Showing posts with label মাগুরা. Show all posts
Showing posts with label মাগুরা. Show all posts

Saturday, March 8, 2025

মাগুরায় বর্বরতা: বেড়াতে এসে শিশু ধর্ষিত

মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে আট বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির  দুলাভাই ও তার বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।

সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। এখনো সে অচেতন অবস্থায় আছে। তাকে শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হবে। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা হাসপাতালে আনা হয়। সেখান থেকে দুপুরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায়। শিশুটি কয়েকদিন আগে তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার বোনের শাশুড়ি। পরে শিশুটির মা হাসপাতালে আসেন। অভিযুক্তের স্ত্রী জাহেরা বেগম বলেন, আমি মাঠে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি একটি শিশু পড়ে আছে। তাড়াতাড়ি সবাইকে খবর দিয়ে তাকে জরুরি ভিত্তিতে মাগুরা হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করি। বিকালে তার অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি। আমার স্বামী খুবই খারাপ প্রকৃতির একজন মানুষ। সে আমার সঙ্গেও সব সময় দুর্ব্যবহার করে। তার সঙ্গে আমি কোনো ভাবেই পারছি না। যেকোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করলে আমার ওপর নেমে আসে নানা ধরনের নির্যাতন।

মাগুরা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করে দেখা গেছে শিশুটির গলায় একটা দাগ আছে। মনে হচ্ছে, কিছু দিয়ে চেপে ধরা হয়েছিল। শরীরের বেশ কিছু জায়গায় আঁচড় আছে। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ওসি আইয়ুব আলী বলেন, শিশুটির সঙ্গে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটি অচেতন অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, যে বাসায় সে বেড়াতে এসেছিল সেখানেই ঘটনাটি ঘটেছে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তার দুলাভাই ও দুলাভাইয়ের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

মাগুরা শহরে বিক্ষোভ:
এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে শহর ছিল উত্তাল। জুমার নামাজ শেষে শহরের পারনান্দুয়ালী, নিজনান্দুয়ালী চরপাড়া গ্রাম থেকে শত শত যুবক ধর্ষকের ফাঁসি চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভায়না মোড় অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে হিটু ও তার ছেলে সজীবের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা খুলনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে। তারপর মিছিল নিয়ে জনতা সদর থানা ঘেরাও করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।  

এদিকে, ঘটনাটি কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবারসহ মাগুরাবাসী। সরজমিন নিজনান্দুয়ালী মাঠ পাড়া এলাকায় দেখা যায়, এলাকাটি পুরোপুরি থমথমে। মাঠপাড়া মানুষের মুখে নেমে এসেছে বিস্ময়ের ছায়া। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী, কৃষান-কৃষানি থেকে শুরু করে সব মানুষের একটাই দাবি, এ ঘটনার সঠিক বিচার হোক এবং জড়িতদের ফাঁসি হোক। পবিত্র রমজান মাসে যারা এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তারা অমানুষ। স্থানীয় কৃষক সোহানুর রহমান জানান, আমি মাঠে কাজ করছিলাম। দুপুরের পর ঘটনাটি শুনে হতবাক হয়েছি। যে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে সে আমাদের গ্রামেরই একজন খারাপ প্রকৃতির মানুষ। পূর্বেও হিটুর নামে এমন অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী আওয়াল হোসেন জানান, এ ঘটনায় আমরা গ্রামবাসী শুক্রবার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রশাসনের নিকট ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় এনে ফাঁসির দাবি করছি।

mzamin


Monday, October 21, 2019

মালচিং পদ্ধতিতে লাউ চাষে দিদারের সাফল্য by এস আলম তুহিন

পরিবেশবান্ধব ‘মালচিং পদ্ধতি’ ব্যবহার করে দেশি জাতের লাউ উৎপাদনে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে মাগুরা সদর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের তরুণ কৃষক দিদার। কৃষক দিদার জানান, ‘মালচিং মেথড’ ভারত ও ইসরাইলে খুবই জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রথম এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি মাগুরার কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেন। তখন তারা এ পদ্ধতির কলাকৌশল সম্পর্কে তাকে জানালে তিনি ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত হন। দিদার ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রচলিত পদ্ধতিতে লাউ বীজ সরাসরি জমিতে লাগানো হয়। কিন্তু মালচিং মেথড অনুযায়ী মালচিং পেপারে মুড়িয়ে অঙ্কুরিত বীজ জমিতে রোপণ করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রথমে মালচিং পলিথিন দিয়ে একটি বীজতলা নির্মাণ করা হয়। এরপর লাউ বীজ সেখানে স্থাপন করা হয়।
এবার মালচিং পেপার ছিদ্র করে বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর, তা মাচায় প্রতিস্থাপন করা হয় ধীরে ধীরে। যেহেতু বীজগুলো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো থাকে, তাই কোনো কীট-পতঙ্গ আক্রমণ করতে পারে না। ফলে কীটনাশক ব্যবহারেরও প্রয়োজন হয় না। একই কারণে ক্ষতিকর সূর্যালোকও এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। সাধারণ পদ্ধতিতে অনেক সময় বৃষ্টি হলে বীজতলা বা ক্ষেত থেকে সার ধুয়ে যায়। মালচিং পেপার দিয়ে মোড়ানো থাকায় এখানে সেই সম্ভাবনাও নেই।
দিদার বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে যে পেপারটি ব্যবহার হয় তা সরাসরি চায়না থেকে বাংলাদেশের বাজারে আসে তারপর আমরা তা ক্রয় করি। এবার ৬০ শতক জমিতে ৩শ’ লাউ বীজ রোপণ করেছি। সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ বাবদ আমার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। খরচ বাদে আমার প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকার অধিক আয় হবে। বর্তমানে আমার ক্ষেতে ৬-৭ জন শ্রমিক কাজ করে। প্রতিদিন ১৫০-২০০ লাউ ক্ষেত থেকে কাটা হয়। মাগুরাসহ বাইরের জেলার ব্যাপারীরা ক্ষেত থেকেই লাউ ক্রয় করে নিয়ে যায়। শীত মৌসুমে লাউয়ের চাহিদা আরো বাড়তে থাকে বলে তিনি মনে করেন। লাউ উৎপাদনে সাধারণত অন্যান্য ফসলের তুলনায় পরিশ্রম কম। তবে, মালচিং পদ্ধতি লাউ চাষ করলে ফলন ভালো পাওয়া যায় বলে জানান। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় মালচিং পদ্ধতিটি ফসল চাষ করে অনেক কৃষক সাফল্য অর্জন করেছেন। তাদের এ পদ্ধতি দেখে  মাগুরাতে এ পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হই। শুধু লাউ নয়, এর আগে তিনি এ পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশি  জাতের সবজি ভেনডি, করলা, শসা, খিরে ও তরমুজের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহিদুল আমিন বলেন, ‘প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে এ পদ্ধতিতে কমপক্ষে ৫০ ভাগ সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কম লাগে, যা পরিবেশবান্ধব। প্রচলিত পদ্ধতিতে জমিতে ৫-৬ বার সেচ দিতে হয়, সেখানে এ পদ্ধতিতে মাত্র দুবার সেচ দেয়াই যথেষ্ট। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মালচিং পদ্ধতিতে লাউসহ নানা সবজি আবাদ হলেও মাগুরায় এই প্রথমবারের মতো আবাদ হলো। দিদারের সাফল্যে আমরাও গর্বিত। এখন চেষ্টা করছি, এ পদ্ধতিকে কীভাবে এ জেলায় আরো কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় করা যায়।’
ইতিমধ্যে দিদারের সাফল্য দেখে জেলার অনেক যুবক মালচিং চাষে ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কিভাবে, কোন পদ্ধতিতে চাষ করতে হয়। আমরা তাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে উৎসাহিত করছি।

Monday, September 23, 2019

একাঙ্গি চাষে নতুন সম্ভাবনা by মাজহারুল হক লিপু

মসলা জাতীয় উদ্ভিদ একাঙ্গি (অ্যারোমেটিক জিনজার) উৎপাদনে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে মাগুরা মসলা গবেষণা উপকেন্দ্র। রান্নায় এটি যেমন অত্যাবশ্যকীয় উপাদান, তেমনি বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। চীন, তাইওয়ান, কম্বোডিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই মাগুরাসহ দেশের কৃষকদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় বৃহৎ পরিসরে একাঙ্গির চাষ করা হয়। থাই ও চাইনিজ রান্নাতে এটি বেশি ব্যবহার করা হয়। এর পাতা পুরু ও গোলাকৃতি, মাটির সঙ্গে লাগানো অবস্থায় থাকে। ক্ষুদ্র রাইজোম থেকে বসন্তকালে নতুন পাতা বাড়তে শুরু করে। গ্রীষ্মকালে একটি বা দু’টি ফুল হয়। দুই মাস পর্যন্ত ফুল ফোটে। পাতা হেমন্তে মরে যায় এবং রাইজোম শীতকালে সুপ্ত অবস্থায় চলে যায়। শুকনো বা তাজা রাইজোম মসলা হিসেবে এশীয় ও চাইনিজ রান্নাতে ব্যবহৃত হয়। মৎস্য শিকারের চার তৈরি ও ওষুধ তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হয়। একাঙ্গি চাষ করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হয়।
মাগুরা মসলা গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আট মাস আগে একাঙ্গির আবাদ শুরু করি। সাধারণত এর জীবনকাল ২৭০ থেকে ২৮০ দিন। এর পরই একাঙ্গি ঘরে তোলা যাবে। সাধারণত প্রতি হেক্টর জমিতে সাত-আট মেট্রিক টন একাঙ্গি উৎপাদিত হয়। পরীক্ষামূলক উৎপাদনে বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে। সাধারণত প্রতিমণ একাঙ্গি বাজারে আট থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। একজন কৃষক প্রতি হেক্টর জমি থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন; যা অন্য কোনও শস্য উৎপাদনে সম্ভব নয়।’
মাগুরা বৈঠকখানার পরিচালক রাসেল হাসান বলেন, ‘একাঙ্গি আমরা সাধারণত ঢাকা থেকে সংগ্রহ করি। মাগুরায় এর উৎপাদন সম্ভব হলে, সহজে এবং কম দামে সংগ্রহ করতে পারবো।’
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ হেল কাফি বলেন, ‘একাঙ্গিতে রয়েছে অত্যন্ত ঔষধি গুণ। এটি ফেনোল কম্পাউন্ডের কাজ করে, যা শরীরে সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এটি মানুষের প্রোটিনের অভাব পূরণ ছাড়াও গ্যস্ট্রিক, চর্ম ও ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিবারণে অত্যন্ত কার্যকরী।’
মাগুরার প্রকৃতি ও কৃষিবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ‘পল্লী প্রকৃতি’র নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান পিন্টু বলেন,‘একাঙ্গি চাষ মাগুরার কৃষিতে বিপ্লব বয়ে আনবে। এটি যেমন কৃষকদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনতে পারে, তেমনি পরিকল্পনা মাফিক এগোলে, এখান থেকে একাঙ্গি রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব।’
একাঙ্গি ক্ষেত পরিচর্যা করা হচ্ছে

Friday, September 20, 2019

শৈশবের দুরন্তপনা by কাজী আশিক রহমান

মাগুরায় প্রাথমিকের বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়া এ শিশুরা সুযোগ পেলেই ফুটবল নিয়ে মাঠে নামে। বৃষ্টির পানি মাঠে জমে যাওয়ায় এই খেলা বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে। মাঠের এক পাশ শুকনা থাকলেও খেলার জায়গা হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে পানি জমা অংশ। কাদামাটির ঘোলা পানিতে তারা মেতে উঠেছে দুরন্তপনায়। খেলার চেয়ে একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোই যেন মুখ্য। মাগুরা সদর উপজেলার নিজ নান্দুয়ালী গ্রামের মাঠ থেকে তোলা ছবি।
বল দখলের লড়াইয়ে শিশুরা।বল দখলের লড়াইয়ে শিশুরা।বল হাত ছুঁয়েছে। এখন হবে পেনাল্টি শট।বল হাত ছুঁয়েছে। এখন হবে পেনাল্টি শট।খেলার মাঝে একটু দম নেওয়া।খেলার মাঝে একটু দম নেওয়া।ফুটবল খেলার চেয়ে পানি ছিটানোই মুখ্য।ফুটবল খেলার চেয়ে পানি ছিটানোই মুখ্য।ফুটবল খেলার ফাঁকে চলছে নাচানাচিও।ফুটবল খেলার ফাঁকে চলছে নাচানাচিও।পানির মধ্যে দৌড়, হয়তো মা–বাবার বকুনি খেতে হবে। তবে আনন্দ উপভোগের সময় কি আর এসব মনে থাকে।পানির মধ্যে দৌড়, হয়তো মা–বাবার বকুনি খেতে হবে। তবে আনন্দ উপভোগের সময় কি আর এসব মনে থাকে।

Saturday, August 24, 2019

‘বখাটে কাটিংয়ে’ বাধা দেওয়ার ব্যাখ্যা দিল মাগুরার পুলিশ

নাগরিকের মানবাধিকার ক্ষুণ্ন বা ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে নয়, বরং কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন করতে চুলে ‘বখাটে কাটিং’ না দিতে প্রচারণা চালানো হয়েছে। আজ শনিবার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) খান মুহাম্মদ রেজোয়ান।

সম্প্রতি মাগুরায় সেলুন মালিক ও নরসুন্দরদের ‘বখাটে কাটিংয়ে’ চুল না কাটার নির্দেশনা দিয়েছিল পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত দুই মাসে মাগুরায় হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু অপরাধ কর্মকাণ্ডে কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাই কিশোর অপরাধ দমনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। এর একটি চুলে ‘বখাটে কাটিং’ না দিতে উদ্বুদ্ধ করা।

মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় এসপি খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, কিশোর অপরাধ দমনে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের একটি হলো চুলে বখাটে কাটিং না দিতে উৎসাহিত করা। তবে সেটি কোনোভাবেই নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নয়। এ বিষয়ে কাউকে বাধ্য করাও হচ্ছে না। উঠতি বয়সীরা যাতে উচ্ছৃঙ্খলতা থেকে নিবৃত্ত হয়, সে জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে যেমন মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে, তেমনি সেলুন মালিক ও নরসুন্দরদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করতে সেলুন মালিকেরা সদর থানার ওসির নামে একটি নির্দেশনা টানিয়ে দিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো প্রচারপত্র সরবরাহ করা হয়নি। তাদের এসব পদক্ষেপের ইতিবাচক ফল পেতে শুরু করেছেন মাগুরা শহরবাসী। গত কয়েক মাসের তুলনায় চলতি মাসে কিশোর অপরাধের প্রবণতা কমেছে বলে তিনি দাবি করেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২ জুলাই সদর উপজেলার কুকিলা গ্রামে আল আমিন নামে অটোরিকশাচালককে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ছিল তিন কিশোর। এর পাঁচ দিন পর ৭ জুলাই শহরতলির শিবরামপুর গ্রামে লিসানুর রহমান নামে এক কলেজছাত্রকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৮ বছরের কম।। এ ছাড়া একই মাসে বাগবাড়িয়া একটি মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যাচেষ্টা, পারলায় মোবাইল ছিনতাই, শিমুলিয়ায় ট্রাক থামিয়ে চাঁদাবাজির মতো ঘটনায় জড়িত ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা। এর পাশাপাশি, স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের যৌন হয়রানির ঘটনায়ও এই বয়সের ছেলেরা জড়িত।

ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, এসব অপরাধের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে কিশোর অপরাধ দমনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। সেসব পদক্ষেপের মধ্যে আছে—সন্ধ্যার পর শহরে, স্কুল-কলেজ ছুটির সময় বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজের আশপাশের কিশোরদের অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করলে আটক করা। তাদের আটক করে অভিভাবকদের খবর দেওয়া হচ্ছে। এর পর সতর্ক করে কিশোরদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালালেও উঠতি বয়সীদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, মসজিদে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে পুলিশ।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চুলে ‘বখাটে কাটিং’ না দিতে সেলুনে পুলিশের নির্দেশনা শিরোনামে ২১ আগস্ট প্রথম আলো অনলাইনে ও পরের দিন প্রিন্ট সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে মাগুরা জেলা পুলিশের কাছে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
কারও চুল বা দাড়ি মডেলিং ও বখাটে স্টাইলে না কাটার ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে সেলুনে টাঙানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। বাটিকাডাঙ্গা, মাগুরা, ২১ আগস্ট। ছবি: কাজী আশিক রহমান

Friday, August 23, 2019

ভিক্ষুক মনোয়ারা এখন সফল দুধ ব্যবসায়ী

মনোয়ারা বেগম এখন আর ভিক্ষা করে না। দুধ বিক্রি করে এখন সে স্বাবলম্বী। মাগুরা পৌর এলাকার শিবরামপুর এলাকার অধিবাসী মনোয়ারার স্বামী ২০১০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যু বরণ করেন। ৩ সন্তানের জননী মনোয়ারা তখন দিশাহারা হয়ে বাচ্চাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে এদিক ওদিক ছোটেন। কোনো উপায় না দেখে সে বেছে নিতে বাধ্য হয় ভিক্ষাবৃত্তিকে। কিন্তু এতে তার এবং তিন সন্তানের দুবেলার অন্ন জোগানো ছাড়া জীবনের কোনো চাহিদাই তার পূর্ণ হচ্ছিল না। ২০১৮ সালে রোভা ফাউন্ডেশন এবং মাগুরা সদর উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সে শুরু করে গরুর দুধ বিক্রি। দিনে দিনে পাল্টাতে থাকে তার জীবন।
এখন সে ৬টি ছাগলের মালিক।
মনোয়ারা বলেন, আমি বিভিন্ন বাড়ি থেকে দুধ সংগ্রহ করি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকায়। এই দুধ আমি মাগুরা নতুন বাজারে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করি। তাতে করে প্রতি কেজিতে আমার ১০ টাকা লাভ হয়। দিনে ৫০ কেজি দুধ বিক্রি করলেই আমার ৫০০ টাকা লাভ থাকে। এভাবে মাসে ১৫ হাজার টাকা অনায়াসেই আয় করতে পারি। দুধ বিক্রির কাজ আমার সকালেই শেষ হয়ে যায়, বাকি সময়টা কাটে ছাগল পালন করে। উপজেলা প্রশাসন থেকে আমি অনুদান পেয়ে গতবছর তিনটি ছাগল কিনেছিলাম যা গত ঈদুল আজহায় ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। বর্তমানে আমি নিজের টাকায় ৬টা ছাগল কিনে পালন করছি। আশা করছি তা আগামী ঈদুল আজহায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবো। মনোয়ারা গর্ব করে বলেন, এখন আমি স্বাবলম্বী। মানুষের দ্বারে দ্বারে আর ভিক্ষা করা লাগে না। এখন কেউই আর আমাকে ভিক্ষুক বলে না। মাগুরা রোভা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কাজী কামরুজ্জামান বলেন, মনোয়ারাকে অনুদান দেয়ার পর আমরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। দুধ বিক্রি থেকে ছাগল পালন সবক্ষেত্রে তার ভালোমন্দ দেখাশোনা করছি। সবচেয়ে ভালোলাগে এই ভেবে যে, সে অতি সহজেই ভিক্ষুক থেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা মাগুরাকে ভিক্ষুক মুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করেছি। মনোয়ারা শুধু মাগুরা নয় আমাদের সমাজের একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত।

Wednesday, August 21, 2019

চুলে ‘বখাটে কাটিং’ না দিতে সেলুনে পুলিশের নির্দেশনা by কাজী আশিক রহমান

একশ্রেণির যুবক চুল এমনভাবে কাটেন যে তাদের দুই কানের ওপরের অংশে চুল থাকেই না। কিন্তু মাথার ওপরের অংশে ঘন চুল থাকে। এই চুল বেশ দীর্ঘ হয়। হাঁটার সময় কিংবা মোটরসাইকেল চালানোর সময় এই চুল বাতাসে দুলতে থাকে। এভাবে চুল কাটানোকে ‘বখাটে কাটিং’ বলছে মাগুরা জেলার পুলিশ। এই স্টাইলে চুল না কাটতে সেলুনমালিক ও নরসুন্দরদের লিখিত নির্দেশনা দিয়েছে মাগুরা সদর থানা-পুলিশ।

চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ বিষয়ে ব্যাপক মাইকিং, সেলুনকর্মীদের নিয়ে বৈঠকসহ নানা রকম প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সেলুনমালিকদের জানানো হচ্ছে, কোনো সেলুনকর্মী কারও চুল কিংবা দাড়ি যেন মডেলিং ও বখাটে স্টাইলে না কাটেন। তবে বিষয়টি নিয়ে নাগরিকেরা নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাগুরা জেলা পুলিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সেলুনমালিক ও কর্মীদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠকের পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে সর্বসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে। এটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, উঠতি বয়সের যুবকদের সংযত আচরণ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা। সম্প্রতি মাগুরায় কিশোর ও উঠতি বয়সের যুবকদের হাতে খুনসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যেটির পেছনে তাদের অস্বাভাবিক জীবনযাপন ও আচরণের যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ। এ কারণে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ওসি বলেন, ‘মানুষের লাইফস্টাইলের সঙ্গে তার আচরণের নানা যোগসূত্র রয়েছে। অনেকে উদ্ভট পোশাক পরে ও উদ্ভট স্টাইলে চুল কাটে, যা দৃষ্টিকটু ও অস্বাভাবিক। সেটি তার জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যই ফেলবে। এ কারণে এটি প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে সবার আগে জরুরি সচেতনতা। সে কাজটিই আমরা করছি। ইতিমধ্যে এর ইতিবাচক ফলও পাচ্ছে শহরবাসী।’

এ বিষয়ে মাগুরা সদর উপজেলার বাটিকাডাঙ্গা বাজারের একটি সেলুনের মালিক রমেশ বিশ্বাস বলেন, ‘এক শ্রেণির উঠতি বয়সী যুবক আছেন যাঁরা নিজস্ব স্টাইলে চুল কাটান। এ ধরনের স্টাইলে গোটা চুলে কোনো সামঞ্জস্য থাকে না। দুই কানের ওপরের অংশে চুল থাকে না বললেই চলে। অন্যদিকে মাথার যত উপরিভাগে যাওয়া যাবে, চুল তত বেশি বড় রাখা হয়। এই যুবকেরা এমনভাবে চুল কাটান, যেন মোটরসাইকেল চালানোর সময় মাথার ওপরের চুলগুলো বাতাসে দোল খায়। যুবকেরা বিভিন্ন সিনেমা, নাটক ও খেলোয়াড়দের দেখে এসব করেন।’

পুলিশের এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন সেলুনমালিক ও শ্রমিকেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন নরসুন্দর বলেন, পুলিশ একটা সিদ্ধান্ত নিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করে। কিন্তু বিপাকে পড়তে হয় তাঁদের। অনেক যুবক তাঁদের নিজের দেখানো স্টাইলে চুল কাটাতে চায়। আপত্তি জানালে তাঁরা হুমকি-ধমকি দেন বা অন্য জায়গায় চলে যান। বিষয়টি পুলিশ কীভাবে নজরদারি করবে? পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে পরে বিপদে পড়তে হবে।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের কেশব মোড় এলাকার বাসিন্দা রাফাত হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। চুলের ছাঁট দেখে একজন অপরাধী কি না, তা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব, তা মাথায় আসে না।’

একই কথা জানালেন কলেজপাড়ার ব্যবসায়ী সুসান রহমান। তিনি বলেন, ‘এটা নাগরিকের একদম ব্যক্তিগত ব্যাপার। আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আছে, যেগুলোতে পুলিশের নজর নেই। এতে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হতে পারে। তা ছাড়া পুলিশের এই পদক্ষেপ শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’

অবশ্য পুলিশের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখেছেন অনেকে। ব্যবসায়ী সবুজ সাহা বলেন, উঠতি বয়সী অনেক ছেলেকে পরিবার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাদের কাছে মা–বাবা অসহায়। পুলিশের এই পদক্ষেপ তাদের কাছে একটি বার্তা দিচ্ছে যে প্রশাসনের নজর তাদের ওপর আছে। এতে তাদের অপরাধপ্রবণতা কিছুটা হলেও কমবে। তবে এ বিষয়ে পুলিশকে অনেক সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে যেন নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।
কারও চুল বা দাড়ি মডেলিং ও বখাটে স্টাইলে না কাটার ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে সেলুনে টাঙানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। বাটিকাডাঙ্গা, মাগুরা, ২১ আগস্ট। ছবি: কাজী আশিক রহমান

Saturday, June 1, 2019

রাজপালঙ্কের খোঁজ মিলল ডিসির বাসভবনে

রাজা সীতারাম রায়ের রাজপ্রাসাদ
রাজপালঙ্ক অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। রাজাদের অস্তিত্ব না থাকায় এ ধরনের প্রত্নসামগ্রী এখন শোভা পায় দেশের বিভিন্ন জাদুঘরে। কিন্তু ৩০০ বছরের বেশি পুরোনো রাজা সীতারাম রায়ের একটি পালঙ্কের খোঁজ পাওয়া গেছে মাগুরার জেলা প্রশাসকের বাসভবনে।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) আলী আকবর পালঙ্কটি ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পালঙ্কটি তাঁর বাসভবনে সংরক্ষিত রয়েছে। এটি তিনি মেরামত করেছেন।
ইতিহাস ঘেঁটেজানা যায়, ১৬৮৬ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজসভা থেকে রাজা উপাধি লাভ করেন সীতারাম রায়। তাঁর রাজত্বের সীমারেখা ছিল উত্তরে পাবনা ও দক্ষিণে সুন্দরবন পর্যন্ত। প্রতাপশালী এই রাজা রাজধানী গড়ে তোলেন মাগুরার মহম্মদপুরে। কীর্তি হিসেবে সেখানে এখনো রয়েছে তাঁর রাজপ্রাসাদ, কাচারিবাড়ি, দোলমঞ্চসহ অনেক কিছু। রাজত্বকালে তিনি গড়ে তোলেন অস্ত্র তৈরির কামারশালা। প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর রাজপ্রাসাদ ও দোলমঞ্চ সংস্কারের কাজ করলেও কালের বিবর্তনে রাজপ্রাসাদ থেকে হারিয়ে গেছে রাজার ব্যবহৃত অনেক কিছুই।
রাজা সীতারামের অস্ত্রভান্ডারের স্মৃতি হিসেবে অস্ত্রসহ কিছু সামগ্রী মহম্মদপুর থানায় পুলিশের মালখানায় সংরক্ষিত আছে। আর সীতারামের একটি পালঙ্ক দীর্ঘদিন ধরে ছিল মাগুরা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজের সময় প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শন ট্রেজারি থেকে কখনো রেকর্ড রুমে ও কখনো জিমখানার অন্যান্য অব্যবহৃত উপকরণের পাশে জায়গা পেয়েছে। সব শেষ পালঙ্কটি ছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমে দলিল-দস্তাবেজের সঙ্গে।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ডিসির কার্যালয় থেকে চার মাস আগে পালঙ্কটি নিয়ে যাওয়া হয় ডিসির বাংলোয়। এটি ডিসি আলী আকবরের শয়নকক্ষে স্থান পেয়েছে বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে ওই সূত্র বলেন, ‘স্যার (ডিসি) তো এটিতে ঘুমান।’
মাগুরার সাবেক জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান ও মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, কয়েক বছর আগে জেলা প্রশাসনেরএক কর্মচারী এ পালঙ্ক চুরির চেষ্টা করেছিলেন। তখন সেটি উদ্ধার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাখা হয়। বর্তমানে রেলমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) ও মাগুরার সাবেক জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমি গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব ছেড়ে আসার সময় পালঙ্কটি রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত ছিল।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) রাজীব চৌধুরীর সহায়তায় গোপনে পালঙ্কটি রেকর্ড রুম থেকে বের করে ডিসির বাংলোয় নিয়ে যাওয়া হয়, যে কারণে জেলা প্রশাসনের রেকর্ড রুম বা ট্রেজারিতে এ বিষয়ে কোনো তথ্য রাখা হয়নি। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা। ২৯ মে দুপুরে এনডিসি রাজীব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখানে আসার পর শুনেছি এ রকম একটি খাট ছিল। তবে এটি এখন কোথায় আছে, খুঁজে দেখতে হবে।’ রাজীব চৌধুরী এখানে যোগ দেন গত ১৮ জানুয়ারি। তাঁর আগে এখানে এনডিসি ছিলেন বর্তমানে প্রশিক্ষণে থাকা মো. ইসাহাক আলী। তিনি মুঠোফোনে বলেন, পাঁচ মাস আগে তিনি দায়িত্বে থাকাকালে পালঙ্কটি জেলা প্রশাসনের রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত ছিল।
এ বিষয়ে বর্তমানে রেকর্ড রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘এ রকম একটি পালঙ্ক ছিল বলে শুনেছি। এটি এখন কোথায় আছে, তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খানবলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক কোনো নিদর্শন কারও ব্যক্তিগত ব্যবহারের বা বেডরুমে রাখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘লোকবলের সংকট থাকায় এসব সংরক্ষণের জন্য আমাদের স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর করতে হয়। কারও কাছে কোনো নিদর্শন সংরক্ষিত থাকলে তা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে একটি চিঠি দেওয়া হয় সব জেলার জেলা প্রশাসক বরাবর।’
তবে জেলা প্রশাসক আলী আকবর বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি তাঁর নজরে আসেনি। উল্টো মাগুরা প্রশাসন থেকে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে জাদুঘরে এই পালঙ্ক নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এ ধরনের উদ্যোগ নিলে অবশ্যই এগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Friday, May 10, 2019

হাতপাখায় জীবিকা ৫ শতাধিক পরিবারের by এস আলম তুহিন

তালপাতার পাখা তৈরি করে সংসার চালাচ্ছেন মাগুরা জেলার- নিজনান্দুয়ালী, বাটিকাডাঙ্গা, সদর উপজেলার জগদল, মাধবপুর, শ্রীপুর উপজেলার জোকা, মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ও শালিখার দরিশলই, গঙ্গারামপুর, পরিয়াট, রায়পুর গ্রামের প্রায় ৫’শতাধিক পরিবার।
শহরতলীর নিজনান্দুয়ালী গ্রামের পাখার মহাজন আব্দুল মান্নান জানান, তালপাখার জন্য ছোটগাছের পাতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আগে এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত তালপাতা পাওয়া গেলেও এখন আগের মতো পাতা মেলে না। দূর-দূরান্ত থেকে পাতা কিনে আনতে হয়। গাছ থেকে ১শ’ পাতা কিনতে হয় ৫শ’ টাকায়। তবে,  শ্রমিক লাগিয়ে পাতা কেটে বাড়িতে পৌঁছাতে খরচ হয় ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। যার একেকটি পাতা থেকে মাত্র দুটি করে পাখা তৈরি হয়। যাবতীয় খরচ মিটিয়ে একটি পাখা বানাতে খরচ পড়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা।
বাজারে একেকটি ভালোমানের তালপাখার খুচরা দাম ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। ১শ’ পাখার মহাজনি দাম প্রায় ১৪শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা। তবে ঘরে বসেই এই সব পাখা বিক্রি হয়ে যায় তার। পাইকাররা তার বাড়ি থেকেই পাখা কিনে নিয়ে যান। শালিখার পরিয়াট গ্রামের ছায়েদুল ও শহরের বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল ছাত্তার জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি পাখা বিক্রেতা। তাদের বাড়িতে সব সময় ১০/১৫ হাজার পাখা মজুত থাকে। এ দু’জন ছাড়াও এ জেলার মহাজনদের কাছ থেকে ঢাকা, খুলনা, পাবনা, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া থেকে ক্রেতারা পাখা কিনে নিয়ে যায়। পাখা বিক্রেতা আব্দুল মান্নান (৭৫) জানান, ৬০ বছর ধরে এ পাখা শিল্পের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছি। ২০ পয়সা থেকে আমার জীবনে পাখা বিক্রি শুরু করি। বিগত বছরগুলোতে সারা দিন শহরে ঘুরে ঘুরে পাখা বিক্রি করে বেড়িয়েছি। কিন্তু এখন আর বেশি ঘুরতে হয় না। সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আর এক পাখা বিক্রেতা আক্কাস আলী জানান, আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে পাখা বিক্রি করছি। শুধুমাত্র চৈত্রের শুরুতেই আমি হাতপাখা বিক্রি করি। মাগুরা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন আমার প্রায় ২০-৩০টা পাখা বিক্রি হয়। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে আমি পাখা বিক্রি করি। শালিখা উপজেলার পরিয়াট গ্রামের বিধবা আখিরন্নেছা (৬০) বলেন, তালপাখাই আমার সংসার টিকিয়ে রেখেছে। ৩০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর ছয় ছেলেমেয়ে নিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়ি। এ সময় উপায় না পেয়ে বাবার বাড়ি থেকে শিখে আসা পাখা তৈরির কাজ শুরু করি। এখন আর খাওয়া-পড়ার চিন্তা করতে হয় না। পাখার কারিগররা জানান, তালপাখা তৈরিতে দরকার হয় তালপাতা, বাঁশের শলাকা, কঞ্চি, সুতা-সুই ও রং। প্রথমে শুকনা তালপাতা কয়েক ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে জাগ দিতে হয়। জাগ দেয়া শেষে তালপাতা পানি থেকে তুলে বাঁশের কঞ্চির সাহায্যে কলম লাগিয়ে রোদে শুকানো হয়। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে গোল করে ছেটে আগে থেকে রং করে রাখা বাঁশের শলাকা দিয়ে সুই-সুতায় বাঁধা হয়। পাখাকে আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন রংয়ের সুতা দিয়ে নকশা করা হয়ে থাকে। তবে নিজস্ব পুঁজি না থাকায় অধিকাংশ পাখার কারিগর এ শিল্পে শ্রম বিক্রি করে থাকেন।

Thursday, March 28, 2019

‘বিছানা-বন্দী’ জীবন থেকে সফল ফ্রিল্যান্সার by মো. মিন্টু হোসেন ও কাজী আশিক রহমান

ফাহিমুল করিমের জন্য তাঁর শারীরিক বাধা কোনো ‘বাধা’ হয়ে ওঠেনি। ঘরে বসেই ওয়েবসাইট থেকে কাজ নিয়ে আয় করছেন এই তরুণ।
অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফাইভার ও আপওয়ার্কে কাজ করেন ফাহিমুল। তাঁর মতো বাংলাদেশের অনেকেই এখানে কাজ করছেন। তবে ফ্রিল্যান্সারদের গ্রুপে ফাহিমুলকে নিয়েই ব্যাপক আলোচনা।
মাগুরার ছেলে ফাহিমুলের (২১) জীবন আর সবার মতো নয়। ডুচেনেমাসকিউলার ডিসথ্রফি নামে জটিল রোগে আক্রান্ত তিনি। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প বয়সেই তাঁর শরীরের পেশি শুকিয়ে যায়। তবে রোগের কাছে হার মানেননি ফাহিমুল। মনোবল হারাননি। অদম্য লড়াকু ফাহিমুল এখন সফল ফ্রিল্যান্সার।
ছোটবেলায় সাইকেল চালাতেন ফাহিমুল। বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন। পড়ালেখাতেও ছিলেন মেধাবী। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল। ২০১২ সালের শেষ দিকে জেএসসি পরীক্ষার ঠিক আগে বিছানায় পড়ে যান। ধীরে ধীরে তাঁর পেশি শুকিয়ে যেতে থাকে। তারপর একেবারেই অকেজো হয়ে যায় হাত-পা থেকে শুরু করে পুরো শরীর। মাগুরা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তেন ফাহিমুল। রোগে পড়ে একপর্যায়ে এই মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়।
ফাহিমুলের বাবা রেজাউল করিম। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির বিপণন বিভাগে কাজ করতেন। মা হাজেরা খাতুন গৃহিণী। ছোট এক বোন নবম শ্রেণিতে পড়ে।
জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ফাহিমুলের জীবন অনেকটা ‘বিছানা-বন্দী’ হয়ে যায়। দৈনন্দিন কাজের জন্য তাঁকে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফাহিমুলের স্বপ্নটা সেখানেই স্থবির হয়ে যেতে পারত। কিন্তু দৃঢ় মনোবল তাঁকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে। এই তরুণ বিশ্বাস করেন, শারীরিক অক্ষমতা মানেই সবকিছু থেমে থাকা নয়। মনের জোরে জেগে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেন। এখন আপওয়ার্কে প্রতি ঘণ্টায় তাঁর রেট ৮ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৭০ টাকা।
ফাহিমুলের জীবন ও সংগ্রামের গল্পটা তাঁর কাছ থেকেই শোনা যাক। ফাহিমুল বলেন, ‘২০১২ সালের কথা ৷ আমি তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র৷ জেএসসি পরীক্ষার ঠিক ২-৩ দিন আগে আমার চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে যায় ৷ রোগটা ছোটবেলা থেকেই ছিল৷ ডাক্তার বলেছিলেন, একসময় এমন হবে। আস্তে আস্তে শরীর একদম শুকিয়ে যাবে। শক্তি হারিয়ে যাবে। এমনকি হয়তো ১৮ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকব৷ এই অবস্থাতেই জেএসসি পরীক্ষা দিই। ভালো রেজাল্টও করি ৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নবম শ্রেণিতে আমার আর ভর্তি হওয়া হয় না। সেখানেই আমার পড়ালেখার ইতি ঘটে৷ ছোটবেলা থেকেই আমার নতুন বিষয় শেখার ব্যাপারে খুব আগ্রহ ছিল ৷ সেটা বই পড়ে হোক, কারও কাছ থেকে হোক বা টেলিভিশন দেখেই হোক। নবম শ্রেণিতে ভর্তি না হলেও বিজ্ঞান বিভাগের বইগুলো বাসায় এনে দিয়েছিলেন আম্মু৷ সেগুলো নিজে নিজে পড়তাম৷ একসময় আমি ছোট বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়ানো শুরু করলাম ৷ সবাই আমার বাসায় এসে পড়ত’। প্রাইভেট পড়িয়ে ফাহিমুলের কিছু টাকা জমে। বাসা থেকে আর কিছু টাকা নিয়ে ২০১৪ সালের শেষ দিকে একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনেন তিনি৷ ইন্টারনেটে সংযুক্ত হন৷ তারপর ধরে ধীরে গুগল, ইউটিউব সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি৷ ২০১৫ সালের মাঝামাঝি ফেসবুকের একটা পেজে ইন্টারনেটে আয় করা সম্পর্কে জানতে পারেন ফাহিমুল৷ তিনি প্রথমে জেনে ছিলেন টি-স্প্রিং সম্পর্কে ৷ ভেবেছিলেন মোবাইল দিয়েই কাজ করা যাবে৷ কয়েক দিনের চেষ্টায় ব্যর্থ হন। একটা কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা খুব করে অনুভব করেন। বাসায় বলেন। কিন্তু বোঝাতে পারেননি। তা ছাড়া অর্থেরও সংকট ছিল।
হাল ছাড়েননি ফাহিমুল। তিনি বলেন, ‘পরে একটা গ্রুপে যুক্ত হলাম। নাম ছিল ওডেস্ক বাংলাদেশ (বর্তমানে আপওয়ার্ক বাংলাদেশ)৷ ওখানে দেখতাম, সবাই অনলাইনে কাজ নিয়ে কথা বলত৷ আমি সবার পোস্ট, কমেন্ট নিয়মিত পড়তাম৷ সেখানেরই একটা পোস্ট থেকে ওয়েব ডিজাইনের কথা জানতে পারি। ওখানে কিছু পিডিওফের লিংক দেওয়া ছিল। আমি সেগুলো ডাউনলোড করে পড়ে পড়ে এইচটিএমএলটা প্রায় শিখে ফেলি৷ কিন্তু কিছুদিন পর অধৈর্য লাগছিল৷ ভাবলাম, এভাবেও সম্ভব না। আমাকে নির্দিষ্ট কোনো কাজ শিখতে হবে৷ কাজ শিখতে চাই বলে গ্রুপে পোস্ট দিই। গ্রুপের একজন অ্যাডমিন আমার এলাকার একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন৷ তিনি কিছুদিন পর আমার বাসায় এসে আমাকে কাজ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেন। গ্রাফিকস ডিজাইন সম্পর্কেও ধারণা দেন ৷ কিন্তু তখনো আমার কম্পিউটার ছিল না৷’
পরিচিতদের উদ্যোগ, মায়ের জমানো টাকা ও ব্যাংক থেকে ঋণ দিয়ে ২০১৬ সালের নভেম্বরে একটা ল্যাপটপ কেনেন ফাহিমুল৷ ল্যাপটপ ব্যবহার আয়ত্তে এলেও নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহারের আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁর৷ একটা ডিভিডি কিনে গ্রাফিকস ডিজাইন শেখা শুরু করেন তিনি৷ তারপর নিয়মিত চর্চা। শুরুতে শেখেন ফটোশপ। অন্য দরকারি বিষয়গুলো ইউটিউব দেখে শিখতে থাকেন তিনি। কম টাকায় ইন্টারনেটের অফার পেলে ফ্রিল্যান্স টিউটোরিয়ালের ভিডিও ডাউনলোড করতেন তিনি। শুরুতে বিজনেস কার্ড ও ব্যানার তৈরি শেখেন। এরপর অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফাইভার সম্পর্কে জানেন।
ফাহিমুল বলেন, ‘ফেসবুকে সার্চ করে ফাইভার হেল্প বাংলাদেশ গ্রুপের খোঁজ পাই৷ গ্রুপের ডকুমেন্টগুলো পড়ে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফাইভারে গিগ (ফাইভারে প্রতিটি সার্ভিসের অফারকে গিগ বলে) খুলি ৷ গিগ খোলার অল্প দিনের মধ্যেই কাজ পেয়ে যাই ৷ ভাবতেও পারিনি, এত দ্রুত কাজ পেয়ে যাব ৷ আমি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজটা শেষ করি৷ বায়ার খুশি হয়ে আমাকে ৫ স্টার রিভিউসহ বোনাস দেন ৷ আমার প্রথম উপার্জন ছিল ১৫ মার্কিন ডলার ৷
তারপর ফাহিমুলকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি ৷ এক মাসেই তিনি লেভেল ওয়ান সেলার হয়ে যান ৷ তখন প্রচুর কাজ আসতে থাকে। তিনি বলেন, ‘এমনও হয়েছে, কাজের জন্য আমি খাওয়ার সময় পেতাম না। আম্মু হাতে করে খাইয়ে দিয়েছে, আর আমি কাজ করেছি ৷
প্রথম তিন মাসের মধ্যে ফাহিমুল লেভেল টু সেলার হয়ে যান ৷ তাঁর উপার্জন বাংলাদেশি টাকায় প্রায় চল্লিশ হাজার হয়ে গিয়েছিল৷ ২০১৭ সালের এপ্রিলে তাঁর বাবার চাকরি চলে যায় ৷ তখনই তিনি প্রথম কাজের টাকা তুলতে পারেন ৷ শুরুতে ৩৭ হাজার টাকা তোলেন। ২০১৭ সালে মাঝামাঝি আপওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট খোলেন ফাহিমুল ৷ কয়েক দিন চেষ্টার পর অ্যাকাউন্ট অনুমোদন পায় ৷ আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আপওয়ার্কে দ্রুত কাজ পেয়ে যান। তিন মাসেই আপওয়ার্কের টপ লেভেলের ব্যাজ পেয়ে যান তিনি ৷ এখনো ফাইভারে লেভেল টু ও আপওয়ার্কে টপ রেটেড ব্যাজ ধরে রেখেছেন তিনি ৷ গত দুই বছরে সাড়ে চার শর বেশি প্রজেক্টে কাজ করেছেন ফাহিমুল ৷
ফাহিমুলের বাবা রেজাউল করিম জানান, তাঁর ছেলের রোগের বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে ২০০৬ সালে। দেশে বেশ জায়গায় চিকিৎসা করানোর পর ২০০৮ সালে ফাহিমুলকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের কলকাতায়। সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, ফাহিমুল ডুচেনেমাসকিউলার ডিস্থ্রফিতে আক্রান্ত। ধীরে ধীরে তাঁর পেশি দুর্বল হয়ে যাবে। বংশগত রোগটির কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা জটিল হতে পারে। সেখান থেকে ফিজিওথেরাপির পরামর্শ ও পুনরায় চিকিৎসার জন্য যেতে বলা হয়। ফাহিমুল অচল হয়ে পড়লে আর্থিক সংকটের কারণে আর ভারতে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
হাতের আঙুলগুলোও যাঁর ঠিকমতো কাজ করে না, তিনি কীভাবে এত দূর এলেন? ফাহিমুল বলেন, ‘হতাশ হয়নি। স্টিফেন হকিংয়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজেছি।’
ফাহিমুল জানান, শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও তিনি মানসিকভাবে বেশ শক্ত। তাই তিনি আটকে থাকেননি।
ফাহিমুল বাস্তবতা বোঝেন। তাঁর ধারণা, তিনি দীর্ঘদিন ফ্রিল্যান্সিংয়ের এই কাজ করতে পারবেন না। তাই পরিকল্পনা করছেন, টাকা জমিয়ে কোনো ব্যবসা শুরুর। যেখানে আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
বর্তমানে পরিবারের খরচের একটা বড় অংশ আসে ফাহিমুলের আয় থেকে। ছেলের উপার্জিত অর্থে ইতিমধ্যে শহরে চার শতক জমি কিনেছে পরিবার।
বাবা রেজাউল করিম বলেন, ২০০৮ সালের পর বড় পর্যায়ে আর কোনো চিকিৎসা হয়নি ফাহিমুলের। এত দিন অর্থাভাবে করতে পারেননি। এখন ফাহিমুল যেহেতু উপার্জন করছেন, তাই এ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।
ফাহিমুলের মা হাজেরা খাতুন জানান, ছেলে রাত জেগে কাজ করে। তাঁর কাছে থাকতে হয়। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে তাঁকে সব কাজে সহায়তা করতে হয়।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কয়েকটি গ্রুপে মডারেটর হিসেবে আছেন ফাহিমুল। মাগুরাসহ দেশের অনেকে জায়গা থেকে অনেকেই তাঁর কাছে পরামর্শ চান।
ফাহিমুল জানান, ফ্রিল্যান্সার হতে হলে প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন। এ কারণে অনেক তরুণ কাজ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেন না। ফ্রিল্যান্সিংয়ে ইংরেজি জানা জরুরি ৷ তিনি বিভিন্ন ইংরেজি সিনেমা, শো ইত্যাদি দেখাসহ নানাভাবে ইংরেজি শিখেছেন ৷ বায়ারদের সঙ্গে কথা বলতে প্রথম প্রথম সমস্যা হতো। এখন অনেকটা আয়ত্তে এসে গেছে।
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নিজেকে প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা জরুরি বলে মনে করেন ফাহিমুল। তাই তিনি প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখার চেষ্টা করেন।
ফাহিমুলের মতো যাঁরা জীবনসংগ্রামী, তাঁদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কখনো ভাববেন না যে আপনি দুর্বল। কখনই ভেঙে পড়া যাবে না। আমি কখনো নিজেকে দুর্বল ভাবি না৷ অন্য মানুষের মতোই নিজেকে মনে করি। পরিবারের জন্য উপার্জন করতে হবে ভেবেই কাজ করি।’

Thursday, February 21, 2019

শিশু জুঁইয়ের দেখার কেউ নেই: কারাবন্দি স্বামীকে দেখতে এসে লাশ হলেন স্ত্রী by এস আলম তুহিন

বাবা জেলে। মা নিহত। এক বছরের ছোট্ট মেয়ে জুঁই তার মাকে না পেয়ে শুধু কাঁদছে। বুঝতে পারছে না তার মা আর এ দুনিয়াতে নেই। তাকে কেউ সান্ত্বনা দিতে পারছে না। কোনো কিছুই সে খাচ্ছে না। মায়ের মমতা-স্নেহ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত এ শিশুটির দায়িত্ব নেবে কে। কে তার দুঃখ ঘোচাবে?
মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের মাগুরা সার্কিট হাউজ এলাকায় ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লেগে মেয়েটির মা রেশমা খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
মাগুরা শহরের পিটিআই পাড়ার বাসিন্দা রেশমা খাতুন মঙ্গলবার বিকালে তার স্বামী মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রাব্বি হোসেনকে মাগুরা জেলখানায় দেখতে ইজিবাইকে করে  যাচ্ছিলেন। ইজিবাইকটি মাগুরা সার্কিট হাউজের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় রেশমার গলার ওড়না চাকার সঙ্গে জড়িয়ে নিচে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রেশমা খাতুনের এ মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বর্তমানে শিশুটির দাদি চম্পা খাতুন জানান, আমার পরিবার খুবই দরিদ্র। দরিদ্রের কারণে আমার ছেলে রাব্বীকে পড়াশুনা করাতে পারি না। ফলে সে ছোট বেলা থেকে সঙ্গদোষে নষ্ট হয়ে গেছে। তার ভালোর জন্য আমি  অনেক চেষ্টা করে গেছি  কিন্তু সে ভালো হয়নি। শহরের অনেক ভালো ভালো দোকানে তাকে রেখেছি কাজ করার জন্য। কিন্তু সে তাও করেনি। পরে অনেকের পরামর্শে তাকে শালিখা উপজেলার আড়পাড়া শলই গ্রামে বিয়ে দিই। বিয়ের কিছুদিন পরই তার ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় ছোট্ট একটি কন্যা শিশু। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে সে। কিন্তু আমার ছেলে রাব্বী জড়িয়ে পড়ে সমাজের নানা অসঙ্গতিতে। মাদকসহ নানা মামলার আসামি হয়ে সে এখন জেলে।
অনেক আক্ষেপ করে তিনি বলেন, শিশু মেয়েটির দায়িত্ব এখন আমার। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমার স্বামী আমার পরিবার দেখাশুনা করে না। সে অন্যত্র বিয়ে করে বাইরে বসবাস করছে। আর আমি অনেক কষ্ট করে সংসার চালাই। আমার ছোট্ট ৯ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। তার নাম রাসেল। তাকে নিয়ে আমি যেমন স্বপ্ন দেখি ঠিক তেমনি এ মা-মরা মেয়েটিকে আমি তার মায়ের স্নেহ দিয়ে মানুষ করার চেষ্টা  চালিয়ে যাচ্ছি।

Sunday, July 8, 2018

ভিক্ষার টাকায় চলছে মুক্তিযোদ্ধা হাসেমের সংসার by মাহামুদুন নবী

দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছর পার হলেও  মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকায় আমার নাম উঠেনি। সংসার চালাতে হয় স্ত্রীর ভিক্ষা করা টাকায়। মরার আগে হলেও অন্তত মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকায় নিজের নামটা উঠেছে সেটি যেন দেখে মরতে পারি। আবেগে আপ্লুত হয়ে এমনটিই বললেন মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামের ৯২ বছরের প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাসেম। 
দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাসেম শেখ উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার শেখের ছেলে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৮ নম্বর সেক্টর বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন হাসেম শেখ। মুক্তিযুদ্ধকালীন আঞ্চলিক বাহিনীর অধিনায়ক মো. গোলাম ইয়াকুব (বীর প্রতীক) এর নেতৃত্বে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তিনি।
আবুল হাসেম শেখ মহম্মদপুরের আহম্মদ-মহম্মদ বাহিনীতে কাজ করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের নৌকায় করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আনা-নেয়া তাদের গোলাবারুদ বহনসহ মুক্তিযোদ্ধাদের পাহারা দিয়ে রেখেছেন। যার মুক্তি বার্তা নম্বর (০৩)। স্বধীনতার পরবর্তীতে ২০০৪ সালের আগস্ট মাসের ৯ তারিখে তিনি আবেদন করেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃৃতি পাওয়ার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মো. আবুল হাসেম শেখের নাম আজো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় স্থান পায়নি।
সরজমিন মো. আবুল হাসেম শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধকালীন আঞ্চলিক বাহিনীর অধিনায়ক মো. গোলাম ইয়াকুব (বীর প্রতীক), মাগুরা জেলা ইউনিটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোল্যা নবুয়ত আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আলী রেজা খোকন ও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল গফুর মোল্যাসহ তার সহযোদ্ধাদের প্রত্যয়ন পত্র থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেনি আবুল হাসেম শেখ। তিনি পরম মমতায় এগুলো বুকে আকড়ে রেখেছেন। তাই তিনি সরকারের কাছে দাবি করেন যেন মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম দেখে যেতে পারেন।
আবুল হাসেম শেখ বলেন, জায়গা জমি নাই। মাত্র দুই শতক জমির উপর একটি দো’চালা টিনের ঘর। চলাফেরা করতে পারি না। জীবন বাঁচানোর তাগিদে তার স্ত্রী মহিরন নেছা অন্যের দুয়ারে হাত পেতে ভিক্ষে করে যা কিছু আনে তা দিয়ে চলে সংসার। মুক্তিযোদ্ধা বানানোর কথা বলে আমাদের ইউনিয়ন কমান্ডার আব্দুল গফুর মোল্যা সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু আজো পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা বানায়নি এবং টাকাও ফেরত দেয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরো জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাবেক চেয়ারম্যান আমার চেক বই নিয়ে আমার নামে আসা অনুদানের ৩৬ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে তুলে আমাকে মাত্র ৮ হাজার টাকা দিয়েছে।  
এ বিষয়ে ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল গফুর মোল্যার সঙ্গে তার মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও কোনো কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মহম্মদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) মো. আলী রেজা খোকন বলেন, আবুল হাসেম একজন মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু কেন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম উঠেনি সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানে না বলে জানান।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার করুণ অবস্থার কথা জানতে পেরে সেই অসহায় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম শেখের বাড়িতে যান। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দেখে তিনি অত্যন্ত আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের কথাসহ বর্তমান সময়ের অস্বচ্ছল সংসারের কথা বলেন নির্বাহী অফিসারকে। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই যেহেতু স্থগিত তাই এ ক্ষেত্রে কিছু করার নেই বলে জানান ইউএনও। তবে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বানানোর যে বরাদ্দ দিচ্ছে তার থেকে একটা ঘর এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেবেন বলেন কথা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান।

Tuesday, June 5, 2018

৪ কেজি ওজনের সুস্বাদু ‘ইয়াসমিন’ by এস আলম তুহিন

মাগুরায় নতুন আমের জাত ‘ইয়াসমিন’ উদ্ভাবন করে সারা দেশে সমাদৃত হয়েছেন মাগুরা শালিখার আতিয়ার রহমান। প্রতিটি আম ২ কেজি থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। যার গড় ওজন ৩ কেজি। আমে আঁশ নেই বললেই চলে। সরজমিন মাগুরা শালিখার শতখালি গ্রামে আতিয়ার রহমানের নিজ উদ্যোগে গড়া নার্সারিতে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে দেশি-বিদেশি জাতের বিভিন্ন ফলের জাত রয়েছে। আবার কিছু অংশে রয়েছে ফুলের চাষ। বিশেষ সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজ গবেষণায় নতুন একটি আমের জাত ‘ইয়াসমিন’ উদ্ভাবন করে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছেন। নতুন এ আমের চারাটি কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বৃক্ষপ্রেমী মানুষ এসেছে তার নার্সারিতে। এই চারাটি একাধিবার শালিখা উপজেলা কৃষিমেলায় প্রদর্শিত হয়ে কুড়িয়েছে প্রশংসা, পেয়েছে পুরস্কার। কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঊক্ত চারাটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় কৃষিমেলায় স্থান পেয়েছে। সেখানেও অর্জন করেছে প্রশংসা। আতিয়ার রহমান জানান, তার এক ভাতিজা থাকে ব্রনাই। সেখানে রাজ পরিবারের বাগানে জন্মে ব্রনাই আম। তিনি শখ করে সেখান থেকে কিছু আম নিয়ে আসে। তারপর সে কয়েকটি আম আমাকে দেন। পরে সেই ব্রনাই কিং আমের আঁটি থেকে গাছ তৈরি করে নতুন আমের জাত উদ্ভাবন করি। তিনি আরো বলেন, মাগুরা হর্টি কালচারের কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় আমি নতুন এ জাতটি নিয়ে আরো গবেষণা করি এবং পরে সফল হই। নতুন এ আমের জাতটি রোপণের ২ বছর পরই আম ধরে। প্রতিটি আম খুব মিষ্টি ও আঁশমুক্ত। যার প্রতিটির গড় ওজন ৩ কেজি। এটি শ্রাবণের শেষের দিকে পাকে। তিনি আরো জানান, বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে এ চারাটি রোপণ করতে হয়। এ আমের তিনটি বৈশিষ্ট্য যথা- গড় ওজন ৩-৪ কেজি, শ্রাবণের শেষের দিকে পাকে ও ফলন খুবই ভালো।
আতিয়ার বলেন, ১৯৯২ সালে নিজস্ব উদ্যোগে ১০ শতক জমিতে শুরু করি নার্সারি। প্রথমে পুঁজি ছিল না। ঘরের একটি ছাগল ৩০০ টাকায় বিক্রি করে শুরু করি এ নার্সারি। অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করে ভালো অবস্থানে দাড় করিয়েছি নার্সারি। বর্তমানে এ নার্সারি ১০ শতক পেরিয়ে ২০০ একর জমিতে রুপান্তরিত করেছি। এখান থেকে নিজে গবেষণা করে উদ্ভাবন করেছি নতুন আমের জাত। যা নিজের মেয়ের নাম ‘ইয়াসমিন’ নামে পরিচিত করিয়েছি। উদ্ভাবিত এ চারাটি ৩০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করছি। প্রতি বছর এ চারা থেকে আমি ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা অর্জন করছি।
তিনি আরো গর্ব করে বলেন, আমি এখন কমলা নিয়ে গবেষণা করছি। নিজ নার্সারিতে অনেক কমলা আমি লাগিয়েছি।
মাগুরা হর্টি কালচার বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, তার উদ্ভাবিত এ চারাটি খুবই ভালো। আমরা তাকে পরামর্শ দিচ্ছি। তার গবেষণার কাজে সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতে সে আরো ভালো কিছু করতে পারবে।

দরিদ্রদের ভাতার ৩৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলো ব্যাংক কর্মকর্তারা by মাহামুদুন নবী

মহম্মদপুর নাগড়া কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যের নাম করে মাগুরায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত প্রায় ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের নাগড়া বাজারের একমাত্র ব্যাংকটি হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। যেখানে বাবুখালি এবং পার্শ্ববর্তী দিঘা ইউনিয়নের অন্তত ২ হাজার ৩ শত অসহায় বয়স্ক, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী মানুষের একাউন্ট রয়েছে। যাদের হিসাবের বিপরীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা হারে মাসোহারা বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। যেটি প্রতি তিন মাস পর বয়স্ক ও বিধবা মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ২১০০ হারে উত্তোলনের সুযোগ পেয়ে থাকেন। কিন্তু নানা চাতুরির মাধ্যমে এই দুটি ইউনিয়নের নিবন্ধিত অসহায় বয়স্ক, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুকূলে চলতি অর্থ বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর এই তিন মাসের ভাতা ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একেবারেই গায়েব করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব ভাতা থেকে বঞ্চিত ভাতাভোগীদের অভিযোগ, গত বছরের  এপ্রিল-জুন মেয়াদের ভাতার অর্থ সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৪ঠা জুলাই/১৭ তারিখে বরাদ্দ দেওয়া হয়। যেটি ভাতাভোগীদের মধ্যে বণ্টনে প্রায় ৩ মাস সময় লাগিয়ে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এদিকে পরবর্তী জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের টাকা ছয়মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও না পাওয়ায় ভাতাভোগি অসহায় মানুষেরা প্রায় প্রতিদিনই ব্যাংকে গিয়ে ধরনা দেন। কিন্তু জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের টাকা তাদের না দিয়ে সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছে। ওই টাকার আশা না করে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে বলেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। অথচ ১৯ নভেম্বর/১৭ তারিখে জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের টাকা ব্যাংকের অনুকূলে সমাজসেবা অধিদপ্তর বরাদ্দ দিলেও টাকা আসেনি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে গেছে এমন কথা বলে পুরো টাকাটাই ব্যাংক কর্মকর্তারা তুলে আত্মসাৎ করেছেন।
এদিকে এ বছরের ৬ই মার্চ অক্টোবর-ডিসেম্বর/১৭ মেয়াদের অর্থ বরাদ্দ পেয়ে টাকা বণ্টনের সময় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ভাতা পরিশোধ বইয়ের প্রথম কলামে একই দিনে অপরিশোধিত জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের তিন মাসের হিসাবটিও জুড়ে দেয়া হয়। সেখানে দুটি মেয়াদ উল্লেখ করা হলেও প্রত্যেকের  হাতে মাত্র অক্টোবর-ডিসেম্বর মেয়াদের টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা ।
বাবুখালি ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বয়স্ক ভাতাভোগী প্রফুল কুমার কির্তনীয়া, একই এলাকার বিধবা ভাতাভোগি কুটিবিবি, কুলি পাড়ার রসমালা বিশ্বাস, চর মাধবপুর গ্রামের মাঝুবিবি, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগি রজব আলিসহ আরো অনেকের অভিযোগ, নাগড়া কৃষি ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার প্রণব সাহা, ক্যাশিয়ার আইয়ুব খান, সুবোধ বিশ্বাসসহ এই ব্যাংকের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারি যোগসাজশে তাদের নামে বরাদ্দকৃত জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আর এই কাজটির বৈধতা দিয়েছেন ব্যাংক ম্যানেজার রতন কুমার সরকার নিজেই।
বয়স্ক ভাতাভোগী প্রফুল্ল কির্তনীয়া বলেন, টাকা নেওয়ার সময় ভাতা বইতে আমাদের টিপসই নেয়া হয়। কিন্তু এ বছরের ১৯শে এপ্রিল তারিখে ভাতা দেওয়ার সময় সেকেন্ড অফিসারের কথা মতো ব্যাংকের কর্মচারী সুবোধ এবং আরো একজন আমাদের কাছ থেকে ভাতার বই নিয়ে নিজেরাই সেখানে দুটি ঘরে টিপসই দিয়েছে। আমার বইতে আরেক জন টিপসই দেবে কেন?
ভাতাভোগী রসমালা বিশ্বাস বলেন, ভাতার কথা জানতি চাইছি বলে ব্যাংকের প্রণব বাবু আমার মাথায় চড় মারতে চলে আসেন। একটি কিস্তির ২১০০ টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিবন্ধী রজব আলি। তিনি বলেন, আমরা কষ্টে থাহি। আর আমাগের টাহা কি হরে রোহিঙ্গাদের দিয়ে দেয় বুঝে পাই না। অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, নাগড়া, মহম্মদপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার রতন কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রত্যেককেই টাকা দেওয়া হয়েছে। কেউ না পেলে লিখিত অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাগুরা জেলা প্রশাসক মো. আতিকুর রহমান অসহায় ব্যক্তিদের টাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নামে আত্মসাতের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে পুরো বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

Thursday, February 22, 2018

দুই ভাষাসৈনিক by এস. আলম তুহিন

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মাগুরায় যারা নেতৃত্ব দেন তাদের অধিকাংশই এখন বেঁচে নেই। তবে সে আন্দোলনে সামনে থেকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম খান জিয়াউল হক ও আমিনুল ইসলাম চান্দু মিয়ার বন্ধুত্ব এখনো অটুট। এ আন্দোলনে মাগুরায় একসাথে গ্রেপ্তার হন দু’জন। এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আড্ডায় সেদিনের স্মৃতিচারণ সহ নানা কষ্টের কথা তুলে ধরেন দুই বন্ধু। মাগুরার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক খান জিয়াউল হক ১৯৫০ সালে যশোর এমএম কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ভাষা আন্দোলনে তিনি প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, যেহেতু মুসলিম ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলাম তাই মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ আমাকে ভাষা আ্‌ন্দোলন থেকে সরে আসতে বলে। বাধ্য হয়ে মুসলিম ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করে সাধারণ ছাত্রদেরকে নিয়ে মিছিলে যোগ দিই। মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ এবং পুলিশের বাধার কারণে একসময় নিজ বাড়ি মাগুরায় চলে আসি। তখনো মাগুরায় তেমন কোন আন্দোলন শুরু হয়নি। আবু মিয়া সংগঠিত করছিলেন সবাইকে। আমি, চান্দু মিয়াও কাজ শুরু করি। ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার ঘটনা জানতে পেরে আমরা মাগুরার সংগঠক নাসিরুল ইসলাম আবু মিয়ার সাথে দেখা করি। সেখান থেকেই ঠিক করা হয় যে, পরদিনই মিছিল ও সমাবেশ করা হবে। সেদিন সকালেই সবাই সেগুন বাগিচায় একত্রিত হই। সেখানে আবু মিয়ার সভাপতিেত্েব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে আমরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে চৌরঙ্গী মোড়ে আসতেই পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অন্যরা নিরাপদ স্থানে সরে গেলেও আমি, জলিল খান এবং চান্দু মিয়া পুলিশের হাতে ধরা পড়ি। আমাদেরকে পার্শ্ববর্তী জিআরও অফিসে বসিয়ে রাখা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয়া হলে আমরা নোমানী ময়দানে পুনরায় একত্রিত হই।
৯০ বছর বয়সী খান জিয়াউল হকের প্রায় সমবয়সী বন্ধু আমিনুল ইসলাম চান্দুমিয়া সেদিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি তখন বাম সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম খান জিয়াউল হক মাগুরা এলে দু’বন্ধু মিলে আবু মিয়ার কাছে গেলাম। উনি আমাদের পেয়ে খুব খুশি হলেন। ২রা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গুলি চালানো হলে আমরা সিদ্ধান্ত নিই মিছিল সমাবেশ করবো। সবাইকে সংগঠিত করা শুরু করি। পরদিন একটি বিশাল মিছিল নোমানী ময়দান থেকে বের হয়। চৌরঙ্গী মোড়ে পৌঁছামাত্র পুলিশ আমাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাকে, খান জিয়াউল হক ও জলিল খানকে পুলিশ আটকে রাখে। বিকালে ছেড়ে দেয়া হয়। এ সময় বাইরে মির্জা শওকত এবং আজিম দেওয়ান বিক্ষোভ করেন।
চান্দু মিয়া বলেন, ফেব্রুয়ারি এলেই সাংবাদিকরা আসেন কথা বলেন ভালোই লাগে। কিন্তু ভাষাসৈনিক হিসেবে আজ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের কোনো অনুষ্ঠানে ডাক পেলাম না।
খান জিয়াউল হক বলেন, নতুন প্রজন্ম ভাষাসৈনিকদের গুরুত্ব দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যেমন সমাহিত করা হয় তেমনি ভাষাসৈনিকদেরও করা হোক। আর সঠিক ইতিহাস রক্ষার স্বার্থে ভাষাসৈনিকদের প্রকৃত তালিকা করা জরুরি।

Tuesday, December 12, 2017

অবশেষে মারা গেল মহম্মদপুরের সেই আলেচিত ‘বৃদ্ধ শিশু’

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামের সেই ‘বৃদ্ধ শিশু’ বায়েজিদ শিকদার (৬) অবশেষে মারা গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বায়েজিদ বিশ্বাস বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। দেখতে অশীতিপর বৃদ্ধ মানুষের চেহারা নিয়ে তার জন্ম হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় খালিয়া মাদ্রাসা-গোরস্থান ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। ২০১৬ সালের ২৩ মে ‘মায়ের কোলে বৃদ্ধ শিশু’ শিরোনামে সর্বপ্রথম বায়েজিদকে নিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশের প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হলে সরকার বায়েজিদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত এক বছর ধরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলে। বেশ কিছু দিন সুস্থ থাকার পর বায়েজিদ সম্প্রতি আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী বায়েজিদের বাবা লাভলু শিকদার জানান, বায়েজিদ প্র¯্রাবের বাধাগ্রস্ততাসহ সর্দি, কাশি এবং প্রচন্ড শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরণের জটিলতায় ভুগছিল। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল। সাথে ছিল অসুখের প্রকোপ। ফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সে। রোববার রাতে বায়েজিদ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে মাগুরা সদর হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আজ সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটারদিকে বায়েজিদ মারা যায়। লাভলু শিকদার কথা প্রসঙ্গে জানালেন, ২০১২ সালের মে মাসে মাগুরার মাতৃসদন হাসপাতালে তার স্ত্রী তৃপ্তি খাতুন বৃদ্ধ মানুষের চেহারা সম্বলিত বায়েজিদের জন্ম দেন। দিনে দিনে বায়েজিদের শরীরে বার্ধক্যের ছাপ আরো প্রকট হতে থাকে। জন্মের তিন মাসের মধ্যেই তার দাঁত ওঠে। জন্মের পর বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের স্মরণাপন্ন হলেও স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে আসেনি শিশুটির। লাভলু বললেন, এ পর্যন্ত ছেলের সুস্থতার জন্য অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। ছেলের জন্য আর অর্থ ব্যয় করা আমার সামর্থের বাইরে। তবুও ছেলের মুখের দিকে তাকালে কষ্ট হতো তার। সুস্থতার জন্য ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ যুগিয়েছেন। বায়েজিদের মা তৃপ্তি খাতুন বায়েজিদ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জানালেন, অন্য শিশুরা সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে হাঁটা শিখলেও বায়েজিদ হাঁটা শিখেছে সাড়ে তিন বছর বয়সে। অথচ বায়েজিদের দাঁত ওঠে জন্মের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই। গত বছর ২৯ মে মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড জানায়, বায়োজিদ বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে সময় তাকে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও দেড় মাস ধরে চিকিৎসা করানো পর কোনো ফল না পেয়ে দরিদ্র লাবলু শিকদার শিশুপুত্র বায়োজিদকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ দেবাশিষ বিশ্বাস বলেন, প্রজেরিয়া রোগটি একটি বিরল জেনেটিক অসঙ্গতি। এক কোটি শিশুর মধ্যে একজনের এই রোগে আক্রান্ত একজন শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত ১০০টির মতো রোগী শনাক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নানাবিধ শারীরিক সমস্যার সাথে সাথে বিরল রোগ প্রজেরিয়ায় আক্রান্ত বায়েজিদের পুরুষাঙ্গের চামড়া নিচের দিকে ঝুলে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের শারীরিক জটিলতাকে ‘প্রিরিপিউস’ বলা হয়। দৈহিক বৃদ্ধি এবং দৃষ্টিশক্তিসহ অন্যান্য বিষয় স্বাভাবিক থাকলেও এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের শরীরের চামড়া বৃদ্ধ মানুষদের মত কুচকানো হয়। তবে, এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত ১৩/১৪ বছরের বেশিদিন বাঁচে না বলে জানালেন তিনি।

Wednesday, April 12, 2017

মাগুরায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১

মাগুরায় রাস্তা পারাপারের সময় যাত্রীবাহি বাসের চাপায় সিরাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যাক্তি নিহত হয়েছে। সে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত মনা উল্লাহ’র ছেলে। রামনগর হাইওয়ে পুলিশের এসআই বিটুল হাসান জানান, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের হাজরাপুর ভাঙ্গা ব্রীজ এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী দ্রুত গতির রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাস রাস্তা পারাপারের সময় সিরাজুল ইসলামকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় গাড়িটি রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে মেরে দিয়ে চালক পালিয়ে গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহটি মাগুরা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Thursday, March 23, 2017

মাগুরায় স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ

মাগুরার মহম্মদপুরে স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কানুটিয়ার পশ্চিমপাড়া গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রবিউল ইসলাম (৩৫) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩০)। রবিউল বিনোদপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য  কানুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ছেলে।  খাদিজা মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল ইউনিয়নের ছোট কলমধরী গ্রামের সুরমান মোল্যার মেয়ে। তাদের মুনিফা নামের আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
প্রতিবেশী বিনোদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম আজম সাবু জানান, রবিউল তাদের প্রতিবেশী। স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি।হাসিখুশি রবিউলের সংসারে কোনো কলহের খবর তিনি জানেন না। সকালে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে তার স্বজনরা ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে জানালা ভেঙে ঘরে তাদের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে খবর দিলে মহম্মদপুর থানার এসআই সিদ্দিক এসে লাশ উদ্ধার করে। মহম্মদপুর থানার এসআই সিদ্দিক জানান, ৫ বছর আগে এই দম্পতির বিয়ে হয়। নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মহম্মদপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে।

মাগুরায় দম্পতির ঝুলন্ত লাশ



মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কানুটিয়া গ্রাম থেকে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। একই রশির দুই মাথায় স্বামী-স্ত্রী দুজনের গলায় ফাঁস লাগানো ছিল। নিহত দুজন হলেন রবিউল ইসলাম (২৮) ও তাঁর স্ত্রী খাদিজা বেগম (২৩)। রবিউলের বাবা হাবিবুর রহমান মোল্লা বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে রবিউলের সঙ্গে মহম্মদপুরের ছোট জোকা গ্রামের ছুরমান মিয়ার মেয়ে খাদিজার বিয়ে হয়। রবিউল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এ দম্পতির তিন বছর বয়সের একটি মেয়েসন্তান রয়েছে। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিনের মতো এ দম্পতি ঘুমাতে যান। সকালে তাঁদের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে বাড়ি ও আশপাশের লোকজন ঘরে ঢুকে দুজনের লাশ একই রশিতে ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য  পুলিশ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ট্র্রাকের চাপায় পিকআপের চালক-হেলপার নিহত

মাগুরায় ট্র্রাকের চাপায় পিকআপের চালক-হেলপার নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সদরের বেলনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পিকআপ চালকের নাম আবু হানিফ। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। সকাল পৌনে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হেলপারের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
রামনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এইচএম আব্দুর রউফ ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, ভোরে মাগুরা থেকে একটি বালুবাহী ট্রকি কামারখালী যাচ্ছিল। পথে বেলনগর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপ চালক ও হেলপার নিহত হয়। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করলেও ড্রাইভার পালিয়ে যায়।