Friday, May 2, 2025
অবৈধ নির্বাচনের ‘বৈধ’ মেয়রগণ by সোহরাব হাসান
ওই সাক্ষাৎকারে তাঁকে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার সংস্থায় আদালতের রায় নিয়ে মেয়র পদে বসা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। এর জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ওই নির্বাচনগুলোকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে এবং অ্যাকনলেজ (স্বীকৃতি দেওয়া) করা হচ্ছে। আমার মনে হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর এই নির্বাচনগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করা এবং অবৈধ নির্বাচন থেকে কোনো প্রাপ্তিস্বীকার না করার সততাটা থাকা উচিত।’
এর আগে জাতীয় সংসদের একাধিক নির্বাচনেও পরাজিত প্রার্থী আদালতে মামলা করে পক্ষে রায় পেয়েছেন। অনেক বিলম্বে। কখনো সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, কখনো আবেদনকারী মারা যাওয়ার পর।
চট্টগ্রামের বিএনপির দলীয় প্রার্থী শাহাদাত হোসেন মেয়াদের আগে রায় পাওয়ায় শপথ নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু ইশরাকের বেলায় দলের সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। যদি দল শপথ নেওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়, তিনি সময় পাবেন আগামী ১৫ মে পর্যন্ত।
এ ঘটনায় আরেকটি কঠিন সত্য বেরিয়ে এল। নির্বাচনী অনিয়ম ও কারচুপির বিরুদ্ধে আদালতে যেসব মামলা হয়, সেগুলো ১৮০ দিন বা ছয় মাসের মধ্যেই রায় হওয়া উচিত। বছরের পর বছর এসব মামলা ঝুলে থাকলে আদালতের ন্যায়বিচারও বিচারপ্রার্থীর কোনো কাজে লাগে না।
আদালতের এই রায় ক্ষমতাসীনদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে থাকবে, আশা করি। আদালত যখন কোনো প্রার্থীর পক্ষে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রায় অবৈধ ঘোষণা করলেন, তখন সেই পদের বিপরীতে তিনি যে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, সেটাও ফেরত দেওয়া উচিত। তাহলে ভবিষ্যতে কেউ এই পথে যেতে সাহস পাবেন না।
নির্বাচন সংস্কার কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে অনেকগুলো সুপারিশ করেছে। যেসব সুপারিশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকারও কার্যকর করতে পারে।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী হিসেবে মেয়র ঘোষণা করা হয়। এ-সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের গেজেট চ্যালেঞ্জ করে ২০২০ সালের ৩ মার্চ তাপস, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আটজনকে বিবাদী করে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। ইশরাক প্রয়াত বিএনপি নেতা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। ওই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে গত ২৭ মার্চ রায় দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল।
এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার তাঁকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে নয়জনকে বিবাদী করে মামলা করেন মেয়রপ্রার্থী নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে অপসারণ করে গত ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।
গত ১ অক্টোবর শাহাদাত হোসেনের পক্ষে রায় দেন আদালত।
প্রকৃত ঘটনা হলো, তিনি প্রথমে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিমের নানা অনিয়ম ও কারচুপির তথ্য–প্রমাণ দিয়ে প্রথমে নির্বাচনটি বাতিল করার আবেদন করেন। এরপর ২০২৪ সালের আগস্ট অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সম্পূরক আরজিতে তাঁকে (শাহাদাত হোসেন) নির্বাচিত ঘোষণার আবেদন জানান।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ইশরাক প্রথমে নির্বাচনী রায় বাতিলের আবেদন জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও শাহাদাতকে চট্টগ্রামের মেয়র ঘোষণার পর তিনি আদালতে সংশোধনী আরজি জানান। সেখানে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণার আবেদন করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির সেই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল মাত্র ২৯ শতাংশ, যা ছিল অবিশ্বাস্য।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০২৩ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল চেয়ে ২৩ এপ্রিল আদালতে মামলার আবেদন করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়রপ্রার্থী ইকবাল হোসেন (তাপস)। সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।
সম্প্রতি আদালতে মামলার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন তাদের প্রার্থঅ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করার দাবিতে আদালত প্রাঙ্গনে সমাবেশও করেছেন মামলার শুনানির দিন। দলের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ফ্যাসিবাদী সরকার জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও বারবার জালিয়াতি করেছে। এখন আবার সেই জালিয়াতির নির্বাচনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের মেয়র ঘোষণার জন্য আদালতে মামলা ও মাঠে আন্দোলন করছেন। আগামী ৫ মে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনী মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কেন আদালতে যাচ্ছে না, জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘চট্টগ্রামের ঘটনার সময় এটা হয়েছে। তখন আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম না। এই যে রায়টা হলো, এ মামলায় কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কোনো পক্ষ ছিল না, আমরা পক্ষভুক্ত ছিলাম না। সুতরাং অফিশিয়ালি এটার অপোজ করার সুযোগ আমাদের নেই।’
মন্ত্রণালয় পক্ষভুক্ত থাকুক বা না থাকুক সরকার যে কোনো মামলার বিষয়ে আপিল করতে পারে। আপিল না করলে ধরে নেওয়া হবে সরকার রায়ে সন্তুষ্টু। সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার বক্তব্যটি ব্যক্তিগত না সরকারের সেই প্রশ্নও উঠবে।
রায় ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলের সমালোচনার জবাবে শুক্রবার ইশরাক হোসেন বলেন, ভোটে তিনি হারেননি, তাঁকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর আইন মেনে তিনি মামলা করেছিলেন। সেই মামলা তখন ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ বছর আইনি লড়াইয়ের পর তিনি এখন ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
ন্যায়বিচার পেয়েছেন সন্দেহ নেই। কিন্তু যে নির্বাচনে আদালতের রায়ে ইশরাক মেয়র হলেন, সেটি কতটা ‘নির্বাচন’ হয়েছিল, সেই প্রশ্নও না উঠে পারে না। নির্বাচন কমিশন ২৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি দেখালেও প্রকৃত ভোটার উপস্থিতি ছিল অনেক কম।
এর আগে এক কলামে লিখেছিলাম, ‘ইশরাক ‘মেয়র’ হলেন, বিএনপি এখন কী করবে।’ তখনো নির্বাচন কমিশন গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি বা বিএনপি কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার বিষয়। প্রশ্ন হলো, যেই নির্বাচনকে বিএনপি এতদিন অবৈধ ও কারচুপির নির্বাচন বলে আসছে,আদালতের রায় নিয়ে মেয়রের পদে বসে নেই নির্বাচনকেই জায়েজ করবেন কিনা।
* সোহরাব হাসান, প্রথম আলোর যুগ্মসম্পাদক ও কবি
![]() |
| শাহাদাত হোসেন, ইশরাক হোসেন এবং সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কত?
সঞ্জয় কুমার পাকিস্তানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা এক কোটির বেশি বললেও, পাকিস্তান সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল, এই ছয় বছরে পাকিস্তানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে হিন্দু ধর্মাবলম্বাীদর সংখ্যা ৫.২ মিলিয়ন। দেশটিতে ইসলাম ধর্মের পরই হিন্দু ধর্মের স্থান। হিন্দু ধর্মের অনুসারী পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ২.১৭ শতাংশ।
পাকিস্তানের হিন্দুরা মূলত সিন্ধুতে ঘনীভূত, সেখানে বেশিরভাগ হিন্দু ছিটমহল পাওয়া যায়। তারা সিন্ধি , সেরাইকি , আয়ার , ধাতকি , গেরা এবং গুজরাটির মতো বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে । অনেক হিন্দু, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে, স্থানীয় সুফি পীরদের শিক্ষা অনুসরণ করে অথবা ১৪ শতকের সাধক রামদেবের অনুসারী।পাকিস্তানে হিন্দুদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাসনালয়গুলির মধ্যে একটি হল বেলুচিস্তানের শ্রী হিংলাজ মাতার মন্দির । বার্ষিক হিংলাজ যাত্রা পাকিস্তানের বৃহত্তম হিন্দু তীর্থস্থান।
হিন্দুরা পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। পাকিস্তানের পরিসংখ্যন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৭ সালে পাকিস্তানে হিন্দু সংখ্যা ছিল ৪৪,১৭,০০০ জন। দেশটিতে হিন্দুদের প্রধান বসবাসস্থল সিন্ধু প্রদেশে, বিশেষ করে উমেরকোট ও থারপারকার জেলায়। থারপারকারে ৮১ হাজার ১৫০৭ জন হিন্দু বাস করেন, যা পাকিস্তানে হিন্দুদের সর্বোচ্চ সংখ্যা। উমেরকোটে হিন্দুদের অনুপাত ৫৪.৬ শতাংশ। এটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
পাকিস্তানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে হিংলাজ মাতার মন্দিরে অনুষ্ঠিত হিংলাজ যাত্রা উৎসবে ১ লাখেরও বেশি হিন্দু অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই উৎসবটি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হিন্দু ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত।
বার্তাসংস্থা এপির ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সাধারণত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়ে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের পিপিপির সংখ্যালঘু সদস্য সঞ্জয় কুমার বলেন, পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একতাবদ্ধ। যদি ভারত আগ্রাসনের চেষ্টা করে, তবে পাকিস্তানের এক কোটি হিন্দু সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়াবে।
মূলত মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় এবং রাজা দাহিরের পতনের পর , পাকিস্তানে ইসলামিকরণ শুরু হয় এবং হিন্দুদের জনসংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। এরপর ভারতীয় উপমহাদেশে আরও অনেক ইসলামি বিজয় পাকিস্তান অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে, যার মধ্যে রয়েছে গজনভি , ঘুরি এবং দিল্লি সালতানাত। মুঘল সাম্রাজ্যের যুগে , পাকিস্তানের ভূমি একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে পরিণত হয়
![]() |
| পেহেলগাম হামলা নিয়ে ভারতের অভিযোগের বিরুদ্ধে কোয়েটায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিবাদে নেমেছে। ছবি : পিপিআই |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘বাচ্চাটি যাবে না, ম্যাডাম’: ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ৯ মাসের সন্তানের সঙ্গে মায়ের বিচ্ছেদ
সীমান্ত ক্রসিংটির নাম আত্তারি-ওয়াঘা। একদিকে ভারতের আত্তারি গ্রাম, অন্যদিকে পাকিস্তানের ওয়াঘা। এই সীমান্ত পথ বহু বছর ধরে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণের একটি গেটওয়ে ছিল। তবে আজ সেই আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্ত বিভাজনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভারত ও পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশ তাদের নাগরিকদের সীমান্তের ওপারের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করছে। হাজারো পরিবারের ওপর এর প্রভাব পড়ছে, যাদের কিছু সদস্য ভারতের, আবার কিছু সদস্য পাকিস্তানের।
ভারত সরকার গত মঙ্গলবারের মধ্যে প্রায় সব পাকিস্তানি নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ৯ মাসের ছেলে আজলানকে নিয়ে সায়রা ও ফারহান নয়াদিল্লি থেকে সারা রাত ভ্রমণ করে সীমান্ত ক্রসিংয়ে পৌঁছান। ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীর হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তিন বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমের পাকিস্তানের করাচির বাসিন্দা সায়রার সঙ্গে নয়াদিল্লির ফারহানের প্রেম হয়। এরপর বিয়ে। সায়রা চলে আসেন নয়াদিল্লিতে। তবে গত মঙ্গলবার আত্তারি সীমান্তে দাঁড়িয়ে সায়রা ও ফারহান যখন একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন, তখন দুজনেরই চোখ ভিজে উঠেছিল। সেই মুহূর্তে এক সীমান্তরক্ষী তাঁদের তাড়া দিয়ে বললেন—‘চলুন, সময় নেই।’
কাঁটাতার আর ব্যারিকেডে ঘেরা সেই চেকপয়েন্টে এ দম্পতির পরিচয়ের একমাত্র চিহ্ন ছিল পাসপোর্টের রং—সায়রার সবুজ, ফারহানের নীল।
সায়রার দিকে তাকিয়ে ফারহান বলেন, ‘শিগগিরই আমাদের দেখা হবে।’ এরপর শিশুপুত্র আজলানের গালে চুমু খেয়ে বিদায় জানালেন ফারহান। বললেন, ‘ইনশা আল্লাহ, খুব শিগগির দেখা হবে। আমি তোমাদের দুজনের জন্য দোয়া করব।’
ঠিক তখনই এক নিরাপত্তারক্ষী এগিয়ে এসে আজলানের পাসপোর্টের দিকে ইশারা করলেন। সেটি ছিল নীল রঙের—মানে ভারতীয়।
নিরাপত্তারক্ষী সায়রাকে বললেন, ‘বাচ্চাটি যাবে না, ম্যাডাম।’ সায়রা তখনো বাঁ হাতে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে আছেন।
এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই দম্পতিকে আলাদা করে দেওয়া হয়। এরপর সায়রা চললেন করাচির পথে, আর ফারহান তাঁদের দুধের সন্তান আজলানকে নিয়ে ফিরে গেলেন নয়াদিল্লিতে।
‘এক নির্বাসিত জীবন’
গত ২২ এপ্রিল অস্ত্রধারীরা পেহেলগামের এক পর্যটন শহরে গুলি চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করে। তাঁদের বেশির ভাগই পর্যটক। ঘটনার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত এ হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। ইসলামাবাদ তা প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার জেরে দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া বহু বছরের পুরোনো সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করেছে। পাকিস্তানও অন্য দ্বিপক্ষীয় চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পাল্টা হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে এনেছে এবং কার্যত একে অপরের বেশির ভাগ নাগরিককেই বহিষ্কার করেছে। আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্ত এখন পুরোপুরি বন্ধ। সেখান দিয়ে মানুষের পারাপার ও পণ্য পরিবহন বন্ধ আছে।
২২ এপ্রিলের পর এ পর্যন্ত আনুমানিক ৭৫০ জন পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ফিরে গেছেন। আর পাকিস্তান থেকে ভারতে ফিরেছেন প্রায় ১ হাজার ভারতীয় নাগরিক।
এ সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানুষদের মধ্যে আছেন দুই দশক পর ভারতে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসা পাকিস্তানি নারী, ভারতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা দুই বোন—যাঁদের অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়েই ফিরতে হয়েছে এবং ভারতে চিকিৎসা নিতে আসা বয়স্ক পাকিস্তানি রোগীরাও।
৪৮ বছর বয়সী হালিমা বেগমও এ তালিকায় আছেন। ওডিশা থেকে দুই দিন ধরে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ (প্রায় ১ হাজার ২৫০ মাইল) পাড়ি দিয়ে আত্তারি সীমান্তে পৌঁছেছেন তিনি।
হালিমা বেগম ২৫ বছর আগে করাচি ছাড়েন। সেই সময় ওডিশার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। জীবন মোটামুটি ভালোই চলছিল। এর মধ্যেই সম্প্রতি এক পুলিশ কর্মকর্তা এসে তাঁর হাতে ভারত সরকারের ‘ভারত ছাড়ো’ নোটিশ ধরিয়ে দিয়েছেন।
সীমান্তের কাছে একটি ট্যাক্সিতে বেশ কিছু ব্যাগ নিয়ে বসে ছিলেন হালিমা। তিনি বলেন, ‘আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি ওনাদের বলেছিলাম, আমি তো এখানে এমনি এমনি আসিনি—আমার বিয়ে হয়েছে ভারতে। ভারত সরকার যে আমার এত বছরের গড়ে তোলা জীবনকে এক ঝটকায় ছিঁড়ে ফেলছে এবং আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে, তা কি ন্যায্য হচ্ছে?’
২৫ বছর ভারতে কাটানো হালিমা বলেন, দেশটা তাঁরও দেশ হয়ে গেছে।
হালিমার সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই ছেলে—২২ বছর বয়সী মুসাইব আহমেদ ও ১৬ বছরের যুবায়ের আহমেদ। আট বছর আগে তাঁদের বাবা মারা গেছেন। দুই ভাই মিলে ঠিক করেছেন, যুবায়ের মায়ের সঙ্গে সীমান্ত পার হবে, যেন সে মায়ের দেখাশোনা করতে পারে।
দুই ছেলের পাসপোর্টই নীল (ভারতীয়)। আর হালিমার পাসপোর্ট সবুজ (পাকিস্তানি)। মুসাইব ও যুবায়ের শুরুতে সীমান্তরক্ষীদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেছিলেন, এমনকি শেষে তর্কেও জড়ান। কিন্তু কোনো কিছুতে কাজ হয়নি।
কাঁপা গলায় মুসাইব বলেন, ‘মা কখনো একা কোথাও যাননি। আমি জানি না, উনি কীভাবে এই ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে করাচি পৌঁছাবেন।’
করাচিতে হালিমার যাওয়ার মতো কোনো ঘর নেই। তাঁর মা–বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তাঁর একমাত্র ভাই নিজের ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে মাত্র দুটি কক্ষে থাকেন।
চোখ মুছতে মুছতে হালিমা বলেন, ‘হাজারটা প্রশ্ন ঘুরছে মাথায়। কিন্তু একটারও উত্তর নেই। আমি শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করি—আমার সন্তানদের যেন রক্ষা করেন। খুব শিগগির আবার এক হব আমরা।’
রাতারাতি টানা সীমান্তে ভাগ হয়ে যাওয়া মানুষের গল্প নিয়ে ২০২২ সালে প্রকাশিত হয় ‘মিডনাইটস বর্ডারস’ বইটি। এর লেখিকা সুচিত্রা বিজয়ন বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে এমন অসংখ্য হৃদয়বিদারক কাহিনি ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে।
সুচিত্রার মতে, ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের পর থেকে যেসব মুসলিম নারী ভারত কিংবা পাকিস্তানে জন্ম নিয়ে অন্য দেশের পুরুষদের বিয়ে করে সেদিকে চলে গেছেন, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। বিশেষ করে যখন তাঁদের জোর করে ফেরত পাঠানো হয়, তখন তাঁদের অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়তে হয়।
‘(বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর) আপনি এমন এক জায়গায় বন্দী হয়ে পড়েন, যা আর আপনার ঘর নয়—অথবা এমন একটা ঘর, যেটাকে আপনি চিনতেও পারেন না। নির্বাসন হয়ে ওঠে আপনার জীবনের স্বাভাবিক অবস্থা’, বলেন সুচিত্রা।
সায়রা ও ফারহানের মতো করে বিগত কয়েক দশকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বহু পরিবার এ আশায় বুক বেঁধে থেকেছে যে অচিরেই তারা আবার মিলিত হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবে তা ঘটেনি।
সুচিত্রা বিজয়ন বলেন, ‘সবচেয়ে বেদনাদায়ক যে কথা বারবার শুনবেন, সেটা হলো—অনেকে ভেবেছিলেন যে তাঁরা সাময়িকভাবে যাচ্ছেন।’
‘শুধু একজন মা-ই যন্ত্রণা বুঝতে পারেন’
আবারও আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্তে ফিরে যাওয়া যাক। সেখানে ফারহান তাঁর ছেলের ফিডারটি উড়োজাহাজের মতো করে বানিয়ে খেলা করার চেষ্টা করছিলেন। ৯ মাসের ছেলে আজলানকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে শিশুটি বিরক্ত হয়ে উঠছিল। ফারহানের বোন নুরিন বলেন, ‘সে ফিডার পছন্দ করে না, সে তার মায়ের স্পর্শ চেনে।’
নুরিন ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও সায়রা, ফারহান ও আজলানের সঙ্গে সীমান্তে এসেছিলেন।
নুরিন বলেন, ‘দুটি বড় দেশ আর শক্তি একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, আর আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা আটকা পড়ে আছে। ধিক তাদের। শুধু একজন মা-ই জানেন, তাঁর ৯ মাসের সন্তানকে ফেলে আসার কষ্ট কী।’
হঠাৎ ফারহানের চোখে একঝলক আশা দেখা গেল। একজন নিরাপত্তারক্ষী তাঁর নাম ধরে ডাকছিলেন। নেভি ব্লু রঙের কটন টি-শার্ট পরা ফারহান দৌড়ে গেলেন, হাতে আজলানের নীল পাসপোর্ট। দৌড়ে যাওয়ার সময় হাসি দিয়ে ফারহান বলেন, ‘অবশেষে, আমাদের পরিবারের ওপর দয়া দেখানো হয়েছে।’ ফারহান ধারণা করেছিলেন, হয়তো এবার সায়রা ও আজলান একসঙ্গে সীমান্ত পার হতে পারবে।
কিন্তু এক ঘণ্টা পর, ফারহান ফিরে এলেন। তাঁর চোখে অশ্রু। ছেলে আজলান তখনো তাঁর কোলে, গরমে সে বিরক্ত।
ফারহান বলেন, ‘সীমান্ত পার হওয়ার সময় ও (সায়রা) অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। কর্মকর্তারা আমাকে বললেন, ও জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর কান্না থামাতে পারছিল না।’
কাঁদতে কাঁদতে ফারহান বলেন, সায়রাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার আগে জীবন কতটাই না ভিন্ন ছিল।
ফারহান দিল্লির শতবর্ষ পুরোনো ওল্ড দিল্লির একজন ইলেকট্রিশিয়ান। সায়রা করাচি থেকে স্নাতক করেছেন। ফারহানের বোন নুরিন বলেন, তাঁর ভাই-ভাবি এমন এক দম্পতি, যাদের কোনো কিছু আলাদা করতে পারত না।
ফারহান বলেন, বিয়ে করে সায়রা দিল্লিতে আসার পর তাঁর জীবন, দুনিয়া, সবকিছু বদলে গিয়েছিল।
আর এখন সবকিছু আবারও বদলে গেছে। এমনভাবে সবকিছু বদলেছে, যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। আজলানকে কোলে নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ফারহান। পাশে তাঁর মা আয়েশা বেগম চুপচাপ ছেলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তিনি পা ভাঙা অবস্থায়ও সীমান্তে এসেছিলেন।
হিন্দিতে আয়েশা বলেন, ‘ইয়ে সব পেয়ার কে মরে হ্যায় (এরা সব প্রেমের বলি)।’
ভারত-পাকিস্তান টানাপোড়েনে একেকটি পরিবারকে ছিন্নভিন্ন হতে দেখা আয়েশা বেগমের উপলব্ধি, ‘নরকেও প্রেমে পড়া যাবে, কিন্তু কখনো এখানে নয়।’
![]() |
| আত্তারি–ওয়াঘা সীমান্ত। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আজ যদি কাজ না করি, আমাগোরে আর কাজে লইবো না’ by নোমান ছিদ্দিক
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজধানীর সদরঘাটের ডকইয়ার্ডে এ কাজ করে যাওয়া শাহজাহান জানেন না আজ শ্রমিক দিবস। শুধু এটুকু জানেন, আজ তাঁকে বিকেল পাঁচটার বদলে তিনটা পর্যন্ত কাজ করতে হবে। আজ শ্রমিক দিবস জানেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমিক শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘না, জানি না, আজকে একটানা তিনটা পর্যন্ত কাজ করতে হবে, এটি জানি।’
শ্রমিক শাহজাহানের বাড়ি পিরোজপুরের সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নে। সেখানে পরিবারে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে। তাঁর এই আয়ের ওপর ভর করেই চলে সংসার। শাহজাহান এখন থাকেন ডকইয়ার্ডের পাশে একটি মেসে। তিনি বলেন, ছয়–সাত বছর ধরে একই মজুরি (৪৫০ টাকা) পেয়ে আসছেন। সবকিছুর দাম বাড়লেও বাড়েনি শাহজাহানের মতো শ্রমিকদের মজুরি।
শাহজাহান জানান, ডকইয়ার্ডে কেবল প্রতিদিন হাজিরার ওপর বেতন দেওয়া হয়। শ্রমিক দিবস কিংবা সরকারি কোনো ছুটি তাঁরা পান না। কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে গেলেও মজুরি কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের মজুরি। বলেন, ‘এইবার একবার রোজা রইয়া কাজ করতে গিয়া হুইয়া পড়ছি, অসুস্থ অইছি। কইলাম একটু মোরে ডাক্তারে ধারে নাও, হেইয়া কেউ নেলো না। জেরে আধা ঘণ্টা ধরে হুইয়া রইছি, পরে আস্তে আস্তে উইড্ডা বাসায় গেছি, জেরে ডাক্তারের ধারে গিয়া স্যালাইন আইনা খাইয়া হের পরে সুস্থ অইছি।’
শুধু শ্রমিক শাহজাহান নয়, রাজধানীর সদরঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ের এ ডকইয়ার্ডে আজ কাজ করেছেন অসংখ্য শ্রমিক। ভরদুপুরে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়া আরও দুই শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁদের মধ্যে একজন ৭৬ বছর বয়সী ইউনুস হাওলাদার। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই ডকইয়ার্ডে কাজ করছেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নে। সুন্দরবনের বাঘ-হরিণে ডাক দিলে তাঁর বাড়ি থেকে শোনা যায় বলে তিনি জানান। কাজের জন্য ঢাকার হাবিব নগরে থাকেন। পরিবারে ৫ ছেলে ১ মেয়ে।
আজ শ্রমিক দিবস এটি জানেন কি না, জানতে চাইলে ইউনুস হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা জানি, কন্টাকটারে (ইজারাদার) কাজ করাইবে এহন কী করমু। আজ যদি আমরা কাজ না করি, আমাগোরে আর কাজে লইবো না।’ তিনি বলেন, জাহাজের কাজ যারা কন্ট্র্যাক্ট (জাহাজ মেরামতের কাজ ইজারা) নিয়েছে, তাঁরা এবং জাহাজের মাস্টাররা তাঁদের দিয়ে কাজ করান। মূলত কন্ট্র্যাক্টরের (ইজারাদার) অধীনে কাজ করেন তাঁরা।
বিশালাকার জাহাজের গায়ে হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিয়ে মরিচা ওঠানোর সময় লোহার গুঁড়া প্রায় সময় চোখেমুখে প্রবেশ করে। এর ফলে প্রায়ই তাঁদের চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হয় বলে জানালেন এই বৃদ্ধ শ্রমিক।
আরেক শ্রমিক জাবেদ হোসেন (৬৫)। এই ডকইয়ার্ডে ১৫ বছর ধরে কাজ করেন তিনি। গ্রামের বাড়ি রংপুর সদর উপজেলায়। পরিবারে এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে বর্তমানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে, ছেলের আয় ও জাবেদ হোসেনের আয় দিয়ে চলে সংসার। জাবেদ হোসেন বলেন, সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করেন তাঁরা, তবে শুক্রবারে হাফ বেলা কাজ করেন। এর জন্য ওই দিন অর্ধেক বেতন দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে কাজ করতে হয় তাঁদের। তবে এই ১০ ঘণ্টার মধ্যে দুপুরে ১ ঘণ্টার খাবারের বিরতি পান তাঁরা।
শ্রমিক দিবসে ছুটি পেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হতেন বলে জানান ডকইয়ার্ডে ১০ বছর ধরে কাজ করা শ্রমিক শাহীন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জে। স্ত্রী ও তিন মেয়ে মিলে তাঁর পরিবার। শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, আগে অন্য চাকরি করতেন। সেখানে সব সরকারি ছুটি পেতেন। এখন আর ছুটি পান না। কেউ এসে বলেনি যে আজ শ্রমিক দিবস, সরকারি ছুটি আজ তোমরা কাজ বন্ধ রাখো। এমন কোনো ব্যক্তি নেই এখানে বলার।
শ্রমিক হিসেবে তাঁদের দাবি বা প্রত্যাশা কী, জানতে চাইলে শাহীন বলেন, ‘আমরা চাই সরকারি ছুটিগুলো অন্তত আমাদের দেওয়া হোক। আমাদের হাজিরাটা (প্রতিদিনের কাজের মজুরি) বাড়ানো হোক।’ তবে এসব অভিযোগ বা দাবি নিয়ে কথা বলার জন্য সেখানে ইজারাদারদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
![]() |
| হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জাহাজের গায়ে জমা মরিচাগুলো তুলে ফেলা হয়। প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা কাজ করতে হয় ডকইয়ার্ড শ্রমিকদের ছবি: নোমান ছিদ্দিক, প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীরে ভূমি রাজনীতি যেভাবে সংঘাত উসকে দিচ্ছে by অজয় আশীর্বাদ মহাপ্রশস্ত
জম্মু ও কাশ্মীর থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর ভূমি মালিকানা নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই উদ্বেগ কাজে লাগিয়ে বেসামরিক মানুষদের ওপর হামলার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে হামলার দায় স্বীকারকারী ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’। তারা বলেছে, যাঁরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তাঁরা ‘বহিরাগত বসতি স্থাপনকারী’।
‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামের সংগঠনটি—যেটিকে লস্কর-ই-তৈয়্যেবার শাখা বলে মনে করা হয়—মিডিয়ায় দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ৮৫ হাজারের বেশি বহিরাগতকে ডোমিসাইল (স্থায়ী বাসিন্দা সনদ) দেওয়া হয়েছে। ফলে অধিবাসীদের ধরনে পরিবর্তনের পথ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁরা পর্যটকের ছদ্মবেশে এসে ডোমিসাইল নেন, তারপর নিজেদের মালিক মনে করেন। ফলে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানো হবে।’
এ অভিযোগ যতই অযৌক্তিক হোক না কেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, চরমপন্থী সংগঠনগুলো প্রায়ই সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণ করে। আশি–নব্বইয়ের দশকে পাঞ্জাবে খালিস্তানি গোষ্ঠীরাও তেমন করেই নিজেদের কার্যকলাপ বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
টিআরএফ (দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) এখন কাশ্মীরে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই হামলা চালিয়ে অনেক কাশ্মীরির জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
কাশ্মীরে জমির মালিকানা নিয়ে ক্ষোভ ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে মোদি সরকার অনুচ্ছেদ ৩৭০-এর ক্ষমতা হ্রাস করার পর তা উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার নতুন জমি আইন চালু করেছে। তবে তা কেবল স্থানীয়দের জন্য নির্ধারিত জমির অধিকার বাতিল করে বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের জমি কিনতে উৎসাহিত করে।
২০২০ সালে চালু হওয়া নতুন ডোমিসাইল আইনে বলা হয়েছে, যে কেউ সেখানে ১৫ বছর বসবাস করেছে বা ৭ বছর পড়াশোনা করেছে, সে সেখানে জমির মালিক হতে পারে। সরকার বলেছে, এই আইন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের উপকারে আসবে। তবে বিরোধীরা মনে করে, এটি কাশ্মীরের জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলে দিতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, গত দুই বছরে ৮৩ হাজার ৭৪২ জন বহিরাগতকে ডোমিসাইল সনদ দেওয়া হয়েছে। অথচ ২০১৯ সালে মাত্র ১৮৫ জন বহিরাগত জমি কিনেছিল। ২০২১-২২ সালে এই হার বেড়েছে।
এই ভূমি বিতর্ক এখন কেবল সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, ব্যবসায়ী মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন বড় প্রকল্পে সরকার জমি অধিগ্রহণ করছে। বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহ দিচ্ছে। পেহেলগামে একটি সাত তারকা হোটেল তৈরি হচ্ছে। এর মালিক নাকি এক বহিরাগত। এতে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জে কে হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুশতাক চায়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে গুলমার্গের হোটেলগুলোর ৫০ বছরের লিজ নবায়নের অনুরোধ জানান। আপাতত সরকার এই লিজ বাড়ানোর কথা বলেছে। তবে সংশয় এখনো কাটেনি।
এ ছাড়া দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, তা নতুন জমি আইনগুলোর ফল।
বড় বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী জম্মু ও কাশ্মীরে জমি কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত ৬ হাজার ৯০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছে। মুরালিধরনের কোম্পানি, ওয়েলস্পুন গ্রুপ এবং দুবাইয়ের এমার গ্রুপ ইতিমধ্যেই জমি পেয়েছে। জম্মু অঞ্চলে ৮১ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকার এবং কাশ্মীরে ৪১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।
এসব ঘটনা কাশ্মীর উপত্যকায় জমির মালিকানা নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরছে। হিন্দুত্ববাদীরা জমি মালিকানা নিয়ে যেভাবে উল্লাস প্রকাশ করছে, তাতে কাশ্মীরিদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। এসব বক্তব্যে প্রায়ই মুসলিমদের টার্গেট করা হয়।
বিজেপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাই কাশ্মীরে জমি ‘উন্মুক্ত’ করে দেওয়াকে অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ইতিবাচক বলছেন। তবে স্থানীয় লোকজন মনে করছেন, এতে কেবল ‘বহিরাগত’রা লাভবান হয়েছেন।
নতুন ওয়াক্ফ আইনও জম্মু ও কাশ্মীরে কার্যকর হয়েছে। এতে মুসলিমদের জমির অধিকার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পেহেলগামের হামলার পর মোদি সরকারের ওপর গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকার যেভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা চরমপন্থী গোষ্ঠীদের পক্ষে মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগাতে সহায়তা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর দায় শুধু নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়েই নয়, কাশ্মীরিদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পর তাঁর দল ও সমর্থকদের উল্লাস নিয়েও মোদিকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।
সরকার এখন নিজেদের সক্রিয় দেখানোর চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ, নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক, সর্বদলীয় বৈঠক এবং সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে পাকিস্তানের আকাশপথ এড়িয়ে ফেরা—সবই তার প্রমাণ।
কিন্তু হিন্দুত্ববাদী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এই সুযোগে মুসলিমবিরোধী ঘৃণা ছড়াচ্ছে। তারা কাশ্মীরিদের টার্গেট করছে এবং প্রতিশোধের ডাক দিচ্ছে।
গত পাঁচ বছরের তথ্য বলছে, সন্ত্রাসবাদী হামলা এখনো থামেনি। বরং গত দুই বছরে বেসামরিক মৃত্যুর হার বেড়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, শুধু সামরিক পথ নয়, প্রয়োজনে সরকারকে আরও গভীর সামাজিক সমাধানের পথে হাঁটতে হবে।
* অজয় আশীর্বাদ মহাপ্রশস্ত দ্য ওয়্যারের রাজনৈতিক সম্পাদক
- দ্য ওয়্যার থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| কাশ্মীরে টহলরত ভারতীয় সেনা। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কমলার অভিযোগ: আধুনিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের রাজনীতি থেকে ধনীরা লাভবান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন কমলা বলেন, ট্রাম্প ‘সংকীর্ণ, স্বার্থপর দৃষ্টিভঙ্গির’ মানুষ। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ‘সত্যবাদীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, অনুগতদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনেকে লাভবান হচ্ছেন, আর সাধারণ মানুষদের নিজেদের মতো করে টিকে থাকতে হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির থেকে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হয়েছিলেন কমলা হ্যারিস। তিনি রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু ট্রাম্পের কাছে বিপুল ব্যবধানে হেরে যান। এর পর থেকে কমলা তেমন একটা জনসমক্ষে আসেননি।
বুধবার ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হয়। এ উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে কমলার নিজের শহর সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন কমলা। ‘ইমার্জ আমেরিকা’ নামের একটি সংগঠন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এই সংগঠন ডেমোক্রেটিক নারী প্রার্থীদের নির্বাচনে জেতাতে কাজ করে।
বক্তৃতায় কমলা বলেন, ট্রাম্প এখন পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ অন্যতম। কিন্তু তাঁর এই অর্থনৈতিক নীতি ‘সুস্পষ্টভাবে মন্দা ডেকে আনছে’।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্তা বারবারার আমেরিকান প্রেসিডেন্সি প্রজেক্টের তথ্যমতে, ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ১৪২টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি।
ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার পর প্রথম প্রান্তিক যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সংকুচিত হয়েছে। কিন্তু দুর্বল অর্থনীতির জন্য তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দোষারোপ করেছেন। অন্যদিকে নিজের সফলতা দেখাতে ঘরোয়া চাহিদা বাড়ার হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প।
রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সমর্থনের ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। মার্কিন জনগণের মাত্র ৩৬ শতাংশ তাঁর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সমর্থন করেন।
তবে এখন পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে রিপাবলিকানদের সমর্থকেরাই নিজেদের নেতৃত্বের প্রতি বেশি আস্থাবান। দেশটির ডেমোক্র্যাটদের ৭১ শতাংশ নিজেদের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে তা ৮৩ শতাংশ।
গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার পর বুধবারই প্রথমবারের মতো বড় কোনো অনুষ্ঠানে কথা বললেন কমলা। এর মধ্য তিনি রাজনীতির কক্ষপথে আবার হাঁটা শুরু করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী বছর ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচন। তিনি চাইলে এতে অংশ নিতে পারবেন। অংশ নিলে তাঁর জয় পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনেকে মনে করেন, তিনি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও আবার প্রার্থী হতে পারবেন।
![]() |
| বক্তৃতা দিচ্ছেন সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অঙ্গরাজ্যের সান ফ্রান্সিসকোতে, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীর হামলা: ভারত কীভাবে পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে পারে, ইতিহাস কী বলে
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত মঙ্গলবার ও গতকাল কয়েকটি নিরাপত্তা বৈঠক করেছেন। এ কারণে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের গুঞ্জন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হওয়ার পর এ গুঞ্জন শুরু হয়।
পেহেলগাম হামলার পর প্রতিবেশী দেশ দুটির কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে। দুই দেশই কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা হ্রাস, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত ও কার্যকরভাবে একে অপরের নাগরিকদের বহিষ্কার করছে।
কাশ্মীর ইস্যুতে উপমহাদেশজুড়েই বিরাজ করছে চরম উৎকণ্ঠা। কিন্তু পেহেলগাম হামলার জবাবে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া কতটা আসন্ন, আর তা কেমন হতে পারে—এমন প্রশ্ন আছে অনেকের মনে। জেনে নেওয়া যাক, এ ব্যাপারে ইতিহাস কী বলছে—কী ঘটেছে
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার গতকাল সকালে টেলিভিশনে এক বক্তব্যে বলেন, ইসলামাবাদের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য’ রয়েছে যে আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত।
তারার আরও বলেন, পেহেলগাম হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগের ‘অজুহাতে’ ভারত এ পদক্ষেপ নিতে পারে। ভারত পেহেলগাম হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেও ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কাশ্মীরের একটি অংশ ভারত ও আরেক অংশ পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ করে। তবে পুরো অঞ্চলটি নিজেদের বলে দাবি করে উভয় দেশ।
আতাউল্লাহ তারার এমন সময় ওই বক্তব্য দিলেন যখন নরেন্দ্র মোদি নিরাপত্তা ইস্যুতে নেতাদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকে ভারতের সেনাবাহিনীকে পেহেলগাম হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য ‘সম্পূর্ণ স্বাধীনতা’ দিয়েছেন। একাধিক সংবাদ সংস্থা সরকারের উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দূরদর্শন জানায়, গতকাল মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মোদি। পেহেলগাম হামলার ঘটনার পর এটি ছিল তাঁদের দ্বিতীয় বৈঠক।
এদিকে দুই প্রতিবেশী দেশ যখন কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) গোলাগুলি অব্যাহত রেখেছে, তখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতারা উত্তেজনা প্রশমিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়িয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তাদের বলছি, পরিস্থিতি উত্তেজনাকর না করতে।’ মার্কো রুবিও গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র মঙ্গলবার জানান, মহাসচিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ‘উত্তেজনা কমাতে’ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভারত কোন ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে
ভারত কোন ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অতীতে দেশটি বিভিন্ন সামরিক কৌশল ব্যবহার করেছে। সেগুলোর কয়েকটি হলো—
গোপন সামরিক অভিযান
এ ধরনের অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয় না। গত কয়েক দশকে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের ভূখণ্ডে একাধিক গোপন আক্রমণ চালিয়েছে। মূলত সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো ও সেনাদের হত্যা করা হয়।
কিন্তু এ ধরনের আক্রমণের কথা কখনো নিশ্চিত করা হয় না। এর উদ্দেশ্য হলো, শত্রুদেশকে একটি বার্তা পাঠানো, প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করা নয়। এ ক্ষেত্রে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়ানোর বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়।
প্রকাশ্য ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’
কখনো কখনো শত্রুপক্ষকে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি অস্বস্তিতে ফেলার জন্য প্রকাশ্য আক্রমণও চালানো হয়। রাজনৈতিক দিক থেকেও এতে কোনো ক্ষতি হয় না।
ভারত অতীতে বহুবার নিয়ন্ত্রণরেখায় বিশেষ লক্ষ্যবস্তুতে এ ধরনের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ পরিচালনা করেছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এমন হামলা চালানো হয়েছিল।
ওই সময় ভারতশাসিত কাশ্মীরের উরিতে সশস্ত্র হামলাকারীরা ১৭ জন ভারতীয় সেনাকে হত্যা করেন। এর জবাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ দল হামলাকারীদের সম্ভাব্য ঘাঁটিতে আক্রমণ চালাতে কার্যত সীমান্ত পাড়ি দেয়। নয়াদিল্লির দাবি অনুযায়ী, সেখান থেকে সন্ত্রাসীরা আবারও ভারতে হামলার ছক কষছিলেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর তৎকালীন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর সিং এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য, সন্ত্রাসীরা যাতে ভারতে অনুপ্রবেশ করে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে ভারতীয়দের জীবন বিপন্ন করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা।’
ভারত দাবি করেছিল, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে বহু হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নিহতের সংখ্যা সম্ভবত অনেক কম ছিল।
আকাশপথে হামলা
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪০ জন ভারতীয় আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হন। দেশটিতে জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এ ঘটনা ঘটে। হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ।
ভারতের মানুষের প্রচণ্ড ক্ষোভের মধ্যে দেশটির বিমানবাহিনী পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আকাশপথে আক্রমণ চালায়। ভারতের দাবি, তারা ‘সন্ত্রাসীদের’ আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে বহু যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।
তবে পাকিস্তান জোর দিয়ে বলেছিল, ভারতীয় যুদ্ধবিমান শুধু একটি বনাঞ্চলে আঘাত করেছে। এতে কোনো যোদ্ধা নিহত হননি।
এ ঘটনার এক দিন পর ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান আবার মুখোমুখি হয়। পাকিস্তান ভারতের একটি বিমান ভূপাতিত ও এক ভারতীয় বৈমানিককে গ্রেপ্তার করে। অবশ্য কয়েক দিন পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত ভূমি দখলের চেষ্টা
কয়েক বছর ধরে ভারতের এমন দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে যে নয়াদিল্লি যেন পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর পুনরুদ্ধার করে। পেহেলগাম হামলার পর সেই দাবি আরও তীব্র হয়েছে। এমনকি বিরোধী কংগ্রেস পার্টির নেতারাও মোদি সরকারকে ওই অঞ্চল পুনর্দখলের আহ্বান জানাচ্ছেন।
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীর পুনরুদ্ধার করা ভারতের প্রতিটি সরকারের নীতিগত লক্ষ্য থাকলেও উভয় দেশের প্রায় সমান সামরিক সক্ষমতার কারণে এমন উদ্যোগ নেওয়া বাস্তবে খুব একটা সম্ভব নয়।
তবু পাকিস্তানের কাছ থেকে বিতর্কিত অঞ্চল দখল করার ক্ষেত্রে ভারতের সফল ইতিহাস রয়েছে।
১৯৮৪ সালে ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী ‘অপারেশন মেঘদূত’ চালায়। এর মাধ্যমে তারা হিমালয়ের সিয়াচেন হিমবাহ দ্রুত দখল করে নেয় এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথগুলো আটকে দেয়। সিয়াচেন তখন থেকে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে; যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক চৌকিগুলো এখনো মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
নৌবাহিনীর অভিযান
পেহেলগাম হামলার পর ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।
২৭ এপ্রিল নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজগুলো একাধিক সফল জাহাজ–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মাধ্যমে দূরপাল্লার নির্ভুল আক্রমণের জন্য এ বাহিনী তাদের ব্যবস্থাপনা এবং ক্রুদের প্রস্তুতি যাচাই ও প্রদর্শন করেছে।
পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাত
ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতার পর ৭৮ বছরে চারবার যুদ্ধে জড়িয়েছে। এর মধ্যে তিনটি যুদ্ধই হয়েছে কাশ্মীর নিয়ে।
১৯৪৭ সালের আগস্টে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার উপমহাদেশ থেকে চলে যাওয়ার পর দুই মাসের মধ্যে প্রথম কাশ্মীর যুদ্ধ শুরু হয়। তখন অঞ্চলটি শাসন করতেন একজন রাজা।
পাকিস্তানি মিলিশিয়ারা কাশ্মীরে আক্রমণ করে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে সেখানকার রাজা হরি সিং ভারতের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন। দিল্লি সাহায্য করতে রাজি হয় এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়। তবে শর্ত ছিল, কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে একীভূত করতে রাজাকে একটি চুক্তি সই করতে হবে। রাজা হরি সিং ভারতের এ শর্ত মেনে নেন।
১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এ যুদ্ধের অবসান হয়। এর পর থেকে ভারত ও পাকিস্তান কাশ্মীরের একেক অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
১৯৬৫ সালে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষ একটি সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নেয়। পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্রবিরতি রেখা অতিক্রম করে ভারতশাসিত কাশ্মীরে প্রবেশ করে। আর ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের লাহোরে হামলা চালায়। দুই পক্ষেই বহু প্রাণহানির পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে এ যুদ্ধের অবসান ঘটে।
১৯৯৯ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করলে কারগিল যুদ্ধ বাধে। লাদাখ অঞ্চলের বরফাচ্ছাদিত পাহাড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটেন।
![]() |
| ভারতের যেকোনো দুঃসাহসিক কাজের দ্রুত জবাব দেয়া হবে। পেহেলগাম হামলার পর পাকিস্তানে ভারতের সেনাবাহিনীকে অভিযান চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে স্বাধীনতা দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ অসিম মুনির। তিনি বলেছেন, ভারতের যেকোনো সামরিক অভিযানের দ্রুত, দৃঢ় এবং কঠোর জবাব দেয়া হবে। এ বিষে কোনো দ্বিধা থাকা উচিত নয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মাঙ্গলা স্ট্রাক করপ বৃহস্পতিবার এক্সারসাইজ হ্যামার স্ট্রাইক পরিচালনা করে। টিলা ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে তিনি তা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানেই ওই মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান। >> মানবজমিন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মন্তব্যে ভারতে ক্ষোভ, কী বলেছেন তিনি
ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পেহেলগামে গত ২২ এপ্রিল বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন। এর কয়েক দিন আগে কাশ্মীর নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন আসিম মুনির। তাঁর এসব মন্তব্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থান ও আঞ্চলিক উত্তেজনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই কাশ্মীরকে পুরোপুরি নিজেদের বলে দাবি করে। কিন্তু তারা এটির একেক অংশ শাসন করে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে এ ভূখণ্ড।
জেনারেল মুনিরের বক্তব্য যদিও প্রত্যক্ষভাবে পেহেলগামের হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, তবু তাঁর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এটিকে বেশি আগ্রাসী মনোভাবের হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল আসিম মুনিরকে বর্তমানে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে ধরা হয়। দেশটির রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ, সরকারকে ক্ষমতায় বসানো ও অপসারণে দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী নানা ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ করা হয়ে থাকে। এখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী প্রতিবেশী এ দুই দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছেন তিনি।
২০২২ সালের নভেম্বরে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন জেনারেল মুনির। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে প্রকাশ্যে তেমন কথা বলতে শোনা যায়নি। তবে তাঁর একটি বক্তব্য ব্যাপকভাবে মনোযোগ কেড়েছে।
ইসলামাবাদে গত ১৭ এপ্রিল প্রবাসীদের সঙ্গে একটি বৈঠকে আসিম মুনির বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ থেকে আলাদা।’ কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ‘জীবন সঞ্চারণী শিরা’ উল্লেখ করে তিনি অঙ্গীকার করেন, ‘ভারতের দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের বিরোচিত লড়াইকে পাকিস্তান কখনো পরিত্যাগ করবে না।’
জেনারেল মুনিরের এ বক্তব্যের সঙ্গে পেহেলগামে হামলার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকতে পারে। কেননা পাকিস্তানের নেতারা অনেক বছর ধরেই এমন ধরনের আদর্শিক বক্তব্য–বিবৃতি দিয়ে আসছেন।
কিন্তু মুনিরের এ বক্তব্যের মাত্র পাঁচ দিন পর ২২ এপ্রিল ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের ওই হামলা হয়।
জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জশুয়া টি হোয়াইট বলেন, ‘তাঁর (আসিম মুনির) এ বক্তব্য তথাকথিত বাগাড়ম্বর নয়। এটি পাকিস্তানের আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঠিক, কিন্তু যে সুরে, বিশেষ করে হিন্দু–মুসলিম পার্থক্য তুলে ধরে তিনি কথা বলেছেন, তা এটিকে বিশেষভাবে উত্তেজক করে তুলেছে।’
এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে মুজাফ্ফরাবাদে জেনারেল মুনির কাশ্মীর সংহতি দিবসে এক বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন, ‘কাশ্মীরের জন্য পাকিস্তান এরই মধ্যে তিনটি যুদ্ধ করেছে। যদি ১০টি যুদ্ধের প্রয়োজন হয়, পাকিস্তান সেটিও করবে।’
এখন ভারতীয় কর্মকর্তারা জেনারেল আসিম মুনিরের এসব বক্তব্যের সঙ্গে পেহেলগামে হামলার যোগসূত্রতার দিকে ইঙ্গিত করছেন। যদিও এ নিয়ে তাঁরা কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি, তবু তাঁর ওই বক্তব্যে ভারতে পাকিস্তানের ব্যাপারে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে।
![]() |
| সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল আসিম মুনিরকে বর্তমানে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে ধরা হয়। ছবি: পাকিস্তানের আইএসপিআরের এক্স অ্যাকাউন্ট |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের হামলার আশঙ্কায় পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ১০০০ মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা
গত সপ্তাহে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলার পর ভারতের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুই দেশই পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে গত ২২ এপ্রিল সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগই পর্যটক। এ হামলায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ভারত অভিযোগ করে আসছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির সেনাবাহিনীকে ওই হামলার জবাব দিতে ‘সম্পূর্ণ স্বাধীনতা’ দিয়েছেন, যাতে তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারে।
পাকিস্তান অবশ্য পেহেলগামের হামলায় তাদের বিরুদ্ধে আনা সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, ভারতের সম্ভাব্য সামরিক হামলার ব্যাপারে তাদের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ রয়েছে। পাকিস্তান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।’
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার গতকাল বুধবার সকালে এক টেলিভিশন বিবৃতিতে বলেন, ‘আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই হামলা হতে পারে।’
আতঙ্কে মানুষ, বাংকার তৈরির প্রস্তুতি
সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কায় পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক হাজারের বেশি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কাশ্মীরের ধর্মবিষয়ক দপ্তরের প্রধান হাফিজ নজির আহমদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা কাশ্মীরের সব মাদ্রাসা ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছি।’
দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সীমান্তে উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘর্ষের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) সংলগ্ন অঞ্চলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এখানকার অনেক মানুষ মাটির নিচে বাংকার তৈরি করছেন। যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা সেগুলো সিমেন্ট দিয়েও মজবুত করছেন।
এলওসির কাছে চাকোঠি এলাকায় বসবাসরত ৪৪ বছর বয়সী দোকানি ইফতেখার আহমদ মির বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে আমরা সব সময় আতঙ্কে আছি, বিশেষ করে আমাদের বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
ইফতেখার বলেন, ‘ওরা স্কুল বা মাদ্রাসা শেষে আর বাইরে যাতে ঘোরাফেরা না করে সরাসরি বাড়ি ফিরে আসে, সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করি।’
পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রধান শহর মুজাফফরাবাদে জরুরি সেবাকর্মীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছেন। ভারতের পক্ষ থেকে হামলা হলে কী করতে হবে, প্রশিক্ষণে সেগুলো শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
১১ বছর বয়সী আলি রেজা বলে, ‘আমরা শিখেছি কীভাবে আহত কাউকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়, কীভাবে স্ট্রেচারে বহন করতে হয় আর আগুন নেভাতে হয়।’
![]() |
| পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মোজাফফরাবাদ শহরে ম্যুরালের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। সম্প্রতি তোলা। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকায় ৫০টি জায়গায় বসছে ‘এয়ার পিউরিফায়ার’, কতটা কাজে লাগবে by সৈয়দ রিফাত মোসলেম
গত সোমবার গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটির নগর ভবনে এক পলিসি ডায়ালগে এসব যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। প্রতিটি যন্ত্র ১০০ গাছের সমপরিমাণ বায়ু পরিশোধন ও শীতলীকরণে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক আরও জানান, এ উদ্যোগের জন্য পৃষ্ঠপোষক বা স্পনসর পাওয়া গেছে এবং চলতি মাসেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সিটি করপোরেশনের কোনো অর্থ খরচ হবে না।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন মোহাম্মদ এজাজ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পাইলট প্রকল্প করে দেখতে চাই, ফলাফল কী আসে। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসব। যদি ইতিবাচক না হয়, আমরা ভিন্ন উদ্ভাবনের দিকে যাব।’
ঢাকায় কোন ধরনের এয়ার পিউরিফায়ার বসছে
এয়ার পিউরিফায়ার ক্ষুদ্র ধূলিকণা, জীবাণু ও দূষণ সৃষ্টিকারী গ্যাসীয় পদার্থ শোষণ করে বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে। যন্ত্রগুলোতে সাধারণত ফিল্টার, কার্বন ফিল্টার বা ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এয়ার পিউরিফায়ারের বড় আকারের ইউনিটগুলো নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বায়ু শোধনে সক্ষম হলেও এগুলোর প্রভাব মূলত সীমিত এলাকাজুড়ে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, এইচডিসিটি ৫১০০০ মডেলের ৫০টি স্থির বায়ু পরিশোধন যন্ত্র বসানো হবে রাজধানীতে, যা প্রতি মিনিটে ৩০ হাজার ঘনফুট বায়ু পরিশোধন করতে পারবে। যন্ত্রটি বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশোধন করতে সক্ষম বলে যন্ত্র বিবরণী থেকে জানা গেছে।
একেকটি যন্ত্রের ওজন ১ হাজার ৫০০ কিলোগ্রাম, যা গড়পড়তা একটি টয়োটা করোলা গাড়ির সমান। যন্ত্রটি চালাতে ২২০ ভোল্ট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, অর্থাৎ এটি বাসাবাড়িতে চালানো ফ্রিজ বা ওয়াশিং মেশিনের মতো ভোল্টেজে চলবে।
যন্ত্রটির বিবরণীতে বলা হয়েছে, এটি উচ্চ জনসমাগম এলাকাগুলোর জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা অনুযায়ী, এটি বাতাসে অতিক্ষুদ্র কণার উপস্থিতির স্তর স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
যন্ত্রটি যানবাহন ও শিল্প খাতের ধোঁয়াসহ সিগারেটের মতো ক্ষতিকর ধোঁয়া বাতাস থেকে টেনে নিতে সক্ষম।
ঢাকার বায়ুমান
ঢাকার বায়ুমানের সূচক বা একিউআইয়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গত ২২ এপ্রিল কিছু তথ্য প্রকাশ করে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। কেন্দ্র জানায়, রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষ গত ৯ বছরে (৩ হাজার ১১৪ দিনের হিসাব) মাত্র ৩১ দিন নির্মল বাতাসে শ্বাস নিতে পেরেছেন।
এ সময়ে ৮৫৩ দিনের বাতাস ছিল অস্বাস্থ্যকর। আর খুব অস্বাস্থ্যকর ও দুর্যোগপূর্ণ ছিল যথাক্রমে ৬৩৫ দিন ও ৯৩ দিন। ক্যাপস জানায়, দেশে প্রতিবছরই বায়ুদূষণ আগের চেয়ে বাড়ছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২৪’ বলছে, বায়ুদূষণে ওই বছর দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর নগর হিসেবে তৃতীয় স্থানে ছিল ঢাকা।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন
বায়ুদূষণ নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলছেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এ ধরনের পিউরিফায়ার স্থাপন করে সামগ্রিক বায়ুমানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনা কঠিন। বায়ুদূষণ রোধে স্বীকৃত উপায়গুলোর মধ্যে এয়ার পিউরিফায়ার নেই। এটি ছোট পরিসরে সাময়িক স্বস্তি পেতে পরীক্ষামূলকভাবে বসানো যেতে পারে।
দূষণ ঠেকাতে এয়ার পিউরিফায়ার স্থাপন কার্যকর পদক্ষেপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বায়ুদূষণবিষয়ক গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বড় দেশগুলোও এয়ার পিউরিফায়ার স্থাপনের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্প নিয়ে খুব একটা সফল হতে পারেনি। হয়তো প্রাথমিকভাবে বেসরকারি কোম্পানি ব্যয় বহন করছে, তবে একটা সময় আমাদের এগুলো কিনতে হবে। সেদিকে না গিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে দূষণের উৎস খুঁজে বের করে সেগুলো বন্ধ করতে।’
একই কথা বলেন বেসরকারি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘মাঠপর্যায়ে এখনো এয়ার পিউরিফায়ার টেকসই সমাধান নয়। কিছু জনপরিসরে এটি পরীক্ষামূলক একটি পদক্ষেপ হতে পারে। তবে বড় সমস্যা সমাধানের পথ নয়।’
অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, দেশের অর্থসামাজিক ও পরিবেশগত দিক বিবেচনায় এয়ার পিউরিফায়ার এখনো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট। যে দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বাতাস সেবন করছে, সে দেশে এয়ার পিউরিফায়ারকে আলাদা করে প্রমোট (উৎসাহিত) করার বিষয়টি ন্যায্যতার ঘাটতি ও বৈষম্যও বটে।
‘তবে নগর প্রশাসন বায়ুদূষণ নিয়ে ভাবছে, সমাধানের পথ খুঁজছে, বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি,’ যোগ করেন কামরুজ্জামান।
সফল হয়নি দিল্লির স্মগ টাওয়ার প্রকল্প
বিশ্বে বিভিন্ন শহরে বড় আকারের এয়ার পিউরিফায়ার স্থাপন করে দেখা গেছে, এগুলোর প্রভাব মূলত স্থানীয় পর্যায়ের ও সীমিত। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে দিল্লির কনট প্লেসে স্থাপন করা হয় ২৪ মিটার উচ্চতার একটি স্মগ টাওয়ার। এটি ৫০ মিটারের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বায়ুদূষণ কমাতে সক্ষম হলেও ৩০০ মিটারের বাইরে এর প্রভাব ছিল না বললেই চলে।
২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দিল্লির পরীক্ষামূলক স্মগ টাওয়ার বায়ুদূষণ হ্রাসে কার্যকর নয় বলে মত দেয় দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি। একই সঙ্গে ব্যয়বহুল বিশাল এয়ার পিউরিফায়ার চালানোর যৌক্তিকতা নেই বলেও দেশটির জাতীয় পরিবেশ আদালতকে জানায় সংস্থাটি।
এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, সে সময় সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, স্মগ টাওয়ার বায়ুদূষণ সমস্যার কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়।
টেকসই সমাধান কী
এত আলোচনার পরও বায়ুদূষণ বন্ধ হয় না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ‘সমাধান আসে না। কারণ, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কথা বেশি বলি, কিন্তু কাজ করি কম। বায়ুদূষণ না কমার কারণ এটাই। শীতকালে যখন দূষণ বেড়ে যায়, তখন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি করা হয়, টাস্কফোর্স করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো আর নেওয়া হয় না।’
বায়ুদূষণ মোকাবিলায় মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরামর্শ দেন এই গবেষক। কার্যকর সমাধানগুলোর মধ্যে রয়েছে—পুরোনো ও কালো ধোঁয়া ছাড়ানো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ; নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ; অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা; সবুজায়ন ও নগর–পরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ এবং বায়ুর গুণমান মনিটরিং স্টেশন স্থাপন করে দূষণের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ।
![]() |
| বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত জনজীবন। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
May
(344)
-
▼
May 02
(10)
- অবৈধ নির্বাচনের ‘বৈধ’ মেয়রগণ by সোহরাব হাসান
- পাকিস্তানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কত?
- ‘বাচ্চাটি যাবে না, ম্যাডাম’: ভারত-পাকিস্তান সীমান্...
- ‘আজ যদি কাজ না করি, আমাগোরে আর কাজে লইবো না’ by নো...
- কাশ্মীরে ভূমি রাজনীতি যেভাবে সংঘাত উসকে দিচ্ছে by ...
- কমলার অভিযোগ: আধুনিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইতিহাসে...
- কাশ্মীর হামলা: ভারত কীভাবে পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে...
- কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মন্...
- ভারতের হামলার আশঙ্কায় পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে...
- ঢাকায় ৫০টি জায়গায় বসছে ‘এয়ার পিউরিফায়ার’, কতটা ক...
-
▼
May 02
(10)
-
▼
May
(344)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









