Saturday, July 15, 2017

জুনিয়র ট্রাম্পের সেই বৈঠকে ছিলেন সোভিয়েত গোয়েন্দা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলের সঙ্গে রাশিয়ার একজন আইনজীবীর সাক্ষাতের সময় সাবেক এক সোভিয়েত গোয়েন্দা কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। খবর বিবিসি বাংলার। রিনাত আখমেতশিন নামে রাশিয়ার একজন লবিস্ট যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযান চলার সময় ট্রাম্প টাওয়ারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও রুশ আইনজীবী নাতালিয়া ভেসেলনিতস্কায়া'র মধ্যেকার বৈঠকে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে আরো ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বর্তমানে হোয়াইট হাউসে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও তৎকালীন ট্রাম্প প্রচারণা শিবির প্রধান পল ম্যানাফোর্ট। আখমেতশিন বলেছেন, সত্যিকার অর্থে আমি কখনো ভাবিনি বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এর আগে ট্রাম্প জুনিয়র শুধু জানিয়েছিলেন যে গোপন ওই বৈঠকে শুধু রাশিয়ান আইনজীবী মিস ভেসেলনিতস্কায়া উপস্থিত ছিলেন। ২০১৬ সালের ৯ জুন ট্রাম্পের ছেলের ওই গোপন বৈঠকের খবরটি গত সপ্তাহে প্রকাশ পায়, আর তা নিয়েই চলছে ব্যাপক তোলপাড়। কিন্তু সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটি ৩৯ বছর বয়সী ট্রাম্প জুনিয়রকে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে বলেছেন। যদিও ট্রাম্প জুনিয়র বলেছেন, ওই বৈঠকটা কোনো বিষয়ই নয়। অন্যদিকে নিজের ছেলেকে নির্দোষ, স্বচ্ছ বলে বক্তব্যও দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বলা হচ্ছে, গত বছরের ওই বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রকে জানানো হয়েছিল যে এই রুশ আইনজীবীর কাছে রাশিয়ার সরকারের কাছ থেকে পাওয়া এমন কিছু তথ্য আছে, যা তার বাবাকে নির্বাচনে জিততে সাহায্য করতে পারে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ করেছিল কিনা তা নিয়ে এখন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন।

সাগর নিচে জাহাজে হাজার কোটি ডলারের সোনা-রুপা

২০০ বছর আগে সাগরে ডুবে যাওয়া জাহাজে হাজার কোটি ডলার মূল্যের সোনা-রুপার সন্ধান পেয়েছে কলম্বিয়া। ওই সম্পদ উদ্ধারে জনগণের সহায়তা চেয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। খবর বিবিসির। স্পেনের রাজা পঞ্চম ফিলিপসের মালিকানাধীন সান হোসে নামের জাহাজটি ১৭০৮ সালে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের সময় ডুবে গিয়েছিল। ২০৭ বছর পর ২০১৫ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ওই জাহাজের সন্ধান পায়। জাহাজে থাকা সোনা-রুপা স্পেনের তৎকালীন উপনিবেশ পেরু ও বলিভিয়ার খনি থেকে উত্তোলন করা হয়েছিল। জাহাজে সোনা-রুপার পাশাপাশি অন্যান্য রত্ন ও গয়না রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জাহাজটিতে থাকা সোনা-রুপার সঠিক মূল্য সরকারিভাবে নির্ণয় করা হয়নি। তবে এর মূল্য এক'শ কোটি থেকে এক হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাহাজে থাকা সম্পদ উদ্ধারে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে কাজ করতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সান্তোস। তিনি বলেন, উদ্ধারের পর ওই সম্পদ সংরক্ষণের জন্য জাদুঘর গড়ে তোলা হবে। সম্পদগুলো নিয়ে অধ্যয়নের জন্য পরীক্ষাগার স্থাপনেরও পরিকল্পনা করছে কলম্বিয়া। এরই মধ্যে সমুদ্র থেকে খনিজ সম্পদ উত্তোলনকারী অনেকেই সান হোসে জাহাজ থেকে সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ডুবে যাওয়া ওই জাহাজ ও তাতে থাকা সম্পদের মালিকানা নিয়ে কলম্বিয়ার সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তি দাবি করেছে স্পেন। তারা বলেছে, যদি প্রয়োজন হয়, জাতিসংঘ এ বিষয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে। ২০১৩ সালে কলম্বিয়া পানিতে ডুবে যাওয়া কোনো জাহাজকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে একটি আইন প্রণয়ন করে। ধারণা করা হয়, কলম্বিয়া উপকূলে সমুদ্রতলে এমন প্রায় ১ হাজার ২০০ ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।

ভারতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৫৮ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে; বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ জনে। কেবল আসামের ২৬ জেলায় অন্তত ১৭ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। শুক্রবার দেশটির বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র জানায়, তারা কাজিরাঙ্গা পার্ক থেকে অন্তত ১৭টি বল্গা হরিণ উদ্ধার করেছে। যদিও পরে সেগুলোর মধ্যে ১৩টিকে বনে ছেড়ে দেয়া হয়। বন্যায় কাজিরাঙ্গা পার্কটির অধিকাংশ অঞ্চল ডুবে গেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন রাজ্য আসাম, অরুণাচল ও মনিপুরের কর্মকর্তাদের নিয়ে শুক্রবার মন্ত্রী জিতেন্দ্র বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন

নিহতদের স্মরণে আঙ্কারায় জড়ো হচ্ছে তুর্কিরা

তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে এক সেনা অভ্যুত্থান ঘটানো হয়। তবে তুরস্কের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ এই অভ্যুত্থান চেষ্টা ভেস্তে দেয়।জনগণের বিজয়কে উদযাপনের লক্ষ্যে কাছে এবং দূর থেকে ইতিমধ্যে মধ্য তুরস্কের এক নিঝুম গ্রামে জড়ো হতে শুরু করেছে তুর্কিরা। তাদের এই সফরের উদ্দেশ্য খুবই সাধারণ। অভ্যুত্থান চেষ্টার শিকার বহুল প্রশংসিত সার্জেন্ট ওমার হালিসদেমিরের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা। অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা জেনারেল সেমিহ তার্জির কপালে দুটো বুলেট গুলি করে তৎক্ষণাৎ জাতীয় বীরের মর্যাদা লাভ করেন তিনি। অভ্যুত্থানবিরোধী বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার জেকাই আকসাকালি টেলিফোনে তাকে জেনারেল তার্জিকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হালিসদেমিরের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা ২৩ বছর বয়সী ছাত্র আয়দিন বলেন, সেই দিনের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক তিনি। শহীদ হওয়ার পর ৮ কোটি তুর্কির ভাই হয়ে গেলেন ওমার হালিসদেমির। অভ্যুত্থানকারী সেনাদের হাতে সেদিন নিহত হয়েছিল ২৪৯ জন বেসামরিক নাগরিক। গত বছরের ২০১৬ সালের এই দিনে দেশটির লাখ লাখ গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে জনতার ত্যাগ ও বিজয়ের উদযাপনে মারমারা সাগর পাড়ের কাছে ইস্তাম্বুলের ইয়েনিকাপি চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন।

বক্তব্যের জন্য আনিসুল হকের দুঃখ প্রকাশ

চিকুনগুনিয়া নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক তার শুক্রবারের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার গুলশান-২ নম্বরে ডিএনসিসি কার্যালয়ের সামনে মশা নিধনে সচেতনতামূলক র‍্যালির শুরুতে আনিসুল হক সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। আনিসুল হক বলেছেন, গতকাল একজন সাংবাদিক বন্ধু একটি প্রশ্ন করেছিলেন, আমরা মশারি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করছি কি না? আমি আমাদের সচেতনতামূলক পোস্টারে মশারির ছবি দেখিয়ে ওই কথা বলেছিলাম। কিন্তু যেভাবে বলেছি, হতে পারে তা ঠিকভাবে বলতে পারিনি। এর আগে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল হক বলেন, চিকুনগুনিয়া মহামারি হোক আর যা-ই হোক, এর জন্য কোনোভাবেই সিটি করপোরেশন দায়ী নয়। আর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মশা মারা সম্ভব না। তার ওই বক্তব্যের পর মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সামাজিক মাধ্যমে মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।
চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে রাজধানীর গুলশানের ডিএনসিসি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া সচেতনতামূলক শোভাযাত্রায় অনেক মানুষ অংশ নেয়। মেয়র বলেন, আমরা বলতে চেয়েছি যে বাড়ির ভেতরে ঢোকার অধিকার আমাদের সেভাবে নেই। আমার বক্তব্যের জন্য কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা তার জন্য দুঃখিত। আমরা আমাদের সর্বাত্মক শক্তি দিয়ে আবার নেমেছি। আমরা অনেক চেষ্টা করছি। চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক বড় করে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে আনিসুল হক আরও বলেন, এখন আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করছি, তাতে আজ গুলশান এলাকায়, পরে মোহাম্মদপুর এলাকায়—এভাবে একেক দিন একেক এলাকায় আমরা ছড়িয়ে পড়ব। যেভাবেই হোক চিকুনগুনিয়া আমরা আর বাড়তে দেব না। আমরা এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করছি।

'মেয়র হবার আগে তো পারলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘর ঝাড়ু দেন'

চিকুনগুনিয়া নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার তার বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। আনিসুল হক গতানুগতিক জনপ্রতিনিধিদের মতোই এমন মন্তব্য করেছেন বেশিরভাগ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী। শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘চিকুনগুনিয়ার প্রাইম রিজন ঘরের ভেতরে জন্ম নেয়া মশা; সে পর্যন্ত পৌঁছানো সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। আপনার ঘরের ভেতরে গিয়ে আমি মশারি টানাতে পারব না। আপনার চৌবাচ্চায় আমি ওষুধ লাগাতে পারব না। আপনার ঘরের ভেতর সামান্য স্বচ্ছ পানিতে যে মশা জন্মাচ্ছে, সেটা আমি মারতে পারব না।’ সাবরিন সাদিয়া নামে একজন লেখেন, 'এটা মেয়র হবার আগে মনে ছিল না। তখন তো পারলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরগুলো ছাড়ু দিয়ে দেন।' মো. ওবায়দুল হক সোহেল নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'ক্ষমতা পাবার পূর্বে দায়িত্ব বড় মহান, অনেক সহজ; পাস করার পর দায়িত্ব অনেক কঠিন, বিরক্তির! এটা বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের চরিত্র।' আনিসুল হককে উমর ফারুক (রা:)এর জীবনী পড়ার পরামর্শ দিয়ে নূর শামিম নামের একজন লিখেছেন, আপনার কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয় । মেয়র সাহেব, আপনি হয়তো ইসলামের খলিফাদের রাজত্ব পড়েননি। হযরত উমর ফারুক (রা:) রাতের অন্ধকারে, তারপরও ছদ্দবেশে তার প্রজাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর রাখতেন । বিশাল ক্ষমতার অধিকারী হয়েও নিজের পিঠে খাদ্যের বোঝা নিয়ে দরিদ্রের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন । তাদের জীবনী পড়ুন, তাদেরকে অনুসরণ করুন অনেক ভালো লাগবে ।' অনেকে আনিসুল হককে উদ্দেশ করে দায়িত্বহীন, ব্যক্তিত্বহীনসহ বিভিন্ন অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করছেন। আবার কেউ কেউ তাকে মনিষীদের জীবনী পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ইকবাল হোসাইন লেখেন, 'নির্বাচন এর আগে তো বাড়ি বাড়ি ঝাড়ু নিয়ে ঘুরেছেন। এখন মশারি টানালে সমস্যা কোথায়।' মোস্তফা কামাল লেখেন, এতদিন ভেবেছিলাম গাওয়া ঘি এখন দেখছি পুরোটাই পামওয়েল।' মোহাম্মদ জসিম, মিস্টার মেয়র সাহেব, এমন নির্লজ্জ ---(অশ্লীল শব্দ) টাইপের কথা বলার আগে ভেবে নেনতো, যেদিন মেয়র হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছিলেন, একটি পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে কি বলেছিলেন? গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানুষের ন্যূনতম অধিকার যদি থাকতো রাস্তায় বের হতেই---(অশ্লীশ শব্দ) গণধোলাই কি ঠিকই টের পেতেন!' নজরুল ইসলা লেখেন, 'মেয়র হওয়ার আগে তো বলছিলেন মেয়র হতে পারলে ঢাকাকে সিংগাপুর বানাবেন। এখন দেখছি কবর ও শশান বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইমরান হোসাইন লেখেন, 'নির্বাচনে আগে জনগণকে দেয়া কথা ৬ মাসের মধ্যেই ভুলে গেলেন। বলেছিলেন ঢাকাকে সিংগাপুর বানিয়ে ফেলবেন, এখন এরকম কথা কেন?' নূরু আলম লেখেন,'নির্বাচনের আগে তো মিষ্টি কথার ফুলঝুড়ি ছড়িয়েছিলেন কোকিলের মতো, এখন এত কর্কষ কেন? কাকের মতো!!' মাহমুদুর রহমান লেখেন, 'কোনো কাজ না পারলে করবেন না, চুপ থাকেন। তাতে মানুষ মাফ করবে। কিন্ত এসব কথা বললে পরের বার ঝাটা মারবে।' আব্দুল হামিদ লেখেন, 'উপদেশ সবাই দিতে পারে মাননীয় মেয়র, কিন্তু বাস্তবে কাজ করা কঠিন।তাই নির্বাচন এর সময় কথা চিন্তা ভাবনা করে দিবেন, মানুষ কিন্তু এখন অনেক সচেতন।' এমডি শহিদুল ইসলাম লেখেন, আপনাকে তো কেউ বলেনি, প্রত্যেকের সোবার ঘরে যেয়ে মশারি টানাতে। ফালতু লোক, মশা নিধনের ঔষুধটা ঠিক মতো প্রয়োগ হচ্ছে কিনা সেটা দেখুন।
ঔষোধ প্রয়োগ হচ্ছে নাকি ঔষোধ এর নামে শুধু পানি স্প্রে হচ্ছে। চিকুনগুনিয়া কি জিনিস একবার হলে বুঝতে পারতেন। উত্তেজনামূলক কথা বলে মানুষকে উত্তেজিত করবেন না। নির্বাচনে আসার সময় নাকে খদ দিয়ে আসছেন।' পসি মনি লাল লেখেন, 'চিকুনগুনিয়া ধরে নাই তাই এটা সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই, এখনও সময় আছে ধরলে হাড়ে হাড়ে টের পাবেন কি করতে হবে।' স্বাধীন বিশ্বাস লেখেন, 'ঘরে গিয়ে মশারি টানাতে হবে না জনাব,আগে নিজের দায়িত্বটা ঠিক ভাবে পালুন করুন। ঠিকভাবে স্প্রে করুন,পানি না মিশিয়ে।' আশরাফুল ইসলাম লেখেন, 'ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট ভিক্ষা ঠিকই করতে পারেন। আর ঘরে ঘরে গিয়ে মশারি টানাতে আপনাকে কে বলেছে। মশা নিধনের ঔষুধটা ঠিক মতো দেন তাতেই চলবে।' মোহাম্মদ হাবিবুল্লা লেখেন, 'মশারি নয় শুধু, টয়লেটও পরিষ্কার করতে হবে। না পারলে সরে দাঁড়ান, যে পারবে জনগণ তাকেই চেয়ারে বসাবে।' আব্দুল হক লেখেন, মেয়র বলেছেন পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা শহর সিংগাপুর বানাবেন । এখন দেখি বাকশালী কায়দায় কথা বলছেন ।' এমডি রবি লেখেন, 'মেয়র সাহেব ভোটের সময় মানুষের ঘরে ঘরে কেমনে যান? তখন আপনাদের একথা গুলা মনে থাকে না। ভোটটা চাইতে পারবেন সেবা দিতে পারবেন না এটা তো হতে পারে না।' সাইদুর আহমেদ লেখেন, আপনাকেতো কেউ মশারি টাঙাতে বলেনি। আপনাদের যেটা দায়িত্ব সেটাই করবেন আপনারা। দায়িত্ব অবহেলার কারণে জনগণের ক্ষতি হবে এর দায়ভার আপনাদের অবশ্যই নিতে হবে।' তৌফিক হোসাইন লেখেন, 'নির্বাচন এর আগে টিভিতে ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন। ওটা কি ছিল লোক দেখানো?' রাবেয়া আক্তার লেখেন, 'কারও ঘরে গিয়ে মশারি টাঙিয়ে দিতে না পারলেও ঢাকা মহানগরী পরিষ্কার রাখা সম্ভব ।' লাল আরফাত লেখেন, 'কারণটা হল আপনি কারো ঘরের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত নন তাই।' মাকসুদ আলম লেখেন, 'নির্বাচনের সময়তো দেখছি রাস্তা ঝাড়ু দিতে এতো তাড়াতাড়ি ভুলে যেতে নেই।' দিদার হোসাইন লেখেন, 'রাস্তাকে তো নদী করে দিতে পারছেন।' সাইয়েদ মোহাম্মদ লেখেন, 'দুর্নীতিবাজ মেয়র হলে যা হয় আর কি.....।' আশিক মাহমুদ লেখেন, 'সিংগাপুর হতে আর কত বছর লাগবে স্যার?' মোহাম্মদ আল আমিন লেখেন, 'আগে ছিল কোকিল আর এখন কাক।' আজীজ ভুইয়া লেখেন, 'বিনা ভোটে পাস ঢাকাবাসীর সর্বনাশ।'

ঢাকা ছাড়লেন লংকান প্রেসিডেন্ট

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। শনিবার দুপুরে কলম্বোর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন লংকান প্রেসিডেন্ট। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন। ঢাকায় পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। তার সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ব্যস্ত সময় কাটান সিরিসেনা। সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে টাইগার গেটে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমেই দুই নেতা একান্তে কিছু সময় কথা বলেন। তারপর অনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সই হয় চুক্তি ও এমওইউ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা তা প্রত্যক্ষ করেন। দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানিয়েছেন, শ্রীলংকার সঙ্গে এফটিএ হলে এটাই হবে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এ ধরনের প্রথম চুক্তি। শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা চলতি বছরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ জন্য যে আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার, তা দ্রুত শেষ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। চুক্তি ও এমওইউ : প্রতিবেশী এই দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ১৪টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সিরিসেনা শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে টাইগার গেটে তাকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টকে। দুই নেতা প্রথমে একান্ত বৈঠকে অংশ নেন। তারপর দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলি হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। শেষে করবীতে দুই নেতার উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়। এর মধ্যে দুই দেশের কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসাবিহীন চলাচলের বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবী করুণানায়েকে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক ও কৃষি খাতে সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষা, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে, পররাষ্ট্র সেবাবিষয়ক ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বিস’ ও শ্রীলংকার এলকেআইআইআরএসএসের মধ্যে এবং রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র, দু’দেশের মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান, সংবাদ সংস্থা এবং চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন ইন্সটিটিউট ও শ্রীলংকা টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ইন্সটিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বাকি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
দু’পক্ষই আশা করছে, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের এ সফর পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। সেখানে তার সম্মানে দেয়া এক ভোজেও অংশ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম পৃথকভাবে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সফরে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা থাকছেন ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে। তার সফর উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশে এটা তার প্রথম সফর হলেও এর আগে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে ঢাকায় ঘুরে গেছেন মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। বৃহস্পতিবার ঢাকা পৌঁছানোর পর বিকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট। পরে তিনি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জাদুঘরে তাকে স্বাগত জানান বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। এ সফরে ৭৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন।

'ভোটের মালিক জনগণ, ভোট দেবে তাদের ইচ্ছামতো'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভোটের মালিক জনগণ, ভোট দেবে তাদের ইচ্ছামতো। যাকে তারা চায় তাকেই তারা পাবে। কিন্তু আমার একটাই লক্ষ্য দেশের উন্নয়ন করে যাওয়া। শনিবার দুপুরে এসএসএফের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দরবার হলে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের বেতন বৃদ্ধি করেছি। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো দেশে ১২২ ভাগ বেতন বৃদ্ধি এটা কোনোদিন কেউ করতে পারেনি। প্রত্যেকের বেতন বৃদ্ধি করে আমরা উন্নয়ন বাজেটকে আরও বেশি করে দিয়েছি। যার ফলে আজকে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ তার সুফল পাচ্ছে। পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে, আমার পরিবারের বিরুদ্ধে, মন্ত্রিপরিষদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, এখানে জনগনের সেবা করার জন্য এসেছি। দুর্নীতি করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আসিনি। দুর্নীতি করে ভাগ্য গড়তে চাইলে অনেক আগেই করতে পারতাম।
আমি রাষ্ট্রপতির মেয়ে ছিলাম, প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে ছিলাম। দুর্নীতি করতে চাইলে তখনই করতে পারতাম। তিনি বলেন, এটা একাট ষড়যন্ত্র ছিল। তারা তা প্রমাণ করতে পারেনি। কানাডার আদালত রায় দিয়েছে, এটা সম্পূর্ণ বানোয়াটা, মিথ্যা একটা অভিযোগ ছিল। আমি বাংলাদেশের মানুষের মাথা নিচু করিনি। এটুকু অন্তত বলতে পারি। বরং মাথা উচু হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৫ তে সরকার উৎখাতের নামে বিএনপি-জামায়াত মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। ওটাই নাকি তাদের আন্দোলন। আমি এমন আন্দোলন জীবনে দেখিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা কোন ধরনের আন্দোলন আমার বোধগম্য না। সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিহত করেছে। বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনে ৫০০র বেশি মানুষ মারা গেছে। রেল লাইন পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এসব দেখেছে।

‘সম্মতি ছাড়া’ বিয়ে ঠিক, তরুণীর আত্মহত্যা

মেয়ের সম্মতি না নিয়েই বিয়ে ঠিক করেছিল পরিবার। মা-বাবার এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি মেয়েটি। এর জেরে সে আত্মহত্যা করে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম জেসমিন সুলতানা হ্যাপি। পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোরে পূর্ব রাজাবাজার এলাকার একটি বাসায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে হ্যাপি। শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আ. হালিম মিয়া বলেন, পারিবারিকভাবে এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করা হয় হ্যাপির। বিয়েতে সম্মতি না থাকায় শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় সে। সকালে টের পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামায়। এরআগেই মারা যায় সে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে জানান এসআই হালিম মিয়া।

পর্যাপ্ত ত্রাণ নেই, চরম কষ্টে দিন কাটছে বানভাসির

দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এসব জেলায় প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। তলিয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে চরম কষ্টে দিন কাটছে বন্যাকবলিত লাখ লাখ মানুষের। অনেকে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারিভাবে যেসব এলাকায় ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। শুক্রবার জামালপুরে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিরাজগঞ্জে পাউবোর বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ রিং বাঁধের ৩০ মিটার ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। বন্যার কারণে কুড়িগ্রামে ১৯৩টি ও বগুড়ায় ৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এতে নদী-তীরবর্তী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
কুড়িগ্রাম ও চিলমারী
টানা ৯ দিনের বন্যায় জলবন্দি মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকরই খাবার নেই। কারও কারও খাবার থাকলেও শুকনো স্থান ও জ্বালানির অভাবে রান্না করতে পারছেন না। বিশেষ করে দিনমজুর পরিবারগুলো এক প্রকার না খেয়েই দিন কাটাচ্ছেন। বন্যাকবলিত সাড়ে ৫০০ গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের কাছে রাজনৈতিক দল ও এনজিওদের কোনো ত্রাণ তৎপরতা নেই। ত্রাণ বিতরণে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কারচুপির অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা। বন্যার কারণে জেলার ১৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। চিলমারীতে ছয় ইউনিয়নে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি। সরকারি ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় সবার ভাগ্যে এখনও ত্রাণ জোটেনি। এদিকে রাজিবপুর উপজেলার বটতলা-উপজেলা সড়কের ২৫ ফুট জায়গা ভেঙে উপজেলা শহর, মূল বাজার ও নৌঘাটের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী
রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ নিয়ে পদ্মার মধ্যচর ও নদীর তীরবর্তী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া পানি বাড়তে থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধও। তবে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, এখনই আশঙ্কার কিছু নেই। শহররক্ষা বাঁধের ঝুঁকি কমাতে সম্ভব সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর ও বকশীগঞ্জ
শুক্রবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট দূর না হওয়া পর্যন্ত বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কেউ টালবাহনা বা দুর্নীতির আশ্রয় নিলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। তিনি বলেন, বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে। এদিকে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বকশীগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। দুই শিশু হল সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আর্চ্চাকান্দি গ্রামের ধলু মিয়ার ছেলে আলিফ (৫) ও দাসপাড়া গ্রামের মঞ্জু মিয়ার মেয়ে মোহসিনা (৩)। এদিকে শুক্রবার দেওয়ানগঞ্জে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করার কথা ছিল। বানভাসি মানুষ তীব্র রোদ উপেক্ষা করে পরিষদ চত্বরে দিনভর দাঁড়িয়ে ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টায় মাইকে ঘোষণা করা হয় ত্রাণমন্ত্রী আসছেন না। পরে ইউএনও মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন চেয়ারম্যান সেলিম খানসহ সরকারি কর্মকর্তারা বানভাসিদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
সিরাজগঞ্জ
নির্মাণকাজ শেষ না হতেই সদর উপজেলার বাহুকায় পাউবোর বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ রিং বাঁধের ৩০ মিটার ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা এলাকায় এ ভাঙন দেখা দেয়। এদিকে যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ের জালালপুর ইউনিয়নে পানিবন্দি মানুষদের মধ্যে ত্রাণের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাঐখোলা, কুঠিপাড়া ও ঘাটাবাড়ি এলাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও বেশির ভাগ বন্যার্ত মানুষ ত্রাণ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেন।
গাইবান্ধা
জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার পানিবন্দি মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্যায় চারটি উপজেলায় প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারিভাবে যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম। বন্যার পাশাপাশি নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা অব্যাহত ভাঙনে এখন বিপন্ন। বৃহস্পতিবার বিকালে বন্যার পানির স্রোতে কামারজানি ইউনিয়নের কলমু এসএমসি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দেবে গেছে। এদিকে বন্যার পানির কারণে এরই মধ্যে ১৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বগুড়া
সারিয়াকান্দিতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার সকালে যমুনার পানি বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে চরাঞ্চলে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত তিন দিনে ভাঙনে তিন ইউনিয়নে অন্তত ৫১৩ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে ৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি দেখতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া আজ বগুড়ায় আসছেন। তিনি সারিয়াকান্দিতে ত্রাণ বিতরণ ও জেলায় সমন্বয় কমিটির সভায় উপস্থিত থাকবেন।
ফরিদপুর ও চরভদ্রাসন
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার পদ্মার পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধির ফলে ফরিদপুর জেলার পদ্মা-তীরবর্তী নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিক্রিরচর এবং চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক, চরহরিরামপুর, ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বেশির ভাগ নিন্মাঞ্চল তলিয়ে গেছে। চরভদ্রাসন উপজেলার নিন্মাঞ্চল ও পদ্মা পাড় এলাকার প্রায় এক হাজার বসতবাড়ি ও ৫০০ একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)
হাকালুকি হাওরপাড়ের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখায় বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি হয়েছে। ফলে আবারও বাড়িঘর রাস্তাঘাট ডুবতে শুরু করেছে। এতে জনজীবনে ফের বিপর্যয় নেমে আসে। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, উপাসনালয় এখনও পানির নিচে। মিলছে না পর্যাপ্ত ত্রাণ। প্রায় দুই লাখ ৬৫ হাজার মানুষ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে জীবনযাপন করছেন।
দেলদুয়ার (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ধলেশ্বরী ও স্থানীয় নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রবল সেসংলগ্ন এলেংজানি নদীর ওপর ব্রিজের এপ্রোচ ভেঙে দেলদুয়ার-লাউহাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পাবনায় ইঞ্জিনসহ বগি লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ

পাবনার মূলাডুলি স্টেশনের কাছে 'চিত্রা এক্সপ্রেস' ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে রাজশাহী ও খুলনার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। শনিবার দুপুর সোয়া ১টায় ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মূলাডুলি স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। তবে এখানে ডবল লাইন থাকায় অন্যান্য ট্রেন চলাচলে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল মহসি।তিনি বলেন, এখনো রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি। তবে মূলাডুলিতে স্টপেজ থাকার কারণে ট্রেনের গতি কম ছিল। ফলে এই দুর্ঘটনায় কোনো আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। রিলিফ ট্রেন পাকশী থেকে এসে উদ্ধার কাজে অংশ গ্রহণ করবে। ট্রেনটি স্বাভাবিক করে আবার ছাড়তে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি। এদিকে এ ঘটনায় যাত্রীরা অনেকটা অস্থিরতার মধ্যে সময় পার করছেন।

ফের শোবার ঘরে ১২ গোখরা

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় শোবার ঘরের মেঝে খুঁড়ে ১২টি বিষাক্ত গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের মেহেদী হাসানের বাড়ি থেকে এই সাপগুলো উদ্ধার করা হয়। এনিয়ে ওই এলাকায় সবার মধ্যে সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু তারপরও সাপ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকাবাসী। বাড়ির মালিক মেহেদী হাসান যুগান্তরকে বলেন, শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ করেই বাড়ির বারান্দায় একটা গোখরা সাপের বাচ্চা দেখতে পাই।
তাকে মারার পর সাপুড়ে আ. সালামকে ডাকা হয়। তিনি ঘরের ভেতরে বড় আকারে একটি মা গোখরা সাপ দেখতে পান। কিন্তু ওই মা গোখরাটিকে পরে আর পাওয়া যায়নি। পরদিন শনিবার সকালে শোবার ঘরের খাটের নিচে মেঝের একটি বড় গর্তে কয়েকটি গোখরার বাচ্চার দেখা মেলে। পুরো ঘরটি খুঁড়ে সেখানে একে একে ১২টি গোখরা মারা হয়। প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরেই গোখরা সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে রাজশাহী অঞ্চলে। তবে এসব গোখরা সাপ দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ মাটির ঘরে।

সাভারে নারীর লাশ উদ্ধার

সাভারে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুরের পূর্বহাটি এলাকার একটি বাড়ি থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিনুল কাদির জানান, সকালে পূর্বহাটি এলাকার একটি বাড়ির রুমে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গত কয়েকদিন আগে ওই নারীকে হত্যা করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

সাবেক স্বামী ফোন করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় সাবেক স্বামী ফোন করায় সোনালী আকতার লোপা (২২) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পরই স্বামী রুবেল মিয়া পালিয়ে যায়। শনিবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের মা গোলাপী বেগম সারিয়াকান্দি থানায় জামাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। নিহত লোপা বগুড়ার সারিয়াকান্দির বাড়ইপাড়ার আইয়ুব সোনারের মেয়ে। পলাতক স্বামী রুবেল মিয়া (২৭) জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবেরগাঁ গ্রামের মতি সোনারের ছেলে। স্বজনরা জানান, লোপার প্রথমে কুষ্টিয়া জেলায় আশরাফুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। মতবিরোধ হলে ওই স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তাদের আয়েশা নামে ৫ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী একটি মেয়েও আছে। লোপা মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকতেন। এদিকে তাদের আত্মীয় রুবেল মিয়া স্ত্রীর কথা গোপন করে লোপার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রায় এ বছর আগে রুবেল ও লোপার বিয়ে হয়। লোপার পরিবার মেনে না নিলে একই গ্রামে ভাড়াবাড়িতে তারা সংসার শুরু করেন। রুবেল নারায়ণগঞ্জে স্বর্ণে কারিগরের কাজ করতেন। কিছুদিন পরপর স্ত্রী লোপার কাছে আসতেন। এদিকে লোপার আগের স্বামী আশরাফুল মাঝে মাঝে ফোনে তার মেয়ে আয়েশার খোঁজ-খবর নিতেন। বিষয়টি রুবেল মিয়ার পছন্দ না হলে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। শুক্রবার রাত ৮টার পর এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে রুবেল শক্ত কিছু দিয়ে ঘাঁড়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। অচেতন লোপাকে উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। সারিয়াকান্দি থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, মেয়ের খোঁজ নিতে লোপার সাবেক স্বামী ফোন করতেন। এ নিয়ে বর্তমান স্বামী রুবেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়েছিল। মারপিটে লোপা মারা গেলে রুবেল মিয়া পালিয়ে যান। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে, আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

চট্টগ্রামে ভারতীয় শিক্ষার্থীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম নগরের আবদুল হামিদ সড়কের একটি বাড়ি থেকে আসিফ শেঠ (২৫) নামে ভারতীয় এক শিক্ষার্থীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা উইলিয়াম সিং নামে আরেক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা দুজনেই চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসির এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ইউসুফ ভবন থেকে আসিফের মরদেহ এবং উইলিয়াম সিংকে উদ্ধার করা হয়। আসিফের শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। নগরের আকবর শাহ থানার ওসি মো. আলমগীর মাহমুদ জানান, ইউসুফ ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন ইউএসটিসির ভারতীয় চার শিক্ষার্থী। ফ্ল্যাটের তিনটি কক্ষের মধ্যে একটিতে থাকতেন আসিফ।
আরেকটিতে উইসন। আরেকটি কক্ষে নীরাজ গুরু তার স্ত্রী জোৎস্নাকে নিয়ে থাকতেন। নীরাজ গুরুর বরাত দিয়ে ওসি আলমগীর জানান, রাতে ফ্ল্যাটে সবাই একসঙ্গে মদপান শেষে নীরাজ তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজের কক্ষে চলে যান। আসিফ, উইলিয়ামের কক্ষে যান। রাত দেড়টার দিকে উইলিয়ামের কক্ষ অন্ধকার দেখে নীরাজ বারবার ধাক্কা দিতে থাকেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খোলেন তিনি। দরজা খুলে বাসার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উইলিয়ামকে আর মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় আসিফ শেঠকে দেখতে পান নিরাজ। পরে নীরাজ প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে উইলিয়াম ও আসিফকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক আসিফকে মৃত ঘোষণা করেন। উইলিয়াম আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ নীরাজ ও তার স্ত্রী জোসনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।পুলিশ জানায়, ওই বাসায় যে চারজন থাকতেন তারা সবাই ভারতের মণিপুরের বাসিন্দা।

গাজীপুরে স্ত্রী খুন, স্বামী আটক

টঙ্গীতে স্বামীর হতে স্ত্রী খুন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্বামী মো. হানিফকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হানিফ নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানা এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে। নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, মেয়ে খুকুমনি (২২) স্বামীর সঙ্গে টঙ্গীর বড় দেওড়া এলাকার পরান মণ্ডলের টেক এলাকার সিদ্দিক মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে সকালে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামী ঘরে থাকা দা দিয়ে খুকু মনির গলা ও পেটে আঘাত করে। এসময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা গিয়ে হানিফকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। গুরুতর অবস্থায় খুকুমনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। টঙ্গী থানার এসআই চন্দন কুমার জানান, এ ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে পুলিশ আটক করেছে। তবে কী নিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড তা তদন্তের পর বলা যাবে।

শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠা হাবিবার নতুন জীবন শুরু

বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসী হাবিবা আক্তারের বিয়ে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে হাবিবার বাবার ভূমিকায় থাকা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে কাজী আবু জামাল হাবিবা-জাকারিয়ার বিয়ে পড়ান। বিয়ের দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১ হাজার টাকা। বিয়েতে উকিল বাবা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার। হাবিবা-জাকারিয়ার আলোচিত এ বিয়েতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাসহ নানা শ্রেণী-পেশার তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১টা ৪০ মিনিটে স্বজনদের নিয়ে শিশু পরিবারে হাজির হন বর জাকারিয়া আলম। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত ও শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা বেগম বরকে বরণ করে নেন। অনাথ হাবিবাকে বিয়ের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ কনস্টেবল বর জাকারিয়া আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি খুব ভাগ্যবান। পুলিশ সুপার মিজানুর স্যারকে অনেক ধন্যবাদ। হাবিবাকে নিয়ে যেন দাম্পত্যজীবন সুখের হয়, সে জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন।’ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ সুপারের সরকারি বাংলো থেকে হাবিবাকে তার বর জাকারিয়ার হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী ফারহানা রহমান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হকের মৃত্যুতে মন্ত্রী তার সফরসূচি বাতিল করেন।

সকালে টিউমার রাতে স্বাভাবিক

ছোট্ট শিশু রেশমার মাথার বামপাশে প্রতিদিন সকালে গজিয়ে ওঠে টিউমার। দিনভর শুধু বেড়েই চলে। তবে রাতের বেলা সবকিছু স্বাভাবিক। কোনো টিউমারের চিহ্ন নেই। সকাল হলে আবার সেই আগের টিউমারটি দেখা দেয় শিশুর মাথায়। জন্মের একমাস পর থেকেই রেশমার ওই রোগটি দেখা দিয়েছে। পাঁচ মাস বয়সী রেশমার এই ব্যাধি নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় তার ভ্যানচালক বাবা কোরবান আলি। শহরের এক প্রান্তে বাটকেখালি মহল্লায় বাড়ি ওই দরিদ্র ভ্যান চালকের। কোরবান বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে এসেছিলেন তার শিশুর ব্যাধির কথা জানাতে। বলেন, বিভিন্ন হোমিও ডাক্তারকে দেখিয়েছি। কখনও বাড়ে, কখনও কমে। কিন্তু টাকার অভাবে ভালো কোনো চিকিৎসা করাতে পারছি না। তিনি বলেন, ভ্যান চালাই। সুযোগ হলে গাছে চড়ে নারকেল পাড়ি। এভাবেই চলে আমার দিন। কোরবান আলি বলেন, দিন পনের আগে সাতক্ষীরা সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলাম মেয়েকে নিয়ে। ডাক্তার বলেছেন সিটিস্ক্যান করাতে। খরচ লাগবে ১১ হাজার টাকা। এই টাকা জোগাড়ের কোনো পথ নেই আমার। কি হবে আমার মেয়ের। তার আরেক মেয়ে তসলিমা আক্তার তন্বী। মা স্ত্রী ও দুই শিশুকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। এর মাঝে শিশুকে নিয়ে বিপাকে রয়েছেন তিনি।

রাতে লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

লন্ডনের উদ্দেশে আজ শনিবার রাতে ঢাকা ছাড়ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পা ও চোখের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যাচ্ছেন বলে জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৭টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হবেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে যাচ্ছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল, চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার ও গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। তাকে বিদায় জানাতে বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত থাকবেন। এ তথ্য জানান চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার। এর আগে ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া লন্ডন যান। সেবার ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে দেশে ফেরেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশে ফিরেই খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
জানা গেছে, লন্ডন সফরকালে খালেদা জিয়া উল্লিখিত বিষয়সহ দলের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। খালেদা জিয়ার ফেরার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা নির্ভর করবে তার চিকিৎসার ওপর। চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করেই তিনি দেশে ফিরবেন। দলের নেতারাও তাকে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ঈদের আগেই তিনি দেশে ফিরতে পারেন বলেও একটি সূত্র জানায়। এদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানায়, চেয়ারপারসনের লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারেক রহমান। বর্তমানে ছোটভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারও তার সঙ্গে থাকেন। তার বাসা প্রয়োজনের তুলনায় ছোট হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে থাকতে সাময়িকভাবে একটি বাসাও ভাড়া করেছেন। সেখানেই থাকবেন খালেদা জিয়া। জানা গেছে, খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির ঢাকাসহ ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও কথা প্রসঙ্গে আলোচনা হয়।

প্রধান লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন

দেশের রাজনীতিতে আবারও নয়া মেরুকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তৃতীয় একটি জোট গঠনের। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি জাতীয় নেতা আ স ম আবদুর রবকে সামনে রেখে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূলত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং বাম-প্রগতিশীল ঘরানার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় এ জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ জোটের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা। পাশাপাশি এ ব্যাপারে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা। আর এই রূপরেখার আলোকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবিতে রাজপথে নামবে এই নতুন জোট। এ ছাড়া নির্বাচনেও অংশ নেবে তারা। নয়া এ জোট গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র যুগান্তরের কাছে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র আরও জানায়, জোট গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে আ স ম আবদুর রবের সঙ্গে তার উত্তরার বাসভবনে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের স্থায়ী কমিটির সদস্য আওম শফিকউল্লাহ ও অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, বাসদের পলিটব্যুরোর সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাহী বি চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শহিদুল্লাহ কায়সার, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীর প্রতীক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য বহ্নিশিখা জামালী। এ ছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
তবে বৈঠক চলাকালে দুই দফা পুলিশের কয়েকজন সদস্য আ স ম আবদুর রবের বাসায় যান। তারা ওই বৈঠকের বিষয়ে জানতে চান। ওই সময় পুলিশকে জানানো হয়, সবাইকে রাতের খাবারের নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈঠকে আ স ম আবদুর রব তার বাসায় ঢুকে পুলিশের এমন আচরণের বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরে বলেন, ‘এর পরও কি আমরা চুপ থাকব? আমরা এভাবে ঘরে বসে থাকব? আমাদের কি কিছুই করণীয় নেই?’ তখন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমাদের কিছু একটা করা উচিত। মানুষ দুই দলের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। আমরা কিছু একটা করতে পারি।’ এ সময় মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কি করতে চাই, তা সুস্পষ্ট করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, লক্ষ্যহীনভাবে পথ চলা যাবে না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’ এ সময় গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘সরকার দিন দিন আরও স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে। বিএনপির ওপরও মানুষের আস্থা নেই। এ অবস্থায় আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে।’ তখন অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন ভালো মানুষ। ভালো সব উদ্যোগে তিনি থাকেন। কিন্তু প্রয়োজনের সময় তাকে পাওয়া যায় না।’ জবাবে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন যাতে এখন থেকে সব সময় থাকেন, তার নিশ্চয়তা দেয়া হবে।’ এ সময় আ স ম রব বলেন, ‘আমাদের মতের ভিন্নতা আছে, দলগুলোর নিজস্ব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু জাতীয় ইস্যুতে আমাদের এক হতে হবে। এক মঞ্চে আসতে হবে। দুই দল ও জোট ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা চাইলে সফল হতে পারি। সে সম্ভাবনা আমাদের রয়েছে। তাই আমাদের যে কোনো মূল্যে একত্র হতে হবে। দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্র রক্ষা করতে এর কোনো বিকল্প নেই।’ আ স ম আবদুর রবের এ বক্তব্যের পর মাহী বি. চৌধুরী বলেন, ‘সফল হতে হলে আমাদের অবশ্যই লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আমরা কী চাই? আমাদের চাওয়া কিভাবে পূরণ হবে? এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।’ এ সময় অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে চাইবে। বিএনপিও এবার নির্বাচনে অংশ নেবে। এ অবস্থায় আমাদের ভূমিকা কী হবে- তা ঠিক করতে হবে।’ এ সময় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘দিন দিন সবকিছু সংঘাতময় হয়ে উঠছে।
সরকার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে তৃতীয় শক্তির প্রয়োজন।’ এ সময় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক বলেন, ‘সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে। সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য ঘরে বসে না থেকে প্রয়োজন মাঠে নামা। একসঙ্গে আন্দোলন ও নির্বাচনের কৌশল প্রণয়ন করা।’ এ সময় পৃথক একটি জোট গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি একসঙ্গে আন্দোলন এবং নির্বাচনের কৌশল প্রণয়নেরও সিদ্ধান্ত হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের পক্ষ থেকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈঠক উপলক্ষে রাতের খাবারেরও আয়োজন করা হয় আ স ম আবদুর রবের পক্ষ থেকে। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তার বাসায় আসতে শুরু করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছেলে মাহী বি চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এর আগেই আ স ম আবদুর রবের বাসায় রাজনীতিকদের বৈঠক হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা ছুটে আসেন। তারা বৈঠক করার ক্ষেত্রে ওপর মহলের নিষেধাজ্ঞা আছে বলে আ স ম রবকে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকাকে নিয়ে চলে যান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। বাকিরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই বৈঠক করেন এবং রাতের খাবার খান। এর মধ্যে আরও এক দফা আ স ম আবদুর রবের বাসায় যান পুলিশের কর্মকর্তারা। যদিও শীর্ষ রাজনীতিকদের সম্মিলিত বাধার মুখে তারা ফিরে আসেন।
জানা গেছে, রাতের এ বৈঠকে অংশ নেয়া শীর্ষ নেতারা দুই বড় দল এবং জোটের বাইরে তৃতীয় একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তাসহ দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। সব দলের অংশগ্রহণে আগামীতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে জনমত গড়ে তোলা, নির্বাচন কার অধীনে হবে- সে বিষয়ে একটি রূপরেখা উপস্থাপন, একসঙ্গে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়াসহ নানা ইস্যুতে আলোচনা করেন তারা। এ ছাড়া সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এ ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করারও সিদ্ধান্ত নেন তারা। যত দ্রুত সম্ভব জোট গঠন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। এ ক্ষেত্রে বিশিষ্ট আইনজীবী গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি (ড. কামাল হোসেন) এ মুহূর্তে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে বৈঠকে জানান গণফোরামের নেতারা। জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘মূলত এটা ছিল একটি খাওয়ার দাওয়াত। আর রাজনীতিবিদরা একসঙ্গে বসলে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, এখানেও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ যেভাবে ঘরের ভেতরে ঢুকে বাধা দিতে চেষ্টা করল, তা দুঃখজনক। পুলিশের এ আচরণই প্রমাণ করে, দেশের এখন কী অবস্থা।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে মানুষ ঘরেও এখন আর নিরাপদ না।
এ অবস্থার অবসান খুবই জরুরি।’ সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় দু’বছর আগে আ স ম আবদুর রবকে সামনে রেখে তৃতীয় একটি জোট গঠনের এ উদ্যোগ শুরু হয়। এ সময় একাধিকবার আ স ম আবদুর রবের বাসায় এবং সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে জোট গঠন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়। জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি এমএ গোফরান, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং নাগরিক ঐক্যের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শহিদুল্লাহ কায়সারকে নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। ১৪ দলীয় জোট এবং ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়। এই প্রক্রিয়া মাঝপথে স্তিমিত হয়ে গেলেও এটি আবার নতুন করে এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন যুগান্তরকে বলেন, ‘নতুন একটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া আরও আগেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু মাঝে নানা ঘটনায় তা ঝিমিয়ে পড়ে। সম্প্রতি আবার নতুন করে এ উদ্যোগকে এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার রাতে আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পুলিশ যেভাবে ঘরের ভেতরে ঢুকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে তা নজিরবিহীন। আইয়ুব-ইয়াহিয়ার শাসনামলেও এরকম ঘটনার কথা কেউ শোনেনি।’ আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘দেশের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এনে আমরা মনে করি, আর বসে থাকার সময় নেই। বসে থাকাটাও হবে বোকামি। এ অবস্থায় কিছু একটা করা উচিত।
দেশের মানুষেরও এমনটাই চাওয়া। তাই আমরা অচিরেই একটি জোট নিয়ে আত্মপ্রকাশ করার কথা ভাবছি। এ জোট আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব নতুন জোট দেশবাসীকে উপহার দেব।’ বৈঠক সম্পর্কে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘দুই বড় দল ও জোটের বাইরে বিকল্প একটি শক্তির উত্থান দেশবাসীও চায়। আমরাও চাই। এরকম একটি চাওয়া থেকেই আমরা এর আগেও আলোচনায় বসেছিলাম। বৃহস্পতিবার রাতেও আলোচনায় বসেছি। এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ইস্যুতে যুগপৎভাবে রাজপথে থাকা যায় কিনা, পাশাপাশি একটি যুক্তফ্রন্ট করে একসঙ্গে আন্দোলন, জনমত গড়ে তোলা এবং নির্বাচনে অংশ নেয়া যায় কিনা, সে বিষয়টি নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’ সাইফুল হক বলেন, ‘এর আগেও কয়েক দফা আমরা আলোচনা করেছি। তবে এবারের আলোচনা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আমরা বেশকিছু ইস্যুতে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ও অবস্থান নিয়েছি।’ এ প্রসঙ্গে বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘আ স ম আবদুর রব তার বাসায় খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেখানে আমরা ছিলাম। রাজনীতিবিদরা একসঙ্গে বসলে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়, আমরাও আলোচনা করেছি। দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি, এ মুহূর্তে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে। এ সময় জোট গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’ জানা গেছে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বাম ঘরানার বেশ কয়েকটি দল গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা নামে পৃথক একটি জোট গঠন করে দীর্ঘদিন ধরে পথ চলছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) জোটবদ্ধভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। সম্প্রতি বাসদ, সিপিবি এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা একসঙ্গে পথ চলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ শনিবার বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে নয়া কর্মসূচি ঘোষণা করবে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। বেলা ৩টায় তারা সিপিবি এবং বাসদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। এ সময় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে তারা। সূত্র জানায়, এখন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সবাইকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসার। যদিও এর আগে গণফোরাম সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আ স ম আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ সমমনাদের নিয়ে পৃথক একটি জোট গঠন করলেও কিছুদিন যেতে না-যেতেই তা ভেঙে যায়।
নয়া জোট গঠন প্রক্রিয়ায় অতীতের সেই অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানো হবে। জানা গেছে, এ বৈঠকে নয়া জোট গঠন করা ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে কাদের নেয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আ স ম রবের বাসায় ডিনারের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানেও পুলিশ বাধা দিয়েছে। আরও কয়েকটি দলের প্রধান আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসেননি। বাসার একটি ডিনারে পুলিশি হানা কাম্য হতে পারে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে খেতে বসলে তো অনেক বিষয়েই আলোচনা হয়।’ এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সুব্র চৌধুরী বলেন, ‘একটি বাসায় যখন রাজনীতিবিদরা একত্র হন, তখন পুলিশ বাধা দেয়। এ থেকেই বোঝা যায় দেশে বর্তমান অবস্থা।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আমরা মনে করি, আর বসে থাকা ঠিক হবে না। কিছু একটা করা উচিত। আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে আবারও বৈঠকে বসব।’

নির্বাচনের সময় রুটিন ওয়ার্ক ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কোনো ক্ষমতা থাকবে না: ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দায়িত্বে আছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ এ নেতা কথা বলেছেন সাম্প্রতিক রাজনীতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে। এতে উঠে এসেছে নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে সরকারি দলের অবস্থানের বিষয়টিও। দলীয় কোন্দল, আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের মাপকাঠি এবং মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর স্বপন
যুগান্তর : নির্বাচনী ট্রেনে এখন রাজনীতি। বলা যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সেই ট্রেনের ড্রাইভিং সিটেই আছে। আপনি কী মনে করেন?
ওবায়দুল কাদের : আমরা ট্রেনেই আছি। প্রস্তুতি আরও আগেই শুরু করেছি। এখন সেই প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। আমাদের একদিকে বিভিন্ন আসনে সংসদ সদস্যদের কার কী অবস্থা এ বিষয়ে জরিপ কাজ চলছে। সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি সংস্থা জরিপ করছে। জরিপে পেশাজীবীরা যেমন আছেন তেমনি সরকারি সংস্থাও আছে। এর পাশাপাশি আমরা দলীয় পর্যায়েও খোঁজখবর নিচ্ছি, ক্লোজলি মনিটর করছি। পাশাপাশি সাংগঠনিক কাজও এগিয়ে চলছে। আমরা বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি সভা করছি। বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে শিগগিরই প্রতিনিধি সভা হবে। জেলা পর্যায়ে আমরা অনেক প্রতিনিধি সভা করেছি। এটা শুধু আনুষ্ঠানিক সভা নয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তৃতা-ভাষণে সবকিছু সীমাবদ্ধ রাখিনি আমরা, তৃণমূলে নেতাকর্মীদের বক্তব্যও শুনছি। তাদেরও প্রার্থী নিয়ে চিন্তাভাবনা আছে। সেটা তাদের আলোচনায় প্রকাশ পাচ্ছে। আবার নির্বাচনের সময় তৃণমূলকে একটা চয়েস দেয়া হবে প্রার্থী বাছাইয়ে। তারা প্রার্থী বাছাইয়ে তিনজন পর্যন্ত নাম পাঠাতে পারে। সেটা আমরা জরিপের সঙ্গে মিলিয়ে প্রার্থী বাছাই করব এবং মনোনয়ন দেব।
যুগান্তর : তৃণমূল পর্যায়ে অনেক সংসদ সদস্যই বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে খুন, দুর্নীতিসহ মাদক পাচারের অভিযোগ আছে। কিছু কিছু জরিপেও এমন সংসদ সদস্য চিহ্নিত হয়েছে বলে জেনেছি। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিষয় আমলে নেবেন কিনা? নতুন মুখ কি আসবে?
ওবায়দুল কাদের : নতুন মুখ আসবে বেশকিছু আসনে। তবে কতটি আসনে পরিবর্তন হবে তা এখন বলতে পারছি না। এখন যারা আছেন, তাদের কর্মকাণ্ডে যদি কোনো ঘাটতি থাকে, জনমনে কাউকে নিয়ে যদি ইমেজ সংকট থাকে, তাদের আমরা শুদ্ধ হওয়ার জন্য সময়সীমা দিয়েছি- আগামী ছয় মাসের মধ্যে তোমরা নিজেদের ঠিক করে নাও। এ নির্দেশনা মোতাবেক যদি তারা নিজেদের শুদ্ধ করে নিতে পারে, তাহলে আমরা অবশ্যই বিজয়ী হতে পারে এমন প্রার্থীকে মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করব।
যুগান্তর : সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা, মন্ত্রী তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা কি এবার মনোনয়নবঞ্চিত হবেন?
ওবায়দুল কাদের : আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী- এলাকায় আমারও যদি জনপ্রিয়তা না থাকে, আমি যদি বিজয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী না হই, তাহলে আমি নিজেও মনোনয়ন নেব না। জনগণ না চাইলে আমি কেন দাঁড়াব?
যুগান্তর : কোন প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার যোগ্যতা রাখে- এর মাপকাঠি কী হবে?
ওবায়দুল কাদের : জনগণকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে প্রার্থীর কার্যকলাপ সম্পর্কে। আমি একটা এলাকায় পা দিলেই তো বুঝতে পারব ওখানকার এমপি সম্পর্কে জনগণের কী ধারণা। আজকাল মানুষ চুপচাপ থাকে না।
যুগান্তর : আওয়ামী লীগ পরপর দু’বার ক্ষমতায়। এবার তৃতীয়বারের জন্য লড়াইয়ে নামছে। সেক্ষেত্রে আবার বিজয় অর্জন কতটা চ্যালেঞ্জের হবে?
ওবায়দুল কাদের : সবকিছু তো ফেভারে থাকে না। আওয়ামী লীগ পরপর দু’বার ক্ষমতাসীন। তাই থার্ড টার্ম নির্বাচনে জেতা একটু কঠিন। এ সমস্যা সব দেশেই আছে। তুরস্কে এরদোগান প্রথমবার যেভাবে জিতেছেন, দ্বিতীয়বার কিন্তু তার ভোট কমেছে। তৃতীয়বারে গিয়ে তার ভোট আরও বেশি কমেছে। অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহারের জবাবে গণভোটে তার পক্ষে যে রায় এসেছে তা খুব বেশি ছিল না। তাই তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে একটা সমস্যা থাকে। তারপরও আমাদের একটা বিশ্বাস আছে। পঁচাত্তর-পরবর্তী ২৮ বছরে যে উন্নয়ন হয়নি, সে উন্নয়ন আমরা গত তিন-সাড়ে তিন বছরে করেছি। এর রেকর্ড আছে এবং এটা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ও প্রশংসিত। বাংলাদেশের লোকজনও জানে। শহরের ভোটারদের মধ্যে নানারকম টানাপোড়েন থাকে, একেকটা বিষয়ে আলোড়িত হয়, হলি আর্টিজান এটারও একটা প্রতিক্রিয়া থাকে, জীবনকে বদলে দেয় এরকম অনেক ঘটনা আছে। তবে গ্রামের চিত্র কিন্তু ভিন্ন। গ্রামের লোকরা উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয় আর দেয় আচরণকে। উন্নয়নকে তারা নম্বর ওয়ান প্রায়োরিটি দেয়, নম্বর টু হচ্ছে আচরণ। এখন আচরণের জন্য আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি যেহেতু আমরা ক্ষমতায়। ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার দাপট দেখানো- এটা ক্ষতি করে। বিভিন্ন আসনের ক্ষেত্রে অবশ্য এর পার্থক্য আছে। এরপরও আমাদের একটা হিসাব আমরা করেছি। সেই হিসাবে আমরা হয়তো গতবারের মতো অত আসন পাব না। তবে আসন কমলেও বিজয়ের ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী।
যুগান্তর : আপনারা ক্ষমতায় আছেন। তাই অনেক আসনে ক্ষমতার দ্বন্দ্বও আছে। এর বহিঃপ্রকাশ বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, দেখা যাচ্ছে। এ কোন্দল জিইয়ে থাকলে নির্বাচনে কি তা প্রভাব ফেলবে না?
ওবায়দুল কাদের : কোন্দল নিরসনে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। যেখানে দ্বন্দ্ব-সংকট আছে সেখানকার নেতাদের নিয়ে দু-একদিন পরপরই বৈঠক চলছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের ডেকে নিয়ে মীমাংসা করছি, কথাবার্তা বলছি। এতে ফল পাচ্ছি। আমি যখনই ঢাকায় থাকি এবং আমাদের যারা সংশ্লিষ্ট যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আছেন, তাদের নিয়ে আমরা প্রতিদিনই সংকট নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছি। যাকে যা বলার বলে দিচ্ছি। আর কোথাও সাংগঠনিক সংকট থাকলে এর মীমাংসাটাও আমরা এ বৈঠক থেকে দিয়ে দিচ্ছি।
যুগান্তর : তবে কিছু জায়গায় দ্বন্দ্ব-সংকট লেগেই আছে। কোনো কিছুতেই এর সমাধান হচ্ছে না মনে হয়। চট্টগ্রাম এর উদাহরণ হতে পারে।
ওবায়দুল কাদের : বড় দলে বড় কিছু দ্বন্দ্ব থাকবেই। এটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের কর্মীরা সচেতন। এটা আমি এই অর্থে বলছি- কিছু নেতা আছে যারা নবাগত, টাকা-পয়সা আছে, নির্বাচন করতে চায়। আবার দলেরও অনেকের ইচ্ছা থাকতেই পারে নির্বাচনের। বড় দল, তাদেরও এমপি হওয়ার একটা স্বপ্ন থাকতে পারে, তারাও চেষ্টা করতে পারে। তবে আমরা সবাইকে বলে দিয়েছি, এখন কোনো প্রার্থী নেই, প্রার্থী হচ্ছে নৌকা। নৌকাকে প্রার্থী করে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে সে-ই আমাদের প্রার্থী। তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। আমাদের কর্মীদের এবার একটা বিষয় আছে- পেছনে ফিরে দেখার একটা তাগিদ আছে। সেটা হল ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন আমাদের হাজার হাজার কর্মী ঘরছাড়া হয়েছে। আমাদের ২১ হাজার নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। আজকে বিএনপি গুম-খুনের কথা বলে, সেই সময় আমাদের কতজন গুম হয়েছে এর হিসাব নেই। কিবরিয়া সাহেব, আহসান উল্লাহ মাস্টারের মতো আমাদের প্রথম সারির অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই হামলায় আইভি রহমানসহ ২৩ জন নিহত হয়েছেন। তবে এর প্রধান লক্ষ্য ছিল আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। এ তথ্যগুলো সবাই জানে। সেই বিভীষিকা, সেই অন্ধকারের ছবি খুব বেশিদিন আগের নয়। তাই আমাদের নেতাকর্মীদের মনে আছে বিএনপি আগের মতো আবার ক্ষমতায় এলে কী হতে পারে। সেই ২০০১ সাল-পরবর্তী যে অবস্থা হয়েছিল এদেশে, তার চেয়ে ভয়াবহ দুঃসময় নেমে আসবে। কাজেই এ বিবেচনায় আমরা ঐক্যবদ্ধ। এটাও আমাদের ঐক্যের একটা অনুঘটক।
যুগান্তর : সাংগঠনিক ঐক্য বা কার্যক্রমের জায়গা থেকে দ্রুত সহ-সম্পাদক নিয়োগের দাবি আছে নেতাকর্মীদের। শিগগিরই কি এ তালিকা ঘোষণা করা হবে?
ওবায়দুল কাদের : এবার সহ-সম্পাদকের তালিকা আমি করে দিচ্ছি না। এক্ষেত্রে নেত্রীর নির্দেশ আছে। সহ-সম্পাদক আমাদের প্রত্যেক যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে তিনজন করে থাকবে। আট বিভাগে ২৪ জন। ১৯টি সম্পাদকীয় পদ আছে। এর মধ্যে গুরুত্ব ও কাজ বিবেচনায় রেখে প্রতিটি পদের বিপরীতে সহ-সম্পাদক পাঁচজনের মধ্যে সীমিত থাকবে। কেউ তিনজন পাবে, কেউ চারজন, কেউবা পাঁচজন পাবে। কিন্তু উপকমিটি হবে ২০ থেকে ৩০ জনের। এখানে এক্সপার্ট আসবে। আমাদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে যে সংসদ সদস্যরা আছেন, তারা এখানে চলে আসবেন। কাজেই এবার সদস্য থাকা নিয়ে কারও কোনো দ্বিধা থাকবে না। এসব ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে তালিকা জমা পড়ছে। জমা দিলে আমরা অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছি। এবার ওভাবে তালিকা দেব না। তবে বলতে পারি সহ-সম্পাদক একশ’র ভেতরে থাকবে। সদস্য অনেক থাকবে।
যুগান্তর : তবে গতবার সহ-সম্পাদকদের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তাদের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
ওবায়দুল কাদের : গতবারেরটা গতবারের বিষয়। তখন বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে কৌশলগত কারণে সীমারেখাটা ধরে রাখতে পারিনি। এবার আমরা সীমারেখার বাইরে যাব না।
যুগান্তর : দল সংগঠিত করার পাশাপাশি জোট সম্প্রসারণে এবার আওয়ামী লীগের কৌশল কী? আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্বে আছে। যেখানে বামপন্থী দলের প্রাধান্য। আবার বিপরীত মেরুর হেফাজতে ইসলামের সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের। তাদের নানা দাবি মানা হয়েছে। নির্বাচন এগিয়ে এলে কি ইসলামী দলের দিকে আপনাদের ঝোঁক আরও বাড়বে?
ওবায়দুল কাদের : জোটের বিষয়টি কৌশলগত। আমি একটা বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার করতে বলতে চাই, যারা নানা সন্দেহ করছেন, তাদের জন্য স্পষ্ট করে বলতে চাই, সময়ের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের কৌশলগত পরিবর্তন হতে পারে; কিন্তু আওয়ামী লীগ তার শেকড় থেকে কখনও একবিন্দুও সরে যাবে না। আমরা আমাদের শেকড়ের বন্ধনে আবদ্ধ, এখান থেকে আমাদের সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কৌশলগত পরিবর্তন আসবে। আমরা, জাতীয় পার্টি বা ১৪ দলের শরিকরা বা আমাদের সঙ্গে তরিকত ফেডারেশন আছে। এটাও তো ইসলামী দল। গতবার তারা আমাদের জোটে ছিল। এরকম আরও অনেকেই আসতে পারে। তাই বলতে চাই, নির্বাচনী যে জোট সেটা ভিন্ন জিনিস। জোটের একটা বড় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব জনমনে থাকে। এখন বিএনপিও তো একটা বড় অ্যালায়েন্সের নেতৃত্বে আছে। এরশাদ সাহেবও একটা বড় জোটের কথা বলেছেন। এক্ষেত্রে একেকটি রাজনৈতিক দলের একেক হিসাব।
যুগান্তর : জাতীয় পার্টি মহাজোটের শরিক ছিল। আবার আপনাদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করছে। এরই মধ্যে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তারা আলাদা জোট গঠন করেছে। তাহলে সমীকরণটা কী? বিএনপি নির্বাচনে এলেও কি জাতীয় পার্টি মহাজোটে না এসে আলাদাভাবে নির্বাচন করবে?
ওবায়দুল কাদের : জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত কোথায় থাকে সেটা হল বড় কথা। আলাদা আলাদা জোট অনেকেই করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে কোন জোটে নির্বাচন করবেন সেটা বোধহয় বলার বাস্তব সময় এখনও আসেনি।
যুগান্তর : জোট সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কী কৌশল বা নীতি হবে আওয়ামী লীগের? এখন দেখা যাচ্ছে বাম-ডান-চরম ডান সবাইকে একই ছাতার নিচে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
ওবায়দুল কাদের : নির্বাচনী জোটের ক্ষেত্রে দুটি জায়গায় আমরা স্থির থাকব- সেটা হল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। যারাই আমাদের জোটে আসুক এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু- এ দুটি মৌলিক জায়গায় এক থাকতে হবে। এসব বিষয়ে আমাদের সম মনস্কতার একটা ব্যাপার আছে।
যুগান্তর : রাজনীতির এখন মূল আলোচনা- নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে? বিএনপি সহায়ক সরকারের কথা বলছে। আপনারা কী ভাবছেন? ফর্মুলা কী হবে?
ওবায়দুল কাদের : কোনো ফর্মুলা নেই। ফর্মুলা আমাদের সংবিধান। সংবিধানের ১১৮ ও ১১৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন পরিচালিত হবে, অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকালীন সরকার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে হয়, বাংলাদেশেও ঠিক সেভাবে হবে। আমরা এখানে ভিন্নতর কিছু কেন আশা করছি? যে নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কমিশনকে আমরা গ্রহণ করেছি। বিএনপি গ্রহণ করেছে। তাই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন নেই। কোনো কথাও হচ্ছে না। এর মানে বিএনপি একে মেনে নিয়েছে। যদি মেনে নেয়, তাহলে আগামী নির্বাচন এ কমিশনের অধীনেই যৌক্তিক। তখন যে সরকার থাকবে সেই সরকার একটা রুটিনমাফিক দায়িত্ব পালনের জন্য থাকবে। সেই সরকার নির্বাচনসংশ্লিষ্ট যে সংস্থা-প্রতিষ্ঠান আছে, এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে। ক্ষমতাসীন সরকারের সহায়তা করা ছাড়া অন্য কোনো দায়িত্ব থাকবে না। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না, শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে। নির্বাচনের জন্য যা যা দরকার সেগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত থাকবে। যেমন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ তখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার- সেটা তখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। সেনাবাহিনীর যে দায়িত্ব, সেটা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। তাই সে সময় যে সরকার থাকবে সেই সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো ভূমিকা থাকবে না। তাহলে বিএনপির এখানে ভয় কীসের। আমি বুঝি না তারা কেন ভয় পাচ্ছে? তাদের আমলে তারা কীভাবে নির্বাচন করতে চেয়েছে সেটা আমরা জানি। আজিজ মার্কা কমিশন সে সময় আমরা দেখেছি। ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটারের ইতিহাস এদেশে আছে, সেটা অন্তত আমাদের সময়ে হবে না।
যুগান্তর : বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেটা সংবিধানের অধীনেই ছিল। এবারও কি বিএনপিকে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দেয়া হবে? নির্বাচনকালীন মন্ত্রিপরিষদ কি ছোট হবে?
ওবায়দুল কাদের : অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাধারণত ছোট হয়। তাই বলা যায় তখন মন্ত্রিপরিষদ ছোট হয়ে যাবে- বড় রাখার দরকার তো নেই। আরেকটি বিষয় যেটি বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির অংশগ্রহণ থাকবে কিনা? আমি বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাব দেবেন কিনা এখনও সে প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি না। কারণ বিএনপিকে গতবার ডেকে আমরা পজিটিভ কোনো সাড়া পাইনি। শুধু গালিগালাজ পেয়েছি। খালেদা জিয়া প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোংরা ভাষায় কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ভালোভাবে সম্বোধনও তিনি করেননি। এখনও তার মুখে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সম্মানজনক কথা শোনা যায় না। এভাবে রাজনীতিতে কী সমঝোতা হতে পারে? আপনার ছেলে মারা গেছে, আমি আপনার বাড়ির দরজায় গেলাম, সেখানে দরজাটা বন্ধ করে দিলেন- এটা যাদের মানসিকতা, তাদের সঙ্গে সমঝোতা কী করে হয়?
যুগান্তর : তবে বিএনপির সেই মানসিকতার কি কিছুটা পরিবর্তন হয়নি? তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির কারণে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যায়নি। কিন্তু এখন তারা সহায়ক সরকারের কথা বলছে- ছাড় দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও এমন কোনো ছাড় দেয়া হবে কিনা?
ওবায়দুল কাদের : ছাড় দিচ্ছে কারণ তারা এখন নোহায়্যার হয়ে গেছে। তারা কোথাও নেই। তাই এখন নানান কথা বলছে। তাদের নেতারা একেক দিন একেক কথা বলে। এক নেতা বলে, যত বাধা আসুক, নির্যাতন আসুক, বিএনপি নির্বাচনে যাবেই। আবার আরেক নেতা খালেদা জিয়ার নির্দেশের কথা বলে হুমকি দেয়, সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। তাদের কথা যদি ধরি, তাহলে সহায়ক সরকার তো থাকছে। সরকারের হাতে তো কিছু থাকবে না, নামমাত্র দায়িত্ব পালন করবে।
যুগান্তর : কিন্তু বিএনপি বলছে, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা অসীম। তাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।
ওবায়দুল কাদের : নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রীর কোনো ক্ষমতা থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী তখন ইচ্ছে করলেও মেট্রোরেল উদ্বোধন করতে পারবেন না। নির্বাচনকালীন মেট্রোরেলের মতো প্রকল্পের কাজ যদি শেষও হয়ে যায়, প্রধানমন্ত্রীর তখন তা উদ্বোধন করার সুযোগ নেই। রুটিন ওয়ার্ক করা ছাড়া তার কিছুই করার থাকবে না। কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিতে পারবেন না।
যুগান্তর : এরপরও তারা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার কথা বলছে। সহায়ক সরকারের কথা বলছে।
ওবায়দুল কাদের : আমরা নির্বাচনের আগে সংবিধান পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছি না। কারণ বারবার এসব আশকারা দিলে দেশের শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিনি। তিনি কারচুপি, ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি করে ক্ষমতায় আসবেন- এরকম মনমানসিকতা তার নেই। এটা তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি বলেই বলছি, শেখ হাসিনা এ কাজ করবেন না। বিএনপি এটা ভাবলে ভুল করবে। যদি এবারকার নির্বাচনটা শেখ হাসিনার অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু হয় তাহলে ভবিষ্যতে তারাও লাভবান হবে। তা না হলে তারা ক্ষমতায় এলেও বিপদে পড়বে। আমি বলি, শেখ হাসিনার অধীনে আগামী নির্বাচন একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হবে। আমি শতভাগ বিশ্বাস করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জনগণের রায়ের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। বিএনপি অহেতুক ভয় পাচ্ছে। আমার মনে হয়, এই নির্বাচনটা তারা করুক। তারা দেখুক। তারা তো এখন কোথাও নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক, দেশবাসী সাক্ষী আছে। সারা দুনিয়া থেকে পর্যবেক্ষক আসবে। তারা দেখবে। সরকারের সাংবিধানিকভাবে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই। অহেতুক হস্তক্ষেপ করে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের ইমেজ নষ্ট করা- এ কাজটা আমাদের দ্বারা হবে না।
যুগান্তর : একটা অভিযোগ করা হচ্ছে- খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে সরকার। যাতে আগামী নির্বাচনে তারা পুরো শক্তি নিয়ে অংশ না নিতে পারে।
ওবায়দুল কাদের : ষোড়শ সংশোধনী যখন বাতিল হল তখন আপনি স্বাগত জানাচ্ছেন। বলছেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। তাহলে স্বাধীন বিচারব্যবস্থায় আপনার যদি শাস্তি হয়, সেটা কেন আপনি মেনে নেবেন না? বিচার বিভাগ স্বাধীন আপনি বলছেন, তাহলে বিচার বিভাগ কি কেস টু কেস স্বাধীন? তাই মামলায় যদি আপনার বিরুদ্ধে রায় হয় তখনও তাহলে বিচার বিভাগ স্বাধীন- আমি সেটাই বলতে চাই।
যুগান্তর : নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ভাঙার গুজবও আছে। বলা হচ্ছে, সরকার বিএনপির একটি অংশ নিয়ে নির্বাচন করতে চায়।
ওবায়দুল কাদের : বিএনপি ভাঙলে তারা নিজেরাই নিজেদের দল ভাঙবে। বিএনপির প্রতিপক্ষ তারা নিজেরাই। যাদের আপন ঘরে শত্রু তাদের শত্রুতা করার জন্য বাইরের শত্রুর কোনো দরকার নেই। এটি জিয়াউর রহমান সাহেবের দল। এখানে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান তারাই তো ডমিনেট করে। এখানে ভাঙাভাঙির যদি কোনো প্রশ্ন আসে সেটা তাদের দলের নিজেদের দ্বন্দ্বের জন্য হতে পারে। দলের সিনিয়র নেতাদের মাঝে এমনও সম্পর্ক যে, কেউ কারও মুখের দিকে তাকাতে পারে না। তারা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়, নিজেরা নিজেদের সম্পর্কে নানান কথা বলে। এমনকি একজন আরেকজনকে সরকারের এজেন্টও বলে। এ সমস্যাটা আওয়ামী লীগে নেই। বিরোধী দলে থাকতেও ছিল না, এখনও নেই। তাদের এ সংকট রয়ে গেছে। তাদের দল যদি ভাঙে, তাহলে তা নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বের জন্য ভাঙবে। আওয়ামী লীগের কোনো প্রয়োজন নেই বিএনপিকে ভাঙার।
যুগান্তর : বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কোনো বাড়তি উদ্যোগ বা কৌশল কি থাকবে সরকারের?
ওবায়দুল কাদের : বিএনপি নির্বাচনে আসবে এটা আমরা চাই। বিএনপির মতো বড় দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে সে বিজয়েরও একটা দাম আছে। কাজেই আমরা চাই বিএনপি আসুক। আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই না। তবে বিএনপি নির্বাচনে আসবে কিনা এটা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। এজন্য বিএনপিকে কি আমরা করুণা বিতরণ করব? তাদের হাত-পা ধরে নির্বাচনে আনব? নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এটা সুযোগ নয়।
যুগান্তর : বিএনপি না এলেও কি ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আবার হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
ওবায়দুল কাদের : সরকার চায় বিএনপি নির্বাচনে আসুক।
যুগান্তর : নির্বাচনের আগে বা এ বছরই মন্ত্রিপরিষদে কোনো পরিবর্তন আসছে কি?
ওবায়দুল কাদের : হয়তো একটা পরিবর্তন হবে। কিন্তু কখন হবে এটা তো প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তাই কবে হবে এটা নিয়ে অন্ধকারে ঢিল ছোড়া ঠিক হবে না। যখন হবে সবাই দেখতে পাবে, আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবে। এসব ব্যাপারে যখনই আমি অনুমান বা ধারণার কথা বলব তখনই মন্ত্রীপাড়ায় ঘুম থাকবে না। অযথা কেন বিপদে ফেলছেন। টেনশনটা অহেতুক না। সামনে আবার আরেকটা ঈদ। আছি কী নেই এ চিন্তাটা তো ভালো নয়। যারা মোর দ্যান শিওর তাদের ব্যাপার আলাদা। কিন্তু পরিবর্তনের আগে কথা বললে যারা হতে চায় তারাও টেনশনে থাকবে আর যারা আছে তাদের তো বাদ পড়ার টেনশন থাকবেই। কাজেই অহেতুক টেনশনে কাউকে ফেলতে চাই না।
যুগান্তর : ধন্যবাদ আপনাকে।
ওবায়দুল কাদের : ধন্যবাদ আপনাদেরও।

আইফোন ৮ : ডিজাইন ও ফিচারে পরিবর্তন আসবে

আইফোন ৮ চলতি বছরেই আসতে পারে। তবে ঘোষিত সময়ের মধ্যে নাও আসতে পারে অ্যাপলের ডিভাইসটি। আইফোন ৮ উন্মুক্ত হওয়ার দিন যত সামনে আসছে ততই আতঙ্ক বাড়ছে নির্মাতাদের। যেহেতু চলতি বছরে আইফোন ১০ বছরে পা দিয়েছে তাই নির্মাতারা ফোনটির ডিজাইন ও ফিচারে বিশেষ কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। আর এজন্যই দেরিতে আসতে পারে ফোনটি। তবে আরও কারণ রয়েছে।
ওএলইডি
আইফোন ৮-এ ওএলইডি ডিসপ্লে রাখা হবে। ওএলইডি ডিসপ্লের বিশেষত্ব হল এটি ব্যাকলাইট ছাড়াও কাজ করে। ওএলইডি স্ক্রিন এখনও সহজলভ্য নয়। তাই ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনের পরবর্তী দুই মডেল আইফোন ৮ ও আইফোন ৮ প্লাসে ওএলইডি স্ক্রিন থাকবে না।
ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর
আগামী মাসেই আইফোন ৮-এর ফাইনাল ডিজাইন ছাড়পত্র পাওয়ার কথা। কিন্তু ফোনটিতে ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর রাখা হবে কিনা তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে অ্যাপল। অক্টোবরে ফোনটির উৎপাদন শুরু করতে হলে ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর রাখার বিষয়ে তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে।
থ্রিডি ফেইস স্ক্যানার
অ্যাপল তাদের আইফোনে থ্রিডি ফেইস স্ক্যানার যুক্ত করার ব্যাপারেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে ফেসিয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তা কতটা নির্ভরযোগ্য হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না অ্যাপেল। স্ক্যানারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ফোনটি টেবিলের ওপরে সমানভাবে ফেলে রাখলেও তা চেহারা চিনে নিতে পারে।
সফটওয়্যারে ত্রুটি
অ্যাপলের প্রকৌশলীরা বর্তমানে আইফোন ৮-এর ত্রুটি সারাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারণ সফটওয়্যারের এই ত্রুটি দ্রুতই সারানো না হলে ফোনটির উৎপাদন পিছিয়ে যাবে। আরেকটি বিষয় হল আইফোন ৮ বাজারে ছাড়ার সময় কিছু ফিচার ডিজ্যাবল করে রাখা হবে। পরে ওটা আপডেটের মাধ্যমে ফিচারগুলো এনাবেল করা হবে।
ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের ক্ষমতা
গুঞ্জন উঠেছে আইফোন ৮-এ ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সুবিধা থাকবে। ওয়্যারলেস এই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন ঘটাতে অ্যাপলের আরও কিছু সময় লাগতে পারে। ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের উপাদানগুলো অ্যাপলকে সরবরাহ করছে ব্রডকম ডটকম। টেকশহর।

পোকেমনে ‘মিস্ট্রি চ্যালেঞ্জ’

বিশ্বজুড়ে পোকেমন গো ভক্তরা জড়ো হবেন শিকাগোর গ্রান্ড পার্কে। সেখানে ২২ জুলাই থেকে পোকেমন গো ফেস্ট শুরু হতে যাচ্ছে। এই ফেস্টে প্লেয়ারদের জন্য তিনটি উইন্ডো চ্যালেঞ্জ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মিস্ট্রি চ্যালেঞ্জে নির্ধারিত ৩০ মিনিটের মধ্যে গেমারদের একটি নির্দিষ্ট ধরনের পোকেমন ধরতে হবে। যারা এ চ্যালেঞ্জে জয়ী হবে তাদের জন্য থাকবে উপহার ও বোনাস। একই সঙ্গে এক্স পি ও এনকাউন্টার নামে দুই ধরনের বোনাস রাখা হবে। যারা এ ফেস্টে অংশ নেবেন শুধু তারাই মিস্ট্রি চ্যালেঞ্জ খেলতে পারবেন। তবে তারা চ্যালেঞ্জে পাস করলে বিশ্বজুড়ে যত পোকেমন ভক্ত আছেন তাদের জন্যও উন্মুক্ত হবে পুরস্কারের ভাণ্ডার। পোকেমন গো নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনাকে মাথায় রেখে গেমটির ডেভেলপার নিয়ানটিক মিস্ট্রি চ্যালেঞ্জটির একটি ইনফোগ্রাফ তৈরি করেছে। ইতিমধ্যে ফেস্টটির সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। টেকশহর। -আইটি ডেস্ক

মালয়েশিয়ায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা পাচার

মালয়েশিয়ায় গত ১৪ বছরে ৩ হাজার ৫৪৬ জন বাংলাদেশি সেকেন্ড হোম গড়ে তুলেছেন। এদের কেউই বৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই দেশের বাইরে টাকা নেয়া হয়েছে। আইনগতভাবে এভাবে টাকা নিয়ে যাওয়ার সুযোগও নেই। তাই এ টাকার পুরোটাই পাচার করেছে এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ আমলা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বেশ কয়েকজন সুপরিচিত গণমাধ্যমকর্মী। তারা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা টাকায় মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম বা দ্বিতীয় আবাসস্থল গড়েছেন। এতে দেশ থেকে পাচার হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪২ হাজার কোটি টাকা। আরও ৪ হাজার ৮০৪ জন সেকেন্ড হোমের আবেদন করে অপেক্ষায় রয়েছেন। সেকেন্ড হোমের আবেদন করতে হলে মালয়েশিয়ার মুদ্রায় ৫ লাখ রিঙ্গিত বা টাকার অঙ্কে প্রায় ১ কোটি টাকা আগে জমা দেখাতে হয়। এ হিসাবে আরও প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা চলে গেছে। সব মিলিয়ে শুধু সরল হিসাবেই দেশটিতে পাচার হয়েছে ৪৭ হাজার কোটি টাকা।
এ ছাড়া যারা ইতিমধ্যে সেকেন্ড হোম গড়ে তুলেছেন, তাদের অনেকে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন খাতে। এর ফলে দেশ থেকে মালয়েশিয়ায় টাকা পাচারের অঙ্ক আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত এমএম২এইচ (মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম) প্রোগ্রামে দেশটির ২৩৮টি এজেন্টের বাইরে অনুমোদিত এজেন্ট নেই। এসব এজেন্টের মাধ্যমে সেকেন্ড হোমের আবেদন করতে হয়। কিন্তু দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় এমএম২এইচের সাব-এজেন্টের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের সাব-এজেন্টের সংখ্যাই বেশি। এ ধরনের একাধিক সাব-এজেন্টের সঙ্গে কথা বলে যুগান্তরের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি আহমাদুল কবির জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে সেকেন্ড হোম সুবিধা নেয়া যায় না। সরকার নির্ধারিত ফি’র সঙ্গে এজেন্ট ফিসহ যাবতীয় খরচ হিসাব করলে একজনের প্রকৃত ব্যয় দাঁড়ায় ১২ কোটি টাকার ওপরে। এ হিসাবে সেকেন্ড হোম গড়তে হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি প্রায় ৪২ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এ ছাড়া আবেদন করে সেকেন্ড হোমের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছেন ৪ হাজার ৮০৪ জন। তারা যদি লবিস্ট ফার্মকে এখন পর্যন্ত টাকা না দিয়ে থাকেন, তাহলেও ফরম পূরণের শর্ত হিসেবে দেশটিতে ব্যাংক হিসাব খুলে কমপক্ষে প্রত্যেকে ১ কোটি টাকা করে জমা রেখেছেন। সেকেন্ড হোম সুবিধার প্রাথমিক অনুমোদন না মিললে এ টাকা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। এদিকে ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর ৫(১) ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কেউই দেশ থেকে টাকা বিদেশে পাঠাতে পারেন না।
অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে কোনো অর্থ বিদেশে নিয়ে বিনিয়োগ করার আইনগত কোনো বৈধতা নেই। কিন্তু শুধু মালয়েশিয়া নয়, লন্ডন, সিঙ্গাপুর, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইয়ে বাংলাদেশের কয়েক হাজার লোক বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কেউ কেউ অনুমান করে বলেন, যার পরিমাণ কয়েক লাখ কোটি টাকা। এভাবে যারা সম্পদ কিনেছেন, তার পুরোটাই পাচার ও অবৈধ। এ বিষয়গুলো অনেকটা ওপেন সিক্রেট। পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত না পাওয়ার কারণে দেশের গণমাধ্যমগুলো সেভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারে না। তবে মাঝেমধ্যে বিদেশি কয়েকটি গণমাধ্যম পরিসংখ্যান কিংবা কারও কারও সম্পদ কেনার তথ্য ছবিসহ প্রকাশ করেছে। সূত্র বলছে, সরকার এসবের পুরোটাই জানে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না। কারণ দুই প্রধান দলের প্রভাবশালী লোকজনের অনেকে এ সুবিধা নিয়েছেন। তবে বর্তমান সরকার টানা অনেকদিন ক্ষমতায় থাকায় তাদের সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদ ও আমলার সংখ্যা এ তালিকায় বেশি ছাড়া কম হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমি বলে আসছি, পণ্য আমদানির আড়ালে দেশের বাইরে অর্থ পাচার হতে পারে। বিশেষ করে দেশে বিনিয়োগ না থাকলেও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়ছে। এর অর্থ হচ্ছে ওভার ইনভয়েসিংয়ের (আমদানি পণ্যে মূল্য বেশি দেখানো) মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একবার বিদেশে টাকা গেলে তা ফেরত আনা কঠিন। ফলে পাচারের পথগুলো বন্ধ করতে হবে।’
আর বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, বিডা থেকে কাউকে বিদেশে টাকা নেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়নি। বর্তমানে টাকা নেয়ার নীতিমালা নেই। এ ধরনের কাজ কেউ করে থাকলে তা অপরাধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ওই নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পরই বৈধভাবে টাকা নেয়া যাবে। জানা গেছে, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বৃহস্পতিবার এমএম২এইচ (মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম) নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় দেশটির পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নাজরি আজিজ জানিয়েছেন, এ কর্মসূচির আওতায় ২০০২ সাল থেকে এ বছর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়ার অনুমতি পেয়েছেন ১২৬টি দেশের ৩৩ হাজার ৩০০ জন। এসব আবেদনকারী ভিসা নবায়ন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু ও অন্যান্য সম্পদ ক্রয়ের কারণে মালয়েশিয়ার রাজস্ব আয় হয়েছে ২৯০ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, সবচেয়ে বেশি সেকেন্ড হোম সুবিধা নিয়েছে চীন। চীনের আট হাজার ৭১৪ ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করেছেন। এর পরের অবস্থানে আছে জাপান। চার হাজার ২২৫ জন। তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে সেকেন্ড হোম গড়তে আবেদন শুরু করেন বাংলাদেশিরা। প্রথম বছর ৩২ জন এ সুবিধা পান। এখন পর্যন্ত প্রায় আট হাজার ৩৫০টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৫৪৬ জন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম সুবিধা নিয়েছেন। আর অপেক্ষায় রয়েছেন চার হাজার ৮০৪ জন। এখন বিভিন্ন অনলাইনে সামাজিকমাধ্যমে এ নিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। অনেক বাংলাদেশিও ব্যক্তিগতভাবে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত। এরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিবিদদের টার্গেট করে সেকেন্ড হোমে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছেন।
তারা বলেন, টাকা নিয়ে যাওয়ার কোনো ঝামেলা আপনাকে পোহাতে হবে না। শুধু রাজি হতে হবে। এরপর টাকা পাঠানোর সব নিরাপদ ব্যবস্থা তারা করে দেবে। এজন্য যারা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদ করেছেন তারা প্রথমত সেকেন্ড হোম করতে বেশি আগ্রহ দেখান। মালয়েশিয়ার স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে যারা সেকেন্ড হোম সুবিধা নিয়ে এখনও বেশির ভাগ সময় দেশে থাকেন, তারা আগামী বছর একেবারে দেশ ছাড়তে পারেন। এমন প্রস্তুতির ইঙ্গিত তারা এখন থেকেই পাচ্ছেন। বিশেষ করে বর্তমান সরকার পরিবর্তন হলে যারা নানাভাবে ঝামেলায় পড়তে পারেন বলে শঙ্কা রয়েছে তারা নির্বাচনের আগে মালয়েশিয়ায় সটকে পড়বেন। এদিকে ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালটেন্ট লিমিটেড নামে এক সাব-এজেন্টের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, ১০ বছরের নন-মালয়েশিয়ান ভিসার জন্য আবেদন করতে বাংলাদেশি ৫০ বছরের অনূর্ধ্বদের অ্যাকাউন্টে জমা থাকতে হয় পাঁচ লাখ রিঙ্গিত বা এক কোটি ছয় লাখ টাকা এবং মালয়েশিয়ার ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করতে হয় ৬৫ লাখ টাকা। ৫০-ঊর্ধ্ব বয়সীদের জন্য অ্যাকাউন্টে থাকতে হবে সাড়ে তিন লাখ রিঙ্গিত বা ৭৫ লাখ টাকা। মালয়েশিয়ায় ফিক্সড ডিপোজিট করতে হবে ৩২ লাখ টাকা। তবে উভয় ক্ষেত্রে মাসিক আয় হতে হবে কমপক্ষে দুই লাখ ১২ হাজার টাকা। কিন্তু অফিসিয়াল এ তথ্যের সঙ্গে বাস্তবে খরচের ব্যবধান অনেক বেশি। সেকেন্ড হোম পেতে আনঅফিসিয়ালি নানা স্থানে টাকা ঢালতে হয়। সাব-এজেন্টদের দেয়া তথ্য মতে, অনেক বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় ফ্ল্যাট কিনে ভাড়া দিয়েছেন। এ তালিকায় আছেন রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী। এদের অনেকে রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ বড় বড় শপিংমলে দোকানও কিনেছেন। তারা স্বর্ণ, খেলনা, তৈরি পোশাকের ব্যবসা করছেন। ছেলে-মেয়েকে পড়াশোনা করাচ্ছেন। আবার অনেকে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ফ্ল্যাটের দেখভাল করছেন। যারা একটু বেশি বিত্তশালী তারা এখান থেকেই কানাডা ও লন্ডনে সেকেন্ড হোম করেছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যমতে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯১১ কোটি ডলার পাচার হয়েছে; যা টাকার অংকে প্রায় ৭২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। আমদানি-রফতানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমেই এ অর্থের বড় অংশ পাচার করা হয়েছে। অর্থপাচারের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ’র (বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা শুক্রবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, বহু চোরকে ধরা যাচ্ছে না। কারণ ব্যবসায়িক লেনদেনের আড়ালে এসব অপকর্ম চলছে। এ ছাড়া দালালের মাধ্যমে নগদ লেনদেন ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে হুন্ডিতে প্রচুর টাকা পাচার হচ্ছে। তিনি বলেন, যা এখন পাচার হিসাবে দেখানো হচ্ছে তার ৯৩ শতাংশ ব্যাংক টু ব্যাংক লেনদেন। বাকি ৭ শতাংশ যাচ্ছে ব্যক্তি টু ব্যক্তির মাধ্যমে, যা কালো টাকা হিসেবে শনাক্ত। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের নামে অর্থপাচারের বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কাস্টমসে পাঠানো হয়েছে।

এমসিসির আজীবন সদস্য হলেন মিসবাহ

পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা টেস্ট অধিনায়ক তিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার নেতৃত্বেই সাদা পোশাকে দারুণ সব ফলাফল অর্জন করেছে তার দল। আইসিসি টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে তারা উঠেছিল এক নম্বর স্থানে। গেল মে মাসে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে তারা প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সেই সিরিজ শেষে বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন মিসবাহ-উল-হক। অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে তার সাফল্য প্রেরণা জোগাবে ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের। ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তাই সম্প্রতি মিসবাহকে সম্মাননা দিয়েছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। ক্রিকেটের আইন প্রণেতা এ সংস্থার আজীবন সদস্যপদ পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি লর্ডসে এমসিসি একাদশের মুখোমুখি হয় আফগানিস্তান।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে খেলা বন্ধ থাকার ফাঁকে ৪৩ বছর বয়সী মিসবাহর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। বিশ্বক্রিকেটের সেরা পুরুষ ও নারী তারকাদের আজীবন সদস্যপদ দেয় ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংস্থা ও বিখ্যাত লর্ডস ক্রিকেট মাঠের মালিক এমসিসি। পাকিস্তানের ২২তম ক্রিকেটার হিসেবে এ সম্মাননা পেলেন মিসবাহ। ইমরান খান, মুশতাক মোহাম্মদ, হানিফ মোহাম্মদ, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াকার ইউনুস, ওয়াসিম আকরাম ও সাকলায়েন মুশতাক এ তালিকায় রয়েছেন। ২০১৫ সালে সর্বশেষ পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে এ মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা পেয়েছিলেন রমিজ রাজা। পাকিস্তানকে রেকর্ড ৫৬ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মিসবাহ। রেকর্ড ২৬টি টেস্টে জয়ের কৃতিত্ব তার দখলে। ১৭ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে ৭৫ ম্যাচে ৪৬.৬২ গড়ে ৫২২২ রান করেছেন তিনি। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ১০টি, সঙ্গে হাফ সেঞ্চুরি ৩৯টি। ওয়েবসাইট।

সাঙ্গাকারার ছক্কায় মোবাইল ভাঙল দর্শকের

শ্রীলংকাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে আন্তর্জাতিক টি ২০-র জার্সি খুলে রেখেছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। পরের বছর ভারতের বিপক্ষে কলম্বো টেস্টের পর অবসর নেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব সংস্করণ থেকে। তবে এখনও বীরদর্পেই বিভিন্ন দেশে ঘরোয়া ক্রিকেট মাতাচ্ছেন এই লংকান লিজেন্ড। বৃহস্পতিবার কাউন্টির ন্যাট-ওয়েস্ট টি ২০ ব্লাস্টে সারের হয়ে মিডলসেক্সের বিপক্ষে তার ছক্কায় মোবাইল ভাঙল এক দর্শকের। কিছুদিন আগেই জানিয়েছেন, এ মৌসুম শেষে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন।
তবে ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত লংকান কিংবদন্তি সাঙ্গাকারা। কয়েকদিন আগে টানা পাঁচ ম্যাচে সেঞ্চুরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) খেলবেন সাঙ্গা। মিডেলসেক্সের বিপক্ষে এদিন সাঙ্গাকারার ব্যাটেই লড়াই করার পুঁজি পায় সারে। তার ৪২ বলে ৭০ রানের ইনিংসে ১৫৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় সারে। যদিও এক উইকেটে ম্যাচ হারে তারা। স্টিভেন ফিনের করা পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান সাঙ্গাকারা। বল উড়ে গিয়ে পড়ে গ্যালারিতে। এ সময় এক দর্শক তা ধরতে গেলে বল তার হাতে থাকা মোবাইলে আঘাত হানে। ভেঙে যায় মোবাইল। ওয়েবসাইট।

৭২ ঘণ্টায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ!

এমন অনেক রোগী আছেন যারা ডায়াবেটিসের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ কিংবা ইনসুলিন নিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না। অনেকের এ ওষুধ ব্যবহারে কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়। ডায়াবেটিসের সঙ্গে কোনো কোনো রোগীর হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে। এর ফলে রোগীরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে অসহায় বোধ করেন। এ ধরনের রোগীদের জন্য সুখবর দিচ্ছে হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টার।
এ সেন্টারের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস জানান, ৭২ ঘণ্টা বা ৩ দিনে ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আমাদের বেশ কিছু রোগী আছেন যাদের ডায়াবেটিস কন্ট্রোল হচ্ছিল না তারা আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশল ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ লক্ষ্যে আগামী ২১ জুলাই শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার পুরানা পল্টনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে ৭২ ঘণ্টায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রথম ওরিয়েন্টেশন করানো হবে। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পুষ্টিবিদ ডা. বিশ্বরূপ রায় চৌধুরী। এ সেমিনারে ডায়াবেটিস প্রতিকারের কৌশল, ডায়াবেটিসের সঙ্গে অন্যান্য অসুখের চিকিৎসা ও হার্ট অ্যাটাক কীভাবে হয় তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য যোগাযোগ-০১৭২১৮৬৮৬০৬।

অস্থির শিশু ও খাদ্যাভ্যাস

আমার প্রতিবেশী জাহিদ সাহেবের সঙ্গে দেখা হলেই তিনি চিন্তিত মুখে বলেন, তার বাচ্চা কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারই খায়। তার বন্ধুবর পলাশের অনুযোগটি হল তার সন্তানটি কিছুই খেতে চায় না। অধিকাংশ অটিস্টিক বা বিশেষ শিশুর মা-বাবার অভিযোগ এমনই। দুটি বিষয় হাইলাইট করে সমাধানের পথে হাঁটতে হয়। প্রথমটি, কী খাবার দেবেন বা কী দিবেন না? দ্বিতীয়টি, পুষ্টির কথা মাথায় রেখে দিনে কয়বার খাবার দিব, কীভাবে দিব সর্বোপরি খাদ্যাভ্যাস গঠন। আজকে প্রথমটি নিয়ে আলোচনা করব। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানব দেহে ইমিউন সিস্টেমের সঠিক কর্মক্ষমতার অভাবে অটিজম আক্রান্তদের মধ্যে কিছু কিছু আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপূর্ণ পরিপাক হয় না। সাধারণত আমিষ জাতীয় খাদ্য সঠিকভাবে ডাইজেশন হলে সর্বশেষে অ্যামাইনো এসিডে রূপান্তরিত হয়। অটিজম আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি পেপটাইড পর্যন্ত ভাঙতে পারে- সর্বশেষ স্টেপ অ্যামাইনো এসিড পর্যন্ত যেতে পারে না। এসব পেপটাইড তাদের আচরণগত সমস্যা ঘটায়, অস্থিরতা বাড়ায়, আক্রমণাত্মক করে তোলে, ঘুম কমিয়ে দেয় ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি করে। এসব অভিযুক্ত পেপটাইড তৈরি হয় সেসব খাদ্যে যেখানে গ্লুটেন এবং কেসিন জাতীয় পদার্থ থাকে। তাহলে জানা যাক কোন কোন খাদ্যে গ্লুটেন এবং কেসিন থাকে। আটা ময়দার তৈরি খাবার, বার্লি, ভুট্টা, রাই, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার, সামুদ্রিক মাছ, চর্বি জাতীয় খাবার, টেস্টিং সল্ট জাতীয় খাদ্য ইত্যাদি। সুতরাং রুটি, পরাটা, পাউরুটি, কেক, নুডুলস্, চানাচুর, বিস্কুট, চিপস,
পনির, মাখন, দই অথবা দুধের তৈরি খাদ্য পরিহার করতে হবে। এটাও জানা দরকার, সে শুধু গ্লুটেন ও কেসিন জাতীয় খাবারই নয় খাবারের মেন্যুতে অতিরিক্ত চিনি, প্রিজারভেটিভ জাতীয় খাদ্য, কালারিং সাবসটেনস, টেস্টিং সল্ট এগুলিও উগ্র আচরণের জন্য দায়ী। মা-বাবা বা অন্য সদস্যরা মনে প্রাণে হয়তো আশা করছেন বাচ্চাটির অস্থিরতা কমুক কিন্তু খাদ্য তালিকা পরিবর্তন না করলে খুব একটা লাভ হবে না। অনেক খাবারই তো বন্ধ হয়ে গেলে তাহলে কী খেতে পারবে আসুন এবার সেটা জানি। যব, বার্লি, রাই, ইস্ট, গম বা গমের আটার তৈরি রুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কিট, চিপস, নুডুলস্ ইত্যাদির বিকল্প হিসেবে চাল, চালের তৈরি রুটি-চিড়া-মুড়ি, ভুট্টা, চাল বা ভুট্টার তৈরি অন্য খাবার, আলু, মিষ্টি আলু, বাদাম, চিপসের পরিবর্তে পপকর্ণ, নুডুলস্রে পরিবর্তে রাইস নুডলস্ বাচ্চাকে দেয়া যেতে পারে। দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবারের বিকল্প হিসেবে চাল বা নারিকেলের দুধ, অ্যালমন্ড (কাঠবাদাম) দুধ, ডিম দিতে পারি। অতি মাত্রায় সরল শর্করা, মিষ্টি জাতীয় খাবার, চকলেট, ঠাণ্ডা পানীয় ইত্যাদির বিকল্প হিসেবে ডায়বেটিক সম্পর্কিত খাবার দেয়া যেতে পারে। গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটসের অমরবাণী দিয়ে শেষ করলাম।
‘Let food be thy medicine and medicine be thy food’.
লেখক : শিশু চিকিৎসক ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

শেষ হল মৌসুমী মিমের দুলাভাই জিন্দাবাদ

অবশেষে ক্যামেরা ক্লোজ হল মৌসুমী-ডিপজল ও বাপ্পী-মিম জুটির ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ ছবির। ঢাকাই চলচ্চিত্রের অস্থির সময় ও বিগত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি ইস্যুর কারণে ছবিটির শুটিং শেষ করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর। পরিচালক সমিতির নির্বাচন, শিল্পী সমিতির নির্বাচন, নির্বাচনের জের ধরে চিত্রপাড়ায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, এসব কারণে শিল্পীদের সিডিউলজনিত সমস্যার মধ্য দিয়েই ১৩ জুলাই সাভারে ডিপজলের বাড়িতে ছবির কয়েকটি দৃশ্য ধারণ শেষে ছবিটির ক্যামেরা ক্লোজ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে মনতাজুর রহমান আকবর বলেন, ‘অবশেষে দুলাভাই জিন্দাবাদ ছবির শুটিং শেষ করতে পেরেছি এটাই আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের। এখন সম্পাদনা নিয়ে ব্যস্ত হব। যাবতীয় কাজ শেষ করে আশা করি এ বছরই ছবিটি মুক্তি দিতে পারব।’ এ ছবিতে মৌসুমীকে একজন প্রতিবাদী নারী চরিত্রে দেখা যাবে। যিনি অটিস্টিক ভাই আর একমাত্র বোনকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে লড়াই করেন। মৌসুমীর স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন খল চরিত্রাভিনেতা ডিপজল। ছবিটি প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘অনেকদিন পারিবারিক গল্পের সিনেমা হচ্ছিল না। নিজের মনে একটা অতৃপ্তি তো ছিলই। এ সিনেমায় কাজ করে তার কিছুটা ঘুচল।’ ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন আহমেদ শরীফ, দিলারা, অমিত হাসান, অরুণা বিশ্বাস, নাদির খান, ববি, জ্যাকি আলমগীর, শবনম পারভীন, ইলিয়াস কোবরা, সুব্রত প্রমুখ।

অভিনয়কে গুডবাই

অভিনয় থেকে একেবারে বিরতি নিচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেত্রী সুচন্দা। এর পেছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। ক্ষোভ-দুঃখ আর অভিমান থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সুচন্দা বলেন, ‘অনেকদিন থেকেই তো আমি অভিনয় করি না। কেমন আছি, কী করছি কেউ তো কোনো খোঁজখবর রাখেনি। ইচ্ছা ছিল ভালো চরিত্র পেলে মাঝে মধ্যে অভিনয় করব। কিন্তু না, সেটিও এখন করা যাবে না। চলচ্চিত্রে অভিনয় করার এখন আর পরিস্থিতি নেই। আমাদের ভুলে গেছে চলচ্চিত্রের মানুষ। আমাদের আর অভিনয়ের পরিবেশ নেই। আমাদের অভিনয় করার মতো গল্প ও চরিত্র নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিনিয়রদের মধ্যে আমরা অল্প কয়েকজন বেঁচে আছি। বাকিরা চলে গেছেন। আমাদের জন্য যদি আলাদাভাবে চরিত্র নির্মাণের চিন্তা করা হয় তাহলে আমি না করলেও হয়তো অন্য শিল্পীরা করতে পারত। এটা ভাবার মতো কেউ তো আমাদের চলচ্চিত্রে নেই।’ শুধু অভিনেত্রী নন সুচন্দা; একজন সফল নির্মাতাও তিনি।
নির্মাণে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও ঝুলিতে উঠেছে তার। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করেছেন। ২০০৫ সালে সর্বশেষ জহির রায়হানের নন্দিত উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুচন্দা। অভিনয়ের পাশাপাশি ছবিটি পরিচালনা এবং প্রযোজনাও করেছেন। ১৯৬৬ সালে সুভাষ দত্তের নির্মিত ‘কাগজের নৌকা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন সুচন্দা। পরে ১৯৬৮ সালে জহির রায়হানকে বিয়ে করেন। জহির রায়হান নির্মিত ধ্রুপদী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছাড়াও তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হচ্ছে- ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘নয়নতারা’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘দুই ভাই’।