Showing posts with label কালবেলা. Show all posts
Showing posts with label কালবেলা. Show all posts

Wednesday, August 26, 2026

মহাসাগরগুলোতে এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

বিশ্বের মহাসাগরগুলো আগস্ট মাসে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ দৈনিক তাপমাত্রায় পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট মেরু অঞ্চল বাদে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে। ইউরোনিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।

এটি ২০২৪ সালের মার্চে রেকর্ড হওয়া ২১ দশমিক ০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগের সর্বোচ্চ দৈনিক তাপমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে আগস্ট মাসের আগের রেকর্ড ২০ দশমিক ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৩ সালে রেকর্ড হয়েছিল, সেটিও ভেঙে গেছে।

সাধারণত দক্ষিণ গোলার্ধের গ্রীষ্মের প্রভাবে মার্চ ও এপ্রিল মাসে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে থাকে। কিন্তু এবার আগস্টে এসে নতুন রেকর্ড হওয়ায় বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রে অতিরিক্ত তাপ যোগ হচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু এল নিনো দিয়ে এই রেকর্ড তাপমাত্রার ব্যাখ্যা করা যায় না। কয়েক দশক ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনও সমুদ্রের দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণতার বড় কারণ।

পরিবেশবিজ্ঞানী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণ সমুদ্র সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ঝুঁকি ও তীব্রতা বাড়ায়। এতে প্রবালপ্রাচীর, সামুদ্রিক ঘাস ও অন্যান্য সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রজাতি নতুন এলাকায় চলে যাওয়ায় মৎস্য ও জলজ চাষও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

কোপার্নিকাসের তথ্য বলছে, ১৯৯০-এর দশকের শুরুর তুলনায় বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।

সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির আরেকটি বড় প্রভাব হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। পানি উত্তপ্ত হলে তা প্রসারিত হয়, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে। পাশাপাশি উষ্ণ সমুদ্র বায়ুমণ্ডলে বেশি তাপ ও জলীয়বাষ্প সরবরাহ করতে পারে, যা কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও ঝড়ের তীব্রতা বাড়াতে পারে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের একটি বড় অংশ সমুদ্র শোষণ করে। কিন্তু পানি যত উষ্ণ হয়, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের সক্ষমতা তত কমে। ফলে পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক কার্বন শোষক হিসেবে সমুদ্রের ভূমিকা ভবিষ্যতে দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: ইউরোনিউজ

সমুদ্রের তাপমাত্রা দিনে দিনে বাড়ছে। ছবি: এপি
সমুদ্রের তাপমাত্রা দিনে দিনে বাড়ছে। ছবি: এপি

হরমুজ প্রণালিতে ছয় মাসে ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত

৬৮ জাহাজে হামলাঃ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় অন্তত ৬৮টি নৌযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৫ জন। একজন এখনো নিখোঁজ। ইরাকি সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৬ দিনে একটি করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রায় অর্ধেকই ছিল তেলবাহী জাহাজকে ঘিরে। কনটেইনারবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয় ২০ শতাংশ ঘটনায় এবং বাল্ক ক্যারিয়ার ১৫ শতাংশ ঘটনায়।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও ৬৮টি ঘটনার মধ্যে ৪৭টিকে হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ঘটনাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ। এসব দেশের পতাকাবাহী ১৩টি জাহাজ বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়েছে। পানামা ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ১০টি করে জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইরানের পতাকাবাহী চারটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত ও নৌ-হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় মুখ খুলল চীন ও কাতার

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে চীন ও কাতার। দুই দেশই বলেছে, একতরফা নিষেধাজ্ঞা সংকটের সমাধান নয়; বরং কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন। ইরাকি সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো একতরফা নিষেধাজ্ঞা চীন সমর্থন করে না। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বেইজিং নিজের বৈধ স্বার্থ রক্ষা করবে।

চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রথম দফায় বড় কোনো চীনা ব্যাংককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে কাতারও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কাতার এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা আরও বাড়লে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, পুরো বিশ্বেই পড়বে।

গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরান এবং দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ানো।

এই পদক্ষেপের আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ, তেল খাত ও অন্যান্য নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৬০ জন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান পরিবহন ও নৌপরিবহন খাতেও সম্ভাব্য গৌণ নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ বা কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবে, ভবিষ্যতে তারা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারাতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে।

এদিকে ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, চীন, রাশিয়াসহ ইরানের মিত্র দেশগুলো ওয়াশিংটনের এই চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

অন্যদিকে পাকিস্তানও সমান্তরালভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানে পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বৈঠকের পর দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালি আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

আইআরজিসির পাহাড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে। ছবি : এএফপি
আইআরজিসির পাহাড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে। ছবি : এএফপি > হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। এসব জাহাজকে জরিমানা, আটক এমনকি জব্দও করা হতে পারে। খবর রয়টার্সের। সোমবার (২৪ আগস্ট) পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থা না মানা জাহাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। ফলে ইরানের এ হুঁশিয়ারিতে এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজের মালিক ও ভাড়াকারীদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। প্রণালিটি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ইরান সম্প্রতি পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ নামে নতুন একটি সংস্থা গঠন করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরসংক্রান্ত যাত্রার ক্ষেত্রে নিয়ম না মানা হিসেবে চিহ্নিত জাহাজগুলোর হালনাগাদ তালিকা অনুসরণ করতে হবে পণ্য মালিকদের।

Monday, August 24, 2026

মার্কিন কোম্পানিগুলোয় হামলার হুমকি দিল ইরান

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে বাধ্য করতে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করলে মার্কিন কোম্পানিগুলোয় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়ি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা যদি ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক যুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে তাদেরও শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তাদের স্বার্থে আঘাত হানা হবে।

বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রায় ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’ আরোপ করা হবে। এর পর শনিবার রেজায়ি দাবি করেন, যুদ্ধে ইরানের হাতে এখনো অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা শুধু সামরিক ঘাঁটিগুলোয় হামলা চালিয়েছি। কিন্তু তারা যদি আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের আশপাশে এবং অন্যান্য জায়গায় রয়েছে। আমরা সেগুলোয় হামলা চালাব।’

ট্রাম্প তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ভূমিকম্পের মতো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন রেজায়ি।

কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রথম ইরান মার্কিন ও পশ্চিমা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দিল বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির তেল কোম্পানিগুলোর কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, ইরানি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা সাইবার হামলা চালিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এর আগে বুধবার ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, যেসব দেশ ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেবে, তাদের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন এবং মিত্র দেশগুলোকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ইরান অবশ্য কোন কোন মার্কিন প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা হামলার লক্ষ্য হতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বড় ধরনের বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর ফেব্রুয়ারিতে ইরান বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের কয়েকটি তথ্যকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়েছিল তারা। তবে সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনার বাইরে মার্কিন স্বার্থে বড় ধরনের হামলা থেকে এত দিন তেহরান বিরত ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর ওপর হামলার আশঙ্কা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে।

ইরান এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র এবং সৌদি আরবের আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।

শনিবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়িও মার্কিন বিমান ও জ্বালানি পরিবহনকারী ট্যাংকারকে আশ্রয় দেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, পরে হামলার শিকার হলে তারা যেন অভিযোগ না করে। এমনকি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ শেষ করতে চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। শনিবার তিনি দাবি করেন, বিশ্ব ইতোমধ্যে ইরানের বিজয় মেনে নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ঘৃণিত হয়ে পড়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চালু থাকলেও তাতে তেহরানকে নত করা সম্ভব হয়নি। নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করার চেষ্টা তাই কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

তেহরানের জমহুরি সড়কের পাশে একটি বিশাল মার্কিন-বিরোধী বিলবোর্ড। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ
তেহরানের জমহুরি সড়কের পাশে একটি বিশাল মার্কিন-বিরোধী বিলবোর্ড। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ

সামরিক দিক থেকে তুরস্ক এত শক্তিশালী হলো কীভাবে

তুরস্ক এখন শুধু ন্যাটোর বড় সামরিক শক্তি নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলেও নিজেদের সামরিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। দেশটির হাতে বিপুলসংখ্যক সেনা, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন রয়েছে। একই সঙ্গে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পও দ্রুত শক্তিশালী করছে আঙ্কারা।

২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, তুরস্কের সক্রিয় সেনাসদস্য প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার। এর সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার রিজার্ভ সেনা এবং দেড় লাখের মতো আধাসামরিক সদস্য রয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

স্থলবাহিনী তুরস্কের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দেশটির কাছে প্রায় ২ হাজার ২৮৪টি ট্যাংক এবং প্রায় ৯৮ হাজার বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে এক হাজারের বেশি স্বচালিত কামান, ৬৩৫টি টানা কামান এবং ২৩৭টি রকেট লঞ্চার।

আকাশপথেও তুরস্কের শক্তি বড়। দেশটির সামরিক বহরে প্রায় ১ হাজার ১০১টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১টি যুদ্ধবিমান, ৮৪টি পরিবহন বিমান, ৩০১টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ৫০৯টি হেলিকপ্টার রয়েছে। তুরস্কের যুদ্ধবিমান বহরের মূল শক্তি এখনো এফ-১৬। পাশাপাশি নিজেদের তৈরি কেএএএন যুদ্ধবিমানও উন্নয়ন করছে দেশটি।

তবে তুরস্কের সামরিক শক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো ড্রোন। দেশটির বায়কার কোম্পানির তৈরি বায়রাকতার টিবি-২ বিশ্বের পরিচিত সামরিক ড্রোনগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। তুরস্ক এখন বিভিন্ন দেশে এসব ড্রোন রপ্তানিও করছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

নৌবাহিনীতেও তুরস্কের বড় উপস্থিতি রয়েছে। দেশটির নৌবহরে প্রায় ১৯২টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ফ্রিগেট, ৯টি করভেট এবং ১৪টি সাবমেরিন। কৃষ্ণসাগর, এজিয়ান সাগর ও ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের নৌবাহিনী সক্রিয়। বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালির নিয়ন্ত্রণও দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

তুরস্ক এখন নিজের অস্ত্র নিজেই তৈরির দিকে এগোচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বর্তমানে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি কোম্পানি কাজ করছে এবং প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। দুই দশক আগে যেখানে স্থানীয়ভাবে তৈরি সামরিক সরঞ্জামের অংশ ছিল প্রায় ২০ শতাংশ, এখন তা ৮৫ শতাংশের বেশি বলে তুরস্কের সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তুরস্কের সামরিক শক্তির পেছনে ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থান করার পাশাপাশি দেশটির সীমান্ত রয়েছে সিরিয়া, ইরাক, ইরান, জর্জিয়া ও বুলগেরিয়ার সঙ্গে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ককেশাস, বলকান ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কের সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। তুরস্ক বহু বছর ধরে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে এবং সিরিয়া ও ইরাকের উত্তরাঞ্চলেও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও সামরিক প্রযুক্তির সুবিধাও পাচ্ছে দেশটি।

তবে শুধু ট্যাংক, বিমান বা যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা দিয়ে কোনো দেশের সামরিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। এসব অস্ত্রের কতগুলো কার্যকর, আধুনিক যুদ্ধে কতটা সক্ষম এবং বিভিন্ন বাহিনী কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: ওয়াইনেট নিউজ

ছবি: এপি
ছবি: এপি

ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দিলে তিন ধাপে ব্যবস্থা নেবে তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ কোনো দেশ যোগ দিলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা শত্রু হিসেবে বিবেচিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভূমিকম্পসম’ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তেহরান তিনটি ধাপ অনুসরণ করবে।

গত শনিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব রেজাই এ হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বিশ্বের সব দেশ, বিশেষ করে ইরানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানান। রেজাই বলেন, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে অংশ নিলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান।

ইরানের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে কোনো প্রতিবেশী দেশ যুক্ত হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ‘এক ফোঁটা তেলও’ বের হতে দেওয়া হবে না। এমনকি হরমুজ প্রণালির বিকল্প রপ্তানি পথও এর আওতায় আসতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তিন ধাপে পাল্টা ব্যবস্থা

ইরানের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কৌশল তিন ধাপে এগোবে বলে জানিয়েছেন রেজাই। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে তেহরান।

তিনি বলেন, প্রথমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে আসার আহ্বান জানানো হবে। তারা এতে সাড়া না দিলে পরবর্তী ধাপে হামলা চালিয়ে ওই দেশের স্বার্থে আঘাত করা হবে।

রেজাইয়ের বক্তব্যে বিকল্প রপ্তানি পথের কথা উল্লেখ করায় বিশ্লেষকদের ধারণা, এর মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। লোহিত সাগরে প্রবেশের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ এবং এর ওপর আরোপিত অবরোধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে, যার ফলে দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ক্লিঙ্গেনডেল ইনস্টিটিউটের ইরানবিষয়ক গবেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, তেহরান আগেভাগেই প্রতিরোধমূলক বার্তা দিতে চাইছে। তার ভাষ্য, কোনো সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতিকেও ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

আজিজির মতে, ইরানের নতুন সামরিক কৌশলে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি হলো সম্ভাব্য হুমকি বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া। অন্যটি হলো হামলা হলে তার চেয়ে বেশি মাত্রায় পাল্টা আঘাত করে প্রতিপক্ষের জন্য ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া।

তার ভাষায়, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দিলে ইরানের হুঁশিয়ারি মূলত একটি ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’। ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো আরও এক দফা সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন।

চাপে উপসাগরীয় দেশগুলো

ইরানের প্রতিবেশী এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলো এই সংঘাতের কারণে ক্রমেই কঠিন অবস্থার মুখে পড়ছে। তারা একদিকে ইরানের হামলার নিন্দা করছে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি নষ্ট করতেও চাইছে না।

কারণ ভৌগোলিক বাস্তবতায় ইরানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিও হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তেল ও গ্যাস রপ্তানির বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিচালিত হয়।

গত সপ্তাহে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলে সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে ওই হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইরান। এর আগে ২০২২ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়েছিল।

অন্যদিকে চীনের মধ্যস্থতায় ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি করে। স্থায়ী সংঘাতের চেয়ে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখাই নিরাপদ, এমন হিসাব থেকেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সাইমন মাবন বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। ইরানের সঙ্গে তাদের পাশাপাশি বসবাস ও কাজ করতেই হবে।

তার মতে, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন হলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে, উপসাগরীয় দেশগুলো তা চায় না। বরং তারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কট্টরপন্থী অংশকে দুর্বল করতে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে থাকতে পারে।

কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, সংকট সমাধানে কূটনীতির ওপর আস্থা কম থাকলেও এ অঞ্চলের কোনো দেশই আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ব্যয় বহন করতে পারবে না।

তার মতে, এই বাস্তবতাই সংঘাতকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া থেকে ঠেকাবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তেল মজুতের পরিমাণও কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কারও জন্যই আকর্ষণীয় নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি

ইরানের হুঁশিয়ারির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়বে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ‘ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দেন। ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা বা ‘লাইফলাইন’ দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পরদিন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই সুরে বলেন, ‘আপনি হয় আমাদের সঙ্গে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’

ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা চীনের প্রতিও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনে থাকে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রোববার বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণমাত্রার অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধে’ রয়েছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ধারণা করেছিল, মার্কিন হামলার মুখে ইরানের সরকার ভেঙে পড়বে এবং দেশটি ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতিতে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং ইরানের প্রতিরোধ, সংহতি ও ঐক্য বিশ্বকে বিস্মিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

কয়েক দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে ইরান। জাতিসংঘও বিভিন্ন সময়ে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ইরানি বিপ্লবের পর মার্কিন দূতাবাসে মার্কিন নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ এবং দেশটির প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি পণ্য আমদানিও নিষিদ্ধ করা হয়।

১৯৯৫ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ইরানের তেল ও গ্যাস খাতে মার্কিন বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরের বছর মার্কিন কংগ্রেস এমন আইন পাস করে, যাতে ইরানের জ্বালানি খাতে বছরে ২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রাখা হয়।

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপকরণ ও প্রযুক্তি বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদও জব্দ করা হয়। পরবর্তী বছরগুলোয় জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

২০১৫ সালে ইরান যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) সই করে। চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ছিল।

তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর আবারও সব নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনেন। তেহরানের বিরুদ্ধে শুরু করেন ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি।

২০১৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা খাত এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

২০২০ সালে বাগদাদে ড্রোন হামলায় আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জো বাইডেনের প্রশাসনও ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অধিকাংশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে।

গত সেপ্টেম্বরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাও পুনর্বহাল করা হয়। এর ফলে দীর্ঘ কয়েক দশকের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বর্তমান সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা।

এ পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য নতুন করে বড় ধরনের কৌশলগত চাপ তৈরি করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কতটা অর্থনৈতিকভাবে যুক্ত হবে এবং একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা ধরে রাখবে, সেটিই এখন আঞ্চলিক উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সূত্র: আল জাজিরা

ছবি: আলজাজিরা থেকে নেওয়া।
ছবি: আল জাজিরা থেকে নেওয়া।

উত্তেজনা প্রশমনে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মোসাদপ্রধানের বৈঠক

সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ হিসেবে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান রোমান গোফম্যান।

অ্যাক্সিওসের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, রোববার (২৩ আগস্ট) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি কোথায় হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার পর সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমাতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে দামেস্ককে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সিরিয়া ওই সতর্কবার্তায় সাড়া না দেওয়ায় হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে জেরুজালেম।

এই হামলার পর সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক এবং তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও ইসরায়েলের হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন।

বৈঠকের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় অ্যাক্সিওসের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্রের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-শাইবানি বলেন, আমরা বর্তমানে ইসরায়েলকে বিশ্বাস করি না।

ইসরায়েল গত সপ্তাহে সিরিয়ার আবু আল দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলেও জানান তিনি।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দামেস্ক আশা করছে শিগগিরই আলোচনা আবার শুরু হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে, যাতে তারা আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে।

ইসরায়েল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে বলেও অভিযোগ করেন আল শাইবানি। তার দাবি, এ ধরনের শক্তি প্রয়োগে ইসরায়েল সফল হয়নি।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

আসাদ আল শাইবানি ও রোমান গোফম্যান। ছবি : গেটি ইমেজেস
আসাদ আল শাইবানি ও রোমান গোফম্যান। ছবি : গেটি ইমেজেস

Sunday, August 23, 2026

গাজা থেকে উড়ে আসা ঘুড়ির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইসরায়েলের

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে উড়ে আসা ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনায় সেনাবাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনে গাজা থেকে ওড়ানো অন্তত চারটি ঘুড়ি ইসরায়েলের নাহাল ওজ কিবুতসে গিয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঘুড়িগুলোতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি এবং এতে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকিও ছিল না।

তবে দক্ষিণ ইসরায়েলে অতীতে গাজা থেকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘুড়ি ও বেলুনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় আগুন লাগানোর অভিযোগও রয়েছে।

এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, পশ্চিম নেগেভের ইসরায়েলি বসতিগুলোর দিকে গাজা থেকে যেকোনো ধরনের উড্ডয়ন বা নিক্ষেপের ঘটনা মোকাবিলায় আমি সেনাবাহিনীকে অবিলম্বে ও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, গাজা থেকে যেকোনো কিছু পাঠানোর ঘটনাকে তিনি সব দিক থেকেই যুদ্ধের কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন এবং ইসরায়েলি বসতিগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কাটজ আরও বলেন, বেলুনকে ঘুড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হবে, আর ঘুড়িকে ড্রোন হিসেবে; এর সঙ্গে বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এ ধরনের কিছু আয়োজন, উৎক্ষেপণ বা এতে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে এবং সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০১৮ সাল থেকে গাজার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এসবের কারণে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতি ও বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

গাজা থেকে উড়ে আসা একটি ঘুড়ি হাতে নিয়ে দেখছেন ইসরায়েলি সেনা। ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া
গাজা থেকে উড়ে আসা একটি ঘুড়ি হাতে নিয়ে দেখছেন ইসরায়েলি সেনা। ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া

তুরস্কের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলা ইসরায়েলের

তুরস্ক সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে এমন এক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করছে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। গোয়েন্দাদের এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সিরিয়ার আবু আল দুহুর বিমানঘাঁটিতে গত সপ্তাহে হামলার সুপারিশ করেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ দাবি করেছেন। খবর আল জাজিরার।

কাটজ বলেন, হামলার অনুমোদন দেওয়ার আগে সিরিয়া সরকারকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্ক করেছিল ইসরায়েল। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হয়। তবে সিরিয়ার পক্ষ থেকে ইসরায়েলের দাবির বিষয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ার পর হামলা চালানো হয়।

যদিও ইসরায়েলের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার আগে বা হামলার সময় আবু আল দুহুর ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক প্রতিনিধি দল ছিল না।

সিরিয়াও জানিয়েছে, আবু আল দুহুরে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য তুরস্কের কর্মকর্তারা ওই স্থাপনা পরিদর্শন করেছিলেন।

গত ১৮ আগস্ট উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ওই বিমানঘাঁটিতে আট দফা বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলায় বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও অস্ত্র-সরঞ্জাম সংরক্ষণের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক ইসরায়েলের এই হামলাকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তুরস্ক, ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়াতে একটি সমন্বয়ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে কাজ করছে তারা।

তবে ব্যারাকের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন কাটজ। তার দাবি, ব্যারাকের প্রতিক্রিয়ায় অনেক ভুল তথ্য রয়েছে এবং গোলান মালভূমি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গেও তার কিছু বক্তব্য সাংঘর্ষিক।

সূত্র : আল জাজিরা

সিরিয়ার আবু আল দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে প্রহরারত একজন সিরীয় সৈন্য। ছবি: এএফপি
সিরিয়ার আবু আল দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে প্রহরারত একজন সিরীয় সৈন্য। ছবি: এএফপি

গাজায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি রোগীর জরুরি ওষুধ প্রয়োজন

গাজা উপত্যকায় ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি রোগীর জরুরি ওষুধ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্যালেস্টিনিয়ান মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির পরিচালক মোহাম্মদ আবু আফাশ। শনিবার তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে আল জাজিরা।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আবু আফাশ বলেন, গাজায় বিপুলসংখ্যক রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে যে পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশ করছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম।

আবু আফাশ সতর্ক করে বলেন, গাজা উপত্যকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসাসহায়তা প্রবেশ না করলে সেখানকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানো না হলে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। খোদ দখলদার বাহিনীও তা স্বীকার করে নিচ্ছে। যেমন, গাজার নুসেইরাত এলাকায় বুধবার (১৯ আগস্ট) চালানো এক হামলায় হামাসের এক সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

বাহিনীটি দাবি করে, নিহত ব্যক্তির নাম সাবাহি সামি মাহমুদ শাহাতা। তিনি হামাসের সামরিক শাখার একজন প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন।

ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগ, শাহাতা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলিদের আটক করে রাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে বন্দিদের মুক্তি ও তাদের রেডক্রসের কাছে হস্তান্তরের সময় আয়োজিত হস্তান্তর অনুষ্ঠানেও শাহাতা অংশ নিয়েছিলেন।

সূত্র: আল জাজিরা

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার একটি এলাকা। পুরোনো ছবি
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার একটি এলাকা। পুরোনো ছবি

ত্রিপোলি পতনের ১৫ বছর পরও লিবিয়া ছাড়ছে মেধাবীরা

২০১১ সালে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পতনের মধ্য দিয়ে মুয়াম্মার গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনের অবসানের পথ তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার ১৫ বছর পরও দেশটির তরুণ ও দক্ষ পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এতে শুধু দক্ষ জনশক্তিই হারাচ্ছে না, ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের মানুষের আশাবাদও কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

৩২ বছর বয়সী স্থপতি সারাহ মিজরান ত্রিপোলির পতনের সময় কিশোরী ছিলেন। আট বছর আগে তিনি শহরটি ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পাশাপাশি তিনি টেকসই স্থাপত্য নিয়ে কাজ করছেন। ত্রিপোলির বিভিন্ন স্থাপনা নিয়েও গবেষণা করছেন তিনি।

মিজরান বলেন, তরুণ পেশাজীবীরা দেশ ছাড়লে লিবিয়া শুধু দক্ষতাই হারায় না, সম্ভাবনার ভিত্তিও হারায়। একটি প্রজন্ম যদি মনে করে ভবিষ্যৎ গড়তে হলে দেশ ছাড়তেই হবে, তাহলে নিজের দেশ নিয়েও তাদের আশা কমে যায়।

২৪ বছর বয়সে বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান মিজরান। সেখানে তাকে ভিন্ন পেশাগত সংস্কৃতি ও কাজের ধরন সম্পর্কে নতুন করে শিখতে হয়েছে।

তবে মিজরান একা নন। লিবিয়ার আরও বহু তরুণ পেশাজীবী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছেন।

৩৬ বছর বয়সী নাদের এলগাদি ২০১৪ সালের শেষ দিকে ত্রিপোলিতে নিজের একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন। ওই সময় লিবিয়ার দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় তীব্র লড়াই ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনিও স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে যান।

পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও অধিকারকর্মীদের ওপর হুমকি বাড়তে থাকায় তিনি যুক্তরাজ্যেই থেকে যান। এলগাদি বলেন, লিবিয়ায় নিজের ব্যবসা চালিয়ে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন করা থেকে যুক্তরাজ্যে এসে তাকে শূন্য থেকে জীবন শুরু করতে হয়েছে। প্রথম দুই বছর তার জন্য খুব কঠিন ছিল।

২০১৮ সালে এলগাদি ‘লিবিয়া ইন দ্য ইউকে’ নামে একটি সাংস্কৃতিক দাতব্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। লিবীয় প্রবাসীদের নিয়ে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে তারা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত লিবিয়া সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

ত্রিপোলির পতনের ১৫ বছর পর মিজরান ও এলগাদি দুজনই যুক্তরাজ্যকে নিজেদের ঘর হিসেবে দেখছেন। তবে লিবিয়ার প্রতি তাদের টান এখনো রয়েছে।

মিজরান বলেন, ঘর এমন কিছু নয়, যা একবার খুঁজে পেলেই চিরদিনের জন্য পাওয়া যায়। বরং এটি বারবার নতুন করে তৈরি করতে হয়।

এলগাদি নিজেকে এখন একজন ‘যাযাবর’ হিসেবে দেখেন। স্থায়ীভাবে লিবিয়ায় ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশাও আর করেন না। তবে তার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এখনো লিবিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে।

দক্ষ জনশক্তি বিদেশে চলে যাওয়ায় লিবিয়ার শাসনব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে কতটা ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে অবশ্য মতভেদ রয়েছে।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের ভিজিটিং ফেলো তারেক মেগেরিসি বলেন, লিবিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এখনো কয়েক হাজার দক্ষ ও কারিগরিভাবে যোগ্য মানুষ কাজ করছেন। তবে তাদের অনেকেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারণে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

তার মতে, ২০১১ সালের বিপ্লবের পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। বিপ্লবের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক লিবীয় দেশে ফিরেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেক দক্ষ তরুণ পেশাজীবীও ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক পদে থাকা অনেকেই নিজেদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তুলনায় বেশি প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। শেষ পর্যন্ত তাদের অনেকে গাদ্দাফি সরকারের মতোই আচরণ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মেগেরিসির মতে, দুর্নীতিও দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ২০১১ সালের পর বেড়ে ওঠা উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ দেশ ছাড়তে চাইছে।

তিনি বলেন, লিবিয়ায় যদি সত্যিকারের, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে বিদেশে থাকা এই দক্ষ জনশক্তি খুব দ্রুত দেশে ফিরে আসবে।

তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিআরআই মেনাসের সহযোগী টবি চিতায়াত মনে করেন, লিবিয়ার মেধাপাচারের প্রভাব নিয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তার মতে, পূর্ব ও পশ্চিমে দেশটির বিভক্তি, অস্থিতিশীল তেল রাজস্ব এবং ব্যাপক দুর্নীতির তুলনায় দক্ষ জনশক্তি বিদেশে চলে যাওয়ার প্রভাব দেশটির শাসনব্যবস্থা বা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর তুলনামূলকভাবে কম।

তবে তিনিও মনে করেন, লিবিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের পুনঃসম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি।

সূত্র : আল জাজিরা

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। ছবি : গেটি ইমেজেস
লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। ছবি : গেটি ইমেজেস

২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের শিকার ২০ হাজারের বেশি সদস্য

২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ২০ হাজারের বেশি সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। তবে আগের বছরের তুলনায় যৌন নিপীড়নের সরকারি অভিযোগ ও সম্ভাব্য মোট ঘটনার সংখ্যা দুটিই কমেছে। খবর এবিসি নিউজের।

শুক্রবার প্রকাশিত পেন্টাগনের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যৌন নিপীড়নের প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে প্রতি দুই বছর পরপর পরিচালিত একটি বেনামি জরিপের তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ অর্থবছরে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারী সামরিক সদস্যদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের শিকার হওয়ার হার কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রেও এ হার কমেছে। ২০২৩ সালে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা পুরুষদের ১ দশমিক ৩ শতাংশ অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তা কমে ১ শতাংশে নেমেছে।

এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের প্রবণতা কমার তথ্য পাওয়া গেল। ২০২১ সালে নারী সদস্যদের মধ্যে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুরুষদের মধ্যে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের ৭ হাজার ৯৯৮টি সরকারি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ভুক্তভোগী কিংবা অভিযুক্ত ছিলেন।

২০২৪ সালে সরকারি অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৯৫টি এবং ২০২৩ সালে ছিল ৮ হাজার ৫১৫টি।

তবে অভিযোগ জানানোর হার বেড়েছে। ২০২৩ সালে যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ শতাংশ সরকারি অভিযোগ করেছিলেন। ২০২৫ সালে এই হার বেড়ে ৩৩ শতাংশ হয়েছে।

পেন্টাগন এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কারণ যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিরা যাতে নির্ভয়ে অভিযোগ করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, সেটিই তারা নিশ্চিত করতে চায়।

পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সামরিক সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮৪৩ জন সরকারি অভিযোগ করেছেন।

পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের আরও বেশি অভিযোগ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তা পেতে পারেন এবং অপরাধীদের যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মী ও প্রস্তুতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে টাটা বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মূল্যবোধ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি এসব মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আস্থা নষ্ট করে এবং সামরিক অভিযানের সক্ষমতার জন্য হুমকি তৈরি করে।

কংগ্রেসের নির্দেশে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। অতীতে সাধারণত বসন্তে এ প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হলেও এবার অনলাইনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে পেন্টাগন।

সূত্র : এবিসি নিউজ

প্রাথমিক প্রশিক্ষণের সময় নারী মেরিন সদস্যরা মার্শাল আর্টের ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। ছবি : নিউইয়র্ক টাইমস
প্রাথমিক প্রশিক্ষণের সময় নারী মেরিন সদস্যরা মার্শাল আর্টের ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। ছবি : নিউইয়র্ক টাইমস

কসোভোয় গণকবরের সন্ধান, মিলল ২৩ জনের দেহাবশেষ

কসোভোয় নতুন করে গণকবরের সন্ধান মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৯৯০-এর দশকের জাতিগত সংঘাতের সময় নিহতদের লাশ সেখানে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এমন তিনটি স্থান খুঁড়ে অন্তত ২৩ জনের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় সময় বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশটির প্রসিকিউটর, পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তারা জানান, ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটের দলগুলো অন্তত ২৩ ব্যক্তির কঙ্কালসদৃশ দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কসোভো যুদ্ধে স্বাধীনতাকামী জাতিগত আলবেনীয় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সার্বীয় বাহিনীর সংঘর্ষে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ নিহত এবং ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। পরবর্তী কয়েক দশকে বিভিন্ন গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেলেও এখনও প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষের কোনো সন্ধান মেলেনি।

দেশটির উত্তরাঞ্চলের জুবিন পোটোক এলাকায় দুই সপ্তাহ আগে খননকাজ শুরু হয়। নিখোঁজ জাতিগত আলবেনীয়দের সন্ধানে চালানো এ অভিযানে পাওয়া দেহাবশেষগুলো ১৯৯৯ সালের বসন্তে মিত্রোভিৎসা শহর থেকে অপহরণ করে হত্যা করা ২৩ আলবেনীয়ের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কসোভোর ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি খননকাজ চলাকালে এ দাবি করেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চূড়ান্ত পরিচয় নিশ্চিত করতে সব দেহাবশেষ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

এ ঘটনায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্থানীয় তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগণের ওপর যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের সন্দেহে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটররা।

সূত্র: আল জাজিরা

গণকবরের স্থানে পুলিশের সতর্ক অবস্থান। ছবি: এএফপি
গণকবরের স্থানে পুলিশের সতর্ক অবস্থান। ছবি: এএফপি

Saturday, August 22, 2026

ইরানের বড় বাণিজ্য অংশীদার কারা?

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় বিচ্ছিন্ন করার হুমকি ট্রাম্পেরঃ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে সহায়তা করা যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এমন হুমকিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা কয়েকটি দেশ হলো :

চীন

ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীন। গত বছর ইরান থেকে গড়ে প্রতিদিন ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল কিনেছে চীন বলে জানিয়েছে জ্বালানি বাজারবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কেপলার। ইরানের রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীনে যায়।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চীনের কিছু স্বাধীন শোধনাগার দীর্ঘদিন ধরে ইরানের তেল কিনে আসছে। এসব লেনদেনে চীনা মুদ্রা ব্যবহার ও বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হয়।

এপ্রিল মাসে ইরানের তেল কেনার অভিযোগে একটি চীনা স্বাধীন শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল বাণিজ্যে সহায়তা করা চীনা ব্যাংকগুলোকেও ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সমস্যার সমাধান করবে না। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ, যার মূল্য প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার, এসেছে আমিরাত থেকে। একই বছরে ইরানের রপ্তানির ১৩ শতাংশের গন্তব্যও ছিল দেশটি।

২০২৪ সালে দুই দেশের তেলবহির্ভূত বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশই ছিল পুনঃরপ্তানি।

তবে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে আমিরাত।

তুরস্ক

ইরান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্ক ইরান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে এবং ইরানে বিভিন্ন শিল্পপণ্য রপ্তানি করে।

দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তুরস্কের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। তুরস্কের মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে ইরান থেকে।

ইরাক

ইরাকও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।

ইরান থেকে খাদ্যপণ্য, ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে ইরাক। তবে ২০২৬ সালে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য কমেছে।

ওমান

ইরানের সঙ্গে ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করেছে মাসকাট।

২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৫ মিলিয়ন ডলারে।

পাকিস্তান

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে পাকিস্তান। তবে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিলে ইসলামাবাদ চাপের মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সময় দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আদান-প্রদান হয় বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে তেল, গম, চাল, গবাদিপশু ও ওষুধের বাণিজ্য রয়েছে।

ভারত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২০ সাল থেকে ভারত-ইরান বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য যেখানে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার ছিল, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরও কমে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এর বড় অংশই ভারতের রপ্তানি, যার মধ্যে রয়েছে শস্য, চা, কফি ও মসলা।

ভারতীয় কর্মকর্তারা অতীতে এসব পণ্য রপ্তানিকে মানবিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

আর্মেনিয়া

২০২৫ সালে আর্মেনিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৭৬৮ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ইরানের সঙ্গে হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দুই দেশের বাণিজ্য ৩৭১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

ইরান-আর্মেনিয়ার মধ্যে ‘গ্যাসের বিনিময়ে বিদ্যুৎ’ চুক্তিও রয়েছে। ইরান আর্মেনিয়ায় গ্যাস সরবরাহ করে এবং এর বিনিময়ে আর্মেনিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

আজারবাইজান

চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ইরান ও আজারবাইজানের বাণিজ্য ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৯৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।

এ সময়ে ইরান থেকে আজারবাইজানের আমদানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২৯৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আজারবাইজানের ইরানে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।

ইরানের সঙ্গে এসব দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে শুধু তেহরান নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যাংক, তেল ব্যবসা ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স 

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ। ওমানের মুসান্দাম থেকে ড্রোনের সাহায্যে ছবিটি তুলেছে রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ। ওমানের মুসান্দাম থেকে ড্রোনের সাহায্যে ছবিটি তুলেছে রয়টার্স

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে ১৭ বছরের ফিলিস্তিনি নিহত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের গুলিতে ১৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) খিরবেত হামরুশ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম করিম সান্দ শালালদেহ। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। খবর আল জাজিরার।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বড় একটি দল খিরবেত হামরুশ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলায় একটি বাড়িতে আগুনও ধরে যায়।

হামলার সময় করিম শালালদাহের বুকে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার মৃত্যুর খবর জানায় ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

একই ঘটনায় ৭০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনিও গুলিতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওয়াফা।

এদিকে হেবরনের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি যানবাহন ও সরঞ্জামে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াফা।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, হেবরনের দক্ষিণে দেইর শামস এলাকায় একদল সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে পাথর ছুড়ে হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হন। এ সময় কয়েকটি ভেড়াও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

হামলাকারীরা ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় অধিকারকর্মী ওসামা মাখামরা ওয়াফাকে বলেন, বসতিস্থাপনকারীদের একটি দল মাসাফের ইয়াত্তার শা‘ব আল-বাতিম এলাকায় ইব্রাহিম আল-জাবারিনের বাড়িতে ঢুকে সম্পত্তি ভাঙচুর করে। পরে ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় প্রবেশ করে ইব্রাহিম আল-জাবারিন ও তার ছেলে জিবরিলকে গ্রেপ্তার করে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হেবরনের উত্তরে বেইত উম্মার শহরেও ইসরায়েলি সেনারা কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছেন, এসব হামলার সময় অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি বা সহায়তা থাকে।

সূত্র : আল জাজিরা 

নিহত করিম শালালদাহ। ছবি : আল কুদস ইউকে
নিহত করিম শালালদাহ। ছবি : আল কুদস ইউকে

Friday, August 21, 2026

বাঙালিকন্যাকে বিগ বসে আনতে মোটা অঙ্কের প্রস্তাব

আবারও পর্দায় ফিরছে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ‘বিগ বস’-এর ২০তম সিজন। বরাবরের মতো এবারও সঞ্চালনায় থাকবেন বলিউড ভাইজান সালমান খান। নতুন পর্বের প্রতিযোগীদের তালিকা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কারা থাকছেন এবার বিগ বসের ঘরে? সেই সম্ভাব্য তালিকায় এবার নাম উঠেছে ‘নাগিন’ খ্যাত অভিনেত্রী বাঙালিকন্যা মৌনী রায়ের। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

বিবিটকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বিগ বস ২০’-এ অংশ নেওয়ার জন্য মৌনী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন অনুষ্ঠানের নির্মাতারা। তাকে দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকের প্রস্তাব। এই লোভনীয় প্রস্তাবে মৌনী সম্মতি দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

এদিকে মৌনীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ কেউ মনে করছেন, মৌনীর মতো বড় তারকার ‘বিগ বস’-এ এলে অনুষ্ঠানটির আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেবে।

মৌনী ছাড়াও সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের তালিকায় মাহি ভিজ, গীতা বসরা, সুনীল পাল ও শোয়িক চক্রবর্তীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া এলনাজ নোরৌজি ও মেরি কমের সঙ্গেও নির্মাতারা যোগাযোগ করেছেন বলে খবর।

এদিকে সম্প্রতি বিগ বসের নতুন সিজনের প্রোমো প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ‘এক্সট্রা জীবন দান’ এবং সালমান খানের নিজস্ব ভঙ্গিতে ‘তথাস্তু’ শব্দটি ব্যবহার করে নতুন মৌসুমের বিশেষ চমকের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

‘বিগ বস ২০’ বিষয়ে সালমান খান জানিয়েছেন, এবার শুধু খেলা নয়, খেলার ধরনও বদলাবে। ‘জীবন দান’ শুনতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বিষয়টি ততটা সরল নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ‘টাইগার’ খ্যাত এই অভিনেতা।

কীভাবে আসন্ন ‘বিগ বস ২০’-এ জীবন দানের এই নতুন নিয়ম কাজ করবে, তা জানা যাবে অনুষ্ঠান শুরু হলে।

বাঙালিকন্যা মৌনী রায়। ছবি: সংগৃহীত
বাঙালিকন্যা মৌনী রায়। ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে বেশি ট্রল হওয়া মানুষ আমিই: রিয়া চক্রবর্তী

অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আকস্মিক প্রয়াণের পর চরম অর্থনৈতিক, আইনি ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী এবং তার পরিবারকে। আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি সিবিআই সুশান্তের মৃত্যু মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তাকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পার করে জনপ্রিয় ইউটিউব ব্লগে হাজির হয়ে জীবনের সেই চরম অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। এসময় রিয়া তার ভেতরে থাকা ক্ষোভ উগড়ে দিলেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, ২০২০ সালে মাদক সংক্রান্ত মামলায় রিয়া ও তার ভাই শৌভিককে গ্রেপ্তারের পর তাদের জীবন সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে যায়। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর চারপাশের মানুষ এবং গোটা সমাজ তাদের এমনভাবে বয়কট করেছিল যে, স্বাভাবিক জীবনে ফেরাই কঠিন হয়ে উঠেছিল। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল জীবন।

সামাজিক ট্রলিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার সময়ের কথা স্মরণ করে রিয়া আরও বলেন, ‘দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রল হওয়া মানুষ সম্ভবত আমিই। আপনারা সবাই জানেন এর পেছনে কী কারণ রয়েছে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, আমি সহজে কাউকে বিশ্বাস বা প্রভাব বিস্তার করতে দিই না।’

তবে সব ঝড়ঝাপ্টা ও সমাজের তীব্র সমালোচনা পেরিয়ে ভাই-বোন মিলে নিজেদের ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। বিনোদন জগৎ এবং করপোরেট জীবনের দরজা বন্ধ দেখে তারা নিজেদের উদ্যোগেই জীবনের ‘চ্যাপ্টার টু’ বা দ্বিতীয় অধ্যায় নামে একটি যৌথ চ্যাট শো শুরু করেন।

কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়ে তোলার পথটি রিয়া ও শৌভিকের জন্য মোটেই মসৃণ ছিল না। এ বিষয়ে রিয়া বলেন, এত কষ্টের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন আবার নতুন করে কোনো দুর্যোগের ভয় কাজ করে।

সমাজের কটূক্তি জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো যে কতটা কঠিন, বিনোদন জগতের এই খবরের আড়ালে থাকা সত্যিটি তা আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল।

সূত্র: পিটিসি পাঞ্জাব 

রিয়া চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত
রিয়া চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত

আমার এখনো বিয়ে হয়নি: পূজা চেরি

বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরি। তিনি জানিয়েছেন, তার বিয়ে এখনো হয়নি। বিয়ে সম্পন্ন হলে নিজেই তা প্রকাশ্যে সবাইকে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা বলেন পূজা চেরি।

বিবৃতিতে পূজা বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। কখনো অমুক পেশার কারও সঙ্গে, কখনো অন্য কারও সঙ্গে নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিউজ তৈরি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং দুঃখজনক।’

পূজা জানান, তিনি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে তিনি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবে তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে তিনি নিজেই আনন্দের সঙ্গে বিষয়টি প্রকাশ্যে জানাবেন বলেও জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলাম—আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।’

বর্তমানে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়ার পাশাপাশি নতুন কাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান পূজা। এ কারণেই তাকে ক্যামেরার সামনে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তথ্য যাচাই না করে বারবার তাকে জড়িয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘বারবার বলতে চাই, আমার এখনও বিয়ে হয়নি। যখন হবে, আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।’

নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সুনাম রক্ষার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে পূজা বলেন, ‘সবাইকে স্মরণে করিয়ে দিতে চাই, অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং কোনো নাগরিককে নিয়ে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪৩ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর ২৫ ধারার কথাও উল্লেখ করে ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে মিথ্যা, অপমানজনক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়ে সতর্ক করেন।

পূজা বলেন, তিনি সবসময় দর্শকদের ভালোবাসা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে সম্মান করে এসেছেন। তবে তার নীরবতাকে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হলে নিজের আইনি অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে পূজা চেরি অসত্য সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। 

পূজা চেরি। ছবি : ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া
পূজা চেরি। ছবি : ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া

ট্রাম্পের ‘ডান হাত’ কে এই নাটালি হার্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন নাটালি হার্প। ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এই সহযোগীকে প্রেসিডেন্টের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট টাইপ করা থেকে শুরু করে তার কাছে বিভিন্ন তথ্য পৌঁছে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হার্পের প্রভাব ও উপস্থিতি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী হার্প নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বক্তব্যের পর। ট্রাম্পের সমালোচনা করতে গিয়ে অসফ তার সঙ্গে হার্পের ভ্রমণের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি ট্রাম্পের ‘কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া উড়ন্ত প্রাসাদে’ হার্পকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণের কথা উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান এবং গত মাসে তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপনে বিমান পরিবর্তনের সময় হার্পের উপস্থিতির প্রতিবেদনের দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে হার্পের উপস্থিতি প্রায় সার্বক্ষণিক। ওভাল অফিসে ট্রাম্পের কয়েক ফুট দূরে কিংবা প্রেসিডেন্টের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সফরে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় প্রায়ই তাকে দেখা যায়।

 ট্রাম্পের কাছে কীভাবে ঘনিষ্ঠ হলেন হার্প

হার্পের হোয়াইট হাউসে আসার পথটিও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রক্ষণশীল খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা হার্প হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ পান।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পাস হওয়া ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের আওতায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন হার্প। প্রচলিত কেমোথেরাপি ব্যর্থ হওয়ার পর এই চিকিৎসা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হার্প ট্রাম্পকে তার জীবন রক্ষার কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেছিলেন, পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ না পেলে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে থাকতেই তার মৃত্যু হতে পারত। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বক্তব্যের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যেই হার্পের প্রশংসা করেন এবং তাকে টেলিভিশনের পর্দায় বিশেষভাবে নজরকাড়া একজন হিসেবে উল্লেখ করেন।

এরপর ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ম্যাগা আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন হার্প। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোর্ডেও যুক্ত হন তিনি।

ট্রাম্পের পরাজয়ের পরও ছাড়েননি সঙ্গ

২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর হার্প রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে (ওএএন) উপস্থাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন, এমন মিথ্যা দাবিরও প্রচার করেন।

২০২২ সালে ওএএন ছেড়ে আবার ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবিরে ফিরে আসেন হার্প। এরপর ট্রাম্পের পরবর্তী নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে তার আস্থাভাজনদের তালিকায় জায়গা করে নেন।

হার্প কতটা প্রভাবশালী?

হোয়াইট হাউসে হার্পের আনুষ্ঠানিক পদ ‘এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য প্রেসিডেন্ট’। সাধারণত এ পদে সময়সূচি, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনে হার্পের ভূমিকা তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের লোকজন ও সাংবাদিকদের অনেকে হার্পকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামে ডাকেন। ট্রাম্প সংবাদ, নিবন্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টের কাগজের কপি পড়তে পছন্দ করেন। তাই প্রায়ই একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে ট্রাম্পের পাশে দেখা যায় হার্পকে।

হোয়াইট হাউসের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, ট্রাম্পের কাছে কোন তথ্য বা আপডেট পৌঁছাবে, সে ক্ষেত্রে হার্পের ‘অস্বাভাবিক প্রভাব’ রয়েছে। এ কারণেই তাকে অনেকে ‘গেটকিপার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ট্রাম্পের হয়ে পোস্ট লেখেন

ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্ট তৈরিতেও হার্পের ভূমিকা রয়েছে। ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বক্তব্য টাইপ করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২৪ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের একটি বক্তব্য দেখার সময় ট্রাম্পের পাশে বসে হার্পকে তার হয়ে পোস্ট টাইপ করতে দেখা যায়। ওই ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতার সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো প্রেসিডেন্টের সফরেও তার উপস্থিতি। সম্প্রতি তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপন বিমানযাত্রার সময়ও হার্প তার সঙ্গে ছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

কেন এতটা কাছের?

ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে নানা ধরনের বর্ণনা এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্পের ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে হ্যাবারম্যানের একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি হার্পকে ট্রাম্পের ‘কমফোর্ট ব্ল্যাঙ্কেট’ বা মানসিক স্বস্তির সঙ্গী হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প কেন তাকে গোপন বিমানযাত্রায় সঙ্গে নিয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হার্পের ভাই প্রেস্টন হার্পও বলেছেন, তার বোন ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বড় ভক্ত’। ছোটবেলা থেকেই হোয়াইট হাউসে কাজ করার স্বপ্ন ছিল হার্পের। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশসহ কয়েকজন প্রেসিডেন্টকে চিঠিও লিখেছিলেন তিনি।

হোয়াইট হাউস অবশ্য হার্পকে প্রেসিডেন্টের ‘বিশ্বস্ত ও মূল্যবান’ সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ট্রাম্প নিজে প্রকাশ্যে তাকে নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে নাটালি হার্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে নাটালি হার্প। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের ই১ বসতি প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক ও আরব বিশ্বের বিরোধিতা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ই১ বসতি প্রকল্পের জন্য ইসরায়েলের দেওয়া নির্মাণ দরপত্র বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও নরওয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, ই১ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এতে ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাত দেশ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ।

একই সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রকল্পের দরপত্রে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রকল্পে অংশ নিলে আইনি ও সুনামগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

মিসর ও জর্ডানও ই১ প্রকল্পের নিন্দা জানিয়েছে। মিসর বলেছে, এই প্রকল্প পূর্ব জেরুজালেমের ওপর প্রভাব ফেলবে। জর্ডানের অভিযোগ, ইসরায়েল এই প্রকল্পের মাধ্যমে দখলদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।

আরব লীগের মহাসচিব নাবিল ফাহমি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রস্তাবে ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতিকে ‘আইনি বৈধতাহীন’ বলা হয়েছে।

ফিলিস্তিনের জাতীয় পরিষদের সভাপতি রুহি ফাত্তুহ বলেন, ই১ প্রকল্পের দরপত্র প্রকাশের ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আরও কাছে চলে গেছে। এতে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভিত্তি হুমকির মুখে পড়বে।

মঙ্গলবার ই১ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই এলাকায় মোট ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ই১ এলাকা পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝামাঝি অবস্থিত। সেখানে নির্মাণকাজ হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। বর্তমানে এসব এলাকায় প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এসব ইসরায়েলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের বিরোধী সংগঠন পিস নাও বলেছে, সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বসতি সম্প্রসারণ ও পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।

সংগঠনটি আরও সতর্ক করেছে, ই১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খান আল-আহমারসহ কয়েকটি বেদুইন সম্প্রদায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং অনেক বাসিন্দাকে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদের ঝুঁকি তৈরি হবে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া।
ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া।