দ্রনাথের এই প্রভাব নিজস্বভাবেই অনন্য হয়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা এবং সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, কবি, গায়ক এবং শিল্পীসহ উভয় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ভবনের ব্যবস্থাপনার জন্য এককালীন ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। এ কারণে তিনি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত করেন। তিনি আরো বলেন, ঐতিহাসিককাল থেকেই বাংলাদেশ-ভারতের জনগণ সামাজিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও মানসিক বন্ধনে আবদ্ধ। তিনি এসময় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয়দের সহায়তার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। এছাড়া ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর ভারতে আশ্রয়দানের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দু’দিনের সফরে গতকালই কলকাতা যান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জোড়াসাঁকোর ‘ঠাকুর বাড়ি’ পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যায় স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শেখ হাসিনা সাহিত্যে ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণে আজ (শনিবার) আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে কলকাতায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী নেতাজি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। তিনি সেখানে নেতাজির বিছানায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবেন এবং দর্শনার্থী বইতে স্বাক্ষর করবেন। প্রধানমন্ত্রী শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, মসিউর রহমান, গওহর রিজভী, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান খান, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।
এছাড়া ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা দীপু মনি ও শেখ হেলাল উদ্দিন, অসীম কুমার উকিল, এসএম কামাল, শামসুন্নাহার চাঁপা, পারভিন জামান কল্পনা, যুবলীগ নেতা অপু উকিল রয়েছেন শান্তি নিকেতনের এই সফরে।
বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী প্রধানমন্ত্রী আরও যা বললেন-
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথ শুধু ভারতের নয়, তিনি আমাদেরও। রবীন্দ্রনাথ তার অধিকাংশ কবিতা বাংলাদেশে বসেই লিখেছিলেন। তাছাড়া ভারতের মতো বাংলাদেশেরও জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথের লেখা। তিনি বলেন, মানুষ ও প্রকৃতির মেলবন্ধন ঘটেছে এই শান্তিনিকেতনে। আর তাই এখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ ভবন। এই ভবনের ডিজাইনের মধ্যে তা সুস্পষ্ট। অনুষ্ঠানের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশ ভবনটি অপূর্ব হয়েছে। আগামী দিনে এটি একটি তীর্থস্থানে পরিণত হবে বলে মমতা আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে একটি বঙ্গবন্ধু ভবনও করতে চাই। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চান তিনি। এর আগে বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে ভাষণ দিতে গিয়ে আচার্য নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ দুটি আলাদা দেশ হলেও সহযোগিতা এই দুই দেশকে জুড়ে দিয়েছে। আর তারই উদাহরণ হলো বাংলাদেশ ভবন। তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, আমি অতিথি হিসেবে এখানে আসিনি। এসেছি আচার্য হিসেবে। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে এসে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। মোদি বলেন, গোটা বিশ্বে রবীন্দ্রনাথ নন্দিত। তিনিই প্রথম বিশ্বনাগরিক। মোদি তার দীর্ঘ ৩৫ মিনিটের ভাষণে বলেন, রবীন্দ্রনাথ গোটা বিশ্বকে আপন করে নিয়েছিলেন। আর তার সেই বিশ্বভাবনার ফসল হলো বিশ্বভারতী। মোদি তার ভাষণ শুরু করেছিলেন বাংলায়। সমাবর্তন উৎসবও ছিল ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী।
মোদির ভাষায়, এই আম্রকুঞ্জ অতীতে বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে। এদিনও বিশ্বভারতীর সমাবর্তন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে। একই মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রথম বিশ্বভারতীর কোনো সমাবর্তন মঞ্চে উপস্থিত থাকলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। ৪২ বছর আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় সমাবর্তনে উপস্থিত থাকলেও ছিলেন দর্শক আসনে। এছাড়াও মঞ্চে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী এবং বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন। সমাবর্তন শেষে মমতাকে সঙ্গে নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী পূর্বপল্লীতে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেন। এর আগে সকালে দুদিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলকাতার দমদম সুভাষ বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে ভারতের বায়ু সেনার একটি হেলিকপ্টারে তিনি শান্তিনিকেতন যান। হেলিপ্যাড থেকে শেখ হাসিনা রবীন্দ্রভবনে পৌঁছালে মোদি তাকে অভ্যর্থনা জানান।
এই সময় হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার বোন শেখ রেহানা। সেখানে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুজনই সেখানে রাখা স্মারক মন্তব্য বইতে তাদের মতামত লিপিবদ্ধ করেন। সেখান থেকে বিশ্বভারতীর প্রথা অনুযায়ী দুদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও মোদি, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরী লাল ত্রিপাঠী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়সহ সকলেই হেঁটে আম্রকুঞ্জের মূল অনুষ্ঠানস্থলে আসন গ্রহণ করেন। মঞ্চে হাসিনা ও মোদির পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। প্রথা অনুযায়ী আচার্য মোদি উপাচার্যের হাতে একটি ছাতিম পাতা তুলে দেয়ার মাধ্যমে সমাবর্তন সূচনার নির্দেশ দেন। বেদ গান ও রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে সমাবর্তনের উদ্বোধন হয়। এরপর স্বাগত ভাষণ দেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন। ভাষণ দেন অতিথি হিসেবে উপস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের একজন সন্ন্যাসী। সেই ভাষণ শেষে মোদি তার ভাষণ দেন।

যে উত্তাপ দানা বাঁধছে সিলেটে by ওয়েছ খছরু

সিলেটে লা-মাযহাবীদের বিরুদ্ধে আলটিমেটামের পাশাপাশি আন্দোলনে নেমেছেন উলামা পরিষদ। ইতিমধ্যে তারা লা-মাযহাবীদের বিরুদ্ধে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সর্বস্তরের মুসলমি জনতার সমাবেশ আহ্বান করেছে। এই সমাবেশ থেকে লা-মাযহাবীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেটের মীরের ময়দান ও কুমারপাড়া এলাকায় সম্প্রতি সময়ে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। বৃটেন থেকে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ চলছে। সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান ও মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে উলামা পরিষদ নেতারা জানিয়েছেন, তথাকথিত আহলে হাদিস নামক লা-মাযহাবীরা নগরীতে তাদের দুটি সেন্টারের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ ও ফিতনা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তারা ইসলামের প্রথম যুগ থেকে পবিত্র মক্কা ও মদিনাসহ মুসলিমবিশ্বে রমজান মাসে চলে আসা ২০ রাকাআত তারাবিহর স্থলে ৮ রাকাআত তারাবিহ আদায়ের দাওয়াত করে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে। তারা বলেন, সিলেটের সবকটি মসজিদে একই সময়ে আজান হয়ে থাকে। কিন্তু তাদের পরিচালিত দুটি সেন্টার ও মসজিদে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আজানা হয়ে থাকে বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে মাগরিবের ৫ মিনিট আগে আযান প্রদানের মাধ্যমে মুসলমানদের রোজা নষ্ট করার হীন ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। মহিলাদের পুরুষদের মসজিদে উপস্থিত করার প্রতি উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়াও ইসলামের মধ্যে আরো বেশ কিছু মীমাংসিত মাসয়ালার প্রতি মানুষের মনে বিভ্রান্তি ও ফিতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে তাদের সেন্টারগুলো। বুধবার রাতে সিলেটের বন্দরবাজার জামে মসজিদে উলামা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ঘোষিত কর্মসূচির মধ্য রয়েছে- আজ শুক্রবার লা-মাযহাবীদের ভ্রান্ত বক্তব্য সংবলিত লিফলেট বিতরণ এবং জুমার খুতবায় সিলেট নগরীর ৩৫০ মসজিদে তাদের ভ্রান্ত বক্তব্য সম্পর্কে গণসচেতনতামূলক বয়ান এবং পরদিন শনিবার বিকাল ২টায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সিলেটের সর্বস্তরের মুসলিম জনতার সমাবেশ। পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়ার সভাপতিত্বে উলামা পরিষদের ২৭ ওয়ার্ডের সর্বস্তরের সদস্যবৃন্দকে নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের উপদেষ্টা মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহিব্বুর রহমান মিঠিপুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন, পরিষদের সহসভাপতি ভার্থখলা জামেয়ার প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দীন আহমদ, সহসভাপতি মাওলানা রেজাউল করীম জলালী, বন্দরবাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান, শায়খুল হাদিস মাওলানা শরীফ উদ্দিন বসন্তপুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শামসুদ্দীন মু. ইলিয়াস, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ আল-আযাদ, মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা মুহিব্বুর রহমান মুক্তির চক মাদরাসা, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা মাহমুদ শুয়াইব, মাওলানা আবুল হোসাইন চতুলী, মাওলানা আহমদ সগীর, মাওলানা মাহমুদ হাসান, সমাজসেবী হারুন মিয়া, ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মো. হুরায়রা ইফফাত হোসেন, মো. আবিদ হাসান, অ্যাডভোকেট মো. তানভীর আখতার খান, মাওলানা সালিক আহমদ ও কাওছার মিয়া। এদিকে তৌহিদী জনতা ও উলামা পরিষদের আলটিমেটামের সময় গতকাল শেষ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সিলেটে। আর এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সিলেটে তৌহিদী জনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির নগরীর এই সিলেটকে কোনোভাবে কলুষিত করতে দেয়া যাবে না। তাই অঙ্কুরে ফিতনা সৃষ্টিকারীদের কার্যক্রম এর ব্যাপারে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ধর্মকে নিয়ে ফিতনা সৃষ্টিকারী ও ইসলামের অপব্যাখাকারীদের বিপক্ষে সিলেটের তৌহিদী জনতা সবসময় সোচ্চার তাই মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী এসব সেন্টার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় নিয়ে আসার আহবান জানান ও এসব সেন্টার পরিচালনাকারীদের টাকার উৎসস্থল তদন্ত করার আহ্বান জানান।

তিন সচিবসহ ৩৭ ভিআইপি সংরক্ষিত কোটায় প্লট পেলেন by দীন ইসলাম

সরকারের তিন সচিবসহ ৩৭ ভিআইপি ব্যক্তিকে সংরক্ষিত কোটায় ৩০টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাদেরকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, উত্তরা ও ঝিলমিল প্রকল্পে বিভিন্ন আয়তনের প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রাজউকের সর্বশেষ বোর্ড সভায় এ প্লট বরাদ্দের বিষয়টি অনুমোদন পেয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০শে এপ্রিল ৩০ জনকে প্লট বরাদ্দ দেয়ার অনুশাসন পাঠায় মন্ত্রণালয়। ওই অনুশাসনে বলা হয়, ৩৭ জন আবেদনকারীর অনুকূলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর বরাদ্দ বিধি ১৩ এ বিধি মোতাবেক প্লট বরাদ্দের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো। ৯৯ জন এমপিকে সংরক্ষিত কোটায় প্লট বরাদ্দ দেয়ার পর এ প্লট বরাদ্দ দেয়া হলো। নতুন করে বরাদ্দ দেয়া তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রত্যেকে সাড়ে সাত কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে সাড়ে সাত কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তরা হলেন- পিডিবি’র চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সফিকুর রহমান, মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস, সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন রাজুর ছেলে রাজিব আহমেদ পার্থ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এসএইচ মো. নুরুল হুদা জায়গীরদার। এছাড়া ঝিলমিল প্রকল্পে ৫ কাঠা আয়তনের প্লটপ্রাপ্তরা হলেন- সাবেক জাতীয় ফুটবলার আব্দুল গাফফার, বেগম রহিমা খাতুন ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক পরিচালক সায়ীদুল হক, প্রকৌশলী হাবিবুল আজিজ পিইঞ্জ, রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (অব.) সামসুদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মেডিকেল অফিসার ডা. সাহানা বেগম ও ডা. মো. জুলফিকার আলী। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সচিব লাহুত মিয়া, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আসলাম উদ্দিন, অফিস সহায়ক মানিক চন্দ্র শীল ও মো. মোজাফর হোসেন অর্থাৎ চার জনকে ঝিলমিল প্রকল্পে একটি পাঁচ কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এদিকে উত্তরা তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন পিইঞ্জ পাঁচ কাঠা ও ডলি ইকবাল তিন কাঠা আয়তনের প্লট পেয়েছেন। একই সঙ্গে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা, মুক্তিযোদ্ধা এ.কে.এম লতিফ খান, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক নাসিম আনোয়ার, জনপ্রশাসন মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন, শাহাব উদ্দিন চঞ্চল, ডিএফপি’র ক্যামেরাম্যান মো. ইউসুফ হোসেন ও ফটোগ্রাফার এ.বি.এম আকতারুজ্জামান প্রত্যেকে তিন কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্টুয়ার্ড আবু জেহাদ আল মামুন, প্যান্ট্রিম্যান মো. হযরত আলী এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কমার্শিয়াল অফিসার মো. হেমায়েত কবির তিনজনে একটি তিন কাঠা এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কমার্শিয়াল অফিসার আব্দুল আউয়াল, অফিস সহায়ক আব্দুল মান্নান শেখ ও প্যান্ট্রিম্যান মো. ইউনুস আলীকে আলাদাভাবে আরেকটি তিন কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৩ এ ধারায় আরো প্লট বরাদ্দ দেয়া হতে পারে। ওই প্রক্রিয়া এখন চলছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সরকার মানুষ খুন করছে

সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে এখন নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে এক প্রতিবাদী নাগরিক সভায় তিনি এ দাবি করেন। মওদুদ আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- তাদের কাছে মাদক সম্রাটদের তালিকা আছে। তাহলে এই অভিযান আগে থেকে চালিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেনি কেন? কারণ হলো এই মাদক ব্যবসায় তাদের নেতৃবৃন্দ জড়িত। সরকারের লোকজন এখান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করেছে।
তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার এত দিন নিশ্চুপ ছিল। কিন্তু এখন সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে নির্বিচারে মানুষ মারা শুরু করেছে। গত ৮ই মে থেকে ২৫শে মে পর্যন্ত ৫৮ জন মানুষ মারা গেছে। এই মানুষগুলোর কি জীবনের কোনো মূল্য নেই? আমরাও চাই মাদক নির্মূল করা হোক। মাদক ব্যবসা উচ্ছেদ হোক। কিন্তু এভাবে নির্বিচারে মানুষ হত্যা আমরা চাই না। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে যাদের হত্যা করা হচ্ছে এরা কেউ মাদকের মালিক না। এরা মাদকের বাহক। তারা বিক্রি করে টাকা মালিককেই দেয়। সেই মালিক হল এই সরকারের মদতপুষ্টরা। এভাবে মানুষ হত্যা বন্ধ করুন। মাদকের প্রকৃত হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তিনি বলেন, খুলনায় জনগণের অংশগ্রহণে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। সেখানে পুলিশি নির্বাচন হয়েছে। প্রায় ১০০ কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টরা দাঁড়াতে পারেনি। এখন আবার সরকার খুলনা স্টাইলে গাজীপুরে নির্বাচন করতে চায়। তবে তারা যদি সে চেষ্টা করে তবে এবার আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সেটা প্রতিহত করব। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাদের বাধা দেবো। নির্বাচনী আইন সংশোধন করায় ইসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সরকারের একটি তলপিবাহক প্রতিষ্ঠান। সরকার যা চাইবে তারা তাই করবে। সরকার সংসদ বহাল রেখে আগামী নির্বাচন করতে চায়।
তাই দুরভিসন্ধিমূলকভাবে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনের আচরণবিধি পরিবর্তন করেছে। এখন নতুন আইনে সংসদ সদস্যরা সকল প্রটোকল নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারবে। এর পর আর সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, সর্বোচ্চ আদালত বেগম জিয়াকে জামিন দেয়ার পর কি আর কোনো কথা থাকে? যদি তার বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলা থাকেও সেটা দুই এক দিনেই জামিন হয়ে যায়। কিন্তু নিম্ন আদালতের বিচারকরা সরকার যা চাইবে তাই করবে। খালেদা জিয়াকে অবৈধভাবে কারাগারে বন্দি রেখেছে। কিন্তু তারা জানেনা খালেদা জিয়া যদি একদিনও বেশি কারাগারে থাকেন তাহলে তার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আইন আদালত ও শান্তিপূর্ণ কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। আন্দোলন ছাড়া জনগণের কোনো দাবি কোনোদিন কোনোভাবে আদায় করা হয়নি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করারও একমাত্র পথ রাজপথ। রমজান মাসের পরে আমাদেরকে কঠোর কর্মসূচির কথা চিন্তা করতে হবে। আর সেভাবেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। আমাদের আন্দোলন গণতন্ত্রের আন্দোলন। এটি অব্যাহত থাকবে। আমরা বর্তমান অবস্থার অবসান চাই। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে সম্পূর্ণভাবে নৈরাজ্য বিরাজ করছে না। কোনো জবাবদিহিতা নেই। ভয়ংকর একটি অবস্থা।
এই অবস্থার অবসান চায় দেশের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আশা করবো প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে ফিরবেন না। আশা করি তিনি তিস্তার পানি চুক্তি বাস্তবায়ন করেই দেশে ফিরবেন। আর না হলে আমরা বলবো তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বিএনপির ভাইস- চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তিনটি উপায়ে আমরা বর্তমান এই অবৈধ সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে পারি। প্রথমত নির্বাচনের মাধ্যমে, দ্বিতীয়ত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং তৃতীয়ত একেবারে ধর্মীয়ভাবে আমরা আল্লাহর কাছে সরকারের অনাচারের বিচার চাইবো, তিনি যদি তাদেরকে সরিয়ে দেন। আসুন আমরা নিজেদের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখি। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারকে উৎখাত করি।
আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদী নাগরিক সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

কাঁচাবাজারের তেজিভাব কমে এসেছে

রমজান শুরুর এক সপ্তাহ পর রাজধানীর সবজিসহ ভোগ্যপণ্য বাজারের তেজিভাব কমে এসেছে। বেগুনের উত্তাপ কমে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৬০-৭০ টাকায়। রোজা শুরুর আগে  বেগুন কিনতে ভোক্তাকে ৮০-১০০ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। বেগুনের পাশাপাশি গেল সপ্তাহে দাম কমেছে শসা, গাজার, টমেটো, কাঁচামরিচসহ প্রায় সব সবজির। এছাড়া খেজুর, ছোলা, মুড়ি, চিনি, ডাল ও ভোজ্য তেলের দাম বাড়েনি। তবে সব ধরনের মাছ ও মাংসের দাম চড়া। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। রোজার শুরুতেই পিয়াজের দাম একটু বাড়লেও এখন স্থিতিশীল রয়েছে। জাত ও মানভেদে ৩৫-৫০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পিয়াজ বাজার ও মান ভেদে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা (ভারতীয়) পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশি পিয়াজের কেজি ছিল ৫০-৬০ টাকা এবং ভারতীয় পিয়াজের দাম ছিল ৩৫-৪৫ টাকা কেজি।
কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, বাজারে এখন পিয়াজের দাম অনেক কম। আমদানি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় আপাতত পিয়াজের দাম আর বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এদিকে পিয়াজের পাশাপাশি রাজধানীর বাজারগুলোতে কমেছে সবজির দামও। রোজার শুরুতে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শসা ও গাজা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেগুন, চিচিংগা, করলা, পটোল, ঢেঁড়স, বরবটিসহ প্রায় সকল সবজি। গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া চিচিংগার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। বেগুনের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৬০-৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা। ৮০ টাকায় ওঠে যাওয়া পেঁপের দামও কমে এসেছে। বাজার ভেদে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া পটোল, বরবটি, ঢেঁড়সে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০-৬০ টাকা। গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া করলার দাম কমে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কাঁকরল এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। রোজার প্রথম দিকে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বাড়লেও তা কমে এসেছে। গত সপ্তাহে ১৫-২০ টাকা পোয়ায় (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম এখন ১০-১৫ টাকা।
টিসিবির তথ্যমতে, প্রতিকেজি ছোলা ৬৫-৮০, অ্যাংকর ডাল ৪৫-৫৫, মুগডাল ৯০-১৫০, ডাল নেপালি ১০০-১১০, ডাল দেশি ৯০-১০০, ডাল তুরস্ক কানাডা মোটা দানা ৫৫-৬৫, ডাল তুরস্ক-কানাডা মাঝারি মানের ৭০-৮০, ভোজ্য তেল খোলা প্রতিলিটার ৮৫-৮৮, বোতল পাঁচ লিটার ৪৮৫-৫২৫, পামওয়েল লুজ ৭০-৭২, পামওয়েল সুপার ৭৩-৭৫ টাকা ও চিনি ৫৮-৬২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
বাজারে বর্তমানে চীনা রসুন ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়ে যা ১০৫ টাকায় গিয়ে ঠেকে। সে হিসেবে পণ্যটির দাম কমেছে অন্তত ৪০ টাকা। আর দেশি রসুন মান ভেদে ৪৪, ৫০ ও ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে দাম কম ছিলো ছোলা, মসুর ডাল ও চিনির। বর্তমানে ছোলা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ছোলার দাম কমেছে অন্তত ৫ টাকা। বিক্রেতা মনোয়ার হোসেন বলেন, তীরের এক বস্তার ছোলার দাম এখন ৩ হাজার ২৫০ টাকা। আগে যা ৩ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, খুচরা বাজারে এই ছোলা এখন ৭০ থেকে ৭২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যা কয়েকদিন আগেও ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মায়ের দোয়া স্টোরের কর্মচারী বাবলু বলেন, ২টাকা কমে চিনি এখন ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুরের ডাল ৫ টাকা কমে ৮৫ টাকা ও ভারতীয় মসুরের ডাল ৫৫ টাকা কেজিতে বেচাকেনা হচ্ছে।
কাপ্তান বাজারের জামশেদ স্টোরের কর্মকর্তা আবদুল গনি মিয়া বলেন, রোজা শুরুর আগে যেসব ছোলা, খেজুর, ডাল ও চিনি আনা হয়েছে তা এখনও বিক্রি করা হচ্ছে। রোজার শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে এসব পণ্যের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। এরপর চাহিদা কমতে থাকে। বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি ও মজুদ থাকায় ছোলা, চিনি, খেজুর, ভোজ্য তেল ও ডালের দাম বাড়ার কোন সুযোগ নেই।
এদিকে রমজান উপলক্ষে সিটি করপোরেশন থেকে গরু ও মহিষের মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা মানছেন না রাজধানীর অধিকাংশ মাংস ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে আগের মতই ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করছেন তারা। রমজান উপলক্ষে এ বছর সিটি করপোরেশন থেকে দেশি গরুর মাংস ৪৫০ টাকা, বিদেশি গরুর মাংস ৪২০ টাকা, মহিষের মাংস ৪২০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রতিকেজি ৭২০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তবে মাংস ব্যবসায়ীরা রোজার শুরু থেকেই সিটি করপোরেশনের এ নির্ধারিত মূল্য তালিকা মানছেন না।
বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি করছেন ৪৫০ টাকায়। এছাড়া গরুর কলিজা বিক্রি করছেন ৫০০ টাকা কেজি। আবার কেউ কেউ গরুর মাংস বিক্রি করেছেন ৪৮০ টাকায়। অথচ দোকানে গরুর মাংসের দাম ৪৫০ টাকা লেখা রয়েছে। প্রতিকেজি খাসি ৭৫০-৮০০ এবং প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫৫-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। এ ছাড়া পাকিস্তানি ও ককটেল মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিজোড়া ৫০০ টাকা পর্যন্ত। গরুর মাংসের দাম বাড়ানো হয়েছে সিন্ডিকেট করে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাংস বিক্রেতারা বলছেন, রোজা সামনে রেখে আগেই আস্ত গরু ও খাসির দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি করা যাচ্ছে না। তবে গাবতলীর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ ও হাসিল ধার্যের হার কমানো হলে মাংসের দাম কমে আসবে।
রোজা শুরুর আগে থেকে চড়া মাছের বাজার। বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের দেশি ও সামুদ্রিক মাছ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে মাছের দাম। প্রতিকেজি রুই মাছ ২৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। আকার ও সাইজভেদে প্রতিকেজি চিংড়ি ৬০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের একটি ইলিশ কিনতে ভোক্তাকে খরচ করতে হচ্ছে ১২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা।

ধামরাইয়ে নিষেধাজ্ঞা মানছে না ইটভাটার মালিকরা

ধামরাইয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেজ্ঞা মানছে ইটভাটার মালিকরা। তারা অতি লাভের জন্য ফসলি জমি ও বসতবাড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে গড়ে তুলছে ভাটা। এতে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি জনমানুষও রক্ষা পাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন গাছের ফল।
ধামরাইয়ের গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ জালসা নির্মাণাধীণ মা ব্রিকস ফিল্ডের অবস্থানগত ছাড়পত্র জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর বাতিল করলেও তারা তা তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গড়ে তুলছে ভাটা। এমনিভাবে ধামরাইয়ে এবছরও প্রায় অর্ধশতাধিক নতুন ভাটা তৈরি হয়েছে। এখন এখানে মোট ভাটা প্রায় ৩০০। জানা গেছে, ধামরাইয়ের বিভিন্ন ইউনয়নে নতুন-পুরাতন মিলে প্রায় ৩০০ ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার অনেকের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন আইনি জটিলতা। তবু স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা অনিয়মকে নিয়ম করে দিনের পর দিন ইট পুড়িয়ে যাচ্ছে। যার একটি ভাটা সে লাভের কারনে গড়ে তুলছে কয়েকটি ভাটা। বাদ দিচ্ছে না ফসলি জমি। হানিফ আলী নামে এক ব্যক্তি কয়েক বছর আগে ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের জালসা গ্রামে এমবিএম স্টার নামে একটি ইটভাটা নির্মাণ করে ইট পুড়িয়ে আসছে। লাভের কারনে এ বছর আবার ওই ভাটার পাশেই তিনি ও নুর হোসেন নামে দুই ব্যক্তি যৌথভাবে বসতবাড়ি সংলগ্ন তিন ফসলি জমিতে ‘মা’ ব্রিকস নামে আরও একটি নতুন ইটভাটা নির্মাণ কাজ শুরু করে। এতে ফসলের ক্ষতির আশংকায় স্থানীয় কৃষকরা ইটভাটা নির্মাণে কয়েক দফায় বাধা দিলেও তারা থামছে না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে কোনো উপায় না পেয়ে গত ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২৫, ২৭ মার্চ ও ৪ঠা এপ্রিল স্থানীয় কৃষকরা গণস্বাক্ষর দিয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর গত ১৯শে এপ্রিল ঢাকা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল হাই এক চিঠি দিয়ে নির্মাণাধীন ‘মা’ ব্রিকসের নামে দেয়া অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করেন এবং ইটভাটা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপরও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করেই ইটভাটা নির্মাণ কাজ চলছেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সরকারি অনুষ্ঠানে এসব ইটভাটা থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে থাকেন। তাই তিনি নিজেও ইটভাটার এসব অন্যায় কাজে চোখ বুঝে থাকেন। কৃষকরা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালামের কাছে অভিযোগ দিয়ে আমরা আরও বিপদে পড়েছি। তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা ঘটনাস্থলেও একটু এসেও দেখলেন না যে আমাদের মুখের আহার কেড়ে নিচ্ছে কারা। এসময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।  এ বিষয়ে নির্মাণাধীন ইটভাটার ম্যানেজার সবুর উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র বাতিল করলেও আমাদের কোন আসে যায়না। ইটভাটা নির্মাণ আমরা করবোই। এতে কেউ বাধা দিয়ে দমিয়ে রাখতে পারবে না। ঢাকা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল হাই বলেন, নিয়ম না মেনে ও এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ধামরাইয়ের দক্ষিণ জালসা গ্রামে নির্মাণাধীন ‘মা’ ব্রিকসের অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ইটভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটা নির্মাণ কাজ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।