Tuesday, March 23, 2010

রাজধানীতে তিন দিনের দেশীয় পণ্যের মেলা করবে বিসিআই

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) দেশীয় পণ্য প্রসারের লক্ষ্যে আগামী জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি মেলা আয়োজন করবে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আমার পণ্য আমার দেশ মেলা ২০১০’ শীর্ষক এই মেলায় কেবল দেশীয় পণ্য ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করতে পারবে।
গতকাল রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিআই এ তথ্য জানায়। মেলা আয়োজনে কার্নিভাল ও ইথ্রি সলিউশন্সের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিনিয়োগ বোর্ড, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন, এসএমই ফাউন্ডেশন, বাফুফে, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বেসিস, বিপিজিএমইএ, বিইআইওএ, বিইএমএসএ, টোয়াব এবং এনবিএফ।
বিসিআইর সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিআই সভাপতি শাহেদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এস এম শাহাব উদ্দিন, পরিচালক গোলাম মোস্তফা তালুকদার, কার্নিভালের ব্যবস্থাপনা সহযোগী টিপু, ইথ্রি সলিউশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চাঁন মোহন সাহা প্রমুখ। মেলার আয়োজন নিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিসিআইর মেলা কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম ভুঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশীয় পণ্যের প্রসার ঘটাতে আগামী ১০ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী একটি মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
মেলাটি প্রতি দিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলবে।

ডিএসইর পর্ষদ নির্বাচন সম্পন্ন

কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের চারটি পদে নির্বাচন। ডিএসইর সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ডিএসইর বর্তমান সভাপতি রকিবুর রহমান সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১৭৮ ভোট। নির্বাচিত অন্য প্রার্থীরা হলেন খাজা গোলাম রসুল, আহমেদ ইকবাল হাসান ও শরীফ আতাউর রহমান। তাঁরা যথাক্রমে ১৫৫, ১২৮ ও ১০৪ ভোট পান।
পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে ডিএসইর সাবেক সভাপতি আবদুল হক ৯৮, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহমদ রশীদ লালী ৮২ এবং সদস্য দস্তগীর মো. আদেল ৬২ ও গোলাম কাদের ৩৩ ভোট পেয়েছেন।
ডিএসইর নির্বাচন কমিশন জানায়, সকাল ১০টায় নির্বাচন শুরু হয়ে তা বিরতিহীনভাবে চলে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। এ সময়ে মোট ২২৮ জন ভোটারের মধ্যে ২১৩ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে তিনটি ভোট বাতিল করা হয়েছে।
আহমেদ ইকবাল হাসান ও আহমদ রশীদ লালীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। পরে হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, রকিবুর রহমানকে অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে জয়লাভের সুযোগ করে দিতেই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের চাপে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এসইসি।
ফলাফল ঘোষণার পর ডিএসইর সদস্যদের অনেক বলেন, নির্বাচনের ফলাফল হয়তো এমনই হতো। মাঝখান থেকে এসইসির ভূমিকার কারণে পুরো নির্বাচন-প্রক্রিয়াটি সমালোচিত হলো।
২৭ মার্চ ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এদিনই পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদের সভায় ডিএসইর নতুন সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করা হবে।

রাইট শেয়ারের অর্থ আলাদা ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে

রাইট শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনতে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
এসইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন থেকে রাইট শেয়ারের মাধ্যমে সংগৃহীত মূলধন আলাদা ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। একই সঙ্গে যে উদ্দেশ্যের কথা বলে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হবে, সেই খাত ছাড়া অন্য কোনো খাতে এসব অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
এ ছাড়া প্রতি তিন মাস পর পর অর্থ ব্যবহারসম্পর্কিত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে এসইসিতে। কোম্পানির মনোনীত নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। এসইসির নিয়মিত সভায় গতকাল রোববার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে এসইসি নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, অনেক সময় বিভিন্ন কোম্পানি রাইট শেয়ারের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে উত্তোলিত টাকার অপব্যবহার করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ কারণে রাইট শেয়ারের টাকার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এসইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গতকালের সভায় আর এ কে সিরামিকসের আইপিও প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এসইসি। কোম্পানিটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের তিন কোটি শেয়ার বিক্রি করবে। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রথম কোম্পানি হিসেবে আইপিওতে আসা এ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ টাকা।
এ ছাড়া গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্ট ডিড ও তহবিল গঠনের অনুমোদন দিয়েছে এসইসি। ১৫০ কোটি টাকার এ ফান্ডটির উদ্যোক্তার অংশ ১৫ কোটি টাকা।
সভায় তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিডিকম লিমিটেডের রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব দ্বিতীয়বারের মতো নাকচ করে দিয়েছে এসইসি।

বিলবোর্ড দুর্ঘটনা-কার্যকর বিকল্পের সন্ধানে by এ জেড এম সাইফউদ্দিন

বিলবোর্ড দুর্ঘটনায় ঢাকায় আবারও মানুষের মৃত্যু! এই নগরের জনসংখ্যা বাড়তে বাড়তে কোটি ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। মানুষ বাড়ছে, সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে ভবন নির্মাণ। এ ধরনের ক্রমবর্ধমান নগরের একটি সুস্পষ্ট নগর-পরিকল্পনা থাকে, কিন্তু ঢাকা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। অনেক কিছুই হচ্ছে, কিন্তু পরিকল্পনা বা ভবিষ্যত্ চিন্তা বলে কিছু নেই। নাগরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা যেমন নেই, তেমনি সৌন্দর্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নেই। ঢাকার প্রধান রাস্তার দুপাশের ভবনগুলোর দিকে তাকালে হয়তো মনে হবে, এসব ভবন যেন তৈরি হয়েছে বিলবোর্ড দিয়ে বা বিলবোর্ড লাগানোর জন্য। এগুলোর বেশির ভাগই অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। ফলে একদিকে ঢাকার সৌন্দর্যহানি, অন্যদিকে ঝড়-ঝঞ্ঝার মতো যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ১৫ মার্চ কালবৈশাখীর ধাক্কায় বিলবোর্ড ভেঙে এক পথচারীর মৃত্যু আবার নতুন করে জানান দিল যে আমারা যে-কেউ এর শিকারে পরিণত হতে পারি।
অপরিকল্পিত এসব বিলবোর্ডের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বা নগরের সৌন্দর্যহানির বিষয়টি সমস্যার একটি দিক। অন্যদিকে বিজ্ঞাপনশিল্পের অন্যতম এ মাধ্যমটিও হারাচ্ছে কার্যকারিতা। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখতে পাব যে সেসব দেশে বিলবোর্ড বা এ রকম বিজ্ঞাপনী মাধ্যমগুলো স্থাপনের একটি নিয়মনীতি ও পরিকল্পনা রয়েছে। খেয়ালখুশিমতো কিছু করার কোনো সুযোগ সেসব দেশে নেই। প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের আনুমানিক আড়াই হাজার বিলবোর্ডের মধ্যে মাত্র ৩০০টির অনুমোদন রয়েছে। বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মনীতি না মানার ফলে এ খাতে যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করেও পণ্যগুলো প্রচারণার যথাযথ ফল পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে এর দায় চলে আসছে বিজ্ঞাপনশিল্পের ওপর।
সারা বিশ্বের বাজার এখন বহুমুখী। আর বাজারের এই বহুমুখিতার সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমগুলো ধীরে ধীরে পৌঁছে যাচ্ছে কার্যকারিতার চূড়ায়। এমনকি বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। একটি পণ্যের সফল বাজারজাতকরণ ও প্রচারণার জন্য আমাদের কত টাকা খরচ করতে হবে? প্রশ্নটা এখন বিশ্বব্যাপী বহুল আলোচিত। সময়টাই এখন পরিবর্তন ও নতুন উদ্ভাবনের। গতানুগতিক বিজ্ঞাপনী মাধ্যমগুলোরও তাই পরিবর্তন, নতুনভাবে উপস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে। সফল প্রচারণা, বিক্রি বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি ব্র্যান্ড-ভাবনার ক্রমাগত পরিবর্তনে ডিজিটাল প্যানেলস বা ডিজিটাল ইনডোর মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। বিভিন্ন বিপণন কোম্পানির গবেষণা ও দৃষ্টান্ত-জরিপেও এটা প্রমাণিত। এ রকম কিছু গবেষণালব্ধ ফলাফল নিয়ে আলোচনা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে। ভৌগোলিক সীমানা অথবা লোকসংখ্যা, যেকোনো বিচারেই ভারতের বাজার পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্। এই বৃহত্ এবং চ্যালেঞ্জিং-ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি স্থানে একটি গবেষণা চালিয়েছে দ্য নেলসন কোম্পানি। মুম্বাই, দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, পুনে ও হায়দরাবাদের ১৭৫টি স্থানে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ডিজিটাল ডাইনামিক বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দেখেছেন, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষই সেটা মনে করতে পারেন।
দ্য নেলসন কোম্পানির গণমাধ্যম ও বিনোদন বিভাগের সহযোগী পরিচালক পলল ভট্টাচার্যের মন্তব্য হচ্ছে, ‘এই মাধ্যম সবার থেকেই আলাদা, নতুন ও ক্রমাগত উন্নতি করছে। এ মাধ্যমে যাঁদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন চালানো হয়, তাঁদের হাতে একটি বিজ্ঞাপন দেখার মতো সময় আছে। এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাঁরা এ ধরনের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন পছন্দ করেন। ফলে এটি এই মাধ্যমের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, গতানুগতিক কোনো মাধ্যমের পক্ষে এই ডিজিটাল মাধ্যমকে অনুকরণ করা সম্ভব নয়।’
সামাজিক অবকাঠামো, ভোক্তার জীবনপ্রবাহ ও গণমাধ্যমের বহুমুখিতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডিজিটাল ইনডোর বিলবোর্ড আজ ও আগামীকালের জন্য সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করেছে। একজন ভোক্তার সারা দিনের জীবনপ্রবাহের কোনো না কোনো সময়ে ঠিক ঠিকভাবে সঠিক বার্তাটি পৌঁছে দিতে পারে এ মাধ্যম। শুধু তা-ই নয়, এ মাধ্যমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এসব গবেষণায় দেখা গেছে, এ মাধ্যম শুধু যে কার্যকরভাবে সঠিক ভোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তা-ই নয়, যে-সংখ্যক ভোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, সে সংখ্যাটিও অবাক হওয়ার মতো।
আনলিশিং দ্য পাওয়ার অব ডিজিটাল সাইনেজ: কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস ফর দ্য ফিফ্থ স্ক্রিন বইয়ের লেখক কিথ কেনসেনের মত হচ্ছে, ‘একটা পর্দা হাই ডেফিনিশন হলে প্রত্যাশিত রঙের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত দেখা যায়। আর এটি যদি আরও উচ্চ ডেফিনিশন হয়, তাহলে ছবি হয় জীবন্ত ও বাস্তবের মতো। ফলে এটি হয়ে ওঠে আরও মনে রাখার মতো।’ এ ধরনের ছবির ফলে ভোক্তাসাধারণের মধ্যে বাণিজ্যিক সচেতনতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে গতানুগতিক বিলবোর্ডের তুলনায় এটি অনেক বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী। আমরা যদি প্রতিবার বিজ্ঞাপন দেখাতে খরচের বিষয়টি নিয়েও ভাবি, তাহলেও দেখা যাবে, একমাত্র এই মাধ্যমেই ভোক্তাপ্রতি খরচের হিসাবটা সরাসরি বের করা সম্ভব। এ পর্যন্ত এই মাধ্যমটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর হিসেবেই প্রমাণিত। সর্বোপরি বিজ্ঞাপনে বিনিয়োগ করা অর্থের তুলনায় এর প্রতিদান অনেক বেশি। একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ ক্রেতার মধ্যে ৭৪ শতাংশ ডিজিটাল বিলবোর্ডে দেখা বিজ্ঞাপনগুলো মনে করতে পারেন।
‘২০০৮ ডিওওএস/প্লেস বেইজড মিডিয়া ক্যাম্পেইন উইথ ব্ল্যাকবেরি’ নিয়ে দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল নেটওয়ার্ক প্রকাশিত এক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, স্থির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া পণ্যের তুলনায় ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারকারী পণ্যের বিক্রয় ১৮ শতাংশ বেশি। দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল নেটওয়ার্ক-এর ৮০০ অফিস ভবনে এলসিডি স্ক্রিন নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে। তারা ডব্লিইএসজে এবং ডও জোন্সের খবর প্রচার করে। এর বিজ্ঞাপন-ব্যবস্থাপনার কাজ করে ব্লু চিপ মার্কেটিং পার্টনারস। ডব্লিউএসজের এসব স্ক্রিন প্রতিদিন ১.১ মিলিয়ন মানুষ দেখে থাকে।
বাংলাদেশেও বর্তমানে এ ধরনের ইনডোর ডিজিটাল বিলবোর্ডের প্রচলন শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী নতুন মাধ্যমের বিকাশ হতে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও অর্থনৈতিক অধোগতি ব্যবসা, জীবনপ্রবাহ, বিক্রয় ও বিপণন সব ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ে মানুষকে অনেক বেশি সচেতন করে তুলেছে। অর্থনীতির এ বিষয়টি বিবেচনা করলে এ নতুন মাধ্যমটি নিঃসন্দেহে দেশের বিজ্ঞাপনশিল্পের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
ঢাকা শহরে যেখানে-সেখানে বিলবোর্ড স্থাপন, শহরের সৌন্দর্য নষ্ট ও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার যে আশঙ্কার মধ্য দিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো ডিজটাল ইনডোর বিলবোর্ডকে একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসেছে।
এ জেড এম সাইফউদ্দিন: একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার প্রধান নির্বাহী।
saif@paperhymebd.com

সীমান্তে শান্তি বজায় থাকুক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যেকোনো পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত সমস্যাটি আলোচিত হয়ে থাকে এবং যথারীতি নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়, বিএসএফ ভবিষ্যতে সংযত আচরণ করবে। হয়তো ভারতের নীতিনির্ধারকেরা বিএসএফকে সে কথা বলেও থাকেন। কিন্তু বাস্তবে বিএসএফের আচরণে তার কোনো প্রতিফলন লক্ষ করা যায় না। এ প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) ও বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) আয়োজিত যৌথ সংলাপে দেওয়া ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাইর আশ্বাসবাণী বাংলাদেশি নাগরিকদের কতটা আশ্বস্ত করবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে, তিনি অন্তত সমস্যাটির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন। ভারত একতরফাভাবে এক বছরের জন্য সীমান্তে গুলি চালানো বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও স্বরাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন।
কেবল বাংলাদেশ-ভারত নয়, যেকোনো দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জরুরি। সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ বন্ধ রাখার দায়িত্ব সীমান্তরক্ষী বাহিনীর। এ ক্ষেত্রে বিএসএফ কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাদের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ বন্ধ হোক, তা সবাই চায়। তাই বলে এসব অপরাধ দমনের নামে মানুষ মারার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না।
ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, দুই দেশের মোট চার হাজার ৯৫ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার অমীমাংসিত রয়েছে। সমাধান হয়নি ছিটমহল সমস্যারও। গত ৩৯ বছরেও এ সমস্যার সমাধান না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। এ জন্য কোন পক্ষ বেশি বা কম দায়ী, সে বিতর্কে না গিয়ে যে কথাটি জোর দিয়ে বলা প্রয়োজন তা হলো, অবিলম্বে অচিহ্নিত সীমান্ত চিহ্নিত করতে হবে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাবে। স্বরাষ্ট্রসচিব বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়ার পদ্ধতি সহজ করার কথা বলেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশি ভিসাপ্রার্থীদের ভারতীয় ভিসার জন্য বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে পারস্পরিক অবিশ্বাস-অনাস্থাও। ভারত ও বাংলাদেশে যেকোনো সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে যোগ দিতে গেলে আমন্ত্রণকারী দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নিতে হয়। দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের নাগরিকদের জন্য এ ধরনের বিধিনিষেধ কাম্য নয়।
জি কে পিল্লাই স্বীকার করেছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের সহযোগিতা সন্তোষজনক। স্বভাবত বাংলাদেশও ভারতের কাছে অনুরূপ সহযোগিতা আশা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লি সফরের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে শুভ সূচনা ঘটেছে, তাকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে হলে সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা তথা বিএসএফের গোলাগুলি বন্ধের বিকল্প নেই। ভারতীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের আশ্বাসের বাস্তবায়নই দেখতে চাইছে বাংলাদেশের মানুষ।

অবরোধের ফলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ আরোপের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, অবরোধের ফলে গাজার জনগণের অগ্রহণযোগ্য দুর্ভোগ হচ্ছে। গতকাল রোববার হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকার দক্ষিণের শহর খান ইউনিসে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল বলেছেন, পূর্ব জেরুজালেমে বসতি নির্মাণ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে দুই দেশের নেতাদের উৎসাহিত করতে শনিবার দুই দিনের সফরে মধ্যপ্রাচ্যে যান জাতিসংঘ মহাসচিব।
বান কি মুন বলেন, ‘আমি আবারও ইসরায়েলের নেতাদের স্পষ্ট করে বলছি যে অবরোধ নিয়ে ইসরায়েলের নীতি টেকসই নয়, এটা ভুল। এতে গাজার জনগণকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ইসরায়েলের নীতির ফলে বৈধ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং উৎসাহিত করা হচ্ছে পাচারকাজ। এতে উদারপন্থীদের কোনো লাভ না হলেও চরমপন্থীদের ক্ষমতায়িত করা হয়েছে।
বান কি মুন গতকাল সকালে গাজার দারিদ্র্যকবলিত এলাকা সফর শেষে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। কঠোর অবরোধ তুলে নিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গত বছরের জানুয়ারিতে ইসরায়েলের গাজা হামলার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো গাজা সফর করলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। গতকাল তিনি গাজার বেশ কিছু ভয়াবহ দুর্গত এলাকায় যান। এরপর তিনি নতুন ১৫০টি বাড়ি, একটি আটার কারখানা ও একটি পয়োনিষ্কাশন পরিশোধন কারখানা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। মহাসচিব জানান, সম্প্রতি ওই প্রকল্পগুলো অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। এগুলো খুবই সামান্য। আরও পুনর্গঠন কাজ প্রয়োজন। বান কি মুন বলেন, ‘অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি দেখেছি আমি। এটা প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক।’
গত শনিবার ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে গিয়ে বান কি মুন বলেন, গাজায় তাঁর সফর প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাঁর সমর্থন আছে।
গত শনিবার ইসরায়েলে প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজের সঙ্গে বৈঠকের সময় বান কি মুন জোর দিয়ে বলেন, অবরোধের ফলে বেসামরিক নাগরিকেরা ব্যাপক দুর্ভোগের কবলে পড়েছে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হামাসের লড়াইয়ের পর গাজা সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। ওই যুদ্ধে প্রায় এক হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি ও ১৩ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। অবরোধের ফলে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিধ্বস্ত হওয়া বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করতে পারছে না ফিলিস্তিনিরা। এদিকে গত তিন দিন ইসরায়েলে বেশ কয়েকটি রকেট হামলা চালানো হয়। এতে থাইল্যান্ডের এক শ্রমিক নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় এ মাসের শুরুতে ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা শুরু করতে রাজি হয় ফিলিস্তিন। কিন্তু এর দুই দিন পর ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে এক হাজার ৬০০ বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিলে আলোচনা প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।
এর আগে গত শনিবার মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী জোট (কোয়াট্রেট) ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টাকে ‘দৃঢ়ভাবে সমর্থন’ করে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে গতকাল ইসরায়েল সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের দূত জর্জ মিশেল। ফিলিস্তিন সূত্র জানায়, আজ সোমবার জর্ডানে গিয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করবেন মিশেল।
মিশেলের সঙ্গে বৈঠকের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, পূর্ব জেরুজালেমে বসতি নির্মাণ প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বসতি নির্মাণ নিয়ে ইসরায়েল সরকারের গত ৪২ বছরের নীতি পরিবর্তন করা হবে। জেরুজালেম ও তেলআবিব নিয়ে অতীতের সরকারের নীতি বহাল থাকবে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আরও স্পষ্ট করে দিতে চাই যে দুই পক্ষের আলোচনায় বিতর্কিত যেকোনো বিষয় উত্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু আমাদের ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার মূল সমস্যা সমাধান করতে পারে শুধু প্রত্যক্ষ আলোচনা ও শান্তি সমঝোতাই। আমরা যদি একসঙ্গে বসতে পারি, তবে যৌথ সমাধানে পৌঁছাতে পারব। সত্যিকারের শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে এটাই একমাত্র উপায়।

আলোচনার প্রস্তাব নাকচ থাই বিক্ষোভকারীদের

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েও পরে তা নাকচ করে দিয়েছেন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে ব্যাংকক ও পার্শ্ববর্তী ননথাবুরি প্রদেশে পৃথক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী অভিজিতের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিক্ষোভকারীরা গতকাল রোববার আলোচনায় বসতে রাজি হন। পরে টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে দেওয়ার জন্য বিরোধীদের দাবি নাকচ করে দেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী চিন্নাওয়ার্ন বুনিয়াকিয়াতের নামও ঘোষণা করেন। এরপর সরকারের সঙ্গে আলোচনায় না বসার সিদ্ধান্ত নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক বিক্ষোভকারীরা।
প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ বলেন, ‘সোমবার আমরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসব, তবে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার দাবি মেনে নেওয়া হবে না। সরকারের শরিক দলগুলোও এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে একমত।’
বিক্ষোভকারীদের নেতা জতুপর্ণ প্রোমপান বলেন, ‘আমরা শুধু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই কথা বলতে চাই, অন্য কারও সঙ্গে নয়।’
ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোমজাই পাগাফাভিভাত বলেন, এখানে আলোচনার কোনো বিষয় নেই। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পক্ষে, আর সরকার তা করবে না। এটা নিয়ে আলোচনায় কোনো সমাধান আসবে না। ভবিষ্যতে সমস্যা আরও জটিল হবে।
এদিকে পৃথক বিস্ফোরণ সম্পর্কে মেজর জেনারেল প্রায়ুত থাভোরনসিরি জানান, শনিবার রাতে ননথাবুরি প্রদেশে জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কমিশন কার্যালয় লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
ব্যাংককে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশের একটি সড়কে দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে শনিবার রাত ১০টার কিছুক্ষণ পরে। এতে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন।

মাদক সেবনকারীদের বেধড়ক পেটালেন শিবসেনার কর্মীরা

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনার ছাত্র শাখা ভারতীয় বিদ্যার্থী সেনার কর্মীরা হঠাৎ করে পুলিশ হয়ে গেছেন। শনিবার সেনার কর্মীরা হঠাৎ হাজির হন মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে। হাতে মোটা লাঠি। কয়েকটি ভাগে ভাগ হন তাঁরা। তারপর পার্কে বসে থাকা মাদক সেবনকারীদের বেধড়ক পেটানো শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
এ ব্যাপারে শিবসেনার ছাত্র শাখার কর্মীরা জানান, ‘কাজটা পুলিশের। কিন্তু পুলিশ কিছু না করলে তাঁদের হয়ে আমরাই করে দেব সে কাজ।’ তাঁরা বলেন, ছত্রপতি শিবাজির নামে তৈরি পার্কে মাদকসেবন মানে শিবাজিকে অপমান করা। এটা হতে দেব না। তবে শুধু শিবাজি পার্কে নয়, প্রয়োজনে মুম্বাই শহরের সব কটি পার্কে হানা দেবে শিবসেনার ঠেংগাড়ে বাহিনী।
বস্তুত, শিবসেনার কর্মীরা নিজেদের মুম্বাইয়ের মালিক মনে করছেন। শিবসেনার প্রধান বাল ঠাকরের ভাইপো রাজ ঠাকরেও সেই পথে চলেছেন। অনেক সময় আইন নিজেদের হাতেই তুলে নিচ্ছেন তাঁরা। এ ব্যাপারে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত দিল্লিতে এক করপোরেট সম্মেলনে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘মুম্বাইয়ে বাল ঠাকরে আছেন। দিল্লিতে কোনো বাল ঠাকরে নেই বলে ভগবানকে ধন্যবাদ।’

মহারাজা এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু

মহারাজা এক্সপ্রেস। ভারতীয় রেলে নতুন সংযোজন। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাঁচতারা হোটেলের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে গড়া অত্যাধুনিক বিলাসবহুল ও বিশ্বমানের ট্রেনটির যাত্রা শুরু হলো শনিবার রাতে। কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। রাত ১০টায় কলকাতা স্টেশন থেকে এ মহারাজার রাজকীয় যাত্রার উদ্বোধন করেন ভারতের রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিন যাত্রী ছিল ৩৮ জন। এঁরা সবাই বিদেশি। ট্রেনটি দিল্লি পৌঁছাবে আগামী শনিবার।
মহারাজা এক্সপ্রেসে রয়েছে ২৩টি কোচ। এর মধ্যে ১৫টি কোচ যাত্রীদের জন্য। আর এসব যাত্রী-কোচের নাম রাখা হয়েছে নবাবি কেতায়। রংমহল, ময়ূরমহল, মোতিমহল, গোমেদ, হীরা ইত্যাদি। এ ট্রেনে রয়েছে চারটি শ্রেণীর কক্ষ। রয়েছে ডিলাক্স কেবিন, যার প্রতিদিনের ভাড়া ৮০০ মার্কিন ডলার। এরপর রয়েছে জুনিয়র স্যুট। এর ভাড়া প্রতিদিন ৯০০ ডলার। সাধারণ স্যুটের ভাড়া এক হাজার ৪০০ ডলার। রয়েছে রেসিডেনশিয়াল স্যুট; এর ভাড়া প্রতিদিন দুই হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।
বিলাসবহুল স্যুট আর কেবিনের পাশাপাশি রয়েছে উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা, রেস্তোরাঁ, বার ও ব্যাংক্যুয়েট হল। এ ব্যাংক্যুয়েট হলে একসঙ্গে ৪২ জন যাত্রীর খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। থাকছে পাঁচতারা হোটেলের সব খাবার।
এতে রয়েছে আইএসডি টেলিফোন। ট্রেনে সার্বক্ষণিক থাকছেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। রয়েছে বিপণিকেন্দ্র। যাত্রীদের মালপত্র রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে ইলেকট্রনিক সেফ ডিপোজিট ভল্ট। রয়েছে দুটি রেস্তোরাঁ-বগি।

কেরালায় বিমান থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় পর্যটন রাজ্য কেরালায় অভ্যন্তরীণ রুটের একটি ফ্লাইট থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিংফিশার এয়ারলাইনসের বিমানটি গতকাল রোববার বেঙ্গালুরু থেকে কেরালার প্রধান বিমানবন্দর থিরুভানাথপুরমে অবতরণের পর মালামাল নামানোর সময় বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা ওই বিস্ফোরক উদ্ধার করেন। পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।
কেরালার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা পি চন্দ্রশেখর বলেন, ভারতে তৈরি বিস্ফোরকগুলো কাগজে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেগুলো বোমা, নাকি গোলাবারুদ হিসেবেই ছিল, তাত্ক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
চন্দ্রশেখর বলেন, ‘আমরা বিস্ফোরকের ধরন এবং তা কীভাবে বিমানে তোলা হলো, সে সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি।

কৈরালাকে নেপালিদের অশ্রুসিক্ত বিদায়

নেপালের সদ্যপ্রয়াত নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী গিরিজা প্রসাদ কৈরালার প্রতি সে দেশের হাজার হাজার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। গতকাল রোববার রাজধানী কাঠমান্ডুতে তাঁরা তাঁদের প্রিয় নেতার মরদেহে ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানান। সাধারণ নেপালি ও মাওবাদীরাসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো কৈরালার প্রতি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। মাওবাদীদের সঙ্গে সরকারের শান্তিচুক্তি সম্পাদনের মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন গিরিজা প্রসাদ। খবর এএফপির।
জাতির শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কাঠমান্ডুতে অবস্থিত নেপালের জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল দুপুরে কৈরালার মরদেহ আনা হয়। এ সময় হাজার হাজার মানুষ ফুলের মালা ও প্লাকার্ড হাতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। প্রিয় নেতার মরদেহ এক নজর দেখার জন্য তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছিলেন। সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর পশুপতিনাথ মন্দিরে তাঁর লাশ নিয়ে যাওয়া হয়। হিন্দু রীতি অনুযায়ী সেখানে তাঁর মরদেহ দাহ করার কথা।
মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ড এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন। নেপালি ভাষায় লেখা ওই বিবৃতিতে তিনি কৈরালার মৃত্যুকে দেশের এক ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করেন। প্রচণ্ড বলেন, শান্তিপ্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, সংবিধান প্রণয়নের যৌক্তিক পরিসমাপ্তি টানা, সর্বোপরি দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই কৈরালার প্রতি সত্যিকার শ্রদ্ধা জানানো উচিত।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত

ভারত তার ব্রাহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন সংস্করণের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। রাশিয়ার সহযোগিতায় ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করা হয়। এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
ব্রাহ্মস মহাকাশযানের প্রধান এ সিভাথানু পিল্লাই বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, ভারতের পূর্ব উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনীর একটি জাহাজ থেকে গতকাল রোববার ক্ষেপণাস্ত্রটি উেক্ষপণ করা হয়।
তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পেরেছে। বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশ এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী।
২০০ কিলোগ্রাম (৪৪০ পাউন্ড) প্রচলিত ওয়্যারহেড বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রটি ২৮০ কিলোমিটার (১৭৫ মাইল) দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ভারত ও রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা ২০০১ সালে ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরির কাজ শুরু করেন।
ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদ ও রাশিয়ার মস্কভা মিলিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির নামকরণ করা হয়েছে। ভারতের সামরিক বাহিনী ২০০৭ সাল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করছে।

শত্রুদের হাত কেটে নেওয়া হবে: আহমাদিনেজাদ

ইরানের শত্রুদের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গতকাল রোববার ইরানি নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া একটি টেলিভিশন ভাষণে এই হুমকি দেন কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট। গতকাল থেকে ইরানের নববর্ষ শুরু হয়েছে।
ভাষণে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘ইরান সর্বশক্তি দিয়ে তার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করবে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে কোনো শক্তি এই দেশের ক্ষতি করতে চাইলে তাদের নোংরা হাত কেটে নেওয়া হবে।’ তিনি দাবি করেন, গত বছরের জুনে যে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি পুনর্নির্বাচিত হলেন, তা বিশ্বের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি ‘সত্যিকারের’ উদাহরণ।
আহমাদিনেজাদ আরও বলেন, ‘ওই নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছে সরকারের কোন পথ গ্রহণ করা উচিত। শত্রুরা ধুলো উড়িয়ে ইরানি জনগণের সাফল্যকে আড়াল করতে চাইছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা নিজেরাই নিজেদের চোখ ধুলো দিয়ে ঘষছে। তাদের জানা উচিত, অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ইরানের জনগণ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়সংকল্প।’
এদিকে ইরানি প্রেসিডেন্টের এই কট্টর মনোভাবের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অভিযোগ করেছেন, তেহরান সব সময়ই ওয়াশিংটনে বাড়ানো বন্ধুত্বের হাত এড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ by ইব্রাহীম চৌধুরী

ইরাক অভিযানের সপ্তম বার্ষিকী ছিল গত শনিবার। এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিক জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতির সমালোচনা করে এবং বিদেশে মোতায়েন সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান শহরে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে যুদ্ধবিরোধী সংগঠনের জোট অ্যাক্ট নাউ টু স্টপ ওয়ার অ্যান্ড এন্ড রেসিজম বা অ্যানসার।
সমাবেশে ক্ষুব্ধ জনতা বলে, ক্ষমতা থেকে জর্জ বুশের প্রস্থান ঘটেছে। লাখো কোটি জনতার আকাঙ্ক্ষা ছিল যুদ্ধের অবসান ঘটবে। কিন্তু গত এক বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা হচ্ছে যুদ্ধ যেন এক অন্তহীন উপাখ্যান হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদ বিক্ষোভে সর্বত্র যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের বিচারের দাবি জানিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা।
ওয়াশিংটন ডিসিসহ সর্বত্র বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। নাগরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটনে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের কর্মী সিনডি শিহানসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ছয় বছরের তুলনায় এবারের যুদ্ধবিরোধী সমাবেশে লোকসমাগম কমেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ইরাক-আফগান যুদ্ধে ক্লান্ত মার্কিন জনগণ এখন ক্ষুব্ধ ওবামা প্রশাসনের ওপর। জর্জ বুশের যুদ্ধনীতি অনুসরণ করার কারণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতিও প্রতিবাদকারীদের ক্ষোভ প্রকাশ্য হয়ে ওঠে সমাবেশগুলোতে।
ওয়াশিংটন ডিসির লাফায়েত স্কয়ার এলাকায় প্রায় ১০ হাজার লোক সমবেত হয়। তারা অবিলম্বে ইরাক ও আফগান রণাঙ্গন থেকে, মার্কিন সেনাসদস্যদের ফিরিয়ে আনার জন্য স্লোগান দিতে থাকে। বিক্ষোভকারীরা প্রতীকী কফিন বহন করে হোয়াইট হাউসসংলগ্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এ সময় তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে উদ্দেশ করে চিত্কার করে বলতে থাকে, এই যুদ্ধাপরাধীকেও গ্রেপ্তার করা হোক।
সমাবেশে নাগরিক যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা বলেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর পূর্বসূরি জর্জ বুশকেই অনুসরণ করছেন। গুয়ানতানামো বন্দিশিবির বন্ধ করা হয়নি। লোকজনকে বিনা বিচারে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখা হচ্ছে। জর্জ বুশের সঙ্গে বারাক ওবামার পার্থক্য হচ্ছে, ওবামা ভালো বক্তৃতা করেন। বিক্ষোভকারীরা ইরাক যুদ্ধ শুরু করার জন্য দায়ী বুশ প্রশাসনের লোকজনকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানায়।
নিউইয়র্ক নগরের টাইম স্কয়ারে একদল যুদ্ধবিরোধী দাদি-নাতি বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন। তাঁরা বলেন, দেশ ভেঙে পড়ছে। যুদ্ধ এখন প্রহসন। বিক্ষোভকারীদের একজন লিজ একটি ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানে লিখা ছিল, ‘বোমা নয়, রুটি চাই।’
এ ছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেস, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান নগরে ছোট-বড় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। ২০০৩ সালে ইরাক অভিযানের পর এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ মার্কিনরা তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। আয়োজক সংগঠক অ্যানসারের সংগঠক কোরাজন এসগুয়েরা বলেন, ‘আফগানিস্তান ও ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনার প্রত্যাহার চাই।’
আইক্যাজুয়ালটিস ডটঅর্গ নামের ওয়েবসাইটের হিসাব অনুযায়ী, ইরাক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সেখানে চার হাজার ৩৮৫ জন মার্কিন সেনা মারা গেছে। আর কথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আফগানিস্তানের রণাঙ্গনে মারা গেছে আরও এক হাজার ২৪ জন মার্কিন সেনা। পাশাপাশি এসব যুদ্ধে দুই দেশেই অসংখ্য বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

শেফিল্ড শিল্ড ভিক্টোরিয়ার

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শ্রেণীর টুর্নামেন্ট শেফিল্ড শিল্ডের শিরোপা থেকে গেল ভিক্টোরিয়ার কাছেই। পাঁচ দিনের ম্যাচের শেষ দিন কাল কুইন্সল্যান্ডকে ৪৫৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ভিক্টোরিয়ার তোলা ৩০৫ রানের জবাবে ২৫৭ রানে অলআউট হয়েছিল কুইন্সল্যান্ড।
প্রথম ইনিংসে পাওয়া ৪৮ রানের লিডের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯১ রান যোগ করে ইনিংস ঘোষণা করে ক্যামেরন হোয়াইটের দল। জয়ের জন্য ৬৪০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১৮২ রানে অলআউট হয়ে যায় কুইন্সল্যান্ড

আইসিসি সভাপতি আজ আসছেন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের আমন্ত্রণে আজ ঢাকা আসছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভাপতি ডেভিড মরগান। তিন দিনের সফরের অংশ হিসেবে আগামীকাল তিনি সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। ঢাকায় বিসিবি সভাপতি এবং পরিচালকদের সঙ্গেও সাক্ষাত্ হবে তাঁর। মরগান দর্শক হবেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলমান বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টেরও।

মিনি হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন সানিডেল

সানিডেল মিনি হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সানিডেল স্কুল। পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে কাল ফাইনালে তারা ৮-৫ গোলে হারিয়েছে ধানমন্ডি টিউটোরিয়ালকে। এর আগে সেমিফাইনালে সানিডেল ৮-৩ গোলে বিআইএসকে এবং ধানমন্ডি টিউটোরিয়াল সমান ব্যবধানে স্কলাস্টিকাকে হারায়। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ধানমন্ডি টিউটোরিয়ালের মোহাম্মদ আলী। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন হলিক্রস কলেজের অধ্যক্ষ সিস্টার মেরিয়ান তেরেজা।

মরিনহোকে পেতে মরিয়া সিটি

টাকা কোনো ব্যাপার নয়’। ক্লাব কেনার পর থেকে এ কথাই বুঝিয়ে দিয়ে আসছেন ম্যানচেস্টার সিটির মালিক শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। নামটা যেমন বড়, তেমনই অঢেল তাঁর ধনদৌলত। তার থেকে একটা অংশ তিনি তুলে দিতে প্রস্তুত হোসে মরিনহোর হাতে। সিটির কোচ হিসেবে এই পর্তুগিজকে তাঁর চাই-ই চাই।
সেই ১৯৬৫ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইন্টার মিলানকে আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপার পথে নিয়ে যাচ্ছেন এই মরিনহো। তাঁর সাবেক ক্লাব চেলসিকে তাদের ডেরায় এসে হারিয়ে উঠে গেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু ইতালিয়ান ফুটবল নিয়ে নিজের অসন্তোষ আর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফেরার ইচ্ছাটা সুযোগ পেলেই জানিয়ে রাখেন ‘স্পেশাল ওয়ান’। ইন্টার তাঁকে বছরে ৮৩ লাখ পাউন্ড দেয় বেতন হিসেবে। বড় বড় শিরোপা জিততে মরিয়া সিটি বেশ ভালো দর হাঁকতে যাচ্ছে মরিনহোকে কিনতে। ক্লাবের সূত্র জানিয়েছে এমনটাই।
শেষ পর্যন্ত মরিনহো সিটিতে ফিরলে এখনকার কোচ রবার্তো মানচিনির কী হবে? মজার ব্যাপার হলো, তিনি নাকি ফিরে যাবেন ইন্টারে!

আব্রামোভিচের খড়্গ প্রস্তুত

জন টেরি কেমন করে ট্যাকল করেন কিংবা দিদিয়ের দ্রগবার আক্রমণগুলো কেমন হবে, এটা ঠিকঠাক পড়তে পেরেছিলেন হোসে মরিনহো। সেভাবে পরিকল্পনা সাজিয়েই চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলান কোচ হারিয়েছেন চেলসিকে। তবে রোমান আব্রামোভিচকে বুঝতে ঢের বাকি আছে মরিনহোর! ইন্টারের কাছে চেলসি হেরে যাওয়ার পরও চেলসি মালিক ‘রূঢ়’ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি দেখে মরিনহো বলেছিলেন—রোমান বদলেছে, এখন বুঝতে পারছে ইউরোপীয় ফুটবলে জয়টা সহজ নয়!
ভুল। হ্যাঁ, আব্রামোভিচকে এখনো ঠিকমতো পড়তে পারেননি মরিনহো। চেলসি মালিক রুশ তেল ব্যবসায়ী একটুও বদলেছেন বলে মনে হয় না। প্রায় ৩ বছর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা-খরা না কাটাতে পারার অপরাধে মরিনহোকে চেলসি থেকে বের করে দেওয়া আব্রামোভিচই যেন জেগে উঠছেন। চেলসি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর দিনই খেলোয়াড়, কোচ এবং কোচের সহযোগী স্টাফদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন—হয় শিরোপা জেতো, নয় ছাঁটাই হওয়ার কোপে পড়!
জন টেরি, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডদের নিয়ে কার্লো আনচেলত্তি যখন কোবহামে যান তখন এমনিতেই জায়গাটা কোলাহলমুখর হয়ে পড়ে। গত বুধবার চেলসির অনুশীলন-নিবাস কোবহামে কোলাহলের সঙ্গে সন্ত্রস্ত ভাবও ছিল। কিছু না বলে না কয়ে সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন আব্রামোভিচ। কর্মকর্তারা জরুরি সভায়ও বসেন। ইন্টারের কাছে হারের কারণে তেতে যাওয়া আব্রামোভিচ সেখানেই ওই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বলে জানিয়েছে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড।
ওই সভাতে ছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে খবরটি ছেপেছে পত্রিকাটি। ওই সূত্রই জানিয়েছে, সভাটি ২ ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং তাতে আব্রামোভিচ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, ‘রোমান আসলে সরাসরি এই কথাগুলো বলেননি। তবে তিনি যা বলেছেন, তার অর্থ দাঁড়ায় এটাই। আর তাঁর শরীরী ভাষাই বলে দিচ্ছিল তিনি খুব রেগে ছিলেন।

সাড়া দিল মাত্র পাঁচ দল

পেশাদার ফুটবল লিগের দ্বিতীয় স্তর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে। এ জন্য তারা আগ্রহী দলগুলোর কাছ থেকে নিবন্ধন চেয়েছিল। কিন্তু ২০ মার্চ নিবন্ধনের শেষ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, ঢাকার মাত্র ৫টি দল নিবন্ধন করেছে—বাড্ডা জাগরণী, মহাখালী একাদশ, বাংলাদেশ বয়েজ, উত্তরা বারিধারা ও ওয়ারী ক্লাব।
তবে ঢাকার বাইরের ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল, ঈশ্বরদী সময় চেয়েছে বাফুফের কাছে। সেই আবেদন মঞ্জুর হচ্ছে। ৫ দল নিয়ে তো আর এমন একটা লিগ হয় না! বাংলাদেশ লিগ নাম নিয়ে এখন যে পেশাদার লিগ চলছে, তাতে দল ওঠানামার কোনো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। দ্বিতীয় স্তর চালু হলে সেখান থেকে দল ওঠানামা করবে।

রবিনহো আবার ম্যান সিটিতে

এ মৌসুমেই আবার ম্যানচেস্টার সিটিতে ফিরতে পারেন রবিনহো। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ম্যান সিটিতে নাম লিখিয়েছিলেন অভিমান করে। পারফরম্যান্সের নিম্নগতি তাঁকে ধারে খেলতে যেতে বাধ্য করেছে তাঁরই পুরোনো ক্লাব সান্তোসে। কিন্তু সান্তোস প্রতিশ্রুত সাপ্তাহিক বেতন দিতে পারছে না, তাই রবিনহো আবার ফিরতে পারেন ম্যান সিটিতে।
সান্তোসে যাওয়ার পর থেকেই রবিনহোর বেতন নিয়ে ঝামেলা চলছে। তাঁকে নেওয়ার সময় সান্তোস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সপ্তাহে ১ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড বেতন দেবে। কিন্তু আসল ব্যাপার হচ্ছে, একজন খেলোয়াড়ের পেছনে এত অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য সান্তোসের নেই।
রবিনহোর বেতন দেওয়ার জন্য তিনটি আলাদা আলাদা স্পনসর ঠিক করেছিল সান্তোস। তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল, নিজেদের পণ্যের প্রচারে রবিনহোকে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করতে পারবে। গত জানুয়ারি মাসে রবিনহো সান্তোসে গেছেন। এরই মধ্যে তিন স্পনসরের একটি চুক্তি গুটিয়ে নিয়েছে। বাকি দুটি সিয়েরা ও ফক্সওয়াগেনের সঙ্গে চুক্তি দুটোও ভঙ্গুরপ্রায়। এর আগে শোনা গেছে সান্তোসে প্রথম মাসের বেতন নিয়েই ঝামেলা হয়েছে রবিনহোর এবং ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ওই মাসের বেতন এখনো পাননি। যদিও সান্তোস কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সান্তোসে গিয়ে নিয়মিত বেতন না পেলেও নিজের পুরোনো ক্লাবে গিয়ে একটা জিনিস অন্তত পেয়েছেন রবিনহো। ফিরে পেয়েছেন পুরোনো ফর্ম। সান্তোসে এ পর্যন্ত ২ ম্যাচ খেলে করেছেন ৫ গোল। এই পারফরম্যান্সের কারণেই ব্রাজিল কোচ কার্লোস দুঙ্গার সুনজরটাও পাচ্ছেন।
এখন এটা তো প্রায় নিশ্চিতই যে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ বিশ্বকাপে থাকছেন ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ৭২ ম্যাচে ২০ গোল করা রবিনহো। কে জানে ম্যান সিটিতে থাকলে তিনি ম্যান সিটিরই প্রথম একাদশে থাকতেন কি না! ম্যান সিটির নতুন কোচ রবার্তো মানচিনি তো বলেই দিয়েছিলেন—শুধু নাম দিয়ে প্রথম একাদশে কেউ থাকতে পারবে না, থাকতে হবে পারফরম্যান্স দিয়ে।

আর ভালো লাগছে না ব্রাদার্সের!

কমলাপুর স্টেডিয়ামে কাল ফেনী সকারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বাংলাদেশ লিগে প্রথম পর্ব শেষ করল ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
আগের দিন ঢাকায় আসার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েছিল সকারের বাস। কয়েকজন খেলোয়াড় আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দলটি ঢাকায় আসে এবং কালকের ম্যাচটি শেষ করেছে ভালোভাবেই।
সকার জেতার জন্য মরিয়া আক্রমণ করেছিল শেষ দিকে, কিন্তু গোল পায়নি ব্রাদার্সের তোফাজ্জল গোল লাইন থেকে বাঁচিয়ে দেওয়ায়। ব্রাদার্সও সুযোগ পেয়েছে। তবে জেতার চেয়ে ম্যাচটি পার করে দেওয়াই যেন মূল লক্ষ্য ছিল তাদের।
ম্যাচের পর ব্রাদার্স কোচ ওয়াসিম ইকবাল বললেন, ‘পাঁচ মাসে মাত্র প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। এত গ্যাপ থাকলে কীভাবে খেলা যায়। সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আর ভালো লাগছে না।’ ভালো না লাগার আরেকটা কারণও আছে ব্রাদার্সের, এবার দলটির অবস্থা গতবারের চেয়ে খারাপ। গত লিগে তারা চতুর্থ হয়েছিল। এবার ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত পঞ্চম স্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত এই অবস্থান ধরে রাখাও কঠিন তাদের জন্য।
আবাহনী, মোহামেডান, শেখ রাসেলের পর চার নম্বর জায়গায় এবার এখনো পর্যন্ত ফেনী সকার। ১২ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট পাওয়া সকারের সঙ্গে চতুর্থ স্থানে যৌথভাবে থাকার সুযোগ আছে আরামবাগেরও। ১১ ম্যাচে আরামবাগের পয়েন্ট ১৪।
আজকের খেলা: আরামবাগ-ফরাশগঞ্জ (কমলাপুর স্টেডিয়াম, ৩-৩০ মি.)। চট্টগ্রাম মোহামেডান-শুকতারা (এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, ৩-৩০ মি.)।

দুই বছর পর লিভারপুলকে হারাল ম্যানইউ

সর্বশেষ ২০০৮ সালের মার্চে লিভারপুলকে হারিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দুই বছর অপেক্ষার পর অবশেষে তাদের হারাতে পারল অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কাল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মুখোমুখি হয়েছিল দুদল, ২-১ গোলে লিভারপুলকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় আবার শীর্ষে উঠে এল ম্যানইউ। ৩১ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট ম্যানইউর, সমান ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আর্সেনাল, সমান ম্যাচে ৫১ পয়েন্ট পাওয়া লিভারপুল রইল ষষ্ঠ স্থানে।
৫ মিনিটে ফার্নান্দো তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। ১২ মিনিটে বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে ১-১ করেন ওয়েইন রুনি। এবারের মৌসুমে তাঁর ৩৩তম গোল। ৬০ মিনিটে ম্যানইউকে জয়সূচক গোল এনে দেন পার্ক জি সুং।
কাল হতাশার রাত কাটল চেলসির। ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিপক্ষে ৬ মিনিটেই দ্রগবার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু ৭০ মিনিটে দিউফের গোলে শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে ফেরে চেলসি। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ম্যানইউয়ের সঙ্গে তাদের ব্যবধান ৪ পয়েন্টের। অবশ্য ম্যানইউ-আর্সেনালের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছে তারা। ফুলহামকে তাদের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে পাঁচে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

পশ্চিমবঙ্গকে এবার হারাতে পারবে বাংলাদেশ?

ইন্দো-বাংলাদেশ বাংলা গেমস নিয়ে কলকাতার ক্রীড়াঙ্গনে কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি প্রথমবার। ২০০৭ সালের সেই সফরটা বাংলাদেশ দল মনে রেখেছে মূলত রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে পাওয়া বিপুল অভ্যর্থনা। পরের বছর পশ্চিমবঙ্গ দলকেও একইভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশে। এটাই এই গেমসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক।
২০০৯ সালে গেমসটা হয়নি। ২৫-২৭ মার্চ তৃতীয় গেমসে খেলতে আজ রাতে সড়কপথে কলকাতায় রওনা হচ্ছে বাংলাদেশ দল। দলটি প্রায় ২০০ সদস্যের, খেলোয়াড় ১৪০ জন (পুরুষ ৮৭, মহিলা ৫৩)।
খেলা মোট দশটি। নতুন যুক্ত হয়েছে তিনটি খেলা: ব্যাডমিন্টন (পুরুষ-মহিলা), জুডো (পু.), জিমন্যাস্টিকস (পু.-ম.)। বাদ পড়েছে ভলিবল ও ক্রিকেট। থাকছে অ্যাথলেটিকস (পু.-ম.), সাঁতার (পু.-ম.), ফুটবল (ম.), খো খো (পু.), কাবাডি (পু.), বাস্কেটবল (পু.), শ্যুটিং (পু.-ম.)। ২৪ মার্চ তিন দিনের গেমস উদ্বোধন নেতাজি ইনডোরে। শ্যুটিং আসানসোলে হবে। বাকি সব খেলা কলকাতায়।
এই গেমসের সঙ্গে ‘সম্প্রীতি’, ‘বন্ধুত্ব’ শব্দগুলোই বেশি মানায়। তার পরও এটি যেহেতু প্রতিযোগিতাও তাই সোনা-রুপার হিসাবও চলে আসে। জয়-পরাজয় ধরলে এখন পর্যন্ত ফল ১-১। প্রথমবার ৮ খেলায় পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে ৩৮ সোনা। বাংলাদেশ ৩০ সোনা। দ্বিতীয়বার নিজ মাঠে শুধু মান বাঁচেনি বাংলাদেশের, ৯ খেলায় পশ্চিমবঙ্গকে বড় ব্যবধানে হারানোর ‘তৃপ্তি’ও আছে। বাংলাদেশ সেবার পেয়েছে ৪৫ সোনা, পশ্চিমবঙ্গ ২৪ সোনা। এবার ৬১ সোনা, পশ্চিমবঙ্গকে তাদের মাঠে এবার হারিয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ দল?
বাংলাদেশ দল কিন্তু হারিয়ে আসার স্বপ্ন নিয়েই যাচ্ছে। কেননা, এটা দেশের মর্যাদার প্রশ্নও। কাল বিওএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বললেন, ‘৫০ ভাগের ওপরে সোনা আশা করি আমরা।’ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, নতুন ঢোকা বাস্কেটবল-জুডো ভালো করতে পারে। আগের দুবারের চ্যাম্পিয়ন খো খোতে এবারও ভালো করার আশা। কাবাডিতেও তা-ই। তবে পশ্চিম বাংলা ব্যাডমিন্টনে খুব ভালো হওয়ায় এই খেলায় কী হবে বলা যাচ্ছে না। জিমন্যাস্টিকসেও তেমন জোরালো আশা নেই।
২১ সদস্যের শ্যুটিং দলে আছেন দেশের সেরা সব শ্যুটারই। এখানে ভালো না করতে পারাটা তাঁদের জন্য হবে বিব্রতকর। এসএ গেমসে ভারতীয় দলে মাত্র দুই-তিনজন সাঁতারু থাকায় বাংলাদেশ দল ধরে নিচ্ছে, সাঁতারে ভালো ফল হবে। তবে অ্যাথলেটিকসের দলের অবস্থা ভালো নয়। এসএ গেমসে বাজে ফল করা অ্যাথলেটদের জন্য এই সফর পরীক্ষাই বটে।
গত মাসে বাংলাদেশে দক্ষিণ এশীয় গেমস হয়েছে। মাসখানেক পাওয়া গেছে ইন্দো-বাংলার প্রস্তুতির জন্য। যদিও সময়টা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি নানা কারণে। তার পরও বিওএর কোচিং কমিটির প্রধান মিজানুর রহমানের (মানু) আশাবাদ, ‘কিছু ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও আশা করি গেমসে আমাদের দল ভালো করবে।’
গেমসটা এবার শুধু বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গের নয়। বিওএর মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ জানালেন, ‘এটা সব বাংলাভাষীর গেমস। আসাম, ত্রিপুরার বাংলাভাষীরাও পশ্চিমবঙ্গ দলের হয়ে এবার খেলছে।’

অন্য রকম এক দ্বিতীয় দিন by আরিফুল ইসলাম

টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষেই ফলাফল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া শুধু বোকামিই নয়, রীতিমতো মূর্খামি। এমন নয় যে দ্বিতীয় দিন শেষে কোনো ম্যাচের ফলাফল কখনো বোঝা যায়নি, তবে হাজার দুয়েক টেস্টের ইতিহাসে সংখ্যাটা হাতে গুনে বলা যাবে। কিন্তু দলের নাম যদি হয় বাংলাদেশ আর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, তাহলে কিন্তু হিসাব ভিন্ন। দ্বিতীয় দিনেই ফলাফল বুঝে যাওয়ার সাফল্যের হার এখানে শতকরা একশ। মানে টেস্টে বাংলাদেশ যতবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে, দ্বিতীয় দিন শেষেই পরিষ্কার হয়ে গেছে ম্যাচের চিত্র, আরও নির্দিষ্ট করে বললে বাংলাদেশের হার।
কালকের দিনটিই শুধু ছিল ব্যতিক্রম। ম্যাচের গতিবিধি তো বোঝা যাচ্ছেই না, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রায় সারা দিনই মাঠে কর্তৃত্ব করেছে বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাসটা এখনো পাকাপোক্ত হয়নি বলেই হয়তো ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শফিউল ইসলামের ‘আমরাই এগিয়ে’ কথাটায় জোর শোনা গেল না। কেভিন পিটারসেন কিন্তু দিনশেষে পরিষ্কারভাবেই এগিয়ে রেখেছেন বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত কী হবে বলা মুশকিল, তবে এবার অন্তত দ্বিতীয় দিন শেষে তো বলা যাচ্ছে, এগিয়ে বাংলাদেশ!
একটু পেছন ফিরে দেখা যাক কেমন ছিল বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের আগের পাঁচটি টেস্টের দ্বিতীয় দিন। ১৫ মিনিটের বৃষ্টি খেয়ে নিয়েছিল দু দেশের দ্বৈরথের প্রথম দিনের প্রায় পুরোটাই। ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথম দিনে ১৫ ওভার খেলে ২ উইকেটে ২৪ রান করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনে অলআউট ২০৩ রানে। ৩১ ওভার ব্যাট করতে পেরেছিল ইংল্যান্ড, দুই ওপেনার মার্কাস ট্রেসকোথিক ও মাইকেল ভন অবিচ্ছিন্ন থেকে তুলেছিলেন ১১১ রান। পরে অবশ্য বোলাররা লড়াইয়ে ফিরিয়েছিলেন বাংলাদেশকে, তবে শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানেই।
চট্টগ্রামে পরের টেস্টে আবারও নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। প্রথম দিনে ৯০ ওভার ব্যাটিং করেও ইংল্যান্ড ৪ উইকেট হারিয়ে তুলতে পেরেছিল মাত্র ২৩৭ রান। পরদিন অলআউট ৩২৬ রানেই। কিন্তু বোলারদের সাফল্য উজ্জীবিত করতে পারেনি ব্যাটসম্যানদের। ৫ জন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ, দ্বিতীয় দিনে ৩৮ ওভার ব্যাটিং করে আউট এর চারজনই, স্কোরবোর্ডে রান তখন মাত্র ৯৩। ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে খালেদ মাহমুদের দল হেরেছিল ৩২৯ রানে।
২০০৫ সালের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজের কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। দুটো টেস্টেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ছিল অদ্ভুত মিল। দু জায়গাতেই প্রথম দিন শেষেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ভবিষ্যত্, আর দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ তো একেবারে হারের কিনারায়। লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ৯০, এমন তো কতবারই হয়েছে। কিন্তু এ যে দ্বিতীয় ইনিংস! বাংলাদেশকে ১০৮ রানে মুড়ে দিয়ে প্রথম দিনেই ১৮৮ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ওই ৫ উইকেটে ৯০ ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে ৫২৮ রানে ইনিংস ঘোষণার পর! তৃতীয় দিন লাঞ্চের আগে হার ইনিংস ও ২৬১ রানে। লর্ডস দুঃস্বপ্ন হুবহু ফিরে এল চেস্টার-লি-স্ট্রিটেও। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২৯৭ এবং এবারও দ্বিতীয় ইনিংসে। প্রথম দিনে বাংলাদেশ ১০৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড প্রথম দিন শেষ করেছিল ৩ উইকেটে ২৬৯ রান তুলে। দ্বিতীয় দিনে ওই ৩ উইকেটে ৪৪৭ রানে ইংল্যান্ডের ইনিংস ঘোষণা, দিন শেষে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ইনিংস পরাজয় এড়াতেই বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪৬ রান। শেষ পর্যন্ত হার ইনিংস ও ২৭ রানে।
এই সিরিজের চট্টগ্রামের স্মৃতি এখনো তরতাজা। ৫ উইকেটে ৫৯৯ রানে ইংল্যান্ড ইনিংস ঘোষণার পর দ্বিতীয় দিনশেষে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের সমান উইকেট হারিয়ে ১৫৪। মিরপুরের দ্বিতীয় দিনটিই শুধু অন্য রকম। ভালো অবস্থা থেকে লেজেগোবরে করে ফেলার ‘দুঃসাধ্য’ কাজটা এর আগে বাংলাদেশ অনেকবারই করেছে, এবারও যে করবে না, সে নিশ্চয়তাও নেই। বাংলাদেশ এবার একটা আশা জাগিয়েছে, যদি তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনেও বলা যায় ‘বাংলাদেশ এগিয়ে’!