Wednesday, August 12, 2009

জেড শ্রেণীর শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময় এখন ১০ দিন

তালিকাভুক্ত দুর্বল মৌলভিত্তির ‘জেড’ শ্রেণীর শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তির সময় আরও দুই দিন বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাত্ জেড শ্রেণীর শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তি হতে এখন থেকে সময় আরও দুই দিন বেশি লাগবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল সোমবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে জেড শ্রেণীর কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের পর নিষ্পত্তি হতে আট দিন (টি+৭) সময় লাগে। নতুন নিয়মে ১০ দিন (টি+৯) লাগবে।
যোগাযোগ করা হলে এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুর্বল মৌল ভিত্তির নিষ্ক্রিয় কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত করতেই এসইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লেনদেন নিষ্পত্তির সময় বাড়লে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্ররোচিত হয়ে এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন না। এতে জেড শ্রেণীর শেয়ার নিয়ে কারসাজির প্রবণতা কিছুটা হলেও কমবে।’
তিনি আরও বলেন, এসইসি এর আগে জেড শ্রেণীর বেশ কিছু কোম্পানির লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তার পরও কিছু অসাধু বিনিয়োগকারী নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে কারসাজির মাধ্যমে জেড শ্রেণীর শেয়ারের দাম বাড়াচ্ছে।
আনোয়ারুল কবীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, সম্প্রতি ডান্ডি ডায়িং নামের একটি কোম্পানি শূন্য লভ্যাংশ ঘোষণার পরও শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। কেন এটি করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য এসইসি বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ডের মামলা: এদিকে গতকাল সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে মিউচুয়াল ফান্ডসংক্রান্ত মামলার দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচারপতি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে আগামী বুধবার আবার শুনানির দিন ধার্য করেন।
মামলার বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম জহিরের সহকারী ব্যারিস্টার শফিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বেলা সোয়া দুইটায় শুনানি শুরু হয়ে বিকেল সোয়া চারটায় শেষ হয়েছে। এই দীর্ঘ শুনানি চলাকালে এম জহির ও বিবাদীপক্ষের আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম নিজ নিজ অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

রহিমআফরোজ এবার দেশেই সৌর প্যানেল প্রস্তুত করবে

আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে আনতে দেশেই এবার সৌরবিদ্যুত্ উত্পাদনের মূল যন্ত্র সৌর প্যানেল প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে রহিমআফরোজ রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেড।
প্যানেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সৌর সেলসহ কিছু আনুষঙ্গিক যন্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করে সংযোজনের মাধ্যমে পুরো প্যানেলটি প্রস্তুত করা হয়। সে জন্য এই উদ্যোগটিকে বলা হচ্ছে অ্যাসেম্বলিং বা সংযোজন উদ্যোগ।
আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে এই কারখানা স্থাপন সম্পন্ন হবে। এ জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য যে প্যানেল লাগে, তা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। সৌরবিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য মোট বিনিয়োগের ৬০ শতাংশই ব্যয় হয় সৌর প্যানেলের জন্য। আর ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ করতে হয় ব্যাটারিতে। বাকি ১৫ শতাংশ আনুষঙ্গিক খুচরা যন্ত্রাংশে। তবে ব্যাটারিসহ সব খুচরা যন্ত্রাংশ দেশেই প্রস্তুত হয়।
এর মধ্যে রহিমআফরোজ ২০ বছর ধরে দেশে নবায়নযোগ্য ব্যাটারি প্রস্তুত করে আসছে। এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি ব্যাটারি প্রস্তুত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া দেশের বাইরে নেপাল ও ভুটানেও রহিমআফরোজ সৌর ব্যাটারি রপ্তানি করছে।
সৌর প্যানেল নির্মাণের বিষয়ে রহিমআফরোজ রিনিউয়েবল এনার্জির মহাব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের মাঝামাঝিতে গিয়ে এখান থেকে উত্পাদন শুরু করা সম্ভব হবে।’
সোলার প্যানেল তৈরির উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সোহেল আহমেদ বলেন, ‘রহিমআফরোজ গত কয়েক বছরে গ্রামাঞ্চলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ঘরে গৃহস্থালি সৌরশক্তির সংযোগ দিয়েছে। তবে এর চাহিদা যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামী তিন বছরে অন্তত সাত লাখ সংযোগের প্রয়োজন হবে। তাই আমরা নিজেরাই প্যানেল প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
সোহেল আহমেদ আরও বলেন, এর ফলে আমদানি ব্যয় কমবে। তা ছাড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রহিমআফরোজ কিছু প্যানেল বিদেশেও রপ্তানি করবে।
গৃহস্থালি ব্যবহারের পাশাপাশি রহিমআফরোজ ছোট ছোট বাণিজ্যিক উদ্যোগেও সৌরবিদ্যুত্ ব্যবহারের জন্য কাজ করছে। এর মধ্যে আছে সৌরবিদ্যুত্ ব্যবহার করে সেচযন্ত্র চালানো।
বর্তমানে ছোট-বড় ১৫টি প্রতিষ্ঠান সৌরশক্তি নিয়ে কাজ করছে। গ্রামীণ শক্তি এর মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য সংস্থাগুলোর মধ্যে আছে ব্র্যাক, রহিমআফরোজের রুরাল সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন (আরএসএফ), সৃজনী, ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) ও ব্রিজ।
এ ছাড়া দেশের সবগুলো জেলার ৪৬৫টি উপজেলার ৪০ হাজারেরও বেশি গ্রাম এবং ১৬টি দ্বীপাঞ্চলের তিন লক্ষাধিক বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসেছে। এই বিদ্যুতের সুবিধাভোগীর সংখ্যা এখন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। প্রতিদিন বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে ৪৪ মেগাওয়াট।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে সৌরবিদ্যুত্সহ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে। এই তহবিলের অর্থ ব্যাংকগুলোকে পুনঃ অর্থায়ন করা হবে, যেন তারা সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের কম সুদে (৯-১০ শতাংশ) ঋণ দেয়।

রমজান মাসে ভেজাল খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রি করবেন না

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য উত্পাদন না করার জন্য প্রস্তুতকারকদের এবং ভেজাল ও নকল পণ্য বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।
তিনি বলেন, ভেজাল, নিম্নমান ও নকল পণ্য প্রতিরোধে ইতিমধ্যে বিএসটিআই ভেজালবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। রমজানের আগেই সব ধরনের ভেজাল পণ্য বিক্রি বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তা না হলে ভেজাল, নিম্নমান ও নকল পণ্য উত্পাদন ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার।
গতকাল সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় শিল্পসচিব দেওয়ান জাকির হোসেন, অতিরিক্ত শিল্পসচিব এ বি এম খোরশেদ আলম, বিএসটিআইর মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও বিএসটিআইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, রমজান মাসে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের ইফতারসামগ্রী তৈরি করা হয়। অতীতে ইফতারসামগ্রীতে ভেজাল দেওয়ায় জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব ভেজাল খাবার খেয়ে অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ অসুস্থ হয়েছেন। অনেকে রোজা ভেঙে হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রমজানে সেহরি ও ইফতারের জন্য খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার অনেক বেড়ে যায়। এ সুযোগে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় নিম্নমানের পণ্য তৈরি ও খাদ্যে ভেজাল দিয়ে থাকে। নৈতিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বাধ্যতামূলকভাবে পণ্যের সনদ গ্রহণসহ পণ্যের প্যাকেটে বা মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহার করাও বাধ্যতামূলক। পণ্যের মোড়কে বা প্যাকেটে প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা, উত্পাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, বিক্রয়মূল্য ইত্যাদি না লেখা বেআইনি। যারা এ ধরনের বেআইনি ও জনস্বার্থ-পরিপন্থী কাজ করবে, সরকার তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রমজানে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য বাজারজাতকরণ এবং ওজনে কারচুপি ঠেকাতে সরকার পিওর ফুড অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৫ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অধ্যাদেশ, ২০০৯-এর আলোকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে।

প্রবাসী শ্রমজীবীরা দেশের অর্থনীতির প্রকৃত নায়ক হয়েও অবহেলিত

প্রবাসী শ্রমজীবীরাই বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃত বীর। তাঁরাই দিনবদলের প্রকৃত প্রতিনিধি। ৭৫ লাখ প্রবাসী বছরে প্রায় হাজার কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েও নানাভাবে অবহেলার পাত্র। অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটে আলাদা খাত থাকা উচিত।
গতকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী রেমিট্যান্স উত্সব ও সোনার মানুষ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিকেলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সমাপনী ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন সম্মানিত অতিথি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বিশেষ অতিথি ছিলেন। রামরুর প্রধান তাসনীম সিদ্দিকী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ৭৫ লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত। জাতির অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গঠনে তাঁদের অবদান অসীম এবং তাঁরাই হলেন প্রকৃত ‘দিনবদলের প্রতিনিধি’। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্সে (প্রবাসী-আয়) লাখ লাখ পরিবার চলে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা প্রবাসে বসবাস করেন, ওখানে থেকেই দেশের জন্য চিন্তা করেন, তাঁদের অনেক দুঃখ-কষ্ট ও অভিযোগ রয়েছে। সেগুলো আমরা বুঝলেও অনেক সময় প্রতিকার করতে পারি না। এর অর্থ তাঁদের প্রতি অবহেলা নয়, বরং সরকারের অদক্ষতা।’
বিপদ এলে ধৈর্য ও সাহস নিয়ে তা মোকাবিলার পরামর্শ দিয়ে প্রবাসীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে সরকার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আপনাদের অভিযোগ শুনে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।’
শ্রমমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জনশক্তি রপ্তানি ও কৃষি উন্নয়ন—এ দুই খাতের উন্নয়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে পারে।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উদ্দেশে শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘যে হাঁস ডিম দেয়, তাকে মারবেন না।’ তিনি প্রবাসীদের প্রতি মানবিক ও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, প্রবাসী বাঙালিরাই দেশের প্রকৃত বীর। এই বীরদের জন্য অভিবাসন ব্যয় কমানো, তাঁদের রেমিট্যান্স স্বল্প খরচে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা এবং ওই রেমিট্যান্স অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পথ তৈরি করা—এ তিন কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি।
তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, অর্থনীতিতে ১০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংযোজনের সঙ্গে যাঁঁরা যুক্ত, দেশে তাঁদের তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আদম ব্যাপারি নামটি ঘোচাতেই বহু বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি খাতের মতো বাজেটে তাঁদের জন্য আলাদা খাত থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
সকালে দিনব্যাপী এ উত্সবের ‘অভিবাসন দশক ২০১০-২০১৯’ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রধান অতিথি ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এতে বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা আলোচনায় অংশ নেন।
এতে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রবাসী শ্রমজীবীদের নেপথ্য নায়ক হিসেবে অভিহিত করেন।
সেরা পুরস্কার: অনুষ্ঠানে দুজনকে সোনার মানুষ সম্মাননা ২০০৯ দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খোশকান্দি গ্রামের আবদুল হালিম চৌধুরী এবং কেরানীগঞ্জের সোনাকান্দা গ্রামের রুহুল আমিন।
সেরা রেমিট্যান্স ব্যবহারকারী পুরস্কার পান টাঙ্গাইলের কালিহাতীর কালোহা গ্রামের সুরাইয়া ইয়াছমিন, কেরানীগঞ্জের খাড়াকান্দির সোবহান মোল্লা ও চট্টগ্রামের পটিয়ার মোজাফফর আলম।
অনুষ্ঠানে তিনটি অভিবাসী অধিকার রক্ষা কমিটিকে সোনার মানুষ সেবা সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম হয়েছে পাইকরা-সহদেবপুর অভিবাসী অধিকার রক্ষা কমিটি, দ্বিতীয় কাশিল অভিবাসী অধিকার রক্ষা কমিটি এবং তৃতীয় হয়েছে যৌথভাবে সুন্দলপুর অভিবাসী অধিকার রক্ষা কমিটি ও কুমিরা অভিবাসী অধিকার রক্ষা কমিটি।
এ ছাড়া ১১ জন ব্যাংক কর্মকর্তাকে সোনার মানুষ সেবা সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন: অগ্রণী ব্যাংকের টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোড শাখার সালমা আক্তার, পূবালী ব্যাংকের কমরগঞ্জ শাখার আবু ফুয়াদ, ব্র্যাক ব্যাংকের দাউদকান্দি বিডিপির আঞ্চলিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দোহার শাখার তপন জেমস রোজারিও, সোনালী ব্যাংকের টাঙ্গাইল শাখার সাজেদা পারভীন, কৃষি ব্যাংকের নবাবগঞ্জ শাখার নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল, সাউথইস্ট ব্যাংকের কেরানীগঞ্জ শাখার মাহবুবুল আলম, জনতা ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখার রেজিনা আক্তার, ইসলামী ব্যাংকের টাঙ্গাইল শাখার আবদুল মতিন সরকার, এবি ব্যাংকের সীতাকুণ্ড শাখার নুরুন নবী এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের মিরসরাই শাখার শহীদুল ওসমান।
এ ছাড়া আহমেদ অ্যান্ড কোম্পানি, এমসিও ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল ও গ্রিনল্যান্ড ওভারসিজ নামের তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সিকেও সোনার মানুষ সেবা সম্মাননা দেওয়া হয়।

তোমরা যারা জিপিএ ফাইভ পাওনি... -অরণ্যে রোদন by আনিসুল হক

তোমরা যারা জিপিএ ফাইভ পাওনি এই লেখাটা তাদের জন্য। আর এই লেখাটা তোমাদের মা-বাবার জন্যও।
গত পরশু আমি গিয়েছিলাম নন্দন পার্কে। ওখানে মাধ্যমিক পর্যায়ে ঢাকায় যারা এবার জিপিএ ফাইভ পেয়েছে, তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। ছেলেমেয়েরা আনন্দ করছে। গান-বাজনা হচ্ছে। বড় বড় মানুষ, আমাদের প্রিয় ব্যক্তিত্বরা কথা বলছেন। ভালো ভালো কথা। যেসব কথা ভবিষ্যতে চলার পথে আলো দেবে তেমনি কথা। এই সমাবেশে যেতে আমার খুবই ভালো লাগে। ছেলেমেয়েদের উজ্জ্বল চোখমুখগুলোয় আশা আর সাফল্যের ঝলকানি দেখে নিজের মরচে ধরা মনটাকে একটা ঘষামাজা করে নেওয়া চলে। ওই ছেলেমেয়েদের আমরা অভিনন্দন জানাই। সাফল্য উদযাপন করারই জিনিস। এসো, যারা সফল হয়েছে, তাদের শুভেচ্ছা জানাই।
কিন্তু আবারও বলি, এই লেখাটা তাদের জন্য, যারা এই দলের নও। যারা পরীক্ষা দিয়েছ, কিন্তু জিপিএ ফাইভ পাওনি, তাদের সংখ্যাই তো বেশি।
আচ্ছা প্রথমে আমি ওদের পাওলো কোয়েলহোর আলকেমিস্ট বই থেকে যে গল্পটা বলেছিলাম, সেটা বলে নিই।
এক বাবা তার কিশোর ছেলেকে পাঠালেন পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে, উপদেশের জন্য। ছেলেটি মরুভূমি পাড়ি দিয়ে পাহাড় ডিঙিয়ে পৌঁছাল জ্ঞানী ব্যক্তির প্রাসাদে। জ্ঞানী ব্যক্তির সামনে ভিড়। অনেকেই বসে আছে তাঁর উপদেশ নেওয়ার জন্য। ছেলেটি বলল, ‘আমি এসেছি আপনার কাছে, বাবা পাঠিয়েছেন, আমাকে উপদেশ দিন।’ জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, ‘তোমাকে উপদেশ দেব। তার আগে তুমি পুরো প্রাসাদটা ঘুরে-ফিরে দেখো। তবে একটাই শর্ত। তোমাকে আমি একটা চামচ দিচ্ছি, চামচে তেল ভরে দিচ্ছি, তুমি পুরো প্রাসাদ ঘুরবে। কিন্তু তোমার চামচ থেকে যেন তেল না পড়ে যায়।’ ছেলেটি প্রাসাদটা ঘুরল, আর তক্কে তক্কে রইল, চামচ থেকে তেল ফেলা যাবে না। ফিরে এসে সে বলল, ‘আমি পুরো প্রাসাদ ঘুরেছি। এবার আমাকে উপদেশ দিন।’ জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, ‘এবার বলো, পাশের ঘরে দেয়ালে কিসের ছবি আছে।’ ছেলেটি বলল, ‘আমি তো কোনো দিকে তাকাইনি, সারাক্ষণ চামচের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।’
জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, ‘না, প্রাসাদে দেখার মতো অনেক কিছু আছে, সেসবও তোমাকে দেখতে হবে। তবে তেল যেন পড়ে না যায়।’ ছেলেটি আবার গেল, দেখল, সত্যি, প্রাসাদের নানা কক্ষে নানা কিছু আছে দর্শনীয়: তৈলচিত্র, ফুল, পাখি, কার্পেট। সব দেখে সে ফিরে এসে বলল, ‘হ্যাঁ, এবার আমি বলতে পারব প্রাসাদের কোথায় কী আছে।’
জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, ‘তোমার চামচের তেল কোথায়?’ ছেলেটি তাকিয়ে দেখল, ‘চামচে তেল নেই।’
জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, ‘এটাই আমার উপদেশ। আমরা আমাদের চারপাশের সবকিছু দেখব, কিন্তু চামচ থেকে তেল পড়তে দেব না। আবার আমরা তেল ধরে রাখব, কিন্তু চারপাশের সবকিছু দেখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করব না।
আমি ছেলেমেয়েদের বলেছি, পরীক্ষায় ফল ভালো করতে হবে, আবার চারপাশের জগত্ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা চলবে না। সাহিত্য-সংস্কৃতি-বিতর্ক-খেলা-বিজ্ঞান সবকিছুর চর্চা করবে, সংগঠন করবে, সামাজিক কাজে আর দেশের কাজে অংশ নেবে, আবার ফলও ভালো করতে হবে।
এই কথাটা সবাইকেই বলি। যারা জিপিএ ফাইভ পেয়েছ, আর যারা পাওনি, আসো আমরা আমাদের স্কুল-কলেজের লেখাপড়াটা ভালোভাবে করি।
কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে যে কথাটা আমাদের বলতে হবে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ভালো ফল করা নয়। ভালো ফল করার পরও বহু সমাজবিরোধী মানবতাবিরোধী মানুষ পৃথিবীর অপার ক্ষতি ও দুঃখের কারণ ঘটিয়েছেন, আবার ভালো ফল না করে পৃথিবীতে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, সেই রকম মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। পরীক্ষার ফল ভালো করে পরবর্তী জীবনে কোনো অর্থেই সফল হননি, এমন মানুষও পৃথিবীতে দেদার আছেন, আবার ভালো ফল করে পরবর্তী জীবনে পৃথিবী ও সভ্যতাকে আলোকিত করেছেন, এমন উদাহরণ তো আছেই।
কিছুদিন আগে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বেরুল। ছয় লাখ ১৮ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার পেয়েছে জিপিএ ফাইভ। ওরা খুশিতে নাচছে, গাইছে, লাফাচ্ছে, টিভিতে আমরা সেই সব ছবি দেখলাম, পরের দিনের কাগজে সেই ছবি ছাপাও হলো। কিন্তু যে ছয় লাখ জিপিএ ফাইভ পায়নি, তারা কি তাতে দমে যাবে? আর তাদের কথা কে ভাববে, যে দুই লাখ ছেলেমেয়ে পাসই করতে পারল না?
প্রথমে বাবা-মাকে বলি, ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার ফল নিয়ে বেশি চাপাচাপি করবেন না। তোমাদেরও বলি, যারা পরীক্ষায় ভালো করেছ, তারা জীবনে ভালো করবে, কিন্তু যারা পরীক্ষায় ভালো করনি, তারা জীবনে আরো ভালও করতে পার, এই বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়ো না। জীবন মানে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা নয়। জীবন আরও বড় কিছু।
শিক্ষা আসলে মানুষকে দক্ষ করে, তাকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার শক্তি দেয়, তার ভেতরের সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে দেয়, তার সমস্ত সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত করে। সেটা শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য। আসল মাপকাঠিটাও ওখানেই। তুমি নিজেকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছ কি না। তোমার ভেতরে যে গুণগুলো আছে, তাকে ব্যবহার করতে পারছ কি না।
রোনালদো বা শচীন টেন্ডুলকার জিপিএ ফাইভ পেয়েছিলেন কি না, সেটা কেউ জানতে চায় না। যেটা জানতে চায়, তারা খেলার মাঠে ভালো করলেন কি না। তারপর? সারাটা জীবন বা সারাটা ক্ষণ তো তাঁরা খেলবেন না। বাকি সময়টা তাঁরা সুন্দর করে জীবনটাকে যাপন করলেন কি না, সেটাও দেখতে হবে। ওখানে হয়তো খেলার দক্ষতার বাইরে আমরা সামগ্রিক শিক্ষার কথা বলব। শিক্ষা মানেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়। সুশিক্ষিত মানুষ মানেই স্বশিক্ষিত মানুষ। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যলয়ে খুব কম জিনিসই পড়ানো হয়, আসল শিক্ষাটা মানুষ নেয় ক্লাসের বাইরে, বই পড়ে, মানুষের সঙ্গে মিশে, চলচ্চিত্র-টিভি-কম্পিউটার-সংবাদপত্র ইত্যাদির মাধ্যমে, চলতে ফিরতে, দেশ ভ্রমণ করে, প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে এবং কাজ করতে করতে। ঠেকে শেখে, ঠকে শেখে।
রবীন্দ্রনাথের ফল ভালো ছিল না, নজরুলেরও না। স্কুলের পরীক্ষায় আইনস্টাইন ভালো করেছেন বলে শুনিনি। বিল গেটস হার্ভার্ডের পড়াশোনা শেষ করেননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তো জিপিএ ফাইভ পাননি, তখন অবশ্য ছিলও না সেসব, তবে যাকে বলে ক্লাসের ফার্স্ট বয়, সেই ধরনের ভালো ছাত্র তিনি ছিলেন না। কী ছিল তাঁর? ছিল দেশপ্রেম, ছিল সাহস, ছিল দেশের জন্য একটা কিছু করার দুর্বার প্রতিজ্ঞা, ছিল মানুষকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা। তাজউদ্দীন আহমদ ভালো ছাত্র ছিলেন। ম্যাট্রিক পরীক্ষায় তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্ট্যান্ড করেছিলেন। কিন্তু তারপর পড়াশোনা ও ক্লাসে নিয়মিত হতে পারেননি রাজনীতির টানে। এঁরা স্বাধীনতার সময় আমাদের নেতা ছিলেন বলে দেশটা স্বাধীন হতে পেরেছিল।
জিপিএ ফাইভ পাওয়া ভালো। যে ৬২ হাজার ছেলেমেয়ে দেশজোড়া জিপিএ ফাইভ পেয়েছে, তাদের সাবধান করে দিই। উচ্চমাধ্যমিকে গিয়ে এই সংখ্যা কমে যাবেই। এবার পেয়েছে আঠারো হাজার। কাজেই তোমরা ভালো করে লেখাপড়া করো। যাতে তোমাদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকে। যাতে তোমরা নেতৃত্ব দিতে পারো। কিন্তু নেতৃত্ব দিতে হলে শুধু পড়লে চলবে না, নিজের মনের পরিধিটাকে, দেখার পরিধিটাকে বড় করে নিতে হবে। শুধু বই পড়ে সেটা অর্জন করা যায় না। কিন্তু যারা জিপিএ ফাইভ পাওনি, পরীক্ষায় যারা চেষ্টা করেও ভালো করতে পার না, তারা একদম মন খারাপ করবে না। জেনে রেখো, পরীক্ষার ফলের সঙ্গে জীবনের পরীক্ষায় ভালো করার সম্পর্ক খুব বেশি নয়।
উচ্চমাধ্যমিকের ফল বেরোনোর দিন শুনতে পেলাম, একটা মেয়ে প্রত্যাশিত ফল পায়নি বলে ধানমন্ডির লেকের পানিতে নেমে গেছে। সবাই মিলে টেনে তাকে তুলতে পারে না। এ রকম করার কোনো দরকার নেই। জিপিএ ফাইভ না পেলেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে না। বরং, রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলি, ‘আকাশ তবু সুনীল থাকে, মধুর ঠেকে ভোরের আলো/ মরণ এলে হঠাত্ দেখি, মরার চেয়ে বাঁচাই ভালো।’
যারা আজকে ভালো করনি, তারা এই ব্যাপারকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নাও, ভবিষ্যতে তোমাদের ভালো করতে হবে। আর আমাদের আসল লক্ষ্য হবে, মানুষ হওয়া। দেশপ্রেমিক ভালো মানুষ হওয়া। মানুষের জন্য, জগতের জন্য ভালো কিছু করে যাওয়া। তোমাদের ভেতর থেকেই বেরিয়ে আসবে খুব বড় কবি, খুব বড় ভাবুক, খুব বড় নেতা, খুব বড় বিজ্ঞানী, খুব বড় ব্যবসায়ী, খুব বড় শিল্পোদ্যোক্তা, খুব বড় শিল্পী, খুব বড় খেলোয়াড়, আর খুব বড় মানুষ।
কোনো জীবনই ব্যর্থ হয়ে যায় না। প্রত্যেকটা জীবনই আসলে সফল, সার্থক। এই জগতে প্রত্যেকের বেঁচে থাকার কিছু না কিছু সার্থকতা আছে আর আছে অপার আনন্দ। সবচেয়ে বড় কথা হলো, অন্যের ক্ষতির কারণ না হওয়া।
এবার মা-বাবাদের বলি, শুধু রেজাল্ট রেজাল্ট করে ছেলেমেয়ের জীবনটাকে অতিষ্ঠ করে মারবেন না। ওকে একটু জিরোতে দিন। ওকে একবার জানালার ধারে গিয়ে সবুজ পাতার দিকে তাকাতে দিন। ছাদে গিয়ে আকাশটাকে দেখতে দিন। বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের যোগ্যতা যাচাই করতে দিন।
এবার একটা অন্য প্রসঙ্গ। আমাদের ক্রিকেট দল বেশ ভালো করছে। তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচ জিতেছে। আমরা ভীষণ খুশি। জিম্বাবুয়ের সঙ্গেও খুব ভালো করুক দলটা, এটা আমরা চাই। কিন্তু দলটা তো খারাপও করতে পারে। খেলায় হারজিত আছে। আর আমাদের যে ক্রিকেট-ঐতিহ্য, আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের যে দশা, আমাদের যে ক্রিকেট-কাঠামো, তাতে পৃথিবী-সেরা আসরে এই দলকে যখন আমরা পাঠাই, তখনই ওদের ঠেলে দিই এক অসম প্রতিযোগিতায়। তার পরও ওরা কখনো কখনো জেতে। এটাই বেশি। ফলে হারটাকেও আমাদের মেনে নিতে হবে। যখন ওরা হেরে যায়, তখনো যেন আমরা ওদের পাশে থাকি।
তেমনি করে, আমার যে সন্তানটি জিপিএ ফাইভ পায় না বা পাস করতে পারে না, তার পাশেও আমাকে থাকতে হবে। তার ভেতরের যে অমিত সম্ভাবনাটা আছে, সেটাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আমরা যেন মেরে না ফেলি।
প্রত্যেকটা মানুষই একেকটা অপার সম্ভাবনার নাম। প্রত্যেকটা হূদয়ের ভেতরে আছে এক অন্তহীন দিগন্তহীন জগত্। সেই জগতের দরজা-জানালা আমরা যেন বন্ধ না করি। তোতাকাহিনীতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘এক যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে।’ রাজা মন্ত্রীকে বললেন, ‘পাখিটাকে শিক্ষা দাও।’ সোনার খাঁচা বানানো হলো। পুঁথিলেখকেরা পর্বতপ্রমাণ পুঁথি নকল করলেন। বহুত জবরদস্তির পর যা হলো, রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘পাখিটা মরিল।’...‘রাজা পাখিটাকে টিপিলেন, সে হাঁ করিল না, হুঁ করিল না। কেবল তার পেটের মধ্যে পুঁথির শুকনো পাতা খস্খস্ গজ্গজ্ করিতে লাগিল।’
আমাদের লক্ষ লক্ষ তরুণের প্রাণের তোতাটাকে আমরা যেন মেরে না ফেলি।
তোমরা যারা জিপিএ ফাইভ পাওনি, এই লেখাটা তোমাদের জন্য। তোমরা প্রত্যেকেই একদিন অনেক বড় হবে, এটা তুমিও জানো, আমিও জানি। তোমাদের আব্বু-আম্মুরাও সেদিন অনেক খুশি হবেন। সেদিনের কথা ভেবে তাঁদের এখন একটু হাসতে বলি।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি ও আইসিইউ ভবন চালু করা হোক- সিলেট ওসমানী হাসপাতাল

অনিয়মের সমার্থক হয়ে উঠেছে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সিলেট বিভাগের প্রায় দেড় কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে বড় নির্ভরতা সিলেটের প্রধান এই হাসপাতাল। সিলেট ছাড়াও বিভাগের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সাধারণ মানুষজন এই হাসপাতালকে নিজেদের প্রধান অবলম্বন মনে করে। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, এই হাসপাতালে সর্বত্র অযত্ন-অবহলোর ছাপ। একটি বিভাগীয় হাসপাতালের এমন প্রতিচ্ছবি হতে পারে না।
এই হাসপাতালের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি নিয়ে স্থানীয় মানুষের বিস্তর অভিযোগ। হাসপাতালের মেঝে, করিডরসহ সবখানে রোগীর ছড়াছড়ি। জরুরি বিভাগ থেকেই শুরু হয় রোগীর বিড়ম্বনার পর্ব। দালালদের দৌরাত্ম্য থেকে চুরি-ছিনতাই এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সিলেটবাসী এ হাসপাতালের চিকিত্সাসেবার মান নিয়ে শঙ্কিত। তারা এ অবস্থা থেকে মুক্তি চায়।
১০ বছর আগে হাসপাতালটি ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৯০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও লোকবল, ভৌত অবকাঠামো কিংবা সুযোগ-সুবিধার কোনো উন্নতি হয়নি। প্রতিদিন এখানে গড়ে ১২০০ রোগী চিকিত্সা নিয়ে থাকে। ফলে প্রতিনিয়ত রোগীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। এ হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ ভিন্ন এ সমস্যার সমাধান করা কঠিন।
আধুনিক চিকিত্সাসেবার সুযোগ নিশ্চিত করতে ছয় কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত তিনতলা আইসিইউ ভবন নির্মাণ করে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহূর্তে ঘটা করে এর উদ্বোধন করা হলেও এখনো চালু হয়নি আইসিইউ ভবন। বিস্ময়কর হচ্ছে, আইসিইউ ভবনের সামনে এখন গরু চরে বেড়াতে দেখা যায়। এটি যেন এ হাসপাতালের প্রতীকী চিত্র। আমাদের নীতিনির্ধারকেরা ভবন নির্মাণের ব্যাপারে যতটা আগ্রহী, সেবা কার্যক্রম নিয়ে ততটা আগ্রহী নন।
দেশের সার্বিক উন্নয়নে সিলেটের অবদান অনস্বীকার্য। সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালটি এভাবে অনাদর-অবহেলায় রুগ্ণ হতে দেওয়া যায় না। অবিলম্বে হাসপাতালটির আইসিইউ ভবন চালু এবং শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

পেন্টাগনের তালিকায় ৫০ আফগান মাদক চোরাকারবারির নাম

আটক অথবা হত্যার জন্য পেন্টাগনের যে তালিকা রয়েছে, তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কথিত ৫০ আফগান মাদক চোরাকারবারির নাম। তালিকাভুক্ত এই মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে তালেবান বিদ্রোহীদের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত রোববার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
মার্কিন কংগ্রেসের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, পেন্টাগনের এই তালিকা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিফলন। চলতি সপ্তাহে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকাশ করার আগেই প্রতিবেদনটি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর হাতে চলে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেনা কমান্ডাররা কংগ্রেস কমিটিকে বলেছেন, তালেবানের অর্থপ্রবাহ বিঘ্নিত করতে তাঁরা যে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, এটা তার অপরিহার্য একটি অংশ।
টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব পাচারকারীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত, তাদের নাম তালিকার প্রথম দিকে রাখা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, বিদ্রোহী নেতাদের সমান গুরুত্ব দেওয়া হলো পাচারকারীদের। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার কিংবা হত্যা করা যাবে।
মার্কিন কমান্ডাররা বলেন, বর্তমানে তালেবানকে অর্থসহায়তা করে—এ রকম ৫০ জন বড় পাচারকারীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
একজন মার্কিন জেনারেল সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্যদের জানান, আটক কিংবা হত্যার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে—এ রকম ৩৬৭ জনের নামের একটি তালিকা রয়েছে। এই তালিকায় ৫০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের মাদক ও বিদ্রোহ তত্পরতার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।
সিনেটের প্রতিবেদনে ওই জেনারেলের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পেন্টাগনের মুখপাত্র প্যাট্রিক রাইডার সিনেটের প্রতিবেদন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসা ও বিদ্রোহে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসবাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে।

৯/১১-এর ধ্বংসস্তূপ অপসারণকাজের কর্মীদের একাংশ ক্যান্সারে আক্রান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ধ্বংস হওয়া টুইন টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজে অংশ নেওয়া উদ্ধারকর্মীদের একাংশ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। সম্প্রতি এক গবেষণা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গবেষকেরা জানান, ৯/১১-এর ধ্বংসস্তূপে কাজ করা নিরপত্তা বাহিনীর খুবই ছোট একটি দল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তবে উদ্ধারকাজ চালানোর সময় ধ্বংসস্তূপ থেকে নির্গত কোনো ক্ষতিকর পদার্থ তাঁদের অসুস্থ হয়ে পড়ার জন্য দায়ী কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা।
গত সোমবার ‘অকুপেশনাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেডিসিন’ সাময়িকীতে ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে চিকিত্সকেরা জানান, টুইন টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপে যাঁরা কাজ করেছিলেন, তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা অব্যাহত রাখা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিয়ানি স্কুল অব মেডিসিনের চিকিত্সক জ্যাকুলিন এম মলিন বলেন, ‘আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণ খুঁজছি। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’ মলিন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার মেডিকেল মনিটরিং অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট প্রোগ্রামের পরিচালক।
গবেষক দলটি ২৮ হাজার ২৫২ জন ৯/১১-এর নিরাপত্তাকর্মীর ওপর এই গবেষণা চালান। তাঁদের মধ্যে মাত্র আটজন রোগী পাওয়া গেছে, যাঁরা ‘মাল্টিপল মাইয়েলোমা’ ক্যান্সারে আক্রান্ত। যুক্তরাষ্ট্রে এটা তেমন অস্বাভাবিক ঘটনা না। তবে অস্বাভাবিক বিষয়টি হলো আটজনের মধ্যে চারজনের বয়স ৪৫ বছরের নিচে। সাধারণত সে দেশে তরুণদের মধ্যে এ ধরনের ক্যান্সারের সংক্রমণের হার অনেক কম।
আক্রান্ত তরুণ চারজন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে একজন কর্মকর্তা কয়েক মাস টুইন টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপ এলাকায় কাজ করেছেন। আরেকজন কর্মী ১১ দিন স্ট্যাটেন দ্বীপে কর্মরত ছিলেন, যেখানে ধ্বংসস্তূপের আবর্জনাগুলো সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে অন্য দুজন প্রথম দুজনের তুলনায় ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কম সময় কাজ করেছেন। একজন ১২ দিন এবং অন্যজন ১৪ দিন কাজ করেছেন। মলিন বলেন, তরুণদের মধ্যে মাল্টিপল মাইয়েলোমা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা খুব কম। সাধারণত সত্তরোর্ধ্ব বয়সের মানুষদের মধ্যে এই ক্যান্সার দেখা যায়।
তবে নিউইয়র্ক শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের উপকমিশনার লোরানা থর্প বলেন, সোমবারের প্রকাশিত গবেষণায় বা এর আগে প্রকাশিত অন্য কোনো গবেষণাতেই ৯/১১-এর ধ্বংসস্তূপের ধুলা ও ক্যান্সারের মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। সাধারণত কোনো রোগীর দেহে মাল্টিপল মাইয়েলোমা ক্যান্সার বাসা বাঁধতে ২০ থেকে ৩০ বছর সময় নেয়। সেখানে ওই তরুণ চারজনের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের আবর্জনায় কাজ করার তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ক্যান্সার বাসা বাঁধার বিষয়টি এর পেছনে অন্য কোনো কারণের ইঙ্গিত বহন করে।

ভারতজুড়ে সোয়াইন ফ্লু আতঙ্ক মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬

সোয়াইন ফ্লুর আতঙ্কে এখন গোটা ভারত। যেসব রাজ্যে এখনো সোয়াইন ফ্লুর প্রকোপ দেখা দেয়নি, সেসব রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। এই আতঙ্কের জন্য সাধারণ মানুষ এখন রাস্তায় মাস্ক পরে বের হতে শুরু করেছে। এ পর্যন্ত নয়াদিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও চেন্নাইয়ে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। অন্যান্য রাজ্যের সরকারেরা এরই মধ্যে সোয়ান ফ্লু প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা নিয়েছে।
ভারতে সোয়াইন ফ্লুতে এ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার মারা গেছে দুজন। একজন মারা গেছে চেন্নাইয়ে ও অন্যজন মহারাষ্ট্রের পুনেতে। চেন্নাইয়ে মারা গেছে চার বছরের এক শিশু। শিশুটি মায়ের সঙ্গে সিঙ্গাপুর থেকে এসেছিল। তার মা সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। আর পুনেতে মারা গেছেন ৩৫ বছরের এক আয়ুর্বেদিক চিকিত্সক। এর আগে পুনেতে দুজন, আহমেদাবাদে একজন ও মুম্বাইয়ে একজন মারা গেছে।
কলকাতার বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত ১০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে দুজন কোরিয়ান নাগরিক।
এদিকে কলকাতার তিনটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ইনফ্লুয়েঞ্জা চিকিত্সার জন্য পৃথক কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৫৮ জন। সেখানে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল দিল্লি থেকে পুনেতে একটি বিশেষ চিকিত্সক দলকে পাঠানো হয়েছে। পুনেতে গতকাল আরও ৪২ জনের দেহে সোয়াইন ফ্লুর জীবাণু পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোলাম নবী আজাদ সোয়াইন ফ্লু নিয়ে অযথা দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে রাজ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগ দেশের ২২টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে। এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ২২৪ জন চিকিত্সক। বিমানবন্দরে স্থাপিত ৮১টি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হচ্ছে।

পাঞ্জাবে বিএসএফ জওয়ানদের মধ্যে এইডসের সংক্রমণ

পাঞ্জাবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের জন্য নতুন হুমকির নাম ‘এইডস’। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েন প্রতিটি ইউনিটের জওয়ানদের মধ্যে দুজন মরণব্যাধি এইডস রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তারা। বিএসএফের ফিরোজপুর সেক্টরের চিকিত্সা কর্মকর্তা শালিন্দের কাউর বলেন, গত কয়েক বছরে বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে এইডসের সংক্রমণ ঘটেছে। পাঞ্জাব সীমান্তে মোতায়েন মোট সাতটি ইউনিটের প্রতিটিতে দুজন জওয়ান এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা এখন চিকিত্সাধীন। সম্ভবত যৌনকর্মীদের মাধ্যমে রোগটি জওয়ানদের মধ্যে ছড়িয়েছে।
কাউর জানান, এইডসে আক্রান্ত ১৪ জন জওয়ানের মধ্যে কয়েকজনকে জলন্ধরে এবং কয়েকজনকে দিল্লিতে চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসএফের একজন কর্মকর্তা জানান, বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে এইডস ছড়িয়ে পড়ছে। সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকার সময় জওয়ানেরা তেমন ছুটি পান না। তাঁদের অধিকাংশই কাছাকাছি এলাকার যৌনকর্মীদের কাছে যাওয়া-আসা করেন এবং সেখান থেকেই সম্ভবত অনেকে এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই কর্মকর্তার বক্তব্যের পক্ষে
সমর্থন জানিয়ে এইডসে আক্রান্ত এক জওয়ান বলেন, ‘আমাদের আরও বেশি ছুটি দেওয়া উচিত এবং দায়িত্বে থাকার সময় পরিবারের সঙ্গে বিএসএফ ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেওয়া উচিত।’
এদিকে পাঞ্জাবের এই সীমান্ত এলাকা যৌনকর্মীদের জন্য ভালো ব্যবসায়িক এলাকায় পরিণত হয়েছে। অনেক যৌনকর্মী গানের দলের সদস্য হিসেবে বেশ ধরে থাকেন। এ ব্যাপারে শালিন্দের কাউর বলেন, সরকার এই পরিস্থিতির বিষয়ে সচেতন এবং এইডসের সংক্রমণ রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

পরমাণু অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায়প্রচেষ্টা জোরদার করুন: মুন

পরমাণু অস্ত্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। গতকাল সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ইউএন অ্যাসোসিয়েশনসের বার্ষিক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর এএফপির।
পরমাণু অস্ত্র হ্রাসের ব্যাপারে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা আলোচনার উদাহরণ টেনে বান কি মুন বলেন, এ সমঝোতা গত এক দশকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা। এটি পৃথিবীকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি এ-ও বলেন, ‘এখন আমাদের পালা।’ ৬৩টি দেশের অন্তত ২৫০ জন প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নেন।

টাইফুনের ছোবলে পূর্ব এশিয়ায় ২৮ জনের প্রাণহানি

পূর্ব এশিয়ায় টাইফুনের ছোবলে প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ২৮ জন। নিখোঁজ রয়েছে আরও অনেকে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। বন্যার পানিতে আটকা পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
টাইফুন মোরাকোটের আঘাতে তাইওয়ানে নিহত হয়েছে ১৪ জন। নিখোঁজ রয়েছে আরও ৫১ জন। মোরাকোটের প্রভাবে সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত শনি ও রোববার ১০০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
গত রোববার সন্ধ্যায় চীনা ভূখণ্ডে আঘাত হানে মোরাকোট। টাইফুনের ছোবল থেকে বাঁচাতে উপকূলীয় এলাকা থেকে আগেই প্রায় ১০ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঝেজিয়াং প্রদেশের শত শত গ্রাম বন্যা-কবলিত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে এক হাজার ৮০০ বাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ। বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ভারী বর্ষণ ও প্রবল বাতাসের তোড়ে একটি বাড়ি ধসে পড়লে নিহত হয় চার বছরের একটি শিশু।
টাইফুন এতায়ুর প্রভাবে ভারী বর্ষণ হচ্ছে জাপানে। প্রবল বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ জন। জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
বন্যা ও ভূমিধসের কারণে তাইওয়ানের অনেক জায়গায় রেল ও সড়ক যোগাযোগ-ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুত্-সংযোগ ও পানি সরবরাহ। ভেঙে গেছে অনেক সেতু। এসব কারণে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ছয়তলা একটি হোটেল ভবন নদীতে ভেঙে পড়েছে। হোটেলকর্মী ও অতিথিদের উদ্ধার করা হয়েছে।
তাইওয়ানের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, শুধু কৃষি খাতেই ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ১০ কোটি ডলারের।
দক্ষিণাঞ্চলীয় পিংটুং এলাকায় আটকা পড়েছে কয়েক হাজার লোক। কাউসিউং অঞ্চলে একটি সেতু ভেঙে পড়লে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে প্রত্যন্ত একটি গ্রামের এক হাজার ৩০০ মানুষ আটকা পড়েছে। স্থানীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, সিয়াওলিন গ্রামে ২০০ বাড়ি কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের কারাগারে ধর্ষণ করা হয়েছে

ইরানের পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মেহেদি কাররৌবি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভের ঘটনায় আটক বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষকে কারাগারে ধর্ষণ ও বলাত্কার করা হয়েছে। প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আকবর হাসেমি রাফসানজানিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এই অভিযোগ করেন।
কাররৌবি বলেন, বেশ কয়েকজন বন্দী জানিয়েছেন, কয়েকজন নারী বন্দীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আটক তরুণদেরও বলাত্কার করা হয়েছে।
অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার জন্য রাফসানজানির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বলাত্কারের শিকার হওয়ার পর থেকে তরুণেরা বিষাদে ভুগছেন। তাঁদের মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়েছে।
কাররৌবি বলেন, যদি একটি অভিযোগও সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক।
২৯ জুলাই রাফসানজানিকে এই ‘গোপন পত্র’ দেন কাররৌবি। রাফসানজানি ইরানের এসেম্বলি অব এক্সপার্টের প্রধান। শক্তিশালী এই কমিটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ও তাঁর কার্যক্রম তদারক করে থাকে।
ধর্ষণের অভিযোগের ব্যাপারে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কথা বলার জন্য রাফসানজানির প্রতি আহ্বান জানান কাররৌবি।
বন্দী নির্যাতনের ঘটনায় ইতিমধ্যে ইরানের একটি আটক কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ নিশ্চিত করে জানিয়েছিল, কাহরিজাক আটক কেন্দ্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ওই কেন্দ্রে অধিকাংশ নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভকারীকে আটক রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় কেন্দ্রের প্রধানসহ তিন কারারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধীদের বিচারের আন্তর্জাতিক সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে এ ধরনের ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হাসান গাসগাবি পশ্চিমা সমালোচনাকে ‘অবৈধ ও বিস্ময়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা বলিষ্ঠভাবে রুখে দাঁড়াব।’
ব্রিটিশ দূতাবাসের কর্মী হোসেইন রাসাম, ফরাসি প্রভাষক ক্লোটিলদে রেইস এবং ফরাসি দূতাবাসের ইরানি কর্মী নাজাক আফসারসহ শতাধিক বিরোধী কর্মীকে ইরানের বিপ্লবী আদালতে তোলা হয়েছে।
ব্রিটিশ দূতাবাসের কর্মী হোসেইন রাসাম চাপের মুখে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন হাসান গাসগাবি। তিনি বলেন, আদালতে ওঠার আগেই রাসামকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন বাড়িতে। কোনো ধরনের চাপের মধ্যে নেই তিনি।
ফরাসি প্রভাষক ক্লোটিলদে রেইসের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন গাসগাবি। তিনি বলেন, ওই ফরাসি নারী ইস্পাহান কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরাসি ভাষা শেখান। কিন্তু তিনি তেহরানের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ও ছবি তুলেছেন।
অন্যদিকে ইরানে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি প্রণয়নে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল বিজয়ী শিরিন এবাদি। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে শিরিন এবাদি বলেন, ‘আমি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের বিরোধী। এসব অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও সঙ্গিন করে তুলতে পারে।’ তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক জনমত ইরানের গণতন্ত্রায়ণে সহায়তা করতে পারে।

ব্রিটেনের সূর্য এখন নিবুনিবু

বলা হয়ে থাকে, এমন একটা সময় ছিল যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যেত না। এতটাই বিশাল ছিল তার ব্যাপ্তি। কিন্তু প্রথম মহাযুদ্ধের পর থেকে এই প্রতাপশালী রাষ্ট্রের আধিপত্যের পতন শুরু। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মহাপরাক্রমশালী দেশ হিসেবে মঞ্চে আবির্ভাব ‘আমেরিকা’ (যুক্তরাষ্ট্র) নামের এক রাষ্ট্রের। ব্রিটেন হারায় প্রতিপত্তি। কিন্তু তার পরও ষাট, সত্তর ও আশির দশকে ‘ঠান্ডা লড়াই’য়ের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুঁজিবাদের ঝান্ডা বহন করে ব্রিটেন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার নিজের অবস্থান কোনো রকমে ধরে রেখেছিল।
আশির দশকেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সঙ্গেই উচ্চারিত হতো তত্কালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লৌহমানবী মার্গারেট থ্যাচারের নাম। এই ঐতিহ্য বজায় ছিল ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকে ন্যাটোর প্রতিটি পদক্ষেপে। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্রিটেনের সেই দিন আর নেই। তার সূর্য এখন নিবুনিবু। ১৯৯৭ সালে রক্ষণশীলদের প্রভাব ভেঙে লেবার পার্টির ক্যারিশম্যাটিক নেতা টনি ব্লেয়ারের আবির্ভাবে কিছুটা আস্থা সৃষ্টি হয়েছিল ব্রিটেনবাসীর। তত দিনে পতন ঘটেছে সোভিয়েত ইউনিয়নের। যুক্তরাষ্ট্রের সমান্তরালে পরাশক্তি তখন আর কেউ নেই। কিন্তু তার পরও কর্তার ইচ্ছায় কর্মের মতো টনি ব্লেয়ারকেও দেখা গেল মার্কিন পতাকাতলেই। ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জোট হয়ে যুদ্ধে জড়িয়েছে। এভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিটেনের অবশিষ্ট ভাবমূর্তিরও অবসান ঘটে ক্যারিশম্যাটিক ব্লেয়ারের আমলেই।
২০০৮ সালের শুরুই হয় বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা দিয়ে। এ সময় মার্কিন প্রভাববলয়ে থেকে বিশ্বরাজনীতিতে পেশিশক্তির মহড়া দেখানো ব্রিটেনকেও দেখা গেল মন্দায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায়। দেশটির মাথাপিছু গড় আয় হ্রাস পেয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী, ব্রিটেনের মাথাপিছু আয় ২০০৮ সালের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ছয় বছর বা এর চেয়েও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। ব্রিটেনে বেকারত্ব ১৯৯৯ সালের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনৈতিক সূচকগুলো এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এদিকে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ব্রিটেন বাধ্য হয়েছে তার সামরিক বাজেটে কাটছাঁট আনতে। লেবার পার্টি ও রক্ষণশীল দল বাজেট কাটছাঁট না করার যতই ঘোষণা দিক না কেন, আদতে বিরাট সামরিক বাজেট রাখার মতো অবস্থানে ব্রিটেন নেই।
অবস্থা যখন এই তখন অনেক দিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের চেয়ে বরং বিশ্ব অর্থনীতির অন্যান্য দ্রুত উন্নয়নশীল শক্তির দিকেই বেশি ঝুঁকছে। চীন, ভারত কিংবা ব্রাজিলের মতো অর্থনীতির নতুন শক্তিগুলোর সাহচর্য এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি কাম্য।
বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা শহর লন্ডন নিয়ে কিছুদিন আগে পর্যন্ত ব্রিটেনবাসীর গর্বের অন্ত ছিল না। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ পাতালরেল, গণপরিবহনের নানামুখী ব্যবস্থা লন্ডনকে করেছিল বিশ্বের অনেক শহরের কাছেই উদাহরণ। লন্ডন ছিল ব্রিটেনের প্রতিপত্তির সবচেয়ে বড় কারণ। বহু বছর ধরে লন্ডন ছিল অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্যের সেরা পীঠস্থান। বিশ্বের অনেক পুরোনো করপোরেট সংস্থাও গড়ে ওঠে এই শহরে। ওয়াল স্ট্রিট-এর নানা উন্নয়নসূচকে ছিল লন্ডনের কোম্পানিগুলোর দাপট। ব্যাংকিং, গৃহায়ণ প্রভৃতি সেক্টরে অর্থনৈতিক মন্দার কামড় লন্ডনের ওই কোম্পানিগুলোকে একেবারেই পথে বসিয়ে দিয়েছে।
ব্রিটিশরা এখন চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছে বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতির ইঁদুর দৌড়ে তারা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। ব্রিটেনের এ অবস্থার মূলে অর্থনৈতিক মন্দা হলেও অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ এর জন্য ব্রিটেনের মার্কিনপন্থী অবস্থান ও বিশ্ব সমর-রাজনীতিতে তাদের ভুল অবস্থানকে দায়ী করেন। ব্রিটেনের ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে জড়ানো ছিল অনেক বড় রাজনৈতিক ভুল—দেশটির জনগণ ও সুশীল সমাজ এখন এটি বুঝতে শুরু করেছে।
ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ইতিমধ্যেই বিশ্বরাজনীতিতে তাঁর দেশের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থান টের পাচ্ছেন। আর কিছুদিনের মধ্যেই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন। বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে আধিপত্য ফিরে পেতে প্রয়োজন যোগ্য, উদ্যমী ও গতিশীল নেতৃত্ব। কিন্তু ব্রিটেনের নেতাদের মধ্যে এগুলোরই এখন সবচেয়ে বড় অভাব।

রঞ্জিতের দেখা অদেখার জগত্ -মানুষের মুখ by মামুনুর রশিদ মামুন

‘এ পৃথিবী কত সুন্দর! কত আর্কষণীয় তার সব সৃষ্টি। সব দেখেছি, অনুভব করেছি। আজ আর দেখতে পারি না, শুধু অনুভব করি।’ এভাবেই নিজের আবেগের কথা জানালেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কলেজছাত্র রঞ্জিত কুমার পাল (২৪)। একসময় সবকিছু দেখতে পারতেন, নিজের মনের মতো করে সাজাতেন সবকিছু। খেলাধুলা, লেখাপড়া—সবকিছুতে ছিলেন সেরা। আজ তাঁর অনেক কিছুই যেন অনুপস্থিত। কী এক কালবৈশাখী ঝড় সব তছনছ করে দিয়েছে। অপবাদ নিতে হয়েছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর। তার পরও হাল ছাড়েননি রঞ্জিত পাল। সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। যে স্বপ্ন বুকে লালন-পালন করেছেন শিশুকাল থেকে, বাঁধা পেলেও তা পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আবার আগের মতো নিজেকে সাজানোর স্বপ্ন দেখছেন। দৃষ্টিশক্তি হারালেও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন নিজ প্রচেষ্টায়। নিজেই উপার্জন করে বহন করছেন লেখাপড়ার খরচ। এই সংগ্রামী যুবকের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারার মহব্বতপুর গ্রামে। বাবা ধীরেন্দ্রনাথ পেশায় একজন পাল। মাটির পাতিল বিক্রি করে চলে তাঁর সংসার।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। হঠাত্ আটকে গেল পাশের কক্ষের এক পরীক্ষার্থীর দিকে। বিড়বিড় করে কী যেন বলছেন আর পাশে বসা আরেক ছাত্র লিখে চলেছেন। এ কক্ষেও পরীক্ষা চলছে বুঝতে পারলেও কে পরীক্ষার্থী তা ঠিক করতে পারছিলাম না। তাই ওই কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সিনিয়র ইয়াদ আলী স্যারের কাছে জানতে চাইলাম, আসল ঘটনা। তিনি জানালেন কথক ছেলেটি বিএ পরীক্ষার্থী। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাই রাইটারের সহযোগিতায় পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। পরীক্ষা শেষে আলাপ করলাম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রঞ্জিত কুমার পালের সঙ্গে। তিনি জানালেন তাঁর প্রতিবন্ধী হওয়া ও লেখাপড়া চালানোর সংগ্রামের কাহিনী। দশম শ্রেণীর ছাত্র, ক্লাসের মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে তিনিও একজন। ১৯৯৯ সালের কথা হঠাত্ ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হন তিনি। এ দেশে চিকিত্সা শুরু হলো। চিকিত্সকেরা জানালেন, এ দেশে তাঁর চিকিত্সা সম্ভব হবে না। ভারতে নিয়ে গেলে হয়তো তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হবে। কিন্তু এত টাকা কোথায়? তার পরও বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন রঞ্জিত। পিতামাতা অকালে ঝরে যাওয়া দেখতে চান না তাঁদের প্রিয় সন্তানের। তাই জমিজমা সব বিক্রি করে সন্তানকে নিয়ে ছুটলেন ভারতে। চিকিত্সার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেল মেধাবী রঞ্জিতের। দুই চোখেই আর কাজ করে না। লেখাপড়া শেষ করতে চাইলেন না রঞ্জিত। তাঁর ইচ্ছে অনেক দূর অগ্রসর হওয়া। কীভাবে পড়বেন তা ভেবে কুলাতে পারছিলেন না তিনি। এভাবে কেটে গেল কয়েক বছর। স্থির করলেন আবার বিদ্যালয়ে যাবেন। কিন্তু কীভাবে? এ রকম নানা প্রশ্ন দেখা দিল তাঁর মধ্যে।
একসময় নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে রঞ্জিত আবার গেলেন বিদ্যালয়ে। সহপাঠীদের সহযোগিতায় বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে মোহনগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ে যান তিনি। কিন্তু কীভাবে লেখাপড়া করবেন, আগের মতো তো আর দৃষ্টিশক্তি নেই। স্থির করলেন পড়ার জন্য বাড়িতে থাকা টেপ রেকর্ডার ব্যবহার করবেন। তাই বইয়ের পাড়া-প্রতিবেশী শিক্ষিত কাউকে ডেকে নিয়ে এসে টেপে তার রেকর্ড করে নেন। পরে একাকী টেপ চালু করে সেসব পড়া মুখস্থ করে বিদ্যালয়ে যেতেন। এভাবে ভালোই চলল রাইটার নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া। শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করলেন তিনি। ভর্তি হলেন স্থানীয় কলেজে। একই ভাবে লেখাপড়া করে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েও পাস করলেন রঞ্জিত। ভর্তি হলেন মোহনগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে। তাঁকে সহযোগিতা করে আসছেন জুনিয়র রাইটার প্রতিবেশী দীপক কুমার। তিনি উচ্চমাধ্যমিক শাখার দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র, তাঁকে নিয়ে পথচলা তাঁর। রঞ্জিত লেখাপড়ার সুবিধার্থে বেল পদ্ধতি শিখে নিয়েছেন। লেখাপড়ায় এ পদ্ধতি তাঁকে সহায়তা করে বলে জানান। তবে তাঁকে বেশি নির্ভর করতে হয় টেপরেকর্ডারের ওপর। পাড়ার কলেজ-বিদ্যালয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাঁদের মধ্যে আপেল মাহমুদ, দীপক কুমার, তানিয়া ও সুমন উদ্দিনের সহযোগিতা বেশি পেয়েছেন তিনি। তাঁরা বই পড়ে রেকর্ড করেন আর পরে তা বাজিয়ে শোনেন তিনি। এভাবে চলছে তাঁর লেখাপড়া। এতে খরচও বেশি হয় তাঁর। রঞ্জিতের লেখাপড়ার খরচও নিজেকে জোগাড় করতে হয়। বিকেলে বাড়ির পাশে রাস্তায় বসে বিক্রি করেন বাদাম ভাজা। এ থেকে যা পান তা দিয়েই চলে তাঁর লেখাপড়ার খরচ। প্রতিবেশী অনেকেই সহযোগিতা করেন তাঁকে চলার পথে। তবে আরও দূরে যেতে চান, আরও পথ চলার আগ্রহ রয়েছে তাঁর। তাঁর দুই চোখ সেটাই প্রমাণ করে। তাঁকে নিয়ে লেখা হবে জানতে পেরে রঞ্জিত বললেন, ‘স্যার, আমাকে নিয়ে লেখেন, আমি আরও দূরে যেতে চাই।’

ছয় সপ্তাহ পরই মাশরাফি আবার মাঠে

মাশরাফি:এখন শুধুই ফেরার অপেক্ষা
অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার সময় একজন মানুষের মনোজগতে কী ঘুরে বেড়ায়—ভয়, দুশ্চিন্তা, শঙ্কা? মাশরাফি বিন মুর্তজার কণ্ঠে ছিল আকুলতা। চেতনানাশক দেওয়ার আগ মুহূর্তে চিকিত্সকের কাছে বাংলাদেশ অধিনায়কের জিজ্ঞাসা ছিল, ‘জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে খেলতে পারব তো?’ দুই ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে সুখবরই দিয়েছেন চিকিত্সক ডেভিড ইয়াং, আরও একবার তাঁর হাতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে মাশরাফির অস্ত্রোপচার। প্রাথমিক যা ধারণা, তাতে তিন সপ্তাহ পরেই দৌড়াতে পারবেন, আর ছয় সপ্তাহ পর আবার হাতে নিতে পারবেন বল। গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টে বোলিং করতে গিয়েই নতুন করে চোট পান।
প্রথমে ভাবা হয়েছিল অস্ত্রোপচার লাগবে কেবল ডান হাঁটুতে। অস্ট্রেলিয়া গিয়ে দেখা গেল তাঁর বাঁ হাঁটুও একটু ফোলা। মেলবোর্নের এভিনিউ হাসপাতালে চিকিত্সক ইয়াং ও তাঁর সহকারীদের তত্ত্বাবধানে গতকাল অস্ত্রোপচার করেছেন তাই দুই হাঁটুতেই। বাঁ হাঁটুর সমস্যাটা অবশ্য জটিল কিছু ছিল না, জমে থাকা কিছু ফ্লুইডই কেবল বের করে নেওয়া হয়েছে। বড় ধকলটা আরও একবার গেছে ডান হাঁটুর ওপর দিয়েই। ডান হাঁটুর ল্যাটারাল লিগামেন্ট একটু শিথিল হয়ে গিয়েছিল, সেটিকে চেপে ঠিক করে দিয়েছেন চিকিত্সক ইয়াং। তবে মাশরাফি ও চিকিত্সক ইয়াং দুজনেই শঙ্কিত ছিলেন লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পুরোনো সমস্যাটা আবার দেখা দিল কি না! সে ক্ষেত্রে অপেক্ষাটা বেড়ে যেত আরও। তবে তাঁদের দুজনের সঙ্গে পুরো দেশের জন্যই স্বস্তির খবর, মাশরাফির এসিএল বা অ্যাস্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্টের কোনো ক্ষতিই হয়নি। আগামীকালই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা আছে মাশরাফির। ১৭ আগস্ট তাঁকে আরেকবার দেখবেন চিকিত্সক ইয়াং, চেকআপের প্রয়োজন হতে পারে কয়েক দফা। সব মিলিয়ে সপ্তাহ দুয়েক মাশরাফিকে থাকতে হবে অস্ট্রেলিয়ায়।
মেলবোর্নে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বন্ধু আবদুল একরাম বাবুর বাসায় ছিলেন মাশরাফি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও এই সুহূদ বাঙালির ড্যান্ডিনংয়ের বাসায়ই থাকবেন তিনি। স্ত্রী সুমি সঙ্গে থাকায় আরেকটা বড় ভরসা পাচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অবশ্য তিনি নিজেই ভরসা দিয়েছেন সবাইকে, মনোবল হারাননি মোটেও। অস্ত্রোপচারের পর জানিয়েছেন, দ্রুতই ফিরতে চান মাঠে, ‘এখন অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছি, সার্জারিও ভালোভাবে হয়েছে। আশা করি, দলের পরের সিরিজেই মাঠে নামতে পারব।’
মেলবোর্নে থেকেও অবশ্য মাশরাফির মন পড়ে আছে বুলাওয়েতে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে যেখানে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। পরদিন অস্ত্রোপচার, তার পরও প্রথম ম্যাচের পুরোটা দেখেছেন ইন্টারনেটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের ধারা জিম্বাবুয়েতেও বজায় থাকায় ভীষণ উচ্ছ্বসিত তিনি। খুশি হয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল সেঞ্চুরি পাওয়াতেও। আশা করছেন প্রতিটি ম্যাচেই অব্যাহত থাকবে এই দাপট আর খুব শিগগিরই তিনিও ব্যাটে-বলে অবদান রাখবেন দলের জয়যাত্রায়।

কাকার চোখেও ট্রেবলের স্বপ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে নেমে হাসিতে উচ্ছল
রোনালদো আর কাকা।মৌসুম শেষে
এই হাসিটা ছড়িয়ে দিতে চান বার্নাব্যুতে
‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাই, তবে কাজটা খুব সহজ হবে না’—এ মৌসুমেও ট্রেবল জয়ের স্বপ্নের কথা জানিয়ে ছোট্ট এই পাদটীকা জুড়ে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। পাদটীকাটা কেন জুড়ে দিতে হয়েছে, তা পরিষ্কার হয়ে যায় কাকার কথায়। রিয়াল মাদ্রিদে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন এই ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার। ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন খেলা করছে তাঁর চোখেও।
করিয়েরে দেল্লো স্পোর্ত পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কাকা বলেছেন, ‘আমি লিগা, কোপা ডেল রে ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চাই।’ স্প্যানিশ লিগ জয় রিয়ালের জন্য হয়তো অত কঠিন কিছু নয়। ২০০৭-০৮ মৌসুমেও এই শিরোপাটা তারা জিতেছে। রেকর্ড ৩১ বার স্প্যানিশ লিগ শিরোপাজয়ী রিয়াল মাদ্রিদ কোপা ডেল রেও জিতেছে ১৭ বার। তবে কোপা ডেল রের সর্বশেষ শিরোপা রিয়ালের ঘরে উঠেছে ১৬ বছর আগে, ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে। সর্বোচ্চ নয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী দলটির ওই দশম শিরোপার অপেক্ষাও অনেক দীর্ঘ। ২০০২-০৩ মৌসুমের পর আর ইউরো-সেরা হতে পারেনি তারা।
তবে এবারের মৌসুমটা রিয়ালের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। দুঃসহ এই অতীতকে পেছনে ফেলার প্রত্যয় এবার রিয়ালের। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সভাপতিত্বে নতুন করে সেজেছে রিয়াল। পর্তুগিজ উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ট্রান্সফার ফির বিশ্ব রেকর্ড (৯৪ মিলিয়ান ইউরো) গড়ে বার্নাব্যুতে এনেছেন পেরেজ। এসি মিলান থেকে তুলে এনেছেন কাকাকে। এই গ্রীষ্মে এ দুই বিশ্বসেরার সঙ্গে ফ্রান্সের তরুণ স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা এবং লিভারপুলের জাভি আলোন্সোকেও সাদা পতাকার নিচে নিয়ে নিয়েছেন পেরেজ। রাউল গঞ্জালেস, গঞ্জালো হিগুয়েইন আর আরিয়েন রোবেনরা তো আগেই ছিলেন। সব মিলিয়ে আবার নক্ষত্রের মেলা রিয়ালে। তাঁরাই রিয়ালে শিরোপার মালা বানাতে পারবেন বলে বিশ্বাস পেরেজেরও।
কাকারও বিশ্বাস, রিয়াল সমর্থকদের শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসাতে পারবেন। রোনালদোকে সঙ্গে পেয়েই আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে গেছে তাঁর, ‘এখানে (রিয়াল মাদ্রিদ) আসতে পেরে আমি খুশি। সবচেয়ে খুশি আমার প্রিয় খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পাশে পেয়ে। ওকে নিয়ে তিনটা শিরোপা জয়ের দিকে তাকিয়ে আছি আমি।’
কাকা আর রোনালদো হয়তো পারবেন। এর আগেও যে পেরেছেন দুজনই। কাকা তাঁর ক্লাব এসি মিলানকে জিতিয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ। রোনালদো ম্যানইউকে জিতিয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ ও টানা তিনটি ইংলিশ লিগ। তাঁদের দুজনের জুটি হলে সেটি যে কত ভয়ঙ্কর হবে, সেটা ভেবেই প্রতিপক্ষরা হয়তো প্রমাদ গুনছে।
রিয়ালের সর্বশেষ দুটি প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে একসঙ্গে খেলেছেন দুজন। দুটিতেই ৫-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে রিয়াল। প্রথমটি গত শুক্রবার মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব টরেন্টো এফসির বিপক্ষে। দ্বিতীয়টি এমএলএসের আরেক ক্লাব ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে। আগের ম্যাচে রাউল করেছিলেন জোড়া গোল। আর পরশু জোড়া গোল করেছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হিগুয়েইন।

এই আশরাফুলকেই তো চায় বাংলাদেশ by তারেক মাহমুদ

হলিডে ইন হোটেলের লবিতে হঠাত্ বাংলা কথা। বাংলাদেশ দল যে হোটেলের বাসিন্দা সেখানে বাংলাভাষী তো পাওয়া যাবেই। কিন্তু যাদের মুখে বাংলা কথা শুনছি সেই চার তরুণের কেউই যে বাংলাদেশ দলের সদস্য নন!
হিমেল, সুমন, আসিফ আর শামীম। পরশু প্রথম ওয়ানডের দিন ৭০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে তাঁরা এসেছেন বতসোয়ানা থেকে। বাংলাদেশের খেলা দেখবেন, বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করবেন—এই হলো উদ্দেশ্য। কিন্তু বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল তিনটা, মানে ম্যাচের অনেকটাই শেষ। তার পরও হোটেল লবিতে এই চার তরুণ হাস্যোজ্জ্বল। শেষ মুহূর্তে এলেও বাংলাদেশের জয়টা তো দেখা গেছে! তার চেয়েও বড় কথা, তাঁরা সাক্ষী হতে পারলেন আশরাফুলের অনবদ্য এক সেঞ্চুরির।
যে সেঞ্চুরির পর আশরাফুলকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। শুধু শোনা যায়। কথাটা কেমন যেন হয়ে গেল তাই না? কিছু করার নেই। বাস্তবিক অর্থেই পরশু সেঞ্চুরি করে ওয়ানডেতে তিন হাজার রান পাওয়া আশরাফুল অস্পর্শনীয় হয়ে গেলেন। টিম হোটেলে ঘণ্টা দেড়েকের অপেক্ষার পর তাঁর দেখা মিলল, কিন্তু ধরা গেল না। সতীর্থদের সঙ্গে বাসে উঠে চলে গেলেন ডিনার করতে। তবে এই প্রতিবেদকের ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলতে হবে। আশরাফুল প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন রাতে ফোন করলে কথা বলবেন।
সেই ফোনালাপে আশরাফুলের কণ্ঠ শোনার সৌভাগ্য হলো, কিন্তু কণ্ঠে সেঞ্চুরিয়ানের আনন্দ কই? প্রতিক্রিয়া খুবই নিষ্প্রাণ, নিরুত্তাপ। ‘আমি কিছু বলতে চাই না...’, ‘আমার কিছু বলার নেই...’ কিংবা ‘আগে রান করতে পারি নাই, এখন পারছি’, ‘বলে কী লাভ? এক-দুই ম্যাচ খারাপ খেললেই তো আবার...’—এ জাতীয় পাশ কাটানো অভিমানী কথা। হলিডে ইনে দেড় ঘণ্টার ব্যর্থ অপেক্ষার পর মার্কিন ডলারে ফোন বিল উঠিয়ে এসব কথা শুনতে কার ভালো লাগে? এমন একটা সেঞ্চুরির পর আশরাফুলের কাছ থেকে দিলখোলা কথা শোনা যাবে না, তবে আর মহাদেশ বদলে এত দূর আসা কেন?
শেষ পর্যন্ত অবশ্য ইন সুইং, আউট সুইং বা ইয়র্কার কোনোটাই দিতে হলো না। নিজ থেকেই খুলে দিলেন মনের দরজা। যে দরজা দিয়ে বেরিয়ে এল একটা সত্য—কাঁধে অধিনায়কত্বের চাপ নেই বলেই আশরাফুলের এই বদলে যাওয়া ব্যাটিং, ‘এখন আমার ওপর কোনো চাপ নেই। আমি এখন নিজেকে নিয়ে ভাবতে পারি। বাড়তি চিন্তা করতে হয় না। শুধু চিন্তা করি কীভাবে পারফর্ম করে দলকে সাহায্য করব।’
আশরাফুলের কাছে দল এই সাহায্যটাই প্রার্থনা করে আসছিল অনেক দিন থেকে। ভালো ব্যাটিং করে দলকে বহুবার সাফল্য এনে দিয়েছেন, কিন্তু লম্বা সময় নিয়ে ফর্ম ধরে রাখা হয়নি কখনো। আশরাফুলের ভালো ইনিংস মানেই ছিল একটা অবধারিত প্রশ্ন—আবার কত দিন পর দেখা যাবে এমন ব্যাটিং? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের ধারাবাহিক ভালো ব্যাটিংয়ের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই অপরাজিত ১০৩ রান, ম্যান অব দ্য ম্যাচ—সেই প্রশ্নেরই কি জবাব আসতে শুরু করল এবার? আশরাফুলের কাছে অবশ্য এটা কোনো জবাব নয়, ব্যাটিংয়ের কিছু দাঁড়ি-কমা বদলে নেওয়ার ফলাফল মাত্র, ‘আগে নেমেই শট খেলতাম। এখন সেটা করি না। প্রথম ৩০-৪০ রান করতে প্রয়োজনে দ্বিগুণ বল খেলি। এভাবে খেলেই গত চার ইনিংসে একটা সেঞ্চুরি আর তিনটা ফিফটি পেলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে রান না পেলেও এখন একই গেম প্ল্যান নিয়ে প্রতিটি ম্যাচে ভালো খেলতে পারছি। যেটা আট বছরে হয়নি সেটা এখন হচ্ছে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দলের ফলাফলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছে আশরাফুলের পারফরম্যান্স। বোর্ড কর্মকর্তারা হুঙ্কার দিলেন, মাথার ওপর থেকে সরে গেল অভিভাবকের ছাতা, কেড়ে নেওয়া হলো অধিনায়কত্ব। বাংলাদেশের ক্রিকেটে আশরাফুল যেন কোনো ভিলেনের নাম! সেই আশরাফুল দেয়ালে ঠেকে যাওয়া পিঠ সোজা করে দাঁড়াতে সময় নিলেন দুটি টেস্ট। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জটিল বাঁকটাতে এসেই সর্বোচ্চ দক্ষতায় স্টিয়ারিং ঘোরালেন। কীভাবে? পোড় খাওয়া চালকেরা বুঝি এমনই হয়, ‘খারাপ সময়ই তো আমার ক্যারিয়ারে বেশি এসেছে। ভালো সময় সেভাবে আসেনি, আসলেও থাকেনি। এবার আমাকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছে সতীর্থ আর টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা। কোচ থেকে শুরু করে দলের সবাই আমার ওপর আস্থা রেখেছে। আমি সেটারই প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করছি শুধু। দলের সবার আন্তরিকতা আমার ভেতরটা নাড়িয়ে দিয়েছে...।’
আশরাফুলকে ধন্যবাদ, বলব না, বলব না করেও অনেক কথা বললেন শেষ পর্যন্ত। এই দয়াটুকু তিনি না দেখালেই বা কী করার ছিল? আশরাফুলের মতো ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে জ্বলজ্বল করবে তারকাদ্যুতি, সেটি কেবল দূর থেকেই দেখা যাবে—সেটাই তো হওয়া উচিত। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসব মেনে নেওয়ার দিনকে কে না স্বাগত জানাবে!

লেস্টারের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে জ্যাকসন পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা

প্রয়াত প তারকা মাইকেল জ্যাকসনের মেয়ে প্যারিসের (১১) প্রকৃত বাবা বলে ব্রিটেনের সাবেক চলচ্চিত্রাভিনেতা মার্ক লেস্টার যে দাবি তুলেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে জ্যাকসন পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা। পিপল ম্যাগাজিন এ তথ্য দিয়েছে। এর আগে গত রোববার যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকা নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ‘অলিভার টুইস্ট’ খ্যাত লেস্টার দাবি করেন, বাবা হওয়ার জন্য মাইকেল জ্যাকসনকে শুক্রাণু দিয়েছিলেন তিনি। এ কারণে প্রকৃতপক্ষে তিনিই প্যারিসের বাবা। খবর এএফপির।
জ্যাকসন পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মাইকেল জ্যাকসনকে শুক্রাণু দান করার ব্যাপারে তারা জানত। তবে লেস্টার কখনো প্যারিসের পিতৃত্ব দাবি করেননি। মার্ক লেস্টারের পিতৃত্বের দাবির খবর নাকচ করে দিয়ে জ্যাকসনের পারিবারিক অ্যাটর্নি লনডেল ম্যাকমিলান বলেন, ‘এ ধরনের দাবির বৈধ কোনো ভিত্তি নেই।’ তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য মাইকেলের উইলের বিরুদ্ধে যাবে না।
জ্যাকসন পরিবারের দীর্ঘদিনের সহযোগী ও সাবেক অ্যাটর্নি ব্রিয়ান অক্সম্যান বলেন, লেস্টার বহু বছর ধরে মাইকেল জ্যাকসনকে চিনতেন। তাঁর সন্তানেরা মাইকেলের সন্তানদের সঙ্গে খেলাধুলা করে। কিন্তু লেস্টার কোনো দিনই আভাস দেননি যে তিনিই প্যারিসের বাবা। আরেক সহযোগী মার্ক শ্যাফেল বলেন, পপতারকা ২০০৩ সালে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে মার্ক লেস্টারকে তাঁর তিন সন্তানের ‘গডফাদার’ হিসেবে ঘোষণা দেন। কিন্তু লেস্টার কখনোই বলেননি যে তিনিই প্যারিসের প্রকৃত বাবা। মাইকেল জ্যাকসন গত ২৫ জুন মারা যান।

পরমাণু অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায়প্রচেষ্টা জোরদার করুন: মুন

পরমাণু অস্ত্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। গতকাল সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ইউএন অ্যাসোসিয়েশনসের বার্ষিক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর এএফপির।
পরমাণু অস্ত্র হ্রাসের ব্যাপারে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা আলোচনার উদাহরণ টেনে বান কি মুন বলেন, এ সমঝোতা গত এক দশকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা। এটি পৃথিবীকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি এ-ও বলেন, ‘এখন আমাদের পালা।’ ৬৩টি দেশের অন্তত ২৫০ জন প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নেন।

হাডসন নদী থেকে আরও চারটি লাশ উদ্ধার- নিউইয়র্কে বিমান দুর্ঘটনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে হাডসন নদী থেকে আরও চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার আকাশে সংঘর্ষের পর একটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার হাডসন নদীতে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় পাঁচজন ইতালীয় পর্যটকসহ নয়জন নিহত হয়।
নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ জানান, হেলিকপ্টারটিতে পাঁচ ইতালীয় পর্যটক ও একজন পাইলট ছিল। অপরদিকে ছোট বিমানটিতে পাইলট ও এক শিশুসহ তিনজন আরোহী ছিল।
রোববার প্রথমে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মোট সাতটি লাশ উদ্ধার হলো। বাকি দুটি লাশের সন্ধান চলছে।