Saturday, April 25, 2015

‘নির্বাচন কমিশন বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে’ -বিবিসি সংলাপে আলোচকরা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর হামলার দায় সরকার এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের আলোচকরা। একইসঙ্গে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একদিন পর সেটা পরিবর্তনের ফলে নির্বাচন কমিশন বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা। শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর কে স্কোয়ার মিলনায়তনে আয়োজিত বিবিসি সংলাপে এসব কথা বলেন আলোচকরা। সংলাপে অতিথি হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আইরিন হাসান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রওশন সোমা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিবিসির সাংবাদিক আকবর হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই এক দর্শন প্রশ্ন করেনÑ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর হামলার দায় কি সরকার এড়াতে পারে? এর জবাবে রওশন সোমা বলেন, আমাকে যেমন নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের তেমনি খালেদা জিয়ারও নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। তবে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় বেরিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন কিনা সেটাও দেখতে হবে। এ বিষয়ে আইরিন সুলতানা বলেন, সরকার কোনভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না। তিনি সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তাকে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। এই প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, গত তিন মাসের আন্দোলনে পেট্রল বোমা দিয়ে খালেদা জিয়া সারা দেশে ১৭০ জন লোককে হত্যা করেছেন। বহু মানুষকে আহত করেছেন। তিনি জঙ্গি নেত্রী। খালেদা জিয়া এখন আতঙ্কের নাম। একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মহল্লায় ডাকাত পড়লে  তাদের আক্রমণকে প্রতিহত করার অধিকার যেমন মহল্লাবাসীর রয়েছে ঠিক তেমনি খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা রক্ষীর গুলির প্রেক্ষিতে কাওরান বাজারে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি ও গাড়িতে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। এসময় এক দর্শক বলেন, এই হামলার দৃশ্য টেলিভিশনে যারা দেখেছে তাদের ৯০ ভাগ লোক ন্যক্কারজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। পেট্রল বোমা হামলার বিচার তোর আর ইটপাটকেল নিক্ষেপ হতে পারে না। এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, খালেদা জিয়ার ওপর আক্রমণের পর সারা দেশের মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। তারা এখন নিজের বাড়িতেও নিরাপদ বোধ করছে না। খালেদা জিয়ার কি হয়-এনিয়েও তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের ওপর যেদিন হামলার ঘটনা ঘটে সেদিন সকালে তার বাড়ি থেকে প্রটোকলের পুলিশ প্রত্যাহার করা হয়। পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগের ছেলেরা তার হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে হাসান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা যেমন প্রয়োজন তেমনি সারা দেশের সাধারণ মানুষেরও নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। এসময় হাসান মাহমুদের উদ্দেশে এক দর্শক প্রশ্ন রাখেন- সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা যেখানে সরকার দিতে পারে না সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেবে কিভাবে। একদিন পর নির্বাচন কমিশনের সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রশ্ন করলে হাসান মাহমুদ বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। এখানে সরকারের কোন ভূমিকা নেই। তবে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একদিন পর সেটা পরিবর্তনের ফলে নির্বাচন কমিশন বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে বলে মত দেন অন্য আলোচক ও দর্শকরা।

শত বছরের সেই সব ভয়াল ভূমিকম্প

নেপালের কাঠমান্ডুতে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত একটি বাড়ি থেকে
এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
নেপালে আজ শনিবার দুপুরে যে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ৭ দশমিক ৯। ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বে যতগুলো ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে এটি সেগুলোর মধ্যে একটি।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের সরবরাহ করা উপাত্ত থেকে জানা গেছে গত ৮০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে নেপালে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প।
ওই উপাত্তের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া গত এক শ বছরে সংঘটিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পগুলো সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। সেগুলো হলোঃ
৩১ জানুয়ারি, ১৯০৬: ইকুয়েডরের উপকূলীয় অঞ্চলে ৮ দশমিক ৮ ভূমিকম্পে সুনামি হয়। ওই ঘটনায় দেশটিতে কমপক্ষে ৫০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
১১ নভেম্বর, ১৯২২: চিলি ও আর্জেন্টিনার সীমান্তবর্তী এলাকায় ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে চিলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩: রাশিয়ার কামচাটকায় ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পের ঘটনায় সুনামির সৃষ্টি হয়।
১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৮: ইন্দোনেশিয়ার বান্দা সাগরের কাছে ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে ছোট আকারের সুনামির সৃষ্টি হয়।
১৫ আগস্ট, ১৯৫০: তিব্বতে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ওই অঞ্চলে কমপক্ষে ৭৮০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
৪ নভেম্বর, ১৯৫২: রাশিয়ার কামচাটকায় ৯ দশমিক ০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে হাওয়াই দ্বীপে ৩০ ফুট উঁচু ঢেউয়ের সুনামি আছড়ে পড়ে।
৯ মার্চ, ১৯৫৭: আলাস্কার একটি দ্বীপে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সুনামির সৃষ্টি হয়। এই সুনামির সময় ৫২ ফুট উঁচু ঢেউ উপকূলে আঘাত হানতে থাকে।
২২ মে,১৯৬০: চিলির দক্ষিণাঞ্চলে ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সুনামির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কমপক্ষে এক হাজার ৭১৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।
১৩ অক্টোবর, ১৯৬৩: রাশিয়ার কুড়িল দ্বীপে ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সুনামির সৃষ্টি হয়।
২৮ মার্চ, ১৯৬৪: আলাস্কার প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ডে ৯ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ১৩১ জন নিহত হয়। এই ভূমিকম্পের ঘটনায় সুনামির সৃষ্টি হয়। এতে প্রাণ হারান ১২৮ জন।
৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫: আলাস্কার র‍্যাট দ্বীপে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সুনামির সৃষ্টি হয়। যা ৩৫ ফুট উঁচু ঢেউ দিয়ে আঘাত হানতে থাকে।
২৬ ডিসেম্বর, ২০০৪: ইন্দোনেশিয়ায় ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে ভারত মহাসাগরে সুনামির সৃষ্টি হয়। এতে বিভিন্ন দেশের প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। প্রাণহানির দিক থেকে বিশ্বে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
২৮ মার্চ, ২০০৫: ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ সুমাত্রায় ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় এক হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়।
১২ সেপ্টেম্বর, ২০০৭: ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অন্তত ২৫ জনের প্রাণহানি হয়।
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১০: চিলিতে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সুনামির সৃষ্টি হলে ৫২৪ জন মানুষ নিহত হয়।
১১ মার্চ, ২০১১: জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।
১১ এপ্রিল, ২০১২: ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সুমাত্রার পশ্চিম উপকূলে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সুনামির সৃষ্টি হয়।

ভোটের আগে উত্তপ্ত ভোটের হাওয়া- পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে

একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে নির্বাচনী পরিবেশ। এই পরিবেশ হতে হয় উৎসবমুখর, ভয়-ভীতিহীন ও সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ। দুই ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
অরাজনৈতিক স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে রাজনীতিই সব সময়ে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, এবারের তিন সিটি নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত থাকলে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেই ভোটাররা ভোট দিতে আসেন। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ভোটারদের যথাযথ উপস্থিতির বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের তিন সিটি নির্বাচনের ঘোষণা এক অসহনীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে আপাতত মুক্তি এবং দেশে একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা সেই সুযোগকে যেমন নষ্ট করছে, তেমনি নির্বাচনী পরিবেশের ওপরও প্রভাব ফেলছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হামলা বন্ধে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। আক্রমণকারীরা চিহ্নিত হওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তাদের বিরুদ্ধে। ফলে ভোটের হাওয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
নির্বাচনের সময় এমনিতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত কার্যক্রমের প্রয়োজন হয় এবং কখনো ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সেনাবাহিনী নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়। এবারের সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সে দাবি ওঠে এবং নির্বাচন কমিশনও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে এক ধরনের স্বস্তিও আসে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইসি সিদ্ধান্ত বদলায়।
তাই নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে। এ অবস্থায় ইসির উচিত আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনা মোতায়েন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। প্রথম চিঠি বাতিল করে তারা দ্বিতীয় চিঠি লিখতে পারলে দ্বিতীয় চিঠি বাতিল করে তৃতীয় চিঠি লিখতে পারবে না কেন?

গণমাধ্যমের সংবাদ বিভ্রান্তিকর -সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে ইসির ব্যখ্যা

সেনা মোতায়েন নিয়ে গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেনাবাহিনী যেখানেই অবস্থান করুক তারা সবসময় প্রস্তুত থাকবে। তাদের কার্যকারিতা সমান পর্যায়ে থাকবে। আজ সন্ধ্যায় ইসির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি করা হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া তিন সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অধিকাংশ প্রার্থী সেনা মোতায়েনের পক্ষে। এ প্রেক্ষিতে গত ২১শে এপ্রিল ভোটগ্রহণের দুইদিন আগ থেকে পরদিন পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়া হয়। এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ বরাবর চিঠি দেয়া হয়। পরদিন চিঠি সংশোধন করে সেনাবাহিনীকে সেনানিবাসে রাখার সিদ্ধান্ত জানায় ইসি। ইসির ভূমিকা নির্বাচনের আগে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে।
ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যেহেতু শুধুমাত্র ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং সেনানিবাস শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, সেহেতু সেখান হতে মিরপুর বা উত্তরা যাওয়া যেমন সহজ তেমনি দক্ষিণে যাওয়াও সহজ। তাই সুবিধার জন্য ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে অবস্থান করলেও কমিশন কর্তৃক মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীর ইউনিটসমূহ সম্পূর্ণ প্রস্তুুত অবস্থায় থাকবে, যেভাবে সেনানিবাসের বাইরে বিভিন্ন স্টেডিয়াম কিংবা অন্যান্য অস্থায়ী ক্যাম্পে থেকে থাকে। এতে করে ডাক পরলে তাৎক্ষণিকভাবে তারা মুভ করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী অস্থায়ী ক্যাম্পেই থাকুক আর সেনানিবাসেই থাকুক তাদের মুভমেন্ট সময় একই থাকবে এবং তাতে করে তাদের কার্যকারিতাও সমান পর্যায়েই থাকবে। এছাড়া ভোটগ্রহণের দিন বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে ফলে রাস্তায় যানজট থাকবে না।  তাই খুব দ্রুতই সেনাবহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে।

ভূমিকম্প: নেপালে নিহত ৮৭৬, ভারতে ২০

ভূমিকম্পে দারাহারা টাওয়ার ধসে পড়েছে
নেপালে আজ শনিবার দুপুরে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে ৮৭৬ জন নিহত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫২৪ জনই মারা গেছে রাজধানী কাঠমান্ডুতে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। এ ছাড়া ভূমিকম্পে ভারতে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৭৫৮ বলে জানান।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ৭ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী এ ভূমিকম্প আজ দুপুরে নেপালে আঘাত হানে। গত ৮১ বছরের মধ্যে এটাই নেপালের ভয়াবহতম ভূমিকম্প।
এ দিকে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, ভূমিকম্পের কারণে হিমালয়ের বরফ ধসে এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে আটজন নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জ্ঞানেন্দ্র শ্রেষ্ঠ জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক ও শেরপারা রয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানেও জোরালোভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে।
নেপালের কাঠমাণ্ডুতে আজ শনিবার ৭ দশমিক ৯ তীব্রতার ভূমিকম্পে দারাহারা টাওয়ার ধসে পড়েছে। উদ্ধারকাজে লেগে পড়েছে উদ্ধারকারীরা। ছবি: এএফপি
টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতে ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন নিহত হয়েছে বিহারে।
নেপালে আজ শনিবার ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত লোকজন ভবন থেকে বের হয়ে বাইরের খোলা স্থানে জড়ো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতে, উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ৯। নেপালের পোখারা থেকে ৮০ কিলোমিটার পূর্বে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। ছবি: রয়টার্স
নয়াদিল্লিসহ ভারতের পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও সিকিমেও এ কম্পন অনুভূত হয়। দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নেপালের কাঠমাণ্ডুতে আজ শনিবার ৭ দশমিক ৯ তীব্রতার ভূমিকম্পে দারাহারা টাওয়ার ধসে পড়ে। উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন উদ্ধারকারীরা। ছবি: এএফপি
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে ৮১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। এর গভীরতা ছিল ১৫ কিলোমিটার। তীব্রতা ৭ দশমিক ৯।
কাঠমাণ্ডুর কাছে ললিতপুরে ভূমিকম্পে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে খোলা স্থানে আনা হয়। ছবি: এএফপি
ভূমিকম্পে কাঠমান্ডু ও পোখারায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাঠমান্ডুর প্রসিদ্ধ দারাহারা ভবনটি ধসে পড়েছে। ভবনের ধ্বংসস্তূপে অন্তত ৫০ জন আটকা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর নেপালের কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হয় আতঙ্কিত যাত্রীরা। ছবি: রয়টার্স
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে খবরে জানানো হয়, ভূমিকম্প ৩০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এতে কাঠমান্ডুতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ঐতিহাসিক ভবন ধসে গেছে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।

ফুল আর অশ্রুতে নিহতদের স্মরণ by হাফিজ উদ্দিন

সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজার ধসের দুই বছর পার হয়ে গেল। ভয়াবহ এ ঘটনায় হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী নিহত হন। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ছিন্নভিন্ন হয়েছে অসংখ্য পরিবার। দুই বছর পরও এখনও থামছে না স্বজনদের কান্না। কেউ কেউ দেশ-বিদেশের সহযোগিতা পেলেও দুই বছরেও এখনও  ক্ষতিপূরণ পায়নি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। গতকাল সাভারের সেই রানা প্লাজার ধসের স্থানটি লোকারণ্য হয়েছিল। নিহত শ্রমিক পরিবারের সদস্য, আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে এক সমাবেশে বলা হয়, ভবন ধসের দুই বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে ক্ষতিপূরণ পাননি। তাদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানানো হয়। সাধারণ শ্রমিকদেরও মুখেও ছিল একই কথা।
গতকাল সরজমিনে ধসে যাওয়া রানা প্লাজায় গিয়ে দেখা যায়, দিনের শুরুতেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং আহত শ্রমিক ও  নিহত, নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা নিহত শ্রমিকদের স্মরণে রানা প্লাজার সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদেন করেন। এসময় নিখোঁজ নিহত শ্রমিকের স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। পরে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, শিল্প পুলিশের পরিচালক, ফায়ার সার্ভিস, রানা প্লাজা শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয় কেন্দ্র, বাংলাদেশ শ্রম অধিকার ফোরাম, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গামের্ন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, রানা প্লাজা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর থেকে শ’ শ’ আহত নিহত নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনেরা রানা প্লাজার সামনে এসে জড়ো হতে থাকে। এ সময় ভবন ধসের সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলো। এছাড়া নিহত শ্রমিকদের স্বরণে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গামের্ন্টস শ্রমিক ফেডারেশন আলোকচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেন।
বিকালে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে রানা প্লাজা ধসে নিহত, আহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের মাঝে সারা জীবনের আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ ও আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা ও ভবন মালিক সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সমাবেশ করে তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খঁন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, আজম খানসহ আরও অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ধসের দুই বছর হলো। তবুও এখন পর্যন্ত ভবন ধসের সঙ্গে জড়িতদের বিচার করেনি সরকার। আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে জড়িতদের অনেকেই পার পেয়ে গেছে। এছাড়া অনেকেই জামিন নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। অবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেন তারা।
বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমাবেশ: সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ধ্বংসস্তূপের সামনে সমাবেশ করেছে। সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সমন্বয়ক তাসলিমা আখতার বলেন, ভবনধসের দুই বছর পার হলেও নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই ক্ষতিপূরু পাইনি। এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা অনেকে জামিনে আছেন। তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। রানা প্লাজা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, এ ভবন ধসের ঘটনা নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, শ্রমিকেরা গণতন্ত্রের ভিত্তি। অথচ এ দেশে তারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হন। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে রানা প্লাজার শ্রমিকদের জন্য কোনও অর্থ নেই- এ ধরনের বক্তব্য শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয় বলেও তিনি জানান। নিখোঁজ শ্রমিক স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিহত ও আহত শ্রমিকদের কথা সবাই বলছে, সাহায্য দিচ্ছে। কিন্তু নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সহায়তায় এখনও কেউ এগিয়ে আসেনি, কেউ তাদের খোঁজও নেয় না।

তৃতীয় মাত্রার ‘ভোটে’ জয়ী তাবিথ

চ্যানেল আই’র মধ্যরাতের জনপ্রিয় টক শো তৃতীয় মাত্রা। যে অনুষ্ঠানে দর্শকদের সুযোগ থাকে অতিথিদের পক্ষ-বিপক্ষে ভোট দানের। জিল্লুর রহমানের উপস্থাপনায় গতরাতের তৃতীয় মাত্রা’য় অংশ নেন ঢাকা উত্তরের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। দুই প্রার্থীই ঢাকাকে নিয়ে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। জানান, কেন তারা জনগনের ভোট পাওয়ার দাবিদার। অনুষ্ঠানে দর্শকদের ভোটে জয়ী হয়েছেন তাবিথ আউয়াল। তিনি পেয়েছেন, ৬৩ ভাগ ভোট। অন্যদিকে, আনিসুল হক ভোট পেয়েছেন, ৩৬ ভাগ। ১ ভোটার দুই জনের কাউকেই সমর্থন দেননি। উপস্থাপক জিল্লুর রহমান অবশ্য বলেছেন, তৃতীয় মাত্রায় ঢাকা উত্তরের বাইরের মানুষও ভোট দিতে পেরেছেন। তাই এটিকে শেষ অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তবে এটি শেষ মূহর্তে প্রার্থীদের কৌশল নির্ধারণে সাহায্য করবে।

নেপালে ভূমিকম্পে নিহত দেড় শতাধিক, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নেপালের পোখারা শহরে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ খবর দেয়া হয়েছে। ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন বহু মানুষ। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানার আধা ঘণ্টা পর ৬ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস ও অনলাইন হিন্দুস্তান টাইমস। মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, নেপালের রাজধানী কাঠমা-ুর কাছে পোখারা শহরের ৮০ কিলোমিটার বা ৫০ মাইল পূর্বে ছিল ভূমিকম্পটির কেন্দ্র। ভূ-পৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎস। পোখারায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস চত্বরে একটি পুরাতন ভবন ধসে পড়লে, এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। ওই ব্যক্তি নেপালের নাগরিক ছিলেন বলে জানা গেছে। নেপালের রাজপ্রাসাদের চারপাশের ঘেরা দেয়াল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভবন ধসে পড়েছে ভয়াবহ মাত্রার এ ভূমিকম্পে। নেপালের রাজধানী কাঠমা-ু থেকে ভারত, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানেও জোরালো ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কাঠমা-ুর পুরনো এলাকাগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। কাঠমা-ুতে ৯ তলা একটি ভবন ধসে পড়েছে। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোন তথ্য প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মকর্তারা এখনও পরিস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন। এদিকে টুইটার, ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়া ভবনসমূহের বহু ছবি আপলোড করা হয়েছে। বহু রাস্তাঘাট ফেটে বেশ কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। লামজুং অঞ্চলে টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ভূমিকম্পে দুই জনের মৃত্যু, হেলে পড়েছে বহু ভবন

সাভারের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ভূমিকম্পের আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তবে নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এতে আহত হয়েছেন শতাধিক শ্রমিক। আহত ২০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অপরদিকে পাবনায় ভূ-কম্পনের সময় আতঙ্কে পাবনা সরকারি গামা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা ও পাবনা পৌর মহিলা লীগের সম্পাদক রোকেয়া বেগম ইতি (৬৫) মারা গেছেন। এদিকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় স্কুলে তাড়াহুড়ায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সারাদেশে বহু বভন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে সাত তলা গার্মেন্ট ভবন হেলে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রাজধানীর বঙ্গবাজার এবং যাত্রাবাড়িতেও দুটি আবাসিক ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাসনিক ভবন ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে বড় ধরণের ফাটল ধরেছে। বরিশালে মহিলা কলেজে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে হুড়াহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্প আতঙ্কে সাভারের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন শতাধিক শ্রমিক। আজ ঢাকাসহ সারা দেশে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। শনিবার বেলা ১২টা ১১ মিনিট ২৭ সেকেন্ডে ঢাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। এরপর কিছুক্ষণ ধরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। নেপালের লামজুংয়ের ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় বলে ইউএসজিএস জানিয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে।

ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগের সুযোগ করে দিন: ইইউ

বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রামে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র গতকাল একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন। ভোটাররা যাতে স্বাধীনভাবে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার (ভোটোর অধিকার) প্রয়োগ করতে পারেন, সে ধরনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে। নিচে বিবৃতিটি তুলে ধরা হলো:- ঢাকা ও চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচনে ভোটের আগে এমন কোন কর্মকা- যা বাংলাদেশে আরও সহিংসতা উস্কে দিতে পারে, তা থেকে অবশ্যই সব পক্ষকে বিরত থাকতে হবে। গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে আমরা শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনুকূল পরিবেশ তৈরির ব্যাপারে পদক্ষেপ আশা করছি। ভোটারদের অবশ্যই স্বাধীনভাবে তাদের গণতান্ত্রিক পছন্দ বেছে নেয়ার (ভোট প্রয়োগ) সুযোগ করে দিতে হবে। বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নে সব রাজনৈতিক পক্ষের উচিত সহিংসতা অবসানে, উত্তেজনা প্রশমনে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং গঠনমূলক আচরণ করা।

সাতসকালে প্রচারে তাবিথ by মাহবুবুল হক ভূঁইয়া

উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি বস্তি ও কলোনিতে আজ
সকালে প্রচার চালান তাবিথ আউয়াল। ছবি: মাহবুবুল হক ভূঁইয়া
উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি বস্তি ও কলোনিতে আজ সকালে
প্রচার চালান তাবিথ আউয়াল। ছবি: মাহবুবুল হক ভূঁইয়া
ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল আজ শনিবার সাতসকালে উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি বস্তি ও কলোনিতে প্রচার চালিয়েছেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাসে করে উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরের সোনালী ব্যাংক স্টাফ কলেজ-সংলগ্ন ৮ নম্বর বস্তিতে যান এই মেয়র পদপ্রার্থী। বস্তির ঘরে ঘরে গিয়ে বাস মার্কায় ভোট চান তাবিথ।  এর পর সেখান থেকে তাবিথ রেললাইন-সংলগ্ন সেলিমের বস্তিতে যান। আশপাশের ছোট ছোট কয়েকটি কলোনিতেও প্রচার চালান তিনি।
আজ সকালে নির্বাচনী প্রচার চালানোর একপর্যায়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাবিথ বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে আমাদের শঙ্কা আছে। সর্বশেষ সেনা মোতায়েন নিয়ে যে টালবাহানা করা হলো, সেটি আমাদের শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে আমরা জনগণের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছি। জনগণ আমাদের চাচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত আমরা নির্বাচনের মাঠে লড়াই চালিয়ে যাব।’  নির্বাচিত না হলে ফলাফল মেনে নেবেন কি না-সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ফলাফল যা-ই হোক, মেনে নেব।’

পা ধরানোর পর আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন সেই অধ্যাপক

পা ধরানোর পর আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোনতাজ উদ্দীন। তার চেয়ে ৫ বছরের জুনিয়র কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার  (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামের পা ধরে ক্ষমা চাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না অধ্যাপক মোনতাজ উদ্দীন। তিনি এ লাঞ্ছনার হাত থেকে রক্ষা পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি জানান, তিনি যখন আত্মহত্যা করতে যান সে সময় তার একমাত্র শিশুকন্যার মুখটি বারবার ভেসে ওঠে। শিশুটি বাবা বলে আর ডাকতে পারবে না। না তিনি আর আত্মহত্যা করতে পারলে না। তিনি তার মেয়ের মুখে বাবা ডাকটি আবার শুনতে চান। এর পরে তিনি বিষয়টি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতাদের কাছে অবহিত করেন।
এদিকে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানতে পেরে ফুঁসে ওঠেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজে ছুটে যান বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতাসহ সাধারণ শিক্ষকরা। বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন অব্যাহত রাখেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ছাত্রসমাজ (জেপি), উদীচীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন। শিক্ষক নেতারা শিক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করলে জুনিয়র হয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাকে পা ধরতে বাধ্য করার ঘটনায় পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একটি কমিটি, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড এবং পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া ঘটনা খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ।
উল্লেখ্য, ৯ই এপ্রিল এইচএসসি ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষা চলাকালে বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে অধ্যক্ষের কক্ষে অধ্যক্ষ ও ইউএনও মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদারের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে শিক্ষক মোনতাজ উদ্দীনকে ম্যাজিস্ট্রেটের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করান।

হিলারির বিরুদ্ধে রিপাবলিকানের নতুন বই ক্লিনটন ক্যাশ

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন মার্কিন সাবেক ফার্স্ট লেডি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। এরই মধ্যে তাকে পেছনে ফেলার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা। তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে ফেলেছেন তুরুপের একটি তাসও। বেশ হঠাৎ করেই হিলারি ক্লিনটন ও তার স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আবারও দেশজুড়ে প্রবল বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড়ে পড়তে যাচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছেÑ খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন বই প্রকাশ হতে যাচ্ছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে বিবিধ অভিযোগের তীর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। বইটি প্রকাশের পেছনে রিপাবলিকানদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অত্যন্ত প্রকট বলেও জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘ক্লিনটন ক্যাশ’ নামের বইটিতে এসব অভিযোগ মূলত ক্লিনটনের আমলে বিদেশী দাতাদের কাছ থেকে গৃহীত অনুদান দিয়ে গঠিত তহবিলের বিষয়ে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নজরের তোপে পড়া বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তিশালী ও মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র রাশিয়ার দাতাদের সঙ্গে ক্লিনটনের সংশ্লিষ্টতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে বইটিতে। বইটি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ পিটার শুইজার। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বক্তব্যলেখক ছিলেন এবং রক্ষণশীল রাজনীতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে রুশ দাতারা কীভাবে পানির মতো টাকা ঢেলেছেন, সেটাই চিত্রায়িত হয়েছে বইটিতে। এর ফলে ডেমোক্রেট রাজনীতিবিদ হিলারি ক্লিনটনের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থিতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

আর্মেনীয় গণহত্যার শতবর্ষ উদযাপন

২৪ এপ্রিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়ে সারা বিশ্বে স্বজনদের গণহত্যার শতবর্ষ পূর্তির দিনটি পালন করছে আর্মেনীয়রা। শুক্রবার দেশটিতে স্মরণানুষ্ঠানের পাশাপাশি হাজার হাজার লোক শোভাযাত্রা সহকারে রাজধানী ইয়েরেভানের উপকণ্ঠে স্থাপিত একটি স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করার কথা রয়েছে। পরে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদেশী নেতাদের মধ্যে রাশিয়া ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোমান তুর্কিদের হাতে বহু আর্মেনীয় নিহত হয়। আর্মেনীয়রা একে গণহত্যা আখ্যায়িত করলেও তুরস্ক এ ব্যাপারে বরাবর তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে। কয়েক শতাব্দীর পারস্য ও বাইজানটাইনের শাসনের পরে ১৯ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ রুশ ও তুর্কি অটোমান সাম্রাজ্যে বাস করছিল আর্মেনীয়রা। অটোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ১৭ থেকে ২৩ লাখ আর্মেনীয় বাস করত। ১৯ শতকের শেষের দিকে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে অটোমান কর্তৃপক্ষ আনুগত্যের প্রশ্নে আর্মেনীয়দের সন্দেহের চোখে দেখতে থাকে। অটোমান শাসক সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের রাজত্বকালে এক থেকে তিন লাখ আর্মেনীয়কে হত্যা করা হয়। ১৯১৪ সালে জার্মানি ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের পক্ষ নিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয় তুর্কি অটোমান সাম্রাজ্য।
যুদ্ধ চলাকালে অটোমান কর্তৃপক্ষ আর্মেনীয়দের ‘ঘরের শত্র“’ বলে প্রচারণা চালাতে থাকে। ১৯১৫ সালের ২৪ এপ্রিল অটোমান সরকারের শত্র“ বলে সন্দেহে আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের কয়েকশ’ নেতা ও বুদ্ধিজীবীকে কনস্টান্টিনোপলে (বর্তমান ইস্তাম্বুল) বন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের বেশির ভাগকেই হত্যা ও নির্বাসিত করা হয়। আর্মেনীয়রা এই ২৪ এপ্রিল দিনটিকেই গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ‘গণহত্যা’ বলছে জার্মানিও : একশ’ বছর আগে তুর্কি অটোমান শাসকদের নৃশংসতায় প্রায় ১৫ লাখ আর্মেনীয় হত্যার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলছে জার্মান সরকারও। জার্মানির পার্লামেন্ট শুক্রবার বিস্ময়কর এক ভোটে আর্মেনীয় হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে একটি প্রস্তাবনা অনুমোদন করেছে। এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক বিবাদে জড়ানোর ঝুঁকিতে পড়ল দেশটি।

খালেদার গাড়িবহরে হামলাকারীরা সবাই ছাত্রলীগের- অস্ত্রধারীর নাম সালেহ

সালেহ আহমেদ
বাংলামোটর এলাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলাকারীরা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও শাহবাগ থানা শাখার নেতা-কর্মী। হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ যে যুবককে দেখা গেছে, তিনিও ছাত্রলীগের নেতা, তাঁকে এর আগে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, অস্ত্রধারী ব্যক্তির নাম সালেহ আহমেদ ওরফে হৃদয়। তিনি ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত হওয়া কমিটির (ফুয়াদ হাসান-সাকিব হাসানের কমিটি) সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে ওই কমিটি স্থগিত হওয়ার আগেই সালেহ আহমেদকে বিশৃঙ্খলার দায়ে বহিষ্কার করা হয়।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানায়, ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করার পর থেকে সালেহ আহমেদ নিষ্ক্রিয় ছিলেন। গত বুধবারের হামলায় হঠাৎ করে তাঁকে দেখা গেছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর এক ছাত্র হত্যার জের ধরে ওই কমিটি স্থগিত করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
গত বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িতে হামলা করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এতে খালেদা জিয়ার গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মীদের (সিএসএফ) কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র স্বীকার করেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি মামুনুর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, মাহমুদুল হাসান ওরফে টিটো, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাকিব হাসান প্রমুখ হামলার সময় ওই এলাকায় ছিলেন এবং তাঁরাসহ আরও অনেকে সরাসরি ওই হামলায় অংশ নেন। এ সময় এক যুবককে কোমরে অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়। গতকাল বিভিন্ন দৈনিকে এ ছবি প্রকাশিত হয়। তবে ছাত্রলীগ নেতার প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাপারে গতকাল রাত পর্যন্ত পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
জানতে চাইলে রমনা বিভাগের উপকমিশনার আবদুল বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছে, থানা-পুলিশ তদন্ত করছে। কেউ বেআইনি কিছু করে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবারের হামলার ঘটনার পর শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মো. বাবু হাসান বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে অবশ্য বলা হয়, তাঁরা নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর তাঁদের চাপা দেয়। এতে শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির কোতওয়াল, শাহবাগ থানাধীন ২০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন শেখ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সদস্য মো. আল মিরাজ আহত হন।
ওই দিন ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এলোপাতাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর দ্রুতগতিতে সামনের দিকে চলে যাওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় দুজন আহত হন। তাঁরা হলেন জাকির কোতওয়াল ও লিটন শেখ।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ প্রথম আলোকে বলেন, অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের কেউ হামলা করেছে—এমন তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তিনি দাবি করেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কালো পতাকা কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মী ও নেতা-কর্মীরা হামলা ও গুলি চালিয়েছে। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য এ ধরনের সহিংসতা চালানো হচ্ছে। এসব না করে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনকে আগে বার্ন ইউনিটে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

হিলারি : কেউ বলছেন নানিমা কারও মুখে তরতাজা বুড়ি

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় নানামুখী আক্রমণের শিকার হচ্ছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এবার বয়স নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। যেন বয়সটাই তার বাধা! ৬৭ বছর বয়সী এই নারীকে বিরোধীরা ‘নানিমা’ বলে ডাকা শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের নেতৃত্ব দিতে শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। কেননা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলা যায় ২৪ ঘণ্টাই ব্যস্ত থাকতে হয়। ফ্লোরিডার সিনেটর ৪৩ বছর বয়সী মার্কো রুবিও হিলারিকে ‘অতীতের নেতা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে রাজনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ হিলারিকে ‘তরতাজা বুড়ি’ বলে অভিহিত করছেন। হিলারি ক্লিনটনের জীবনীগ্রন্থ ‘হিলারিস চয়েজ’ প্রণেতা গেইল শিহি নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজে এ সংক্রান্ত এক নিবন্ধে বলেছেন, লিঙ্গবৈষম্যের পর এবার বয়স বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন হিলারি।
শিহির মতে, এখন বয়স আলোচনার বিষয় নয়, প্রাসঙ্গিক হচ্ছে তার সক্ষমতা (এনার্জি)। হিলারির স্মার্ট চলাফেরায় তাকে বয়স্ক নারী হিসেবে মনেও করেন না উল্লেখযোগ্য আমেরিকানরা। পিউ রিসার্চের এক জরিপে জানা গেছে, ৬৯ শতাংশ আমেরিকান মনে করে হিলারির বয়স চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ দশকের ঘরে। হিলারির নারী সমর্থকরা বিরোধীদের ‘নানিমা’ সম্বোধনকে ময়লা ছোড়াছুড়ি ও নোংরা আক্রমণ বলে মনে করছেন। বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি দিলে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ৬০ বছর বয়সে সমগ্র ইউরোপের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি নির্বাচিত পৃথিবীর ২২টি দেশের নারী রাষ্ট্রপ্রধানের বয়স ৬০-এর ঘরে। এখন হিলারির বয়স নিয়ে এই বিদ্রুপ হলেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান ৭৩ বছর বয়সে ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে সেবার আলোচনায় আসেনি তার বয়স। তবে কি নারী বলেই হিলারির ‘সক্ষমতা’র প্রশ্ন উঠছে? তবে কি যুক্তরাষ্ট্র এখনও লিঙ্গবৈষম্য থেকে বের হতে পারেনি?

ঘোর by আফসানা বেগম

‘আচ্ছা, দেখা হলে কি তুমি এখনো বলতে পারবে, আমার পকেটে কী আছে?’
চ্যাটবক্সে মেসেজটা আসতেই নড়েচড়ে বসে নাবিলা। দশ বছর পরেও কি এটা তার বলতে পারা উচিত? সেসব অনেক পুরোনো ঘটনা। যেদিন দেখা হতো, পুলক আগে থেকেই জায়গামতো এসে পকেটে হাত ঢুকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। নাবিলাকে হারিয়ে দেবে—এমন গর্বের হাসির মধ্যে জানতে চাইত, ‘বলো তো আমার পকেটে কী? ’ নাবিলা চোখ বন্ধ করে শুরু করত। একেক দিন একেক রকম কিছু এনে তাকে পরীক্ষা করত পুলক। সে-ও বলে যেত গড়গড় করে, এই যেমন, ‘ডান পকেটে ওয়ালেট, দুটো চুইংগাম, একটা কাগজ, ছাপানো মনে হয়।’ সেদিন পুলক বাম পকেটের কথা না তুলে ডান পকেটে কাগজের খোঁজে হাতড়াতে গিয়ে পকেটটাই উল্টে বের করে এনেছিল। শেষে কোঁকড়ানো, প্রিন্ট ঝাপসা হয়ে যাওয়া কাগজটা পেল। প্রাইভেট টিউশনির বিজ্ঞাপন; রাস্তায় হয়তো কেউ ধরিয়ে দিয়েছিল, অন্যমনস্কভাবে সে পকেটে চালান করেছে, তারপর সেটাসহ প্যান্ট ধোয়া হয়ে গেছে। মোচড়ানো, দলাপাকানো কাগজটার অস্তিত্বের কথা পুলক নিজেও জানত না। তখন নাবিলা পারত ঠিকই, কিন্তু এখন চেষ্টা করলেই কি আর বলতে পারবে? চেয়ারে শরীরটা ছেড়ে দেয় সে, ঘাড় পেছনে এলিয়ে চোখ বন্ধ করে ভাবে, চেষ্টা করতে দোষ কী!
কতবার উদ্ভট নাম আর ছবিওলা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এসেছে ফেসবুকে, অ্যাকসেপ্ট করার মানেই হয় না, এমন। কখনো কাউকে আবার একটু বাজিয়ে দেখতেও ইচ্ছে হয়েছে নাবিলার। ‘বিবাহিত ব্যাচেলর’কে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আপনি বিবাহিত নাকি ব্যাচেলর?’ কোনো উত্তর নেই, প্রশ্ন বেশি ব্যক্তিগত হয়ে গেছে হয়তো, নাকি এ নিয়ে নাবিলাকে জানাতে ভরসা পায়নি! ‘আমিই মুনিয়া’কে বলেছিল, ‘এত জোর দিয়ে বলার কী দরকার পড়েছিল যে আপনিই মুনিয়া?’ সঙ্গে সঙ্গে ব্লক, কে জানে কোন গভীর বিশ্বাসে আঘাত পেয়েছিল মুনিয়া। কিন্তু পুলক যখন ‘রাস্তার ছেলে’ নামে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিল, সে অ্যাকসেপ্ট করেছে। তার মানে পুলকের ব্যাপারে তার ইনটুইশন এখনো কাজ করে? পকেটের ফিরিস্তি শোনা শেষ হলে পুলক জিনিসগুলো লাইন করে রাখত, হেসে বলত, ‘আমার নিজস্ব জাদুকর তুমি। তুমিই আমার গোপন ম্যাজিক।’ ‘কাউকে বলো না যেন!’
‘মাথা খারাপ! বলব কেন? লোকজনের লাইন লেগে যাবে না?’
চেয়ারে হেলানো মাথা ওঠায় নাবিলা। ম্যাজিকের চেষ্টাটা করেই দেখা যাক। মনিটরে তাকিয়ে দেখে, তিনটা মেসেজ চলে এসেছে এর মধ্যে। ‘কী হলো, নাবিলা?’ ‘বলবে না?’ ‘ট্রাই করো প্লিজ।’
ছোট নিশ্বাস ফেলে নাবিলা শুরু করে।
‘এখনো অনেক কফি খাও, বাটির মতো বিশাল কফির কাপটা তোমার ঠোঁটে।’
‘মাই গড, তোমার ক্ষমতা তো আরও বেড়েছে!’
‘তুমি ব্যস্ত একটা ঘরে, মানুষ কাগজপত্র নিয়ে হাঁটাচলা করছে।’
‘ইউ আর রাইট, আমি নিউজরুমে কাজ করি।’
‘বাঙ্গির মতো এমন কমলাটে-গোলাপি কাপড় তো তুমি আগে পরতে না!’
‘আজকাল পরি। তারপর? থেমো না, চালিয়ে যাও।’
‘আচ্ছা, তুমি কি এখনো আমাকে ভালোবাসো, পুলক?’
‘বাসি তো। বলো না আর কী দেখতে পাচ্ছ?’
‘এখন আর বলতে ভালো লাগছে না।’
নাবিলা অফলাইন হয়ে যায়। সে ভেবেছিল পুলক মুছে গেছে তার মন থেকে। কত কিছু মেলেনি দুজনের, সেসব নিয়ে জীবন পার করা যেত না, ছাড়াছাড়ি হতোই, আগে আর পরে। তবে এখন নাবিলা নিজের ওপরে বিরক্ত, ঘুরেফিরে একই সম্পর্কের মধ্যে জড়াবে কেন? রাগে ফেসবুক লগআউট করতে গিয়ে মনে হয় ছোট্ট একটা পরীক্ষা করা যাক। বহুদিনের ফেসবুক বন্ধু রিপনের সঙ্গে চ্যাটিং শুরু করে সে। দশ-পনেরো মিনিট নানান কথা বলে, চোখ বন্ধ করে মাথার ওপরে জোর দিয়েও রিপনের আশপাশের কিছুই দেখতে পায় না; ভাবে এমনিই কিছু আন্দাজ ছুড়ে দেওয়া যাক।
‘নীল শার্টে আজ তোমাকে দারুণ মানিয়েছে।’
‘মানে? আমি তো পরে আছি সাদা টি-শার্ট।’
‘তাই? ভাবলাম পরেছ তোমার প্রিয় রং, নীল। বাদ দাও, ভরদুপুরে কই যাও?’
‘যাই মানে? আজ তো বেরোইনি।’
হতাশ হয়ে ফেসবুক বন্ধ করে নাবিলা। কপালে তালু রেখে চুলের ভেতরে আঙুল ঢোকায়, অফিসের টেবিলে কনুই ঠেকিয়ে ভাবে, পুলকের ভূত তার মাথা থেকে নামে না কেন? সব শেষ হয়ে গিয়েছিল, তারপর আরও দুজন এল-গেল, অথচ পুলক...এই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টটা অ্যাকসেপ্ট করাই উচিত হয়নি। বাড়ি ফিরেও বিরক্তিটা যায় না, তবে পুলককে ব্লক করতেও মন সায় দেয় না। নাবিলা এমনটা শুনেছিল বটে, ফেসবুক পুরোনো প্রেমিক-প্রেমিকাদের মিলিয়ে দিচ্ছে, জীবনের গতিপথ যাচ্ছে বদলে। কিন্তু পুলকের কথা সে কখনোই ভোলেনি, স্বপ্নেও তাকে দেখত প্রায়। এই তো কদিন আগেও, কোথায় কোন রাস্তার ধারে দুজনে দাঁড়িয়ে, নাবিলা একটা খাদে পড়ে গেল, অনেক কষ্টে উঠে এসে পুলককে বলল, ‘আচ্ছা, তুমি আমাকে ধাক্কা দিয়েছিলে?’ নির্দোষ মুখে বলল পুলক, ‘কী বলো, আমি কেন ধাক্কা দিতে যাব তোমাকে?’ তারপর কথা না বাড়িয়ে নাবিলার জামাকাপড়ের ধুলো ঝেড়ে দিল পুলক। ঘুম ভাঙলে নাবিলার কেন যেন মনে হয়েছিল, খাদ থেকে উঠে এইমাত্র সোজা হয়ে দাঁড়াল সে। কিন্তু যাই হোক, এখন শান্ত ছিমছাম জীবনে পুলকের ফিরে আসা এক যন্ত্রণা। পুলক তো নিশ্চয় বিয়ে করে সংসারী হয়ে গেছে, বিয়ে নিয়ে এখনো কিছু ভাবেনি নাবিলা, বাবা-মা চলে গেছে বিদেশে, ভাইয়ের কাছে। নাবিলা একা, বাড়ি আর চাকরির ব্যস্ততা নিয়ে বেশ আছে।
‘নাবিলা, কথা বলছ না কেন?’
ফোন হাতে আয়েশ করে বিছানায় আধশোয়া হয়ে ছিল নাবিলা। পুলকের সাতটা মেসেজ, শেষেরটা দেখা যাচ্ছে। কেন যেন কৌতূহলী আঙুলটা চলে যায় সেখানে। আর মেসেজ আসা শুরু হয় তখনই।
‘নাবু, প্লিজ আর হারিয়ে যেয়ো না। টেনশন হচ্ছে; ফোন নম্বরটা দাও অন্তত।’
‘কেন বলো তো, কেন আবার? ’
‘কী করব বলো, তোমাকে ভুলতে পারি না। প্রথম প্রেম...!’
প্রেম তো নাবিলারও সে-ই প্রথম; তবে প্রথম হোক বা শেষ, ওসব হালকা সেন্টিমেন্টে সে পাত্তা দেয় না। শুধু একটা জিনিস বিস্ময়ের, কেন সে পুলকের মুখের ওপরে ইনবক্সের দরজা ধড়াম করে আটকে দিতে পারছে না!
‘আমাকে অ্যাভয়েড করছ, নাবিলা?’
‘আজকাল শেভ করো না প্রতিদিন?’
‘দেখতে পাচ্ছ! হ্যাঁ, আজ শেভ করা হয়নি। রিয়েল এস্টেটের অফিসে থাকতে প্রতিদিন ক্লিন শেভ, এমনকি টাই পরারও অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। আর এখন পত্রিকা অফিসে এসে যেমন খুশি তেমন সাজো।’
‘মোটাও হয়েছ মনে হয়।’
‘আসো না একদিন কোথাও, দেখা হোক।’
‘কী দরকার খামোখা? ’
‘তোমার জন্য খামোখাই, দেখতে যে পাচ্ছ আমাকে। কিন্তু আমি তো আর তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না।’
নাবিলা বেরিয়ে যায় ফেসবুক থেকে। যখন চেয়েছিল পুলক আসুক, দিনরাত তাকে দেখুক, তখন তার পাত্তা পাওয়া যায়নি। আর এখন শুরু হয়েছে নতুন তামাশা। তবে এবারে মনে হয় নাছোড়বান্দা, ফেসবুক খুললেই মেসেজ।
‘দেখতেই তো পাচ্ছ, নাবিলা, পাগলের মতো তোমার মেসেজের অপেক্ষায় ফেসবুক খুলে বসে আছি।’
‘পাশে বাটিতে মুড়ি তো নরম হয়ে যাচ্ছে, খেয়ে ফেল তাড়াতাড়ি।’
চামচে ভরে মুড়ি মুখে দিয়ে পুলক লেখে, ‘ইউ আর অ্যামেইজিং! মিলি, আমার বউ, দারুণ মুড়ি মাখায়, সামান্য কাসুন্দি দেয়, বুঝলে?’
‘খুব ভালোবাসো বউকে, না?’
‘বাসি তো।’
তারপর আরও কত যে কথা চলতে থাকে। কথার পিঠে কথার মালা, মালায় হাজারটা

চট্টগ্রামে হামলা হুমকি, ভাঙচুর by কাজী সুমন ও জাহিদ হাসান

দুদিন পরেই প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচিত হবেন দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক এই শহরের নগরপিতা। কিন্তু শহরের সর্বত্রই বিরাজ করছে আতঙ্ক। প্রতিদিনই হামলা হচ্ছে বিরোধী প্রার্থীদের প্রচারণায়। ভাঙচুর করা হচ্ছে গণসংযোগের গাড়ি। ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে প্রচারণার মাইক। গত কয়েক দিনে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন দুজন। আহত হয়েছেন অনেকে। এছাড়া বহিরাগত ক্যাডারদের আনাগোনাও দেখা যাচ্ছে নগরীতে। এতে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে পৌঁছা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে। সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ২৪ ঘণ্টা পরই নির্বাচন কমিশনের ইউটার্নে তাদের এই শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহতভাবে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের গণসংযোগে হামলা চালানো হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার নগরীর বায়েজিদ এলাকায় মনজুর আলমের গণসংযোগে ব্যবহৃত ট্রাকে এক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন হাতিমার্কার সমর্থক হামলা চালায়। এ সময় তারা ট্রাক ভাঙচুর ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে চালক, মাইকম্যানসহ কর্মীদের মারধর করা হয়। পরে তারা মাইক ব্যাটারিসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। এছাড়া ওই রাতেই বাকলিয়া ডিসি রোড এলাকায় মনজুর আলমের নির্বাচনী গণসংযোগের পর সন্ত্রাসী ফরিদ বাহিনীর প্রধান ফরিদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে কালাম কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। তারা এলাকার শান্তিপ্রিয় লোকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। এর আগে ১১ই এপ্রিল শেরশাহ এলাকার ব্রিকফিল্ড রোডে সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের ওপর হামলা চালিয়ে নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে। ওই ঘটনায় আহত হন ১০ থেকে ১২ জন। ২১শে এপ্রিল পলিটেকনিক এলাকায় গণসংযোগকালে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় গাড়ি, হ্যান্ডমাইক, লিফলেট ও ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। ওদিকে ১৬ই এপ্রিল রাতে টাইগার পাস এলাকার মালিপাড়ায় আওয়ামী লীগের দুই কাউন্সিলর প্রার্থী শহীদুল ইসলাম শামীম ও এসআই কবির দ্বন্দ্বে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী মো. সাদ্দাম। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এর ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই নগরীর বাকলিয়ার মিয়াখান নগর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী নাছির উদ্দিনকে। দক্ষিণ বাকলিয়ার ১৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা নির্বাচনের দিন আমাদের ভোট দিতে পারব কি নাÑ এই নিয়ে শঙ্কিত। কারণ স্থানীয় প্রভাবশালী প্রার্থীরা কেন্দ্র দখলের নানা কৌশল করছেন। বস্তিগুলোর ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে যেতে না পারে সেজন্য পথেই বাধা দেয়া হবে শোনা যাচ্ছে। তবে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করলে আমরা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারতাম।  নগরীর হালিশহর এলাকার ২৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভোটার নজরুল ইসলাম বলেন, এখন এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হলেও ভোটের দিন গ-গোলের আশঙ্কা রয়েছে। তাই  ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত।  চকবাজার এলাকার ১৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার নিরাপত্তা চাই। শোনা যাচ্ছেÑ যারা সিদুর-শাঁখা পরে আসবেন তাদের জামাই আদরে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। আর যারা বোরকা পরে আসবেন তাদের জামায়াত-শিবির বলে তাড়িয়ে দেয়া হবে। দক্ষিণ বাকলিয়া এলাকার ১৯ নং ওয়ার্ডের  বাসিন্দা মো. ইউনূস মিয়া বলেন, যারা সাধারণ ভোটার তাদের সবার মধ্যে একটা ভয়ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু সুষ্ঠু ভোট হলে আসল চিত্র দেখা যাবে। একটি উদাহরণ দিয়ে ক্ষুদ্র এই ব্যবসায়ী বলেন, গ্রামে বৃষ্টি হলে ক্ষেতের আলু যেমন বেরিয়ে আসে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তেমন প্রকৃত জনপ্রতিনিধি বিজয়ী হয়ে আসবেন। পাহাড়তলী এলাকার ১৩ নং ওয়ার্ডের খাদিজা বেগম বলেন, আমরা নিরাপদে ভোট দিতেই চাই। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা এই দাবি জানাচ্ছি। তবে যেভাবে চারদিকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে তাতে সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছি। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটির ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী মনজুর আলম বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমার গণসংযোগে ব্যবহৃত গাড়িটি হাতি মার্কার সমর্থকরা ভাঙচুর করেছে। প্রচারণার মাইক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত পাড়া-মহল্লায় আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। তার ওপর সরকারের চাপে নির্বাচন কমিশন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তাই অবিলম্বে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি। সাধারণ ভোটারদের ভোটদানে নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, আমার বিরোধী প্রার্থী মনজু সাহেব (মনজুর আলম) ভোটারদের নানা উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে তাদের বিভ্রান্ত করছেন। আমি আশা করবোÑ এই ব্যাপারে কমিশন ব্যবস্থা নেবে। এবার নির্বাচনে প্রবীণ, বৃদ্ধদের পাশাপাশি নতুন ভোটারদের দেখা যাবে বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে পরিবেশ আমার অনুকূলে রয়েছে। ৪১টি ওয়ার্ডে আমার সব নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। তবে কেন্দ্র দখলের কোন ধরনের ষড়যন্ত্র হলে তা সাধারণ ভোটাররা তা প্রতিহত করবে। এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা জরুরি। সুষ্ঠু ভোট হলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল বাতেন মানবজমিনকে বলেন,  ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামের নির্বাচনের পরিবেশ ভাল। তুলনামূলক সহিংসতার ঘটনাও কম ঘটছে। প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।  এই পর্যন্ত ৭০টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে এসেছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে সবগুলো ঘটনার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আমাদের নির্দেশনা প্রশাসনও বাস্তবায়ন করেছে। ভোটের দিন প্রভাবশালী প্রার্থীদের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরও রয়েছেন। তারা কেউ কাউকে ছাড় দেবেন না। তবে আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ মোতায়েন থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী প্রস্তুত থাকবে। তিনি বলেন, আমরা ৫৯১টি  ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা করেছি। এই কেন্দ্রগুলোতে আলাদা নজর দেয়া হবে। সাধারণ কেন্দ্রগুলোর চেয়ে ওই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। এছাড়া ভোটারদের আসা-যাওয়ার পথে ও স্পর্শকাতর জায়গায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে।

পোশাকশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অনেক লক্ষ্য অর্জন বাকি

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর বাংলাদেশের তৈরী পোশাকশিল্পে বেশ কিছু অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক লক্ষ্য অর্জন বাকি। ভয়াবহ ওই ভবন ধসের ২য় বর্ষপূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে একথা বলেছে। এতে, হতাহতদের প্রতি সমবেদনা বার্তা জানানোর পাশাপাশি শ্রমিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি একাধিক আহ্বান জানানো হয়েছে। রানা প্লাজা ভবন ধসের পর গত দুবছরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগ ও অগ্রগতির বিষয়গুলো উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাস্টেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট ফর বাংলাদেশ’ এর লক্ষ্য অর্জন করার জন্য উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরী পোশাক খাতে শ্রমিক অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওই সাস্টেইনেবিলিটি কমপ্যাক্টের ঘোষণা দেয়। ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আইএলও’র সঙ্গে নিবিড় পরামর্শ বজায় রেখে বাংলাদেশ সরকারের শ্রম আইন সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা, তৈরী পোশাক শিল্পের সকল কারখানার নিরাপত্তা পরিদর্শন সম্পন্ন করা এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে স্বচ্ছ ও সময়োচিত উপায়ে নিবন্ধিত করার প্রচেষ্টাগুলোকে আমরা উৎসাহ ও সমর্থন জানাই। আর কালক্ষেপণ না করে আন্তর্জাতিক শ্রম মানদ-ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বাংলাদেশ শ্রম আইনের বিধিগুলো বাস্তবায়ন করতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। এ ছাড়াও, যৌথ বিবৃতিতে ইকনোমিক প্রসেসিং জোনের ওপর আইন পাস করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেখানে শ্রমিকরা জোনের বাইরের শ্রমিকদের যথোপযুক্ত অধিকার নিশ্চিত থাকবে। গত দুবছরে অগ্রগতির প্রসঙ্গে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার অ্যাসোসিয়েশনের স্বাধীনতা, যৌথ দরকষাকষি এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু দিক জোরদার করতে শ্রমিক আইন সংশোধন করেছে। সরকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন পরিদর্শক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেয়া, অগ্নি ও নির্মাণগত নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং কারখানা নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে পোস্ট করার কাজগুলো শুরু করেছে। শ্রমিকদের উদ্বেগ জানানোর জন্য স্থাপন করেছে একটি হটলাইন। আর ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে আনুমানিক ৩০০টি নতুন ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন করেছে। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে গৃহীত অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স উদ্যোগ দুটির অগ্রগতির প্রশংসা করেছে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র। পক্ষান্তরে, অনৈতিক শ্রম চর্চা, সহিংসতা, ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনাগুলোতে বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে উল্লেখ করেছে তারা। শ্রমিকরা অধিকার চর্চা করতে না পারলে আর তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ও উদ্বেগ তুলে ধরার জন্য একত্র হতে না পারলে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও শ্রম অধিকার দুর্বল ও অস্থায়ী থাকবে। বিবৃতির শেষে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি দৃঢ় ও টেকসই/স্থায়ী। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীল উন্নয়ন যেন শ্রমিক নিরাপত্তা ও অধিকারের সঙ্গে একযোগে উন্নয়ন হয় তা নিশ্চিত করতে আইএলও’র ওতোপ্রোত সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা অব্যাহত রাখবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র।
বিবৃতি স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তারা হলেনÑ ফ্রেডেরিকা মঘারিনি (ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট), সেসিলিয়া ম্যালমস্ট্রম (ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্য বিষয়ক কমিশনার), নেভেন মিমিকা (আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক ইইউ কমিশনার), মেরিয়্যান থাইসেন (নিয়োগ, কর্ম দক্ষতা, লেবার মোবিলিটি ও সামাজিক বিষয়ক ইইউ কমিশনার), জন কেরি (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী), মাইকেল বি.জি. ফ্রোম্যান (মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি), আলফোনসো ই. লেনহারডট (ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক) এবং থমাস ই. পেরেজ (মার্কিন শ্রমমন্ত্রী)।

চাপে ভোটাররা by শামীমুল হক, সাজেদুল হক ও সিরাজুস সালেকিন

ঘনিয়ে আসছে ভোট। বাড়ছে আতঙ্ক। শঙ্কা ভোটারদের মধ্যে। ভোট দিতে পারবেন কিনা- এ নিয়ে চিন্তিত তারা। আলামত অবশ্য ভাল নয়। ইতিমধ্যে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। হুমকি দেয়া হচ্ছে নিষেধ অমান্য করে কেন্দ্রে গেলে ভয়াবহ পরিণতির কথা। গতকাল মিরপুর দারুস সালাম থানা এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ন্যাশনাল আইডি কার্ড চেয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন। বাড়িওয়ালাদের এ ব্যাপারে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্ক ভোটারদের মাঝে। বাড়িওয়ালারা ঘরে ঘরে গিয়ে ভাড়াটিয়াদের কালকের মধ্যে ভোটার আইডি কার্ড দিতে বলেছে। মিরপুর-১ নম্বরের জহুরাবাদ এলাকার ভোটার নাসরিন বলেন, তারা বলে গেছে ভোটার আইডি কার্ড দিলেই হবে। ভোট দিতে যেতে হবে না। নির্বাচনের পরদিন ভোটার আইডি কার্ড ফেরত দেবে বলে জানিয়ে গেছে। এ অবস্থায় আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। বশির নামের একজন বাড়িওয়ালা বলেন, নানা কথা চারদিকে। নানা গুঞ্জন। ভোট কেন্দ্রে গেলে তাদের ভোট দিতে হবে। এমন কথা বলে গেছে এক প্রার্থীর লোকজন। ভোটার আইডি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বাড়ির সবার কার্ড আমার কাছ থেকে নেবে বলে জানিয়ে গেছে তারা। আমি সবাইকে বলে দিয়েছি। নির্বাচন নিয়ে কি যে হয় ভেবে পাচ্ছি না। তিনি বলেন, ভয় আর আতঙ্কে দিন কাটছে এখন। আগামী ২৮শে এপ্রিল নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটবে না। এখানে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করছেন মুজিব মাসুম সারোয়ার। তার প্রতীক ফুলের ঝুড়ি। আওয়ামী লীগের আরও দুই জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেনÑ আবুল কোম্পানী ও সেলিম খান। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ খান ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। কিন্তু মাসুদ খান এলাকায় প্রচারণায় নামতে পারছেন না। তার পক্ষে তার স্ত্রী এলাকায় ভোট চাইছেন। শুধু মিরপুর নয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মহল্লায় মহল্লায় এখন চলছে নানা কসরত। ঘরে ঘরে গিয়ে নিজেদের প্রার্থীকে ভোট দিতে নানাভাবে হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে। আতঙ্ক ভর করছে ভোটারদের মনে। মাঠের এ আতঙ্ক এখন ভোট গ্রহণ কর্তাদের মনেও বাসা বেঁধেছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস মহানগর নাট্যমঞ্চে অনেকেই এসেছেন তাদের নাম নির্বাচনী ডিউটি থেকে প্রত্যাহার করতে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার (মহিলা) নিজ হাতে আবেদন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের সামনে। রিটার্নিং অফিসার মিহির সারোয়ার দপ্তরে না থাকায় তিনি অপেক্ষা করছেন। জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে তিনি চাকরি করেন। তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে ভয় পাচ্ছেন। বলেন, যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে অব্যাহত হামলা হচ্ছে, সেখানে কিভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আমরা কেন্দ্রের ভেতরে থেকে কিভাবে দায়িত্ব পালন করবো। তার চেয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি অনেক ভাল। রিটার্নিং অফিসার বরাবর আবেদন করে আজই নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চাই। মিরহাজীরবাগ এলাকার ষাটোর্ধ্ব ভোটার নজরুল ইসলাম বলেন, এরশাদ জামানায় ভোট এলে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত সর্বত্র। এখন আবার সেই এরশাদ জামানার গন্ধ পাচ্ছি। পৃথিবী যেখানে আগায়, আমরা সেখানে দিন দিন পিছে হটছি। এ থেকে কি কোনভাবেই আমাদের রেহাই দেবেন না রাজনীতিকরা। ঢাকা দক্ষিণ ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাইদুর রহমান বলেন, নির্বাচনী ময়দানে এখন গুমোটভাব বিরাজ করছে। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক। এ আতঙ্ক আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই ছড়িয়ে দিচ্ছে। নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। দক্ষিণের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হাজী ইমরানুল ইসলাম ওয়াহিদ বলেন, সরকার সমর্থক নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার মুখে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছি না। আমার সমর্থকরাও বাইরে বেরুতে পারছে না। এ অবস্থায় ওয়ার্ডজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঢাকা উত্তর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী রাকিব আহসান গুম হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাকে ভয়ে ভয়ে প্রচারণা চালাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাক্সক্ষীরা সাবধানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তার প্রতীক ঘুড়ি। তিনি বলেন, কয়েকবার গুম করে দেয়ার হুমকি পেয়েছি। আমার লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এই ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলামও আতঙ্কে রয়েছেন। তার প্রতীক লাটিম। তিনি বলেন, সরকার সমর্থক প্রার্থীর লোকজন আমাকে হুমকি দিচ্ছে। এখানকার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইসহাক মিয়াও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনেছেন। এ অবস্থায় দিন যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী ময়দান তত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্কও। গতকাল যাত্রাবাড়ী পূবালী এলাকার গৃহবধূ হাজেরা বেগম বলেন, দিন দিন ভয় তাড়া করছে। যে হারে সরকর সমর্থক লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে মহল্লায় তাতে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন হলে ভোট দিতে যাবো না। ঘরে বসে থাকব। যাত্রাবাড়ী ওয়াপদা কলোনির বাসিন্দা রহিম বক্স বলেন, এলাকায় প্রচার করা হচ্ছে কেন্দ্রে গেলে একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। এ অবস্থায় মতামত প্রকাশ সম্ভব নয়। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভোট দিতে যাবো না। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে ভোটের মাঠে। অব্যাহত এ হামলার ঘটনায় সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অপরদিকে নির্বাচন কমিশনের একের পর এক তুঘলকি কা- নির্বাচন নিয়ে তৈরি করেছে গভীর অনিশ্চয়তা। ভোটের তিন দিন আগেও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বিরোধী সমর্থক বেশির ভাগ কাউন্সিলর প্রার্থী মাঠে নামতে পারেননি। ঢাকা দক্ষিণে গণসংযোগ করতে পারেননি মির্জা আব্বাসও। গতকাল প্রচারণায় নেমে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল খায়ের বাবলু। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জুমার নামাজ পড়তে আসবেন এমন কারণ দেখিয়ে মহাখালীর রহিম মেটাল জামে মসজিদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাঈদ খোকন নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে ভোট চেয়েছেন। যদিও এসব ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন যথারীতি দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
অনেকটা নাটকীয়ভাবেই তিন সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। এরপর নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের জন্য দলটির পক্ষ থেকে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবিও জানানো হয়। ক্ষমতাসীনদের দাপটে বিশেষত ঢাকায় ভোটের মাঠে অনেকটা কোণঠাসা ছিলেন বিরোধী সমর্থকরা। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রচারণায় নামাতে পাল্টাতে থাকে ভোটের হিসাব। একাধিক গোয়েন্দা রিপোর্টেও এমন ইঙ্গিতও দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার প্রথম দিনের প্রচারণা নির্বিঘœ হলেও দ্বিতীয় দিনেই বাধার মুখে পড়েন তিনি। আর পরের তিন দিন শিকার হন হামলার। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় ভোটের মাঠে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। হামলাকারী চিহ্নিত হলেও এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। চট্টগ্রামেও বিএনপি সমর্থক মনজুর আলমের প্রচারণায় হামলা চালানো হয়েছে। সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি আনলেও তা ছিল একেবারেই ক্ষণস্থায়ী। কারণ একদিনের মধ্যেই নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশন। অভাবনীয়ভাবে কমিশনের পরিবর্তিত সিদ্ধান্তে বলা হয়, নির্বাচনের মাঠ নয়, সেনানিবাসেই থাকবেন সেনাসদস্যরা। নির্বাচন কমিশনের এই পিছুটানে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে বহুগুণ।
অন্যদিকে এ পর্যন্ত হুমকি ও ধমকির শতাধিক অভিযোগ পড়েছে কমিশনে। প্রায় প্রতিটি অভিযোগই বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। অভিযোগও প্রায় একই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী কর্তৃক প্রচারণায় বাধা ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি প্রশাসনকে ব্যবহার করেও নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। কিন্তু এসব ঘটনায় কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। কোন কোন প্রার্থী আতঙ্কে প্রকাশ্যে গণসংযোগ পর্যন্ত করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সিটি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি মনিটর করছেন নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. শাহজাহান। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তার কাছে বড় ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। তথ্য-প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ খুব কমই পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
গত কয়েকদিন নির্বাচনী প্রচারণায় নামা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে পরপর তিন দফা হামলার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মনে। কারণ, এসব হামলায় বারবার ছাত্রলীগ-যুবলীগের নামই উঠে এসেছে। বুধবার বাংলামোটরে খালেদা জিয়ার গাড়িতে হামলা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় খালেদা জিয়া অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তার গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে রোববার উত্তরায় প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বাধার সম্মুখীন হন। সোমবার বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে রাজধানীর কাওরান বাজারে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের হামলার শিকার হন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের প্রচারণায় গিয়ে হামলার শিকার হয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। এরই মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে মূলত ক্ষমতাসীনদের দুই গ্রুপ ও আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে। শুধু তাই নয়, এসব সহিংসতায় পেশাদার সন্ত্রাসী ও খুনিদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী জাকির হোসেন জানান, বুধবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী, আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবু আহমেদ মান্নাফ দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে তার নবাবপুর রোডের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় তিনি সূত্রাপুর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের জনৈক এমপির কারণে পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। আতঙ্কে তিনি প্রচারণা চালাতে পারছেন না। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকেও অবগত করা হয়েছে। একইভাবে ওই দিন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী খাজা হাবিবের বাসা সংলগ্ন পরিবাগের নির্বাচনী ক্যাম্পে একদল যুবক হামলা করে। হামলাকারীরা তার বাসার সামনে থাকা একটি প্রাইভেটকারে অগ্নিসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবহৃত আরও ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ বিষয়ে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেলও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব। পুরান ঢাকার বেশ কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমনিতেই তারা সরকার দলীয় প্রার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর ওপর এ ধরনের সংবাদে স্বাভাবিক কারণেই আতঙ্কে আছেন তারা ও তাদের পরিবার। এসব এলাকার প্রার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়েও আছেন আতঙ্কে। অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনেও। গত সপ্তাহে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে দুইজন ছিল ভাড়াটিয়া খুনি। তারা পুলিশকে জানায়, দুই কাউন্সিলর প্রার্থীকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কারও নাম উল্লেখ না করায় এবং পরদিন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রচারিত হওয়ার পর থেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পুরান ঢাকার কাউন্সিলর প্রার্থীরা। বিশেষ করে বিএনপি ও বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীরা। যাত্রাবাড়ী এলাকার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দেলু জানান, প্রচারণার শুরু থেকেই তার পোস্টার-স্টিকার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। রাতের আঁধারে এগুলো ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলেও জানান। পূর্ব জুরাইন এলাকার ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির হোসেন মিরু জানান, এমনিতেই মামলার কারণে তিনি নিজে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারছেন না। তার ওপর বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে কর্মীদের। এদিকে ঢাকা দক্ষিণের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবু আহমেদ মান্নাফের লোকজন তার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তাকে। তিনিও তার জীবন নিয়ে শঙ্কিত বলে মন্তব্য করেন। ২০শে এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণের ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বেগম অভিযোগ করেন, সরকার সমর্থিত প্রার্থীর লোকেরা তার পোস্টার-লিফলেট ছিঁড়ে ফেলছে এবং সমর্থকদের পুলিশ দিয়ে হয়রানিসহ নানা হুমকি দিচ্ছে। ঢাকা সিটি উত্তরের ৪নং ওয়ার্ডে ২০ দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী লস্কর মো. তসলিম অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কয়েক গাড়ি পুলিশ তার বাসা ঘেরাও করে বাসায় তল্লাশির নামে পরিবারের লোকজনকে হয়রানি করেছে। এর আগেও আরও দুই দিন পুলিশ এসে বাসা তল্লাশি করেছে। এতে করে পরিবারসহ আশেপাশের লোকজন এখন সার্বক্ষণিক ভয়-আতঙ্কে দিন কাটায়। হামলা ও হুমকির ঘটনায় অধিকাংশ সময় মুখ খুলছেন না ভুক্তভোগীরা। যারা সাহস করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন তারা প্রতিকার পাননি।
গত ১৬ই এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত মাসুদ খান। সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এর কোন প্রতিকার পাননি তিনি। এমনকি প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকি ও পুলিশি হয়রানির কারণে প্রচারণা চালাতে পারেননি মাসুদ খান। তার পক্ষে মাইকে প্রচারণা চালানোর সময় এক কর্মীকে আটক করে নিযে যায় দারুস সালাম থানার এসআই মনির। যে কারণে মাসুদ খান গতকাল পর্যন্ত প্রকাশ্যে ভোট চাইতে পারছেন না। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নবী সোলায়মানও নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারছেন না। পুলিশ দিয়ে তাকে হয়রানি করছেন ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত প্রার্থী ও তাদের লোকজন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি তিনি। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি-না এ নিয়ে সংশয়ে আছেন প্রার্থীরা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান জানান, আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ফরিদুর রহমান খান ইরানের লোকজন তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। বিভিন্নস্থানে পোস্টার পর্যন্ত সাঁটাতে দেয়া হচ্ছে না তাদেরকে। এমনকি বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে মহড়া দিচ্ছেন ইরান। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইকবাল হোসেন জানান, নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পাননি। হামলার সঙ্গে গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রচারণায় নামতে পারছেন না বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। গত ১৩ই এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী এএলএম কাওছার আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর থানা পুলিশ। বিএনপি দাবি করেছে, প্রচারণা চালানোর সময় অন্যায়ভাবে তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। ১৮ই এপ্রিল রাজধানীর চামেলীবাগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী হাসিবুর রহমান ওরফে শাকিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০শে এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও হাজারীবাগ থানার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ওসমান গণি শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শাহজাহানের স্ত্রী নাসিমা ওসমান দাবি করেন, তার স্বামী আদালত থেকে জামিন নিয়েই মনোনয়নপত্র দাখিল ও নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছিলেন। কিন্তু ভোটের প্রচারণায় নামলে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল খায়ের বাবলুকে আটক করেছে পুলিশ। উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৬নং ওয়ার্ডে বিরোধীজোটের কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা সালেহ সিদ্দিকীর লাটিম প্রতীকের সমর্থনে বিকাল ৫টায় মধুবাগ এলাকায় মাইকিং করতে গেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে কতিপয় নেতাকর্মী বাধা প্রদান করে এবং রিকশাচালককে আটকে রেখে মারধর করে ও মাইকম্যানের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শুক্রবার বাদ জুমা নয়াটোলা মাদরাসা এলাকায় গণসংযোগকালে লাটিম প্রতীকের ২জন কর্মীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। এ পর্যন্ত তার নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় ২০জন কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ক্যান্টনমেন্টে বসে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দেওয়া যায় না -তাবিথের পক্ষে প্রচারণার সময় খালেদা জিয়া

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের
পক্ষে গতকাল বিকেলে কুড়িল এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া l ছবি: প্রথম আলো
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ক্যান্টনমেন্টে বসে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দেওয়া যায় না। যদি তাই হতো পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যা হতো না। তিনি বলেন, সেনা মোতায়েন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।
‘সেনাবাহিনী সেনানিবাসেই থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ডাকলে বাইরে আসবে’—প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারে নেমে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে খালেদা জিয়া তাঁর গুলশানের বাসা থেকে বের হন। তিনি নতুন বাজার, প্রগতি সরণি হয়ে কুড়িল এলাকায় গিয়ে বক্তব্য দেন। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে একজন পথচারী বলেন, ‘ম্যাডাম, সেনাবাহিনী মোতায়েন ছাড়া সুষ্ঠু ভোট হবে না।’
এর পর খালেদা জিয়া বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। সেনা মোতায়েন করলে মানুষ নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী বিদেশে শান্তি মিশনে অনেক সুনাম কুড়িয়েছে। তারা বিদেশেও নির্বাচনে নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছে। তাহলে কেন তারা দেশে নিরাপত্তা দিতে পারবে না? ক্যান্টনমেন্টে বসে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দেওয়া যায় না।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন চাই। সন্ত্রাসমুক্ত ঢাকা চাই। আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যার কারণে পর পর তিন দিন আমাদের গাড়িবহরে হামলা করেছে। আমার প্রাণনাশের চেষ্টা করেছে। তারা ভেবেছিল, বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে গেলে তারা জয়লাভ করবে।’ তিনি বলেন, ‘এ অবস্থার মধ্যে আমি বের হয়েছি। তারা মনে করেছিল, গুলি চালিয়ে, হত্যা করে আমার পথরোধ করবে। কিন্তু না, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব।’
ভোটের দিন সবাইকে সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি নিরাপত্তা, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিমুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস, উন্নত রাস্তা চান—তাহলে সঠিক মার্কায় ভোট দিবেন। সঠিক মার্কা হলো—মির্জা আব্বাসের মগ, তাবিথ আউয়ালের বাস ও মনজুর আলমের কমলালেবু।’ তিনি বলেন, মির্জা আব্বাস প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও জনসংযোগ করতে পারছেন না। নেতা-কর্মীরা তাঁর পক্ষে প্রচারণা করতে গেলে সেখানে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলা নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী লাঞ্ছনার উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিবেন না। তাহলে নিরাপত্তাহীনতায় ঘর থেকে বের হতে পারবেন না।’
কুড়িল থেকে খালেদা জিয়া বাড্ডা লিংক রোড হয়ে গুলশান ১ গোলচত্বর ও গুলশান-২ হয়ে বনানীর বনানী মাঠের উল্টো দিকের ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্সে প্রচার চালান। এ সময় স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ম্যাডাম, আমরা ভালো নেই।’ জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, পরিবর্তন হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। সেখান থেকে বনানী হয়ে মহাখালী রেলক্রসিং, জাহাঙ্গীর গেট হয়ে আবার মহাখালী, বনানী হয়ে রাত পৌনে নয়টার দিকে তিনি গুলশানের বাসায় ফেরেন।
গত সোম, মঙ্গল ও বুধবার পর পর তিন দিন কারওয়ান বাজার, ফকিরাপুল ও বাংলামোটর এলাকায় হামলার মুখে পড়ার পর বৃহস্পতিবার প্রচারে নামেননি খালেদা জিয়া। এসব হামলায় খালেদা জিয়ার গাড়িসহ নিরাপত্তাকর্মীদের গাড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোববার উত্তরায় সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে পড়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর।
গতকাল খালেদা জিয়ার গণসংযোগে কয়েক শ নেতা-কর্মী আগে-পিছে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির নেতা সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার রানু, হাবিব-উন-নবী খান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ।

সরকার সমর্থকদের সুবিধা দিতে ইসি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে -খালেদা জিয়া

অব্যাহত হামলার পরও ষষ্ঠ দিনের মতো গতকাল সিটি নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে ইলেকশন কমিশনে ইউটার্নের সমালোচনা করে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতা বলেন, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনা মোতায়েন জরুরি। সেনা মোতায়েন হলে ভোটাররা ভয়হীনভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। আমাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করেছে। বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। এর পরও তারা নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে সাহস পাচ্ছে না। ইসিকে সরকারের আজ্ঞাবহ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের নির্দেশে ইসি সেনা মোতায়েন না করে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীকে হারানোর নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েনে ভয় পায় কেন? সেনারা ক্যান্টনমেন্টে বসে থাকলে ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে পারবেন না। পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময়েও সরকার সেনাবাহিনীকে আসতে দেয়নি। সেই কারণে ৫৭ জন চৌকশ সেনাকর্মকর্তা হত্যা হয়েছে। এ সরকার একটি খুনি, জালেম সরকার। সরকার সেনাবাহিনীর ইমেজ ধ্বংসের চক্রান্ত করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরপর তিন দিন হামলা করা হয়েছে। পথে পথে বাধা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমি ভয় পাই না। আমি পিছু হটবো না, প্রচারণা চালিয়ে যাবো। ওপরে আল্লাহ আছেন। ভোটারদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন, ভয় পাবেন না। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন, সন্ত্রাসী কর্মকা- চালালে সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গুম-খুন-নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ঢাকা সিটি উত্তরে আমাদের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে বাস মার্কায় ভোট দিয়ে জয়ী করুন। এর পরে রাজধানী বারিধারা, নতুনবাজার, মধ্যবাড্ডা, লিংকরোড, গুলশান-১, গুলশান-২, প্রগতি সরণি, যুমনা ফিউচার সড়ক, বাড্ডা সড়ক, গুলশান লিংক সড়ক, বনানী, মহাখালী, বনানী ইউএই মৈত্রী (লাল) মার্কেটের প্রত্যেক দোকানে গিয়ে তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ভোট চান খালেদা জিয়া। ঢাকা উত্তর সিটিতে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের বাসায় গাড়ি মার্কায় ভোট চান তিনি। এ ছাড়া তার গাড়িবহর থেকে হ্যান্ড মাইকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি লিফলেট বিলি করা হয়। এর আগে ৫ দিন প্রচারণা চালিয়ে ৪ দিনই সরকার সমর্থকদের হামলার শিকার হন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত গাড়ি ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফের গাড়ি। এ সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হন। শনি থেকে বুধবার প্রতিদিনই প্রচারে বেরিয়ে খালেদা জিয়া হামলার শিকার হন। সোমবার কাওরান বাজার, বুধবার বাংলামটর মোড়ে সরকার সমর্থকদের ব্যাপক হামলার মুখে পড়েন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। অব্যাহত হামলার পর গতকাল খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে ঘিরে ছাত্রদলকর্মীদের ছিল বাড়তি তৎপরতা। কয়েক শ মোটরসাইকেল ও পায়ে হেঁটে খালেদা জিয়ার গাড়ি ঘিরে রাখেন ছাত্রদলকর্মীরা। বিএনপি চেয়ারপারসন বাসা পর্যন্ত ছাত্রদলকর্মীদের তার গাড়ি ঘিরে রাখেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে এক পথসভায় বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। এ সময় ৩ সিটিতে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান। বনানী বাংলাদেশ ইউএইউ মৈত্রী কমপ্লেক্স (লাল মার্কেট) নিচতলা ১৫-২০টি দোকানে তাবিথের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারপত্র বিলি করেন। এ সময় পুরো মার্কেটে কয়েক শ লোক খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য ভিড় জমায়। প্রায় আঘা ঘণ্টা প্রচারপত্র বিলি করার পর ফের গাড়ির বহর মহাখালীর উদ্দেশে রওনা হয়। এ সময় ছাত্রদলকর্মীরা শ-খানেক মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ি বহরের সামনে দিয়ে যান। ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান ও সেক্রেটারি আকরামুল আহমেদকে পুরো শোডাউনের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। পরে খালেদা জিয়া মহাখালী ফ্লাইওভার হয়ে জাহাঙ্গীর গেট হয়ে গুলশানের বাসার উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি তার বাসায় পৌঁছান। এ সময় ছাত্রদলকর্মীরা তাবিথের পক্ষে প্রচারপত্র বিলি করেন। পথচারীদের কাছে তার পক্ষে ভোট চান। খালেদা জিয়ার প্রচারকালে পুরো এলাকায় রাস্তার দুই পাশে সাধারণ পথচারী দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। এ সময় খালেদা জিয়াও গাড়িতে বসে হাত নাড়েন। উল্লেখ্য, হামলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে গাড়ির সংকটে বৃহস্পতিবার প্রচারণায় বের হতে পারেননি খালেদা জিয়া।

সিদ্ধান্ত বদলে ৩ কমিশনার

তিন সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন কমিশনার সীমিত পরিসরে সেনা মোতায়েনের নোট দিয়েছিলেন। অন্য দু’জন কমিশনার তাতে সায় দেন। এ কারণেই মূলত নির্বাচনী কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে পরোক্ষভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই সেনাবাহিনী চেয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে দেয়া ইসির চিঠি সংশোধন করে পুনরায় পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
বুধবার দ্বিতীয় দফায় পাঠানো ইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ‘প্রতি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এক ব্যাটালিয়ন করে সেনাবাহিনীর সদস্য আগামী ২৬ থেকে ২৯ এপ্রিল চার দিন দায়িত্ব পালন করবেন। তারা মূলত সেনানিবাসের অভ্যন্তরেই রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে অবস্থান করবেন এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন।’ অথচ একদিন আগে মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে ওই অংশে বলা হয়েছিল, ‘সেনাবাহিনী মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। রিটার্নিং অফিসার ডাকলেই তারা পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন।’ পরের চিঠিতে সেনা সদস্যদের ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
ক্যান্টনমেন্টকে ঢাকার কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে ওই স্থান থেকে সবদিকে সহজেই যাওয়া যায়- এমন বিবেচনায় সেনাবাহিনীকে ক্যান্টনমেন্টে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ। তিনি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকালীন সেনাবাহিনীর জন্য ‘বেস্ট পজিশন’ ক্যান্টনমেন্ট (সেনানিবাস)। সেনা মোতায়েনে প্রথম চিঠিতে ভুল-ত্র“টি হয়ে থাকতে পারে উল্লেখ করে পরে আগের চিঠিটি সংশোধিত আকারে প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
আর নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ জানিয়েছেন, ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী চিঠি দেয়া হয়েছে। ‘সেনাবাহিনী কোথায় থাকবে, ওই (মঙ্গলবার পাঠানো চিঠি) চিঠিতে উল্লেখ ছিল না। যেহেতু নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট রয়েছে। যে জন্য সেনাবাহিনীকে ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করার জন্য বলেছি। তারা সেখানেই প্রস্তুত থাকবে। তাদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবেন। রিটার্নিং অফিসারের দরকার হলে তাদের কাজে লাগাবেন। সেনা সদস্যরা নির্বাচনে টহল দেবেন না বলেও জানান তিনি।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়। এবারই প্রথম ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে সেনা সদস্যদের আবদ্ধ রাখা হল। সেনা সদস্যরা মাঠে না থাকায় ভোটারদের মধ্যে আতংক থেকে যাবে বলেও মনে করছেন তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, যে প্রক্রিয়ায় পুনরায় চিঠি তৈরি ও পাঠানো হয়েছে তাতে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সেনা মোতায়েন না করার বিষয়ে ইসির ওপর এক ধরনের চাপ ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় ইসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী হাতে হাতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে চিঠিটি পৌঁছে দেন।
যদিও কোনো মহলের চাপে দ্বিতীয় দফা চিঠি পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। বৃহস্পতিবার বিকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কোনো চাপে আমার বিন্দুমাত্র পিছিয়ে যাইনি। সেনাবাহিনী নিয়োগে যে চিঠি দেয়া হয়েছে তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু সেনাবাহিনীর অবস্থান কোথায় হবে- তা সুনির্দিষ্ট করেছি। যাতে সবাই জানতে পারেন- সেনাবাহিনী কোথায় রয়েছে, কিভাবে রয়েছে, কিভাবে তারা বের হবেন।
রাতে কমিশন সচিবালয় ত্যাগ প্রাক্কালে সিইসি বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় রিজার্ভ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকে। এবারের নির্বাচনেও তাই থাকবে। তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট হল ঢাকা সিটির কেন্দ্রবিন্দু। মিরপুরে যেতে গেলেও ক্যান্টনমেন্ট বেটার, উত্তরায় যেতে গেলেও ক্যান্টনমেন্ট বেটার। সেনা সদস্যদের তো এক জায়গায় থাকতে হবে? আমরা মনে করেছি, ক্যান্টনমেন্ট তাদের জন্য ‘বেস্ট পজিশন’। তবে তাদের ডাকা হলেই তারা মুভ করবে। তিনি বলেন, ‘কৌশলগতভাবে ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুভ করাটা সেনাবাহিনীর জন্য সহজ হবে। রিটার্নিং অফিসাররা ডাকা মাত্রই তারা চলে আসবে। ম্যাজিস্ট্রেটও তাদের সঙ্গে থাকবে।’ তাই কোনো সমস্যা হবে না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে নির্বাচনে সেনা সদস্যদের টহল দেয়ার প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে মো. শাহনেওয়াজ আরও বলেন, আমি আগেও বলেছি, আজকেও বলছি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যসহ র‌্যাব, বিজিবি, আনসার টহল ও অবস্থান নেবে। সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে রেখেছি, যখনই প্রয়োজন হবে রিটার্নিং অফিসারা বলার সঙ্গে সঙ্গে মুভ করবে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু প্রয়োজনের তুলনায় এ নির্বাচনে আইনশৃংখলা বাহিনী অনেক বেশি। তাই আলাদাভাবে সেনাবাহিনীর টহল আপাতত প্রয়োজন হবে না। তবে প্রয়োজন হলে যে কোনো মুহূর্তে তারা টহল দেবেন।
শাহনেওয়াজ বলেন, ‘তিন সিটি নির্বাচনে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের যার যেখানে অবস্থান থাকা উচিত, সেখানে রাখা হবে। যাতে ভোটাররা সুন্দর সুশৃংখলভাবে ভোট দিতে পারেন। এ নিয়শ্চতার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত হিসেবে সেনাবাহিনীকেও রেখেছি। চিঠির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, মূলত আমাদের এবং সেনাবাহিনীর অবস্থান বুঝাবার জন্যই চিঠি দেয়া হয়েছে। কোনো পরিবর্তন বা আলাদা কিছু নয়, জনগণের মনে যাতে সন্দেহ না থাকে। এ কারণেই আমার বলা, সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবেই কাজ করবে। তবে রিটার্নিং অফিসার চাইলে তারা কাজ করবে। সেনাবাহিনীর ভূমিকা সঠিকভাবে থাকবে।
মাঠে না রেখে ক্যান্টনমেন্টে রাখা বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে পড়ে না। তবে ক্যান্টনমেন্টের চার পাশেই সিটি কর্পোরেশন এলাকা। কাজেই ধরে নেয়া যায়, তারা সিটির মধ্যেই অবস্থান করবে। স্বস্তির জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে সিইসি মঙ্গলবার জানান। কিন্তু সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টে রাখলে জনমনে ওই স্বস্তি থাকবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগেও বলেছি, সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স তখনই দরকার হয়, যখন রিটার্নিং অফিসাররা প্রয়োজন মনে করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত আইনশৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখে জনমনে স্বস্তি থাকবে। এছাড়াও প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী থাকবে। কাজেই যারা ভোট দেবেন ও ভোট প্রার্থনা করবেন কারোর সমস্যা হবে না।
এছাড়া আমাদের ভোটার ও ভোট প্রার্থনাকারীরা এত উত্তেজিত নয় যে, তাদের পাহারা দিতে হবে। তারপরও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে রেখেছি। চট্টগ্রামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশন এলাকার পাশেই তাদের ক্যান্টনমেন্ট রয়েছে। কাজেই সমস্যা হবে না। তারা ক্যান্টনমেন্টে থাকবেন।