Friday, September 25, 2009

বিধ্বস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ

১-২, ২-১১, ৩-১৪...ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেট পতনের এই ক্রমটা দেখে ওয়ানডের সবচেয়ে কম রানের স্কোরের খোঁজখবর নেওয়ারই দরকার পড়ে গিয়েছিল। এই যে শঙ্কা, সেটা অবশ্য শেষ পর্যন্ত হয়নি। ওয়ানডেতে সর্বনিম্ন রানের স্কোর পেরিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ানডে ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের করা সর্বনিম্ন স্কোর ৩৫ পেরিয়ে যাওয়ার পর আরেকটা সুনামি গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ওপর দিয়ে—৪-৩৬, ৫-৪৩, ৬-৪৭, ৭-৪৭। আবারও সন্ধান করতে হলো ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বনিম্ন ইনিংস কত? ৫৪ রানের সেই স্কোরটাও পেরিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ম্যাচটি নিয়ে সবাই যেমনটা ধরে নিয়েছিল, শুরুতে সেই নিয়তি খণ্ডাতে পারেনি ফ্লয়েড রেইফারের দল। টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তানের পেস আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪.৩ ওভারে ১৩৩ রানে অলআউট হয়েছে। পনের ওভারের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর এই স্কোরটাও কম কি!
এই ধ্বংসযজ্ঞের দুই নায়ক মোহাম্মদ আমির ও ইউনুস খানের ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ারে প্রথম ওয়ানডে অধিনায়ক হওয়া শহীদ আফ্রিদি। দুজনই নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ৯ নম্বরে নামা ব্যাটসম্যান নিকিতা মিলার করেছেন হাফ সেঞ্চুরি (৫১)। দুই অঙ্কে পৌঁছতে পেরেছেন আর মাত্র দুজন ব্যাটসম্যান—ড্যারেন সামি (২৫) ও ডেভন স্মিথ (১৮)।

হঠাত্ই আলোর বৃত্তে সাজ্জাদ

তীরন্দাজিতে তাঁর সাধনা চলছিল নীরবে-নিভৃতে। তৈরি হচ্ছিলেন নিজেকে বড় মঞ্চে তুলে ধরতে। আরচারি ফেডারেশনও তাঁকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। তাঁর নিজের চেষ্টা, ফেডারেশনের সমর্থন—দুটো মিলে আলোয় উদ্ভাসিত হতে বেশি সময় লাগল না তীরন্দাজ সাজ্জাদ হোসেনের। তিনি এখন আরচারির ৭০ মিটার অলিম্পিক রাউন্ড ইভেন্টে এশীয় সেরা।
সাজ্জাদকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়েছে ঈদের এক দিন আগে শেষ হওয়া কলকাতা গ্রাঁ প্রিঁতে। প্রতিবছর এমন পাঁচটি টুর্নামেন্ট হয়, সাজ্জাদ সোনা জিতলেন বছরের চতুর্থটিতে। পঞ্চমটি হবে আগামী ২১-২৫ অক্টোবর বিকেএসপিতে। তত দিন পর্যন্ত নিজের ইভেন্টে এশিয়ায় এক নম্বর তীরন্দাজের নাম সাজ্জাদ, বাংলাদেশের আরচারিতে এটা সর্বোচ্চ সাফল্য তো বটেই, প্রথম আন্তর্জাতিক সোনাও।
বাংলাদেশের আরচারি অঙ্গনে এখন যেন উত্সব চলছে। যাদের সৌজন্যে এ উত্সব, সেই বাংলাদেশ আরচারি দল ঈদের দিন সড়কপথে কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরেছে। সীমান্ত পার হতেই স্থানীয় শুল্ক বিভাগের পক্ষ থেকেই সংবর্ধনা পেয়েছে তারা। বাংলাদেশ দল ফরিদপুর পৌঁছতে স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা ফুল আর মিষ্টিমুখ করিয়ে জানায় অভ্যর্থনা। সন্ধ্যায় ঢাকায় আসার পর ফুলেল শুভেচ্ছা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানও করেছে আরচারি ফেডারেশন। হয়েছে নৈশভোজ। সবকিছুরই উপলক্ষ—সাজ্জাদের অপ্রত্যাশিত সাফল্য।
বিকেল থেকেই এনএসসি টাওয়ারের সামনে অপেক্ষা করছিলেন ফেডারেশন কর্মকর্তারা। সাজ্জাদের বাবাও। ছেলে বাস থেকে নামতেই তাঁকে জড়িয়ে ধরে সে কী উচ্ছ্বাস বাবার। ফেডারেশন কর্তারা তো পারলে সাজ্জাদকে মাথায় তুলে নাচেন।
চাঁদপুরের শাহরাস্তির ছেলে সাজ্জাদ কি ভুলতে পারবেন? চাঁদপুর থেকে কাল রাতে ফোনে বললেন, ‘এর আগে এলাকায় পরিচিতি ছিল। এখন সেটা আরও বাড়ল। অনেকেই অভিনন্দন জানিয়ে গেছেন বাড়িতে এসে। এটা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
ঢাকায় আবুজর গিফারী কলেজে স্নাতক পড়ুয়া ২২ বছরের এই তরুণের জীবনটা হঠাত্ করেই বদলে দিল একটা সোনার পদক। সাজ্জাদ নিজেই এটি বুঝতে পারছেন, ‘সবকিছু একটু অন্য রকম লাগছে। যেখানেই যাই, সবাই সোনা জয়ের বিস্তারিত জানতে চাইছে। সবাই খুব খুশি। তবে এটাও বলছে, সামনে আরও ভালো করতে হবে।’
সাজ্জাদ নিজে কী চাইছেন? কেমন লাগছে তাঁর? বললেন, ‘এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সামনের সব টুর্নামেন্টে ভালো করতে চাই। প্রয়োজন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। খেলার ভালো সরঞ্জাম দরকার। নিজের ভবিষ্যত্ ও পরিবারের কথা যাতে ভাবতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই নিশ্চিতে খেলে যেতে পারব।’
আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজীব উদ্দীন আহমেদ শোনালেন আশার বাণী, ‘সাজ্জাদকে হয়তো আমরা অর্থ পুরস্কার দেব। কিন্তু এটা দিয়েই সব শেষ নয়। তাঁর এখন দরকার উন্নত প্রশিক্ষণ। সেই ব্যবস্থা আমরা করব। এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। পরিবারকে চিন্তা যাতে করতে না হয় সেটাও আমরা দেখব। এখন থেকে তাকে ১৬ ঘণ্টা অনুশীলন করতে হবে। সেই ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’
তার পরও প্রশ্ন আসছেই, সুযোগ-সুবিধার অভাবে সাজ্জাদ হারিয়ে যাবেন না তো? এমনিতেই তো এটি অপ্রধান খেলা। এখানে আধা পেশাদার হয়েও ক্রিকেটার বা ফুটবলারদের যে আর্থিক নিরাপত্তা আছে, সেটি তো এতে নেই!

দিলশান-মধুচন্দ্রিমায় ডুবল দক্ষিণ আফ্রিকা

শুরুর আগে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে বলা হয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটের লিটমাস টেস্ট। ওয়ানডে এতে উতরাতে পারবে কি পারবে না সেই প্রশ্ন আসবে আরও পরে। তবে পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্ট এর চেয়ে ভালো শুরু আর পেতে পারত না। ডেল স্টেইন, ওয়েইন পারনেল, জ্যাক ক্যালিসদের তুলোধুনো করে শ্রীলঙ্কার তিলকরত্নে দিলশান করলেন সেঞ্চুরি। র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বড় পরাজয় দিয়ে শুরু হলো টুর্নামেন্ট। দিলশানের ৯২ বলে ১০৬ রানের কল্যাণে শ্রীলঙ্কা জিতেছে ৫৫ রানে।
ম্যাচের ৭৪ বল বাকি থাকতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর যখন ২০৬/৭, বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। শ্রীলঙ্কা জেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে।
গত আইপিএলে নিজেকে ফিরে পাওয়া দিলশানের ক্যারিয়ারে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মানেই বিবর্ণ এক অধ্যায়। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডে দুটি ম্যাচ খেলে করেছিলেন ২৭ রান। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ভারতে হওয়া টুর্নামেন্টে করেছিলেন ৭১। আট ম্যাচে একটি অর্ধশত রানেরও ইনিংস খেলতে পারেননি। সেই দিলশান এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করলেন যেন অতীত দুঃস্বপ্নকে কবর দেওয়ার লক্ষ্যে। ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিটি পেলেন প্রথম ম্যাচেই। দারুণ ফর্মে থাকা দিলশান ক্যারিয়ারের এই মধুচন্দ্রিমার পেছনে ব্যাটিং অর্ডারের ওপরে উঠে আসাটাকেই দেখছেন বড় করে, ‘১২ মাস ধরে ফর্মটা ভালো যাচ্ছে আমার। আমার বিশ্বাস মিডল অর্ডার থেকে টপ অর্ডারে উঠে আসাটাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।’
ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ম্যাচের মীমাংসা হওয়ার আগেই ম্যাচটা পরশু হেরে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ৮ উইকেটে শ্রীলঙ্কা ৩১৯ রান তুলেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঠেলে দেয় পেছন পায়ে। দলীয় ১৬ রানে ডেল স্টেইন সনাত্ জয়াসুরিয়াকে ফিরিয়ে দিলেও গ্রায়েম স্মিথের টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে পরিণত করে দেয় দিলশান, কুমার সাঙ্গাকারা (৫৪) ও মাহেলা জয়াবর্ধনের (৭৭) ব্যাটিং। জয়াসুরিয়ার বিদায়ের পর দিলশান দ্বিতীয় উইকেটে সাঙ্গাকারাকে নিয়ে গড়েন ১৫৮ রানের জুটি। শ্রীলঙ্কার তিন শ পেরোনো স্কোরে আছে আরেকটি সেঞ্চুরি জুটি। চতুর্থ উইকেটে সামারাবীরাকে (৩৭) নিয়ে ১১৬ রান করেছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে।
বড় লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরুটা যেমন ভালো হওয়া দরকার দক্ষিণ আফ্রিকার, সেটা হয়নি। ৯ রানেই ফিরে গিয়েছিলেন হাশিম আমলা। এরপর অবশ্য অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ ক্যালিসের সঙ্গে ৮১ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামলে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই দুর্বোধ্য এক ডেলিভারিতে গ্রায়েম স্মিথকে বোল্ড করে দেন ক্যারম বোলার অজন্তা মেন্ডিস। যেটি ছিল তাঁর প্রথম বল। স্মিথ যখন ফিরে যান, দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৯০। অবস্থাটা করুণ হয়ে ওঠে ২১তম ওভারে পরপর দু বলে মেন্ডিস জ্যাক ক্যালিস (৪১) ও জেপি ডুমিনিকে (০) ফিরিয়ে দিলে। মেন্ডিসই আসলে শেষ করে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে সব বিভাগেই পরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের বলার কিছু আসলে ছিল না। তবে বলেছেন, নিজেদের কাজটা তাঁরা ঠিকঠাকমতো করতে পারেননি বলেই অনিবার্য এই পরাজয়। তবে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ঘুরে দাঁড়াতে চান দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক।

দিলশান-মধুচন্দ্রিমায় ডুবল দক্ষিণ আফ্রিকা

শুরুর আগে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে বলা হয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটের লিটমাস টেস্ট। ওয়ানডে এতে উতরাতে পারবে কি পারবে না সেই প্রশ্ন আসবে আরও পরে। তবে পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্ট এর চেয়ে ভালো শুরু আর পেতে পারত না। ডেল স্টেইন, ওয়েইন পারনেল, জ্যাক ক্যালিসদের তুলোধুনো করে শ্রীলঙ্কার তিলকরত্নে দিলশান করলেন সেঞ্চুরি। র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বড় পরাজয় দিয়ে শুরু হলো টুর্নামেন্ট। দিলশানের ৯২ বলে ১০৬ রানের কল্যাণে শ্রীলঙ্কা জিতেছে ৫৫ রানে।
ম্যাচের ৭৪ বল বাকি থাকতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর যখন ২০৬/৭, বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। শ্রীলঙ্কা জেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে।
গত আইপিএলে নিজেকে ফিরে পাওয়া দিলশানের ক্যারিয়ারে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মানেই বিবর্ণ এক অধ্যায়। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডে দুটি ম্যাচ খেলে করেছিলেন ২৭ রান। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ভারতে হওয়া টুর্নামেন্টে করেছিলেন ৭১। আট ম্যাচে একটি অর্ধশত রানেরও ইনিংস খেলতে পারেননি। সেই দিলশান এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করলেন যেন অতীত দুঃস্বপ্নকে কবর দেওয়ার লক্ষ্যে। ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিটি পেলেন প্রথম ম্যাচেই। দারুণ ফর্মে থাকা দিলশান ক্যারিয়ারের এই মধুচন্দ্রিমার পেছনে ব্যাটিং অর্ডারের ওপরে উঠে আসাটাকেই দেখছেন বড় করে, ‘১২ মাস ধরে ফর্মটা ভালো যাচ্ছে আমার। আমার বিশ্বাস মিডল অর্ডার থেকে টপ অর্ডারে উঠে আসাটাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।’
ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ম্যাচের মীমাংসা হওয়ার আগেই ম্যাচটা পরশু হেরে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ৮ উইকেটে শ্রীলঙ্কা ৩১৯ রান তুলেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঠেলে দেয় পেছন পায়ে। দলীয় ১৬ রানে ডেল স্টেইন সনাত্ জয়াসুরিয়াকে ফিরিয়ে দিলেও গ্রায়েম স্মিথের টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে পরিণত করে দেয় দিলশান, কুমার সাঙ্গাকারা (৫৪) ও মাহেলা জয়াবর্ধনের (৭৭) ব্যাটিং। জয়াসুরিয়ার বিদায়ের পর দিলশান দ্বিতীয় উইকেটে সাঙ্গাকারাকে নিয়ে গড়েন ১৫৮ রানের জুটি। শ্রীলঙ্কার তিন শ পেরোনো স্কোরে আছে আরেকটি সেঞ্চুরি জুটি। চতুর্থ উইকেটে সামারাবীরাকে (৩৭) নিয়ে ১১৬ রান করেছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে।
বড় লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরুটা যেমন ভালো হওয়া দরকার দক্ষিণ আফ্রিকার, সেটা হয়নি। ৯ রানেই ফিরে গিয়েছিলেন হাশিম আমলা। এরপর অবশ্য অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ ক্যালিসের সঙ্গে ৮১ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামলে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই দুর্বোধ্য এক ডেলিভারিতে গ্রায়েম স্মিথকে বোল্ড করে দেন ক্যারম বোলার অজন্তা মেন্ডিস। যেটি ছিল তাঁর প্রথম বল। স্মিথ যখন ফিরে যান, দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৯০। অবস্থাটা করুণ হয়ে ওঠে ২১তম ওভারে পরপর দু বলে মেন্ডিস জ্যাক ক্যালিস (৪১) ও জেপি ডুমিনিকে (০) ফিরিয়ে দিলে। মেন্ডিসই আসলে শেষ করে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে সব বিভাগেই পরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের বলার কিছু আসলে ছিল না। তবে বলেছেন, নিজেদের কাজটা তাঁরা ঠিকঠাকমতো করতে পারেননি বলেই অনিবার্য এই পরাজয়। তবে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ঘুরে দাঁড়াতে চান দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক।

শিক্ষার মান গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রাখতে হবে -বেসরকারি চিকিত্্সহসাশিক্ষা

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অনিবার্য শর্ত মানসম্মত চিকিত্সাশিক্ষা। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো যত সংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভূমিকা তাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কলেজগুলোর বড় এক অংশ শিক্ষার মান প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। ভর্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম, সরকারের তদারকির ব্যবস্থা না থাকা এবং সর্বোপরি আর্থিক বিবেচনাকে স্থান দেওয়া এর জন্য প্রধানত দায়ী।
দেশের ৩৯টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো বেতন বা ফি নির্ধারণ করেছে, নিজস্ব নিয়মে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে, মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন খাত দেখিয়ে ফি আদায় করছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। ভর্তির প্রক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে অর্থ গুরুত্ব পায়। এ পরিপ্রক্ষিতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা হবে এবং সরকার ভর্তির প্রক্রিয়া নজরদারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এই সংবাদ তাই স্বস্তিদায়ক। সম্প্রতি প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সব বেসরকারি মেডিকেল কলেজে একই দিনে ও একই প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং এসব কলেজের ভর্তি ফি ও বেতনের পরিমাণও নির্ধারণ করবে সরকার।
ফি ও বেতনের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের নজর দেওয়ার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে; অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে মেধাবী ছাত্ররা যেন এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন। পাশাপাশি আমরা চাই এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রাখার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আমাদের প্রত্যাশা, ভর্তির ক্ষেত্রে যে অরাজকতা দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে বিরাজ করছে, তা নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ সহায়ক হবে। নিয়মিত নজরদারি ও পর্যালোচনা করা হলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মানের উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা যায়।

রিয়াল-বার্সা আর মেসি-রোনালদো

রিয়ালের জয়রথের সারথি রোনালদো,
আর মেসি-জাদুতে উড়ছে বার্সা।
রিয়াল-বার্সার দ্বৈরথটা যে তাঁদেরও
বার্সেলোনার দাপট খর্ব করে নিজেদের শিরোপা-খরা ঘোচাতেই এবার রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় ‘গ্যালাকটিকোস’ যুগের সূচনা। রিয়ালের লক্ষ্য কি পূরণ হবে? নাকি ত্রিমুকুট থেকে যাবে বার্সারই ঘরে? উত্তর পেতে মৌসুমের শেষ পর্যন্তই অপেক্ষা করতে হবে। তবে স্প্যানিশ শিরোপা লড়াই মৌসুমের শুরু থেকেই জমে উঠেছে।
রিয়াল-বার্সা দু দলই একে অপরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে একেকটা ম্যাচে! আজ রিয়াল তাদের প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেয়, তো বার্সেলোনা পিষে মারে তাদের প্রতিপক্ষকে। এই যেমন রিয়াল জেরেজকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করার এক দিন পর রেসিং সান্তানদারকে বার্সেলোনা উড়িয়ে দিল ৪-১ গোলে। চার ম্যাচের সব কটিতে জিতে বার্সেলোনাই শীর্ষে। তিন ম্যাচের সব কটিতেই জিতেছে রিয়াল।
রিয়াল-বার্সা লড়াইয়ের সমান্তরালে বয়ে চলেছে ফিফা বর্ষসেরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর রানারআপ লিওনেল মেসিরও দ্বৈরথ। গত মৌসুমে দুজন দুই লিগে খেলেছেন। রোনালদো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর মেসি স্প্যানিশ লিগে। এবার দুজন একই লিগে এবং বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের দুই সেরার লড়াইটা শুরু হলো মৌসুমের শুরু থেকেই। কে পাবে পরবর্তী ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার?
রোনালদো রিয়ালের জয়ের কারিগর হন তো মেসি-জাদুতে জয় পায় বার্সা। দু দলের সর্বশেষ ম্যাচটিতেও হয়েছে তা-ই। জেরেজের বিপক্ষে রিয়ালের বড় জয়ে বড় অবদান রোনালদোর। জোড়া গোল করেছেন তিনি। আর পরশু রেসিংয়ের বিপক্ষে বার্সার ৪ গোলের দুটিই ছিল মেসির। ১৯ সেপ্টেম্বর অ্যাটলেটিকোর মাদ্রিদের বিপক্ষে পাওয়া ৫-২ গোলের জয়েও জোড়া গোল করেছেন মেসি। পাঁচ গোল করে মেসিই এখন স্প্যানিশ লিগের গোলদাতা তালিকার শীর্ষে। চারটি করে গোল নিয়ে রোনালদো, ইব্রাহিমোভিচ ও ভ্যালেন্সিয়ার ডেভিড ভিয়া যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে।
চার শ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে গঠিত রিয়ালের দুর্দান্ত শুরুটা প্রত্যাশিতই। তবে এবার এক শ মিলিয়ন ব্যয় করা বার্সেলোনাও ভীষণ উজ্জ্বল। সবচেয়ে বড় কথা, তাদের নতুন তারকা ইব্রাহিমোভিচও মাঠ আলো করছেন প্রতি ম্যাচেই। চার ম্যাচে ৪ গোল তাঁর। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমের পর এটাই সবচেয়ে ভালো শুরু বার্সেলোনার। ওই বছর প্রথম চার ম্যাচের সব কটিতে জয়ী কাতালানরা সেবার শিরোপাও জিতেছিল। রিয়াল মাদ্রিদ হয়েছিল চতুর্থ। তবে রিয়ালে তখনো গ্যালাকটিকোস-যুগ শুরু হয়নি।
গত রোববারের ম্যাচের প্রথম মিনিটেই রোনালদো গোল পেয়েছেন, তার পরও ৭৫ মিনিটের আগে কখনো মনে হয়নি, খেলা হচ্ছে ডেভিড আর গোলিয়াথে। তা মনে হলো ৭৫ থেকে ৮৯—এই ১৪ মিনিটে। ১৪ মিনিটের ঝড়ের শুরুটাও রোনালদোর দ্বিতীয় গোলে। জেরেজের বিপক্ষে এরপর একে একে গোল করেছেন গুতি, বেনজেমা ও রুড ফন নিস্টলরয়। কিছুদিন আগেই ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা নিস্টলরয়ের গোল পেয়েও মন খারাপ। কারণ উরুতে চোট পেয়ে আবারও প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছে ডাচ স্ট্রাইকারকে।

বেতন-বোনাস প্রভৃতি বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা জরুরি -বন্দরশ্রমিকদের আচরণবিধি

ঈদের আগে বাড়তি বোনাসের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকেরা দুই দফা কর্মবিরতি পালন করায় কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্দর অচল হয়ে পড়েছিল। সৌভাগ্য যে দ্রুতই এর নিষ্পত্তি হয়। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার পর বন্দর প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু সেখানে শ্রমিক অসন্তোষের মূলে যেতে না পারলে স্থায়ী ও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে না। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ছয়বার বন্দরে সাময়িক কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। সভা-সমাবেশ হয়েছে অসংখ্য। কোনো সমুদ্রবন্দরই এ ধরনের অস্থিরতা মেনে নিতে পারে না। বিশেষত, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান অবলম্বন। সামান্য অজুহাতে ঘন ঘন বন্দর অচলের এই প্রবণতা রোধ করা না গেলে শুধু আমদানি-রপ্তানিই বাধাগ্রস্ত হবে না, সেই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগও নিরুত্সাহিত হবে।
সরকার বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। কমিটির কাজ হবে বন্দরে কর্মরত ৩০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য একটি বিধিবদ্ধ নীতিমালা প্রণয়ন করা। বলার অপেক্ষা রাখে না, নীতিমালা ছাড়া শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। শ্রমিকদের কাজের সুযোগ-সুবিধা, বেতন-বোনাস প্রভৃতি বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা ছাড়া বন্দর কীভাবে চলছে, সেটাই প্রশ্ন। আগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রিত ডক শ্রমিক পরিচালনা বোর্ড এই দিকটি দেখত। কিন্তু তাদের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ২০০৭ সালে জরুরি আইন জারির পর ডক শ্রমিক পরিচালনা বোর্ড বিলুপ্ত করা হয়। হয়তো এর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সমস্যা হলো, ওই পদক্ষেপের সঙ্গে শ্রমিকদের কল্যাণের দিকটিও বিলুপ্ত হয়ে যায়। তখন যে ১২ জন বার্থ অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়, তারা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ন্যায্য দাবিদাওয়ার ব্যাপারে নির্লিপ্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
শ্রমিকদের যদি বাড়াবাড়ি থাকেও, সেটা বন্ধ করার জন্য শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষাকারী উপযুক্ত বিধিমালা দরকার। বর্তমান বার্থ অপারেটরদের ওপর এ ব্যাপারে নির্ভর করা যায় না। জরুরি আইনের সময় জরুরি ভিত্তিতে এদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বছরখানেক পর দরপত্র আহ্বান করে উপযুক্তদের বার্থ অপারেটর নিয়োগের কথা ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়োগের স্বচ্ছতার স্বার্থে অবিলম্বে বার্থ অপারেটরদের জন্য দরপত্র আহ্বান করা দরকার।
অন্যদিকে শ্রমিকদের সংগঠনও আইনানুগ হতে হবে। বন্দরে আগে ২৮টি সংগঠন ছিল, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শুধু দুটি সংগঠনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়—একটি বন্দরের নিজস্ব শ্রমিক-কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়ন, অপরটি বন্দর ব্যবহারকারীদের সংগঠন। এতে বন্দরের কাজে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এখন আবার আগের সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং যথারীতি অস্থিরতা সৃষ্টি হতে দেখা যাচ্ছে। এসব সংগঠনের তত্পরতা আইনবহির্ভূত কি না তা দেখা এবং কেউ যেন আইন লঙ্ঘন না করে সেটা নিশ্চিত করা বন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
পাশাপাশি প্রস্তাবিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি যেন দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেয়, সেটা দেখা দরকার। তাদের সুপারিশগুলো বিচার-বিশ্লেষণের পর বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজতর হবে বলে আশা করা যায়। চট্টগ্রাম বন্দরে ঘন ঘন কর্মবিরতি বন্ধ করার বিষয়টি সরকার, কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের অভিন্ন কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

মার্টিন ক্রোর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ তত্ত্ব

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কিত আইসিসি। এটি অবশ্য পুরোনো খবর। দুই বছরের পরিক্রমায় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের প্রস্তাব এরই মধ্যে দিয়ে রেখেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত। ভারত ও ইংল্যান্ড লরগাতের সে প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও এবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন প্রস্তাব নিয়ে হাজির মার্টিন ক্রো। নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির সদস্য ক্রো নক-আউট টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তাব করেছেন।
ক্রোর প্রস্তাবে অবশ্য খুশি হওয়ার কারণ নেই বাংলাদেশের। কারণ তাঁর প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রতিবছর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ হবে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা ৮ দলকে নিয়ে। বর্তমান টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৯। অবশ্য ক্রো বলছেন, পারফরম্যান্সে উন্নতি ঘটিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটে জায়গা পেলে বাংলাদেশও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পারবে।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে ক্রো তাঁর পরিকল্পনা আইসিসিতে পেশ করবেন। টেস্ট একসময় দিবা-রাত্রির ক্রিকেটেও পরিণত হবে বলে মনে করেন নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।

ফেরার ঘোষণা হেনিনের

বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল—অবসর ভেঙে ফিরতে পারেন সাবেক নাম্বার ওয়ান জাস্টিন হেনিন। ফেরার ঘোষণাটা দেওয়ার জন্য তিনি অপেক্ষায় রেখেছিলেন জাতিকে। বেলজিয়ান টেলিভিশন চ্যানেল আরটিআইএল-টিভিআইতে পরশু দিলেন সেই ঘোষণা।
ষোল মাস আগে আকস্মিকভাবেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৫ আর ফর্মটা ছিল মধ্যগগনে। র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন হেনিন। কানাঘুষা চলছিল যে শক্তিবর্ধক নিষিদ্ধ ড্রাগ নিচ্ছেন। তবে বিতর্ক মাথাচাড়া দেওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে অবসরের ঘোষণা দিয়ে দেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তে নিজেই ছিলেন বিস্মিত, ‘এটা ছিল বিস্ময়কর।’ অবসরে গিয়ে তাই স্বস্তিতে থাকতে পারেননি। টেনিস কোর্ট তাঁকে টানছিল নিরন্তর। ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন ফেরার জন্য, ‘আমি খুব অধৈর্য হয়ে উঠছিলাম এবং ফিরে আসার ঘোষণা দিতে পেরে সত্যি খুব খুশি। এবং এই সন্ধ্যায় আমি ঘোষণা করছি যে খুব শিগগিরই প্রতিযোগিতায় ফিরে আসব।’
ডব্লুটিএ টুর্নামেন্ট এবং গ্র্যান্ড স্লামের খেলা দেখতে দেখতে তিনি নিশ্চিতই মনে মনে ভাবতেন, ‘কেন সরে দাঁড়ালাম কোর্ট থেকে?’ কিন্তু তাঁকে আসলে ফিরিয়ে আনল স্বদেশি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কিম ক্লাইস্টার্সের দুর্দান্ত ফেরা? গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইউএস ওপেন জিতলেন কিম ক্লাইস্টার্স। এই ‘টেনিস মম’ই তাহলে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে অবসর ভেঙে ফিরতে? তিনি নিজে বললেন, ‘এই ব্যাপারটির প্রভাব একটু আছে, তবে বড় রকমের কিছু সেটি নয়।’ মূলত রজার ফেদেরারকে প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেন জিততে দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন চারবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন বিজয়িনী, ‘অবচেতন মনে এর একটা প্রভাব হয়তো পড়তে পারে। তবে এটা আমার ফেরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো কারণ নয়। রজার ফেদেরারের এবারের রোঁলা গাঁরোয় জয়টাই ছিল আমার অনুপ্রেরণা। ঘটনাটা আমাকে এতটাই আবেগি করে তুলেছিল যে আমার মনে হচ্ছিল আমি মনে হয় কিছু একটা মিস করছি।’
তখন থেকেই মনের গভীরে শেকড় গাড়ে টেনিসে ফেরার চিন্তাটা। শুধু মুখের কথা নয়, কাজে-কর্মেও প্রমাণ দেওয়া শুরু করলেন। বেলজিয়ামের সারলিওরিতে প্রদর্শনী টেনিসে এবং দুবাইয়ে বছর শেষের টুর্নামেন্টে অংশ নিতে তাই গত মাস থেকে অনুশীলনেও ফিরেছেন। আর তখন থেকেই গুঞ্জনটা ডালপালা মেলতে শুরু করে।
সাতটি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক হেনিন কখনোই উইম্বলডন জিততে পারেননি। তাহলে কি ক্যারিয়ারে স্লাম পূরণ করাটাই তাঁর লক্ষ্য? হেনিনের কোচ কার্লোস রদ্রিগেজের কণ্ঠে ঝরে পড়ল ওই আক্ষেপ, ‘আমরা ওটা জিততে চাই। এটাও বলতে পারেন তাঁর ফেরার অন্যতম কারণ।’
বিশ্ব ডোপিং-বিরোধী সংস্থার (ওয়াডা) নিয়ম অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড় প্রতিযোগিতামূলক খেলায় ফিরতে চাইলে ডোপ পরীক্ষাকারী কর্মকর্তাদের তা জানাতে হবে প্রতিযোগিতায় ফেরার তিন মাস আগে। ওই দিকটা ভেবে দেখলে দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর মতো বলা যায় আগামী জানুয়ারির অস্ট্রেলিয়ান ওপেনই হয়তো হেনিনের লক্ষ্য। ছোটখাটো গড়নের কিন্তু প্রচণ্ড শক্তিশালী এক হাতের ব্যাক হ্যান্ডের জন্য বিখ্যাত এই চ্যাম্পিয়নও ওদিকেই ইঙ্গিত করেছেন, ‘আমার লক্ষ্য জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরা... আমি ২০১০ মৌসুম থেকে শুরু করতে চাই। যদিও এখনো নিশ্চিত নই যে কোন টুর্নামেন্ট দিয়ে ফিরব।

২০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বিলের নিলাম ২৯ সেপ্টেম্বর

২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ডের নিলাম ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিলামে ১২৫ কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ড ইস্যু করা হবে।
এ বন্ডের জন্য বার্ষিক কাট-অফ-ইল্ড হারে কুপন মুনাফা ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ্য হবে। সরকারি সিকিউরিটিজের প্রাইমারি ডিলারের ভূমিকায় নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব পরিচালনাকারী যেকোনো ব্যাংক, যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব খাতে বা তার ব্যক্তি-প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী গ্রাহকদের পক্ষে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। অভিহিত মূল্যে প্রতি ১০০ টাকা মূল্যের বন্ড ক্রয়ের জন্য কাঙ্ক্ষিত ইল্ড হার ও বন্ড ক্রয়ের পরিমাণ উল্লেখ করে সিল করা দরপত্র ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের মহাব্যবস্থাপকের কক্ষে রক্ষিত দরপত্র বাক্সে জমা দিতে হবে।

এসএমই উন্নয়নে ৫২৪ কোটি টাকা ঋণ দিতে যাচ্ছে এডিবি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উন্নয়নে সাত কোটি ৬০ লাখ ডলার (৫২৪ কোটি টাকা) ঋণ-সহায়তা দেবে।
১৭ সেপ্টেম্বর এডিবির বোর্ডে এই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। এই ঋণ মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে বিভিন্ন জেলার যেসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প আছে সেগুলোর অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে।
সরকারকে এই ঋণ ৩২ বছর মেয়াদে পরিশোধ করতে হবে। আট বছর ঋণের কোনো আসল পরিশোধ করতে হবে না। এই সময় সুদ দিতে হবে বছরে এক শতাংশ হারে। পরবর্তী সময়ে দেড় শতাংশ হার সুদসহ আসল পরিশোধ করতে হবে।
বোর্ডে ঋণ অনুমোদনের পর গত রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানিয়েছে, দেশের প্রধান শহরগুলোর বাইরে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই এডিবির ঋণদানের মুখ্য উদ্দেশ্য।
এডিবি মনে করে, অকৃষি খাত বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণশক্তি। কিন্তু এ খাতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ঘাটতি আছে। আর বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি ও প্রবাসী-আয় যখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তখন গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য ঋণসুবিধার প্রয়োজন মেটানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ সৈয়দ আলী মুমতাজ এইচ শাহ বলেন, একটি গতিশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত বাংলাদেশের বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এডিবি আরও মনে করে, এই প্রকল্প দেশের পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে আয়বৈষম্য কমাতেও সহায়তা করবে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেশের দুটি প্রধান শহর ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দুর্বল ও দারিদ্র্য মানুষের সংখ্যাও বেশি।
এ ব্যাপারে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আফতাব উল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর। তবে এডিবি যে লক্ষ্য সামনে রেখে স্বল্পসুদে ঋণ দিচ্ছে, সেটিকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করার জন্য এসএমই ব্যাংকিং দরকার। কারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করে এসএমই অর্থায়নের করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, চাহিদা ও জোগানের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে ততটা উত্সাহী নয়।’

বিশ্ব অর্থনীতির জড়তা কাটাতে এশিয়া নেতৃত্ব দেবে

বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথভাব কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো নেতৃত্ব দেবে। কারণ, যতটা ভাবা হয়েছিল, এই দেশগুলো বিশ্বমন্দায় ততটা আক্রান্ত হয়নি।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক গত মঙ্গলবার সংস্থাটির বার্ষিক প্রকাশনা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-এর যে হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে এসব কথা বলা হয়েছে।
হংকংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ জং-ওয়াহ লি প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে এশিয়ার মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর আগে মার্চ মাসে মূল প্রতিবেদনে এশিয়ার জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।
একইভাবে ২০১০ সালে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার আগের ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের জন্য যেভাবে ব্যয় বাড়িয়েছে, তা এশিয়াকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব এশিয়া সামগ্রিকভাবে এই বছর ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। মার্চ মাসে বলা হয়েছিল, এই হার হবে ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।
পূর্ব এশিয়ার অগ্রগতির মূলে থাকছে চীনের অর্থনীতিতে গতিময়তা ফিরে আসা।
দেশটির সরকার ব্যাপকভাবে রাজস্ব প্রণোদনা প্রদান ও মুদ্রানীতি শিথিল করায় দেশটি এ বছর ৮ দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে মনে করছে এডিবি, যা আগামী বছর ৮ দশমিক ৯০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
এডিবি দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধির হারও বাড়িয়ে প্রক্ষেপণ করেছে। মার্চ মাসে যেখানে চলতি বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছিল ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, সেখানে এখন এই হার ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের প্রবৃদ্ধির হার আগের তুলনায় বাড়বে—এই প্রক্ষেপণের ভিত্তিতে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা বলা হচ্ছে।
তবে এসব ইতিবাচক পূর্বাভাস সত্ত্বেও যথেষ্ট সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছে এডিবি। বরং তড়িঘড়ি সরকারের দেওয়া প্রণোদনা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে পরিস্থিতি আবার খারাপ হতে পারে—এ রকমটাই মনে করে এডিবি।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বিশ্বমন্দায় রপ্তানি ও প্রবাসী-আয়ের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, বিনিয়োগও নিরুত্সাহিত হয়েছে। তারপরও তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে আছে। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাগত আছে, মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্তাবস্থা বজায় রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, গত অর্থবছরে (২০০৮-০৯) বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের তুলনায় কম। কিন্তু মার্চ মাসে প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল যে এই হার হবে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।
তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ২০ শতাংশ হবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে। আর মূল্যস্ফীতির হার প্রক্ষেপণ করেছে সাড়ে ৬ শতাংশ।

জুলাইয়ে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিতরণ -প্রতি মাসে কৃষিঋণ দেওয়ার তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে

এখন থেকে প্রতি মাসে ব্যাংকগুলোকে কৃষিঋণ বিতরণের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠাতে হবে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে এটি কার্যকর করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক সার্কুলার লেটার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংককে এ নির্দেশ দিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘চলতি অর্থবছরে এ যাবত্ কালের সর্বাধিক কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে এবং কৃষিঋণ কার্যক্রম অধিকতর মনিটরিংয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষিঋণের তথ্য প্রদানেও নতুন ছক চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১১ হাজার ৫১২ কোটি ৩০ লাখ টাকার সমপরিমাণ কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সার্কুলার লেটারের সঙ্গে নতুন ছক সংযুক্ত করে ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠিয়ে এই সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বিতরণ করা কৃষিঋণের তথ্য ওই ছকের মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতি মাসের তথ্য পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পাঠানোর জন্য সার্কুলার লেটারে বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের নিজস্ব কৃষিঋণ কার্যক্রম এবং এনজিও সংযুক্তির মাধ্যমে বিতরণ করা কৃষিঋণের তথ্যগুলো আলাদা বিবরণীর মাধ্যমে পাঠাতে হবে।
যেসব ব্যাংক একাধিক এনজিও সংযুক্তির মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ করবে, সেসব ব্যাংককে প্রতিটি এনজিওর জন্য আলাদা বিবরণী পাঠাতে হবে।
পাশাপাশি এনজিও কর্তৃক অঞ্চলভিত্তিক বিতরণ করা ঋণের বিবরণীও এই বিবরণীর সঙ্গে পাঠাতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেপ্টেম্বর মাসের বিবরণীর সঙ্গে কৃষিঋণ বিতরণকারী সব শাখা ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের টেলিফোন নম্বর পাঠাতে বলেছে।
এ ছাড়া অঞ্চলভিত্তিক বিবরণীগুলোর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আঞ্চলিক কার্যালয় কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা অফিসে পাঠানোর জন্যও বলা হয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, জুলাই মাসে ব্যাংক-ব্যবস্থার মাধ্যমে ৬৪৮ কোটি ৮২ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
২০০৮ সালের জুলাই মাসে বিতরণ করা হয়েছিল প্রায় ৪০৬ কোটি টাকার ঋণ। আবার ২০০৯ সালের জুলাই মাসে বকেয়া কৃষিঋণ বাবদ এক হাজার ৪৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪১ শতাংশ বেশি।
এতে চলতি বছর জুলাই মাসে কৃষিঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৫৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

ইন্দোনেশিয়ায় ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩০০

ইন্দোনেশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য একযোগে শহর ছেড়ে বাড়ি যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। গতকাল বুধবার পুলিশের একজন মুখপাত্র এ কথা জানান।
জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র আই কেটুট উনটুং ইয়োগা বলেন, সারা দেশে মোট ৮৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩১২ জন।
১৩ সেপ্টেম্বর থেকে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোকে এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই মুখপাত্র জানান, নিহতদের অধিকাংশই মোটরসাইকেল আরোহী।
ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য দুই কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ বড় বড় শহর ও নগর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যান। তাঁদের মধ্যে এক কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ বিমান, ট্রেন ও জাহাজে চড়ে শহর ছাড়েন। বাকি এক কোটি ১০ লাখ মানুষ শহর ছেড়ে যান গাড়ি ও মোটরসাইকেলে করে। মুখপাত্র আই কেটুট উনটুং ইয়োগা বলেন, ঈদের ছুটি শেষে মানুষ আবার যখন শহরে ফিরতে শুরু করবেন, তখন দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ঈদ করতে মোটরসাইকেল চড়ে বাড়ি যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। আর দেশটিতে গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যত্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তই হলো সন্ত্রাসীদের আস্তানা: হিলারি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকাই সন্ত্রাসীদের কেন্দ্রবিন্দু। সেখান থেকেই সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে। ওবামা প্রশাসন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানকারী মার্কিন নাগরিক ও তার মিত্রদের রক্ষায় বদ্ধপরিকর। নিউজ আওয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক হিলারি এ কথা বলেন।

ইরানি পুলিশের লক্ষ্য এবার ম্যানিকিন

ইরানি পুলিশ বিভিন্ন শহরের বিপণিবিতানের দোকানিদের প্রতি ম্যানিকিন (প্রদর্শনীর জন্য পোশাক পরিয়ে রাখার বিশেষ মূর্তি) ব্যবহারে সতর্কতা জারি করেছে; বিশেষ করে হিজাব ছাড়া নারী-ম্যানিকিন ব্যবহারে পুলিশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ খবর দিয়েছে ইরান নিউজ এজেন্সি এবং বিবিসি।
বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, পুলিশ ইতিমধ্যে ম্যানিকিন ব্যবহারের ব্যাপারে বিভিন্ন শর্তের উল্লেখ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো দোকানি হিজাব ছাড়া নারীদের ম্যানিকিন ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি নারী-ম্যানিকিনের শরীরের ভাঁজও প্রদর্শন করা যাবে না। এ ছাড়া বো-টাই, নেক-টাইয়ের প্রদর্শনী করা যাবে না এবং নারীদের অন্তর্বাস কোনো পুরুষ দোকানি বিক্রি করতে পারবে না।
২০০৫ সালে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় আসার পরই এ ধরনের ‘অনৈসলামিক কার্যকলাপ’ রোধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন এ নির্দেশ জারি করল।

ওবামার গ্রাম এখন সংরক্ষিত এলাকা

কেনিয়ায় জন্ম না নিলেও প্রথম আফ্রো-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নিয়ে দারুণ গর্বিত সে দেশের সরকার ও জনগণ। কারণ, ওবামার পূর্বপুরুষেরা ছিলেন কেনিয়ার অধিবাসী। আর তাই তাদের বংশধর ওবামা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পদে আসীন হওয়ায় এখন কেনিয়ার সরকার ওবামার বাবা যে গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন, সেই কোগেলো গ্রামকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারের এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এ ব্যাপারে কেনিয়ার ডেইলি নেশন পত্রিকা জানায়, কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে কোগেলো গ্রাম। সরকারের এই পদক্ষেপের কারণে গ্রামটি যেভাবে রয়েছে সেভাবেই সংরক্ষণ করা হবে। সেখানে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সরকারের অনুমোদন লাগবে। ওই গ্রামে ওবামার স্মরণে সরকারি অর্থায়নে ‘ডেরো কোগেলো গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ গড়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বারাক ওবামা প্রায়ই কেনিয়াকে দ্বিতীয় মাতৃভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন।
১৯৬১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে বারাক ওবামা সিনিয়র ও স্ট্যানলি আন ডানহাম দম্পতির ঘরে জন্ম নেন ওবামা। ওই সময় ওবামা সিনিয়র যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা করছিলেন। ১৯৬৪ সালে ওবামার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। পরে ওবামার বাবা কেনিয়ায় ফিরে যান। ১৯৮২ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। ওবামার দাদি সারাহ ওবামা এখনো বেঁচে আছেন এবং কোগেলো গ্রামে বসবাস করেন। নাতির কল্যাণে সাংবাদিক আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় এখন তাঁকে প্রায়ই ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।

পারমাণবিক ডুবোজাহাজের সংখ্যা কমাবে যুক্তরাজ্য

নৌবহর থেকে পারমাণবিক ডুবোজাহাজের সংখ্যা কমানোর ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন। আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বিশেষ অধিবেশনে তিনি এই ঘোষণা দিতে পারেন। গতকাল বুধবার ডাউনিং স্ট্রিট এ কথা নিশ্চিত করেছে। আগামী বছর পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি পর্যালোচনার আগেই এ ধরনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র জানান, ব্রিটেনের পারমাণবিক ডুবোজাহাজের সংখ্যা চারটি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেবেন ব্রাউন। এর আগে বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক ভাষণে ব্রাউন বলেন, ‘বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করতে এখন আমাদের প্রতিহিংসাপূর্ণ মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকারের পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা একটি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়তে চাইলে আমাদের অবশ্যই আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।’
২০১০ সালে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি নিয়ে বিশ্বের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা আছে। সেখানে ইরান ও উত্তর কোরিয়াকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে রাজি করানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার হ্রাস করার পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে ব্রিটেন নিজস্ব একটি পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার টিকিয়ে রাখবে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড।
বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক ডুবোজাহাজের সংখ্যা একটি কমানোর মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমাণ সামরিক ব্যয় সাশ্রয় করতে পারবে যুক্তরাজ্য। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে ব্রিটেনের লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা নিক ক্লেগ বলেন, ‘কৌশলগত কারণেই এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ, আমরা আগের মতো স্নায়ুযুদ্ধকালীন হুমকিতে নেই।’
পরমাণু অস্ত্র বিস্তার বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আজকের বিশেষ বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামা জানান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা দুই হাজার থেকে দেড় হাজারে কমিয়ে আনার ব্যাপারে মস্কোর সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। এ ছাড়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের সঙ্গেও আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানকে বন্ধু হিসেবে দেখুন -ওবামাকে আহমাদিনেজাদ

ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে নয় বরং সম্ভাব্য মিত্র হিসেবে বিবেচনা করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গতকাল বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার আগে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ আহ্বান জানান আহমাদিনেজাদ। একই দিন ওবামারও ভাষণ দেওয়ার কথা।
এপিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে আহমাদিনেজাদ বলেন, পরমাণু-সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় আলোচনা ‘অবাধ ও উন্মুক্ত’ হবে বলে আশা করছেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান নিজের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। তিনি জানান, ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পরমাণু শক্তিধর দেশকে তাঁদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার হ্রাস করার ব্যাপারে আহ্বান জানাবে ইরান। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করা সব দেশের অধিকার—এই বিষয়টি ওই দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন তাঁরা।
ইরান সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার জন্য ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘বারাক ওবামাকে বলতে শুনেছি, পরবর্তী হুমকি ইরান। (কিন্তু আমি বলতে চাই) ইরান সবার জন্যই একটি বড় সুযোগ। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখবেন, যারা ইরানের সঙ্গে মিত্রতা করেছে, তারাই লাভবান হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানকে হুমকি হিসেবে বিবেচনাকারী প্রথম প্রেসিডেন্ট নন ওবামা। তার ইতিহাস পড়ে দেখা উচিত, যারা ইরান সম্পর্কে এভাবে চিন্তা করছে, তাদের পরিণাম কী হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইসরায়েলের আশঙ্কা, পরমাণু কর্মসূচির মাধ্যমে পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে ইরান। তবে দেশটি বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য পরিচালিত হচ্ছে।
নিউইয়র্কে যে হোটেলে আহমাদিনেজাদ অবস্থান করছেন, সেখানে গিয়ে এই সাক্ষাত্কার নেয় এপি। সাক্ষাত্কারে ইরানে আটক তিন মার্কিন পর্বতারোহীর বিষয়েও কথা বলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি আশ্বাস দেন, দেশে ফিরে ওই তিন মার্কিন নাগরিকের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার জন্য ইরানের বিচার বিভাগকে অনুরোধ জানাবেন তিনি। গত জুলাই মাসে ইরানের ইরাক সীমান্ত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়।

ভারত সাতটি কৃত্রিম উপগ্রহ উেক্ষপণ করেছে

ভারত গতকাল বুধবার সফলভাবে সাতটি কৃত্রিম উপগ্রহ উেক্ষপণ করেছে। এগুলোর মধ্যে ছয়টি অন্য দেশ থেকে উেক্ষপণ করা হয়েছে। ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (আইএসআরও) কর্মকর্তারা এ কথা বলেছেন।
কর্মকর্তারা জানান, ভারত সফলভাবে সাতটি কৃত্রিম উপগ্রহ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭২০ কিলোমিটার দূরে কক্ষপথে স্থাপন করেছে। এগুলোর মধ্যে ‘ওসেনস্যাট-২’ নামের একটি উপগ্রহ সমুদ্রের ওপর নজরদারির উদ্দেশ্যে উেক্ষপণ করা হয়েছে। এটি ১৯৯৯ সালে উেক্ষপণ করা ‘ওসেনস্যাট’ উপগ্রহের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।
বিদেশ থেকে উেক্ষপণ করা ছয়টি উপগ্রহের মধ্যে চারটি জার্মানি থেকে এবং সুইজারল্যান্ড ও তুরস্ক থেকে একটি করে উেক্ষপণ করা হয়েছে।
চেন্নাই থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শ্রীহরিকোটা মহাকাশকেন্দ্র থেকে আইএসআরওর চেয়ারম্যান জি মাধভন নায়ার বলেন, সফলভাবেই উপগ্রহগুলো উেক্ষপণ করা হয়েছে।
সাতটি উপগ্রহ উেক্ষপণের জন্য ভারত সরকারের ২০০ কোটি রুপি খরচ হয়েছে।
ভারত ১৯৬৩ সালে প্রথম মহাকাশ কর্মসূচি গ্রহণ করে। ওই বছর তারা নিজেরা কৃত্রিম উপগ্রহ উেক্ষপণ করে।
ভারত গত বছর চাঁদের উদ্দেশে একটি মনুষ্যবিহীন উপগ্রহ উেক্ষপণ করে। কিন্তু গত মাসে গবেষকেরা এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। পরে তাঁরা এ অভিযানকে ব্যর্থ ঘোষণা করেন।

মুসলিম বিশ্বের হাতে পতন হবে ওবামার -নতুন ভিডিওচিত্রে জাওয়াহিরি

আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষনেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি বলেছেন, মুসলিম বিশ্বের হাতে পতন হবে ওবামার। তাঁর বক্তব্যসংবলিত নতুন একটি ভিডিওচিত্র প্রচার করেছে আল-কায়েদা। গত মঙ্গলবার আল-কায়েদার একটি ওয়েবসাইটে ওই ভিডিওচিত্রটি প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সন্ত্রাসবাদ মনিটরিং সার্ভিস এ তথ্য দিয়েছে।
এসআইটিই ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ‘দ্য ওয়েস্ট...অ্যান্ড দ্য ডার্ক টানেল’ শিরোনামের ১০৬ মিনিটের ওই ভিডিওচিত্রটি আরবি ভাষায় ধারণ করা। এতে জাওয়াহিরি ছাড়াও আল-কায়েদার বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার বক্তব্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার বর্ষপূর্তিতে আল-কায়েদা এ উদ্যোগ নেয়।
জাওয়াহিরি বলেন, ‘আমেরিকা এখন নতুন ধরনের ভণ্ডামি শুরু করেছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। আবার সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ব্যবহূত ছুরিই আমাদের বুকে আমূল বিঁধিয়ে দিচ্ছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাতেই মুসলিম বিশ্বের কাছে আপনার দর্প চূর্ণ হবে, পতন হবে। এর মধ্য দিয়েই সারা বিশ্ব এবং ইতিহাস আপনাদের অত্যাচার ও মিথ্যাচার থেকে মুক্তি পাবে।’
ভিডিওচিত্রটিতে গত বছরের অর্থনৈতিক সংকটসহ যুক্তরাষ্ট্রে ওবামার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। আল-কায়েদার নেতা আদম গাদান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এ না।’
প্রসঙ্গত, গাদান একজন মার্কিনি। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠেন। পরে তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নিয়ে আল-কায়েদা জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন। তাঁকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ব্যাপারে মাত্র কয়েক দিন আগে একটি অডিও বার্তায় মার্কিন নাগরিকদের হুঁশিয়ার করে দেন আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন। তাঁর ওই অডিও ভাষণটি ১৪ সেপ্টেম্বর একটি ইসলামিক ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়। ‘অ্যা স্টেটমেন্ট টু অ্যামেরিকান পিপল’ শিরোনামের ওই বার্তাটি ছিল ১১ মিনিটের।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ওয়েবসাইটে সমস্যা দেখা দেওয়ায় হয়তো নতুন ভিডিওচিত্রটি প্রকাশে দেরি করা হয়েছে। তা না হলে ১১ সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি কোনো সময়ে তা প্রকাশ করত আল-কায়েদা।