Tuesday, June 11, 2019

চীনা হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে উত্তাল রাজপথ, অনড় হংকং-এর শাসক

চীনে বন্দি  প্রত্যর্পণের সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত আইনের বিরুদ্ধে রবিবার হংকংয়ের রাজপথে নেমেছেন লক্ষাধিক মানুষ। তবে বিক্ষোভকারীদের কোনও তোয়াক্কা না করে সোমবার অঞ্চলটির শাসক বেইজিংপন্থী হিসেবে পরিচিত ক্যারি ল্যাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রস্তাবিত ওই আইনে কোনও কাটছাঁট করা হবে না।
হংকংয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ হলেও ১২শ’ জনের একটি বিশেষ কমিটি নেতা বাছাইয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। অঞ্চলটির নেতা বা প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের দাবি, হংকং যে বিশেষ স্বাধীনতা উপভোগ করে, নতুন আইনের ফলে তার কোনও ক্ষতি হবে না। তবে সেখানকার গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা বলছেন, আইনটির মাধ্যমে অঞ্চলটির রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে বেইজিং। এর প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাজপথের বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্যারি ল্যাম দাবি করেন, এই আইনের প্রয়োজন রয়েছে এবং এতে মানবাধিকারের রক্ষাকবচগুলো যুক্ত করা হয়েছে।
তার দাবি, প্রস্তাবিত এই আইনটি বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তোলা হয়নি। বিবেকের তাড়নায় এবং হংকংয়ের প্রতি অঙ্গীকার থেকেই এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনটিতে মূলত চীন ও তাইওয়ানে বন্দি বহিঃসমর্পণের কথা বলা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন সিভিল হিউম্যান রাইটস ফ্রন্ট জানিয়েছে, একই ইস্যুতে গত এপ্রিলে আয়োজিত কর্মসূচিতে এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তবে রবিবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা আরও বেশি।
হংকংয়ে যেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে, সেখানে অবস্থানরত জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ'র প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রবিবারের বিক্ষোভেও আগের বারের মতো বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন। তাদের হাতে থাকা লাল কার্ডবোর্ডে চীনা এবং ইংরেজি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘চীনে বহিঃসমর্পণ নয়।’

বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর ঘণ্টাখানেক পরও অনেক মানুষকে এতে যোগ দিতে দেখা গেছে। ভিড় কমার কোন ইঙ্গিত নেই, বরং ক্রমশ যেন তা বেড়েছে। প্রতিবাদকারীরা মনে করছেন, বন্দি প্রত্যাবর্তনের এই আইন পাস হলে তা হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে।
হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল অবধি অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি। দেড়শ’ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকংকে চীনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত বছরের এক ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত এই বহিঃসমর্পণ বিলটি তৈরি করা হয়। তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিয়োগ ওঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দি বিনিময়ের কোনও চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না।
প্রস্তাবিত বিলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সন্দেহভাজন অপরাধীকে ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করা হয়েছে। কিন্তু চীন এই আইনের সুবিধা নিয়ে হংকং-এর বাসিন্দাদের ওপর খবরদারি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি সেখানে এটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দারা ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি তাইওয়ানও জানিয়েছে যে, সন্দেহভাজন সেই খুনের মামলার আসামিকে ফেরত নিতে চায় না তারা। কেননা এটি এমন এক উদাহরণ তৈরি করবে যা চীন ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারে।
বেইজিংয়ের দুর্বল আইন এবং মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কোনও বন্দিকে ফেরত পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন না তাইওয়ান এবং হংকংয়ের সাধারণ মানুষ।
হংকংয়ে পুরো পরিবার সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া হেরা পুন বলেন, ‘আমি মনে করি এটা এখন পর্যন্ত প্রস্তাবিত সবচেয়ে বাজে আইন। আমরা সবাই বুঝতে পারছি যে হংকংয়ের বিচার ব্যবস্থায় নাড়া দিচ্ছে চীন।’
পুন মনে করেন, চীন সরকার কারও ওপর অসন্তুষ্ট হলেই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে যা সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ নয়। রবিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরও অনেকে তার মতো একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
ক্রিস্টোফার নামের এক প্রতিবাদকারী বলেন, ‘আমি তিন সন্তানের পিতা এবং আমিও প্রস্তাবিত আইনের বিরুদ্ধে আমার মতামত জানাতে চাই। আমি মনে করি নতুন এই আইন হংকংয়ের মৌলিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।’
হংকং সরকার অবশ্য আইনটি নিয়ে জনগণের উদ্বেগের কথা বিবেচনায় এনে কোন কোন ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বন্দি বহিঃসমর্পণ করা যাবে তা কমিয়ে আনার কথা বলছে। তবে প্রতিবাদকারীরা সরকারের এমন কথায় সন্তুষ্ট নয়। বরং অতীতে এ ধরনের প্রতিবাদে কাজ হওয়ায় এবারও আইনটি বাতিল হবে বলে আশাবাদী তারা।

বিজেপির লাশের রাজনীতিতে পুলিশের বাধা by অমর সাহা

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষে নিহত দুই বিজেপি কর্মীর লাশ কলকাতায় রাজ্য দপ্তরে এনে সম্মান জানাতে চেয়েছিল দলটি। বিজেপির সেই উদ্যোগকে সফল হতে দেয়নি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গতকাল রোববার জেলার সন্দেশখালীর ন্যাজাটের হাটগাছি থেকে দুজনের লাশ কলকাতায় আনার পথে তিনবার আটকে দেয় পুলিশ।
লাশ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হতে পারে, সেই আশঙ্কায় পুলিশ এই লাশ আসতে বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত এই লাশ ফিরিয়ে নেওয়া হয় মৃত ব্যক্তিদের গ্রামের বাড়িতে। সেখানেই দাহ করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গে এই লাশের রাজনীতি বিজেপি শিখেছে তৃণমূলের কাছ থেকেই। বামফ্রন্ট শাসনের শেষের দিকে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে বামফ্রন্টবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ওই আন্দোলনের সময় তৃণমূলের কোনো নেতা-কর্মী-সমর্থক মারা গেলে তাঁদের লাশ কলকাতায় এনে প্রতিবাদ মিছিল করত তৃণমূল। কলকাতার বাইরে কোনো তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হলেও সেই কর্মীর লাশ কলকাতায় এনে মিছিল করেছেন মমতা। বামফ্রন্টবিরোধী এই আন্দোলনে সফলও হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা।
ওই পথ ধরে গতকাল বিকেলে বিজেপির দুই কর্মীর লাশ নিয়ে পথে নামে দলটি। লক্ষ্য ছিল কলকাতায় রাজ্য দপ্তরে এনে তাঁদের সম্মান জানানোর। এরপর একটি শোক মিছিল বের করে কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে দাহ করার। কিন্তু সেই উদ্যোগকে আর সফল হতে দেয়নি পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। কলকাতায় আনার পথে বারবার আটকে দেওয়া হয়। উত্তর ২৪ পরগনার মালঞ্চ বাজার এবং মিনাখায় পুলিশ আটকে দেয়। পুলিশের আশঙ্কা, এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। পরে ওই কর্মীদের লাশ সন্দেশখালীতে তাঁদের গ্রামের বাড়িতেই দাহ করা হয়।
গত শনিবার দলীয় পতাকা সরানোকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালীর ন্যাজাটের হাটগাছিতে বিজেপি-তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে বিজেপির তিন কর্মী ও তৃণমূলের একজন কর্মী নিহত হন। বিজেপির নিহত তিন কর্মী হলেন সুকান্ত মণ্ডল, প্রদীপ মণ্ডল ও তপন মণ্ডল। নিহত তৃণমূল কর্মী হলেন কাইয়ুম মোল্লা।
সুকান্ত মণ্ডল ও প্রদীপ মণ্ডলের লাশ গতকাল বিকেলে কলকাতায় আনার উদ্যোগ নেয় বিজেপি। তাদের লক্ষ্য ছিল ওই দুই কর্মীর লাশ কলকাতার রাজ্য দপ্তরে এনে সম্মান প্রদর্শন করার। তবে দুবার পুলিশের বাধায় বিজেপি কর্মীরা মিনাখায় সড়কের ওপর প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তাঁরা রাস্তাতেই মরদেহ সৎকারের উদ্যোগ নেন। এ সময় পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিজেপি কর্মীরা পিছু হটেন। তাঁরা বিবাদে না গিয়ে লাশ নিয়ে সন্দেশখালীতে ফিরে যান।
এ সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমায় ১২ ঘণ্টার বন্‌ধ্‌ পালনের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে ‘কালা দিবস’ পালনের ঘোষণা দেন তিনি। এ ছাড়া ১২ জুন কলকাতায় এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে ‘মহাধিক্কার’ মিছিল। ওই মিছিল কলকাতার লালবাজারে পুলিশ হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত যাবে।
বসিরহাটে তৃণমূলের হামলার প্রতিবাদে গতকাল রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, শ্রীরামপুর, ডানকুনি, করিমপুর, তেহট্ট, কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ, কল্যাণী, হরিণঘাটাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ করেন বিজেপির কর্মীরা। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায়তেও প্রতিবাদ মিছিল করে বিজেপি। উত্তর কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ এবং দক্ষিণ কলকাতার হাজরাতে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। এ সময় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ এই দুই এলাকা থেকে ৭৯ বিজেপি কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করে।
বসিরহাটে গত শনিবারের ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে আহত বিজেপি কর্মীদের দেখতে যায় বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ ঘোষ। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন সিং, জগন্নাথ সরকার, শান্তনু ঠাকুর, কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা, বিধায়ক দুলাল বর এবং বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু প্রমুখ। তবে এখন পর্যন্ত তৃণমূল সাংসদ নুসরাত জাহান ওই এলাকা পরিদর্শন করেননি। তিনি কেবল একটি বিবৃতি দিয়ে প্রার্থনা করেছেন, এলাকার মানুষ যেন শান্তিতে থাকেন।
নিহত দুই বিজেপি কর্মীর লাশ বসিরহাট হাসপাতাল থেকে বের করার সময় পুলিশ পুরো হাসপাতাল চত্বর ঘিরে রাখে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, জাকির নায়েককে ফেরত দেবে না মালয়েশিয়া

প্রখ্যাত ইসলামপ্রচারক জাকির নায়েককে ভারতের হাতে প্রত্যর্পণ না করার অধিকার রয়েছে মালয়েশিয়ার, জানিয়ে দিলেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তার দাবি, ভারতে সুবিচার পাবেন বলে মনে করেন না জাকির। তার আশঙ্কাকে সমর্থন জানিয়েছে মালয়েশিয়া।
সম্প্রতি 'দ্য স্টার' পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে মহাথির জানিয়েছেন, এর আগে মালয়েশিয়ার অনুরোধ সত্ত্বেও সাবেক পুলিশ কম্যান্ডো সিরুল আজহার উমরকে প্রত্যর্পণ করেনি অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গোলিয়ার এক নাগরিককে হত্যার দায়ে সিরুলকে প্রাণদণ্ড দিয়েছিল মালয়েশিয়ার আদালত।
এর আগেও অবশ্য জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠাতে অস্বীকার করেছে মালয়েশিয়া। ২০১৬ সালে গুলশানের হামলার পর থেকে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে ভারত। তিনি একপর্যায়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। খবরে প্রকাশ, তাকে স্থায়ী নাহরিকত্ব প্রদান করেছে মহাথিরের সরকার।
কূটনৈতিক সূত্রে একাধিক বার প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা সত্ত্বেও নায়েককে ফেরত পাঠায়নি মালয়েশিয়া।

মালিতে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ১০০

সেন্ট্রাল মালির একটি গ্রামে যেখানে ডোগন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে সেখানে এক হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছে।
হামলার পর ঐ গ্রামে এখনো পর্যন্ত মাত্র ৫০ জন মানুষ রক্ষা পেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এখনো ১৯ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
আরো সহিংসতা ঠেকাতে ঐ অঞ্চলে বিমান সহায়তা পাঠিয়েছে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী।
কর্তৃপক্ষ বলছে, মোবতি এলাকায় সানগা শহরের কাছে সোবামে দা গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঐ গ্রামটিতে মাত্র ৩০০ জনের মতো বাসিন্দা ছিল।
তারা বলছে ৯৫ জনের লাশ পাওয়া গেছে। যাদের অনেক শরীর পোড়া ছিল।
এখনো লাশ খোঁজে কাজ চলছে।
মালিতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর কিছু হয়েছে গোষ্ঠীগত বিরোধের কারণে, কিছু ছিল উগ্রবাদী গ্রুপের হামলা।
ডোগন শিকারি এবং সেমি নোমাডিক ফুলানি হার্ডার মধ্যে সংঘর্ষ সেখানে নৈমিত্তিক ঘটনা। মালির সরকার বলছে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে এবং এখনো ১৯ জন নিখোঁজ আছে।
আমাদো টোগো নামের এক ব্যক্তি যিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন "৫০ জনের মতো ভারী অস্ত্রসজ্জিত ব্যক্তি মোটরবাইক এবং পিকআপে করে আসে।
তারা প্রথমে পুরো গ্রামটি ঘিরে ফেলে পরে হামলা করে। এবং যে পালানোর চেষ্টা করে তাকেই তারা হত্যা করে"। এই ব্যক্তি আরো বলেছেন " কেউ রক্ষা পায়নি। নারী, শিশু, বৃদ্ধ-কেউ না"।
এদিকে কোনো গ্রুপ এখনো পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সূত্র : বিবিসি
ডোগন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে এমন একটি গ্রাম

যৌথ সংবাদ সম্মেলন: জারিফের এসব প্রশ্নের জবাব কী?

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাইকো মাস (বামে) ও জাওয়াদ জারিফ
তেহরান সফররত জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বহুসংখ্যক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরিকার সঙ্গে ইরান কী নিয়ে আলোচনা করবে? বরং ইরান চায় পরমাণু সমঝোতা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করুক ইউরোপ।
আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছে তা উল্লেখ করে জারিফ আরো বলেন, পরমাণু সমঝোতা সম্পর্কে আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, তাদের সঙ্গে আলোচনার আর কিছু নেই। তিনি বলেন, “দুই বছর লাগাতার আলোচনা এবং ১২ বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর এই সমঝোতা সই হয়েছিল। তারা কী সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন করেছে যে, এখন তারা অন্য ইস্যু নিয়ে আলোচনা আশা করে?”
জাওয়াদ জারিফ বলেন, “আমাদেরকে তাদের দেখাতে হবে যে, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় লাভ আছে তারপর তারা আলোচনার কথা বলুক।” মধ্যপ্রাচ্যে ইরান অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে বলে আমেরিকা যে অভিযোগ তুলেছে তাও নাকচ করেন জারিফ। তিনি বলেন, “কে এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে? আমরা কী সাদ্দাম হোসেইনকে অস্ত্র দিয়েছিলাম? আমরা কী আল-কায়েদাকে সমর্থন দিয়েছি? আমরা কী লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে কারাবন্দী করেছিলাম?
তিনি আরো প্রশ্ন করেন, “আমরা কী প্রতিদিন ইয়েমেনে বোমা হামলা চালাচ্ছি? আমরা কী দায়েশ ও আন-নুসরা ফ্রন্টকে সমর্থন দিয়েছি? আমরা কী এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অস্ত্র দিয়েছি নাকি তারা সৌদি আরব থেকে আমেরিকার অস্ত্র পেয়েছে?”
সংবাদ সম্মেলনে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেন, ইউরোপের তিন দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন পরমাণু সমঝোতা রক্ষার পরিকল্পনা নিয়েছে তবে এ থেকে অলৌকিকভাবে কোনো ফলাফল বের করে আনা সম্ভব নয়। তিনি আরো জানান, বার্লিন, লন্ডন ও প্যারিস ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ইনসটেক্স চালুর চেষ্টা করছে যাতে ইরান লাভবান হতে পারে। আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন সে ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।

খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ঐক্য থাকবে, আন্দোলন চলবে: রব

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের মুক্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ঐক্য অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেছেন, হাজার হাজার নেতাকর্মী  কারাগারে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। আমাদের ঘুম নেই। তাদেরকে মুক্ত ও গণতন্ত্রের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম ও ঐক্য অব্যাহত থাকবে। গতকাল বিকালে রাজধানীর উত্তরায় জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় একটি জরুরি বৈঠকে বসেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬ টায় সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি। রব বলেন, আমরা জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলাম তা এখন পর্যন্ত পূরণ করতে পারিনি। আপনারা নিশ্চিত থাকেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ আছে।
আমাদের ঐক্য আরো শক্তিশালী করে জনগণের দাবি আদায় করা হবে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার চায়। স্বৈরাশাসন থেকে জনগণ মুক্তি চায়। এই জন্য আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তুলেছিলাম। ইনশাআল্লাহ ঐক্যফ্রন্ট আরো শক্তিশালী হবে। সামনে আরো এগিয়ে যাবে। জেএসডি সভাপতি বলেন, নির্বাচনে ভোট ডাকাতির পর আমরা এভাবে বসতে পারিনি। আজকেও আমাদের বসা অসম্পূর্ণ। ড. কামাল হোসেন অসুস্থ থাকার কারণে আমাদের আলোচনা স্থগিত করেছি। উনার উপস্থিতিতে বৈঠক করে আমরা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবো।
তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রবর্তন, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য নির্বাচনে গিয়েছিলাম। এসব বিষয়ে আমরা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ। এগুলো আমরা এখনো আদায় করতে পারিনি। আদায় না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। ঐক্য অব্যহত থাকবে। প্রবীণ এই নেতা গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জনগণের অংশ, আমাদের অংশ। আপনারা সবসময় পজেটিভ নিউজ করবেন। এমন কোন নিউজ করবেন না, যাতে জাতির ক্ষতি হয়। জাতীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের শপথ নেয়ার বিষয়ে যে সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছিল সেগুলোর সমাধান করার জন্যই আলোচনা। এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আমি দীর্ঘক্ষণ ধরে আলোচনা করেছি। আজ সব দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। ড. কামাল হোসেন অসুস্থ থাকায় এই বিষয়টা সুরাহা হয়নি। সেই জন্য কিছু সময় আমাকে এবং আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কোনোদিন আল্টিমেটাম দেইনি। আমি আমার প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলাম। একই সঙ্গে আমি বিএনপিকে প্রশ্ন করার জন্য এই আলোচনায় বসিনি। ঐক্যফ্রন্টকে প্রশ্ন করার জন্য আলোচনায় বসেছিলাম।
জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ, এড. সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সহ সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন আল মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক, কেন্দ্রীয় নেতা প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা মমিনুল ইসলাম ও ডা. জাহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইলিশ ধরার সময় কখন? by শফিকুল ইসলাম

বছরের অধিকাংশ সময়ই নদীতে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকে। ডিম ছাড়ার সময় ২২দিন, জাটকা বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ২৪০ দিন এবং সাগরে মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে ৬৫দিন—এই তিন দফায় মোট ৩২৮ দিন সাগর বা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকে সরকারের। এছাড়া, দেশে ইালিশের অভায়শ্রমগুলোতে ইলিশ মাছ ধরার ক্ষেত্রে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের ভিজিএফ সহায়তা দিলেও কিছু জেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বছরের বেশিরভাগ সময়ই সাগর ও নদীতে মাছ ধরে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় প্রতি বছর অক্টোবর মাসের  (আশ্বিনের দ্বিতীয় পক্ষ ও কার্তিকের প্রথম পক্ষে) ২২ দিন দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য মন্ত্রণালয়। আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমা ইলিশের ডিম ছাড়ার সময়। পরিণত ইলিশ এই সময় ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে মিঠাপানির নদীতে আসে। ডিম ছাড়ার সময়টিকে নির্বিঘ্ন করতেই সরকার ওই সময় সব ধরনের মাছ শিকারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তারিখের হেরফের হয় বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র। আগে এই সময় ৭দিন থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা ১৪দিন এবং বর্তমানে ২২ দিন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় জাটকা (২৫ সেন্টিমিটার লম্বা ইলিশ) নামে পরিচিত, সেই জাটকা ইলিশকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে বছরের একটি বড় সময় নদীতে বা সাগরে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞ জারি করে সরকার। এটি করা হয় ১ নভেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই ৮ মাস বা ২৪০ দিন। এই আট মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই আট মাস (২৪০দিন) জাটকা ধরা নিষেধ থাকলেও বড় সাইজের ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এই সময় জাটকা সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচিও গ্রহণ করে মৎস্য মন্ত্রণালয় বা মৎস্য অধিদফতর। জাটকা সংরক্ষণে নদীতে পরিচালিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বছরের তৃতীয় দফায় সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে প্রতিবছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত এই ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে বন্ধ থাকবে সব ধরনের মাছ ধরা। বাণিজ্যিক ট্রলারের পাশাপাশি সব ধরনের নৌযানের ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। বছরের মে মাসের শেষের দিক থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রকারের মাছসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণির প্রজননকাল। এ কারণেই সাগরের প্রাণিজ সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি সরকারের মৎস্য ভাণ্ডারের পরিমাণ বাড়াতে  ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য মন্ত্রণালয়। এই তালিকায় সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো ক্রাস্টেশান আহরণেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ইলিশ ধরা জেলেরাও বাদ যান না। যদিও ইলিশ ধরা জালের ফাঁস দুই ইঞ্চি। যদিও এই জালে সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো  ছোট প্রাণী আটকা পড়ে না।
এর বাইরেও ইলিশের প্রজনন মৌসুমের কারণে দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।  দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ৩০ এপ্রিল দিনগত রাত ১২টা থেকে নদীতে ইলিশ মাছ ধরা শুরু করেন জেলেরা। ইলিশের জন্য আগে মোট ৫টি অভয়াশ্রম থাকলেও সম্প্রতি বরিশালের আশপাশের ৮২ কিলোমিটার নদীপথকে নিয়ে নতুন অভায়শ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এই ৬টি অভয়াশ্রম হচ্ছে—পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার, চর ইলিশার মদনপুর থেকে ভোলার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনার ১০০ কিলোমিটার, শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মার ২০ কিলোমিটার এবং বরিশাল সদরের কালাবদর নদীর হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জের বামনীরচর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং হিজলার মেঘনার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার। এছাড়া আড়িয়াল খাঁ, নয়নভাংগুলী ও কীর্তনখোলা নদীর আংশিক অভয়াশ্রমটির অন্তর্ভুক্ত।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিনবছর মা-ইলিশ সংরক্ষণের সময় সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের ভিজিএফসহায়তা বাবদ ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭০৯টি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে মোট ৭৯১৪ মেট্রিকটন চাল দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯’ পালনের সময় সরকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৪টি জেলে পরিবারের জন্য ৪০ কেজি হারে মোট ৩৯ হাজার ৭৮৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এ সময়ে জাটকার সম্প্রসারিত নদীতীরবর্তী ১৩টি জেলার ৫১ উপজেলায় মোট ৪৭ হাজার ৪৮০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। বর্তমানে দেশে ইলিশের উৎপাদন পাঁচ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি হচ্ছে। তাই ইলিশ রক্ষায় সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার  সবার সহযোগিতা চায়। বছরের যে সময়টিতে জেলেরা ইলিশ ধরতে নদীতে যেতে পারেন না, সেই সময়টিতে সরকার জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে নানা ধরনের সহযোগিতা করে আসছে। ইতোমধ্যেই দেশের সব জেলায় জেলেদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কার্ড দেওয়া হয়েছে।’ কার্ডধারী সব জেলে সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

জুবায়েরপন্থীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ সাদপন্থী রহিমের মৃত্যু

তাবলিগ জামাতের সাদপন্থী ও জুবায়েরপন্থীর দ্বন্দ্বের জেরে জুবায়েরপন্থীদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ আব্দুর রহিম (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন। সোমবার (১০ জুন) দুপুর তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত আব্দুর রহিমের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি এলাকায়। মৃত্যুর একদিন আগে রবিবার (৯ জুন) কিশোরগঞ্জের একজন ম্যাজিস্ট্রেট বার্ন ইউনিটে উপস্থিত হয়ে আব্দুর রহিমের জবানবন্দি নিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি কয়েকজনের নাম বলেছেন।
নিহতের বড় ভাই আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘গত ১৯ মে রাতে তারাবি নামাজের পর মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে পেছন থেকে জুবায়েরপন্থী লোকজন রহিমের গায়ে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ভর্তি করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘আগে সবাই সাদ অনুসারী ছিল। পরে জুবায়ের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ হওয়ার পর থেকে জুবায়ের অনুসারীরা আমাদের সব কর্মকাণ্ডকে বাধা দিয়ে আসছে। আর এ কারণেই আজ তাকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।’
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানার পূর্বপাড়ার মো. মোস্তফার ছেলে আব্দুর রহিম। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তিনি এক সন্তানের বাবা। আব্দুর রহিম তার মামা মামুনুর রশিদের ব্যবসা (কসমেটিকস ও ব্যাগ) দেখাশোনা করতেন। বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল জানান, তার শরীরের পেছনে ঘাড় থেকে কোমর পর্যন্ত দুই হাত ও মুখসহ ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
এ ঘটনায় নিহতের মামা মামুনুর রশিদ কটিয়াদি থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলো মাহমুদুল হাসান সুমন ও সোহেল। তবে ঘটনার সঙ্গে আরও চার থেকে পাঁচজন জড়িত। মৃত্যুর আগে আব্দুর রহিম তাদের সবার নাম বলে গেছেন।
মামুনুর রশিদ বলেন, ‘গত ১৭ মে তাবলিগ জামাত নিয়ে মসজিদে যাওয়ার পর জুবায়েরপন্থীরা আমাদের বের করে দেয়। এই ঘটনার দুইদিন পর আমার ভাগ্নের গায়ে আগুন দেওয়া হয়। আমরা এর বিচার চাই।’ তিনি বলেন, ‘সারাদেশের মসজিদে এভাবে আমাদের মারধর করা হচ্ছে। মসজিদ থেকে বের করে দিচ্ছে। তারা জঙ্গিগোষ্ঠী। আমরা আল্লাহর পথে আছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জুবায়ের আহমদের কাছে জানতে চেয়ে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কটিয়াদি থানায় ২০ মে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা কারাগারে রয়েছে। তবে মামলায় নাম থাকা অভিযুক্ত কলি এখনও পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কটিয়াদি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর দোহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৭ মে কটিয়াদি উপজেলার একটি মসজিদে জামাত এসেছিল। তাদের খেদমতের জন্য স্বাদপন্থী আব্দুর রহিম গিয়েছিল। তখন জুবায়েরপন্থী সোহেল, সুমন ও কলি তাদের বের করে দেয়। এরই জের ধরে ১৯ মে আগুন দেওয়া হয়। আমরা সুমন ও সোহেলকে গ্রেফতার করেছি। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ তিনি বলেন, ‘মূলত দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।’
বাংলাদেশে তাবলিগের বর্তমানে দুটি গ্রুপ। তাদের গ্রুপিংয়ের কারণে গত বছর বিশ্ব ইজতেমা দুইভাগে অনুষ্ঠিত হয়। গত কয়েক বছর ধরে তাবলিগ জামাতের নেতৃত্ব নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। এখন তাবলিগ দুই ভাগে বিভক্ত। একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের মাওলানা সাদ কান্দলভী এবং আরেক অংশের নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের আহমেদ। সাদ দেওবন্দ বিরোধী এবং জুবায়ের দেওবন্দপন্থী। মাওলানা জুবায়েরের সঙ্গে আছেন বাংলাদেশের হেফাজত ও কওমিপন্থীরা। ২০১৮ সালে ইজতেমায় মাওলানা সাদ ঢাকায় এলেও তাকে ফিরে যেতে হয় ইজতেমায় যোগ না দিয়ে।

ঈদে সড়কে প্রাণ গেল ১৪২ জনের

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত ও ৩২৪ জন আহত হয়েছেন। গত ৩০শে মে বৃহস্পতিবার থেকে ৯ই জুন রোববার পর্যন্ত ১১ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও   আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত ৯৫টি দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ-যাতায়াত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেসরকারি এই সংগঠন তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, অনলাইন নিউজপোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, এবারের ঈদে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে তবে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।
জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের আগে ৩রা জুন সোমবার শেষ কর্মদিবস থাকলেও এর আগে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক এবং রোববার শবে কদরের ছুটি ছিল। এ কারণে ঈদ-পূর্ব সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস ৩০শে মে বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যত ঈদযাত্রা শুরু হয়।
ওইদিন সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয় ও আটজন আহত হয়। ৩১শে মে ৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হন যথাক্রমে ছয়জন ও সাতজন। ১লা জুন ১১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে ১০ ও ৩১। ২রা জুন ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হন। ৩রা জুন সাতটি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪ঠা জুন দুর্ঘটনা ঘটেছে ছয়টি। এতে নিহত ও আহত হয়েছেন যথাক্রমে ১৬ জন ও ৬২ জন। ৫ই জুন ঈদুল ফিতরের দিন ১৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন। ৬ই জুন নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে ১১ ও ৩৩। ওইদিন দুর্ঘটনা ঘটেছে আটটি। ৭ই জুন ছয়টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে ১১ জনের, আহত হয়েছেন ১৮ জন। ৮ই জুন সাতটি দুর্ঘটনায় আটজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। ৯ই জুন ৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে ৫ ও ২৪ জন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নৌ ও রেলপথ ছিল দুর্ঘটনা মুক্ত। ঈদ-সার্ভিসে পর্যাপ্ত সংখ্যক লঞ্চ থাকায় ঢাকার সদরঘাট টার্মিনাল থেকে উপকূলীয় জেলাগুলোর সঙ্গে নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক ও যাত্রীভোগান্তি কম ছিল। তবে এক শ্রেণির নৌশ্রমিক ও কর্মচারি ডেকের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছেন। অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ঈদ-যাত্রার প্রথম দিন থেকে দূরপাল্লার অনেক ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে অগণিত যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। দূরপাল্লার বিভিন্ন সড়কে মাত্রাতিরিক্ত বাসভাড়া আদায় বন্ধ করা যায়নি। ঈদের ছুটিতে রাজধানীর মধ্যে চলাচলরত বাস ও অটোরিকশাগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উবার ও পাঠাও’র মতো ইন্টারনেটভিত্তিক রাইড শেয়ারিং এ্যাপ্‌সের মাধ্যমে যাত্রী বহনকারী কোম্পানিগুলোও ঈদ-ছুটিতে তাদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়েছিল। 
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি তাদের ঈদ-যাতায়াত পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার ছয়টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। সেগুলো হলো- ঈদে বিভিন্ন মহাসড়ক ও ফেরিঘাটে তীব্র যানজটের কারণে ব্যয় হওয়া দীর্ঘ সময় পুষিয়ে নিতে ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো। দীর্ঘ ছুটির কারণে সড়ক-মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের বারবার তাগিদের কারণে চালকের অন্যমনস্কতা। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে বাড়তি ট্রিপ দেয়ার কারণে চালকের সাময়িক শারীরিক ও মানসিক অবসন্নতা। দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ওভারটেকিংয়ের ক্ষেত্রে চালকদের ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল।

স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াই by ইশতিয়াক পারভেজ

কার্ডিফ থেকে খুব একটা দূরে নয় ব্রিস্টল। মাত্র ১ ঘণ্টায় বাসে চলে আসা যায়। আঁকা বাঁকা পাহাড়ি রাস্তার মধ্য দিয়ে কালো পিচের পথ চলে গেছে এই শহরের বুক চিড়ে। চার পাশে লাল ইটের ছাদ দেয়া বাড়িগুলো বলে দিচ্ছে এটি ওয়েলস নয়, শহরটি ইংল্যান্ডের অংশ। হয়তো সেই কারণেই ইংলিশ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীনতম স্টেডিয়ামটি এখানেই দাঁড়িয়ে আছে ইট পাথরের দেয়ালের মাঝে। কিংবদন্তির ইংলিশ ক্রিকেটার ডব্লিউ জি গ্রেস এ মাঠটি   ১৮৮৯ সালে কিনেছিলেন। তা না হলে এখানে হয়তো রাগবি বা ফুটবলই খেলা হতো! হ্যা, ব্রিস্টল কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের কথাই বলছি। যা গ্লুস্টারশায়ার কাউন্টি কর্তৃপক্ষ চিরকালের জন্য দখল করে নিয়েছে।
আজ  সেইখানেই ৯ বছর পর টাইগাররা মাঠে নামবে আরো একটি জয়ের সন্ধানে। প্রাচীন এই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ক্রিকেট যাত্রার একটি মাইলফলক  তৈরি হয়েছি। ২০১০-এ ব্রিস্টল মাঠে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপে আজ সেখানেই টাইগারদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।
বলার অপেক্ষা রাখেনা এই ম্যাচ থেকেই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ দলের সেমিফাইনালে উঠার আসল মিশন। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের কাছে হারে ক্ষচ্যুত হয় টাইগাররা।  পরে তারা হার দেখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও। দুটি ম্যাচেই জয়ের প্রত্যাশায় ছিল টাইগার ভক্তরা। আর সেই আশা দেখিয়েছে মাশরাফির দল নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ অফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করায়। বলার অপেক্ষা রাখেনা আজ শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে সেমির লক্ষ্যে এগিয়ে যাবার পথ একটু সহজ হবে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘আসলে এখন যে সেমিফাইনালে যাওয়া খুব কঠিন তাও না। আমরা জানতাম প্রথম তিনটি ম্যাচ বেশ কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ছিল। তাই এই ম্যাচ থেকেই লক্ষ্য স্থির করেছিলাম জয় দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। তার আগে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছি। যদি পরের দুটি ম্যাচের একটিতে জিতে যেতাম তাহলে কঠিনভাবে ভাবতে হতনা। যাই হোক আমাদের কাজ এখন শুধু ভালো খেলা। অন্য কোন চিন্তা মাথায় রাখছিনা। আগে হার, এমনকি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় কোনটাই মাথায় রাখতে চাইনা। কাল যে ম্যাচ হবে সেটিই এখন আমাদের লক্ষ্য। সেখানে সেরাটা দিতে পারলে আমাদের যে লক্ষ্য আছে সেখানে এগিয়ে যাব অনেকটাই।’
ব্রিস্টলের মাঠ যেমন প্রাচীন তেমনি এই  স্টেডিয়ামের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সম্পর্ক বেশ পুরানো। ১৯৮৩তে  নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে যাত্রা শুরু হয়েছিল ব্রিস্টল ভেন্যুর। বলার অপেক্ষা রাখেনা মাঠ সম্পর্কে বেশ ভালই ধারণা আছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দলের । অন্যদিকে এই মাঠে ২০১০ এর সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল। সেবার ২৩৭ রান  করেছিল ৭ ইউকেটে। ৭৬ রানের একটি ইনিংস এসেছিল ইমরুল কায়েসের ব্যাট থেকে। বলার অপেক্ষা রাখেনা এখানে সেই জয় টাইগারদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।
এছাড়াও র‌্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের নিচে। কিন্তু মাশরাফি কোনভাবেই প্রতিপক্ষকে হিসেবের বাইরে রাখতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘দেখেন দুটি বিশ্বকাপে আমরা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি। তাতে কি হয়েছে? আমরা কিন্তু এবার  বেশ বাজেভাবে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেছি।  তাই কালকের (আজ) ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি। এখানে অনেক কিছুই হতে পারে। তাই আমাদের কাজ একটাই ভালোভাবে শুরু ও শেষ করা।’
১৭ হাজার ৫০০ ধারণক্ষমতার মাঠে বাংলাদেশের দর্শকরা দারুণ প্রত্যাশা নিয়ে আসবেন আজ। শুধু ব্রিস্টলই নয়, গোটা ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভক্তরা ছুটে আসবে এখানে। তারাও আশায় আছেন। মাশরাফি বলেন, ‘আসলে দুটি ম্যাচে হেরে যাওয়াতে একটু খারাপ লাগছে। কিন্তু এই ধরনের টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত আশা থাকে। তাই এখন আমাদের একটাই কাজ, ভালো খেলে সেরাটা দেয়া।  এছাড়াও আর ভাবনা নেই।’
প্রথম তিন ম্যাচে অপরিবর্তিত দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে আজ একাদশে অন্তত একটি পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যতটা জানা গেছে আজ মোহাম্মদ মিঠুনের পরিবর্তে সাব্বির রহমান অথবা লিটন দাস খেলতে পারেন। আর রুবেল হোসেনকে ফিরাতে চাইলে দল থেকে বাদ দিতে হতে পারে দারুণ খেলতে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজকে।  দলে পরিবর্তন নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘আসলে এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। টিম ম্যানেজম্যান্ট এখনো কে কে দলে আসবে তা নিয়ে ভাবেনি। যদি প্রয়োজন হয় পরিবর্তন আসতে পারে।

সৌদি শত্রুতার গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা নেই: মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড

ব্রাদারহুডের উপ প্রধান ইব্রাহিম মুনির
মিশরের বৃহত্তম ইসলামপন্থি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড এই সংগঠনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অবস্থানকে ‘অবোধগম্য ও ব্যাখ্যার অযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে। ব্রাদারহুডের উপ প্রধান ইব্রাহিম মুনির ‘আরব২১’ নিউজ চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুড এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের শত্রুতার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা খুঁজে পায়নি।
ইব্রাহিম মুনির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুসলিম ব্রাদারহুড প্রকৃত অর্থেই বলির পাঠা হয়েছে; কারণ, ব্রাদারহুড এখন পর্যন্ত এমন কোনো কাজ করেনি যার ফলে সৌদি আরব সংগঠনটির সঙ্গে এত বড় শত্রুতা করে যাচ্ছে।
মুসলিম ব্রাদারহুডের উপ প্রধান বলেন, তার সংগঠন কখনোই সৌদি আরব বা অন্য কোনো আরব দেশের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হুমকি হয়ে ওঠেনি। এ ছাড়া, এই সংগঠন সব সময় আরব দেশগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রাদারহুডের এই নেতা বলেন, তার সংগঠনের কাছে এখনো এ বিষয়টি বোধগম্য নয় কিছু আরব শাসক কেন মিশরের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছেন এবং কেনই বা মিশরের জনগণের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে তাদের নেতা নির্বাচন করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
২০‌১৩ সালে মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মাদ মুরসির সরকারের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভ্যুত্থান হয় তার অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল সৌদি আরব। ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল সিসি বর্তমানে মিশরের ‘নির্বাচিত’ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৩ সালের ওই অভ্যুত্থানের পর সৌদি আরব মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে কারাবন্দি রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসি

খালেদার অসুস্থতা নিয়ে ইইউ প্রতিনিধিদলের উদ্বেগ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় তার স্বাস্থ্যের অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকায় সফররত  ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিনিধি দল। সোমবার বিকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের গুলশানস্থ বাসভবনে সাক্ষাত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে ওই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইইউ’র মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি অ্যামন গিলমোর। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে গিলমোর বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে নিয়ে আলোচনা করেছি। তার বয়স এবং অসুস্থতা বিবেচনা করে বর্তমান অবস্থায় ইইউ উদ্বিগ্ন।
খালেদা জিয়া ইস্যুতে ইইউ কেন? এটা কি হস্তক্ষেপ নয়? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইইউ’র এ বিশেষ প্রতিনিধি বলেন, না, বিষয়টি হস্তক্ষেপের নয়, আমাদের কাছে উদ্বেগের; আমরা সেটিই জানাতে এসেছিলাম। তবে আইন এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। ইইউ খালেদা জিয়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। বৈঠকে খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ ছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয় বলে জানান গিলমোর।
প্রতিনিধিদলের বিদায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ইইউ’র মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে খালেদা জিয়া ইস্যুতে কী কথা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা তাদের কথা আমাকে জানিয়েছে। আমি আমাদের অবস্থান তাদের কাছে পরিষ্কার করেছি। মন্ত্রী বলেন ‘খালেদা জিয়া আদালতের রায়ে দ-াপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। তার মুক্তির বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই, পুরোটাই আদালতের ওপর নির্ভর করছে। আমার সঙ্গে কথা বলার পর তারা আশ্বস্ত হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে জানিয়েছেন আদালতের বিচারে ওপর তারাও আস্থাশীল। প্রতিনিধি দলটি আজ ঢাকা থেকে বার্মা যাবে। সেখানে তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেদেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান তুলে ধরবে।
ডিজিটাল আইন ও নুসরাত হত্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে: এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক আরও বলেন, আমরা বলেছি, সাইবার অপরাধ রোধের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য এ আইন প্রণয়ন করা হয়নি। আনিসুল হক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ প্রতিনিধি ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তার নিকট এ মামলার হালনাগাদ অগ্রগতি তুলে ধরে বলা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই মামলাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। এছাড়া এ মামলা যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে দ্রুত শেষ করার সরকারের ইচ্ছার কথাও তাকে জানানো হয়। বৈঠকে বেপজা আইন, শিশু অধিকার আইন, রোহিঙ্গা ইস্যু ও বিচার বহির্ভুত হত্যা নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান আইনমন্ত্রী।

‘সিরিয়ায় ইরানের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দর কষাকষির খবর হাস্যকর’

মারিয়া জাখারোভা
সিরিয়া থেকে ইরানকে বের করে দেয়ার লক্ষ্যে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল রাশিয়ার সঙ্গে দর কষাকষি করেছে বলে কিছু গণমাধ্যমে যে জল্পনা চলছে তাকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা কাতার-ভিত্তিক নিউজ চ্যানেল আল-জাযিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই জল্পনা নাকচ করে দেন।
গত সপ্তাহে ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সৌদি আরবের কিছু গণমাধ্যম দাবি করে, আমেরিকা ও ইসরাইল রাশিয়াকে এই প্রস্তাব দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব বাশার আসাদের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার সরকারকে মেনে নেবে এবং এর পরিবর্তে রাশিয়া ইরানকে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করবে।
এ সম্পর্কে জাখারোভা বলেন, এটি একটি হাস্যকর জল্পনা এবং গুরুতর কোনো ব্যাপার নয়।
সিরিয়া সরকার এ পর্যন্ত বহুবার বলেছে, দেশটির অনুরোধে সাড়া দিয়ে সিরিয়ায় সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে ইরান এবং সেদেশে ইরানি সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বৈধ। এদিকে ইরানও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, শুধুমাত্র দামেস্ক তেহরানকে আহ্বান জানালেই কেবল সিরিয়া থেকে সামরিক উপদেষ্টাদের প্রত্যাহার করা হবে।
সিরিয়ায় ২০১১ সালে বিদেশি মদদে সহিংসতা চাপিয়ে দেয়ার পর উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দামেস্কের যুদ্ধ শুরু হয়। ওই যুদ্ধে সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করার লক্ষ্যে দামেস্কের অনুরোধে দেশটিতে একদল সামরিক উপদেষ্টা পাঠায় ইরান যারা এখনো সিরিয়ায় মোতায়েন রয়েছেন।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-মুয়াল্লেম (বামে) ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ (ফাইল ছবি); দামেস্ক বলছে, সিরিয়ায় ইরানের সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বৈধ

‘নেইমার মাদকাসক্ত গ্রেপ্তার করে তাকে রিহ্যাবে পাঠানো উচিত’

নেইমারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ আরেক অভিযোগ তুললেন আলোচিত ব্রাজিলিয়ান তরুণী নাজিলা ত্রিনদাদ। গত সপ্তাহে নেইমারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন নাজিলা। আর নাজিলার নতুন অভিযোগ, নেইমার মাদকাসক্ত এবং গ্রেপ্তার করে তাকে রিহ্যাবে পাঠানো উচিত।
সমপ্রতি ফাঁস হয়েছে নেইমারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলা নাজিলা ত্রিনদাদের ও তার সাবেক আইনজীবীর মধ্যে কথোপকথনের হোয়াটস অ্যাপ ম্যাসেজ। যেখানে, ধর্ষকের পাশাপাশি নেইমারকে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি বলেও উল্লেখ করেন নাজিলা।
গত ১৫ই মে প্যারিসের হোটেলে নেইমারের হিংস্রতার সেই ভিডিও প্রকাশ করার আগে নাজিলা তার সাবেক আইনজীবীর কাছে লিখে পাঠিয়েছিলেন, ‘আমি জানি না জীবিত বাসায় ফিরতে পারবো কিনা। আমি প্যারিসেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি জানতাম না এর পরিণতি কী হতে পারে। ওহ ঈশ্বর! সে পাগল হয়ে গিয়েছিল।’
নেইমারের বিরুদ্ধে নাজিলা লিখতে থাকেন, ‘সে আমাকে মেরেছে।
সে আমাকে ধর্ষণ করেছে। সে নেশায় ডুবে ছিল। সে মাতাল। এমনকি সে নিজেও আমাকে ম্যাসেজে এসব বলতো। সে হিংস্র। এরকম একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রিহ্যাবে পাঠানো উচিত। এমতাবস্থায়, সে সমাজ ও নিজের জন্যও ক্ষতিকর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘সে আমাকে তো মেরেছেই, সেই সঙ্গে আমার আঘাতপ্রাপ্ত স্থানের ছবিও তুলে রেখেছে। আমি নিশ্চিত সে এই কাজ করেছে যাতে করে সে এগুলো তার বন্ধুদের দেখাতে পারে। ওই দিন আমিও তাকে মেরেছিলাম। তবে শুধুই তা আত্মরক্ষার জন্য।’ এদিকে এসব মেসেজ পাওয়ার পর সেই আইনজীবী নাজিলাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন, ‘যদি তোমার কাছে ছবি থাকে তবে আইন তোমার পক্ষে যাবে এবং এটা তোমাকে রক্ষা করবে। মাথা ঠাণ্ডা হলে আমাকে প্রমাণগুলো পাঠাবে।’ তবে আইনজীবীর কথায় নাজিলা চুপ করে বসে থাকেননি। এরপরই সেদিন হোটেলে ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও জনসম্মুখে প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিও প্রকাশের আগে নাজিলা জানিয়েছিলেন, ‘আমি ভিডিও পোস্ট করতে যাচ্ছি। আমি যখন ভুগছি, তখন আমি তাকে এতো সহজেই পার পেয়ে যেতে দিচ্ছি না।’

ইদলিবে তুমুল যুদ্ধ একদিনেই নিহত ২৪০

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিবে সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী দলগুলোর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। এতে একদিনেই নিহত হয়েছে কমপক্ষে ২৪০ জন। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
রোববার আসাদপন্থি সেনারা প্রদেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জালামিহ শহরটি পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়। এ সময় তাদেরকে সাহায্য করেছে রুশ বিমান বাহিনী। অভিযান পরিচালনার আগে রুশ যুদ্ধবিমান থেকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহরটিতে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়। জালামিহ ছাড়াও এর পূর্বে অবস্থিত আল-মিলিহ শহরেও বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বিমান বাহিনী। এরপর সেখানে আসাদপন্থি সেনারা অভিযান চালিয়ে শহরটি পুনরুদ্ধারে সমর্থ হয়।
এ সময় সেখানে বিদ্রোহী দলগুলোর সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয় আসাদপন্থি সেনাদের। এতে প্রায় আড়াইশ’ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।
এর আগে রেড ক্রসের মুখপাত্র আদনান হেজাম এক বিবৃতিতে বলেন, ইদলিবের বর্তমান মানবিক অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের পতন ঘটলেও এখনো দেশটির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আসাদ বিরোধীদের হাতে। সেগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য রাশিয়া, ইরান ও সিরিয়ার সম্মিলিত বাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হচ্ছেন বলে দাবি করেছে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো।  উল্লেখ্য, ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়া যুদ্ধে জয়ের দ্বারপ্রান্তে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। একসময় সিরিয়ার অতি সামান্য অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা আসাদ এখন পুরো দেশটিতেই নিজের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। ২০১৫ সালে সিরিয়ায় আসাদকে সাহায্য করতে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয় রাশিয়া ও ইরানের সেনারা। এরপর থেকে দু’-একটি প্রদেশ ছাড়া সর্বত্রই এখন আসাদের নিয়ন্ত্রণে। ভয়াবহ এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ।

উন্নত প্রযুক্তির নয়া বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উদ্বোধন করল ইরান

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ৯ জুন রোববার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উদ্বোধন করেছে। এই ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে 'খোরদাদ ফিফটিন'। এই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই সময়ে ছয়টি লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, ইরানের এই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত এবং ১২০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে পারে। এছাড়া রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টিলথ জঙ্গিবিমান ও ড্রোনকে ৮৫ কিলোমিটার দূর থেকে শনাক্ত করতে পারবে এবং ৪৫ কিলোমিটার দূর থেকে সেটাকে ধ্বংস করতে পারবে।
তিনি বলেন, ইরান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে কারো অনুমতি নেয় না। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি আরও বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিজাতীয় শক্তির অনেক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটির হুমকি মোকাবেলায় অত্যাধুনিক এই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।