Friday, November 7, 2014

‘ন্যায় বিচারের পক্ষে কথা বললেই জঙ্গিবাদের উস্কানিদাতা’ -মিজানুর রহমান

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, দেশের পুলিশ যখন বন্ধুক ঠেকিয়ে কোন সাধারণ জনগণকে গুলি করে এটা কোন ধরণের আইনের মধ্যে পড়ে? এতে মানবাধিকার লঙ্ঘণ হয় না? আমি যদি তাদের ন্যায় বিচারের পক্ষে কথা বলি তখন আমাকে জঙ্গিবাদের উষ্কানিদাতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দেশে আইন আছে। কেউ অপরাধ করলে তাকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশের এ ধরণের বর্বরতা কোন সভ্য দেশে নেই। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আরসি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে ‘হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশ: পাস্ট, প্রেজেন্ট এবং ফিউর্চাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার’স এসোসিয়েশনের (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান এবং বাংলাদেশ ইনিস্টটিউট অব ডেভলপমেন্ট স্ট্যাডিজের  ডাইরেক্টর ড. বিনায়েক সেন। বইয়ের সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বইটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের উদ্দ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অস্তিত্ব টেকাতে লড়ছে জামায়াত

চারদিক থেকে আক্রমণের শিকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়ছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা এএফপি। ‘বাংলাদেশ বিসিজড জামায়াতে ইসলামি পার্টি ফাইটস ফর ইটস লাইফ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি লিখেছে, “বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামি রাজনৈতিক দলটি এখন তার অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য লড়ছে। ইতিমধ্যে দলটির অনেক নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। আর প্রধান শরিক দল তাদের থেকে দূরে অবস্থান করছে।” প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে মুসলিমপ্রধান দেশে যখন ইসলামপন্থীদের উত্থান হচ্ছে, তখন জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান স্থবির হয়ে যাচ্ছে। কারণ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের ভূমিকার কলঙ্ক থেকে দলটি বের হয়ে আসতে পারেনি। সম্প্রতি দলটির আধ্যাত্মিক নেতা কারাগারে আটক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। নেতাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দলকে নির্জীব করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘জামায়াত এখন এক পায়ের ওপর ভর করে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে আছে।” নিউ ইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, “নতুন দল গঠন করা ছাড়া জামায়াতের সামনে আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।দলটির জন্য নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা জনগণকে নিজেদের সমর্থনে নিয়ে আসতে সক্ষম হবে এবং একাত্তরের দায় থেকে বের হয়ে আসতে পারবে।” অধ্যাপক আতাউর বলেন, “দলটি যত তাড়াতাড়ি এ বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হবে, তাদের জন্য তা তত কল্যাণকর হবে।” স্বাধীনতার পর থেকেই রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং খালেদা জয়ার নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। কিন্তু ১৯৯১ সাল থেকে ছোট শরিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকার গঠনে অন্যতম ভূমিকা পালন করে আসছে। এই উত্থানকে থামিয়ে দিতে গত বছর সাধারণ নির্বাচনে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি রায়ে বিচারক জামায়াতকে নির্বাচনে নিষিদ্ধের রায় দেন। এ রায়ের পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়। এমনিতেই যুদ্ধাপরাধের দায়ে দলটির প্রধান সারির নেতাদের বিচার শুরু হওয়ায় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত রয়েছে। গত জানুয়ারিতে বিএনপির বয়কট করা নির্বাচন এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়ের প্রতিক্রিয়ায় গত বছরে চলা সংঘর্ষে প্রায় ৫০০ লোক প্রাণ হারায়। আর ওই বিক্ষোভ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তিমত্তার প্রকাশ ঘটে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ট্রাইব্যুনালের দেয়া প্রথম রায়ের পর জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে রাজপথে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। কিন্তু কয়েক দিন আগে আপিল বিভাগে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে দলটির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভে তেমন উত্তেজনা দেখা যায়নি। এমনিক গত সপ্তাহে ডাকা হরতালেও বিক্ষোভের আঁচ খুঁজে পাওয়া যায়নি। দেশটির ট্রাইব্যুনাল অক্টোবর মাসেই জামায়াতের প্রধান মাওলানা মতি্উর রহমান নিজামী ও অর্থের জোগানদাতা এক নেতার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। রায়ের পর বিক্ষোভের ঘটনা দেখা গেলেও তা গত বছরের তুলনায় কিছুই না। সরে গেছে মিত্ররাও জামায়াত ইস্যুতে দূরে অবস্থান করছে জোটের প্রধান শরিক বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি। অথচ বিএনপিই জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে একসময় সরকার গঠন করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দেয়া রায়গুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বিএনপি। এমনকি জামায়াতের প্রধানকে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়েও চুপ ছিল দলটি। গত মাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের আধ্যাত্মিক নেতা গোলাম আযমের মৃত্যুতেও কোনো শোকবাণী পাঠায়নি বিএনপি। আর এটি দুই দলের সম্পর্কের দূরত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, “বিএনপি এটা অনুধাবন করেছে যে, যদি তারা জামায়াতের নেতাদের অব্যাহত সমর্থন দিতে যায়, তাহলে তাদের ভোটারদের বড় একটি অংশের ভোট হারাতে হবে।” ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গোলাম আযমের নেতৃত্বাধীন জামায়াত ইসলামাবাদ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের আলাদা হওয়ার বিরোধিতা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের একটি ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেছিল দলটি। শেখ হাসিনা সরকার বলছে, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক প্রাণ হারায়। আর তার জন্যই যুদ্ধাপরাধের বিচার হওয়া দরকার। যুদ্ধের পর গোলাম আযম পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তার দল জামায়াতকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়। একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়ার পরও গোলাম আযম ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এবং তার দলকে পুর্নগঠিত করেন। নব্বইয়ের দশকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালুর পর জামায়াত সরকার গঠনে ‘কিংমেকারের’ ভূমিকা পালন করে। গত নির্বাচনে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পর থেকেই সংগঠনটির নেতৃত্ব এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখে পড়ে। গ্রেফতার এড়াতে দলটির বেশির ভাগ নেতাই আত্মগোপনে রয়েছেন। কয়েক মাস ধরে দলটির নতুন নেতা ডা. শফিকুর রহমানকেও দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধাপরাধ নিয়ে লেখালেখি করা বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান বলেছেন, “জামায়াত তাদের ১৯৭১ সালের ভূমিকার খেসারত দিচ্ছে। দলটি ১৯৭১ সালে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রসংগঠনের নেতাদেরই নেতৃত্বে বসিয়েছে।’’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমদ বলেছেন “নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে হলে জামায়াতের নতুন নেতৃত্বকে অবশ্যই একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।” আত্মগোপনে থাকা জামায়াতের এক মুখপাত্র সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, “নেতাদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরই অনেকে মনে করেছেন জামায়াতের মৃত্যু হচ্ছে।” তবে নেতাদের মৃত্যুদণ্ড এবং নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার রায় দলটিকে খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মনে করেন তাহের। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তাহের বলেন, “এ ট্রাইব্যুনালের বিচার লজ্জাজনক। কিন্তু আমরা প্রতিবাদও করতে পারছি না। পুলিশকে বলে দেয়া আছে, বিক্ষোভ মাত্রই যেন গুলি করা হয়।” তাহের বলেন, “জামায়াত পুনরায় তার আগের অবস্থানে ফিরে আসবে। দলের নেতাকর্মীরা সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাচনে ভালো ফল করেছেন।”

প্রতি ১৬ জনে একজনের বাস বস্তিতে

দেশের প্রতি ১৬ জন মানুষের একজন ঠাঁই নিয়েছে শহরের বস্তিতে। নয় সিটি করপোরেশনের বস্তিতে বাস করে এক কোটি মানুষ। তাদের ৭৫ ভাগই পুরো পরিবার নিয়ে গাদাগাদি করে থাকে এক কামরায়। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে ঢাকা শহরে এখনও দুকোটি মানুষকে পর্যাপ্ত জায়গা দিয়ে শহর সাজানো সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত নগরায়নে সরকারকে নজর দিতে হবে। নগরায়ণ মানেই সারি সারি দালান আর যান্ত্রিক জীবন। আর দালান-কোটার পাশেই সারিসারি ঝুপড়ি ঘর, গ্রাম ছাড়া মানুষের আশ্রয়স্থল। রোজগার আর বেঁচে থাকার তাগিদে এসব মানুষ ঠাই নিচ্ছে শহুরে বস্তিতে। নগরের বস্তি এখন আরশুধু জলাভূমি বা পতিত জমি দখল করে গড়ে উঠছে তা নয়। বরং ঢাকার বিভিন্ন ফুটপাথ দখল করে বাস করছে নিম্নআয়ের মানুষ। বাংলাদেশে আরবান হেলথ সার্ভের ২০১৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের বস্তিতে এক একটি মানুষ বাস করেন ২৮ বর্গফুট জায়গায়। বস্তির বাইরে এই আকার ১২০। প্রতি চার পরিবারের তিনটির বাস এক কক্ষের ঘরে। বস্তিবাসীর প্রতি একজন  গড়ে এক বর্গফুটের জন্য ভাড়া দেয় ৩৪ টাকা, সেখানে বস্তির বাইরে একজন মানুষ একই পরিমাণ জায়গায় খরচ করে ২৮ টাকা। বস্তিবাসীর বেশিরভাগই জাতীয় আয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাই অর্থনতের প্রয়োজনেই তাদের স্বাভাবিক বসবাস  উপযোগী বাসস্থানের আয়োজনে সরকারকে নজর দেয়া উচিৎ বরে মনে করেন এই নগরপরিকল্পনাবিদ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রতিবছর শহরগুলোতে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ বাড়ছে। আগামী কয়েক বছরে এ সংখ্যা এক কোটি ৯০ লাখ ছাড়াতে পারে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট

বোথাম-ইমরান খানের পাশে সাকিব

অনন্য এক রেকর্ডে নাম উঠলো সাকিব আল হাসানের । খুলনা টেস্টে ব্যাট-বলে চৌকস নৈপুণ্য নিয়ে সাকিব  উঠে গেলেন লিজেন্ডারি দুই ক্রিকেটারের কীর্তির পাশে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট পেলেন সাকিব। দেড়শ’ বছরের টেস্ট ক্রিকেটে এক ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেটের এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা।  এমন আগের কীর্তি দুটি ইংলিশ লিজেন্ড ইয়ান বোথাম পাকিস্তানের কিংবদন্তীর ক্রিকেটার ইমরান খানের। তবে স্পিনার-ব্যাটসম্যান হিসেবে এমন কৃতিত্ব সাকিবেরই প্রথম।  ইয়ান বোথাম-ইমরান খান উভয়েই সাবেক পেস তারকা ।  এমন আগের ঘটনাটি ৩১ বছরের পুরনো। ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেটের সর্বশেষ ঘটনাটি দেখান পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান। ১৯৮৩ সালে ইমরান খান  এ কীর্তি গড়েন ভারতের বিপক্ষে । তার আগে ভারতেরই বিপক্ষে ১৯৮০ সালে বোম্বে টেস্টে একই কীর্তি গড়েন ইংলিশ লিজেন্ড ইয়ান বোথাম। খুলনা টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ১৩৭ রান করেন সাকিব আল হাসান। জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে বল হাতে সাকিব নেন পাঁচ উইকেট। আর গতকালও সাকিবের শিকার জিম্বাবুয়ের পাঁচ ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ ওভারের স্পেলে ৪৪ রানে সাকিব নিলেন পাঁচ উইকেট। ক্যারিয়ারে সাকিবের এটি ১৪তম পাঁচ উইকেট শিকার।  এতে সাকিবের ম্যাচ ফিগার ১০/১২৪।

‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হবে’

বিতর্কিত নির্বাচন জাতির জন্য মঙ্গলজনক নয় বল মন্তব্য করেছেন সংবিধান প্রণেতা এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বলেছেন, যে নির্বাচন বিতর্কিত হয় তা বিতর্ক থেকে মুক্ত না হলে সে নির্বাচন জাতির জন্য মঙ্গলজনক নয়। নির্বাচন হতে হবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। কেবল এক দলের কাছে না। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা প্রজন্ম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সংসদ ‘গণতন্ত্র ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, দল থাকবে, ভিন্ন মতও থাকবে। নিজের বিবেককে জিজ্ঞাসা করা উচিত কি করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। যে ঐক্যের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র আন্দোলন এবং ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, তার মূল স্তম্ভ হলো গণতন্ত্র। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। ইতিহাসের মৌলিক বিষয় নিয়ে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ নেই। যিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ নিয়ে বিতর্ক করা উচিৎ নয়। আয়োজক সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এসএম সায়মন কামালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অধ্যাপক ড. সুকমল বড়ুয়া, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতে জাতিসংঘের আহ্বান

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশন।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘের এক্সিকিউশন-বিষয়ক স্পেশাল রিপোটিয়ার ক্রিস্টফ হেইন্স এবং বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতাবিষয়ক স্পেশাল রিপোটিয়ার গ্যাব্রিয়েলা নাউল জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের পক্ষে দু'জন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ জেনেভা থেকে এ বিষয়ে বিবৃতি পাঠান। খবর ইউএনবি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের স্বচ্ছতা ও যথাযথ প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘের ওই বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ।
গত সোমবার বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

পৃথিবীর নরক থেকে মুক্তি

কুয়েতের এক নাগরিক কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কারাগার গুয়ান্তানামো বে থেকে ছাড়া পেয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন । তিনি সেখানে ১৩ বছর বন্দি ছিলেন। পৃথিবীর নরক খ্যাত বিতর্কিত কারাগারটিতে কুয়েতের যে দুই নাগরিক বন্দি ছিলেন ফাওজি আল-ওধা (৩৭) তাদের একজন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অনেক আগেই কারাগারটি বন্ধের প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন। ফাওজির বাবা খালেদ আল-ওধা বলেন, ‘আজ সকালে ফাওজি দেশে পৌঁছেছে। সে সুস্থ রয়েছে।’ ওধা আরও বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তার ছেলেকে বিমান বন্দর থেকে সরাসরি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পর তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সরকার পরিচালিত পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে। এ সময় তার কাছে আত্মীয়স্বজন তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। অবিবাহিত ফাওজিকে তার বাবা ও দুই ভাই বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। সামরিক হাসপাতালে মা ও দাদীসহ ফাওজির পরিবারের প্রায় ৪০ সদস্যকে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ফাওজির বাবা গুয়ান্তানামো কারাগারে কুয়েতি বন্দিদের পরিবারের একটি দলের নেতৃত্ব দেন।
তিনি বরাবরই দাবি করে আসছেন যে তার ছেলে একজন সাহায্যকর্মী ছিল। সে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানে কোনো যুদ্ধে অংশ নেয়নি। ২০০১ সালের শেষ দিকে পাকিস্তান থেকে তাকে আটক করা হয়। এএফপি।

ছোট খবর

মাদ্রিদ
গরিবের তহবিল খায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ
বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগই যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পেটে। অভুক্ত মানুষের তহবিল খেয়ে ফেলে ধনী দেশগুলো।
গরিবের জন্য অনুদানের অর্থ নানা অজুহাতে বাইরে চলে যায়। বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর কৃষির উন্নয়নে বিল ও মেলিন্দা গেটস ফাউন্ডেশনের যে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২৩ হাজার ২১৭ কোটি টাকা) তহবিল দিয়েছে। বাস্তবে এর বেশির ভাগটাই পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন ধনী দেশ। বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র মহাদেশ আফ্রিকা এ থেকে খুব সামান্য ভাগ পেয়েছে। গ্রেইন নামের স্পেনভিত্তিক একটি গবেষণা দল এই তথ্য জানিয়েছে। গেটস ফাউন্ডেশনের অনুদানের ৮০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নামকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া হয়।
ত্রিপোলি
পার্লামেন্ট বাতিল
লিবিয়ার সুপ্রিমকোর্ট বৃহস্পতিবার দেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পার্লামেন্টকে বাতিল ঘোষণা করেছে। বার্তা সংস্থা লানা এ খবর জানায়। এতে করে সহিংসতাকবলিত দেশটিতে রাজনৈতিক বিশৃংখলা আরও বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ইসলামপন্থী একজন আইনপ্রণেতা ২৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সাংবিধানিকতা সম্পর্কে আদালতের রায় জানতে চেয়ে একটি আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিল। ২৫ জুনের নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে লিবিয়ায় প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-থানির সরকার গঠিত হয়। দেশে এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্রশাসন চালু রয়েছে। এএফপি।
কাবুল
নতুন ন্যাটো প্রধান
ন্যাটোর নয়া প্রধান জেনস স্টোলটেনবার্গ বৃহস্পতিবার কাবুলে এসেছেন। দেশটির নয়া প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। আফগানিস্তানে আগামী মাসে ন্যাটো জোটের সামরিক মিশন শেষ হচ্ছে। তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ১৩ বছরের অভিযান শেষ করার প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে ন্যাটো প্রধান এ সফরে এলেন। ন্যাটোর এক বিবৃতিতে বলা হয়, আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে স্টোলটেনবার্গ ২০১৫ সালে রিস্যুলিউট সাপোর্ট মিশন শুরুসহ ন্যাটো-আফগান সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন।
মাদ্রিদ
গরিবের তহবিল খায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ
বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগই যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পেটে। অভুক্ত মানুষের তহবিল খেয়ে ফেলে ধনী দেশগুলো।
গরিবের জন্য অনুদানের অর্থ নানা অজুহাতে বাইরে চলে যায়। বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর কৃষির উন্নয়নে বিল ও মেলিন্দা গেটস ফাউন্ডেশনের যে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২৩ হাজার ২১৭ কোটি টাকা) তহবিল দিয়েছে। বাস্তবে এর বেশির ভাগটাই পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন ধনী দেশ। বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র মহাদেশ আফ্রিকা এ থেকে খুব সামান্য ভাগ পেয়েছে। গ্রেইন নামের স্পেনভিত্তিক একটি গবেষণা দল এই তথ্য জানিয়েছে। গেটস ফাউন্ডেশনের অনুদানের ৮০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নামকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া হয়।
ত্রিপোলি
পার্লামেন্ট বাতিল
লিবিয়ার সুপ্রিমকোর্ট বৃহস্পতিবার দেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পার্লামেন্টকে বাতিল ঘোষণা করেছে। বার্তা সংস্থা লানা এ খবর জানায়। এতে করে সহিংসতাকবলিত দেশটিতে রাজনৈতিক বিশৃংখলা আরও বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ইসলামপন্থী একজন আইনপ্রণেতা ২৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সাংবিধানিকতা সম্পর্কে আদালতের রায় জানতে চেয়ে একটি আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিল। ২৫ জুনের নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে লিবিয়ায় প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-থানির সরকার গঠিত হয়। দেশে এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্রশাসন চালু রয়েছে। এএফপি।
কাবুল
নতুন ন্যাটো প্রধান
ন্যাটোর নয়া প্রধান জেনস স্টোলটেনবার্গ বৃহস্পতিবার কাবুলে এসেছেন। দেশটির নয়া প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। আফগানিস্তানে আগামী মাসে ন্যাটো জোটের সামরিক মিশন শেষ হচ্ছে। তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ১৩ বছরের অভিযান শেষ করার প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে ন্যাটো প্রধান এ সফরে এলেন। ন্যাটোর এক বিবৃতিতে বলা হয়, আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে স্টোলটেনবার্গ ২০১৫ সালে রিস্যুলিউট সাপোর্ট মিশন শুরুসহ ন্যাটো-আফগান সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। - See more at: http://www.jugantor.com/ten-horizon/2014/11/07/170098#sthash.oZ2wuZTc.dpuf

বারকিনা ফাসোয় ২০১৫ সালে নির্বাচন

বারকিনা ফাসোর সেনা, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের নেতারা দেশটিতে এক বছরের জন্য অস্থায়ী সরকারের পক্ষে একমত হয়েছেন। বুধবার উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে প্রতিনিধিরা অস্থায়ী সরকার ছাড়াও ২০১৫ সালের নভেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়েও সম্মত হন। দেশটির রাজনৈতিক সংকট নিয়ে এ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিলেন ঘানার প্রেসিডেন্ট জন দ্রামানি মাহামা, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন ও সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল। এছাড়া আলোচনায় ধর্মীয় ও উপজাতি প্রধানরাও অংশ নেন। কিন্তু বৈঠকে অস্থায়ী সরকারের প্রধান কে হবেন তা নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিখ্যাত কোনো বেসামরিক ব্যক্তিত্বের এ দায়িত্ব নেয়ার ব্যাপারে সব দল একমত হয়েছে। বারকিনা ফাসোয় গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ব্লেইস কমপাওরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসাক জিদা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন। দেশটিতে বেসামরিক শাসন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে পশ্চিম আফ্রিকার এ তিন প্রেসিডন্ট ওয়াগাদুগোতে আসেন। আরব বসন্তের মতো দেশটিতে গত সপ্তাহে কমপাওরের ২৭ বছরের শাসন আরও সম্প্রসারণ প্রচেষ্টার প্রতিবাদে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নামে। তারা সহিংস আন্দোলন শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত ও দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।এদিকে সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেয়ার পর দেশটিকে গণতান্ত্রিক শাসনে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার করা হয়। জিদা ও তার সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ জোরদার করতে আফ্রিকান ইউনিয়ন অবরোধ আরোপ ও কানাডা সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি দেয়। এ প্রেক্ষাপটে জিদা ইউনিয়নকে মঙ্গলবার বলেন, আগামী দুসপ্তাহের মধ্যে তিনি দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনবেন। তিনি বলেন, সবাই একমত হলে দেশকে জনগণের নির্বাচিত নেতৃত্বের শাসনে ফিরিয়ে আনতে দুসপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না।এদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দেশটিতে শান্তিপূর্ণ, বেসামরিক নেতৃত্বাধীন ও গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে।

সিসির প্রাসাদের কাছে বোমা বিস্ফোরণ

কায়রোয় মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির প্রাসাদ থেকে ১০০ মিটার দূরে বোমা বিস্ফোরণে এক নারী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, একটি ট্রেনে বোমা হামলায় চারজন নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে হামলাটি চালানো হয়। মিসরের রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে বুধবার রাতে ট্রেনে ওই বোমা হামলায় দুই পুলিশ ও দুই বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এদিকে মিসরের বিভিন্ন স্থানে ট্রেন ও মেট্রোতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুজন পুলিশ সদস্যসহ মোট ৫জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও ২০ জন। বুধবার গভীর রাতে এবং বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন স্থানে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বুধবার রাত ১২টার দিকে কায়রোর মার্গ মেট্রো স্টেশনে পুরাতন মার্গ থেকে নতুন মার্গে যাওয়ার সময় মেট্রো ট্রেনে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজন যাত্রী আহত হয়। মার্গ থেকে হেলওয়ানগামী ৪৯৮ নম্বরের আরেকটি মেট্রোর একটি কামরায় একটি বোমা পতিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
বোমাটি বিস্ফোরণ হওয়ার আগেই পুলিশ বোমাটিকে নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে মনুফিয়া জেলার মনুফিয়া ট্রেন স্টেশনে দুটি ট্রেনে বোমা বিস্ফোরিত হয়। মনুফিয়া জেলার নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এক সংবাদ সম্মেলন করে মিডিয়াকর্মীদের জানান, বুধবার গভীর রাতে মনুফিয়া স্টেশনে থেমে থাকা একটি ট্রেনে বোমা বিস্ফোরিত হলে দুই পুলিশ নিহত হয় এবং অপর দশজন সাধারণ যাত্রী আহত হয়।
নিহত দুজন হলেন আহমদ কামাল আবদুস সামাদ মাসয়ুদ (৩৫) এবং মুহাম্মদ আবদুল মাকসুদ খাওলি (৩৪)।

ওবামা যা পারবেন যা পারবেন না

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে নিজ দল ডেমোক্রেট কোণঠাসা হয়ে পড়ায় আগামী দুবছর কীভাবে ভারসাম্য হতে যাচ্ছে ক্ষমতার। সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে মার্কিন নীতি প্রণয়নে? নির্বাচনে পরাজয়ের পর ওবামা বলেছেন, কংগ্রেস এম অনেক বিল পাশ করবে, যাতে আমি স্বাক্ষর করব না। আবার আমি এমন কিছু পদক্ষেপ নেব, যাতে কংগ্রেসের সায় থাকবে না। এটাই স্বাভাবিক। আমাদের গণতন্ত্র এভাবেই সচল থাকে।
অভিবাসন-ওবামার ভরসা নির্বাহী ক্ষমতা : ডেমোক্রেট ও রিপাবলিক্যান উভয় দলই চায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির সংস্কার করতে। কিন্তু হোয়াইট হাউস ও জিওপি হাউসের মধ্যে এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানো ও অভিবাসী বিতাড়নের সহজ উপায় খোঁজা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ওবামার আগের ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাহী আদেশে এ বছরের মধ্যেই এই নীতিতে সংস্কার আনতে চান। কিন্তু আগামী কংগ্রেস অধিবেশন শুরু হলে রিপাবলিক্যানদের আপত্তিতে হোয়াইট হাউসের নীতিকে অকার্যকর করতে পারে এবং সিনেটে নতুন আইন পাস হতে পারে। তবে ইচ্ছে করলে ওবামা তার নির্বাহী আদেশকে বহাল রাখতে পারবেন।জলবায়ু পরিবর্তন-কার্বন নিঃসরণ কমাতে আরও পদক্ষেপ নিতে পারবেনরিপাবলিক্যান নেতা ম্যাককনেল ওবামার কার্ব নিঃসরণ কমানো নীতির পক্ষপাতী। তাই এ বিষয়ে আগামী বছর প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলনের আগেই বাড়তি পদক্ষেপ নিতে ওবামার খুব একটা বেগ পেতে হবে না। কিন্তু মনুষ্য সৃষ্ট গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করার ব্যাপারে রিপাবলিক্যানের কিছুটা ভিন্নমত আছে।গুয়ান্তানামো বন্ধকরণ-ওবামার ক্ষমতা সীমিত : যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত কিউবার গুয়ান্তানামো কারাগার ওবামার নির্বাহী আদেশে বন্ধ করার সুযোগ এখনও আছে। কিন্তু মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর এ ক্ষমতার ব্যবহার পূর্বের চেয়ে সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ বন্দিদের অন্যত্র স্থানান্তরের বিপক্ষে রিপাবলিক্যান। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের নির্বাহী আদেশ হলে আইনপ্রণেতাদের তুমুল সমালোচনার মুখে পড়বেন ওবামা।অর্থনীতি-কংগ্রেসের দিকে তাকিয়ে থাকবেন ওবামা : মার্কিন অর্থনীতির দুটো দিকের সংস্কার এখন গুরুত্বপূর্ণ- বাণিজ্য ও কর।ইউরোপ এবং এশিয়ার অন্তত ডজনখানিক দেশের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিকে রিপাবলিক্যানরা ওবামার তথাকথিত ফার্স্ট ট্রাক বলে অভিহিত করে আসছে। তাই রিপাবলিক্যানদের সহযোগিতা ছাড়া বাণিজ্য ক্ষেত্রে ওবামা অগ্রসর হতে পারবেন না। একইভাবে কর সংস্কারের ব্যাপারেও দুপক্ষের সমঝোতা প্রয়োজন। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিক্যান উভয় দলই কর্পোরেট কর কমানো ও কোডের সহজীকরণে আগ্রহী।

২০১৬ হবে রিপাবলিকানের!

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের সাফল্যকে ২০১৬ সালে রিপাবলিকানদের ক্ষমতায় আসার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা। রিপাবলিকান শিবিরে তাই চলছে অভিনন্দন আর উল্লাস। তারা মনে করছেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য তাদের এই জনপ্রিয়তার ঢেউ কাজে লাগবে। সিনেটে রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককোনেল বলছেন, ওবামা প্রশাসন জনগণের আস্থা হারিয়েছে। মার্কিনিরা তাদের দলের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। শুধু কংগ্রেস নয়, ৩৬টি রাজ্যে অনুষ্ঠিত গভর্নর নির্বাচনেও রিপাবলিকানরা ভালো করেছে। কংগ্রেসের নিুকক্ষে ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ২৩৩টিতে জয়ী হয়েছে তারা। প্রতিনিধি পরিষদে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আগে থেকেই ছিল। এবার সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা এমন পর্যায়ে গেছে যা গত ৬০ বছরে দেখা যায়নি।
অপরদিকে ডেমোক্রেটদের ঝুলিতে গেছে ১৫৬টি আসন। লোয়াতে বুধবার জয়লাভের মাধ্যমে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে ন্যূনতম আসনসংখ্যা নিশ্চিত হয় রিপাবলিকানদের। সিনেটে এবার তারা সাতটি আসনে জিতেছে। এর মাধ্যমে চেম্বারের ১০০টি আসনের মধ্যে ৫১টি আসন লাভ করল তারা। ২০১৬ সালের জন্য রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী স্কট ওয়াকার উইসকনসিনের গভর্নর হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচনের আগেই গণমাধ্যমের খবরে রিপাবলিকানদের জয়ের ব্যাপারে আভাস দেয়া হয়েছিল এবং এটাও বলাও হয়েছিল যে, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো দলের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পথ পরিষ্কার হবে তা বোঝা যাবে এই নির্বাচনে। তবে কি এই ফল ২০১৬ সালের অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যারোমিটার হয়ে দাঁড়াচ্ছে? এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের দুবছর বাকি থাকতেই এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানরা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান করে নিয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্ট ওবামার মেয়াদের শেষ দুই বছরের গতিপ্রকৃতি বিরোধীরাই নির্ধারণ করতে পারবে।

ভারতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আল কায়দা

ভারতে যে তাদের সংগঠন প্রভাব বিস্তার করছে, আগেই হুশিয়ারি দিয়েছিল কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা প্রধান আয়ামেন আল জাওয়াহিরি। আল কায়দা প্রধানের সেই ঘোষণা যে নিছক হুশিয়ারি নয় তা প্রমাণ হল দেশটির গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তায়। দিল্লির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে সন্ত্রাসের ছক কষা শুরু করে দিয়েছে আল কায়দা ও ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন (আইএস)। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, আল কায়দা ও মুজাহিদিন ভারতে বিদেশীদের অপহরণের পরিকল্পনা করছে। তারা ভারতকে সিরিয়া ও ইরাক বানাতে চায়, যেখানে অব্যাহত সহিংসতা চলছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) প্রধান শরদ কুমার রয়টার্সকে বলেন, স্থানীয় উগ্রপন্থী গ্র“পগুলোর সঙ্গে আল কায়দা ও আইএস কীভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে আমরা সেদিকে খেয়াল রাখছি। বিশেষ করে আফগানিস্তানে হামলার বিষয়ে। তিনি বলেন, আল কায়দার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর যোগাযোগ ও কার্যক্রম বেড়েছে। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী ওয়াগায় আÍঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। কলকাতায় মঙ্গলবার সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে সতকর্তা জারি করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতি আমরা নজর রাখছি। ভারতীয় গোয়েন্দারা বলছেন, তারা যেসব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছেন তাতে মনে হচ্ছে আল কায়দা ও আইএমের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা দিন দিন বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহ আগে আল কায়দা উপমহাদেশে হামলা চালানোর জন্য তার সাউথ এশিয়া শাখা স্থাপনের ঘোষণা দেয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানায়, তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন আল কায়দা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে ভারতীয় জঙ্গি সংগঠন আইএম ও অন্যান্য উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা এমআইয়ের সন্দেহভাজন ১১ জঙ্গির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে। এই চার্জশিট দিতে গিয়েই গোয়েন্দারা যে তদন্ত করেন তাতে ভারত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানি জঙ্গিদের মধ্যে ইন্টারনেট চ্যাটিং ও বৈঠকের কথা ওঠে আসে।

এশিয়ার কেউ একদিন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবে

নিকট ভবিষ্যতে এশিয়া বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। বুধবার রাতে বার্ষিক জিজি-২ নেতৃত্ব পুরস্কার অনুষ্ঠানে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ২০১৪ সালের ম্যান অব দ্য ইয়ার ও উইম্যান অব দ্য ইয়ার পুরস্কার বিতরণের সময় ক্যামেরন বলেন, একদিন আমি শুনতে চাই, এখানকার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ব্রিটিশ-এশিয়ান। ২০১৫ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমি বলছি না সেটি এখনই হবে।জিজি-২ নেতৃত্ব পুরস্কার অনুষ্ঠানে ম্যান অব দ্য ইয়ার পুরস্কার লাভ করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী রামি রাঙ্গার। সান মার্ক লিমিটেডের সিইও রামিকে মেধাবী উদ্যোক্তা বলে অভিহিত করেন ক্যামরন। এসময় ব্রিটিশ অর্থনীতিতে তার অবদানের জন্য প্রশংসা করেন। উইম্যান অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পান পশ্চিম নাটিংহামশাইর কলেজের প্রিন্সিপাল দামে আশা খেমকা। ক্যামেরন বলেন, ব্রিটেনের সফলতা হচ্ছে সমগ্র জাতি-গোষ্ঠীকে একই ছাতার নিচে রেখেছে।

ওবামা নয়, পুতিনই ক্ষমতাবান

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনকে চলতি বছরে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত করেছে মার্কিন বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচনে পুতিনের কাছে হেরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরুর পর থেকে এ ক্ষেত্রে সর্বমোট তিনবার পরাজিত হলেন ওবামা। এর আগে ওবামা এক দফা পরাজিত হয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে।ক্রিমিয়াকে গণভোটের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা, ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান সংকট এবং চীনের সঙ্গে মাল্টি বিলিয়ন ডলার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে নির্বাচন করল এ ম্যাগাজিন। চীনের সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন বিশ্বের সবচেয়ে বড় নির্মাণ প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করেছে ফোর্বস। এদিকে, ২০১৪ সালের ফোর্বসের বিশ্বের ৭২ জন শক্তিশালী ব্যক্তিদের তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করেছেন প্রেসিডেন্ট শি। এ তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছেন যথাক্রমে পোপ ফ্রান্সিস এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল।এবারের তালিকায় প্রথমবারের মতো যে ১২ জন ঠাঁই করে নিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।তালিকার ১৫ নম্বর স্থানে রয়েছেন তিনি। তাকে ফোর্বস বর্ণনা করেছে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদী’ হিসেবে। তবে তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ চলে গেছেন কংগ্রেস সুপ্রিমো সোনিয়া গান্ধী, যিনি গত বছর ২১ নম্বর স্থানে ছিলেন।তালিকায় রয়েছে আরও তিন ভারতীয়র নামও। ৩৬ নম্বর স্থানে রয়েছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি, ৫৭ নম্বরে রয়েছেন লক্ষ্মী মিত্তল এবং ৬৪ নম্বরে আছে মাইক্রোসক্ট-এ সিইও সত্য নাদেলা।মোদি ছাড়াও এই তালিকায় প্রথমবারের জন্য নাম উঠেছে আরও ১২ জনের। তাদের মধ্যে রয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, চীনের সব থেকে ধনী ব্যক্তি জ্যাক মা, আতংকবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের নেতা আবু বকর আল বাগদাদি।অন্যদিকে স্বঘোষিত ইসলামিক স্টেটের খলিফা আবু বকর আল-বাগদাদীও এই তালকায় ৫৪তম স্থানে রয়েছেন। তালিকায় নাম নেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

মিলেমিশে কাজ করবেন ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সিনেটের রিপাবলিকান নতুন নেতা রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে মিলেমিশে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দল ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে এবং বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, আগামী দু’বছরকে যথাসম্ভব সক্রিয় ও গতিময় রাখতে তিনি নতুন কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবেই মিলেমিশে কাজ করার উপায় খুঁজে পাব।বুধবার ৯০ মিনিটব্যাপী ওই সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন তিনি জাতির বার্তা বুঝতে পেরেছেন।ওবামা বলেন, ‘আপনারা যারা ভোট দিয়েছেন, আর দেননি, তাদের বার্তা আমি বুঝতে পেরেছি।’ শেষ দু’বছরে রিপাবলিকানদের ক্ষমতা দিয়ে ডেমোক্রেট সরকারের প্রতি ভোটারদের অনাস্থাকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন বলে জানান।রিপাবলিকানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য অবশ্যই শুভরাত্রি। নির্বাচনে দারুণ প্রচারণার জন্য তারা ক্রেডিট পেতেই পারেন। কিন্তু ভোটের ফল দুই দলের জন্য সতর্কবার্তা। মার্কিন জনগণ বুঝিয়ে দিয়েছেন, তারা জনগণের অভিলাষ পূরণের সরকার চান। তারা কর্মসংস্থান চান। আমাদের দুই দলকেই জনগণের এই সেন্টিমেন্ট বুঝেই চলতে হবে।এদিকে সিনেটের নতুন নেতা মিচ ম্যাককোনেল বলেন, অকেজো সিনেটকে তিনি সক্রিয় করবেন।তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে সিনেট মূলত তেমন কিছুই করেনি। আমরা আবার কাজে ফিরে যাব এবং বিল পাস করব।একইসঙ্গে তিনি যেসব বিষয়ে মতৈক্য সম্ভব সেসব বিষয়ে মিলেমিশে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।এদিকে হোয়াইট হাউসে শুক্রবার ওবামা ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।জনগণকে নিশ্চিত করতে বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, দুই দলই ভোটারদের হতাশা উপলব্ধি করেছে এবং তা কাটিয়ে ওঠতে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করার উপায় খুঁজে বের করবে। এখন আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে নজর দিতে হবে।’শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান নেতাদের এক বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ওবামা। এর আগে বুধবার এক বিবৃতিতে রিপাবলিকান নেতা ম্যাককোনেল সিনেটকে আরও কার্যকর করার প্রতিশ্র“তি দেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে বলতে গেলে কোনো কাজই করেনি সিনেট। আমরা এখন কাজে ফিরে যাব এবং বিভিন্ন বিল পাস করার উদ্যোগ নেব।’ এছাড়া তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে মিলে বাণিজ্য চুক্তি এবং কর সংস্কার করারও অঙ্গীকার করেছেন।প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যাপক জয় পেয়েছে রিপাবলিকানরা। মাত্র ছয়টি আসন পেলেই যেখানে দলটি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ লাভ করত, সেখানে তারা সাতটি আসনে জয় পেয়েছে। আরকানস, কলোরাডো, আইওয়া, মন্টানা, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডেকোটা এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় জয়ী হয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। অন্যান্য রাজ্যের ভোটগণনায়ও আরও ভোট পাওয়ার আশা আছে দলটির।উত্তর ক্যারোলিনা, ক্যানসাসে ডেমোক্রেট সিনেটরদের জয় কাক্সিক্ষত থাকলেও জয় পেয়েছেন রিপাবলিকানরা। প্রেসিডেন্ট ওবামার নিজ রাজ্য ইলিনয়িসেও ডেমোক্রেটদের পরাজয় ঘটেছে, জয় পেয়েছেন বিরোধী রিপাবলিকানরা।প্রতিনিধি পরিষদেও রিপাবলিকানরা যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস যখন ক্ষমতা গ্রহণ করবে তখন ২০০৬ সালের নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের উচ্চ ও নিু উভয় কক্ষেরই দায়িত্ব গ্রহণ করবে দলটি।

ইসলামী ব্যাংকের ২৫ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে ইসলামী ব্যাংকের ২৫ কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী তাদের এ ব্যাপারে নোটিশ পাঠিয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ নূরুল ইসলাম, এভিপি কাজী মঈনুদ্দিন খাদেম, ভিপি মো. মিজানুর রহমান ভুঁইয়া, এভিপি মো. মোসলেহ উদ্দিন, ভিপি মো. আলিমুর রহমান, এভিপি মো. আবুল কালাম আজাদ, এভিপি মনির হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার একেএম বোরহান উদ্দিন, প্রধান কার্যালয়ের সাবেক প্রধান নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ডিইপি মো. আবদুল মান্নান, সাবেক ডিও এটিএম হারুন অর রশিদ চৌধুরী, ডিএমডি মো. শামসুল হক, সাবেক ইভিপি মো. আতাউর রহমান, এমডি মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক ইভিপি সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ, ইভিপি ইনিঞ্জনিয়ার মোহাম্মদ আলী, এসভিপি ইঞ্জিনিয়ার ময়েজ উদ্দিন, ভিপি মো. হাসান আবিদ, সাবেক এভিপি মো. দেলোয়ার হোসেন, এভিপি মাহমুদ হোসেন খান ও সাবেক সিনিয়র অফিসার ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল ইসলাম, সেন্ট্রাল রোড শাখা এবং বৈদেশিক শাখার এসভিপি মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ভিপি ম্যানেজার মো. আবু সুফিয়ান, বৈদেশিক শাখার এভিপি মো. মনির হোসেন এবং এসপিও আহমেদ আলী। তাদের ১২, ১৩ এবং ১৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, আনন্দ শিপইয়ার্ডের বিরুদ্ধে ৭টি ব্যাংকসহ ১৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬শ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। পাচারকৃত অর্থের সিংহভাগ ইসলামী ব্যাংক কারওয়ান বাজার শাখার। আনন্দ শিপইয়ার্ডের ৪৫৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়া রয়েছে শাখাটিতে। তাই এ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তলবের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া। সূত্রমতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডিএমডি মো. শামসুল হক এবং মো. হাবিবুর রহমান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ তদন্ত টিম গঠন করে। ওই টিম আনন্দ শিপইয়ার্ডের ৪৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তদন্ত টিমের সদস্যদের সাক্ষ্য গ্রহণের লক্ষ্যে সাক্ষী হিসেবে তলব করে।

শেষ দিনেও নিরুত্তাপ হরতাল

জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের শেষ দিনেও কোনো উত্তাপ ছিল না। অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে এ কর্মসূচি। তবে হরতালের কারণে দেশের অর্থনীতি মারাÍক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনের হরতালে কয়েকশ কোটির টাকার ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। হরতালে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবহন বন্ধ থাকায় তৈরি পোশাকও সময়মতো রফতানি করা যায়নি। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বারবার হরতাল না দেয়ার দাবি তোলা হলেও রাজনৈতিক দলগুলো তা আমলেই নিচ্ছে না। হরতালের কবলে পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইতিমধ্যে জেএসসি ও জেডিসির বেশ কয়েকটি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সারা দেশে কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, ঝটিকা মিছিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম। যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল সতর্ক অবস্থানে। সারা দেশ থেকে শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে উচ্চ আদালতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখা ও দলটির কর্মপরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে বুধবার ভোর থেকে আজ ভোর পর্যন্ত এ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।সকাল থেকে রাজধানীতে যানবাহনের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বাড়তে থাকে। দুপুরের পর রাজধানীর অনেক স্থানে যানজট লক্ষ্য করা যায়। রাজধানীর অলি-গলির দোকানপাট ছিল খোলা। দুপুরের পর বড় বড় শপিংমলও খুলতে থাকে। ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমাসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠাগুলোর কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিক।হরতালের প্রথম প্রহরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। দুপুরে ধানমণ্ডিতে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ৫ জন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করে। বাড্ডায় মিছিল সমাবেশ করে জামায়াত-শিবির। এছাড়া তেজগাঁও কলেজ ও মহাখালীতে ছাত্রশিবির মিছিল বের করে। এ সময় শিবিরের ক্যাডাররা রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে আতংক সৃষ্টি করে।সারা দেশে হরতাল : দেশের বিভিন্ন স্থানে ঢিলেঢালাভাবে হরতাল শেষ হয়েছে। এ সময় জামায়াত-শিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-বরিশাল : ভোরে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গড়িয়ারপাড় এলাকায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে পিকেটাররা। পরে নতুনবাজার এলাকায় একটি মিছিল বের করা হয়। এ সময় ধাওয়া করে জামায়াত-শিবিরের দুজনকে আটক করে পুলিশ। দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। অভ্যন্তরীণ রুটে বাস ও লঞ্চ চলাচল করলেও যাত্রী সংখ্যা কম ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে দোকানপাট খুলতে শুরু করে। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা এবং স্কুল-কলেজ যথারীতি খুলেছে।চট্টগ্রাম : দেওয়ান বাজার এলাকায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের হরতালবিরোধী মিছিলে গুলিবর্ষণ হয়েছে। ছাত্রলীগ এজন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছে। তবে সিএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম জানান, মিছিলে কেউ হামলা বা গুলি করেনি। ছাত্রলীগের দুগ্র“পের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার জের ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। নগরীতে দোকানপাট ছিল খোলা। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে দূরপাল্লার যানবাহন তেমন একটা চলাচল করেনি। নগরী ও জেলায় পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবি।সিলেট : বুধবার রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। তারা ২০-২৫টি যানবাহন ভাংচুর ও একটি প্রাইভেট কারে আগুন দিয়েছে। শাহপরাণ এলাকায় হরতাল সমর্থকদের ঢিলের আঘাতে আহত হয়েছেন এক অটোরিকশা চালক। বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর শিবগঞ্জে একটি সিএনজি অটোরিকশায় আগুন ধরিয়ে দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা।রাজশাহী : সকাল ৭টার দিকে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের নেতৃত্বে নগরীর মনিচত্বর থেকে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। হেতেমখাঁ এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে।বগুড়া : শহরতলির সাবগ্রাম, চারমাথা ও ছিলিমপুর এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে। বুধবার পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল হামলার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ৯২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কাহালুর বাবলাতলা এলাকায় পুলিশ শিবিরের চার সভাপতিসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।গাজীপুর : হরতালে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের ৮৫ জনের নামোল্লেখসহ ৩৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মোট ১২২ জনের নামে মামলা হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীসহ ৪১ জনকে আটক করেছে।ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় : হরতালের কারণে পরিবহননির্ভর এ ক্যাম্পাসের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ছিল বন্ধ। এতে বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।বরগুনা ও বামনা : উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি বোমা ও বোমা তৈরির উপকরণসহ বামনায় ৩ জামায়াতকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে ফেরিঘাট এলাকা থেকে আবদুল লতিফ ওরফে বাবুল ও গিয়াস উদ্দীন এবং বৃহস্পতিবার সকালে লিটনকে আটক করে পুলিশ।কলাপাড়া : বুধবার রাতে কুয়াকাটা সৈকত থেকে মিরাজ নামে এক শিবিরকর্মীকে আটক করে কুয়াকাটা নৌপুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ সময় তার ব্যাগ থেকে লিফলেট ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।মানিকগঞ্জ : ঘিওর ও সিংগাইর থেকে জামায়াত এবং বিএনপির ৩ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তারা হল- রশিদ, শুকুর আলী ও ইসমাইল হোসেন।কুলাউড়া : হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমীর আবদুল বারীসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।নোয়াখালী : সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয় গ্র“পের ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ৫০/৬০ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলে খনিজের খোঁজ

লালগ্রহের চারদিকে পাক খাওয়ার সময় মহাশূন্য থেকেই প্রাথমিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে ফেলেছিল মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার যন্ত্রযান। বুধবার সেই হিসেব অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিল মার্স কিউরিওসিটি রোভার। মঙ্গলগ্রহের মাউন্ট শার্পের কাছ থেকে মিললো প্রথম খনিজ পদার্থের সন্ধান। মাউন্ট শার্পের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় সেপ্টেম্বর নাগাদ ‘কনফিডেন্স হিলের’ সামনে এসেছিল কিউরিওসিটি। তখনই এই পাহাড়ের একটি পাথরের টুকরোয় ফুটো করে ভেতর থেকে কিছুটা লাল গুঁড়ো বের করেছিল কিউরিওসিটির যান্ত্রিক হাত। যন্ত্রযানের মধ্যেই বসানো ছোটখাটো রাসায়নিক গবেষণাগারে ওই লাল গুঁড়োর বিশ্লেষণের কাজ শুরু করে কিউরিওসিটি। নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলের পাথর থেকে পাওয়া ওই লাল গুঁড়ো আসলে হেমাটাইট। আরও পরিষ্কার করে বললে, লোহার একটি খনিজ হল হেমাটাইট। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এভাবে পাওয়া হেমাটাইটে লোহার পরিমাণ কতটা সেই শতাংশের বিচার করে লালগ্রহের অতীত ইতিহাস অনেকটাই স্পষ্ট হবে বিজ্ঞানীদের কাছে।
প্যাসাডেনার ক্যালিফর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির অন্যতম গবেষক এবং নাসার মঙ্গল অভিযানের সঙ্গে যুক্ত জন গ্রটজিঙ্গার জানিয়েছেন, ‘মহাকাশ থেকে কোনো গ্রহের পৃষ্ঠতলের গভীরে কোথায় খনিজ পদার্থ রয়েছে, তার অস্তিত্ব জানার উপায় এতদিন অনেকটাই ছিল তত্ত্বগত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করা। কিন্তু, মঙ্গলগ্রহের ক্ষেত্রে যা হল, তা এক কথায় অবর্ণনীয়।’
যেখানে যেখানে খনিজ পদার্থ রয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছিল, তার মাত্র একটি জায়গাতেই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রথম চোটেই অভাবনীয় সাফল্যে রীতিমতো উত্তেজিত নাসার বিজ্ঞানীরা। ২০১০ সালে কেবল মঙ্গলে থাকা খনিজের অস্তিত্ব জানার জন্যই একটি বিশেষ মহাকাশযান পাঠায় আমেরিকা। ‘মার্স রিকনেইসান্স অরবাইটার’ নামের ওই যানটি তখন থেকেই মঙ্গলের সম্ভাব্য খনিজ পদার্থময় অঞ্চলগুলোর একটি মানচিত্র তৈরি করে। মঙ্গলের গেইল ক্রেটার ছিল তেমনই একটি অঞ্চল। পরে, প্রায় ১৫৪ কিলোমিটার চওড়া এই প্রাচীন জ্বালামুখে মহাকাশযান কিউরিওসিটি রোভারকে নামানোর কথা ঠিক হয়। অবতরণের পর প্রথমে এই জ্বালামুখের মধ্যেই ‘ইয়েলোনাইফ বে’ নামে একটি নিচু অঞ্চলে অনুসন্ধানের কাজ চলে। এই অঞ্চলের পাথরের গঠন ও ক্ষয় দেখে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন, এক সময় এই অঞ্চলে জলের ধারা প্রবাহিত হতো। এএফপি।

কুমিল্লায় ডিবির এসআইকে গুলি করে পিস্তল ছিনতাই

কুমিল্লায় সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা ডিবির এসআই ফিরোজ হোসেনকে গুলি করে ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এ সময় তার ব্যবহৃত সরকারি পিস্তলটি ছিনিয়ে নেয় তারা। বৃহস্পতিবার নগরীর ঝাউতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ৪-৫ জনের সশস্ত্র একটি ছিনতাইকারী দল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর ঝাউতলা এলাকায় ব্র্যাক ব্যাংকের বিপরীত দিকের একটি গলিতে এসআই ফিরোজ হোসেনকে মোটরসাইকেলে একা পেয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। এ সময় এক ছিনতাইকারী ফিরোজকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ছিনতাইকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ২ হাত, কোমর ও মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং তার ব্যবহৃত সরকারি পিস্তলটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।নগরীর কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই কামাল উদ্দিন জানান, নগরীর অশোকতলা এলাকার সাজু মিয়ার ছেলে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ছিনতাইকারী সুমন ওরফে জিরা সুমনের নেতৃত্বে ২টি মোটরসাইকেলযোগে ৪-৫ জন সশস্ত্র ছিনতাইকারী এ হামলা চালায়।এ সময় টহল পুলিশ ধাওয়া করলে ছিনতাইকারীরা কালো রংয়ের রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি পালসার মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।গুরুতর আহত ফিরোজ হোসেনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ সময় কুমিল্লার পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, হাইওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. গোলামুর রহমানসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা তাকে দেখতে যান। কুমিল্লা পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য আশংকাজনক অবস্থায় এসআই ফিরোজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চোরাকারবারিদের আঘাতে বিজিবি কমান্ডারের মৃত্যু

চোরাচালান দমন করতে গিয়ে সাংবাদিক নামধারী দুই চোরাচালানির লাথির আঘাতে প্রাণ হারালেন সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী সাতক্ষীরার ভোমরা বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার নজরুল ইসলাম। সাতক্ষীরার লক্ষ্মীদাঁড়ি সীমান্ত বেড়িবাঁধের মেইন পিলার-২ এর কাছে বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনতা দুই ঘাতককে আটক করে বিজিবির হাতে তুলে দিয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সাতক্ষীরার ৩৮ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক মেজর নজির আহমেদ বকসি জানান, সকাল ৯টার দিকে বেড়িবাঁধের ওপর ঘোষপাড়ার সামনে বিজিবির তিন সদস্য নায়েক মুন্নুুুু মোল্লা, সিপাহী আনোয়ার ও সিপাহী রবিউল টহলে ছিলেন। এ সময় তারা বেড়িবাঁধে দাঁড়িয়ে দুই ব্যক্তিকে ভারত ও বাংলাদেশের জিরো পয়েন্টের ছবি তুলতে দেখেন। বাধা দিলে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারাও চ্যালেঞ্জ করে ফের ছবি তুলতে থাকে।এ খবর পেয়ে বিজিবির ভোমরা কোম্পানি সদর দফতর থেকে কমান্ডার সুবেদার নজরুল ইসলাম সেখানে ছুটে যান। নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে তারা বলেন, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার দুই সাংবাদিক হাবিব ও রিয়াজের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এখানে ছবি তোলার ট্রেনিং নিচ্ছেন। তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে সুবেদার নজরুল তাদের দেহ তল্লাশি করে কিছু ফেনসিডিল ও ভারতীয় মদ পান। এরই মধ্যে স্থানীয় গ্রামবাসী সেখানে জড়ো হয়ে নিশ্চিত করেন যে তারা সাংবাদিক নয়; চিহ্নিত রসুন চোরাচালানি। বিজিবি সুবেদার তাদের কাছে পরিচয়পত্র চাইতেই তারা তার তলপেটে কয়েকটি লাথি মেরে দ্রুত সটকে পড়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়রা মুহূর্তেই তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। লাথির আঘাতে প্রচণ্ড ব্যথা পাওয়া নজরুল ইসলামকে (৫৬) অচেতন ও আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাংবাদিক পরিচয়দাতা দুই ঘাতক চোরাকারবারি সাতক্ষীরার মাহমুদপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আনোয়ার হোসেন পলাশ (৩২) এবং বাটকেখালী গ্রামের তবারক মোল্লার ছেলে রনি মোল্লাকে (২০) গ্রেফতার করে বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ।খবর পেয়ে বিজিবির খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খলিলুর রহমান, ৩৮ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক মেজর নজির আহমেদ বকসিহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। দুপুরে সাতক্ষীরা মর্গে নজরুল ইসলামের লাশের ময়নাতদন্ত হয়। পরে তার সহকর্মীরা তাকে নিয়ে যান ব্যাটালিয়ন সদরে। সেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিজিবি খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খলিলুর রহমান, জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির, অধিনায়ক মেজর নজির আহমেদ, যশোর আরআইবি অধিনায়ক মেজর আজাহার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।সুবেদার নজরুলের বাড়ি রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলার মাগুরাডাঙ্গী গ্রামে। তিনি স্ত্রী তামান্না জাকিয়া ও মা আছিয়া খাতুনসহ এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। বিকালে ময়নাতদন্ত ও জানাজা শেষে নজরুল ইসলামের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ফাঁসি না দিলে মুঈনুদ্দীনকে ফেরত দেবে যুক্তরাজ্য

মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে দেয়া মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনা না করলে তাকে ফেরত দেবে না যুক্তরাজ্য। তারা বাংলাদেশকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখিতভাবে আশ্বাস প্রদান করতে হবে, প্রত্যাবাসনের পরে অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। বিষয়টি জানিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে বাংলাদেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক রায় আদায়ের জন্য কূটনৈতিক প্রয়াসের পাশাপাশি বিশেষায়িত আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। এমতাবস্থায় প্রত্যার্পণের বিষয়টি ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাজ্যে স্বনামধন্য কোনো আইনি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে। প্রত্যার্পণের পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশাসনিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি বলেও মন্তব্য করা হয় চিঠিতে।
গত বছরের ৩ নভেম্বর চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মুুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরই মুঈনুদ্দীন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এরপর থেকে নাগরিকত্ব নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যেই আছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যার্পণের অনুরোধ জানিয়ে ২০১৩ সালের ৩ ডিসেম্বর লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এফসিও, স্বরাষ্ট্র দফতর ও ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের (সিপিএস) সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে যোগাযোগও করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট দফতরের মতামতের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের প্রত্যার্পণের অনুরোধপত্র স্থানীয় আদালতে উপস্থাপনের আগে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সর্বশেষ অগ্রগতির তথ্য জানতে চাইতে পারে যুক্তরাজ্য। মামলা পরিচালনার স্বার্থে অনুরোধপত্রের সঙ্গে প্রেরিত আইনি দলিলগুলোর মূল বা সার্টিফায়েড কপির অফিসিয়াল ইংরেজি অনুবাদ প্রেরণ করা প্রয়োজন। এসব দলিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে তা দ্রুত মিশনে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।
লিখিত আশ্বাস প্রদানের বিষয়টি জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে বলা হয়, অন্যথায় প্রত্যার্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ যুক্তরাজ্যের আদালত নাকচ করে দিতে পারেন বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র দফতর অবহিত করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মতামত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা যেতে পারে বলেও চিঠিতে মন্তব্য করা হয়।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন মামলায় পলাতক আসামিদের সাজা কার্যকর কার্যক্রম মনিটরিং সেল গঠিত হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সেলের প্রথম বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। বিদেশী নাগরিক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকায় তাদের ফেরতও আনা যাচ্ছে না। ওইসব দেশে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য বা যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়ে সোচ্চার সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের দ্বারা মামলা করাতে হবে। এর ফলে নাগরিকত্ব গ্রহণকালে তারা নিজ দেশে কোনো ফৌজদারি অপরাধ করেনি বলে যে অঙ্গীকারনামা দিয়েছিল তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। এ কারণে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল হলে দুই আসামিকেই দেশে ফেরত এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবসৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ বাংলাদেশকে উন্নয়নের অভীষ্ট পথ থেকে সরাতে পারবে না।
সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে বৃহস্পতিবার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এদিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। এতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কক্সবাজারের খুতুপালং ও নয়াপাড়ার বর্তমান শিবিরগুলো থেকে অন্য কোনো ভালো জায়গায় সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সন্ত্রাস দমনে গোটা বিশ্বের উদাহরণে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এখন আমাদের নিজ বলে বলীয়ান হয়ে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানে ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি-নৈরাজ্যের ভয়াবহ চিত্র। আমরা এ বদনাম থেকে উতরে দেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আসীন করেছি।প্রধানমন্ত্রী এদিন মন্ত্রণালয়টির উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। পাশাপাশি কাজকর্মে গতিশীলতা আনতে দিকনির্দেশনা দেন। উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চাষের জন্য জমি ও নিরাপদ জীবন-যাপনের উপকরণ সরবরাহ করে তাদের পুনর্বাসনে তৎপর হতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বক্তৃতা দেন। এতে সচিব মেজবাহ-উল-আলম মন্ত্রণালয়টির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিষয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে মায়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের সমন্বয় ও কার্যকারিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং আবহাওয়া অধিদফতরকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়ার প্রস্তাব করেন। বড় ধরনের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা এবং মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত নতুন জনবলকাঠামো অনুমোদন দেয়ারও প্রস্তাব করেন মন্ত্রী।বিদেশী সাহায্য পেতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি প্রদর্শনের দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ করেন না উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সতর্কতা, পূর্ব প্রস্তুতি, দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পারে।বন্যা ও নদী ভাঙনকে বড় দুর্যোগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ৬২ হাজার আরবান ভলান্টিয়ার্স করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতিমধ্যেই ২৬ হাজার ৩১৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সরকার ৬৪ কোটি টাকার তল্লাশি ও উদ্ধার যন্ত্রপাতি ক্রয় করেছে। আরও ১৫৯ কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি ক্রয় করার পরিকল্পনা করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এমপির বাসায় আত্মগোপনে পলাশের হামলাকারীরা

নরসিংদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সাংবাদিক ও তিতাস কর্তৃপক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে অবৈধ গ্যাস সংযোগের মূল হোতা পলাশ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির মোল্লা ও জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব হোসেন স্থানীয় এমপির আশ্রয়ে রয়েছেন। পলাশে এমপির বাসভবনেই আত্মগোপন করে আছেন তারা। এ অবস্থায় জড়িতদের অবস্থান নিশ্চিত হয়েও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। তবে নরসিংদী-২ পলাশ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল আশ্রাফ খান পোটন তার বাসভবনে আত্মগোপনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এদিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত না করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করায় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে আনা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট জহিরুল ইসলামকে কারণদর্শানো নোটিশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোর্শেদ জামান। ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী একেঅপরের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। এ অবস্থায় প্রশাসনের দুই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যের রূপ নিয়েছে। জানা যায়, নির্বাচনী ম্যান্ডেট পূরণের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে নরসিংদী-২ পলাশ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল আশ্রাফ খান পোটন বিভিন্ন এলাকায় সভা সমাবেশে এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অলিখিতভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়ার অনুমতি প্রদান করেন। যেসব এলাকায় গ্যাস সংযোগ পৌঁছেনি সেসব এলাকার লোকজন এমপি পোটনের দারস্থ হলে তাদেরও অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। এরই ফলশ্র“তিতে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ স্থাপন শুরু করেন। অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়ে পুরো পলাশ উপজেলায়। আর অবৈধ গ্যাস সংযোগকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সমর্থিত নেতাকর্মীরা। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে তিতাস কর্তৃপক্ষকে। স্থানীয় তিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের মতে, জেলায় অবৈধ সংযোগ রয়েছে প্রায় ১ লাখ। এতে প্রতিদিন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। সরকারের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট হলেও তা রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এ পর্যন্ত অবৈধ গ্যাস সংযোগ চক্রের বিরুদ্ধে ৩২টি মামলা হলেও একজন আসামিও গ্রেফতার হয়নি। অভিযোগ উঠেছে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি পুলিশকে ম্যানেজ করে এ অবৈধ কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এদিকে অবৈধ গ্যাস সংযোগের জড়িতদের আত্মগোপনের বিষয়ে সংসদ সদস্য কামরুল আশ্রাব খান পোটন বলেন, আমার বাড়িতে ভাইবোন ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারেন না। ছাত্রলীগ নেতারা কিভাবে আমার বাড়িতে আত্মগোপন করবেন। তাছাড়া আমি তাদের চিনি না। সভা সমাবেশে গ্যাস সংযোগের অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাস সংযোগ দিতে হবে নির্বাচনে এমন কোনো প্রতিশ্র“তি আমি দেইনি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ছোটখাটো নেতারা যদি অবৈধ কোনো কর্মকাণ্ড করে তাদের তো আমি পেটাতে পারি না। তবে অন্যায়কে আমি প্রশ্রয় দেই না।এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা মারধরের ঘটনা পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির মোল্লাকে প্রধান আসামি করে একাধিক ব্যক্তির নামে মামলা করেছে তিতাসের বিক্রয় সহকর্মী মো. ওকিল উদ্দিন। মামলার আসামিরা হল- পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির মোল্লা, জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব হোসেন, গ্যাসের ঠিকাদার শাজাহান খানসহ অজ্ঞাতনামা একাধিক আসামি।এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেছে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের ব্যানারে নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে গণমাধ্যমকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোখলেছুর রহমান জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাস প্রদান করেন। পরে পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান তুলে ধরেন।মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নরসিংদী টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক ও যুগান্তরের সাংবাদিক, বিশ্বজিৎ সাহা, ৭১-এর প্রতিনিধি মোবারক হোসেন, বাংলাভিশনের প্রতিনিধি মাজহারুল পারভেজ মন্টি, আরটিভির প্রতিনিধি মোর্শেদ শাহরীয়ার, দৈনিক বাণীর সম্পাদক ফারুক মিয়া, দৈনিক মুক্ত চিন্তার সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, ইউএনপির প্রতিনিধি আসাদুল হক পলাশ, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার সঞ্জিত সাহা, চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি সুমন রায়, দেশ টিভির প্রতিনিধি সুমন বর্মন, সময় টিভির প্রতিনিধি পিয়াল, ইনডিপেন্ডেন্টের প্রতিনিধি রিপন, প্রথম আলোর প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান মনির, নরসিংদী সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নসিবুর রহমান খান, দৈনিক বণিক বার্তার প্রতিনিধি সালাম রানা, জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মতি প্রমুখ।উল্লেখ্য, নরসিংদীর ভাটপাড়ায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযানে গেলে পলাশ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির মোল্লা ও সজিবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সাংবাদিক, পুলিশ, আনসার ও তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাসহ আহত হয় ২০ জন।

স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন দুই সচিবের

চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন দুই সচিব। তারা হলেন স্বাস্থ্য সচিব মো. নিয়াজ উদ্দিন মিঞা ও সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব একেএম আমির হোসেন। বৃহস্পতিবার তাদের স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার আবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য সচিব মো. নিয়াজ উদ্দিন মিঞা এবং পিএসসি সচিব আমির হোসেনের স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া সংক্রান্ত আবেদন পেয়েছি।মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দুজনসহ চারজনের সনদ বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশে ২২ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ অক্টোবর এ চার কর্মকর্তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে নোটিশের জবাব দেন তারা।মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া সংক্রান্ত চিঠি দুটি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবারই এ সংক্রান্ত দুটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফাইল দুটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এরপর তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয়ে ফেরত এলে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।সূত্র আরও জানায়, আমির হোসেনের চিঠিতে বলা হয়েছে, আমি ২৫ বছর চাকরি করেছি। এখন অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি। মো. নিয়াজ উদ্দিন মিঞার চিঠিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় তিনি স্বেচ্ছা অবসরে যেতে চান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে চিঠি দেয়া হলে তা চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং তা পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়া যাবে না।সনদ বাতিল হওয়া অন্য দুজনের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী ৩১ অক্টোবর অবসরে গেছেন। একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার বর্তমানে ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। অন্যদিকে বেসরকারীকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়। এরই মধ্যে তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

পাকিস্তানের মন্ত্রীর বিরূপ মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ ঢাকার

নিজামীর বিরুদ্ধে রায় নিয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খানের মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার আহমেদ হুসাইন দায়োকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। পাকিস্তানের মন্ত্রীর মন্তব্যকে বাংলাদেশ অনাকাক্সিক্ষত, যথার্থ নয় এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমালোচনা করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, চার দশক পরও বাংলাদেশ অতীত নিয়ে পড়ে আছে যা দুর্ভাগ্যজনক। বাংলাদেশ অতীতকে ভুলে যাওয়া ও ক্ষমার ধর্ম হারিয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ হলেও তা পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পাশাপাশি পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়। নিসার আলী খানের মন্তব্য এবং পাকিস্তান জামায়াতের উস্কানিতে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মিজানুর রহমান পাকিস্তানের দূতকে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষোভের কথা জানান। তিনি বলেন, রায় সম্পর্কে পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর মন্তব্যে বাংলাদেশ খুবই ক্ষুব্ধ। এ সময় পাকিস্তানি দূতের হাতে তার দেশের সরকারকে অবহিত করার জন্য একটি কূটনৈতিক প্রতিবাদলিপি তুলে দেয়া হয়। বৈঠকের পর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে পাকিস্তানের স্বার্থান্বেষী মহলকে তাদের নিজেদের চরকায় তেল দিয়ে নিজের ঘর গোছানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব মিজানুর রহমান বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের সমর্থন লাভ করেছে। ১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ ও গণহত্যা হয়েছে তাকে দায়মুক্তি দেয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসাটা আন্তর্জাতিক মহলেও সমর্থন পেয়েছে। কেবল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংঘটিত অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষত খানিকটা লাঘব করে তা পেছনে ফেলা সম্ভব হতে পারে। পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের উল্লেখ করে অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব বৈঠকে পাকিস্তানি ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে আরও বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে পাকিস্তান বিরত থাকবে বলে প্রত্যাশা করে। এমন কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জনগণের আবেগে আঘাত করে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইস্যুতে এটা পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে দ্বিতীয় দফায় তলব করল বাংলাদেশ। এর আগে আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার পর পাকিস্তানের পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস করার প্রতিবাদেও বাংলাদেশ প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

টেস্টে বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণার ঘটনা কালেভদ্রেই ঘটে। খুলনা টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ২৪৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এ দিয়ে টেস্টে সাতবার ইনিংস ঘোষণা করল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনবার। সফরকারী দলের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৩১৪ রান।

নাতসাই এমসাঙ্গুয়েকে মিড-অনে তুলে মারতে গিয়ে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার হাতে ধরা পড়েন আগের দিনের অপরাজিত মাহমুদউল্লাহ। কিছুক্ষণ পর একই বোলারের শিকার তাইজুল ইসলামও। ফেরার আগে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে ৭১ রান ও তাইজুল করেছেন মাত্র ১ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেওয়ার পর লং-অনে মাসাকাদজার দারুণ এক ক্যাচের শিকার শুভাগত হোম চৌধুরী ফিরেছেন ৫০ রানে। শাহাদাত ফেরেন ৩ রানে। আজ বাংলাদেশের চারটি উইকেটই নিয়েছেন লেগস্পিনার এমসাঙ্গুয়ে। স্পিন-সহায়ক এ উইকেটে বাংলাদেশের স্পিনারদের চোখ চকচক করে ওঠার কথা!
ঢাকা টেস্টের নিস্পত্তি হয়েছিল মাত্র তিনদিনেই। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে—দুই দলের ব্যাটিংয়ের যে করুণ চিত্র প্রথম টেস্টে দেখা গেছে, তাতে শুধু ব্যাট-বলের খেলা দিয়ে খুলনা টেস্টটা পঞ্চম দিনে গড়াবে, ম্যাচের আগে কল্পনা করা একটু কঠিনই ছিল। কিন্তু দুদলই সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। খুলনা টেস্ট পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে এবং জিম্বাবুয়েকে বাংলাদেশ লক্ষ্য দিয়েছে ৩১৪ রান। কথা হলো, ম্যাচের ফল কোন দলের দিকে হেলবে? বাংলাদেশ নাকি জিম্বাবুয়ের দিকে? নাকি স্রেফ ড্র! এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আশা জাগাতে পারে জিম্বাবুয়ের পরিসংখ্যান-রেকর্ড। পঞ্চম দিনে চতুর্থ ইনিংসে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রান ২৭০। বাংলাদেশ যে লক্ষ্য দিয়েছে পঞ্চম দিনে চতুর্থ ইনিংসে এত রান টপকানোর ইতিহাস নেই জিম্বাবুয়ের।
আজকের আগে ৯২ টেস্ট খেলা জিম্বাবুয়েচতুর্থ ইনিংসে ম্যাচ নিতে পেরেছে মাত্র ২১ বার। মাত্র ১৬টি ম্যাচে পঞ্চম দিনে চতুর্থ ইনিংস গড়িয়েছে। এ ১৬ ম্যাচে জিতেছে মাত্র দুটিতে, ৬টি ড্র বাকি ৮টিতে হার। দুটি জয়ই বাংলাদেশের বিপক্ষে। চতুর্থ ইনিংসে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রান ৩৩১। ২০১১ সালের নভেম্বরে বুলওয়া টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৩৩১ রান করেও ৩৪ রানে হেরেছিল জিম্বাবুয়ে। এদিন পঞ্চম দিনে জিম্বাবুয়ে তুলতে পেরেছিল ২৭০ রান। এটিই পঞ্চম দিনে দলটির সর্বোচ্চ রান।
পঞ্চম দিনে ও চতুর্থ ইনিংসে গড়িয়েছে এমন ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড বেশ আশা জাগানিয়া। ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল ২২৬ রানে আর গত বছর হারারে টেস্টে মুশফিকুর রহিমের দল জিতেছিল ১৪৩ রানে। অবশ্য দুটি পরাজয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে বাংলাদেশের। তবে সেগুলো জিম্বাবুয়ের ‘সুদিনে’। যখন শক্তিমত্তার দিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল জিম্বাবুয়ে। ২০০১ সালের এপ্রিলে হারারে ও একই বছর নভেম্বরে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছিল ৮ উইকেটে। কিন্তু বাংলাদেশকে আশা জাগাচ্ছে সাম্প্রতিক রেকর্ডই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এ সিরিজের আগে সর্বশেষ দুটি জয় এসেছে পঞ্চম দিনে ও চতুর্থ ইনিংসে। খুলনা টেস্টে সে রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে বাংলাদেশ?

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা আজ শুরু

অবশেষে নির্ধারিত সময়ের ৫ দিন পর আজ জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। তবে এ পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার শেষ নেই। হরতালের কারণে মাঝ পথে কখন যে পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কেউই। এ অবস্থায় খোদ শিক্ষার্থী-অভিভাবকরাই মাঠে নেমে এসেছেন। পালন করছেন বিভিন্ন কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিভাবকরা তাদের উৎকণ্ঠার কথা জানান। একই সঙ্গে তারা পরীক্ষাকালে হরতালের বিকল্প কর্মসূচি দেয়ারও আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বিচারপতি, সরকারি আমলা, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব রয়েছে। আমরা পরীক্ষার সময়ে হরতালের মতো কর্মসূচি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ এ সময় বিরোধী দল হরতাল দিতে বাধ্য হয়, এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এবারের এ পরীক্ষায় সারা দেশে মোট ২০ লাখ ৯০ হাজার ৬৯২ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে জেএসসিতে ১৮ হাজার ৮১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। তাদের মধ্যে ছাত্র ৮ লাখ ৩০ হাজার ২৫৬ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৯ জন। মোট ১ হাজার ৮০৩টি কেন্দ্রে জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর জেডিসিতে ৯ হাজার ১১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯২৭ এবং ছাত্রী ১ লাখ ৭১ হাজার ১৭০ জন। জেডিসি পরীক্ষা সারা দেশে ৭২২টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। জেএসসি পরীক্ষা হচ্ছে ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আজ মতিঝিলের সরকারি বালক ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা সরেজমিন পরিদর্শন করবেন।গত ২ নভেম্বর এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির আদেশসহ রায় দেন। এর প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী তিন দিনের যে হরতাল ডাকে, তাতে ২ ও ৩ নভেম্বরের পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়। এরই মধ্যে ২ নভেম্বর জামায়াতের আরেক নেতা মীর কাসেম আলী এবং ৩ নভেম্বর কামারুজ্জামানের মামলার রায় প্রদান করা হয়। এই দু’রায়ের প্রতিবাদেও জামায়াতে ইসলামী ৫ ও ৬ নভেম্বর হরতাল ডাকে। এর ফলে একে একে চার দিনের পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। স্থগিত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই মূলত আজ শুরু হচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। এদিন স্থগিতকৃত ২ নভেম্বরের পরীক্ষা নেয়া হবে। সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নেয়া এ পরীক্ষার মধ্যে জেএসসিতে বাংলা প্রথম পত্র এবং জেডিসিতে কোরআন মজিদ ও তাজবিদ বিষয় থাকছে। গতবছরও হরতালের কারণে এ পরীক্ষা বিঘিœত হয়। তখন ৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ৭ নভেম্বর শুরু হয় এ পরীক্ষা। হরতালের কারণে ইতিপূর্বে স্থগিতকৃত ৩ নভেম্বরের পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর নেয়া হবে। ওই দিন জেএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্র আর জেডিসির আকাইদ ও ফিকাহ এবং আত-তাওহিদ ওয়ালফিকহ (অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য) অনুষ্ঠিত হবে।একই কারণে স্থগিত করা ৫ নভেম্বরের জেএসসির ইংরেজি প্রথম পত্র ও জেডিসির আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা আগামী ১৯ নভেম্বর বুধবার সকাল ১০টা থেকে এবং ৬ নভেম্বরের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ও জেডিসির আরবি দ্বিতীয় পত্র আগামী ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে।সংবাদ সম্মেলন : এদিকে পরীক্ষা সামনে রেখে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবক ফোরামের চেয়ারম্যান জিয়াউল কবীর দুলু জানান, হরতালের কারণে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী শুরু করা যায়নি জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা। বারবার পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় অভিভাবকরা আজ চিন্তিত। তা ছাড়া বারবার পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি বিঘ্নিত ও মনোবল ভেঙে যাচ্ছে। তিনি হরতালকে ‘আত্মঘাতী’ উল্লেখ করে বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসকারী হরতাল পরিহার করা উচিত। বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষাকালে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হরতালের বিকল্প কর্মসূচি দেয়ার আহ্বান জানাই। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক সেলিম মিয়া, সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের কপির অপেক্ষা

জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা এখন সময়ের ব্যাপার। তবে দণ্ড কার্যকরের আগে প্রয়োজন আপিল বিভাগের রায়ের কপি। সেটি পূর্ণাঙ্গ হোক আর সংক্ষিপ্তই হোক। আপিল বিভাগের নির্দেশনা সংবলিত একটি রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে না পাঠানোর আগে ফাঁসি কার্যকর বা রায় রিভিউ কোনো প্রক্রিয়াই শুরু করা সম্ভব নয়। আইন বিশেষজ্ঞরা এমনটিই বলছেন। আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যেও এটি স্পষ্ট।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রায় বা আদেশের অনুলিপি প্রকাশিত হয়নি। কবে নাগাদ প্রকাশ হতে পারে সে ব্যাপারেও কেউ কিছু বলতে পারেননি। তবে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এটা তিনদিন হতে পারে, এক সপ্তাহও হতে পারে। আবার সুপ্রিমকোর্টের আদেশ পাওয়া সাপেক্ষে এক মাসও হয়ে যেতে পারে।
৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরপর থেকে রায় কার্যকর নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে।
বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০ (৩) ধারা অনুসারে সরকারের নির্দেশে দণ্ড কার্যকর হবে। কাজেই আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি প্রকাশের পর সরকার যেদিন ঠিক করবে, সেদিন দণ্ড কার্যকর হবে।
দণ্ড কার্যকরে সংক্ষিপ্ত না পূর্ণাঙ্গ আদেশ লাগবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকে বলছে সম্পূর্ণ রায় পেতে হবে। আমি বলেছি, সংক্ষিপ্ত রায়ে এটি (ফাঁসির আদেশ) কার্যকর করা যাবে। সম্পূর্ণ বিষয়টি এখন আদালতের ওপর নির্ভর করছে।
এর ব্যাখ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল আদালত যে রায় দেন তা বিচারিক আদালতে (ট্রায়াল কোর্ট, এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল) যায়। ট্রায়াল কোর্ট সে অনুসারে সিদ্ধান্ত নেন, মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। এখন আপিল বিভাগ যদি সম্পূর্ণ রায়টা পাঠান বা সিদ্ধান্ত নেন সম্পূর্ণ রায়টা পাঠাবেন, সেটা তাদের বিষয়। তারা যদি মনে করেন, সংক্ষিপ্ত রায় পাঠাবেন, তাহলে সেটাও তাদের বিষয়।
মাহবুবে আলম বলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ে ফাঁসি কার্যকর করা যাবে, এটি আমার অভিমত। কামারুজ্জামানের মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এই রায় তো উনারা আগেই পেয়ে গেছেন। এখন এটা কার্যকর সময়ের ব্যাপার মাত্র।
অন্যদিকে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করেছেন তার চার আইনজীবী- মশিউল আলম, শিশির মনির, মতিউর রহমান আকন্দ ও এহসান এ সিদ্দিক। প্রায় আধা ঘণ্টার সাক্ষাৎ শেষে কারাগার থেকে বেরিয়ে শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে তারা কামারুজ্জামানের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তিনি তাদের বলেছেন, আপিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তিনি রিভিউ পিটিশন দাখিল করবেন।
সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শিশির। এ ক্ষেত্রে কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদনের প্রসঙ্গও টানেন তিনি।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জামায়াতের আরেক নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। ওই রায় বাস্তবায়নের সময়ই রিভিউ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউয়ের সুযোগ চান কাদের মোল্লা। রায় রিভিউ করে খালাসও চান তিনি। এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আপিল বিভাগ কাদের মোল্লার পক্ষে করা দুটি আবেদনই একসঙ্গে খারিজ করে দেন। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এখনও প্রকাশিত না হওয়ায় আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ দুই রকম দাবি করে আসছে। বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত একটা রায় (আবদুল কাদের মোল্লার রায়) আছে, যেখানে রিভিউ পিটিশন ডিসমিসড হয়ে রায় কার্যকর হয়েছে। আমাকে সেটা ধরে নিয়ে রায় কার্যকর করার প্রস্তুতির আদেশ দিতে হবে। আমি কারা কর্তৃপক্ষকে সেই আদেশ দিয়েছি।
বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে শিশির মনির বলেন, তিনি আইনের কর্তৃত্ববহির্ভূত কথা বলেছেন। কারণ এখনও রায়ের শর্ট অর্ডার বের হয়নি। বিচারপতিদের স্বাক্ষর সংবলিত কোনো অর্ডার কারও কাছে পৌঁছায়নি। সুপ্রিমকোর্টের রুলসে আছে রিভিউ আবেদনের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সংযুক্ত করতে হয়। আর দেশের সব নাগরিকেরই রিভিউয়ের সুযোগ পাওয়ার অধিকার আছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির বলেন, কামারুজ্জামান ভালো, সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। মানসিকভাবেও তিনি দৃঢ় রয়েছেন। আর রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া- না চাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত রিভিউ পিটিশন নিষ্পত্তির পর নেয়া হবে।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়। ৫ ডিসেম্বর তার মামলার আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। রায়ের কপি প্রকাশের পর ৮ ডিসেম্বর সেটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনাল সেদিনই কাদের মোল্লার মৃত্যুপরোয়ানা জারি করে আদেশটি ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। রায়ের কপি হাতে পেয়েই তার ফাঁসি কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কাদের মোল্লার পক্ষে দুটি আবেদন করা হয়েছিল। একটি রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনার) আবেদন করার সুযোগ চেয়ে বা গ্রহণযোগ্যতার ওপর এবং অন্যটি রায়টি রিভিউয়ের জন্য। ১১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ পুনর্বিবেচনার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি করেন। ১২ ডিসেম্বরও শুনানি করে প্রধান বিচারপতি কেবল ঘোষণা দেন যে, বোথ দ্য ক্রিমিনাল রিভিউ পিটিশনস আর ডিসমিসড।
কিন্তু তাতে কী কারণে খারিজ হয়েছে তা স্পষ্ট হয়নি। আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদনটি গ্রহণ করে খারিজ করেছেন নাকি রিভিউ গ্রহণের আগেই খারিজ হয়েছে সেটি স্পষ্ট করেননি। এমনকি সেই রায়টিও এখনও প্রকাশিত হয়নি। তাই মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা রিভিউ করার সুযোগ পাবেন কিনা তা নিয়ে আইনি তর্কের মীমাংসা হয়নি।

জিএসপি নিয়ে ফের ষড়যন্ত্র

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। যে মুহূর্তে জিএসপি পেতে বাংলাদেশ সব শর্ত পূরণ করেছে ঠিক সে সময়ে মার্কিন বাণিজ্য দফতরে (ইউএসটিআর) বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন এএফএলসিআইও। জিএসপি না দেয়ার এ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা নতুন শর্ত হিসেবে টেলিকম খাতকে জুড়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে।
এএফএলসিআইওর প্রতিবেদনে বাংলাদেশে শ্রমমান উন্নয়নের অগ্রগতি পুরোটাই অস্বীকার করা হয়েছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে পোশাক, চিংড়ির পাশাপাশি মোবাইল খাতের শ্রমমান নিয়েও। সংগঠনটি দাবি করেছে, মোবাইল খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান হলেও শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেয়া হচ্ছে না। শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে চাইলেও সরকার বাধা দিচ্ছে। এগার পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি মার্কিন বাণিজ্য দফতর ইউএসটিআর কার্যালয়ে দাখিল করা হয়।এদিকে এফএলসিআইওর প্রতিবেদন পেয়ে বাংলাদেশের কাছে শ্রমমানের অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছে ইউএসটিআর। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ওবামা প্রশাসন জিএসপি (জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস) সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে ১৬টি শর্ত পূরণ করতে বলেছিল। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে শর্তগুলোর অগ্রগতি প্রতিবেদন মার্কিন বাণিজ্য দফতরে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। আগামী রোববার এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা বৈঠক করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে তথ্য চেয়ে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠানো হয়েছে।এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশকে জিএসপি পেতে যে ১৬টি শর্ত দেয়া হয়েছে তার সবগুলো পূরণ করা হয়েছে। সর্বশেষ ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংক্রান্ত এক বৈঠকে আইএলও, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। তারা এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আমরা আগামী ১৫ নভেম্বর অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করব ইউএসটিআর কার্যালয়ে। আমি মনে করি, এরপর জিএসপি না দেয়ার কোনো কারণ নেই। যদি এরপরও জিএসপি না দেয়া হয় তাহলে মনে করতে হবে ভিন্ন কোনো কারণে এ সুবিধা দেয়া হয়নি।উল্লেখ্য, বাংলাদেশের শ্রমমানের বিষয়ে অভিযোগ এনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেন। পাশাপাশি এ সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশের জন্য ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশ কর্মপরিকল্পনা-২০১৩ নামে একটি রূপরেখা ঘোষণা করে।বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এএফএলসিআইওর প্রতিবেদন : বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা না দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে গত মাসে এফএলসিআইও একটি প্রতিবেদন দাখিল করে ইউএসটিআর কার্যালয়ে। ওই প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য হিসেবে বাংলাদেশ সরকার শ্রমমান উন্নয়নের অগ্রগতিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তাই বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করার অনুরোধ জানায় সংগঠনটি।প্রতিবেদনে তৈরি পোশাক শিল্প সম্পর্কে বলা হয়, পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে পারেনি সরকার। কিছু অগ্রগতি হলেও শ্রম অধিকার সংরক্ষণ সংগঠনের অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা তৈরি করা হচ্ছে। সার্বিক পরিবেশ সন্তোষজনক নয়। ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত ট্রেড ইউনিয়নের অনুমোদন দেয়া হয়েছে ১৯৬টি। ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে ৮টি দেয়া হয়েছে।এফএলসিআইওর প্রতিবেদনে নতুন করে টেলিকমিউনিকেশন খাতের প্রসঙ্গ তুলে এনে বলা হয়, এ খাতে অনেক শ্রমিক কাজ করছে। একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির নাম উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে চাইলেও সরকার সহযোগিতা করছে না।প্রতিবেদনে শ্রমিকদের ব্যাপারে বলা হয়, কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের সংগঠন গড়ে উঠতে দেয়া হয়নি। শ্রমিকবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয়নি। পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের হুমকি, হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। শিল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, শ্রমমান উন্নয়নের অগ্রগতি হয়নি। রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) শ্রম আইন বাস্তবায়ন করা হয়নি। এছাড়া ওই প্রতিবেদনে চিংড়ি শিল্পের মানোন্নয়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এ খাত সম্পর্কে বলা হয়েছে, শর্তানুযায়ী চিংড়ি শিল্পের শ্রমিকদের মান উন্নয়ন করা হয়নি। যদিও এটি নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এসব তথ্য তুলে ধরে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার উল্লিখিত বিষয়ে অগ্রগতিতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা না দেয়ার জন্য ওই প্রতিবেদনের উপসংহারে প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে ইউএসটিআরকে।জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংগঠন আমেরিকান অর্গানাইজেশন অব লেবার-কংগ্রেস ফর ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এএফএলসিআইও)। এ সংগঠনের প্রস্তাবেই ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছিল। নতুন করে তারাই আবার বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছে। এটিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এক ধরনের ষড়যন্ত্র বলে গণ্য করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা।জিএসপি পেতে ১৬ শর্তের অগ্রগতি : যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে একটি অ্যাকশন প্ল্যান দেয়া হয় ইউএসটিআর কার্যালয় থেকে। তাতে ১৬টি শর্ত পূরণ করতে বলা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। শর্তপূরণের অংশ হিসেবে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়। আমিনুল হত্যাকাণ্ডের বিচারের চার্জশিটও দেয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কল-কারখানা পরিদর্শনের জন্য সম্প্রতি শর্তানুযায়ী ২০০ পরিদর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। আইএলওর সহযোগিতায় ওয়েবসাইটভিত্তিক ডাটাবেইজ তৈরি করা হয়েছে। সংশোধন করা হয়েছে শ্রম আইন। এখন বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। চিংড়ি খাতে শ্রমিকদের সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ইপিজেডে শ্রম আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বুয়েট টিম, অ্যালায়েন্স এবং অ্যাকর্ড যৌথভাবে পোশাক শিল্পের প্রায় আড়াই হাজার কারখানা পরিদর্শন করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে শ্রমমানের অগ্রগতি নিয়ে সার্বিক প্রতিবেদন আগামী ১৫ নভেম্বর ইউএসটিআরের কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।

স্বাস্থ্য খাতে বেসামাল দুর্নীতি

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তা সত্ত্বেও কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। অনিয়ম, দুর্নীতি ও নানা সীমাবদ্ধতা এর কারণ। একই কারণে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে মারত্মিক আর্থিক ক্ষতির শিকার হন রোগীরা, থাকেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
সরকারি হাসপাতালে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে দলীয়করণ ও অর্থ আদায় করা হয়। চিকিৎসক নিয়োগ ও পছন্দের স্থানে বদলি হতে ১০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়। হাসপাতালের ওষুধ, যন্ত্রপাতি, পথ্য ক্রয়ে দুর্নীতি নৈমিত্তিক ঘটনা। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে চিকিৎসকরা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার ফির ৩০-৫০ ভাগ পর্যন্ত কমিশন নেন। একইভাবে দালালরা কমিশন পায় ১০ থেকে ৩০ ভাগ।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে স্বাস্থ্য খাতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। এ সময় স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে ১৭ দফা সুপারিশ তুলে ধরে টিআইবি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার। উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপনির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক রফিক হাসান ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম।
প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, এ খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে কমছে। সরকার জনপ্রতি বছরে ৩৯০ টাকা বরাদ্দ রেখেছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে এ বরাদ্দের পরিমাণ ২ হাজার ৬৫২ টাকা হওয়া উচিত ছিল। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত জনবলের ২০ ভাগ পদ খালি। পদায়ন ও প্রশিক্ষণেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। টিআইবির মতে, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি না থাকলে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অর্জন আরও বেশি হতে পারতো। এসব কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি জনগণের অনাস্থা তৈরি হয় এবং বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
এ বিষয়ে যুগান্তরের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার বিকালে কয়েক দফা ফোন করা হয়। কিন্তু তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালগুলোতে চাহিদার তুলনায় শয্যার স্বল্পতা রয়েছে। যে কারণে রোগীরা অনেক ক্ষেত্রে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে শয্যা পায় না। প্রতি ১ হাজার ৬৯৯ জনের জন্য শয্যা রয়েছে একটি। ডাক্তার, নার্স এবং কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নেই। যা আছে সেগুলোর অধিকাংশই বসবাসের উপযোগী নয়। উপজেলা পর্যায়ে এ সমস্যাটি প্রকট। উপজেলা পর্যায়ে ডাক্তারদের বসার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও (কক্ষ, চেয়ার, টেবিল, টয়লেট ইত্যাদি) নেই। জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসকদের যানবাহনের সুবিধা নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক টিকিট কাউন্টার এবং নারী রোগীর জন্য বহির্বিভাগে পৃথক বসার ব্যবস্থা নেই।
জেলা সদর হাসপাতালে সিসিইউ, আইসিইউ, সিটি স্ক্যান যন্ত্র এবং লিফট নেই। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। উপজেলা পর্যায়ে এ সমস্যাটি আরও প্রকট। জেনারেটর থাকলেও তা চালানোর জন্য জ্বালানি তেলের বরাদ্দ পর্যাপ্ত নেই। হাসপাতালে মজুদ ওষুধের তালিকা কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেমন টানানো হয় না, তেমনি নিয়মিত তা হালনাগাদও করা হয় না।
অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে যন্ত্র সচল থাকে না। এছাড়াও আলট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে ফিল্ম ও ইসিজি যন্ত্রের অভাব রয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে, বিশেষ করে ডিজিটাল এক্স-রে, ইকো-কার্ডিয়াক, মাইক্রোস্কোপ প্রভৃতি ধরনের যন্ত্র। হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্সের অপর্যাপ্ততা রয়েছে। অনুমোদিত অ্যাম্বুলেন্সের সবগুলো সচল নয়।
অনিয়ম-দুর্নীতি : প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডহক চিকিৎসক ও কর্মচারী নিয়োগে দলীয় তদবিরের পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূত অর্থের লেনদেন হয়। এসব নিয়োগে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অতিরিক্ত নিয়োগ প্রদানের প্রচেষ্টা করা হয় এবং নিয়োগ প্রদানের আশ্বাসে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অ্যাডহক চিকিৎসক ও কর্মচারী নিয়োগে সুপারিশ ও অর্থ লেনদেন হয় আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ স্বাচিপ বা স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতা, কর্মচারী ইউনিয়ন নেতা, অফিস প্রধান সহকারী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে। অ্যাডহক চিকিৎসক নিয়োগে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বদলি দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাক্তারদের প্রতি স্টেশনে চাকরিকাল তিন বছর এবং দুর্গম ও পার্বত্যাঞ্চলে দুই বছর থাকার নিয়মটি মানা হয় না। দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির ও নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বদলি করা হয়। একই অবস্থা কর্মচারীদের মধ্যে বদলির ক্ষেত্রেও। প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মচারীরা দীর্ঘদিন একই জায়গায় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মধ্যে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। পরে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। বদলিতে অর্থের লেনদেন হয় সিভিল সার্জন অফিস ও অধিদফতর পর্যায়ে।
বদলির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা, চিকিৎসকরা উপজেলা ও জেলা সদর থেকে ঢাকায় বদলি ১ থেকে ২ লাখ টাকা, দুর্গম এলাকা থেকে সদরে, এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা এবং উপজেলা থেকে সদরে বদলিতে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা এবং সুবিধাজনক স্থানে দীর্ঘদিন অবস্থানের জন্য আড়াই লাখ বা তার বেশি টাকা ঘুষ দেন।
একই চিত্র পদোন্নতির ক্ষেত্রেও। ডিপিসি এবং এসএসবির মাধ্যমে পদোন্নতিতে দলীয় তদবির প্রাধান্য পায়। ডিপিসির মাধ্যমে পদোন্নতিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষের লেনদেন হয়। পদোন্নতিতে নিয়মবহির্ভূত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে পদবী, পদবীর সংখ্যা, কোন বিষয়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হবেন তার ওপর। ডিপিসির মাধ্যমে পদোন্নতিতে যে ধরনের অনিয়ম করা হয় সেগুলো হচ্ছে- চাকরির অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা না করা, উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা না করা, প্রকাশনাকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন না করা, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় পাস বিবেচনা না করা, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) সন্তোষজনক কিনা তা বিবেচনা না করা।
হাসপাতালের পথ্য, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পথ্যের সরবরাহকারী বাছাইয়ে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে। এতে আগ্রহী সব ঠিকাদারের দরপত্রে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকে না। ঠিকাদার দরপত্র কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমঝোতা আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ আদায় করে থাকে। দরপত্রে উল্লিখিত দ্রব্য সঠিকভাবে সরবরাহ করা হয় না।
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ অনুযায়ী বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগীর অপারেশন, চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধানের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং প্রতি ১০ শয্যার জন্য একজন সার্বক্ষণিক নিবন্ধিত চিকিৎসক, দুজন নার্স ও একজন সুইপার থাকার কথা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন টেকনিশিয়ান রাখা হয় না।
চিকিৎসকদের সঙ্গে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমিশনভিত্তিক চুক্তি থাকে। এ কমিশনের হার নির্ভর করে কোন ডাক্তার কতসংখ্যক রোগী পাঠায় তার ওপর। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, এ কমিশনের হার ৩০ থেকে ৫০ ভাগ পর্যন্ত হয়। একইভাবে দালালদের কমিশন ১০ থেকে ৩০ ভাগ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
অনেক ক্ষেত্রে প্যাথলজিস্ট না রেখে তাদের সিল ব্যবহার করে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করে রোগীদের রিপোর্ট প্রদান করা হয়। নিবন্ধিত কোনো মেডিকেল/ডেন্টাল চিকিৎসক বিএমডিসি কর্তৃক স্বীকৃত নয় এমন কোনো নাম, পদবী, বিবরণ ব্যবহার বা প্রকাশ করে মেডিকেল প্র্যাকটিস করতে পারবে না বলা হলেও এটি মানা হয় না।
সীমাবদ্ধতা : স্বাস্থ্যখাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতে বরাদ্দের হার ক্রমান্বয়ে কমছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৬ দশমিক ৫৮ ভাগ। বর্তমানে তা কমে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬০ ভাগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভালো মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য খাতে কমপক্ষে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বরাদ্দ এক শতাংশ বা তারও কম। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ হার ছিল ১ শতাংশ। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় দশমিক ৮৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দে উন্নয়ন ব্যয়ের হার ক্রমান্বয়ে কমছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট বরাদ্দের ৪১ দশমিক ৪ ভাগ থেকে কমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ৩ ভাগ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদর হাসপাতালের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় তা ব্যবহারের পূর্ণ ক্ষমতা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই। হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী জরুরি প্রয়োজনে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অর্থ খরচ করার ক্ষমতা সিভিল সার্জনেরও নেই।
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সার্বিকভাবে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য, আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসনীয় ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে সুশাসন নিশ্চিত করে কার্যকরভাবে দুর্নীতি ও বহুমুখী অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এ খাতে অর্জন ও অগ্রগতি আরও অনেক ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অর্জিত অগ্রগতির স্থায়িত্ব ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। স্বাস্থ্য খাতের মতো মৌলিক অধিকার খাতে আর্থিক বরাদ্দ বিব্রতকরভাবে নিুমানের। যার প্রভাবে স্বাস্থ্য অবকাঠামো, জনবল ও গুণগত চিকিৎসা সেবায় প্রত্যাশিত মান অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সঠিকভাবে জাতীয় প্রাধান্য নির্ধারণ অপরিহার্য।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি ১৭ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা, বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া, জনবল নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা দূর করা, পদোন্নতিতে যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনে যোগ্যতার বিভিন্ন সূচকে স্কোরিং ব্যবস্থা চালু করা, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় উদ্যোগে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো কার্যকর করা, চিকিৎসকের অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া, বিএমডিসির ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের ডিগ্রি ও যোগ্যতাসহ তালিকা প্রকাশ এবং নিয়মিত হালনাগাদ করা, ক্রয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়া চালু করা এবং বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণে তদারকি কার্যক্রম ব্যবস্থা জোরদার করা।

শেষ দিনে জয়ের জন্য লড়বে বাংলাদেশ

‘সকালে এক ঘণ্টার মধ্যে জিম্বাবুয়ের পাঁচ উইকেট নিতে হবে, এরপর আমাদের দ্রুত রান তুলতে হবে, পরে আবার ওদের দশ উইকেট নিতে হবে। কাজটা সহজ নয়’, তৃতীয় দিন শেষে বলেছিলেন সাকিব আল হাসান। কাল কঠিন কাজগুলোর প্রথমটি সারার দায়িত্ব নিলেন সাকিব নিজেই। এখন বাকিটা ঠিকঠাক হলে খুলনাতেও জয়! আজও আরও কিছু সময় ব্যাট করে জিম্বাবুয়েকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের শেষ কাজটা হবে ম্যাচের পঞ্চম দিনে জিম্বাবুয়ের ১০ উইকেট তুলে নেয়া। তাহলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত হবে মুশফিকুর রহিমদের। পাঁচ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে স্বস্তিতেই চতুর্থ দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। পাঁচ উইকেট হাতে রেখে ২৬৬ রানে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা। শেষদিনে এই রান করা সহজ নয় সেটাও জানালেন হাফ সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘চতুর্থ ইনিংসে কিন্তু দেড়শ’ রানও খুব কঠিন।’ মুমিনুল জানালেন জয়ই বাংলাদেশের লক্ষ্য। শেষদিনে জয়ের জন্যই ঝাঁপাবে টাইগাররা। আবার ৩০০-র কাছাকাছি রান তাড়া করে জেতা সম্ভব বলে মনে করছেন এলটন চিগুম্বুরা। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু ভুল শট খেলেছি আজ (কাল)। এগুলো আগামীকাল (আজ) শুধরে নিতে পারলে এই রান টপকানো সম্ভব।’ বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে দ্রুততম ১০০০ রানের মাইলফলক পার করেছেন মুমিনুল হক। সাকিব সেঞ্চুরির পর পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে মাহমুদউল্লাহর অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরি বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছে। কাল মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই এক ওভার ব্যাট করে ফেলল বাংলাদেশ। আগেরদিন এমন পরিকল্পনাই ছিল। সকালে সাকিব আল হাসান যেভাবে শুরু করেছিলেন তাতে কাজটা আরও সহজ হতে পারত। তবে রেগিস চাকাবভার সেঞ্চুরি এবং বাংলাদেশের মিডল অর্ডার কাজটা একটু কঠিন করে দেয়। দিনের পঞ্চম ওভারেই সফল হন সাকিব আল হাসান। আগেরদিনের ১৫৪ রান নিয়ে খেলতে নামা হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে ১৫৮ রানেই ফিরিয়ে দেন এই অলরাউন্ডার। একই ওভারে ফিরতে পারতেন ম্যালকম ওয়ালারও। কিন্তু ফাইন লেগে সহজ ক্যাচটা ছেড়ে দেন পেসার শাহাদাত। এ ওয়ালারকে ফিরিয়েই ১৩তমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন সাকিব। পরের ওভারে কাজটা আরও সহজ করে দেন পেসার রুবেল হোসেন। চাতারাকে ফিরতি ক্যাচে পরিণত করে এবং নাতশাই এম’শাংগুয়েকে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে। এরপর আগেরদিনের হাফ সেঞ্চুরিয়ান রেগিস চাকাবভার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ৩৬৮ পর্যন্ত যায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লিড পায় ৬৫ রান।
জিম্বাবুয়ে অলআউট হওয়ার পরই দর্শকরা ভেবে নেয় ম্যাচ জিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সমীকরণও তখন বাংলাদেশের পক্ষে। ৬৫ রানের লিড নিয়ে প্রথম কয়েক ওভার ধরে খেলার চেষ্টা করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও শামসুর রহমান। প্রথম ইনিংসে মন্থরতম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া তামিম কাল ২৫ বলে ২০ রানেই আউট হলেন। এরপর শামসুর রহমানও বেশিদূর এগোতে পারলেন না। তিন ও চার নম্বরে নামা মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহই বাংলাদেশকে বড় লিডের পথ দেখান। হাফ সেঞ্চুরি করলেন দু’জনই। খুলনার উইকেট কাল সকালে যেমন ছিল বিকালেও তেমনই। মুমিনুল ৫৪ রানে আউট হওয়ার পর সাকিবও টিকতে পারলেন না। এরপর মুশফিকের গোল্ডেন ডাকে হারের শংকা উঁকি দেয়। বাংলাদেশের রান তখন পাঁচ উইকেটে ১৪৫। ওয়ালারই নিলেন চার উইকেট। ম্যাচে ক্যারিয়ারের ১১তম হাফ সেঞ্চুরি করেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৬৩ রানে অপরাজিত মাহমুদউল্লাহ ও ২৩ রানে ব্যাট করা শুভাগত হোম আজ দ্রুত কিছু রান তুলবে এটাই প্রত্যাশা দলের। কাল তাদের ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই ভয় তাড়িয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারছে বাংলাদেশ।স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন দুই সচিবেরযুগান্তর রিপোর্টচাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন দুই সচিব। তারা হলেন স্বাস্থ্য সচিব মো. নিয়াজ উদ্দিন মিঞা ও সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব একেএম আমির হোসেন। বৃহস্পতিবার তাদের স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার আবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য সচিব মো. নিয়াজ উদ্দিন মিঞা এবং পিএসসি সচিব আমির হোসেনের স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া সংক্রান্ত আবেদন পেয়েছি।মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দু’জনসহ চারজনের সনদ বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশে ২২ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ অক্টোবর এ চার কর্মকর্তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে নোটিশের জবাব দেন তারা।মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া সংক্রান্ত চিঠি দুটি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবারই এ সংক্রান্ত দুটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফাইল দুটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এরপর তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয়ে ফেরত এলে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।সূত্র আরও জানায়, আমির হোসেনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমি ২৫ বছর চাকরি করেছি। এখন অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি।’ মো. নিয়াজ উদ্দিন মিঞার চিঠিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় তিনি স্বেচ্ছা অবসরে যেতে চান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে চিঠি দেয়া হলে তা চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং তা পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়া যাবে না।সনদ বাতিল হওয়া অন্য দুজনের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী ৩১ অক্টোবর অবসরে গেছেন। একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার বর্তমানে ওএসডি হিসেবে রয়েছেন। অন্যদিকে বেসরকারীকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়। এরই মধ্যে তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এমপি-ইউএনও চালান উপজেলা পরিষদ!

‘একটি গাড়ি, একটি অফিস আর একজন পিয়ন দিয়েই কার্যত চলছে উপজেলা পরিষদ। ক্ষমতা নেই, কাজও নেই। পৌর মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাও আমাদের চেয়েও অনেক বেশি ক্ষমতাবান।’
কথাগুলো বলছিলেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। এভাবেই তার চাপা ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে শনিবার টেলিফোনে যুগান্তরের কাছে তিনি আরও বললেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও আমরা অনেকটাই এতিম। ক্ষমতাসীন দলের এমপি (সংসদ সদস্য) ও ইউএনও’র (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) দাপটে বাস্তবে একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে দেশের উপজেলা পরিষদ।’
তালুকদার শামীমের মতো প্রায় একই সুরে প্রতিক্রিয়া জানালেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির নেতা মোজহারুল ইসলাম তালুকদার। তিনি যুগান্তরকে বলেন, সংসদ সদস্য ও আমলাদের আঁতাতের ফলে আজ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে উপজেলা পরিষদ। এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এটি বাস্তবায়ন করার কথা আমলাদের। অথচ বছরের পর বছর ধরে সেটি ঝুলে আছে। এতে প্রমাণ হয়- আমলারা চান না তাদের চেয়ে জনপ্রতিনিধিরা ক্ষমতাবান হোক। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও ক্ষমতার সবই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে, সবকিছুই তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন। উপজেলাকে শক্তিশালী করতে হলে, পরিষদের উপদেষ্টার পদ থেকে সংসদ সদস্যদের বাদ দিয়ে আইন সংশোধন করতে হবে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে উপজেলা পর্যায়ের সব দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেও কাজের জবাবদিহিতা।
প্রায় সব উপজেলা চেয়ারম্যানদের অভিন্ন অভিযোগ, উপজেলা পরিষদের নামে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ দেয়া হলে, তা সরকারি দলের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা নিয়ে যান। পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে এমপির পরামর্শ নেয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায়, এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানরা একেবারেই অসহায়। অথচ নিয়ম হল উপজেলা পরিষদ জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাঝে তা বিতরণ করবেন। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপনের বাজেট বরাদ্দ ও কার্যক্রম সার্বিকভাবে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে হওয়ার কথা। বাস্তবে তা এমপির পরামর্শে ইউএনও করে থাকেন। উপজেলা চেয়ারম্যানদের ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় পর্যায়ের ১৭টি দফতর দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এসব দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্টেশন ত্যাগ করলেও উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন না। এছাড়া ২০১০ সাল পর্যন্ত উপজেলা খাদ্য ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যানরা। কিন্তু এই দুই কমিটির সংশ্লিষ্ট দফতর উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত দফতরের তালিকায় না থাকায় ইউএনও নিজেই কমিটির প্রধান হন। অন্যদিকে অদ্যাবধি হস্তান্তরিত দফতরগুলোর অধিকাংশ কমিটির প্রধান করা হয়নি চেয়ারম্যান অথবা ভাইস চেয়ারম্যানদের।
তবে অনুসন্ধানে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি ব্যতিক্রম উপজেলা পাওয়া গেছে। এসব উপজেলার স্থানীয় এমপিদের অধিকাংশই হচ্ছেন জাতীয় পার্টি ও জাসদের। সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যানরা অপেক্ষাকৃত স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এমপিদের হস্তক্ষেপ না থাকায় ইউএনও উপজেলা চেয়ারম্যানদের ওপর অহেতুক দাপট দেখাতে পারেন না।
এ বিষয়ে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খোন্দকার আবু আশফাক বৃহস্পতিবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, আমার এলাকার এমপি জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। আমাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। তবে গত মেয়াদে নবাবগঞ্জের এমপি ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান। ওই মেয়াদের পাঁচ বছর তার কাছ থেকে সামান্যতম সহযোগিতা পাইনি।
উপজেলা পরিষদ আমলারাই নিয়ন্ত্রণ করছে বিষয়টি মানতে নারাজ বাংলাদেশ অ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। তিনি এ বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা পরিষদ সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। আইনে যার যার দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে। কাজেই ঢালাওভাবে অভিযোগ করলে তো হবে না। আর এ বিষয়ে আইন না দেখে বিস্তারিত মন্তব্য করাও ঠিক হবে না।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করলে দেশে পুনরায় কার্যকর হয় উপজেলা পদ্ধতি। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ৬ ধারায় বলা হয়েছিল- ‘ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করা হবে।’ এরই ধারাবহিকতায় ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি দেশব্যাপী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা ও আমলাতন্ত্রিক জটিলতায় গত ছয় বছরেও প্রকৃত অর্থে কার্যকর হয়নি উপজেলা পরিষদ। স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্র্ণ এ স্তরকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে জাতীয় পর্যায়ে কমিটিও গঠন করা হয়। এ কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন ১৬ জন সচিব ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয়। গত ছয় বছরে এ পর্যন্ত কমিটির বৈঠক হয়েছে ১১টি। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছে ৫ মাস আগে (চলতি বছরের ১১ মে)। এর আগের বৈঠকটি হয় এক বছর ৫ মাস আগে অর্থাৎ ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর। এসব বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তের অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ এ বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা পরিষদ কার্যকর করতে জাতীয় কমিটি থাকলেও তা ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। মাসের পর মাস পার হলেও তারা বৈঠকে বসেন না। আবার বৈঠকে বসলেও তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় না। অথচ এরশাদ আমলে প্রতিমাসে এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক হতো।
উপজেলা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দাবিতে ২০১১ সালের ১৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিদ্যমান আইনের সাংঘর্ষিক প্রজ্ঞাপন ও নির্বাহী আদেশ বাতিলসহ ৮ দফা দাবি জানায়। সর্বশেষ ৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সচিব সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবদের উদ্দেশে বলেন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও কোনো পরিবর্তন বা নতুনত্ব দেখা যায়নি উপজেলা পরিষদে। আগের মতো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠান।
আইন অনুযায়ী পাঁচশালা ও বিভিন্ন মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি এবং হস্তান্তরিত বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও কাজকর্ম তত্ত্বাবধান করবে উপজেলা পরিষদ। পাশাপাশি আন্তঃইউনিয়ন সংযোগ রাস্তা নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণসহ জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার কল্যাণ সেবা নিশ্চিত করবে তারা। এছাড়াও সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি, চোরাচালান, মাদকসহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত তৈরিসহ ১৮টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কাজ করার কথা বলা হয়েছে উপজেলা পরিষদ আইনে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদশা যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সংক্রান্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যানকে। অথচ কমিটির ১০ সদস্যের মধ্যে ৭ জনকেই মনোনীত করেন স্থানীয় এমপি। ১০ কমিটির সাতজনই যদি একজনের মনোনীত হয় তাহলে কমিটি প্রধানের ক্ষমতা কেমন তা সহজেই অনুমেয়। এছাড়া আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে (এসএমসি) উপজেলা চেয়ারম্যান দু’জন সদস্য মনোনয়ন দিতে পারত। পরে তা পরিপত্র জারি করে এ ক্ষমতাও এমপিদের দিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা উপজেলা পরিষদকে অকার্যকর ও ক্ষমতাহীন করে রাখা হয়েছে।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ যুগান্তরকে বলেন, সরকারই উপজেলা পরিষদকে অকার্যকর করে রেখেছে। সরকার আন্তরিক হলে উপজেলা পরিষদ কার্যকর ও শক্তিশালী হতে বাধ্য। সরকার মুখে মুখে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার কথা বললেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে আমলারাই এখন উপজেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রণ করছে এমন অভিযোগ করে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সাংবিধানিক অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে কাজে লাগাতে পারছে না নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা। ফলে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা উপজেলা পর্যায়ে শতাধিক কমিটি রয়েছে। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরাই এসব কমিটির প্রধান হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১২টি ছাড়া সব কমিটির প্রধান ইউএনও। আবার উপজেলা চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানরা যেসব কমিটির প্রধান, সেই কমিটির আর্থিক অনুমোদনের ক্ষমতা ইউএনওর হাতে রাখা হয়েছে। কাজেই চেয়ারম্যানদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কোথায়?
২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর উপজেলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠকে বলা হয়েছিল- ‘উপজেলা আইনের ৩৫ ধারার (২) (গ) উপধারা অনুযায়ী হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি এবং অন্যান্য ব্যয় বাবদ প্রদত্ত অর্থ উপজেলা পরিষদের তহবিলে জমা হওয়ার বিধান রয়েছে। বর্তমানে হস্তান্তরিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ উপজেলা পরিষদে অর্থ প্রদান না করে সরাসরি তাদের দফতরসমূহের অনুকূলে বরাদ্দ করছে। এটা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের সাব-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে ১৯৮৫ সালের মতোই উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে বেতন-ভাতা পরিশোধের সুপারিশ করা হয়। বিষয়টি চলতি বছরের ১১ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় কমিটির বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগ ও দফতরের জনবল উপজেলা পরিষদে ন্যস্তকরণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আগের মতোই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার কথাও বলা হয় সুপারিশে। প্রায় ছয় মাস পার হলেও এ ধরনের কোনো নির্দেশনা জারি করেনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮-এর সঙ্গে পাঁচটি নির্বাহী আদেশ ও প্রজ্ঞাপন সাংঘর্ষিক হওয়ায়, তা আইন পাসের পর থেকেই সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছে উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী এসব প্রজ্ঞাপন ও নির্বাহী আদেশ সংশোধন করারও নির্দেশ দেন। কিন্তু অদ্যাবধিও তা বাস্তবায়ন হয়নি। উপজেলা পরিষদের সার্বিক হিসাব রাখতে লোকবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) উপজেলা পরিষদের ফাইন্যান্স অফিসার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় সর্বশেষ সভায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পত্র জারির কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।
জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. শাহ কামাল যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় কমিটির নেয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।