Showing posts with label এল সালভাদোর. Show all posts
Showing posts with label এল সালভাদোর. Show all posts

Saturday, March 22, 2025

আদালত যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তাঁর কাজে বাধা দেওয়া বন্ধ করতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ভেনেজুয়েলার কয়েক শ নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে এল সালভাদরে পাঠানো নিয়ে আদালতের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মধ্যে আদালত নিয়ে এই মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। এতে করে দেশটি সাংবিধানিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিচারক জেমস বোসবার্গ কঠোর ভাষায় বলেছেন, ‘আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ট্রাম্প প্রশাসন কিছু ব্যক্তিকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।’ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার ওই অভিবাসীদের কেন এল সালভাদের পাঠানো হয়েছে, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বিচার বিভাগের কাছ থেকে তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।

যেসব ব্যক্তিকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অনিয়মিত যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। এই অভিযোগে গত শনিবার (১৫ মার্চ) ট্রেন ডি আরাগুয়ার গ্যাংয়ের ২৩৮ এবং আন্তর্জাতিক গ্যাং গোষ্ঠী এমএস-১৩ এর ২৩ সদস্যকে কারাগারে রাখতে এল সালভাদরের পাঠায় ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের কারাগারে রাখার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাবে মধ্য আমেরিকার দেশটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেন ডি আরাগুয়ার সদস্যদের দ্রুত দেশ থেকে বের করতে গত শুক্রবার (১৪ মার্চ) কয়েক শতকের পুরোনো ভিনদেশি শত্রু আইন বা এলিয়েন এনিমিস অ্যাক্ট ব্যবহারের নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি যুদ্ধকালীন আইন হিসেবে পরিচিত।

পরদিন শনিবার ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিচারক জেমস বোসবার্গ ১৭৯৮ সালের ওই ভিনদেশি শত্রু আইনের ব্যবহার ১৪ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এই আইনে অন্য দেশের দ্বারা সংঘটিত এমন ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড’কে বোঝানো হয়েছে, যা ‘যুদ্ধের সমতুল্য’।

কিন্তু ওই দিনই অভিযুক্ত গ্যাং সদস্যদের কয়েকটি উড়োজাহাজে করে এল সালভাদরের পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যাদের পাঠানো হয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের কেবল ট্যাটু বা উলকি থাকার অপরাধেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গত সোমবার জেমস বোসবার্গ বিচার বিভাগের আইনজীবীদের কাছে কিছু বিষয়ে তথ্য জানতে চান। তিনি তাঁদের প্রশ্ন করেন, গ্যাং সদস্যদের পাঠানো-সংক্রান্ত ট্রাম্পের ঘোষণাটি ঠিক কখন কার্যকর হয়েছিল এবং প্রত্যর্পণের ফ্লাইটগুলো এল সালভাদরের উদ্দেশ্যে কখন রওনা করেছিল?

জেমস বোসবার্গের প্রশ্নের জবাব দিয়ে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী (আইসিই) কর্মকর্তা রবার্ট সারনা স্থানীয় একটি আদালতকে জানান, শনিবার বিকেলে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে ট্রাম্পের নির্দেশ প্রকাশিত হওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের বহনকারী তিনটি উড়োজাহাজ এল সালভাদরের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে।

তবে আটক ব্যক্তিদের বহনকারী একটি উড়োজাহাজ বোসবার্গের রুলিংয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গিয়েছিল। শনিবার রাত ৭টা ২৫ মিনিটে বোসবার্গ দুই সপ্তাহের জন্য এসব গ্যাং সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কার স্থগিত রাখতে বলেছিলেন। আদালতকে আইসিই কর্মকর্তা রবার্ট সারনা আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের শুধু এলিয়েন এনিমিস অ্যাক্টের অধীন পাঠানো হয়নি; বরং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা বহিস্কারের নির্দেশ ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিত্বকারী দেশটির বিচার বিভাগের আইনজীবীরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, বিচারকের লিখিত আদেশ প্রকাশিত হওয়ার আগেই ফ্লাইটগুলো যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গিয়েছিল। তাঁদের যুক্তি, লিখিত আদেশ প্রকাশের আগে বিচারক আদালতে মৌখিকভাবে যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা ধর্তব্য নয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, আদালতের লিখিত আদেশ লঙ্ঘিত হয়নি। (কারণ, সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলো লিখিত আদেশের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা ছেড়ে গিয়েছিল। তাই বলা যায়, বিচারকের আদেশ জারি হওয়ার আগেই উড়োজাহাজের আরোহীদের ‘বহিষ্কার’ করা হয়েছিল।)

মঙ্গলবার সকালে ওই ঘটনায় বিচারকের অভিশংসন চেয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, তিনি একজন ‘বিঘ্ন ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী’ ব্যক্তি। ট্রাম্পের পোস্টে সরাসরি বোসবার্গের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ট্রাম্পের পোস্টের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এক বিবৃতিতে বোসবার্গের অভিশংসনের প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক করে লিখেছেন, ‘দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এইটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বিচার বিভাগের সঙ্গে কোনো বিষয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে অভিশংসন কোনো সমাধান নয়, (এ রকম কোনো দ্বন্দ্ব দেখা দিলে) স্বাভাবিক আপিল বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন।’

প্রধান বিচারপতির তরফে বিবৃতিটি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির ইতিহাসে প্রধান বিচারপতির এ ধরনের পদক্ষেপ দুর্লভ।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ‘বহিষ্কার’ নিয়ে বিচার বিভাগ থেকে নতুন করে ব্যাখ্যা চেয়েছেন জেমস বোসবার্গে। নতুন আদেশে তিনি বলেন, আইসিইর ভারপ্রাপ্ত মাঠ অফিসের পরিচালক প্রত্যর্পণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের কাজকে ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা’ হিসেবে ন্যায্যতা দিতে চাইছে। আইসিইর এই ব্যাখ্যাকে ‘খুবই অপর্যাপ্ত’ বলে মন্তব্য করে বোসবার্গে বলেছেন, ‘সরকার আবার নিজেদের বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে’।

জেমস বোসবার্গে আরও বলেন, আইসিইর আঞ্চলিক অফিসের এই বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। কারণ, কেন্দ্রীয় আদালতের জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের মর্যাদা থাকা দরকার।

তাঁর আদেশ কীভাবে লঙ্ঘিত হয়নি, তা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন জেমস বোসবার্গে।

এই পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের সুপ্রিম কোর্টকে এভাবে আক্রমণ করা অকল্পনীয়। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এই মহান লক্ষ্য ততক্ষণ পর্যন্ত অর্জন করা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত উগ্র ও অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট বিচারকেরা এই আচরণ করার সুযোগ পাবেন।’

বড় অক্ষরে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই এখনই দেশব্যাপী ইনজেকশন [বিচারকদের ইচ্ছার বিস্তার] বন্ধ করুন।’

পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি বিচারপতি রবার্টস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এই বিষাক্ত ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির শিগগির সমাধান না করেন, তাহলে আমাদের দেশ খুব গুরুতর সমস্যায় পড়বে!’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এল সালভাদরের পুলিশ। এল সালভাদরের সেন্ট লুইস তালপা শহরের একটি বিমানবন্দরে, ১৬ মার্চ ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এল সালভাদরের পুলিশ। এল সালভাদরের সেন্ট লুইস তালপা শহরের একটি বিমানবন্দরে, ১৬ মার্চ ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

Monday, March 17, 2025

কারাগারে রাখার জন্য ভেনেজুয়েলার ২৩৮ নাগরিককে এল সালভাদরে পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার ২৩৮ নাগরিকসহ মোট ২৬১ ব্যক্তিকে এল সালভাদরে প্রত্যর্পণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু দেশটির এক বিচারক তাদের প্রত্যর্পণ না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তাদের প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলা ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন  ট্রাম্প প্রশাসনের এই কাজের সমালোচনা করেছে।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লিখিত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের কথা পৃথকভাবে নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নায়েব বুকেলে লিখেছেন, প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার ট্রেন ডি আরাগুয়ার গ্যাংয়ের  ২৩৮ সদস্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক গ্যাং গোষ্ঠী এমএস-১৩ এর সদস্য রয়েছে ২৩ জন।

এসব ব্যক্তিকে এল সালভাদরের একটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগারে রাখা হবে। এ জন্য মধ্য আমেরিকার দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেন ডি আরাগুয়ার সদস্যদের দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য গত শুক্রবার কয়েক শতকের পুরোনো ভিনদেশি শত্রু আইন বা এলিয়েন এনেমিস অ্যাক্ট ব্যবহারের নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি যুদ্ধকালীন আইন হিসেবে পরিচিত।

পরের দিন শনিবার ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিচারক জেমস বোসবার্গ ১৭৯৮ সালের ওই ভিনদেশি শত্রু আইনের ব্যবহার ১৪ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর যুক্ত ছিল, এই আইনে অন্য দেশের দ্বারা সংঘটিত এমন ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডকে’ বোঝানো হয়েছে, যা ‘যুদ্ধের সমতুল্য’।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারকের নির্দেশ নিয়ে কিছুটা ঠাট্টার সুরে বলেছেন, ‘উফ... অনেক দেরি হয়ে গেছে’।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অন্য দেশের অপরাধীদের এল সালভাদরের কারাগারে রাখার জন্য গত মাসে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তি হয়েছে। এটাকে ‘অভূতপূর্ব ও অসাধারণ অভিবাসন চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

নায়েব বুকেলে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে এক বছরের জন্য সন্ত্রাসবাদ বন্দিশিবিরে (সেকট) পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের আটকাদেশ বাড়ানো হতে পারে।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট আরও লিখেছেন, ‘তাদের (প্রত্যর্পিত) পেছনে ব্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র খুব কম অর্থ দেবে, কিন্তু আমাদের জন্য বিপুল অর্থ দেবে।’

শনিবার বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেন ডি আরাগুয়ার ৩০০ অভিযুক্ত সদস্যকে এক বছর জেলে রাখতে এল সালভাদরকে ৬০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন আইন প্রয়োগ করায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে ভেনেজুয়েলা। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের অন্যায়ভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করছে। [এর মাধ্যমে] দাসপ্রথা থেকে শুরু করে নাৎসি বন্দিশিবিরের ভয়াবহ স্মৃতিকে উসকে দিয়েছে, যা মানবতার ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার পর্ব হিসেবে পরিচিত।’

এসব ব্যক্তিকে বিমানবন্দর থেকে এভাবে নিয়ে যাওয়া হয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এল সালভাদরের পুলিশ। এল সালভাদরের সেন্ট লুইস তালপা শহরের একটি বিমানবন্দরে, ১৬ মার্চ ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

Wednesday, February 19, 2025

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগার, মৃত্যু ছাড়া নেই মুক্তি by আহাম্মদ উল্লাহ সিকদার

দূর-দূরান্তেও নেই কোনো মানববসতি। ঠিক এমনই একটি স্থানে ৪১০ একর এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কারাগার। কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা এই কারাগারে রয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা দেয়াল। সেই কারাগারে যেতে আবার লাগে বিশেষ অনুমতি। এমনকি ভয়ংকর এই কারাবন্দিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সহস্রাধিক সদস্য। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগারের খেতাবপ্রাপ্ত এই বন্দিশালার নাম সেন্টার ফর দ্য কনফাইনমেন্ট অব টেরোরিজম বা সিকট।

মধ্য আমেরিকার ছোট দেশ এল সালভাদর। ১৯৮০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ছিল দেশটি। তখন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ক্ষুধা আর দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে অনেকেই পাড়ি জমায় যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে গিয়ে নিজেদের সংখ্যালঘু ভাবা সালভাদেরিয়ানরা অপরাধী চক্র গড়ে তোলে। পরে তাদের ধরে ধরে এল সালভাদরে ফেরত পাঠানো হয়।

দেশে ফেরা সেই অপরাধীরাই এক সময় এল সালভাদরের ত্রাস হয়ে ওঠে। এরপর খুনোখুনির জন্য বিশ্বজুড়ে বদনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশটির। কিন্তু গেল কয়েক বছরে এল সালভাদরে অপরাধের মাত্রা ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এল সালভাদরে যে গ্যাং কালচার চালু ছিল তা দমাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে ২০২৩ সালে সিকট চালু করেন। নিয়ম করেন ভয়ংকর এই কারাগারে একবার ঢুকলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কেউ বের হতে পারবে না।

রাজধানী সান সালভাদর থেকে গাড়িতে করে সিকটে যেতে লাগে ৯০ মিনিট। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় এই কারাগারে ৪০ হাজার পর্যন্ত বন্দি রাখা যায়। এখানে বন্দিদের পরিবারের সদস্য বা কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না। আদালতের বিচারকাজ চলে জুমের মাধ্যমে। কারাগারের দেড় মাইলজুড়ে মোবাইল ফোনের সিগন্যাল ব্লক করে রাখা হয়েছে। এখানেই বন্দি রয়েছে এমএস 13 ও বারিও 18 বা এইটিনথ স্ট্রিট গ্যাংয়ের সদস্যরা।

গ্যাং সংশ্লিষ্টতা থাকলেই যে কাউকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে ২০২২ সালে ক্ষমতা দেন বুকেলে। এরপরই রাতারাতি ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুখ্যাত সব অপরাধীদের জেলে ঢুকিয়ে রাতারাতি নিরাপদ দেশগুলোর একটি হয়ে ওঠে এল সালভাদর। একই সঙ্গে এমন অভিযানের কারণে বুকেলের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।

কোনো কোনো অপরাধীকে শত বছর বা তার চেয়েও বেশি সাজা দেওয়া হয়েছে। অনেককে অবশ্য এখনো অভিযুক্তই করা হয়নি। কিন্তু কারাগারের পরিচালক জানান, কোনো কারাবন্দিই এখান থেকে বের হতে পারবে না। তার কথা কতটা সত্য, তা কারাগারের নিরাপত্তাই বলে দেয়। কারাগারকে ঘিরে রাখা কাঁটাতারে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ রয়েছে। কারাবন্দিদের প্রতিদিন মাত্র আধা ঘণ্টার জন্য সেল থেকে বের করা হয়। আর ২৪ ঘণ্টা ধরে জ্বালিয়ে রাখা হয় বাতি।

আবার কয়েদিদের জন্য আলাদা টয়লেটের কোনো ব্যবস্থাই নেই। প্রতিটি সেলের ভেতর দুটি করে উন্মুক্ত টয়লেট রয়েছে। বন্দিদের খাবার খেতে হয় হাতে। কেননা খাবারের সঙ্গে কোনো চামচ দেওয়া হয় না। এক সময় যারা এল সালভাদরের ৯০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল, এখন তারাই ভয়াবহ এই কারাগারে বন্দি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার দেশের অপরাধী ও অভিবাসীদের এই সিকট কারাগারে পাঠাতে চান। আমেরিকার এমন প্রস্তাবে রাজিও হয়েছেন বুকেলে। 

এল সালভাদরের সিকট বন্দিশালা। ছবি : সংগৃহীত
এল সালভাদরের সিকট বন্দিশালা। ছবি : সংগৃহীত

Monday, February 17, 2025

সাগরপাড়ে ভেসে এলো রহস্যময় বাড়ি

সাগরপাড়ে ভেসে এসেছে এক বাড়ি। ভাঙাচোরা এই বাড়ি কোথা থেকে বা কীভাবে এলো তা কেউ জানে না। তাই ভূতুড়ে এই বাড়ি নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। এক পলক দেখার জন্য বাড়িটিতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রা। রহস্যজাগানিয়া বাড়িটি এখন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

এল সালভেদরের দক্ষিণাঞ্চলীয় লা পুনতিলা সৈকতে ঘটেছে এমন ভূতুড়ে ঘটনা। চোলোপানজা নামে পরিচিত সালভাদোরের একজন ইউটিউবার সর্বপ্রথম এই বাড়ির ভিডিও প্রকাশ্যে আনেন।

ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে বাড়িটির ভিডিও পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। তখন পর্যটকরা চম্বুকের মতো বাড়িটি দেখতে ছুটে আসতে থাকেন। অনেকেই হাজির হচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। তাদের ভাষায়, ঘুরে দেখার জন্য এই স্থানটা বেশ চমৎকার। আরও বেশি পরিমাণে মানুষের এখানে আসা উচিত।

ভিডিওতে দেখা যায়, পর্যটকরা ঘুরে ঘুরে বাড়ির ভেতরের অংশ দেখছেন। বাড়ির সিলিংয়ে স্টার অব ডেভিডের প্রতীকও দেখা যায়। আবার বাড়িটির দেয়ালে দেয়ালে বিভিন্ন রঙের গ্রাফিতিরও দেখা মেলে। ২০২১ সালে ধারণ করা ভিডিওতে, ভৌতিক এই বাড়িটি সাগরপাড়ে ভেসে আসার কোনো উত্তর জানা যায়নি। তবে মনে করা হয়, বাড়িটি সাগরতীরে থাকা এই বাড়ির রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হারিকেন মিচের নাম।

স্থানীয়দের দাবি, এটা আসলে একটি হোটেল ছিল। যার নাম হোটেল পুয়ের্তো ভেনচুরা। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, ১৯৯৮ সালে হারিকেন মিচ আঘাত হানার সময় হোটেলটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। আবার এটিকে এক সময় উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে বিশ্বাস করেন কেউ কেউ। তবে রাজধানী সান সালভাদোর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরবর্তী এই বাড়ি রহস্যজাগানিয়াই হয়ে রয়েছে। 

রহস্যময় সেই বাড়ি। ছবি : সংগৃহীত
রহস্যময় সেই বাড়ি। ছবি : সংগৃহীত