Thursday, December 18, 2025
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে নতুন শান্তি প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে, শিগগিরই হাতে পাবে রাশিয়া: জেলেনস্কি
যুদ্ধ বন্ধে সবশেষ জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ইউক্রেনের সঙ্গে বৈঠক করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র। এর দুই দিন পর গত সোমবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সমস্যার ৯০ শতাংশের সমাধান হয়ে গেছে। এরপরও শিগগিরই যুদ্ধ বন্ধ হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কারণ, বর্তমান আলোচনায় রাশিয়া অনুপস্থিত রয়েছে।
আজ জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের পর ইউক্রেনের জন্য প্রস্তাব করা নিরাপত্তা নিশ্চয়তাগুলো নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে ভোটাভুটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ‘আজ বা আগামীকালের’ মধ্যে চূড়ান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করা হবে। সেগুলো প্রস্তুত হলে এ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র। এ আলোচনা চলতি সপ্তাহান্তেই শুরু হতে পারে।
এ নিরাপত্তা নিশ্চয়তাগুলো পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অনুচ্ছেদ–৫–এর মতো বলে উল্লেখ করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচটি নথি নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে কিছু ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে। সেগুলো নিয়ে আবার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই সেগুলো মার্কিন কংগ্রেসে ভোটাভুটির মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে।’
সেনা মোতায়েন নিয়ে রাশিয়ার আপত্তি
এ নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মধ্যে কী কী রয়েছে, তা জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ বন্ধের পর রাশিয়া যদি আবার ইউক্রেনে হামলা চালায়, তখন কী হবে, তা–ও বলা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা শুধু বলেছেন, ইউক্রেনে মার্কিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই তাঁদের। যদিও বার্লিন আলোচনার পর কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্ররা বলেছে, ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য দেশটিতে সেনা মোতায়েন করতে চায় তারা।
এ নিরাপত্তা নিশ্চয়তাগুলো এখনো ক্রেমলিন দেখেনি বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী সের্গেই রিবকভ। তিনি বলেন, নিশ্চয়তার মধ্যে যদি ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ন্যাটো সদস্যদেশগুলোর সেনাদের মোতায়েনের কথা বলা থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না রাশিয়া। যুদ্ধের আগে থেকেই এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে মস্কো।
তবে যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে যে বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের সবচেয়ে বড় সমস্য, তা হলো ইউক্রেনে রাশিয়ার দখল করা ভূখণ্ড। যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে ইউক্রেনের পুরো দনবাস অঞ্চল চায় রাশিয়া। তা আবার মানতে নারাজ কিয়েভ। এটি এখনো স্পষ্ট নয় এর সমাধান কীভাবে হবে। আর সপ্তাহান্তের আলোচনায় ইউক্রেনের প্রস্তাব রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে নেবেন, তা–ও অজানা।
ক্ষতিপূরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক কমিশন
এদিকে যুদ্ধে ইউক্রনের ক্ষতিপূরণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কমিশনের কার্যক্রম শুরু করতে আজ নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে উপস্থিত হয়েছেন জেলেনস্কিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও। এর আয়োজন করেছে নেদারল্যান্ডস ও অধিকারবিয়ষক সংস্থা কাউন্সিল অব ইউরোপ।
এই কমিশনের বিষয়ে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল বলেন, ‘জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া একটি সংঘাতের কখনো পুরোপুরি সমাধান হয় না। আর ওই জবাবদিহির অংশ হলো ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তাই আমি মনে করি, আজ আমরা একটি ক্ষতিপূরণ দাবির যে কমিশন গঠন করছি, এ নিয়ে একটি চুক্তি করছি—এটি একটি বড় পদক্ষেপ।’
রাশিয়ার কাছ থেকে এ ক্ষতিপূরণ কীভাবে নেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে এর আগের বিভিন্ন আলোচনায় বলা হয়েছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে জব্দ করা রুশ সম্পদ থেকে এ ক্ষতিপূরণের অংশ আসবে। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো এই দাবির ন্যায্যতা দেওয়া যে রাশিয়াকে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
এই কমিশনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রেমলিনের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনে কোনো যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও নাকচ করে আসছে তারা। আর জব্দ করা রুশ সম্পদ দিয়ে ইউক্রেনের ক্ষতিপূরণের যে প্রস্তাব ইউরোপীয় ইউনিয়ন দিয়েছে, তা অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে মস্কো।
![]() |
| ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানে বিপজ্জনক নজির by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
পাকিস্তান আগে থেকেই সামরিক প্রভাবিত রাষ্ট্র-কিন্তু এই সংশোধনী প্রথমবারের মতো এটিকে সাংবিধানিক করে তুলেছে। একে বলা যায় ‘Constitutional Camouflage’ বা সাংবিধানিক ছদ্মবেশে সামরিক ক্ষমতার স্থায়ীকরণ।
১. সামরিক কাঠামোর মৌলিক পুনর্গঠন: ‘সুপার জেনারেল’-এর আবির্ভাব
২৭তম সংশোধনীর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। এর মাধ্যমে সেনাপ্রধানকে ‘ঈযরবভ ড়ভ উবভবহপব ঋড়ৎপবং’ (CDF) হিসেবে অভিষিক্ত করা হলো। এতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী একক কমান্ডের অধীনে চলে গেছে। এই সংশোধনীতে ‘চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটি’ (CJCSC) পদটি বিলুপ্ত করে ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ (CDF) পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ (CDF)-এর দায়িত্ব সেনাবাহিনী প্রধান (ঈঙঅঝ)-এর সঙ্গে একীভূত করে দেয়া হয়েছে। ফলে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর উপর সেনাপ্রধানের প্রভাব নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বেসামরিক-সামরিক ভারসাম্যে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
২. আজীবন আইনি সুরক্ষা ও সংবিধানের ঊর্ধ্বে
ফিল্ড মার্শাল-সহ শীর্ষ সামরিক পদগুলোকে আজীবন আইনি সুরক্ষা, সুবিধা ও সাংবিধানিক মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এতে করে রাষ্ট্রপতির মর্যাদা গৌণ হয়ে পড়েছে। ফলে পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হলো- ‘Legal Absolutism’ বা আইনি চরমপন্থা। এই পন্থায়-
ক. তাদের বিরুদ্ধে মামলা কার্যত অসম্ভব,
খ. বিচার বা তদন্ত সীমিত,
গ. রাষ্ট্রের এই শক্তিশালী স্তরটি আইনগত পর্যালোচনার সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে অবস্থান করে।
এতে কেবল জবাবদিহির মৃত্যু নয়-ন্যায়, আইন এবং ক্ষমতার নৈতিক ভারসাম্যকেও সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়া হলো। St. Augustine-এর ভাষায়-যখন আইন নৈতিক ভিত্তি হারায়, তখন প্রশ্ন জাগে-‘An unjust lwa is no lwa at all’ (একটি অন্যায় আইন, আইনই নয়)।
৩. বিচারব্যবস্থার পুনর্গঠন
নতুন ‘Federal Constitutional Court’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তান কার্যত সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক কর্তৃত্বকে খণ্ডিত করেছে। যে-আদালত একসময় সাংবিধানিক রক্ষাকবচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল, তাকে এখন নির্বাহী-সামরিক সমন্বিত কাঠামোর অধীনে “বিভক্ত কর্তৃত্ব”-এর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
এই পুনর্গঠনের ফলে-সামরিক ও নির্বাহী সিদ্ধান্তের ওপর বিচারিক তদারকি নরম হয়ে গেছে, এতে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রীভূত অপব্যবহারকে চ্যালেঞ্জ করার সাংবিধানিক শক্তি দুর্বল হয়েছে। আদালতের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারণ সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পরিধি কমিয়ে এনে এমন একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে যেখানে সেনাবাহিনী-নির্বাহী জোটের সিদ্ধান্তগুলো কার্যত “পরীক্ষার বাইরে” চলে যায়। সাংবিধানিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্র সরাসরি রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবের অধীনে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা সংবিধানকে রক্ষার বদলে ক্ষমতার প্রয়োজনে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা বাড়াবে।
ফলে জন্ম নিচ্ছে-একটি নমনীয়, ক্ষমতাসম্মত আদালত ব্যবস্থা, যা জনগণের অধিকার রক্ষা নয়, বরং শক্তিধরদের সংকেত বুঝে সিদ্ধান্ত দিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠবে।
একটি রাষ্ট্রের নৈতিক মেরুদণ্ড তখনই ভেঙে পড়ে, যখন আদালত আর প্রহরী থাকে না, বরং ক্ষমতার পরোক্ষ অংশীদার হয়ে ওঠে; বিচার আর ন্যায়ের অনুসন্ধান নয়, বরং বৈধতার নাট্যমঞ্চে পরিণত হয়; এবং নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণের সর্বশেষ আশ্রয় সংবিধান ব্যাখ্যাকারী আদালত-সামরিকীকরণের ছায়া থেকে বের হতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যতটা তার নির্বাচনের উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তার চেয়ে বেশি দাঁড়িয়ে থাকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সাহসী বিচারব্যবস্থার ওপর। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংশোধনী সেই ভিত্তিটিই ক্ষয় করেছে-এবং দক্ষিণ এশিয়ার পুরো অঞ্চলে বিপজ্জনক এক দৃষ্টান্ত তৈরি হলো।
৪. কেন ‘সাংবিধানিক সামরিকীকরণ’ বলা হচ্ছে
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সামরিক ও বেসামরিক ক্ষমতার মধ্যে যে-সীমারেখা থাকার কথা, পাকিস্তানের ২৭তম সংশোধনী সেই মৌলিক বিভাজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলুপ্ত করেছে। এই সংশোধনী সামরিক প্রভাবকে আর অঘোষিত বা পরোক্ষ রাখেনি; বরং সংবিধানের ভেতরেই তার স্থায়ী স্থান নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ, সামরিক শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তৈরি সাংবিধানিক কাঠামো এখন উল্টো সামরিক শক্তিকেই বৈধতা ও কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা দিচ্ছে।
এটাই “সাংবিধানিক সামরিকীকরণ”। যেখানে সামরিক নিয়ন্ত্রণকে আইনের ভাষায় স্বীকৃতি দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল স্থাপত্যে বসিয়ে দেয়া হয়।
এই প্রক্রিয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-
সামরিক প্রভাব আর ব্যতিক্রম নয়; এটি সংবিধানসম্মত নিয়মে পরিণত হয়েছে।
বেসামরিক কর্তৃত্বের সার্বভৌম কেন্দ্রকে দুর্বল করে সামরিক প্রতিষ্ঠানের দিকে ক্ষমতার ভারসাম্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সংবিধানকে সামরিক স্বার্থ ও নির্বাহী সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে জন্ম নিচ্ছে Sovereignty Erosion-যেখানে জনগণ-নির্ভর সার্বভৌমত্ব ক্রমেই প্রাতিষ্ঠানিক সামরিক কর্তৃত্বের কাছে স্থান হারাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ-মিশর, থাইল্যান্ড বা মিয়ানমার-সামরিক দখল বা গোলামি-ধরনের শাসনের নজির দেখালেও, পাকিস্তানের ঘটনা ভিন্ন; এখানে সামরিকীকরণ প্রকাশ্য অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নয়, বরং সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক ভাষায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই কারণেই এটি দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক অভূতপূর্ব এবং বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।
দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বিপজ্জনক
পাকিস্তানের ২৭তম সংশোধনী শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক পুনর্গঠন নয়-এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভঙ্গুর গণতন্ত্রগুলোর জন্য এক বিপজ্জনক রাজনৈতিক নকশা। যেখানে প্রতিষ্ঠান দুর্বল, নাগরিক সমাজ সীমিত, আর নিরাপত্তা-অজুহাত সবসময়ই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার হাতিয়ার।
১. রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার নামে সামরিক নেতৃত্বকে সাংবিধানিক ক্ষমতা দেয়া হলে সেটি পরবর্তীতে প্রথা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যা, মূলত জনগণের মতামতকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে উপেক্ষা করার উপলক্ষ্যমাত্র। অর্থাৎ, নির্বাচিত নেতৃত্বের ব্যর্থতা দেখিয়ে “আইনের ভেতর সামরিক নেতৃত্ব”-এমন ধারণাকে রাজনৈতিকভাবে বৈধ বলে প্রতিস্থাপন করার পথ খুলে যায়।
২. যখন সামরিক কাঠামো দেখায় যে, “আমরাই স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা”, তখন বেসামরিক রাজনীতির প্রতি জনআস্থা হ্রাস পেয়ে অবিশ্বাস বেড়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের হতাশা সামরিকীকরণের পক্ষে সামাজিকসম্মতি তৈরি করে-যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।
৩. বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল-সহ একাধিক দেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা রয়েছে। উক্ত দেশগুলোকে পাকিস্তানের ২৭তম সংশোধনী দেখালো-আবশ্যক মনে হলে সংবিধান-কেন্দ্রিক সামরিক পুনর্গঠন পুরোপুরি সম্ভব। এটি ভবিষ্যতে সামরিকপন্থি রাজনীতির জন্য এক প্রমিত বাইবেল হয়ে উঠতে পারে।
যখন সামরিক সিদ্ধান্তগুলো বিচারিক পরীক্ষা, সাংবিধানিক পর্যালোচনা ও বেসামরিক তদারকি থেকে মুক্ত হয়, তখন জন লকের সেই সতর্কবাণী বাস্তব হয়ে ওঠে-‘‘Where the lwa ends, tyranû begins.” অর্থাৎ, ‘‘আইনের সীমা শেষ হলে ক্ষমতার সীমাহীনতা শুরু হয়।’’
২৭তম সংশোধনীর ভয়ঙ্কর উদাহরণের মাধ্যমে পাকিস্তান দেখালো-রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে সংবিধান বদলে সামরিক নেতৃত্বকে আইনের মাধ্যমে অপ্রতিরোধ্য করা যায়। এমন পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক সংকটই নয়-রাষ্ট্রতত্ত্বের মূল নৈতিক ভিত্তির বিরুদ্ধ পদক্ষেপ। কারণ-রাষ্ট্রের নৈতিকতা শক্তির কেন্দ্রীভবনে নয়, বরং শক্তির জবাবদিহিতে। সংবিধান তখনই নৈতিক থাকে, যখন এটি ক্ষমতার সীমারেখা নির্ধারণ করে। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংবিধানই এখন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের হাতিয়ার। ২৭তম সংশোধনী তাই কেবল একটি পাকিস্তানি সাংবিধানিক পরিবর্তন নয়-এটি দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি বিপজ্জনক মতাদর্শের জন্ম দিলো।
এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং নৈতিক রাষ্ট্রের সর্বত্রই বহুমাত্রিক হুমকি।
লেখক: গীতিকবি ও সংবিধান বিশ্লেষক
faraizees@gmail.com
- জনতার চোখ থেকে

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভুয়া ‘বীর’, হামলাকারীর ভিন্ন পরিচয়—সিডনির হামলা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি
ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার সন্ধ্যায়। সিডনির বন্ডাই সৈকতে ইহুদিদের হানুক্কেহ উৎসবে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১৫ জনকে হত্যা করেন বাবা ও ছেলে সাজিদ আকরাম ও নাভিদ আকরাম। পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হন ৫০ বছর বয়সী সাজিদ। আর ২৪ বছরের নাভিদ পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে আছেন।
এরই মধ্যে হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা ভুল আর ভুয়া খবর। বলা হচ্ছে, ‘ব্রেকিং’ কোনো ঘটনার সময় এআই ব্যবস্থা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে মিথ্যা প্রচারকে আরও বাড়িয়ে তোলার বিষয়ে থাকা উদ্বেগের সর্বশেষ ঢেউ এটি।
সিডনির এ ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদ নামের এক ব্যক্তি বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেন। হামলাকারীকে নিরস্ত্র করে ‘নায়ক’ বনে যান তিনি। যদিও নিজেও হাত ও বাহুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এখন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কিন্তু এআই চ্যাটবট গ্রোকে অন্য একজনকে ‘এ ঘটনার নায়ক’ হিসেবে দেখানো হয়। ভুয়া একটি সংবাদে বলা হয়েছে, হামলাকারীকে নিরস্ত্র করা ওই ‘নায়কের’ নাম ‘এডওয়ার্ড ক্র্যাবট্রি’। বয়স ৪৭ বছর। তিনি পেশায় আইটি বিশেষজ্ঞ। এমনকি সংবাদটিতে ‘হাসপাতালে আহত অবস্থায় শুয়ে থাকা’ ভুয়া ‘এডওয়ার্ডের’ বানোয়াট মন্তব্য প্রকাশ করা হয়।
‘দ্যডেইলিএইউএস.ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি ওয়েবসাইট থেকে ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। রোববারই আইসল্যান্ডে এ ওয়েবসাইট নিবন্ধন করা হয়েছে। জানা গেছে, যুব সংবাদ ওয়েবসাইট ‘দ্য ডেইলি এইউএস’–এর সঙ্গে এই ওয়েবসাইটের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সিডনিতে জন্ম নেওয়া সাইবার নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ ও ‘বাগক্রাউডের’ প্রতিষ্ঠাতা ক্যাসি এলিসের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থাকে। হোয়াইট হাউস ও অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে পরামর্শ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য, দুঃখজনক ও আবেগময় একটি ঘটনা। এটা লাখো মানুষের মনোভাবকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পারে।’
এলিসের মতে, এমন ঘটনার (হামলা) পর যখন চারপাশে ‘ধোঁয়াশাপূর্ণ’ পরিস্থিতি থাকে, মানুষ নানা কিছু জানার জন্য বেশ উদ্গ্রীব থাকেন, ঠিক তখনই ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রচুর সুযোগ তৈরি হয়।
রবি ও সোমবার আহমেদ আল আহমেদকে নিয়ে একের পর এক ভুয়া তথ্য দিয়েছে গ্রোক। এতে ব্যবহারকারীরা যখন আহমেদের বন্দুকধারীর সঙ্গে লড়াইয়ের ভিডিওটি চ্যাটবটকে দেখান, তখন সেটি দাবি করে, ফুটেজটি ‘একজন লোকের পামগাছে ওঠার একটি পুরোনো ভাইরাল ভিডিও’।
অন্য আরেকটি ক্ষেত্রে আহত আহমেদের ছবিকে গাজায় ‘হামাসের হাতে আটক এক ইসরায়েলি জিম্মির’ ছবি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
রেডিট, এক্স আর হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপ চ্যাটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে বানানো একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে মেকআপ ও নকল রক্ত লাগানো একজন ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসল ছবিটি মানবাধিকার আইনজীবী আর্সেন অস্ট্রোভস্কির। রোববারের ওই হামলার সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা মুখ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছিলেন।
এ ছাড়া ঘটনাস্থলে থাকা দুজন নারী পুলিশ সদস্যের ক্রপ বা কাটছাঁট করে ছোট করা ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ব ইউরোপভিত্তিক ‘ব্যারন ট্রাম্প’ ফ্যান অ্যাকাউন্ট থেকে এটি পোস্ট করা হয়। এতে দাবি করা হয়, তাঁরা ‘পুরোপুরি নিথর’ বা মারা গেছেন। আরও বলা হয়, ‘বন্দুকধারীরা কোনো বাধা ছাড়াই ২০ মিনিট পর্যন্ত গুলি চালিয়েছে।’
ওই পোস্ট এক লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। নারী বিদ্বেষমূলক প্রচুর মন্তব্য এসেছে। অথচ আসল ছবিটিতে (ক্রপ না করা) রয়েছে, বন্দুকধারীকে নিরস্ত্র করার পর ওই নারী পুলিশ সদস্যরা বেসামরিক লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন।
নিউ সাউথ ওয়েলসে বসবাস করা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, তাঁর জীবন রীতিমত ‘দুঃস্বপ্নে’ পরিণত হয়েছে। কেননা বন্ডাই সৈকতে ‘সন্দেহভাজন হামলাকারী’ হিসেবে তাঁর একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই ব্যক্তির নামও নাভিদ আকরাম। বয়স ৩০ বছর। মূলত হামলাকারীর সঙ্গে নামের মিল থাকায় তাঁর ছবি ভাইরাল হয়েছে। ভুল করে তাঁকে ‘হামলাকারী’ ভাবছে অনেকেই। মূলত ভারতভিত্তিক অ্যাকাউন্টগুলো থেকে নাভিদের বিষয়টি ছড়িয়েছে বেশি। সিবিএস নিউজ নির্দোষ নাভিদের বিড়ম্বনা নিয়ে প্রতিবেদন করেছে।
ডোভার হাইটস ও ডাবল বেতে সমন্বিত হামলার মিথ্যা দাবিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ একটি বিবৃতি দিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছে, ডোভার হাইটস এলাকায় এমন কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দয়া করে অসমর্থিত তথ্য বা গুজব ছড়াবেন না।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনারের দপ্তরে সিডনির হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ফুটেজ দেখানোর বিষয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। কমিশনার নিয়ন্ত্রক প্ল্যাটফর্মগুলোকে মনে করিয়ে দিয়েছে, সংবেদনশীল আধেয়র (কনটেন্ট) ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক লেবেল ও ঝাপসা ফিল্টার ব্যবহার করা উচিত।
প্রতিক্রিয়া জানতে এক্সের এআই চ্যাটবটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। স্বয়ংক্রিয় উত্তর পাওয়া গেছে, ‘প্রথাগত বিদ্যমান সংবাদমাধ্যম মিথ্যা বলে।’
![]() |
| আহত আহমেদ আল আহমেদকে হাসপাতালে দেখতে যান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তাজউদ্দীন আহমদের সতর্কবার্তা আজও প্রাসঙ্গিক by শারমিন আহমদ
ফারুক সাহেব তাজউদ্দীনের শরীরে একটি কম্বল জড়িয়ে দিলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘স্যার, আপনাকে অনেক চিন্তিত মনে হচ্ছে। কী ভাবছেন?’ তাজউদ্দীন উত্তর দিলেন, ‘দেশ তো স্বাধীন হলো, কিন্তু এই দেশ মানুষের বসবাসের যোগ্য হবে তো?’
তাজউদ্দীনের এই আশঙ্কা স্বাধীনতার কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবে রূপ নেয়। মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের জনগণের রাষ্ট্র গড়ার বদলে শুরু হয় ক্ষমতার লড়াই। শুরু হয় দুর্নীতি, অবিচার, সন্ত্রাস ও হত্যার মচ্ছব। সপরিবার নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জেলখানায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন তাজউদ্দীন আহমদসহ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতা। দেশ স্বাধীন হলো বটে, কিন্তু জনগণের মুক্তি মিলল না অমানুষদের হাত থেকে।
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর, যেদিন ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, সেদিনও তাজউদ্দীন স্ত্রীর কাছে আশঙ্কাপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। সৈয়দা জোহরার সামনে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত পারিবারিক জীবন যাপন করবেন না। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই তিনি নিজেকে পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন, যেন নেতৃত্বে থেকেও একই ত্যাগের উদাহরণ হতে পারেন।
স্বীকৃতির পর উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ফ্ল্যাটে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শেষে ফেরার পথে তিনি আমাদের ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। খুব অল্প সময়ের জন্য। তখনো তাঁর মুখ ছিল মলিন এবং চোখ ছিল অজানা ভবিষ্যৎ নিয়ে মগ্ন।
আমাদের শোবার ঘরে গিয়ে তিনি জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংযমের প্রতীক তাজউদ্দীনের চোখ দিয়ে সেদিন অঝোরে অশ্রু ঝরছিল। তিনি কাঁদছিলেন, অবিরাম। তাঁর সহধর্মিণী বুঝেছিলেন, তিনি প্রিয় মুজিব ভাইকে মনে করছেন, যিনি তখন পাকিস্তানে বন্দী। বাংলাদেশের জন্য এত বড় অর্জন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি—অথচ মুজিব ভাই পাশে নেই।
তাজউদ্দীন কখনোই এই যাত্রা একা করতে চাননি। মুজিব ভাইকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মুজিব ভাই সিদ্ধান্ত নেন যুদ্ধে না আসার, কোনো দিকনির্দেশনাও পাওয়া যায়নি। তবু তাজউদ্দীন আহমদ নিজের দায়িত্ব পালন করে যান। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে গঠন করেন কার্যকর মুজিবনগর সরকার। এই সরকারের নেতৃত্বেই অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধে বিজয়, অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
মাত্র ৯ মাসে যুদ্ধকালীন প্রশাসন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, শরণার্থী ব্যবস্থাপনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের দক্ষতার সঙ্গে সংগঠিত করে এই সরকার বিজয় নিশ্চিত করে। একটি সফল সরকারের নেতার আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তা যুদ্ধকালে তাজউদ্দীন আহমদকে পর্যবেক্ষণ করলেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
যুদ্ধ বিজয়ী তাজউদ্দীনের সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। খন্দকার মোশতাক ও শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে স্বাধীনতাবিরোধী ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক চক্র তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, সেই সময় তাজউদ্দীন আহমদ স্বগতোক্তি করেছিলেন, ‘মুজিব ভাই, আপনি আমাকে এত বড় বিপদের মধ্যে ফেলে গেলেন!’
তাজউদ্দীন জানতেন, তাঁর নিজের দল আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ছিল বাইরের শত্রুর চেয়েও ভয়ংকর। তাজউদ্দীনকেও হত্যা করার পরিকল্পনা হচ্ছিল। তবে যুদ্ধের মতো বোমা বা বন্দুক দিয়ে নয়—তাজউদ্দীন আহমদ ওই সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিলেন নৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে। তবে তাজউদ্দীনের সেই নৈতিক বিজয় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
দেশে ফেরার পর সেই অশুভ শক্তিই হয়ে ওঠে বঙ্গবন্ধুর আস্থার লোক। তাঁদের প্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের জনকল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের পথ থেকে সরে যায় সরকার। অনেকেই বলেন, দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তাজউদ্দীন আহমদ ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার পরীক্ষিত সহযোদ্ধাদের কাছে ছেড়ে দিতেন, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতেও দীর্ঘ সময় লাগত না। কিন্তু তেমন হয়নি। স্বাধীনতার প্রারম্ভেই সেই ব্যর্থতার মাশুল আজও দিতে হচ্ছে।
তাজউদ্দীন আহমদ যেন মুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছিলেন। ৬ নভেম্বর ১৯৭১, ফ্ল্যাট থেকে বিদায়ের আগে হঠাৎ তিনি স্ত্রীকে পরপর দুবার জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি শ্রীমাভো বন্দরনায়েক হবে?’ এই প্রশ্ন শুনে জোহরা চমকে উঠেছিলেন। বাক্রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন সেদিনের স্বীকৃতির আনন্দঘন মুহূর্ত, প্রেক্ষিত ও ঘটনার বাইরের এমন এক অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে। আমার কাছে তাঁর সেদিনের প্রশ্নটি এক দূরদর্শী নেতার অন্তরাত্মার প্রতিধ্বনি—এক ট্র্যাজিক ইতিহাসের সংকেত মনে হতো।
তিনি যেন আগেই দেখে ফেলেছিলেন রাজনৈতিক দুর্যোগ, নিজের ও মুজিব ভাইয়ের মৃত্যুর ছায়া। হয়তো দেখে ফেলেছিলেন, তাঁদের অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন দুঃসময়ে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট বন্দরনায়েকের হত্যার পর যেমন তাঁর স্ত্রী দলের ও দেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
তাজউদ্দীন আহমদের সতর্কতা আজও আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তুলে ধরা মানে শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণ হবে, যখন এই দেশ সত্যিই মানুষের বসবাসের যোগ্য রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আর সেই রাষ্ট্র গড়তে বিজয়ের ৫৪ বছর পরেও আমরা তাজউদ্দীন আহমদের থেকে শিক্ষা নিতে পারি। যদি তাজউদ্দীনের ত্যাগ, বিনয়, দূরদর্শিতা, দেশপ্রেম ও সততার উদাহরণকে অনুসরণ করি, তবে এখনো বাংলাদেশের ভাগ্যকে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব।
* শারমিন আহমদ, লেখক, গবেষক ও তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দীন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে হামলাকারীর পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে গোলাগুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। যাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, হামলাকারীদের একজন সাজিদ আকরাম ১৯৯৮ সালে ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। তেলেঙ্গানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের পর সাজিদ তার বয়স্ক মা-বাবাকে দেখার জন্য ছয়বার ভারতে এসেছিলেন। তবে সাজিদ আকরাম ও তার ছেলে কী কারণে উগ্রপন্থায় জড়িয়েছেন তার সাথে ভারত কিংবা তেলেঙ্গানার স্থানীয় কোনো বিষয়ের যোগসূত্র নেই। এছাড়া সাজিদের বিরুদ্ধে ভারতে অপরাধ সংঘটনের কোনো রেকর্ডও নেই।
বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে হামলা করার আগে ওই বাবা-ছেলে ফিলিপাইন সফরে গিয়েছিলেন। সে সময়ে সাজিদ আকরাম ভারতের পাসপোর্ট এবং তার ছেলে নাভিদ আকরাম অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। কারণ সাজিদ ভারতে শিক্ষা জীবন শেষ করে কাজের সন্ধানে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে তিনি ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে বিয়ে করেন। আর তাদের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানরা অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্টধারী ও দেশটির নাগরিক।
এদিকে ওই বাবা-ছেলে কেন ফিলিপাইনে গিয়েছিলেন তার কারণ খুঁজে বের করতে অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ে একমত হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউক্রেন নিয়ে জার্মানির নতুন পরিকল্পনা
জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, ইউক্রেনে বহুজাতিক ফোর্স মোতায়েনের ক্ষেত্রে শুধু ইউরোপের দেশই যুক্ত থাকবে না, এতে কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও একাধিক দেশ অংশ নেবে।
গত দুই দিন ধরে জার্মানির বার্লিনে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানালেন ফ্রেডরিক মের্ৎস। ইউরোপের নেতৃত্বধীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত এই বাহিনী ইউক্রেনের আকাশ ও সমুদ্র নিরাপত্তায় কাজ করবে। তবে পুতিন দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি ইউক্রেনে বিদেশি কোনো সৈন্য মোতায়েন মেনে নেবেন না।
তবে জার্মান চ্যান্সেলর জানান, তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন যাতে রাশিয়া এই প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়। এদিকে ইউরোপের কাছে থাকা রুশ সম্পদ জব্দ করা নিয়ে বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। এতে ২৭ দেশের নেতারা অংশ নেবে।
এদিকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধকে ঘিরে ইউরোপে সবচেয়ে বড় একটি মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ নিয়ে সহজে সমাধান মিলবে কিনা তা নিয়ে জোর আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা, নজিরবিহীন যুদ্ধের হুমকি
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলা সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তার অভিযোগ, এই সরকার মাদক পাচার, মানব পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত।
এই ঘোষণার কয়েক দিন আগেই ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র, যা দেশটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি প্রায় পুরোপুরি তেলনির্ভর। এরপর আরও ৬টি জাহাজের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ভেনেজুয়েলা এখন দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় নৌবহর’ দিয়ে ঘেরা অবস্থায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা হবে। তার ভাষায়, ‘এটা এমন কিছু হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেন, মাদুরো সরকার ‘চুরি করা তেল’ বিক্রি করে মাদক সন্ত্রাস, মানব পাচার, হত্যা ও অপহরণে অর্থ জোগাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ দেয়নি যে সাম্প্রতিক অভিযানে লক্ষ্যবস্তু হওয়া নৌযানগুলো সত্যিই মাদক বহন করছিল। উল্লেখ্য, ফেন্টানিলের প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র মেক্সিকো, ভেনেজুয়েলা নয়।
গত সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি সমুদ্রপথে চালানো অভিযানে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে ক্যারিবীয় সাগরে হাজার হাজার সেনা ও বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ভেনেজুয়েলা পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করতে চাইছে। জব্দ হওয়া ‘স্কিপার’ নামের জাহাজটি নিয়ে মাদুরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাহাজটি চুরি করেছে এবং নাবিকদের অপহরণ করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জোয়াকিন কাস্ত্রো ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘সরাসরি যুদ্ধের শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে শত্রুতা বন্ধে প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দিতে কংগ্রেসে একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র মাদুরো সরকারকে অবৈধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী বলে অভিযোগ করে আসছে। গত বছরের নির্বাচনকেও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশ ভুয়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন সীমিত রাখা ভেনেজুয়েলা এখন নতুন করে বড় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে। এই অবরোধ বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং এর পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় ঝড়বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন কাঁপছে
এর ফলে প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁবুর পরিবর্তে মোবাইল ঘর ও ক্যারাভান সরবরাহ করা জরুরি। তিনি বলেন, আজ যদি মানুষকে সুরক্ষা দেয়া না হয়, তাহলে আমরা আরও বেশি প্রাণহানির সাক্ষী হব- শিশু, নারী, পুরো পরিবার- এই ভবনগুলোর ভেতরেই। মোহাম্মদ নাসের জানান, তার পরিবার যে ছয়তলা ভবনে আশ্রয় নিয়েছিল, সেটি শুক্রবার ধসে পড়ে। ভবনটি আগেই ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে আগে তারা একটি তাঁবু থেকেও বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। নাসের বলেন, আমি মাটির নিচ থেকে আমার ছেলের হাত বেরিয়ে থাকতে দেখেছি। আমার ছেলে ধ্বংসস্তূপের নিচে ছিল, কিন্তু আমরা তাকে বের করতে পারিনি।
এই ঘটনায় তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে এবং ১৮ বছর বয়সী মেয়ে নিহত হয়। গাজা কর্তৃপক্ষের ধারণা, ইসরাইলি বোমাবর্ষণের ফলে এখনো প্রায় ৯ হাজার মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। তবে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর মতো ভারী যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। সোমবার উদ্ধারকর্মীরা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের একটি বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে প্রায় ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। ওই ভবনে হামলার সময় প্রায় ৬০ জন মানুষ ছিল। এর মধ্যে ৩০ জন শিশু আশ্রয় নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বন্ডি বিচ হামলায় সন্দেহভাজন ভারতীয় পাসপোর্টে ভ্রমণ করে
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ১ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ফিলিপাইনে ছিল। এই সফরের উদ্দেশ্য তদন্তাধীন রয়েছে এবং সন্দেহভাজনরা সেখানে সামরিক ধাঁচের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বলেও তথ্য মিলেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। রোববারের এই হামলাটি প্রায় ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ গুলিবর্ষণ এবং এটি ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা ১৬তে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সাজিদ আকরামও আছে। সে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। তার ছেলে ও কথিত সহযোগী নাভিদ আকরাম পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ফিলিপাইনে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। যদিও বর্তমানে এসব নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে মূলত দেশটির দক্ষিণাঞ্চল মিন্দানাও এলাকায় সীমিত রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিক তথ্য বলছে, এটি ইসলামিক স্টেট দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি সন্ত্রাসী হামলা, যা কথিতভাবে একজন পিতা ও তার ছেলে চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি কোনো ধর্মের কাজ নয়, বরং সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড। পুলিশ জানায়, নাভিদ আকরামের নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি থেকে হাতবোমা সদৃশ বিস্ফোরক এবং আইএস সম্পর্কিত দুটি হাতে বানানো পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াসহ বহু দেশ আইএসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
December
(274)
-
▼
Dec 18
(9)
- ইউক্রেনের পক্ষ থেকে নতুন শান্তি প্রস্তাব তৈরির কাজ...
- পাকিস্তানে বিপজ্জনক নজির by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
- ভুয়া ‘বীর’, হামলাকারীর ভিন্ন পরিচয়—সিডনির হামলা নি...
- তাজউদ্দীন আহমদের সতর্কবার্তা আজও প্রাসঙ্গিক by শার...
- অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে হামলাকারীর পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্যক...
- ইউক্রেন নিয়ে জার্মানির নতুন পরিকল্পনা
- মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা, নজিরবিহীন যুদ্ধে...
- গাজায় ঝড়বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন কাঁপছে
- বন্ডি বিচ হামলায় সন্দেহভাজন ভারতীয় পাসপোর্টে ভ্রমণ...
-
▼
Dec 18
(9)
-
▼
December
(274)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


