Monday, May 30, 2016

ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

নিত্যপণ্যের উল্লম্ফন টেনে ধরতে খোলা বাজারে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করল সরকার। রোববার থেকে সারা দেশে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এ কার্যক্রমের আওতায় ১৭৪ স্থানে খোলা ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবি পণ্য বিক্রয় করছে। রমজানকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রচলিত দামের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, সয়াবিন তেল ও খেঁজুর। খোলাবাজারে এসব পণ্য প্রতি লিটার সয়াবিন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল ৯০, ছোলা ৭০, চিনি ৪৮ (দেশি) ও খেজুর প্রতি কেজি ৯০ টাকায় ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া বিক্রি কার্যক্রমের আওতায় একজন ভোক্তা টিসিবি পণ্য সয়াবিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার, মসুর ডাল ২ কেজি, চিনি ৪ কেজি, ছোলা ৫ কেজি ও খেজুর ১ কেজি হারে কিনতে পারবেন। টিসিবির এই পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি ট্রাকে দৈনিক ৩০০-৪০০ কেজি চিনি, ১৫০-২০০ কেজি মসুর ডাল, ৩০০-৪০০ কেজি সয়াবিন, ৪০০-৮০০ কেজি ছোলা ও ৫০ কেজি হারে খেজুর সরবরাহ করা হচ্ছে। টিসিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ঢাকায় ৩২ স্থানে চট্টগ্রামে ১০ ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি করে এবং বাকি জেলা সদরে দুটি করে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে দেশজুড়ে হৈচৈ শুরু হয়। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। মধ্যবিত্তরাও এর ধকল সইতে হিমশিম খাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে পুনরায় টিসিবি পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু কিছুটা হলেও জনমনে স্বস্তি এনে দিতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা শহরে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রয়ের স্থান : প্রেস ক্লাব, সচিবালয় গেট, কাপ্তান বাজার, মতিঝিল শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, শান্তিনগর বাজার, শাহজাহানপুর বাজার, বাসাবো বাজার, ছাপড়া মসজিদ ও পলাশী বাজার, রামপুরা বাজারে টিসিবির পণ্য পাওয়া যাবে। আগারগাঁও শেওড়াপাড়া বাজার, মিরপুর-১ এর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল ও জিগাতলা কাঁচাবাজার, মিরপুর গোলচত্বর, খামারবাড়ি, কচুক্ষেত বাজারেও পণ্য কেনা যাবে। এছাড়াও ইত্তেফাক মোড়, মতিঝিল বিমান অফিস, দিলকুশা, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাব ও কলাবাগান, জুরাইন ও শনির আঁখড়া, কলমিলতা বাজার, মালিবাগ বাজার,
মহাখালী কাঁচাবাজার ও খিলগাঁও তালতলা কাঁচাবাজারে টিসিবির পণ্য পাওয়া যাবে। এ সংক্রান্ত তথ্য ৮৮৯১৬৪৮ নম্বরে পাওয়া যাবে। চট্টগ্রামে ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া : পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১০ জন ডিলারের মাধ্যমে ১০টি ট্রাক নগরীর ১০টি পয়েন্টে পণ্য বিক্রি করছে। খোলা বাজারে যেসব স্থানে ভোগ্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে সেগুলো হল- জামালখানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, কাস্টম মোড়, টাইগারপাস মোড়, আগ্রাবাদ জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর, সিজিও বিল্ডিং গেট, অলংকার মোড়, নাসিরাবাদ, ষোলশহর দুই নম্বও গেট এবং ইপিজেড মোড়। রংপুর : নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৫টি স্থানে ট্রাকে করে এসব পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। স্থানগুলো হল- ডিসির মোড়, প্রেস ক্লাব চত্বর, সিটি কাঁচাবাজার চত্বর, সাতমাথা মাহীগঞ্জ মোড়। তবে নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে সিটি কাঁচাবাজার চত্বর ও ডিসির মোড়কে রাখা হলেও বাকি ৩টি স্থান পর্যায়ক্রমে রদবদল হবে। এসব স্থান হল- শাপলা চত্বর, লালবাগ বাজার মোড় ও রেলওয়ে স্টেশন চত্বর। প্রতিদিন টিসিবির পণ্য বিক্রি হবে।

মামুনুলদের তাজিকিস্তান-যাত্রা

ফিরে এসেছেন ডাচ কোচ ডি ক্রুইফ। ফের দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেই নেতৃত্ব ফিরে পেলেন মামুনুল ইসলাম। গুরু-শিষ্য ফিরে আসার পর আবারও তাজিকিস্তান যাত্রা। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফের অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে রোববার দুশানবের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ল জাতীয় ফুটবল দল। ডি ক্রুইফের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মামুনুলেরও। তার কথায়, ‘ঢাকায় আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রত্যেকটিই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রতিনিয়তই আমাদের নতুন করে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামতে হয়। তাজিকিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচটিও খুবই চ্যালেঞ্জিং। কারণ আমরা যারা নিষেধাজ্ঞা থেকে দলে ফিরে এসেছি, এই ম্যাচে তাদের ভালো পারফর্ম করা খুবই জরুরি।’ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মিশন শেষে এবার এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ। এবার তাজিকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ। প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গেলেন মামুনুলরা। ২ জুন দুশানবেতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
গেল দু’সপ্তাহ প্রধান কোচ ডি ক্রুইফের অধীনে অনুশীলনে ঘামও ঝরিয়েছেন ফুটবলাররা। তাজিকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড ভালো নয়। সাম্প্রতিক ফলও অনুল্লেখ্য। গেল বছরের ১২ নভেম্বর বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে তাজিকদের কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় জাতীয় দল। তার আগে গেল বছর ১৫ জুন ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হোম ম্যাচে তাজিকদের ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল স্বাগতিকরা। মামুনুলের কথায়, ‘তাজিকিস্তানের বিপক্ষে আমরা এখনও ভালো কিছুই করতে পারিনি। শেষ ম্যাচ আমরা ৫-০তে হেরেছিলাম। একটি ম্যাচে ড্র করেছি। এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে আমরা একটি দল হিসেবে ভালো কিছু করার জন্য যাচ্ছি। ভালো পারফর্ম করতে চাই। এ ম্যাচে আমরা হারব কী জিতব সেটা এখনই বলতে পারছি না। তবে কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী খেললে আশা করি ভালো ফল হবে।’ অন্যদিকে সাফ জানিয়ে দিলেন ডি ক্রুইফ, ‘তাজিকিস্তানে আমরা বেড়াতে যাচ্ছি না। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছি।’ তিনি যোগ করেন, ‘ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে। আশা করি, তারা ভালো করবে। তারা উজ্জীবিতও। এরপর আমাদের হোম ম্যাচ। সেখানে ইতিবাচক কিছু করতে হলে তাজিকিস্তানে ভালো ফল আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
৭ জুন হোম ম্যাচে ঢাকায় তাজিকদের বিরুদ্ধে খেলবে বাংলাদেশ। এদিকে সরকারি অনুমতি (জিও) না নিয়েই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলকে তাজিকিস্তানে পাঠাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বিদেশে বাংলাদেশ ক্রীড়া দল পাঠাতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু বাফুফে জিও নেয়নি। যদিও ২৫ মে জিও চেয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাফুফে। সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৩৩ জনের জন্য জিও চাওয়া হয়। ২৭ ও ২৮ মে সরকারি ছুটি ছিল। রোববার সকালে দল তাজিকিস্তান যায়। সাধারণত জিও’র জন্য ৭ থেকে ১৫ দিন আগে চিঠি দেয়ার নিয়ম রয়েছে। বাফুফে অন্যান্য সফরের সময় এ নিয়ম মানলেও এবার নিয়মের তোয়াক্কা করেনি। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রতিনিধি দল দেশের বাইরে গেলে সেই দলের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। জিও দেয়া হয় যাতে প্রতিনিধি দলের যাবতীয় তথ্যাদি মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত থাকে। এ ব্যাপারে বাফুফের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে বলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সাত বছর পর ফের এক্স ফ্যাক্টর

সাত বছর পর আবারও এক্স ফ্যাক্টর নির্মাণ করছেন শিহাব শাহীন। ২৫ মে থেকে তিনি টেলিফিল্মটির শুটিং শুরু করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি প্রথম তৈরি করেছিলেন ‘এক্স ফ্যাক্টর’। পরের বছর এ টেলিফিল্মের দ্বিতীয় পর্ব নির্মাণ করেন। এরপর সাত বছর বিরতি। এবার টেলিফিল্মটির তৃতীয় পর্ব নির্মাণ করছেন। এবারের পর্বের নাম ‘এক্স ফ্যাক্টর-গেইম ওভার’। এতে জিসা চরিত্রে অভিনয় করছেন জাকিয়া বারী মম। যথারীতি মঈন চরিত্রে অপূর্ব ও টুপুর চরিত্রে অভিনয় করছেন মিথিলা। সঙ্গে রয়েছেন ইরেশ যাকের ও ফারহানা মিলি।
এ প্রসঙ্গে মম বলেন, ‘এক্স ফ্যাক্টরের প্রতিটি চরিত্রই নির্মাতা এমনভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, আমার কাছে মনে হয়েছে এক্স ফ্যাক্টর তিনি নিজেই।’ অপূর্ব বলেন, ‘দীর্ঘ অভিনয় জীবনে আমি অনেক ভালো ভালো কাজ করেছি। এক্স ফ্যাক্টর তাদের মধ্যে অন্যতম। অনেক ভালোলাগা এবং আন্তরিকতা নিয়ে কাজটি করছি। আশা করি দর্শক আবারও এক্স ফ্যাক্টরে মগ্ন হবেন এবারের ঈদে।’ তৃতীয়বারের মতো কাজ করা প্রসঙ্গে মিথিলা বলেন, ‘আমি এতে অতিথি একটি চরিত্রে অভিনয় করছি। পুরনো দিনের অনেক কথাই কাজ করতে এসে মনে পড়েছে। আশা করি আবারও এক্স ফ্যাক্টর দর্শকের মনে অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি করবে।’ আসছে ঈদে টেলিফিল্মটি জিটিভিতে প্রচার হবে বলে নির্মাতা জানান।