Wednesday, August 19, 2020

অন্ধকার গলি থেকে সন্তানকে রক্ষার পণ by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

অন্ধকার পল্লীতেই জন্ম হাজেরার। এখানেই শিশু থেকে যুবতী হওয়া। মায়ের পথ ধরেই হাজেরা হাঁটতে শিখে যৌনপল্লীর অন্ধকার গলি। শত পুরুষের মন জয়ের হাতিয়ার হয়ে উঠে। এভাবেই কেটেছে জীবনের চল্লিশটি বছর। এখন হাজেরা দুই সন্তানের মা। এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বয়স বারো, ছেলের সতেরো।
হাজেরা চাননি তার সন্তানরাও এই পল্লীর বাসিন্দা হোক। তাই দুই জনইকেই পড়াশোনা করাচ্ছেন সোনার বাংলা চিলড্রেন হোমে। হাজেরা বলেন, সারাজীবন এ পল্লীতেই থেকেছি। আমার মাকেও দেখেছি এই পল্লীতে থাকতে। কোনো দিন সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারিনি। যেখানেই যাই সবাই বাঁকা চোখে তাকায়। আমি চাই না আমার মতো আমার সন্তানদের এমন দশা হোক। আমি চাই সন্তানরা মানুষের মতো মানুষ হোক। মাথা উঁচু করে বাঁচুক।
টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়ায় প্রায় ২০০ বছরের পুরনো যৌনপল্লীতে জন্ম নেয়া শিশুরা যখন অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই এসএসএস তাদের তুলে আশ্রয় দেয় সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ি গ্রামের সোনার বাংলা চিলড্রেন হোমে। এখানে প্রতিটি শিশুর জন্য থাকা, খাওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসা, চিত্তবিনোদনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য নানা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কেউ বায়োলিন বাজাচ্ছে, কেউ নাচ, গান আবার কেউ মার্শাল আর্টে পারদর্শী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাধারণ আট-দশজন শিশুর চেয়ে তারা এগিয়ে। শুধু তাই নয় এসব শিশুদের বড় করে বিয়ে এবং চাকরি দেয়ার নজির রয়েছে এখানে।
তারা যৌনকর্মী মায়ের সন্তান। বেশির ভাগ মা থাকেন শহরের কান্দাপাড়া যৌনপল্লিতে। আর এই হোমে শিশুরা বেড়ে উঠছে সমাজের আর দশটা শিশুর মতোই। এখানে শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পড়ে। তারপর টাঙ্গাইলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে যায় তারা।
চিলড্রেন হোমে কথা হয় কয়েকজন শিশুর সঙ্গে। যারা প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছিল অবহেলা আর মানুষের কটু কথা শুনে। মূলধারার শিশুর সঙ্গে মেশা ছিল তাদের বারণ। কথা হয় এখানকার শিক্ষার্থী শিউলী আক্তারের সঙ্গে। শিউলী বলেন, একেবারে ছোট বয়সে এখানে এসেছি। আমার বয়স তখন চার বছর। এখন নবম শ্রেনীতে পড়ছি। সোনার বাংলা চিলড্রেন হোম যদি না থাকতো,হয়তো আমিও মায়ের মতো হয়ে যেতাম। মায়ের জন্য খুব খারাপ লাগে। কারো কাছে বলতে পারি না, মা কি কাজ করে। এসব বিষয় মনে হলে চোখ ফেটে কান্না আসে। কিন্তু এখন আমি বাচার স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি অনেক বড় হবো।
সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, এখানে এসে সবধরনের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি। আমি মার্শাল আর্ট করছি, কয়েকবার বিদেশ গিয়েছি। পুরস্কার পেয়েছি। যেটা আমি মায়ের সঙ্গে থাকলে কখনো হতো না।  এমনটা দেখেই মা আমাকে এখানে দিয়ে গেছে। বেসরকারি সংস্থা তেরে দেস হোমস্‌ নেদারল্যান্ডসের সহায়তায় টাঙ্গাইলের বেসরকারি সংগঠন সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস (এসএসএস) কান্দাপাড়া যৌন পল্লির শিশুদের পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃ একত্রীকরণের জন্য হোমটি পরিচালনা করছে ১৯৯৮ সাল থেকে। হোমের ভেতরে ছেলেমেয়েদের জন্য পৃথক থাকার ব্যবস্থা আছে। শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ থেকে রক্ষা করার জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক সহযোগিতায় তেরে দেস হোমস্‌ নেদারল্যান্ডসের কারিগরি সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম সিপ, ব্রেকিং  দ্য সাইলেন্স এবং টাঙ্গাইলের এসএসএস প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
হোমের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা শেষে টাঙ্গাইল শহরে এসএসএস-পৌর আইডিয়াল হাইস্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষাগ্রহন করেন। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মায়েরা যৌনপল্লি এবং কেউ কেউ পল্লির বাইরে বাসা ভাড়া করে সন্তানদের বড় করছেন। স্কুলে বিভিন্ন শ্রেনীতে পড়ুয়া যৌনকর্মী মায়ের সন্তানদের  নিয়ে আছে শিশু সংগঠন। স্কুলটিতে এই শিশুদের সঙ্গে হরিজন এবং সমাজের অন্য শিশুরা একসঙ্গে পড়াশোনা করছে।
বর্তমানে সোনার বাংলা চিলড্রেন হোমে আছে ১শ শিশু। এর বাইরে এসএসএস নিজস্ব অর্থায়নে হোমের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন রয়েছে যাঁদের বয়স ১৮ বছরের বেশি। তারা তাঁদের সহযোগিতা করছে। যাদের মধ্যে হোমে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ টাঙ্গাইলের নামকরা সরকারি কলেজে অর্নাস পড়ছে, কেউ নার্সিং প্রশিক্ষন সমাপ্ত করেছেন। কেউ কেউ পড়ছেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাঁরা চাকরিও করছেন। এ পর্যন্ত এখান থেকে  ১৪ জন মেয়েকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের পরিচয় গোপন করা হয়নি।
এ ব্যাপারে সোনার বাংলা চিলড্রেন হোমের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এসব শিশুদের পরিচর্যা করা প্রথমে একটু কষ্টসাধ্য। তাদের প্রথমে অনেক কিছু শেখাতে হয়। কিন্তু তারা ধীরে ধীরে অনেক ভালো করে। অনেকে সমাজের আটদশটি শিশুদের চেয়ে মেধাবী এবং প্রতিভাবান হয়ে ওঠে। আমরা তাদেরকে যোগ্য মানুষ করে গড়ে তুলার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম-সিপ এর নির্বাহী পরিচালক মো. ফাইজুল হক চৌধুরী বলেন, এই প্রকল্পটি খুব চমৎকার একটি উদ্যোগ। এমন শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে পেরে আমাদের ভালো লাগছে। আমরা চেষ্টা করছি তাদের একটি সুন্দর আগামী উপহার দেয়ার জন্য।
ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা বলেন, যৌনপল্লির এসব শিশুদের কাউন্সিলিং করাটা খুব জরুরী। তারা যে জায়গা থেকে ওঠে আসে এর পরবর্তীসময়টা তাদেরকে মানসিক ভাবে তৈরী করতে আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। তাদের সমস্যা সম্ভাবনা গুলো টাচ করার চেষ্টা করি।
তেরে দেস হোমস্‌ এর বাংলাদেশ কান্ট্রিডিরেক্টর মাহমুদুল কবির বলেন, প্রতিটা শিশুরই ভালোভাবে, সুন্দরভাবে বাচার অধিকার আছে। তাদের সেই অধিকার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা চাই না কোনো শিশু তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হোক। আর যৌন পল্লির শিশুদের তো আরো ভয়াবহ অবস্থা। তাদেরকে সুন্দর আগামী দেয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

ওষুধ ঠিক রাখতে সিলিকা জেলের ব্যবহার

ওষুধের বোতল, নতুন জুতা বা ব্যাগের মধ্যে ছোট কাগজের মোড়কে দেওয়া থাকে সিলিকা জেল। এই উপাদানটি নির্দিষ্ট অংশের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে তার শুষ্কতা বজায় রাখে। সাধারণত এসব কাগজের মোড়ক ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু সিলিকা জেল আরও অনেক কাজে লাগানো যেতে পারে।
  • ঘরের আর্দ্রতায় অনেক সময় পুরনো ছবি যত্ন করে অ্যালবামে রাখা সত্ত্বেও নষ্ট হয়ে যায়। আর্দ্রতার হাত থেকে ছবির অ্যালবাম দীর্ঘদিন সুরক্ষিত রাখতে সিলিকা জেলের দুই একটি মোড়ক রেখে দিন অ্যালবামের সঙ্গে।
  • ফাইলের কাগজপত্র শুষ্ক ও নিরাপদ রাখতে কয়েকটি সিলিকা জেলের প্যাকেট রেখে দিন।
  • ধাতব জিনিসপত্রকে মরচে ধরার হাত থেকে বাঁচাতে সিলিকা জেলের মোড়ক অত্যন্ত কার্যকর।
  • মুঠোফোন ভিজে গেলে কাজে লাগাতে পারেন সিলিকা জেল। নরম কাপড় দিয়ে ফোন মুছে ব্যাটারি খুলে ফেলুন। একটি জিপলক ব্যাগে ফোন ও ব্যাটারির সঙ্গে কয়েকটি সিলিকা জেলের প্যাকেট রেখে ব্যাগের মুখ বন্ধ করে দিন। সারারাত এভাবে রেখে পরদিন ফোন অন করুন।
  • ওষুধ ঠিক রাখতে সিলিকা জেলের মোড়ক কাজে লাগানো যায়। যে পাত্রে ওষুধ রাখেন, সে পাত্রে একটি বা দুটি সিলিকা জেলের মোড়ক রাখুন। এতে ঘরোয়া আর্দ্রতায় ওষুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।
  • ঘর প্রাকৃতিকভাবে সুরভিত করতে সিলিকা জেলের প্যাকেট খুলে একটি বাটিতে ঢালুন। কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে রেখে দিন ঘরে। তবে খেয়াল রাখবেন সিলিকা জেল যেন সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে না আসে।
  • জুতা শুষ্ক রাখতে ভেতরে সিলিকা জেলের প্যাকেট রেখে দিন।
>>>তথ্য: জি নিউজ, লিটল থিংগস

অবসাদ নিরাময়ে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট কি আসলে কার্যকরী? by অ্যালেক্স থেরিয়েন

অবসাদ নিরাময়ে কার্যকর অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট
বিজ্ঞানীরা বলছেন, চিকিৎসাশাস্ত্রের অন্যতম একটি প্রধান বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন তাঁরা। গবেষণায় উঠে এসেছে যে অবসাদ নিরাময়কারী (অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট) ওষুধ অবসন্নতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সোয়া এক লক্ষেরও বেশি মানুষের ওপর ৫২২টি পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে সাধারণ ঔষধের তুলনায ২১টি প্রচলিত অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট তীব্র অবসাদ দূর করতে সক্ষম।
এ ধরনের ওষুধের দ্বারা আরও অনেক মানুষ উপকৃত হতে পারেন বলে স্বাস্থ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন 'ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত হওয়া এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়।
ইংল্যান্ডে ২০১৬ সালে এসব ওষুধের জন্য ছয় কোটি ৪৭ লক্ষ প্রেসক্রিপশন দেয়া হয়, যা ২০০৬ সালের তিন কোটি ১০ লক্ষ ব্যবস্থাপত্রের দ্বিগুণেরও বেশি।
রয়্যাল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টস বলেছে, এই গবেষণা "অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান" ঘটিয়েছে।
গবেষণায় ব্যবহৃত ৫২২টি পরীক্ষা ছাড়াও অপ্রকাশিত বেশকিছু পরীক্ষার তথ্য সংযুক্ত করা হয়, যা থেকে প্রমাণিত হয় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তীব্র অবসাদ দূর করতে অন্য যেকোনো চিকিৎসাপদ্ধতির চেয়ে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট বেশি কার্যকর।
গবেষণা দলের প্রধান ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আন্দ্রেয়া সিপ্রিয়ানি বিবিসি'কে বলেন, "অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট কাজ করে কি-না, তা নিয়ে লম্বা সময় ধরে চলা বিতর্কের চূড়ান্ত সমাধান এই গবেষণা। "
"সাধারণভাবে সুপারিশ করা অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট মাঝারি থেকে তীব্র অবসাদ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কাজ করে, আর আমি মনে করি এটি রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য খুবই ভাল খবর।"

কার্যকারিতার বিচারে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট

সবচেয়ে বেশী কার্যকরী

  • অ্যাগোমেলাটাইন
  • অ্যামিট্রিপটাইলাইন
  • এস্কিটালোপ্রাম
  • মির্টাযাপাইন
  • প্যারোক্সেটিন

সবচেয়ে কম কার্যকরী

  • ফ্লুওক্সেটাইন
  • ফ্লুভোক্সামাইন
  • রেবোক্সেটাইন
  • ট্র্যাজোডোন

নির্ভরযোগ্য প্রমাণ

গবেষকরা বলেছেন এই গবেষণায় আবিষ্কৃত তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা রোগীদের সঠিক ওষুধ দিতে পারবেন।
তবে তার অর্থ এই নয় যে সবারই ওষুধ পরিবর্তন করতে হবে। এর কারণ এই গবেষণায় বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতে অবসাদের ধরন বিচার না করে ব্যক্তির ওপরে ওষুধের গড় প্রতিক্রিয়া বিচার করা হয়েছে।
গবেষকরা বলেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণের অধিকাংশ উপাত্তই আট সপ্তাহের চিকিৎসার ওপর ভিত্তি করে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে নেয়া হয়েছে। কাজেই দীর্ঘ সময় ধরে চলা অবসাদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নাও হতে পারে।
তাঁরা আরও বলেছেন, অবসাদ নিরাময়ের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্টই প্রথম চিকিৎসা হওয়া উচিত - বিষয়টি এমন নাও হতে পারে।
ডা. সিপ্রিয়ানি বলেন, "যখন মানসিক চিকিৎসার মত কোন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ থাকে, তখন ওষুধ গ্রহণের বিষয়টি সবসময়ই এর পাশাপাশি বিবেচনায় নেয়া উচিত।"
রয়্যাল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টস-এর প্রফেসর কার্মাইন প্যারিয়ান্তে বলেন, "এই প্রাথমিক বিশ্লেষণে অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্ট বিষয়ক প্রচলিত বিতর্কের অবসান হয়েছে। এই গবেষণায় পরিস্কারভাবে প্রমাণিত হয় এসব ওষুধ অবসাদ নিরাময় ও মনোভাব পরিবর্তনে সহায়ক।"
"ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কাছে থাকা অপ্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে এই গবেষণায়। কাজেই এই গবেষণায় উঠে আসা তথ্য ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো দ্বারা প্রভাবিত হবে না।"
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সাইকিয়াট্রিক এপিডেমোলজির প্রফেসর গ্লিন লেউইসের মতে এই গবেষণা অ্যান্টি-ডিপ্রেসান্টের কার্যকারিতার স্বপক্ষে "নির্ভরযোগ্য প্রমাণ" উপস্থাপন করেছে।
তিনি আরো বলেন, "অ্যান্টি ডিপ্রেসান্ট মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে সমালোচিত হলেও এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে অবসাদগ্রস্ত মানুষের জন্য এটি কার্যকর।"

যৌবন অটুট থাকবে যে ১৬টি খাবারে

সুস্থ থাকতে এবং তারুণ্য ও যৌবন ধরে রাখতে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। এমন কিছু খাবার আছে যা নিয়ম করে খেলে আপনার যৌবন থাকবে অটুট। জেনে নিন এমন ১২টি খাবার সম্পর্কে-
১. দই
দই আমাদের অনেকের কাছে খুব প্রিয় একটি খাবার। দই মেদ ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। যারা যৌবন ধরে রাখতে চান তাদের জন্য আশার কথা হচ্ছে নিয়মিত দই খান। দইয়ে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম আছে যা শরীরের গঠন ভালো রাখে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। দই বয়সজনিত কারণে হওয়া রোগগুলো প্রতিরোধ করে। এছাড়াও দই ত্বককে রাখে বলিরেখা মুক্ত। তাই যৌবন ধরে রাখতে চাইলে প্রতিদিন দই খান।
২. সামুদ্রিক মাছ
সামুদ্রিক মাছ যৌবন ধরে রাখতে সহায়ক। দীর্ঘ দিন যৌবন ধরে রাখতে চাইলে নিয়মিত খাবার তালিকায় লাল মাংস বাদ দিয়ে সামুদ্রিক মাছ রাখুন। তাতে শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে এবং যৌবন ধরে রাখা যাবে বহুদিন।
৩. মিষ্টিকুমড়ার বিচি
এতে আছ প্রচুর সাইটোস্টেরোল। এটি পুরুষের দেহে টেসটোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফ্যাটি এসিড পুরুষের শক্তি বাড়ায়। পুরুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
৪. কলা
কলার রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি ও পটাশিয়াম। পটাশিয়ামের অভাবে ত্বক রুক্ষ হয়, কলা সেই পটাশিয়ামের অভাব পূরণ করে দেয়। ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম মানবদেহের যৌনরস উৎপাদন বাড়ায়। আর কলায় রয়েছে ব্রোমেলিয়ানও যা শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক এবং যৌবন ধরে রাখতে সহায়ক।
৫. আমলা
আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় একে পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা মন্ত্র বলে গণ্য করা হয়। পুরুষের শরীরের সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখতেও দারুণ সহায়ক।
৬. ফলমূল
ফলে আছে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরে পুষ্টি যোগায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই যৌবন ধরে রাখতে চাইলে নিয়মিত ফল খান।
৭. রঙিন শাক-সবজি
রঙিন শাক-সবজিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন যা শরীরের চাহিদা মেটায় এবং শরীরকে সুস্থ্ রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত রঙিন শাকসবজি খেলে আপনার যৌবন থাকবে অটুট।
৮. কমলালেবু
কমলালেবু খাওয়া শরীরের জন্য খুবই ভাল। কারণ এতে অনেক ভিটামিন-সি থাকে। ত্বক টানটান রাখতে কমলালেবু সাহায্য করে।
৯. অলিভ অয়েল
অলিভ তেল আপনার যৌবনকে ধরে রাখতে সাহায্য করবে। রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায় এবং সহজে মেদ জমে না। এছাড়াও প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বকে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে ঘুমালে ত্বকে বলিরেখা পরে না সহজে। ফলে দীর্ঘ দিন যৌবন ধরে রাখা যায়।
১০. ডার্ক চকলেট
যারা চকলেট ভালোবাসেন তাদের জন্য ভালো খবর হলো ডার্ক চকলেট বয়স ধরে রাখতে সহায়তা করে। ডার্ক চকলেটে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। তাই যারা নিয়মিত প্রতিদিন ছোট এক টুকরা ডার্ক চকলেট খান তারা দীর্ঘদিন যৌবন ধরে রাখতে পারেন।
১১. স্ট্রবেরি
স্ট্রবেরি হোক কিংবা ব্ল্যাকবেরি, সবকটিই আপনার শরীরের জন্য খুবই ভালো। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। আপনার ত্বককে করে রাখবে সতেজ।
১২. রসুন
রসুনে রয়েছে এলিসিন নামের উপাদান যা দৈহিক ইন্দ্রিয়গুলোতে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। দৈহিক সমস্যা থাকলে এখনই নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
১৩. ডিম
ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ আছে যা শরীরের হরমোনের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখলে আপনার শরীর শক্তি পাবে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
১৪. মধু
সকালে খালি পেটে জিহ্বা দ্বারা মধু চেটে খেলে কফ দূর হয়, পাকস্থলী পরিস্কার হয়, দেহের অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়, গ্রন্থ খুলে দেয়, পাকস্থলী স্বাভাবিক হয়ে যায়, মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে, স্বাভাবিক তাপে শক্তি আসে, যতি শক্তি বৃদ্ধি হয়, মূত্রথলির পাথর দূর করে, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়, গ্যাস নির্গত হয় ও ক্ষুধা বাড়ায়।
১৫. দুধ
শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং যৌবন ধরে রাখতে দুধের ভূমিকা অতুলনীয়। এর রহস্য হলো এই যে, দুধ রতিশক্তি সৃষ্টি করে দেহের শুস্কতা দূর করে এবং দ্রুত হজম হয়ে খাদ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়, বীর্য সৃষ্টি করে, চেহারায় লাল বর্ণ তৈরী করে, দেহের অপ্রয়োজনীয় দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং মস্তিস্ক শক্তিশালী করে।
১৬. বাদাম ও বিভিন্ন বীজ
কুমড়ার বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এবং এগুলো শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরী করে। সেক্স হরমোনগুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এই কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

মিষ্টি খেলেই কি ডায়াবেটিস হয়?

মিষ্টি খেলে ডায়াবিটিস হয়। তাই বেশি মিষ্টি খাওয়া যাবে না এমন কথা আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি। কারণ মিষ্টি বা চিনি খেলে ডায়াবেটিস হয় এমন ধারণা অনেক আগে থেকেই প্রচলিত। তাই অনেকেই ডায়াবেটিস হবে এই ভয়ে মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকেন।
তবে চিকিৎসকরা বলেন, মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হবে বা সুগার বেড়ে যাবে এই ধারণা ভুল। বরং এই রোগ থেকে দূরে থাকতে কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয় এবং খাবারেও থাকতে হয় সতর্ক।
মূলত পরিবারে কারো ডায়াবেটিস থাকলে, শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে, শারীরিক পরিশ্রম কম করলে, জীবনযাপনে শৃঙ্খলা মেনে না চললে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই চিনি খেলেই ডায়াবেটিস হয় না তবে যদি ডায়াবেটিস হয়েই যায় তখন চিনি খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
দুই ধরণের ডায়াবেটিস আছে। যার একটি হয় বাচ্চাদের এবং অন্যটি বড়দের। বাচ্চাদের ছোট থেকেই ইনসুলিন নিতে হয়। তাই তাদের মিষ্টি খাওয়া যাবেই না।
অন্যদিকে বড়দেরা ডায়াবেটিস হওয়ার আগ পর্যন্ত মিষ্টি খেতে নিষেধ নেই। তবে অতিরিক্ত যেকোনো খাবার খাওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি বেশি মিষ্টি খাওয়াও ঠিক নয়। এতে মানুষের মোটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই একটানা অতিরিক্ত মিষ্টি না খেলেই ভাল।
তবে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা পরিমিত পরিমান মিষ্টি খেলে তেমন ক্ষতি হয় না। তাই অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই এই রোগের কারণ বলা যায়।