Tuesday, July 21, 2015
রেলওয়ের দুর্দশা ও মন্ত্রীর গলাবাজি by মইনুল ইসলাম
তাহলে আমরা রেলওয়ের যে অগ্রযাত্রার কাহিনি শুনতে পাচ্ছি, সেটা কি শুধুই গলাবাজি? ২০১৫ সালের জানুয়ারি-মার্চের বিএনপি-জামায়াতের নাশকতামূলক তাণ্ডবের জের কি এখনো চলছে রেলওয়েতে? নাকি রেলমন্ত্রীর অদক্ষতা ও নেতৃত্বের দুর্বলতা রেলের দুর্দশাকে আরও শোচনীয় করে তুলছে? সৈয়দ আবুল হোসেনের অযোগ্যতা ও খামখেয়ালিপনা ২০০৯-১২ পর্বে শেখ হাসিনার সরকারকে যে মহাবিপদে ফেলে দিয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। মন্ত্রিত্ব কারও আবদার মেটানোর জন্য বা কাউকে কৃপা বিতরণের জন্য প্রদত্ত হলে পুরো জাতিই বিপদে পড়ে যায়।
রেল মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী শুরু থেকেই ইমেজ–সংকটে পড়েছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তিনি দৃঢ়ভাবে রেল মন্ত্রণালয়ের হাল ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ শেখ হাসিনা রেলওয়েকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার প্রদানের ঘোষণা দিয়ে চলেছেন!
অতীতেও বেশ কয়েকবার লিখেছি যে এ দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে রেলওয়ে ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে যোগাযোগকে অবহেলা করে সড়কযোগাযোগকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব প্রদানের নীতি মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ। রেলওয়ে ও নৌ-যোগাযোগের মতো পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার পরিবর্তে আমাদের নীতি প্রণেতারা এখনো কেন সড়কযোগাযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছেন তা বোধগম্য নয়। বাংলাদেশের মতো নদীমাতৃক একটা দেশে নৌ-যোগাযোগ যে এখনো অবহেলিত ও অনুন্নত রয়ে গেছে, সেটা একজন অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে আমি কোনোমতে মানতে পারি না। অনেকেই হয়তো জানে না যে যত্রতত্র অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণের কারণেই সারা দেশের নগর ও গ্রামগুলোতে পানি নিষ্কাশন বিপর্যস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা তীব্র হয়ে উঠছে এবং নদ-নদী ও খাল-নালাগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এটাও হয়তো অনেকের অজানা যে প্রতি বর্গকিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হিসাবে বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সড়কপথ রয়েছে (বেশির ভাগই অবশ্য কাঁচা রাস্তা)। এটা আমাদের অপরিকল্পিত উন্নয়ন-প্রক্রিয়ার প্রতিফলন। যে দেশের ওপর দিয়ে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা রিভার সিস্টেমের মতো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার ২৩০টি বড় নদ-নদী এবং সাত শতাধিক খালের নেটওয়ার্ক প্রবাহিত, সে দেশে সড়কযোগাযোগকে অগ্রাধিকার প্রদানের নীতি যে কত বড় আহাম্মকি, তা নীতি প্রণেতারা এখনো উপলব্ধি করতে পারছেন না! নদ-নদী-খালের এই নেটওয়ার্ক আমাদের জন্য আল্লাহ তাআলার নেয়ামত, কিন্তু আমাদেরই ভুলে ওগুলোকে ভরাট করে ফেলে নানা রকম পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনছি। ওগুলোর নাব্যতা বজায় রাখতে পারলে বন্যার সঙ্গে আমাদের সহাবস্থান যেমন অর্জিত হবে, তেমনি নৌপরিবহনের আধুনিক ও স্বল্পব্যয়ী নেটওয়ার্কও সহজলভ্য হবে।
এর পরের অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত রেলযোগাযোগ। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমলে এ দেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল প্রধানত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চা-বাগানগুলোর উৎপাদিত চা রপ্তানি সহজ করার স্বার্থে। সে জন্য ২১৩ মাইল দীর্ঘ চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলপথটি আখাউড়া পর্যন্ত গিয়ে ৬৩ মাইল ঘুরপথ দিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে। আবার দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ ঢাকায় না এসে কলকাতায় চলে গেছে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের ৬৮ বছর পার হয়ে গেলেও কোনো সরকার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ৬৮ মাইল ঘুরপথ বাদ দিয়ে লাকসাম বা কুমিল্লা থেকে দাউদকান্দি ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত রেলপথকে মাত্র ১৫০ মাইলে নামিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি আজও শুরু করতে পারেনি। অথচ লাকসাম-ঢাকা কর্ডলাইন নামে খ্যাত একটি প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়ে রয়েছে প্রায় ৩৫ বছর আগে। কিছুদিন আগে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক কুমিল্লা-ঢাকা রেলপথ নির্মাণ কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে বলে ঘোষণা করেছেন। আশা করি, অতীতের মতো এবার আর ফাঁকা বুলি আওড়াননি মন্ত্রী মহোদয়। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে দেশের রেল–যোগাযোগব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হবে। (লাকসাম-আখাউড়া ডাবল লাইন প্রকল্প তখন আর গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না।) নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের রেল–যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হবে। ঢাকা নগরের মেট্রোরেল পাতাল রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হলে এ দুটি রেল নেটওয়ার্ক একটা আধুনিক যুগে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে। একটা ব্যাপার খুবই দুঃখজনক যে ২০০৮ সালের পর চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলপথে নতুন কোনো যাত্রী বগি সংযুক্ত হয়নি। শোনা যাচ্ছে, এবারের ঈদুল ফিতরের আগেই দেশে প্রায় ৩০০ নতুন বগি আমদানি করা হবে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব নতুন ট্রেন চালু করার অঙ্গীকার কবে বাস্তবায়িত হয় সে জন্য। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথটি ডুয়াল গেজ কেন করা হলো না, সে প্রশ্নটিও এ পর্যায়ে সামনে চলে আসা উচিত। রেলওয়ের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এখন এতখানি অগ্রসর হয়েছে যে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে শুধু মিটারগেজ ট্রেন চালাতে হবে এমন ধারণা অচল হয়ে গেছে। ব্রডগেজ ট্রেন এখন চট্টগ্রাম ও সিলেটে যেতে পারবে। সারা দেশকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ–সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করার ব্যাপারটিও আমাদের চিন্তায় রাখা উচিত।
রেলযোগাযোগ ও নৌ–যোগাযোগব্যবস্থা শুধু যে পরিবেশবান্ধব তা নয়, এগুলোকে দরিদ্রবান্ধব পরিবহনব্যবস্থাও বলা হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিচারেও সড়ক পরিবহনের চেয়ে রেলপথ উত্তম। আমাদের প্রতিবেশী ভারতের ট্রেনগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ যাঁদের হয়েছে, তাঁরা ঠিকই উপলব্ধি করবেন, তারা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্কটিকে কতখানি সহজলভ্য ও আরামদায়ক করে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। ভারতে গেলে আফসোসের অন্ত থাকে না আমাদের দেশের রেলওয়ের দুর্দশা দেখে। ব্রিটেনের মানুষ পারতপক্ষে সড়কপথে ভ্রমণ করে না, তাদের রেলযোগাযোগের স্বল্প ব্যয় ও আরামপ্রদ ব্যবস্থার কারণে। ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের এই অবদানটিকে প্রশংসনীয় মনে করেছেন ঐতিহাসিকেরা।
আমাদের দুর্ভাগ্য যে পাকিস্তান আমলে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানিরা নব্য ঔপনিবেশিক শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানের রেলব্যবস্থা বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছর পেরিয়ে এসেও এই বিপর্যয় কাটাতে যথাসম্ভব প্রয়াস নিতে আমরা গাফিলতি করছি কেন? মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, বর্তমান সরকার নতুন কোনো সড়ক নির্মাণকে আর অগ্রাধিকার দেবে না। এটা যদি সরকারের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে সরকারকে সাধুবাদ জানাই। এবার অনুগ্রহ করে রেলওয়ে ও নৌপরিবহনের উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হোক। বিশেষত রেলওয়ে ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ তুলনামূলকভাবে সহজসাধ্য। তাই এবারের উন্নয়ন বাজেটে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে রেলওয়েকে বেছে নিন। প্রয়োজনে এই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গতিশীলতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করুন। ট্রেনে ভ্রমণ এখনো দেশের অধিকাংশ মানুষের বেশি পছন্দনীয়। কিন্তু ট্রেনের টিকিট নিয়ে কালোবাজারিদের যে মচ্ছব, তা বহু দিন আগেই অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে এখন সড়কপথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। (আমি নীতিগতভাবে কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট কিনি না।) এবার বহু দিন পর ট্রেনের টিকিট পেয়েছিলাম। কিন্তু যে যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা হলো, তার আশু অবসান চাই। রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীরও।
ড. মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কী এক অবিশ্বাস ওভার মুস্তাফিজের!
![]() |
| ভেঙে গেল ডি ককের প্রতিরোধ। ছবি: শামসুল হক |
আজও চমকে দিলেন। প্রথমে টানা ১৩ ওভার উইকেটশূন্য থেকে। সেই তিনিই এক ওভারে তুলে নিলেন ৩ উইকেট! ৭৮ বলের অপেক্ষা শেষে ১৪তম ওভারের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানালেন হাশিম আমলাকে। পরের বলটা সুইং করল। জেপি ডুমিনি লাইন মিস করলেন। বল লাগল প্যাডে। জোরালো এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া দিলেন না আম্পায়ার। রিভিউ নিল বাংলাদেশ দল। এলবিডব্লুর আবেদনের বিরুদ্ধে রিভিউ নিলে সম্ভাবনার হার কম থাকে। কিন্তু হক আইতে যা দেখা গেল, তাতে আম্পায়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে পারলেন না।
পর পর দুই বলে দুই উইকেট। টেস্ট অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের সামনে মুস্তাফিজ! টেস্ট ইতিহাসে অভিষেকে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড মাত তিনজনের—মরিস অ্যালম, পিটার পেথেরিক ও ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের। সেই তালিকায় নাম উঠবে তো মুস্তাফিজের? অলক কাপালি আর সোহাগ গাজীর পাশে উঠবে তাঁর নাম?
তৃতীয় বলটাও দারুণ হলো। কিন্তু হ্যাটট্রিক বলটা কোনো মতে ঠেকিয়ে দিলেন ডি কক। অবশ্য চূড়ান্ত সর্বনাশ ঠেকাতে পারলেন না। এক বল পরেই ককের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দিলেন মুস্তাফিজ। কেবল স্টাম্প উড়ছিল না, উড়ছিল গোটা দলই!
এ দফা হ্যাটট্রিক না হলেও রেকর্ড বইয়ের আরেকটি অধ্যায়ে নাম লিখিয়েছেন মুস্তাফিজ। টেস্ট ইতিহাসে চার বলে তিন উইকেট নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে মোট ৩৭ বার। এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন মুস্তাফিজ। আর সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছে ১৮ বছর আগে। ১৯৯৭ সালে ফয়সালাবাদ টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রোটিয়া পেসার শন পোলক পেয়েছিলেন চার বলে তিন উইকেট।
কী এক অবিশ্বাস্য ওভারটাই না করলেন!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালেদার দল পুনর্গঠন এখনো ‘বাত কা বাত’? by রিয়াদুল করিম
অবশ্য সূত্রগুলো এ-ও বলছে যে, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এখন দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। তবে তা কখন থেকে শুরু হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। মির্জা ফখরুলসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা কারাগারে থাকায় এত দিন কাজ শুরু হয়নি। মির্জা ফখরুলের মুক্তিতে এখন অনেকে আশাবাদী। কিন্তু তিনি চিকিৎসার জন্য এ মাসের শেষ সপ্তাহে বিদেশ যাবেন। তাঁর ফিরতে কত দিন লাগবে তা নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে এখনো পলাতক। পরিস্থিতি আরও ‘স্বাভাবিক’ না হলে দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা কঠিন হবে। তবে ঈদের ছুটি শেষে যত দ্রুত সম্ভব বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন শুরু করা হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, দল পুনর্গঠনের বিষয়টি এখনো ‘বাত কা বাত’ পর্যায়ে আছে। কোনো কাঠামো দাঁড়ায়নি। পুনর্গঠন নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু কীভাবে দল পুনর্গঠন হবে তা নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধোঁয়াশা আছে। তিনি জানান, সর্বশেষ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে খালেদা জিয়া দল গোছানোর কথা বলেছেন। কিন্তু তাতে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। এ নিয়ে বেশি আলোচনাও হয়নি। ওই নেতার মতে, দুই দফায় টানা আন্দোলন সফল না হওয়া আর হামলা-মামলার ঘটনায় নেতা-কর্মীরা চরম হতাশ। এখন আবার আন্দোলনে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও নেই। এ অবস্থায় দল গোছানোর কথা বলে নেতা-কর্মীদের চাঙা রাখা যায়। তবে তিনি মনে করেন, আসলেই দল পুনর্গঠন করা জরুরি এবং বিএনপির চেয়ারপারসন তা শুরু করবেন। তার আগে দলীয় ফোরামে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এখন দল গোছানোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যোগ্য লোকদের যোগ্য জায়গায় নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে আন্দোলন সফল হবে। পুনর্গঠন নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবও মুক্তি পেয়েছেন। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন।
এর আগে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনের পর গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, দল গুছিয়ে তাঁরা আবার আন্দোলন শুরু করবেন। তাঁর ওই বক্তব্যের দুই মাস পর এপ্রিলে গিয়ে পঞ্চগড়, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, নওগাঁ, সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম উত্তর, ময়মনসিংহ উত্তরসহ বেশ কয়েকটি জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। ১৮ জুলাই ঘোষণা করা হয় ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি। এ ছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি (আংশিক) ও শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরেও এসব কমিটির প্রায় কোনটিই পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। দুমাসের মধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির সব ওয়ার্ড, থানা কমিটি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আহ্বায়ক কমিটিকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি ওয়ার্ড কমিটিও ঘোষণা করতে পারেনি তারা।
ওই সময় দল পুনর্গঠন শেষ না করেই চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে আবার লাগাতার হরতাল-অবরোধের ডাক দেয় বিএনপি। তবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে অবরোধ-হরতাল সারা দেশে অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে টানা তিন মাসের আন্দোলনে ছেদ টেনে হঠাৎ ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। এখন আবার দল গোছানোর দিকে দলটি মনোযোগ দিচ্ছে। এর আগে আন্দোলনে ব্যর্থতার অভিযোগে ঢাকা মহানগরে খোকা-সালাম কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন কমিটিকেও আন্দোলনে মাঠে দেখা যায়নি। ঢাকায় এবারও বিএনপি কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন দলের নেতারা। তাই পুনর্গঠন আসলে কতটুকু কার্যকর তা নিয়ে দলের অনেকের প্রশ্ন আছে।
বিএনপি মনে করছে, এখন সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন। কারণ, টানা তিন মাসের আন্দোলনে নেতা-কর্মীরা ক্লান্ত। হাজার হাজার নেতা-কর্মী মামলার আসামি, অনেকে কারাগারে, অনেকে পলাতক। চলছে বর্ষা মৌসুম। সব মিলিয়ে এ সময়টিতে বড় কিছু না হলে বিএনপি রাজপথের আন্দোলনে যেতে চায় না। বরং এ সময় সংগঠনকে কিছুটা গোছানোর চেষ্টা করবে দলটি। দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কিছু খোঁজখবর করছেন। অক্টোবর নাগাদ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করা যায় কি না ভাবা হচ্ছে। এবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ওপরে আরেকটি কমিটি করা যায় কি না, তা চিন্তাভাবনা চলছে। দলীয় নেতাদের পাশাপাশি সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, কিন্তু বিএনপিমনা ও গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এই কমিটি করার চিন্তা আছে। তবে এমনটি করতে হলে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে হবে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপিকে দুই ভাগে ভাগ করারও চিন্তা আছে। তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলীয় ফোরামে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শুধু ঘর পোড়েনি, পুড়েছে স্বপ্নও by একরামুল হুদা
রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় আজ সোমবার আগুনে পুড়ে যাওয়া টিনশেড ঘরগুলোর একটিতে থাকতেন দানা মিয়া। দানা মিয়ার মতো পুড়েছে আরও অনেকের সংসার। অনেকের স্বপ্ন। আজ বেলা পৌনে একটার দিকে প্রগতি সরণির ডিআইটির উল্টোদিকে ওসমান গণির বস্তি নামে পরিচিত ওই বস্তিতে আগুন লাগে। ওসমান গণির ছোট ভাই বাড্ডা আলাতুন্নেসা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক। তিনি বলেন, তাঁদের পাঁচ ভাইয়ের মোট ১০টি টিনশেড বাড়ি ছিল। বাঁশ, কাঠ ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি প্রতিটি বাড়িই দুই থেকে তিন তলা। বাড়ি ১০টিতে মোট ৭০০ থেকে ৮০০ পরিবার বাস করত। আজকের আগুনে ১০টি টিনশেডের ছয়টিই ছাই হয়ে গেছে। বাকিগুলোও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বস্তির বাসিন্দা একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মচারী মাজেদা বেগম কয়েক দিন আগে ২৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। স্বামী রুহুল আমিন ভ্যান চালান। এক সন্তান তাঁদের। আগুন লাগার কথা শুনে ঘরের বাইরে বের হন। তখনো জানতেন না তাঁদের ওখানেই আগুন লেগেছে। পরে আর ঘরে ঢুকতে পারেননি। আগুনে পুড়ে গেছে সব। তিনি বলেন, ‘মাত্রই সংসারডা গুছাইয়া আনছিলাম। এখন সব শেষ হয়ে গেল। সবাই ঈদে দেশে গেছে গা। আমরা খালি দুই ঘর ছিলাম। দেশে গেলে টাকা পয়সা নিতাম। এখন সেগুলোও পুইড়া গেছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফুচকা তৈরির একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত। প্রথমে হালকা আগুন লাগলেও হঠাৎ করেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের ছুটিতে অনেকেই বাড়িতে চলে যাওয়ায় প্রায় সব ঘরই তালাবদ্ধ ছিল। তবে নুরজাহান, সুফিয়া, শিউলি, ফাতেমা বেগম, আজাদসহ অনেকেই প্রথম আলোকে বলেছেন, তাঁরা বাসায় থাকলেও ঘরের কোনো জিনিস বের করে আনতে পারেননি।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়, ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করে। সোয়া দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বিকেল পাঁচটার সময় আগুন নেভানোর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কাজ করছিল রেড ক্রিসেন্টের ২৫ সদস্যের একটি দল। রেড ক্রিসেন্টের ডেপুটি ইয়ুথ চিফ আনিসুর রহমান বলেন, বিকেল চারটা পর্যন্ত তাঁরা কমপক্ষে ৩০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। এর মধ্যে অনেকের শরীরের বিভিন্ন জায়গা আগুনের আঁচে পুড়ে গেছে আবার টিনে আঘাতে কোথাও কোথাও কেটে গেছে।
আগুনে যাঁদের ঘর পুড়েছে ক্ষতি শুধু তাঁদেরই হয়েছে তা নয়। যাদের ঘর পোড়েনি, ক্ষতি হয়েছে তাঁদেরও। তেমনই একজন মরিয়ম। মরিয়মের বাড়ি নান্দাইলে। ঈদের বন্ধে বাড়িতে গিয়েছেন তিনি। পারভিন নামের এক নারীর বাড়িতে কাজ করেন মরিয়ম। আগুন লাগার খবর শুনে পারভিন মরিয়মের ঘরের খবর নিতে এসে দেখেন মরিয়মের ঘরের দরজা জানালা ভাঙা। ঘরের ভেতর কোনো মালামাল নেই। পরে ফোনে মরিয়মের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন মরিয়মের ঘরে প্রায় সাত হাজারের মতো টাকা ও স্বর্ণের কানের দুল ছিল। এখন নেই এর কিছুই। পারভিন বলেন, ‘শুনলাম, প্রত্যেক ঘরেই চুরি হইছে। কেউ আগুন নেভাতে ব্যস্ত ছিল, আর কেউ মালামাল লুটে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গ্রিসের ঋণ পরিশোধ শুরু
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৫৪ বছর পর খুলল দূতাবাস
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে এল তিন সিরিজ জয় by তারেক মাহমুদ
রসিকতাকে রসিকতার মধ্যে রাখাই ভালো। তবে বাস্তবতাও কি এর চেয়ে খুব বেশি ভিন্ন? পাকিস্তান, ভারতের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকেও ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে বাংলাদেশ তো আসলেই নিজেদের মাঠে হুংকার ছাড়ল! কী এমন জাদুমন্ত্র লুকিয়ে আছে এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে? বাংলাদেশে এসে কেন সবাইকেই বিদায় নিতে হচ্ছে লেজ গুটিয়ে? তিন সিরিজে বাংলাদেশ দলকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে সেটাই খুঁজে বের করতে চেয়েছেন তারেক মাহমুদ

পাকিস্তান: লক্ষ্যই ছিল সিরিজ জয়
বিশ্বকাপের পর পরই হলো পাকিস্তান সিরিজ। একে তো দেশের মাটিতে খেলা, তার ওপর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে আসার আত্মবিশ্বাসও তখন সঙ্গী। বড় কিছুর স্বপ্ন তাই চলেই আসছিল। স্বপ্নের পরিধি বাড়িয়ে দিল পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ দল। কাউকে বাদ দেওয়া হলো, কেউ নিলেন অবসর। বাংলাদেশের সামনে খুলে গেল সম্ভাবনার দরজা। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ভাষায়, ‘বিশ্বাস ছিল, পাকিস্তানকে অন্তত দুটি ওয়ানডেতে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।’
দুটি নয়, একে একে তিনটি ওয়ানডেই জিতে গেল বাংলাদেশ! কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার মন্ত্র যেন দলের শিরায় বইয়ে দিল আত্মবিশ্বাসের তাজা স্রোত। একেক দলের বিপক্ষে ‘রণকৌশল’ একেক রকম হতেই পারে। তবে পাকিস্তান সিরিজের সাফল্যে একটা বিশেষ প্রতিজ্ঞা ভর করল দলের মধ্যে, খেলতে হবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। ‘এই একটা জায়গায় আমরা কোনো সিরিজেই আপস করিনি। অনেক সমালোচনার পরও আট ব্যাটসম্যান খেলানোর পরিকল্পনায় অটল ছিলাম। দলের জন্য যেটা ভালো মনে করেছি সেটাই করেছি’—বলেছেন অধিনায়ক
ভারত: এগিয়ে দিল প্রথম জয়টাই
ভারতকে অনভিজ্ঞ পাকিস্তানের মতো সহজ ভাবার কারণ ছিল না। তবু জয়ের ধারা থেকে এই সিরিজেও সরতে চায়নি বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল অন্তত একটি হলেও ম্যাচ জেতার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরের সিরিজেও জয়ের অভ্যাসটা সঙ্গী থাকে তাহলে। কিন্তু প্রথম ওয়ানডেতেই সেই কাঙ্ক্ষিত জয় এসে যাবে, তা কে ভেবেছিল! ওই এক জয় পুরো সিরিজের চিত্রনাট্যই বদলে দিল।
ভারত সিরিজে চমক ছিলেন তরুণ বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। অধিনায়ক মাশরাফির দৃষ্টিতে যিনি একাই গড়ে দিয়েছেন ব্যবধান, ‘মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার পর থেকেই মনে হচ্ছিল আমরা কিছু একটা করতে পারব।’
সেই ‘কিছু একটা’ শেষ পর্যন্ত গিয়ে থামল সিরিজ জয়ে। কিন্তু শেষ ম্যাচে এ কোন বাংলাদেশ? টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই হোক, কিংবা আত্মতৃপ্তি বা অন্য কিছু; জয়ের ধারাবাহিকতা শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ধরে রাখা গেল না। সিরিজ শেষে মাশরাফি অবশ্য বলেছেন, ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করার যে প্রত্যাশা ভর করেছিল দলের ওপর, কাল হয়েছে সেটাই। ভয়ডরহীন ক্রিকেটের পাশাপাশি ‘নির্ভার ক্রিকেট’ খেলার স্লোগানও উচ্চারিত হয় এই সিরিজের পর।
দ. আফ্রিকা : সবচেয়ে বড় সাফল্য
পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে এক মাসের মধ্যে দুটি সিরিজ জয় প্রত্যাশার সীমায় নিয়ে আসে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও। প্রথমে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য সিরিজের শুরু অস্বস্তি দিয়ে। তারপরও ভারত সিরিজের মতো প্রথম ম্যাচটিকেই পাখির চোখ করে বাংলাদেশ। যেভাবেই হোক জিততে হবে এই ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে জিতলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত সিরিজে থাকা যায়।
তবে এবার হলো না। হার দিয়ে শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ। সেই হার উসকে দেয় সমালোচনার বিষবাষ্প। তাহলে কি পুরোনো দিনে ফিরে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট? শেষ হয়ে গেল সাফল্যের মধুচন্দ্রিমা!
না, আহত বাঘ শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ে। মাশরাফির দলও পিছু হটল না। ঢাকায় পরের ম্যাচেই সমতা এনে চট্টগ্রামে হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়ের উৎসব করল বাংলাদেশ। মাশরাফির দৃষ্টিতে তো তিন সিরিজ জয়ের মধ্যে এটাই সবচেয়ে এগিয়ে, ‘আমরা আমাদের আসল চেহারাটা দেখিয়েছি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ওদের মতো দলের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হেরেও ২-১-এ সিরিজ জয় বিরাট সাফল্য। আমাদের ক্রিকেটের জন্যই অন্য রকম পাওয়া এটা।’
সিরিজ জয়ের ঝা-চকচকে সব ট্রফিতে ভরে উঠেছে বিসিবির শোকেস। তবে ট্রফি নয়, তিন সিরিজে তিন রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও শেষ হাসি হাসতে পারাটাই বোধ হয় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বাংলাদেশের। প্রথম সিরিজে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেওয়ার পরও ভারতের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের চাপ নিতে না পারা আরেকবার তাদের সামর্থ্যকে দাঁড় করিয়েছিল আত্মোপলব্ধির আয়নার সামনে। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে বাংলাদেশ করে দেখিয়েছে আসল কাজটা, যা এত দিন অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো দলের কাছেই দেখেছে সবাই। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পেশাদার দলের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হেরেও ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জেতা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক মাইলফলক।
মাশরাফির দৃষ্টিতে অবশ্য এটাই পেশাদারি। বড় দল হয়ে ওঠার লক্ষণ, ‘আপনি যখন সব সময় জিততে থাকবেন তখন জেতাটা সহজ হয়ে যায়। যেকোনো দলের বিপক্ষেই তখন ছন্দে থাকবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়টা এখানেই আলাদা।’ তাঁর হিসাবে, তিন সিরিজেই ৯০ শতাংশ পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পেরেছে বাংলাদেশ। সাফল্যের আসল রহস্য লুকিয়ে এখানেই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পরীক্ষা এবার টেস্টের by ইশতিয়াক পারভেজ
এর আগে ওয়ানডেতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে একটি জয় ছিল ২০০৭ সালে। ৮ বছর পর দুই ম্যাচ জিতেছে টাইগররা ইতিহাস পরিবর্তন করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত টেস্টে সেই জয় এমনকি কোন ড্রও নেই র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা এই দলটির বিপক্ষে। ২০০২ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৮ বারের দেখা হার হার হার ছাড়া কিছু পায়নি টাইগাররা। এমনকি প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টেস্টে দেশের সর্বাাধক রান করা পাঁচ ব্যাটসম্যান হাবিবুল বাশার (৩০১), জুনায়েদ সিদ্দিক (২১১), মো. আশরাফুল, জাবেদ ওমর ও আল শাহরিয়ার রোকন দলে নেই। তবে তাদের পরই চার টেস্টে ১৪৫ রান করা মুশফিকুর রহীম আছেন দলের নেতৃত্বে। সেই সঙ্গে বল হাতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সর্বাধিক ১৫ উইকেট শিকারী শাহাদাত হোসেন রাজীব ও ১২ উইকেট নেয়া মো. রফিকও দলে নেই। তবে ১২ উইকেট নেয়া সাকিব আল হাসান আছেন দলে। বলা চলে দলের দুই ভরসা এখন সাকিব ও মুশফিক। অন্যদিকে দেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল এই পর্যন্ত প্রোটিয়াদের বিপক্ষে চারটি টেস্ট খেললেও রান মাত্র ১০৩। নেই কোন সেঞ্চুরি এমনকি ফিফটিও। অন্যদিকে দুই ওপেনার ইমরুল কায়েসের দুই টেস্টে মাত্র ২৫ রান। তবে এই সব পরিসখ্যান এখন প্রোটিয়াদের স্বস্তি দিতে পারবে না।
দলে আছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুমিনুল হক সৌরভের মত ব্যাটিং ভরসা। আছেন লিটন কুমার দাস ও সৌম্য সরকারদের প্রতিভার ঝড়। অধিনায়কের কিপিং গ্লাভস এবারও থাকছে লিটন দাসের হাতেই জানিয়েছেন মুশফিকই। শুধু তাই নয় এই ম্যাচে দলের সব চেয়ে বড় চমক হতে পারেন তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত অভিষেকের পর ওয়ানডে অভিষেকে ইতিহাসের জন্ম দেন। এবার টেস্ট অভিষেকে কি হবে? তা কাল মাঠে নামার আগে প্রোটিয়াদের জন্য রহস্যই হয়ে থাকবে। মুস্তাফিজের অভিষেকের বিষয়ে মুশফিক বলেন, ‘কোচ যা বললেন ও (মুস্তাফিজ) শুধু এই ফরম্যাটে না যে কোন ধরনের ক্রিকেটে ভাল করতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ও ভাল করেছে। বড় দৈর্ঘ্যর ম্যাচেও কিন্তু ভাল করেছে। ওদের ব্যাটিং লাইনআপের নতুন চার-পঁচজন এসেছে তারা কিন্তু কেউ মুস্তাফিজকে দেখেনি বা খেলে নাই। আমরা যদি ওকে খেলাই অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না, আর সেটা ওর প্রাপ্যই হবে।’ তবে এই ম্যাচে এক পেসার নয় দ্বিতীয় পেসার হিসেবে থাকতে পারেন রুবেল হোসেন। অন্যদিকে স্পিনে সাকিবের সঙ্গে যোগ দিবেন আরেক স্পেশালিস্ট স্পিনার তাইজুলও। আর স্পিন শক্তি বাড়াতে হয়তো এই ম্যাচে দেখা যেতে পারে একমাত্র লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনকেও। তবে অধিনায়ক টিম কম্বিনেশন ঠিক করেবন মাঠের উইকেট আর আবহাওয়া দেখেই। তাই স্পিনার বেশি খেলবেন নাকি পেসার তা সেটির উপরই নির্ভর করছে। কারণ বদলে গেছে বাংলাদেশ দল। তবে টানা বৃষ্টি পাতে মুশফিকুর রহীম অবশ্য বেশি চিন্তিতো অবশ্য টস নিয়ে। এই কন্ডিশনে দুই দলের জন্য টসে জয়ই হবে এগিয়ে যাওয়ার বড় পুঁজি।
অন্যদিকে হাশিম আমলার নেতৃত্বে ওয়ানডে সিরিজ হেরে ঘোর বিপদেই আছে প্রোটিয়ারা। তাই বলে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা দল খুব ভয়ে আছে তা নয়। দলে পাঁচ জন নতুন ক্রিকেটার থাকলেও নিজেদের ও বাংলাদেশের টেস্ট খেলার সামর্থের কথা খুব ভালভাবে জানেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক। সেই সঙ্গে দলে ফিরেছেন বাংলাদেশকে পাত্তা না দেয়া বিশ্বের সেরা পেসার ডেইল স্টেন। আছেন অভিজ্ঞ ফ্যাফ ডু প্লেসি, জেপি ডুমিনি, ডি. কক ও অ্যারন ফাঙ্গিসো। যারা ব্যাট-বল হাতে যে কোন সময় হয়ে উঠতে পারেন ভয়ঙ্কর।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুই কারণে বাজার চড়া
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
July
(1347)
-
▼
Jul 21
(9)
- রেলওয়ের দুর্দশা ও মন্ত্রীর গলাবাজি by মইনুল ইসলাম
- কী এক অবিশ্বাস ওভার মুস্তাফিজের!
- খালেদার দল পুনর্গঠন এখনো ‘বাত কা বাত’? by রিয়াদুল...
- শুধু ঘর পোড়েনি, পুড়েছে স্বপ্নও by একরামুল হুদা
- গ্রিসের ঋণ পরিশোধ শুরু
- ৫৪ বছর পর খুলল দূতাবাস
- যেভাবে এল তিন সিরিজ জয় by তারেক মাহমুদ
- পরীক্ষা এবার টেস্টের by ইশতিয়াক পারভেজ
- দুই কারণে বাজার চড়া
-
▼
Jul 21
(9)
-
▼
July
(1347)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






