Wednesday, August 10, 2011

তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠনে রোজা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজান ও তাকওয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আরবি ‘তাকওয়া’ শব্দের আভিধানিক অর্থ আল্লাহভীতি, পরহেজগারি, দ্বীনদারি, ভয় করা, বিরত থাকা, আত্মশুদ্ধি, নিজেকে কোনো বিপদ-আপদ বা অনিষ্ট থেকে রক্ষা করা প্রভৃতি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার ভয়ে সব ধরনের অন্যায়, অত্যাচার ও পাপাচার বর্জন করে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশানুযায়ী মানবজীবন পরিচালনা করার নামই তাকওয়া। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে অধিক মুত্তাকি।’ (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত-১৩)
মাহে রমজানের রোজার অন্তর্নিহিত তা ৎ পর্য হচ্ছে তাকওয়া ও হূদয়ের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাকওয়া হলো আল্লাহর হুকুমগুলো্রপালন ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাকওয়ার মাধ্যমেই বান্দা ইহকাল ও পরকালে তার মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে পরম সম্মানিত হয়। যত প্রকার ইবাদত ও বিধি-বিধান আছে, সবকিছুর মূলে তাকওয়ার অনুপ্রেরণা। তাকওয়া হাসিল হওয়ার পর মানুষের হূদয় আল্লাহর প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়। এমনিভাবে রমজান মাসে তাকওয়াভিত্তিক চরিত্র গঠনে রোজাদার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।
যিনি মুত্তাকি বা পরহেজগার হবেন, তিনি যাবতীয় খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবেন এবং ভালো কাজের অনুশীলন করবেন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ধৈর্য, ন্যায়বিচার বা আদল, ইহসান প্রভৃতি যত রকমের অনুপম মানবিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তিনি সেগুলোর অধিকারী হতে চেষ্টা করবেন। তিনি সর্বদা স ৎ কাজ করবেন এবং অপরকে স ৎ কাজের প্রতি বিনীতভাবে আহ্বান জানাবেন। আর নিজে অস ৎ কাজ থেকে সর্বদা বিরত থাকবেন এবং অন্য সবাইকে অস ৎ কাজ থেকে বিরত থাকতে সচেষ্ট হবেন। তিনি সময়মতো নামাজ আদায় করবেন, জাকাত প্রদান করবেন এবং মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা তথা রোজাব্রত পালন করবেন।
সত্যবাদী এবং মুত্তাকিনদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘স ৎ কর্ম শুধু এই নয় যে পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ করবে, বরং বড় স ৎ কাজ হলো এই যে ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর, কিয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর এবং সব নবী-রাসুলের ওপর আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে, আত্মীয়স্ব্বজন, এতিম-মিসকিন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসের জন্য। আর যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত প্রদান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণকারী, তারাই হলো সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই হলো মুত্তাকিন।’(সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৭৭)
বছরের এক মাসব্যাপী রোজা পালনের উদ্দেশ্য নিছক উপবাস থাকা নয়, এর মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন। মানুষের মধ্যে তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের লক্ষ্যে মাহে রমজানের পূর্ণাঙ্গ একটি মাস রোজা রাখা ফরজ করা হয়েছে। মুত্তাকির বৈশিষ্ট্য অর্জনের জন্য পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যেন তোমরা মুত্তাকি বা খোদাভীরু হতে পারো।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৩)
রোজাদার ব্যক্তি রোজা আছে কি না, তা সে ছাড়া অন্য কেউ জানে না। সামনে সুস্ব্বাদু ও লোভনীয় খাবার উপস্থ্থিত থাকা সত্ত্বেও স্রষ্টার প্রতি দায়িত্বশীলতার কারণে সে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। ক্ষুধা-পিপাসা ও খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছাকে আধ্যাত্মিক সাধনা বলে নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো রোজাদার যদি লোকচক্ষুর অন্তরালে কোনো খাদ্যদ্রব্য ভক্ষণ করেন বা কিছু পান করেন বা নিষিদ্ধ কোনো কাজ করে বসেন, তাহলে তা মানুষের জানার নয়। কিন্তু খাঁটি রোজাদার ব্যক্তি তা করেন না। কারণ, সেই মুত্তাকি জানেন যে মানুষ না দেখলেও আল্লাহ তাঁর বান্দার সব কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছেন। এভাবে রোজাদারের মধ্যে খোদাভীতি সৃষ্টি হয় এবং সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, যাবতীয় অশ্লীল কাজ, মিথ্যা কথা প্রভৃতি খারাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। তাই রোজাকে বলা হয় তাকওয়া অর্জনের মাস।
রোজা মুত্তাকির জন্য এক অফুরন্ত নিয়ামতস্বরূপ। কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মুত্তাকি ক্ষুধা, পিপাসা, কাম, ক্রোধ, লোভ-লালসা পরিত্যাগ করে রোজা পালনে ব্রতী হন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মাহে রমজানের রোজা পালন করতে গিয়ে রোজার সীমারেখা বুঝে নেবে এবং যে কর্তব্য রোজার ভেতর পালন করা বাঞ্ছনীয়, তা সুচারুভাবে পালন করে চলবে, তার এরূপ রোজা তার বিগত গুনাহের ক্ষমার কাফ্ফারা হয়ে যাবে।’ (বায়হাকি)
মাহে রমজানে তাকওয়ার গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে মানুষের পাপাচারের প্রতি আকর্ষণ দিন দিন হ্রাস পেতে থাকে। বস্তুত যে রোজা তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয় ও হূদয়ের পবিত্রতাশূন্য, সে রোজা যেন প্রকৃত অর্থে রোজাই নয়। রোজা যাতে অন্তঃসারশূন্য আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত না হয় এবং তা যেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই পালন করা হয়, সে জন্য মাহে রমজানে তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রতিও বিশেষ তাগিদ প্রদান করা হয়েছে।
একজন রোজা পালনকারী ও তাকওয়া অবলম্বনকারী মুমিন মুসলমান সমাজে কোনো প্রকার অশ্লীল ও অবৈধ কোনো খারাপ কাজ করবেন না, কারও অনিষ্ট সাধনের চিন্তাও করবেন না, বরং সর্বদা পরোপকারে লিপ্ত থাকবেন এবং পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশ মোতাবেক জীবন যাপন করে জান্নাত লাভের পথ সুগম করবেন। সবাই যদি তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সত্য ও ন্যায়ের পথে চলি, মানুষ হিসেবে মানবিক দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলোর প্রতি আত্মসচেতন হই, আল্লাহর নির্দেশ মান্য করি, সমাজে অন্যায়-অসত্য ও অকল্যাণের পথ বর্জন করে চলি, তাহলে নিশ্চয়ই আমরা মুত্তাকি হতে পারব।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

অতি দারিদ্র্য সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে চাই পদ্ধতিগত পরিবর্তন

শুধু খাদ্যগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে অতি দরিদ্রদের চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনায় আনতে হবে। আর দারিদ্র্যাবস্থা নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসূচকও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
গতকাল সোমবার বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অতি দারিদ্র্য নিরসন: জাতীয় কৌশল ও কার্যক্রম’ শীর্ষক সেমিনারে এ অভিমত প্রকাশ করা হয়।
সেমিনারের বিশেষ বক্তা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান এ বিষয়গুলোতে আলোকপাত করেন। তাঁর সঙ্গে অন্য বক্তারা খাদ্যগ্রহণের পাশাপাশি অন্য সূচকগুলো বিবেচনায় এনে অতি দরিদ্রদের চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন।
রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষক নাঈমা কাইয়ুম ও মৃণ্ময় সমাদ্দার।
সেমিনারে অতি দরিদ্রদের চিহ্নিত করার বর্তমান পদ্ধতির সমালোচনা করে আকবর আলি খান বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ক্যালরি গ্রহণ ও মৌলিক খাদ্যগ্রহণের ব্যয়—এই দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করে অতি দরিদ্রদের চিহ্নিত করে থাকে। কিন্তু অতি দরিদ্রের কোনোটা মৌসুমভিত্তিক, আবার কোনোটা পরিবেশ বিপর্যয়ভিত্তিক। তাই অতি দরিদ্রদের বুঝতে প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তন আনা উচিত।
আকবর আলি খান অতি দরিদ্র চিহ্নিত করতে জনগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনায় আনার পরামর্শ দেন। বলেন, দারিদ্র্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অনেক কিছু লুকিয়ে থাকে, যেটা সাধারণ প্রচলিত পদ্ধতিতে তুলে আনা যায় না। তাই অতি দরিদ্রদের নৃতাত্ত্বিক গবেষণা হওয়া উচিত।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কেননা ভালো খাবার খেলেও স্বাস্থ্যসুবিধা না থাকলে দারিদ্র্যাবস্থার উন্নতি হবে না। তাই দারিদ্র্য নির্ধারণে স্বাস্থ্যসূচকটি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠাতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব সমাজে কিছু দরিদ্র লোক থাকবেই। তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্য নিরসনে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো প্রশাসনের সব কার্যক্রমই কেন্দ্রীভূত, এটা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
মাহবুব হোসেন বলেন, দারিদ্র্যের সংজ্ঞা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এই মতভেদ দূর করা উচিত। তাঁর মতে, প্রবৃদ্ধিনির্ভর দারিদ্র্য নিরসন প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত। কেননা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় যেসব সুবিধা দেওয়া হয়, তা মূলত এক ধরনের ত্রাণ। এটা টেকসই উপায় হতে পারে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সরদার আমিনুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে এখন অনেকে দারিদ্র্য হচ্ছে। সম্পদ হস্তান্তর করে দারিদ্র্যাবস্থার উন্নতির করতে হবে।
সনাতনী উপায়গুলো প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের চেয়ারম্যান আলীম উল্লাহ মিয়ান।
অন্যদিকে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষক আহমেদ মিয়া বলেন, সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার উপায়ে দারিদ্র্য নিরসন করা সম্ভব। তাঁর মতে, স্বাধীনতার পর থেকে খাদ্য উ ৎ পাদন তিন গুণ বেড়েছে, আর জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। কিন্তু এখনো সবাই পর্যাপ্ত খাদ্য নিতে পারে না।
সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার অতি দারিদ্র্যবিষয়ক প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ২০১০ সালে অতি দারিদ্র্য বিষয়ে প্রথম আলো ১৯১টি, যুগান্তর ২০৯টি, দ্য ডেইলি স্টার ১৩০টি ও দ্য ইনডিপেনডেন্ট ১৩২টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এ সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা ডিএফআইডির উপদেষ্টা আরিফুর রহমান, নয়া দিগন্ত পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ব্র্যাকের পরিচালক শীপা হাফিজা, ডব্লিউএমএইচ জেইম প্রমুখ।

শ্রমমান বিষয়ে শিথিলতা চায় বাংলাদেশ: মুহিত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ফোরাম (টিইসিএফ) চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টিইসিএফ করার ব্যাপারে কমবেশি সব ইস্যুতে আমরা একমত হয়েছি। শ্রমমানের ইস্যুটি শুধু আটকে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমরা এ ব্যাপারে শিথিলতা চাই।’
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের অগ্রগতি সম্পর্কে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শ্রমমানের বিষয়টি আটকে থাকার কারণ হলো আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিধিবিধানের পরিপূর্ণ পরিপালন চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে শিশুশ্রম রয়েছে।
শ্রমমান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিতে বলবেন কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই বলব।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটি কী হতে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, ‘চুক্তি সই হয়ে যাওয়ার পর বোঝা যাবে, তা হচ্ছে কি না।’
জানা গেছে, প্রায় আট বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ রূপরেখা চুক্তিটি (টিফা) হয় হয় করেও শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। এ কারণে টিফার আদলে টিইসিএফ করা হচ্ছে।
গত জুনের শেষ দিকে বাংলাদেশ সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতির কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে এসেছে। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ সম্পৃক্ত করা, মেধাস্বত্ব এবং পরিবেশ আইন মেনে চলার ব্যাপারে অনাপত্তির কথা জানায় বাংলাদেশ। তবে শিথিল করার কথা বলেছে শ্রমমানের বিষয়ে। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। আর মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত কমিটি করা হবে

শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি বাজারের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে সেসব সমস্যা নিরসনে কাজ করবে।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি (বিএমবিএ) ও মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সমন্বিত কমিটি গঠনের ব্যাপারে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কোনো রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়নি। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই রূপরেখা তৈরি করা হবে।’ তিনি আরও জানান, বৈঠকে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গবেষণা ও পরামর্শ সেবা উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শ সেবা সুনির্দিষ্ট করা, ডিসক্রিশনারি বা ঐচ্ছিক হিসাবধারীদের মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো যাতে আরও সুচিন্তিত পরামর্শ ও সহায়তা দেয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে বিএমবিএ নেতা সোনালি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওয়ালিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এসইসি আমাদের ডেকেছিল। সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো বাজারে বিনিয়োগ করছি এবং তা চালিয়ে যাব। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের অজ্ঞতার কারণে বাজার অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তাঁদের শিক্ষিত করতে পারলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।’
এসইসির মুখপাত্র জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে বাজারে গুজব রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী যেসব ব্যাংক তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমা (সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট) অতিক্রম করেছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঋণ সমন্বয় করতে হবে, যা মোটেই সত্য নয়। এটি নিতান্তই গুজব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ঋণ সমন্বয়ের জন্য আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাবে।
বাজারচিত্র: সোমবার দরপতনের ধারা থেকে বের হয়ে এসেছে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। দুই বাজারেই লেনদেন হওয়া শেয়ারের দাম ও সূচক বেড়েছে। তবে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল দিনশেষে সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ২২৪ পয়েন্টে।
ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৫৬টি কোম্পানির মধ্যে ২২৭টিরই দাম বেড়েছে, কমেছে ২৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটির দাম। দিনশেষে ঢাকার বাজারে ৪৯৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৬৫ কোটি টাকা কম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল ৩২৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৫০ পয়েন্টে। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬২টিরই দাম বেড়েছে, কমেছে ১২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
তবে দিন শেষে চট্টগ্রামের বাজারে ৬৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ১২ কোটি টাকা কম।
পুঁজিবাজারে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এসইসিতে ১৫ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল গতকাল দুপুরে এসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেনের কাছে স্মারকলিপি দেয়।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ ফান্ডের আকার পাঁচ হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা, পুঁজিবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পুনর্বিনিয়োগে বাধ্য করা, বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত এসএলআর ও সিআরআরের হার কমানো, বাজারে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে নিয়ে আসা, কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসার ক্ষেত্রে মূল্য আয় অনুপাত (পিই) ১৫ নির্ধারণ, সব কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় রূপান্তর, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন, মার্জিন ঋণের হার ১:২ কার্যকর করা ইত্যাদি।

এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন

এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ মঙ্গলবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে কমিশনের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সাইফুর রহমান বলেন, এটি ১০ বছরমেয়াদি একটি ক্লোজ-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড। এর আকার ১৫০ কোটি টাকা। ফান্ডের প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা ও ৫০০ ইউনিটে একটি মার্কেট লট। ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করবে রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। ট্রাস্টি হচ্ছে বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি। আর কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৭৫ কোটি টাকা আইপিও-এর মাধ্যমে তোলা হবে। বাকি ৭৫ কোটি টাকা উদ্যোক্তা ও প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে তোলা হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্ট্রেলীয় বীর ন্যান্সি ওয়েক মারা গেছেন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার বীর যোদ্ধা এবং ফরাসি প্রতিরোধের অন্যতম মুখ ন্যান্সি ওয়েক গত সোমবার লন্ডনে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।
অসম সাহসিকতা ও কৌশলে জার্মান বাহিনীর কবল থেকে বের হয়ে আসতে পারার জন্য তিনি ‘সাদা ইঁদুর’ নামে খ্যাত।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বলেছেন, ‘ন্যান্সি ওয়েক এমন এক সাহসী ও দক্ষ নারী ছিলেন, যাঁর দুঃসাহসিক বীরত্বে বেঁচে যান শত শত মিত্র সেনা এবং ফ্রান্স না ৎ সি অবরোধমুক্ত হয়।’
ন্যান্সি ওয়েকের জন্ম নিউজিল্যান্ডে। ছোটবেলায় তিনি চলে আসেন অস্ট্রেলিয়ায়। সেখান থেকে তিরিশের দশকে ১৬ বছর বয়সে পাড়ি জমান ফ্রান্সে। কাজ শুরু করেন সাংবাদিক হিসেবে। ১৯৩৯ সালে বিয়ে করেন ফরাসি ব্যবসায়ী হেনরি ফাইয়োক্কাকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অবদানের জন্য ওয়েক ফ্রান্সের লিজিয়ন দ্য অনার, যুক্তরাজ্যের জর্জ মেডেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেডেল অব ফ্রিডম পেয়েছেন।

জাপানের বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে বান কি মুন

জাপানের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প, সুনামি ও পরমাণু বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সারা বিশ্বের জনগণের পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। গতকাল সোমবার তিনি প্রাকৃতিক ও পরমাণু বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের ফুকুশিমা এলাকা পরিদর্শন করেন এবং তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে জনসাধারণকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে উ ৎ সাহিত করেন।
বিপর্যয়ের পর এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ ফুকুশিমার আশপাশের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। বান কি মুন ও তাঁর স্ত্রী একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। মিনামিসোমা শহর ও ফুকুশিমা পরমাণুকেন্দ্রের চারদিকের ২০ কিলোমিটার এলাকার তিন শতাধিক মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। সংকীর্ণ জায়গার মধ্যে পাঁচ মাস ধরে তাদের সেখানে বসবাস করতে হচ্ছে। আপাতত তাদের সেখানেই থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বান কি মুন।
এ ছাড়া সুনামিতে বিধ্বস্ত হারাগামা সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করেন জাতিসংঘের মহাসচিব।

সেই ওয়েটারকে বকশিশ দিলেন ক্যামেরন

ইতালির তুসকানির একটি ক্যাফেতে গত সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে নিজের কফি নিজেকেই আনতে বলেছিলেন এক ওয়েটার। সেই ওয়েটারকে বকশিশ দেওয়ার জন্য আবারও ওই ক্যাফেতে গেলেন ক্যামেরন। ক্যামেরনকে না চেনার কারণে ওই ওয়েটার তাঁকে নিজের কফি নিজেকেই আনতে বলেছিলেন। ফলে ক্যামেরনও তাঁকে কোনো বকশিশ দেননি।
ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর খবরে বলা হয়েছে, ফ্রান্সেসকা আরিয়ানি (২৭) নামে ওই ওয়েটারের খোঁজে গত রোববার সকালে মেয়ে ন্যান্সিকে নিয়ে ওই ক্যাফেতে যান ডেভিড ক্যামেরন। এ সময় তিনি বিয়ার ও কোমল পানীয়র ফরমায়েশ দেন।
খবরে বলা হয়, ক্যামেরন আরিয়ানির সঙ্গে ছবি তুলেছেন। এ সময় তিনি আরিয়ানিকে বকশিশও দেন।
আরিয়ানি বলেন, ‘আমার খোঁজে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আবারও এখানে এসেছেন। তাঁকে দেখতে পারাটা আমার জন্য একটা বিস্ময়।’
গত সপ্তাহে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে সপরিবারে তুসকানি যান ক্যামেরন। পরে স্ত্রী সামান্থাকে নিয়ে ওই ক্যাফেতে গিয়ে তিন কাপ কফির ফরমায়েশ দেন তিনি। কফিগুলো আনার জন্য আরিয়ানিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আরিয়ানি সাফ জানিয়ে দেন, তিনি পারবেন না। কারণ, তিনি খুব ব্যস্ত।

আফগানিস্তানে ন্যাটোর আরও একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

আফগানিস্তানে ন্যাটোর আরও একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার দেশটির পূর্বাঞ্চলে এটি বিধ্বস্ত হয়। মাত্র দুই দিন আগে ন্যাটোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৩৮ জন নিহত হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটল।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। তবে তালেবানের এক মুখপাত্র বলেছেন, এ ঘটনায় ৩৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, আফগানি-স্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাকতিয়া প্রদেশে ন্যাটোর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফোর্সের (আইএসএএফ) একটি হেলিকপ্টার গতকাল বিধ্বস্ত হয়। সংস্থাটির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডেভিড ডোহেরটি জানান, এ দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে পাঠানো এক লিখিত বার্তায় জানান, তাঁরা এটি গুলি করে নামিয়েছেন এবং এতে ৩৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
এর দুই দিন আগে ন্যাটোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৩৮ জন নিহত হয়। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। এতে ৩০ মার্কিন সেনা, সাত আফগান ও এক দোভাষী নিহত হন। মার্কিন সেনাদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন মার্কিন বিশেষ নৌবাহিনী সিলের (এসইএএল) সদস্য। তালেবান ওই হেলিকপ্টারটিও গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে। তবে আইএসএএফ-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত নন।

জিম্বাবুয়েতে নির্যাতন ক্যাম্পের সন্ধান

জিম্বাবুয়েতে বন্দীদের নির্যাতন করা হয়—এমন একটি ক্যাম্পের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর ক্যাম্পটি পরিচালনা করছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। জিম্বাবুয়ের খনিক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ম্যারেঞ্জ এলাকায় এই ক্যাম্পের সন্ধান পাওয়া গেছে। ম্যারেঞ্জ বিশ্বের হীরকক্ষেত্রগুলোর একটি।
বিবিসির অনুসন্ধানমূলক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘প্যানোরামা’র এক অনুসন্ধানে এ নির্যাতন ক্যাম্পের সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্ভবত, তিন বছর ধরে নির্যাতন ক্যাম্পটি চালু রয়েছে। তবে এ বিষয়ে জিম্বাবুয়ের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রধান নির্যাতন ক্যাম্পটি স্থানীয়ভাবে ‘ডায়মন্ড বেস’ নামে পরিচিত। এটি হীরার খনি এমবাদা থেকে প্রায় এক মাইল দূরে জেনগেনি এলাকায় অবস্থিত। জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের এক বন্ধু এমবাদা খনির প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এটা প্রত্যন্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর নির্যাতন ক্যাম্পের একটি।
গত ফেব্রুয়ারিতে নির্যাতন ক্যাম্প থেকে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তি বিবিসিকে জানান, ‘এটা একটি নির্যাতনকেন্দ্র। খনিশ্রমিকেরা কাজে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। নারীশ্রমিকদের করা হয় ধর্ষণ।’
ক্যাম্পে নির্যাতনের ফলে হাত অকেজো হওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘চাবুক দিয়ে সকালে ৪০ বার, দুপুরে ৪০ বার ও সন্ধ্যায় ৪০ বার আঘাত করা হয়। তাঁরা লাঠি দিয়ে পায়ের নিচে পেটাত, তখন আমি মাটিতে পড়ে যেতাম। পাথর দিয়েও মাঝে মাঝে আমরা পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করা হতো। এখানে পুরুষদের বেশ কিছুদিন রাখা হয়। তবে নতুন বন্দীরা এলে পুরোনোদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান, প্রায়ই দেখা যায় ধর্ষণের পর নারীদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে প্রধান নির্যাতন ক্যাম্পে কাজ করেছেন দেশটির এমন একজন সাবেক আধা-সামরিক পুলিশ সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিবিসিকে জানান, তিনি নিজে অনেকের সামনে চাবুক দিয়ে বন্দীদের যৌনাঙ্গে আঘাত করে নির্যাতন করেছেন। তিনি আরও বলেন, বন্দীদের আঘাত করার জন্য কুকুরও ব্যবহার করা হতো। বন্দীদের হাতকড়া পরানো থাকত, ফলে কুকুর বন্দীকে সহজেই কামড়াতে পারত। বন্দীদের চি ৎ কারে তখন এক নারকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হতো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিম্বাবুয়ের একজন সেনা কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, কোনো বন্দী মারা গেলে সেনারা সেটা প্রকাশ করে না। কারণ সেটা তারা জানাতে চায় না।
হীরার আমদানি-রপ্তানি বিষয়ে নীতিনির্ধারণের আন্তর্জাতিক সংস্থা কিম্বারলি প্রসেস (কেপি) ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের হীরার বাণিজ্যের ওপর স্বল্পপরিসরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সম্ভবত, ম্যারেঞ্জ হীরা অঞ্চলে জিম্বাবুয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের কারণেই এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সংস্থাটি। ২০১০ সালের আগস্টে কেপির প্রতিনিধিরা এ অঞ্চল পরিদর্শন করেন এবং এলাকাটিতে সমস্যা রয়েছে বলে অভিহিত করেন। কেপি জিম্বাবুয়ের পুলিশকে এ হীরকক্ষেত্রটি নিরাপদ রাখতে অনুরোধও করেন।
কেপির পর্যবেক্ষণ দলের মুখপাত্র নিক ওয়েস্টকট বিবিসির এ অনুসন্ধান সম্পর্কে বলেন, কেপি যে বিষয়গুলো পেয়েছিল সেগুলোর তুলনায় এটা কিছুই নয়।

সোনিয়া গান্ধীর আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা

ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে গতকাল সোমবার ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক দল কংগ্রেস পার্টির সদস্য, আইনপ্রণেতা ও কর্মীরা দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনা করেছেন। পুদুচেরি কংগ্রেসের সভাপতি এ ভি সুব্রামানিয়ানের নেতৃত্বে মানাকুলা বিনয়াকার মন্দিরে এ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রার্থনা সভায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ই বালসরাজ, সাবেক কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী এম কান্দাস্বামী, কংগ্রেস আইনপ্রণেতা লক্ষ্মীনারায়ণ ও সাবেক স্পিকার এম ডি আর রামচন্দ্রন উপস্থিত ছিলেন।
৬৪ বছর বয়সী সোনিয়ার দেহে গত ৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকি ৎ সকেরা অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে সোনিয়ার কী ধরনের অসুস্থতার জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর দল বা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
সোনিয়াকে গত শনিবার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে চিকি ৎ সকদের তত্ত্বাবধানে তিনি সেখানে আরও কয়েক দিন অবস্থান করবেন।

ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৭

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কপলে টাউনশিপে গত রোববার এক বন্দুকধারীর গুলিতে তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুজন। পরে পুলিশ ওই বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করে। অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ওই বন্দুকধারী এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে বন্দুকধারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে বন্দুকধারী পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশও তার পিছু ধাওয়া করে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি করলে বন্দুকধারীর মৃত্যু হয়।
কপলে টাউনশিপের পুলিশপ্রধান মিচেল মিয়ার জানান, একটি বাড়ির বাইরে পাঁচজনের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। আর অন্য দুজনকে পৃথক দুটি স্থানে গুলি করে হত্যা করা হয়।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হতাহতদের অনেকেই বন্দুকধারীর পরিবারের সদস্য।

সিরিয়া থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে সৌদি আরব

সিরিয়ায় সরকারবিরোধীদের ওপর দমন অভিযানের প্রতিবাদে সে দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে সৌদি আরব। গত রোববার সিরিয়াজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন অভিযান চালিয়ে ৫২ জনকে হত্যার পর সৌদি আরব তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিল।
গতকাল সোমবার আল-আরাবিয়া টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে সৌদি বাদশা আবদুল্লাহ বলেন, সৌদি আরব সিরিয়া থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিচ্ছে। তিনি বলেন, সময় ফুরানোর আগেই হত্যাকাণ্ড ও রক্তপাত বন্ধে দামেস্কের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে সৌদি আরব। এ ছাড়া সৌদির বাদশা সমন্বিত ও দ্রুত সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দামেস্কর প্রতি আহ্বান জানান।
সৌদির বাদশা বলেন, সিরিয়ার ভবিষ্যতের জন্য দুটি পথ খোলা রয়েছে: সিরিয়া স্বেচ্ছায় যৌক্তিক পথ অবলম্বন করবে অথবা গভীর সংকট ও পরাজয়ের পথে এগিয়ে যাবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ গতকাল বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন অভিযান আরও জোরদার করেছেন। এদিন সেনারা দেইর আল-জর শহরে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালায়। একজন বাসিন্দা জানান, শহরের আল-হাওয়িকা নামক জায়গায় ব্যাপক গুলি ও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এখান বেসরকারি হাপাতালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং গোপন পুলিশের ভয়ে মানুষ আহত ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে পাঠাতে পারছে না। শহর থেকে প্রাণভয়ে হাজার হাজার লোক পালিয়ে গেছে। সেনারা গতকাল পাশ্ববর্তী আল-জরা শহরেও হামলা চালায়।
দামেস্কে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশনকে সাক্ষা ৎ কারে বলেছেন, ওয়াশিংটন বাশার আল-আসাদের শাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
আরব লিগ সিরিয়ায় সরকারবিরোধীদের ওপর দমন অভিযানের আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি আরব রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহরের ওই পদক্ষেপ নেয়। গত রোববার আরব লিগ অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করতে সিরিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। এ ছাড়া ছয় জাতির গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলও (জিসিসি) প্রথমবারের মতো সিরিয়ার সহিংসতার নিন্দা জানায়।
বিশ্লেষকেরা সৌদি আরবের পদক্ষেপকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করছেন। কারণ, আগে আরব বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর দেশটিকে এ ধরনের ভূমিকায় দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরবের পদক্ষেপে দামেস্কের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়বে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।
ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রতি সৌদি বাদশার বিবৃতি একটি শক্তিশালী বার্তা।
সৌদি বাদশার বিবৃতি প্রচারের কিছুক্ষণ পর আল-আরাবিয়া টেলিভিশন জানায়, কুয়েতের আইনপ্রণেতারা জিসিসির সদস্যদেশগুলোকে দামেস্ক থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

লন্ডনে হামলা-লুটপাট চলছেই

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গত রোববার রাতেও ব্যাপক বিক্ষোভ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ ও লুটপাট ছড়িয়ে পড়ে টটেনহামের বাইরে শহরের অন্যান্য এলাকায়। এতে আহত হয়েছে অনেকে। সারা রাতে পুলিশ শতাধিক লোককে গ্রেপ্তার করেছে।
তবে পুলিশ দাবি করেছে, শনিবার রাতের তুলনায় রোববার রাতের বিক্ষোভে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। এ সময় তাদের নয় সদস্য আহত হয়।
লন্ডনের ডেপুটি মেয়র কিট ম্যালথাউস বলেছেন, পুলিশের গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর নিয়ে উদ্বেগ থেকে নয়, বরং লুটপাট চালানোর উদ্দেশ্যেই অল্প কিছু অপরাধী এ বিক্ষোভ ও সহিংসতায় মদদ দিচ্ছে।
স্কাই নিউজকে ম্যালথাউস বলেন, লন্ডনের অধিবাসীদের মধ্যেই কিছু মানুষ আছে, যারা সুযোগ পেলেই কিছু হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তারাই এ কাজ করছে। এ জন্য তারা বেছে বেছে দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে।
পুলিশ কমান্ডার ক্রিস্টিন জোনস বলেন, শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় রোববার রাতে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ শতাধিক মানুষকে আটক করে। গত শনিবার রাতে ও রোববার সকালে আটক করা হয়েছিল ৬১ জনকে।
গত বৃহস্পতিবার টটেনহাম এলাকায় পুলিশের গুলিতে ট্যাক্সির এক যাত্রী নিহত হন। এর প্রতিবাদে গত শনিবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। বিক্ষুব্ধ লোকজন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকে হামলা ও লুটপাট করে এবং আগুন দেয় গাড়িতে।
পরদিন গত রোববার রাতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে টটেনহামের বাইরে উত্তর লন্ডনের হ্যাকনি, এনফিলড, পন্ডার্স অ্যান্ড ও পালমার্স গ্রিন; পূর্ব লন্ডনের ওয়ালথাম ফরেস্ট, চিংফোর্ড মাউন্ট ও দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটন, ক্রয়ডন এলাকায়। কোথাও কোথাও পুলিশের গাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, মধ্য লন্ডনের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা অক্সফোর্ড স্ট্রিটের অনেক দোকানে হামলা ও লুটপাট চালান অর্ধশতাধিক যুবক। দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটন এলাকায়ও অনেক দোকানে লুটপাট হয়। গতকাল সোমবার সকালে ওই এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ।
এসব ঘটনার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে দায়ী করা হলেও স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, এটা মানুষের উদ্বেগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। পুলিশের ভয়ে তাঁদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হচ্ছে।
তবে সাম্প্রদায়িক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার আকস্মিকতা ও ব্যাপকতায় স্থানীয় ব্যক্তিরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় পার্লামেন্ট সদস্য ডেভিড ল্যামি বলেন, আটক করা ব্যক্তিদের অনেকেই ওই এলাকার বাসিন্দা নয়। তারা বাইরে থেকে এসে হামলা ও লুটপাট চালাচ্ছে। আর এ জন্য তারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছে।
গতকাল টাইমস পত্রিকায় ডেভিড ল্যামি লিখেছেন, গত দুই দিনের সহিংসতার ঘটনা কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নয়। এটা টটেনহামের বাসিন্দাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা। টুইটারেই এর আয়োজন করা হয়েছে। একটি পরিবারের শোককে কাজে লাগিয়ে অন্য অনেক পরিবারের ওপর শোকের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
লন্ডনে কয়েক বছরের মধ্যে এটা অন্যতম বড় সংঘাতের ঘটনা। ১৯৮৫ সালে ব্রডওয়াটার ফার্ম এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন দাঙ্গা-সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, পুলিশের দুর্ব্যবহারের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের ক্ষোভ বেড়েছে। ব্রডওয়াটার এলাকার বাসিন্দা তুর্কি বংশোদ্ভূত এক যুবক বলেন, ‘আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছি। কিন্তু ইদানীং দেখছি, পুলিশ বিনা কারণেই তুর্কি ও কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর নির্যাতন করছে।’

অনূর্ধ্ব-১৯ খেলোয়াড় বাছাই শুরু

লেবাননের কাছে হেরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এবার নিকোলো ইলিয়েভস্কির অভিযান এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল নিয়ে। মেসিডোনিয়া থেকে ফিরে বাংলাদেশের কোচ সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নামবেন প্রস্তুতিতে। তবে এর আগে চলছে খেলোয়াড় বাছাই।
সারা দেশ থেকে আসা ১২০ জন খেলোয়াড় নিয়ে কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হয়ে গেল প্রাথমিক বাছাই। বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বায়েজিদ আলম জোবায়েরের তত্ত্বাবধানে চলছে এই বাছাই। আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এটি। কাল প্রথম দিনে বেছে নেওয়া হয়েছে ৩০ জন খেলোয়াড়কে। দুই দিনের মধ্যে বাছাই করা হবে আরও পাঁচজনকে। এই ৩৫ জন এবং আগে বাছাই করা ৩৫ জনকে নিয়ে ইলিয়েভস্কির ক্যাম্প শুরু হবে আগামী মাসে। আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকাতেই শুরু হবে বাংলাদেশের নিজেদের গ্রুপের খেলা ।

শ্রীলঙ্কার ১৫৭/৯

টি-টোয়েন্টি সিরিজটা কি তাহলে ড্র-ই হচ্ছে? গতিপথ সে রকমই। প্রথম ম্যাচে ঝড় তোলা তিলকারত্নে দিলশান কাল পাল্লেকেলেতে মাত্র ৪ রান করেই ফিরে যান ব্রেট লির বলে এলবিডব্লু হয়ে। মাহেলা জয়াবর্ধনে এক প্রান্ত আগলে রেখে রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে গেলেও অন্য প্রান্ত দিয়ে নিয়মিত উইকেট পড়ায় শ্রীলঙ্কার স্কোর ৯ উইকেটে ১৫৭ রানের বেশি হয়নি। এর ৮৬ রানই টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির আশা জাগানো জয়াবর্ধনের। ব্যাটিংয়ে নেমে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ছিল ঝড়ের গতিতে—৬ ওভারে ৭১।

প্রীতি ম্যাচের মেলায় ব্রাজিল-জার্মানি

ক্লাব ফুটবলের রোমাঞ্চ গায়ে মাখার সময় এসে গেছে। ইউরোপের ক্লাবগুলোর তাই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অনীহা। কিন্তু মুখোমুখি যখন ব্রাজিল-জার্মানি, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অবশ্যই সেই প্রীতি ম্যাচ বড় রোমাঞ্চের বিষয়।
প্রীতি ম্যাচের পসরায় ২০০২ বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট আগামীকাল মুখোমুখি হচ্ছে স্টুটগার্টে। ছয় বছরের মধ্যে এই প্রথম এক অপরের বিপক্ষে খেলছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি। এত দিন পর ব্রাজিল-জার্মানি লড়াই দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে ফুটবলামোদিরা। এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে ৫৪ হাজার টিকিটের সব।
জার্মানি যখন স্টুটগার্টে ২০০২ বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নামবে, জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান তখন পরীক্ষা দেবেন ফিলাডেলফিয়ায়। এখানেই মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাঁর।
ব্রাজিল-জার্মানি লড়াই, ক্লিন্সমানের পরীক্ষা তো আছেই; এই দিনটিকে ফিফা চাইলে ঘোষণা করে দিতে পারে প্রীতি ম্যাচ দিবস হিসেবেই। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ৫০টি প্রীতি ম্যাচ হবে এদিন। চোখ রাখার মতো ম্যাচও কম নয়। ইতালির বারিতে এদিনই মুখোমুখি হচ্ছে ইতালি-স্পেন আর ওয়েম্বলিতে খেলবে ইংল্যান্ড-হল্যান্ড।
ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবগুলোর ঘোর আপত্তি এই ম্যাচগুলো নিয়ে। মৌসুমের শুরুতেই আয়োজিত এসব প্রীতি ম্যাচ তাদের কাছে সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ইসিএ) দাবি, নিষিদ্ধ করা হোক ‘অসময়ের’ প্রীতি ম্যাচের আয়োজন।
গত বছর ১৯৭টি ক্লাবের সংগঠন ইসিএ আগস্টের প্রীতি ম্যাচ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ইসিএর সভাপতি কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে এই ম্যাচগুলোকে ‘অর্থহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর সঙ্গে বসে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময়সূচিকে পুনর্বিন্যাস করতে বলেন। সেই থেকে ফিফা ও ইসিএর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন। কোপা আমেরিকার পর এই মুহূর্তে আবারও ফুটবলারদের ছাড়তে অনিচ্ছুক ক্লাবগুলো।
তবে ক্লাবগুলো যতই আপত্তি জানাক, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিজেদের শক্তিমত্তা যাচাইয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না জাতীয় দলগুলো। বিশেষ করে, ব্রাজিল তো চাইবেই না। ইউরোপ কি এশিয়া—সব দেশই বিশ্বকাপ বাছাই খেলবে, কিন্তু স্বাগতিক বলে সেই সুযোগ পাচ্ছে না ব্রাজিল। প্রীতি ম্যাচগুলোই তাই পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রস্তুতির সুযোগ।

তারুণ্যই দিতে শুরু করল ফার্গুসনকে

ফন ডার সার, রায়ান গিগস, পল স্কলস, দিমিতার বারবেতভ, মাইকেল ক্যারিক, রিও ফার্ডিনান্ড, নেমানিয়া ভিদিচ—এক বছর আগেও বুড়োরাই ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাণ্ডারি। ধীরে ধীরে সেই জায়গা থেকে সরে এসে অ্যালেক্স ফার্গুসন ঝুঁকেছেন তরুণদের দিকে। এতে অবশ্য ‘এটা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঠিক সেরা একাদশ নয়’ জাতীয় সমালোচনাও হচ্ছে। কিন্তু ফার্গুসন তাঁর তরুণ তুর্কিদের নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত।
প্রথমে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও পরশু ওয়েম্বলিতে ফার্গুসনের তরুণ তুর্কিরা দুর্দান্ত লড়াই করে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে ঘরে তুলেছে কমিউনিটি শিল্ডের শিরোপা। মৌসুমসূচক শিরোপা জেতায় তরুণদের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে ফার্গুসনের। তাঁর বিশ্বাস, ওয়েম্বলির এই নাটকীয় জয়ে প্রমাণিত হয়েছে, তারুণ্যের প্রতি আস্থা রেখে সঠিক কাজটিই করেছেন।
তারুণ্যনির্ভর আক্রমণভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে শুরুতে রিও ফার্ডিনান্ড, নেমানিয়া ভিদিচ ও মাইকেল ক্যারিকের মতো অভিজ্ঞদেরই মাঠে নামিয়েছিলেন কোচ। কিন্তু প্রথমার্ধেই ২ গোল খেয়ে বসে ম্যানইউ। লেসকট ও এডিন জেকো গোল করে ম্যান সিটিকে ২-০-তে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ফার্গুসন নেন চ্যালেঞ্জ। অভিজ্ঞ তিন তারকা ফার্ডিনান্ড, ভিদিচ, ক্যারিককে উঠিয়ে মাঠে ফেলে দেন তিন তরুণ তুর্কি ফিল জোনস, টিম ক্লেভারলি ও জনি ইভান্সকে। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যানইউর স্কোয়াডের গড় বয়স দাঁড়ায় মাত্র ২২!
জোনস (১৯ বছর), ক্লেভারলি (২১) মাঠে নামেন ক্রিস স্মলিং (২১), ড্যানি ওয়েলবেক (২০) এবং ডেভিড ডি গিয়ার (২০) সঙ্গে। তারুণ্যের দ্যুতি ছড়িয়ে তাঁরা দ্রুতই পাল্টে দেন ম্যাচের চেহারা। ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দলকে ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয় উপহার দিয়ে বুঝিয়ে দেন ম্যানইউর ‘নতুন প্রজন্ম’ এসে গেছে।
ফার্গুসন যে জয়ে খুঁজে পেয়েছেন সমালোচনার জবাব, ‘এটা আমাদের স্রেফ নিশ্চিত করে দিয়েছে, স্কোয়াড নিয়ে আমি কী ভাবছি। লোকে বলত, এটা ঠিক ম্যানইউর সেরা স্কোয়াড নয়। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে, তরুণ খেলোয়াড়েরা অনেক উন্নতি করছে। আমি সব সময়ই জোনস, ক্লেভারলি, ইভান্সকে বড় ম্যাচের পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করাতে চেয়েছি। তাদের মাঠে ঠেলে দেওয়াটা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ এবং তারা ভালো করেছে।’
ফার্গুসন যখন মুখে হাসির আভা ছড়িয়ে অ্যাশলি ইয়ংয়ের মতো তরুণদের প্রশংসায় মাতলেন, রবার্তো মানচিনির মুখে তখন শিক্ষার কথা। ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও হার নিয়ে মাঠছাড়া ম্যান সিটির কোচ বলেছেন, ওয়েলম্বির এই দুঃখ থেকে তাঁরা শিক্ষা নিয়েছেন। ‘আমরা বুঝতে পারছি, কেন আমরা হারলাম। একটা শীর্ষ দল ভালো খেলতে না পারে, কিন্তু দুই গোল করতে মানসিক শক্তি থাকা প্রয়োজন। আমরা যদি চ্যাম্পিয়নস লিগে ইউনাইটেড কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের বিপক্ষে খেলি, অবশ্যই আমাদের খেলাটা ধরে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধে যা করেছি, এভাবে গুটিয়ে যাওয়া যাবে না। এ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার আছে’—বলেছেন মানচিনি।

মাঠ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাফুফে

‘মেসি-তেভেজদের মাঠে বসে দেখব, তাই টিকিট কিনতে এসেছি’—আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচের টিকিট হাতে পেয়ে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম উচ্ছ্বাসভরে বলছিলেন কাল। আইএফআইসি ব্যাংকের মতিঝিল শাখার সামনে গতকাল বিকেলে গিয়ে অবশ্য খুব বেশি ভিড় চোখে পড়েনি। গত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের টিকিট নিয়ে যতটা উন্মাদনা ছিল, ৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় মেসিদের প্রীতি ম্যাচ নিয়ে তা ততটা দেখা গেল না। আইএফআইসি ব্যাংকের মতিঝিল, ধানমন্ডি, গুলশান, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, উত্তরা, ইসলামপুর ও বসুন্ধরা শাখায় কাল থেকে শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রি।
আইএফআইসি ব্যাংক মতিঝিল শাখার কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দিন শেষে জানালেন, ‘৫০টি টিকিট বিক্রি হয়েছে।’ শুধু মতিঝিলে নয়, কোনো শাখাতেই কাল আশানুরূপ টিকিট বিক্রি হয়নি। আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক হেলাল এতে অবশ্য হতাশ নন, ‘এত তাড়াতাড়ি টিকিট নিয়ে উন্মাদনা হবে না। তা ছাড়া বৃষ্টি-বাদলের দিন বলেও হয়তো অনেকে টিকিট কিনতে আসেনি। আশা করছি, শেষ দিকে টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যাবে।’ টিকিট বিক্রি নিয়ে আশাবাদী হলেও মাঠ খুব বেশি আশাবাদী করতে পারছে না বাফুফের কর্মকর্তাদের। আর মাত্র ২৬ দিন সময় হাতে আছে। অথচ মাঠের পরিচর্যা, ড্রেসিংরুম ও প্রেসবক্স সাজানো-গোছানোর জন্য দেনদরবার করেই চলেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া কাজে হাত দিতে উন্মুখ হয়ে বসে আছেন। কিন্তু এনএসসি থেকে অনুমতি মিলছে না বলে হতাশ, ‘এনএসসি থেকে আমি এখনো মাঠ পরিচর্যা করার অনুমতি পাইনি। মাঠের কাজও তাই শুরু করতে পারছি না। সময়স্বল্পতার কারণে হয়তো পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মানের খেলার উপযোগী মাঠ তৈরি করতে পারব না।’ একই কথা বাফুফের মাঠ পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বাবুলেরও, ‘আমরা বারবার এনএসসির কাছে তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তারা বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমি গতকালও (পরশু) রহমান সাহেবকে মাঠ ও ড্রেসিংরুমের সংস্কারের কথা জানিয়েছি।’
ড্রেসিংরুমটাও আন্তর্জাতিক মানের নয় বলে ওটারও বিশেষ সংস্কারের প্রয়োজন। এ ব্যাপারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আবদুর রহমানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় মুঠোফোনে। তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে এসএমএস করে ফোন করা হয়েছে। তার পরও ফোন ধরেননি।
আগামী ১৫ অথবা ১৬ আগস্ট আর্জেন্টিনা এবং নাইজেরিয়ার পরিদর্শক দল ঢাকা আসবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম পরিদর্শনে। সবকিছু দেখে ওই কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট না হলে ভেন্যু নিয়ে সংশয়েই পড়ে যাবে বাফুফে। বাফুফের সহসভাপতি ও জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত, ‘আমরা মনে করি, এটা বিশ্বকাপ আয়োজনের চেয়েও বড় একটা ব্যাপার। মাঠ দেখে তারা কী সিদ্ধান্ত দেবে, সেটা বড় কথা নয়, এটা তো আমাদের দেশের ভাবমূর্তিরও একটা ব্যাপার।’
সত্যিই তা-ই। কারণ, আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া যদি মাঠ দেখে খুশি না হয়, আর সে জন্য যদি নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তারা এই প্রীতি ম্যাচের ব্যাপারে; সেই লজ্জা বাফুফের হবে না, হবে বাংলাদেশের!

ওভালেই তাঁর শততম সেঞ্চুরি!

সেঞ্চুরির সেঞ্চুরিটা যে হবেই, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কবে?
অপেক্ষার শুরু সেই বিশ্বকাপ থেকেই। নিজেকে যেমন, ভক্তদেরও তেমনি অপেক্ষায় রাখছেন শচীন টেন্ডুলকার। তবে ওয়াসিম আকরামের ধারণা, চলতি ইংল্যান্ড সিরিজেই কাঙ্ক্ষিত শততম সেঞ্চুরি পেয়ে যাবেন টেন্ডুলকার। সাবেক পাকিস্তান অধিনায়কের বিশ্বাস, এজবাস্টনে না হলেও ওভালে শেষ টেস্টেই তিনি সেঞ্চুরি পাবেন। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং উইকেটগুলোর একটি ওভাল, আকরামের যুক্তি সেটাই।
সাবেক সতীর্থ ও কাছের বন্ধু মঈন খান আয়োজিত করপোরেট টি-টোয়েন্টি লিগের উদ্বোধন উপলক্ষে আকরাম গিয়েছিলেন করাচিতে। সেখানেই জানালেন তাঁর টেন্ডুলকার-ভাবনা, ‘আমার মনে হয়, ওভালে চতুর্থ টেস্টেই মাইলফলকটা ছোঁবে টেন্ডুলকার, ইতিহাস গড়ার সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা ওখানেই। শততম সেঞ্চুরি করা হবে অসাধারণ এক মাইলফলক, আমার তো মনে হয় না, কেউ এর ধারেকাছেও যেতে পারবে।’
চলতি সিরিজে চার ইনিংসে মাত্র একটি ফিফটি পেয়েছেন টেন্ডুলকার। তার পরও আকরামের মনে হচ্ছে এই পারফরম্যান্স খুব একটা খারাপ না। তবে পাচ্ছেন না ভাগ্যের সহায়তা, ‘ইংলিশ কন্ডিশনে ভাগ্যও পক্ষে থাকতে হয়, কারণ বল এখানে অনেক মুভ করে। এজবাস্টনেও বল মুভ করবে, তবে আমার মনে হয় ওভালেই হবে শততম সেঞ্চুরি।’
আকরামের অবশ্য ধারণা শততম সেঞ্চুরি নিয়ে এত আলোচনা টেন্ডুলকারের জন্যও চাপ হয়ে গেছে, ‘এ নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে যে টেন্ডুলকারের মতো গ্রেট ব্যাটসম্যানও চাপ অনুভব করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সেরা ব্যাটসম্যানরাও চাপে পড়ে যায়।’

ক্রিকেটারদের দায়, বিসিবিরও কি নয়!

বিশ্ব ক্রিকেটে ‘দলনেতা’ পদটা বাংলাদেশের আবিষ্কার। প্রতি সফরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন পরিচালক দলনেতা হয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেন। জিম্বাবুয়ে সফরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দলনেতা হিসেবে এসেছেন শফিকুর রহমান, যাঁকে বাংলাদেশের পরাজয়ের পর খুব মর্মাহত দেখাল।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মনমানসিকতায় আগে থেকেই একটু বিরক্ত ছিলেন। এমন লজ্জাজনক পরাজয়ের পর সেই বিরক্তি আরও বাড়বে স্বাভাবিক। যতটা পরাজয়ে, তার চেয়ে বেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে নিবেদনের অভাব দেখে।
হারারে টেস্টে বাংলাদেশ যেভাবে হেরেছে, সেটির জন্য সবার আগে খেলোয়াড়দেরই দাঁড়াতে হবে কাঠগড়ায়। পুরো দেশের মানুষ উন্মুখ প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে তাঁদের দিকে—এই উপলব্ধিটা সবার মধ্যে যে দায়িত্ববোধ জাগানোর কথা, সেটি অনেকটাই অনুপস্থিত। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ পৌনে তিন দিনেই হেরে যাওয়ার পরও খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো বিকার নেই। টেস্ট ম্যাচ নিয়ে কথা উঠলে ‘ওটা আমরাই জিতব’ এমন একটা ভঙ্গি। টেস্ট শেষে শফিকুর রহমানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি নিশ্চয়ই খেলোয়াড়দের ধুয়ে দিতেন।
খেলোয়াড়দের দায় তো অবশ্যই আছে। তবে শফিকুর রহমানের কি নিজেরও একটু আয়নার সামনে দাঁড়ানো উচিত নয়? সেটি ব্যক্তি শফিকুর রহমান হিসেবে নয়, বিসিবির পরিচালক হিসেবে। মানুষ হিসেবে নিপাট ভদ্রলোক, ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ। কিন্তু বিসিবির প্রতিনিধি হিসেবে এই পরাজয়ের দায়ভার তো তাঁকেও নিতে হবে। বিসিবির দায়ও তো কম নয়।
দুই দলের মধ্যে খুব পার্থক্য নেই। মাঝখানে জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটে লাগা আগুনের কল্যাণে বাংলাদেশই হয়তো এগিয়ে। কিন্তু হারারে টেস্টে দুই দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান গড়ে দিল প্রস্তুতি। একদল সাড়ে ছয় বছর পর টেস্ট খেলতে নামলেও সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি নিয়ে নেমেছে। আরেক দল চৌদ্দ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে গেছে বলতে গেলে প্রস্তুতি ছাড়াই। ক্রিকেট এত সহজ খেলা নয়, টেস্ট ক্রিকেট তো নয়ই।
এই যে দুই দলের প্রস্তুতিতে যোজন যোজন ব্যবধান, সেটির দায় তো পুরোপুরিই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। বিজয়োল্লাসরত জিম্বাবুয়ে দলের পাশে দাঁড়িয়ে মাঠেই কথা বলছিলেন অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক। গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, হিথ স্ট্রিকের মতো সাবেক খেলোয়াড়দের জিম্বাবুয়ে দলের সঙ্গে যুক্ত করার মূলেও তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এমন স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনে আনন্দে উচ্ছ্বসিত থাকবেন স্বাভাবিক। সেই উচ্ছ্বাসের মধ্যেও মনে করিয়ে দিলেন, অনেক পরিকল্পনা, অনেক প্রস্তুতির ফসল এই জয়, ‘এমন না যে, আমরা হঠা ৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই বছর আগে থেকে আমরা প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলেছি হিসাব করে। যখন মনে হয়েছে আমরা পুরো প্রস্তুত, তখনই ফিরেছি।’
সেই প্রস্তুতির পুরোটাই হয়েছে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে নির্বাসনের পরের মৌসুম থেকে ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস টুর্নামেন্টে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বিদেশি কোচরা এসেছেন, ব্রায়ান লারার মতো নামী বিদেশি খেলোয়াড়েরাও। ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষে জিম্বাবুইয়ান খেলোয়াড়েরা দুই বছরে বারবার ২৪টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলেছেন। এর বাইরেও দেশে ও দেশের বাইরে খেলেছেন বিভিন্ন দেশের ‘এ’ দলের সঙ্গে। বাংলাদেশের সঙ্গে এই টেস্টের আগে দেশে খেলেছেন শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের সঙ্গে। যে কারণে জিম্বাবুয়ের কোচ অ্যালান বুচার বলতে পারছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া “এ” দলের সঙ্গে সিরিজটা আমাদের খুব কাজে লেগেছে। জিততে না পারলেও এটি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। যে কারণে আমরা এই টেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে নয়, জেতার লক্ষ্য নিয়ে নেমেছি।’ অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর নিজেদের কৃতিত্ব খাটো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েও বলে দিলেন, ‘আমার মনে হয় না, বাংলাদেশের প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল। ওরা অনেক দিন লংগার ভার্সন ম্যাচ খেলেনি।’
অনেক দিন মানে টেস্ট বিরতির ওই চৌদ্দ মাসই। তামিম ইকবালের মতো অনেকের জন্য গত বছর ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টের পর হারারে টেস্টই প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ। মাঝের সময়টায় বিসিবি কী করেছে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। চৌদ্দ মাস পর টেস্ট খেলার ব্যাপারটি তো আর হঠা ৎ জানা যায়নি। আবার টেস্টে ফেরার আগে কেন সেটি নিয়ে ভাবা হয়নি? শেষ মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যাচ খেলার চেষ্টাটাকে লোক-দেখানো মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। জিম্বাবুয়েতে কদিন আগে এসে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বাড়তি কিছু টাকা খরচ হবে বলে। বিসিবির টাকা খরচ করার অগ্রাধিকার তালিকায় টেস্ট ম্যাচের প্রস্তুতি যে অনেক পরে আসে। বাংলাদেশ দল টেস্টের প্রস্তুতি নিয়েছে একাডেমির কিশোরদের সঙ্গে ম্যাচ খেলে। তার একটি আবার হয়েছে এমন মাঠে, যেখানে মাঠের সোজাসুজি দৈর্ঘ্য কম বলে ‘সোজা মারলে রান নেই’ নিয়মে। অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল শুনলে নিশ্চিত হাসতে হাসতে বিষম খাবেন।
চৌদ্দ মাসের বিরতিতেও তো বিসিবির মূর্খামির দায় আছে। বাকি সব দেশ যখন টেস্ট ম্যাচ খেলছে, ‘বিশ্বকাপ জয়ের’ প্রস্তুতিতে ফাঁক না রাখতে চেয়ে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ১১ বছর পরও ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট হয়ে আছে তামাশা। এতটাই যে, বাংলাদেশের এই দলের বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর জাতীয় লিগে খেলেনইনি। বিসিবির এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই, সেখানে ব্যস্ততা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে। বিসিবির পরিচালকদের মধ্যে সাবেক ক্রিকেটারের সংখ্যা একেবারে কম নয়। অথচ জাতীয় লিগটাকে অর্থপূর্ণ করার চেষ্টা না করে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট করে কী লাভ—এই প্রশ্নটা তোলার মতো কেউ নেই।
হারারে টেস্টে পরাজয়ের পর ক্রিকেটারদের কমিটমেন্ট নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠবে। সেটি অন্যায়ও হবে না। তবে একই সঙ্গে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের তুলনায় সম্ভবত ২০ গুণেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিচালকসমৃদ্ধ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেও কি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত নয়?

তামিমকে মুখেও জবাব টেলরের

সানগ্লাসে চোখ দুটি ঢাকা। পুরস্কার বিতরণী শেষে মাঠে দাঁড়িয়ে স্টুয়ার্ট ল। মনটা খুব খারাপ, সেটি তো না বললেও চলে। ‘হাই স্টুয়ার্ট, বাংলাদেশের কোচ হিসেবে সম্ভাব্য সবচেয়ে বাজে শুরু, তাই না?’ কথাটা শুনে লর মুখে অদ্ভুত একটা হাসি ফুটল, ‘থ্যাংকস্ মেট।’ এরপর তীব্র ব্যঙ্গের সুরে নিজে থেকেই বললেন, ‘শুধু শুধু বড় বড় কথা। কথা একটু বেশিই হয়েছে। এখন সময় হয়েছে মুখ বন্ধ রেখে কিছু করে দেখানোর। বড় বড় কথা বলে সেটিকে কাজে পরিণত করতে না পারলে তা গাধার মতো দেখায়।’
স্টুয়ার্ট ল নির্দিষ্ট কারও নাম বলেননি। হয়তো সব খেলোয়াড় সম্পর্কেই বলেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা সবাই ধরে নিলেন, কথাটা তামিম ইকবাল সম্পর্কেই বললেন ল। কথা যে বাংলাদেশের বাঁ হাতি ওপেনারই বেশি বলেছেন। টেস্ট শুরুর আগে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষা ৎ কারে ঘোষণা করে দিয়েছেন, বাংলাদেশ সামর্থ্যের ৭০ ভাগ খেলতে পারলেও এই টেস্ট জিতবে। জিম্বাবুইয়ান বোলারদের তাচ্ছিল্যভরে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বের সেরা বোলারদের খেলেছি। ওদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে যাব কেন?’
ম্যাচের আগে এমন কথাবার্তা মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত। সমস্যা একটাই, যেটি স্টুয়ার্ট ল বললেন। সেই কথাকে কাজে পরিণত করতে না পারলে তখন নিজেকে ‘গাধা’ হয়ে যেতে হয়। দুই ইনিংসে ১৫ ও ৪৩। আগের দুই টেস্টে সেঞ্চুরি ছিল, টানা তৃতীয় সেঞ্চুরির বদলে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫৮ রান—বাংলাদেশের পরাজয়ের দায়ভার তো তামিমের ওপর ভালোই বর্তায়।
তামিম ইকবাল অবশ্য বলতে পারেন, ‘আমি বলেছিলাম বাংলাদেশ ৭০ ভাগ খেলতে পারলেই জিতবে। আমরা ৭০ ভাগ খেলতে পারিনি।’ সমস্যা হলো, কোনো দলের ১০০ ভাগ খেলা বলতে কী বোঝায়, তার কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। প্রতিপক্ষ কেমন খেলে, তার ওপরও তো নির্ভর করে নিজেদের খেলা। প্রতিপক্ষ ভালো বোলিং করলে ব্যাটসম্যানদের কাজটা কঠিন হয়ে যায়। ব্যাটসম্যানরা ভালো ব্যাটিং করলে কঠিন হয়ে যায় বোলিং। এই টেস্ট ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং দুই ক্ষেত্রেই তো জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এক শ গজ এগিয়ে থাকল।
ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়ে গেলে হতো। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি পেসার ব্রায়ান ভিটরিকে ‘অর্ডিনারি’ বানিয়ে দিলেন তামিম। আরেক পেসার কাইল জার্ভিসকে দয়া করে বললেন, ‘হি ইজ ওকে’। ‘অর্ডিনারি’ আর ‘ওকে’ দুই পেসারই ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে উপহার দিলেন লজ্জায় মুখ লুকোনোর মতো পরাজয়।
তামিমের ওই মন্তব্য জিম্বাবুয়ে শিবিরে দ্রুতই পৌঁছে যায়। টেস্ট জেতার পর জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর সেটির কড়া জবাব দেওয়ার সুযোগটাও ছাড়লেন না, ‘ওসব মন্তব্য আমাদের অনেক উদ্দীপিত করেছে। আমার তো মনে হয়, এই ম্যাচে তামিমের পারফরম্যান্সও খুব অর্ডিনারি। কারণ ও ভালো খেলোয়াড়, দল ওর কাছ থেকে বড় রান প্রত্যাশা করেছিল। ও খামখেয়ালির মতো শট খেলে আউট হয়েছে। আমি মনে করি, মুখে বড় বড় কথা না বলে পারফরম্যান্সই যেন কথা বলে, এটি মনে রাখা ভালো। বাংলাদেশ সব সময়ই আমাদের সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে। বড় বড় কথা না বলে তামিমের উচিত নিজের দিকে তাকানো।’
তামিম যে ‘যুদ্ধ’ শুরু করে দিয়েছেন, নিশ্চিত থাকতে পারেন ওয়ানডে সিরিজ জুড়েই তা চলবে। তবে এই টেস্টের পর আপাতত মনে হয় তামিমের মুখ বন্ধ করে থাকাই ভালো। ব্রেন্ডন টেলর যেমন বলেছেন, পারফরম্যান্স কথা বললে মুখে আর কিছু বলতে হয় না।