Friday, November 14, 2025
ভারতীয় পুঁজি যেভাবে ইসরায়েলি দখলদারি ও গণহত্যাকে মদদ দিচ্ছে by রঞ্জন সলোমন
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টাটা গ্রুপকে ভারতীয় পুঁজিবাদের বিবেক হিসেবে উদ্যাপন করা হয়েছে—একটি করপোরেট পরিবার, যারা মুনাফার সঙ্গে দাতব্য কাজকে, উন্নয়নের সঙ্গে নৈতিকতাকে যুক্ত করেছে। কোটি কোটি ভারতীয়ের কাছে ‘টাটা’ মানে বিশ্বাস—একটি ব্র্যান্ড, যা আধুনিক ভারতের গল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। কিন্তু এই সুপরিকল্পিত সুনামের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার বাস্তবতা—যা এখন টাটাকে সরাসরি যুক্ত করছে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ইসরায়েলের যুদ্ধযন্ত্রের সঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় সংগঠন সালামের প্রকাশিত নতুন রিপোর্ট আর্কিটেক্টস অব অকুপেশন: দ্য টাটা গ্রুপ, ইন্ডিয়ান ক্যাপিটাল অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়া–ইসরায়েল অ্যালায়েন্স–এ বলা হয়েছে, টাটা ভারত–ইসরায়েল সামরিক অংশীদারত্বের ‘কেন্দ্রবিন্দুতে’ রয়েছে এবং ‘দখল, নজরদারি ও উচ্ছেদের স্থাপত্যে মৌলিকভাবে জড়িত।’
টিআরটি ওয়ার্ল্ড–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাটার বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান সরাসরি ইসরায়েলের সামরিক–শিল্পকাঠামোকে শক্তিশালী করছে।
আবিষ্কৃত তথ্য: জটিল যোগসাজশের জাল
রিপোর্টে টাটা গ্রুপের কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (টিএএসএল)—ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, বহুদিন ধরে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। তারা একসঙ্গে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য বারাক–৮ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ তৈরি করে, যা ইসরায়েলের নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মূল অস্ত্র এবং গাজায় হামলায় ব্যবহৃত হয়। টিএএসএল এফ–১৬ যুদ্ধবিমান ও অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টারের অংশও উৎপাদন করে, যা ইসরায়েল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।
জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (জেএলআর)—টাটার আরেক সহযোগী প্রতিষ্ঠান—অভিযোগ রয়েছে যে তারা এমডিটি ডেভিড নামে হালকা সাঁজোয়া যান তৈরিতে চেসিস সরবরাহ করে, যা ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরে টহল ও জনতাকে দমন করার অভিযানে ব্যবহার করে।
টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিস (টিসিএস) একটি আইটি জায়ান্ট, যা ইসরায়েলের সরকারি ও আর্থিক খাতের ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরিতে যুক্ত, বিশেষ করে প্রজেক্ট নিমবাসে—যা গুগল ও অ্যামাজন পরিচালিত একটি বিতর্কিত ক্লাউড কম্পিউটিং প্রকল্প এবং ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় নজরদারি কাঠামোকে শক্তিশালী করে।
রিপোর্ট বলছে, এগুলো বিচ্ছিন্ন ব্যবসায়িক সম্পর্ক নয়; বরং ভারতের পুঁজি ইসরায়েলের ‘দখলদারি অর্থনীতির’ অভ্যন্তরে গভীরভাবে যুক্ত। টাটার আন্তর্জাতিক ইভেন্ট স্পনসরশিপ—যেমন নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথনকে রিপোর্টে বলা হয়েছে ‘স্পোর্টস–ওয়াশিং’, অর্থাৎ যুদ্ধে মুনাফা অর্জনের নৈতিক প্রশ্ন আড়াল করার প্রচেষ্টা। বারবার অনুসন্ধান পাঠানো হলেও টাটা গ্রুপ অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
রাষ্ট্র থেকে করপোরেশন: ভারত–ইসরায়েল অক্ষ
ইসরায়েলের সঙ্গে টাটার সম্পর্ক শূন্য থেকে হয়নি। এটি ভারতের পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা নীতির করপোরেট রূপান্তরের প্রতিফলন। ১৯৯০-এর দশক থেকে, বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির আমলে, ভারত নীরব কূটনীতি থেকে বের হয়ে এসে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত জোট গড়ে তুলেছে। আজ ভারত ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা—ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ৪০–৪৫ শতাংশ ভারতের কাছে যায়।
ভারত–ইসরায়েলের যৌথ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বারাক-৮ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প, যা আংশিকভাবে টাটার কারখানায় সংযোজিত; ভারত ইসরায়েল থেকে ড্রোন ও অ্যান্টি ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র, যেসব অস্ত্র কেনে যা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। ভারতের কাশ্মীরে ব্যবহৃত অনেক নজরদারি ব্যবস্থাও এই সামরিক নেটওয়ার্কের অংশ। এভাবে একটি দখলদার শক্তি অপর দখলদার শক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়। এ প্রক্রিয়ায় হিন্দুত্ব ও জায়নিজম মতাদর্শগতভাবে মিলে যায়।
উভয়ই ‘নিরাপত্তা’ ও ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ বক্তব্যকে আগ্রাসন ও দখলদারির যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। উভয়েই নজরদারি ও জাতিগত নিয়ন্ত্রণকে স্বাভাবিকীকরণ করে। সুতরাং টাটার এই সম্পর্ক শুধু বাণিজ্য নয়—এটি করপোরেট পুঁজি, রাষ্ট্রীয় শক্তি ও মতাদর্শের সম্মিলিত প্রকল্প।
করপোরেট যোগসাজশ ও নৈতিকতা এড়িয়ে চলা
টাটা একা নয়। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বহুদিন ধরেই ইসরায়েলি রাষ্ট্রের দমননীতিকে সমর্থন করে আসছে—এইচপি, ক্যাটারপিলার, গুগল, অ্যামাজন—অনেক নামই এই তালিকায়। কিন্তু টাটার অবস্থান বিশেষ কারণ—তারা নৈতিকতার দাবিদার। গান্ধীর নাম ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দেওয়া কোম্পানি এখন মৃত্যু–অর্থনীতিতে মুনাফা করছে। তাদের নিজস্ব আচরণবিধিতেও বলা আছে—মানবাধিকার লঙ্ঘনে অংশ না নেওয়ার অঙ্গীকার। কিন্তু বাস্তবে নেই—প্রতিরক্ষা খাতে তাদের আয়ের কোনো স্বচ্ছতা, মানবাধিকারের প্রভাব মূল্যায়ন কিংবা কোনো অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি।
রিপোর্টে এই আচরণকে বলা হয়েছে—‘জাতীয়তাবাদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া’ অর্থাৎ দেশপ্রেম ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’–এর নামে নৈতিক জবাবদিহি থেকে পালানো।
ভারতে নীরবতা ও সহযোগিতা
মূলধারার ভারতীয় গণমাধ্যম টাটা-সম্পর্কিত তথ্য প্রায় প্রকাশই করেনি। সরকারও কোনো তদন্তে আগ্রহ দেখায়নি। বরং ভারত–ইসরায়েল অংশীদারত্বকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মডেল হিসেবে প্রচার করছে। একসময় ফিলিস্তিনের দৃঢ় সমর্থক ভারত, এখন নীরব। বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা বন্ধ হচ্ছে, প্রতিবাদ করলে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি। এটি শুধু করপোরেট নীরবতা নয়; এটি সমষ্টিগত নৈতিক পতনের প্রতিচ্ছবি।
জবাবদিহির ধারণা
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী—যেকোনো কোম্পানি যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সরবরাহ করলে তারা অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
টাটার অস্ত্র বা উপকরণ গাজায় ব্যবহৃত হয়ে থাকলে স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত। ১৯৮০-এর দশকে যেমন বৈশ্বিক আন্দোলন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারে বাধ্য করেছিল, তেমনি এখন ইসরায়েলি বর্ণবাদ থেকে লাভবানদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন দরকার। বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট, স্যাংশনস (বিডিএস) আন্দোলন এমনই একটি পথ।
যখন বিবেককে আউটসোর্স করা হয়
গণহত্যার মুখে টাটার নীরবতা শুধু করপোরেট ব্যর্থতা নয়; এটি ভারতের নৈতিক আত্মপরিচয়ের দেউলিয়া হওয়ার প্রমাণ। গাজায় শিশুরা অনাহারে, পরিবারগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আর টাটা তাদের হত্যার যন্ত্রকে প্রযুক্তি সরবরাহ করে; একই সময়ে বিজ্ঞাপনে দেখায় ‘মানবতা’ ও ‘উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার’ প্রতিশ্রুতি। কোনো দেশ নৈতিক নেতৃত্ব দাবি করতে পারে না, যখন তার করপোরেশনগুলো নিপীড়িতদের রক্ত থেকে মুনাফা করে। ভদ্র নীরবতার সময় শেষ। ভারতকে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে হবে এবং যে মানবিকতা সে একসময় বিশ্বের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা ফিরে পেতে হবে।
* রঞ্জন সলোমন, ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মী
- মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া
- অনুবাদ ও সংক্ষিপ্তকরণ: মনজুরুল ইসলাম
![]() |
| ভারত-ইসরায়েল বন্ধুত্বের প্রতীকী ছবিও বলা যায় একে। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নয়াদিল্লি। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৃটিশ লেবার পার্টিতে ভয়াবহ অস্থিরতা, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ
সূত্রটি আরও বলেছেন, আমরা কনজারভেটিভদের সময়েও দেখেছি, এমনকি গর্ডন ব্রাউনের ক্ষেত্রেও- জনগণ ঘৃণা করে যখন দলগুলো নিজেদের ভেতরে বসে নতুন প্রধানমন্ত্রী ঠিক করে ফেলে। যারা কিয়েরের বিরুদ্ধে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তারা ভালোভাবে ভেবে নিন।
মঙ্গলবার দিনভর বিশৃঙ্খল অবস্থার পর লেবারের ভেতরে ‘গৃহযুদ্ধ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকে দুর্বল করার চেষ্টা সম্পূর্ণ উল্টো ফল দিয়েছে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাডেনক বলেন, ‘সরকার সম্পূর্ণ গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত।’ রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ মন্তব্য করেছেন, ‘এটি দিকহীন, রাডারহীন এক সরকার। যত দ্রুত নির্বাচন হয়, দেশের জন্য তত ভালো।’
লেবার প্রধানের চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনিকে অনেকেই দায়ী করেছেন গোপন ব্রিফিংয়ের জন্য, যেখানে স্ট্রিটিংকে অভ্যুত্থান পরিকল্পনায় অভিযুক্ত করা হয় এবং লেবার এমপিদের ‘পশুর মতো’ আখ্যা দেয়া হয়। এক সহযোগী বলেছেন, ‘হ্যাঁ, তিনি ১০০ শতাংশ এর পেছনে ছিলেন। এখন তিনি শেষ।’ ওয়েস স্ট্রিটিং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘যারা ব্রিফিং করছে, তাদের অপসারণ করা উচিত। ডাউনিং স্ট্রিটের এই বিষাক্ত সংস্কৃতি বদলাতে হবে।’
লেবার চেয়ারম্যান আনা টারলি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে। কমন্সে বক্তব্যে স্টারমার বলেন, স্ট্রিটিংয়ের বিরুদ্ধে অননুমোদিত ব্রিফিং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আমি কখনও মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণ অনুমোদন দিইনি। পরে তিনি স্ট্রিটিংকে ফোনে সমর্থন জানান ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তদন্তে জানা গেছে, এই ব্রিফিং ছিল একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছিল ২৬ নভেম্বর বাজেটের পর কিয়ের স্টারমারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হতে পারে, যখন অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস আয়কর বৃদ্ধি করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে পারেন।
লেবারের জনপ্রিয়তা এখন ২০ শতাংশের নিচে, যা শত শত এমপির আসন হারানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের এক সূত্র বলেছেন, কিয়ের জানেন, তিনি আসলে নেতৃত্বের যুদ্ধেই রয়েছেন। তবে তিনি পদত্যাগ করবেন না- তিনি লড়বেন। ওদিকে স্ট্রিটিং সাংবাদিকদের বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও আত্মঘাতী প্রচারণা। আমি কোনও নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করছি না। স্কাই নিউজকে তিনি কৌতুক করে বলেন, ‘না, আমি কিয়েরকে সরাতে যাচ্ছি না- লর্ড লুকান কোথায় জানি না, শেরগার হারানোর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই, আর চাঁদে অবতরণ মিথ্যা বলেও বিশ্বাস করি না!’ তিনি আরও যোগ করেন, নিজ দলের এমপিদের ‘পশু’ বলা, কিংবা যারা সরকারের হয়ে কাজ করছে তাদের ‘হাঁটু ভেঙে দেয়া’- এসব আত্মবিনাশী আচরণ।
নাইজেল ফারাজ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে কিয়ের স্টারমার পদে থাকবেন না। তিনি মনে করছেন, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার ও টোরি উভয়েই ভয়ানক ক্ষতির মুখে পড়বে। একাধিক লেবার এমপি ক্ষোভে বলেন, ‘১০ নম্বর সম্পূর্ণ দিশেহারা। নিজেরাই সংকট তৈরি করছে।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে ইসরাইলের পরিকল্পনা জানত যুক্তরাষ্ট্র
এতে বলা হয়, দুই সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের শেষ দিকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের শেষ সপ্তাহগুলোতে এই তথ্য হোয়াইট হাউসে শেয়ার করা হয় এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তা বিশ্লেষণ করে।
আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধক্ষেত্রে নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে এ ধরনের অভিযোগ আগেও একাধিকবার উঠেছে। এবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যেই এমন প্রমাণের ইঙ্গিত মিলেছে।
ওই ঘটনায় যেসব ফিলিস্তিনির কথা গোয়েন্দা তথ্যে এসেছে তারা বন্দি ছিলেন নাকি সাধারণ বেসামরিক মানুষ তা নিশ্চিত করেনি হোয়াইট হাউস। রয়টার্সও নিশ্চিত হতে পারেনি, বাইডেন প্রশাসন এই তথ্য নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেছিল কি না।
রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, আমাদের বাহিনীতে নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার বা তাদের কোনো সামরিক অভিযানে জোর করে অংশ নিতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশ ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন ফিলিস্তিনিদের সামরিক মিশনে জড়িত থাকার সন্দেহজনক ঘটনাগুলো তদন্ত করছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলের গোপন কারাগার ‘রাকেফেত’, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না কখনো
ওই কারাগারে বন্দীদের মধ্যে অন্তত দুজন সাধারণ নাগরিক। তাঁদের মাসের পর মাস কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে। ওই দুই বন্দীর একজন পুরুষ নার্স। তাঁকে হাসপাতালের পোশাক পরা অবস্থায় আটক করা হয়। অন্যজন তরুণ খাবার বিক্রেতা। আইনি সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠান পাবলিক কমিটি এগেইনস্ট টর্চার ইন ইসরায়েলের (পিসিএটিআই) আইনজীবীরা তাঁদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আটক ওই দুই ব্যক্তিকে গত জানুয়ারিতে ভূগর্ভস্থ রাকেফেত কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তাঁরা সেখানে তাঁদের সঙ্গে সহিংস আচরণের এবং নিয়মিত মারধরের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন।
ইসরায়েলের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ অপরাধীদের আটক রাখার জন্য ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে রাকেফেত কারাগার চালু করা হয়। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই অমানবিক আখ্যা দিয়ে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের উগ্রপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কারাগারটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন।
কারাকক্ষ, ব্যায়ামের মাঠ কিংবা আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কক্ষ—সবই মাটির নিচে। ফলে প্রকৃতির আলো ছাড়াই এখানকার বন্দীদের বেঁচে থাকতে হয়।
পিসিএটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কড়া নিরাপত্তাবলয়ে রাখতে হয়, এমন অল্প কিছু বন্দীর জন্য প্রাথমিকভাবে রাকেফেত কারাগার তৈরি করা হয়েছিল। প্রত্যেক বন্দীর জন্য বানানো হয় পৃথক কক্ষ। ১৯৮৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় সেখানে ১৫ জন বন্দী ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে আনুমানিক ১০০ বন্দীকে রাখা হয়েছে।
গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল তাদের আদালতে দোষী সাব্যস্ত ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেয়। এ ছাড়া গাজা থেকে আটক ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই তাঁদের মাসের পর মাস আটক রাখা হয়েছিল। তাঁদের সঙ্গে মুক্তি পেয়েছেন রাকেফেত কারাগারে বন্দী থাকা খাবার বিক্রেতা ওই তরুণও।
তবে এখনো ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত এক হাজার ফিলিস্তিনি আটক আছেন। রাকেফেত কারাগারে বন্দী ওই নার্স তাঁদেরই একজন।
পিসিএটিআই বলেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ হলেও গাজার ফিলিস্তিনিদের এখনো ইসরায়েলি কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন ও নির্যাতনের সমতুল্য।
রাকেফেত কারাগারে বন্দী থাকা ওই নার্স ও তরুণ খাবার বিক্রেতা গত সেপ্টেম্বরে পিসিএটিআইয়ের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
৩৪ বছর বয়সী ওই নার্সকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হাসপাতালে কাজ করার সময় আটক করা হয়। আর ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি একটি তল্লাশিচৌকি থেকে আটক করা হয় তরুণ খাবার বিক্রেতাকে।
পিসিএটিআইয়ের আইনজীবী জেনান আবদু বলেন, ‘আমরা যে মক্কেলদের সঙ্গে দেখা করেছিলাম, তাঁরা ছিলেন সাধারণ নাগরিক। আমি যার সঙ্গে কথা বলেছি, সে ছিল ১৮ বছর বয়সী খাবার বিক্রেতা। তাকে রাস্তায় একটি তল্লাশিচৌকি থেকে তুলে আনা হয়েছিল।’
ইসরায়েলি নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী বেন-গভির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং পার্লামেন্টের এক সদস্যকে বলেন, হামাসের বিশেষ বাহিনী নুখবার সদস্য এবং হিজবুল্লাহর বিশেষ যোদ্ধাদের বন্দী রাখার জন্য রাকেফেত কারাগার আবার চালু করা হয়েছে। নুখবার সদস্যরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সঙ্গে জড়িত কোনো ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। আর খাবার বিক্রেতা ওই তরুণ হামলায় জড়িত না থাকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি কারাগার পরিষেবা (আইপিএস) রাকেফেতের অন্যান্য বন্দীর পরিচয় ও অবস্থা সম্পর্কে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
ইসরায়েলি গোপন নথি অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে যেসব ফিলিস্তিনিকে গাজা থেকে আটক করা হয়েছিল, তাঁদের বেশির ভাগই সাধারণ নাগরিক। ২০১৯ সালে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য ফিলিস্তিনিদের মরদেহ রেখে দেওয়া আইনসম্মত। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, একইভাবে ইসরায়েল জীবিত বন্দীদেরও ‘বিনিময়ের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
পিসিএটিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক তাল স্টেইনার বলেন, ইসরায়েলের সব কারাগারেই ফিলিস্তিনি বন্দীদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক বন্দী এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে তথ্য ফাঁস করে দেওয়া সদস্যরা—সবাই এসব কারাগারে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন।
তবে রাকেফেত কারাগারে নির্যাতনের ধরন আলাদা। স্টেইনার বলেন, মাটির নিচে মাসের পর মাস বন্দী থাকা মানুষগুলো সূর্যের আলোর দেখা পান না। এতে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ে। এমন শোষণমূলক ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকা কঠিন। এটি শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।
মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে ইসরায়েলের তেল আবিবের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত রামলার বিভিন্ন কারাগারে গেলেও সেখানে রাকেফেত কারাগার সম্পর্কে কিছুই জানতেন না স্টেইনার। বেন-গভির এটি আবার চালু করার আদেশ দেওয়ার পর তিনি প্রথম কারাগারটির কথা শোনেন।
পিসিএটিআই প্রতিষ্ঠার আগেই রাকেফেত কারাগার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আশির দশকের মাঝামাঝি ইসরায়েলি কারাগার পরিষেবার প্রধান রাফায়েল সুইসার আত্মজীবনী এবং বিভিন্ন সংগ্রহশালা ঘেঁটে এটি সম্পর্কে জানতে পারেন পিসিএটিআইয়ের আইনজীবীরা।
সুইসা তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ২৪ ঘণ্টা মাটির নিচে কাউকে বন্দী করে রাখা অত্যন্ত নিষ্ঠুর কাজ। যেকোনো মানুষের জন্য এটি অমানবিক, তিনি যত বড় অপরাধীই হোন না কেন।
চলতি গ্রীষ্মে পিসিএটিআইয়ের আইনজীবীদের রাকেফেত কারাগারে বন্দী দুই ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করতে বলা হয়। এরপরই প্রথম সেখানে যান আইনজীবী জেনান আবদু ও তাঁর এক সহকর্মী।
ভারী অস্ত্রে সজ্জিত মুখোশ পরা নিরাপত্তারক্ষীরা ওই দুই আইনজীবীকে মাটির নিচের ওই কারাগারে নিয়ে যান। তাঁরা ময়লা সিঁড়ি বেয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। কক্ষটি ছিল মরা-পচা পোকামাকড়ে ভরা। সেখানকার শৌচাগার এত নোংরা ছিল যে তা ব্যবহারের উপযুক্ত নয়।
কারাগারের দেয়ালগুলোতে নজরদারি ক্যামেরা লাগানো ছিল, যা আইনত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। প্রহরীরা আইনজীবীদের সতর্ক করে বলেন, বন্দীদের সঙ্গে তাঁদের পরিবার কিংবা গাজা যুদ্ধের বিষয়ে কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে এ সাক্ষাৎ বাতিল করা হবে।
আবদু বলেন, ‘আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, যদি আইনজীবী হিসেবে আমাদের অবস্থাই এমন অপমানজনক হয়, তাহলে এখানকার বন্দীদের অবস্থা কেমন হতে পারে? এর উত্তর বন্দীদের দেখামাত্র পেয়ে গিয়েছিলাম।’ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বন্দীদের মাথা নিচু করে আনা হয়। প্রহরীরা জোর করে তাঁদের হেঁট করে রেখেছিলেন।
জেনান আবদুর সহকর্মী আইনজীবী সাজা মিশেরকি বারানসি বলেন, ‘ওই দুজন ৯ মাস ধরে রাকেফেত কারাগারে বন্দী। নার্সের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করেন, “আমি কোথায়, আমাকে কেন এখানে আনা হয়েছে।” প্রহরীরা তাঁকে ওই কারাগারের নাম পর্যন্ত জানাননি।’
বারানসি বলেন, ইসরায়েলি বিচারকেরা ভিডিও শুনানিতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ওই দুজনের আটকাদেশ অনুমোদন করেন। তাঁদের কোনো আইনজীবী দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের তথ্যপ্রমাণও দেওয়া হয়নি। শুধু বলা হয়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত তাঁরা কারাগারে থাকবেন।
ওই দুই বন্দী জানান, কারাগারটির কক্ষগুলোতে কোনো জানালা নেই। এমনকি বাতাস চলাচলেরও কোনো জায়গা নেই। একেকটি কক্ষে একসঙ্গে তিন-চারজনকে রাখা হয়। নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, মুখোশ পরা কুকুর দিয়ে হামলা, প্রহরীদের দিয়ে পায়ের নিচে পিষ্ট করা, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা ও প্রায়ই না খাইয়ে রাখার মতো নির্যাতনের শিকার হন বন্দীরা।
দিনের বেলা বন্দীদের কক্ষের বাইরে বের হওয়ার জন্য দেওয়া হয় নামমাত্র সময়। তা-ও মাটির নিচেই একটি ছোট জায়গায়। প্রায় দুই দিন পরপর মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য তাঁরা বের হতে পারতেন। প্রতিদিন ভোর চারটার দিকে বিছানা সরিয়ে নেন প্রহরীরা। তা ফেরত দেওয়া হয় গভীর রাতে। এ সময়ে বন্দীদের ঘুমাতে হয় শুধুই লোহার খাটে।
বন্দীদের বর্ণনা টেলিভিশনে প্রচারিত বেন-গভিরের রাকেফেত–সম্পর্কিত বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়। রাকেফেত নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘সন্ত্রাসীদের জায়গা মাটির নিচে।’
আইনজীবী বারানসি বলেন, আটক ওই নার্স ২১ জানুয়ারি রাকেফেত কারাগারে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় সর্বশেষ সূর্যের আলো দেখেছিলেন। এর আগে তিনি এক বছর ধরে অন্যান্য কারাগারে ছিলেন। তিন সন্তানের বাবা এই নার্স আটক হওয়ার পর থেকে পরিবারের কোনো খবর পাননি।
বারানসি আরও বলেন, ‘আমি যখন ওই নার্সের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তখন শুধু তাঁর পরিবার সম্পর্কে এতটুকুই বলতে পেরেছিলাম যে আপনার মা এখনো বেঁচে আছেন। তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে আপনার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিয়েছেন।’
অন্যদিকে খাবার বিক্রেতা তরুণের সঙ্গে কথা বলেন জেনান আবদু। তরুণটি জানতে চান, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নিরাপদে সন্তান প্রসব করতে পেরেছেন কি না। এ প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে প্রহরী তাঁদের কথোপকথন বন্ধ করে দেন এবং বন্দীদের নিয়ে যান। আবদু লিফটের শব্দ শুনে বুঝতে পারেন যে মাটির আরও গভীরেও কারাকক্ষ আছে।
ওই তরুণ আবদুকে বলেন, ‘আটক হওয়া পর প্রথম কোনো মানুষ হিসেবে আপনার সঙ্গে দেখা হলো। দয়া করে আবার আসবেন।’ পরে আবদু জানতে পেরেছিলেন যে ওই তরুণ ১৩ অক্টোবর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
![]() |
| গাজা যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ওফের কারাগার, ইসরায়েল। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরায়েলি সেটলাররা
আজ বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল সালফিত শহরের কাছে একটি মসজিদে প্রবেশ করে। স্থানীয় এক অধিকারকর্মীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদটির প্রবেশদ্বারে দাহ্য পদার্থ ঢেলে দেয় এবং দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে যায়।
তবে আগুন মসজিদের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই স্থানীয় বাসিন্দাদের চেষ্টায় দ্রুত তা নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। ফিলিস্তিনের পবিত্র স্থানগুলোয় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এ ধরনের হামলা সম্প্রতি বেড়েছে।
পৃথক এক ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেমের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আল-কুবেইবা শহরে অভিযান চালায়। সেখানে তারা বুলডোজার দিয়ে একটি পার্ক ও খেলার মাঠ গুঁড়িয়ে দেয়। ওয়াফার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, খেলার মাঠের সরঞ্জামসহ পার্কটিকে ধ্বংস করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি প্রিজনারস সোসাইটি (পিপিএস) জানিয়েছে, গতকাল বুধবার রাত থেকে দখল করা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মুক্তি পাওয়া কয়েকজন কারাবন্দীও রয়েছেন।
সংগঠনটি জানায়, হেবরন, নাবলুস, তুলকারেম ও রামাল্লা এলাকায় এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। পিপিএস অভিযোগ করেছে, অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের ওপর হামলা চালায় এবং তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে জিনিসপত্রের ক্ষতি করে।
পিপিএসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে দখল করা পশ্চিম তীরে প্রায় ২০ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে নিয়মিত এ ধরনের গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে।
| মসজিদের পুড়িয়ে দেওয়া অংশ দেখছেন এক ফিলিস্তিনি। দেইর ইস্তিয়া, সালফিত, পশ্চিম তীর; ১৩ নভেম্বর ২০২৫। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

