Saturday, December 18, 2010

মুক্তিযুদ্ধ- মহান মুক্তিযুদ্ধঃ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি by গাউসুর রহমান

দেশপ্রেমিক মানুষের শিরায় শিরায় প্রবাহিত মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতির সামনে খুলে গিয়েছিলো এক স্বর্ণদুয়ার। সে দুয়ার দিয়ে প্রবেশ করে আমরা যুগসঞ্চিত জঞ্জাল ও পরাধীনতার দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত হয়েছিলাম। স্বপ্ন দেখেছিলাম সুখী, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের। কিন্তু স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরও স্বাধীনতার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পেঁৗছে দেয়া সম্ভব হয়নি।

৩৯ বছর পরও আমরা স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি by বদিউল আলম মজুমদার

বিখ্যাত গায়ক হায়দার হোসেনের অতি জনপ্রিয় গানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কলি, ‘৩০ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।’ এ গানে স্বাধীনতা-পরবর্তীকালের আমাদের অর্জন সম্পর্কে তিনি তাঁর মনের আকুতি প্রকাশ করেছেন। স্বাধীনতা থেকে প্রাপ্তি নিয়ে শিল্পীর ভাষায় তিনি আক্ষেপ করেছেন। আক্ষেপ করেছেন জাতি হিসেবে আমাদের অসংখ্য ব্যর্থতা নিয়ে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘নেই বর্গি, নেই ইংরেজ, নেই পাকিস্তানি হানাদার/ আজ তবু কেন আমার মনে শূন্যতা আর হাহাকার/ আজ তবু কি লাখো শহীদের রক্ত যাবে বৃথা/ আজ তবু কি ভুলতে বসেছি স্বাধীনতার ইতিকথা।’
১৬ ডিসেম্বর আমরা স্বাধীনতার ৩৯তম বার্ষিকী পালন করলাম। আর কিছুদিন পরই স্বাধীনতার চার দশক পূর্ণ হবে। ৪০ বছর একটি জাতির জীবনে কম সময় নয়। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক অর্জন আমাদের ঘরে ওঠার কথা ছিল। কথা ছিল অনেক সমস্যা সমাধানের। কিন্তু তা কি হয়েছে? জাতি হিসেবে এ প্রশ্নের মুখোমুখি আজ আমাদের হওয়া প্রয়োজন। নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন আমাদের ব্যর্থতার কারণগুলো। তা না হলে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস পালন শুধু আনুষ্ঠানিকতার বেড়াজালে আটকা পড়ে যাবে এবং এর সত্যিকারের ‘ইতিকথা’ আমাদের দৃষ্টির অগোচরেই থেকে যাবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এবং অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে। মুক্তিযুদ্ধের পেছনে ছিল কতগুলো চেতনা ও মূল্যবোধ, যা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই অসংখ্য মানুষ আত্মত্যাগ করেছিল। তাই স্বাধীনতা-পরবর্তী অর্জন-ব্যর্থতার মূল্যায়নে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই মূলত আমাদের মাপকাঠি হওয়া উচিত।
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নিয়ে আমাদের দেশে অনেক বিতর্ক হয়। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে এটি স্লোগান হিসেবেও ব্যবহূত হয়। অভিযোগ তোলা হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, এমনকি পুরো মুক্তিযুদ্ধকেই দলীয়করণের। কিন্তু আসলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাগুলো কী?
আমরা মনে করি, সততা, সমতা, একতা, ন্যায়পরায়ণতা, জনকল্যাণ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা। এগুলো অর্জনের সম্মিলিত প্রত্যাশার ভিত্তিতেই দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষনির্বিশেষে আমরা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে যার যা কিছু ছিল, তা নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করেছিলাম এবং বিজয়ীও হয়েছিলাম। এসব চেতনা বা মূল্যবোধের অনেকগুলোই আমাদের সংবিধানেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু গত ৩৯ বছরে এগুলো কি বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে?
সততার কথায় আসা যাক। পাকিস্তানিদের অনৈতিকতা, অসততা এবং আমাদের প্রতি অবিচারই মুক্তিযুদ্ধের পেছনের অন্যতম কারণ। তাই অনেকেরই আকাঙ্ক্ষা ছিল, বাংলাদেশ হবে সততা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে গড়া একটি রাষ্ট্র। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অন্যায়, অবিচার ও অনৈতিকতাই যেন আমাদের নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন হয়ে গেছে আমাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আমরা পাঁচ-পাঁচবার পৃথিবীর সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত জাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছি। বর্তমানেও এ ক্ষেত্রে আমরা ভালো অবস্থানে নেই। বস্তুত, আন্তর্জাতিক দুর্নীতি দমন দিবস পালন উপলক্ষে সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এক জরিপ প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত তিন বছরে বাংলাদেশে দুর্নীতির মাত্রা বেড়েছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দল দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
এ কথা সর্বজনবিদিত যে দুর্নীতির কারণে আমাদের উন্নয়ন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও দুর্নীতি দূরীকরণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ আমাদের অতীতের কোনো সরকারেরই ছিল না। বরং অনেক সরকারই লুটপাটতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। দুর্নীতি দূরীকরণের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এলেও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। গত দুই বছরে কোনো ‘রুই-কাতলা’কে দুর্নীতির অভিযোগে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার কথা আমরা শুনিনি। বরং আইন পরিবর্তন এবং অসহযোগিতার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনকে অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া দিনবদলের সনদে ক্ষমতাধরদের সম্পদের হিসাব প্রদানের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার সত্ত্বেও এ পর্যন্ত তা করা হয়নি। প্রণয়ন করা হয়নি আমাদের সাংসদদের জন্য আচরণবিধি, যাতে তাঁরা তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রকাশ করতে বাধ্য হতেন।
সমতা ও ন্যায়ানুগ একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পেছনের অন্যতম প্রেরণা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৩৯ বছরে আমরা একটি চরম অসম সমাজে পরিণত হয়েছি। ন্যায়পরায়ণতার ধারণাটি যেন আজ আমাদের কাছে অর্থহীন ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ক্রমাগত প্রকটতর হয়েছে। বৈষম্য আর বঞ্চনা আমাদের জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের আজ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী এবং আয়, সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্যই আমাদের দেশে দারিদ্র্যকে স্থায়িত্ব দিয়েছে। বস্তুত, ধনাঢ্যরাই আজ ‘রুলিং ক্লাসে’ বা রাষ্ট্রের অধিপতিতে পরিণত হয়েছেন এবং প্রায় সব সরকারি সুযোগ-সুবিধাই এখন তাঁদের করায়ত্ত। পুরো রাষ্ট্রই যেন এখন পরিচালিত হয় তাঁদের স্বার্থে এবং তাঁদের স্বার্থপরতা সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনকল্যাণ এখন নিতান্তই স্লোগান মাত্র। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ এবং তাদের সন্তান হলেও তারা হয়ে গেছে আজ সমাজের উচ্চবিত্তদের করুণার পাত্র। এদের অনেকের জন্য আজ মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। অনেকের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি আমাদের এক সম্ভাব্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল একটি সম্মিলিত প্রত্যাশা এবং তার ভিত্তিতে একতা। শুধু ১৯৭১ সালেই নয়, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনেও আমাদের পুরো জাতি ছিল একতাবদ্ধ। অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর একই ভাষা, একই সংস্কৃতি, এমনকি একই ধর্ম হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে আজ আমরা দুটি ক্যাম্পে বিভক্ত হয়ে পড়েছি। এ দুই ক্যাম্পের মধ্যকার বিবাদের অন্যতম কারণ কতগুলো অর্থহীন স্লোগান এবং কৃত্রিম প্রতীক, যার ভিত্তিতে সৃষ্টি হয়েছে কতগুলো গুরুত্বহীন ইস্যু, যেমন—বাঙালি জাতীয়তাবাদ বনাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, আপাতত যার কোনো সমাধান নেই। বিভক্ত জাতি বেশি দূর এগোতে পারে না, আমরাও পারিনি।
ধর্মনিরপেক্ষতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা হলেও ধর্মকেই অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে জাতিকে বিভক্ত করার এবং সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে। সামরিক শাসকেরা এ অপকর্মের সূচনা করলেও নির্বাচিত সরকারগুলো এ কাজ থেকে বিরত থাকেনি। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়ার এবং ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার স্বার্থে তারা ধর্মীয় উগ্রবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে, এমনকি তাদের সঙ্গে আঁতাত করতেও দ্বিধা করেনি। আর উগ্রবাদী শক্তি আমাদের প্রধান দুটি ক্যাম্পের মধ্যে বিরাজমান অসহিষ্ণুতামূলক ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির ঘোলা জলে মাছ শিকার করে নিজেদের ক্রমাগত পরিপুষ্ট করেছে। তারা যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের বিচারে বাধা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে অনেকের অভিযোগ।
গণতন্ত্রের বুলি আওড়াতে আওড়াতে অনেকের মুখে ফেনা উঠলেও নির্বাচনসর্বস্ব গণতন্ত্র মূলত ক্ষমতায় যাওয়ার এবং ক্ষমতায় গিয়ে দলবাজি, ফায়দাবাজি, ধোঁকাবাজি এবং হরেক রকমের অনৈতিকতা ও অপকর্মের হাতিয়ার হিসেবেই আমাদের দেশে ব্যবহূত হয়েছে। এ ছাড়া আমরা নির্বাচিত সংসদকেন্দ্রিক ‘বড়লোকের গণতন্ত্র’ নিয়েই ব্যতিব্যস্ত। সম্পদ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে ‘লোকাল ডেমোক্রেসি’ বা তৃণমূলের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘গরিবের গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমাদের সমাজের অধিপতিদের কোনো আগ্রহই নেই। বলা বাহুল্য, একটি বলিষ্ঠ বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূলের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা জোরদার হলেই যেসব সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে, সেগুলোতে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, সম্পদ, ক্ষমতা ও দায়দায়িত্ব যত জনগণের দোরগোড়ার সরকারের কাছে যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণ সম্পৃক্ত হয়, তত তা বেশি তাদের কল্যাণে আসে। আর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ‘গণতন্ত্র যদি দরিদ্র্র জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থবহ না হয়, তার ভিত্তি দুর্বল থেকে যেতে বাধ্য’ (দারিদ্র্য দূরীকরণ: কিছু চিন্তাভাবনা, আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৬, পৃ-১৫)। আর এ দুর্বলতার কারণেই আমাদের গণতন্ত্র বারবার খাদে পড়ে যাচ্ছে।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যক নাগরিকদের অধিকারের স্বীকৃতি, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা এবং কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের দেশে সাধারণ নাগরিকদের অধিকার পদে পদে ভূলুণ্ঠিত হয়। পদদলিত হয় ব্যক্তিস্বাধীনতা। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা, এমনকি শিষ্টাচার বোধও আজ প্রায় অনুপস্থিত। জাতীয় সংসদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অকার্যকর, যার অন্যতম কারণ বিরোধী দলের অনুপস্থিতি এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে এর অপারগতা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিচারালয়, যা আজ দলবাজির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ফলে বিচারের বাণী এখন নীরবে-নিভৃতে কাঁদে। আর রাজনৈতিক দলে গণতন্ত্র না থাকলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশা করা দুরাশামাত্র। তাই গণতন্ত্র আজ সাধারণ মানুষের জন্য নিতান্তই স্লোগান, এমনকি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এ কারণে পতিত স্বৈরাচার পর্যন্ত আমাদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে মশকরা করতে সাহস পায়।
পরিশেষে, এ কথা অনস্বীকার্য যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষা, যে আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, বহুলাংশে তা অপূর্ণ রয়ে গেছে। ইতিহাস থেকে দেখা যায়, স্বাধীনতা অর্জনের পর সাধারণত একটি জাতি একাগ্রচিত্তে নিবিষ্ট হয় জাতি গঠনে, যে চেতনার ভিত্তিতে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তাকে সমুন্নত রেখে, ছোটখাটো ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একতাবদ্ধভাবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের বেলায় হয়েছে যেন তার সম্পূর্ণ উল্টো। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরও আমরা যেন অযথা এবং অযৌক্তিকভাবে হানাহানিতে লিপ্ত এক কলহপ্রবণ জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির অগ্রগতির পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাপরায়ণতাই যেন আমাদের রাজনীতিবিদদের জন্য মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বিকৃত রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চার ফলে সমাজে আজ যে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে, আমরা জানি না, তার পরিণতি কী। আশা করি, আমাদের দুই নেত্রী, যাঁরা দু-দুবার প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কিংবা করছেন এবং যাঁদের রয়েছে ব্যাপক গণসমর্থন, তাঁরা জানেন, জাতিকে কোন গন্তব্যে তাঁরা নিয়ে যাচ্ছেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন প্রয়োজন by তোফায়েল আহমেদ

সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় শহরের ওপর প্রকাশিত এক সমীক্ষায় ঢাকাকে ‘বসবাসের অযোগ্য’ না হলেও বসবাসের যোগ্যতার মাপকাঠিতে অতি নিম্নস্তরে স্থান দেওয়া হয়েছে। দেশ ও ঢাকা শহরের সমস্যা নিয়ে সরকার ও জনগণের উদ্বেগ লক্ষণীয়। সমস্যার প্রকার ও প্রকৃতি প্রতিদিন পরিবর্তন হচ্ছে, বাড়ছে তীব্রতা। কিন্তু সমাধানের পদক্ষেপ নিয়ে নেই কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। নেই ন্যূনতম মতৈক্য। এমনকি মতৈক্য সৃষ্টির উদ্যোগ বা লক্ষণও নেই।
ঢাকা সিটি করপোরেশন ও অধিকাংশ নগরকেন্দ্রগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ, নির্বাচন হয়নি প্রায় আড়াই বছর। এখন ২৬৯ নগরকেন্দ্রে বিলম্বিত সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনিশ্চিত রেখে সিটি করপোরেশনকে ভেঙে দুই বা চারটি করপোরেশনে রূপান্তর এবং নির্বাচন অনুষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগের বিধানের কথা ভাবা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ ভাবনা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। অবশ্য সরকার ও জনগণ কেউ হয়তো কারও ইচ্ছা ও অভিব্যক্তি পুরোপুরি অবগত নয়। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে মতামত দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ অথবা অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো। তবে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমতের অবকাশ নেই যে ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ দেশের সব নগর সরকার বা নগর ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আমূল পরিবর্তন দরকার।
প্রথমত, ঢাকার ক্ষেত্রে বলতে হয়, ঢাকা ১৬ কোটি মানুষের যে একটি দেশ, সে দেশের রাজধানী ও প্রধান নগর। দেশের শিল্প-বাণিজ্য কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক যে প্রবৃদ্ধি, তাতে ঢাকার একটি বিশিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তা ছাড়া দেশের সরকার-অবস্থান কেন্দ্র ঢাকা। সবকিছু মিলিয়ে দেশের অন্যান্য নগরের সঙ্গে ঢাকার স্পষ্ট একটি পার্থক্য রয়েছে। তা ছাড়া বহির্বিশ্বে পুরো দেশকে চেনার ক্ষেত্রে ওই দেশের প্রধান নগর ও রাজধানীর একটি সরাসরি সম্পর্ক থাকে। বর্তমানে ঢাকা মহানগরের যেসব সমস্যা, সেসব সমস্যা সমাধানে প্রস্তাবিত বিভাজন ও প্রশাসক নিয়োগের আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে, তা আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় না। কারণ, ৩৬০ বর্গকিলোমিটার ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার সমস্যার উৎপত্তি, বিস্তার ও সর্বশেষ এর সমাধান ওই সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা মহানগরের পর্বতপ্রমাণ সমস্যা সারা দেশের সমস্যার একটি পুঞ্জীভূত রূপ। তাই এ মহানগরের সমস্যাগুলো শুধু মহানগরের প্রশাসনিক কাঠামোতে সমাধানের চেষ্টা সফল হওয়ার নয়।
মহানগরের সরকার হিসেবে ডিসিসি একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান নয়। অন্যভাবে বললে বলতে হয়, এ মহানগরের প্রধান নাগরিক সেবাগুলো নগর সরকার বা ডিসিসি দিতে পারবে, এ সামর্থ্য ডিসিসির গড়ে ওঠেনি। ঢাকা মহানগরে ডিসিসি ছাড়া আরও ৫০টির বেশি সরকারি সংস্থা রয়েছে, যাদের নগরবাসীকে বিভিন্ন সেবা সরবরাহের ম্যান্ডেট রয়েছে। এখানে সেবাদানে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং একের সঙ্গে অন্যের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের অভাব সেবার গুণগতমান রক্ষিত না হওয়া ও সময়মতো সেবা না পাওয়ার জন্য দায়ী। ঢাকা শহরে সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে কমপক্ষে তিনটি কর্তৃপক্ষ (সড়ক ও জনপথ, রাজউক ও ডিসিসি), গৃহায়ণে তিন-চারটি কর্তৃপক্ষ, ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনুরূপ—এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে একাধিক কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান।
ঢাকা মহানগর বা দেশের সব মহানগরের নগর ব্যবস্থাপনা সংস্থা সিটি করপোরেশনগুলো মেয়রসর্বস্ব। মেয়ররা প্রেষণে নিয়োজিত বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে করপোরেশন পরিচালনা করে থাকেন। এখানে সত্যিকার অর্থে মহিলা কিংবা পুরুষ কমিশনারদের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা থাকে না। মেয়রের সুনজরে থাকলেই কাউন্সিলররা কিছুটা গুরুত্ব পান। কাউন্সিলরদের মধ্যেও সে ভূমিকা পালনের তাগিদ নেই। তারা ঠিকাদারির ভাগাভাগি, বাজার-হাট বসানো, এর বখরা আদায়, জমিজমা দখল-বেদখলে অনেক বেশি আগ্রহী থাকে। তা ছাড়া শহরে আনুষ্ঠানিক প্রশাসনের পাশাপাশি এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক একটি শাসনকাঠামো গড়ে উঠেছে। কমিশনাররা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওই অনানুষ্ঠানিক শাসন কাঠামোর অংশ হয়ে যান। অপরাধ জগতের সঙ্গে রয়েছে ওই অনানুষ্ঠানিক শাসনকাঠামোর একটি নিবিড় সংযোগ।
আমাদের ঢাকার মেয়রের মর্যাদা একজন মন্ত্রীর সমপর্যায়ের। তবে তিনি মন্ত্রী নন। স্থানীয় সরকারসহ বহু মন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ের অধীনেই প্রকৃত অর্থে তাঁকে কাজ করতে হয়। তবে করপোরেশনের অভ্যন্তরে তিনি সর্বেসর্বা। ১৫ জন এমপির নির্বাচনী এলাকা নিয়ে একজন মেয়রের নির্বাচনী এলাকা। রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের আদলে অনুষ্ঠিত হয় এ নির্বাচন। রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির কোনো নেতা ওই নির্বাচনে প্রার্থী হন। জয়লাভ করলে তিনি মন্ত্রী হওয়ার বদলে মেয়র হন। তাঁর মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা সদা জাগ্রত থাকে। ঢাকার মেয়ররা একসময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এভাবে ডিসিসি আইনগতভাবে একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সার্বিক ত্রুটিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সাম্রাজ্য বিস্তারের মনোবৃত্তি ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ দেশের সব স্থানীয় সরকারের বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে। তাই বিষয়টিকে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে হবে।
দেশে সামগ্রিকভাবে বিকেন্দ্রীকরণ নীতি কাঠামোর অধীনে নগর ও নগর-প্রশাসন শুধু নয়, সর্বত্র মৌলিক সেবাব্যবস্থাকে সাজিয়ে সবাই সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই বা চার ভাগ করে দু-চারজন মেয়র সৃষ্টি করে নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি বিজয় নিশ্চিত হতে পারে। কিন্তু সেবা সরবরাহে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আশা করা বোধ হয় বাতুলতা হবে।
রাজধানী হিসেবে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে পুনর্গঠন করে এর বিকেন্দ্রীকরণের জন্য বর্তমান সিটি করপোরেশন ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন আনা যেতে পারে নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন করে। কলকাতার মতো ঢাকায়ও সিটি করপোরেশনে আইন ও নির্বাহী দুটি বিভাগ বা স্তর সৃষ্টি করা যায়। এখানে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের আদলের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত সর্বেসর্বা মেয়র ব্যবস্থার পরিবর্তে মেয়র-ইন-কাউন্সিল পদ্ধতির প্রবর্তন করা যায়। এখানে মেয়র ও ডেপুটি মেয়ররা সরাসরি নির্বাচিত হবেন না। সবাই প্রথমে কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন এবং কাউন্সিলররা প্রথম অধিবেশনে মেয়র ও ডেপুটি মেয়র নির্বাচন করবেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়র তাঁরই আস্থাভাজন ১০ জন কাউন্সিলর নিয়ে একটি নির্বাহী কাউন্সিল তৈরি করবেন। সেই নির্বাহী কাউন্সিল মেয়রের নেতৃত্বে করপোরেশন পরিচালনা করবে। মেয়রসহ প্রতিটি নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্যদের অধীনে করপোরেশনের একেকটি দপ্তর পরিচালিত হবে। নির্বাহী কাউন্সিলের বাইরে যেসব কাউন্সিলর থাকবেন, তাঁরা ডিসিসির সাধারণ কাউন্সিল হিসেবে কাজ করবেন। দুজন ডেপুটি মেয়রের একজন ওই সভার স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ডিসিসির সাধারণ কাউন্সিলে ডিসির বাজেট, ব্যয় বরাদ্দ ও আইনকানুন পাস হবে। মেয়রসহ নির্বাহী কাউন্সিল সাধারণ কাউন্সিলরের কাছে দায়ী থাকবে। সাধারণ কাউন্সিলে আস্থা হারালে মেয়র নিজের কাউন্সিলে অপসারিত হবেন এবং নতুন আস্থাভাজন কাউন্সিল গঠিত হবে।
তা ছাড়া ডিসিসি বর্তমানে ১০টি অঞ্চলে বিভক্ত। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে অঞ্চলভিত্তিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। অঞ্চল ও ওয়ার্ড পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমানে মেয়র ও কাউন্সিল কারও কোনো জবাবদিহি নেই।
ডিসিসি বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক ঠিকাদার ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে জিম্মি। তা ছাড়া নষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতির সব অনাচার করপোরেশনের ঘাড়ে চেপে আছে। এ রকম একটি অবস্থায় ওই সব অনাচারের বিকেন্দ্রীকরণ করে যার যা লাভ হওয়ার হবে কিন্তু জনগণের খুব উপকার হবে বলে মনে হয় না।
ঢাকা ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি শহর। সেই ৪০০ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে নিযুক্তকারী কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ তাই সাধারণভাবে নাগরিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য না ভেঙে এর মধ্যে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সেবা সরবরাহের বিকেন্দ্রীকরণ করার পদক্ষেপ অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে। এ বিষয়ে সরকার এককভাবে দায়ভার কাঁধে না নিয়ে নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে পারে।
তোফায়েল আহমেদ: স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সদস্য, স্থানীয় সরকার কমিশন।

পবিত্র আশুরা - কারবালার ত্যাগের শিক্ষা আমাদের পাথেয় হোক

আজ পবিত্র আশুরা। হিজরি সালের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ। এই দিনে অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইসলামের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) চক্রান্তকারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে কারবালায় মর্মান্তিকভাবে শাহাদাতবরণ করেন। বিশ্বের মুসলমানদের কাছে দিনটি একদিকে যেমন শোকের, তেমনি অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার চেতনায় উজ্জ্বল।
ইসলামের ইতিহাসে কারবালার এই শোকাবহ ঘটনার আগেও এ দিনে নানা তাৎপর্যময় ঘটনা ঘটেছে। ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথিসহ হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতবরণের এই মর্মান্তিক ঘটনা ছাড়া এ দিনে অনেক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে বলে হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে। আদি মানব হজরত আদম (আ.) এই দিনে পৃথিবীতে আগমন করেন এবং এদিনই তাঁর তওবা কবুল হয়। এই ১০ মহররম তারিখে হজরত নূহ (আ.)-এর নৌকা মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পায়। এর বাইরেও এ মহিমাময় দিনে আরও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে ইসলামের ইতিহাসে। হাদিস শরিফে আছে, মহররম মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ, শোকাবহ এই আশুরার দিনেই কেয়ামত ঘটবে।
ইসলামের ইতিহাসে ১০ মহররম তারিখটির নানা গুরুত্ব ও তাৎপর্য থাকলেও কারবালায় ঘটে যাওয়া সর্বশেষ মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণেই বর্তমান দুনিয়ার মুসলমানরা দিনটি পালন করে থাকেন। মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এই দিনে রোজা পালন করেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে ইয়াজিদ অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেন এবং এ জন্য ষড়যন্ত্র ও শক্তি ব্যবহারের পথ বেছে নেন। চক্রান্তের অংশ হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আরেক দৌহিত্র হজরত ইমাম হাসান (রা.)-কে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়। একই চক্রান্ত ও নিষ্ঠুরতার ধারাবাহিকতায় ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পরিবার-পরিজন ও ৭২ জন সঙ্গীসহ শাহাদাতবরণ করেন হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)। তাঁদের হত্যার ক্ষেত্রে যে নিষ্ঠুর-নির্মম পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, ইতিহাসে এ ধরনের উদাহরণ বিরল। অসহায় নারী ও শিশুদের পানি পর্যন্ত পান করতে দেয়নি ইয়াজিদ বাহিনী। বিষাক্ত তীরের আঘাতে নিজ কোলে থাকা শিশুপুত্রের মৃত্যুর পর আহত অবস্থায় অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে শহীদ হন হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)।
আশুরার এই ঐতিহাসিক ঘটনার মূল চেতনা হচ্ছে ক্ষমতার লোভ, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য চক্রান্ত ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই। বর্তমান দুনিয়ায় আশুরার এই শিক্ষা খুবই প্রাসঙ্গিক। অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ও ত্যাগের যে শিক্ষা কারবালার ঘটনা মানবজাতিকে দিয়েছে, তা আজকের দুনিয়ার অন্যায় ও অবিচার দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

জাহাজভাঙা শিল্প বনাম পরিবেশ ও মানুষ

জাহাজভাঙা শিল্প নিয়ে বিতর্কের গ্রহণযোগ্য একটি মীমাংসা করেছে উচ্চ আদালতের একটি রায়। শিল্পটি থাকবে; কিন্তু পরিবেশের দূষণ ও শ্রমিকদের প্রাণহানি দুটোই বন্ধ হবে—গত বুধবার দেওয়া উচ্চ আদালতের রায়ের সারমর্ম এটাই। জাহাজভাঙা শিল্পের মালিকদের ক্রমাগত আইন ভঙ্গ এবং পরিবেশ ও শ্রমিকস্বার্থের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সুরাহা করার আইনি ভিত্তি এর মাধ্যমে গঠিত হলো। এখন শিল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার এবং সরকারের পরিবেশ, শিল্প ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে, নিজ নিজ ক্ষেত্রে রায়টির প্রতিফলন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা এক আবেদনের ভিত্তিতে উচ্চ আদালত এই রায় দেন। রায়ের অন্য অংশগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তাতে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে রসায়নবিদ, পরিবেশবিদ, পদার্থবিদ, আইনবিদ, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে যাতে শ্রমিক ও মালিক-প্রতিনিধিরাও থাকেন, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্বের অনেক দেশেই জাহাজভাঙা শিল্প নিষিদ্ধ। ইউরোপ-আমেরিকাসহ সেসব দেশের বাতিল ও বিষাক্ত জাহাজের কবল থেকে রেহাই পাওয়ার লাভজনক পথ হলো বাংলাদেশে তা বিক্রি করা। জাহাজ কেটে লোহা বের করার প্রক্রিয়ায় এসব বর্জ্য ও রাসায়নিক সাগর, মাটি ও বায়ুকে ভয়ানকভাবে দূষণ করে। অন্যদিকে জাহাজ কাটতে গিয়ে বিস্ফোরণ ও গ্যাসের শিকার হয়ে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কেন উন্নত বিশ্বের বাতিল জাহাজ ও বর্জ্যের ভাগাড় হবে। অন্য দিক থেকে এই শিল্পের মাধ্যমেই দেশের ইস্পাতশিল্প দাঁড়িয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের লোহা ও ইস্পাতের চাহিদাও তারা মেটাচ্ছে। সে কারণে শিল্পটির টিকে থাকাও প্রয়োজন এবং তার জন্যই প্রয়োজন একে যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণ করা।
এ কারণেই উচ্চ আদালতের নির্দেশ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১০-এর পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল জাহাজ আমদানির সময় রপ্তানিকারক দেশ থেকেই সেসবের বর্জ্য পরিশোধনের নির্দেশও দেওয়া হয়। পরিবেশ ও মানুষের কম ক্ষতি করেও এই শিল্প লাভজনকভাবে চলতে পারে। উচ্চ আদালত তা-ই দেখিয়ে দিল। আইনের ফাঁকফোকর গলে যাতে কোনোভাবেই বিষাক্ত বর্জ্যবাহী জাহাজ এ দেশে আসতে না পারে, কিংবা শ্রমিকদের অনিরাপদ কর্মপরিবেশ চলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে মন্ত্রণালয়গুলোকেই।

পবিত্র আশুরার তাৎপর্য ও কারবালার চেতনা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামের ইতিহাসে আরবি চান্দ্রবছর, তথা হিজরি সালের মহররম মাসের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল ও তাৎপর্যময় দিবস। বিশেষত, এদিন ইসলামের জন্য আত্মত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত স্মৃতিবিজড়িত কারবালার শোকাবহ, হূদয়বিদারক ও বিষাদময় ঘটনা সংঘটিত হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ/৬১ হিজরি সালে আশুরার দিনেই ইরাকের কুফা নগরের অদূরে ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা প্রান্তরে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন বিন আলী (রা.) বিশ্বাসঘাতক অত্যাচারী স্বৈরশাসক ইয়াজিদের নিষ্ঠুর সেনাবাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ ও পরিবেষ্টিত হয়ে পরিবার-পরিজন এবং ৭২ জন সঙ্গীসহ নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। সব বয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক তৃষ্ণার্ত নারী-পুরুষ, শিশুরা এক বিন্দু পানি থেকে বঞ্চিত হয়ে অমানবিক অবস্থায় কারবালার অন্যায়-অসম যুদ্ধে এবং শিশুপুত্র তাঁর কোলেই শত্রুর নিক্ষিপ্ত বিষাক্ত তীরের আঘাতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ বিসর্জন দেন। পরিশেষে ইমাম হোসাইন (রা.) আহত অবস্থায় একাকীই শত্রুবাহিনীর ওপর বীরবিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং অসীম সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শহীদ হন। আধিপত্যবাদ, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তাঁর সুমহান আদর্শের জন্য আত্মত্যাগের এ ঘটনার স্মরণে মুসলমানরা প্রধানত আশুরা পালন করে থাকেন। ইতিহাসের এই জঘন্য ও বর্বরোচিত নিষ্ঠুরতার বেদনা কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের অনুসারীরা বিস্মৃত হবেন না।
প্রাচীনকাল থেকে যুগে যুগে পবিত্র আশুরা দিবসে ঐতিহাসিক বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাজ এদিনই সম্পন্ন করেন। হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে দুনিয়াতে আগমন করেন এবং এদিনেই তাঁর তওবা কবুল হয়। ১০ মহররমে হজরত নূহ (আ.)-এর কিশতি মহাপ্লাবনের কবল থেকে রক্ষা পায়। হজরত দাউদ (আ.)-এর তওবা কবুল হয়। হজরত মূসা (আ.) ফিরাউনের কবল থেকে মুক্তি পান এবং ফিরাউন সদলবলে নীল নদে নিমজ্জিত হয়। এ পবিত্র আশুরার দিন হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের আগুন থেকে নিষ্কৃতি লাভ করেন। হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পান। হজরত আইয়ুব (আ.) দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে সেরে ওঠেন। হজরত ঈসা (আ.)-কে ঊর্ধ্বাকাশে উত্তোলন করার ঘটনাও পবিত্র আশুরার দিনে ঘটেছিল। ১০ মহররম আশুরা দিবসে কিয়ামত সংঘটিত হবে বলেও বর্ণিত আছে।
ইসলামের ইতিহাসে আশুরা দিবস বিভিন্ন ঘটনাপুঞ্জে সমৃদ্ধ থাকলেও সর্বশেষে সংঘটিত কারবালা প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতই এ দিবসের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পবিত্র আশুরা দিবসে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) কারবালায় অন্যায়, অবিচার, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের জন্য রণাঙ্গনে অকুতোভয় লড়াই করে শাহাদাতবরণ করেছিলেন। তিনি অসত্য, অধর্ম ও অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনবাজি রেখে সপরিবারে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাই কারবালা আমাদের অনুপ্রাণিত করে অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে।
কারবালার এহেন অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হূদয়বিদারক ঘটনা থেকে মানবগোষ্ঠীর জন্য ইসলামের দৃষ্টিতে যেসব শিক্ষা রয়েছে, তন্মধ্যে প্রধান হচ্ছে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন, তবু ন্যায়নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। খিলাফতকে রাজতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রে রূপান্তরে ইয়াজিদের ক্ষমতা দখলের চক্রান্তের প্রতি আনুগত্য স্বীকার না করে তিনি প্রত্যক্ষ সংগ্রামে লিপ্ত হন। বিশ্ববাসীর কাছে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে প্রতিবাদের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত ও মহান শিক্ষা রেখে গেছেন।
অত্যাচারী ইয়াজিদ মানুষের জীবনের আনন্দকে হত্যা করতে চেয়েছে, পবিত্রতাকে কলুষিত করতে চেয়েছে। পাষাণ হূদয় সীমারের খঞ্জর হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শিরশ্ছেদ করলেও মানুষের মহত্ত্ব, উদারতা, মহানুভবতা এবং পবিত্র ধ্যান-ধারণাকে হত্যা করতে পারেনি। ন্যায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ, এমনকি সত্যের পথে লড়াই করে জীবন উৎসর্গ করে দেওয়ার অপূর্ব দৃষ্টান্তরূপে আশুরা অনাগত যুগ-যুগান্তর ধরে সব মানুষের কাছে অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে গণ্য হবে।
ঐতিহাসিক ১০ মহররম চিরকাল বিশ্বের নির্যাতিত, অবহেলিত এবং বঞ্চিত মানুষের প্রতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা জোগাবে। ইসলামের কালজয়ী আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্যই কারবালায় নবী বংশের আত্মত্যাগ হয়েছিল। ব্যক্তিস্বার্থ, ক্ষমতালিপ্সা ও লোভ-মোহের ঊর্ধ্বে উঠে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) বুকের তাজা রক্ত প্রবাহিত করে ইসলামের শাশ্বত নীতি ও আদর্শকে সমুন্নত করলেন। কারবালার রক্তাক্ত সিঁড়ি বেয়েই ইসলামের পুনরুজ্জীবন ঘটে। কারবালা ট্র্যাজেডির বদৌলতেই ইসলাম স্বমহিমায় পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। তাই যথার্থই বলা হয়, ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালা কি বাদ’ ইসলাম জীবিত হয় প্রতি কারবালার পর।
প্রকৃতপক্ষে মানবজাতির জন্য অন্যায়কারীর সাময়িক বিজয় ইতিহাসে কোনো দিনই মর্যাদা পায়নি। জালিমের প্রতি মানুষের তীব্র ঘৃণা প্রবল এবং শাহাদাতবরণকারী হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও ইতিপূর্বে বিষ প্রয়োগে নিহত হজরত ইমাম হাসান (রা.)-এর প্রতি অপার শ্রদ্ধা-ভক্তি পবিত্র এই দিনটিতে পরিলক্ষিত হয়। সত্যের জন্য শাহাদাতবরণের এ অনন্য দৃষ্টান্ত সব আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে এর অন্তর্গত ত্যাগ-তিতিক্ষার মাহাত্ম্য তুলে ধরার মধ্যেই নিহিত রয়েছে ১০ মহররমের ঐতিহাসিক তাৎপর্য। পবিত্র আশুরা দিবসে কারবালার শিক্ষা হলো, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামীদের সামনে প্রতিপক্ষের তরফ থেকে কোনো সময় অর্থ, বিত্ত ও সম্মানের লোভনীয় প্রস্তাব এলেও ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করে আপসহীন মনোভাবের মাধ্যমে ত্যাগের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে হবে। কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী তাই আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা জোগায়।
পবিত্র আশুরা এ মহান শিক্ষা দিয়েছে যে সত্য কখনো অবনত শির হতে জানে না। বস্তুত, কারবালা ছিল অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের সংগ্রাম, রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সাধারণতন্ত্রের। ইসলামি আদর্শকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন হজরত ইমাম হোসাইন (রা.); কিন্তু স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে আপস করেননি। জীবনের চেয়ে সত্যের শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষার জন্য নবী-দৌহিত্রের অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ জগতের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। কারবালার ঘটনায় চিরন্তন সত্যের মহাবিজয় হয়েছিল এবং বাতিলের পরাজয় ঘটেছিল। সুতরাং আশুরার এ মহিমান্বিত দিনে শুধু শোক বা মাতম নয়, প্রতিবাদের সংগ্রামী চেতনা নিয়ে হোক চির সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই, প্রয়োজনে আত্মত্যাগ। কারবালার কথকতা শুধু শোকের কালো দিবসই নয়, এর মধ্যে সুপ্ত রয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য কঠিন শপথ নেওয়ার সুদৃঢ় আকাঙ্ক্ষা।
মহররমের ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত শিক্ষা অন্যায়-অবিচার-অসত্য ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে সব সময় রুখে দাঁড়ানো। কোনো সমাজে বা রাষ্ট্রে এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিরোধ করাই হোক কারবালার মূলমন্ত্র। পবিত্র আশুরা দিবসে কারবালার ত্যাগের শিক্ষা, অন্যায়ের কাছে মাথানত না করার শিক্ষা আমাদের চিরন্তন আদর্শ ও অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত। তাই মর্সিয়া ক্রন্দন নয়, কারবালার বাস্তব শিক্ষা, অর্থাৎ সত্যের জন্য আত্মত্যাগের যে অতুলনীয় শিক্ষা, তা সাদরে গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, ‘ফিরে এলো আজ সেই মহররম মাহিনা/ ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না’। আশুরার উদ্দীপ্ত চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত হোক এবং সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার, হিংস্রতা-নিষ্ঠুরতা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দ্বন্দ্ব-কলহ দূরীভূত হয়ে সারা বিশ্বে শান্তি ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠিত হোক। আসুন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দল-মতনির্বিশেষে আমরা সবাই মিলেমিশে কারবালার সুমহান আদর্শের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্যায়-অবিচার, জুলুম, নিপীড়ন ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্লঙ্ঘ প্রতিরোধ গড়ে তুলি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

নেপালে বিমান বিধ্বস্ত ২২ আরোহীর মৃত্যু

নেপালের পূর্বাঞ্চলে হিমালয়ের পাদদেশে দুর্গম এলাকায় গত বুধবার একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এর ২২ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছে।
নেপালি বিমান সংস্থা তারা এয়ারের বিমানটি বুধবার লামিনদা থেকে কাঠমান্ডু যাচ্ছিল। আকাশে ওড়ার কিছু সময় পরই বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটিতে একজন বিদেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।
নেপালের বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিমানটি কোনো পর্বতের সঙ্গে ধাক্কা লেগে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। কোনো যাত্রীরই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

পত্রিকার বিরুদ্ধে মুগাবের স্ত্রীর মানহানির মামলা

হীরকখনি থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার খবর প্রকাশ করায় জিম্বাবুয়ের দ্য স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার বিরুদ্ধে সে দেশের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের স্ত্রী দেড় কোটি ডলারের মানহানির মামলা করেছেন। গত বুধবার ওই মামলা করা হয়। দেশটির সরকারি পত্রিকার এক খবরে গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।
উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন কূটনীতির গোপন তারবার্তার বরাত দিয়ে গত সপ্তাহে পত্রিকাটি ওই খবর প্রকাশ করে। এতে দাবি করা হয়, জিম্বাবুয়েতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস ম্যাকগি ২০০৮ সালে ওয়াশিটংনকে ওই তারবার্তা পাঠান। ওই বার্তায় রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, জিম্বাবুয়ের পূর্বাঞ্চলে মারাং এলাকায় অবৈধ হীরকখনি থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন মুগাবের স্ত্রী গ্রেস মুগাবে। দেশটির উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিত্তবানেরা এ ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত।
ফার্স্ট লেডির আইনজীবী জর্জ চিকুমবিরিকের বরাত দিয়ে জিম্বাবুয়ের সরকারি পত্রিকা হেরাল্ড জানিয়েছে, দ্য স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার প্রতিবেদন ভিত্তিহীন। এ ধরনের মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করে পত্রিকাটি জাতির জননীর সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তাই পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ওই মামলা ঠুকে দেওয়া হয়।

বিপির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মামলা

মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্র দুর্ঘটনায় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) ও সংশ্লিষ্ট আরও আটটি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বিশুদ্ধ পানি আইন এবং তেলদূষণ আইনের আওতায় গত বুধবার এই মামলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার বলেছেন, মামলায় ওই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাবিধি ও যন্ত্রপাতি পরিচালনা-সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত কোম্পানিগুলো হচ্ছে—বিপি এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন ইনকরপোরেশন, অ্যানাডার্কো এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন, অ্যানাডার্কো পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, মোয়েক্স অফশোর ২০০৭ এলএলসি, ট্রাইটন অ্যাসেট লিজিং জিএমবিএইচ, ট্রান্সওশান হোল্ডিংস এলএলসি, ট্রান্সওশান অফশোর ডিপওয়াটার ড্রিলিং ইনকরপোরেশন, ট্রান্সওশান ডিপওয়াটার ইনকরপোরেশন এবং বিপির বিমাকারক প্রতিষ্ঠান লয়েডস অব লন্ডন।
চলতি বছরের ২০ এপ্রিল মেক্সিকো উপসাগরে দুর্ঘটনায় তেলকূপ থেকে তেল নিঃসরণ শুরু হয়। এ দুর্ঘটনায় ১১ শ্রমিক নিহত হন এবং কয়েক মাস ধরে উপকূলে প্রায় ৩৯ লাখ ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ভয়াবহতম পরিবেশ-বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল হোল্ডার বলেন, মামলায় তাঁরা প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন, এ ঘটনায় যে পরিবেশ-বিপর্যয় হয়েছে এবং তেল অপসারণে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার জন্য অভিযুক্ত কোম্পানিগুলো দায়ী। বিপি এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা মামলা মোকাবিলা করবে এবং এ-সংক্রান্ত তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে

‘আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী তালেবান ও আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উন্নতি করছে। তবে সেখানে তাদের আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আফগান যুদ্ধের কৗশল নিয়ে হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তালেবান অগ্রগতি দমানো সম্ভব হয়েছে। দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে এই অর্জন ততটা টেকসই নয়। তালেবান ও তার সহযোগীরা যেকোনো সময় আবারও এসব এলাকা দখল করে নিতে পারে।’ এতে আরও বলা হয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাকিস্তানে আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা দারুণ চাপে রয়েছে। ২০০১ সালের পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেকায়দায় রয়েছে তারা।
পর্যালোচনা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১১ সালের মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে। একই সঙ্গে আফগান বাহিনীর ওপর দেশটির নিরাপত্তার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। তবে এ জন্য অনেক কঠিন পরিস্থিতি পার করতে হবে। এতে আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও পাকিস্তানকে চরমপন্থীদের ‘নিরাপদ স্বর্গ’ থেকে বের করে আনতেও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনায় পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার কথাও বলা হয়। পাকিস্তানের আফগান সীমান্তের কাছে থেকে বিদেশি সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পর পাকিস্তানে প্রবেশ করে জঙ্গিরা। তাই জঙ্গিদের দমনে দুই দেশের সীমান্তে তৎপরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকা থেকে জঙ্গি হামলা বন্ধ করতে না পারলে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর সাফল্য কঠিন হয়ে পড়বে।
আফগানিস্তানে চলতি বছর বেসামরিক-সামরিক হতাহতের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছর দেশটিতে সাত শ বিদেশি সেনা নিহত হয়েছেন। ২০০১ সালের পর এক বছরে এটাই বিদেশি সেনা নিহত হওয়ার রেকর্ড। আফগান সাধারণ জনগণও অনেক ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনা তালেবান গোষ্ঠীর তৎপরতা বাড়ার বিষয়টিই প্রমাণ করে।
সাউথ এশিয়া অ্যাট দ্য সেন্টার ফর আমেরিকান প্রোগ্রেস-বিষয়ক বিশ্লেষক ক্যারোলিন ওয়েডহ্যামস বলেন, ‘নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন কিছু সাফল্য পাওয়া গেছে। তবে সেই অর্থে স্থায়ী কোনো উন্নতি হয়নি।’
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও সামরিক জোট ন্যাটোর অধীনে দেড় লোখ সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে এক লাখই মার্কিন সেনা।

আশুরা উপলক্ষে কারবালায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা

ইরাকে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮০ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, গ্রেপ্তার জঙ্গিরা কারবালা শহরে আশুরার অনুষ্ঠানে হামলার ষড়যন্ত্র করছিলেন। আশুরা উপলক্ষে শহরটিতে ১৫ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছেন। শহরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা।
গত বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল ওসমান আল-গানিমি বলেন, গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে সেনারা সন্ত্রাসীদের ১৪টি ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে ৮০ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি জানান, গ্রেপ্তার জঙ্গিরা আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘বয়েজ অব হেভেন’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর সদস্য।
গানিমি আরও বলেন, ‘তাঁরা শুক্রবার পুণ্যার্থীদের ওপর হামলার ষড়যন্ত্র করছিলেন।’ এই ইরাকি সেনা কমান্ডার কারবালাসহ পাঁচটি প্রদেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রাদেশিক গভর্নর আমাল আল-দীন আল-হার বলেন, আশুরা উপলক্ষে ইতিমধ্যেই ১৫ লাখ পুণ্যার্থী কারবালায় জড়ো হয়েছেন। শুক্রবারের মধ্যে এক লাখ বিদেশিসহ ২০ লাখ মানুষ কারবালায় জড়ো হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানে বাসে বোমা

আফগানিস্তানে একটি মিনিবাসে বোমা বিস্ফোরণে একই পরিবারের ১৪ জন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হেরাত প্রদেশের কুশকি কুহনা এলাকায় স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ।
হেরাত প্রদেশের মুখপাত্র রফি বেহরেজিয়ান জানান, বোমা বিস্ফোরণে ওই মিনিবাসে থাকা একটি পরিবারের ১৪ সদস্য নিহত হয়। এ ছাড়া আরও চারজন আহত হয়েছে। কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।

পাকিস্তানে আল-কায়েদার পক্ষে লড়াই করা দুই ব্রিটিশ নাগরিক নিহত

পাকিস্তানে আল-কায়েদা জঙ্গিদের পক্ষে লড়াই করা ব্রিটিশ দুই শ্বেতাঙ্গ নাগরিক ১০ ডিসেম্বর মার্কিন ড্রোন (মানববিহীন বিমান) হামলায় নিহত হয়েছেন। গত বুধবার ব্রিটেনের চ্যানেল ফোর ও গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এ দাবি করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ খবরের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেননি।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নাগরিকদের বয়স ৪৮ ও ২৫ বছর। আল-কায়েদার জঙ্গিদের সহযোগী হওয়ার পর তাঁরা নাম বদলে আবু বকর ও মানসুর আহমেদ ধারণ করেন। ১০ ডিসেম্বর সীমান্তবর্তী উত্তর ওয়াজিরিস্তানের উপজাতি-অধ্যুষিত দাত্তা খেল এলাকায় মার্কিন ড্রোন হামলায় তাঁরা নিহত হন। গার্ডিয়ান-এ বলা হয়, খবরটি সত্যি হলে নিহত ব্যক্তিরা হবেন প্রথম শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নাগরিক, যাঁরা আল-কায়েদার পক্ষে লড়ে প্রাণ দিলেন।
গতকাল লন্ডন থেকে পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত পাকিস্তানে দুই ব্রিটিশ নাগরিক নিহত হওয়ার খবরের ব্যাপারে আমরা অবগত আছি। পাকিস্তানে আমাদের হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আরও তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
হামলার নতুন ষড়যন্ত্র: আসন্ন বড়দিনের ছুটির মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে হামলা চালাতে পারে আল-কায়েদা। ইরাকি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গতকাল একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ আশঙ্কার কথা বলেন। কর্মকর্তা দাবি করেন, আটক করা জঙ্গিদের কাছ থেকে ইরাকি কর্তৃপক্ষ আল-কায়েদার এই ষড়যন্ত্রের কথা জেনেছে। তিনি বলেন, এই হুমকির বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।

টেলিকম কেলেঙ্কারির তদন্ত পর্যবেক্ষণ করবেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের লাইসেন্স বরাদ্দ-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির তদন্ত-প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ওই আদালত তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো ইন্টেলিজেন্স (সিবিআই) ও ইনফোরসমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডি) আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
আদালত বলেছেন, কেলেঙ্কারিতে জড়িত সাবেক টেলিকমমন্ত্রী এ রাজা দাবি করেছেন, ২০০১ সালে তৎকালীন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যে নীতি গ্রহণ করেছিল, বর্তমান সরকার সে প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। তাঁর এ দাবির কারণে আদালত সিবিআই ও ইডিকে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সরকারি পদক্ষেপের সবকিছু খতিয়ে দেখতে বলেছেন।
এ তদন্তে দ্বিতীয় প্রযুক্তির মোবাইল ফোন কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া এবং আর্থিকভাবে অযোগ্য টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আদালত বলেছেন, সাধারণ নিয়মে দেশের প্রধান দুর্নীতি পর্যবেক্ষক হিসেবে সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনার (সিভিসি) পি জে থমাসকে এই তদন্ত পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় এবং টেলিকম মন্ত্রণালয়ে তিনি এর আগে দায়িত্ব পালন করায় তাঁকে সে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি ভারতের রাজনৈতিক তদবিরকারী নিরা রাডিয়ার কয়েকটি টেলিফোন আলাপের টেপ প্রকাশিত হয়। এতে কয়েকটি টেলিকম কোম্পানির কাছ থেকে টেলিকমমন্ত্রীর উৎকোচ নেওয়া এবং বিনিময়ে তাদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় লাইসেন্স এবং ঋণ দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে টেলিকমমন্ত্রী এ রাজা পদত্যাগ করেন।

বিয়ের বয়স পিছিয়ে যাচ্ছে মার্কিনদের

অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য ভেঙে পড়েছে। দেশটির তরুণ-তরুণীরা আগে যে বয়সে বিয়ে করে মা-বাবাকে ছেড়ে আলাদা সংসার করত, সেই বয়স পিছিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বেকার হয়ে যাওয়া অনেক তরুণ-তরুণী আবার মা-বাবার কাছে ফিরতে শুরু করেছে।
নতুন একটি গবেষণায় এসব তথ্য জানা গেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর চিলড্রেন ইন পোভার্টি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ গবেষণা চালিয়েছে। এতে দেখা গেছে, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী আবার মা-বাবার কাছে ফিরে এসেছে। গত বছর ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ মার্কিন তরুণ-তরুণী মা-বাবার সংসারে ফিরে এসেছে, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ১৯৭০ সালে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ভ্যানেসা উইট বলেন, ‘চাকরির বাজারে অস্থিরতা চলার কারণে তরুণ-তরুণীরা স্কুল ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। তারা সেখান থেকে উপার্জন করছে।’ তিনি বলেন, আর যেসব তরুণ-তরুণী স্বাবলম্বী হতে পারছে না, তারা মা-বাবার সঙ্গে থাকছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন তরুণ অথবা তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে তাদের বিগত দশকগুলোর তুলনায় অনেক বিলম্ব হচ্ছে। আগে তরুণ-তরুণীদের প্রাপ্তবয়স্ক মানেই ছিল বিয়ে করে মা-বাবার ঘর ছেড়ে আলাদা হওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ থেকে তথ্য নিয়ে এ গবেষণা করা হয়েছে। এতে আরও দেখা গেছে, তরুণ-তরুণীরা বিয়ে করে সংসারজীবন শুরু করতে দেরি করছে। ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় এই হার ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন তরুণীদের প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে গড় বয়স ছিল ২০ বছর এক মাস। পক্ষান্তরে তরুণদের জন্য ছিল ২৩ বছর দুই মাস। অথচ ২০০৯ সালে এই বয়স দাঁড়িয়েছে তরুণীদের জন্য ২৫ বছর নয় মাস ও তরুণদের জন্য ২৮ বছর এক মাস।
নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্যানেসা উইট বলেন, সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। তিনি বলেন, ‘যথোপযুক্ত সময়ে তরুণ-তরুণীদের বিয়ের ব্যাপারে আমাদের মনোযোগী হতে হবে। আর যারা এরই মধ্যে সংসার সাজাতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও মনোযোগী হতে হবে।’

বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি শুরু করতে পারবে ইরাক

ইরাকের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ১৯ বছর আগে সাদ্দামের শাসনামলে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এর ফলে দেশটি এখন বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারবে। এ ছাড়া তেলের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিও বাতিল করা হয়েছে। গত বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সর্বসম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত হয়। ইরাকের রাজনৈতিক অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাবে পরমাণু, রাসায়নিক ও জীবাণু বোমা তৈরির কর্মসূচি থেকে ইরাককে বিরত রাখাসংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে। এর ফলে দেশটির বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হলো। সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছেন—এই অজুহাত তুলে ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ইরাক থেকে সেই ধরনের কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি মার্কিন বাহিনী। এর আগে ১৯৯১ সালে ইরাক প্রতিবেশী রাষ্ট্র কুয়েত দখল করে নিলে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নিরাপত্তা পরিষদ। সাদ্দামের পতনের পর ২০০৩ সালে অবশ্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও গতানুগতিক কিছু অস্ত্রসংক্রান্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের অপর একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে ইরাকের খাদ্য কেনার জন্য তেলের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সাদ্দাম হোসেন ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত খাদ্য ও ওষুধ কেনার জন্য তেল বিক্রি করেন। এ ছাড়া এতে ইরাকের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তৃতীয় প্রস্তাবে ইরাকের উন্নয়ন তহবিলের মেয়াদ আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে। দেশটির তেল ও রাজস্ব বিভিন্ন বিষয় পরিচালনার জন্য ২০০৩ সালে ওই তহবিল গঠন করা হয়।
খাদ্য কেনার জন্য তেল বিক্রিসংক্রান্ত প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ফ্রান্স ভোট দানে বিরত থাকে। তবে অন্য সব প্রস্তাব সর্বসম্মতিতে পাস হয়।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যে পরিস্থিতিতে ইরাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, এখন দেশটির পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরাকের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বান কি মুন বলেন, ইরাকের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ ইরাককেই নিতে হবে। দেশটিকে কুয়েতের সঙ্গে সীমানা নিশ্চিত করা ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও উদ্যোগ নিতে হবে।
বাগদাদ এখনো তার তেল বিক্রির শতকরা পাঁচ ভাগ অর্থ যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কুয়েতকে দিয়ে যাচ্ছে। কুয়েত যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইরাকের কাছ থেকে দুই হাজার ২০০ কোটি ডলার দাবি করেছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ইরাকে ভয়াবহ হামলার সংখ্যা কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, ইরাক এখন স্থিতিশীল ও নিজের ওপর আস্থাশীল একটি জাতিতে পরিণত হচ্ছে।
ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসায়ের জেবারি বলেন, ইরাকের নতুন সরকার কুয়েতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে গুরুত্ব দেবে। তিনি বলেন, ‘আগের শাসনামলে যুদ্ধ ও অবিশ্বাসের কারণে ইরাকের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসব।’

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও দেশটির ব্যবসায়ী নেতারা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। গত বুধবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ব্যবসায়ী নেতারা একমত হয়েছেন যে প্রত্যাশা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক গতি সঞ্চারিত হচ্ছে না। বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অলস অর্থ নতুন বিনিয়োগে ব্যবহূত হচ্ছে না। তাঁরা বলেন, প্রায় ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখনো কর্মহীন। বড় বড় প্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে কর্মী নিয়োগে উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর বারাক ওবামার সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক শীতল হয়ে ওঠে। ওবামার একাধিক সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা সংস্কার নিয়ে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুব্ধ। এ জন্য গত মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবসায়ীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ রিপাবলিকানদের সমর্থনে প্রকাশ্যে অর্থ ব্যয় করেছে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গুগল, জেনারেল ইলেকট্রিক, আমেরিকান এক্সপ্রেস ও উড়োজাহাজ সংস্থা বোয়িংয়ের নির্বাহী প্রধানেরা।
বৈঠক শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’ বোয়িংয়ের নির্বাহী প্রধান জিম ম্যাকনারনি বলেন, ‘সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমরা মতৈক্যে পৌঁছেছি।’
প্রেসিডেন্ট ওবামা ইতিমধ্যে উচ্চ আয়ের লোকজনের জন্য কর রেয়াতের মেয়াদ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছেন। এ নিয়ে নিজ দল ও উদারনৈতিক মহলের তীব্র সমালোচনায় পড়েছেন। রিপাবলিকান দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে উচ্চ আয়ের লোকজনের জন্য কর রেয়াতের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কর রেয়াতের মেয়াদ বৃদ্ধির এ রাজনৈতিক সমঝোতাটি ব্যবসায়ী নেতাদের স্বার্থের অনুকূলে। ব্যবসায়ী নেতারা কর রেয়াতের মেয়াদ বৃদ্ধির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অলস অর্থের বিনিয়োগ, অধিদপ্তর কর্মী নিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক জরুরি বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ কামনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। বৈঠক শেষে মটোরোলা কোম্পানির নির্বাহী প্রধান গ্র্যাগ ব্রাউন বলেন, ‘বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিসহ অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।’

হিলি স্থলবন্দরে পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায়ে ৩৩ কোটি টাকা ঘাটতি

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দরে চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মাত্র ২৩ কোটি ৭২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই স্থলবন্দরটির জন্য নির্ধারিত ৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ কোটি ২০ লাখ ৬১ হাজার টাকা কম।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই বন্দর দিয়ে খৈল, ভুসি, পেঁয়াজ, ভুট্টা এবং কিছু ক্ষেত্রে মোটর ও সাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানি হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে মাঝে মধ্যে চিটাগুড় ও ইট রপ্তানি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক বছর আগেও এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য নিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক দেশে ঢুকত, যা এখন কমে ১০-১৫টিতে নেমেছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের নিযুক্ত প্রাক-জাহাজিকরণ পরিদর্শনকারী বা পিএসআই সংস্থা আমদানিপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিলেও দেশে আসার পর কাস্টমস কর্মকর্তারা তা মানতে চান না। তাঁরা নতুনভাবে ওই পণ্যের দাম পুনর্নির্ধারণ করে রাজস্ব নির্ধারণ করেন। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।
অভিযোগের সুরে একই তথ্য জানালেন বন্দরের ব্যবসায়ী মো. মুশফিকুর রহমান চৌধুরী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রাইম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. শাহিনুর ইসলাম, বিউটি সাইকেল স্টোরের মালিক মো. আলতাফ হোসেন এবং ঢাকার বংশালের সাইকেল আমদানিকারক আবদুল আজিজ ও নারায়ণগঞ্জের আমদানিকারক নবীউল্লাহ।
বন্দরের শ্রমিকনেতা উমর মল্লিক, গোলাম মুরশীদ, নুরল মল্লিক অভিযোগ করেন, একটি মহলের চক্রান্তের কারণে বন্দরটি দিন দিন আমদানিশূন্য হয়ে পড়ছে। এতে বন্দরের পাঁচ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা চালুর লক্ষ্যে ১৯৮৫-৮৬ সালে হিলি শুল্ক স্টেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিকে ১৯৯৬ সালে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০০৫ সালে বন্দরটির পরিচালন কার্যক্রম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ২৫ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে দায়িত্বটি পায় পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেড। ২০০৭ সালের ২৬ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে হিলি যাত্রা শুরু করে।
পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনন্ত কুমার চক্রবর্তী প্রথম আলোকে জানান, ২০০৭ সালে এই বন্দরে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হলেও এখন তা স্থবির হয়ে পড়েছে। যে কারণে তিন বছরেও তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি লাভের মুখ দেখেনি। বরং ১৫ কোটি টাকার মতো লোকসান দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে বন্দরের কাস্টমস উপকমিশনার আবদুল মান্নান সরদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পিএসআই সংস্থা কর্তৃক পণ্যের দাম সঠিক না হলে সে ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্মকর্তারা সঠিক মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন। যদি কখনো এমন জটিলতা দেখা দেয়, তখন যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান করে পণ্যটি খালাস করা হয়ে থাকে। এতে কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা হয় না। কোনো কোনো ব্যবসায়ী অন্যায় সুবিধা পান না বলে এমন অভিযোগ করতে পারেন।’

চাকায় শুল্কারোপ নিয়ে আপিল করবে চীন

চীনে প্রস্তুত করা মোটরযানের চাকা আমদানিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত বছর যে বাড়তি হারে আমদানি-শুল্ক আরোপ করেছে, তাকে বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)।
তবে সংস্থাটির এই রায়ে সংগত কারণেই সন্তুষ্ট হতে পারেনি চীন। দেশটি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চীন থেকে চাকা আমদানির ওপর ৩৫ শতাংশ হারে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেন। এই পদক্ষেপকে সংরক্ষণমূলক অভিহিত করে চীন ডব্লিউটিওতে অভিযোগ দায়ের করে।
চীনের অভিযোগে বলা হয়, সংস্থাটির বিধিবিধান লঙ্ঘন করে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি বিভাগ (ডিএসবি) একটি প্যানেল গঠন করে শুনানি ও রায় প্রদানের জন্য।
গত সোমবার এই প্যানেল তাদের রায় ঘোষণা করে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বর্ধিত হারে চৈনিক চাকার ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছে, তা বিধিবিধানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ নয়।
তবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, তারা সংস্থার প্যানেল প্রতিবেদন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে যথাসময়ে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই রায়কে আমেরিকার শিল্প খাত ও শ্রমিকদের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছে।

পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্যগুলোর বিক্রি হ্রাস

দেশে পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্যান্য সঞ্চয়পত্র আর মেয়াদি বন্ড বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র ও মেয়াদি বন্ড বিক্রি হয়েছে, তার প্রায় ৮৫ শতাংশই এসেছে পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকে।
জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিবার সঞ্চয়পত্র চলতি অর্থবছর থেকে চালু হয়েছে। তাই আগে বিক্রি হওয়ার বিপরীতে মূল উঠিয়ে নেওয়ার প্রবণতা নেই বললেই চলে। আবার এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আয়করমুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে পরিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে গেছে।
জানা গেছে, জুলাই-অক্টোবর সময়কালে সঞ্চয়পত্র ও মেয়াদি বন্ডের নিট বা প্রকৃত বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকেই এসেছে এক হাজার ৬৩১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ওই সময়ে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করার মাধ্যমে গ্রাহকদের মূল ফেরত দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকেই নিট বা প্রকৃত বিক্রি ধরা হয়।
তবে সুদের অর্থ পরিশোধ করতে বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের সুদ পরিশোধের জন্য রাখা হয়েছে সাত হাজার ৭৫ কোটি টাকা। জুলাই-অক্টোবর মাসে সুদ বাবদ পরিশোধের পরিমাণ এক হাজার ৯৫১ কোটি টাকা।
জানা গেছে, এই সময়কালে প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও তিন বছর মেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগ বন্ডের নিট বিক্রি ঋণাত্মক পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ এসব সঞ্চয়পত্র ও বন্ডে এই সময়ে যে পরিমাণ বিনিয়োগ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ মূল অর্থ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর মাসে ছয় হাজার ৪৫২ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে মূলধন ওঠানো হয়েছে চার হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। এতে নিট বিনিয়োগ বা বিক্রি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯২৩ কোটি টাকা।
আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বিক্রি করে সম্পদ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাত হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা।
সঞ্চয় পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সুদের হার কমানোর ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন আর সঞ্চয়পত্র কিনতে উৎসাহিত হচ্ছেন না। অনেকে বিনিয়োগ উঠিয়ে স্বল্প সময়ে লাভের আশায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এ ছাড়া বন্ডে পুনঃবিনিয়োগ সুবিধা রহিত করা ও সুদের হার কমানোর ফলে এ খাত থেকেও সম্পদ আহরণের গতি কমে গেছে।
সঞ্চয় পরিদপ্তরের চার মাসের বিক্রি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চার মাসে পরিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৬৪১ কোটি টাকার। আর চার মাসে এই সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ কোটি টাকা। সারা বছরে পরিবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৭০ কোটি টাকা, যা ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৭৭২ কোটি টাকার আর ২০৯ কোটি টাকার মূল পরিশোধ করা হয়েছে। এতে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ কোটি টাকা।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছর থেকে প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আর নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। শুধু মূল পরিশোধ হচ্ছে। চার মাসে মূল পরিশোধ হয়েছে ১৭১ কোটি টাকা।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে এক হাজার ১১০ কোটি টাকা আর মূল পরিশোধ করতে হয়েছে এক হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। বেশি মূল পরিশোধ করায় সঞ্চয় পরিদপ্তরকে বাড়তি ৬২০ কোটি টাকা দিতে হয়েছে।
জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর পরিচালিত বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড, ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, তিন বছর মেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগ বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড—এই পাঁচটি বন্ডের নিট বিক্রি হয়েছে ৮২ কোটি টাকা। জুলাই-অক্টোবর মাসে ৩৫৯ কোটি টাকার বন্ড বিক্রি হয়েছে। আর মূল পরিশোধ হয়েছে ২৭৭ কোটি টাকা।

ইউরোর মুদ্রামানের সংকট কাটাতে সমঝোতা

ইউরোপীয় নেতারা ইউরো মুদ্রামানের সংকট ঠেকাতে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছেছেন।
বিগত মাসগুলোতে গ্রিস, আয়ারল্যান্ডের আর্থিক সংকটে ইউরোর মুদ্রামান বেশ সংকটের মুখে পড়ে। এ ছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে ইতালি, পর্তুগাল ও স্পেনের মতো দেশগুলোও।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৭টি দেশের মধ্যে ১৬টি দেশে প্রচলিত ইউরোর মুদ্রামান শক্তিশালী এবং আর্থিক সংকটে পড়া দেশগুলোকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকেই বিতর্ক চলছিল।
আর্থিক সংকট কাটাতে ইউরো জোনভুক্ত দেশগুলোর জন্য ৭৫ হাজার বিলিয়ন ইউরো নিয়ে ‘সংকট উদ্ধার তহবিল’ গঠন করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদর দপ্তর ব্রাসেলসে ২৭টি দেশের নেতাদের বৈঠক শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সংকটে পড়া দেশগুলো ওই তহবিল থেকে ঋণ পেলেও তাদের নির্দিষ্ট হারে সুদ দিতে হবে। অবশ্য এ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আগের ইউরো মুদ্রাসংক্রান্ত লিসবন চুক্তির কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে।
বৈঠকে ইইউ নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এর ফলে ২০১৩ সালের মধ্যেই ইউরো জোনভুক্ত সংকটাপন্ন দেশগুলো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

রোনালদো সেরা সেরা নন

বয়স মাত্র ২৫। এরই মধ্যে কত অর্জন, সর্বকালের অন্যতম সেরা হওয়ার হাতছানি। কিন্তু দানি আলভেজ বলছেন, রোনালদো আসলে কখনোই বিশ্বসেরা হতে পারবেন না। আলভেজ ‘শত্রুশিবিরে’র। তাঁর এমন মন্তব্যের অন্য সুর খুঁজে বের করাই যায়। কিন্তু বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডারের কথায় যুক্তি আছে, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হতে গেলে শুধু ভালো খেলাই যথেষ্ট নয়। আপনাকে এমন একজন হতে হবে, যাকে সবাই ভালোবাসবে। রোনালদোর ভাবভঙ্গিতে অনেকেই কষ্ট পায়। রোনালদো এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন, এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়টিকে একই সঙ্গে শান্ত, বিনয়ী এবং বন্ধুপরায়ণ হতে হবে।’ আলভেজ উদাহরণও দিয়েছেন—লিওনেল মেসি।
রোনালদো সেরা নাকি মেসি, এ নিয়ে অন্তহীন বিতর্ক তো হতেই পারে। আলফ্রেডো ডি স্টেফানো যেমন তাঁর নিজ দেশের মেসিকে নয়, সেরা হিসেবে বেছে নিলেন রোনালদোকে। রিয়াল মাদ্রিদের এই কিংবদন্তি অবশ্য মজা করে বলেছেন, ‘মেসি নাকি ক্রিস্টিয়ানো? আমার চোখে ক্রিস্টিয়ানো। কারণ ও আমাদের এখানে খেলে।’

মহিলা কাবাডি দলের আরেকটি পদক

এশিয়ান গেমস থেকে ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে ফিরতে না ফিরতেই বাংলাদেশ মহিলা কাবাডি দল আরেকটি ব্রোঞ্জ জিতল। এই পদক এল ওমানের মাসকটে চলমান এশিয়ান বিচ গেমসে। ভারত ও থাইল্যান্ডের কাছে ৬৪-২৪ ও ৬৭-৪৫ পয়েন্টে হারের পর কাল ইন্দোনেশিয়াকে ৬০-৪০ পয়েন্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এতেই নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ জয়। চার দলের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পদক জয় ছিল প্রত্যাশিত। সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন মহিলা কাবাডি দলকে সংবর্ধনা দেবে।

ব্র্যাডম্যান-ঘাতকের বিদায়

জীবনে মাত্র দুবার প্রথম বলে আউট হয়েছিলেন ডন ব্র্যাডম্যান। এর মধ্যে একবার জ্যাক স্ট্যাকপুলের বলে। সেই স্ট্যাকপুল জীবনের ইনিংসে আউট হয়ে গেলেন ৯৩ বছর বয়সে।
কুইন্সল্যান্ডের হয়ে মাত্র তিনটি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলেছেন। এর পরই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ধ্বংস করেছে তাঁর ক্রিকেট-ভবিষ্যৎ। টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখাই হয়নি। কিন্তু এর আগে ফার্স্ট ক্লাস অভিষেকে এমন এক কীর্তি গড়েন, যেটা হয়তো তাঁকে অমরত্ব দেবে ক্রিকেট-ইতিহাসে। শেফিল্ড শিল্ডে কুইন্সল্যান্ড-দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ডনের ব্যাটিং দেখতে আসা দর্শকদের হতাশ করে দিয়ে প্রথম বলেই সিলি মিডঅনে ক্যাচ বানিয়ে তাঁকে আউট করে দেন স্ট্যাকপুল। প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। যুদ্ধের পর বাকি দুটো ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেললেও জাতীয় দলে ডাক পাননি।

বিকেএসপির দুটি সোনা

জাতীয় আর্চারির প্রথম দিনে সোনার নিষ্পত্তি হয়নি। কাল দ্বিতীয় দিনে নিষ্পত্তি হওয়া তিনটি সোনার দুটি জিতেছে বিকেএসপি, একটি আনসার। ব্যাম্বো বো ইভেন্টের পুরুষ বিভাগে সোনা জিতেছেন বিকেএসপির রামকৃঞ্চ, মহিলা বিভাগের সোনা একই দলের ফারজানার। কম্পাউন্ড বো ইভেন্টের মহিলা বিভাগে সেরা আনসারের রিনা চাকমা। আজ প্রতিযোগিতার শেষ দিন।

আজ বসবেন তাঁরা দুজন

ম্যানচেস্টার সিটিতে সুখেই আছেন কার্লোস তেভেজ! বিস্ময় জাগানোর মতো কথাই এটা। দিন তিনেক আগেই ম্যান সিটি ছাড়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। ম্যান সিটিতে সুখে থাকলে এটা করলেন কেন? তেভেজ তা করতে পারেন, কিন্তু ম্যান সিটির কোচ মানচিনির বিশ্বাস, তাঁর আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সুখেই আছেন, ‘আমার মনে হয় না ও এখানে অসুখী। সত্যি, তা মনে হয় না।’
তাহলে আসল ব্যাপারটা কী? কেউ কি তেভেজকে কুপরামর্শ দিচ্ছে? অনেকেরই ধারণা, তেভেজের মাথাটা খেয়েছেন আসলে তাঁর পরামর্শক কিয়া জোরাবসিয়ান। আর জোরাবসিয়ান দোষ দিচ্ছেন ম্যান সিটির প্রধান নির্বাহী গ্যারি কুককে। মানচিনি কী মনে করেন? ‘আমি ঠিক জানি না’—বলেছেন সিটির ইতালিয়ান কোচ।
মানচিনি আজ হয়তো কিছুটা জানতে পারবেন। সবকিছু নিয়ে আজই তেভেজের সঙ্গে কথা বলবেন মানচিনি। গতকাল জুভেন্টাসের বিপক্ষে ইউরোপা লিগের ম্যাচ খেলার জন্য ইতালি গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। মানচিনি চোখের অস্ত্রোপচার করাতে ইতালিতে আছেন আরও আগে থেকেই। ফিরেই হয়তো কথা হবে তেভেজের সঙ্গে। তাঁর বিশ্বাস, তেভেজ সিটিতেই থেকে যাবেন, ‘আমি এখনো ওর সঙ্গে কথা বলিনি। সে এখনো আমাদের খেলোয়াড় এবং আশা করছি এখানেই থাকবে আর গোল করে যাবে। শুক্রবার (আজ) ওর সঙ্গে কথা বলব।’

এখন তাঁরা দুই দ্বীপে

কার্লোস বিলার্দো বললেন। না বললেও চলত। ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে আর আগের মতো নেই, সেটি বোঝার জন্য দুজনের মনের অন্দরে ডুব দেওয়ার দরকার নেই। বিশ্বকাপের পর থেকে ম্যারাডোনা সাবেক গুরু সম্পর্কে যেসব কথা বলেছেন, তাতে এই সম্পর্ক আগের মতো উষ্ণ থাকাটাই হতো বিস্ময়ের। বিলার্দোও বললেন, সম্পর্কের নাড়িটা ম্যারাডোনা ছিঁড়ে ফেলেছেন।
অবশ্য ম্যারাডোনার ওপর কোনো রাগ নেই তাঁর, ‘আমি জানতাম, ম্যারাডোনা অনেক কিছুই বলবে। এরপর কী হয়েছে, তা তো সবাই জানে। আমাদের সম্পর্ক আর আগের মতো নেই। আমার অবশ্য কোনো কিছু নিয়ে কোনো অনুতাপ নেই। ম্যারাডোনার সঙ্গেও কোনো সমস্যা নেই। যদি পেছনে ফিরে যেতে পারতাম, আগের মতোই সবকিছু করতাম, ’৮৩ সাল থেকে যা যা করে এসেছি।’
বিশ্বকাপে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল ম্যারাডোনার মূল পরামর্শক হিসেবে। কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই কোচ তাঁর পরামর্শের ধার ধারেননি। বিলার্দো জানালেন, সব মিলে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন, ‘আমার অবস্থাটা ছিল অস্বস্তিকর। আমি কিছু বলতে চাইতাম, ওরা বলতে দিত না। কখনো কখনো কথা শুনত, কখনো শুনত না।’ তাহলে কেন পদত্যাগ করেননি? ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী কোচের উত্তর, ‘আমি দলকে ছেড়ে যেতে পারিনি, কারণ আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম।’

ইংল্যান্ড উড়ছেই

দারুণ প্রত্যাবর্তন হলো মিচেল জনসনের! পার্থ টেস্টের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়া দলের বাকি ১০ জনকে ছাপিয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল এই বাঁহাতি পেসারই। থুড়ি, বাঁহাতি ব্যাটসম্যান!
জনসন অস্ট্রেলিয়ার সেরা পারফরমারই বটে। তবে সেটি বল হাতে নয়, ব্যাট হাতে। রিকি পন্টিংয়ের দলের করুণ অবস্থাও বুঝিয়ে দিচ্ছে এটি। ২৬৮ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পরও যে মাইক হাসি বলছেন, ‘যদি দিনের শুরুতে এই স্কোরের কথা বলা হতো, আমরা খুশিই হতাম’, এটাও কি নয়?
‘দিনের শুরু’ বলতে নিশ্চয়ই ১৬.১ ওভার পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের কথা বুঝিয়েছেন হাসি। স্কোরবোর্ডে তখন ৪ উইকেটে ৩৬। হিউজ, পন্টিং, ক্লার্ক ও ওয়াটসন ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। ২৮তম ওভারে অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে ৬৯। সেখান থেকে ২৬৮ তো আসলেই অনেক।
সেটি সম্ভব হয়েছে তিনটি হাফ সেঞ্চুরিতে। হাসির ব্যাট হেসেছে আবারও (৬১)। বাদ পড়ার শঙ্কা মাথায় নিয়ে সিরিজ শুরু করে টানা চতুর্থ পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন এই বাঁহাতি। ষষ্ঠ উইকেটে ৬৮ রানের জুটিতে হাসিকে সঙ্গ দিয়েছেন ব্র্যাড হাডিন (৫৩)। তবে ৮ নম্বরে নেমে ৬২ রানের ইনিংসে এই দুজনকে ছাড়িয়ে গেছেন জনসন।
ওয়াকার উইকেট নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল বলে টস শুরুর ঠিক আগে একাদশ চূড়ান্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। নির্বাচকদের অদ্ভুত পছন্দ বাঁহাতি স্পিনার মাইকেল বিয়ারের অভিষেক হয়নি শেষ পর্যন্ত। চার পেসার নিয়ে খেলতে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া, সঙ্গে ওয়াটসনের মিডিয়াম পেস ও স্টিভ স্মিথের লেগ স্পিন। এই বোলিং আক্রমণ কেমন করে, সেটির পরীক্ষা হবে আজ। কাল দিনশেষে ১২ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়েছেন দুই ইংলিশ ওপেনার। দ্বিতীয় দিনের নাম তাই ইংল্যান্ডের ব্যাটিং বনাম অস্ট্রেলিয়ার বোলিং।
সিরিজে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বোলিং নখদন্তহীন হয়ে আছে আর ইংল্যান্ডের বোলিং ক্রমেই ধারালো হচ্ছে। ইংল্যান্ড যা করছে, সেটিতেই কাজ হচ্ছে। চোট পেয়ে দেশে ফিরে যাওয়া স্টুয়ার্ট ব্রডের জায়গায় যেমন সোয়া তিন বছর পর নামিয়ে দেওয়া হলো ক্রিস ট্রেমলেটকে। সেই ট্রেমলেটও কাঁপিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়াকে। নিজের প্রথম ওভারেই হিউজের ফেরাটাকে নিরানন্দ করে দিলেন, চতুর্থ ওভারে ফেরালেন ক্লার্ককে। পরে স্মিথকেও ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ৫ উইকেটের ৩টিই তাঁর।
সন্তানের মুখ দেখতে অ্যাডিলেড টেস্টের পর ইংল্যান্ডে যাওয়া-আসা করা অ্যান্ডারসনের মধ্যেও তো জেট-ল্যাগের কোনো ছাপ দেখা গেল না। তাঁরও ৩ উইকেট, যার মধ্যে পন্টিংও আছেন। কোনো রান করার আগেই ট্রেমলেটের বল পন্টিংয়ের ব্যাটের কানায় লেগে উড়ে গিয়েছিল তৃতীয় স্লিপ ও গালির মাঝখান দিয়ে। কিন্তু সেই ভাগ্যের ছোঁয়া কাজে লাগেনি। আরও দুটি চার মারার পর তৃতীয় স্লিপে কলিংউডের অবিশ্বাস্য এক ক্যাচের শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ককে। অস্ট্রেলিয়ার দুঃসময়েও সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন পন্টিং, বিপরীত অর্থে এই যা! তথ্যসূত্র: স্টার ক্রিকেট।

ফিরছি না: ওয়ার্ন

এই কদিন আলোচনাটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছেন। অবশেষে শেন ওয়ার্ন নিজেই নাকচ করে দিলেন ফিরে আসার সম্ভাবনা। অস্ট্রেলীয় পত্রিকা হেরাল্ড সান-এ ওয়ার্ন লিখেছেন, ‘স্বীকার করতেই হবে, আপনাদের অনেকেই যে চেয়েছিলেন আমি এই সিরিজে ফিরে আসি, সেটা শোনার পর আমি বেশ খুশি এবং বিস্মিত হয়েছিলাম। ফিরতে পারলে ভালোই লাগত। কিন্তু ফেরার জন্য যথেষ্ট ফিট হতে আমার সময় প্রয়োজন।’
তবে কি সময় পেলে ওয়ার্ন ফিরবেন? পরের বাক্যগুলোতে ৭০৮ টেস্ট উইকেটের মালিক পরিষ্কার করে দিয়েছেন, পাঁচ দিনের ক্রিকেট খেলা এখন আর তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়, ‘আমার সাধারণ ফিটনেস আগের মতোই ভালো অবস্থায় আছে। এ নিয়ে আমি প্রচুর পরিশ্রমও করেছি। কিন্তু লম্বা স্পেলে বল করার খাটুনি নিয়ে পরের দিন আবারও মাঠে নামতে সময়, অনুশীলন, ফিজিওথেরাপি এবং তার চেয়েও বেশি লাগে আত্মনিবেদন।’
অ্যাডিলেডে হেরে যাওয়ার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শোরগোল ওঠে, টেস্ট দলে ফিরিয়ে আনা হোক শেন ওয়ার্নকে। এ নিয়ে প্রথমে তাঁর স্বভাবমতো রহস্য জমানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ওয়ার্ন দাবি করছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনিও ভেবেছিলেন, ‘স্বীকার করছি, আমারও একবার মনে হয়েছিল ফিরে আসি। কিন্তু এরপর লন্ডনে একদিন ঘুম থেকে উঠলাম। সেদিন বেশ তুষারপাত হচ্ছিল। এবং আমি উপলব্ধি করলাম, এটা স্রেফ একটা স্বপ্ন।’
সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশও করেছেন তিনি, ‘আপনাদের হতাশ করার জন্য আমি ব্যথিত। তবে অ্যাশেজে ফিরে আসা আসলেই সম্ভব নয়।’
ওয়ার্নের অবসরের পর এরই মধ্যে গোটা দশেক স্পিনার দিয়ে চেষ্টা করেছে অস্ট্রেলিয়া। কেউই সেই শূন্যতা পূরণের ধারেকাছেও থাকার আভাস দিতে পারেননি। সর্বশেষ তো মাইকেল বিয়ারের মতো অচেনা এক স্পিনারকে দলে নিয়ে আরেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ওয়ার্ন অবশ্য বিয়ারকে দলে নেওয়ার পক্ষেই, ‘ও আক্রমণাত্মক মেজাজের। এ ধরনের বোলারই অস্ট্রেলিয়া দলে দরকার। বল ঘোরানোর দিক দিয়ে ও অনেককেই চমকে দিতে পারে। ও খেলাটা নিয়েও ভাবে। মানিয়ে নিয়ে দ্রুত শেখার ক্ষমতাও ওর আছে।’

সেঞ্চুরিয়নে উইকেট বর্ষণ

সেঞ্চুরিয়নে বর্ষণ চলছেই। প্রথমে হলো প্রকৃতির বর্ষণ, এর পরের বর্ষণ ভারতীয় উইকেটের!
কিছুদিন ধরে এই সিরিজ নিয়ে ওঠা উত্তাপ প্রথম দিনেই কমিয়ে ফেললেন দক্ষিণ আফ্রিকান বোলাররা। উত্তাপ তখনই জমে, লড়াই যদি হয় সেয়ানে সেয়ানে। সেঞ্চুরিয়নের প্রথম দিনটা হয়ে থাকল দক্ষিণ আফ্রিকান পেসারদের সামনে ভারতের অসহায় আত্মরক্ষার। প্রথম দিনে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান তুলেছে ভারত। ধোনির সঙ্গে অপরাজিত আছেন অভিষিক্ত জয়দেব উনাদকর।
তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে গ্রায়েম স্মিথের পাতানো ফাঁদে শেবাগ পা দিলেন থার্ডম্যানে আমলার হাতে ক্যাচ দিয়ে। পতনের সেই শুরু।
বৃষ্টির কারণে প্রায় চার ঘণ্টা পরে শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে চোখ বুজে বোলিং নিয়েছিলেন স্মিথ। ঝলমলে রোদ্দুর উঠেছিল। কিন্তু তার পরও পেসারদের জন্য সেঞ্চুরিয়নের কন্ডিশন ছিল স্বর্গ। ভারতের বুক কাঁপিয়ে দেওয়ার শুরুটাও স্টেইন করেছিলেন একেবারে প্রথম বলে। গম্ভীরের বিপক্ষে উঠেছিল এলবিডব্লুর জোরালো আবেদন। ওই যাত্রা গম্ভীর বেঁচেছেন, মরকেলের ফুঁসে ওঠা বলে গ্লাভস লাগিয়েও বেঁচেছেন আরেকবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা পেলেন কই!
নিজের পরপর দুই ওভারে গম্ভীর-দ্রাবিড়কে শিকার করে মরকেল স্কোরটাকে বানিয়ে দেন ২৭/৩। টেন্ডুলকার-লক্ষ্মণের ৩৯ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস ছিল। কিন্তু এর পরই আবারও পতন। ৫ রানের ব্যবধানে লক্ষ্মণ, রায়না আর টেন্ডুলকারকে হারিয়ে রীতিমতো ধ্বংসস্তূপ ভারত। এর পর ধোনি-হরভজনের ৩৯ রানের জুটিতে খানিক বিরতি। ৬ রানের ব্যবধানে আবারও হরভজন, ইশান্ত আর শ্রীশান্তকে হারিয়ে দেড় শর নিচে অলআউট হওয়ার আশঙ্কায় ভারত।

লারাকে ছাপিয়ে
কাল ১৪ রানের ইনিংসটাতেই ব্রায়ান লারাকে ছাড়িয়ে টেস্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে গেলেন রাহুল দ্রাবিড়।

জনসন তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড

আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেছিলেন মিচেল জনসন। গতকাল পার্থ টেস্টের প্রথম দিনে শেষ মুহূর্তে জনসনের ওই ৬২ রানের লড়াকু ইনিংসটার সুবাদেই অস্ট্রেলিয়ান স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছিল ২৬৮ রান। ব্যাট হাতে সফল হওয়ার পর এবার বল হাতেও ইংল্যান্ডের সর্বনাশ ডেকে এনেছেন এই বাঁহাতি পেস বোলার। আজ দ্বিতীয় দিনে ১৫ ওভার বল করে মাত্র ৩৮ রান দিয়েই তুলে নিয়েছেন ছয়টি উইকেট। জনসনের এ বিধ্বংসী বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে মাত্র ১৮৭ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংস শেষে অসিরা এগিয়ে আছে ৮১ রানে।
আজ দিনের শুরুটা অবশ্য ভালোভাবেই করেছিল ইংল্যান্ড। উদ্বোধনী জুটিতে অধিনায়ক অ্যান্ডি স্ট্রাউস ও অ্যালিস্টার কুক যোগ করেছিলেন ৭৮ রান। কিন্তু এর আগের দুটি টেস্টের মতো এ জুটি খুব বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই আঘাত হানেন জনসন। ৩২ রান করে গালিতে মাইক হাসির হাতে ধরা পড়েন কুক। এরপর ইংল্যান্ড স্কোরবোর্ডে মাত্র মাত্র ২০ যোগ করতেই একে একে ফিরে যান জনাথন ট্রট, কেভিন পিটারসেন, অ্যান্ডি স্ট্রাউস ও পল কলিংউড। ট্রট, পিটারসেন ও কলিংউডকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েছেন জনসন। স্ট্রাউসের উইকেটটি নিয়েছেন রায়ান হ্যারিস।
৯৮ রানেই ৫ উইকেট হারানোর পর একাই প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন ইয়ান বেল। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ম্যাট প্রিয়রকে সঙ্গে ৪৭ রান ও সপ্তম উইকেট জুটিতে সোয়ানকে সঙ্গে নিয়ে যোগ করেছিলেন ৩৬ রান। কিন্তু দলীয় ১৮১ রানের মাথায় সোয়ানও হ্যারিসের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যাওয়ার পর যেন অধৈর্য্য হয়ে পড়েছিলেন ইয়ান বেল। ৫৩ রান করে হ্যারিসের বলেই দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো পন্টিংয়ের হাতে ধরা পরেন তিনি। এরপর ইংল্যান্ড ইনিংস আর বেশি দীর্ঘায়িত করতে দেন নি জনসন। এক ওভারেই তুলে নিয়েছেন ট্রেমলেট আর অ্যান্ডারসনের উইকেট।

ভারত-কষ্টিপাথরে নিজেদের যাচাই

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে কাল একটু বেশিই ভিড় জমেছিল। বিজয় দিবসের ছুটির কারণে পর্যটন নগরে এমনিতেই আনন্দ ভ্রমণের ধুম পড়েছে। সাগর দর্শনের আগে পর্যটকেরা একবার করে ঘুরে যাচ্ছেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বালু দিয়ে গড়া স্মৃতিসৌধ দেখতে। বাঙালির বিজয়ের দিনে সেখানেই শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিল বাংলাদেশ মহিলা দল। সাবিনা, অম্রা চিংদের দেখতে তাই এমন ভিড়।
দর্শকদের এমন ভিড় থাকার কথা আজ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও। জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে স্থানীয় জেলা স্টেডিয়ামে আসবে কক্সবাজারবাসী। সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত হওয়ায় দুই দলের জন্যই এক রকম আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ আজ। তবে বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচ বড় এক পরীক্ষার নামও। কাগজে-কলমে অনেক এগিয়ে ভারত। সেটিই স্বাভাবিক, ভারতে মহিলা ফুটবলের যাত্রা শুরু প্রায় তিন দশক আগে। আর বাংলাদেশের এখনো হাঁটি হাঁটি পা পা। মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০০৪ সালে, এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে। ভারত খেলেছিল সেই ১৯৮১ সালে হংকংয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে।
অভিজ্ঞতায় তো পিছিয়ে আছেই বাংলাদেশের মেয়েরা; পিছিয়ে উচ্চতা, শারীরিক গঠন, ফিটনেস, স্ট্যামিনা এবং গতিতেও। এত কিছুর পরও বাংলাদেশ লড়াই করবে বলে মনে করছেন খোদ ভারতের কোচ মোহাম্মদ শহীদ জব্বার, ‘সত্যি বলতে কি, বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে আগের চেয়ে।’ ভারতের বিপক্ষে হারানোর কিছু নেই এমনটা ভাবতেই পারেন বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানী। তবে সেই ভাবনা নয়, বরং ভারতকে রুখে দেওয়ার চ্যালেঞ্জটাই নিচ্ছেন তিনি, ‘ভারত শক্তিশালী দল সন্দেহ নেই। তাই বলে আমরা মাঠে নামার আগেই হেরে যাব না। অবশ্যই লড়ব। আমার প্রথম লক্ষ্যই থাকবে জয়।’
কাল স্থানীয় বিডিআর মাঠে ঘণ্টা খানেকের অনুশীলন সেরে মেয়েদের নিয়ে এসেছিলেন পাকিস্তান-আফগানিস্তান ম্যাচ দেখাতে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কথাবার্তায় তাঁদের নির্ভারই মনে হলো। ভুটানের বিপক্ষে গত ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা অম্রা চিং বললেন, ‘ভারতকে ভয় পাচ্ছি না। প্রতিপক্ষ কে, সেটা বড় নয়, আমি আমার স্বাভাবিক খেলাই খেলব।’ প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে সাবিনার সঙ্গে স্ট্রাইকিংয়ে জুটি বেঁধেছেন অম্রা। গত দুই ম্যাচে দুজনের মধ্যে সমঝোতায় ঘাটতি চোখে পড়েছে। তবে আজ সেই সমস্যাও থাকবে না বলে আশাবাদী খাগড়াছড়ির তরুণী, ‘ওর সঙ্গে প্রথম খেলছি বলে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে আগামী ম্যাচ থেকে আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।’
গত দুই ম্যাচে ২৫ গোল পেয়েছে ভারত। অথচ কাল অনুশীলনে কোচ শহীদ জব্বারের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল না তিনি খুব সন্তুষ্ট। বিডিআর মাঠে অনুশীলন শুরুর আগে এক দফা ক্লাস নিলেন ছাত্রীদের। আলাদাভাবে প্রত্যেকের সমস্যা নিয়ে কথা বললেন। বাংলাদেশকে এতটুকু খাটো করে দেখছেন না ওডিশার মাঝবয়সী ভদ্রলোক। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মর্যাদার প্রশ্নও তো রয়েছে মাথার ওপর!

দ. আফ্রিকার নিয়ন্ত্রণে সেঞ্চুরিয়ন টেস্ট

দ্বিতীয় দিনেই দক্ষিণ আফ্রিকার নিয়ন্ত্রণে সেঞ্চুরিয়ন টেস্ট। আর রানের পাহাড়ে চাপা পড়তে যাচ্ছে ভারতীয় দল। মর্কেল ঝড়ে ভারত মাত্র ১৩৬ রানের অলআউট হওয়ার পর হাশিম আমলা ও জ্যাক ক্যালিসের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দুই উইকেটে ৩৬৬ রান। ভারতের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখন পর্যন্ত ২৩০ রানে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, হাতে রয়েছে আরও আটটি উইকেট।
ভারতের বিধ্বস্ত চেহারাটা প্রকাশ পেয়েছিল উদ্বোধনী দিনেই। প্রথম দিনের খেলা শেষে সফরকারীদের সংগ্রহে ছিল নয় উইকেটে ১৩৬ রান। আজ দলীয় সংগ্রহে কোনো রান যোগ না হতেই ভারতের ইনিংস শেষ! সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ওপর ঝড় তুলে পাঁচটি উইকেট তুলে নেন মরকেল। স্টেইন শিকার করেন তিনটি উইকেট।
বোলারদের নৈপুণ্যে সফরকারীদের অল্প রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর একইভাবে সফল হয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরাও। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের গড়া রানের পাহাড়েই চাপা পড়তে যাচ্ছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। উদ্বোধনী জুটিতে স্মিথ ও পিটারসেন এনে দেন ১১১ রান। ব্যক্তিগত ৬২ রানে হরভজনের শিকার স্মিথ। পিটারসেনকেও ফিরিয়েছেন হরভজন। কিন্তু ততক্ষণে এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান দলীয় সংগ্রহে যোগ করেছেন ৭৭ রান। গোটা দিনে ভারতের প্রাপ্তি বলতে এই উইকেট দুটিই। এরপর সফরকারীরা পেয়েছে কেবল হতাশা আর হতাশা। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত আছেন আমলা (১১৬) ও ক্যালিস (১০২)। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এ দুজনের সংগ্রহ ২০০ রান!

ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া

পার্থ টেস্টের প্রথম দিনে মাত্র ২৬৮ রানেই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ার পর অ্যাডিলেড টেস্টেরই পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছিলেন অনেকে। কিন্তু এবার বল হাতে একেবারেই অন্য চরিত্রে দেখা গেল অস্ট্রেলিয়াকে। ইংল্যান্ডকে মাত্র ১৮৭ রানেই অলআউট করে দিয়ে আগের দুই টেস্টের বোলিং ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিলেন যেন অসি বোলাররা। প্রথম ইনিংসে ৮১ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে দিন শেষে ১১৯ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের আশা জাগিয়ে রেখেছে ইংল্যান্ডও। শেন ওয়াটসন ৬১ ও মাইক হাসি ২৪ রানে অপরাজিত আছেন।
গতকাল আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেছিলেন মিচেল জনসন। গতকাল পার্থ টেস্টের প্রথম দিনে শেষ মুহূর্তে জনসনের ওই ৬২ রানের লড়াকু ইনিংসটার সুবাদেই অস্ট্রেলিয়ান স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছিল ২৬৮ রান। ব্যাট হাতে সফল হওয়ার পর এবার বল হাতেও ইংল্যান্ডের সর্বনাশ ডেকে এনেছেন এ বাঁহাতি পেস বোলার। আজ দ্বিতীয় দিনে ১৫ ওভার বল করে মাত্র ৩৮ রান দিয়েই তুলে নিয়েছেন ছয়টি উইকেট। জনসনের এ বিধ্বংসী বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে মাত্র ১৮৭ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
আজ দিনের শুরুটা অবশ্য ভালোভাবেই করেছিল ইংল্যান্ড। উদ্বোধনী জুটিতে অধিনায়ক অ্যান্ডি স্ট্রাউস ও অ্যালিস্টার কুক যোগ করেছিলেন ৭৮ রান। কিন্তু এর আগের দুটি টেস্টের মতো এ জুটি খুব বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই আঘাত হানেন জনসন। ৩২ রান করে গালিতে মাইক হাসির হাতে ধরা পড়েন কুক। এরপর ইংল্যান্ড স্কোরবোর্ডে মাত্র মাত্র ২০ যোগ করতেই একে একে ফিরে যান জনাথন ট্রট, কেভিন পিটারসেন, অ্যান্ডি স্ট্রাউস ও পল কলিংউড। ট্রট, পিটারসেন ও কলিংউডকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়েছেন জনসন। স্ট্রাউসের উইকেটটি নিয়েছেন রায়ান হ্যারিস।
৯৮ রানেই পাঁচ উইকেট হারানোর পর একাই প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন ইয়ান বেল। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ম্যাট প্রিয়রকে সঙ্গে ৪৭ রান ও সপ্তম উইকেট জুটিতে সোয়ানকে সঙ্গে নিয়ে যোগ করেছিলেন ৩৬ রান। কিন্তু দলীয় ১৮১ রানের মাথায় সোয়ানও হ্যারিসের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যাওয়ার পর যেন অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন ইয়ান বেল। ৫৩ রান করে হ্যারিসের বলেই দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো পন্টিংয়ের হাতে ধরা পরেন তিনি। এরপর ইংল্যান্ড ইনিংস আর বেশি দীর্ঘায়িত করতে দেননি জনসন। এক ওভারেই তুলে নিয়েছেন ট্রেমলেট আর অ্যান্ডারসনের উইকেট।

‘ওয়ার্ল্ড সকার’ বর্ষসেরা খেলোয়াড় জাভি

এ বছরের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের প্রধান দাবিদার স্পেন মধ্য মাঠের প্রধান সেনানি জাভি। সেখানে তাঁর অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বার্সেলোনা সতীর্থ—লিওনেল মেসি আর আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। সেই পুরস্কারটা শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে, সেটা এখনো অনুমান করা না গেলেও ইতিমধ্যেই একবার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের খেতাব পেয়ে গেলেন জাভি। যুক্তরাজ্যের ফুটবলবিষয়ক পত্রিকা ‘ওয়ার্ল্ড সকার’-এর পাঠকদের ভোটে মেসিকে পেছনে ফেলে এ পুরস্কার জিতেছেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। মেসির সঙ্গে অবশ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে জাভির। মেসি ২৪.১% আর জাভি পেয়েছেন ২৫.৮% ভোট। ১৭.৩% ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন হল্যান্ডের স্ট্রাইকার ওয়েসলি স্নাইডার।
এর আগের বছর এ পুরস্কারটা জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। আর কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড় হিসেবে এবারই প্রথম এ পুরস্কার জিতলেন জাভি। সেরা দলের পুরস্কারের জিততে অবশ্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়নি স্পেনকে। ৬৩.৩% ভোট পেয়ে বর্ষসেরা দলের পুরস্কার জিতেছে বিশ্বকাপ জয়ীরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টার মিলান পেয়েছে মাত্র ১৬.৫% ভোট।
বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ী জার্মান স্ট্রাইকার থমাস মুলার।

বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে ব্রেট লি

এ বছরের শুরুতেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন ব্রেট লি। শেষ ওয়ানডেটাও খেলেছেন গত বছরের অক্টোবরে। অনেক দিন ব্যাট-বলের সঙ্গে দৃশ্যত কোনো সম্পর্কই ছিল না এই স্পিড স্টারের। কিন্তু তার পরও উপমহাদেশের মাটিতে এবারের বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছাটা প্রতিবারই বেশ জোরের সঙ্গেই জানিয়েছেন তিনি। অসি অধিনায়ক রিকি পন্টিংও বিশ্বকাপ দলে ব্রেট লিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন নির্বাচকদের কাছে। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ৩০ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ দলে প্রধান চমক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন পেস বোলার ব্রেট লি।
দীর্ঘদিন পর দলে ডাক পেয়েছেন ডান হাতি ব্যাটসম্যান ব্রাড হজ। একমাত্র নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জেমস প্যাটিনসন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক বিশ্বকাপ দল: রিকি পন্টিং (অধিনায়ক), মাইকেল ক্লার্ক, ডগ বলিঙ্গার, ড্যান ক্রিশ্চিয়ান, জাভিয়ের ডোহার্টি, ক্যালাম ফার্গুসন, ব্রাড হাডিন, রায়ান হ্যারিস, জন হেস্টিংস, নাথান হরিজ, ব্রাড হজ, জেমস হোপস, ডেভিড হাসি, মাইক হাসি, মিচেল জনসন, ব্রেট লি, শন মার্শ, অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড, ক্লিন্ট ম্যাককে, স্টিফেন কেফে, টিম পেইন, জেমস প্যাটিনসন, পিটার সিডল, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, শন টেইট, এডাম ভোগেস, ডেভিড ওয়ার্নার, শেন ওয়াটসন ও ক্যামেরন হোয়াইট।

ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ৩৯১ রান

অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডকে ৩৯১ রানের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল তিন উইকেটে ১১৯ রান নিয়ে দিন শেষ করে আজ অস্ট্রেলিয়া তাদের ইনিংস শেষ করেছে ৩০৯ রানে। প্রথম ইনিংসে তিন উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ক্রিস ট্রেমলেট নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট। ৩৯১ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে শুরুতেই চাপের মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫৫ রান যোগ হতেই তারা হারিয়েছে তিন উইকেট। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সংগ্রহ তিন উইকেটে ৭৩ রান। পল কলিংউড সাত ও জনাথন ট্রট ৩১ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১১৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে অনেকখানি ভারমুক্ত করেছিলেন শেন ওয়াটসন ও মাইক হাসি। আজ তৃতীয় দিনে চা-বিরতির পর সেই জুটি ভাঙেন ট্রেমলেট। তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র পাঁচ রান দূরে থাকার সময় ট্রেমলেটের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন শেন ওয়াটসন। তবে ওয়াটসনের মতো ব্যর্থ হননি মাইক হাসি। ট্রেমলেটের বলে আউট হওয়ার আগেই পূর্ণ করেছেন ক্যারিয়ারের ১৩তম টেস্ট সেঞ্চুরি। পঞ্চম উইকেট জুটিতে স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে জুটি বেঁধে যোগ করেছেন ৭৫ রান। দলীয় ২৫২ রানের মাথায় স্মিথ ট্রেমলেটের শিকারে পরিণত হওয়ার পর আর কোনো বড় জুটি গড়ে তুলতে পারেননি অসি ব্যাটসম্যানরা। উইকেটের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে একে একে ব্রাড হাডিন, মিচেল জনসন, রায়ান হ্যারিস ও পিটার সিডলের ফিরে যাওয়া দেখেছেন মাইক হাসি। এঁদের কেউই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। ১১৬ রান করে হাসি শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হয় ৩০৯ রানে।

ইন্টার-বায়ার্ন প্রথম পর্বেই মুখোমুখি, বার্সার প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনাল

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে গত মৌসুমে শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল ইন্টার মিলান ও বায়ার্ন মিউনিখ। কিন্তু এবার এই দুটি দলের যেকোনো একটিকে নক আউট পর্বের প্রথমেই থেকেই বিদায় নিতে হবে। গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বের যে ড্র অনুষ্ঠিত হয়ে গেল, তাতে প্রথমেই মুখোমুখি হচ্ছে এ দুই সেরা ক্লাব। অন্যদিকে গতবারের মতো এবারও শেষ ষোলতে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্সের লিয়ন। গতবার এই লিয়নের কাছেই ২-১ গোলে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদকে। এবার সেই বিদায়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই মরিয়া হয়ে থাকবে রিয়াল।
পুরোনো শত্রুতা ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে আর্সেনাল ও বার্সেলোনাও। ২০০৬ সালেন ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ছয় গোল খাওয়ার দুঃখ নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল। গত মৌসুমেও আর্সেনালকে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় করে দিয়েছিল বার্সেলোনা। এবারও দুর্দান্ত ফর্মের বার্সাকেই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পাচ্ছে বার্সেলোনা। আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও স্বীকার করেছেন বার্সেলোনার সঙ্গে জেতাটা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু সেটা যে একেবারে সম্ভবই না, এমনটাও তিনি মানতে নারাজ। প্রতিশোধের কথা না ভাবলেও বার্সেলোনাকে হারানোর ব্যাপারে আশাবাদী ওয়েঙ্গার।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মুখোমুখি হবে ফরাসি ক্লাব মার্শেইয়ের। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ী চেলসি খেলবে কোপেনহেগেনের বিপক্ষে।
ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ থেকে শুরু হবে নক আউট পর্বের প্রথম রাউন্ডের খেলা। রয়টার্স।
চ্যাম্পিয়নস লিগ ড্র—প্রথম রাউন্ড
• ইন্টার মিলান বনাম বায়ার্ন মিউনিখ
• রিয়াল মাদ্রিদ বনাম লিয়ন
• বার্সেলোনা বনাম আর্সেনাল
• ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম মার্শেই
• চেলসি বনাম কোপেনহেগেন
• এএস রোমা বনাম শাখতার ডোনেটস্ক
• এসি মিলান বনাম টটেনহাম হটসপার
• ভ্যালেন্সিয়া বনাম এফসি শালকে

পন্টিংয়ের অ্যাশেজ শেষ

হয়তো শেষ হয়ে গেছে রিকি পন্টিংয়ের অ্যাশেজ অভিযান। ফর্মহীনতা আর দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণে দাবি উঠেছে, অধিনায়কত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার। চলতি সিরিজের ছয় ইনিংস মিলিয়ে সংগ্রহ মাত্র ৮৬ রান! তবে ফর্মহীনতা বা দ্বিতীয় টেস্টে দলের ভরাডুবির কারণে নয়, ইনজুরির কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে পন্টিংয়ের অ্যাশেজ লড়াই।
পার্থে চলমান তৃতীয় টেস্টের আজ তৃতীয় দিনের শেষের দিকের খেলার ঘটনা। স্লিপে জোনাথন ট্রটের ক্যাচ ধরার চেষ্টা করেছিলেন পন্টিং। পারেননি, উল্টো হাতের আঙুলে মারাত্মক চোট পান। এক্স-রের জন্য অসি অধিনায়ককে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পন্টিংয়ের সতীর্থ পিটার সিডল সাংবাদিকদের বলেন, ‘পন্টিং ভালো আছেন। তবে তাঁর ইনজুরি কতটা গুরুতর, হাসপাতাল থেকে ফেরার আগ পর্যন্ত তা জানা সম্ভব নয়।’

সাহিত্যালোচনা- রহস্যের পর্দা সরিয়ে দ্যুতিময় এমিলি ডিকিনসন by মনজুর শামস

মিলি ডিকিনসনকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কবিদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৮৩০ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যামহার্স্ট শহরে তার জন্ম। বস্টন থেকে মাত্র ৫০ মাইল দূরের এ শহরটি তখন অ্যামহার্স্ট কলেজকে ঘিরে শিক্ষার এক প্রাণকেন্দ্র ছিল। তাদের পরিবার ছিল এলাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও অনুকরণীয়।

ইতিহাস- বেগম রোকেয়াঃ নারী জাগরণের বিস্ময়কর প্রতিভা

নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার পৈতৃক নাম ছিল রোকেয়া খাতুন ওরফে রুকু। ১৮৮০ খ্রীষ্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩২ খ্রীষ্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোর ৫.৩ মিনিটে কলকাতায় মৃতু্যবরণ করেন। একই তারিখে জন্ম এবং মৃতু্য । যিশুখৃষ্ট, মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ এবং আমাদের নবী হজরত মুহাম্মাদ (সঃ) - এরও একই তারিখে জন্ম এবং মৃতু্য।

আলোচনা- শিক্ষারমান ও সমকালীন প্রেক্ষাপট by দেওয়ান আযাদ রহমান

শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে, মেধা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটায়, কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দৃষ্টি ভঙ্গীর পরিবর্তন ঘটায়। দেশের বিরাট জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার মূল হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার সার্বিক ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নের ধারা বিকশিত হয়। এ জন্য প্রয়োজন বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যবহার। তাই শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত হওয়া খুবই প্রয়োজন।