Wednesday, October 21, 2009

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রবক্ষে গ্যাস পেয়েছে শেভরন

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সাগর উপকূলে নতুন একটি বড় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছে বিখ্যাত তেল কোম্পানি শেভরন। আর এই গ্যাস দেশটির বৃহত্তম জর্গন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পের জন্য কাজে লাগানো যাবে। শেভরন কোম্পানি গতকাল সোমবার এ কথা জানায়। খবর এএফপির।
শেভরন, শেল ও এক্সনমবিল কোম্পানি গত মাসে জর্গন গ্যাসক্ষেত্রে বিনিয়োগে রাজি হয়। সেখানে তারা ইতিমধ্যে প্রায় চার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এটিই দেশটির বড় গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্প।
শেভরন এক বিবৃতিতে বলেছে, উপকূল থেকে সমুদ্রের ১০০ মাইল ভেতরে একিলিস-১ অনুসন্ধান কূপে গ্যাস মিলেছে। অস্ট্রেলিয়ায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রয় ক্রিয়সিনস্কি বলেন, ‘আমাদের খনন কর্মসূচি সফল হচ্ছে। এখান থেকে জর্গন ও হুইটস্টোন প্রকল্পে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।’
জর্গন প্রকল্প থেকে ২০১৪ সাল নাগাদ গ্যাস উত্তলন করা যাবে বলে কোম্পানিটি আশা করছে। এ প্রকল্পে ৫০ শতাংশ শেভরনের অংশীদারি রয়েছে। বাকি অংশীদারি এক্সনমবিল ও শেলের।

পাকিস্তান পরিস্থিতি ভয়াবহ- সাক্ষাত্কারে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী

পাকিস্তানের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে যেকোনো মূল্যে নিজের দেশ রক্ষার অঙ্গীকার করেছে ভারত সরকার। গতকাল সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তানের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ এবং সেখানে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে।
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সহিংসতার ব্যাপারে গতকাল সোমবার এই প্রথম কোনো মন্তব্য করল ভারত।
ভারতে তালেবানের হামলার হুমকি সম্পর্কে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় আমরা সদা প্রস্তুত। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সব সময় সতর্ক পাহারা বজায় রেখেছে। তালেবানকে আমরা যেকোনো মূল্যেরুখব। তাদের হামলা চালানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’
উপকূল রক্ষীবাহিনী ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযান ‘রক্ষা’ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যান্টনি বলেন, ‘মুম্বাইতে গত বছরের সন্ত্রাসীহামলা থেকে আমাদের অনেক শিক্ষা হয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে উপকূলীয় নিরাপত্তার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনী ও উপকূল রক্ষীবাহিনী নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’
ইরানে রোববারের হামলার সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের জড়িত থাকার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে অ্যান্টনি বলেন, ‘কোনো তথ্য ছাড়া এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে বিষয়টি হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে। এটা বিশ্বের প্রতি প্রকৃত হুমকি। সন্ত্রাসবাদ হচ্ছে বাস্তবতা। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই সব শান্তিকামী দেশ ও সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।’
চীনের দিক থেকে হুমকি মোকাবিলায় ভারত প্রস্তুত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। যেকোনো দেশের হামলা ও আগ্রাসন মোকাবিলায় ভারত সরকার সব সময়ই প্রস্তুত।

নদীর প্রবাহ ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রকল্পের কথা জানিয়েছে চীন- পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ভারত

s
উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত নদীগুলোর স্রোতধারা ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তিন লাখ ৩০ হাজার নাগরিককে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে চীন সরকার। গত রোববার বিপুলসংখ্যক এই চীনা নাগরিকদের তাদের বর্তমান বাসস্থান থেকে সরিয়ে অন্য এলাকায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনাটি ঘোষণা করা হয়। এদিকে ভারত সরকারের আশঙ্কা, পানির প্রবাহ ঘুরিয়ে দেওয়ার চীনা প্রকল্প ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এতে ভারতের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় পরিবেশের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
চীনের হেনান প্রদেশের পুনর্বাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্য চীনের হেবেই ও হেনান প্রদেশ থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা করেছে তারা। পানির প্রবাহ ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালের মধ্যে এই পুনর্বাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
কর্মকর্তারা জানান, ইয়াংসি নদীর পানির প্রবাহ ঘুরিয়ে বেইজিং, তিয়ানজিং, হেনান ও হেবেই প্রদেশের পানির চাহিদা পূরণের জন্য ওই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে চীন সরকার। সরিয়ে নেওয়া নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। চীনে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম নাগরিক স্থানান্তর প্রকল্প। এর আগে থ্রি জর্জেস জলবিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১২ লাখ ৭০ হাজার নাগরিককে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
এদিকে জলবিদ্যুেকন্দ্রের জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের তিব্বত অংশে চীনের বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত সরকার। গত শুক্রবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গোগোই বলেন, চীন সরকার তিব্বতের ‘ইয়ারলুং সাংপো’ (তিব্বত অংশে ব্রহ্মপুত্রের নাম) নদীতে বাঁধ নির্মাণ করলে তার প্রভাবে আসাম মরুময় হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারের এখনই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আগের দিন বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর চীন সরকার কোনো বড় ধরনের বাঁধ নির্মাণ করছে কি না, তা যাচাই করে দেখবে ভারত। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, তিব্বত এলাকায় নাগমু জলবিদ্যুত্ প্রকল্পের জন্য যে বাঁধ নির্মাণ করছে বেইজিং, সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন যাচাই করে দেখছে নয়াদিল্লি। গত ১৬ মার্চ ওই প্রকল্প উদ্বোধন করে চীন সরকার।

নিলামে বিক্রি হলো মাইকেলের দস্তানা ও এলভিস প্রিসলির চুল

প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বিখ্যাত সাদা দস্তানাটি নিলামে ৬৬ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। ১৯৮৪ সালে ‘ভিক্টরি ট্যুর’ শীর্ষক সফরের সময় মঞ্চে তিনি ওই দস্তানা পরে গান গেয়েছিলেন। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে এই নিলামের আয়োজন করা হয়। ৫০টি ছোট চুমকি লাগানো ওই দস্তানাকে জ্যাকসনের স্মারক বস্তুগুলোর মধ্যে সেরা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। অনলাইন পত্রিকা ফিমেল ফার্স্ট এ খবর জানায়। পাশাপাশি আরেক প্রয়াত জনপ্রিয় পপতারকা এলভিস প্রিসলিরও চুলসহ বেশ কিছু ব্যবহার্য পণ্য নিলামে বিক্রি করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ওই নিলামে মাইকেল জ্যাকসনের একটি লাল সোয়েটার ও ফেডোরা হ্যাট (বড় টুপি) বিক্রি হয়েছে ৪৪ হাজার ২৫০ ডলারে। ১৯৮১ সালে ‘আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে তিনি এগুলো পরেছিলেন। এ ছাড়া ১৯৭১ সালে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে মাইকেলের পরা হলুদ রঙের একটি ‘টাইডাই’ শার্ট বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার ডলারে। একই নিলামে প্রয়াত রক অ্যান্ড রোল তারকা এলভিস প্রিসলির চুল বিক্রি হয়েছে ১৮ হাজার ৩০০ ডলারে। তাঁর ব্যবহার করা একটি গিটার বিক্রি হয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ২০০ ডলারে।
এদিকে শিকাগোর লেসলি হিন্ডম্যান নিলামঘরে এলভিস প্রিসলির ভক্তরা আরেকটি নিলামে প্রয়াত তারকার ব্যবহার্য দেড় শতাধিক দ্রব্য নিলামে তোলে। এগুলোর মধ্যে একটি শার্ট বিক্রি হয়েছে ৩৪ হাজার ডলারে। আরেকটি মনোগ্রাম লাগানো শার্ট বিক্রি হয়েছে ৬২ হাজার ডলারে। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে কনসার্টে ব্যবহার করা পোশাক (স্কারভেস) ও রুমাল যথাক্রমে দুই হাজার ৩১৮ ডলার ও ৭৩২ ডলারে, প্রিসলির ব্যক্তিগত গানের সংগ্রহ তিন হাজার ৯০৪ ডলারে, প্রিসলি ও তাঁর স্ত্রী প্রিসিলার একটি ছবি ছয় হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। তবে নিলামঘর কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

পাকিস্তানকে দুষল তেহরান- ইরানে সন্ত্রাসী হামলা

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গত রোববার রেভল্যুশনারি গার্ডের ওপর চালানো সন্ত্রাসী হামলার পেছনে পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। সরকার বলেছে, এসব দেশ বিদ্রোহীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দিয়েছে। সরবরাহ করেছে অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণও দিয়েছে। ইরানের জাতীয় ঐক্য নস্যাত্ করতেই তারা এ কাজ করেছে। ওই হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গতকাল সোমবার এ তথ্য দিয়েছে।
ইরানের প্রথম ডেপুটি স্পিকার মুহাম্মদ হাসান আবুতারাবি পার্লামেন্টে বলেন, এই ভয়ানক হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সরাসরি যুক্ত। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল মুহাম্মদ পাকপাউর বলেছেন, ওয়াশিংটন ও লন্ডন বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানে। ইরানের জাতীয় ঐক্য নস্যাত্ করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ অভিযোগ করেন, ওই হামলায় পাকিস্তানের কয়েকটি সংস্থার হাত রয়েছে। তিনি হামলাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছে আহ্বান জানান।
সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল বাসিত বলেছেন, এতে পাকিস্তানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি এ-ও বলেন, জানদুল্লাহর নেতা পাকিস্তানে ছিলেন—ইরানের এ অভিযোগও ঠিক নয়।
ইরানের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের পিশিন শহরে গত রোববারের ওই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে জানদুল্লাহ নামের স্থানীয় একটি সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ওই অঞ্চলে প্রায়ই নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বেলুচ, সুন্নি ও সশস্ত্র মাদক চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ হয়।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সদস্য নিয়োগ আল-কায়েদার

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন ও মার্কিন নাগরিকদের দলে ভেড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব দেশের বেশ কয়েকজন নাগরিককে দলে নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন সদস্যদের অনেককে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জঙ্গি শিবিরে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাতে এই নতুন সদস্যদের কাজে লাগাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য দিয়েছে। পত্রিকাটি গত রোববার এ-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-কায়েদা গত বছর বেশ কিছু নতুন সদস্যকে তাদের দলে নিয়েছে। জার্মানির নিরাপত্তাকর্মীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে জার্মানি থেকে অন্তত ৩০ জন নাগরিক পাকিস্তানে গেছে। তাদের মধ্যে ১০ জন আবার স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জার্মানির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই জঙ্গিরা বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। গত মাসে আল-কায়েদা বেশ কয়েকটি ভিডিওচিত্র প্রকাশের মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে জার্মান সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। তাদের দাবি না মানলে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার হুমকিও দেয় আল-কায়েদা। প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীতে তিন হাজার ৮০০ জার্মান সেনা রয়েছে।
পাকিস্তানেও আছে আল-কায়েদার ঘাঁটি
আল-কায়েদার ঘাঁটি শুধু আফগানিস্তানে নয়, পাকিস্তানেও আছে—এ কথা এখন মার্কিন প্রশাসন মেনে নিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ র্যাম ইমানুয়েল সম্প্রতি একটি সংবাদ চ্যানেলকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নতুন পাক-আফগান নীতি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া করছেন না। কিন্তু এই নীতির পরিবর্তন জরুরি। কারণ, এ বিষয়ে আর সন্দেহ নেই যে, আল-কায়েদা জঙ্গিরা শুধু আফগানিস্তানেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে না, তারা পাকিস্তানেও সক্রিয় রয়েছে। পাকিস্তান সরকার যা-ই বলুক, পর পর হামলা চালিয়ে আল-কায়েদা দেশটিতে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে।
ইমানুয়েল বলেন, কড়া ও কার্যকর পাক-আফগান নীতিনির্ধারণের জন্য হোয়াইট হাউসে এখন জোর তত্পরতা চলছে। উচ্চপর্যায়ের পাঁচটি বৈঠক হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চলতি বছরের সর্বোচ্চ

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে চলতি ২০০৯ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর অবস্থা ভালো হওয়া এবং দেশটির মুদ্রা ডলারের বিনিময় হারের দুর্বলতার কারণে তেলের দাম এভাবে বাড়ল।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম একপর্যায়ে ৭৯ দশমিক শূন্য ৫ ডলারে উন্নীত হয়। তবে দিনশেষে তা ৭৮ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমে আসে, যা গত শুক্রবারের চেয়ে ২৫ সেন্ট বেশি।
অন্যদিকে লন্ডনে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২২ সেন্ট বেড়ে ৭৭ দশমিক ১১ ডলারে ওঠে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর অবস্থা ভালো হয়ে উঠেছে এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিও জেগে উঠবে—এমন আশাবাদের সঞ্চার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকেরা আরও বলেন, স্বল্প মেয়াদে তেলের দামের গতি-প্রকৃতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং এই সপ্তাহে করপোরেট খাতের পরবর্তী দফার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।
কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার কমোডিটি বিশ্লেষক ডেভিড মুর বলেন, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ইকুইটিজ মার্কেটের অবস্থার আলোকেই এখন নির্দেশিত হচ্ছে তেলের দাম।
এদিকে ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার কমেছে। প্রতি ইউরো লেনদেন হয়েছে ১ দশমিক ৪৯৩৬ ডলারে।
জেবিসি এনার্জির বিশ্লেষকেরা বলেন, মৌলিক কারণগুলোর পরিবর্তে এখন আর্থিক খাত ও বাজার নিয়ে অনুমাননির্ভর আশাবাদই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। তাঁরা বলেন, জ্বালানি তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম কেন ৬৫ থেকে ৭৫ ডলারে নেমে আসছে না, এর কোনো কারণ তাঁরা দেখছেন না।

ঢাকা-কলকাতা আকাশপথে দরযুদ্ধ চালাচ্ছে ছয়টি বিমান সংস্থা

ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়া ও কলকাতা থেকে ঢাকায় ফেরার ক্ষেত্রে আকাশপথে যাতায়াত এখন অনেক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। এই রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতায় নেমে বিমান ভাড়া অনেক কমিয়েছে।
ছয় মাস আগেও যেখানে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা আকাশপথে যাতায়াতের জন্য ১০ হাজার টাকার নিচে কোনো ভাড়া ছিল না, এখন তা সাড়ে ছয় হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
মূলত তিনটি ভারতীয় বিমান জেট এয়ার, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও কিংফিশার পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে এ বছরের মাঝামাঝি ভাড়া কমিয়ে আনে।
সে সময় দেশীয় তিনটি প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, জিএমজি এয়ার ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ভাড়া কমানোর দিকে অগ্রসর হয়নি।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোও এই রুটে যাত্রী ধরে রাখতে ভাড়া কমিয়ে দিয়েছে।
ট্রাভেল এজেন্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ভাড়া কমানোর ফলে যাত্রীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে আরম্ভ করেছে। এমনিতেই ঢাকা-কলকাতা রুটে প্রতিবছর যাত্রী বাড়ছে। ভাড়া কমানোয় এখন বৃদ্ধির হারও বেশি।
সাধারণত ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিত্সা ও বেড়ানোর জন্য মানুষজন আকাশপথে কলকাতায় যায়। কলকাতা থেকে ভারতের অন্যান্য স্থানে যায়।
বর্তমানে জেট এয়ার ও কিংফিশারের ন্যূনতম ভাড়া ছয় হাজার ৫৯৩ টাকা ও ছয় হাজার ৯৪০ টাকা।
কিংফিশারের বাংলাদেশ এরিয়া ম্যানেজার গিরেশ ভাস্কর এ প্রসঙ্গে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাড়া কমানোর ফলে আমরা প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। আর কোনো রকম বাড়তি মাশুল ছাড়াই আমরা যাত্রীদের ভারতীয় ভিসা পেতে সহায়তা করছি।’
গিরেশ ভাস্কর আরও বলেন, কিংফিশার দৈনিক ফ্লাইট চালাচ্ছে এবং সময়সূচিও যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস দৈনিকভিত্তিতে ভাড়ায় সামান্য রদবদল করে থাকে। তার পরও তা নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল সোমবার ন্যূনতম ভাড়া ছিল ছয় হাজার ৫২৪ টাকা।
ট্রাভেল এজেন্টরা জানান, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসে অনলাইনে তাত্ক্ষণিকভাবে টিকিট কাটতে হয়। ওই সময় যে ভাড়াটি আসে, সে ভাড়াই দিতে হয়। সে জন্যই প্রতিদিন ভাড়ায় সামান্য রদবদল হয়। আর এই টিকিট বুকিং দিয়ে ধরে রাখা যায় না।
জেট এয়ার ও কিংফিশারের টিকিট বুকিং দিয়ে ধরে রাখা গেলেও টিকিট কাটা হলে ভাড়ার অর্থ অফেরতযোগ্য। তবে ২০ ডলার দিয়ে যাত্রার সময় পরিবর্তন করা যাবে।
দেশীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশের ন্যূনতম ভাড়া সাত হাজার ৪৮ টাকা। আর জিএমজিতে চেপে কলকাতায় যাতায়াত করতে হলে অন্তত আট হাজার ৭৮৪ টাকা ভাড়া গুনতে হবে।
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের যাতায়াত ভাড়া ১০ হাজার টাকা হলেও পাঁচ হাজার টাকার একটি বিশেষ ন্যূনতম ভাড়া রয়েছে। এটি অল্পদিনের জন্য বহাল থাকছে এবং শুধু ইউনাইটেডের নিজস্ব কার্যালয় বা কাউন্টার থেকে এই টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

ফ্রান্সের সামনে আয়ারল্যান্ড

প্লে-অফে আয়ারল্যান্ড ও ইউক্রেনকে এড়াতে চেয়েছিলেন রেমন্ড ডমেনেখ, কিন্তু পারলেন না ফ্রেঞ্চ কোচ। বিশ্বকাপে যাওয়ার লড়াইয়ে ফ্রান্সের সামনে পড়েছে জিওভান্নি ত্রাপাত্তোনির আয়ারল্যান্ড। ডাবলিনের ক্রোক পার্কে হবে প্রথম লেগের খেলা। আগ্রহ ছিল পর্তুগালের প্রতিপক্ষ কে হবে, সেটি নিয়েও। দক্ষিণ আফ্রিকার টিকিট পেতে হলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দলকে টপকাতে হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বাধা।
ফিফা সদর দপ্তর জুরিখে গতকাল হয়েছে ইউরোপের প্লে-অফের ড্র। ২০০৪ ইউরো চ্যাম্পিয়ন গ্রিসের সামনে দাঁড়াচ্ছে আন্দ্রেই শেভচেঙ্কোর ইউক্রেন। আর রাশিয়ার প্রতিপক্ষ স্লোভেনিয়া। প্রথম লেগের সবগুলো ম্যাচ হবে ১৪ নভেম্বর, দ্বিতীয় লেগ ১৮ নভেম্বর। ইউরোপ থেকে ৯টি দেশ ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপ। ওয়েবসাইট।
প্লে-অফ লাইনআপ
আয়ারল্যান্ড—ফ্রান্স, পর্তুগাল—বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, গ্রিস—ইউক্রেন, রাশিয়া—স্লোভেনিয়া (প্রথম লেগের স্বাগতিক দল প্রথমে)।

অর্থনীতি-মধ্যবিত্তের নিকাশ এবং আর্থিক আচরণ by আবু আহমেদ



আমাকে এক সাংবাদিক ঈদের আগে জিজ্ঞাসা করেছিল, মধ্যবিত্ত কারা। আমি বলেছিলাম, যারা নিজের ছোট্ট বাড়িতে থাকে অথবা দু-তিন বেডের ভাড়াবাড়িতে থাকে, নিজের একটা ছোট্ট গাড়ি আছে, ছেলেমেয়েদের মোটামুটি ভালো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলা মাধ্যমের স্কুলেই পড়ায় বা পড়িয়েছে। ছেলেমেয়েদের মধ্যে দু-একজন বড় হয়ে মা-বাবার সংসারে সাহায্য করা শুরু করেছে। বিদেশে বেড়াতে যেতে পারে না। তবে স্বদেশে বেড়ায়, আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেয় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমন করে রাখতে শিখেছে।
এবার সাংবাদিক প্রশ্ন করল, তাহলে আপনার দৃষ্টিতে উচ্চমধ্যবিত্ত কারা। আমি বললাম, ওরা—যারা পারিবারিক খরচের ক্ষেত্রে পরোয়া করে না, একাধিক গাড়ি ব্যবহার করে, ছেলেমেয়েদের উচ্চমূল্যের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ায়, স্কুলের গণ্ডি পার হলে তাদের পুরো খরচায় বিদেশে পাঠিয়ে দেয়, নিজেকে নিরাপদ করার জন্য নানাবিধ স্কিমের আশ্রয় নেয়, রাজনীতি না করলেও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট থাকে, দান-খয়রাতও করে এবং সুযোগ পেলে সম্পদের একটা অংশ বাইরেও নিয়ে যায়।
এবার সে বলল, উচ্চমধ্যবিত্ত ও ধনীদের মধ্যে পার্থক্য কী। আমি বললাম, পার্থক্য নেই, থাকলেও সামান্য, যে শতকোটি টাকার মালিক তাঁকে তুমি ধনী বলতে পার, আর যে এর অর্ধেকের মালিক তাঁকেও তুমি ধনী বলতে পার, আর যে এদের কাতারে শামিল হওয়ার জন্য সদা পেরেশান, তাঁকে তুমি উচ্চ-মধ্যবিত্ত বলতে পার। এবার তার প্রশ্ন, এরা কি কেউ গ্রামে থাকে? আমি বললাম, এদের কেউ কেউ গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, তবে থাকে না। এদের সন্তানদের সেই সম্পর্কও একদিন টুটে যাবে। তখন তারা হবে গ্লোবাল সিটিজেন বা বিশ্বনাগরিক। সেটা আবার কী? সেটা হলো আয়-রোজগার করবে এরা বাংলাদেশে কিন্তু ব্যয় এবং গচ্ছিত রাখবে বিদেশে, বিশেষ করে যেখানে তাদের সন্তানেরা লেখাপড়া করেছে বা চাকরি করছে। তাদের পাসপোর্ট থাকবে একাধিক, এদের জন্য ভিসার দরকার হবে না, অর্থ এদের বিশ্বনাগরিক বানিয়ে দিয়েছে।
এবার তার প্রশ্ন, বাংলাদেশ থেকে তো আয়কে বাইরে নেওয়া যায় না, তাহলে আপনি যে বলছেন ওরা অর্থ বানায় বাংলাদেশে, আর জমা করছে অন্য দেশে, এটা কী করে সম্ভব। আমি বললাম, এখনো তুমি অনেক জুনিয়র, বাঁকা পথে চিন্তা করতে শেখোনি, তাই এই প্রশ্ন করছ। ধানমন্ডি-গুলশানের আদি মালিকদের হাতে কি তাঁদের প্লটগুলো আছে? নেই, তাঁরা অতি উচ্চমূল্যে ডেভেলপার বা অন্যদের কাছে বেচে দিয়েছেন। আসল মালিকদের অনেকে এখন প্রয়াত। দু-চারজন এখনো বেঁচে থাকলে অর্থকড়ি বিদেশে রেখে শুধু নিজেই বাংলাদেশে পড়ে আছেন। অন্যদের অনেকে আবার যাওয়া-আসার মধ্যে আছেন। জিজ্ঞেস করলে বলবে, দেশের কাজে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন দুই মাস। এঁদের ছেলেমেয়ে বা স্ত্রীও যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। তাহলে এঁদের অর্থকড়ি কীভাবে বাংলাদেশে থাকবে! এঁদের সম্পত্তি বিক্রির অর্থ কি বিদেশে নিতে কোনো অসুবিধা হয়েছে? বিদেশি মুদ্রায় যত খুশি অর্থকে বিদেশে নিতে বাধা আছে, তবে যাঁদের অর্থ আছে, তাঁরা ঠিকই নিতে সক্ষম হচ্ছেন। বাংলাদেশে এখন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দ্রুত বিকাশ ঘটছে, তাদের কেউ কেউ গত এক দশকে উচ্চবিত্তে পা দিয়েছে। আর তাদের অনেকে পুরো পরিবারকে বিদেশে রেখে তাদের ভাষায় মানসম্পন্ন লেখাপড়া এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। এবার সে প্রশ্ন করল, তাহলে উচ্চবিত্তের লোকেরা কি দেশের ক্ষতি করছে? আমি বললাম, না, তুমি তাদের স্বাধীনতা দিয়েছ আর তারা ভোগের সেই অধিকারকে ব্যবহার করে তাদের আয়কে নিজেদের মতো করে ব্যয় করছে, সে ব্যয় আবার তোমার-আমার কাছে খারাপ লাগবে।
উচ্চমধ্যবিত্ত ও ধনিক শ্রেণীর এই আচরণ শুধু বাংলাদেশে নয়, অন্য দেশেও এমনটা ঘটছে। নাইজেরিয়ার দরিদ্র লোকেরা দেশপ্রেমিক। নাইজেরিয়ার তেলের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, এই নিয়ে তারা প্রতিবাদ করে। কিন্তু ওদের ধনিক শ্রেণীরা কালো ইংলিশম্যান। লন্ডনের রাস্তায় যে কালো শৌখিন লোকদের পাইপ টানতে দেখবে, ওদের মধ্যে অনেক নাইজেরীয় আছে। ওদের ধনী করছে তেলের পাচার করা অর্থ। এখন ওরা নিজেদের গ্লোবাল সিটিজেন ভাবে। অনেক পাকিস্তানিরও একই অবস্থা। তাদের মধ্যে যারা বিদেশে আছে, তারা দুই শ্রেণীতে বিভক্ত। এক. বিদেশি ধনী পাকিস্তানি, দুই. বিদেশি খেটে খাওয়া পাকিস্তানি। স্বদেশি ধনিক শ্রেণীর পাকিস্তানিরা স্বদেশে ব্যবসা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বটে। তবে অবস্থা খারাপ দেখলে বিদেশে নিরাপদ স্বর্গগুলোতে আবার আশ্রয় নেয়। অনেক বাংলাদেশিও দেখবে, মাসের পর মাস যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল শহরে আছে, তারা কোনো কাজ করে না, তাদের আয়ের উত্স কী? এই প্রশ্নের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের সরকারও কোনো দিন তাদের জিজ্ঞেস করেনি, বাংলাদেশ সরকারও করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার জিজ্ঞেস করেনি, কারণ বিদেশিরা অবাধে অর্থ ব্যয় করলে লাভ তাদেরই। আর বাংলাদেশ জিজ্ঞেস করেনি, কারণ বাংলাদেশ অক্ষম।
বিশ্বে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাচ্ছে প্রতিবছর, এর পুরোটা বিনিয়োগ নয়। একটা বিরাট অংশ হলো কথিত অর্থ পাচার। এই তো সেদিন পর্যন্ত সুইস ব্যাংকগুলো ছিল বিশ্ব চোরদের জন্য নিরাপদ প্রতিষ্ঠান। শুধু যুক্তরাষ্ট্র তাদের কতিপয় লোকের ট্যাক্স ফাঁকি দেখার জন্য সুইস ব্যাংককে বলেছে তোমরা তোমাদের গোপনীয়তা উন্মুক্ত করো, তখন তারা রাজি হয়েছে। বাংলাদেশ-পাকিস্তান-নাইজেরিয়া এমন একটা অনুরোধ করলে বলত, এটা করতে গেলে সুইজারল্যান্ডের কোর্টের আদেশ লাগবে। সুতরাং চোর ধরা অতো সহজ নয়। কোনো কোনো দেশ বিদেশে ঘুষ দেওয়ার বিপক্ষে আইন করেছে। কিন্তু তাতে কি বিদেশি কোম্পানিগুলোর ঘুষ দেওয়া বন্ধ হয়েছে? ছোট ঘুষখোরেরা ঘুষের টাকায় ঈদে কেনাকাটা করে বটে, কিন্তু বড় ঘুষখোরেরা ওই ব্যয়কে ব্যয়ই মনে করে না, তারা ঘুষের অর্থ বিদেশে পাচার করে। কী পরিমাণ অর্থ দরিদ্র দেশগুলো থেকে শুধু সন্তানদের লেখাপড়ার নামে পাচার হয়েছে, সেটা বোঝা যেত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সরকারগুলো যদি গত দুই দশকের ওই সব বিদেশি ছাত্রের ব্যাংক হিসাবগুলো পরীক্ষা করতে দিত।
এবার সে প্রশ্ন করল, তাহলে উচ্চমধ্যবিত্তের উত্থান কি অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয়। আমি বললাম, অবশ্যই প্রয়োজনীয়। ওদের উত্থান না ঘটলে উদ্যোক্তা শ্রেণীর বিকাশ ঘটবে না, আর উদ্যোক্তা শ্রেণী উদ্যোগ না নিলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে না। অর্থনীতিতে গতি না এলে তুমি যে অপেক্ষাকৃত গরিব লোকদের জন্য হা-হুতাশ করছ; ওদেরও কোনো উপকার করা যাবে না। আর সরকারের মাধ্যমে উদ্যোগের কথা বলছ? সেই অর্থ কে দেবে? নিশ্চয়ই ট্যাক্সদাতারা। তোমার অর্থনীতিতে উচ্চমধ্যবিত্ত আর ধনিক শ্রেণীর যদি বিকাশ না ঘটে তাহলে ট্যাক্স দেবে কারা? আরেকটি কথা মনে রেখো, সরকার দিয়ে সব কাজ করাতে নেই, সব কাজ করাতে গেলে ব্যয়টা অনেক বেশি হবে। এই যে ঘুষের কথা বলছ, ওরই উত্স তো সেই সরকারি কেনাকাটা। ঘুষ-দুর্নীতি—এগুলোকে কমিয়ে রাখার জন্য প্রায় সব দেশেই প্রতিরোধ কমিশন আছে। তোমার দেশেও আছে, তবে কাজে করছে কি না, তা নিয়েও একটা রিপোর্ট করতে পারো।
এবার তার প্রশ্ন, তাহলে দেশের অর্থ দেশে রাখার উপায় কী? বললাম, পূর্ণ প্রতিরোধক কোনো উপায় নেই। রাখা না-রাখাকে মানুষের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিতে হবে। অর্থনীতিশাস্ত্র বলে, যে অর্থনীতিতে মুনাফা বেশি, সেই অর্থনীতিতে পুঁজি ও বিনিয়োগ প্রবাহিত হয়; সেই অর্থে বাংলাদেশের পুঁজি বাংলাদেশেই থাকা উচিত। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছে না। ঘটবে না যদি অন্যান্য উপাদান পক্ষে না থাকে। সেই সব উপাদান হলো—আয়কে বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধগুলো আরও উদারীকরণ করা, দেশের মধ্যে একটা নিরাপত্তার আবহ তৈরি করা, বিচারব্যবস্থা নিরপেক্ষকরণ ইত্যাদি। তোমার-আমার জাতি যদি নিত্য যুদ্ধে লিপ্ত থাকে, তাহলে ধনিক শ্রেণী অন্যভাবে তাদের নিরাপত্তা খুঁজবে। এই যে দেখছ না, যেসব দেশ বিভিন্ন কারণে বিরূপ অবস্থার মধ্যে আছে, ওই সব দেশে কি ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছে? যুদ্ধের মধ্যে যে দু-একটা বিনিয়োগ হচ্ছে, কিন্তু সেই বিনিয়োগের মূল্য কত? সেই জন্য বলছিলাম, একটা শান্তিময় পরিবেশ তোমার দেশের অর্থকে তোমার দেশে রাখার জন্য একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। অর্থনীতি খারাপ হলে দরিদ্র লোকদের সংখ্যা আরও বাড়বে। সে অবস্থায় হতাশাও বাড়বে।
আর সেই বাংলাদেশের কথা একবার চিন্তা করে দেখো। এমনিতেই এই দেশ এত লোক নিয়ে ভালো চলার কথা নয়। আর তুমি তো ঈদ উপলক্ষে ভোক্তাদের আচরণ নিয়ে রিপোর্ট করার জন্য আমাকে প্রশ্নগুলো করেছ। ভোক্তা বেশি ভোগ করলে অর্থনীতি ভালো যাবে বলে তত্ত্ব বলে। দেখছ না, ওবামা আমেরিকান লোকদের আবার ভোক্তা বানানোর জন্য কত প্রণোদনা প্যাকেজ দিচ্ছেন! আর ভোক্তারাও আসবে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত থেকে। এক দশক আগে ঢাকার জুতার বাজারে উচ্চমূল্যের জুতা পাওয়া যেত না। দোকানিরা মনে করত, লোকদের কেনার সামর্থ্য নেই। আর এখন মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত হুমড়ি খেয়ে পড়ছে দামি পণ্য কেনার জন্য। তবে এগুলো অর্থনীতির জন্য ভালো লক্ষণ।
আবু আহমেদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

রোনালদিনহো তাহলে স্বরূপে ফিরছেন?

সবে তো শুরু। এখনই পয়েন্ট তালিকার হিসেব কষা বোকামি। কিন্তু প্রিয় দলকে পয়েন্ট টেবিলের আট নম্বরে দেখতে নিশ্চয়ই ভালো লাগছে না এসি মিলান সমর্থকদের। তাও ভাগ্য। মিলানের জায়গা হতে পারত ১৫ নম্বরে! যদি না সঠিক সময়ে জ্বলে উঠতেন দুবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় রোনালদিনহো। এই ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকারের নিজেকে ফিরে পাওয়ার দিনে রোমাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে মিলান। গত আট ম্যাচে এটি তাদের মাত্র তৃতীয় জয়।
শুরু থেকেই খোঁড়াচ্ছে মিলান। কার্লো আনচেলত্তি চেলসিতে যাওয়ার পর কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয় মিলানের সাবেক ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় লিওনার্দোকে। ‘সিরি আ’তে জয় দিয়ে অভিষেক ঘটিয়েই পথ হারাতে শুরু করেন তিনি। পরের ছয় ম্যাচে পেয়েছেন মাত্র একটা জয়।
অষ্টম ম্যাচেও পরাজয়-শঙ্কায় কেঁপে উঠেছিল সান সিরো। তিন মিনিটের মাথায় রোমাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন জেরেমি মেনেজ। সেই গোল মিলানকে শোধ করতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৫৭ মিনিট পর্যন্ত। পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান রোনালদিনহো। ১০ মিনিট পর তাঁর বানিয়ে দেওয়া বল থেকেই জয়সূচক গোলটি করেন স্বদেশি আলেকজান্ডার পাতো।
অনেক দিন পর রোনালদিনহোকে সেই পুরোনো ঝলকে দেখা গেছে। আনচেলত্তি আর কাকাকে হারানোর পর মিলানও অনেক দিন পর পেল আনন্দের উপলক্ষ। ম্যাচ শেষে রোনালদিনহো জানিয়েছেন, এখন থেকে নিয়মিত এই চেহারায় দেখা যাবে তাঁকে, ‘এখন আমি বেশ ভালো বোধ করছি। অনেক পরিশ্রমের পর আমি শারীরিক-মানসিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে বেশ ভালো অবস্থায় আছি। আজ রাতের মতো আমি খেলে যেতে চাই, মিলানের সমর্থকদের খুশি করতে চাই।’
পাতোর সঙ্গে আক্রমণভাগে তাঁর জুটিটা বেশ জমে উঠবে বলেও ধারণা রোনালদিনহোর, ‘আজ রাতে আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি, পাতো আর আমি একসঙ্গে খেলতে পারি। কাজটা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যায়। আমি বল বানিয়ে দিতে পছন্দ করি, আর পাতো পছন্দ করে গোল করতে।’
পেনাল্টি থেকে গোল করাটাকে সব সমালোচনার জবাব হিসেবেও দেখছেন এই ২৯ বছর বয়সী। তবে খেলার বাইরে এখন বেশি দৃষ্টি দিতে চান না। খেলাটা নিয়েই পড়ে থাকতে চান। আর চান, যেন আক্রমণভাগে পছন্দের জায়গায় তাঁকে খেলতে দেওয়া হয়, ‘বাঁ দিকে খেলি আর আক্রমণভাগে খেলি—এটা আমার জন্য কোনো সমস্যা নয়। বাঁ দিকে আমি অনেক খেলেছি। সেখানে আমি স্বচ্ছন্দে খেলতে পারি। কিন্তু পাতোর সঙ্গে খেলার পর আমার মনে হয়েছে, আমরা আরও ভালো কিছু করতে পারি।’
‘ভালো কিছু’র আশাই তো করছে মিলান সমর্থকেরা। চাইছে, রোনালদিনহো যেন স্বরূপে ফেরেন। আগামীকালই তো চ্যাম্পিয়নস লিগের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ।

উচ্চশিক্ষা -বিলেতের কলেজ, হুঁশিয়ার by শান্তনু মজুমদার

ক্ষুধাপেটে লন্ডনের টিউব স্টেশনে বা পার্কে বসে থাকে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় আসা অনেক তরুণ। সামান্য খাবার আর মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার আশায় পূর্ব লন্ডনের একাধিক মসজিদে আশ্রয় নিচ্ছে তারা। যেনতেন মজুরিতে একটি কাজের জন্য বাঙালিদের পরিচালিত জব সেন্টারগুলোতে সারা দিন চষে বেড়াচ্ছে স্টুডেন্ট ভিসায় আসা এসব তরুণ। শুধু থাকা-খাওয়ার বিনিময়ে বাঙালি মালিকানার ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোতে কাজের খোঁজে মরিয়া হয়ে আছে এসব তরুণ। এগুলো কোনো বানানো বা বাড়িয়ে বলা গল্প নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রিকলেইন, হোয়াইট চ্যাপেলসহ পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এসব দৃশ্য চোখে পড়ছে। অসমর্থিত সূত্রে প্রকাশ, উপায়ন্তর না দেখে দু-একজন নাকি রাস্তায় মানুষজনের কাছ হাত পাততে শুরু করেছে। এটা নিছক গুজব হতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোথায় ঠেকলে এ ধরনের গুজব ছড়ায়?
নিজের খরচে থাকা-খাওয়ার অঙ্গীকার করে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বিলেতের কলেজগুলোতে আসার আগে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর তরুণ-তরুণীদের কয়েকটি বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করা দরকার। পরিবারের সম্বল জমিটুকু বর্গা দিয়ে কিংবা বাবার পেনশনের টাকা খরচ করে স্টুডেন্ট ভিসা জোগাড়কারীদের সঙ্গে ইতিমধ্যে আমাদের লন্ডন শহরে দেখা হয়ে গেছে। মনে রাখতে হবে, প্রয়োজন পড়লে বাড়ি থেকে যাদের জন্য অর্থ-কড়ি আসবে এবং যাদের জন্য আসবে না, এই দুই গ্রুপের ঝুঁকির মাত্রা আলাদা।
বিলেতের বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, স্টুডেন্ট ভিসায় এসে আপনি কত দিনে দিন-চালানোর মতো একটি কাজ পাবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সুতরাং অনির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত থাকা-খাওয়া-যাতায়াত খরচের প্রস্তুতি থাকা চাই। শীত চলে এসেছে। গ্যাস-লাইট খরচ বেড়ে যাবে বিধায় আবাসন খরচ কিছুটা হলেও বাড়বে এখন থেকে। ‘একবার পৌঁছাতে পারলে হয়, তারপর একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে’ মার্কা ‘আশ্বাস বাণী’র ওপর নির্ভর করে বিলেতে আসাটা সাধারণ ঘরের শিক্ষার্থীদের এখন ঠিক হবে না। আসতে চাইলে আসতে হবে সোজা কথায় নিজের টাঁকের ওপর নির্ভর করে।
মন্দার কারণে ব্রিটেনের ছোট-বড় সব ধরনের চাকরির বাজার খুবই খারাপ। হাতেগোনা ব্যতিক্রম বাদ দিলে চলছে ছাঁটাই আর শ্রমঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার পর্ব। পুরো ব্রিটেনের ব্যাপারে বলা যাচ্ছে না, তবে লন্ডনে বাঙালি শিক্ষার্থীদের কাজের জায়গাগুলো মোটামুটি নির্ধারিত। রিটেইল শপের মধ্যে মূলত সেইন্সবুরিস আর টেসকো, ফাস্টফুডের মধ্যে আছে কেএফসি আর ম্যাকডোনাল্ডস। এই সেদিন পর্যন্ত দুটো বৈকালিক ফ্রি পত্রিকা ছিল: লন্ডন লাইটস ও লন্ডন পেপার। শেষেরটি বন্ধ হয়েছে গত মাসের মাঝামাঝিতে, সঙ্গে করে নিয়ে গেছে বেশ কিছু বাঙালি ছাত্রছাত্রীর কাজের সুযোগ। যতটুকু জানা যায়, সামান্য বেতন ও মূলত কমিশনের ভিত্তিতে গ্যাস-বিদ্যুত্-টেলিফোনের মতো সেবাগুলোর জন্য গ্রাহক জোগাড়ের কাজও করে কিছু বাঙালি শিক্ষার্থী। আর বাকি থাকল ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টগুলো। বেশির ভাগই বাঙালি মালিকানাধীন হওয়ার কারণে অনেক বাঙালি শিক্ষার্থীর জন্য এত দিন পর্যন্ত পছন্দ-অপছন্দ মিলিয়ে এক ধরনের ভরসার জায়গা ছিল রেস্টুরেন্টগুলো। এর বাইরেও বহু জায়গাতেই বাঙালি শিক্ষার্থীরা কাজকর্ম করলেও, দলে দলে কাজ করার সুযোগ পাওয়ার মতো প্রতিষ্ঠান সম্ভবত এ কটিই। শোনা যায়, নানা কিসিমের বাণিজ্যিক উদ্যোগের সঙ্গেও বিভিন্নভাবে জড়িত হয়েছে কেউ কেউ।
ব্যাপার হলো, ওপরে উল্লিখিত প্রতিটি ক্ষেত্রেই মন্দাজনিত কারণে কাজের সুযোগ কমেই চলছে। এ ছাড়া রিটেইল বা ফাস্টফুড চেইনগুলো নিয়োগদানের ক্ষেত্রে ক্রমেই অনলাইন আবেদন পদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে থাকার কারণে ‘দেশি ভাই, দেশি বোন’ ধরে বাঙালি শিক্ষার্থীদের টুকটাক চাকরি পাওয়ার সুযোগও কমে গেছে ব্যাপকভাবে। এ ছাড়া ভাষা ব্যবহারে অধিকাংশের মধ্যেই কম-বেশি সমস্যা। বিলেতে কাজের অভিজ্ঞতার অভাব আর শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে না পারার আইনটি ইদানীং বেশ কড়া হয়ে ওঠার বাস্তবতায় নবাগতদের জন্য পরিস্থিতি যে তুলনামূলকভাবে কঠিন, তা বোধের অগম্য হওয়ার কারণ নেই।
এর আগেও বিচার-বিবেচনার ব্যাপার আছে। কলেজগুলোতে ভর্তি হয়ে স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়ার তোড়জোড় করার আগে খুব ভালোভাবে, আসলেই খুব ভালোভাবে খোঁজখবর করাটা খুব জরুরি। পড়ালেখার ইচ্ছা থাকলে, আবার লিখছি লেখাপড়ার ইচ্ছা থাকলে এজেন্সিগুলোর কথায় মুগ্ধ হয়ে তাড়াহুড়ো করা যাবে না। এমনকি কলেজগুলোর সুন্দর সুন্দর ওয়েবসাইটের ওপরও পুরো নির্ভর না করে পরিচিত কেউ থাকলে তাদের মাধ্যমে খবর নেওয়াটা জরুরি। পরিচিতদের কাছে কলেজের ফটো পাঠানো বা ইউটিউবে খানিকটা ভিডিও আপলোড করার অনুরোধ করা যেতে পারে। মাল্টিম্যাপ ডটকম নামের ওয়েবসাইটিতে ঢুকে পোস্টকোডটি টাইপ করে কলেজটি কোনো এলাকায় অবস্থিত বা আশপাশের এলাকা সম্পর্কে হালকা একটা ধারণা পাওয়া সম্ভব। এটা বিশেষ কিছু না, তবে আজকাল কোথাও যাওয়ার আগে ব্রিটেনের মতো দেশে, এটা একটা সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সার্চইঞ্জিন গুগুল ব্যবহার করেও এ ক্ষেত্রে কিছু সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। মোট কথা, প্রতিষ্ঠানের আকার-আয়তন, মালিকানা, পাঠদানের মান, পাঠদানকারীদের বিস্তারিত বিবরণ—এসব ব্যাপারে যত বেশি জেনে নেওয়া যায়, ততই ভালো। উল্লেখ্য, কোনো কোনো কলেজের ওয়েবসাইটে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ফটো আপলোড করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে পূর্ব লন্ডনের কলেজগুলোতে পড়তে আসা বহু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অবিশ্বাস্য অঙ্কের খরচের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ টিউশন ফি, এজেন্সির কমিশন, বিমান ভাড়াসহ যাবতীয় ব্যয় বাবদ আট থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এসব খবরে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন থাকলেও হয়তো থাকতে পারে; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা খরচ করে লন্ডনের কলেজে পড়তে আসে। কাজকর্ম পাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ-অনিশ্চয়তার মুখে শুরুতেই এত বড় বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে ঠেকাবে সে ব্যাপারে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অবশ্যই ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
শান্তনু মজুমদার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক। বর্তমানে ইনস্টিটিউট অব কমনওয়েলথ স্টাডিজে গবেষণারত।

ইউনুসকেই অধিনায়ক রেখে দিল পিসিবি

ইউনুস খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি প্রধান ইজাজ বাট উল্টো জানিয়ে দিয়েছেন, এখন তো বটেই, শারীরিকভাবে ফিট থাকলে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্তই পাকিস্তান দলের অধিনায়ক থাকবেন ইউনুস।
দিনকয়েক আগে জাতীয় সংসদের ক্রীড়াবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভায় পাকিস্তানের অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন ইউনুস, জমা দেন পদত্যাগপত্র। এর পর গত বৃহস্পতিবার ইউনুস দেখা করেন পিসিবি প্রধানের সঙ্গে। পরদিন পিসিবি প্রধান এ নিয়ে আলোচনায় বসেন প্রধান নির্বাচক ইকবাল কাসিম, কোচ ইন্তিখাব আলম, টিম ম্যানেজার ইওয়ার সাঈদ, সহযোগী ম্যানেজার শাফকাত রানা ও সহ-অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে। এই সভায় ইউনুসকে যোগ দিতে বলা হলেও তিনি আসেননি।
ইউনুসের অধিনায়কত্বের ব্যাপারটি আলোচনায় চলে আসে ক্রীড়াবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান জামসেদ খান দাস্তির একটি বক্তব্যের পর। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারায় পাকিস্তান দল এবং ইউনুসের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছিলেন তিনি। তুলেছিলেন ম্যাচ পাতানোর অভিযোগও। তবে দাস্তির অভিযোগ হালে পানি পায়নি। পিসিবি তো ইউনুসের সঙ্গে আছেই, কালকের সিদ্ধান্তের আগে পাকিস্তানের ক্রীড়ামন্ত্রীও জানিয়ে দিয়েছিলেন, জাতীয় দলের অধিনায়ক কে হবেন, সেটা সম্পূর্ণই বোর্ডের ব্যাপার। এ ব্যাপারে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
কালকের সভায় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিকেও দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক থাকবেন তিনি।

গেইলকে ছাপিয়ে বোল্ট

গেইলকে ছক্কা হাঁকিয়ে, ১০ বলে ১৩ রান করে
ড্রেসিংরুমে ফিরলেন ব্যাটসম্যান উসাইন বোল্ট
অনেক দিন পর হাতে ব্যাট তুলে নিলেন বোল্ট। এবং ক্রিস গেইলকে ছক্কা! অনেক দিন পর হাতে বল তুলে নিলেন বোল্ট। ক্রিস গেইলকে বোল্ড!
পরশু জ্যামাইকার উপকূলীয় শহর ডিসকভারি বেতে নিজের ক্রিকেট প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন বিশ্বের দ্রুততম মানব। সুবিধাবঞ্চিত স্কুলশিশুদের জন্য ক্রীড়া সরঞ্জামাদি আর কম্পিউটারের অর্থ জোগাতে একটা প্রদর্শনী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিলেন গেইল। ১৫ ওভারে এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ট্রেলনি অল স্টার একাদশের নেতৃত্ব দিয়েছেন ১০০ ও ২০০ মিটারের বিশ্ব রেকর্ডধারী।
তাঁর দলের খেলা পড়েছিল গেইলের কিংস্টন অ্যান্ড সেন্ট অ্যান্ড্রু অল স্টার একাদশের বিপক্ষে। টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন বোল্ট। রানআউট হওয়ার আগে ১০ বলে করেছেন ১৩ রান। এর মধ্যে ছিল গেইলের অফস্পিনে উড়িয়ে মারা সেই বিশাল ছক্কা।
বল হাতেই বেশি ঝলক দেখিয়েছেন এককালের পেসার বোল্ট। প্রথম বলেই গেইলকে স্বাগত জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজীয় কায়দায় একটা বাউন্সার দিয়ে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তাঁর দল জিততে পারেনি। জেরোম টেলরের সেন্ট এলিজাবেথ অল স্টার একাদশকে ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে গেইলের কিংস্টন অ্যান্ড সেন্ট অ্যান্ড্রু একাদশই।
বেইজিং অলিম্পিকে স্প্রিন্টের সোনাত্রয়ী জেতা বোল্ট জানিয়েছেন, গেইলের বলে ছক্কা মেরে যতটা মজা পেয়েছেন, তার চেয়েও বেশি মজা পেয়েছেন গেইলকে বাউন্সার মেরে, ‘আমি ক্রিসকে আগেই বলে রেখেছিলাম সাবধানে দেখেশুনে খেলতে। কারণ আমি ওকে বাউন্সার দেব। কিন্তু ও ঠিক বিশ্বাস করেনি।’ বোল্টের বাউন্সারে মুগ্ধ দুই সাবেক গ্রেট কার্টলি অ্যামব্রোস আর কোর্টনি ওয়ালশ। অ্যামব্রোস তো বলেই দিলেন, ‘ক্রিস গেইলকে করা প্রথম ডেলিভারিটি আমার খুব পছন্দ হয়েছে। শর্ট এবং চমকে দেওয়া ডেলিভারি ছিল ওটা। ও সত্যিকারের এক অ্যাথলেট যে ক্রিকেট, ফুটবল—সব খেলতে ভালোবাসে। সব খেলাতেই হয়তো দুর্দান্ত খেলে না, কিন্তু মানিয়ে যায় বেশ। ব্যাট হাতেও ও দারুণ।’
এদিন বোল্ট যেন ফিরে পেয়েছিলেন তাঁর হারানো শৈশব, ‘আমি ছেলেবেলা দারুণ ক্রিকেট খেলতাম। আমার ক্রিকেট কোচই আমাকে স্প্রিন্টে নামার পরামর্শ দেন, কারণ আমি খুব জোরে দৌড়ে এসে বল করতাম। স্কুলের ক্রিকেট দলের হয়ে আমি ওপেনও করতাম। কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেছে ক্রিকেট খেলিনি। ছক্কা মেরে তো দারুণ মজা পেয়েছি।’ এর পর পেশাদার ব্যাটসম্যানের মতো বললেন, ‘আমার আরও কিছুক্ষণ উইকেটে থাকা উচিত ছিল!’
ব্যস্ত সময়ের ভেতরে এসে তাঁর দাতব্য কাজে অংশ নেওয়ায় বোল্টসহ সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন গত জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা গেইল, ‘ভক্তদের জন্য ওকে ক্রিকেট খেলতে দেখা দারুণ কিছু। দারুণ একটা দিন কাটালাম আমরা। আশা করি, ওকে সামনের বছরও পাব।’ আর বোল্টও দিলেন আশ্বাস, ‘যেকোনো দাতব্য কাজের জন্য আমি এক পায়ে খাড়া।’

আবাহনীর সামনে মোহামেডান না তামিম?

পাশাপাশি তাঁরা আজ একে-অন্যের ‘শত্রু’, মুখোমুখি
সাকিব আল হাসানকে পেয়ে আজ কতটা তেতে উঠবে আবাহনী? নাকি সাকিব নন, আবাহনীকে তাতিয়ে দেবে প্রতিপক্ষের একজন!
আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে লড়াইয়ের ভেতর লড়াই থাকে। আজ সেটির একটি হয়ে উঠতে পারে আবাহনী বনাম তামিম ইকবাল দ্বৈরথ। দলবদলের আগে আবাহনীতে থাকার কথা দিয়েও তামিম শেষ পর্যন্ত চলে গেছেন সাদা-কালো শিবিরে। এ নিয়ে কথার যুদ্ধ কম হয়নি দুই পক্ষে। তবে সত্যিকারের যুদ্ধটা আজ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বেলা আড়াইটায় শুরু বিগ বস প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি লিগের প্রথম সেমিফাইনালটা যতটা না আবাহনী-মোহামেডানের, এর চেয়ে বেশি যেন আবাহনী-তামিমের।
তবে তামিম ব্যাপারটাকে পাত্তাই দিচ্ছেন না, ‘মনে আছে, মাশরাফি ভাই একবার আবাহনী ছেড়ে বিমানে গেলে তাঁকে আবাহনী সমর্থকেরা গ্যালারি থেকে কম কথা বলেনি। তবে মনে হয় না আমার ক্ষেত্রে সে রকম কিছু হবে। সবাই নিশ্চয়ই খেলোয়াড়ি দৃষ্টিভঙ্গিতেই নিয়েছে ব্যাপারটা।’ আবাহনী-মোহামেডান প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও কোনো ব্যাপার মনে হচ্ছে না এই বাঁহাতি ওপেনারের কাছে, ‘এ ম্যাচে বাড়তি কিছু আছে বলে মনে করি না। কেউ ভালো খেলবে কেউ খারাপ খেলবে। সাকিব আসাতে আবাহনীর শক্তি বাড়বে। তবে আমাদেরও প্রমাণ করার কিছু নেই।’ মোহামেডান অধিনায়ক খালেদ মাসুদ একমত তামিমের সঙ্গে, ‘এ ম্যাচে আমি আমাদেরই ফেবারিট বলব। গত পাঁচ ম্যাচের পারফরম্যান্সও তাই বলে।’
দর্শক টানতে দারুণ সফল এবারের টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগ। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে আজ গ্যালারি ফাঁকা থাকার আশঙ্কা কমই। মাসুদের আশা, ভরা গ্যালারিও তার দলের খেলোয়াড়দের জন্য চাপ হবে না, ‘দর্শক আসবে, স্বাভাবিক। তবে চাপ নয়, আমি মনে করি, আমার খেলোয়াড়েরা ব্যাপারটা উপভোগ করবে। তামিম, আশরাফুল, আফতাবরা এমন চাপ নিয়ে খেলে অভ্যস্ত।’
আজ দর্শক-বিনোদনের আসল নায়ক কে হবেন? সাকিব, আশরাফুল, আফতাব না তামিম! পরিসংখ্যান শেষ নামটারই পক্ষে। গ্রুপ পর্বের পাঁচ ম্যাচে ৬০, ৬৯, ৪, ৪২ ও অপরাজিত ৭০ রান। তামিমের কাছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যেন ডালভাত! রহস্য ভেদ করলেন নিজেই, ‘গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের কোচ জেমি সিডন্সের টিপস পেয়েই বদলেছি নিজেকে। আগে নেমেই এলোপাতাড়ি মারতে যেতাম। কোচ বললেন, মারো, তবে শট যেন হয় ক্রিকেটীয়। এখন সেটাই করার চেষ্টা করছি। আগে মারার ধরনটা ভুল ছিল।’
মোহামেডান দুবারের চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে আবাহনী টি-টোয়েন্টির শিরোপা দেখেছে একবার। এবার সূর্যতরুণ আর গাজী ট্যাংকের কাছে হেরে সেমিফাইনাল নিয়েই শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল তারা। কুঁচকির ইনজুরির কারণে এখন পর্যন্ত আবাহনীর হয়ে মাঠে নামতে না পারা সাকিব আল হাসানের তো এই কয়দিন দলের খেলা দেখে সেমিফাইনালে ওঠাটাই স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে, ‘আমরা সেমিফাইনালে গেছি এটাই তো বড়! আমাদের হারানোর কিছু নেই। আর আবাহনী মূলত ওয়ানডে লিগের জন্যই দল গড়েছে, টি-টোয়েন্টির জন্য নয়।’
সাকিব তার পরও আবাহনীর ফাইনালে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী, ‘মোহামেডান দারুণ দল। তামিম তো অসাধারণ খেলছে। আমরা শুরুটা ভালো করতে পারলে কাল (আজ) হয়তো সবই বদলে যাবে।’ দলকে ফাইনালে তোলার দায়িত্বটাও আজ নিজের কাঁধে নিচ্ছেন তিনি, ‘যদি খেলি সেমিফাইনালে আমিই নেতৃত্ব দেব।’
তামিমের মতো আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনা স্পর্শ করছে না সাকিবকেও। তবে তিনি চিন্তিত নিজেকে নিয়ে, ‘অনেক দিন পর খেলতে নামব। প্রতিদিন যে রকম দর্শক দেখছি...। নিশ্চয়ই আমার কাছেও কিছু প্রত্যাশা থাকবে তাদের। বলতে পারেন একটু নার্ভাস... একটু এক্সাইটেডও।’
সাকিবের জন্য ব্যাপারটা ব্যক্তিগত হতে পারে, তবে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ মানে সবার জন্যই স্নায়ুবিনাশী কিছু। আর সে ম্যাচ যদি হয় সেমিফাইনাল, একটা অন্য ব্যাপারও চলে আসে। যেকোনো একটা দল বাদ পড়বে। সেটি আবাহনী, না মোহামেডান?

মালদ্বীপের সাগরতলে বৈঠক -জলবায়ু বিপর্যয় রোধে এখনই সক্রিয় হতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ বিপদ সম্পর্কে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে সমুদ্রের পানির নিচে ডুবন্ত অবস্থায় মালদ্বীপ মন্ত্রিসভার যে বৈঠক হয়েছে, তাকে শুধু প্রতীকী অর্থে বিবেচনা করলেই চলবে না। যদি বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর বিবেক জাগ্রত না হয় তাহলে মালদ্বীপ তো বটেই, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলও সাগরে ডুবে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বে দেখা দেবে অভাবনীয় জলবায়ু-উদ্বাস্তু, যা সৃষ্টি করবে নতুন নিরাপত্তা-সমস্যা।
দ্বীপরাষ্ট্রটি আগামী ১০০ বছরে চোখের সামনে ধীরে ধীরে ডুবে যাবে, সভ্যতার দাবিদার আজকের বিশ্ব কি এটা মেনে নিতে পারে? সাগরতলে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের সব দেশকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আসতেই হবে। সম্মেলন ব্যর্থ হলে কী হবে? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘তাহলে আমরা মারা যাব।’ এই একটি বাক্যের মধ্যে নিহিত রয়েছে আগামী বিশ্বের মর্মান্তিক পরিণতির কথা।
কয়লা-গ্যাসসহ জীবাশ্ম-জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস জমা হয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদি উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়, তাহলে বিশ্বকে রক্ষা করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। কিন্তু ১৯৯৭ সালে কিয়োটো প্রটোকলে বিভিন্ন দেশ যে হারে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছিল, বেশির ভাগ দেশই তা মানেনি, অনেকে বরং বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা জেনেশুনে বিষপানের মতো ব্যাপার।
যুক্তরাষ্ট্রসহ শিল্পোন্নত দেশ এবং চীন-ভারতের মতো শিল্পোন্নয়নে অগ্রগামী দেশগুলো কার্বন গ্যাস কমাতে খুব আগ্রহী নয়। তারা দেখছে, তেল কম পোড়ানো মানে কম প্রবৃদ্ধি। এ জন্য তারা জ্বালানি-দক্ষতা বাড়িয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রযুক্তি বের করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে যদি লক্ষ্য অর্জন হয়, ভালো। পাশাপাশি বনায়ন বৃদ্ধি, বিদ্যমান বনরাজি রক্ষা এবং বিদ্যুত্সাশ্রয়ী অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। কিন্তু সব দেশ যদি একসঙ্গে অঙ্গীকার না করে তাহলে বিচ্ছিন্নভাবে এটা সম্ভব নয়; প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থার।
পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে মালদ্বীপ, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সার্বিক সাহায্য প্রদান নিশ্চিত করতে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আর্থিক সহযোগিতা তো লাগবেই, সেই সঙ্গে জলবায়ুর উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থাও করতে হবে। মনে রাখতে হবে, জলবায়ু-অপঘাতে যদি মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ মরে, তাহলে উন্নত দেশগুলোও বাঁচতে পারবে না। এই বিপদ সবার, মুক্তির উপায়ও বের করতে সবাই মিলে।

ম্যারাডোনাকে ক্রুইফ

হুলিও গ্রন্ডোনা যতই আগলে রাখার চেষ্টা করুন, ডিয়েগো ম্যারাডোনার সমালোচকের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছেই। এবার যোগ দিলেন খোদ ইয়োহান ক্রুইফের মতো কিংবদন্তি। সাবেক ডাচ ফুটবলার সাফ জানিয়ে দিলেন, সাংবাদিকেরা যা-ই লিখে থাকুক না কেন, প্রত্যুত্তরে ম্যারাডোনার আচরণ কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না।
‘আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে উঠে যাওয়ায় আমি ভীষণ আনন্দিত। কিন্তু আমি ওদের দলের কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনার আচরণে মোটেও সন্তুষ্ট নই। উরুগুয়ে-আর্জেন্টিনা ম্যাচের পর ও যেভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হলো তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না’—ডাচ পত্রিকা ডি টেলিগ্রাফকে বলেছেন বার্সেলোনার এই সাবেক তারকা খেলোয়াড় ও কোচ।
তিনি যে এই বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের আদর্শ, বিশ্বের অগুনতি কিশোর-তরুণ যে তাঁকে অন্ধের মতো অনুসরণ করে—এই কথাটা সব সময় ম্যারাডোনাকে মনে রাখা উচিত বলে মনে করেন ক্রুইফ, ‘ওর মতো মানুষ সবার জন্য আদর্শ। বিশেষ করে তরুণদের কাছে। তাই ম্যারাডোনার এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি।’
আরও অনেকের মতো নেদারল্যান্ডের সোনালি প্রজন্মের এই ফুটবলারও প্রার্থনা করছিলেন, আর্জেন্টিনা যেন সব সংশয় মুছে বিশ্বকাপে ওঠে। উরুগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করায় তিনি হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন, ‘বিশ্বকাপের জন্যই আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, জার্মানি আর ইতালির মতো আর্জেন্টিনারও প্রতিটি বিশ্বকাপে খেলা উচিত ঐতিহাসিক কারণেই। তারা বিশ্বকাপে যাচ্ছে। ফুটবল-ভক্ত হিসেবে এটা আমার জন্য পরম আনন্দের।’

কথা নয়, জনগণ কাজ দেখতে চায় - দুর্নীতি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী

শনিবার আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য নিরসন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোর কণ্ঠে বলেছেন, দুর্নীতিবাজ যে রাজনৈতিক দলেরই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই হুঁশিয়ারি দুর্নীতিজর্জরিত এই দেশের জনগণের কাছে উত্সাহব্যঞ্জক হওয়ার কথা। কিন্তু এ কথা আর নতুন নয় বলে খুব একটা উত্সাহ বোধ করা যায় না।
জনগণ দেখে আসছে, ক্ষমতাসীন সব সরকারই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠে কথা বলে, কিন্তু দুর্নীতি বন্ধ হওয়া দূরে থাক, তা বরং ক্রমাগত বেড়েই চলে। আর সেসব দুর্নীতি করে বা তার সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জড়িত থাকে সরকার বা ক্ষমতাকেন্দ্রের মধ্যকার ও তার চারপাশের লোকজনই। কিন্তু সেই সরকার যত দিন ক্ষমতায় থাকে, তত দিন দুর্নীতিবাজদের বিচার দূরে থাক, অভিযোগ পর্যন্ত আমলে নেওয়া হয় না। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর সেই সরকারের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন বলেছেন, জনগণের সম্পদ লুট করে যাঁরা বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা সম্ভবত বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে। এই ধারাতেই দেশ চলছে—অতীতের ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির কথা প্রচার করা, মামলা করা। আর যাঁদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাঁরা বলেন, এগুলো রাজনৈতিক বিদ্বেষপ্রসূত মিথ্যা মামলা; রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করাই এসবের উদ্দেশ্য। এভাবে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমনবিষয়ক সব কথাবার্তা অনেকটাই প্রহসনের রূপ গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বলছেন, দলনির্বিশেষে কোনো দুর্নীতিবাজকেই ছাড় দেওয়া হবে না, এটা তাঁর সরকার কীভাবে করবে? কদিন আগেই খবর বেরিয়েছে, স্বয়ং দুদকের চেয়ারম্যান বলেছেন যে এই প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার প্রক্রিয়া চলছে; এর থাবার নখগুলো কেটে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। অর্থাত্ দুদককে আরও শক্তিশালী করার নামে সরকারের তৈরি এক কমিটি দুদক-আইন সংশোধনের জন্য যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হলে দুদকের ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে কমে যাবে। যেমন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে। দুর্নীতিসংক্রান্ত সরকারি গোপন নথিপত্র দেখার যে ক্ষমতা দুদকের রয়েছে, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আইন সংশোধন করলে দুদকের সেই ক্ষমতাও আর থাকবে না। তাহলে প্রধানমন্ত্রী যে বলছেন, দুদক স্বাধীন, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করবে—সেটা কীভাবে হবে? সরকারি খাতের কোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধেই তো দুদক ব্যবস্থা নিতে পারবে না পূর্বানুমতির অভাবে। আর সরকারের রুই-কাতলাদের দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের পূর্বানুমতি চাইলে দুদককে যে অনুমতি দেওয়া হবে—এমন ভরসা মোটেই পাওয়া যায় না; বরং এমন সংশয়ই জাগে যে সরকারি খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের ব্যবস্থা নেওয়ার বর্তমান ক্ষমতাকে খর্ব করার মতলবেই অমন সংশোধনীর সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকার নিজে নীতি-নৈতিকতা মেনে চললে, ক্ষমতার উচ্চ পর্যায়ে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রশ্রয় না পেলে দুর্নীতির প্রবণতা এমন উদগ্র হতে পারে না। সরকারের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বিভাগ, সাংসদ ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি—সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমানো সম্ভব, যদি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্বের অঙ্গীকার আন্তরিক হয়। দুর্নীতি দমন নিয়ে ভালো ভালো কথা জনগণ আর শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায়, দুর্নীতিবাজদের বিচার ও শাস্তি হচ্ছে এবং দুর্নীতি হ্রাস পাচ্ছে।

লড়াইটা দুদলের বিদেশিদেরও

লড়াইটা দুই প্রধানের। ইব্রাহিম-বুকোলা, সামাদ-এমেকা, শেরিফ-পলেরও কি নয়? আবাহনী-মোহামেডানের বড় ভরসা যে দুদলের বিদেশিরাই।
আবাহনী আজ সবচেয়ে বেশি তাকিয়ে থাকবে ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার ইব্রাহিমের দিকে। গত পাঁচ বছরে আকাশি-নীল জার্সি গায়ে গোটা ১৫ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে তাঁর। এখন নাকি আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচটাকে আর আলাদা মনে হয় না। রসিকতা করে বললেন, ‘এটা আমার কাছে ছোট ম্যাচ!’
আবাহনী কোচ বললেন, ‘ইব্রাহিম ফাইনাল পাসটা দিতে পারলে...।’ ইব্রাহিম নিজেও সেটা জানেন। কথাটা তাঁকে মনে করিয়ে দিতেই বললেন, ‘গতবার এমিলিকে অনেক বল তৈরি করে দিয়েছি। তার সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটা ভালোই গড়ে উঠেছিল। সে খুবই ভালো স্ট্রাইকার। ফুটবলে একজনের সঙ্গেই সব সময় খেলব, এমনটা হয় না। আস্তে আস্তে নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গেও কম্বিনেশনটা ভালো হচ্ছে।’
আবাহনীর-মোহামেডান ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই নবাগত শেরিফের। কিন্তু উত্তাপটা তিনিও যেন পাচ্ছেন, ‘শুনেছি আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচটা খুবই জমজমটা হয়। আমিও সেটা টের পাচ্ছি। তবে কোনো টেনশন নেই। মাঠে যাব...গোল করার চেষ্টা করব...ব্যাস।’ সেমিফাইনালে মোহামেডানের খেলা দেখে তাঁর মূল্যায়ন, ‘ওরা ভালো দল। তবে আবাহনীই সেরা। আমরা অবশ্যই ফাইনালে জিতব।’ আলোচনায় যোগ দিয়ে সামাদ বললেন, ‘এটা আসলে বাড়তি কিছু নয়। আমি কোনো উত্তেজনা অনুভব করছি না। তবে কঠিন লড়াই হবে।’ আওয়ালের কথা, ‘কোচ যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই খেলব আমরা।’
কাল বিকেলে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে অনুশীলন করছিল মোহামেডান। আবাহনীর চার বিদেশির কথার প্রতিধ্বনি সেখানেও। ফাইনালের আপ পর্যন্ত করেছেন ৮ গোল, আজ কটা গোল করবেন? প্রশ্নটাকে সিরিয়াসলিই নিলেন বুকোলা, ‘কটা গোল করব জানি না। সেই প্রতিশ্রুতি আমি দেবও না।’ নিজেই এর পর প্রতিশ্রুতির সুরে একটা ঘোষণা দিয়ে ফেললেন, ‘দেখে নেবেন আমরাই চ্যাম্পিয়ন হব।’
গতবার আবাহনীতে খেলেছেন। এবার আবাহনীকে দেখিয়ে দেওয়ার কি ব্যাপার আছে? মিডফিল্ডার এমেকার কথা, ‘না না, তেমনটা একদমই নেই।’ হয়তো বলতে চাইলেন না, ‘আমি অবশ্যই দলকে জেতাতে চাই। ভূমিকা তো রাখবই। তবে দলের জয়টাই বড়। আমি আবাহনী ছেড়ে এসেছি...প্রতিশোধ? এসব পেশাদার খেলোয়াড়েরা ভাবে না।’
গোলরক্ষক পলের উপলব্ধি, ‘এ ম্যাচটা সত্যিই অন্যরকম উত্তেজনা ছড়ায় এখানকার ফুটবলে। অন্যবারের মতো এবারও তাই দেখছি। এবার আমরাই জিতব।’

‘ফেবারিট’মোহামেডান,‘প্রত্যয়ী’আবাহনী by মাসুদ আলম

আজ সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ একটা দল উত্সব করবে। মাথা উঁচু করে ক্লাবে ফেরার প্রস্তুতি নেবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে। অন্য দলটা একবুক হতাশা নিয়ে ক্লাবে যাবে। দুই দলকে তো আর একসঙ্গে খুশি করতে পারবে না একটা টুর্নামেন্টের ফাইনাল! শেষ পর্যন্ত জয়মাল্য উঠবে কার গলায়, তা দেখতে গোটা ফুটবল-অঙ্গনই অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ। আবার সেই লড়াই। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ!
২০তম সিটিসেল ফেডারেশন কাপ ফাইনালের আবেদন নিয়ে নতুন করে লিখতে যাওয়া বাহুল্য। তার চেয়ে বরং প্রেক্ষাপটটা দেখা যাক। তারও আগে বলে নেওয়া দরকার, ফেডারেশন কাপ বরাবরই মোহামেডানের কাছে পয়মন্ত। মোহামেডান এবার নিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলছে ১৪ বার। আবাহনী ১৩ বার। সাদা-কালোরা জিতেছে নয়বার, আকাশি-নীলরা সাতবার। মোহামেডানের জন্য সবচেয়ে প্রেরণাদায়ী তথ্য হলো, ফাইনালে দুদলের আট লড়াইয়ে মোহামেডান পাঁচবার জয়ী। আবাহনী মাত্র দুবার!
আবাহনী ক্লাবে পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলতে যান, ওসব পাত্তাই দেবে না তারা। পরিসংখ্যানে কী আসে-যায়! তবে ২০০০ সালে মোহামেডানকে হারিয়ে শিরোপা জেতা আবাহনী গত ৮টি বছর ফেডারেশন কাপ ঘরে তুলতে পারেনি—এটা তারা ভুলতে পারছে না কিছুতেই। কোচ অমলেশ সেনকে এ কারণেই আক্ষেপ নিয়ে বলতে হয়, ‘অনেক দিন টুর্নামেন্টটা পাই না আমরা। এবার পেতেই হবে। না পেলে কষ্ট পাব ভীষণ। এত দিনের আশা...।’
গত বছর সুযোগ এসেছিল, কিন্তু ফাইনালে উঠলেও টাইব্রেকারে হারতে হয়েছে মোহামেডানের কাছে। তারপর গত বি-লিগে মোহামেডানের বিপক্ষে এক ড্র এক জয়। তবে সর্বশেষ লড়াইটি ছিল আবাহনীর কাছে হতাশার প্রতিশব্দ। বড় আঘাতটা এসেছে গত মার্চে, যখন কোটি টাকার সুপার কাপ আবাহনীকে হারিয়ে জিতে নেয় মোহামেডান। প্রায় সাত মাস পর আজ মোহামেডানকে আবার সামনে পাচ্ছে আবাহনী। আবাহনীর অপেক্ষার পালা শেষ হওয়া আর মোহামেডানের শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জই এই ম্যাচ। এসব এক পাশে রেখে দেখার বিষয় অবশ্য একটাই—সেমিফাইনালে দুদলই ছন্দে ফেরার পর ফাইনালে কে কাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এমেকা-বুকোলা-এমিলিকে নিয়ে গড়া ক্ষুরধার আক্রমণভাগ মোহামেডানের সবচেয়ে বড় শক্তি। বুকোলা-এমিলি জুটি চার ম্যাচে ১৫ গোল করেছে। এই ত্রয়ীকে কীভাবে সামলাবে আবাহনী, এর ওপরই তাদের সাফল্য নির্ভর করবে। তবে জমাট রক্ষণ থাকায় ভয়ের কারণ দেখছে না আবাহনী। মোহামেডানের মাঝমাঠ ও আক্রমণ যতটা শক্তিশালী, রক্ষণ ততটা নয়। মোহামেডানের রক্ষণকে এ পর্যন্ত তেমন পরীক্ষা দিতে হয়নি। আবাহনী এই পরীক্ষাটা হয়তো নিয়েই ছাড়বে। ভেঙে পড়লে বিপদ আছে মোহামেডানের, তা যতই কাগজের হিসাবে এগিয়ে থাকুক সাদা-কালোরা।
আবাহনীর বড় ভরসার নাম যথারীতি ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার ইব্রাহিম। তাঁর পা থেকে ফাইনাল পাসটা ভালোভাবে বেরোলে গোলের জন্য হয়তো ভাবতে হবে না আবাহনীকে। গতবার এমিলিকে ফাইনাল পাস দিয়ে বেশির ভাগ গোলই করিয়েছেন ইব্রাহিম। এবার এমিলি দল ছাড়ায় সেটা আর হচ্ছে না। আবাহনীর অন্যতম সমস্যা এখানেই। তবে ছয় ফুটের ওপরে লম্বা ২২ বছরের তরুণ ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার শেরিফ আছেন, যাঁর কাছে থেকে ম্যাচজয়ী গোল পেয়ে যেতে পারে আবাহনী!
না, সেটা হতে দেবে না মোহামেডান। চ্যালেঞ্জটা তো তাদেরই বেশি। কাগজে-কলমে এ বছর দেশের সেরা দলটা গড়ার পর এখন আবাহনীর বিপক্ষে দিতে হবে আসল পরীক্ষাটা। মোহামেডানের জন্য সুখবর, দুদিন আগে ফেনী সকারের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জ্বলে ওঠার প্রেরণা নিয়েই যেতে পারছে ফাইনালে। সেই প্রেরণা থেকেই বিকেলে ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ মারুফুল হক দাবি করলেন, ‘আমরাই এ ম্যাচে ফেবারিট।’
ইতিহাস বলছে, আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে ফেবারিট থাকে না। তার পরও নিজেদের ফেবারিট দাবির ব্যাখ্যাটা দিলেন মারুফ, ‘আমাদের অনেক ক্ষিপ্র গতির খেলোয়াড় আছে। আছে কোয়ালিটি খেলোয়াড়। আমরা ছন্দে ফিরেছি। নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে আমি মনে করি, আমরাই এগিয়ে। আবাহনীর সমস্যা আছে মাঝমাঠে। তাদের আক্রমণ গড়ে ওঠে ধীরে।’
মোহামেডান এগিয়ে আছে কি না মাঠেই প্রমাণ হবে। তবে সংবাদ সম্মেলনে একজন জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘আবাহনী জিতলে অঘটন হয়ে যাবে?’ অন্য এক সাংবাদিক প্রশ্নটাকে সংশোধন করে দিলেন, ‘আবাহনী ফকিরের পুল নয়...।’ আবাহনী আছে আবাহনীর মতোই। কাল দুপুরে ক্লাবে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেমিফাইনালে দুই গোল করা এনামুল বললেন, ‘টেনশনের কী আছে! ভালো খেলব...জিতব...এই তো।’
চারদিকে ‘মোহামেডান মোহামেডান’ রব শুনে আবাহনী অধিনায়ক বিপ্লব একটু বিরক্ত। খানিকটা চ্যালেঞ্জের সুরেই তিনি বললেন, ‘সবাই দেখছি মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দিচ্ছে। ঠিক আছে বানাক। কিন্তু আমরা মাঠে প্রমাণ করব কারা সেরা।’ ‘ফেবারিট-তত্ত্ব’ নিয়ে মোহামেডান অধিনায়ক আরমান আজিজের দেখা গেল ভিন্নমত, ‘আমরা ফেবারিট কি না জানি না। আমাদের সেরাটা দেখাতে হবে মাঠেই।’
মাঠই যদি শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মঞ্চ হয়, তাহলে ফুটবলও তার রোমাঞ্চের পসরা সাজাবে আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে।

আরও বড় স্বপ্ন আবেদি পেলের

আফ্রিকা শুনতে পাচ্ছে জাগরণী গান। যুব বিশ্বকাপে ঘানার সাফল্য গোটা আফ্রিকার ফুটবলকে জাগিয়ে দেবে, এত দিন আফ্রিকার যে যুব ফুটবল পেছনে পড়ে ছিল, তাতেও জোর হাওয়া লাগবে—ঘানার কিংবদন্তি ফুটবলার আবেদি পেলের মনে জন্ম হয়েছে এই বিশ্বাসের।
ব্রাজিলকে হারিয়ে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে অনূর্ধ্ব-২০ যুব বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল ঘানা। যারা বিশ্ব ফুটবলের অবিসংবাদিত সম্রাট, যাদের কাছে হেরে ১৯৯৩ সালে যুব বিশ্বকাপের শিরোপা-স্বপ্নের বিসর্জন, সেই ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের এই দিনটিকে তাই জীবনের উজ্জ্বলতর দিনগুলোর তালিকার শীর্ষে রাখলেন ঘানার ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা, ‘এটা দুর্ভাগ্যের যে ওই দিনটাতে আমি কায়রোতে থাকতে পারিনি। কিন্তু পিতা হিসেবে পুত্রদের এই সাফল্য এনে দিতে দেখার অনুভূতিটা দারুণ। এই দিনটা আমার জীবনে সবচেয়ে সুখের।’
এই সাফল্য আফ্রিকার ফুটবলকে জাগরণের ডাক শোনাবে বলে অন্তর থেকেই বিশ্বাস করেন আফ্রিকার ‘পেলে’। আফ্রিকান নেশনস কাপের ট্রফি-যাত্রার সঙ্গে উগান্ডাতে আছেন তিনি। সেখানে বসেই বলেছেন নিজের বিশ্বাসের কথা। বলেছেন এত দিন মনের মাঝে লুকিয়ে রাখা একটি আক্ষেপের কথা, ‘আফ্রিকার যুবাদের এখন এই বিশ্বাস করার সময় এসে গেছে যে তারা জিততে পারে। আফ্রিকার বিভিন্ন ফেডারেশনেরও এবার নিশ্চিত করতে হবে বয়স চুরির ব্যাপারটি থামানো। তরুণ তারকাদের সঠিক পথে চলতে দিতে হবে।’
ছোট স্বপ্নের অর্জন বড় স্বপ্ন দেখার পথ করে দেয়। ছোটদের বিশ্বকাপ আবেদি পেলেকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বড়দের বিশ্বকাপ নিয়েও। আবেগাপ্লুত পেলে বলেই ফেললেন নিজের মনের মাঝে লুকোনো সেই বড় স্বপ্নের কথাও, ‘মিসরে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতল আফ্রিকার এক দেশ। এর পর আগামী বছরে আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে একটি আফ্রিকান দেশ জিততে পারবে না কেন! আর বিশ্বকাপ জিততে যা লাগে তা তো আমাদের আছেই।’
বিশ্বের বড় বড় সব নামকে স্তম্ভিত করে দিয়ে আফ্রিকার কোন দেশটি বিশ্বকাপ জিততে পারে বলে মনে করেন আবেদি পেলে? ঘানা, আইভরি কোস্ট, ক্যামেরুন—সিনহুয়া সংবাদ সংস্থার কাছে এই কটি নামই সবার আগে বলেছেন তিনি। এর মধ্যে কোনো দেশের যদি আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি থাকে তাহলে ছোটদের ঘানা দলটির থেকে তা নেওয়ার জন্য বলেছেন আবেদি পেলে।

এবার ব্যালন ডি’অর মেসির

লিওনেল মেসি না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো? নাকি অন্য কোনো নাম? কে জিতবেন এবার ব্যালন ডি’অর? আসল নামটা জানতে ডিসেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এদিনই ঘোষণা হবে ইউরোপের বর্ষসেরা ফুটবলারের নাম। তবে এই পুরস্কারটির জন্য এবার মেসি ও রোনালদোর সঙ্গে আর যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাঁদের নাম ঘোষণা করেছে পুরস্কারটি যারা দেয় সেই ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন।
২০০৭ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার কাকা এবং গতবারের পুরস্কারজয়ী পর্তুগিজ উইঙ্গার রোনালদো এবারের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। আছেন গতবার তালিকা থেকে বাদ পড়া বার্সেলোনার ফরাসি স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি, ইংলিশ চতুষ্টয় জন টেরি, ওয়েইন রুনি, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড ও স্টিভেন জেরার্ড। নাম আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বয়সী তারকা রায়ান গিগসেরও। তবে খবরের শিরোনাম এবার আর্জেন্টিনার ‘ছোট্ট’ জাদুকর মেসিই। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের অনেকে আগেভাগেই মেসিকে পরিয়ে দিচ্ছেন সেরার মুকুট।
মানুষের অনুমান যদি সত্য হয়, তাহলে ইউরোপ-সেরার মুকুটটা এই প্রথম উঠতে যাচ্ছে একজন খাঁটি আর্জেন্টাইনের মাথায়। ১৯৫৬ সাল থেকে প্রচলিত পুরস্কারটা একজন আর্জেন্টাইন এর আগে পেয়েছেন বটে। তবে ১৯৫৭ সালে এই পুরস্কারজয়ী আলফ্রেডো ডি স্টেফানো তো তখন স্পেনের নাগরিকত্ব নিয়ে নিয়েছেন। তাই ব্যালন ডি’অর জয়ীদের তালিকায় তাঁর নামের পাশে দেশের ঘরে লেখা আছে স্পেন।
মেসি অবশ্য গত দু বছরই পুরস্কারের কাছাকাছি ছিলেন। ২০০৭ সালে কাকা-রোনালদোর পর তিন নম্বরে ছিল তাঁর নাম। আর গত বছর ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। এবার তাঁকে একটু এগিয়ে রাখছে বার্সেলোনাকে ত্রিমুকুট জেতানোর বিষয়টি। সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে সেই ‘আশ্চর্য’ গোল তো আছেই।