Showing posts with label কালবেলা. Show all posts
Showing posts with label কালবেলা. Show all posts

Wednesday, September 16, 2026

মারিবে সৌদির এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি হুতিদের, মক্কামুখী ড্রোন নিয়েও উত্তেজনা

ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটের আকাশসীমায় সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান নিজেদের তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। একই সময়ে পবিত্র নগরী মক্কামুখী একটি হুতি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি আরব। তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ইয়েমেন ও দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসনের’ জবাব দিতে গিয়ে তাদের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

সারি দাবি করেন, মারিবের আকাশসীমায় সৌদি যুদ্ধবিমানটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালাচ্ছিল। এ সময় নিজেদের তৈরি একটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সৌদি যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর এর ধ্বংসাবশেষের সন্ধানে থাকা আরও দুটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সঙ্গেও হুতিদের সংঘর্ষ হয়।

ইয়াহিয়া সারির দাবি, চলতি সপ্তাহে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের তাইজ, লাহজ, আল-জাওফ, হাজ্জাহ, মারিব, সাদাহ ও আল-বায়দা এলাকায় ৪৫০টির বেশি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সারি বলেন, ইয়েমেনের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্বকে যে কোনো আগ্রাসন বা লঙ্ঘন থেকে রক্ষায় ‘সম্ভাব্য সব উপায়’ ব্যবহার করা হবে।

এদিকে পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানোর সৌদি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দিকে অগ্রসর হওয়া একটি হুতি ড্রোন শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়।

সৌদি জোটের দাবি, মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছে তারা।

তবে হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মক্কার মতো পবিত্র নগরীকে লক্ষ্য করার অভিযোগ ‘মিথ্যা’ এবং এ ধরনের দাবি আগেও করা হয়েছে।

মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে হামলার অভিযোগে হুতিদের নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। সংস্থাটি পবিত্র স্থান ও বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ওআইসির বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদকে লক্ষ্য করে যে কোনো হামলা বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, পবিত্র স্থান, উপাসনালয় ও বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলামী মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থি।

সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়ে ওআইসি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা বজায় রাখতে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এসব হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। গত সপ্তাহেও হুতিরা সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছিল।

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করার পর দেশটিতে যুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আরব জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।

এরপর থেকে ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা

সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। ছবি: রয়টার্স
সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। ছবি: রয়টার্স

ধ্বংসস্তূপে থাকা মৃতদেহের প্রতি অসম্মান দেখাচ্ছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর ঘটনায় মৃতদের প্রতি কোনো সম্মান দেখানো হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গাজার যেসব এলাকায় এখনো ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেসব এলাকায় বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। এর ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মৃতদের মরদেহও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তুর্ক জানান, ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া বিভিন্ন স্থানে পুরো পরিবারের মরদেহ ও মানবদেহের অংশ পাওয়া যাচ্ছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে থাকা পরিবারগুলো এখন তাদের সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কার সত্যতা দেখতে পাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে। এসব ধ্বংসাবশেষ সরাতে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচ থেকে ৬৩০টির বেশি মরদেহ ও মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

তুর্ক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা হয়তো মোট সংখ্যার সামান্য অংশ। কারণ গাজার বড় একটি অংশ ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে ভবন ভাঙা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে ধ্বংস হয়েছে।

জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ পরিচালনা নিয়েও উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরক ব্যবহারের কারণে বেসামরিক মানুষ ও যোদ্ধাদের মধ্যে কার্যকরভাবে পার্থক্য করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

তুর্ক বলেন, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের আশঙ্কা নতুন করে সামনে এসেছে। আবাসিক ভবনে হামলায় শিশু, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ একই পরিবারের বহু সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

৬ সেপ্টেম্বর উত্তর গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০০ জনের মরদেহের দাফন করেন ফিলিস্তিনিরা। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ জনই ছিল শিশু।

সূত্র: আলজাজিরা

গাজার খান ইউনিসে ভবনের ধ্বংসস্তূপ। ছবি: এএফপি
গাজার খান ইউনিসে ভবনের ধ্বংসস্তূপ। ছবি: এএফপি

মক্কা অভিমুখে ড্রোন হামলায় ওআইসির নিন্দা, অস্বীকার হুতিদের

ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কা অভিমুখে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। এ ঘটনার নিন্দা তীব্র জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এই অভিযোগকে ‘পুরোনো মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছে হুতিরা। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, মক্কার কাছে ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি শনাক্ত করা হয়। নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। পরে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণে পড়ে।

আল-মালিকি এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগও হুতিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘লাল রেখা’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি ‘পুরোনো মিথ্যা’, যা এর আগেও ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অভিযোগ এখন আর কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।

এদিকে মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে হুতিদের হামলার অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি। সংস্থাটির মহাসচিবালয়ের এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের চলমান হামলারও নিন্দা করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদ লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘন করে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করে।

ওআইসি বলেছে, পবিত্র স্থান, উপাসনালয় ও বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলামি মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থি।

পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘনকে অগ্রহণযোগ্য ও অসহনীয় উল্লেখ করে এর জন্য দায়ীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে ওআইসি বলেছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা বজায় রাখতে রিয়াদ যেসব পদক্ষেপ নেবে, তাতে সংস্থাটির সমর্থন রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদির খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এসব হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের কয়েকটি অঞ্চল দখল করার পর ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ডআনাদোলু এজেন্সি

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরী। ছবি: গেটি ইমেজেস
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরী। ছবি: গেটি ইমেজেস

Tuesday, September 15, 2026

ইরান যুদ্ধে অস্ত্র সংকটের বিষয় স্বীকার করে নিজেদের দুর্দশার কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে সংকট তৈরি হয়েছিল বলে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে পেন্টাগন।

নিজেদের দুর্দশার কথা জানিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের (ইন্সপেক্টর জেনারেল) বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের মজুতও প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের ওপর তৈরি প্রতিবেদনে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত কমে যায়। এর আগে চালানো হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার রাডারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামও ধ্বংস হয়েছিল।

ইরান ও তার মিত্রদের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বাহিনীর পরিচালন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হয়। হামলার পর সেন্টকমকে সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংরক্ষণাগার সরিয়ে নিতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে ইরাক ও কুয়েত থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর চিকিৎসা-উদ্ধার হেলিকপ্টার প্রত্যাহার করা হয়। ফলে অধিকাংশ আহত সেনাকে আকাশপথের বদলে স্থলপথে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ায় পর্যাপ্ত নৌঘাঁটি ও সহায়ক বন্দর তৈরি করতেও বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে।

পরিস্থিতির কারণে ভারত মহাসাগরের দুর্গম দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপকে সামুদ্রিক রসদ সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এতে নতুন করে রসদ সরবরাহের সময় বেড়ে ১৪ থেকে ১৮ দিন হয়েছে।

রসদ সরবরাহে অনিয়মিত ঘাটতির পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক ডাকব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটে। এতে পারস্য উপসাগরে মার্কিন সেনা মোতায়েন আরও জটিল হয়ে পড়ে।

ইরানে বিমান হামলা এবং পরবর্তী সময়ে ইরানি বন্দর অবরোধের প্রচেষ্টায় মার্কিন বাহিনীর অভিযান পরিচালনাতেও এসব সংকটের প্রভাব পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কিছু পরিবর্তন স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। যুদ্ধের পর অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদে সেনা ও সামরিক স্থাপনা কমিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি প্রতিবেদনে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে প্রায় ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তবে সামরিক ঘাঁটিগুলোর মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেওয়া হয়নি।

মার্চের শুরুতে ইরানি দুটি ড্রোন রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, যার মধ্যে সেখানে থাকা একটি সিআইএ স্থাপনাও ছিল। একই সময়ে দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেট লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় একটি ইউটিলিটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানি ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মার্চে কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। জুনের শেষ দিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি কার্যক্রম আবার চালু করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ৬০০টির বেশি হামলার খবর পাওয়া যায়। এতে প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়, যা কূটনৈতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে সবচেয়ে বেশি।

যুদ্ধের সময় ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন কূটনৈতিক কর্মকর্তা অঞ্চলটির বাইরে অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় অধিকাংশ মার্কিন কূটনৈতিক মিশন সীমিত কার্যক্রমের মধ্যে ছিল।

যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জরুরি দায়িত্বে না থাকা কর্মকর্তা এবং সব পরিবারের সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

প্রতিবেদন তৈরির সময়ও অঞ্চলটির অধিকাংশ মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে সীমিত কার্যক্রম চলছিল। অর্থাৎ এসব মিশনে স্বাভাবিক সংখ্যায় কর্মী ফেরেননি।

প্রতিবেদনে যুদ্ধের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের প্রভাবও উঠে এসেছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ে। পরে ইরান প্রণালিটি সব ধরনের নৌযান চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযান, রসদ সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন চাপ তৈরি হয়।

সূত্র : সিবিএস নিউজ

ইরানের হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: রয়টার্স
ইরানের হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: রয়টার্স

Sunday, September 13, 2026

রাশিয়ার হামলায় বিপর্যস্ত ইউক্রেন কঠিন শীতের অপেক্ষায়

রুশ হামলায় ইউক্রেনের অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে বাজেট সংকটও। সব মিলিয়ে সামনে কঠিন শীতের আশঙ্কা করছে দেশটি।

শনিবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর রুশ বিমান হামলায় দেশটির অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। হামলা এবং কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো কার্যত বন্ধ থাকায় অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশের সমান।

ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী ওলেক্সান্দর ক্রাভচেঙ্কো বলেন, শীতকাল দেশটির জন্য খুব কঠিন হতে পারে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রতিদিনই রুশ হামলার শিকার হচ্ছে। একই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও চাপের মধ্যে রয়েছে।

গত সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে সামনের সারিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও রাশিয়া ও ইউক্রেন এখন একে অপরের সরবরাহব্যবস্থা, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে।

গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাশিয়া প্রায় নিয়মিতভাবে কিয়েভে দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। এতে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবন, ব্যবসা ও সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলোও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী বলেন, এর ফলে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউক্রেনের প্রধান রপ্তানি পণ্য কৃষিপণ্য এবং লোহা ও ইস্পাত—যার বড় অংশই এসব বন্দর দিয়ে পরিবহন করা হয়।

বাজেটেও বড় ঘাটতি

যুদ্ধের কারণে অবকাঠামো ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউক্রেনের সরকারি রাজস্বও কমে গেছে। দেশটির পার্লামেন্টের বাজেট কমিটির প্রধান রোকসোলানা পিদলাসা জানান, বছরের প্রথম আট মাসে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার কম এসেছে। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ ঘাটতি হয়েছে শুধু আগস্টে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের ব্যয় এত বেড়েছে যে ইউক্রেন এখন আর নিজেদের রাজস্ব দিয়ে পুরো প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে পারছে না।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউক্রেন প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এর বিপরীতে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ও স্থানীয় ঋণ থেকে এসেছে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার।

যুদ্ধের দৈনিক ব্যয়ও বেড়েছে। চলতি বছরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৯ কোটি ডলার খরচ হচ্ছে। ২০২৪ সালে এই ব্যয় ছিল প্রায় ১৪ কোটি ডলার। মূল্যস্ফীতি, সেনাসংখ্যা বৃদ্ধি, নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য বাড়তি সামাজিক সহায়তা এবং বেশি পরিমাণে গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে ব্যয় বেড়েছে।

বছর শেষ হওয়ার আগেই ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে। এ ঘাটতি পূরণে সরকার সামরিক নয়, এমন কিছু খাতে ব্যয় কমানো বা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে। পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরও আর্থিক সহায়তাও চাইছে কিয়েভ। তবে এখনো দ্রুত সমাধানের কোনো পথ পাওয়া যায়নি।

গত ৮ সেপ্টেম্বর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভে ধ্বংসযজ্ঞ। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: রয়টার্স
গত ৮ সেপ্টেম্বর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভে ধ্বংসযজ্ঞ। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: রয়টার্স

হরমুজে জাহাজে হামলার নতুন খবর, তেল সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার নতুন খবর পাওয়া গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলার সময় একটি জাহাজে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।

হামলায় জাহাজটির কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং এর ক্রুদের কী অবস্থা, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এর এক দিন আগে সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ইরাক ও সৌদি আরব উভয়েই জানিয়েছে, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়েছে। ইরাকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে।

প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলের দিকে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে অনেকাংশে বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের জন্য এ পাইপলাইনটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

পাইপলাইনটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।

সৌদি পাইপলাইনে হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। হামলার পর স্যাটেলাইট ছবিতে মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তেল রপ্তানিতে এর কী প্রভাব পড়েছে, তা জানানো হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার জন্য সম্ভবত ইরান দায়ী। তবে ইরান সরাসরি এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে সৌদি আরবের জাজান অঞ্চলে হুতিদের ছোড়া একটি প্রজেক্টাইলে দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। এতে একটি মসজিদসহ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি যুবরাজের মার্কিন সহায়তা চাওয়া

পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তিনটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করে ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চান।

তবে আপাতত সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে বলে জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পও যুবরাজের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হুথিরাও তার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

এদিকে ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা শুক্রবার বাব আল-মান্দাব প্রণালির মাঝখানে থাকা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে। লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে থাকা এই প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ নিয়ে ইরানের শর্ত

এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে সোমবার ওমানে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।

তবে বৈঠক থেকে দ্রুত কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ওমানের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে হরমুজসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তবে সেখানে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এর আগে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন পথ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। তবে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হলে প্রণালিটি খুলবে না বলে তাসনিমকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

ইরান চায়, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে তারা ফি আদায় করতে পারবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি মেনে নিতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রায় নতুন সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

রয়টার্সের বিশ্লেষণঃ ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের সপ্তম মাসে নতুন এক সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইয়েমেনের উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর চাপ তৈরির সক্ষমতা বাড়িয়েছে হুতিরা। শুক্রবার তারা ইয়েমেন ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী ওই প্রণালির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পেরিম দ্বীপে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে গেলে ইরান আরব উপদ্বীপের দুই পাশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব নিয়ে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে নতুন করে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব লোহিত সাগরের বন্দরগুলো দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করছে। বাব আল-মান্দেবও হুমকির মুখে পড়ায় সৌদির বিকল্প এই রপ্তানি পথও অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। তার জনপ্রিয়তা রেকর্ড নিম্নপর্যায়ে নেমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নভেম্বরে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনাও ঝুঁকিতে পড়েছে।

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের জ্যেষ্ঠ ফেলো স্টিফেন ওয়ার্থেইম রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিলেন, যাতে সামরিক সংঘাত সীমিত রেখে তেহরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করা যায়। কিন্তু হুতিদের অগ্রযাত্রা সেই পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি বেশ কঠিন। হুতিরা বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দিলে জ্বালানির দাম ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হবে। আবার তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালালে ইরানে ইতোমধ্যে ব্যস্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর আরও চাপ তৈরি হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে তিনটি সূত্র। তবে ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না বলে তাকে জানানো হয়েছে। এর পরিবর্তে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হবে।

শনিবার ট্রাম্পও নিশ্চিত করেছেন, সৌদি যুবরাজের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। একই সঙ্গে হুতিরাও তার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সংঘাতে না জড়ানোর অনুরোধ করেছে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাসহ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় অংশীদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

ইরানের সঙ্গে যুক্ত হুতিরা বাব আল-মান্দেব বন্ধ করতে সক্ষম হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হতো। বাব আল-মান্দেব বন্ধ হলে আরও প্রায় ৭ শতাংশ বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহ এবং প্রায় ১২ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেভিড শেনকার রয়টার্সকে বলেন, ইরান যদি হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবের ওপরও প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তাহলে বিশ্বের দুটি প্রধান জ্বালানি চোকপয়েন্ট তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এর মাধ্যমে তেহরান বিপুল প্রভাব খাটানোর সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এখন ট্রাম্পের সামনে মূলত দুটি পথ; হুতিদের ঠেকাতে মার্কিন সেনা ও সীমিত আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করা, অথবা সৌদি আরব, তার মিত্র এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে একাই হুতিদের মোকাবিলা করতে দেওয়া।

হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান শুরু হলে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর বড় ধরনের সম্পদ মোতায়েন করতে হতে পারে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সক্ষমতাও ব্যবহার করতে হবে, কারণ গত বছরের তুলনায় হুতিদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।

হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানকে সক্রিয় হতে হলে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুতও আরও কমে যেতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মজুত রয়েছে এবং কৌশলগত সব লক্ষ্য পূরণে সম্পদের ঘাটতি হবে না।

ইয়েমেনে সাবেক মার্কিন বিশেষ দূত টিম লেন্ডারকিং বলেন, ট্রাম্প সরাসরি সামরিকভাবে হুতিদের বিরুদ্ধে যেতে অনিচ্ছুক হলে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন একসময় জানতে চেয়েছিল, ‘ইয়েমেন আমাদের জন্য কী করতে পারে?’ এখন বাস্তবতা হলো, ‘ইয়েমেন আমাদের দিনটাই নষ্ট করে দিতে পারে।’

সূত্র : রয়টার্স

রাইফেল ও আরপিজি লঞ্চার হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি যোদ্ধরা। ছবি: এএফপি
রাইফেল ও আরপিজি লঞ্চার হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি যোদ্ধরা। ছবি: এএফপি

Saturday, September 12, 2026

ইরাক থেকে আসা ড্রোনের হামলায় সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ

ইরাক থেকে ছোড়া একাধিক ড্রোন হামলার পর ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ওই হামলায় কয়েকজন আহত এবং পাইপলাইনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে ইরাক থেকে আসা কয়েকটি ড্রোন পাইপলাইনটিতে হামলা চালায়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হামলায় আহত কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে কতজন আহত হয়েছেন বা তাদের শারীরিক অবস্থা কেমন, তা জানানো হয়নি।

হামলার পর জরুরি ও বিশেষায়িত কারিগরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পাইপলাইনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনায় কাজ শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রিয়াদ বলেছে, ইরাক থেকে আসা একাধিক ড্রোন দিয়ে পাইপলাইনটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

তবে আপাতত পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা ঠেকাতে বাগদাদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে।

রিয়াদ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে ইরাকি সরকারের উদ্যোগকে সমর্থন করছে। তবে একই সঙ্গে নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্থাপনা, নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।

হামলার ঘটনায় ইরাকও নিন্দা জানিয়েছে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন যেকোনো হামলা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আল-জায়েদি হামলার পরিস্থিতি এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বাগদাদ।

ইরাকি সরকার বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর ঘাঁটি হিসেবে ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আঞ্চলিক সংঘাতের ময়দানে ইরাককে পরিণত না করার নীতিতেই তারা অটল থাকবে। ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরবে ড্রোন হামলার অভিযোগ নিয়ে জুলাইয়ের শেষ দিক থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

সৌদি আরব এর আগে জানিয়েছিল, ইরাক থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন দেশটির পূর্বাঞ্চল ও রিয়াদের তেল স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করেছিল। এসব হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে রিয়াদ এবং ইরাকের ভূখণ্ডকে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার ঠেকাতে বাগদাদের প্রতি আহ্বান জানায়।

এরপর ইরাকি কর্তৃপক্ষ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে অননুমোদিত হামলা ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দেয় এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে একটি যৌথ নিরাপত্তা কমিটি গঠন করে।

তবে ২৯ জুলাই পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরানপন্থি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) কয়েকটি অবস্থানে হামলা চালায়। পিএমএফের দাবি, এতে তাদের ২০ সদস্য নিহত ও ৩২ জন আহত হন।

সৌদি আরব জানিয়েছিল, নিজেদের তেল স্থাপনায় ইরাক থেকে হামলার পর আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে ওই অভিযান চালানো হয়েছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পাম্প স্টেশনের স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি : এএফপি
ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পাম্প স্টেশনের স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি : এএফপি

সৌদি সমর্থিত শত শত যোদ্ধাকে হত্যা ও আটকের দাবি হুতিদের

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। তাদের দাবি, হুদায়দাহ ও তাইজ প্রদেশে কয়েকশ কিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে তারা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেন, হুদায়দাহ ও তাইজের ছয়টি জেলা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

সারি জানান, বড় আকারের এই সামরিক অভিযানে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সাতটি ডিভিশন পরাজিত হয়েছে। এসব ডিভিশনের অধীনে ছিল ৩৮টি ব্রিগেড। অভিযানে শত শত যোদ্ধা নিহত ও আহত এবং আরও অনেকে আটক হয়েছে।

ইয়েমেনি বাহিনী সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন বন্দিশিবির থেকে বেশ কয়েকজন বন্দিকেও মুক্ত করেছে বলে জানান সারি। তার দাবি, এসব বন্দিকে অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছিল।

এছাড়া ইয়েমেনের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ৩২টি অভিযান চালিয়ে সৌদি আরবের নয়টি বিমান প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইয়েমেনি বাহিনীর মুখপাত্র আরও বলেন, লোহিত সাগর দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্যবাহী জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।

সারি বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে সামরিক চাপ ও অবরোধ অব্যাহত রাখলে ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি বজায় রাখা হবে। সৌদি সামরিক স্থাপনা ও সমাবেশকে লক্ষ্য করে হামলা আরও বাড়ানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে ২০ জুলাই সানাভিত্তিক ইয়েমেনি সরকার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছিল। ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের অবরোধের জবাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত অগ্রগতির দাবি করে আসছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। এর মধ্যে কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও রয়েছে।

২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপের পাশাপাশি সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ এই সংঘাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয় এবং দেশটিতে ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হয়।

রাজধানী সানা থেকে ১১ সেপ্টেম্বর টেলিভিশনে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিচ্ছেন ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি।
রাজধানী সানা থেকে ১১ সেপ্টেম্বর টেলিভিশনে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিচ্ছেন ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি।

Friday, September 11, 2026

আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাসব্যাপী সংঘাতের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ইরান আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এ তথ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে; ট্রাম্প প্রশাসনের এমন দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, যুদ্ধের আগের তুলনায় সীমিত পরিমাণে ইরান নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। বিদ্যমান যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে দেশটির কয়েকটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজির ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাও রয়েছে।

নতুন করে মার্কিন হামলা হলে উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য ইরান আরও ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন কেন্দ্র তৈরির কাজ করছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও জ্বালানি তৈরির উপকরণ আমদানিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তী চুক্তি হওয়ার পর ইরান আবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে।

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক তাল ইনবারের ধারণা, ইরানের কাছে এখনো হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হওয়ার আগের দাবিই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দ্য হিলকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নজর রাখছে এবং দেশটির প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেলও দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীর শিল্পভিত্তির ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে এবং দেশটির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সকে জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে শিগগিরই আরও কিছু ঘোষণা আসবে। মন্ত্রণালয় বলছে, ‘শিগগিরই আপনারা এই হিমশৈলের চূড়া দেখতে পাবেন।’

এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবারের মধ্যে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে একাধিক মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে ইরান কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করেছেন। নিউজ নেশনকে তিনি বলেন, ‘কোনো ক্ষতি হয়নি, একেবারেই হয়নি।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধের অবসানে এখনো কোনো স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।

ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।

বুধবার ডালাসে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির মধ্যবর্তী নির্বাচন বিষয়ক সম্মেলনে যাওয়ার পথে ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাত শেষ হয়ে যাবে। পরে অবশ্য তিনি স্বীকার করেন, নভেম্বরের নির্বাচনের পরও সংঘাত চলতে পারে। ট্রাম্প বলেন, আলোচনা হতে পারে। তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছে না।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ-রেজা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। ছবি : রয়টার্স
ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ-রেজা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। ছবি : রয়টার্স

গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গোপনে ক্লড এআই ব্যবহার করেছিল হুতিরা

গাইডেড রকেটসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরিতে গোপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল ইয়েমেনের হুতিরা। এ কাজে তারা অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লড’ এআই ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যানথ্রপিকের এক প্রতিবেদনে উত্তর ইয়েমেনে অবস্থানরত একটি ‘হুমকি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’র কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে সরাসরি হুতিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে উত্তর ইয়েমেন বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এআইয়ের অপব্যবহার শনাক্ত ও প্রতিরোধ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানায়, ওই গোষ্ঠী ‘ক্লড কোড’ ব্যবহার করে উড্ডয়নকারী যান নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল রাখার সফটওয়্যার তৈরির কাজ করেছে। একই সঙ্গে তারা অ্যানথ্রপিকের কাছ থেকে নিজেদের কাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করার চেষ্টা করেছে।

অ্যানথ্রপিকের তথ্য অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি তিনটি অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছিল। এর মধ্যে ছিল ‘ফোন-শ্রেণির ফ্লাইট কম্পিউটার’ ও শেষ পর্যায়ের লক্ষ্যভেদী নির্দেশনা ব্যবস্থা সম্বলিত একটি গাইডেড রকেট। দ্বিতীয়টি ছিল দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার লক্ষ্য নির্ধারণ করা একটি বহু-ধাপের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। তৃতীয় কর্মসূচিটির নাম ছিল ‘আর-২০০০ সেট’, যাতে একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলের সংস্করণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্দেশনা, নেভিগেশন ও নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত সফটওয়্যার তৈরিতে মানব সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের পরিবর্তে ‘ক্লড কোড’ ব্যবহার করেছিল তারা।

অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন ধাপে ক্লডকে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সফটওয়্যার লেখা, গবেষণা, উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সমন্বয়, সফটওয়্যার তৈরি এবং উড্ডয়ন সিমুলেশন পরিচালনার কাজও ছিল।

হুতিরা একই সময়ে ক্লডের একাধিক সেশন চালাত। আলাদা এআই ব্যবস্থাকে আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। একটি দিয়ে কোড লেখা, অন্যটি দিয়ে গবেষণা এবং তৃতীয়টি দিয়ে প্রথমটির তৈরি কাজ পর্যালোচনা করা হতো।

অ্যানথ্রপিক জানায়, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গোষ্ঠীটির অনেক অনুরোধ আটকে দিয়েছিল। তবে কিছু বিধিনিষেধ পাশ কাটানোর উপায় খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছিল তারা।

নিজেদের উদ্দেশ্য ও সফটওয়্যারের সম্ভাব্য ব্যবহার গোপন করার চেষ্টা করেছিল গোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে কাজগুলো একাধিক সেশনে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনো একটি কথোপকথন থেকে পুরো অস্ত্র কর্মসূচির চিত্র পাওয়া না যায়।

অ্যানথ্রপিকের দাবি, শেষ পর্যন্ত ইয়েমেনে একটি গাইডেড রকেটের সরাসরি পরীক্ষা চালিয়েছিল গোষ্ঠীটি। তবে পরীক্ষাটি ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কী ভুল হয়েছিল তা খুঁজে বের করতে তারা আবার ক্লডের সাহায্য নেয়।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, গোষ্ঠীটি কোনো কার্যকর অস্ত্র সফলভাবে মোতায়েন করতে পেরেছিল এমন প্রমাণ তাদের হাতে নেই। তবে রকেট কর্মসূচির বাইরেও দীর্ঘ সময় ধরে অস্ত্র তৈরি ও সিমুলেশনের চেষ্টা চালানোর প্রমাণ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ক্লড ব্যবহার করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সিমুলেশন এবং অন্যান্য অস্ত্র নিয়েও কাজ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ মডেলিং ও উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার কাজ ছিল।

এ ছাড়া গোষ্ঠীটি এমন একটি অফলাইন সিমুলেশন টুলকিট তৈরি করেছিল, যা ক্লড কিংবা ম্যাটল্যাবের মতো প্রকৌশল সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। পরে সেটিকে একটি স্বতন্ত্র প্রোগ্রামে রূপান্তর করা হয়, যা ‘ক্লড ছাড়াই চলতে ও কাজ চালিয়ে যেতে’ সক্ষম ছিল।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, এর ফলে তাদের এআই ব্যবস্থা ছাড়াই স্বাধীনভাবে প্রকৌশলগত কাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছিল গোষ্ঠীটির।

পরে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করে অ্যানথ্রপিক। পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যানথ্রপিকের মতে, ঘটনাটি দেখিয়েছে ব্যবহারকারীরা যখন ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের উদ্দেশ্য গোপন করে এবং জটিল প্রকল্পের কাজ একাধিক আলাদা যোগাযোগে ভাগ করে নেয়, তখন এআই-সহায়তায় অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা ঠেকানো কতটা কঠিন।

এআই প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হওয়ার আশঙ্কাও এই ঘটনায় সামনে এসেছে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীরা যখন নিজেদের উদ্দেশ্য গোপন করে এবং এআই প্ল্যাটফর্মের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এমন সরঞ্জামে কাজ স্থানান্তর করে, তখন ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এমন সময় এই তথ্য সামনে এলো, যখন সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে হুতিরা এবং এর জবাবে রিয়াদ বিমান হামলা চালাচ্ছে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখার নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে তাদের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

ইয়েমেনের সানায় হুতিদের একটি সামরিক কুচকাওয়াজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন। ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনের সানায় হুতিদের একটি সামরিক কুচকাওয়াজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা: বাব আল-মান্দেব বন্ধে ইয়েমেনে কাজ করছে শত শত আইআরজিসি কর্মকর্তা

ইয়েমেনে ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শত শত কর্মকর্তা বর্তমানে কাজ করছেন বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মূল লক্ষ্য কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের উদ্দেশ্যে হুতিদের সামরিক অভিযান সমন্বয় করা। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এমন খবর দিয়েছে সিএনএন।

এই মোতায়েনের খবর এমন সময় সামনে এলো, যখন ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নাটকীয়ভাবে বাড়িয়েছে হুতিরা।

বৃহস্পতিবার কয়েক দিনের লড়াইয়ের পর সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখল করে হুতিরা। বাব আল-মান্দেব থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের এই বন্দর দখলের পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও হুতি বাহিনী অগ্রসর হয়েছে বলে সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।

লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি। সুয়েজ খালে প্রবেশের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ।

এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বা কার্যকরভাবে এটি বন্ধ করে দেওয়া হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতে পারে।

মোখা দখলের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি সরাসরি উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করেছে হুতিরা। ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ এই অগ্রগতিকে সংঘাতের নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায় বলে সতর্ক করেছেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিও ইতোমধ্যে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্ট দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। ট্যাংকারে হামলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে হুমকির কারণে সেখানে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

ইয়েমেনে আইআরজিসির শত শত সদস্য থাকার মার্কিন মূল্যায়ন সঠিক হলে হুতিদের সামরিক অভিযানে তেহরানের সরাসরি সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

রয়টার্সও ইয়েমেনি সরকারি, ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সরাসরি নির্দেশনায় হুতিদের উপকূলীয় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তবে ইরান বরাবরই হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। হুতিরাও বলছে, তাদের সামরিক সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নেয়।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সামরিক দক্ষতা দিয়ে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু শত শত আইআরজিসি সদস্যের বড় ধরনের মোতায়েনের খবর সত্য হলে আন্তর্জাতিক নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলা অভিযানে ইরানের আরও সরাসরি ভূমিকার ইঙ্গিত মিলবে।

একই সময়ে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব আরব উপদ্বীপের দুই পাশের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চোকপয়েন্ট চাপের মুখে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি ও নৌপরিবহনে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান পথ। অন্যদিকে ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের মধ্যে নৌ চলাচলের জন্য বাব আল-মান্দেব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দুই পথই অনিরাপদ হয়ে উঠলে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথে চলাচল করতে হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধঝুঁকির কারণে বিমার প্রিমিয়ামও বাড়তে পারে।

এরই মধ্যে বাজারে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। হুতিদের অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে বাড়তে থাকা শঙ্কার মধ্যে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের ওপরে উঠেছে।

পরিস্থিতির কৌশলগত তাৎপর্য ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও বিস্তৃত। আরব উপদ্বীপের দুই প্রান্তের হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথেই প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেলে ইরান একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র : গালফ নিউজ

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স

গাজার আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনির জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন

প্রতিদিন ১ হাজার জনকে পাঠানোর দাবিঃ গাজার ২২ হাজার আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনির জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। তাদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দিতে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ প্রতিদিন ১ হাজার রোগীকে গাজা থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং পুরোপুরি খুলে দিতে হবে। এতে প্রতিদিন ১ হাজার আহত ও অসুস্থ মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সীমান্ত দিয়ে ফিলিস্তিনিদের যাতায়াতের বিষয়ে ইসরায়েল যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল দেশটির সীমান্ত কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ মানুষ বের হয়ে গেছেন। একই সময়ে প্রায় ৬ হাজার মানুষ গাজায় ফিরে এসেছেন।

ইসমাইল আল-থাওয়াবতেহ বলেন, ‘অক্টোবর থেকে গাজা থেকে ১০ হাজার ফিলিস্তিনি বের হয়েছেন এবং ৬ হাজার ফিরে এসেছেন—ইসরায়েলের প্রকাশিত এই সংখ্যা খুবই কম। গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির তুলনায় এই সংখ্যা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।’

তিনি বলেন, গাজায় ২২ হাজার আহত ও অসুস্থ মানুষ বিদেশে চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাজার হাজার শিশু রয়েছে। প্রতিদিনই তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

আল-থাওয়াবতেহ অভিযোগ করেন, রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করে ইসরায়েল ‘ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ও ধীরে ধীরে মৃত্যুর’ নীতি অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, আহত ও অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন ১ হাজার জনকে গাজা থেকে বের হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য সব সীমান্ত ক্রসিং দ্রুত ও পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।

এ ছাড়া গাজার বাইরে থাকা প্রায় ৯০ হাজার ফিলিস্তিনির ফিরিয়ে আনার দাবির প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতি ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আল-থাওয়াবতেহ। তিনি বলেন, রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সীমান্ত ক্রসিংকে ‘সমষ্টিগত শাস্তির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে খুব অল্পসংখ্যক মানুষকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গাজার ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের ব্যবস্থা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।

আগস্টের শেষ দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছিলেন, গাজার হাজারো রোগী এখনও জরুরি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আগস্টের শেষ সপ্তাহে রাফাহ ও কেরেম শালোম সীমান্ত দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১০৬ জন রোগীকে গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ জন শিশু ছিল। রোগীদের সঙ্গে আরও ১৩২ জন ছিলেন।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলছে। এতে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবুতে অবস্থান করছেন।

ছবি: এএফপি
ছবি: এএফপি

Thursday, September 10, 2026

ভারতের হাতে ১৯০ পারমাণবিক ওয়ারহেড, আরও বাড়ার আভাস

ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস (এফএএস)।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬০টির বেশি ওয়ারহেড কার্যকর পারমাণবিক উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার জন্য রয়েছে। নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির সঙ্গে যুক্ত আরও প্রায় ৩০টি ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এফএএসের নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন প্রোজেক্টের পরিচালক হ্যান্স ক্রিস্টেনসেনের ‘ইনডিয়াস নিউক্লিয়ার – ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। উন্মুক্ত তথ্য, রাষ্ট্রীয় উৎসের তথ্য এবং বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করে চলেছে। কয়েকটি নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা ইতোমধ্যে মোতায়েন হয়েছে, আরও কয়েকটি তৈরি হচ্ছে। এগুলো পারমাণবিক সক্ষম বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সমুদ্রভিত্তিক ব্যবস্থার পরিপূরক বা বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

২০২৬ সালের শুরুতে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ফিসাইল ম্যাটেরিয়ালসের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের কাছে প্রায় ৭৩০ কেজি অস্ত্র-গ্রেড প্লুটোনিয়াম রয়েছে, যার সম্ভাব্য তারতম্য প্রায় ১৭০ কেজি।

এদিকে প্রতি ওয়ারহেডে আনুমানিক ৪ কেজি প্লুটোনিয়াম প্রয়োজন হলে এই মজুত দিয়ে ১৪০ থেকে ২২৫টি ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব। তবে অস্ত্রের নকশা সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে এই হিসাব পুরোপুরি নির্ভুল নয়।

এফএএস বলছে, ভারত তার সব প্লুটোনিয়াম অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করেনি, কিছু মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৯৯৮ সালের পারমাণবিক পরীক্ষায় ফিশন নকশা যাচাই হলেও বুস্টেড ফিশন ও থার্মোনিউক্লিয়ার অস্ত্র বিষয়ে ভারতের সক্ষমতা এখনো অনিশ্চিত।

ভারত ১৯৯৮ সালের পরীক্ষার পর ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’ (এনএফইউ) নীতি গ্রহণ করে এবং এখনো তা অনুসরণ করছে। সরকারের ভাষ্য, ভারতের লক্ষ্য হলো ‘বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধক্ষমতা’ বজায় রাখা।

প্রতিবেদনের মতে, ভবিষ্যতে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও বাড়তে পারে। তবে এর আকার শুধু প্লুটোনিয়ামের মজুতের ওপর নয়, কতগুলো ও কী ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ভারতের হাতে রয়েছে, তার ওপরও নির্ভর করবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ভারতের কাছে ১৯০ পারমাণবিক ওয়ারহেড, বাড়ছে অস্ত্রভাণ্ডার। ছবি: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
ভারতের কাছে ১৯০ পারমাণবিক ওয়ারহেড, বাড়ছে অস্ত্রভাণ্ডার। ছবি: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির সম্ভাব্য সময় জানালেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আগামী নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হামলা আরও তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে। কারণ তারা আর টিকে থাকতে পারছে না।’ তার দাবি, ইরান আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। নভেম্বরের এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকান পার্টির হাতে থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।

একইসঙ্গে ট্রাম্প ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ এলাকায় হামলারও হুমকি দিয়েছেন। নাতাঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছে থাকা এই এলাকায় গভীর ভূগর্ভে দুটি সুরক্ষিত টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার বিষয়ে এতটা আশাবাদী নন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে। এমনকি ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্তও যুদ্ধ চলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তবে রয়টার্স এই প্রতিবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এদিকে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরবেও। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যেই এ সতর্কতা দেওয়া হয়।

যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাত্র সাতটি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছে, যা গত ১০ দিনের গড়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

মার্কিন নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষের আশা ট্রাম্পের। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষের আশা ট্রাম্পের। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের দূতাবাস চালুর প্রতিবাদে স্লোভেনিয়ায় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানায় প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দূতাবাস চালুর প্রতিবাদে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বুধবারের (৯ সেপ্টেম্বর) এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষ ইসরায়েলের সঙ্গে স্লোভেনিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধিতা করেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশটিতে ইসরায়েলি দূতাবাস উদ্বোধনের দিনই এই বিক্ষোভ হয়। একই সময়ে স্লোভেনিয়ার জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানশা ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

গত জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়া ইয়ানশার নীতি তার পূর্বসূরি রবার্ট গোলবের সরকারের অবস্থান থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন। গোলবের নেতৃত্বাধীন সরকার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

লুবলিয়ানায় দূতাবাস উদ্বোধনের অনুষ্ঠান চলার সময় হোটেলটির পাশ দিয়ে মিছিল করেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘শান্তি ও ফিলিস্তিনের জন্য আমরা একসঙ্গে’ এবং ‘গণহত্যা আত্মরক্ষা নয়’।

বিক্ষোভকারী ৪৮ বছর বয়সী শিল্প ইতিহাসবিদ উরশকা ব্রেজনিক ইয়ানশা সরকারকে ‘গণহত্যায় সহযোগিতাকারী’ সরকার হিসেবে আখ্যা দেন। আরেক বিক্ষোভকারী মেলিনা সাহেরনিক এএফপিকে বলেন, এই সিদ্ধান্তে স্লোভেনিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জুনে দৈনিক ডেলো পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ স্লোভেনীয় ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধিতা করেন। বিপরীতে মাত্র ১৪ শতাংশ এতে সমর্থন জানান।

স্লোভেনীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক আন্দ্রাজ জোরকো বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন দেশের মানুষের প্রচলিত মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রায় ২০ লাখ মানুষের দেশটির অধিকাংশ মানুষ ইসরায়েলের বিরোধী অথবা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোলবের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ফ্রিডম মুভমেন্ট ও লেফট পার্টি বুধবার পার্লামেন্টে ইয়ানশাকে অভিশংসনের প্রস্তাব দিয়েছে। ইসরায়েলের স্বার্থকে একতরফাভাবে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা।

সূত্র: আলজাজিরা

লুবলিয়ানায় বিক্ষোভ। ছবি: আল জাজিরা
লুবলিয়ানায় বিক্ষোভ। ছবি: আল জাজিরা

তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন

পৃথিবী, মানবদেহসহ মহাবিশ্বের নানা বস্তু যে মৌলিক উপাদানে গঠিত, সেগুলো তারার ভেতর কীভাবে তৈরি হয় এবং সুপারনোভার বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে—এ রহস্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি প্রকাশিত দুটি পৃথক গবেষণায় তারার জীবনচক্র ও সুপারনোভা বিস্ফোরণের জটিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট স্পেস ডটকমের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রথম গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘টাইটানিয়াম-৪৪’ নামের তেজস্ক্রিয় উপাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সুপারনোভা বিস্ফোরণের পরও দীর্ঘদিন মহাকাশে টিকে থাকা এই উপাদান বিশ্লেষণ করে বিস্ফোরণের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি সুপারনোভার ভেতরে চলা পারমাণবিক বিক্রিয়া এবং বিস্ফোরণের সময় মৌল তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সুপারনোভায় আগের ধারণার তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি টাইটানিয়াম-৪৪ তৈরি হয়। নতুন এ তথ্যের ভিত্তিতে সুপারনোভার আরও নির্ভুল কম্পিউটার মডেল তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

দ্বিতীয় গবেষণায় ‘টাইপ-১ সুপারনোভা’ নিয়ে কাজ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কোনো ঘন নক্ষত্র তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে পদার্থ টেনে নিলে সেখানে প্রচণ্ড থার্মোনিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ বিস্ফোরণে ভারী মৌল তৈরি হয় এবং বিপুল শক্তি নির্গত হয়। এর কিছু অংশ এক্স-রে বিস্ফোরণ হিসেবেও ছড়িয়ে পড়ে। মিশিগানের ফ্যাসিলিটি ফর রেয়ার আইসোটোপ বিমসের গবেষকরা এ বিস্ফোরণ ঘটানো পারমাণবিক বিক্রিয়াটি আগের চেয়ে আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেছেন।

গবেষকরা বিস্ফোরণের সময় সংঘটিত ‘নিকেল-কপার চক্র’ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, পারমাণবিক পদার্থ সত্যিই এ প্রক্রিয়ায় আটকে থাকে, তবে খুব সীমিত মাত্রায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, দুটি গবেষণাই সুপারনোভা কীভাবে ঘটে এবং তারার বিস্ফোরণে তৈরি মৌলগুলো কীভাবে পুরো মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষণা দুটি ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এর জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। 

তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন
তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন

সংসদে নামাজ নিয়ে জামায়াত এমপির বক্তব্য, ‘ধর্ম পালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা’ বললেন স্পিকার

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রীয়ভাবে নামাজ কায়েম ও জাকাত ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজেদের আমল-চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদে নামাজের বিরতির সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানে একটা ধারা ছিল, আল্লাহর প্রতি ইমান এবং আস্থা সকল কাজের মূল উৎস। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এটাকে বাতিল করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ, তার চেয়েও বেশি মানুষ আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছে এবং মুসলমান বলে দাবি করি আমরা।’

সংসদে আসর ও মাগরিবের নামাজের জন্য দেওয়া বিরতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আপনি কিছুক্ষণ আগে আসরের এক আধা ঘণ্টা বিরতি দিয়েছেন। মাগরিবের সময়ও আরও আধা ঘণ্টা বিরতি দেবেন। টার্গেট হচ্ছে, আল্লাহর সেই বিধানকে যারা ঈমান এনেছে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে।’

নামাজ মানুষের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশের মানুষ নামাজ যারা আদায় করে তাদের সম্মান করে। তাদের সৎ বলে জানে এবং তাদের ওপর আস্থা রাখে।’

কোরআনের আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা নামাজ কায়েম ও জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। যাকাত ব্যবস্থা চালু হলে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন, যারা ক্ষমতা পাবে, আল্লাহ তায়ালা যাদের হাতে ক্ষমতা দেবেন, তাদের এক নম্বর কাজ হচ্ছে নামাজ চালু করে মানুষের চরিত্র ভালো করা এবং যাকাত চালু করে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা।’

তিনি সংসদে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যাতে নিজেরা নামাজি হই, দেশে নামাজ কায়েম হয়, আমাদের সন্তানরা যাতে সাত বছর বয়সে নামাজের প্রশিক্ষণ পায় এবং ১০ বছর হলে তাকে প্রশাসনিকভাবেও নামাজি বানানোর জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন।’

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে মুজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘শুধু আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, সকল সংসদ সদস্যের এটা উপকারে লাগবে। ১০০ বছর পরে কেউ সংসদে থাকবে না। মাননীয় স্পিকার, আপনিও থাকবেন না, আমরাও থাকব না। কবরে গিয়ে কী অসুবিধা হবে, সেদিন টের পাওয়া যাবে।’

রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্পিকার যেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে দেশে সালাত কায়েম ও জাকাত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে নাগরিকদের চরিত্র গঠন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার আবেদন জানান তিনি।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ধর্ম পালন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের বিষয়। প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে।

স্পিকার বলেন, ‘এটা তো পুরোই একটা ধর্মীয় ব্যাপার। প্রত্যেকের স্বাধীনতা রয়েছে নিজ নিজ ধর্ম পালন করার জন্য। এবং ইসলাম মানবতার ধর্ম।’

তিনি বলেন, ধর্ম সঠিকভাবে পালন করলে বেহেশত এবং ধর্ম পালনে অবহেলা করলে জাহান্নামে যাওয়ার বিষয়টি ধর্মীয় বিধানের অংশ। সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে অবগত এবং ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সংসদ থেকে কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যাবে না উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘এটা সংসদীয় স্পিকারের নোটিশ দিয়ে বলবৎ করা যাবে না।’

একই সঙ্গে মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘তবুও আপনি আপনার সেন্টিমেন্টকে আমরা সম্মান করি। এবং আমরা নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রদত্ত নির্দেশ মান্য করার জন্য সচেষ্ট থাকব।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

বাব আল-মানদাব ঘিরে হুতিদের তৎপরতা, বড় যুদ্ধের শঙ্কা

ইয়েমেনে চলমান সংঘাত নতুন করে বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখলে নিতে ইরান-সমর্থিত হুতিরা অগ্রসর হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। তাদের এই তৎপরতায় বাব আল-মানদাব প্রণালি ঘিরে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সরকারটি।

কাতারে নিযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত ও দেশটির সাবেক সরকারি মুখপাত্র রাজেহ বাদি বুধবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর লক্ষ্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের পাশাপাশি সামুদ্রিক যোগাযোগপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।

ইয়েমেনি রাষ্ট্রদূতের অভিযোগ, হুতিরা তাইজ প্রদেশের আল-মাখা ও আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের উপকূলঘেঁষা বিস্তৃত পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও অবস্থান শক্ত করছে তারা। এসব এলাকা থেকে জাহাজে হামলা চালিয়ে লোহিত সাগরের নৌ চলাচল ব্যাহত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে দাবি করেন বাদি।

তার ভাষ্য, হুতিদের এই অগ্রযাত্রার জবাবে ইয়েমেন সরকার আল-জাওফ, মারিব ও আল-বাইদা এলাকায় নতুন করে সামরিক ফ্রন্ট খুলেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাদি বলেন, ২০২১ সাল থেকে ইয়েমেন সরকার ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেনি। তার অভিযোগ, হুতিরাই নতুন করে আগ্রাসী তৎপরতা শুরু করেছে। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সামুদ্রিক যোগাযোগপথে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে তারা।

ইয়েমেনি রাষ্ট্রদূতের দাবি, হুতিদের এই তৎপরতার পেছনে ইরানেরও কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। হুতিদের ব্যবহার করে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথের ওপর নিজেদের প্রভাব আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাদি। তার মতে, হুতিরা যদি লোহিত সাগরে সামুদ্রিক চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরেকটি হরমুজ প্রণালির সংকটের মতো রূপ নিতে পারে। তবে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কারণ, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এ পথ দিয়ে জ্বালানি, খাদ্যসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে শুধু ইয়েমেন বা মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা

অস্ত্র হাতে ইয়েমেনিরা। ছবি: আল জাজিরা
অস্ত্র হাতে ইয়েমেনিরা। ছবি: আল জাজিরা

Wednesday, September 9, 2026

বাংলাদেশসহ একাধিক রাষ্ট্রকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখল ইসরায়েল

‘হাই হলি ডেজ’ বা ইহুদিদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি নাগরিক ও ইহুদিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে ইসরায়েলের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এনএসসি)। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

দ্য জেরুজালেম পোস্ট এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হালনাগাদ মূল্যায়নে এনএসসি জানায়, ইসরায়েলি ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে হামলার সুযোগ খুঁজছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন ও একক হামলাকারী। তবে এটিকে নতুন কোনো ভ্রমণ সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা না করে বর্তমান ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

এনএসসির মতে, ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত দেশের বাইরেও ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য হুমকি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য ও উসকানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং ব্যক্তিগত হামলাকারীদের মধ্যে হামলার আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে, যার কিছু সহিংস রূপ নিতে পারে। একই সময়ে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এনএসসি বলেছে, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের জন্য প্রধান সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে ইরান ও দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দেখা হচ্ছে। হামাসও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া ইসরায়েল ও ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে হামলার আহ্বান জানিয়েছে হুতিরা, এমন তথ্যও মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে সোমালিল্যান্ডসহ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণকারী ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে এনএসসি।

ইরানের আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে বিশেষভাবে সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড এবং মিসর, সিনাই উপদ্বীপসহ ইসরায়েলের সর্বোচ্চ ‘লেভেল ৪’ ভ্রমণ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। এসব এলাকায় ভ্রমণ বা অবস্থান এড়িয়ে চলতে ইসরায়েলিদের পরামর্শ দিয়েছে এনএসসি।

এ ছাড়া ইরাক, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া ও লেবানন ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ গন্তব্য হিসেবে বহাল রয়েছে। সৌদি আরবেও ভ্রমণে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, সোমালিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও আলজেরিয়ার নামও উল্লেখ করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা পরিষদ। এসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এমনকি বাংলাদেশিদের জন্যও ইসরায়েলে ভ্রমণের অনুমতি নেই। পাশাপাশি পাসপোর্টেও ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দ যোগ করেছে বাংলাদেশ।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীরা। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট
তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীরা। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট