Tuesday, May 31, 2011

স্তব্ধ, বিধ্বস্ত, হতাশ দিলশান!

কিছুই বুঝতে পারছেন না দিলশান। বৃষ্টি-বিঘ্নিত যে টেস্ট নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, সেই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮২ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানের লজ্জা—কোনো অজুহাত নেই লঙ্কান অধিনায়কের কাছে। দেশের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর প্রথম টেস্ট আর তাতেই মুখ লুকানোর অবস্থায় দাঁড়িয়ে গলা উঁচু করে আর কীই-বা বলতে পারেন তিনি।
যে ব্যাটিং শ্রীলঙ্কার গর্ব। সেই ব্যাটিং কার্ডিফে দ্বিতীয় ইনিংসে টিকতে পেরেছে মাত্র ২৫ ওভার। সাবেক দুই অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়বর্ধনে ও অধিনায়ক দিলশানের মতো তিন স্তম্ভের মিলিত সংগ্রহ ছিল মাত্র ২৯। আসলেই বলার কিছু নেই অধিনায়কের।
এমন দিন প্রতিদিন আসবে না—এটা নিশ্চিত। তবে কার্ডিফের পারফরম্যান্সে আপাতত লজ্জাই পেতে হচ্ছে দিলশানের। ম্যাচ-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেছেন লঙ্কান দলের এহেন পারফরম্যান্স তাঁকে হতবাক করে দিয়েছে।
‘আমি সত্যিই হতাশ ও হতবাক। আমার মনের অবস্থাটা বোঝানো সত্যিই কঠিন। আমাদের ব্যাটিংটা সত্যিই আজ খুব বাজে হয়েছে।’ দিলশানের মন্তব্য।
দিলশান আরও বলেছেন, ‘আমাদের ব্যাটিং লাইনআপে সাঙ্গাকারা, জয়বর্ধনের মতো অভিজ্ঞরা রয়েছেন। রয়েছি আমি। আমাদের খুব তাড়াতাড়ি এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে ভাবতে হবে।’
সদ্য সমাপ্ত আইপিএলে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড় খেলায় টেস্ট ম্যাচের মেজাজে ফিরতে কোনো অসুবিধা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবটা সরাসরি দেননি দিলশান। বলেছেন, ‘মাহেলা ও সাঙ্গাকারা যদিও দেরিতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু আমি মনে করি না যে এতে কোনো সমস্যা হয়েছে।’
কার্ডিফের উইকেট নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই দিলশানের। তাঁর মতে, ‘উইকেট দারুণই ছিল। কিছুটা অতিরিক্ত বাউন্স থাকলেও ওটা কোনো অজুহাত হতে পারে না। আমরা সত্যিই বাজে ব্যাট করেছি।’
দিলশান আরও বলেন, ‘আমি অধিনায়ক। দলের এই পারফরম্যান্সে আমি দুঃখ পেলেও ক্ষুব্ধ হতে পারি না। মাথা ঠান্ডা রেখে পুরো পরিস্থিতি বিচার করতে হবে। নতুন করে শুরু করতে হবে। যদিও এই পারফরম্যান্স ভুলে যাওয়া সত্যিই খুব কষ্টকর।’

শহীদ জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি by ইনাম আহমদ চৌধুরী

শহীদ জিয়ার শাহাদাত দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে গিয়ে যে কথাটি সর্বাগ্রে মনে আসে তা হচ্ছে, একজন সফল ও স্মরণ্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অল্প সময়েই তাঁর প্রতিষ্ঠা। নতুন স্বাধীনতা পাওয়া দরিদ্র ও অনগ্রসর একটি দেশ, যা ছিল রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় দোদুল্যমান—তাতে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোতে স্থাপন করে, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করে উন্নয়নের রাজপথে চলমান করিয়ে দেওয়ার বিরল কৃতিত্বের বিতর্কাতীত অধিকারী শহীদ জিয়াউর রহমান। ভাবলে অবাক হতে হয়, রাজনীতিতে সেই সময় অনভিজ্ঞ এক তরুণ কর্মকর্তা কী অদম্য সাহস, অপরাজেয় মনোবল এবং অসীম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতির দিকনির্দেশনা স্থির করে দেন। ঘোষণা-উত্তর স্বাধীনতাযুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে সফল সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখসমরে অংশ নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আনতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। আবার সফল মুক্তিসংগ্রাম-উত্তরকালে মধ্য-সত্তরের চরম অস্থির এক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে কান্ডারি হয়ে জাতিকে বিপর্যয়ের মুখ থেকে রক্ষা করেন এবং সার্বভৌমত্ব, জাতীয়তাবাদ ও উন্নয়নের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে জাতির অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেন।
জিয়ার নেতৃত্বের প্রথম দিকেই ১৯৭৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভারতের তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় প্রেসিডেন্ট জিয়ার কৃতিত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসাবাণী উচ্চারণ করতে গিয়ে এক ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরেন, ‘Your position is already assured in the annals and the history of your country as a brave freedom fighter who was the first to declare the independence of Bangladesh.’ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর জুনের প্রথম সপ্তাহে লন্ডনে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট আয়োজিত এক শোকসভায় তদানীন্তন কমনওয়েলথ মহাসচিব স্যার শ্রীধাত রামফাল যথার্থ উক্তি করেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া বাংলাদেশে শুধু যে একদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা নয়, এই উন্নয়নকামী দেশকে সার্বিক উন্নয়নের রাজপথে পরিচালিত করেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে সার্কের মাধ্যমে ঐক্যবন্ধনে গ্রথিত করা তাঁর এক স্বপ্ন। তাঁর অকালমৃত্যুতে তাঁর দেশ এক নিপুণ সংগঠক ও সফল রাষ্ট্রনায়ককে শুধু হারাল না, দক্ষিণ এশিয়া হারাল এক দূরদর্শী ও স্বাপ্নিক, উন্নয়নশীল জগৎ হারাল এক মহান নেতা, কমনওয়েলথ হারাল সৌভ্রাতৃত্বে বিশ্বাসী আস্থা সৃষ্টিকারী এক অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্বকে।’
জিয়ার স্মৃতিতর্পণ প্রসঙ্গে আরেকটি ঘটনা মনে পড়ছে। আমি তখন জেদ্দার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) অপারেশনসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট। ব্যাংকের পঞ্চাশোর্ধ্ব সদস্যদেশের মধ্যে একটি দেশ আফ্রিকার মালি। কর্তব্য নিবন্ধনে গিয়েছিলাম রাজধানী বামাকো। অনুসঙ্গী ছিলেন ব্যাংকের দু-তিনজন কর্মকর্তা। মনে পড়ছে যাঁর মধ্যে ছিলেন তরুণ অর্থনীতি-বিশ্লেষক আবদুল্লাহ গুল, বর্তমানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট, যিনি গত বছর রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসেছিলেন। মালির সরকারি নেতাদের সঙ্গে ব্যাংকের সহায়তা পাওয়া কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা-অন্তে দেশের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট কোনারে বললেন, ‘জেনে খুশি হলাম, আপনি বাংলাদেশের। ওই দেশের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। উন্নয়নকামী দেশগুলোর অগ্রগতির জন্য তিনি এক উল্লেখযোগ্য নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর তিরোধানে এলডিসি দেশগুলোর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তারা হারিয়েছে এক অন্যতম যোগ্য নেতা।’
অবাক বিস্ময়ে শুনছিলাম এক প্রয়াত প্রেসিডেন্টের প্রতি আরেক দেশের এক ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের শোকাপ্লুত শ্রদ্ধা নিবেদন। বহু বছর ব্যবধানে এক বহু দূর দেশে। প্রেসিডেন্ট কোনারে আরও বললেন, ‘তাঁর স্মৃতিতে রাজধানীর একটি প্রধান সড়কের নামকরণ করেছি আমরা। ইচ্ছে করলে আপনি গিয়ে দেখে আসতে পারেন।’ তাঁরই নির্দেশনায় প্রটোকলের কর্মকর্তা সমভিব্যাহারে গিয়ে দেখলাম, শহরের প্রশস্ততম রাজপথ কিং ফাহদ সরণির অব্যবহিত পরেই এভিনিউ জিয়াউর রহমান। দুদিকে বৃক্ষশ্রেণীর মধ্যে প্রসারিত দীর্ঘ প্রশস্ত রাজপথ। মনে পড়ল, তুরস্কে দেখেছিলাম জিয়ার স্মরণে আরেকটি সরণি। জান্নাতবাসী জিয়া ওই সেদিন ওই সুদূরে ভ্রমণকারী এক বাঙালির হূদয় গর্বে ভরে দিয়েছিলেন। গিনির প্রেসিডেন্ট সি কো তুরে, ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাত, ভুটানের রাজা ওয়াংচুক—আরও বহু এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের কাছে শুনেছি বহু বছরের ব্যবধানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া সম্পর্কে শোক ও শ্রদ্ধামিশ্রিত প্রশস্তি। রাষ্ট্রাচারের প্রয়োজনতাড়িত গতানুগতিক উক্তি নয়, অন্তরের অন্তস্তল থেকে উৎসারিত আবেগঘন শ্রদ্ধা নিবেদন। সবার মনে, দেশে ও বিদেশে ক্ষমতাধরদের মধ্যে ও সাধারণ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া যে এক পরম সম্মানের আসন চিরকালের জন্য দখল করে আছেন, তা কিসের জন্য? কিসের জোরে? এর মধ্যে তো কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, নেই রাষ্ট্রাচারের অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ, নেই দ্বিপক্ষীয় প্রশস্তি বিনিময়ের রীতিনীতি। এর কারণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিগৃহীত, বঞ্চিত ও দুর্বল দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবন্ধন সৃষ্টি করে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়। ‘সার্ক’-এর সৃষ্টি, আল আকসা কমিটির আলোচনা, এলডিসি দেশগুলোর স্বার্থরক্ষা—এসব বিষয়ে তাঁর নেতৃস্থানীয় বলিষ্ঠ অগ্রণী ভূমিকা পালন। আরও রয়েছে দেশের মধ্যে জাতির বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধান, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি, জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচনা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, দুরাচারমুক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সর্বোপরি ব্যক্তিগত জীবনে প্রশ্নাতীতভাবে উদাহরণ প্রতিষ্ঠা করে সব ধরনের দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে শহীদ জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও নেতৃত্ব, তাঁর অনমনীয় মনোবল, সৎ, সাধু ও নিঃস্বার্থ আচার-ব্যবহার, তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা-পরিকল্পনা, তাঁর অতুলনীয় আপসহীন দেশপ্রেম, অতি অল্প সময়ের মধ্যে এক বিভ্রান্ত, হতাশাগ্রস্ত জাতিকে যেন তিনি একটি জীয়নকাঠির মায়াবি ছোঁয়ায় আত্মবিশ্বাসী, প্রাণবন্ত ও সক্রিয় করে তুলেছিলেন।
বর্তমানে দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, রাজনৈতিক স্বার্থজনিত কারণে ক্ষমতায় আরোহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করে তাঁর চরিত্র হরণের অসাধু কিন্তু নিষ্ফল প্রচেষ্টা হচ্ছে। অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস ৭ নভেম্বরের বর্ণনা দিয়েছেন (বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড, অনুবাদ পৃ. ১২২) এভাবে, ‘উল্লসিত কিছু সৈনিক আর বেসামরিক লোক নিয়ে কতগুলো ট্যাংক ঢাকা শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় চলাচল করতে দেখা যায়। এবার এই ট্যাংক দেখে লোকজন ভয়ে পালিয়ে না গিয়ে ট্যাংকের সৈনিকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে রাস্তায় নেমে আসে এবং উল্লাসে ফেটে পড়ে। চার দিন ধরে তারা মনে করেছিল যে, খালেদ মোশাররফকে দিয়ে ভারত তাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা খর্ব করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এতক্ষণে তাদের দুঃস্বপ্ন কেটে গেল। সর্বত্রই জোয়ান আর সাধারণ মানুষ খুশিতে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি শুরু করে। রাস্তায় নেমে তারা রাতভর স্লোগান দিতে থাকে—বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ ইত্যাদি। অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের গণজাগরণের মতো জনগণ আবার জেগে উঠেছে। এটা ছিল সত্যিই এক স্মরণীয় রাত।’
এই অভ্যুত্থানকারী সৈনিক-জনতাই বন্দিদশা থেকে জিয়াকে মুক্ত করে। এর আগে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাকের জারি করা আইনের ধারাবাহিকতায় খালেদ মোশাররফ প্রশাসনে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিচারপতি সায়েম দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর। সেনাপ্রধান জিয়া তখন খালেদের হাতে বন্দী। ১৯৭৭ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ও সিএমএলের দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি সায়েম। এ ঘটনাগুলোতে পরিষ্কারই দেখা যাচ্ছে জিয়া ‘ক্যু’ করে ক্ষমতায় আসেননি। তিনি দেশে সামরিক শাসন জারি করেননি। স্পষ্টতই প্রতীয়মান হচ্ছে, বাংলাদেশে একদলীয় শাসন এবং সামরিক আইন কোনোটিরই প্রবর্তক জিয়া ছিলেন না, ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। জিয়া পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিরই প্রবর্তন করেন।
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে তাঁর নীতিনির্দেশক কথাগুলো (যা তাঁর তথ্য উপদেষ্টা দাউদ খান মজলিশের মাধ্যমে ১৯৮১ সালে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত হয়) স্মরণ করি, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন শত শত বর্ষ ধরে এ দেশের আপামর জনগণের অন্তরে চিরজাগরূক রয়েছে। যুগ যুগান্তরের দেশপ্রেমিকদের হূদয়ের মর্মমূলে নিহিত তাদের সর্ব উৎসাহ, উদ্যোগ ও প্রেরণার উৎস এই দর্শন। এতে নিহিত রয়েছে বাস্তব আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচী, যা দেশের ঐক্যবদ্ধ জনগণকে সমকালীন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপযোগী বাস্তবমুখী ও সময়োচিত শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করবে, জাতিকে সুনিশ্চিতভাবে অগ্রগতির ও সমৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে এবং বিশ্বজাতির দরবারে বাংলাদেশকে মর্যাদা ও গুরুত্বের আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।
‘...আমাদের মূল লক্ষ্য তথা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিমূলে রয়েছে যে শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন, তাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে। শোষণমুক্ত সমাজ বলতে মূলত বোঝায় ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান ও পরিবার পরিকল্পনার মৌলিক চাহিদা পূরণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।...একথা স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি শোষণমুক্ত সমাজ, যা হবে অত্যন্ত বাস্তব প্রগতিশীল একটি সমাজ, যাতে থাকবে সমতা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার।’
আজকের এই অনিশ্চয়তার দিনে জাতির জন্য আশা উদ্দীপক অনুপ্রেরণার বাণী আর কী হতে পারে?
ইনাম আহমদ চৌধুরী: বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।

‘ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমরণ অনশন’ by রোকেয়া বেগম, মো. আবু জুবাইর, ড. লুৎফুন্নেসা বারি, এ কে ওবায়দুল হক, উৎপল কুমার প্রধান, মো. আজিজুল হক, ফারহানা আক্তার

যেহেতু আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কিছুদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, তাই ছাত্র-আন্দোলন, কর্তৃপক্ষের অবস্থান, আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রদের মনোবৃত্তি, তার ফলে নানা রকম বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অপরিচিত নই। শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা, ভালোবাসা, দুর্বলতা, তাদের খুশি করার চেষ্টা, তাদের প্রিয় শিক্ষক হয়ে থাকার গর্ব করতে চান না, এমন শিক্ষক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। অন্তত আমরা যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তাদের সরকার নির্ধারিত স্বল্প বেতনের পাশে আর যা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়, তা হলো ছাত্রছাত্রীদের ভালোবাসা, সম্মান আর শ্রদ্ধা। মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী, শিশুসাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, আলোচক, জাতীয় ব্যক্তিত্ব—সবকিছুর পাশাপাশি তাঁর আর একটি পরিচয় হলো তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন অধ্যাপক। ২৫ মে প্রথম আলোয় সাদাসিধে কথায় ‘ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমরণ অনশন’ শিরোনামের লেখায় শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্কের যে মেরুকরণ করেছেন, তার সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি।
শ্রদ্ধেয় স্যার শাবিপ্রবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের যে পরিবর্তনের উদাহরণ দিয়েছেন, তা এবং মাভাবিপ্রবির ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগ হুবহু এক নয়। শাবিপ্রবিতে প্রতিষ্ঠার শুরুতে বিভাগটির নাম ছিল টি টেকনোলজি। চাকরির ক্ষেত্র সীমিত হওয়ায় আপনার বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে ফুড অ্যান্ড টি টেকনোলজি রাখে এবং সর্বশেষ পরিবর্তনে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি রাখা হয়েছে। মাভাবিপ্রবিতে উল্লিখিত বিভাগটি লাইফ সায়েন্স অনুষদভুক্ত এবং ফুড টেকনোলজি ও নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিষয়ের কোর্সের সুষম সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে এর পাঠ্যক্রম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লিখিত বিভাগ থেকে অনার্স ডিগ্রি পাওয়া ছাত্রছাত্রীরা বর্তমানে বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বে খাদ্য ও পুষ্টি-সম্পর্কিত ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় বেতনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে মাভাবিপ্রবির এফটিএনএস বিভাগ থেকে একটি ব্যাচও চাকরির বাজারে যায়নি, সেখানে কীভাবে তারা তাদের ক্ষেত্র সম্পর্কে সন্দিহান হলো?
২০১০ সালের ১২ জুলাই এই বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই স্মারকলিপি দেওয়ার মাধ্যমে ক্লাস বর্জন শুরু করে। বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি একাধিকবার ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের প্রতি ছাত্রছাত্রীরা আস্থা না দেখালে দাবির যৌক্তিকতা নিরূপণার্থে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত সংগ্রহ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা ছাত্রছাত্রীদের দাবির বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলে মত দেন এবং চলমান ডিগ্রিকেই যুগোপযোগী বলে মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ছাত্রছাত্রীদের অবগত করানোর লক্ষ্যে একাধিকবার তাদের সঙ্গে আলোচনা করে। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বিমক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে উদ্ভূত পরিস্থিতির জটিলতা নিরসনকল্পে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন ও চেয়ারম্যানসহ বিমক সদস্যদের সমন্বয়ে এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, মাভাবিপ্রবি কর্তৃক প্রণীত কারিকুলাম ও পাঠ্যক্রম অনুসারে বর্তমানে ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের অধীনে যে ডিগ্রি দেওয়ার ব্যবস্থা বিদ্যমান,তা অপরিবর্তিত থাকবে এবং ওই পাঠ্যক্রমের আওতায় ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ও রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং উভয় কমিটি বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সিদ্ধান্তকেই যুক্তিযুক্ত মনে করে। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা এসব সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে নিজেদের ক্লাসের বাইরে রাখে।
আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা তাদের দাবির পক্ষে গত ২০ মার্চ আমরণ অনশনে বসে। প্রথম দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অনশনরত ছাত্রছাত্রীদের অনশন ভঙ্গ করে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রেখে শ্রেণীকক্ষে ফিরে আসতে অনুরোধ করা হয়। অনশনের তৃতীয় দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের মধ্যস্থতায় দাবির বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে দেখার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা অনশন ভঙ্গ করে। পরে মেনন উদ্যোগী হয়ে ১১ মে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধির আলোচনার আয়োজন করেন। আন্দোলনরত ৪০-৪৫ জন ছাত্রছাত্রী ১৪ মে থেকে টাঙ্গাইল শহরের পৌর উদ্যানে আবার অনশন কর্মসূচি শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বারবার অনশনরত ছাত্রছাত্রীদের তাদের অনশন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে আসতে অনুরোধ করে। ২২ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী উল্লিখিত বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের অনশন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে আসতে আহ্বান করেন। ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতারা অনশনস্থলে গিয়ে অনশনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর তাদের অনশন ভঙ্গ করান।
আমরা মনে করি, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরই বোঝে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার, এখানে তার একান্তই অভাব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব অভাব পূরণে অত্যন্ত তৎপর এবং আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছে। আমরা সবাই প্রত্যাশা করি, ছাত্র-শিক্ষকের এই সম্পর্ক দিন দিন আরও উন্নত হবে।
লেখকরা: শিক্ষক, ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

নির্বাসন থেকে দেশে ফিরেছেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট

হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়া দুই বছর নিকারাগুয়ায় নির্বাসনে থাকার পর গত শনিবার দেশে ফিরেছেন। ২০০৯ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর তাঁকে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
শনিবার ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি বিমানে করে নিকারাগুয়া থেকে হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুচিগালপার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন জেলায়া। এ সময় হাজার হাজার সমর্থক তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। গত সপ্তাহে কলম্বিয়ায় হন্ডুরাসের বর্তমান প্রেসিডেন্ট পোরফিরিও লোবোর সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেন জেলায়া। ওই চুক্তির পর তাঁর দেশে ফেরার পথ সুগম হয়।
আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগে ২০০৯ সালের ২৮ জুন এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠায় হন্ডুরাসের সামরিক বাহিনী।

সিপিএমের বিধায়কের রহস্যজনক মৃত্যু

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সিপিএমের এক বিধায়ক গতকাল রোববার মারা গেছেন। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ ধারণা করছে। ওই বিধায়কের নাম মোস্তফা বিন কাশেম। তিনি ছিলেন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট (উত্তর) আসনের বিধায়ক।
মোস্তফা বিন কাশেম কলকাতা বিধায়ক হোস্টেলের চারতলার ৪১১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী, পুত্র ও পুত্রবধূ। বিকেলে তাঁর স্ত্রীকে বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসে তুলে দিতে পুত্র ও পুত্রবধূ বাইরে যান। ফিরে এসে তাঁরা দেখেন বিধায়ক তাঁর কক্ষে নেই। হোস্টেলের একতলার কার্নিশে তাঁর দেহ পড়ে আছে।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে বিধায়কের দেহ উদ্ধার করে পিজি হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বয়ংক্রিয় কলম দিয়ে বিলে বারাক ওবামার স্বাক্ষর

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের মধ্যে প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর না করলে আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ত। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ছিলেন আটলান্টিকের ওপারে। কী আর করা, বের করা হলো বিকল্প উপায়। স্বয়ংক্রিয় কলম (অটোপেন) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর বসিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিলেন ওবামা। গড়লেন নতুন ইতিহাস। ওবামার আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল স্বাক্ষরের জন্য স্বয়ংক্রিয় কলম ব্যবহার করেননি।
৯/১১ হামলার পরপরই সন্ত্রাসবাদবিরোধী নতুন আইন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আইনটির নাম ‘ইউএসএ প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট’। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় আইনটি নবায়ন করা হয়েছে। সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। কাজেই আইনটি বলবৎ রাখতে এর আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু কয়েক দিনের সফরে ইউরোপে অবস্থান করছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। কথা ছিল, সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নিজে এটি ফ্রান্সে নিয়ে যাবেন। সেখানে বসেই প্রেসিডেন্ট এতে স্বাক্ষর করবেন। কিন্তু বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি শেষ হতে দেরি হয়ে যায়। কাজেই বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের আগে এটি ফ্রান্সে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। উপায়ান্তর না দেখে প্রেসিডেন্ট বলে দেন, স্বয়ংক্রিয় কলম ব্যবহার করে বিলে তাঁর স্বাক্ষর নিয়ে নিতে। শেষ পর্যন্ত এক ঘণ্টা বাকি থাকতে স্বয়ংক্রিয় কলম দিয়েই বিলে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হাওয়ার্ড সি নেলসন মত দেন, বিলে স্বাক্ষরের জন্য স্বয়ংক্রিয় কলম ব্যবহারে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। কিন্তু বৃহস্পতিবারের আগে পর্যন্ত এর ব্যবহার হয়নি।

ধর্ষণের শিকার বলেদাবি করলেন ২৫৯ নারী

লিবিয়ায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ যুদ্ধোত্তর মানসিক আঘাতে স্নায়ুরোগে ভুগছে। চার হাজার শিশু ভুগছে মানসিক সমস্যায়, আর ২৫৯ জন নারী সে দেশের নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যুদ্ধের কারণেবিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেওয়া লোকদের মধ্যেজরিপ চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
লিবিয়ার বন্দরনগর বেনগাজিতে লন্ডনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিশু মনস্তাত্ত্বিক সেহাম সেরগেওয়া বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় দুই মাস আগের ঘটনা। ধর্ষণের শিকার এক নারী এলেন চিকিৎসা নিতে। এরপর আরও দুজন। তাঁদের সবাই ছিলেন সন্তানের মা। আমাকে জানালেন, তাঁরা কীভাবে গাদ্দাফির অনুগত মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে ধর্ষণের শিকার হন।’
সেরগেওয়া বলেন, এরপর তিনি লিবিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে পালিয়ে এসে বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ওঠা ৭০ হাজার শরণার্থীর মধ্যে তাঁদের তৈরি প্রশ্নাবলি বিতরণ করেন। যুদ্ধের ফলে শিশুরা কতটা ভীতসন্ত্রস্ত, তা জানতেই মূলত ওই প্রশ্নাবলি তৈরি করা হয়। সেখানে ধর্ষণসংক্রান্তও প্রশ্ন রাখা হয়। এর মধ্যে ৫৯ হাজার উত্তর পাওয়া যায়। এতে দেখা যায়, ১০ হাজার মানুষ স্নায়ুরোগে ভুগছে। চার হাজার শিশু ভুগছে মানসিক সমস্যায়। ২৫৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নারীরা বলেছেন, তাঁরা গাদ্দাফির মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে ধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষণের ঘটনায় কেউ কেউ সংক্ষেপে উত্তর দিয়েছেন, কেউ কেউ বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
বেনগাজি শহরে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, নারীদের ধর্ষণের শিকারের খবর তাঁরা শুনেছেন। তবে ধর্ষণের শিকার কোনো নারী তাঁদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেননি। আবজাবিয়া শহরের একজন চিকিৎসক বলেন, গত মার্চেতিনি ধর্ষণের শিকার অন্তত তিনজন নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।
এ মাসের গোড়ার দিকে হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কৌঁসুলি লুইস মোরেনো-ক্যাম্পো বলেন, ‘গাদ্দাফি বাহিনী সে দেশে নারীদের গ্রেপ্তার ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে এমন অনেক প্রমাণ মিলেছে।

পাকিস্তান খাদ্য ও বস্ত্র ছাড়া পরমাণু শক্তিধর একটি দেশ: কাদির খান

পাকিস্তানের পরমাণুবিজ্ঞানী আবদুল কাদির খান বলেছেন, পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হলেও পাকিস্তানে খাদ্য ও বস্ত্রের অভাব রয়েছে। দেশটিকে এখনো সাহায্যের জন্য বিদেশে হাত পাততে হয়। এটা লজ্জার বিষয়।
লাহোর হাইকোর্ট বার আইনজীবীদের এক অনুষ্ঠানে টেলিফোনে এসব কথা বলেন কাদির খান। তিনি পাকিস্তানের শাসকদের বিদেশ থেকে ‘ভিক্ষা আনার বাটি’ ভেঙে ফেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এটা না হলে পাকিস্তানিরা আত্মসম্মান, মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে না। অন্যের দাসত্ব থেকে পাকিস্তানিদের মুক্তি মিলবে না।’
কাদির খান বলেন, পাকিস্তান বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে পারবে না। সন্ত্রাসবাদও দমন করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের শাসকেরা জাতিকে দেওয়া তাঁদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি।
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যে কারও বিরোধিতা করার জন্য পাকিস্তানি শাসকদের প্রতি আহ্বান জানান কাদির খান। তাঁর মতে, এতে পাকিস্তানের হারিয়ে যাওয়া মর্যাদা ও ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হতে পারে।

১৪ বেসামরিক আফগান নিহত

আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে গত শনিবার রাতে ন্যাটোর বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন বেসামরিক আফগান নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।
হেলমান্দ প্রদেশের গভর্নরের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত শনিবার প্রদেশের নওজাদ এলাকায় মার্কিন মেরিন ঘাঁটিতে একদল বন্দুকধারী হামলা চালায়। এ সময় ঘাঁটির পক্ষ থেকে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) সহযোগিতা চাওয়া হলে ন্যাটো এই বিমান হামলা চালায়। হামলায় দুটি বাড়ির বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন মেয়ে, সাতজন ছেলে ও দুজন নারী রয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে।
আইএসএএফের মুখপাত্র মেজর টিম জেমস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আইএসএএফের বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের এ খবর আইএসএএফের কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে একটি যৌথ তদন্তদল পাঠানো হয়েছে। তদন্তের তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।’
আসলাম নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, তিনি ওই হামলায় ১২ জন আত্মীয়কে হারিয়েছেন। এ ছাড়া ওই হামলায় শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছে।
এদিকে দেশটির নূরিস্তান প্রদেশের গভর্নর জামালুদ্দিন বদর গতকাল এএফপিকে বলেন, তাঁর প্রদেশে গত বুধবার মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলায় ১৮ জন বেসামরিক নিহত হয়। এ ছাড়া ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ ২০ পুলিশ নিহত হয়।
আফগানিস্তানে বিভিন্ন সময় বিদেশি বাহিনীর হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা এড়াতে ন্যাটোর রাত্রিকালীন হামলা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই গত শনিবার তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদুল রহিমকে নির্দেশ দেন।
২০০১ সালে আফগানিস্তানের তালেবান উৎখাতের পর থেকে দেশটিতে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন অন্তত এক লাখ ৩০ হাজার বিদেশি সেনা মোতায়েন করা রয়েছে।

ইয়েমেনে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত প্রেসিডেন্ট ও আদিবাসী নেতা

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ও বিরোধী উপজাতি নেতা শেখ সাদিক আল আহমার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। গত রোববার সকাল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
সালেহ ও আহমারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে একটানা পাঁচ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষ গত শনিবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২৪ জন নিহত হয়েছে। এদিকে সন্দেহভাজন আল-কায়েদা জঙ্গিরা ইয়েমেনের জিনজিবার শহর দখল করে নিয়েছে।
সালেহ ও শেখ আহমার অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর বন্দুকযুদ্ধ থেমে যায়। এরপর শহরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসতে শুরু করে। বন্দুকযুদ্ধ দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট সালেহর নিরাপত্তা বাহিনী সানার উপকণ্ঠ হাসাবায় শেখ আহমারের বাড়িতে হামলা চালানোর পর উভয় পক্ষের মধ্যে এ লড়াই শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার পর সশস্ত্র আদিবাসীরা পাল্টা আঘাত হানে। আদিবাসীরা বেশ কয়েকটি সরকারি ভবন দখলে নেয়।
আদিবাসী একজন মধ্যস্থতাকারী জানান, উভয় পক্ষই হাসাবা থেকে নিজ নিজ বাহিনী প্রত্যাহার করে নিতে সম্মত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল থেকে প্রত্যাহারের কাজ শুরু হয়।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট সালেহ।
ইয়েমেনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত শনিবার তিন ফরাসি সাহায্যকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মুঠোফোন হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে।
এই নিরাপত্তাকর্মী আরও জানান, নিখোঁজ সাহায্যকর্মীদের সন্ধানে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের আবইয়ান প্রদেশের রাজধানী জিনজিবার দখল করে নিয়েছে আল-কায়েদার জঙ্গিরা। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দুই দিনের তুমুল লড়াইয়ের পর জঙ্গিরা শহরটি দখলে নেয়। লড়াইয়ে ১৬ জন নিহত হয়। গতকাল একজন সরকারি কর্মকর্তা এ কথা জানান।
বিরোধীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট সালেহ জঙ্গিদের জিনজিবার শহর দখল করতে দিয়েছেন। আল-কায়েদা সম্পর্কে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নিজের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর জন্য সালেহ এ কাজ করছেন বলে তাদের অভিযোগ।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, সন্দেহভাজন আল-কায়েদা জঙ্গিরা জিনজিবার শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। তারা প্রায় সব সরকারি স্থাপনা দখল করে নিয়েছে।
শহরের বাসিন্দারা জানান, গত শুক্র ও শনিবার শহরে তুমুল লড়াই হয়েছে। তাঁরা আরও জানান, বন্দুকধারীরা শহরের প্রধান জেলখানা থেকে অনেক বন্দীকে ছেড়ে দিয়েছে।
লড়াইয়ের কারণে অনেক পরিবার দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান শহর এডেনের দিকে পালিয়ে গেছে। নাজির আহমেদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, শহরটি বন্দুকধারীদের দখলে চলে যাওয়ায় তিনি শহর ছেড়ে চলে এসেছেন। তিনি বলেন, বন্দুকধারীরা নিজেদের আল-কায়েদার সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছে।
নাজির আহমেদ বলেন, শনিবার সকালে বন্দুকধারীরা লাউডস্পিকারের মাধ্যমে বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে আসার আহ্বান জানায়। তারা দোকানিদের দোকান খোলারও আহ্বান জানায়। তবে খুব কম মানুষই তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে। কারণ, মানুষ খুব ভয়ের মধ্যে আছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা, ২০০ জনেরও বেশি জঙ্গি শহরে হামলা চালিয়েছে।

বাদশাহর কাছে মুক্তি চাইলেন কারাগারে আটক সৌদি নারী

আইন অমান্য করে গাড়ি চালানোর অপরাধে আটক এক সৌদি নারী তাঁর মুক্তি চেয়ে বাদশাহ আবদুল্লাহর কাছে আবেদন করেছেন। তাঁর আইনজীবী গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছেন। অতি রক্ষণশীল এ দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানো নিষেধ।
আইনজীবী আদনান আল-সালেহ বলেন, তাঁর মক্কেল মানাল আল-শরিফ আশা করছেন, বাদশাহ তাঁকে মুক্তি দেবেন।
আটক হওয়ার পর শরিফ ভেঙে পড়েছেন এবং আইন অমান্য করে তিনি অনুতপ্ত—সৌদি আরবের বিভিন্ন সংবাদপত্রে এমন একটি খবর প্রচারিত হওয়ার পর আইনজীবী সালেহ বলেন, তাঁর মনোবল বেশ চাঙা আছে এবং তিনি ঠিক আছেন।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় আল খোবার শহরে ২১ মে গ্রেপ্তার হন শরিফ। আগের দিন তিনি সেখানে গাড়ি চালান এবং গাড়ি চালানোর সেই ভিডিও ফুটেজ ইউটিউবে ছেড়ে দেন।
ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দিলেও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সদস্যরা তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের আটকাদেশ দেন। কারাগারের এক মুখপাত্র জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁর আটকাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ দিন করেছে। ৩২ বছর বয়সী শরিফ পেশায় একজন কম্পিউটার নিরাপত্তা পরামর্শক।

ভিডিও গেম খেললে গিঁটে ব্যথা হয়

শিশুরা বেশি বেশি ভিডিও গেম খেললে এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তা আদান-প্রদান করলে তাদের হাতের আঙুল ও কবজির গিঁটেতে ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একদল শিশুর ওপর গবেষণা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সেন্ট লুইসের দুটি স্কুলের নয় থেকে ১৫ বছর বয়সী ২৫৭টি শিশুর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণার ফল গত ২৫ মে লন্ডনে ইউরোপিয়ান লিগ অ্যাগেইনস্ট রিউম্যাটিজমের (ইইউএলএআর) বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গবেষণা পরিচালনাকালে এক্সবক্স, গেমবয় ও আইফোন ব্যবহারকারী শিশুদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা কতক্ষণ এসব যন্ত্র ব্যবহার করে এবং ব্যবহারের পর তাদের হাতে যন্ত্রণা হয় কি না।
শিশুদের কাছ থেকে পাওয়া জবাবের ভিত্তিতে গবেষকেরা বলেছেন, মুঠোফোনে গেম খেলার চেয়ে গেমবয় ও এক্সবক্স ভিডিও গেম খেললে হাতের আঙুল ও কবজিতে বেশি ব্যথা অনুভূত হয়। গেম খেলার ঘণ্টা অন্তর ব্যথার পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তাঁরা আরও বলেন, মুঠোফোন ব্যবহারের পর ছেলেদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মেয়েরা ব্যথায় ভোগে।
গবেষক দলের সদস্য নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি হসপিটাল ফর জয়েন্ট ডিজিসের অধ্যাপক ইউসুফ ইয়াজিসি বলেছেন, ‘আমাদের গবেষণায় কম্পিউটারে গেম খেলা ও মুঠোফোন ব্যবহারের ফলে শিশুদের হাতের আঙুল ও কবজির জোড়ায় নেতিবাচক প্রভাবের দিক উঠে এসেছে। এর ফলে আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে স্বাস্থ্যহানির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের তৈরি হয়েছে।’
ভিডিও গেম খেলা ও মুঠোফোনের ব্যবহার নিয়ে পরবর্তী গবেষণায় কী ধরনের রোগের সৃষ্টি হতে পারে, তা তুলে আনা হবে বলে ইউসুফ ইয়াজিসি জানান।

শিগগিরই কেলেঙ্কারির মুখে পড়বেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শিগগিরই বড় ধরনের কোনো কেলেঙ্কারির মুখে পড়বেন। তা হতে পারে ২০১২ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই। শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিজ্ঞানী ব্রেন্ডন নাইহান গাণিতিক সূত্রের ওপর ভিত্তি করে এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেন্ডন নাইহান তাঁর ‘সেন্টার ফর পলিটিক্স’ নামের ওয়েবসাইটে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ‘আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ওবামার কেলেঙ্কারির মুখে পড়ার সম্ভাবনা ৯৫ থেকে ১০০ ভাগ।’
ব্রেন্ডন নাইহান ১৯৭৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্টদের কেলেঙ্কারি নিয়ে গবেষণা করেন। এই গবেষণা প্রতিবেদনে নাইহান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা দারুণ ভাগ্যবান। মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্টদের কেলেঙ্কারি নিয়ে গবেষণায় আমি দেখেছি, খুব কম প্রেসিডেন্টই ওবামার মতো দীর্ঘ সময় ধরে কেলেঙ্কারি এড়াতে পেরেছেন।’
নাইহান তাঁর গবেষণায় বলেন, ওবামা প্রশাসন বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে তেমন সহায়তা পায়নি। নাইহান গবেষণায় উল্লেখ করেন, রিপাবলিকানদের অসন্তোষের কারণে বিরোধীদের গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ওবামার বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অযোগ্যতার অভিযোগ উঠতে পারে।
নাইহান স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার বিরুদ্ধে ওই কেলেঙ্কারি নির্ভর করবে গণমাধ্যমে এর কভারেজের ওপর। তিনি জানান, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত প্রেসিডেন্ট কেলেঙ্কারির তথ্য ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত প্রেসিডেন্টদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে এই গবেষণা করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৭৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় বড় ধরনের কোনো কেলেঙ্কারি ছাড়া মেয়াদ সম্পন্ন করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। ২০০১ সালের শুরু থেকে ২০০৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৩৪ মাস তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠেনি, যা ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রথম পাতায় স্থান পায়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠেনি।

দুই বাজারে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে

দেশের শেয়ারবাজারে গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম দিনটি ভালো কেটেছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে বেড়েছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে সামান্য হলেও বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
তবে বাজার বাড়লেও বিনিয়োগকারীরা গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিনিয়োগকারীরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তাঁরা বাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে দায়ী করে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মিজান উর রশিদ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক, সদস্য-সচিব জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও অনেকে। তাঁরা জানান, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা না ফেরা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে গতকাল শেয়ারবাজারে দিনের লেনদেন শুরু হয়। লেনদেন শুরুর পাঁচ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ার গতি কিছুটা কমলেও তার পর থেকে সূচক আবার বাড়তে শুরু করে। বেলা একটার দিকে সূচক প্রায় ১১০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর কিছুটা কমলেও দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৯২ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৪৯০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২৫৬ পয়েন্ট বেড়ে হয় ১৫ হাজার ৩৩০ পয়েন্ট।
সিএসইতে গতকাল মোট ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৩টির, কমেছে ১৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইতে এদিন ৪৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে এ সময় মোট ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ২৩৪টির, কমেছে ২৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল মোট ৩৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের লেনদেনের চেয়ে ৩৪ কোটি টাকা বেশি।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসকে দেওয়া ঋণ সমন্বয়ের সময় বাড়িয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি ব্যাংক কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারে না। কিন্তু অনেক ব্যাংক এ নিয়মের বাইরে গিয়ে নিজস্ব মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসকে এ সীমার চেয়ে বেশি ঋণ-সুবিধা দেয়।
সম্প্রতি যেসব ব্যাংক সীমা অতিক্রম করেছে, তাদের তা সমন্বয়ের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে শেয়ারবাজারের লেনদেনের ওপর বেশ নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে বিভিন্ন মহল থেকে ঋণ সমন্বয়ের সীমা বাড়ানোর দাবি উঠতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের সময় কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ছাড়া সরকার গতকাল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আরও দুজন নতুন সদস্য নিয়োগ দিয়েছে। এতে এসইসি পুনর্গঠনের কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেল। এটিও বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে অনেকে মনে করেন।

আজও পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে

পুঁজিবাজারে আজ সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনটিও বেশ ভালো কেটেছে। দিনের লেনদেন শেষে দুই এক্সচেঞ্জেই সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে আজও বিনিয়োগকারীরা মতিঝিলে ডিএসইর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ১১৩.৭১ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৬০৩.৬০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে মোট ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ২৩১টির, কমেছে ২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৪৮১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৫১ কোটি টাকা বেশি।
আজ ডিএসইতে সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের সাত মিনিটের দিকে সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে সূচক কমতে থাকে। লেনদেনের ১৫ মিনিটের দিকে সূচক ৭ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর আর সূচক গত দিনের চেয়ে কমেনি। বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং একই প্রবণতার মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এমআই সিমেন্ট, বিএসআরএম স্টিল, ইউনাইটেড এয়ার, মালেক স্পিনিং, আফতাব অটো, তিতাস গ্যাস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আরএন স্পিনিং, ম্যাকসন স্পিনিং ও গোল্ডেন সন।
এ দিকে বাজার বাড়লেও গতকালের ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগকারীরা আজও ডিএসই কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তাঁরা পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী বিনিয়োগকারীরা বাজারবান্ধব বাজেট দাবি করেন। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা না ফেরা পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩৪৩.৫২ পয়েন্ট বেড়ে ১৫৬৭৩.৮৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে আজ ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ১৭৫টির, কমেছে ১৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট ৬০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৫ কোটি টাকা বেশি।

আরও দুই প্রতিষ্ঠানকে প্রাকযোগ্য করা হলো

চট্টগ্রাম বন্দরের অত্যাধুনিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দরপত্রে অংশ নেওয়ার যোগ্য হিসেবে দ্বিতীয় দফায় আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
গত ২৩ মে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয় জানানো হয়।
এই দুটি প্রতিষ্ঠান হলো সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইউরোপ প্রাইভেট লিমিটেড এবং চট্টগ্রামের সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। এর মধ্যে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের বিরুদ্ধে মূল্যায়ন কমিটির তিনজন সদস্য তিনটি আপত্তি দিয়েছিলেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও এই অনিয়মের বিষয়ে দুটি পৃথক চিঠি দেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে লেখা অর্থমন্ত্রীর সই করা সর্বশেষ চিঠিতে বলা হয়, ‘সাইফ পাওয়ারটেক কনসোর্টিয়াম বিষয়ে তিনটি নোট অব ডিসেন্ট দাখিল করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে দরপত্রে যেসব দোষত্রুটি আছে সেগুলো সবই উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে মনে হয় এই দরদাতাকে বিশেষভাবে অনুগ্রহ করা হয়েছে।’
ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘এর পরে যখন আসল চুক্তির জন্য দরপত্র আসবে তখন এই অনুপযুক্ত দরদাতার জন্য জোরেশোরে তদবির শুরু হবে।’
তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, দুটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মূল্যায়ন কমিটির তিন সদস্যের পর্যবেক্ষণ ও আপত্তি বিষয়ে ওই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাখ্যা ও বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
এসব বক্তব্য ও ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে আগের চারটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই দুটি প্রতিষ্ঠানকেও সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হলো বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এই টার্মিনাল পরিচালনার দরপত্রে অংশ নেওয়ার যোগ্য হিসেবে চারটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়।
এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে মূল দরপত্রও বিতরণ করা হয়। এই চারটি প্রতিষ্ঠান হলো এপিএম টার্মিনালস, হাচিনসন পোর্ট ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, আইসিটিএসআই ও পিঅ্যান্ডও।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সম্প্রতি চট্টগ্রামে এসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই টার্মিনাল পরিচালনায় শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।

মিউচুয়াল ফান্ডে আস্থা ফেরাতে এএএমসির অনুরোধ

মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) অনুরোধ করেছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএএমসি)। আজ সোমবার এসইসির নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই অনুরোধ করা হয়।
বৈঠক শেষে এইমস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইওয়ার সাইদ সাংবাদিকদের বলেন, মিউচুয়াল ফান্ডের প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। এর আগে এটা নিয়ে কেলেঙ্কারি হয়েছে। সুতরাং মিউচুয়াল ফান্ডের প্লেসমেন্ট নিয়ে কেলেঙ্কারির ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কমিশনকে চাপ ও নৈতিকতার সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠক শেষে এসইসির সদস্য হেলাল উদ্দিন নিজামী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এএএমসির পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনাগুলো আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। পর্যায়ক্রমে তাদের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’
বৈঠকে এসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন, সদস্য হেলাল উদ্দিন নিজামী, নবনিযুক্ত সদস্য আরিফ খান ও আমজাদ হোসেন এবং এএএমসির পক্ষ থেকে সংগঠনটির সভাপতি রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান ইমাম ছাড়াও আইসিবি, এলআর গ্লোবাল, এইমস ও প্রাইম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জুলাই থেকে ডিএসইতে ইন্টারনেটভিত্তিক লেনদেন শুরু হবে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আগামী জুলাই মাস থেকে ইন্টারনেট-ভিত্তিক লেনদেন চালু হবে। এমএসএ প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই লেনদেন চালু হলে বিনিয়োগকারীরা ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেনে অংশ নিতে পারবেন।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) মিলনায়তনে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এমএসএ প্লাসের ওপর এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানানো হয়।
ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে এসইসির সদস্য হেলাল উদ্দিন নিজামী, আরিফ খান, আমজাদ হোসেন ও ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

থারাঙ্গা পজিটিভ হয়েছিলেন!

বিশ্বকাপের মাঝামাঝি ছড়িয়েছিল, ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন তিলকরত্নে দিলশান। পরে জানা গেল, দিলশানের ডোপ টেস্টই হয়নি। এখন শোনা যাচ্ছে, পজিটিভ হয়েছিলেন আসলে উপুল থারাঙ্গা! সানডে টাইমস-এর দাবি, শিগগিরই ব্যাপারটার তদন্ত করতে যাচ্ছে আইসিসি। থারাঙ্গা নাকি একজন আইনজীবীও নিয়োগ দিয়েছেন। থারাঙ্গার মূত্রনমুনায় নিষিদ্ধ প্রেডনিসোলন পেয়েছে ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি। পজিটিভ হওয়ার পর আইসিসির কাছে লিখিত বিবৃতিতে থারাঙ্গা জানিয়েছেন, তাঁকে এই ওষুধ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন খ্যাতিমান একজন চিকিৎসক। শচীন টেন্ডুলকার, গৌতম গম্ভীরসহ আরও অনেক ক্রিকেটার কলম্বোতে গিয়ে এই চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন। অ্যাজমাসহ আরও অনেক রোগের ক্ষেত্রেই প্রেডনিসোলন ব্যবহার করা হয়। থারাঙ্গার অ্যাজমার সমস্যা অনেক দিন ধরে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের অস্থায়ী কমিটির সচিব নিশান্থা রানাতুঙ্গা অবশ্য থারাঙ্গার পজিটিভ হওয়ার খবর উড়িয়ে দিয়েছেন।

আপাতত অস্ট্রেলিয়ান কোচ নয়

কে হবেন জাতীয় দলের নতুন কোচ—এখনো উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি প্রশ্নটার। তবে বিসিবির দেওয়া সর্বশেষ ‘তাজা খবর’, জেমি সিডন্সের উত্তরসূরি অন্তত আরেকজন অস্ট্রেলিয়ান হবেন না।
মহিলা ক্লাব ক্রিকেটের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বোর্ড সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ‘সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ান কেউ নন। দক্ষিণ আফ্রিকা বা ইংল্যান্ড থেকেই আসবেন নতুন কোচ।’ বাংলাদেশ দলের সর্বশেষ দুই কোচ জেমি সিডন্স এবং ডেভ হোয়াটমোর অস্ট্রেলিয়ান হলেও এবার অস্ট্রেলিয়ানদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন মুস্তফা কামাল। অস্ট্রেলিয়ান হাই-প্রোফাইল কোচরা লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্ব নিতে চান না। আইপিএলের সময় কাজ করতে চান আইপিএলের কোনো দলের সঙ্গে—মূল কারণ এসবই।
ভালো কোচ পেলে টাকা কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বোর্ড সভাপতি। তবে নতুন কোচের সন্ধানে নামা বিসিবি আইপিএলকে বড় একটা বাধা মনে করছে। আইপিএল মানেই কম সময়ে এবং কম পরিশ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ। বাংলাদেশের কোচ হওয়ার শর্ত হিসেবে তাই অনেকেই আইপিএলে কাজ করার সুযোগটা জুড়ে দিচ্ছেন। আইপিএল কোচদের আর্থিক চাহিদাও দিয়েছে বাড়িয়ে। বোর্ড সভাপতি পরিষ্কার করেই বলেছেন, আইপিএলের শর্ত মেনে কোচ আনতে রাজি নন তাঁরা, ‘আমরা এমন একজন আন্তর্জাতিক কোচ চাই, যিনি কিনা শতভাগ সময়ই বাংলাদেশ দলকে দেবেন। একই সঙ্গে তিনি আইপিএলে বা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে কাজ করবেন, এটা হবে না। তাঁর একমাত্র পরিচয় হবে বাংলাদেশের কোচ।’ আইপিএল যে কোচ খোঁজার কাজটা কঠিন করে দিয়েছে, তিনি অবশ্য সেটা মানছেন, ‘আইপিএলের কারণে ক্রিকেট চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আইপিএল যেভাবে পারিশ্রমিক দেয়, আমরা সেভাবে দিতে পারব না। বাংলাদেশ শুধু নয়, উন্নত বিশ্বের দলগুলোও এতে সমস্যায় পড়বে।’
বিসিবির সম্ভাব্য কোচদের তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকান আছেন পিটার কারস্টেন, গ্রাহাম ফোর্ড, অ্যালান ডোনাল্ড ও ডেভ নসওর্দি। ইংলিশদের মধ্যে ছিলেন ইংল্যান্ড লায়ন্সের কোচ মিক নিউয়েল। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের মাইক হ্যাসনও ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশের কোচ হওয়ার। সভাপতি অবশ্য স্পষ্ট করে কারও নামই বলেননি। শুধু বলেছেন, ‘আমার জানামতে, আমাদের হাতে এখন নয়জন কোচের নাম আছে। আগামী ৩ জুনের (৪ জুন) বোর্ড সভায় এ-সংক্রান্ত অগ্রগতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।’ হেড কোচ নিয়োগের পর তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে বোলিং এবং ফিল্ডিং কোচ। এ ছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যে মহিলা দলের জন্যও একজন ভারতীয় মহিলা কোচ আনা হবে বলে জানিয়েছেন সভাপতি।
এদিকে ক্রিকেট-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতামত নেওয়ার জন্য আজ জাতীয় দলের সব সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন মুস্তফা কামাল। সাবেক তিন অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদ ও হাবিবুল বাশারের সঙ্গে অবশ্য এক দফা আলোচনা সেরে ফেলেছেন কালই। সূত্র জানিয়েছে, ক্রিকেট উন্নয়নে সাবেক অধিনায়কদের আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বোর্ড। সাবেকদের অনেককেই হয়তো অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দায়িত্বে।

শ্রেষ্ঠত্বের পথে মেসির আরেক পা

চেহারাটা এখনো বালকসুলভ। আদর করে অনেকেই ডাকে ‘ছোট্ট জাদুকর’ বলে। লিওনেল মেসির এই বালকসুলভ চেহারা পুরুষসুলভ হবে কবে? তবে পরশু রাতে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হওয়ার পথে আরেক পা এগিয়ে গেছেন ২৩ বছর বয়সী বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা।
মেসি মানে জাদু, মেসিকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। ওয়েম্বলি ফাইনালের আগে মেসি সম্পর্কে এমনটাই বলেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। মেসির সাবেক গুরুর কথাই সত্যি হয়েছে। পার্ক-ভিদিচ-ফার্ডিনান্ড—ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কেউ মেসিকে আটকে রাখতে পারেননি। তাঁর জাদুতে বার্সেলোনা চতুর্থবারের মতো পরল ইউরোপ-সেরার মুকুট।
নিজের মার্কারকে ছিটকে ফেলেছেন বারবার। অনেকটা নিচে নেমে মাঝমাঠজুড়ে করেছেন বিচরণ। আর বার্সার বেশির ভাগ আক্রমণেরই নেতৃত্ব দিয়েছেন। অসাধারণ ড্রিবলিংয়ে মোহিত করে রেখেছেন ম্যানইউর ডিফেন্ডারদের। কখনো কখনো ম্যানইউর রক্ষণ ছিঁড়ে বল নিয়ে গেছেন, কোনো নৃত্যশিল্পীর ধ্রুপদি নাচের মতো।
চ্যাম্পিয়নস লিগে রুড ফন নিস্টলরয়ের সর্বোচ্চ ১২ গোলের রেকর্ড ছোঁয়া গোলটিও মেসি করেছেন এভাবে। মাঝমাঠের মাঝামাঝি জায়গায় বল পেয়ে দৌড় লাগান গোলের দিকে। দুজনকে কাটিয়ে সামনে পান নেমানিয়া ভিদিচকে। তাঁর পাশ দিয়ে ২০ মিটার দূর থেকে বলটি মারেন আচমকা। হতবিহ্বল এডউইন ফন ডার সার! ডেভিড ভিয়ার করা দলের শেষ গোলটিও মেসিরই বানিয়ে দেওয়া। সব মিলিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় মেসিই। তবে মেসি দলীয় অর্জনটাকেই দেখছেন বড় করে, ‘ম্যাচসেরা হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা ভালো খেলেছি, শিরোপা জিতেছি; এটাই বেশি আনন্দের।’
এ পর্যন্ত অনেকেই বলেছেন, মেসি সেরাদের একজন। ম্যাচের আগে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, মেসি গ্রেট খেলোয়াড়দের একজন এবং তাঁর সঙ্গে যে তুলনা হচ্ছে, সেটা ঠিকই আছে। পরশু মেসির জাদুকরি খেলার পর বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলা মেসিকে সন্দেহাতীতভাবে সেরা ঘোষণা করে দিয়েছেন, ‘আমার দেখা সেরা খেলোয়াড় মেসি এবং সম্ভবত পরে আরও যত খেলোয়াড় ভবিষ্যতে দেখব, তাদের মধ্যেও মেসিই আমার সেরা থাকবে। মেসি অদ্বিতীয়।’
‘অদ্বিতীয়’ মেসির কাল হয়তো একটা অতৃপ্তি ঘুচে গেছে। স্প্যানিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে না পারার ওই অতৃপ্তি নিশ্চয়ই ইংল্যান্ডের মাঠে প্রথম গোল পাওয়ার আনন্দে ঘুচে গেছে। এই গোলে তাঁর এ মৌসুমের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩-তে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সমান। গোলসংখ্যায় রোনালদো সমান হতে পারেন, কিন্তু জাভির কাছে মেসির সমান কেউ নন, ‘সে-ই এক নম্বর। সে-ই যেকোনো দলের বিপক্ষে ব্যবধান গড়ে দেয়। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মেসি।’
প্রায় সবার চোখে এ সময়ের সেরা খেলোয়াড় কি পারবেন নিজেকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে নিয়ে যেতে? বিশেষজ্ঞদের মতে আরও একটা ধাপ এগিয়ে গেছেন পরশুর গোলে। শেষ ধাপটা তাহলে কী? বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ জিততে পারলেই হয়তো মেসিকে পাওয়া যাবে ‘ফুটবলসম্রাট’ পেলে আর ‘ফুটবল-ঈশ্বর’ ম্যারাডোনার নামের পাশে।

এখন মাঠে ফেরার অপেক্ষা

আরেকটি অস্ত্রোপচার, আবারও দেশে ফেরা এবং আবারও মাঠে ফেরার অপেক্ষা। ডান হাঁটুতে তৃতীয়বারের মতো অস্ত্রোপচার করিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে পরশু রাতে ঢাকায় ফিরেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফিরে এখন দিন গুনছেন মাঠে নামার।
খেলায় ফেরার জন্য অন্তত আগামী নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে মাশরাফিকে। অক্টোবরে শুরু করতে পারবেন বোলিং। সব ঠিকভাবে এগোলে অবশ্য অস্ত্রোপচারের চার মাসের মধ্যেই রানিং এবং ব্যাটিং করতে পারার কথা তাঁর। তবে আপাতত মাস দুয়েক শুধুই বিশ্রাম। এই সময়ে হালকা সাইক্লিং এবং সুইমিং করতে বলেছেন তাঁকে অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেভিড ইয়াং। ১১ মে মেলবোর্নে মাশরাফির হাঁটুতে অস্ত্রোপচারটা করেছেন তিনিই।
ডেভিড ইয়াংয়ের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই মাঠে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী মাশরাফি, ‘মাত্র ১৫-১৬ দিন হলো অপারেশন হয়েছে। এখনই কিছু বলা মুশকিল। তবে আমি আশাবাদী, নভেম্বরের মধ্যে খেলার মতো ফিট হয়ে যাব।’ হাঁটু পুরো খুলে অস্ত্রোপচার করলে এই সময়সীমাটা বাড়তে পারত। এবারের অস্ত্রোপচারটা সেভাবে হয়নি বলেই জানালেন তিনি, ‘হাঁটু পুরো না খুলে এক পাশ থেকে কেটে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবার। এ ধরনের অস্ত্রোপচার সচরাচর এভাবে করা হয় না। পুরো খুলে অস্ত্রোপচার করলে ৯-১০ মাস সময় লেগে যেত মাঠে ফিরতে।’
ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপে খেলা হয়নি মাশরাফির। তিন ওয়ানডের অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলেছেন অস্ত্রোপচার না করিয়েই। অস্ত্রোপচারের পর এখন জিম্বাবুয়ে সফর তো মিস করবেনই, আগামী অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্ট আর তিন ওয়ানডের হোম সিরিজেও খেলা হবে না তাঁর। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠলে খেলতে পারেন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট-তিন ওয়ানডের হোম সিরিজটা।

‘তরুণদের যোগ্যতা প্রমাণের সুবর্ণ সুযোগ’

আর কয়েক দিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। একনাগাড়ে বিশ্বকাপ ও আইপিএলে ব্যস্ত সময় কাটানোর পর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার জন্য ভারতের বেশকিছু সিনিয়র ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছেন না এ সফরে। শচীন টেন্ডুলকার, গৌতম গম্ভীর, বীরেন্দর শেবাগ ও যুবরাজ সিং টেস্ট বা ওয়ানডে কোনো সিরিজেই থাকবেন না। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেখা যাবে শুধু টেস্ট সিরিজে। এতগুলো সিনিয়র ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে তরুণ ক্রিকেটাররা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সর্বোচ্চ সুযোগ পাবে বলে মন্তব্য করেছেন জহির খান।
আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া এ সফরে তিনটি টেস্ট ও পাঁচটি এক দিনের ম্যাচ খেলবে ভারত। গতকাল এই সিরিজ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জহির খান বলেছেন, ‘তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের এটা একটা সুবর্ণ সুযোগ। এটা খুব বড় একটা সফর। আর তারা যদি এখানে ভালো পারফরমেন্স দেখাতে পারে, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে দলে পাকাপোক্ত জায়গা তৈরি করে নিতে পারবে।’
ধোনির অনুপস্থিতিতে ওয়ানডে সিরিজ ও একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন সুরেশ রায়না। বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানের ওপরও পূর্ণ আস্থা রেখেছেন জহির খান। তিনি বলেছেন, ‘আমি তাঁকে শুভকামনা জানাচ্ছি। সে খুবই ভালো ক্রিকেটার। আর গত দুই বছর ধরে সে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরমেন্স দেখাচ্ছে। আশা করছি, এবারও সে ভালোই করবে।

ইতালিয়ান কাপ ইন্টারের

নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানের থেকে মাত্র ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে ইতালিয়ান লিগ শিরোপাটা হাতছাড়া হয়ে গেছে ইন্টার মিলানের। তবে গতকাল পালের্মোকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ইতালিয়ান কাপ জয়ের মধ্যে দিয়ে সেই ব্যর্থতার হতাশাটা কিছুটা হলেও কাটাতে পেরেছে নেরাজ্জুরিরা। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো এ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে পালের্মোর
গতকাল ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে প্রায় পুরো সময়ই আধিপত্য ছিল ইন্টার মিলানের। ২৬ মিনিটে ওয়েসলি স্নাইডারের পাস থেকে গোল করে ইন্টারকে এগিয়ে দেন ক্যামেরুনের স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতো। এরপর অনেকগুলো ভালো আক্রমণ শানালেও গোলের দেখা পায়নি তারা। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৬ মিনিটে আবারও সেই স্নাইডারের পাস থেকে একই ভাবে দ্বিতীয় গোলটি করেন ইতো। ৮৮ মিনিটে একটি গোল শোধ করেন পালের্মো ডিফেন্ডার ইজেকুয়েল মুনোজ। কিন্তু দুই মিনিট পরেই পালের্মোর জালে আরেকবার বল জড়িয়ে খেলা শেষ করেন মিলানের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার ডিয়েগো মিলিতো।
২০১০ সালে ইন্টার মিলানে আসার পর এবারই প্রথম কোনো শিরোপার দেখা পেলেন ব্রাজিলীয় কোচ লিওনার্দো। ম্যাচ শেষে তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তাঁর শিষ্যদের। নিয়মিত কিছু খেলোয়াড় ইনজুরির কবলে না পড়লে মৌসুমটা আরও ভালো কাটত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিসিএস পরীক্ষায় অনিয়ম

সরকারি প্রশাসনে নিয়োগ পরীক্ষা তথা বিসিএস পরীক্ষার গুরুত্ব নতুন করে বলার কিছু নেই। চাকরিপ্রার্থীরা এই পরীক্ষাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে থাকেন। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে, সরকারি কর্মকমিশন তথা পিএসসির দিক থেকে বিষয়টিকে হেলাফেলাভাবেই দেখা হয়। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া থেকে শুরু করে বহু অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনৈতিক ঘটনা ঘটে। যে কারণে অযোগ্যরাও সরকারি চাকরি বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন। আশার কথা যে স্বয়ং পিএসসি এখন পরীক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও চ্যালেঞ্জিং করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে। তারা পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা তথা হল ও আসনবিন্যাস আরও সুচারু করার ব্যাপারে সুপারিশও করেছে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য যে পরীক্ষা জীবন-মরণ, সরকারের কাছে সেই পরীক্ষা হলো নবীন কর্মকর্তা নিয়োগের কর্তব্য। পরীক্ষা ও মূল্যায়নপদ্ধতি যত নিশ্ছিদ্র ও নিরপেক্ষ করা যায়, ততই রাষ্ট্রের জন্য একজন যোগ্য কর্মকর্তা পাওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু বিগত এক দশকের অভিজ্ঞতা বলে, উপর্যুপরি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এর বাইরে আলোচিত হয়েছে পরীক্ষার হলে আসনবিন্যাস, নজরদারি এবং নকল ঠেকানোয় গাফিলতির বিষয়টি। রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া সরকারি কর্মকমিশন প্রতিবেদনে (২০১০) এসব অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। বাস্তবতই, সুষ্ঠু পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে হলে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তার পাশাপাশি পরীক্ষার হলের পরিবেশ রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কেউ যাতে নকল করতে না পারেন, কেউ যাতে আসনবিন্যাসকে প্রভাবিত করতে না পারেন, কারও পক্ষেই যাতে প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া সম্ভব না হয়; তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব নিশ্চিত করার পরেই বলা যাবে যে বিসিএস পরীক্ষা সুষ্ঠু হয়েছে এবং তুলনামূলক যোগ্যরাই সরকারের প্রশাসনে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রশাসনের দুর্নীতি, অদক্ষতা ও সুবিধাবাদিতাও কমানো সম্ভব।
কিন্তু এর জন্য যথাযথ ও অলঙ্ঘনীয় আইনি পরিকাঠামো নেই। অর্থাত্, পরীক্ষাপদ্ধতি সুষ্ঠু করার আইনি বাধ্যবাধকতার অভাব রয়েছে। এই লক্ষ্যে পিএসসি একটি নীতিমালাসহ ১১ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হলে ও কেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো, যথাসম্ভব পিএসসির নিজস্ব হলে পরীক্ষা নেওয়া, পরীক্ষা পরিদর্শকদের দায়বদ্ধ করা ও হলে মুঠোফোন নিষিদ্ধ করা। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো সরষের ভেতরের ভূত দূর করা। যাঁরা পরীক্ষা তদারকি করবেন, যাঁরা খাতা দেখবেন, তাঁদের বাছাই-প্রক্রিয়াও ত্রুটিহীন করতে হবে। তাঁরা যদি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকেন বা সেসব উপেক্ষা করেন, তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যাবতীয় রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির চাপ থেকেও তাঁদের সুরক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা উন্নত করার স্বার্থে প্রয়োজনে যেসব দেশ এসব ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছে, সেসব দেশের অভিজ্ঞতাও যাচাই করা যায়।

সাম্রাজ্যের অযৌক্তিক অবস্থান by ফিদেল কাস্ত্রো

যখন সাম্রাজ্যের অন্তর্জ্বালা চলতে থাকে, তখন সেই সাম্রাজ্য যে মানবজাতিকে কোনো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে না, সে কথা কেউ হলফ করে বলতে পারে না।
মানবজনমের ধারা যত দিন জারি থাকবে, তত দিন প্রতিটি মানুষের পবিত্র দায়িত্ব আশাবাদী হওয়া। অন্য রকম আচরণ অগ্রহণযোগ্য। আমার মনে পড়ে, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগের একদিনের কথা, যেদিন আমি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা এক প্রজাতির কথা বলেছিলাম। সেই প্রজাতির নাম মানুষ।
একদল বুর্জোয়া শাসক, যাঁদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র বুশের (জুনিয়র বুশের চেয়ে কম অনিষ্টকর) অনুগত, নিষ্ঠাবান বিশালদেহী ও ভোজনবিলাসী জার্মান নেতা হেলমুট কোহল এবং তাঁর মতো স্বভাবের আরও কিছু রাষ্ট্রনেতা। সাম্রাজ্যের প্রতি প্রেমে তাঁরা পতিত হওয়ার আগেই আমি সেই সত্য কথাটা না বলে পারিনি। যদিও এখনো সেই সময় আসার অনেক দেরি, তবু আমার আন্তরিক বিশ্বাস, আশঙ্কাটি পুরোপুরি বাস্তব।
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ টেলিভিশন খুলে বসলাম। কেউ একজন বলেছিলেন, পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে বারাক ওবামা তখন বক্তৃতা শুরু করেছেন। ওবামার কথা শোনায় মনোযোগ দিলাম।
প্রতিদিন আমি একগাদা খবর পড়ি অথচ কেন জানি না, তিনি যে এ সময় বক্তৃতা দেবেন, সে ব্যাপারে কোনো প্রতিবেদন আমার নজরে পড়েনি। পাঠকদের আশ্বস্ত করতে পারি, প্রতিদিন নাটকীয় সত্য ও নানা ধরনের ঘটনার ভেতর যেসব হাস্যকর ব্যাপার ও মিথ্যা আমি পড়ি, শুনি কিংবা ছবি হিসেবে দেখি, তার পরিমাণও কম নয়। এবারের বক্তৃতার গুরুত্ব ছিল অসামান্য। সমগ্র দুনিয়া যখন সাম্রাজ্যের নানা অপকর্ম, গণহত্যা, মানববিহীন বিমান থেকে প্রাণনাশী বোমা নিক্ষেপের ভার বহন করছে, সেই সময় কী বলেন ওবামা, সেটা দেখার বিষয়। এসব অপকর্মের কথা ওবামা হয়তো ভাবতেও পারেননি কিছুদিন আগে, যখন তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। এখন তো কিছু জীবন ও মৃত্যু তাঁর সিদ্ধান্তের অধীন।
ওবামা পরিস্থিতির নিয়ন্তা নন। তিনি শুধু কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দের শাসন চালান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট’কে সেই ক্ষমতা দিয়েছে দেশটির দীর্ঘকাল ধরে টিকে থাকা ব্যবস্থা। স্বাধীনতা ঘোষণার ২৩৪ বছর পর পেন্টাগন ও সিআইএর হাতে এখন সাম্রাজ্যিক শক্তির তৈরি মৌলিক হাতিয়ারগুলো—কয়েক মুহূর্তে মানব প্রজাতিকে ধ্বংস করতে সক্ষম এমন প্রযুক্তি, বিদেশি সমাজের গভীরে ঢোকার উপায়, প্রয়োজনে অন্য রাষ্ট্রকে নির্লজ্জভাবে ভাঁওতা দেওয়া। তারা মনে করে, সাম্রাজ্যের শক্তি সীমাহীন। তারা এক শান্ত, বশীভূত দুনিয়া শাসন করতে চায়, যেখানে কোথাও কোনো গোলযোগ থাকবে না।
এই সেই আজগুবি ধারণা, যার ওপর ভিত্তি করে তারা আগামীর দুনিয়া দাঁড় করাতে চায় ‘সেখানে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সমান সুযোগ ও মানবাধিকারের শাসন’ কায়েম করার কথা বলা হয়। দারিদ্র্য, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানের (অথবা খাদ্য, খাওয়ার পানি, বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদার) ঘাটতির নিদারুণ বাস্তবতা তারা দেখতে অক্ষম।
একটি উদাহরণ দিই। কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, প্রতিবছর মাদকসংশ্লিষ্ট সহিংসতায় যে ১০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে (মূলত মেক্সিকোতে) তা ভবিষ্যতে কী রূপ নেবে। মেক্সিকো ছাড়াও মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি রাষ্ট্রে এ ধরনের সহিংসতায় অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এসব দেশের মানুষের মনে আঘাত দিতে চাই না। আমার উদ্দেশ্য, শুধু প্রায় প্রতিদিন ঘটে যাওয়া বাস্তব চিত্র তুলে ধরা।
এখনই যে প্রশ্নটি তোলা দরকার তা হলো, স্পেনে তাহলে কী ঘটতে যাচ্ছে? স্পেনের প্রধান প্রধান শহরে এখন বিক্ষোভ চলছে। এমন সংগ্রামী চেহারায় জনগণ আবির্ভূত হওয়ার শুধু একটা কারণই বলি, ৪০ শতাংশ তরুণ কর্মসংস্থানহীন। ন্যাটোর সদস্য এই রাষ্ট্রে বোমা হামলা শুরু হওয়ার কোনো আশঙ্কা কি আছে?
ইংরেজি থেকে অনূদিত
ফিদেল কাস্ত্রো: কিউবার বিপ্লবের নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট।

আইনের শাসন সমুন্নত রাখুন by কাজী আলী রেজা

ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অনাহার, বেকারত্ব ও বঞ্চনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে একটি উন্নততর কল্যাণকর ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৪৫ সালে গঠিত হয় জাতিসংঘ। সেই প্রচেষ্টা আজও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার এই নিরন্তর প্রচেষ্টায় জাতিসংঘকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করাই শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দশকগুলোতে ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মধ্যকার ঠান্ডা-যুদ্ধ এবং এর ফলে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার বাস্তবতা মোকাবিলা করা, অসহিষ্ণুতাকে সহিষ্ণুতা দিয়ে জয় করা, শক্তিমত্তাকে সমন্বয়ে পর্যবসিত করা এবং যুদ্ধকে শান্তির প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী গঠিত হয়। শান্তিরক্ষা যুদ্ধ ও সংঘাতের বিকল্প শক্তি এবং বিশ্বশান্তির নতুন কৌশল।
১৯৪৮ সালের মে মাসে ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতি আন্তর্জাতিক এখতিয়ারে ন্যস্ত করার পর থেকে সেখানে ৩৬ সদস্যের জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দল ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এই মিশনের নাম দেওয়া হয় ইউএনটিএসও। দ্বিতীয় মিশনটি পাঠানো হয় ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার এই মিশনের নাম ইউএনএমওজিআইপি।
বিবদমান দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা ও আর্তমানবতার কল্যাণ এবং বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা বাহিনীর অবদান ও আত্মত্যাগের মহিমাকে স্মরণ করে ২০০৩ সালের ২৯ মে প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। তখন থেকে প্রতিবছর এ দিবসটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
শান্তিরক্ষা জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ, সফল ও দৃশ্যমান কার্যক্রম। এই কার্যক্রমের বর্ণনা দিতে গিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, সনদের প্রথম অনুচ্ছেদের প্রথম বাক্য, পরবর্তী প্রজন্মকে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মুক্ত রাখার লক্ষ্য বাস্তবায়নে শান্তিরক্ষীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: নিবারক কূটনীতি, শান্তি প্রতিষ্ঠা, শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ। নিবারক কূটনীতি, শান্তিরক্ষায় অলক্ষ্যে কাজ করে যায় এবং প্রায়ই তেমন আলোচিত হয় না। আর শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনীতির সাফল্য শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি করে।
শান্তিরক্ষার জন্য চাহিদা আগে যেমন ছিল এখনো তা-ই আছে। বাস্তবিক অর্থে আগের চেয়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতা আরও ব্যাপক ও বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়েছে। শান্তিরক্ষীরা এখন যুদ্ধবিরতি রক্ষা করছেন, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ করছেন, সাবেক যোদ্ধাদের নিরস্ত্র করছেন, আপস-মীমাংসায় সহায়তা করছেন, মানবিক সাহায্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছেন, শরণার্থী ও বাস্তুত্যাগীদের ঘরবাড়িতে ফিরতে সাহায্য করছেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচন, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরিবেশ নিশ্চিত করছেন।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৫টি শান্তিরক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। তা ছাড়া ১২টি রাজনৈতিক মিশন কাজ করে যাচ্ছে। এগুলোতে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীর সংখ্যা এক লাখ ২০ হাজার। এই সংখ্যাটি সর্বশীর্ষে পৌঁছে গত বছরের মে মাসে, যা ছিল এক লাখ ২৬ হাজার।
নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক ২০০০ সালে গৃহীত নারী, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবে শান্তিরক্ষায় নারীর ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবে শান্তিরক্ষায় নারী পুলিশের অংশীদারি ২০১৪ সাল নাগাদ ২০ শতাংশে পৌঁছার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পর থেকে নারীরা বিভিন্ন শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অংশ নিয়ে আসছে। বর্তমানে নারী পুলিশ শান্তিরক্ষীর হার ৯ শতাংশ।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এলেইন-লি-রয় বাংলাদেশ থেকে ১৪০ সদস্যের নারী পুলিশ সদস্যকে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের নারীদের অবদানের পথ আরও প্রশস্ত হয়। ওই বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের নীতিনির্ধারণী স্তরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জোর দাবি জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে চালু ১৫টি মিশনের মধ্যে তিনটির প্রধান হলেন নারী, আর এই তিনজনের একজন বাংলাদেশের আমিরা হক। তিনি তিমুর লিস্তের মিশনপ্রধান। অপর দুই নারী নিযুক্ত আছেন লাইবেরিয়া ও সাইপ্রাসে।
সেনাবাহিনীর ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক প্রেরণের মধ্য দিয়ে ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ৪৫টি মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ১০টি মিশনে মোট ১০ হাজার ৭৪৩ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সুনাম অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। ২০১০ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে দক্ষিণ এশিয়ায় নেপালের পরই বাংলাদেশের স্থান।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান সারা বিশ্বে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এই শান্তিরক্ষার কাজ করতে গিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশকে চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে। বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১০৩ জন শান্তিরক্ষী তাঁদের জীবন উত্সর্গ করেছেন।
এবারের শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা। এ উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে প্রয়োজন পুলিশ, বিচারব্যবস্থা এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে শক্তিশালী করা। এ কারণেই জাতিসংঘ পুলিশকে কখনো তাদের ক্ষমতা অপব্যবহার না করার প্রশিক্ষণ দেয়, ন্যায়বিচার প্রদান নিশ্চিত করতে আদালত যাতে সঠিকভাবে কাজ করতে পারেন, সে জন্য আদালতকে সহায়তা দেয় এবং আটক ব্যক্তিদের আটকাবস্থা যাতে মানবিক হয়, তার জন্য কাজ করে।’
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সাফল্যের মূল কারণ, বিবদমান পক্ষগুলোর জাতিসংঘের নিরপেক্ষতার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস। কয়েক বছর ধরে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী শীর্ষ দেশের তালিকায় প্রথম অথবা দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করে জাতিসংঘের এই সাফল্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে বাংলাদেশ।
এ কথা আজ সবারই জানা, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় উত্সর্গকৃত যুদ্ধের বিকল্প শক্তি শান্তিরক্ষীরা যুদ্ধের হাতিয়ার নন; বরং শান্তির অগ্রদূত। আজকের এই শান্তিরক্ষী দিবসে চলুন সবাই তাঁদের সম্মান জানাই।
কাজী আলী রেজা: অধিকর্তা, জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র, ঢাকা।

র্যাপসংগীত তারকা হেরন আর নেই

‘গডফাদার অব র্যাপ’ খ্যাত মার্কিন কবি, লেখক ও সংগীতশিল্পী গিল স্কট-হেরন (৬২) গত শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে সম্প্রতি ইউরোপ সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে।
স্কট-হেরনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডরিস নোলান জানান, শুক্রবার বিকেলে নিউইয়র্কের সেন্ট লুকস হাসপাতালে মারা যান স্কট-হেরন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত।’
১৯৪৯ সালে শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন স্কট-হেরন। নিউইয়র্কে পাড়ি জমানোর আগে জীবনের বড় একটা অংশ কাটান টেনেসি অঙ্গরাজ্যে।
লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন বিখ্যাত পিয়ানো ও বংশীবাদক ব্রায়ান জ্যাকসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তাঁর। ব্রায়ানের সান্নিধ্যে থেকে তিনি র্যাপসংগীতের সঙ্গে পরিচিত হন। কবিতার সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রের সুর মিশ্রণ করে সৃষ্টি করেন ব্যতিক্রমী র্যাপসংগীত। সেই থেকে র্যাপসংগীতের গডফাদার হিসেবেই তিনি পরিচিত। তবে তিনি নিজে কখনো এই উপাধিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি।
স্কট-হেরনের বিখ্যাত কিছু সৃষ্টি হলো, ১৯৭০ সালে গণমাধ্যমের প্রতিযোগিতা নিয়ে গাওয়া ‘দ্য রেভল্যুশন উইল নট বি টেলিভাইজড’, ১৯৭৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ নিয়ে ‘হোম ইজ হোয়ার দ্য হ্যাট্রেড ইজ’, ১৯৭১ সালে মাদক সেবন ও দারিদ্র্য নিয়ে ‘উই অলমোস্ট লস্ট ডেট্রয়েট’, ১৯৭৭ সালে পারমাণবিক বোমার ভয়াবহতা নিয়ে ‘মেসেজ টু দ্য মেসেঞ্জারস’।

মোবারককে জরিমানা

মিসরের রাজধানী কায়রোর একটি আদালত গতকাল শনিবার দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ও তাঁর সাবেক দুই মন্ত্রীকে নয় কোটি ডলার জরিমানা করেছেন। মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করার দায়ে তাঁদের এ জরিমানা করা হয়। মিসরের বিচার বিভাগীয় একটি সূত্র তথ্যটি জানায়।
আদালত মোবারক, তাঁর সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ নাজিফ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাবিব আল-আদলিকে তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই জরিমানা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি মাওবাদীরা

পশ্চিমবঙ্গে শান্তির পরিবেশ ফেরাতে মাওবাদীরা রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি আছে। গত শুক্রবার মাওবাদী নেতা বিকাশ ও বিক্রম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে মাওবাদীরা সিঙ্গুরের কৃষকদের কাছে মমতার জমি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে নির্বাচনের পর রাজ্যে অস্ত্র উদ্ধারের যে অভিযান চলছে, তাকে নাটক বলে অভিহিত করেছেন তাঁরা।
মাওবাদী নেতারা বলেন, ‘মমতা নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এলেও এখন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সে বিষয়ে নীরব রয়েছেন।

সিরিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আটজন নিহত

সিরিয়ায় গত শুক্রবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে কমপক্ষে আট বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। একটি মানবাধিকার সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, সরকারের নির্মম অভিযানের প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেশ কয়েকটি শহরে মুসল্লিরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুড়লে দক্ষিণাঞ্চলীয় দায়েল শহরে তিনজন, দামেস্কের শহরতলি কাতানায় তিনজন, জাবাদানিতে একজন এবং জাবলেহতে একজন নিহত হয়। এর আগের শুক্রবার সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে ৪৪ জন নিহত হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, গত ১০ সপ্তাহে সিরিয়ায় কমপক্ষে এক হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। ফ্রান্সে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৮ সম্মেলনে বিশ্ব নেতারা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালে এ ধরনের হত্যার ঘটনায় তাঁরা মর্মাহত। তাই অবিলম্বে এ ধরনের ক্ষমতার জবরদস্তিমূলক ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ রাজনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য দামেস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের দুভিলে শিল্পোন্নত জি-৮ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

ইয়াংজি অববাহিকায় প্রচণ্ড খরায় জনজীবন বিপর্যস্ত

চীনের ইয়াংজি নদীসংলগ্ন অঞ্চলে প্রচণ্ড খরায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে গবাদি পশুপাখির অবস্থাও হয়ে পড়েছে সঙ্গিন। এটি চীনের অন্যতম প্রধান শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চল।
সরকারি সূত্র গতকাল শনিবার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২৯ কোটি ডলার। খরায় তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বেসামরিকবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, খরায় এলাকায় খাবার পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে। ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের জরুরি সাহায্য দরকার হয়ে পড়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চলমান এ প্রাকৃতিক দুর্যোগটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তা দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে।
ইয়াংজি নদীর অববাহিকা চীনের সবচেয়ে দীর্ঘ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহনকারী এলাকা। এখানে গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে বৃষ্টিপাতের গড় পরিমাণ বিগত ৫০ বছরের তুলনায় ৬০ ভাগ পর্যন্ত কম হয়েছে।
সরকারি পত্রিকার খবরে জানানো হয়েছে, নদীসংলগ্ন জিয়াংসু, অনহুই, জিয়াংজি, হুবেই এবং হুনান প্রদেশে হ্রদ ও অন্যান্য জলাধারে পানির স্তর প্রায় ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। এসব অঞ্চলে মাছের খামারগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্টের শৌচাগার ব্যবহার করায়

তখন তাঁর খুব বেগ পেয়েছিল। দৌড়ে ঢুকে পড়লেন এক শৌচাগারে। তবে তা যে-সে শৌচাগার নয়, দেশের প্রেসিডেন্টের জন্য সংরক্ষিত শৌচাগার। এর জেরও কম টানতে হচ্ছে না তাঁকে। গ্রেপ্তার হয়ে তিনি এখন কারাগারে। এরই মধ্যে পার হয়েছে তিন সপ্তাহ।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিটি হলেন জিম্বাবুয়ের বুলাওয়ে শহরের পুলিশ সার্জেন্ট অ্যালয়েস মাবহুনু। ৭ মে ওই শহরে একটি বাণিজ্য মেলায় প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের জন্য সংরক্ষিত শৌচাগার ব্যবহার করেন তিনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, সার্জেন্ট মাবহুনু মার্ডার স্কোয়াডের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ৭ মে বুলাওয়ের বাণিজ্য মেলায় দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর এতই বেগ পেয়েছিল যে, এক দৌড়ে গিয়ে সামনে যে শৌচাগার পেয়েছিলেন, সেটাতেই ঢুকে পড়েন। সেখানে কর্তব্য পালনরত পুলিশ সদস্যরা মাবহুনুকে বাধা দিয়েও ঠেকাতে পারেননি। তিনি তাঁদের ধাক্কা মেরে সরিয়ে দ্রুত ছোট্ট ঘরটিতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কাজ সেরে সার্জেন্ট ফিরে যান তাঁর দায়িত্বে। কিন্তু প্রহরারত পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি গোয়েন্দা বিভাগকে জানান। পরদিন গ্রেপ্তার করা হয় মাবহুনুকে। সেই থেকে তিনি একটি পুলিশ ডিটেনশন ব্যারাকে বন্দী। গত শুক্রবার শৃঙ্খলা ভঙ্গবিষয়ক পুলিশের বিশেষ আদালতে মাবহুনুর মামলার শুনানি হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে পুলিশের মুখপাত্র ম্যান্ডলেনকোসি ময়ো বলেন, ‘এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

পাঁচ সন্ত্রাসীর নাম পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ সন্ত্রাসীর একটি তালিকা তৈরি করেছে। তালিকাটি পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তালিকায় আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষনেতা আইমান আল জাওয়াহিরি, ইলিয়াস কাশ্মীরি ও আফগানিস্তান তালেবানের প্রধান মোল্লা ওমরের নাম রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এবিসি নিউজ এ কথা জানায়।
এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, পাকিস্তান অতি সত্বর ওই পাঁচ সন্ত্রাসী সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে।
গত দুই সপ্তাহে পাকিস্তানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যকার দুটি বৈঠকে ওই তালিকা সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ইসলামাবাদে পাকিস্তানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তালিকায় হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান কমান্ডার সিরাজুদ্দিন হাক্কানি, লিবিয়ায় আল-কায়েদার প্রধান আতিয়া আবদেল রহমানের নামও রয়েছে।
এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকাকে পাকিস্তানের জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখছে। প্রতিবেদনের আরও বলা হয়, যেসব সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের মাটিতে নিরাপদ আস্তানা গেড়ে বসে আছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যাপারে পাকিস্তান আন্তরিক কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি সূত্র এ ধরনের তালিকা থাকার বিষয়টি ডন পত্রিকার কাছে নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সূত্র বলেছে, ‘পাকিস্তানি নেতাদের কাছে যে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তা জোরালো ও পরিষ্কার।’
বোমা হামলায় আটজন নিহত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতি-অধ্যুষিত বাজাউর জেলার একটি বাজারে গতকাল শনিবার বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে কমপক্ষে আটজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। জঙ্গি সংগঠন তেহেরিক-ই-তালেবান হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
বাজাউর জেলার প্রধান শহর খার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সালারজাই অঞ্চলের পাশত বাজারে দূরনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সাহায্যে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা সাদ মোহাম্মদ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে কমপক্ষে আট জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ইরশাদ খান জানান, বিস্ফোরণে মালিক তেহসিল খান ও মালিক মায়েন জান নামের গোত্রের দুজন প্রবীণ উপজাতীয় নেতা নিহত হয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তা আরও জানান, এই দুই ব্যক্তি হামলার প্রধান লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ তাঁরা স্থানীয় শান্তি কমিটির সদস্য। আর এ কমিটি তালেবানকে প্রতিহত করতে একটি উপজাতীয় বাহিনী গড়ে তোলে।

আফগানিস্তানে বোমায় শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, গভর্নর আহত

আফগানিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজন নিহত এবং একজন প্রাদেশিক গভর্নরসহ বহু লোক আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে ন্যাটো বাহিনীর কমান্ডার থাকলেও তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। তালেবান এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার উত্তরাঞ্চলের তাখার প্রদেশের গভর্নরের দপ্তরে ওই হামলা চালানো হয়। হামলায় উত্তরাঞ্চলীয় পুলিশ কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ দাউদ দাউদসহ সাতজন নিহত হন। দাউদ একসময় তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের কমান্ডার আহমদ শাহ মাসুদের দেহরক্ষী ছিলেন।
ন্যাটো বাহিনীর মুখপাত্র মেজর টিম জেমস বলেন, আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে নিয়োজিত ন্যাটো বাহিনীর কমান্ডার হামলার সময় গভর্নরের দপ্তরে থাকলেও তিনি বেঁচে গেছেন। তিনি জানান, হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আফগান ও বিদেশি সেনাসদস্য রয়েছেন।

মাল্টায় বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে গণভোট

বিবাহবিচ্ছেদ-বিষয়ক আইন চালু হবে কি হবে না, এই নিয়ে গতকাল শনিবার ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ দেশ মাল্টায় গণভোট হয়েছে। চার লাখ মানুষের দেশ মাল্টা ইউরোপের একমাত্র দেশ, যেখানে আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদের প্রচলন নেই। সেখানকার প্রভাবশালী ক্যাথলিক চার্চ বিবাহবিচ্ছেদ আইনের ঘোর বিরোধী। নির্বাচন-পূর্ব জনমত জরিপ অনুযায়ী, এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ৪০ শতাংশ নাগরিক সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।
গত বছরের জুলাইয়ে বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ হিসেবে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী ন্যাশনাল পার্টির সদস্য জেফরি পুলিসিনো অরল্যান্ডো এটি বিল আকারে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেন। এতে তাঁর নিজ দলের অনেক সদস্য মর্মাহত হন।
প্রস্তাবিত বিলে বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি রক্ষণশীল আকারে তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূলত আইরিশ রীতি অনুসরণ করা হয়েছে। সেখানে বিবাহবিচ্ছেদের আগে দম্পতিদের চার বছর আলাদা থাকতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী লরেন্স গনজি স্বয়ং বিবাহবিচ্ছেদের ঘোর বিরোধী। কিন্তু পার্লামেন্টে তাঁর দল মাত্র একটি আসন বেশি পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। কাজেই তিনি চাইলেই তাঁর ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে না। এ জন্য দেশব্যাপী জনমত যাচাইয়ে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা জোসেফ মাসকাট বিবাহবিচ্ছেদের জোরালো সমর্থক। অবশ্য তাঁর দলের কিছু নেতা-কর্মী অবশ্য এর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় তিনি বলেন, বিবাহিত জীবনের পাট চুকিয়ে যারা নতুন করে জীবন শুরু করতে সমর্থ, তাদের জন্য এই গণভোট একটি সুযোগ।

গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতেই হবে

এবার লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোটের (জি-৮) নেতারা। ফ্রান্সের দুভিলে দুই দিনব্যাপী জি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে গত শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে জোটের নেতারা এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তাঁকে (গাদ্দাফি) সরে যেতেই হবে।’ পশ্চিমা দেশগুলোর এই আহ্বানের সঙ্গে এবার লিবিয়ার মিত্র দেশ রাশিয়াও যোগ দিয়েছে। এর ফলে লিবিয়ায় নর্থ আটলান্টিক অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) হামলা আরও বেগবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে রাজধানী ত্রিপোলিতে টানা পাঁচ রাত হামলার পর ন্যাটো বাহিনী গতকাল শনিবার দিনের বেলাও হামলা চালিয়েছে।
জি-৮ নেতাদের ওই যৌথ বিবৃতে বলা হয়, গাদ্দাফি ও লিবিয়া সরকার সে দেশের জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার বৈধতা হারিয়েছেন গাদ্দাফি। স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক লিবিয়ায় তাঁর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। গাদ্দাফিকে অবশ্যই সরে যেতে হবে।
রাশিয়াও এই যৌথ বিবৃতিতে একমত পোষণ করেছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়। একই সঙ্গে গাদ্দাফির সরে যাওয়ার রাস্তা প্রস্তুত করার মধ্যস্থতা করতে রাজি হয়েছে মস্কো। তবে লিবিয়া অভিযানে ন্যাটোর ভূমিকার সমালোচনা করেছে মস্কো।
সাংবাদিকদের মেদভেদেভ বলেন, গাদ্দাফির সরে দাঁড়ানো উচিত। তিনি আরও বলেন, গাদ্দাফি যদি লিবিয়া ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাঁর বিদায় নেওয়ার ধরন সম্পর্কে আলোচনা হতে পারে।
এদিকে লিবিয়ার সরকারি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, শুক্রবার দিবাগত রাতে ত্রিপোলির বিভিন্ন লক্ষ্যস্থলে ন্যাটো বিমান হামলা চালায়। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে বাব আল-আজিজিয়ায় গাদ্দাফির কম্পাউন্ডের অদূরে সেনা ব্যারাকে ন্যাটো হামলা চালায়। হামলার পর শহর থেকে আকাশে সাদা ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
লিবিয়ার সরকারি টেলিভিশনের খবরের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, ত্রিপোলির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদার নিকটবর্তী এলাকায় ভৌত অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিসহ মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
লিবিয়ার চলমান সংকট নিরসনে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও তুরস্ক এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতার উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছেন গাদ্দাফি। সে দেশের বিরোধী পক্ষও এ ব্যাপারে ছাড় দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
রাশিয়া এর আগে লিবিয়ায় ন্যাটোর হামলার তীব্র সমালোচনা করেছিল। এবার রাশিয়া মধ্যস্থাকারীর ভূমিকা নিলেও লিবিয়ার পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ প্রসঙ্গে আরব লিগের মহাসচিব আমর মুসা বলেন, গাদ্দাফিকে যতোটুকু জানি, আমি মনে করি না যে তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবেন।
রাশিয়ার এ প্রস্তাব আরও আগে আসা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন লিবিয়ার বিদ্রোহী পক্ষের মুখপাত্র আবদেল হাফিদ গোগা।
জি-৮ নেতাদের সঙ্গে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানোয় বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, লিবিয়ায় ন্যাটোর হামলা আরও গতি পাবে।
এদিকে গাদ্দাফির স্ত্রী সোফি ন্যাটোর বিমান হামলায় ছেলে সাইফ আল-আরব নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। গত শুক্রবার সিএনএনকে টেলিফোনে এ কথা বলেন তিনি। সোফিয়া বলেন, ‘আমি সেখানে ছিলাম না। কিন্তু আমি যদি তার সঙ্গে সেখানে মরতে পারতাম খুব ভালো হতো।’ এক প্রশ্নের জবাবে সোফিয়া বলেন, ‘আমার সন্তানেরা বেসামরিক নাগরিক। তাদেরও লক্ষ্য করেছে ন্যাটো।’
গাদ্দাফির স্ত্রী বলেন, ‘ন্যাটো বাহিনী লিবিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করে যুদ্ধাপরাধ করেছে। আমাদের মর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা করছে ন্যাটো বাহিনী।

সালভো কেমিক্যালের শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা

সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য পাঁচ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ৪ জুলাই সকাল ১০টায় গাজীপুরের শ্রীপুরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ১.৪৩ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ১২.০৫ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ০.১৬ টাকা।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে বাজেটকে মূল্যায়ন করতে হয়

ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কী প্রাপ্তি হয়েছে, সেই আলোকেই বাজেটকে মূল্যায়ন করা উচিত। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এই সরকারের আমলে দ্রব্যমূল্য ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে ।
গতকাল শনিবার অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টেন্টস (এসিসিএ) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খান এসব কথা বলেন।
আকবর আলি খান আরও বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সাংসদেরা বাজেট পাসে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। অথচ সংবিধান অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের করারোপ করা যায় না।
রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মনিরুজ্জামান মিঞা, সাবেক পরিকল্পনাসচিব জাফর আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, দ্য ডেইলি সান সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল করিম, এসিসিএ কান্টি ম্যানেজার মহুয়া রশীদ প্রমুখ। আলোচনায় সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন মনোয়ার হোসেন।
আকবর আলি খান বলেন, দুর্নীতি দমনের কথা বলা হলেও গত আড়াই বছরে ক্ষমতাধরদের সম্পদের বার্ষিক বিবরণী নেওয়া যায়নি।
আবার বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে বড় আকারের ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করলে তা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে বলে মত দেন তিনি।
আকবর আলি খানের মতে, চাহিদা অনুযায়ী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার এক লাখ কোটি টাকা হওয়া উচিত। এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশে জিডিপির সাড়ে ৭ শতাংশ ভৌত অবকাঠামোতে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ৬ শতাংশ করে বিনিয়োগ করতে হয়।
আকবর আলি আরও বলেন, সংসদ অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপনের পর তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য সাংসদেরা ১৯-২০ দিন সময় পান। তাঁরা যে সময় পান তার ৪০ শতাংশও ব্যবহার করেন না। প্রকৃতপক্ষে সাংসদেরা বাজেট অনুমোদন করেন না। সাংসদেরা সরকার নিয়ন্ত্রণ করেন না, সরকারই সাংসদদের নিয়ন্ত্রণ করে।
আকবর আলি খান অভিমত দেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে ক্ষমতাসীনদের বাজেট হওয়া উচিত। আওয়ামী লীগও তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কিছু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু কেন তারা তা পারছে না বা পারেনি, সেই ব্যাখ্যা বাজেট বক্তব্যে থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া উচিত, যা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
গরিব দেশের বাজেট চাহিদা অনুযায়ী করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জাফর আহমেদ চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, সোনালী ব্যাংকের মতো সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। অথচ এই ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে তহবিল গঠন করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাজেট ভালো কি মন্দ, তা বুঝব পেট ও পকেট দিয়ে। রাজনীতির গোড়ায় গলদ থাকলে অর্থনীতি উদ্দীপ্ত হয় না বলে তিনি অভিমত দেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, শোনা যাচ্ছে এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট হচ্ছে, এটা অবাস্তব। দুর্নীতি থাকলে যত বড় বাজেট দেওয়া হোক না কেন, তা কাজে আসবে না। জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তিনি।
রকিবুল হাসান বলেন, কৃষি খাতের ভর্তুকি প্রকৃত কৃষকেরা পাচ্ছেন না। মধ্যস্বত্বভোগীরা তা খেয়ে ফেলছে। এ জন্য তিনি কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেন।
এ ছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করেন প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধি মনসুর আহমেদ চৌধুরী।

সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে

পুঁজিবাজারে আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম দিনটি বেশ ভালোই কেটেছে। আজ দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। ফলে বেড়েছে সূচকও। একই সঙ্গে লেনদেনও বেড়েছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। পাঁচ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিছুটা কমে গেলেও তার পর থেকে সূচক আবার বাড়তে শুরু করে। বেলা একটার দিকে সূচক প্রায় ১১০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর কিছুটা কমলেও দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৯২.২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৪৮৯.৮৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
এ সময় মোট ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ২৩৪টির, কমেছে ২৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট ৩৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের লেনদেন থেকে ৩৪ কোটি টাকা বেশি।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বিএসআরএম স্টিল, এমআই সিমেন্ট, পিএলএফএসএল, আফতাব অটো, বেক্সিমকো, মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স, ইউনাইটেড এয়ার, আরএন স্পিনিং, মালেক স্পিনিং ও এনবিএল।
ডিএসইতে আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ওশান কন্টেইনারের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, মাইডাস ফিন্যান্স, আইসিবি এএমসিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, কেয়া কসমেটিকস, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, এশিয়া ইনস্যুরেন্স, এসিআই ফরমুলেশন, রংপুর ফাউন্ড্রি ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, দুলা মিয়া কটন, প্রভাতী ইনস্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, রেকিট বেনকিজার, লিগেসি ফুটওয়্যার, অ্যাপেক্স স্পিনিং, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ও সাউথইস্ট ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক ২৫৫.৯২ পয়েন্ট বেড়ে ১৫৩৩০.৩২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ সিএসইতে মোট ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ১৭৩টির, কমেছে ১৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইতে আজ ৪৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

কুক-ট্রট এগিয়ে নিচ্ছেন ইংল্যান্ডকে

অ্যাশেজে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন অ্যালিস্টার কুক! সিডনিতে অ্যাশেজের শেষ ইনিংসে করেছিলেন ১৮৯। কার্ডিফে এখনো এত দূর যেতে পারেননি, তবে বড় কিছুর ইঙ্গিত ঠিকই আছে ইংল্যান্ডের নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের ব্যাটে। তৃতীয় দিন শেষে অপরাজিত আছেন ১২৯ রানে। কুকের সঙ্গী, অ্যাশেজের আরেক নায়ক জোনাথন ট্রট অপরাজিত আছেন ১২৫ রানে। ২ উইকেটে ২৮৭ রানে দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার চেয়ে ১১৩ রানে পিছিয়ে তারা।
ইংল্যান্ড দিন শুরু করেছিল একটি দুঃসংবাদ শুনে। পিঠের চোটের কারণে এই টেস্টে আর বোলিংই করতে পারবেন না ম্যাচে তাদের সেরা বোলার জেমস অ্যান্ডারসন। আগের দিন শেষ বিকেলে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা অ্যান্ডারসন পরে ফিরেও গেছেন খেলা শুরুর পরপর। ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ৪৭/২। প্রথম দিনের মতো কালও বৃষ্টি-বাধায় প্রথম সেশনে খেলা হয়নি। খেলা শুরুর পর তৃতীয় ওভারেই আউট অ্যান্ডারসন, অজন্তা মেন্ডিসের বলে স্লিপে মাহেলা জয়াবর্ধনের হাতে বন্দী। কুক-ট্রটের দৃঢ়তায় আর সারা দিনে কোনো দুঃসংবাদ পেতে হয়নি স্বাগতিকদের। তৃতীয় উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ২৪০ রানের।
আগের দিন শেষ ওভারে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুরাঙ্গা লাকমল। তবে কাল মোটেও সুবিধা করতে পারেননি লঙ্কান পেসাররা। অজন্তা মেন্ডিসই কেবল যা একটু সমীহ আদায় করতে পেরেছেন। প্রথম ঘণ্টা দেখেশুনেই খেলেছেন কুক আর ট্রট। প্রথম বাউন্ডারিটি এসেছে দিনের ১২তম ওভারে। তবে থিতু হয়ে যাওয়ার পর স্বচ্ছন্দ ছিলেন দুজনই।
ট্রটের চেয়ে কুকই প্রথমে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রান তোলায়। ১১২ বলে কুক যখন ফিফটি করে ফেলেন, ট্রটের রান তখনো ১৮। দিন যত এগিয়েছে, এই ব্যবধান ততই কমিয়ে নিয়েছেন ট্রট। সেঞ্চুরি আভাস পেতেই ব্যাটে সতর্কতার লাগাম পরান কুক। সেই ফাঁকে সঙ্গীর সঙ্গে রানের ব্যবধান আরও কমিয়ে আনেন ‘দক্ষিণ আফ্রিকান’ ট্রট। দুজনে চা-বিরতিতে গিয়েছিলেন জুটিটার সেঞ্চুরি করে ফেলে। ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ১৪৮/২।
দিনের শেষ সেশনটা আরও হতাশাতেই কেটেছে শ্রীলঙ্কার। ৭৮তম ওভারে ১৭তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন কুক। বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি ট্রটকেও। চার ওভার পর ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনিও। এই জুটি আজ আরও কতক্ষণ শ্রীলঙ্কাকে ভোগায়, সেটিই এখন দেখার।

মুনাফা পুনরায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধ্য করার দাবি

পুঁজিবাজার থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জিত মুনাফা পুনরায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধ্য করার দাবি জানিয়েছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)। এ জন্য অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে এফবিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ব্যাংকের সুদ, তারল্য সংকট এবং পুঁজিবাজার পরিস্থিতি’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি এ কে আজাদ। অন্যদের মধ্যে সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতি মো. জসিমউদ্দিন, সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ কে আজাদ, শিগগির এসইসি পুনর্গঠন, পুঁজিবাজারের ভিত শক্তিশালী করতে সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারে আসারও পরামর্শ দেন। লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি বলেন, গত বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করার জন্য সতর্ক করে দেয়। সূচক যখন ছয় হাজার ৫০০ পয়েন্ট ছিল তখন যদি সতর্ক করা হতো তাহলে বাজার এতটা অতিমূল্যায়িত হতো না।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক যখন অনবরত বাড়ছিল তখন ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অবশেষে ডিসেম্বরে তারা উদ্যোগ নিয়ে ব্যাংকগুলোকে শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য করল। এর মধ্য দিয়ে ব্যাংকগুলো প্রচুর লাভ করল। ফলে পুঁজিবাজারে ধস নামল এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা মার্জিন ঋণের মাধ্যমে অতিমূল্যায়িত শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেন।

মেয়েদের ক্রিকেটেও আবাহনী-মোহামেডান

মোহামেডান জিতলেই চ্যাম্পিয়ন, আবাহনী জিতলে শিরোপা নির্ধারণ হবে রানরেটে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ আবাহনী-মোহামেডান শেষ ম্যাচের আগে এমন সমীকরণের সামনেই দাঁড়িয়ে তৃতীয় মহিলা ক্লাব ক্রিকেট লিগ।
কাল সিটি ক্লাব মাঠে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবও এখন শিরোপাপ্রত্যাশী। জয়ী দলের তিথি রানী ৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। আজ মোহামেডান জিতলে সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে তারা। আর আবাহনী জিতলে আবাহনী, মোহামেডান এবং শেখ জামাল—এই তিন দলের পয়েন্টই হবে ৮ করে। তখন শিরোপা নির্ধারিত হবে রানরেটে। অন্যদের তুলনায় রান রেট ভালো বলে এখানেও মোহামেডানের সম্ভাবনাই বেশি। মোহামেডান ও শেখ জামালের পয়েন্ট এখন ৮ করে, আবাহনীর ৬।
ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কালকের অন্য ম্যাচে বিকেএসপি ১০৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে। বিকেএসপির ওপেনার শারমিন আক্তার করেছেন ৯৫ রান।

ধোনির চেন্নাই আইপিএল সেরা

মহেন্দ্র সিং ধোনি আর চ্যাম্পিয়ন শব্দটি যেন সমার্থকই হয়ে গেছে। গত বছরের আইপিএল জিতেছেন, জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, ভারতকে করলেন বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। আর কাল চেন্নাই সুপার কিংসকে এনে দিলেন এবারের আইপিএল শিরোপা।
লিগের শীর্ষ দল ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরারও এই দলেরই। কিন্তু ধোনির চেন্নাইয়ের কাছে কাল তারা অসহায় আত্মসমর্পণই করেছে। হেরে গেছে ৫৮ রানে। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২০৫ রান করেছিল চেন্নাই। জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৭ রান তুলতে পেরেছে বেঙ্গালুরু।
বেঙ্গালুরুর এই অবস্থার কারণ দুটি—টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরার গেইলের ফ্লপ যাওয়া এবং সময়মতো চেন্নাই ওপেনার মুরালি বিজয়ের জ্বলে ওঠা। ১২ ইনিংসে ২টি সেঞ্চুরিসহ ৬৭.৫৫ গড়ে ৬০৮ রান করা গেইল কাল কোনো রানই করতে পারেননি। আর মুরালি খেলেছেন এই টুর্নামেন্টে তাঁর সর্বোচ্চ (৯৫) রানের ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসিকে নিয়ে আইপিএলে রেকর্ড ১৫৯ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন মুরালি। এর আগে আইপিএলের সর্বোচ্চ রানের জুটিটি ছিল অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও ভিভিএস লক্ষ্মণের (২০০৮-এ ১৫৫)। ৪৫ বলে ৬৩ রান করে আউট হয়ে যান হাসি। মুরালি ৫ রানের জন্য হন সেঞ্চুরি-বঞ্চিত। তবে অরবিন্দের বলে ভেট্টোরির হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৯৫ রানের ইনিংসটি তিনি খেলেছেন ৫২ বলে (৪টি চার, ৬টি ছয়)।
বেঙ্গালুরুর পতনের শুরু প্রথম ওভার থেকেই। গেইলকে ধোনির ক্যাচ বানান অফ স্পিনার অশ্বিন। গেইল আউট হয়েই যেন মিইয়ে যায় লিগ পর্বে অপ্রতিরোধ্য মনে হওয়া বেঙ্গালুরু। ১১ ওভার ও ৭০ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে তারা ৬ উইকেট। সৌরভ তিওয়ারি (৪৫) শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পারেন।

গুরু-শিষ্যের শেষ কথা

পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন ২৫ মে। তবে টেরি জেনার নাকি প্রিয় শিষ্য শেন ওয়ার্নের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ আগেই! কে জানে, জেনার হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর সময় প্রায় শেষ। ওয়ার্নের সঙ্গে ফোনালাপের শেষটা হয়েছিল নাকি অশ্রুসিক্ত। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিদায় নিয়েছিলেন জেনার, ‘গুরু’র কান্না কাঁদিয়েছিল ওয়ার্নকেও!
জেনারের মৃত্যুর দুই দিন পর নিজের ওয়েবসাইটে সেই ফোনালাপের স্মৃতিচারণা করেছেন ওয়ার্ন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগে আমরা যখন ফোনে কথা বললাম এবং শেষে দুজন দুজনকে বিদায় বললাম...মুহূর্তটা ছিল খুব কঠিন। আমার জন্য যা করেছে, সবকিছুর জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। ওকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি ওর ধৈর্য, উপদেশ, ভালোবাসা—সবকিছুর ওপরে ওর বন্ধুত্ব আমার ও আমার পরিবারের জন্য কতটা ছিল। বিদায় বলার সময় আমাদের দুজনের চোখই ছিল ভেজা।’
১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট একাডেমিতে প্রথম ওয়ার্নকে দেখেন জেনার। ভবিষ্যতের ছবিটা দেখে ফেলেছিলেন তখনই। সেই সময় থেকে পুরো ক্যারিয়ারেই জেনার ছিলেন ওয়ার্নের ‘মেন্টর’। স্পিন কিংবদন্তি যখনই কোনো সমস্যায় পড়েছেন, ছুটে গেছেন জেনারের কাছে কিংবা দীর্ঘ আলাপ হয়েছে ফোনে। গত বছরের এপ্রিলে ইংল্যান্ডে বড় ধরনের একটা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর থেকেই শরীরের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন জেনার। অবশেষে গত বুধবার ব্রাইটনে হার মেনেছেন লড়াইয়ে। ৩১ মে অ্যাডিলেড ওভালে হবে তাঁর শেষকৃত্য। স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের স্মৃতি বিজড়িত অ্যাডিলেড ওভালে এর আগে শেষকৃত্য হয়েছিল ডেভিড হুকসের।

‘এক’ হওয়ার অভিশাপ!

অভিশাপ! এক নম্বরের অভিশাপ! মেয়েদের এককের শীর্ষ বাছাই ক্যারোলিন ওজনিয়াকির তৃতীয় রাউন্ডেই পতনের এই একটা কারণই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ওঠা যে এখন ‘বরে শাপ’ হয়ে গেছে।
বিশ্বাস না হলে সর্বশেষ একে উঠেছিলেন এমন ছয় খেলোয়াড়ের দিকে তাকান—আনা ইভানোভিচ, ইয়েলেনা জাঙ্কোভিচ, সেরেনা উইলিয়ামস, দিনারা সাফিনা, কিম ক্লাইস্টার্স ও ওজনিয়াকি। এঁদের মধ্যে সেরেনা আর ক্লাইস্টার্সকে হিসাবের বাইরে রাখলে বাকি চার এক নম্বর খেলোয়াড়ই দুঃসময়ের ভেতর দিয়ে গেছেন। ২০০৮ ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন ইভানোভিচ তো এবার প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়লেন। জাঙ্কোভিচ গ্র্যান্ড স্লাম জিততেই পারেননি, একবার উঠেছিলেন ইউএস ওপেনের ফাইনালে। তিনটি ফাইনালে খেলেও শিরোপা জিততে না-পারা সাফিনা তো টানা ব্যর্থতার ধকল সামলাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবসরেই চলে গেলেন। বর্তমান এক নম্বর ওজনিয়াকিরও গ্র্যান্ড স্লাম ভাগ্যও তথৈবচ।
এমন তো নয়, খারাপ খেলেও এক নম্বরে ওঠা যায়। ডব্লুটিএ ট্যুরগুলোয় টানা ভালো খেলেই একে উঠেছেন ওজনিয়াকিও। কিন্তু ইভানোভিচ, জাঙ্কোভিচ, সাফিনাদের মতো তিনিও কেন যেন গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টগুলোয় খেলতে এলেই আর পারেন না। এবারও যেমন দানিয়েলা হানতুচোভার কাছে ৬-১, ৬-৩ গেমের অসহায় পরাজয়।
তার পরও অবশ্য মাথা নত করছেন না। বরং ২০ বছর বয়সী এই ডেনিশ তারকা ব্যর্থতা থেকেই খুঁজে নিচ্ছেন প্রেরণা। এই প্রেরণা জোগাচ্ছেন তাঁর বাবা ও কোচ পিওতর ওজনিয়াক। পরশু হেরে যাওয়ার পর প্রথম বাবার কাছেই গিয়েছিলেন সান্ত্বনা খুঁজতে। কী বললেন বাবা? ওজনিয়াকি জানিয়েছেন, ‘তিনি শুধু বললেন, “আজ দানিয়েলা তোমার চেয়ে ভালো খেলেছে। এই পরাজয় মেনে নেওয়া কঠিন। জানি, তোমার মোটেও ভালো লাগছে না। কিন্তু তার পরও এটাই তো খেলা। আমরা তো জানিই তুমি কী করে দেখাতে পারো।”
বাবার এই নাতিদীর্ঘ প্রেরণাদায়ী বচনটাকেই সামনের দিনগুলোর জন্য পাথেয় করছেন। উইম্বলডনের আর বেশি দিন বাকি নেই। টানা ১৭টি গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্ট খেলে একটিতেও সাফল্য নেই। ১৮তম বারে ভাগ্যের পরিবর্তন হয় কি না, দেখাই যাক! এএফপি।
কাল ফ্রেঞ্চ ওপেনে: পুরুষ এককের চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছেন, রাফায়েল নাদাল, অ্যান্ডি মারে ও নোভাক জোকোভিচ। কালকেরটি নিয়ে এ বছর টানা ৪০টি ম্যাচ জিতলেন জোকোভিচ। মহিলা এককের চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছেন লি না, মারিয়া শারাপোভা ও ভিক্টোরিয়া আজেরেঙ্কা।
এদিকে কাল ১৭ বছরের টেনিস ক্যারিয়ারে যতি টেনেছেন ১১টি ডব্লুটিএ শিরোপা জেতা প্যাটি স্নাইডার।

ফিফায় ধেয়ে আসছে সুনামি!

ঘুষ দিয়ে ভোটার কিনতে চাইছেন—এ অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি মোহাম্মদ বিন হাম্মাম। হাম্মামকে সহযোগিতা করার অভিযোগে তদন্ত হচ্ছে ফিফার সহসভাপতি জ্যাক ওয়ার্নের বিরুদ্ধেও। এরপর ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি করেন হাম্মাম। তাঁর দাবি মেনে নিয়ে ব্ল্যাটারকে শুনানির জন্য ডেকেছে ফিফার নৈতিক কমিটি। ওদিকে ফিফার আরেক সহসভাপতি হুলিও গ্রন্ডোনার বিরুদ্ধে ডিয়েগো ম্যারাডোনা সজ্ঞানে খেলোয়াড়দের ড্রাগ নিতে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।
ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার চার শীর্ষ কর্মকর্তাই সাম্প্রতিক সময়ে অভিযুক্ত। এ অবস্থায় ১ জুন ফিফা কংগ্রেস, যেখানে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে ফিফার পরবর্তী সভাপতি। আর আজই সুইজারল্যান্ডে ফিফার নৈতিক কমিটির শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে ব্ল্যাটার, হাম্মাম, ওয়ার্নারদের। সব মিলে তালগোল পাকানো এক পরিস্থিতি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যেতে পারে ফিফার সভাপতি নির্বাচনই।
এ অবস্থায় তিনটি সম্ভাব্য পরিণতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমত, দুজনই নির্দোষ প্রমাণিত হলে সব ঝামেলাই চুকে যাবে। দ্বিতীয়ত, ফিফা সভাপতি পদপ্রার্থী হাম্মাম শুনানিতে অভিযুক্ত হলে অনুমিতভাবেই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগ আনবেন, এর প্রভাব পড়বে হাম্মাম অনুসারীদের ওপরও। এই পরিস্থিতি এড়াতে শুনানির প্রথম দিন শেষে তদন্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পারে ফিফার নৈতিক কমিটি। এরপর নির্বাচন শেষে আবারও শুরু হতে পারে শুনানি। তৃতীয়ত, ফিফার নির্বাচনই স্থগিত হয়ে যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে ২০৮ ভোটারের তিন-চতুর্থাংশের রায় থাকতে হবে এর পক্ষে।
যা-ই হোক না কেন, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্ধারণের পর থেকে ওঠা বিতর্কগুলো সব জমাট বেঁধে একটা বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতিই তৈরি করে রেখেছে। জ্যাক ওয়ার্নার এই বলে সতর্ক করছেন, ফুটবল-সুনামি আসছে, ‘আমি আপনাদের একটা কথা বলতে পারি, আগামী কয়েক দিন ফিফা এবং বিশ্বকে আঘাত করতে চলেছে ফুটবল-সুনামি, যেটার পরিণতি আপনাদের চমকে দেবে। কোনো ভণিতা করার সময় আর নেই। আপনাদের তাই বলছি, এটা আসছে বিশ্বাস করুন। আজ থেকে আগামী সোমবারের মধ্যেই আপনারা এটা টের পেয়ে যাবেন।’
ফিফার অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা ওয়ার্নার ভবিষ্যদ্বাণী করলেন নাকি হুমকিই দিলেন, সেটি বোঝা যাচ্ছে না। তবে ফুটবল-বিশ্বকে কয়েক দিনের মধ্যে বড় যেকোনো ধরনের খবরের জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকাই মনে হয় ভালো! এবং এটাও এখন বাস্তবতা, ফিফা নিজেই তার মতাদর্শ ‘ফর দ্য গুড অব দ্য গেম’ থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। ফিফার নেতৃত্বে একটা পরিবর্তন হয়তো আসন্ন।

এরপর কী বলবেন গ্রন্ডোনা?

হুলিও গ্রন্ডোনার উচিত, তর্কযুদ্ধে হাত তুলে আত্মসমর্পণ করা। ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া তাঁর কাজ নয়। আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার (এএফএ) প্রধানের মন্তব্যের আরেকটি পাল্টা জবাব দিলেন ম্যারাডোনা। বললেন, গ্রন্ডোনা নিজেই ড্রাগ নেওয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন খেলোয়াড়দের!
‘ম্যাচটার এক সপ্তাহে আগেই গ্রন্ডোনা আমাদের বলেছিলেন, আমরা চাইলে ড্রাগ নিতে পারি। কারণ ম্যাচে কোনো ডোপ টেস্ট থাকবে না’—আর্জেন্টাইন রেডিও স্টেশন ‘মেট্রো’কে বলেছেন ম্যারাডোনা।
তাঁর এই মন্তব্য গ্রন্ডোনার সর্বশেষ মন্তব্যের পাল্টা জবাব। যেখানে গ্রন্ডোনা বলেছিলেন, ম্যারাডোনাকে বাঁচাতেই ১৯৯৩ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে কোনো ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তাঁর যুক্তি ছিল, ১৯৯১ সালে ডোপ টেস্টে ধরা পড়ার পর ১৫ মাস নিষিদ্ধ ছিলেন ম্যারাডোনা। ভয় ছিল, আবারও ডোপ টেস্ট করা হলে হয়তো ধরা পড়বেন মাত্রই মাস কয়েক আগে নিষেধাজ্ঞা শেষ করে ফেরা দলের মূল ভরসা।
এর পরই ম্যারাডোনার এই সাক্ষাৎকার। যেখানে তিনি এও বলেছেন, ড্রাগের প্রভাব ছিল মারাত্মক, ‘জানি না সেদিন কে কী নিয়েছিল। তবে মনে আছে, সকাল আটটা পর্যন্ত ক্লদিয়াকে (সাবেক স্ত্রী) নিয়ে পুরো অস্ট্রেলিয়া আমি হেঁটে বেড়িয়েছিলাম। দলের অনেকেই ঘুমাতে পারেননি। জানি না, কেন এমনটা হয়েছিল।’
শুধু মুখের কথা দিয়ে নয়, সত্যি সত্যিই আইনি ব্যবস্থা নিতে চলেছেন ম্যারাডোনা। আল ওয়াসল কোচের আইনজীবী জানিয়েছেন, আটঘাট বেঁধেই নামতে চান তাঁরা। এ জন্যই চলছে প্রস্তুতি। শিগগিরই আদালতের দ্বারস্থ হবেন ম্যারাডোনা।
এদিকে হুলিও গ্রন্ডোনাও চুপটি করে বসে নেই। ৭৯ বছর বয়সী এএফএ প্রধান আবারও নতুন করে জানালেন, ম্যারাডোনাকে বাঁচাতেই সমঝোতার ভিত্তিতে ওই ম্যাচে ডোপ টেস্ট করানো হয়নি। আর্জেন্টাইন দৈনিক ক্লারিনকে বলেছেন, ‘ম্যারাডোনা সেবার আমাদের আগের বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোয় খেলেনি। এই ম্যাচগুলোয় (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফ) ও খেলেছে ড্রাগের ঝামেলা থেকে ফেরার পর। আমার ভয় হচ্ছিল, ও না আবারও ধরা পড়ে। আমি তো আর জানি না, খেলোয়াড়েরা ড্রাগ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে নাকি নিয়েই চলেছে।’
আগের সাক্ষাৎকারে গ্রন্ডোনা দাবি করেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করেই ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা এই ম্যাচে রাখা হয়নি। কিন্তু ফিফার এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার এই দাবি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আগের দিনই অস্বীকার করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল সংস্থার তৎকালীন প্রধান নিজের সন্তানের জীবন নিয়ে দিব্যি কেটে বলেন, এ ধরনের কোনো সমঝোতা হয়নি।
কিন্তু ক্লারিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রন্ডোনা আবারও সেই সমঝোতার কথা বলেছেন। এমনটাও বলেছেন, এই কাজের জন্য তিনি অনুতপ্ত নন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো আর্জেন্টিনার মানুষই এটা মেনে নিয়েছে। আমি তাই অনুশোচনায় ভুগছি না। আর্জেন্টিনার মানুষের চাওয়াই ছিল আমার কাছে মূল বিষয়। আমি তাই নিজেকে প্রতারক ভাবছি না। জীবনে আমি একটা জিনিসই চেয়েছি—সাফল্য।

নজর কাড়ল আরমান-পাপিয়া

দুই দিনের জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে তিনটি করে সোনা জিতেছে বিকেএসপির পাপিয়া রানী সরকার ও খুলনার আরমান গাজী। ১০০ মিটার স্প্রিন্ট, রেকর্ডসহ লং জাম্প ও রিলেতে সোনাজয়ী পাপিয়া। কয়েক বছর ধরেই সে জুনিয়র মিটে ভালো করছে। আরমান গাজী শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে লং জাম্প, হাই জাম্প ও ট্রিপল জাম্পে।
অ্যাথলেটিকস-সংশ্লিষ্টরা আরমানের ব্যাপারে খানিক আশাবাদী। উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয়েরও নিচে, তাই হাইজাম্পে কতটা এগোতে পারবে, সংশয় আছে। তবে ফিটনেস ভালো। তাই অন্য দুটি জাম্প ইভেন্টে ভালো করতে পারে বলে আশাবাদ কোচ রফিক উল্লাহ আখতার মিলনের, ‘আরমানের মধ্যে একটা সম্ভাবনা আছে। তাকে পরিচর্যা করলে অন্তত লং জাম্পে ভালো করবে। এবারের আসরে এই ছেলেটিই আমার চোখে সেরা আবিষ্কার।’
আরমানের তিন সোনার কল্যাণে এবার খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা জিতেছে ৬টি সোনা। চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপির চেয়ে মাত্র একটি কম। খুলনা দ্বিতীয় হয়ে চমক দিয়েছে। সম্প্রতি খুলনা অঞ্চলে বিজেএমসির কয়েকটা মিল সচল হওয়ায় কিছু উঠতি অ্যাথলেট চাকরি পেয়েছে। বিজেএমসিই এদের তত্ত্বাবধানে ছিল। তাই প্রতিযোগিতার মঞ্চে দলটি ভালো সাফল্য দেখাল।
পৃষ্ঠপোষকবিহীন এই প্রতিযোগিতা ছিল দায়সারা। অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে খেলা হয়নি। শুধু অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগে ১৯টি ইভেন্ট হয়েছে। এর মধ্যে পাপিয়াই একমাত্র রেকর্ডটি করেছে এবারের মিটে। প্রতিযোগিতায় পাবনা ২টি, যশোর, নোয়াখালী ও কুড়িগ্রাম একটি করে সোনা জিতেছে।

ভরসা দিচ্ছে জুনিয়ররা

ফ্রান্সে ২৩ মে শুরু হয়েছে আর্চারির ইউরোপিয়ান গ্রাঁ প্রিঁ। আর বাংলাদেশে বিকেএসপির নিরিবিলি ছায়াঢাকা পরিবেশে কাল শুরু হলো তৃতীয় এশিয়ান গ্রাঁ প্রিঁ।
এর আগে গ্রাঁ প্রিঁ টুর্নামেন্ট হতো বছরে পাঁচটি। বর্তমানে সেটি কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে। ব্যাংকক ও লাওসে এরই মধ্যে দুটি গ্রাঁ প্রিঁ হয়ে গেছে। তৃতীয়টির আয়োজক বাংলাদেশ। এই আয়োজনের মধ্যে চলছে এশিয়ান যুব চ্যাম্পিয়নশিপও। কাল অবশ্য কোনোটিরই মূল ইভেন্ট ছিল না। তবে মূল লড়াইয়ে নামার আগে র্যাঙ্কিং বাছাইয়ের জন্য লড়তে হয়েছে ১৩ দেশের প্রায় দেড় শতাধিক তীরন্দাজকে। বাছাইয়ে রিকার্ভ বো ইভেন্টে ইমদাদুল হক মিলন, সজীব শেখ, সুজন রহমান ও ঐশ্বর্য রহমানদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশের জুনিয়র দল র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় হয়েছে। ১৯৩৫ পয়েন্ট স্কোর তাদের। ১৯৪০ পয়েন্ট পেয়ে প্রথম ভারত। ছেলেদের রিকার্ভ বোয়ে অবশ্য সেরা দশে নেই বাংলাদেশের কেউ। প্রথম ভারতের অতনু দাস। ১৫তম বাংলাদেশের রামকৃষ্ণ সাহা। রিকার্ভে মেয়েদের ইভেন্টে প্রথম গত সাফ গেমসে সোনাজয়ী ঝাড়খন্ডের মেয়ে রিমিলি বুরিউলি। বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো স্কোর করেছেন মাথুই প্রু মারমা। হয়েছেন পঞ্চম। মেয়েদের রিকার্ভ জুনিয়রে বাংলাদেশের মেয়েরা একদমই ভালো করতে পারেননি। এখানেও ভারতীয়দের আধিপত্য। মেনাও নারজারি হয়েছেন প্রথম। সবচেয়ে ভালো করা বাংলাদেশের ফারজানা অষ্টম!
বাছাই পর্বের জন্য সারা দিনে ৭০ মিটার দূরত্বে তীর ছোড়া হয়। ৭২টি তীরের প্রতিটিতে ১০ পয়েন্ট করে। মোট ৭২০ পয়েন্টের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর যিনি করেন, তাঁকে প্রথম ধরে বাছাই করা হয়। এভাবে সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিংয়ের সঙ্গে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের এবং পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় স্থানের সঙ্গে নিচের দিকের পরের প্রতিযোগী মুখোমুখি হন। এভাবেই হয় এলিমিনেশন রাউন্ড। এরপর কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও পদকের জন্য লড়াই করেন তীরন্দাজেরা।
কাল জুনিয়রে দ্বিতীয় হওয়ার পর কোচ নিশীথ দাস আশাবাদী, এবার ভালো কিছু হবে। তবে সেটা সোনা হবে কি না, বলতে পারলেন না। যদিও ইমদাদুল হক জানালেন, ‘এই ফলাফল অবশ্যই আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।’ ভারতের কোচ এম বি গুরুংয়ের কথা, ‘এবার লড়াইটা হবে হাড্ডাহাড্ডি। চীনা তাইপে, মালয়েশিয়া ছাড়াও বাংলাদেশও যথেষ্ট শক্তিশালী দল। কাউকে খাটো করে দেখা যাবে না।’
আর্চারিতে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে পাকিস্তান। নিজেরা ভালো মানের তীর ও ধনুক না নিয়ে এলেও বিকেএসপিতে বাংলাদেশের ফেডারেশন থেকে ভালোই সহযোগিতা পাচ্ছে। ২০১০ সালে আর্চারি শুরু করা পাকিস্তান এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দুর্বল দল।
এশিয়ান গ্রাঁ প্রিঁ হলেও এতে ফিটার (আর্চারির সর্বোচ্চ সংস্থা) অনুমোদিত যেকোনো দেশ অংশ নিতে পারে। সেই সুযোগটা নিয়েছে ইউরোপের দেশ জর্জিয়া। এসেছে আরেক শক্তিশালী সাবেক সোভিয়েত বলয়ের কাজাখস্তান। সে দেশের তরুণ আর্চার আরতিয়ম, এরকেবুলান, ইভান, সুলতান ও সাগাদাতদের খেলা কাল দুপুরে না থাকায় বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে লাগলেন। কাজাখস্তানের জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন আরতিয়ম বিকেএসপির পরিবেশ দেখে মুগ্ধ, ‘খুবই ভালো লাগছে।’

আইপিএল পণ্ড করেছে বিশ্বকাপ জয়ের উন্মাদনা: ধোনি

২৮ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে ভারত। কিন্তু দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের এই উন্মাদনা শেষ হতে না হতেই সবাইকে দৃষ্টি ফেরাতে হয়েছে আইপিএলের দিকে। গতকাল চেন্নাই সুপার কিংসের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এই টি-টোয়েন্টি লিগের চতুর্থ আসর। চেন্নাইকে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতিয়ে অধিনায়ক হিসেবে আরও একবার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতলেও আইপিএলটা ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের বিশ্বকাপ জয়ের উন্মাদনায় বাধা সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গতকাল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ৫৮ রানে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর ধোনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের পর পরই আইপিএলের ম্যাচগুলোয় অংশ নেওয়াটা খুবই কঠিন ছিল। গোটা দেশের প্রত্যাশা ছিল যে, আমরা যেন উপমহাদেশে আয়োজিত এই বিশ্বকাপটা জিততে পারি। আমরা সেটা করেছি। কিন্তু এই ক্রিকেট পাগল ভক্তরা এই বিশ্বকাপ জয়ের উন্মাদনাটা ঠিকমতো উপভোগ করতে পারেনি। বিশ্বকাপের পর পরই তাদের মনোযোগ চলে গেছে আইপিএলের দিকে। কিন্তু পরে অবশ্য তারা এসেছে এবং এই টি-টোয়েন্টি লিগটা উপভোগ করেছে।’
বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই চেন্নাইয়ের জয়ের ভিত্তি অনেকখানি গড়ে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার মুরলি বিজয় ও মাইক হাসি। ১৫ ওভারে তাঁদের ব্যাট থেকে এসেছিল ১৫৯ রান। এরপর বোলাররাও তাঁদের দায়িত্বটা পালন করেছিলেন খুব ভালোভাবেই। অফস্পিনার রবিচন্দন অশ্বিন মাত্র ১৬ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে নিশ্চিত করেছেন চেন্নাইয়ের সহজ জয়। ম্যাচ শেষে এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে ধোনি বলেছেন, ‘বিজয় আর হাসি আমাদের একটা দুর্দান্ত সূচনা উপহার দিয়েছিল। তাঁদের ১৫৯ রানের জুটির ওপর ভর করেই আমরা ২০০ পার করতে পেরেছিলাম। পরে অশ্বিন খুবই দুর্দান্ত বোলিং করেছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই মোহাম্মদ বিন হাম্মাম

ফিফা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন এএফসি সভাপতি মোহাম্মদ বিন হাম্মাম। ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার দুর্নীতি নিয়ে গঠিত ‘এথিকস কমিটির’ শুনানির মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি নির্বাচনবিষয়ক এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এর আগে বিন হাম্মাম ফিফার বর্তমান সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফিফার সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে সভাপতি পদে নির্বাচনের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিলেন।
৬১ বছর বয়স্ক বিন হাম্মাম গত কিছুদিন ধরেই ফিফার সভাপতি পদে নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সময়ের বন্ধু সেপ ব্ল্যাটারের সঙ্গে কথার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সভাপতি পদে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে নিজের ব্লগে হাম্মাম লিখেছেন, ‘ফিফার সুনাম অক্ষুণ্ন্ন রাখতেই আমি সভাপতি পদে নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’
‘আমি নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলাম, কারণ আমি ফিফায় একটা পরিবর্তন আনতে চাচ্ছিলাম।’ বিন হাম্মামের মন্তব্য।
‘কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আমি খুবই হতাশ এবং দুঃখিত।’ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর নেপথ্য কারণ জানালেন বিন হাম্মাম।
‘নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে লক্ষ করছি ঘটনাপ্রবাহ এমন দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে—যা ফিফার সুনামকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। অথচ আমি একটি মহত্ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলাম।’ বলেছেন বিন হাম্মাম।
তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে এথিকস কমিটির শুনানিতে অংশ নেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও পরিষ্কার করে দিয়েছেন বিন হাম্মাম।
ফিফার সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিন হাম্মামের প্রতিদ্বন্দ্বী ৭৫ বছর বয়স্ক সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনার পর পরই বিন হাম্মামের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানো খুবই রহস্যজনক বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।
আগামী ১ জুন ফিফার সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আগামী রোববার বিন হাম্মাম ছাড়াও এথিকস কমিটির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ফিফার বর্তমান সহসভাপতি ও ক্যারিবীয় ফুটবল ইউনিয়নের (সিপিইউ) সভাপতি জ্যাক ওয়ার্নারের।
বিন হাম্মাম নিজে সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও ব্ল্যাটার তাঁর বিপক্ষেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। বিন হাম্মাম অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।