Monday, May 23, 2011

পাকিস্তানের সীমান্ত নিশ্ছিদ্র করতে বলেছে চীন

পাকিস্তানের মাটিতে এখনো সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ায় চীনা নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা পাকিস্তানকে ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সীমান্ত-বেড়া নিশ্ছিদ্র করার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্য নিউজ ডেইলি গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির চীন সফরকালে এ আহ্বান জানানো হয়। গিলানির চার দিনের সফর গত শুক্রবার শেষ হয়। পত্রিকাটি বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সংহতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানানোর পাশাপাশি চীনা নেতারা পাকিস্তানকে তার সীমান্ত সুরক্ষিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-কায়েদার অন্য নেতাদেরও পাকড়াও করবে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, মার্কিন সরকার আশা করছে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলো তাদের ভূখণ্ডে লুকিয়ে থাকা আল-কায়েদার নেতাদের পাকড়াও করবে। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই উদ্যোগী হয়ে তাদের পাকড়াও করবে।
গত শুক্রবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিলারি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তিনি একমত—ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে পাকিস্তানি শীর্ষ কর্মকর্তারা জানতেন না।
আল-কায়েদার নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারলে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর একতরফা অভিযানের সুপারিশ করবেন কি না জানতে চাইলে হিলারি সিবিএসকে বলেন, ‘আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো কথা বলব না। আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে, তাঁরা হামলার শিকার হলে এর পাল্টা জবাব দেবে।’
হিলারি বলেন, ‘বিন লাদেন ছিলেন তাঁদের প্রথম লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। লাদেন হত্যার অভিযান সফল হওয়ায় আমরা খুশি। এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে আমরা একটা বার্তা দিতে পেরেছি, আল-কায়েদার নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও খোঁজ পেলে হয় তোমরা নিজেরাই তাঁকে পাকড়াও করো, নয়তো আমরাই তা করব।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয়, পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব না জানলেও কেউ না কেউ জানতেন। সম্প্রতি পাকিস্তান সফরকালেও আমি একই কথা বলেছিলাম।’

কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানাতে সিআইএর সদর দপ্তরে ওবামা

আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ল্যাংলিতে অবস্থিত সিআইএর সদর দপ্তর পরিদর্শন করে তিনি তাঁদের প্রশংসা করেন।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘মার্কিন জনগণসহ সারা বিশ্বের মানুষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানোর জন্যই আজ আমি এখানে এসেছি। আপনারা অভিযানে সফল হয়েছেন। আপনাদের সাবেক সহকর্মীদের স্মৃতির প্রতি আপনারা সম্মান দেখিয়েছেন। ওসামার অবস্থান নিশ্চিত করে এবং তাঁকে হত্যা করে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ সম্ভব করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওসামাকে ধরার বিষয়কে অগ্রাধিকারের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে আপনারা কঠোর পরিশ্রম করে প্রথমে ওসামার বার্তাবাহকের সন্ধান পান। তাঁর সূত্র ধরে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়িতে ওসামাকে পাওয়া যায়।’
প্রেসিডেন্ট ওবামা জানান, ওসামাকে খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা সংস্থা শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। এই উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই ওসামাকে খুঁজে পাওয়া এবং বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর এই সন্ত্রাসীকে হত্যা করা সম্ভব হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘আমরা ওসামার অবস্থান সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে চেয়েছিলাম, তাঁর অবস্থান সম্পর্কে আর তথ্য-প্রমাণ চাচ্ছিলাম। ওসামার অবস্থান সম্পর্কে তুলছিলাম নানা প্রশ্ন। আপনারা বিশ্লেষণ করে ওসামার অবস্থানের বিষয় অনেকটা নিশ্চিত করেন।’
তবে ওবামা স্বীকার করেন, যখন অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়, তখনো গোয়েন্দারা ওসামার অবস্থান শতভাগ নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই অভিযান চালানো নিয়ে কিছুটা ঝুঁকি ছিল। বিশেষ করে অভিযানে অংশ নিতে যাওয়া কমান্ডো বাহিনীর সদস্যদের জীবনের ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পরিণাম সম্পর্কে আমি জানতাম। তার পরও অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিই। কারণ, আমাদের সামরিক বাহিনীর সামর্থ্যের প্রতি আমার আস্থা ছিল।

মুক্তির পর ম্যানহাটনে গৃহবন্দী স্ত্রস কান

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সদ্য বিদায়ী প্রধান দমিনিক স্ত্রস কান নিউইয়র্কের রাইকার্স দ্বীপের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে গত শুক্রবার ম্যানহাটনের একটি বাড়িতে উঠেছেন। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত ওই বাড়িতেই গৃহবন্দী থাকবেন।
নিউইয়র্কের একজন হোটেল-কর্মীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ১৪ মে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে কানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগ করেন। ওই দিন কানের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের বন্ডের বিনিময়ে বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনের পর শুক্রবার বিকেলে গ্রাউন্ড জিরোর কাছে ব্রডওয়ের দক্ষিণ প্রান্তের একটি বাড়িতে কানকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান স্ট্রজ ফ্রিডবার্গ। গৃহবন্দী অবস্থায় থাকলেও কানের সঙ্গে তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা দেখা করতে পারবেন।
বিচারক মাইকেল ওবাস প্রথমে তাঁর আদেশে ৬২ বছরের প্রবীণ ফরাসি রাজনীতিবিদ কানকে তাঁর স্ত্রী অ্যানি সিনক্লেয়ারের ভাড়া করা একটি অ্যাপার্টমেন্টে গৃহবন্দী করে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের আপত্তির মুখে বিচারক তাঁর নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেন। ওবাস বলেন, স্থায়ী কোনো অ্যাপার্টমেন্ট না পাওয়া পর্যন্ত কানকে সাময়িকভাবে কোনো নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।
ম্যানহাটনের নিরাপত্তাবেষ্টিত ওই বাড়িতে অবস্থানকালে কানকে সবসময়ের জন্য একটি ইলেক্ট্রনিক মনিটরিং ব্রেসলেট পরে থাকতে হবে। তাঁর সঙ্গে থাকবেন অন্তত একজন সশস্ত্র প্রহরী। তা ছাড়া বাড়িটি সবসময় ভিডিও মনিটরিং করা হবে এবং বহির্গমনের প্রতিটি দরজায় থাকবে অ্যালার্মিং সিস্টেম।
জামিনের শর্তে বলা হয়েছে, ‘আদালতে হাজিরা দেওয়া, আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, চিকিৎসকের পরামর্শ ও ধর্মীয় আচার পালনে কান ওই বাড়ি থেকে বের হতে এবং একা ম্যানহাটনের মধ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন।’

গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে যৌথভাবে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান

২০০৯ সালের গ্রীষ্মকালে মার্কিন বিশেষ বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে পাকিস্তানের সেনাদের সঙ্গে মিলে কাজ করেছে। গতকাল শনিবার পাকিস্তানের দ্য ডন পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। পত্রিকাটির দাবি, উইকিলিকসের কাছ থেকে তারা এ নথি পেয়েছে।
এর এক দিন আগে ফাঁস হওয়া আরেকটি গোপন মার্কিন কূটনৈতিক নথির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান উপজাতীয় এলাকায় মার্কিন মানবহীন বিমান বা ড্রোন হামলাকে কেবল সমর্থনই দেননি, এ হামলা চালিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই সমর্থন দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে এক যৌথ অভিযানে পাকিস্তানের সেনাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সেনারাও অংশ নেন। প্রতিবেদনে পাকিস্তানের তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যান প্যাটারসনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘এভাবে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মিলে আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’
২০০৯ সালের নভেম্বরে লেখা প্যাটারসনের ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় এলাকায় (এফএটিএ) এসব অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সকে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
এফএটিএ জঙ্গিদের বৈশ্বিক আস্তানা হিসেবে মনে করা হয়। সেখানে একদিকে যেমন আল-কায়েদার জঙ্গিরা রয়েছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন গোষ্ঠীর জঙ্গিরাও এসে শেকড় গেড়েছে। সীমান্ত পার হয়ে এসব জঙ্গি আফগানিস্তানে গিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে যৌথ গোয়েন্দা-কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সেনা সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট ছিল। এ ব্যাপারে প্যাটারসন লেখেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও শত্রুপক্ষের অবস্থানের ব্যাপারে মার্কিন সেনাদের সহায়তা নিতে শুরু করেছে পাকিস্তান।’ তারবার্তায় তিনি গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়ে একাধিক কেন্দ্র চালু করার কথাও উল্লেখ করেন। এসব কূটনৈতিক তথ্যের ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
গত শুক্রবার দ্য ডন-এ মার্কিন কূটনীতির গোপন তারবার্তার যে তথ্য প্রকাশিত হয়, এতে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটির ওপর নজরদারি চালিয়ে যেতে এবং ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তৎকালীন প্রধান অ্যাডমিরাল উইলিয়াম জে ফলনকে অনুরোধ করেন। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই তথ্যের সত্যতা নাকচ করেছে।