Showing posts with label আইন ও আদালত. Show all posts
Showing posts with label আইন ও আদালত. Show all posts

Friday, November 21, 2025

ঢাকার আদালতে ভারতের সখিনা বেগম, জামিন হয়নি শুনে অঝোরে কাঁদলেন মেয়ে

পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত সংলগ্ন হাজতখানার সামনে তখন বেশ কিছু মানুষের ভিড়। সকলেই হাজতে থাকা আসামিদের স্বজন। অনেকে গেটের ফাঁক দিয়ে উকিঝুঁকি মেরে ভেতরে দেখার চেষ্টা করছিলেন।

গত ১০ই নভেম্বর সোমবার দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানার সামনে এমন চিত্রই দেখা যায়।

এর মধ্যেই দুপুরের দিকে হঠাৎ গেট খুলে যায়। দেখা যায় কয়েকজন নারী পুলিশ একজন বৃদ্ধাকে ঘিরে ধরে নিয়ে আসছেন। সামনে-পেছনে আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও দেখা গেলো।
এই বৃদ্ধাই সখিনা বেগম যাকে কয়েকমাস আগে ভারতের আসাম থেকে ধরে নিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় ভারতের সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিএএসএফ।
হাজতখানার গেট দিয়ে যখন সখিনা বেগমকে বের করা হচ্ছিল, তখন তিনি ছিলেন একেবারেই চুপচাপ। দুজন নারী পুলিশ সদস্য তার হাত ধরে ছিলেন। বৃদ্ধার দৃষ্টিতে অসহায়ত্ব। ফ্যালফ্যাল করে কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক তাকালেন।

বাইরে বের হতেই মানুষের হইচই আর টিভি ক্যামেরা দেখে কিছুটা যেন হতবিহ্বলও মনে হলো তাকে।
কেমন আছেন এমন প্রশ্নে দুর্বল ক্ষীণ কণ্ঠে অসমীয়া ভাষায় জানালেন, “অসুস্থ হয়েছিলাম, এখন ঠিক আছি।”
বাকি কথা আর শোনা গেলো না।
ততক্ষণে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে আড়াল করে ফেলেছেন।
সখিনা বেগমকে এদিন আদালতে আনা হয়েছিলো জামিন শুনানির জন্য। দিনটা ছিল ১০ই নভেম্বর সোমবার।

পুলিশের হাতে গ্রেফতার, অতঃপর কারাজীবন
সখিনা বেগমকে সাড়ে পাঁচ মাস আগে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে আটক করেছিল ভারতের আসাম পুলিশ। তখন তাকে আসামের নলবাড়ি জেলার বরকুড়া গ্রামের বাসা থেকে পুলিশ নিয়ে যায়। এরপর তাকে হস্তান্তর করা হয় দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে। কিন্তু পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে সখিনা বেগমকে বাংলাদেশের ঢাকার মিরপুরে খুঁজে পায় বিবিসি। আটষট্টি বছরের এই বৃদ্ধা তখন জানিয়েছিলেন, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাকে সীমান্তের এপারে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে।
বৃদ্ধার দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী ভারতে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী আসামে গিয়ে সখিনা বেগমের পরিবারকে খুঁজে পান।
ভিডিওকলে সখিনা বেগমের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা কথা বললে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
কিন্তু সখিনা বেগমের ঘটনা পুলিশ জানতে পারলে তারা বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। সখিনা বেগমকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয় মিরপুরের ভাষানটেক থানা পুলিশ।
যেহেতু পাসপোর্ট কিংবা বৈধভাবে প্রবেশের কোনো নথিপত্র ছিল না সখিনা বেগমের কাছে, তাই বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা দেয় পুলিশ। পরদিন আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। শুরু হয় সখিনা বেগমের জেল জীবন।
সখিনা বেগমকে ঢাকায় মিরপুরের রাস্তায় অসহায় অবস্থায় পাওয়ার পর আশ্রয় দিয়েছিল মিরপুরের একটি পরিবার। সেই পরিবারের সদস্য ক্লান্তি আক্তার বিবিসি বাংলাকে বলেন, পুলিশ যখন ঐ বৃদ্ধাকে নিয়ে যায় তখন বৃদ্ধা তাদের ছাড়তে চাচ্ছিলেন না।
তিনি বলেন, ‘উনি (সখিনা বেগম) কোনোভাবেই যেতে চান নাই। উনি ভয় পাচ্ছিলেন। আমাদের জড়িয়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করেছেন। পরে অনেক বুঝিয়ে তাকে পুলিশ সঙ্গে নিতে পেরেছিল।’

জামিন শুনানির কী হলো?
গত সোমবার যখন ভারতীয় ঐ বৃদ্ধাকে আদালতে তোলা হয় জামিন আবেদন শুনানির জন্য তখন আদালতে এসেছিলেন ক্লান্তি আক্তার। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঐ বৃদ্ধার সঙ্গে কথাও বলতে পারেন।
‘উনাকে দেখে একটু অসুস্থ মনে হচ্ছে। মাঝখানে তার মুখে ঘা হয়ে যায়, জ্বরও ছিল। সেগুলো এখন ভালো হয়েছে। তবে একটু দুর্বল মনে হলো। উনি আশা করে আছেন যে আজকে উনার জামিন হবে। আমরাও অনেক আশা নিয়ে এসেছি,’ বলেন ক্লান্তি আক্তার।
দুপুর একটার পরে মহানগর হাকিম আদালতে শুনানি শুরু হয়। প্রায় বিশ মিনিট শুনানি শেষে সখিনা বেগমকে আবারো নিয়ে যাওয়া হয় হাজতখানায়।
তবে শুনানি শেষ হলেও আদালত তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি।
সখিনা বেগমের আইনজীবী রহমাতুল্যাহ সিদ্দিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আদালত সব শুনেছেন। কিছু প্রশ্নও করেছেন। আমরা জামিন চেয়েছি। আর যদি জামিন সম্ভব নাও হয়, সেক্ষেত্রে তাকে যেন সরকারি কোনো সেফ হাউজে রাখার ব্যবস্থা করা হয়, যেহেতু তিনি বয়স্ক, বৃদ্ধা নারী- এটা আদালতে বলেছি। আদালত পরে আদেশ দেবেন।”
শেষপর্যন্ত ঘণ্টাদুয়েক পরে আদেশ হয়। আদেশে জামিন নাকচের কথা বলা হয় বলে জানান, সখিনা বেগমের পক্ষের আরেক আইনজীবী শরীফুল ইসলাম।
“উনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা আনা হয়েছে যে, উনি ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়া অবস্থান করার যে অপরাধ এটা জামিনযোগ্য,” বলেন সখিনা বেগমের আইনজীবী শরীফুল ইসলাম।
কিন্তু তাহলে জামিন হলো না কেন এমন প্রশ্নে আদালতের যুক্তি তুলে ধরেন মি. ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত এখানে যুক্তি দিয়েছেন যে, যদি আসামিকে জামিন দেয়া হয়, আসামি তো ভারত থেকে এসেছে। সে যদি ভারতে চলে যায় তাহলে তার মামলা চলছে, এটার ট্রায়াল প্রসিডিউর কী হবে?’

জামিন হয়নি শুনে ভারতে অঝোরে কাঁদলেন সখিনা বেগমের মেয়ে
ঢাকায় যখন শুনানি চলছিলো, তখন এর ফল জানার আশায় ভারতের আসামে নিজ বাড়িতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন সখিনা বেগমের মেয়ে রাসিয়া বেগম।
একইসঙ্গে মাকে দেখার আকুতি থেকে ‘আবদার’ করেছিলেন, মায়ের একখানা ছবি বা ভিডিও পাঠানোর জন্য। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তাকে আদালতের ভিডিও পাঠানো হয়। যে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিলো সখিনা বেগমকে পুলিশ সদস্যরা কোর্টে নিয়ে যাচ্ছেন।
বৃদ্ধা মা’কে ভিনদেশের পুলিশের হাতে আটক অবস্থার দৃশ্য দেখে রাসিয়া বেগমের কান্না যেন থামছিলো না।
ভিডিওতে কেমন আছেন এমন প্রশ্নে সখিনা বেগম যখন বলেছিলেন, ‘অসুস্থ হয়েছিলাম, এখন ঠিক আছি।” তার মেয়ে রাসিয়া বেগম এই বাক্যটি শুনে চোখ মুছতে থাকেন।
‘ওহ... মা অসুস্থ হয়েছিলো? যাক এখন ঠিক আছে জেনে নিশ্চিন্ত হলাম।’
বললেন, মায়ের মৃত্যুর আগের এই শেষ সময়টায় তার সেবা করার সুযোগ চান।
‘এই বৃদ্ধ বয়সে যদি উনার সেবাযত্ন করতে না পারি, তাহলে এই কষ্ট কোথায় রাখবো? আমরা দুই সরকারকে অনুরোধ করছি, তারা যেন যেভাবেই হোক, আমার মাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। আমি হাতজোড় করে দুই সরকারকে অনুরোধ করছি, তার এই শেষ বয়সে যেন তার সেবাযত্ন করতে পারি। মা ছাড়া তো আমাদের আর কেউ নেই।’
হাত জোড় করে বলছিলেন রাসিয়া বেগম। তবে তিনি এটাও জানান, ভারতে মামলা চালানো বা বাংলাদেশে মামলার খরচ করার মতো সামর্থ্য তার নেই।
তবে সখিনা বেগমকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে আসামের বড়োল্যান্ড স্বশাসিত এলাকার সংখ্যলঘু মুসলিম ছাত্রদের একটি সংগঠন অল বিটিসি মাইনরিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এ বিষয়ে ভারতের আদালতে মামলা করবেন তারা।
সংগঠনিটর প্রেসিডেন্ট টাইসন হোসেইন বিবিসিকে জানিয়েছেন মামলার সকল প্রস্তুতি তারা নিয়েছেন।
‘সখিনা বেগমের বিষয়টি, কী করে তাকে আসামে তার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতি আমরা নিয়ে ফেলেছি। আমরা তার পরিবারকে দিয়ে গুয়াহাটি হাইকোর্টে হিবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করাবো। সেখানে যদি আশানুরূপ রায় না পাই, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। সখিনা বেগমের মামলা নিয়ে দরকার পড়লে আমরা আন্তর্জাতিক আদালত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত যাব।’ বলেন টাইসন হোসেইন।
এদিকে বাংলাদেশের আইনজীবীও জানিয়েছেন, সখিনা বেগমের জামিন আবেদন নিয়ে এখন তারা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে নতুন করে আবেদন করবেন।
ততদিনে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন সখিনা বেগমকেও থাকতে হচ্ছে ভিনদেশের কারাগারে অচেনা পরিবেশে।
এমনকি জামিন যদি হয়েও যায় তারপরও তিনি কবে দেশে কবে ফিরতে পারবেন সেটাও নিশ্চিত নয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।

mzamin

Tuesday, March 4, 2025

শাপলা চত্বর ও গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে প্রেস সচিবের স্ট্যাটাস

শাপলা চত্বর ও গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এ সময় তিনি ২০১৩ সালকে আওয়ামী লীগের জন্য ‘ইয়ার জিরো’ বা বিপ্লবী পরিবর্তনের সূচনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (০৩ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন।

শফিকুল আলম বলেন, ২০১৩ সাল ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (বিএল)-এর জন্য বিপ্লবী পরিবর্তনের সূচনা। এই বছরে দুটি বড় গণহত্যা, সপ্তাহব্যাপী আওয়ামী চেতনার বিক্ষোভ, সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং এক ডজনেরও বেশি বিরোধী কর্মীর একযোগে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটে। বছরের শেষ নাগাদ, আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছিল যে তারা তাদের শাসন আরও এক দশক ধরে বাড়ানোর জন্য একটি নিখুঁত ফর্মুলা খুঁজে পেয়েছে।

এ সময়ে শাহবাগ বিক্ষোভটি (গণজাগরণ মঞ্চ) প্রতিটি সংবাদপত্র এবং টিভি স্টেশন থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল। হাজার হাজার আওয়ামী পন্থি বিক্ষোভকারীরা একটি বিশাল জনতার মতো আচরণ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে একটি রায় পরিবর্তন করতে এবং একজন বিরোধী ইসলামী নেতাকে ফাঁসি দিতে বাধ্য করে। এটি সম্ভবত প্রথমবার ছিল যখন দেশের শীর্ষ আদালতকে জনতার চাপে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমও আগুনে ঘি ঢেলেছিল। শীর্ষ সম্পাদকরা শাহবাগের জনতার আচরণ এবং কিভাবে বিচার বিভাগ রক্তপিপাসু জনতার দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছিল তা নিয়ে পুরোপুরি ঠিক মনে করেছিলেন। দেশের বিচার বিভাগ সেদিন মারা গিয়েছিল।

শাপলা চত্বর এবং মাওলানা সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যাগুলো পুরোপুরি স্ক্রিপ্টেড ছিল। হেফাজত এবং জামায়াত সমর্থকদের গণহত্যায় মানবাধিকার পূজারী পশ্চিমা বিশ্ব থেকে খুব কম প্রতিবাদ দেখা গিয়েছিল। আওয়ামী সমর্থকরা এগুলোকে দেশের অগ্রগতি এবং ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়ের দিকে যাত্রা করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছিল। তারা মাওলানা সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের নিয়ে উপহাস করেছিল। ফেসবুক মাওলানা সাঈদীর সমর্থকদের নিয়ে উপহাসমূলক মন্তব্যে ভরে গিয়েছিল। শাপলা চত্বরে গণহত্যার পর আওয়ামী সমর্থকরা হেফাজত সমর্থকদের কাপড়ে লাল রঙ মেখে রাখার অভিযোগ করে উপহাস করেছিল।

এই দুটি গণহত্যা আওয়ামী লীগকে বিশ্ব সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ‘সঠিক’ দিকে নিয়ে গিয়েছিল। কয়েক বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকার আওয়ামী লীগকে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ধর্মনিরপেক্ষ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অবস্থান দিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের আলোচনাকে কাজে লাগিয়েছিল। এই দুটি গণহত্যা, সন্দেহভাজন ইসলামী চরমপন্থিদের দ্বারা নাস্তিক ব্লগারদের হত্যা এবং জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের যুদ্ধাপরাধের বিচার তাদের অবস্থান পশ্চিমা বিশ্বে সুদৃঢ় করেছিল। আওয়ামী লীগকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ত্রাণকর্তা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বেশিরভাগ পর্যবেক্ষক, পশ্চিমা বিশ্বসহ, ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছিল। শুধুমাত্র হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছিল।

দেশে যখন সাধারণ নির্বাচনের সময় আসে তার এক মাস আগেই এইচটি ইমাম স্পষ্টভাবে কারচুপির পরিকল্পনা সাজিয়ে রাখেন। আওয়ামী প্রার্থীরা আইনের চতুর ব্যাখ্যা করে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে জয়লাভ করেন। নিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রপ্রতিযোগীদের বাদ দেওয়া হবে এবং শুধুমাত্র আওয়ামী প্রার্থীরা চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য যোগ্য হবে বলে নিশ্চিত করে। খালেদা জিয়ার চলাফেরা সীমাবদ্ধ করা হয়। এক ডজনেরও বেশি বিএনপি কর্মী একদিনে নিখোঁজ হন এবং তাদের আর কখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রভাবশালী সংবাদপত্র এবং টিভি স্টেশনগুলো মূলত নীরব ছিল। সমাজ এবং বিরোধী দলের র্যাঙ্ক এবং ফাইলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার আগেই নির্বাচন হেরে গিয়েছিল।

পরের দশকে আওয়ামী লীগকে এই ফর্মুলা প্রায়ই প্রয়োগ করতে হয়নি। ২০১৩ সালে এটি যে ভয় সৃষ্টি করেছিল তা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল। প্রতিবার বিএনপি ফিরে আসার চেষ্টা করলে হিংস্রতা নৃশংসভাবে ব্যবহার করা হত। আ.লীগকে শাপলা চত্বরে এবং সাঈদীর রায়ের পরের মতো নৃশংস হতে হয়নি। হেফাজত ২০২১ সালের মার্চ মাসে নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় আরেকটি বড় বিক্ষোভের চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু আ.লীগ নেতৃত্ব ২০১৩ সালের মতো একই ফর্মুলা প্রয়োগ করেছিল এবং প্রায় ২০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। প্রথমবারের মতো এই ভয়ের জাদু ভেঙে গিয়েছিল ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাবের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর। পরের কয়েক বছর বিএনপি পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শাপলা চত্বরের মতো কঠোর পদক্ষেপের ভয়ে তাদের পুনর্গঠন ব্যাহত হয়েছিল। ২০১৩ সালের এই জাদু শেষ পর্যন্ত মধ্য জুলাইয়ে শেষ হয়েছিল যখন সাহসী একটি নতুন প্রজন্ম আ.লীগের কসাইদের মুখোমুখি হয়েছিল। বাকিটা ইতিহাস। 
গণজাগরণ মঞ্চ ও শাপলা চত্বরে জমায়েত এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। ছবি : সংগৃহীত

Saturday, November 16, 2024

পাসপোর্ট জটিলতা কাটছেনা গুম ফেরত বিএনপি নেতা সাদাতের

পাসপোর্ট নিয়ে জটিলতা কাটছেনা গুম ফেরত বিএনপির নেতা সৈয়দ সাদাত আহমেদের। তিনি বলেন, গুমের শিকার হয়ে আয়নাঘরে ছিলেন ১৩০ দিন। আয়নাঘর থেকে মুক্তি পাওয়ার ৭ বছর হয়ে গেছে। এরপরও কোনো দেশে যেতে হলে তাকে কোর্ট থেকে ট্রাভেল পাস নিতে হয়। কেন বা কারা পাসপোর্টে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা জানেন না তিনি। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদাত আহমেদ বলেন, এভিয়েশন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে প্রায়ই তাকে দেশের বাইরে যেতে হয়। যখন ইমেগ্রেশনে যান তখন তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়। ঘন্টার পর ঘন্টা তাকে বসিয়ে রাখা হয়। নানা ধরণের প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে কোর্টের আদেশ কপি জাস্টিফাই করে বিদেশে যাওয়ার পারমিশন দেয়া হয়। আবার যখন কাজ শেষ করে দেশে ফিরতে হয় তখনও একই রকম হয়রানির সম্মুখিন হতে হয় তাকে।
পাসপোর্ট ব্লকের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বিশেষ করে এসবি ও ডিবিতে গিয়ে কোনো লাভ হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে আয়নাঘরের মাস্টারমাইন্ড সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে অভিযুক্ত করেন সাদাত। বলেন, জিয়াউল আহসানই এই কাজ করেছেন।

mzamin

Tuesday, September 24, 2024

দল নিষিদ্ধের প্রস্তাব সংশোধনীর খসড়ায়

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুম ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা যুক্ত করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ করে, তাহলে সে দলকে ১০ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটিসহ আইনে পাঁচটি ধারা-উপধারা সংযোজন এবং তিনটি ধারা সংশোধনের খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩’ সংশোধনবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় খসড়া সংশোধনী প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এ সভা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে সংশোধনীর খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘যেসব নেতা বা যেসব ব্যক্তি এখানে (ট্রাইব্যুনালে) বিচারের সম্মুখীন হবে, তাঁদের যাঁরা সমর্থক আছেন, তাঁদেরও যেন মনে হয় সত্যি উনি (ওই নেতা) অন্যায় করেছেন বা অন্যায় করেননি, তাঁরাও যেন কনভিন্সড (সন্তুষ্ট) থাকেন। আমরা এই সমাজে আর ক্ষত চাই না। বিভাজন চাই না। বিচারের মধ্য দিয়ে একটা রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) প্রসেসের (প্রক্রিয়া) শুরু করতে চাই। সবাই যেন একমত হয় বিচারটা যেটি হয়েছে, বিচারে যে শাস্তি পেয়েছে, যদি পায়—এটা অবশ্যই তার প্রাপ্য ছিল।’

কোনো প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসা নয়, সুবিচার নিশ্চিত করতে চান, উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, সবাই দেখেছে, কী ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একটা দেশের বৃদ্ধ প্রজন্ম একটা তরুণ প্রজন্মকে উন্মত্তভাবে খুনের নেশায় নেমেছিল। বুকের ভেতর যত কষ্ট থাক, যত হতাশা থাক, যত ক্রন্দন থাক, ক্ষোভ থাকুক, বিচার অবশ্যই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

কনসালটেশনের (আলোচনা) মাধ্যমে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সামনে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি চূড়ান্ত নয়। আরও আলাপ–আলোচনা চলবে। তারপর আইনটাকে পরিপূর্ণ করা হবে।

আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটি সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা সম্মিলিতভাবে হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো (জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড) চায়, বিচার যেন নিশ্চিত হয়।

১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে এ পর্যন্ত কয়েকবার সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে এ আইনে প্রথমবার সংশোধনী এনে আইনটি মূলত হালনাগাদ করা হয়। এর পর ২০১২ সালে দ্বিতীয় সংশোধনী এনে আসামির অনুপস্থিতিতে তাঁকে পলাতক ঘোষণা করে বিচার এবং এক ট্রাইব্যুনাল থেকে আরেক ট্রাইব্যুনালে (প্রথমে ট্রাইব্যুনাল ছিল একটি, পরে দুটি করা হয়) মামলা স্থানান্তরের বিধান যুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালে সর্বশেষ সংশোধনী আনা হয়। এর ফলে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের সমান সুযোগের বিধান যুক্ত হয়।

খসড়া প্রস্তাবে যা আছে

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান বৈশ্বিক পটভূমিতে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার মানদণ্ডের আলোকে আইনটি সংশোধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আইনের খসড়া প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান। এতে বলা হয়, এই সংশোধনীর মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুম, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, যৌন দাসত্ব, জোর করে যৌনকর্ম, জোর করে গর্ভধারণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের আইনে ছিল না। এ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ করে, তাহলে সে দলকে ১০ বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে আরও বলা হয়, বিচার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ট্রাইব্যুনাল চাইলে শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন। অভিযুক্ত চাইলে তাঁর পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন বলেও খসড়া প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংশোধনীর যে প্রস্তাবগুলো আনা হয়েছে, আসামিদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি খসড়ায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) আন্তর্জাতিক আইনজীবী আনতে চাইলে আনতে পারবেন, সেই বিধানও থাকা দরকার।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে এই আইন এমনভাবে সংশোধন করা হোক, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগী এবং আসামি—দুই পক্ষই যাতে মনে করে ন্যায়বিচার হয়েছে।

সভায় নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, চার ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। একটা হলো মানবতাবিরোধী অপরাধ। আরেকটি হলো ফৌজদারি অপরাধ। যারা গুম করেছে, খুন করেছে বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছে। তৃতীয় হলো আর্থিক দুর্নীতি, লুটপাট, ব্যাংক লুট ও বিদেশে টাকা পাচার। আরেকটি হলো নির্বাচনব্যবস্থা–সংক্রান্ত অপরাধ। যারা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে।

সভায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়েছে কবে? খুঁজে পাবেন সেই নুরেমবার্গের আমলে। ২০২৪–এ এসে আশা করি নুরেমবার্গ প্রয়োগ করতে যাব না।…এখানে শুধু কয়েকজন তৃপ্তি পাবে, যারা অন্য রাজনীতি করে।’

মতবিনিয়ময় সভায় আরও বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, অধিকারকর্মী ডেভিড বার্গম্যান, সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ, আইনজীবী শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান প্রমুখ।

‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩’ সংশোধনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় আলোচকেরা। আজ সোমবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে
‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩’ সংশোধনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় আলোচকেরা। আজ সোমবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

Wednesday, August 21, 2024

শেখ হাসিনা কেন বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পাবেন না by ব্যারিস্টার নাজির আহমদ

বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা সংক্রান্ত আইন পরিচালিত হয় প্রধানত: জাতিসংঘের একটি রিফিউজি বিষয়ক সনদ দ্বারা। আর সেই সনদটি হলো Convention relating to the Status of Refugees 1951. এই সনদ হচ্ছে আশ্রয় প্রার্থনা করা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইন। বৃটেন এই সনদের দস্তখতি দেশ (signatory country)। আর সে হিসেবে বৃটেনের এসাইলাম সম্পর্কিত আইন ঐ সনদ থেকে অনুসৃত। আন্তর্জাতিক এই সনদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে (In harmony with) বৃটেনে অভ্যন্তরীণভাবে কিছু আইন করা হয়েছে। তাছাড়া উচ্চ আদালতে বিভিন্ন মামলায় দেয়া রায় থেকে কেইস ল' তথা precedent (নজীর) ডেভেলাপ করেছে। এগুলোই হলো বৃটেনে আশ্রয় প্রার্থনা সংক্রান্ত আইনের মূল ভিত্তি।

মোট পাঁচটি কারণে কোনো ব্যক্তি তার নিজ দেশে নিরাপদ না থাকলে দেশ থেকে বের হয়ে অন্য নিরাপদ দেশে আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেন। পাঁচটি কারণের মধ্যে একটি হলো Seeking asylum based on political opinion (রাজনৈতিক মতামতের ভিত্তিতে আশ্রয় চাওয়া) বা সহজ কথায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা।

বাংলাদেশে সফল গণ-অভ্যূত্থানের পর ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে তার চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় হবে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পরিষ্কারভাবেই জানিয়েছেন যে, শেখ হাসিনার জন্য ভারত শেষ গন্তব্য নয়।

তাহলে কোথায় যাবেন শেখ হাসিনা? অনেকে জল্পনা-কল্পনা করছেন যে, তিনি হয়তো বৃটেনে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করবেন। এই জল্পনা-কল্পনার কারণ হলো শেখ হাসিনার ছোটবোন ও বোনের মেয়ে বৃটেন থাকেন।

আসলে কি শেখ হাসিনা বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করবেন? করতে পারবেন? করলে পাবেন? অনেকে না বুঝেই বলেন যে, শেখ হাসিনা হয়তো এসাইলাম ভিসা নিয়ে বৃটেনে আসতে পারেন। এসাইলাম ভিসা নিয়ে বৃটেনে আসার কোনো নিয়ম বা আইন নেই। অথবা এসাইলাম ক্লেইম করার জন্য আগাম জানিয়ে কোনো ভিসায় আসারও আইন নেই।

জাতিসংঘের সনদ ও বৃটেনের অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থী তার নিজ দেশ থেকে সরাসরি বৃটেনে এসে বৃটেনের পোর্ট বা এয়ারপোর্টে তাৎক্ষণিকভাবে অথবা বৃটেনে ঢুকে প্রথম সুযোগেই (at earliest opportunity) রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ত্যাগ করে ভারতে পলায়ন করেছেন। ভারত তার জন্য একটি নিরাপদ দেশ। সেখান থেকে বৃটেনে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক সনদ, বৃটেনের অভ্যন্তরীণ আইন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বলা যায় যে, চারটি কারণে শেখ হাসিনা বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পাবেন না বা আবেদন করলেও তা মঞ্জুর হবার সম্ভাবনা নেই। চলুন কারণগুলো দেখি:

প্রথমত: জাতিসংঘের রিফিউজি সনদ ও বৃটেনের আইন অনুযায়ী কোনো আশ্রয়প্রার্থী (asylum seeker) তার নিজের দেশ থেকে বের হয়েই যে নিরাপদ দেশে যাবেন তাকে সেখানেই আশ্রয় চাইতে হবে। এটাকে বলে Safe Third Country (নিরাপদ তৃতীয় দেশ)। ঐ নিরাপদ তৃতীয় দেশ হয়ে বা ঐ দেশ থেকে এসে বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে তা নাকচ করে ঐ নিরাপদ তৃতীয় দেশে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। শেখ হাসিনার জন্য Safe Third Country হচ্ছে ভারত এবং তিনি সে দেশে গিয়েই উঠেছেন বা আশ্রয় নিয়েছেন। সুতরাং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার ভারতেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিৎ। ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা না করে বৃটেনে এসে করতে চাইলে আইন অনুযায়ী তা নাকচ করা হবে অথবা ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হবে অথবা ভারত থেকে বৃটেনে ঢুকতে বা আবেদন করতেই দেয়া হবে না। Safe Third Country - এ ব্যাপারে বৃটেনে settled law আছে। এ ব্যাপারে Section 80B and 80C of the Nationality, Immigration and Asylum Act 2002 and Paragraph 327F of the Immigration Rules -এ বিস্তারিতভাবে বলা আছে। এ ছাড়া Safe Third Country সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে উচ্চ আদালতের বহু নজির (Precedent) ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: উপরের আইন বা নিয়মের বাইরে গিয়েও যদি বৃটিশ সরকার কোনো কিছু করতে চায় তাতেও সমস্যা আছে। এখানে national interest (জাতীয় স্বার্থ) বা public interest (জনস্বার্থ) সম্পর্কিত বিষয় আছে যা বৃটিশ সরকারকে তাদের বিবেচনায় নিতে হবে। শেখ হাসিনাকে বৃটেনে আশ্রয় দিলে তাকে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা (security and protection) দিতে বৃটিশ সরকারকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে। বৃটেনে অর্ধ মিলিয়ন থেকে এক মিলিয়ন বাংলাদেশির বসবাস। গত ১৫-১৬ বছরের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভিকটিম হচ্ছেন বৃটেন প্রবাসী অনেকেই। গত দেড় দশকে বিশেষ করে ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বৃটেন প্রবাসী অনেকের আত্মীয় স্বজন নিহত, আহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত দেড় যুগে দেখা গেছে বাংলাদেশের বাইরে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক আন্দোলন ও প্রতিবাদ হয়েছে লন্ডনে। শেখ হাসিনা স্বয়ং লন্ডনে আসলে কেবল বিএনপির মারমুখী প্রতিবাদে অস্বস্তি অনুভব করেছেন একাধিকবার। পুলিশকে অনেক সময় এ সব মিটিং-মিছিল নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয়।

এমতাবস্থায় শেখ হাসিনাকে বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিবাদের মাত্রা আরও বাড়বে নি:সন্দেহে। সম্প্রতি ছাত্র বিক্ষোভে বৃটেনে বসবাসরত অধিকাংশ বাংলাদেশি সমর্থন যেমন দিয়েছেন, তেমনি শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতেও তারা সোচ্চার হয়েছেন। সুতরাং এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, বৃটেনে শেখ হাসিনার উপস্থিতি পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত আলতাব আলী পার্ক, সেন্ট্রাল লন্ডনের হাইড পার্ক কর্নার, বৃটিশ পার্লামেন্ট স্কোয়ার ও ডাউনিং স্ট্রিটে (বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) প্রতিবাদের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়বে। অবনতি হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। পুলিশকে অনেক রিসোর্স ডাইভার্ট করতে হবে এগুলো সামাল দিতে। সব মিলিয়ে প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হবে বৃটিশ সরকারকে। আর এ পাউন্ডগুলো আসবে জনগণের পকেট (public purse) থেকে। ফলে সৃষ্টি হবে গণ-হৈচৈ (public outcry)। তাই জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বৃটিশ সরকার এসাইলাম আইনের বাইরে গিয়ে শেখ হাসিনার জন্য কিছু করবে বলে মনে হয় না।

তৃতীয়ত: ছাত্র বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী যে শক্তি প্রয়োগ করেছে সেটির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল পশ্চিমা বিশ্ব, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মারাত্মক গণহত্যার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শিশু হত্যার নাম, তালিকা ও বিবরণসহ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে ICC (International Criminal Court - আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) - এ গণহত্যার অভিযোগ গিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যদি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিষয়গুলো তদন্ত করে এবং কোনো বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় সেটি এক ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করবে। এমন ব্যক্তিকে বৃটেন আশ্রয় দিলে বৃটেনকে আন্তর্জাতিকভাবে মারাত্মক বিব্রতকর (embarrassing) অবস্থায় পড়তে হবে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সদ্য প্রকাশিত খবরে জানা যায় যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার তথা ৫৯ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা আত্মসাৎ করেন। এটি মারাত্মক ধরনের একটি অভিযোগ। কপালে চোখ উঠা এমন বিশাল দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে বৃটিশ সরকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে মারাত্মক বিব্রতকর অবস্থায় পড়ার ঝুঁকি নেবে বলে মনে হয় না।

চতুর্থত: ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে, শেখ হাসিনা অতীতে কদাচিৎ পশ্চিমাদের পছন্দের তালিকায় যেতে পেরেছেন, কিন্তু কখনও তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে উঠতে পারেননি। এমতাবস্থায় শেখ হাসিনার প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে বলে মনে হয় না। তার ঘনিষ্ঠতা ছিল বরং পশ্চিমাদের মিত্র নয় (ক্ষেত্র বিশেষ প্রধান শত্রু) এমন দেশগুলোর সাথে, যেমন রাশিয়া। তার দীর্ঘ শাসন আমলে সকল কূটনৈতিক নিয়ম (diplomatic norms) ভঙ্গ করে অত্যন্ত বিশ্রী ও কঠোর ভাষায় পশ্চিমাদের বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু ও পরীক্ষিত মিত্র দেশ হচ্ছে বৃটেন। আর সেই বৃটেন আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার বলয়ের বাইরে গিয়ে তাকে আশ্রয় দিবে বলে মনে হয় না। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার ভিসা বাতিল করেছে।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে যে, অতীতে বিভিন্ন সময় পতিত স্বৈরাচাররা রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছে ইউরোপ কিংবা আমেরিকায়। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো ব্যতিক্রম হবে কেন? তবে ঐসব ঘটনা ঘটেছে অনেক আগে স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War) ঠিক পরবর্তী অবস্থায়। আধুনিক প্রযুক্তি ঐ সময় ছিল না। স্বৈরাচাররা অনেক কুকর্ম করে লুকিয়ে পার পেয়েছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি যা হয়েছে সেটি সবাই দেখেছে। যদিও হাসিনা রেজিম ইন্টারনেট ব্লাকআইট করত: বিশ্ব থেকে বাংলাদেশকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে অনেক কিছু লুকাবার চেষ্টা করেছে। এতে হিতে বিপরীত (counter productive) হয়েছে। অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রচুর ভিডিও-ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে। বিশ-ত্রিশ বছর আগে বিষয়গুলো এতো দ্রুত বিশ্বে ছড়াতো না। যে পরিমাণ রক্তপাত হয়েছে এবং শেখ হাসিনার প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি (perception) আন্তর্জাতিকভাবে তৈরি হয়েছে সেটি অবজ্ঞা করে পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে বৃটেন তাকে আশ্রয় দেবে বলে মনে হয় না।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখলাম শেখ হাসিনা বেলারুশে যেতে পারেন। মুলত: শেখ হাসিনার মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে বিশ্বের যেসব দেশ মাথা ঘামায় না অথবা যে সব দেশ তাদের নিজ দেশের বাইরের ব্যাপার নিয়ে তেমন আগ্রহী নয় সে সব দেশ হয়তো তাকে আশ্রয় দিতে পারে, করতে পারে সাদরে গ্রহণ। সবকিছুর বিবেচনায়, ভারত বা ভারতের বাইরে বেলারুশ, রাশিয়া, বুলগেরিয়া বা এ ধরনের দেশই হবে সম্ভবত: শেখ হাসিনার নিরাপদ ঠিকানা।

নাজির আহমদ: বিশিষ্ট আইনজীবী, রাষ্ট্রচিন্তক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার।

Email: ahmedlaw2002@yahoo.co.uk

Sunday, January 14, 2018

‘সাজানো’ ভ্রাম্যমাণ আদালত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব

ফৌজদারি মামলায় পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে নির্বাহী হাকিমসহ চারজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লোহাগাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দুজন এসআইকে ২৮ জানুয়ারি আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন। সাজানো ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন ওই রিটটি করেন। এই বেলালকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছিল। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আদেশের বিষয়টি জানিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত ১৩ অক্টোবর রাত নয়টায় বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন একটি ফৌজদারি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের এক জব্দ তালিকায় দেখা যায় ১৩ অক্টোবর রাত নয়টায় তাঁর কাছ থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর ইউএনও পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৪ অক্টোবর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় বেলালকে আট মাসের জেল দেন। সাজানো ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ায় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। রুলে ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা সাজানো বলে কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং যাঁরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিট আবেদনকারীকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিব, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পাঁচ বিবাদীর কাছে। ওই পাঁচজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

Monday, December 11, 2017

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণের ফুলকোর্ট সভা কাল

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণের ফুলকোর্ট সভা আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়। সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ১২ ডিসেম্বর রোজ মঙ্গলবার বেলা ৪ ঘটিকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মহোদয়গণের অংশগ্রহণে অত্র কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

Friday, February 5, 2016

খালেদা-তারেকের ড্যান্ডি ডায়িং মামলায় বিচার শুরু

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের ড্যান্ডি ডায়িংয়ের ৪৫ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি মামলার বিচার শুরু  হয়েছে। আগামী ১  মার্চ মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ধার্য করেছেন আদালত।   মঙ্গলবার ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতের  বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস বিবাদীদের বিরুদ্বে ইস্যু গঠন করে আগামী ১লা মাচ মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহনের জন্য ধার্য করেছেন আদালত।   সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম  ইস্যু গঠন বিষয়ে শুনানি করেন বিবাদী পক্ষে শুনানী করেন ব্যারিষ্টার ফখরুল ইসলাম। ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মামলার বিষয়বস্তু হলে ব্যাংকের ম্যানেজার মধ্যস্থতা করতে পারেন। কিন্তু ৫ কোটি টাকার উর্ধ্বে হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান/ম্যানেজিং ডিরেক্টর লেবেলের কাউকে মধ্যস্থতায় থাকতে হবে।   এ মামলায় ব্যাংকের পক্ষে তেমন কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়টিসহ অন্যান্য বিষয়ে মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। আরাফাত রহমান কোকো এ মামলার বিবাদী ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ায় খেলাপি ঋণ দেওয়ানি কর্মবিধি আইনের ২২নং আদেশের নিয়ম ৪ অনুসারে তার সম্পদের ওয়ারিশরা বিবাদীভূক্ত হবেন। তাই তার ওয়ারিশ হিসেবে খালেদা জিয়া, স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে বিবাদীভূক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছিল গত বছর ১৫ জুলাই  তাদেরকেও উক্ত মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।   মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন ড্যান্ডি ডায়িং লি., প্রয়াত সাঈদ এস্কাদরের ছেলে শামস এস্কান্দার ও সাফিন এস্কান্দার, মেয়ে সুমাইয়া এস্কান্দার, স্ত্রী বেগম নাসরিন আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মামুনের স্ত্রী শাহীনা ইয়াসমিন, কাজী গালিব আহমেদ, মিসেস শামসুন নাহার ও মাসুদ হাসান। আরাফাত রহমান কোক মারা যাওয়ায় তার স্ত্রী শমিলা রহমান তার দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে এ মামলায় বিবাদীভুক্ত করা হয়। মোজাফ্ফর আহমেদ মারা যাওয়ায় তার স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে মাসুদ হাসানকে এ মামলায় বিবাদীভুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হলেও বিবাদীরা কোনো ঋণ প্রদান করেননি বিধায় ২০১৪ সালে ২ অক্টোবর ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫ টাকা ঋণ খেলাপীর অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের করেন সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় শাখার সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিবাদীরা ড্যান্ডি ডাইংয়ের পক্ষে ১৯৯৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সোনালী ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করেন। ওই বছরের ৯ মে সোনালী ব্যাংক বিবাদীদের আবেদনকৃত ঋণ মঞ্জুর করেন। ২০০১ সালের ১৬ অক্টোবর বিবাদীদের আবেদনক্রমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সুদ মওকুফ করেন। এরপর ঋণ পুনঃ তফসিলিকরণও করা হয়। কিন্তু বিবাদীরা ঋণ প্রদান না করে বরাবর কালক্ষেপন করতে থাকেন

আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার রায় ১১ ফেব্রুয়ারি

২০০৪ সালে সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি রায় দেবেন হাইকোর্ট। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার রায়ের এ দিন ঠিক করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ৬ জানুয়ারি থেকে আসামিদের আপিলের ওপর তিন কার্যদিবসে পেপারবুক উপস্থাপন শেষে ১৪ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী একেএম ফয়েজ, মোহাম্মদ আলী এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাসনা বেগম।। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম; সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির।   মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। এতে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিন জন নিহত হন; আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ আহত হন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। একই দিন সিলেট কোতোয়ালী থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে পুলিশ।   এরপরে তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৭ জুন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, তার ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, শরীফ শাহেদুল আলম ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই বছরের ৩১ জুলাই ওই চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।   পরে ২০০৮ সালের ১১ মার্চ মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম এবং দেলোয়ার হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি দুই আসামি হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ও মুফতি মঈন উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এই পাঁচ আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।   বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে যায়। এ ছাড়া আসামিরা আলাদা আপিল করেন। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয়, বুধবার তা শেষ হলো

প্রাথমিকে ‘পুল’ থেকে শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য পুলভুক্ত প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। এর ফলে উচ্চ আদালতে আসা প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থীর নিয়োগের পথ খুলল বলে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন। ২০১১ সালের বিজ্ঞপ্তির আওতায় নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের করা ৭২টি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর বেঞ্চ বুধবার এ রায় ঘোষণা করে। পুলভুক্ত এই আবেদনকারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে নতুন করে কাউকে নিয়োগ না দিতেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম, শেখ মোহাম্মদ মুরশেদ, ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া ও খায়রুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি খান। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ৪ অগাস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ২৭ হাজার ৭২০ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্য থেকে ১২ হাজার ৭০১ জনকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১৫ হাজার ১৯ জনকে রাখা হয় পুলভুক্ত হিসেবে।     শিক্ষক পুল গঠনের জন্য ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমে পরিপত্র জারি করে এবং দুই বছর পর ‘শিক্ষক পুল’ নীতিমালা করে। ওই নীতিমালায় ছয় মাসের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রার্থীদের সইও নেয়া হয়। কিন্তু উত্তীর্ণ প্রার্থীদের স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য আবারও বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ৫২ জন আবেদনকারী ওই বছর রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর হাই কোর্ট রুল দেয় এবং নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে। পরে একই বিষয়ে আরও ৭১টি রিট আবেদন ও রুল হয়। এসব রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার রায় দিল আদালত। রিট আবেদনকারীদের  আইনজীবী ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বলেন, “হাই কোর্ট ২০১১ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পুলভুক্তদের মধ্যে রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। তাদের নিয়োগের আগে নতুন করে অন্যদের নিয়োগ না দিতে বলেছে।” অন্যদিকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি খান বলেন, তারা আপিল বিভাগে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন

শিশু আবদুল্লাহ হত্যা মামলায় চারজনের রিমান্ড

কেরানীগঞ্জে শিশু আবদুল্লাহ (১১) হত্যা মামলায় চার আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নাজমুন নাহার নিপু এ আদেশ দেন। রিমান্ড দেয়া আসামিরা হলেন খুরশীদ আলম, আল আমিন, মিটু আখতার ও মেহেদী হাসান। তাদের মধ্যে মেহেদী হাসানের সাত দিন এবং বাকি তিনজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল আলম এই চার আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেককে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, এ হত্যাকাণ্ড নৃশংস। এ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কেরানীগঞ্জ উপজেলার মুগারচর গ্রামের স্কুলছাত্র মো. আবদুল্লাহ নিখোঁজ ছিল গত শুক্রবার থেকে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা আবদুল্লাহদের বাড়ির মাত্র ১০০ গজ পশ্চিমের এক বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। ওই বাড়িটি আবদুল্লাহর মায়ের বড় মামা মোতাহার হোসেনের। ওই দোতলা বাড়ির একটি কক্ষ থেকে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরা আবদুল্লাহর গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মোতাহার হোসেন পলাতক রয়েছেন। আর গত সোমবার রাতে মোতাহারের ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মাঠে খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় পশ্চিম মুগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ। আর সে বাড়ি ফেরেনি। ওই দিনই সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে খুদে বার্তা পাঠিয়ে আবদুল্লাহর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ বাবদ সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। নিখোঁজের ঘটনায় ওই দিন রাতে শিশুটির নানা মারফত আলী কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন

কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ: হাইকোর্ট

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচনে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই আসনে উপনির্বাচন হতে আর কোনো বাধা নেই বলে রুলের নিষ্পত্তি করেছেন আদালত।    বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। গত রোববার এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। হজ নিয়ে মন্তব্যের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত এবং মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পর টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে লতিফ সিদ্দিকী পদত্যাগ করেন। এতে ওই শূন্য আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে কাদের সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ঋণখেলাপির অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে তা ১৮ অক্টোবর খারিজ হয়। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে ২০ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন কাদের সিদ্দিকী। কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। একই সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। ২ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ আদেশে বলেন, কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রুল ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। ওই সময় পর্যন্ত টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে