Tuesday, August 19, 2025

ভারত যেভাবে ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার প্রধান বাধা by সালেহ উদ্দিন আহমদ

২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদ শেষ করার পথে, পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাগরিক, যাঁদের বেশির ভাগ উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবী।

হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ভারতীয়রা মোদিকে অভ্যর্থনা জানাতে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানের বিরাট আয়োজন করেছিল, যেটাকে বিবিসি বলেছিল,  ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি নেতার সর্ববৃহৎ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান।’ ৫০ হাজার দর্শক এবং ৪০০ শিল্পীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি ছিল জমজমাট। এই অনুষ্ঠানের নাম বাংলায় বলতে গেলে বলা যায়, ‘মোদি, আপনি কেমন আছেন?’

সেই অনুষ্ঠানে একজন অতিথি ছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি স্টেজে উঠে মোদির সঙ্গে কোলাকুলি করে এ সুযোগকে সম্পূর্ণ কাজে লাগালেন তাঁর নির্বাচনী প্রচারে। ভারতীয়দের বললেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার চেয়ে ভালো বন্ধু আপনাদের আর কখনো ছিল না।’ করতালিতে কেঁপে উঠল পুরো স্টেডিয়াম। প্রধানমন্ত্রী মোদিও তাঁর নির্বাচনী বই থেকে একটি লাইন টেনে এনে ডাক দিলেন, ‘আবকি বার ট্রাম্প সরকার’ বা আরেকবার ট্রাম্প সরকার।

২.

ভারতীয়দের কাছে সেসব দিন ছিল একসময় মধুর স্মৃতি; আর এখন শুধু মরীচিকা। ট্রাম্পকে ভারতীয়রা তাদের সত্যিকার বন্ধু হিসেবে ধরে নিয়েছিল এত দিন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের স্ত্রী ভারতীয়—এটা নিয়ে ছিল তাঁদের গর্ব।

ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এইচ-ওয়ান ভিসার শর্ত শিথিল করে দিলেন, যেন ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা ও থাকা সহজ হয়। ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক যখন প্রথম ঘোষণা করা হয়, ভারতের জন্য রাখা হয়েছিল ২৫ শতাংশ আর বাংলাদেশের জন্য ৫০ শতাংশ। মনে হচ্ছিল, সব ভারতের অনুকূলেই চলছে।
কিন্তু ট্রাম্পের একটি সিদ্ধান্তে সব ওলট–পালট হয়ে গেল। এখন ট্রাম্পের শুল্ক তালিকায় ভারত হয়ে গেল সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত। ট্রাম্পকে যাঁরা জানেন, তাঁরা কি আশ্চর্য হয়েছেন?

হঠাৎ ট্রাম্প ভারতের ওপর খুব ক্রুদ্ধ হয়ে গেলেন। ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাঙা করে রেখেছে। ট্রাম্প মনে করেন, অর্থনীতি ভালো থাকার কারণে রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে চাচ্ছে না।

আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হয়ে গেল ১৫ আগস্ট। এই বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের পূর্ব বন্ধুত্ব আবার পুনঃস্থাপিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেটি ইউক্রেনের জন্য খারাপ খবর। ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া খুব বড় শক্তি, যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের চুক্তি করা উচিত।

ভারতের জন্যও খারাপ খবর আছে। বৈঠকের আগের দিন ট্রাম্পের মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ট্রাম্পের বরাত দিয়ে বলেছিলেন, আলাস্কা বৈঠকে যদি যুদ্ধ বন্ধ না হয়, ওয়াশিংটন ভারতের ওপর আরোপিত সেকেন্ডারি শুল্ক আরও বাড়াতে পারে। বেচারা নরেন্দ্র মোদি! মনে হয় তিনি এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়েছেন যেখান থেকে নিস্তার পাওয়ার সহজ কোনো উপায় নেই।

৩.

চীন হলো রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা। ট্রাম্প চীনকেও হুমকি দিয়েছিলেন তেল কেনা বন্ধ করতে; কিন্তু চীনকে হুমকি দিয়ে খুব সুবিধা করতে পারেননি; বরং চীনের সঙ্গে একটা সমঝোতা করেছেন। তাই সব চাপ যাচ্ছে ভারতের ওপর। তাঁর ধারণা, অন্তত ভারতের তেল কেনা বন্ধ করতে পারলে রাশিয়া যথেষ্ট কাবু হবে।

ট্রাম্প মনে করেন রাশিয়ার অর্থনীতিকে যদি কাবু রাখা যায়, তাহলে রাশিয়া তাঁর শরণাপন্ন হবে যুদ্ধ বন্ধ করতে। এই দীর্ঘ যুদ্ধ বন্ধ করে ট্রাম্প রাতারাতি বনে যাবেন শান্তির দূত ও নোবেল পুরস্কার পাওয়ার চূড়ান্ত প্রার্থী। ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল পুরস্কার পাওয়া নিয়ে তাঁর আকাঙ্ক্ষা ও আচ্ছন্নতা নিয়ে সব সময় সোচ্চার। তিনি এখন ভারতকে তাঁর এই প্রত্যাশার একমাত্র প্রতিবন্ধক মনে করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন যে তারা উভয়ে তাদের 'মৃত অর্থনীতিকে একসঙ্গে ধ্বংস করতে পারে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর মধ্যেই ভূকম্পন শুরু হয়ে গেছে। বিরোধী পক্ষ মোদির অসহায়ত্বের সুযোগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারণা আরও ধারালো করেছে।

ভারতের পক্ষে ইচ্ছা করলেও রাতারাতি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করা সম্ভব নয়। রাশিয়া থেকে তারা সস্তা দরে জ্বালানি তেল পায়। ভারত ইরান থেকেও আগে তেল কিনত ভর্তুকি মূল্যে। কিন্তু ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কড়াকড়ি করার পর, ইরানি তেল কেনা বন্ধ করতে হয়েছে। এখন তাদের একমাত্র উৎস রাশিয়া।

ভারত বিশ্বে তেলের তৃতীয় বৃহৎ আমদানিকারক দেশ। ১৩৫ কোটি লোকের দেশে হঠাৎ জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ বা অনিয়মিত হয়ে গেলে, একটা বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেবে। এতে ভারতের অর্থনীতিতে যে ধস নামবে, তা থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে ভারতের আরও এক দশক সময় লাগবে।

ভারতও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ভারতীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, নয়াদিল্লি নতুন মার্কিন অস্ত্র ও বিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে।

৪.

ট্রাম্পের শুল্কের আরেক বড় ভুক্তভোগী হলো ব্রাজিল। তাদের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সেখানে কারণটা ভিন্ন। ব্রাজিল তাদের এক ডানপন্থী ভূতপূর্ব প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর বিচার করছে। কারণ, যিনি নির্বাচনে হেরেও ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্প এই বিচার বন্ধ করতে চান।

শুল্ক কমাবার ব্যাপারে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বলেন, ‘আমি নিজেকে অপমান করব না।’

মোদি চাচ্ছেন ব্রাজিলের লুলা, রাশিয়ার পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে নিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে এই সংকট মোকাবিলা করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আগ্রাসনের বিপক্ষে একটি প্রতিরোধ গঠন করতে। এই মাসেই মোদি চীন যাচ্ছেন। চীন আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক নিয়ে মোটামুটি একটি বোঝাপড়া করে ফেলেছে। তারা এই কোয়ালিশনে যোগ দিলেও খুব সতর্ক থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প নিজ থেকে ছাড় না দিলে লুলা, পুতিন, সি চিন পিং ও মোদি কতটুকু প্রতিরোধ করতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

এদিকে ভারত অন্যভাবে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে। তারা প্রতিনিধি পাঠিয়ে কথাবার্তাও বলছে ও বিশ্বমঞ্চে তাদের বন্ধুদেরও কাজে লাগাচ্ছে। ভারতের অনেক ব্যবসায়ী এবং মোদির সমর্থকেরা মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য আমেরিকাবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলো, যেমন ম্যাকডোনাল্ড ও কোকা-কোলা থেকে শুরু করে আমাজন, অ্যাপল—এসব যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বয়কট করতে ভারতীয়দের আহ্বান জানাচ্ছে।

ট্রাম্পের বিশ্বে নতুন এক মাতবর হলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁর ‘দুর্দান্ত বন্ধু’ বলে অভিহিত করে বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হবে সে সম্পর্কে তিনি মোদিকে ‘কিছু পরামর্শ দেবেন, তবে ব্যক্তিগতভাবে।’

৫.

ট্রাম্প-মোদি শুল্ক সমস্যা নিশ্চয়ই আগামী তিন বছর ট্রাম্পের মেয়াদ পর্যন্ত ঝুলে থাকবে না। কীভাবে সমাধান হতে পারে তার কিছু সম্ভাব্য পথ আমি এখানে তুলে ধরছি।

ক. মোদি, পুতিন, সি, লুলা মিলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন। তাতে ট্রাম্প নমনীয় হবেন।

খ. ট্রাম্প ভারতের জন্য প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল সৌদি আরব বা অন্য কোনো মধ্যপ্রাচ্য দেশ থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে পারেন। তাতে মোদি পুতিন থেকে সরে আসবেন।

গ. মোদি অনেক দিন ধরে ক্ষমতায়। বিশ্বমঞ্চে তাঁর অনেক বন্ধু রয়েছেন, যেমন নেতানিয়াহু। তাঁরা ট্রাম্পকে বুঝিয়ে ভারতের শুল্ক একটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসবেন।

ঘ. শান্তির জন্য পরবর্তী নোবেল পুরস্কার ঘোষিত হওয়ার পর, ট্রাম্প তা পান বা না পান, তিনি আর ইউক্রেনের যুদ্ধ বা শান্তি নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। তখন ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কিনুক বা না কিনুক, তা নিয়ে তাঁর কোনো সমস্যা থাকবে না।

ঙ. মোদি ট্রাম্পকে শান্ত করার জন্য অন্য কোনোভাবে উপঢৌকন দেবেন। যেমন আন্দামান দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি করার অনুমতিদান।

আগস্টের ১৫ তারিখে ট্রাম্প ও পুতিন আলাস্কায় বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে মনে হচ্ছে— ট্রাম্প চাচ্ছেন, ইউক্রেন রাশিয়াকে জায়গা ছেড়ে দিক, না হলে তিনি ইউক্রেনকে সাহায্য ও সমর্থন বন্ধ করে দেবেন এবং ইউক্রেন রাজি হলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তি হবে। তখন যুদ্ধ থেমে যাবে। এরপর ভারতের ওপর রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের জন্য আর কোনো চাপ থাকবে না।

এর কোনটাতে যে ট্রাম্পের মন গলবে, তা আগেভাগে বলা সম্ভব নয়। কারণ, ট্রাম্পের অস্থিরতা। তিনি কখন কোন বিষয়ে মনোযোগ দেবেন, তা কেউ বলতে পারবেন না।

আমরা ট্রাম্পকে নিয়ে অনেক কথাই বলি—গ্রিনল্যান্ড দখল, এশিয়ায় ভূরাজনীতি, কানাডার একত্রীকরণ, পাকিস্তানপ্রীতি ইত্যাদি। এর কোনোটাতেই তাঁর কোনো স্থায়ী প্রত্যয় নেই। একবার একটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরে ছুড়ে ফেলেছেন। তবে একটি বিষয় সঠিক—কোনো কাজে তিনি যখন যাকে প্রতিপক্ষ ভেবেছেন, তার অবস্থা শোচনীয় করে ছেড়েছেন।

* সালেহ উদ্দিন আহমদ, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
- ই-মেইল: salehpublic711@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-02-21%2Frfvthj66%2FUntitled-3.jpg?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (বাঁয়ে) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করমর্দন করছেন। হোয়াইট হাউসে, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইসরাইলে নজিরবিহীন বিক্ষোভ

জিম্মিদের মুক্তি ও গাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে লাখ লাখ মানুষের ঢল ইসরাইলের রাস্তায়। রোববার সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয় তেল আবিবের ‘হোস্টেজেস স্কোয়ারে’। এর আগে দেশটিতে এত সংখ্যক মানুষকে বিক্ষোভে দেখা যায়নি। আয়োজকদের দাবি, সরকার গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরিকল্পনা করছে। সরকার এটা করছে, হামাসের হাতে বাকি জিম্মি প্রায় ২০ জনের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, দিনব্যাপী জাতীয় ধর্মঘট ও বিক্ষোভের অংশ হিসেবে বহু স্থানে সড়ক, অফিস ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন প্রায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিক্ষোভের সমালোচনা করে বলেন, এগুলো হামাসের অবস্থানকে আরও কঠোর করে তুলবে এবং জিম্মি মুক্তির প্রক্রিয়া ধীর করবে।

ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও বিক্ষোভের নিন্দা করে বলেন, এটি একটি ক্ষতিকর প্রচারণা, যা হামাসের হাতের খেলা।

জিম্মি পরিবারের ফোরামের অন্যতম নেতা আইনাভ জাঙ্গাউকার বন্দি মাতানের মা। তিনি জনসমাবেশে বলেন, আমরা একটি বিস্তৃত ও বাস্তবসম্মত চুক্তি এবং যুদ্ধের অবসান চাই। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই, আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। ইসরাইল সরকার একটি ন্যায্য যুদ্ধকে অর্থহীন যুদ্ধে রূপ দিয়েছে। তার ছেলে মাতানের একটি ভিডিও প্রকাশের পর আবেগঘন বক্তব্য দেন তিনি। বলেন, আমার হৃদয় জ্বলছে। আমার পুরো হৃদয় পোড়া ছাই হয়ে গেছে মাতানের জন্য। মাতান, আমি এবং পুরো জাতি আমরা তোমার জন্য, সব জিম্মির জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা গাজা সিটি দখল ও সেখানকার জনগণকে তাদিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার এক সপ্তাহ পরে এই বিক্ষোভ হয়েছে। তবে ইসরাইলের এমন উদ্যোগের কড়া নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এরই মধ্যে গাজার হাজারো বাসিন্দা দক্ষিণ গাজার জয়তুন মহল্লা থেকে পালিয়ে গেছেন। টানা কয়েক দিনের ইসরাইলি বোমাবর্ষণে সেখানে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে শহরের হামাস-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন জানিয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার হিসাব অনুযায়ী শনিবার ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলি বাহিনী গাজা সিটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষত জয়তুন এলাকায় ধারাবাহিক আক্রমণ চালাচ্ছে। ইসরাইলি সেনারা জানিয়েছে, তারা আবারও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে গাজায় তাঁবু নিতে দেবে। সেনাবাহিনীর সমন্বয়কারী সংস্থা কোগাট এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দক্ষিণ গাজায় জনগণকে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গাজায় তাঁবু ও আশ্রয় সামগ্রী সরবরাহ আবার শুরু হবে। ইসরাইলের পরিকল্পনা হলো গাজা সিটি থেকে দশ লাখ মানুষকে দক্ষিণে শরণার্থী শিবিরে জোরপূর্বক স্থানান্তর করা। তবে সেনারা কবে শহরে প্রবেশ করবে, সেই সময়সীমা স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নেতানিয়াহু চায় পুরো শহরটি ৭ অক্টোবরের মধ্যে ইসরাইলি দখলে নিতে।

mzamin
গাজা সিটিতে ইসরাইলের তীব্র হামলা: ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিরা আবার পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা সিটিতে ব্যাপক আক্রমণ চালাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তারা শেষ প্রধান জনবসতির কেন্দ্র দখলের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনি আবারও পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। গাজা সিটির জয়তুন, সাবরা, রিমাল ও তুফাহ এলাকায় হামলার চাপ সবচেয়ে বেশি। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ইসরাইলের পরিকল্পিত জোরপূর্বক এই স্থানান্তর গাজার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। জয়তুন থেকে হাজারো পরিবার পালিয়েছে। সেখানে টানা কয়েকদিনের হামলায় পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানান, দেইর আল-বালাহ এলাকায় গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা মানুষকে ঘরছাড়া করেছে। তিনি বলেন, জয়তুন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। হঠাৎ গোলাবর্ষণ শুরু হলে কেউ সেখানে থেকে যায়, কেউ পালায়। সহিংসতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধার্ত ও বিধ্বস্ত মানুষ আবার সব ফেলে পালাতে বাধ্য হয়। গত সপ্তাহে ইসরাইল গাজা সিটির আরও গভীরে প্রবেশ করে বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। তাদের এ উদ্যোগের নিন্দা জানানো হয় আন্তর্জাতিকভাবে।

ইসরায়েলি বসতি স্থাপন পরিকল্পনা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে ‘কবর’ দেবে: স্মোত্রিচ

ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেছেন, দখলকৃত পশ্চিম তীরে বিতর্কিত একটি বসতি স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে তিন হাজারের বেশি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এটি বাস্তবায়ন হলে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণার কবর হবে।

আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র বিরোধিতার মুখে কয়েক দশক ধরে জেরুজালেম ও মালে আদুমিম বসতির মধ্যবর্তী এলাকায় তথাকথিত ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্পের কাজ স্থগিত রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম থেকে পশ্চিম তীর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

স্মোত্রিচ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা রুদ্ধ হবে। কারণ, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কিছুই নেই এবং স্বীকৃতি দেওয়ার মতোও কেউ নেই।

আন্তর্জাতিক আইনে বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও ইসরায়েল এটি মানতে নারাজ। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে এগুলো অন্যতম বিরোধপূর্ণ ইস্যু।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ‘পিস নাউ’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১৬০টি বসতিতে প্রায় সাত লাখ ইহুদি বসবাস করেন। এসব জমি নিয়েই ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় ফিলিস্তিনিরা।

স্মোত্রিচ বলেন, ‘কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক চাপ ও স্থগিতাদেশের পর আমরা প্রথা ভেঙে মালে আদুমিমকে জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করছি। এটাই জায়নবাদের সেরা রূপ—বাড়ি নির্মাণ, বসতি স্থাপন এবং ইসরায়েলের ভূমিতে আমাদের সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করা।’

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানায়। তবে ইসরায়েল এ ধরনের উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছে। এরপর বসতি স্থাপনের এ ঘোষণা এসেছে।

ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সংগঠন ইয়েশা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইসরায়েল গানৎজ ও মালে আদুমিমের মেয়র গাই ইফ্রেচকে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন স্মোত্রিচ। তিনি বলেন, এই ভূমি ঈশ্বর ইহুদিদের উপহার দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশ চলতি বছরের শেষ দিকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তাদের জন্য এ পরিকল্পনা কী বার্তা দেবে, বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে স্মোস্ত্রিচ বলেন, ‘এটা কখনোই হবে না। স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কোনো রাষ্ট্রই থাকবে না।’

ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ ফাইল
ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইসরাইলি আইনপ্রণেতার ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়াঃ '১ ইসরাইলির বদলে ৫০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হওয়া উচিৎ'

ইসরাইলি আইনপ্রণেতার ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির সরকারের তরফে বলা হয়েছে, তারা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের একজন আইনপ্রণেতার ভিসা বাতিল করেছে। যিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ওই পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইলও পাল্টা অস্ট্রেলিয়ার কূটনীতিকদের ভিসা বাতিল করেছে।

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেছেন, ইসরাইলে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়া রাষ্ট্রদূতকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে,  অন্য অনেক দেশের মতো ইসরাইলের তেল আবিবে অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস রয়েছে। এছাড়া ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করে এমন কার্যালয় রয়েছে রামাল্লার পশ্চিম তীরে। গিদিয়ন সার এক্সের এক পোস্টে জানিয়েছেন, আমি ক্যানবেরাতে অবস্থিত ইসরাইলের দূতাবাসকে ইসরাইলে প্রবেশ করতে চায় এমন যে কারোর ভিসার আবেদন ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখতে। এসময় তিনি ইসরাইলিদের ভিসা বাতিলের অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে আখ্যা দেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে একে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য, আগামী মাসে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া। যা দ্বিরাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইসরাইলের ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালের স্ট্রমিচের ইহুদিবাদী দলের সংসদ সদস্য সিমচা রথম্যান বলেছেন, এই মাসে তার একটি ইহুদি সংগঠনের আমন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কথা ছিলো। তবে তিনি জানতে পারেন তার ভিসা বাতিল হয়েছে।

'৭ অক্টোবর প্রত্যেক নিহত ইসরাইলির বদলে ৫০ জন করে ফিলিস্তিনির মৃত্যু হওয়া উচিৎ'

৭ অক্টোবর প্রত্যেক নিহত ইসরাইলির বদলে ৫০ জন করে ফিলিস্তিনির মৃত্যু হওয়া উচিৎ। এখন তারা শিশু হোক বা না হোক তা কোনো বিষয় নয়। ইসরাইলের চ্যানেল ১২ টিভি স্টেশন দ্বারা সম্প্রচারিত রেকর্ডিংয়ে একথা বলতে শোনা গেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা প্রধান আহারোন হালিভাকে। যিনি ৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ছিলেন। আহারুন হালিভা বলেন, গাজায় নিহতের সংখ্যা, যা তিনি ৫০,০০০ এরও বেশি বলে মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের ‘ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে বার্তা’ হিসেবে ‘প্রয়োজনীয়’ ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মাঝে মাঝে একটি ‘নাকবা’ অনুভব করা প্রয়োজন, যাতে তারা ইসরাইলিদের ওপর হামলা চালানোর মূল্য বুঝতে পারে।’

নাকবা আরবি ভাষায় ‘বিপর্যয়’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর ৭ লক্ষাধিক ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়ি ও জমি থেকে বিতাড়িত ও গণ বাস্ত্যচুতির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

যদিও চ্যানেল ১২ প্রকাশ করেনি যে কীভাবে তারা রেকর্ডিংগুলো পেয়েছে বা হালিভা কার সঙ্গে কথা বলছিলেন। ইসরাইলিদের মধ্যে হালিভাকে বর্তমান সরকার এবং তার অতি-ডানপন্থী মন্ত্রী যেমন বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইটামার বেন-গভির সমালোচক হিসেবে মধ্যমপন্থী হিসেবে দেখা হয়, যা রেকর্ডিংয়ে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছিলেন। ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে
ইসরাইলের বেশিরভাগ নেতৃত্ব এবং গণমাধ্যম ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কে গণহত্যামূলক বক্তব্য ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে রয়েছে তাদের ‘মানব পশু’ হিসাবে বর্ণনা করা। যুদ্ধের উপর ইসরাইলের সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যে হামাস সদস্য নিহতের সংখ্যা প্রায় ২০,০০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই হালিভা জানতেন যে তার দেশের নিজস্ব হিসাব অনুসারেও নিহত বেশিরভাগ ফিলিস্তিনিই বেসামরিক নাগরিক।

হামাসের নেতৃত্বাধীন সীমান্তবর্তী আন্তঃসীমান্ত হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক এবং ২৫০ জনকে গাজায় জিম্মি করে রাখা হয়।

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের গণহত্যা সম্পর্কে হালিভার মন্তব্য অন্যান্য মূলধারার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়নি। বরং তারা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত ব্যর্থতার সতর্কীকরণের উপর আলোকপাত করেছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

দাতব্য রান্নাঘরের খাবার পেতে ফিলিস্তিনিদের আকুতি। আজ সোমবার গাজার খান ইউনিস এলাকায়
দাতব্য রান্নাঘরের খাবার পেতে ফিলিস্তিনিদের আকুতি। ৪ আগস্ট ২০২৫  সোমবার গাজার খান ইউনিস এলাকায়। ছবি: রয়টার্স