Friday, January 30, 2015
সুজাতা বরখাস্তের নেপথ্যে- আরো পরিবর্তন আসছে ভারতের পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে by মেহেদী হাসান

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ কর হয় পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ কারোর সাথেই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থপূর্ণ কোনো যোগাযোগ ছিল না। যদিও সুজাতা সিং ও সুষমা স্বরাজের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পররাষ্ট্র বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এভাবে কার্যত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীতল সম্পর্কের পেছনে সুজাতার অনাগ্রহ বা অনচ্ছিাকে দায়ী বলে মনে করা হয়। সুজাতার ওপর নরেন্দ্র মোদির নাখোস হওয়ার পেছনে টাইমস অব ইন্ডিয়া আরেকটি কারণ উল্লেখ করেছে। তা হলো ইসরাইল ইস্যু। ইসরাইলের ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দীর্ঘ দিন ধরে প্রথাগত যে সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিল তার সাথে একমত নন মোদি। বলা যায়, মোদির অবস্থান এর বিপরীত। মোদির অগ্রাধিকার তালিকায় ইসরাইলও রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে মোদি সাক্ষাৎ করে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারের উদ্যোগ নেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ছয় মাস ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সুজাতা সিংয়ের ওপর ক্রমাগতভাবে ুব্ধ হচ্ছিলেন মোদি। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির আকক্সক্ষা, অগ্রাধিকার ও বৃহত্তর স্বার্থের সাথে সম্পূর্ণ তালমিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হয়েছে মন্ত্রণালয়।
অন্য দিকে আনন্দবাজার পত্রিকা গতকাল লিখেছে, সুজাতাকে সরিয়ে দেয়ায় বেশ চটেছেন সুষমা স্বরাজ। তিনি বেশ ুব্ধ। এমনকি বৃহস্পতিবার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনী জনসভাও তিনি বাতিল করেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকা আরো উল্লেখ করেছে অতীতে মোদিবিরোধী হিসেবে সুজাতার রেকর্ড রয়েছে। তবে স্বরাজ এখন চেষ্টা করছেন মোদিবিরোধী আদভানিসহ অন্য কারোর সাথে যোগাযোগ না রাখতে। তিনি তার দায়িত্ব নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চাচ্ছেন।
এ দিকে সুজাতা সিং বরখাস্তের পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও একটি ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেকে। বিশেষ করে দেবযানি ইস্যু। দেবযানি নিউ ইয়র্কে ভারতের কনসুলেট জেনারেল অফিসে ডেপুটি কনসাল জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র তাকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতি ও নিজ বাসায় নিযুক্ত গৃহকর্মী সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে স্ট্রিপ সার্চ (বিবসনা করে দেহ তল্লাশি) করা হয়। এ ঘটনাকে ভারত গোটা জাতির জন্য অত্যন্ত সম্মানহানিকর ও অমর্যাদাকর হিসেবে বিবেচনা করে। দেবযানি ইস্যুতে ভারত অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নেয়। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক তখন নাজুক অবস্থার সম্মুখীন হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার ভারত সফর শেষের ঠিক একদিন পরেই পররাষ্ট্র সচিব সুজাতাকে বরখাস্তের ঘটনার সাথে অনেকে দেবযানি ইস্যুকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন। তার প্রমাণ পাওয়া যায় কংগ্রেস নেতা মনিশ তেওয়ারির অভিযোগ থেকে। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় পরিবেশিত খবরে বলা হয়েছে সাবেক এ তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, সুজতা সিংকে বরখাস্ত করে দেবযানি ইস্যুর প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে। কারণ দেবযানি ইস্যুতে ভারতের শক্ত অবস্থানের পেছনে তখন সুজাতা সিং জোরাল ভূমিকা পালন করেন। সুজাতা সিং বরখাস্ত ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে ভারত সফর করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। কূটনৈতিক সূত্র মতে, ড্যান মজিনা ভারতের আমন্ত্রণে তখন দিল্লি সফর করেননি। বরং ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তেই দিল্লি যান তিনি। বাংলাদেশে তখন তীব্র রাজনৈতিক সঙ্কট বিরাজমান ছিল। ভারতের কংগ্রেস সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের পক্ষে তাদের শক্ত অবস্থানের কথা ব্যক্ত করে। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য কূটনৈতিকপর্যায়ে চেষ্টা চালায়। তাই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের ঠিক দুই মাস আগে ড্যান মজিনার ওই দিল্লি সফর নিয়ে ঢাকায় বেশ গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ বিষয়ে বিশেষ করে ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান অবহিত হওয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরা ও বাংলাদেশের তখনকার ইস্যুতে দুই দেশ মিলে একটি অবস্থানে আসা যায় কি না এসব বিষয়কে সামনে রেখেই মজিনা তখন দিল্লি সফর করেন বলে অনেকে মনে করেন।
কূটনৈতিক সূত্র আরো জানায়, ড্যান মজিনার এ সফরের পরও ভারতের কংগ্রেস সরকার বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের সমর্থন জোরালভাবেই ধরে রাখে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা সফরে এসে সুজাতা সিং একতরফা নির্বাচনের পক্ষে কংগ্রেস সরকারের অবস্থান জানিয়ে দেন। এমনকি তিনি একতরফা নির্বাচনে অংশ নিতে এরশাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। এরশাদ তা সাথে সাথে ফাঁস করে দেন। অনেকের মতে, এভাবে কার্যত গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও সে সময় আওয়ামী লীগ শুধু ভারতের একনিষ্ঠ সমর্থনের ওপর দাঁড়িয়ে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলের সব দাবি উপেক্ষা করে একটি একতরফা জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায় ও তা সম্পন্ন করে। বাংলাদেশে সঙ্ঘাত নিরসন করে একটি শান্তিপূর্ণ স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য আরো অনেক দেশ ও সংস্থার সব চেষ্টা মূলত ব্যর্থ হয়ে যায়, বাংলাদেশ বিষয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের অনমনীয় অবস্থান এবং আওয়ামী লীগের প্রতি অন্ধ সমর্থনের কারণে। তাই কারো কারো মতে, সুজাতা বরখাস্তের পেছনে বাংলাদেশের ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পূর্ব অবস্থারও যোগসাজশ থাকতে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে আরো পরিবর্তন আসছে দ্রুত
মোদি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ছয় মাসে ভারতে রাষ্ট্রদূত পর্যায়েও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিবর্তনের প্রস্তাব করে ফাইল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মোদি তাতে অনুমোদন দেননি। নরেন্দ্র মোদি চাইছিলেন সবার আগে ঘরের ভেতর থেকে অর্থাৎ মন্ত্রণালয় থেকেই পরিবর্তনের সূচনা করতে। এরপর রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার পর্যায়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ খবর দিয়েছে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া। টাইমস অব ইন্ডিয়া বৃহস্পতিবারই লিখেছে, জয়শঙ্করের নিয়োগের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্রুত নতুন পরিবর্তনের সূচনা ঘটিয়েছে। সুজাতাকে সরিয়ে দেয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে পরিবর্তন শুরু হবে।
সুজাতাকে অপসারণের মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্রুত পরিবর্তনের সূচনা হবে বলে আশা করা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যমসহ কূটনৈতিক মহল থেকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এসব পরিবর্তন বৈদেশিক সম্পর্কের ওপরও যে প্রভাব ফেলবে ও নতুন মাত্রা পাবে তা অনেকটা স্পষ্ট। ভারতের ফরেন সার্ভিসের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ আরো অদল-বদলের ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজে যেমন গতি আসবে; তেমনি পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও নতুন সরকারের আশা-আকাক্সক্ষা অনুযায়ী পরিবর্তন আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার। সুজাতা সিংকে বরখাস্ত ও রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে অদল-বদলের খবরে ঢাকায়ও অনেকে কৌতূহলি হয়ে উঠেছেন এখানে ভারতীয় দূতাবাসে কোনো পরিবর্তন হবে কি না সে বিষয়ে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের পদ থেকে বুধবার রাতে বরখাস্ত করা হয় সুজাতা সিংকে ও তার স্থলে নিয়োগ দেয়া হয় সুব্রামনিয়ামস জয়শঙ্করকে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমুদ্র পেরিয়ে স্বপ্নপূরণ

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান’ -আব্বাস-সোহেলের যৌথ বিবৃতি

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুরনো নীতির সঙ্গে নতুন নীতির সংঘর্ষের বলি সুজাতা

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবরোধের পাশাপাশি রোববার থেকে ৭২ ঘণ্টার হরতাল

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণ, নিহত ২৫

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাহুলকে দোষারোপ করে কংগ্রেস ছাড়লেন জয়ন্তী

জয়ন্তী বলেন, ‘আমি কোনো দোষ করিনি, তবুও আমি বঞ্চিত হচ্ছি। আর যদি কোনো দোষ করেও থাকি এবং তার যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন কেউ করতে পারে, তাহলে আমি জেলে যেতে বা ফাঁসিতে ঝুলতে রাজি। আমার এই দলত্যাগ কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং বঞ্চিত হয়েই আমি দলত্যাগ করলাম। এই মুহূর্তে অন্য কোনো দলেও যোগ দেওয়ার ইচ্ছে নেই।’ কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, দলত্যাগের বিষয়ে দলের ওপরমহল থেকে কোনো ফোন তিনি প্রত্যাশা করেন না। কারণ কোনোভাবেই তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমি এসব বিষয় নিয়ে রাহুলের সঙ্গে শতাধিকবার দেখা করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি দেখা করেননি। আমার দলই যখন আমাকে বাজেভাবে মূল্যায়ন করে, সে দলে থাকার কোনো মানে নেই। আর আমি যে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলাম, আজ আর সেই কংগ্রেসও নেই।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান- পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রহমান শেলীর ইজ্জতের রশি
এতসব গল্পের মাঝে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গল্পটি বলা যায় ট্রিপল জিরো। এখানে পুলিশের এসিপি আসাদ গাড়ি চোর চক্রের প্রধানের সঙ্গে রসালাপে মেতে ওঠে। এ গল্পটি সত্যিই অসাধারণ। কারণ এখানে রহমান শেলী নামের যে হাস্যোজ্জ্বল রসিক মানুষটির বাস্তব চরিত্র সরাসরি ফুটে উঠেছে। যদি লেখকের সঙ্গে কোনো পাঠকের পূর্বপরিচয় ঘটে, তবে তিনি সহজেই বলে দিতে পারবেন এটি লেখক নিজে। ইজ্জতের রশি গল্পটিও এ ক্ষেত্রে কম যায় না। লেখক ইচ্ছে করলে এ গল্পটির সমাপ্তি টানতে পারতেন। কিন্তু তিনি টানেননি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন- পুলিশ নয়, পুলিশের স্ত্রী ও পরিবার-পরিজনই মূলত পুলিশের মান-সম্মানের রক্ষক। আর ইজ্জতের রশি হচ্ছে তারই প্রতি ইঙ্গিত। অন্যদিকে সপ্তম গল্প মোডাস হচ্ছে সমাজে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া ভুলগুলোর একটি। কারণ লেখক লেখেন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। তিনি কখনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে হলের ছাত্রদের মাধ্যমে কীভাবে অপরাধ সংগঠিত হয়, তার ধারণা অনেকেরই নেই। এ বাস্তবতা বুঝাতে তিনি সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন- কারা ঘটনার অনুঘটক। রাজনীতির বিষাক্ত গোখরা কীভাবে দংশন করে নিজের প্রয়োজনে শিক্ষা ব্যবস্থাকে, তার বাস্তব উদাহরণ এ গল্প। শুধু তাই নয়, নামকরণেও আমরা এক ধরনের কাব্যিক ভাবের ভূমিকা পাই এ বইয়ে। যেমন একটি আত্মহত্যার হত্যা। অর্থাৎ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া একটি মেয়েকে কীভাবে মা মানসিক সমর্থন দিয়ে বাঁচাতে পারেন তার জ্বলন্ত উদাহরণ। সামাজিক পটভূমি ভেঙে-গুঁড়িয়ে দিয়েই মূলত সাহিত্য সম্ভব নয়। বরং সাহিত্য হচ্ছে সমাজের কাঠামোর দুর্বলতা ও বাস্তবতা বোঝানো। যেমন নাগরিক বাস্তবতা বুঝে আসে হুমায়ূনের হিমুর মাধ্যমে, তেমনি অপরাধ বাস্তবতা বুঝতে হলে আমাদের কিছুটা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে ক্রাইম ফিকশন ইজ্জতের রশি। অবশেষে বলব- একটু সময় নিয়ে যদি লেখক আবার গল্পগুলো দেখেন- তবে হয়তো বাংলা সাহিত্যের জন্য আমরা অনন্য সংযোজন পাব বলে আশা করতে পারি।
বই
ইজ্জতের রশি
রহমান শেলী
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজাকার by শাহাবুদ্দীন নাগরী
আবদুল্লাহ্ দোকান খোলে, দোকানের ওপর বাঁশের আগায় উড়িয়ে দেয় পাকিস্তানের পতাকা। মাথায় টুপি পরে। দাড়ি সে কখনও রাখার কথা চিন্তা করেনি আগে, এবার সেটাও রেখে দেয়। অন্তত নাপিতের পয়সাটা তো বাঁচবে। তাছাড়া, অরুণ শীল দোকান বন্ধ করে ওইপারে চলে যাওয়ায় চুল-দাড়ি কাটাও এখন সমস্যা হয়ে পড়েছে। তাই একমাত্র সমাধান ক্ষৌরকর্মে না যাওয়া।
দোকানে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং পাকিস্তানের জাতির জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্র ছবি টাঙিয়ে দেয় আবদুল্লাহ্। বাজারে এই দু’জনের ছবি কেনার হুড়োহুড়ি দেখে নিজেই তাজ্জব হয়ে যাচ্ছিল। কদিন আগেও যাদের ছবি নামিয়ে ভেঙেছে, থুতু দিয়েছে, অবলীলায় তা আবার পয়সা খরচ করে কিনে লাগাচ্ছে। কাচ বাঁধানো ছবি। ইয়াহিয়া নিজেও হয়তো জানে না তার ছবি কিনছে বাঙালিরা, দোকানে ঝুলিয়ে সম্মান দেখাচ্ছে তাকে। আহারে মানুষ।
দোকান খুলতেই প্রাণে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো লাফিয়ে পড়েছে ওর দোকানে। চাল চাই, ডাল চাই, ছাতু চাই, মরিচ-পেঁয়াজের অত চাহিদা না থাকলেও কেরোসিন, লবণ আর দিয়াশলাই হু-হু করে বিক্রয় হচ্ছে। আবদুল্লাহ্ জানে, দু’চার দিনে তার স্টক শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ঢাকা-রাজশাহীর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ না হওয়ায় সাপ্লাই থাকবে না।
এখন ডিমান্ড বেশি, সাপ্লাই জিরো।
মাগরিবের আজানের পরপরই দোকান বন্ধ করে দেয় সে। বাসায় ফিরে যায়। হারিকেনটার সলতেটা ছোট করে দেয়, যেন আলো বাইরে না যায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাকিস্তানি সৈন্য। সন্ধ্যা হলে মেশিনগান উঁচিয়ে বালির বস্তার পেছনে বসে থাকে। মাঝে মাঝে চেঁচিয়ে ওঠা ‘হল্ট’ শব্দটা উড়িয়ে নিয়ে আসে ভারি বাতাস। প্রায় প্রতিদিনই দূর থেকে ফুটফাট গুলির আওয়াজ শোনা যায়। কে যে কাকে মারছে তা বোঝা যায় না। এক ধরনের ভয় চেপে বসে আবদুল্লাহ্র মনে। তার আশপাশের বাসাগুলো ফাঁকা, তবে পাড়ায় কিছু লোক এখনও আছে। একটু দূরে থাকে ওরা। আবদুল মজিদ আছে, নামকরা মুসলিম লীগার। দলবল নিয়ে হেঁটে বেড়ায়।
লোকটা একদিন তার দোকানে এসেছিল সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে। ‘কী খবর আবদুল্লাহ্, ওপারে যাওনি? সবাই তো ইন্ডিয়া ভাগতেছে।’ ‘মজিদ ভাই কী যে বলেন। আমরা পাকিস্তানের মানুষ, ইন্ডিয়া যাব ক্যান?’
‘তোমার কথা শুইনা খুশি হইলাম মিয়া। আইজকাল মানুষ তো আর পাকিস্তানরে দ্যাশ মানে না, কয় বাংলাদেশ। তুমি তো মিয়া ভালোই বললা।’
কলিমুদ্দিনের দোকান থেকে চা আসে। বেঞ্চিতে বসে আবদুল মজিদ। চা খায়। ‘শোনো, মেজর সাহেবের সঙ্গে আমি কথা বলছি। চিন্তার কুনু কারণ নাই। তোমরা যারা পাকিস্তানরে ভালোবাসো, তাদের একটা তালিকা আমি তাকে দিবো। তোমাদের যাতে কুনু অসুবিধা না হয় সেটা দেখার দায়িত্ব সেনাবাহিনী নিবে।’ আবদুল মজিদ আরও কী কী সব বলে।
‘তো মিয়া, তুমি মাথায় টুপি দিয়া ভালোই করছো। মুসলমান হয়া মাথায় টুপি দিবা না, এইটা ঠিক না।’
নিজের মাথার টুপিটা হাত দিয়ে একটু নেড়েচেড়ে আবার বসায় আবদুল মজিদ। তার দলের সবার মাথায় টুপি। বেশ একটা ইসলামী আমেজ ফুটে উঠেছে।
‘নরেন ব্যাটা একটা আস্তা ইন্ডিয়ান এজেন্ট। ইন্ডিয়া গেছে, কিন্তু পুরা বাড়িটা সাফ কইরা নিয়া গেছে। একটা সুইও রাখে নাই।’
মিথ্যা কথাটা শুনেও আবদুল্লাহ্ চুপ করে থাকে। নরেন চক্রবর্তী চলে যাওয়ার সময় ওর সামনে দিয়েই গেছে। পরনের কয়টা কাপড় ছাড়া আর কিছুই নিতে পারেনি। চুলোর ওপর ভাত ফুটছিল, সে ভাতটা খাবারও সময় হয়নি ওদের। কামানের গোলা এসে পড়ছিল চতুর্দিকে। বাঙালিকে তাড়ানোর জন্য মেশিনগানের গুলি সাঁই সাঁই করে ছুটে যাচ্ছিল চারপাশ দিয়ে। এমন গোলাগুলি ওরা জীবনে দেখেনি। আসলে নরেন চক্রবর্তী চলে যাওয়ার পর তার ঘর লুট করেছে আবদুল মজিদের লোকেরা। এ খবর তার কানেও এসেছে। এসব নিয়ে কথা না বলাই ভালো।
শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতে সভা করে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, ন্যাপ এবং আরও অন্যান্য পার্টির লোকেরা। ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান রক্ষায় তারা জনমত সংগ্রহে নেমে পড়েছে। একেই বলে রাজনীতি, আবদুল্লাহ্ বোঝে। যখন যার ক্ষমতা তখনই তার দাপট। পহেলা মার্চের পর এসব লোক ইঁদুরের মতো গর্তে পালিয়ে ছিল। এখন বীরদর্পে মঞ্চ দখল করেছে। বাঙালিকে ১৯৪৭ সালের গল্প শোনাচ্ছে।
আবদুল্লাহ্ মনে মনে হাসে।
দিন যায়, পাকিস্তানি বাহিনীর আগ্রাসন বাড়ে। পুরো দেশটাই মনে হয় দখল করে নিয়েছে পাঞ্জাবিরা। প্রথম প্রথম যারা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিল তারা কেউ আর দেশে নেই। হয় মারা পড়েছে, না হয় ওপারে চলে গেছে। ওয়াসেক মোল্লা, মোবারক হোসেন, কামাল বিশ্বাস, ঈমান আলী, আবদুল মজিদরা সংঘবদ্ধ হয়েছে। মহকুমা অফিসারের কাচারিতে মেজর সাহেবের ক্যাম্প। ওরা প্রায় প্রতিদিনই দল বেঁধে ক্যাম্পে যায়। নানা শলাপরামর্শ করে। নানা ফরমান জারি হয়।
নির্দেশ আসে আইডেন্টিটি কার্ড বানাতে হবে। লোকজন বলে ডান্ডি কার্ড। স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তোলে এলাকার সবাই, তারপর আবদুল মজিদের বাসায় যায় বাজারের লোকজন। সরকারি ফরমান অনুযায়ী সবার কাছে ডান্ডি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। রাস্তাঘাটে আর্মি নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে, সেই বিড়ম্বনা এড়াতেই ডান্ডি কার্ডের প্রচলন করা হয়েছে। যাদের কাছে কার্ড পাওয়া যাবে না, তাদের ধরে নিয়ে যাবে আর্মি। কিছু পুলিশ আছে, টহলও দিচ্ছে, কিন্তু শাসন আর্মির, পুলিশের মূল্য কী? আবদুল মজিদ দায়িত্ব পেয়েছে ডান্ডি কার্ড ইস্যু করার।
একদিন সকালে দোকান খুলতে খুলতে কলিমুল্লাহ ফিস ফিস করে বলে, ‘স্বাধীন বাংলার রেডিও হয়্যাছে, শুনেছো?’ ‘কোথায়?’ ‘ক্যানো, শুনোনি?’
‘না তো?’ ‘বাসায় রেডিও আছে?’ ‘আছে।’
‘আজকে শুইনবা।’ আবদুল্লাহ আর বেশি কথা বলে না। রেডিও পাকিস্তান কিছুক্ষণ পরপরই আজকাল নসিহত করছে, দেয়ালেরও কান আছে। কোথায় কে কার কথা শোনে, আর সেটা পাকিস্তানি ক্যাম্পে পৌঁছে দেয় বলা মুশকিল, তখন জান নিয়ে টানাটানি। পাকিস্তান আর্মির লোকজন বাঙালিকে বিশ্বাস করে না, কোনো কথাই শোনে না ওরা, তথ্য পেলেই কাচারির পাশে একটা পুরনো দোতলা বাড়ি আছে, সেখানে নিয়ে গিয়ে টর্চার করে। তারপর রাতের আঁধারে মহানন্দা নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে ব্রাশফায়ার করে লাশ ঠেলে দেয় নদীতে। মানুষজন অনেক লাশ দেখেছে নদীতে ভাসতে। গ্রীষ্মকাল বলে নদীতে পানি কম, লাশগুলো তাই ধীরগতিতে যায়। আতংকে কেউ কিছু বলে না। আল্লাহ্ আল্লাহ্ করে।
চৌরাস্তায় সেদিন সদর কলেজের এক প্রফেসরকে আটক করেছিল আর্মিরা। বাংলার অধ্যাপক। উর্দু-ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে বলা কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি খান সেনারা। ‘কেয়া কারতা?’
‘বাংলা পড়াতা স্যার।’
সৈনিকগুলোকেও স্যার বলেছিল প্রফেসর। কিন্তু সব ছাপিয়ে খান সেনাদের কানে ‘বাংলা’ শব্দটাই ঢুকেছিল বোধহয়। আর কোনো কথা শোনার আগ্রহ দেখায়নি ওরা। চোখ বেঁধে হাত পিছমোড়া করে পাঠিয়ে দিয়েছিল টর্চার সেলে। তিন দিন পর তার লাশ নদীতে ভাসতে দেখেছিল লোকজন।
আবদুল্লাহ্ দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে একটা। ছোট বাচ্চাগুলোর মুখের দিকে তাকায়। তার বউয়ের বয়স ত্রিশও হয়নি। তার মুখের দিকে তাকানো যায় না। আতংকে কেমন সিঁটিয়ে থাকে সব সময়। ওরা শুনেছে, সোমত্ত মেয়েদের ধরে ধরে আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছে অখণ্ড পাকিস্তানের দাবিদার বাঙালিরা। প্রতিদিন এপাড়া-ওপাড়া ঘেরাও দিয়ে মেয়েদের আর যুবকদের খুঁজছে। যাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তারা আর ফিরে আসে না। সের-সের গরুর মাংশ আর রুটি যাচ্ছে অফিসারদের জন্য, আবদুল মজিদরাই সাপ্লাই দিচ্ছে সব। সারারাত ক্যাম্পে উৎসব চলছে। অন্ধকার শহরের বিপরীতে এমন দুর্লভ চিত্র খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। পাখির জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা, আবদুল্লাহ্র কষ্ট হয়। কিন্তু কিছুই করার নেই তার। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়ায় সাধ্য কার?
শহরে শান্তি কমিটি গঠিত হয়। রাজাকার বাহিনীতে অশিক্ষিত যুবকদের আহ্বান জানানো হয় পাকিস্তান রক্ষায় কাজ করার জন্য। মাসে বেতন তিনশ’ টাকা। আবদুল মজিদ একদিন ডেকে পাঠায় আবদুল্লাহ্কে। ‘দোকানে মাসে আয় কতো?’ আবদুল্লাহ্ ঠিক বুঝতে পারেনি কেন তাকে এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে। ‘এই ধরেন গিয়ে, দিয়ে-থুয়ে দুইশ’ টাকা তো হয়।’ ‘তুমি মিয়া তিনশ’ টাকা পাইবা, রাজাকার বাহিনীতে যোগ দ্যাও।’
আকাশ বাণী কলকাতা আর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চুপ চুপ করে লো-ভলিউমে শোনে আবদুল্লাহ্। দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় আর ইভা নাগ বাংলাদেশ নিয়ে নানা খবর দেয়। মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়েছে এ খবর ওখানেই শুনেছে সে। রীতিমতো ট্রেনিং নিয়ে ওরা যুদ্ধে নেমেছে। তাছাড়া, গেরিলা বাহিনী দেশের ভেতরে ঢুকে গেছে। মানুষজনের ভেতর থেকে আচমকা ওরা গ্রেনেড বা বোমা মেরে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। বহু খানসেনা মারা যাচ্ছে। পুল-ব্রিজ ধ্বংস করে দিচ্ছে মুক্তিবাহিনী। যেসব রাস্তা দিয়ে পাকিস্তানিরা গোলাবারুদ আর রসদ নিয়ে যাচ্ছে সেসব জায়গায় অতর্কিত অ্যামবুশ করছে ট্রেনিং নেয়া ছেলেরা।
ওপার থেকে তার কাছে খবর পাঠিয়েছিল জয়নাল। যে লোকটা খবর নিয়ে এসেছিল তাকে আবদুল্লাহ্ কখনও দেখেনি। লোকটা মনে হয় মুক্তিবাহিনীর লোক। তার চোখের ভেতর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। আবদুল্লাহ্র তখন মনে হয়েছিল, মুক্তিবাহিনীর চোখে বোধহয় আগুনই জ্বলে। জয়নাল বলেছিল লোকটাকে সহায়তা করতে। শান্তি কমিটির লোকজনদের চিনিয়ে দিতে। ওরা ওদের শেষ করে দেবে। জয়নাল দিনাজপুরে যুদ্ধ করছিল তখন। লোকটা পরে একদিন নিজেই বলেছিল, ও মুক্তিবাহিনীর লোক। ওদের দল আছে শহরের আশপাশে। বাড়ি নোয়াখালী। ওরা চাইছিল স্থানীয় লোকজনের সহায়তা। সাহায্য-সহযোগিতা পেলে ওদের কাজ করতে সুবিধা হবে।
আবদুল মজিদের প্রস্তাবে তাই একটা ঠোক্কর খেয়েছিল আবদুল্লাহ্।
‘মজিদ ভাই, ভাবতে একটু সময় দেন।’
‘যাও, সময় দিলাম। কিন্তু না করবা না। বোঝোই তো, তিনশ’ রাজাকার রিক্রুট করার অর্ডার দিছে মেজর সাহেব। তোমরা না করলে তোমাদেরই ক্ষতি হবে।’ ‘কিসের ক্ষতি?’ চমকে উঠেছিল আবদুল্লাহ্। ‘সময় হইলে বুঝবা মিয়া।’ কথার ভেতর একটা তাচ্ছিল্য ছিল তার। আবদুল্লাহ্ জিজ্ঞেস করেছিল, ‘দোকান বন্ধ করে পাকিস্তান পাহারা দিতে হবে?’ ‘পাকিস্তান তোমারে পাহারা দিতে হবে না, সেজন্যে আল্লাহ্তায়ালা আছেন। তোমরা রাজাকাররা পুল-ব্রিজ পাহারা দিবা আর মেজর সাহেবদের খেদমত করবা। পারবা না?’ ‘পারবা না’ শব্দটা খেঁকিয়ে ওঠার মতো মনে হয়েছিল আবদুল্লাহ্র। কিন্তু কিছুই করার নেই তার। রাজাকার বাহিনীতে যোগ না দিলে তার পরিবারের ওপর আঘাত আসতে পারে। আনারকলিকে পাড়ার সবাই চেনে। নিজের বৌ বলে নয়, আবদুল্লাহ্ জানে তার ঝকঝকা চেহারা যে কারও চোখে লাগার মতো। আনারকলির বিপদ হতেই পারে। মজিদ-মোল্লা-ঈমান আলীরা যা করছে তা কোনো মানুষে করে না।
জয়নালের পাঠানো লোকটা আবার আসে তার দোকানে। নাম তার দেলওয়ার। দেলওয়ার আবদুল্লাহ্কে বোঝায় এলাকায় নতুন বলে অনেকে তাকে দেখে সন্দেহ করতে পারে। সে যেন তাকে তার দূর সম্পর্কের খালাতো ভাই বলে পরিচয় দেয়। ডান্ডি কার্ড তার আছে। ভয় নাই। ঠিকানাটা শুধু মুখস্থ করে নিতে হবে তাকে। আর তার প্রয়োজনমতো কাজ করলে তার পরিবারের ওপর নজর রাখা মুক্তিবাহিনীর দায়িত্ব। দু’জনে ফিসফিস করে আরও কী সব শলাপরামর্শ করে।
দু’দিন চিন্তা-ভাবনা করে আবদুল্লাহ্ রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়। রোজ সকালে উঠে পুলিশ লাইনে যায়, প্যারেড করে। লুঙ্গির ওপর খাকি শার্ট, কোমরে গামছা পেঁচিয়ে নিতে হয়। কাঁধে একটা দু’নলা বন্দুক। ডিউটির কোনো টাইম নাই। যখন-তখন ডাক পড়ে। রাস্তায়, নদীর ঘাটে, বাজারে, সরকারি অফিসের সামনে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ক্যাম্পে গেলে খাওয়া-দাওয়া ফ্রি। মাছ-মাংস কোথা থেকে যে আসে আল্লাহ্ জানেন। মাস গেলে নগদ তিনশ’ টাকা। দু’তিন মাস ভালোই চলে যায় আবদুল্লাহ্র। কিন্তু মনটা তার উসখুস করে। ভালো করে ঢোক গিলতে পারে না, মনে হয় গলায় কাঁটা আটকে গেছে। হঠাৎ একদিন মাঝরাতে উদয় হয় দেলওয়ারের। ‘ভাই কি কিছু ভাবলেন?’ দু’জনে ফিসফিস করে আবার। আনারকলি আড়াল থেকে শোনে। বাচ্চা দু’টোকে বুকের কাছে চেপে ধরে। আগস্ট মাসের দিকে পানি বাড়ে নদীতে। বৃষ্টি শুরু হলে আর থামার লক্ষণ দেখা যায় না। একনাগাড়ে কয়েকদিন বৃষ্টি হলে খালেও পানি বাড়ে। তখন জেলা শহরের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী রাস্তাগুলোর উপর সিএন্ডবি’র তৈরি কালভার্টগুলো ঝুঁকিতে পড়ে যায়। মেজর সাহেব এলাকার শান্তি কমিটির লোকদের নিয়ে জরুরি সভা করেন। রাস্তাঘাট অরক্ষিত রাখা যাবে না। রাজাকারদের টহল বাড়াতে হবে। আবদুল্লাহ্ শুনেছে পাকিস্তানের সেনারা পানিকে নাকি খুব ভয় পায়, অনেকে সাঁতারও জানে না। তাছাড়া, সাপখোপ এবং জোঁকের উপদ্রব সামলাতে পারলেও মুক্তিবাহিনীর অতর্কিত হামলায় তারা একেবারে কাবু হয়ে গেছে। তাই মেজর সাহেবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাতের বেলা পাকিস্তানের গর্বিত সেনাবাহিনী বাংকারে এবং ক্যাম্পে থাকবে, বাইরে পাহারা এবং টহলের কাজ করবে বাঙালি রাজাকাররা। শহরের ভেতর কিছু বোমা ফাটা ছাড়া যদিও এখনও কোনো বড় অঘটন ঘটেনি।
আবদুল্লাহ্ রাত-বিরেতে ডিউটি করে বেড়ায়। পুল পাহারা দেয়। বিদ্যুৎ অফিসে, টেলিফোন অফিসে ডিউটি করে। একদিন মেজর সাহেবের কাচারি বাড়ি পাহারা দিতে হয় তাকে। আজ এখানে, তো কাল ওখানে। ভালোই ডিউটি, মনে মনে হাসে আবদুল্লাহ্।
রাজাকার কমান্ডার লতিফ খুব চালু। মুসলিম লীগ করে। গত বছর ইলেকশনের সময় এক ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের কিছু লোক তাকে পিটিয়েছিল। ভাঙা পা নিয়ে বিছানায় পড়েছিল দুই মাস। কমান্ডার হওয়ার পর প্রতিশোধ নিয়ে নিয়েছে। ওইসব লোকের বাড়ির একটা একটা করে ইট খুলে নিয়ে এসেছে, তারপর বসতভিটায় মই চালিয়ে সবজির ক্ষেত বানিয়েছে। সারাক্ষণ পান খায়, তার কষ ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে পড়ে লতিফের। সেই কষ দেখতে রক্তের মতো মনে হয় আবদুল্লাহ্র, মনে হয় জীবন্ত রাক্ষস।
‘কী ভাই আবদুল্লাহ্, তুমি ডিউটিতে ফাঁকি দিতেছো মনে হয়।’
লতিফের কর্কশ কণ্ঠস্বর। ‘ক্যান ভাই? ডিউটিতো পুরাই দিতাছি।’ ‘না মানে, তুমি যেদিন যেখানে ডিউটি দ্যাও, পরদিন সেইখানে ইন্ডিয়ান এজেন্টরা বোমা মারে। কেইস কী?’
‘আমি যেদিন ডিউটি দেই সেইদিন তো মারে না। তাইলে আমার দোষ কোথায়? যারা ডিউটি দেয় তাদের কন।’
আবদুল্লাহ্ জোর দিয়ে কথা বলায় একটু ভড়কে যায় কমান্ডার।
‘আরে না মিয়া, এমনিই কইলাম আর কী। পাকিস্তান রক্ষায় তোমার যে অবদান তুমি রাখতেছো, আমার সঙ্গে সঙ্গে জাতি তোমাকেও সেইভাবে স্মরণ করবে।’
আবদুল্লাহ্ এতদিনে বুঝে গেছে শক্তের ভক্ত নরমের যম কাকে বলে। নরম মানুষকে সবাই চিবিয়ে খায়। লতিফ কমান্ডার সুযোগ পেলেই ঘায়েল করতে চায় সবাইকে। মনে করে তার ক্ষমতাই বেশি। আসলে কার যে কোথায় ক্ষমতা সেটা একমাত্র উপরওয়ালাই জানেন। তবুও আবদুল্লাহ্ নজরে রাখে লতিফ কমান্ডারকে। সাপের জাত। কখন ছোবল দেবে কেউ জানে না। তাকে সুযোগ দেয়া যাবে না। সে বুঝতে পেরেছিল লতিফের কান ভারি করা কথায় তার উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল মেজর সাহেব। সেদিন বাজারে তার ডিউটি ছিল। ওই বাজারে মেজর সাহেবের গাড়ির কাছাকাছি একটা বোমা বিস্ফোরণ হওয়ায় মেজর সাহেবকে তার কথাই বলা হয়েছিল। ভাগ্য ভালো ছিল তরুণ পাঞ্জাবি মেজর সাহেবের, জীবনে কী পুণ্য করেছিল কে জানে, তার গাড়ির ছাদে পড়া বোমাটা বিস্ফোরিত হয়নি। গাড়ি দ্রুত চলতে শুরু করলে ফাটা বোমাটা তার নাগালে পৌঁছুতে পারেনি। ভাগ্য ভালো আবদুল্লাহ্রও, মেজর সাহেবের কিছু একটা হয়ে গেলে তার জন্য একটা বুলেট খরচ করতে ওরা দ্বিধা করত না। কিন্তু সে জেরার মুখে পড়েছিল, নানা প্রশ্নে তাকে জর্জরিত করেছিল ক্যাপ্টেন সাহেব। সে থরথর করে কাঁপছিল। মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল তার পাশে।
আজ সন্ধ্যা থেকে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। আকাশ ঘিরে আছে ঘন কালো মেঘ। আর পাঁচটা দিনের মতোই আর্মি অফিসাররা সুরায় ডুবে আছে কাচারি ক্যাম্পে। সুনসান রাস্তাঘাট। মাঝে মাঝে ‘হল্ট’ শব্দটি সচকিত করে দিচ্ছে সজাগ মানুষগুলোকে। আবদুল্লাহ্র ডিউটি পড়েছে কাচারি ক্যাম্পের সামনের রাস্তায়। যদিও ক্যাম্পের প্রবেশমুখে চারজন সৈন্য মেশিনগান নিয়ে পাহারায় আছে। লতিফ কমান্ডার এসে একবার ডিউটি চেক করে গেছে। ‘মিয়া, চোখ-কান খোলা রাখবা।’
চোখ-কান খোলাই রেখেছে আবদুল্লাহ্। কাচারি বাড়ির পেছনে একটা আমবাগান। বেশ বড় আমবাগান। ওখানেও বাংকার করে চব্বিশ ঘণ্টা পাহারা দেয় সৈনিকরা। বাগানের সঙ্গে কাচারিবাড়ির দেয়ালটা ছিল চার ফুট উঁচু, সেটাকে সাত ফুট উঁচু করা হয়েছে। দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকা এখন বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। তাছাড়া, সার্চলাইট বসিয়ে পুরো দেয়ালটাকে দিনের মতো আলোকিত করে রাখা হয় সন্ধ্যা হলেই। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দলের অন্যদের রাস্তার ডিউটিতে রেখে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ গান গাইতে গাইতে আবদুল্লাহ্ পেছনটা ঘুরে এসেছে একবার।
রাস্তায় ফিরে এসে সে একটা সিগারেট ধরায়। বগলা সিগারেট। আজ সে এক প্যাকেট কিনেছে। অথচ আবদুল্লাহ্কে কেউ কোনোদিন সিগারেট খেতে দেখেনি। সে একটার পর একটা সিগারেট খেতে থাকে। তাই দেখে মিনু রাজাকার জিজ্ঞেস করেছে,
‘আবদুল্লাহ্ ভাই, সিগারেট খাইতাছো যে?’
এমন প্রশ্ন আসবেই। জবাবও প্রস্তুত ছিল তাই তার মুখে।
‘দেখতাছো না, কেমুন জার লাগতেছে, তাই শরীলডারে গরম কইরা নিতাছি।’ ‘সিগারেট খাইলে শরীল গরম হয়?’
‘হয় কি না, খায়া দেখো।’ একটা সিগারেট বাড়িয়ে দিয়েছিল মিনুর দিকে আবদুল্লাহ্। ‘না-না, খামু না। মাথা ঘুরে।’ রাজাকারের একটা দল তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। ওরা পাঁচজন। বৃষ্টি বলেই হয়তো গামছা দিয়ে মুখের নিচ দিক ঢাকা। গায়ে চাদর। অন্য কোথাও ডিউটিতে যাচ্ছে হয়তো। আবদুল্লাহ্ চুপ করে থাকে। মিনু রাজাকার জিজ্ঞেস করে, ‘কারা যায়?’ ‘আমরা।’ আবদুল্লাহ্ স্পষ্ট বুঝতে পারে ওটা দেলওয়ারের কণ্ঠ। ‘আমরা কারা?’ ‘নতুন রাজাকার। চৌহালি থাইকা আইছি।’ ‘ও আচ্ছা।’ প্রশ্ন শেষ মিনু রাজাকারের। কিন্তু মুহূর্তেই পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা চাদরের তলা থেকে ছুরি বের করে বুক বরাবর এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয় আবদুল্লাহ্র সঙ্গে থাকা তিন রাজাকারের। মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশগুলোকে টেনে ড্রেনে ফেলে দেয়। আবদুল্লাহ্ হাত লাগায় ওদের সঙ্গে। মুহূর্তের মধ্যে দলটি কাচারি গেটে গিয়ে একই কাজ করে। চার সেন্ট্রির লাশ বালির বস্তায় চাপা দিয়ে দু’জন স্টেনগান হাতে দাঁড়িয়ে যায়, অন্য তিনজন সামনের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়ে।
পুরো ঘটনা খুব দ্রুত ঘটতে থাকে। এক মিনিটের মাথায় ফিরে আসে ওরা। তারপর পাঁচজন একপ্রকার দৌড়ে তার কাছে আসে। পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা স্টেনগান হাতে তার সামনে দাঁড়িয়ে।
দেলওয়ারই বলে,
‘আবদুল্লাহ্ ভাই, মেজর শ্যাষ। গুলি খরচ করি নাই, তারেও খরচ করতে দেই নাই। ছুরি ঢুকায়া দিছি প্যাটে।’
সিগারেটের প্যাকেটটা ছুড়ে ফেলে দেয় আবদুল্লাহ্। দেলওয়ার এবং মুক্তিবাহিনীর ছেলেদের কাছে তার সিগারেটের আগুন ছিল গ্রিন সিগন্যাল। তাদের অনেক দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে।
আর দাঁড়ায় না ওরা। টিপটিপ বৃষ্টি মাথায় করে ওরা দ্রুত সরে যেতে থাকে অবরুদ্ধ শহর থেকে। আবদুল্লাহ্ ওদের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটে। পেছনে পড়ে থাকে তিন রাজাকার, পাকিস্তানি মেজর আর তার সৈনিকদের লাশ।
আনারকলি বাচ্চাদের নিয়ে এতক্ষণে নিশ্চয়ই পৌঁছে গেছে গোবিন্দপুর। রাজাকার আবদুল্লাহ্র খোঁজ পড়ার আগেই তাকে গোবিন্দপুর পৌঁছে যেতে হবে। সেখান থেকে সীমান্ত বেশি দূরে নয়।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশে দেশে বইমেলা by ইমরান মাহফুজ
একুশের বইমেলা
ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে অন্যরকম এক মূল্যবোধের মাস। এ মাসে ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল বাঙালি। বিশ্বে এ এক বিরল ইতিহাস। বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামের সূচনা এ ফেব্র“য়ারি মাসে। চেতনার পরশ বুলিয়ে ফেব্র“য়ারিতে উৎসবের আমেজ এনে দেয় বাংলা একাডেমির অমর একুশের বইমেলা। এ মেলা এখন বাঙালির প্রাণের মেলা এ মেলা অনুষ্ঠিত হয় ফেব্র“য়ারিতে। চলে পুরো মাস। বইপ্রেমিকরা সারা বছর অপেক্ষা করেন এ মাসের জন্য। লেখক-প্রকাশক এবং প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট সবার নজর থাকে ফেব্র“য়ারিজুড়ে। মেলা চলে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে। আমাদের প্রকাশনা জগতে সারা বছরই বই প্রকাশ পায়। কিন্তু সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বই প্রকাশ পায় মেলার মাসে। লেখকরাও এ মাসেই নিজেদের বই প্রকাশে আগ্রহ দেখান। কারণ, একসঙ্গে এত পাঠকের সামনে নিজের বইটি তুলে দেয়ার এমন সুযোগ আর দ্বিতীয়টি নেই। বইমেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার ইতিহাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন অনেকে। তাদের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য আমাদের বইমেলার নাম দেয়া হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আজকের বইমেলা শুরুতে এমন অবস্থায় ছিল না। তেমনি ছিল না এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ঠিক পরের বছর থেকে শুরু হয় বইমেলার। ১৯৭২ সালে মুক্তধারা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী চিত্তরঞ্জন সাহা ফেব্র“য়ারি মাসের ৮ তারিখে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনের বটতলায় তার প্রকাশনীর বই বিছিয়ে বসেন। সে সময় মুক্তধারার ছিল ৩২টি বই। বইগুলো ছিল বাংলাদেশের শরণার্থী লেখকদের লেখা। এ বছর বাংলা একাডেমিও একুশে ফেব্র“য়ারি উপলক্ষে বিশেষ মূল্য ছাড়ের মাধ্যমে তাদের বই বিক্রি করে। সেই শুরু থেকে একটানা ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তার প্রকাশনীর বই বিক্রির জন্য নিয়ে বসেন। ধীরে ধীরে এখানে লোক সমাগম বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে বইয়ের বিক্রিও। ফলে অন্য প্রকাশকরাও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ধীরে ধীরে অন্যরাও এগিয়ে আসতে থাকে তাদের বই নিয়ে। ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি এ মেলাকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি সরাসরি যুক্ত হয় মেলার সঙ্গে। ১৯৭৯ সালে বইমেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি। তারপর থেকে প্রতিবছর ফেব্র“য়ারিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বইমেলা। কিন্তু ধীরে ধীরে মেলা নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ায় মেলার সময় বাড়ানো হয়। এখন ফেব্রুয়ারিজুড়েই চলে একুশের গ্রন্থমেলা। দ্বিতীয় বছরের মতো বইমেলা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণসহ বাইরে বসছে খুব সুন্দরভাবে। উল্লেখ্য, প্রতিবছর ডিসেম্বরে ১০ দিনব্যাপী জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের বইমেলাও অনুষ্ঠিত হয়।
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা
পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ফ্রাঙ্কফুর্টের বইমেলা। শুরু হয়েছিল পঞ্চদশ শতকে। মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কারক ইয়োহানেস গুটেনবার্গ থাকতেন ফ্রাঙ্কফুর্টের সামান্য দূরের মেঞ্জ শহরে। তার আবিষ্কৃত ছাপাখানার যন্ত্র বইয়ের জগতে নিয়ে আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তিনি নিজের ছাপাখানার যন্ত্রাংশ এবং ছাপানো বই বিক্রির জন্য ফ্রাঙ্কফুর্টে আসেন। গুটেনবার্গের দেখাদেখি ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের স্থানীয় কিছু বই বিক্রেতাও তাদের প্রকাশিত বই নিয়ে বসতে থাকে। আর এগুলো কিনতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষও আসতে শুরু করে। সেই আসা-যাওয়া থেকেই জমে উঠতে থাকে ফ্রাঙ্কফুর্টের বইমেলা। বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই ফ্রাঙ্কফুর্টের বইমেলা তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে শুরু করে। ১৯৪৯ সালে এ মেলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় জার্মান প্রকাশক সমিতি। আর ১৯৬৪ সাল থেকে এ মেলার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলে। বছরের অক্টবরের মাঝামাঝি সময়ে মেলা শুরু হয়। মেলার সময়কাল পাঁচ দিন। মেলার আয়োজক জার্মান পাবলিশার অ্যান্ড বুক সেলার অ্যাসোসিয়েশন। প্রতি বছরই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার প্রকাশক, বিক্রেতা, লেখক, পাঠক, দর্শক ও সাংবাদিকের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা।
লন্ডন বইমেলা
প্রকাশনার দিক থেকে লন্ডন বইমেলা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইমেলার অন্যতম। তবে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার মতো বড় না হলেও এ মেলার গুরুত্ব অনেক। সাধারণত বছরের মার্চ মাসে এ মেলার আয়োজন করা হয়। তবে কখনও কখনও অক্টোবরেও মেলার তারিখ পরিবর্তন হয়, সেই সঙ্গে পাল্টে যায় মেলার স্থানও । যেমন ২০০৬ সালে মেলাটি হয়েছিল লন্ডনের অলিম্পিয়া এক্সিবিশন সেন্টারে আবার পরের বছর হয় ডকল্যান্ডের আর্ল কোট এক্সিবিশন সেন্টারে। আয়তনে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার সমান না হলেও নিজের গুরুত্ব ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠা করেছে লন্ডন বইমেলা। গত বছর এ মেলায় বিশ্বের প্রায় একশরও বেশি দেশ থেকে ২৩ হাজার প্রকাশক, বই বিক্রেতা, সাহিত্য প্রতিনিধি, লাইব্রেরিয়ান, সংবাদমাধ্যম কর্মী অংশ নিয়েছিল। প্রকাশিতব্য বইয়ের প্রচারের জন্য, অন্য প্রকাশক থেকে বইয়ের স্বত্ব অথবা বইয়ের অনুবাদ স্বত্ব কেনা-বেচার জন্য প্রকাশকরা এ মেলায় অংশ নেয়। ফ্রাঙ্কফুর্টের বইমেলার সঙ্গে এ মেলার বড় পার্থক্য হল- এটি প্রকৃত অর্থে প্রকাশকদের মেলা। এখানে সাধারণ পাঠকের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। এখানে ভিড় করেন বিভিন্ন দেশের প্রকাশকরা।
কলকাতা বইমেলা
ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং লন্ডন বইমেলার পরের স্থানটি কলকাতা বইমেলার। সে হিসেবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বইমেলা এটি। মেলা শুরু হয় ১৯৭৬ সাল থেকে। মেলা অনুষ্ঠিত হয় জানুয়ারির শেষ বুধবার থেকে ফেব্র“য়ারির প্রথম রোববার পর্যন্ত। সব মিলিয়ে মেলার মেয়াদ ১২ দিন। তবে মেলা আয়োজনের প্রথম দিকে এর মেয়াদ ছিল সাতদিন। জনপ্রিয়তার কারণে পরে মেলার মেয়াদ বাড়ানো হয়। বইমেলা ছাড়া কলকাতাকে কল্পনা করতে পারে না কলকাতাবাসী। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, মেলায় প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২ মিলিয়ন মানুষের সমাগম হয়। সবদিক বিবেচনায় ২০০৫ সালে মেলার মেয়াদ সাতদিন থেকে বাড়িয়ে বারদিন করা হয়। ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং লন্ডন এ দুটি বইমেলার সঙ্গে কলকাতার বইমেলার পার্থক্য হল- এখানে পাঠকদেও গুরুত্ব দেয়া হয় সবচেয়ে বেশি। বই ব্যবসা এ মেলার মূল উদ্দেশ্য নয়। সেদিক থেকে কলকাতা বইমেলাকে বলা যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় অব্যবসায়িক বইমেলা। কলকাতা বইমেলার অফিসিয়াল নাম কলকাতা বইমেলা বা কলকাতা পুস্তকমেলা।
ভারতের দিল্লি ও হংকং বইমেলা ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে একথা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে, সারা বিশ্বে ক্রমেই বইয়ের প্রতি মানুষের আলাদা একটা টান তৈরি হচ্ছে। সেটা বিভিন্ন বইমেলার কারণেই হয়ে থাকে বলে অনেকের অভিমত।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ পেট্রলবোমা হামলার জবাব নয়: অ্যামনেস্টি

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সৌদি বাদশাহ সালমানের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিশরে আইএসের সিরিজ হামলার দাবি: নিহত ২৭, আহত ৬৮

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘পরিবর্তনের সূচনা’ by মিজানুর রহমান

কংগ্রেস সরকার বাংলাদেশের রাজনীতি বিশেষ করে একটি দলের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিতো। সেখানে মোদি সরকার ইকো-ডিসটেন্স বা সম-দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। তার ‘স্টেট টু স্টেট, পিপল টু পিপল’ সম্পর্কটা রাখার চেষ্টা করছে। ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের আগে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের ‘শুভেচ্ছা সফরে’ বাংলাদেশে আসা এবং সব দলের অংশগ্রহণের পরিবর্তে ‘বেশিরভাগ দলের অংশগ্রহণে এখানে নির্বাচন দেখার’ যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন সে প্রসঙ্গে ওই বিশ্লেষক বলেন, আমার মনে হয় একজন সচিবের এমনভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। এটি পেশাদারিত্বের ঘাটতি বলেই মনে হয়েছে আমার।
তাকে সরিয়ে দিয়ে পররাষ্ট্র সচিবের পদে নতুন একজনকে নিয়োগের বিষয়টি একান্তভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সুজাতা সিংকে নিয়ে যে ‘বিতর্ক’ আর মোদি সরকারের ‘সমদূরত্ব নীতি’ ঠিক যাচ্ছিলো না। তার পরিবর্তনের নেপথ্য কি ঘটনা এটি স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করেন ওই বিশ্লেষক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রফেসর তারেক শামসুর রেহমান মনে করেন বাংলাদেশ প্রশ্নে মোদি সরকারের যে নীতি নতুন পররাষ্ট্র সচিব সেটি জোরালোভাবে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। ওই নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তির চেয়ে সরকারের ইচ্ছাই প্রাধান্য পায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, সচিবের পদে পরিবর্তনের নীতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তবে এ পরিবর্তন যে ‘আরও বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে’ সে বিষয়ে ভিন্নমত নেই তারও।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজীবনের জন্য হুমকি?

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কোনোভাবেই সচল রাখা যাচ্ছে না পরিবহন সেক্টর by আবু সালেহ আকন

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি- ব্রিফিং-এ বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী প্রসঙ্গ

প্রশ্ন: বাংলাদেশ নিয়ে আমি কিছু প্রশ্ন করতে চাই আপনাকে। এখানে রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতা ক্রমাগত বাড়ছে। এরই মধ্যে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া)কে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। মিডিয়াতে সেন্সরশিপ চলছে। এর আগেও এ বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি মুন, এমনকি আমি মনে করি তিনি সংলাপের চেষ্টা করেছিলেন। এটা জেনে আমি বিস্মিত। শান্তিরক্ষী মিশনে বড় অংশগ্রহণকারী দেশ বাংলাদেশ। ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অথবা মহাসচিব এখন কি করছেন?
উত্তর: এর আগে মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার অফিস থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরাও ওই উদ্বেগের সঙ্গে একইভাবে উদ্বিগ্ন। সরকারের এটা নিশ্চিত করা উচিত যে, আইনপ্রয়োগকারীরা খেয়ালখুশি মতো বিরোধীদলীয় কোন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার বা আটক করতে পারবে না। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে যেসব মানদ- আছে তা মেনে চলতে হবে। আপনি জানেন, অবশ্যই, আমরা দেখেছি এবং দেখছি যে, পরিস্থিতি আরও বেশি হতাশ হওয়ার মতো।
প্রশ্ন: আমি আপনাকে আরও একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করতে চাই। সেটা হলো- আমি মনে করি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ অংশ নেয়া এখন এক নম্বর দেশ। যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তার অনেকটার জন্য দায়ী নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে যে পর্যালোচনা করা হয় তাতে এ বিষয়টি কিভাবে দেখা হবে?
উত্তর: আমি মনে করি এক্ষেত্রে মানবাধিকারের মানদ- যাচাইয়ের যে নীতি রয়েছে তা অব্যাহতভাবে প্রয়োগ করা হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গলাকাটা মুরগির অর্থহীন নাচানাচি by সিরাজুর রহমান

অপর দিকে, এদের মন্ত্রী বলতে ইচ্ছা করে না, কারণ এরা এমন নোংরা কথা বলেন ও কাজ করেন যে, শুনে গা ঘিন ঘিন করে। তাদের একজন ঘোষণা দিয়েছেন যারা নির্বাচন কিংবা গণতন্ত্রের কথা বলেন কিংবা বলেছেন তাদের খবর দিলে ৫০ হাজার টাকা, আর ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার। ওদিকে রাজধানীতে সরকারের পক্ষে সমর্থন দেখানোর জন্য রোজ কয়েক শ’ টাকা করে ভাড়া পাচ্ছেন কর্মহীন আর দিনমজুরেরা। কর্মসংস্থান আর সম্পদের বণ্টনের অপূর্ব ব্যবস্থা করে ফেলেছে অবৈধ সরকার! আরো অনেক মিল দেখবেন একাত্তরের সাথে। গোড়ার দিকে হলেও মাঝে মাঝে এখানেÑ সেখানে অভিযান চালাত পাকিস্তানি সেনারা। সাধারণত দেশের ভেতরে ঢোকার সাহস তাদের ছিল না। মাঝে মাঝে কয়েক ডজন সামরিক যান ভর্তি সৈন্য আর দুই-চারজন বিশ্বাসঘাতক চরকে নিয়ে এরা গেরিলা আক্রমণের মতো করে হামিলা চালিয়ে অতি দ্রুত ঘাঁটিতে ফিরে যেত। হুবহু একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে এখন। রাজধানীর বাইরের বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন। প্রশাসন নিজেই এখন বিপন্ন বোধ করছে। জেলা প্রশাসকেরা বিজিবি প্রার্থনা করে চিঠি লিখে মন্ত্রীদের অস্থির করে তুলেছেন। অত বিজিবি সরকার পাবে কোথায়? সুতরাং আরো ৫০ হাজার গোপালী পুলিশ নিয়োগ করো। পুলিশ বাহিনীর গ্রামাঞ্চলে যাওয়ার সাহস অনেক দিন আগেই চলে গেছে। এখন রাজধানীর বাইরে যেতে হলে অত্যাধুনিক অস্ত্র সজ্জিত পুলিশ র্যাব ও বিজিবি ডজন ডজন গাড়ি ও ভ্যানের কনভয়ে চলাচল করে। বিভিন্ন সময়ে হলিউডের দৌলতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অনেক ফিল্ম দেখেছিলাম। বাংলাদেশের তথাকথিত শান্তিরক্ষী বাহিনীর রাজধানীর বাইরে যাওয়ার দৃশ্য প্রায়ই আমাকে ভিয়েতনামে মার্কিন বাহিনীর কনভয় অভিযানের কথা মনে পড়িয়ে দেয়।
খাসি করে দেয়া পাঁঠা?
এসব ছবিও হয়তো শিগগির আর দেখতে পাবো না। বর্তমানে তারা যা করছে তার প্রস্তুতিস্বরূপ মিডিয়া নামে পাঁঠাটাকে তারা ২০০৯ সালেই খাসি করে দিয়েছিল। হারানো পৌরুষের স্মৃতি মনে করে খাসির দুঃখ হয়, ম্যা-ম্যা করে সে মনের আকুতি প্রকাশ করতে চায়। সেটাও সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মাঝে মাঝেই তারা দুটো-চারটে মিডিয়া-খাসি হত্যা করেছে এবং করছে। যারা খাসি হতে আপত্তি করেছে তাদের পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। সাহসী মাহমুদুর রহমানকে এত দিন বিনা বিচারে আটক রাখা এবং মাঝে মাঝে লোকচক্ষুর অগোচরে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগও প্রবল। এখন হুকুমের গোলাম দুদককে দিয়ে মামলা সাজানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার পত্রিকা আমার দেশের মুদ্রণ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামী টেলিভিশনও বন্ধ আছে। এখন কোপ পড়েছে একুশে টেলিভিশনের ওপর। আমার কেন জানি মনে পড়ছে এককালে এ স্টেশনটি শেখ হাসিনার প্রিয়পাত্র ছিল। ও দিকে টেলিভিশনের টকশোতে কাকে আমন্ত্রণ করা যাবে আর কাকে যাবে না তার একটা অলিখিত তালিকা স্টেশনগুলোকে আগেই দেয়া হয়েছিল। তাতেও সরকারের মনঃস্তুষ্টি হয়নি। টকশোর অতিথিদের বিরুদ্ধে মন্ত্রীদের কুৎসা-নিন্দা বৃষ্টি শুরু হতে দেরি হয়নি।
সরকারের জানাই ছিল তাদের নির্বাচন চুরি, গণতন্ত্র চুরি ও স্বাধীনতা চুরির বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান ঘটবেই। তার আগেই সম্প্রচার বিধির নামে মিডিয়া নামক খাসিটার চার পায়ে দড়ি বেঁধে দেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে আবার টেলিভিশন স্টেশন মালিক ও সাংবাদিকদের সচিবালয়ে ডেকে পাঁচ মন্ত্রী একযোগে দলাইমলাই করেছেন। মনে রাখতে হবে যে মালিকপক্ষগুলোর মাথা নানা কারণেই সরকারের কাছে বাঁধা। এরা সাধারণত বিভিন্ন শিল্প-গ্রুপের মালিক। সরকারের অনেক নুন খেয়েছেন এরা, ভবিষ্যতেও খেতে হবে। হয়তো সরকারের চোখের সামনে গুরুতর অন্যায় কেউ কেউ করেছেন অতীতে, সরকার অপত্য স্নেহে ক্ষমা করে দিয়েছে। এখন মাটিতে টেনে দেয়া লাইনের একচুল এ দিক-ও দিক পা দিলে অনেক দড়িতে এক সাথে টান পড়বে। আবার টেবিলের তলা দিয়ে ডান হাত-বাঁ হাতের কারবার তো হরহামেশাই হচ্ছে। দুই-তিন মাস আগে এ রকম একটা গুজব শুনেছিলাম। সত্য-মিথ্যা বলতে পারব না। তবে একজন তথাকথিত বামপন্থী মিডিয়া ব্যক্তিত্বের রাতারাতি ১৮০ ডিগ্রি মোড় ফেরা লক্ষ করেছি।
ফলটা যা হওয়ার তাই হয়েছে। স্টেশন মালিক ও তাদের মিডিয়া কর্মীরা পাঁচ মন্ত্রীকে নাকে খৎ দিয়ে এসেছেন। অনির্বাচিত, অবৈধ সরকার যা বলবে সেটাকেই তারা ধ্রুব সত্য বলে প্রচার করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে কয়েক বছর পড়াশুনা করে এবং বহু বছর ধরে মিডিয়ায় কাজ করে তারা যা শিখেছেন সেটাকে আর সংবাদ বলা যাবে না। পাঁচ মন্ত্রী দলাইমলাই করে বলে দিয়েছেন আন্দোলন-অবরোধ উসকানি পেতে পারে এমন খবর প্রকাশ করা যাবে না। এবং বেছে বেছে ভালো খবরগুলো ছাপতে হবে। আমার মনে আছে পাকিস্তানের জেনারেল ইয়াহিয়া খানও একই উপদেশ দিয়েছিলেন সাংবাদিকদের। এরও আগে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান বলেছিলেন, আপনারা ভারতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রচার করেন কেন, রবীন্দ্রনাথ তো পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিলেন (সত্য নয়, লাহোরে পাকিস্তান প্রস্তাব পাস হওয়ার সময় থেকে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন), রবীন্দ্রসঙ্গীত আপনারা লিখতে পারেন না?
বিদেশীদের চোখে ঠুলি বাঁধা?
বাংলাদেশে এখন বলতে গেলে একমাত্র ঘটনা নিরপেক্ষ নির্বাচন আর গণতন্ত্রের দাবিতে অবরোধ আন্দোলন। সেটা সরকারের জন্য দুঃসংবাদ, কেননা দেশে অবরোধ চলছে শুনে ধীরে ধীরে আরো মানুষ অবরোধে শরিক হচ্ছে। সুতরাং এ খবর প্রচার করা যাবে না। সুখবর কোনটাকে বলবেন তাহলে? মন্ত্রীদের কেউ কেউ বলেছেন, অবরোধ সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। পরিস্থিতি কয়েক দিনের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবেন বলে আশ্বাস বিভিন্ন মন্ত্রী তিন সপ্তাহ ধরে দিয়ে চলেছেন। এমনকি কেউ এ দেশে আছেন যিনি মন্ত্রীদের আশ্বাসে বিশ্বাস করেন? সে খবর আপনি কী করে প্রচার করতে পারেন, কেননা অন্য কোনো মন্ত্রী বলেছেন, অবরোধ-টবরোধ কিচ্ছু হচ্ছে না, ওসব একদম বাজে কথা! বিএনপির আন্দোলনের সময়ের ধ্বংসাত্মক ঘটনাগুলো বিদেশে প্রচার জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী কূটনীতিকদের তাগিদ দিচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নিমন্ত্রণ করে বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল বলে বোঝাতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য, যে বিদেশীরা কোনো কোনো বাংলাদেশী মন্ত্রীর মতো স্টুপিড লোকেদের মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত করে পাঠায়নি। রাষ্ট্রদূতেরা পরিস্থিতি দেখছেন এবং দেখে তার যথার্থ মূল্যায়নের মানসিক ক্ষমতা তাদের আছে। সেজন্যই তারা এবং স্বদেশে তাদের সরকার হাজারবার করে বলছে দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় এসে সবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দাও, নইলে বাংলাদেশের সঙ্কটের অবসান হবে না।
শুনেছি এখন আবার অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদির ভয়াবহ ছবি ডিভিডি করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে সেসব দেশের সরকারকে জ্ঞানদান করার জন্য। প্রশ্ন উঠবে অবরোধ-হরতাল যদি মিথ্যা হয় তাহলে এসব ঘটনা ঘটছে কেন? এবং মনে রাখতে হবে এই সরকারগুলোই দুই বছর ধরে বাংলাদেশের সরকারকে সুপরামর্শ দিয়ে আসছে, আর ঢাকার সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না। সুতরাং সরকারি উদ্যোগে পাঠানো ডিভিডিগুলো দেখে বিদেশী সরকারগুলো কুপোকাত হয়ে যাবে ভাবার কোনো কারণ আছে কি? তা ছাড়া বাংলাদেশে এখন ব্যাপক বলা-কওয়া হচ্ছে যে বাসে-ট্রাকে আগুন লাগানোর অনেক ঘটনা সরকার পক্ষই ঘটাচ্ছে বিএনপিকে অপবাদ দেয়ার জন্য। এসব ঘটনার জন্য পুলিশ এ যাবৎ যাদের ধরতে পেরেছে তাদের মধ্যেও সরকার পক্ষের লোক অনেক থাকছে। আরো স্মরণীয় যে, বাসে আগুন লাগানোর রাজনীতি বাংলাদেশে ‘প্রবর্তন’ করেছিল আওয়ামী লীগ। ২০০৪ সালের ৪ জুন আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে শেরাটন মোড়ে বাসে আগুন লাগিয়ে ১১ জন যাত্রী হত্যা করার কথা আওয়ামী লীগ নেতারা ভুলে গেছেন? সে ঘটনার জন্য কাউকে হুকুমের আসামি করা যায় না? এসব খবর রাষ্ট্রদূতদেরও কানে যায় এবং তারা সেসব খবর এবং তাৎপর্য অবশ্যই স্বদেশে সরকারকে জানিয়ে দেন। ‘তোমাদের কথা আমি শুনব না, কিন্তু আমার কথা তোমাদের শুনতে হবে’Ñ বাংলাদেশ সরকারের এই গোঁয়ার্তুমির মনোভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতির ধোপে টিকবে বলে কেউ মনে করেন?
অনেক ব্যাপারের উল্লেখ করে ফেললাম। এগুলো অবশ্যই খবর। এগুলোর যেকোনোটা প্রকাশ করতে হলে অবশ্যই মেনে নিতে হবে যে বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্রের দাবিতে একটা অবরোধ এবং সেই সাথে মাঝে মাঝে হরতাল চলছে। এবং আরো মেনে নিতে হবে যে প্রায় চার সপ্তাহ থেকে গ্রেফতার, গুম, হত্যা, নির্যাতন ইত্যাদি চালিয়েও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। সুতরাং মিডিয়াকর্মী যদি বর্তমান বাংলাদেশ সম্বন্ধে কোনো সংবাদই প্রচার না করেন তাহলেই শুধু মন্ত্রীদের হুকুম মেনে চলা তাদের পক্ষে সম্ভব হতে পারে।
লাশের রাজনীতির নতুন মাত্রা
শুধু বিশ্বসমাজই নয়, দেশের ভেতরের যেসব মহলের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা অত্যধিক তারাও এখন সরকারকে সংলাপে বসে সমঝোতায় আসতে এবং সবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে পরামর্শ দিচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নেই ব্যবসায়ী সমাজের উদার অর্থ ও অন্যান্য সাহায্য বিগত ছয় বছরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিরাট একটা খুঁটি ছিল। ২০০৬ সালের অক্টোবরের লগি-লাঠি-বৈঠার আন্দোলনের সময় থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে জানাজানি হয়ে গেছে যে জনতা ভাড়া করতে, সে জনতাকে যথাস্থানে নিয়ে যেতে বাস ও ট্রাক ভাড়া বাবদ বহু কোটি টাকা ব্যবসায়ীসমাজ আওয়ামী লীগকে দিয়েছে। সব দেশেই ব্যবসায়ীসমাজ সরকারের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতে চায়। কিন্তু গণবিরোধী সরকারকে সমর্থন দেয়ার বেলায় তারা হুঁশিয়ার থাকে। সারা দেশের মানুষ যখন গণতন্ত্র চেয়েছেন, গণতন্ত্র না দিলে সরকারকে উৎখাত করতে চেয়েছেন, তখন ব্যবসায়ীসমাজ গণবিরোধী অবস্থান নিয়েছে, কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করে গণবিরোধী সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। ব্যবসায়ীসমাজের কান্নাকাটিতে এখন দেশের মানুষের মন গলবে কি?
সেই ব্যবসায়ীসমাজও এখন করজোড়ে সরকারের কাছে কাকুতি-মিনতি করছে, বলছে, ‘দয়া করে এবার সংলাপে বসুন, নইলে আমরা সর্বহারা হয়ে যাব।’ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে লাঠালাঠি করতে গিয়ে তৈরী পোশাকের শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা সরকার আগেই হারিয়েছে। পাঁচ লাখ বিদেশী ম্যানেজার আমদানি করে গার্মেন্ট শিল্পের বারোটা আগেই বাজিয়ে দেয়া হয়েছে। মালিকেরা বলছেন, অবরোধ আর হরতালের কারণে বিদেশী বায়াররা ৪০ শতাংশ অর্ডার ইতোমধ্যেই বাতিল করে দিয়েছেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট হোসেন খালেদ গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বলেছেন, অবরোধের প্রথম ১৬ দিনে তাদের লোকসান হয়েছে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ডিসিসিআই এখন বলছে, বিএনপি ও ২০ দলের সাথে সংলাপই সঙ্কট নিরসনের একমাত্র পন্থা। মাত্র সেদিন সুজন একই পরামর্শ দিয়েছে, সম্পাদকেরা তথ্যমন্ত্রীকেও বলেছেন একই কথা, দেশী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টসহ সব বিদেশী সাহায্যদাতা এবং ব্যবসায়িক অংশীদার সরকার ও সংস্থা বরাবরই এই একই কথা বলেছে। দেশে একজন ব্যক্তি কারো পরামর্শই শুনতে রাজি নন বলেই বাংলাদেশ অতলে তলিয়ে যেতে বসেছে।
খালেদা জিয়ার স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। খালেদার অস্তিত্ব বিলোপেরও কোনো চেষ্টার ত্রুটি রাখা হয়নি। খালেদাকে তার বাড়ি এবং চার দশকের সংসার থেকে উৎখাত করা হয়েছে, রাজনৈতিক মামলা সাজিয়ে তার ছেলেদের নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে, ইট আর বালুর ট্রাক দিয়ে তাকে ভাড়া বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি, চার সপ্তাহ ধরে নিজের কার্যালয়ে প্রায়-শরণার্থী জীবন যাপন করতে তিনি বাধ্য হচ্ছেন। একের পর এক বেশুমার মিথ্যা মামলা সাজানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে। তাকে নির্মূল করে দেয়ার নির্দেশের প্রতীক্ষা করছেন নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমান। সরকারের মন্ত্রীরা অনর্গল তাকে গ্রেফতার করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তার মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করাই যে সরকারের উদ্দেশ্য তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে তার ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা গেছেন মালয়েশিয়ায়। মায়ের সীমাহীন ভোগান্তি যে তার মৃত্যু ত্বরান্বিত করেনি কে বলবে? এই আকস্মিক বজ্রপাতে খালেদা জিয়ার মনের অবস্থা কেমন হতে পারে সরকারের মন্ত্রীরা ছাড়া অন্য সবাই তা বুঝবেন। সঙ্গত কারণেই তার চিকিৎসক সিডেটিভ ইনজেকশন দিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সে খবর প্রধানমন্ত্রীর অজানা থাকার কথা নয়। খালেদার কার্যালয়ের সব খবর বিদ্যুৎ গতিতে তার কানে পৌঁছে যায়। বেছে বেছে ওই সময়টাতেই তিনি সমবেদনা জানাতে খালেদার কার্যালয়ে গেলেন। খালেদার উপদেষ্টা-সহায়কদের কি উচিত ছিল ওই অবস্থায় তার ঘুম ভাঙিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে হাজির করা? প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীরা কোরাস জুড়ে দিলেন ঘুমন্ত খালেদা জিয়া জাগ্রত প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করেছেন। হাতে-পায়ে দড়ি বাঁধা, আর আগেই খাসি করা মিডিয়া ‘অপমান, অপমান’ বলে চিৎকার জুড়ে দিলো। হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে কি এমন একটিও দিন ছিল যে দিন তিনি খালেদাকে অপমান করার চেষ্টা করেননি?
জাতির জননী, গণতন্ত্রের জননী
পরলোকগত কোকোর দাফন নিয়েও পরস্পর বিরোধী প্রচারণার অবধি ছিল না। কেউ যেন এক মন্ত্রীর মাথায় ঢুকিয়েছিল আওয়ামী লীগ কোকোর দাফনে অংশ নিলে খালেদাকে শাস্তি দেয়া হবে। পরে সে আইডিয়া পরিত্যক্ত হলো। শহীদ জেনারেল ও রাষ্ট্রপতি জিয়ার ছেলে হিসেবে সামরিক গোরস্থানে সমাহিত হওয়ার অধিকার কোকোর ছিল। সরকার সেখান থেকেও তাকে ‘নির্বাসিত’ করেছে। লন্ডনে কোকোর গায়েবানা নামাজে জানাজায় তারেক রহমান তার অতি আদরের ভাই সম্বন্ধে কিছু বললে তা প্রকাশ না করার নির্দেশ আগে থেকেই মিডিয়া-খাসিকে দেয়া হলো। এ দিকে দেশের কোথায় গাড়ি পুড়েছে, কোথায় পুড়েছে বাস এবং সেটা যে সরকারের লোকেরাই করেনি তার নিশ্চয়তা কী। এসবের জন্য খালেদাকে ‘হুকুমের আসামি’ করা হচ্ছে। এবং মন্ত্রীরা তার গ্রেফতার নিয়ে এমন জল্পনা-কল্পনা শুরু করলেন যে কানে তালা ধরে গেল। পুলিশ, র্যাব আর বিজিবিতে ইউনিফর্ম পরা আওয়ামী লীগ ঠ্যাঙাড়েরাও যোগ দিলেন সে জল্পনায়। খালেদার মাথা খারাপ করার চেষ্টা করতে গিয়ে মন্ত্রীদেরই যেন মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা গলাকাটা মুরগির মতো অর্থহীন নাচানাচি করছেন।
আসলে এই মন্ত্রী ও ইউনিফর্মধারী আওয়ামী লীগ নেতারা আজো খালেদা জিয়ার আসল পরিচয় জানতে পারেননি। তার স্বামী বাকশালী স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়া খুন হলেন সেজন্য। স্বামীর অসমাপ্ত কাজ কাঁধে তুলে নিলেন খালেদা। দৃঢ় হাতে বিএনপির হাল চেপে ধরলেন। সামরিক স্বৈরতন্ত্র আমদানি করে বাধা সৃষ্টি করা হলো। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব স্বৈরতন্ত্রকে জিইয়ে রেখে গণতন্ত্রে উত্তরণ নয় বছর বিলম্বিত করলেন। খালেদা জিয়া হাল ছেড়ে দেননি। শত ভয়-ভীতি ও চোখ-রাঙানোকে উপেক্ষা করে তিনি স্বৈরতন্ত্রকে টেনে নামালেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনলেন। বিগত ছয় বছরের নির্যাতন-নিপীড়নের কথা তো আগেই বললাম।
এক ছেলে সাত বছর ধরে নির্বাসিত। সাত বছরেরই নির্বাসনের পর অন্য ছেলে এখন মৃত, সদ্য সমাহিত। তার নিজের বিরুদ্ধে অজস্র সাজানো মামলা। অহরহ তাকে গ্রেফতারের, হত্যার ভয় দেখানো হচ্ছে। শোকে-দুঃখে খালেদা জিয়া মৃতকল্প। এখন কী করবেন তিনি? গণতন্ত্রের আন্দোলন ছেড়ে দিয়ে তসবিহ হাতে দিন কাটাবেন? ক্ষেপেছেন? জাতি তাকে নেতৃত্ব দিয়েছে, গণতন্ত্রের জননী আখ্যা দিয়েছে। অর্ধমৃত হলেও মৃত তো তিনি নন। সুতরাং মাঝ নদীতে হাল ছেড়ে দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। খালেদা জিয়া শোক ঝেড়ে ফেলে আবার উঠে দাঁড়াবেন, স্বামীর অসমাপ্ত কাজ নতুন করে সমাপন করবেন। শত হলেও তিনি জাতির ও গণতন্ত্রের জননী।
(লন্ডন, ২৭.০১.১৫)
serajurrahman34@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশ রক্ষায় সমঝোতার বিকল্প নেই- ঐকমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুজাতা সিং বরখাস্ত নানা অঙ্ক

সুজাতা সিং বাংলাদেশেও বিপুল আলোচিত, সমালোচিত। তার ভূমিকার কারণেই প্রধান বিরোধী দলসহ অন্তত ৩০টি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম হয়েছিল। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ সফরের সময় তিনি একতরফা নির্বাচনের পক্ষে তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। এমনকি সেসময় জাতীয় পার্টিকেও নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য তিনি চাপ দেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে সুজাতা সিং তাকে বলেছিলেন, তাহলেতো জামায়াত-শিবির ক্ষমতায় আসবে। সেসময় ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য হওয়া জরুরি। এটি অবশ্যই স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। সেটি সব দলের অংশগ্রহণে হবে না অধিক সংখ্যক দলের অংশগ্রহণে হবে তা বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করবে। ভারত প্রত্যাশা করে এখানে সহিংসতামুক্ত একটি নির্বাচন হবে। যাতে অধিক সংখ্যক দল অংশ নিবে। নির্বাচনের আগে ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা ভারত সফরে যান। সেসময় তিনি সুজাতা সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সুজাতা সিং অত্যন্ত শীতল ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে মার্কিন ভূমিকাকে নিরুৎসাহিত করেন তিনি। এদিকে, সুজাতা সিংয়ের বরখাস্তের খবর বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। ভারতে পররাষ্ট্র সচিবের পদে নতুন কেউ দায়িত্ব পেলে ঢাকার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানানোর রেওয়াজ রয়েছে। গতকালের নাটকীয় এ পরিবর্তনের পর ঢাকার তরফে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোন প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো সুজাতার বরখাস্তের সংবাদ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া জানান।
সাউথ ব্লক সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মেদির সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের সম্পর্ক ভাল ছিল না। সুজাতা সিংয়ের কাজ নিয়েও অসন্তুষ্ট ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট ভবনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে সুজাতাকে কোন ভূমিকাতেই রাখা হয়নি। অথচ বিশ্বে ভারতের উপস্থিতি ও অবস্থান মজবুত করতে পররাষ্ট্র সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্ভরযোগ্য কাউকে বসাতে চাইছিলেন মোদি। চীনসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক বাড়ানোর কাজ দ্রুত গতিতে করার তাগিদেই জয়শঙ্করকে এনে সেই প্রয়োজন পূরণ করলেন তিনি। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে অন্য সব বিষয়ের সঙ্গে ওবামার ভারত সফরের প্রস্তুতি পর্বও ভালই সামলান জয়শঙ্কর। এর আগে বছর চারেক চীনেও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। জাপান, সিঙ্গাপুর, চেক প্রজাতন্ত্রসহ বহু দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিদেশি পণ্যেই বেশি ঝোঁক

মেলায় আরও যেসব দেশ অংশ নিয়েছে—চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কোরিয়া ও জার্মানি। বিদেশি স্টলগুলোতে হাঁড়ি-পাতিল, ওভেন, থালা-বাটি, সসপেন, ননস্টিকি হাঁড়ি-পাতিল, প্রেশার কুকার, হটপট, চামচসহ নানা ধরনের তৈজসপত্রই বেশি। এ ছাড়া ঘর সাজানোর শোপিস, বেডশিট, পর্দা, পাপোশ ইত্যাদিও রয়েছে। আর তরুণীদের বেশি ভিড় গয়নার দোকানে। বিদেশি তৈজসপত্রে আগ্রহী বেশি: মেলায় আসা ক্রেতাদের মধ্যে অন্য পণ্য কেনার চেয়ে বাসাবাড়িতে ব্যবহার্য বিদেশি তৈজসপত্র কেনায় বেশি আগ্রহ। এমনকি দর্শনার্থীদের ভিড়ও এসব দোকানে বেশি। মেলা ঘুরে দেখা গেছে, তৈজসপত্রগুলোর মধ্যে নতুন ও ব্যতিক্রমী পণ্যের দিকে আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের। ভারতীয় দোকানে ভেজিটেবল চপার বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, ভেজিটেবল স্লাইসার ৪০০ টাকা ও টমেটো চপার ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর সবজি কাটার পুরো একটি সেট (১০ পিস) এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো কিনতেই এ দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের স্টলেও ভিড় দেখা গেছে।
আবার ইরানি পণ্যের দোকানে কার্পেটের চাহিদা বেশি। দুই হাজার থেকে নয় হাজার টাকায় মিলছে নানা আকারের কার্পেট। এখানে হটপট বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। ইরানি এ দোকানে আরও রয়েছে মেলামিনের তৈজসপত্র, গয়না, চাদর ইত্যাদি। তুরস্কের দোকানে গিয়ে গেছে, দৃষ্টিনন্দন ঝাড়বাতি ও টেবিল ল্যাম্প রয়েছে এখানে। ইস্তাম্বুল ল্যাম্প নামের এসব বাতির দাম ৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে কাশ্মীরি, পসমিনা শালও মিলছে ভারত ও পাকিস্তানের দোকানগুলোতে। দাম পড়ছে সাড়ে চার শ থেকে চার হাজার টাকা। কয়েক দিন আগে তানভীর আহমেদ ও মোসাম্মৎ জেবুন্নেসা দম্পত্তি মেলায় এসেছিলেন। বিদেশি পণ্যের স্টল ঘুরে দেখে অভিভূত তাঁরা। তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা যাতে এসব পণ্য দেখে শেখেন। মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করেন। যদিও এই দম্পত্তি ওই দিন কোনো পণ্য কেনেননি, তবে মেলা শেষ হওয়ার দু-একদিন আগে এসে ঝাড়বাতি কিনবেন বলে জানান তানভীর।
তরুণীদের আগ্রহ গয়নায়: মেলায় আসা তরুণীদের বিদেশি গয়নার দিকেই ঝোঁক বেশি। বিশেষ করে ইরান, তুরস্ক ও ভারতীয় কসমেটিকসের দোকানে এই ভিড় একটু বেশি। তুরস্কের দোকানে নানা ধরনের গয়নার পসরা রয়েছে। এই দোকানে একটি আংটি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, গলার চেইন ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, কানের দুল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ইরান ও মালয়েশিয়ার গয়নার চাহিদাও বেশ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিব্রত শ্রুতি হাসান

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
January
(1455)
-
▼
Jan 30
(35)
- সুজাতা বরখাস্তের নেপথ্যে- আরো পরিবর্তন আসছে ভারতের...
- সমুদ্র পেরিয়ে স্বপ্নপূরণ
- ‘আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান’ -আব্বাস-সোহেলের যৌথ...
- পুরনো নীতির সঙ্গে নতুন নীতির সংঘর্ষের বলি সুজাতা
- অবরোধের পাশাপাশি রোববার থেকে ৭২ ঘণ্টার হরতাল
- পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণ, নিহত ২৫
- রাহুলকে দোষারোপ করে কংগ্রেস ছাড়লেন জয়ন্তী
- পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান- পরিস্থিতি আরো...
- রহমান শেলীর ইজ্জতের রশি
- রাজাকার by শাহাবুদ্দীন নাগরী
- দেশে দেশে বইমেলা by ইমরান মাহফুজ
- অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ পেট্রলবোমা হামলার জবাব নয়: অ্যাম...
- সৌদি বাদশাহ সালমানের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল
- মিশরে আইএসের সিরিজ হামলার দাবি: নিহত ২৭, আহত ৬৮
- ‘পরিবর্তনের সূচনা’ by মিজানুর রহমান
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজীবনের জন্য হুমকি?
- কোনোভাবেই সচল রাখা যাচ্ছে না পরিবহন সেক্টর by আবু ...
- জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি- ব্রিফিং-এ বাংলাদেশী শান্তিরক্...
- গলাকাটা মুরগির অর্থহীন নাচানাচি by সিরাজুর রহমান
- দেশ রক্ষায় সমঝোতার বিকল্প নেই- ঐকমত্যের সরকার প্রত...
- সুজাতা সিং বরখাস্ত নানা অঙ্ক
- বিদেশি পণ্যেই বেশি ঝোঁক
- বিব্রত শ্রুতি হাসান
- সিজিএ কার্যালয়ে ১১ খাতে ঘুষ লেনদেন: টিআইবি
- মার্কিন বলয়ে ঝুঁকে গেল মোদির ভারত! by মাসুম খলিলী
- রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনায় ছায়া ফেলেছে...
- গ্রিসের তরুণেরা পারে, আমরা কেন পারি না? by ফারুক ও...
- কোকোর জানাজা : আমার অনুভূতি by প্রফেসর ড. সুকোমল ব...
- নিরাপত্তাবাহিনীর মারাত্মক ঘটনায় চোখ বন্ধ রেখেছে সর...
- প্রতীকী অনশনে এরশাদ- দুই দল আগুন নেভাতে পারবে না
- সমাধান আলোচনার টেবিলে by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
- চট্টগ্রামে ১৫০০ কোটি টাকার কাজ বন্ধ, উদ্বিগ্ন ওয়াস...
- ‘নিরাপত্তা বাহিনীর আইন লঙ্ঘনের বিচার করতে ব্যর্থ ব...
- ‘সঙ্কট নিরসনে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বি...
- গণগ্রেফতার অব্যাহত- অবরোধের ২৪ দিন : লালমনিরহাটে আ...
-
▼
Jan 30
(35)
-
▼
January
(1455)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

