Wednesday, September 25, 2024

সাইফুজ্জামানের সম্পত্তি জব্দ করে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ফেরত পাঠাতে বৃটিশ এমপির চিঠি

বাংলাদেশে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বৃটেনে থাকা সকল সহায়-সম্পত্তি জব্দ করে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ফেরত দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বৃটিশ এমপি আপসানা বেগম। ২৪ সেপ্টেম্বর ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির মহাপরিচালক গ্রায়েম বিগারের কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি এসব সহায়-সম্পত্তির বিষয়ে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চেয়েছেন। আপসানা বেগম মনে করেন, বাংলাদেশের সাবেক এই মন্ত্রীর এসব সম্পত্তিতে দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক অপরাধের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

ওই চিঠিতে তিনি আরও বলেছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে নিরাপত্তারক্ষাকারী বাহিনীর দমন-পীড়নে কয়েকশত মানুষ নিহত হন। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর ব্যাপক এসব দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চিঠিতে আপসানা বেগম বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি সাইফুজ্জামান চৌধুরী, যিনি বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী, ইতিমধ্যেই তিনি কর সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তের অধীনে রয়েছেন, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করছে এবং দাবি করেছে যে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী যুক্তরাজ্যে মিলিয়ন মিলিয়ন  ডলার পাচার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এইচএম ল্যান্ড রেজিস্ট্রি এবং ইউকে কোম্পানি হাউসের রেকর্ডগুলোর বিষয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলো কমপক্ষে ২৮০টি সম্পত্তি রয়েছে, যার বাজার মূল্য ১৫ কোটি পাউন্ডেরও বেশি। আল-জাজিরার তদন্তে আরও জানা গেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী আমার নির্বাচনী এলাকা পপলার ও লাইমহাউসে ৭৪টি সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।
বৃটিশ ওই এমপি আরও লিখেছেন, আমি বিশ্বাস করি, প্রশ্নবিদ্ধ এসব সম্পত্তি বাংলাদেশের। সেগুলো বাংলাদেশের জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে তারা গণতন্ত্র ও নিজেদের স্বার্থে পরিচালিত একটি সমাজের জন্য কাজ করতে পারে। দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জীবন মান, কর্মস্থলের অধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এনসিএ মহাপরিচালকের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন অন্যায়ভাবে অর্জিত তহবিল পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইছে, আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকবো যদি আপনি স্পষ্ট করেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং এই দুর্নীতির তদন্তে অভিযুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্যভিত্তিক সব সম্পদ তদন্ত ও জব্দ করার জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই একমত হবেন যে, এই তহবিল জব্দ ও প্রত্যর্পণ করা শুধু ন্যায়বিচারের জন্যই নয়, বাংলাদেশের জনগণের অধিকারের ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে, এটি যুক্তরাজ্যের সুনাম ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের জন্যও অপরিহার্য।

mzamin

নতুন বাংলাদেশ গড়তে বিদেশি বন্ধুদের সহযোগিতা চাইলেন ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যুবসমাজের জীবন উৎসর্গ এবং অদম্য নেতৃত্বের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে। একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে তারা জীবন দিয়েছে। তরুণদের এই স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিদেশি বন্ধুদের সহযোগিতা চাই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ সহায়তা চান। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তরুণদের আত্মত্যাগ আমাদের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আমরা এই সুযোগ হারাতে চাই না। বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে তরুণরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। এটি বাস্তবায়নে আপনাদের সবার সমর্থন প্রয়োজন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য প্রাপ্তির ৫০তম বছর উদযাপন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে।

সংবর্ধনা আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আরও ছিলেন- পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।

প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো নিয়ে লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ড. ইউনূস বলেন, গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। যারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল আমরা তাদের হতাশ করতে চাই না। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বলেন, যুবসমাজের সামনে কোনো স্বপ্ন ছিল না। স্বৈরাচার তাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। তাই তারা স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে বুলেটের সামনে দাঁড়াতে পিছপা হয়নি।

বিদেশি বন্ধুদের উদ্দেশে নোবেল বিজয়ী বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা যে সাহস ও প্রত্যয় দেখিয়েছে, তা আমাদেরকে অভিভূত করেছে। বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে তারা পঙ্গুত্ব বরণ করতে পিছপা হয়নি। তিনি বলেন, তরুণদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে আমরা আপনাদের পাশে চাই। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশে নিউইয়র্ক সফররত প্রধান উপদেষ্টা গতকাল ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি আরও কয়েকটি বৈঠক ও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

mzamin

নখদন্তহীন দুদক কি তার শক্তি ফিরে পাবে? by বদরুল হুদা সোহেল

অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে সৃষ্ট এ প্রতিষ্ঠানটিকে সরকার যেন ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করতে না পারে তার ব্যবস্থা এখনই নিতে হবে। দেশের জনসাধারণ সাক্ষী গোপাল হয়ে এতদিন সবকিছু প্রত্যক্ষ করেছে। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদক দুর্নীতির প্রশ্নে আবার সরব হয়েছে। সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে এর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যাবে। গত মাসের শেষদিকে দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় টিআইবি ৫৫ দফার একটি প্রস্তাব রাখে। এর মধ্যে দুদকের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়।

সেনাসমর্থিত ড. ফখরুদ্দীন আহমদ সরকারের অব্যবহিত পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতি দমন কমিশনে যোগদানের পর এক সম্মেলনে দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান গোলাম রহমান দুদককে নখদন্তহীন বাঘের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই সঙ্গে বাঘের সব নখ কেটে দেয়ার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষমতাহীন করার প্রক্রিয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। তার মেয়াদপূর্তিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায়কালীন সৌজন্য সাক্ষাতে চার বছরে দুদক আইন সংশোধন করতে না পারার আফসোস ও অসন্তোষের কথাও প্রকাশ করেন তিনি। তার একযুগ পর মহামারি করোনাকালীন ২০২১ সালে হাইকোর্ট এক পর্যবেক্ষণে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দন্তহীন বাঘের মতো আচরণ বা দন্তহীন বাঘ হলে চলবে না বলে মন্তব্য করেন। একই সালে দুদকের বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুদককে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও জনগণের আস্থার প্রতিদান সেভাবে দিতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন। দুদক কাণ্ডারি দুদক চেয়ারম্যানরাই যদি তাদের কার্যাবলী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তাহলে বুঝতে বাকি নেই ‘ডাল মে কুচ কালা হে’।

গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আন্দোলনকারী ছাত্রদের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন রাষ্ট্র সংস্কারের কথা ভাবছে। বিগত সরকারের আমলে  সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাগামহীন দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার গল্প এখন গণমাধ্যমগুলোর অন্যতম  খোরাক। ঠিক এই সময়ে সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে দুদক সংস্কার কমিশনে প্রধান হিসেবে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে দায়িত্ব দেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান নখদন্তহীন দুদককে সংস্কার করে কোথায় নিয়ে যেতে পারবেন, তা সময়ই বলে দিবে। তবে তার হাত লাগলে দুদকে নখদন্ত গজানো শুরু করবে- এমনটা আশা করা যেতেই পারে। দুদকের বর্তমান গতিপথ কোনদিকে তা আলোচনার আগে এর প্রেক্ষাপট নিয়ে একটু কথা বলার প্রয়োজন বোধ করি।

মূলত দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়। সমাজের সর্বস্তরে প্রবাহমান একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতির চর্চা এবং এর প্রসার সুনিশ্চিত করার রূপকল্প রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। কমিশনের আইনেই স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, এটি হবে একটি স্বাধীন, স্বশাসিত ও নিরপেক্ষ কমিশন। কিন্তু কাগজে লেখা আইনে ‘স্বাধীন’ ও ‘নিরপেক্ষ’ শব্দগুলো বলা হলেও বাস্তবিক পক্ষে কমিশন তার স্বাতন্ত্র্য কতোটুকু ধরে রাখতে পেরেছে? আজ যে ব্যক্তিটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, কয়েক মাস আগেও দুদকেরই করা মামলায় তাকে লোহার খাঁচার তৈরি আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সর্বোচ্চ অসম্মান করা হয়েছে। দুদক আইনজীবীরা মরিয়া হয়ে তার বিরুদ্ধে যেভাবে লেগেছিল, অন্য কারও ক্ষেত্রে এমন হয়েছে বলে জানা নেই। গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় ‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও চার মামলার প্রস্তুতি ছিল দুদকে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দায়ের করা আগের মামলাটিও মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রেসক্রিপশন পালনের অংশ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকেই ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদক অবস্থান নেয় মর্মে যে সংবাদটি এখানে প্রকাশিত হয় তার উত্তর হিসেবে দুদক কী বক্তব্য দিবে? দুদক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য এখন পর্যন্ত কি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে?

২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলে দুদক নড়েচড়ে বসে। দুর্নীতিবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ওই সরকার তৎপর ছিল বলে সাধারণ মানুষের (যারা রাজনীতির বাইরে)  বড় একটি অংশ ভেতরে ভেতরে ওই সরকারকে পছন্দ করে। সে সময় দেড় শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনীতিবিদ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করা হয় এবং জেলেও পুরে দেয়া হয়।
এই এক-এগারোর পট পরিবর্তনে ড. ফখরুদ্দীন সরকার ক্ষমতায় আসলে দুদক তার ইতিহাসে সবচেয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অজ্ঞাতকারণে দুদকের কার্যক্রম আবার স্তিমিত হয়ে পড়ে। শুধু চুনোপুঁটি ধরে লোকদেখানো কাজে ব্যস্ত ছিল প্রতিষ্ঠানটি। আর ওদিকে ক্ষমতাসীন সরকারের রাঘববোয়ালরা দুদককে থোড়াই কেয়ার করে করে ১৫টি বছর অতিক্রম করেছে।

মোটা দাগে বলা যায় দুদক নামক প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দাবি করলেও বিগত বিভিন্ন সরকার তাদের মর্জিমাফিক কলকাঠি নেড়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহার করেছে। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকের উপর বিগত সরকারের কোনো প্রচ্ছন্ন প্রভাব ছিল কিনা তা এখন জানার সময় এসেছে। দুদক কি সরকারের একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান? যদি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদক প্রমাণিত হয়, তাহলে এর পেছনে দুদকের কোন কর্মকর্তারা দায়ী। এত বড় প্রতিষ্ঠানে এমন অনেকেই নিশ্চয়ই আছেন যারা টিকে থাকতে নিরুপায় হয়ে হয়তো সরকারের ইশারা ইঙ্গিতে সাড়া দিয়ে কাজ করে গেছেন।

সরকারের করায়ত্ত কীভাবে দুদকের ওপর বজায় রাখা যায় তার জন্য কিছু দুর্বল আইন বা বিধি আমার নজরে এসেছে। এর কয়েকটি নমুনা দেয়া যাক। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ক্রমিক নং ২৪ এ একদিকে বলা আছে “এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে কমিশনারগণ এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন”। অপরদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর অষ্টম অধ্যায়ে বলা আছে “কমিশন ইহার নিজস্ব কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্রেষণে অন্যত্র নিয়োগের জন্য সরকারকে অনুরোধ করিতে পারিবে এবং সরকার উক্তরূপভাবে অনুরোধপ্রাপ্ত হইলে উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সরকারের যেকোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা উহার অধীন সংস্থা বা অধিদপ্তর বা পরিদপ্তরের সমমর্যাদাসম্পন্ন পদে প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে”। একই অধ্যায় আরও বলছে যে, ‘কমিশন ইহার দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সরকারের যেকোনো মন্ত্রণালয়ের বা বিভাগ বা উহার অধীন সংস্থা বা অধিদপ্তর বা পরিদপ্তর হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগের জন্য সরকারকে অনুরোধ করিতে পারিবে’। উপরোক্ত বিধিমালার মোদ্দা কথা হলো সরকার অত্যন্ত সুচারুভাবে সুকৌশলে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দুদকে তার পছন্দসই ব্যক্তি ঢুকানো বা দুদক থেকে তার অপছন্দের ব্যক্তিকে বের করে দেয়ার একটি মসৃণ পথও রেখে দিয়েছে। এই কারণে এই বিধিমালার সঙ্গে দুদকের ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি সাংঘর্ষিক বলেই পরিগণিত হচ্ছে।

তাছাড়াও দুদক আইনে কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে যে বাছাই কমিটির কথা বলা হয়েছে সেখানেও নিরপেক্ষ কমিশনার পাওয়ার পথ অমসৃণ রয়েছে। উক্ত কমিটিতে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বা দলনিরপেক্ষ প্রথিতযশা কোনো সিনিয়র সাংবাদিককে সম্পৃক্ত করলে নিরপেক্ষ কমিশনার পাওয়ার পথটি সহজতর হতো। কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা প্রশ্নে আইনে, শিক্ষায়, প্রশাসনে, বিচারে বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্যূন ২০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা বলা হলেও কমিশনার নির্বাচনে শিক্ষা খাত সবসময় উপেক্ষিত থেকেছে।

মূল কথা হলো দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার দিতে হলে বিদ্যমান আইন সংস্কারসহ সম্পূর্ণ দুদককে ঢেলে সাজাতে হবে। দুদককে সরকারের প্রভাবমুক্ত করতে না পারলে প্রতিপক্ষকে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যাবে। সরকার ও আমলাতন্ত্রের করায়ত্ত থেকে দুদককে উদ্ধারের রাস্তা দেখানোর এখনই মোক্ষম সময়। দুদকের নিজস্ব ক্ষমতাকে শক্তিশলী করার জন্য এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন কিছু বিষয়-যেমন মানিলন্ডারিং আইন, কর আইন বা সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্তে পূর্বানুমতি-এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। কেননা, আইনের সঙ্গে আইনের সংঘর্ষ হলেই যেকোনা উদ্যোগ ভেস্তে যাবে।
অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে সৃষ্ট এ প্রতিষ্ঠানটিকে সরকার যেন ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করতে না পারে তার ব্যবস্থা এখনই নিতে হবে। দেশের জনসাধারণ সাক্ষী গোপাল হয়ে এতদিন সবকিছু প্রত্যক্ষ করেছে। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদক দুর্নীতির প্রশ্নে আবার সরব হয়েছে। সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে এর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যাবে। গত মাসের শেষদিকে দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় টিআইবি ৫৫ দফার একটি প্রস্তাব রাখে। এর মধ্যে দুদকের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। যেহেতু দুদকের মূল আইনটির খসড়া প্রণয়নে টিআইবি’র অবদান ছিল, সেহেতু দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামানই ভালো বুঝবেন দুদককে কীভাবে ‘নখ-দন্ত-থাবা’ ফিরিয়ে দেয়া যায়।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি বিভাগ।
ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কিশোরগঞ্জ।

mzamin

 

জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিল গঠন জরুরি by শহীদুল্লাহ ফরায়জী

বিশ্বে যখন মক্কেলরাষ্ট্র স্থাপন বা ক্রমবর্ধিষ্ণুভাবে আধিপত্য বিস্তারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আকাক্সক্ষা দৃশ্যমান হচ্ছে, অন্য রাষ্ট্রের ভেতর অভিযান পরিচালনা করে সার্বভৌমত্ব করায়ত্ত বা দখল করার প্রবণতা এবং আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, শক্তিশালী রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উপর হামলা, পারমাণবিক অস্ত্রের প্রভাব এবং প্রতিপত্তি ক্রমাগত বাড়ছে, তখন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা তথা ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিল’ গঠন নিয়ে সুগভীর বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দিলে বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী ’৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মধ্যদিয়ে গড়ে উঠেছে। বিশ্ব রাজনীতির আধিপত্যবাদী ও সর্বগ্রাসী মনোভাবকে চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে সশস্ত্রযুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা অপরিসীম। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের মুখে তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মৃত্যুকে উপেক্ষার মাধ্যমে অসাধারণ সাহসিকতার সঙ্গে, বিদ্রোহ করে স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়ায় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের কার্যকর ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। স্বাধীনতা অর্জনের প্রশ্নে জনগণের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনীর অকুতোভয় গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার ঐতিহাসিক মহত্ব এখনো আমরা যথাযথ নির্ধারণ করতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের পরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আমরা কোনো সামষ্টিক স্মারক নির্মাণ বা ইতিহাসের ভাগীদারবোধ বা অংশীদারিত্ববোধ নির্মাণ করতে পারিনি। বরং সংকীর্ণ রাজনৈতিক চর্চায় অনেকের অবদানকে ইতিহাস থেকে ক্রমাগত বহিষ্কার করে দেয়া হয়েছে, দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থের অন্তর্ভুক্তি করতে গিয়ে অংশীদারদের বীরত্বকে ছত্রখান করে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে ছাত্র এবং সেনাবাহিনীর অপরিসীম ভূমিকাকে বিলীন করে দিতে চাওয়া হয়েছে। ফলে এখনো পর্যন্ত সর্বজনগ্রাহ্য কোনো ইতিহাস নির্মিত হয়নি।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা, এই স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্ব, বীরত্ব ও সাহসিকতা-আত্মসাৎ করে যখন ‘এক নেতার এক দেশ’-এর ইতিহাস নির্মিত হয় তখন সমাজ বা দেশ আর সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয় না, সে পরস্পরের ভাগীদারবোধ তৈরি হয় না। জনগণের আকাক্সক্ষা-ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণ না হওয়ায় একেকজন রাজত্ব দখল করেছে, আবার কেউ এসে পূর্বতন রাজত্বকে বাতিল করে আবার নিজের রাজত্ব কায়েম করেছে।

পূর্বের বিশদ আলোচনাযোগ্য বিষয়ের দিকে না গিয়ে এই প্রবন্ধে গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার রাজত্বের কথা স্বল্প পরিসরে উল্লেখ করছি। তিনি ক্ষমতায় এসেই বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং জয় বাংলাকে দলীয় সম্পত্তি হিসেবে গ্রহণ করে মওলানা ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমেদ, সিরাজুল আলম খানের নিউক্লিয়াস, ২রা মার্চের পতাকা উত্তোলন, ৩রা মার্চের স্বাধীনতার ইশতেহার এবং জিয়াউর রহমানের সেনাবিদ্রোহ-সহ সবকিছুকে খারিজ করে দিয়েছিলেন। জাতির পিতাকে ব্যক্তিগত পিতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, বীরউত্তম-এর মতো রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বলার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। মূলত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর অপরিসীম আত্মত্যাগ এবং অন্যান্য অবদানকে শেখ হাসিনা অনবরত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন, অবজ্ঞা করেছেন, সর্বোপরি অস্বীকার করেছেন।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে আমাদের প্রতিরক্ষাবাহিনী তথা সেনাবাহিনীকে নৈতিকভাবে তছনছ করে দেয়া হয়েছে। পেশাদার, দক্ষ ও উচ্চতম নৈতিকতার অধিকারী সেনা কর্মকর্তাদের কারণে-অকারণে বরখাস্ত করা, অব্যাহতি দেয়া, পদোন্নতি রোধ করা-সহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা এবং ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে সেনাদের মনোবল ভেঙে দেয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার চেয়ে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ‘আয়নাঘর’ স্থাপন করে সেনাদের পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক দক্ষ সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন অজুহাতে নতজানু রাখা। উল্লেখ্য, ফ্যাসিবাদী সরকারকে উৎখাতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর অপরিসীম ভূমিকা-দেশকে প্রচণ্ড রক্তাক্তসংঘাত ও নৈরাজ্য থেকে রক্ষা করেছে।

এখন বাংলাদেশে গণমুখী ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির দরজা উন্মুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা ও সামাজিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রায়োগিক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে নির্মাণ করা আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই অনিবার্য হয়ে পড়েছে। গণহত্যায় দায়ীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। ফ্যাসিবাদী সরকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কাঠামোগত প্রবঞ্চনা এবং ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করার ছলাকলা ছাত্র-জনতা ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে উন্মোচিত করে দিয়েছে প্রতারণার যাবতীয় কৌশল।
প্রত্যেক রাষ্ট্রই বৈরী রাষ্ট্রের আক্রমণ থেকে বা অপর কোনো রাষ্ট্রের সীমান্ত অতিক্রমের আকাক্সক্ষা থেকে নিজেকে সুরক্ষার প্রয়োজনে শক্তিশালী ‘প্রতিরক্ষাবাহিনী’র গঠন অনিবার্য হয়ে পড়ে। কারণ বিশ্বে বহু শক্তিশালী রাষ্ট্র রয়েছে যারা আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়াই শক্তির ব্যবহার করে বা সম্প্রসারণের দ্বারা অন্য রাষ্ট্রকে করায়ত্বে আনে। নিরাপত্তা দেয়াল বা পৃথক্করণ দেয়াল বা শান্তি প্রক্রিয়া কিংবা রোডম্যাপের বয়ান-মূলত বিকল্পহীন চলমান যুদ্ধেরই প্রক্রিয়া। গত কয়েকশ’ বছরে অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রমাণ করেছে-সাধারণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দুর্বল রাষ্ট্রের সীমান্ত গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সীমানাকে বর্ধিত করা যায়। প্রতিপক্ষকে ভীতির মাধ্যমে গ্রাস করার প্রবণতা বিশ্বব্যাপী প্রবল। রাশিয়া ক্রমাগতভাবে ইউক্রেনের দখলীকৃত ভূমি নিজেদের ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্তি করছে। অভিযানের মাধ্যমে রাশিয়ার সীমান্ত বাড়ছে আর ইউক্রেনের সীমান্ত সংকুচিত হচ্ছে। ইসরাইল দিনের পর দিন গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, দখল করে যাচ্ছে, দখলীকৃত ভূমিতে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করার পরও আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় তা গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই আধুনিক বিশ্বে পরাশক্তি নজিরবিহীনভাবে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে এবং যাবে বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। শক্তিধর দেশগুলো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোর উপর হামলা-অভিযান বা আক্রমণ করার সহজাত এখতিয়ার যেমন প্রদর্শন করে তেমনি আক্রান্ত দেশগুলোর উপর যেকোনো সমরাস্ত্র প্রয়োগ করার ইচ্ছাও আড়াল করে রাখে না। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিবেশী দুর্বল দেশকে নিয়ন্ত্রণ বা দখল করার প্রদর্শনী প্রকল্প হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইসরাইল-প্যালেস্টাইন। এই আগ্রাসন সংক্রান্ত ইচ্ছাশক্তির বিশ্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব-ঝুঁকিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কের গুরুত্বও আমাদের অনুধাবন করতে হবে। বাংলাদেশ যেনো পরাশক্তির দৌড়ের মহড়ার ক্ষেত্রে পরিণত না হয় তাও আমাদেরকে বিবেচনায় রাখতে হবে। আজকের বিশ্ব ব্যবস্থায় সামরিক বা অর্থনৈতিক প্রশ্নে কূটনৈতিক সমর্থন পাওয়া যায় পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায়, কোনোক্রমেই তা মতাদর্শিক নয়। ফলে চিরস্থায়ী বন্ধু বা চিরস্থায়ী শত্রু বলার আখ্যান এখন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক বিদ্যমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিরক্ষা প্রশ্নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। এ লক্ষ্যে সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা নিম্নরূপ-

১) অতি ঝুঁকিবহুল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে আক্রমণাত্মক নয়, প্রতিরোধমূলক নীতির ভিত্তিতে অবিলম্বে ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিল’ গঠনপূর্বক যুগোপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করা।
২) ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকল নারী-পুরুষকে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
৩) র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (জঅই) সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্তির আইন দ্রুত বাতিল করা।
৪) প্রতিরক্ষাবাহিনী সমূহকে আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অভ্যন্তরীণ সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৫) বাংলাদেশকে ‘পরমাণু অস্ত্রমুক্ত’ এলাকা ঘোষণার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৬) যুদ্ধ ও পরমাণু যুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা।
আজকের বিশ্ব রাষ্ট্রব্যবস্থাতে সীমান্তকেন্দ্রিক রাষ্ট্র ও ভৌগোলিক নির্ভর রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রত্যেক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষাবাহিনী অনিবার্য। প্রতিরক্ষাবাহিনীর কৌশলের সাফল্য বা ব্যর্থতার উপর রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব নির্ভর করে।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কার্যকর জাতীয় ঐক্য এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতি ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার আর কোনো বিকল্প নেই। জাতির সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে সুরক্ষা দেয়াই প্রজাতন্ত্রের সকলের নৈতিক কর্তব্য।

লেখক: গীতিকার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
faraizees@gmail.com

mzamin


গাজার পর জ্বলছে লেবানন

গাজার পর এবার জ্বলছে লেবানন। সেখানে ইসরাইলি নৃশংসতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও সাধারণ মানুষ। নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৫৮ জন। এর  মধ্যে কমপক্ষে ৩৫ জনই শিশু। তারপরও ইসরাইল থেমে নেই। তারা অকাতরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তার যুৎসই জবাবও দিচ্ছে যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কমপক্ষে একশ রকেট হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে বিশ্ব সম্প্রদায় যেমন কিছুই করতে পারেনি, হয়তো সেই সাহস নিয়ে তারা লেবাননে আগ্রাসী হামলা চালাচ্ছে। হামাসের বিরুদ্ধে  যে অভিযোগে তারা গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, একই রকম অভিযোগ দাঁড় করেছে হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে।  লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসী হামলায় সোমবার ও মঙ্গলবার ৫৫৮ জন নিহত হওয়ার পর তেলআবিবমুখী ফ্লাইট বাতিল করেছে বৃটিশ এয়ারওয়েজ। যুদ্ধ তীব্র হয়ে ওঠার পর বৈরুতগামী কিছু ফ্লাইটও বাতিল করা হয়। কাতার এয়ারওয়েজ বলেছে, বুধবার পর্যন্ত তাদের বৈরুতগামী এবং  বৈরুত থেকে বহির্গামী ফ্লাইট অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, আমাদের কাছে যাত্রীদের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে। মঙ্গলবার সকালে বৈরুত-রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বোর্ডে দেখা যায়, বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে আছে ইস্তাম্বুল থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্স, প্যারিস থেকে এয়ার ফ্রান্স এবং আম্মান থেকে রয়েল জর্ডান। সাম্প্রতিক সময়ে বৈরুতে ফ্লাইট স্থগিত করেছে জার্মানির লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স এবং ডেল্টা এয়ার লাইন্স।

দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে নিউ ইয়র্কে চলমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। ইসরাইলের বরাবরের মতোই দাবি, তারা হিজবুল্লাহকে টার্গেট করে বিমান হামলা চালিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ইসরাইলের হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬ শত মানুষ নিহত হয়েছেন। কয়েক দশকের মধ্যে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েনি লেবাননের বাসিন্দারা। দক্ষিণাঞ্চলে হামলার ফলে তারা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে পালাচ্ছিলেন। তারা জানেন না কোথায় মিলবে নিরাপদ আশ্রয়। তবে উত্তরের দিকে ছুটছিলেন এসব মানুষ। এর ফলে উত্তরাঞ্চলে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অনলাইন আল জাজিরা।

গত বছর অক্টোবরে হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের সংঘাত শুরু হলে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় ইরান সমর্থিত গ্রুপ হিজবুল্লাহ। এরপর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সর্বশেষ লেবাননে পেজার ও ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের পর হিজবুল্লাহ-ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই হামলার আগে লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের জনগণের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘ইসরাইলের যুদ্ধ আপনাদের সঙ্গে না, এটা হিজবুল্লাহ’র সঙ্গে। অনেক দিন ধরেই হিজবুল্লাহ আপনাদের  (লেবাননের জনগণ) ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।’

এই ঘোষণার পর দক্ষিণ লেবাননের শহরগুলো ছাড়তে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। গাড়ি, ভ্যান, ট্রাক এবং বিভিন্ন যানবাহনে বোঝাই হয়ে শহর ছাড়তে দেখা যায় তাদের। কেউ কেউ একাই তার গাড়ি নিয়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। মায়েরা তাদের শিশুদের কোলে বা পিঠের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে নিয়েছেন, যেন তারা হারিয়ে না যায়।
আবেদ আফু নামের এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেছেন- আমরা ভীত। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের এক সড়কে তাকে তার গাড়ি নিয়ে পালাতে দেখা যায়। তিনি বলছিলেন, আমি শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পালাচ্ছি। আমাদেরকে ইসরাইলের হামলা ঘিরে ফেলেছে। ওই হামলা ছিল ভয়াবহ। পালানোর সময় আবেদের সঙ্গে তার ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সের তিন সন্তানও ছিল। আসলে তারা তখনো জানতেন না তাদের নিরাপদ আশ্রয় কোথায়?

mzamin

সেনাপ্রধানের বক্তব্য ইতিবাচক তবে অঙ্ক জটিল

অনেক কিছুই খোলাসা করে দিলেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। দৃশ্যত নির্বাচনের একটি পথরেখা উপস্থাপন করলেন তিনি।  জোর দিলেন সংস্কারেও। পরিস্থিতি যাই হোক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাক্ষাৎকারটি গতকাল ছিল ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ নিয়ে কথা বলেছেন। মুখ খুলেছেন রাজনীতিবিদরাও। কেউই তা নাকচ করেননি।

আগস্টের প্রথম সপ্তায় একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে। দেশকে আরও বেশি রক্তপাত থেকে রক্ষা করেন তারা। শেখ হাসিনার পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে এরপরও নানা বিষয়ে গুঞ্জন রয়ে যায়। বিশেষত নির্বাচনের একটি সময়সীমা প্রকাশের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে দাবি উঠে। সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারের বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কয়েকটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের সময়সীমার ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। সেনাপ্রধানই প্রথম এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দিলেন।  ১৮ মাস বা দেড় বছরের মধ্যে যাতে নির্বাচন হতে পারে সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সেনাপ্রধান। ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেন তার মিশন সম্পন্ন করতে পারেন সে কথাও বলেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার এখনো পুরোদমে সংস্কার কাজ শুরু করতে পারেনি। এরইমধ্যে একের পর এক চ্যালেঞ্জ আসছে। দৃশ্যত সংস্কারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনও দ্ব্যর্থহীন নয়। সরকার এখনো দুর্বল এবং এলোমেলো। সমন্বয় নেই নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। প্রশাসনে এখনো গতি আসেনি। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টাও চলছে। অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন সব দলকে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠিত হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। কারণ জনসম্পৃক্ততা না থাকলে কোনো সরকারই সফল হয় না।
এ অবস্থায় সংস্কার মিশন সম্পন্ন করা ড. ইউনূসের সরকারের জন্য সহজসাধ্য নয়। এর বাইরে জুলাই ম্যাসাকারে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করাও একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে গণতান্ত্রিক নির্বাচনই যে সরকারের প্রধান কর্তব্য তাও অনেকেই বলছেন। এ পরিস্থিতিতে সামনের দিনগুলোর অঙ্ক মেলানো একেবারেই সহজ নয়।
রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নানা ইস্যুতে কথা বলেন সেনাপ্রধান।  প্রধান উপদেষ্টাকে সহায়তা প্রশ্নে তিনি বলেছেন, তার পাশে থাকবো আমি। তাতে যা হয় হোক। এ জন্য তার পাশে থাকবো যেন, তিনি তার মিশন সম্পন্ন করতে পারেন। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করতে সহায়তা দেয়ার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। রয়টার্স লিখেছে, আগস্টের শুরুর দিকে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং তার বাহিনী ছাত্রদের নেতৃত্বে প্রতিবাদ বিক্ষোভের মধ্যে শেখ হাসিনার পাশ থেকে সরে দাঁড়ান। এতে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের পরিণতি নির্ধারণ হয়ে যায়। তিনি পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। সোমবার রাজধানী ঢাকায় নিজের অফিসে রয়টার্সকে এই সাক্ষাৎকার দেন সেনাপ্রধান। সেখানে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত অন্তর্বর্তী  প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে তার। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার রূপরেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিশ্ব জুড়ে নন্দিত ক্ষুদ্র ঋণ আন্দোলনের প্রবক্তা ড. ইউনূস ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ তৈরি করতে বিচারবিভাগ, পুলিশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অত্যাবশ্যকীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দায়িত্বে আসা সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, এসব সংস্কারের পর দেড় বছরের মধ্যে গণতন্ত্রে উত্তরণ করা উচিত। এক্ষেত্রে তিনি ধৈর্য ধরার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, যদি আপনি আমাকে প্রশ্ন করেন, তাহলে বলবো ওটাই টাইমফ্রেম হতে পারে, যে সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করা উচিত আমাদের।  
প্রতি সপ্তাহেই প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে সাক্ষাৎ হচ্ছে। তাদের মধ্যে ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। সেনাপ্রধান বলেন, টালমাটাল অবস্থার পর দেশে স্থিতিশীলতা আনার জন্য সরকারের প্রচষ্টায় সমর্থন আছে সেনাবাহিনীর। আমি নিশ্চিত- যদি আমরা একসঙ্গে কাজ করি তাহলে আমাদের ব্যর্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
রয়টার্স লিখেছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ১৯৭৫ সালে শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশ সেনা শাসনে চলে যায়। ১৯৯০ সালে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। এর মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করে দেশ। এসব টালমাটাল সময়ের মধ্যদিয়ে পেশাদার অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, তার নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না। সেনাপ্রধান বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কিছুই আমি করবো না। আমি একজন পেশাদার সেনা। সেনাবাহিনীতে আমার পেশাদারিত্বকে রক্ষা করবো। যদি সার্ভিসে থাকা কোনো সদস্যকে দোষী পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকা এজেন্সিগুলোতে কাজ করার সময় কিছু সামরিক কর্মকর্তা তাদের নির্দেশে কাজ করে থাকতে পারেন।
শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার পর থেকে প্রস্তাবিত ব্যাপক সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেনাবাহিনীও তাদের কর্মকর্তাদের অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এরই মধ্যে কিছু কর্মকর্তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে জানান সেনাপ্রধান। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি থেকে সেনাবাহিনীকে দূরে রাখতে চান সেনাপ্রধান। ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, এটা শুধু তখনই হবে যদি প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার কিছুটা ভারসাম্য থাকে, যেখানে সেনাবাহিনী সরাসরি প্রেসিডেন্টের অধীনে থাকতে পারে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এই মন্ত্রণালয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন প্রধানমন্ত্রী।  সেনাপ্রধান বলেন, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় এটা সংশোধনের দিকে যেতে পারে। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে কখনোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা উচিত নয়। সেনাদের রাজনীতি করা উচিত নয়।
ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে সহিংসতায় কমপক্ষে এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এই আন্দোলন দ্রুততার সঙ্গে সরকারবিরোধী রূপ নেয়। স্বাধীনতার পর এটাই ছিল এখানে সবচেয়ে রক্তাক্ত আন্দোলন। এই গণবিদ্রোহের কেন্দ্র ছিল ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা। এর সড়কে আস্তে আস্তে স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু শেখ হাসিনা প্রশাসনের নাটকীয় পতনের পর এখনো বেসামরিক সার্ভিস খাত যথাযথভাবে কাজ করছে না। প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার সদস্যের বাংলাদেশ পুলিশ এখনো বিশৃঙ্খল। দেশ জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে সেনাবাহিনী। ২০০৯ সাল থেকে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে জোরপূর্বক গুম হওয়া প্রায় ৬০০ মানুষের বিষয়ে তদন্তের জন্য হাইকোর্টের সাবেক একজন বিচারপতিকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

mzamin

আরব শেখদের লালসার শিকার ভারতের কুমারীরাও!

ভোগ-বিলাস আর যৌনতা ছাড়া যেন কিছুই বোঝেন না আরব শেখরা। এর পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালতেও কার্পণ্য করেন না তারা। নিজেদের যৌন চাহিদা মেটাতে তাদের প্রথম চাহিদা কুমারী ও কিশোরীরা। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কুমারী মেয়ে তাদের সবচেয়ে পছন্দ। দরিদ্র মুসলিম পরিবারের অভিভাবকরা বিপুল অর্থের লোভে নিজের মেয়েকে কথিত বিয়ে দেন শেখদের যৌন চাহিদা মেটাতে।

কিছুদিন পর যৌন চাহিদা মিটে গেল বিক্রি করে দেন কথিত সেই স্ত্রীকে। ভাগ্য খারাপ হলে মাসে মাসে হাত বদল হতে হয় কোনো কোনো কিশোরীকে।

আরব শেখদের বউবাজারে পরিণত হয়েছে ভারতের হায়দরাবাদ শহর। তারা কুমারী মেয়েদের খোঁজে ছুটে আসেন এই শহরে। শেখরা মূলত দেখতে সুন্দর ও আকর্ষণীয় শারীরিক গড়নের কারণেই হায়দরাবাদের মেয়েদের পছন্দ করেন। মূলত আরব শেখরা হায়দরাবাদের মেয়েদের বিয়ে করতে আসেন। আর পরিবারের অভাব-অনটনের কারণেই আরব শেখদের হাতে মেয়েকে তুলে দিচ্ছেন মা-বাবারাও।

কিন্তু সেই বিয়ে মাসের বেশি টেকে না। কারণ যৌন চাহিদা মিটে গেলেই অনীহা চলে আসে কথিত স্ত্রীর প্রতি। খোঁজ করেন আকর্ষণীয় ফিগারের আরেকজন কুমারীকে। বিপুল অর্থ ঢেলে পেয়েও যান কাঙ্ক্ষিত শয্যাসঙ্গী। এই তালিকায় তরুণ শেখদের চেয়ে বয়স্করাই বেশি।

৬০ কিংবা ৭০ বছর বয়সী শেখরাও বিয়ে করতে চান ১২-১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে। দরিদ্র পরিবারের বাবা-মায়েরাও অর্থের লোভে মেয়েকে তুলে দেন তাদের হাতে। বিনিময়ে তারা কিশোরীর পরিবারকে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত দেন। এ ছাড়া সুন্দর পোশাক, সোনা ও কখনো বাড়ি পর্যন্ত দিয়ে দেন।

ভাগ্য ভালো হলে কয়েক মাস পর্যন্ত সংসার টেকে খুব কষ্টে। না হলে মাস ঘোরার আগেই বিক্রি হতে হয় আরেক শেখের কাছে। রেহানা নামের এক কিশোরীকে বিয়ে করে কাতারে উড়াল দেন ৭০ বছর বয়সী এক শেখ। কাতারে গিয়ে কয়েক মাসের মাথায় অন্য এক শেখের কাছে রেহানাকে বিক্রি করে দেন তার স্বামী। এর পর চার বছরে আরও ১৪ শেখের কাছে তাকে বিক্রি করা হয়।

পুলিশ জানায়, হায়দরাবাদে কিশোরী মেয়ের খোঁজে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, সুদান ও সোমালিয়ার শেখরাই আসেন। মূলত পর্যটন ভিসা ও কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা ভিসা নিয়ে হায়দরাবাদে যাওয়ার পর শুরু হয় কিশোরীদের সন্ধান।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত



ড. ইউনূস-বাইডেন বৈঠক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন

ঐতিহাসিক বৈঠক হলো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যে। নিউ ইয়র্কে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকটি হয়েছে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে। জাতিসংঘ ভবনে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে জো বাইডেন ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকের সময় ড. ইউনূস ও বাইডেনের কুশল বিনিময়ের ছবিও প্রচার করে প্রেস উইং।

প্রেস উইংয়ের বার্তায় বলা হয়,  বৈঠকে ড. ইউনূস বিগত সরকারের আমলে সকল ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকা ও বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা জো বাইডেনকে জানান। অধ্যাপক ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, দেশ পুনর্গঠনে তার সরকারকে অবশ্যই সফল হতে হবে। এসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন যেকোনো সাহায্যে বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি দেশের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, তাহলে তাদেরও (যুক্তরাষ্ট্র সরকার) পূর্ণ সহযোগিতা করা উচিত। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জুলাই বিপ্লব চলাকালীন ও এরপরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আঁকা দেয়ালচিত্রের ছবি-সংবলিত ‘দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ শীর্ষক আর্টবুক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে উপহার দেন।

ঢাকা ও নিউ ইয়র্কের কূটনৈতিক সূত্রগুলো রাতে মানবজমিনকে এটা নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনায় দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কিন্তু নিউ ইয়র্কে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ঘটনা এটাই প্রথম। ৭৯তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বিতর্ক সেশন শুরু হয়েছে মঙ্গলবার সকাল থেকে। ওই আয়োজনে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাতে নিউ ইয়র্ক পৌঁছেছেন। আরও খোলাসা করে বললে, বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের সূচি ঠিক হওয়ায় পূর্ব-নির্ধারিত সময় একদিন এগিয়ে ২৩শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছান তিনি। অবশ্য তার অন্য কর্মসূচিও এগিয়ে আনা হয়েছে। সফরের প্রথমদিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছাড়াও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের প্রধান ভলকার তুর্ক, মরিশাসের প্রেসিডেন্ট পৃথ্বিরাজ সিংহ রূপন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলনের সঙ্গেও বৈঠক হয় তার। উল্লেখ্য, আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘে ভাষণ  দেবেন। 

mzamin

বিপ্লবের জন্য পরিচয় লুকানোর নজির আছে by কাজী জেসিন

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিপ্লব সম্পন্নের আগেই এইসব ভুল আমাদের পথচ্যুত করবে। লড়াই চলমান। লড়াই চলতে হবে যতদিন না বাংলাদেশ সত্যিকার গণতন্ত্রের গূঢ় অর্থ স্পর্শ করে।

চে গুয়েভারের সেই কথা মনে রাখা দরকার। “বিপ্লব কোনো আপেল নয় যে, পেকে পড়ে যাবে। আপনাকে তা পতিত করতে হবে।” আর এই বিপ্লবের আপেল পতিত করার পেছনে বিগত পনেরো বছর যারা ত্যাগ করে গেছেন তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। প্রতিরোধ ছিল, প্রতিবাদ ছিল, বিপ্লবের মালা তৈরির জন্য প্রস্তুত ছিল পাটাতন। এই পাটাতন প্রস্তুতে বিগত বছরগুলোতে যারা প্রাণ দিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না।

একজন সালমানের ডাকে ছাত্র-জনতা পথে নামেনি। কেউ একা এই গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক না। এই গণ-অভ্যুত্থানের ডাক দিয়ে গেছে আবু সাঈদ, মুগ্ধ’র মতো শহীদেরা। তবে সালমানের ত্যাগকে খারিজ করা হবে অসততা।
ইতিহাসে বিপ্লব সফল করার জন্য পরিচয় লুকানোর নজির আছে। লেনিন একটি ছদ্মনাম। এই ছদ্মনামে তিনি এমনভাবেই পরিচিত হয়েছেন যে,  তার নামের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে গেছে এই ছদ্মনাম।
লেনিনের আসল নাম ছিল “ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ”। রাশিয়ান সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি গঠনের সময় লেনিন ছদ্মনাম গ্রহণ করেন। সাইবেরিয়ার লেনা নদীর নামানুসারে তিনি নিজের নাম রাখেন লেনিন। ১৯০২ সালে, এই ছদ্মনাম ব্যবহার করে তিনি ‘কী করতে হবে’ শিরোনামে একটি বই রচনা করেন, যাতে বলা হয়-‘বিপ্লবের নেতৃত্ব এমন এক অনুশাসিত দলের হাতে থাকা উচিত, যাদের প্রধান কাজ হবে অধিকারের জন্য লড়াই করা’। রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের নেতা, লেনিন জারের গোপন পুলিশ ‘ওখরানা’ থেকে বাঁচতে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। ১৯০৫ সালের ব্যর্থ বিপ্লবের পর, লেনিনকে রাশিয়া ছেড়ে নির্বাসনে যেতে হয়। তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডে বসবাস করেন। সেখানে থাকাকালীনও তিনি তার পরিচয় গোপন রাখতেন, যাতে রাশিয়ার গোপন পুলিশ তাকে আটক করতে না পারে। ১৯১৭ সালে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির সহায়তায় তিনি রাশিয়ায় ফিরে আসেন।

১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লবের ঠিক আগে, যখন লেনিন পেত্রোগ্রাদে (বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গ) ছিলেন, তখন তাকে জারের পুলিশ এবং অস্থায়ী সরকারের পুলিশ থেকে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। সে সময় তিনি ছদ্মবেশে থাকতেন, যেমন- দাড়ি কেটে, চেহারায় পরিবর্তন এনে এবং বিভিন্ন জায়গায় গোপনে থেকে তিনি কাজ চালাতেন। অক্টোবর বিপ্লবের সময় যখন বলশেভিক ক্ষমতা দখল করে, লেনিন তখন তার পরিচয় গোপন রেখেছিলেন এবং বিপ্লব সফল হওয়ার পরই প্রকাশ্যে আসেন।
বিপ্লবের জন্য ছদ্মনাম ব্যবহারের আরও উদাহরণ আছে। আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা ‘আইরিশ রিপাবলিকান’ নেতা হিসেবে পরিচিত “উলফে টোন” একটি ছদ্মনাম। তার আসল নাম ছিল থিওবাল্ড উলফে টোন (ঞযবড়নধষফ ডড়ষভব ঞড়হব)। তিনি বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ১৮ শতকের আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন। টোন মূলত আয়ারল্যান্ডকে বৃটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্ত করতে এবং আয়ারল্যান্ডের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা অর্জন করতে চেয়েছিলেন।
টোনের পরিচয় গোপনের অন্যতম বিখ্যাত ঘটনা ঘটে ১৭৯৬ সালে, যখন তিনি ফ্রান্সের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে একটি বিপ্লব সংগঠিত করার পরিকল্পনা করছিলেন। বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ফরাসি সরকারের সমর্থন পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ফ্রান্সে গিয়েছিলেন এবং সেখানে ফরাসি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ফ্রান্সে থাকাকালীন নিজের আসল পরিচয় গোপন করতে বাধ্য হন, কারণ বৃটিশরা তার বিরুদ্ধে ছিল এবং তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি ছিল। তিনি তখন ‘জেমস স্মিথ’ নামে পরিচিতি নিয়েছিলেন।

১৭৯৮ সালে, আয়ারল্যান্ডে ফরাসি নৌবাহিনীর সহায়তায় একটি বিদ্রোহ সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে তিনি আয়ারল্যান্ডে ফিরে আসেন। কিন্তু ফরাসি এবং আয়ারল্যান্ডের বিদ্রোহীদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, এবং টোনকে বৃটিশ কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে। তার পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর তাকে ইংল্যান্ডে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে, টোন গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। যদিও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মারা যাননি, তবে কিছুদিন পর তিনি এই আঘাতের ফলে মারা যান।
অ্যালান মুরের ভবিষ্যৎ ডিস্টোপিয়ান ইংল্যান্ডের উপর লেখা গ্রাফিক উপন্যাস “ভি ফর ভেনডেটা” এর কথা বলা যায়,  যেখানে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। এই সরকারটি ‘নরসফায়ার’ নামে পরিচিত এবং তারা জনগণের সমস্ত স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে তাদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। জনগণকে সেখানে ভয় এবং প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে শাসন করা হয়, এবং যারা সরকারের বিরোধিতা করে তাদের নির্যাতন করা হয় বা হত্যা করা হয়। গল্পের মূল চরিত্র ‘ভি’ একজন রহস্যময় মুখোশধারী ব্যক্তি, যিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করছেন। তিনি একটি ‘গাই ফক্স’ মাস্ক পরে থাকেন, যা ১৬০৫ সালের গায় ফক্সের বিদ্রোহের প্রতীক। ভি সরকারের বিভিন্ন অত্যাচার এবং অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ভি-এর পরিকল্পনা হলো সরকারের কেন্দ্রীয় প্রতীক ‘পার্লামেন্ট ভবন’ উড়িয়ে দিয়ে জনগণের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন জ্বালানো। ভি নিজেই একটি পরীক্ষাগারে সরকারের দ্বারা বন্দি হয়েছিলেন এবং সেখানে তার উপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। সেই পরীক্ষার পর থেকে তিনি শারীরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেন এবং ধীরে ধীরে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করতে থাকেন।
“ভি”-এর কাহিনীর পাশাপাশি, ‘ইভি হ্যামন্ড’ নামে একটি মেয়ের গল্পও দেখানো হয় এই উপন্যাসে যাকে “ভি” একসময় রক্ষা করেন। ইভি একটি সাধারণ মেয়ে, যার জীবন সরকার এবং সমাজের অত্যাচারে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। “ভি” তাকে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা দেন এবং ধীরে ধীরে ইভি “ভি”-এর আদর্শকে গ্রহণ করেন এবং তার সহযোগী হয়ে ওঠেন। ইভি ভয় এবং আত্মসমর্পণ থেকে বেরিয়ে এসে সাহসের সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

গল্পের সবচেয়ে চমকপ্রদ মুহূর্তটি আসে যখন ভি তার সর্বশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, ৫ই নভেম্বর, গায় ফক্স ডে-তে, তিনি লন্ডনের পার্লামেন্ট ভবন উড়িয়ে দেবেন। এই দিনটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হবে, এবং ভি জনগণকে আহ্বান করেন যেন তারা তার সঙ্গে যোগ দেন এবং বিদ্রোহের মাধ্যমে তাদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেন।
উপন্যাসের শেষে, ভি তার মিশন সম্পন্ন করতে গিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দেন। তবে তার মৃত্যুর পরেও তার আইডিয়া এবং বিপ্লবী চেতনা বেঁচে থাকে। ইভি তার উত্তরসূরি হিসেবে পার্লামেন্ট উড়িয়ে দেয়ার কাজ সম্পন্ন করেন, যা এক প্রতীকী বিজয় হিসেবে ধরা হয়। ছবির শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ গায় ফক্সের মুখোশ পরে রাজপথে নেমে আসে, যা বোঝায় যে জনগণ এখন আর ভয় পায় না এবং তারা তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত।
ভি ফর ভেনডেটা-এর কাহিনী মূলত ব্যক্তিগত প্রতিশোধের সঙ্গে রাজনৈতিক বিপ্লবের মিশ্রণ, যেখানে ক্ষমতাহীন মানুষকে ক্ষমতা ফিরে পেতে উদ্বুদ্ধ করা হয় এবং ফ্যাসিস্ট শাসনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
ভি বিশ্বাস করেন, ‘আইডিয়াস আর বুলেটপ্রুফ’ মতাদর্শ কখনো মরে না, এমনকি যদি ব্যক্তি মারা যায়।
বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণ-অভ্যুত্থান কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। এই গণ-অভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়েছে শুধু ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের লক্ষ্যে। এরপর এসেছে রাষ্ট্র সংস্কার, যা দ্বিতীয় স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার ডাক। এই অভ্যুত্থান কোনো বিশেষ একটি ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়নি। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল ছাত্রদলের ছাত্ররাও। কোনো দলের কর্মী হলেই তার ছাত্র পরিচয় মুছে যায় না। সুতরাং এই গণ-অভ্যুত্থানে পরিচয় গোপন করে “শাদিক কাইয়ুম”  সালমান ছদ্মনাম নিয়ে কোনো অন্যায় করেননি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি লড়াইয়ে শামিল ছিলেন। যেমন লড়াইয়ে শামিল ছিলেন ছাত্রদলেরও অনেকে। রাষ্ট্র  যখন ঘাতকের মতো বন্দুক তাক করে প্রতিবাদমুখী মানুষের দিকে তখন লড়াই চালিয়ে যেতে ভি-এর “গায় ফস্ক” মাস্কের প্রয়োজন পড়ে।

এই আন্দোলনকে গণ-আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন শহীদেরা তাদের জীবন বিসর্জন দিয়ে। আর যারা জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে লড়াই  করেছেন তাদের প্রতি আমাদের চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত। বলাবাহুল্য এই অভ্যুত্থানে কোনো বিশেষ কারও ডাকে সাড়া দিয়ে কেউ পথে নামেনি। সকল দল এবং মতের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ছিল এই আন্দোলনে যাদের ডাকে জনতা পথে নামে। তাত্ত্বিকভাবে, এই কৌশলটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের তত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিপ্লবীরা যখন শাসকের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন পরিচয় লুকানোর মাধ্যমে তারা আড়ালে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যায়। আন্তোনিও গ্রামশি’র “হেজিমনি” তত্ত্ব অনুযায়ী, শাসক শ্রেণি তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু বিপ্লবীরা তাদের পরিচয় গোপন রেখে শাসকের এই ক্ষমতার কাঠামোকে ভেঙে দেয়। লেনিন, উলফে টোন, এবং ‘ভি ফর ভেনডেটা’-এর ভি চরিত্রটি দেখায় যে, হেজিমনির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে পরিচয় গোপন করাও একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।
হাসিনার কালো গ্রাস থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার ডাকে কোনো মুনাফিকি ছিল না। কাফেলা এক ছিল বলেই সাধারণ মানুষ জীবনের ভয় না করে রাজপথে নেমেছিল। আর এই আন্দোলনের ডাক কেউ একা দেয়নি। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিপ্লব সম্পন্নের আগেই এইসব ভুল আমাদের পথচ্যুত করবে। লড়াই চলমান। লড়াই চলতে হবে যতদিন না বাংলাদেশ সত্যিকার গণতন্ত্রের গূঢ় অর্থ স্পর্শ করে। চে গুয়েভারের সেই কথা মনে রাখা দরকার।

“বিপ্লব কোনো আপেল নয় যে, পেকে পড়ে যাবে। আপনাকে তা পতিত করতে হবে।” আর এই বিপ্লবের আপেল পতিত করার পেছনে বিগত পনেরো বছর যারা ত্যাগ করে গেছেন তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। প্রতিরোধ ছিল, প্রতিবাদ ছিল, বিপ্লবের মালা তৈরির জন্য প্রস্তুত ছিল পাটাতন। এই পাটাতন প্রস্তুতে বিগত বছরগুলোতে যারা প্রাণ দিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না।

mzamin

আরইবি’তে সাবেক এমপি শামীমের সাম্রাজ্য: এক প্রকল্প থেকেই ৩০০ কোটি লোপাট by মারুফ কিবরিয়া

কুমিল্লা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন শামীম। এমপি হয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে গড়ে তুলেছিলেন নিজের সাম্রাজ্য। সংস্থাটির যেকোনো প্রকল্পের ঠিকাদার ছিল শামীমের নিজস্ব মালিকানা প্রতিষ্ঠান টিএস ট্রান্সফরমার। জানা গেছে, আরইবি’র উপকেন্দ্র নির্মাণে ৭৭৩ কোটি টাকার দরপত্র ১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ ও স্মার্ট মিটার প্রকল্পে বেশি দর দিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় সাবেক এমপি শামীমের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন আরইবি’র একাধিক কর্মকর্তা। তারা জানান, দরপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে বিদ্যুতের এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের এই চেয়ারম্যান। অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও (বিএফআইইউ)। এরই মধ্যে সংস্থাটির পক্ষ থেকে তার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আরইবি’র খুলনা জোনের উপকেন্দ্র আধুনিকায়নের প্রকল্পেই ২২৭ কোটি টাকা বাড়তি বিল গুনতে হবে আরইবিকে। আগের কাজ শেষ না হতেই আরও একটি লটে সাবেক এমপি শামীমের প্রতিষ্ঠান টিএস ট্রান্সফরমারকে অস্বাভাবিক দরে কাজ দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে সরকারের পটপরিবর্তনের কারণে নতুন লটের যাচাই-বাছাইয়ের দাবি উঠেছে। প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত করা গেলে কমপক্ষে একশ’ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা।

সূত্র আরও জানায়, গত দেড় দশকে শামীম একটানা আরইবি নিয়ন্ত্রণ করে গেছেন। সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন তিনি। ২০২২ সালে ৮টি প্যাকেজের আওতায় ৩৭টি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের দরপত্র চাওয়া হয়। দ্বৈত খাম পদ্ধতির ওই দরপত্রে ৯টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও কৌশলে ৬ প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করে দেয়া হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কারণ জানতে চাইলে নানা রকম ভয়-ভীতি দেখানো হয়। নামকরা একাধিক কোম্পানি দরপত্র জমা দিলেও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দরপত্র বাতিল করা হয়। কাজ পাবে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান, সেটি নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন তাই করেছেন প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমান ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি)।

প্যাকেজ কেডি ডব্লিউ-১ এর আওতায় ছিল ৫টি (২*১০/১৪ এমভিএ) উপকেন্দ্র। প্যাকেজের প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৯৭ লাখ ৩৯ হাজার ২৮৪ ইউএস ডলার। কিন্তু টিএস ট্রান্সফরমার জেভি এনার্জি প্যাককে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬১ হাজার ৬৯ ইউএস ডলারে কার্যাদেশ দেয়া হয়। যা প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি। টিএস ট্রান্সফরমার জেভি এনার্জি প্যাককে মোট ৫টি প্যাকেজে ৩৫টি সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ দেয়া হয়, যার প্রত্যেকটিতে ৩০ শতাংশ দর বাড়িয়ে দেয়া হয়। এভাবে ৭৭৩ কোটি টাকার দরপত্রে ১ হাজার কোটি টাকা বিল প্রদান করে আরইবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরইবি’র এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের উপকেন্দ্র নির্মাণ দরপত্রে প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে এত বেশি বাড়িয়ে দেয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। টিএস ট্রান্সফরমার শুধু উপকেন্দ্র নির্মাণে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। স্মার্ট মিটার, ট্রান্সফরমার ও খুঁটি সরবরাহ থেকেও কয়েকশ’ কোটি টাকা লুটপাট করেছে। শফিউদ্দীনের অপর প্রতিষ্ঠান এসকিউ ওয়্যার অ্যান্ড ক্যাবলসের মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা দরে যে মিটার দেয়া হয়, একই মিটারের বিপরীতে আগের লটের বিল নিয়েছে ১২ হাজার টাকার উপরে। আরএফ মডিউলসহ সিঙ্গেল ফেজ মিটার ১২ হাজার ২৫৩ টাকা দরে বিল তুলেছে ২০২২ সালে। ওই টেন্ডারের ১০ মাস পর ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এ (প্যাকেজ ২৩-২৪ ঢাকা পিবিএস-১.০ অ্যান্ড এম-১) খোলা দরপত্রে একই মিটার মাত্র ৬৩৮২ টাকায় দর জমা দেয়। এমন সব অসঙ্গতি থাকলেও আরইবি’র তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চুপ ছিলেন।

সূত্র জানায়, ৪ লাখ ৯০ হাজার সিঙ্গেল ফেজ মিটার ক্রয় ও স্থাপনে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে শামীমের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিযোগিতামূলক কাজ দেয়া গেলে অর্ধেক দামে মিটার স্থাপন করার সুযোগ ছিল। সাবেক এমপি শামীমের এসব দুর্নীতি ও অনিয়মে আরইবি’র কিছু কর্মকর্তাও সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। যারা আরইবি’র স্বার্থ না দেখে টিএস ট্রান্সফরমারের পক্ষে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টিএস ট্রান্সফরমারকে কাজ দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন ওই প্রকল্পের পরিচালক মাহবুবুর রহমান, আরইবি’র সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) দেবাশীষ চক্রবর্তী।

সূত্রমতে, ৪ লাখ ৯০ হাজার মিটারের সঙ্গে এক হাজার ৬০০টি ডিসিইউ, ছয় হাজার ৪০০টি রিপিটারের মূল্য বিবেচনায় নিলে প্রতিটি মিটারের জন্য সরকারের ব্যয় দাঁড়াবে ২৫ হাজার ২০৬ টাকা। সব মিলিয়ে স্মার্ট মিটার স্থাপনের একটি লটে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার জালিয়াতি করা হয়েছে।
স্মার্ট প্রি-পেইড মিটারের আন্তর্জাতিক বাজারদর হিসাব করে দেখা গেছে, এই প্রকল্পের টেন্ডার জালিয়াতি করে পুকুরচুরি করা হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দরপত্রে চাওয়া সিঙ্গেল ফেজ ইলেকট্রিক মিটারের দাম ছয় ডলার থেকে শুরু করে ভালো মানের মিটারের দাম ৩৫ ডলার। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে এই মিটারের দাম সর্বনিম্ন ৭০০ থেকে শুরু করে ৪ হাজার ২০০ টাকা (এক ডলার সমান ১২০ টাকা)। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড যদি ভালো মানের মিটারের দরপত্রও আহ্বান করে তাহলে প্রথম লটে প্রতিটি মিটারে প্রায় আট হাজার ৫০০ টাকা বেশি দাম ধরে কাজ দিয়েছে। আর দ্বিতীয় লটের কাজেও প্রায় দুই হাজার ২০০ টাকা বেশি দামে কাজ দেয়া হয়েছে।

স্মার্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পে জালিয়াতি করায় সরকারের পাশাপাশি গ্রাহকদের ওপরও বাড়তি অর্থের চাপ পড়েছে। কারণ প্রতিটি মিটার ক্রয়ের অর্থ বাবদ গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে কেটে নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মিটার ক্রয়ে জালিয়াতির কারণে বাড়তি অর্থ গুনতে হয়েছে গ্রাহকদের। যদি সঠিক দামে এসব মিটার কেনা হতো তাহলে প্রতি মাসে মিটার চার্জ বাবদ গ্রাহকদের অনেক কম অর্থ পরিশোধ করতে হতো।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরইবি’র সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) দেবাশীষ চক্রবর্তীকে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিএস ট্রান্সফরমারের মালিক ও সাবেক এমপি শামীমের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমানও ফোন কলে সাড়া দেননি।  

mzamin

নির্বাচনী ব্যবস্থার সবদিক পর্যালোচনা করা হবে

নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারে সবদিক পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন এই সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনী ব্যবস্থার কী কী সংস্কার করা হবে-সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার সবদিক নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করবো এবং তার ভিত্তিতে সুপারিশ প্রণয়ন করবো। এটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব কিন্তু আমাদের নয়। আমাদের ১লা অক্টোবর থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯০ দিনের সময় দেয়া হয়েছে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কন্যাশিশুদের প্রতি যথাযথ বিনিয়োগের অভাবে তারা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে এবং তাদের অনেকেই মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মূলত বাল্যবিবাহের কারণে আমাদের কন্যাশিশুদের অনেকেই অল্প বয়সেই মা হয়ে যান। এর ফলে তারা অপুষ্ট শিশুর জন্ম দেন। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, চীন ও জাপানের মানুষ আগে অনেক খাটো ছিল, এখন পুষ্টি নিশ্চিত করার কারণে তাদের সেই অবস্থা আর নেই। তাই আমরা যদি কন্যাশিশুদের প্রতি বঞ্চনা করি, তাদের জন্য যথাযথ বিনিয়োগ না করি তাহলে আমাদের কন্যাশিশুরা পিছিয়ে পড়বে, যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য হবে আত্মঘাতী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর সৈয়দা আহসানা জামান এ্যানী বলেন, আমাদের সমাজে নারী ও কন্যাশিশুরা প্রতিনিয়ত সহিংসতার শিকার হচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ পর্যালোচনা করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই, পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে নবজাতক কন্যাশিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধা- কেউই আজ নিরাপদ নয়। ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) তথ্য বলছে, গত ২৩ বছরে সেখান থেকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন এবং দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় ৬২ হাজারের বেশি নারী ও শিশু সহায়তা পেয়েছে। মামলা হয়েছে মাত্র ১৯ হাজার ৪৪১টি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৬ থেকে সাড়ে ২২ হাজার মামলা হয়েছে। অন্যদিকে অনলাইনেও হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন আমাদের নারী ও কন্যাশিশুরা। তিনি বলেন, চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে মোট ২৮ জন কন্যাশিশু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, ২২৪ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, অপহরণ ও পাচারের শিকার হয়েছে ১৯ জন কন্যাশিশু, ১০ জন গৃহ শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, ১৩৩ জন কন্যাশিশু আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে, ৮১ জন কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে, ২০ জন কন্যাশিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮৭ জন কন্যাশিশুর পানিতে পড়ে মৃত্যুবরণের তথ্য পাওয়া গেছে।

mzamin

আজিজ আহমেদের দুই ভাইয়ের এনআইডি বাতিল

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের দুই ভাই হারিছ আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফের করা চারটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি’র জনসংযোগ পরিচালক শরিফুল ইসলাম গতকাল এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাতিল করায় এসব  এনআইডি’র বিপরীতে দেশে আর কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে না।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে আজিজ আহমেদের দুই ভাইয়ের এনআইডি নেয়ার ঘটনা তদন্তে গত জুন মাসে কমিটি করেছিল ইসি। এখন ইসি হারিছ ও তোফায়েলের করা চারটি ভুয়া এনআইডি বাতিল করলো।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য দেয়া অথবা তথ্য গোপন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের শাস্তি অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। কোনো ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করলে বা জ্ঞাতসারে ওই জাতীয় পরিচয়পত্র বহন করলে তিনি সাত বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো ব্যক্তি পরিচয়পত্র জাল করার কাজে সহায়তা করলে তারও সাজা সাত বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাসপোর্টও তৈরি করেছেন আলোচিত এই দুই ভাই। তাদের স্ত্রীরাও একই কাজ করেছেন। সেনাপ্রধান থাকার সময়েই আজিজ আহমেদের ভাইদের ভুয়া তথ্যে এনআইডি ও পাসপোর্ট করানোর ক্ষেত্রে তার প্রভাব খাটানোর বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

mzamin


একমাত্র মুসলিম সিটি মেয়রের ট্রাম্পকে সমর্থন! by হেলাল উদদীন রানা

যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র ‘মুসলিম সিটি’খ্যাত হ্যামট্রামিক শহরের মেয়র আমির গালিব আগামী জাতীয় নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্পকে তার এই সমর্থন ব্যাপক কৌতুহল ও নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এক্সে (সাবেক টুইটারে) গালিবের পোস্টটি রি-পোস্ট বা শেয়ার করেছেন স্বয়ং ট্রাম্প। ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত আমির গালিবের ট্রাম্পের প্রতি এই সমর্থন কিছুটা হলেও কমালাকে বেকায়দায় ফেলতে পারে এমন ধারণা অনেকের। কেননা এবারের নির্বাচনে মিশিগান সুয়িং বা দোদুল্যমান রাজ্য হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।যদিও গত ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই রাজ্যে বিপুল ভোটে জিতেছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি-ইসরাইল যুদ্ধ ইস্যুতে মুসলিম ভোটাররা বাইডেন প্রশাসন এবং ডেমোক্রাটদের ইসরাইলের প্রতি একচোখা নীতির কারণে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও কমালাকে নিয়েও মিশিগানে মুসলিম ভোটাররা এখনও  অনেকটা দ্বিধায় ভুগছেন। তবে শেষ পর্যন্ত নানাদিক বিবেচনায় অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে এমনটা মনে করছেন অভিজ্ঞজনরা। কমালাকে নির্বাচনে জিততে হলে মিশিগান রাজ্যে নিশ্চিত জয়লাভ করতে হবে।

হ্যামট্রামিক শহরের চতুর্দিকে প্রায় ডেট্রয়েট পরিবেষ্টিত এই শহরের পুরো সিটি কাউন্সিল মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে। হ্যামট্রামিক সিটির ৬ জন কাউন্সিলরের ৪ জন বাংলাদেশি-আমেরিকান মুসলিম এবং মেয়র আমির ও অপর ২ কাউন্সিলর ইয়েমেনি-আমেরিকান।

মেয়র গালিব তার সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ও এক্স -এ দেওয়া পৃথক পোস্টে বলেন, ট্রাম্প ও আমি সবকিছুতে একমত নই। আমি জানি তিনি নীতির মানুষ।তিনি ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচনে জয়লাভ করবেন কিনা জানি না, তবে এই কঠিন সময়ে তার পছন্দগুলি আমি সঠিক বলে বিশ্বাস করি।
ফলাফল যাই হোক না কেন আমি আমার সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত নই এবং আমি পরিণতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। এটি এবং অন্যান্য অনেক কারণে আমি প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে আমার সমর্থন ও এন্ডোর্সমেন্ট ঘোষণা করছি। আশা করছি ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হবেন।

হ্যামট্রামিক মিশিগানের একটি অতন্ত ক্ষুদ্র শহর। জনসংখ্যা মাত্র ২৮ হাজার ৪ শ ৩৩ জন। আয়তন ৫ দশমিক ৪১ বর্গ কিলোমিটার। হ্যামট্রামিক রিভিউ পত্রিকার তথ্যমতে, কমবেশি ১৩ হাজার ভোটার রয়েছেন। হ্যামট্রামিক সিটি কাউন্সিলর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবু মুসার মতে, জনসংখ্যার ৬০ ভাগের বেশি মুসলিম এবং দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসাবে বাংলাদেশিরা রয়েছেন। এই শহরে বাংলাদেশি ভোটার প্রায় ২ হাজার ৮ শ। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি হিসাবে ইয়েমেনিরা প্রথমে আছেন হ্যামট্রামিকে। ইয়েমেনি জনগোষ্ঠীর ভোটার রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার ২শ’র উপরে। বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৮ হাজারের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হয়।
ইউএস সেনসাসের তথ্য অনুযায়ী ওয়েইন কাউন্টির এই পৌর শহরে ঘনবসতি সবচেয়ে বেশি। হ্যামট্রামিক শহরে বিগত প্রায় দুই দশক ধরে মসজিদ থেকে মাইকে আযান প্রচার হয়ে আসছে। এখানে প্রায় ১৯টি ভাষাভাষী জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে আসছেন।

আগামী ৫ নভেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ দ্যা নিউইয়র্ক টাইসসের জরিপে জাতীয় পর্যায়ে কমালা এগিয়ে আছেন। এই জনমত জরিপে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্রাট প্রার্থী কমালা হ্যারিস ৫০ % ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প ৪৭% পয়েন্টে এগিয়ে আছেন।

mzamin

জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ হবে বিইআরসিতে by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

আগামী অক্টোবর মাসে জ্বালানি তেলের দাম কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। চলতি মাসে জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের  সঙ্গে মিল রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে হয়েছিল। তবে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল (জেট ফুয়েল) ও ফার্নেস অয়েলের দাম এখন থেকে নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত ১৮ই সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

বিইআরসি’র সূত্র বলছে, অক্টোবর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব এখনো পায়নি। তবে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। দাম নির্ধারণের প্রস্তাব আসা মাত্রই প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ হবে কিনা জানতে চাইলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নুরুল আলম মানবজমিনকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। উপদেষ্টা বাইরে আছেন। আসলে সিদ্ধান্ত হবে।

এতদিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েল নির্ধারণ করে আসছিল। অক্টোবর মাস থেকে এটি কার্যকর হবে। জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম এখন থেকে নির্ধারণ করবে বিইআরসি। তবে অন্য জ্বালানির বিষয়ে এখনো মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয়নি।

উল্লেখ্য, বিইআরসি আইনে সকল ধরনের জ্বালানির নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেয়া হয়েছে। তবে বিধিমালা অনুমোদন না হওয়ার অজুহাতে এতদিন জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিপিসি। ২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন পাসের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধা-বিচারিক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠিত হয়। গ্যাস ও বিদ্যুতের বিতরণ কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা এবং ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত বিইআরসি মূলত ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে। এ পর্যন্ত ১৩টি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আর ১২টি প্রবিধানমালা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আইনে সকল ধরনের জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার দেয়া প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধুমাত্র গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিইআরসি। ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করা হয়। তারপর থেকে নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করায় কার্যত বেকার হয়ে পড়ে আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠানটি। বিইআরসি গণশুনানির মাধ্যমে দাম চূড়ান্ত করায় ইউটিলিটিগুলোর নানা রকম অসঙ্গতি সামনে আসতো।
গত ২৭শে আগস্ট নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের আইন বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের একক ক্ষমতা ফিরে পায় বিইআরসি। গেজেটে বিইআরসি আইনে ৩৪ (ক) ধারা সংযোজন করে নির্বাহী আদেশে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা দেয়া হয় নির্বাহী বিভাগকে। গেজেটে ৩৪ (ক) ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম  করপোরেশনের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আমিন-উল আহসান মানবজমিনকে বলেন, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)তে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণের নির্দেশনা আসেনি।

কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর  জ্বালানি উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম মানবজমিনকে বলেন, আইন অনুযায়ী এখন থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সব জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করবে। আগামী মাস থেকে বিইআরসি’র মতামতের ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ না হলে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, চলতি মাসের জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের ফলে জনগণ কোনো সুবিধা পায়নি। বাজারে কোনো প্রভাবও পড়েনি। এতে শুধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়েছে। আমরা অন্তত ৩ বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছি। বিগত সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিইআরসি’র আইনকে শুধু খর্ব করেছে বললে ভুল হবে, বিইআরসি’র ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে। তাই বিইআরসিকে তার প্রকৃত শক্তি ফিরিয়ে দিতে হবে।

ক্যাব বলছে, বিইআরসি আইনের সংশোধনী ৩৪ ক বাতিল হয়েছে। ২০১২ সালে বিইআরসি প্রস্তাবিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের (পেট্রোল, ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ইত্যাদি) মূল্যহার নির্ধারণ সংক্রান্ত তিনটি প্রবিধানমালা কার্যকর দেখতে চাই ক্যাব। ক্যাব’র পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তায় ১১ দফা দাবি জানানো হয়। অন্যায় ও অযৌক্তিক ব্যয় রোধ করে ঘাটতি সমন্বয় ও পণ্য মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং সংকট মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ৩ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানির মূল্যহার বৃদ্ধি না করার দাবি জানানো হয়। বিইআরসি’র আওতায় বাংলাদেশ জ্বালানি রূপান্তর নীতি ২০২৪-এর আলোকে জ্বালানি খাত সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য একটি ‘জ্বালানি খাত সংস্কার কমিশন’-এর কথা বলা হয়েছে। কস্ট প্লাস নয় কস্ট বেসিসে লুণ্ঠনমুক্ত মুনাফাবিহীন সরকারি জ্বালানি সেবা দাবি ক্যাব’র।

mzamin

বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ভিআইপি সুবিধা পাবেন

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশের বিমানবন্দরে সেবার মান উন্নয়ন ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। আরেকটি সেবা আমরা চালু করতে যাচ্ছি- বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশে আসলে ভিআইপি সেবা পাবেন। একজন ভিআইপি এয়ারপোর্টে যেসব সুবিধা পান, লাউঞ্জ ব্যবহার ছাড়া আমরা সব সুবিধাই তাদের দেবো। গতকাল রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রুহুল আমিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আসিফ নজরুল বলেন, একজন ভিআইপি যখন এয়ারপোর্টে যান তখন তার লাগেজ নিয়ে একজন সঙ্গে থাকেন, চেক-ইন করার সময় সঙ্গে একজন থাকেন, ইমিগ্রেশন করার সময় পাশে একজন থাকেন। প্রাথমিকভাবে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের কর্মীদের টার্গেট করেছি। ইউরোপের কর্মীদের পরে করবো। প্রথম স্তরে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া এবং ফেরত আসা একজন কর্মী ভিআইপি ট্রিটমেন্ট পাবেন। লাউঞ্জ ব্যবহার করতে দেয়ার বিষয়ে আমরা পরে চিন্তা করছি, এটা অনেক পরের কাজ। আগামী দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে আমরা এটা করবো, বিমানবন্দরে যাওয়ার পর একজন কর্মীর যে অসহায় অবস্থা তৈরি হয় সেটি দূর করবো।

তিনি বলেন, কর্মী কোন গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন, চেকইন কীভাবে করবেন, ফর্ম পূরণ করা লাগলে কীভাবে করবেন, ইমিগ্রেশনে কোনো কাগজ চাইলে কীভাবে সেটি করবেন এসব কাজে নিয়োজিত থাকবে বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক। দরকার পড়লে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ট্রেনিং দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ করবো। আমরা এটি দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করবো। একজন প্রবাসী যেন কোনো অবস্থাতেই এয়ারপোর্টে হয়রানির শিকার না হন, অপমানিত বোধ না করেন এই ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে। এটা আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করে ছাড়বো।

উপদেষ্টা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যেসব প্রবাসীরা জীবন এবং জীবিকার রিক্স নিয়ে বিদেশে জেল খেটেছেন তাদের এই সেক্রিফাইস আমরা সবাই মনে রেখেছি। তাই আজকে তাদের বিষয়ে আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ৫৭ জন যারা ফেরত এসেছেন তাদের বাইরে আমরা মোট ৮৭ জনকে এনলিস্ট করেছি। এই ৮৭ জনকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রবাসী কল্যাণে যেসব স্কিম আছে তার অধীনে সাহায্যের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কল্যাণ বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চাকরি কিংবা ব্যবসা করাসহ অন্য যেকোনো দেশে, যেখানে তারা যেতে পারবেন সে ব্যবস্থা করা হবে। মোট কথা, তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

আসিফ নজরুল বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে আগে শুধুমাত্র ঋণ পরিশোধের জন্য প্রবাসীরা টাকা পাঠাতে পারতেন। এখন থেকে প্রবাসীরা এই ব্যাংকে ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে রেমিট্যান্সও পাঠাতে পারবে, এ ব্যবস্থা করেছি। এই বিষয়ে বেসরকারি সিটি ব্যাংক আমাদের সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসীদের এতদিন যে ঋণ দিতো, তাদের সঙ্গে দেশের বৃহৎ আরও ১২ ব্যাংকও প্রবাসীদের ঋণ দেবে। এসব বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। প্রবাসীদের অনেক বেশি ঋণের প্রয়োজন আছে। ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলে আমরা জেনেছি ঋণ দেয়ার জন্য এক ধরনের গ্যারান্টির প্রয়োজন আছে, যেটা বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি, খুব দ্রুত এই ক্রেডিট গ্যারান্টির বিষয়ে সমাধান হবে। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের আরও কোনো শাখা না খুলে আমরা সোনালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে প্রস্তাবনা দিয়েছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যেসব জায়গায় সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংক আছে, সেখানে গ্রাহকরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সুযোগ সুবিধা পাবে।

mzamin

কলকাতার বুক থেকে হারিয়ে যেতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী ট্রাম

ভারতের একমাত্র শহর কলকাতা, যেখানে চলে ট্রাম। যা এবার কার্যত বন্ধ হওয়ার মুখে। কলকাতার রাস্তায় এখন আর মাত্র দুটো রুটেই চলে ট্রাম। তবে সেই দুই রুটেও এবার ট্রাম চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে শুধু ধর্মতলা থেকে ময়দান পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য চলবে একটি ট্রাম। এছাড়া শহরের বুকে বিছিয়ে থাকা ট্রামলাইনগুলো এবার তুলে ফেলা হবে। যানজট এবং দুর্ঘটনা এড়াতেই ট্রাম পরিষেবা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী।

বর্তমানে কলকাতার বুকে ২টি রুটে চলত ট্রাম যার একটি ছিল বালিগঞ্জ-ধর্মতলা, অপরটি শ্যামবাজার-ধর্মতলা রুট। তবে এই দুই রুটেও যাত্রী পরিবহন বন্ধ হবে ট্রামের। কলকাতার মনে এবং ইতিহাসের পাতাতেই থেকে যাবে ট্রাম। এই নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, 'এসপ্লানেড থেকে ময়দান পর্যন্ত হেরিটেজ আকারে একটি সুসজ্জিত ট্রাম থাকবে। যারা কলকাতায় আসবেন তারা চাপবেন। একটি জনস্বার্থ মামলা চলছে। কোর্টও জানতে চেয়েছে আমাদের সিদ্ধান্ত। বাকি কোনও রুটে ট্রাম চলবে না। লাইনও তুলে ফেলব। রাস্তা বাড়েনি। যান বেড়েছে। তাই যানজট হচ্ছে। এভাবে ট্রাম চালানো অসম্ভব।'

শহরে ট্রাম পরিষেবা চালু রাখার দাবিতে ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলায় রাজ্যের সিদ্ধান্ত জানতে চায় আদালত। এই আবহে এবার ১৫০ বছরের ঐতিহ্যের চাকা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে মুছে গিয়েছে অনেক কিছুই। দোতলা বাস, টেলিগ্রাম, গ্যাস বেলুন আরো কত কি। এবার কলকাতার বুকে আর যাত্রী নিয়ে ছুটবে না ট্রাম।

সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া

mzamin

পাবনায় পিকনিকের কথা বলে শিক্ষার্থীদের আদালতে সাক্ষ্য নেয়ার অভিযোগ

পাবনার চাটমোহরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পিকনিকের কথা বলে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে আদালতে একটি মামলায় সাক্ষ্য নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের পাচুড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা। পরে সন্ধ্যায় বিদ্যালয় চত্বরে অভিভাবক ও শিক্ষক পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জানান, সোমবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে ছাত্রছাত্রীদের ৩টি বাস ভাড়া করে পাবনা শহর অভিমুখে রওনা হন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক। ছাত্রছাত্রীদের পাবনা রানা ইকো পার্কে পিকনিকের গন্তব্য থাকলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে যান পাবনা আদালতে। এরপর সেখানে কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে প্রধান শিক্ষক তার ইচ্ছে মতো বয়ান শিখিয়ে দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দিতে বলেন। প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত শত্রুতাবশত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা ইভটিজিং মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করান এ সকল মেয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে। দীর্ঘ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান করায় অনেক ছাত্রছাত্রী ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে বাসায় ফোন করে তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি এলাকার সকল অভিভাবকদের এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসার পর অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

শফিকুল ইসলাম নামে অভিভাবক জানান, আমার মেয়ে এই বিদ্যালয়ে ক্লাস টেনে পড়ে। কয়েকদিন আগে আমার মেয়ে সানজিদা মিম আমাকে বললো আব্বু আমাদের স্কুল থেকে স্যারেরা পিকনিকে নিয়ে যাবে। এজন্য ২০০ টাকাও চাঁদা আমার থেকে নিয়েছে। দুপুরে ওরা পিকনিকে যাওয়ার পরে জানতে পারলাম, হেড মাস্টার ছেলে মেয়েদের পাবনা কোর্টে নিয়ে গেছে। আমি তো বিষয়টি জানার পরে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পিকনিকের কথা বলে কোর্টে কেন নিয়ে গেল আমার মেয়েকে। আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিচার চাই।

সালমা খাতুন জানান, আমার মেয়ে এই স্কুলে ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। আমি শুনলাম স্কুলের স্যারেরা আমার মেয়েসহ সকল ছাত্রছাত্রীদের পিকনিকের কথা বলে পাবনা কোর্টে নিয়ে গেছে। কেন এদের কোর্টে নিয়ে গেল আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। দুপুর থেকে মেয়ের অপেক্ষায় স্কুলে এসে বসে আছি, আমার মেয়েটা কখন আসবে।

প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যালয়ের মেয়েদের ইভটিজিং করার ঘটনায় কয়েক মাস আগে চাটমোহর থানায় আমি একটি অভিযোগ দায়ের করি। বর্তমানে অভিযোগটি পাবনা কোর্টে বিচারাধীন। সেই মামলায় সোমবার ১৫ জন মেয়ের আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের তারিখ ধার্য ছিল। পাবনায় মেয়েদের সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টি সকল ছাত্রছাত্রীরা জানার পরে তারাও তাদের সহপাঠীদের সঙ্গে পাবনা কোর্টে যেতে চায়। ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাই দুইশ’ টাকা করে চাঁদা তুলে এদিন তারা পাবনা রানা ইকোপার্কে পিকনিক করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারাই বাস ভাড়া করেছে, তারা সব আয়োজন করেছে। আমি শুধু পিকনিক স্পটে যাওয়ার আগে কোর্টে কয়েকজন মেয়েকে নিয়ে হাজির হয়ে আদালতে সেই মামলার সাক্ষ্য প্রদান করার ব্যবস্থা করিয়েছি। বিষয়টি আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারকে আগেই অবহিত করেছিলাম।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মগরেব আলী জানান, মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে আগেই বলেছিলেন পাবনা কোর্টে সাক্ষ্য প্রদান আছে শিক্ষার্থীদের। তবে পিকনিকের বিষয়টি তিনি আমাকে কিছু বলেননি। কোর্টে সাক্ষ্য প্রদানের কথা বলে সকল শিক্ষার্থীদের কোর্টে নিয়ে যাওয়ার কাজটি তিনি মোটেও ঠিক করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিদ্যালয়টির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদুয়ানুল হালিম বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। পিকনিকের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কোর্টে নিয়ে যাওয়ার কাজটি ঠিক হয়নি। পরবর্তীতে আমরা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

mzamin


বিজিবি’র অভিযানে সাংবাদিক হত্যার আসামি ওসি গ্রেপ্তার, ছেড়ে দিলো পুলিশ by রাশেদ আহমদ খান

হবিগঞ্জে বিজিবি’র অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ছাত্র আন্দোলনে সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যা মামলার আসামি সিলেট কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসিকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি। কিন্তু থানাতে হস্তান্তরের পর তার কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি বলে ছেড়ে দেয় পুলিশ। অন্যদিকে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত একটি পত্রে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পরের পত্রে গ্রেপ্তার করা হয়নি জানানোর পর দেখা দেয় ধূম্রজাল। শেষ পর্যন্ত হত্যা মামলার এ আসামিকে ছেড়ে দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিলেট ও হবিগঞ্জের সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ। তবে পুলিশ সুপার বলেছেন বিজিবি লিখিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেয়ায় তাকে ছাড়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সোমবার ভোররাতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে মাধবপুরের মনতলা গ্রামে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালায় বিজিবি টাস্কফোর্স। এ সময় মাধবপুরে নিজ বাড়ি থেকে কোতোয়ালি মডেল থানার সাবেক ওসি মঈন উদ্দিন শিপনকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি। রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মাধবপুর থানায়। পরে সিলেটে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক তুরাব হত্যা মামলায় ওসি শিপনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত একটি বার্তা পাঠায় হবিগঞ্জ পুলিশের বিশেষ শাখা। এ বার্তা প্রকাশিত হলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ফলাও করে প্রচার হয়। কিন্তু এরপর ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেয়ার খবর চাউর হলে দেখা দেয় নানা আলোচনা। পরে তার কাছে কোনো অস্ত্র না পাওয়ায় এবং বিজিবি’র সহকারী পরিচালক এয়ার হোসেনের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে আরেকটি বার্তা পাঠায় হবিগঞ্জ বিশেষ পুলিশ শাখা। আলোচিত এ পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে পুলিশ সুপারের একই রকম স্বাক্ষরে পাল্টাপাল্টি বার্তায় ধূম্রজাল ও নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মহলে। অনেকে অভিযোগ করেন, মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ বা পুলিশ বিশেষ কারণে হত্যা মামলার আসামি ওই কর্মকর্তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৯শে জুলাই সিলেটের বন্দরবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। ঘটনার এক মাস পর ১৯শে আগস্ট সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই আবুল আহসান। এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে। মামলার ২ নম্বর আসামি হলো- অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. সাদেক দস্তগীর কাউসার, ৩ নম্বর আসামি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ, ৪ নম্বর আসামি সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মিজানুর রহমান ও ৬ নম্বর আসামি করা হয় সে সময়ের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন। অজ্ঞাত আসামি করা হয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার রেজাউল হক খান জানান, ভুলে প্রাথমিকভাবে ড্রাফট করা চিঠিটি প্রকাশিত হয়ে যায়। পরে আমরা আসল চিঠিটি প্রকাশ করি। তিনি জানান, ওসি মঈন উদ্দিন সুনামগঞ্জ জেলা হতে ১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স (নং-০৫/২০২২- জগন্নাথপুর) গ্রহণ করলেও এ লাইসেন্সের বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করেননি। তার নামে ইস্যুকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সটি বৈধ কিনা এবং উক্ত লাইসেন্সের বিপরীতে আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করতে তাকে নিয়ে বিজিবি দল মাধবপুর থানায় যান। পরবর্তীতে মাধবপুর থানায় রক্ষিত বেসরকারি আগ্নেয়াস্ত্র রেজিস্টার যাচাই করে মঈন উদ্দিনের নামে কোনো আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তার হেফাজতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। অভিযোগ না থাকায় সোমবার সকাল ১১টার দিকে তাকে বাড়ি চলে যেতে দেয়া হয়। পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের প্রথম যে বার্তাটি প্রকাশ হয়েছে তা ছিল প্রাথমিক ড্রাফট। এটি কীভাবে প্রচার হলো আমি নিজেও জানি না। তবে পরে আমরা মূল বার্তাটি প্রদান করি। প্রকৃতপক্ষে ওসি মঈন উদ্দিন এখনো রাজশাহী রেঞ্জে চাকরিতে সংযুক্ত রয়েছেন। তিনি পলাতক না। তাই হত্যা মামলা বা যেকোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের প্রয়োজন হলে তাকে পাওয়া যাবে। তাই এ ব্যাপারে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। অন্যদিকে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে ঊর্ধ্বতন মহলের অনুমতি লাগে। তাকে গ্রেপ্তারে এ ধরনের কোনো অনুমতিও ছিল না। মূল কথা বিজিবি তাকে ধরেছে, তারাই আবার লিখিতভাবে জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাকে ছেড়ে দিনে তাদের কোনো আপত্তি নাই। তাই তাকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি। তবে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সঙ্গে মুখ খুলতে রাজি হয়নি বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসন।

mzamin

‘আইসিইউতে’ রেলওয়ে হাসপাতাল by নাজমুল হুদা

পাঁচ একর জমিতে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতাল। হাসপাতালের ভেতরটা দেখতে পার্কের মতো। গাছ-গাছালিতে ভরপুর। সারাক্ষণই থাকে সুনসান। দেখে বোঝার উপায় নেই এটা কোনো হাসপাতাল। রোগীর দেখা পেতে অপেক্ষা করা লাগে দীর্ঘসময়। দোতলাবিশিষ্ট হাসপাতালটির সারি সারি কক্ষগুলো তালাবদ্ধ। অকেজো পড়ে থাকে সব সময়। সুনসান থাকার কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটে চুরির ঘটনা। হাসপাতালে নেই কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসক। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামও নেই। হাসপাতালটিতে হাতেগোনা কয়েকজন রোগী ভর্তি থাকেন। বাকি শয্যাগুলোও পড়ে থাকে। যারা হাসপাতালে আসেন তারাও পান না পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা। ঢাকার কমলাপুরে অবস্থিত রেলওয়ে হাসপাতালটি যেন নিজেই এখন আইসিইউতে।

সূত্র জানিয়েছে, বিশাল বড় এই হাসপাতালে মোট ৯৪টি কক্ষ রয়েছে। এরমধ্যে খালি রুমই রয়েছে ৩৫টি। খালি রুমগুলো তেমন কোনো কাজে আসছে না। হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও এখন শয্যা রয়েছে মাত্র ৪১টি। তাও খালি পড়ে থাকে। গড়ে প্রতিদিন ৫-৬ জন কিংবা তারও কম রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবাও দেয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো সময় রোগীশূন্য থাকে শয্যাগুলো। শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। তবে বহির্বিভাগে দেখা হয় রোগী। প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৮ই জুলাই পর্যন্ত ৯ হাজার ৪০০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই চিকিৎসা শুধু প্রেসক্রিপশন দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সূত্র জানায়, রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে বিশেষায়িত কোনো চিকিৎসক নেই। কেবল ৮ জন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। এরমধ্যে গাইনি, আউট ডোর বিভাগে একজন, ইনডোরে একজন এবং জরুরি বিভাগে ২ জন রয়েছেন। এ ছাড়া প্যাথলজি ও রেডিওলজিতে একজন করে মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। হাসপাতালটিতে নার্স রয়েছে ৭ জন। সবমিলিয়ে হাসপাতালে ১৩০ জন স্টাফ রয়েছেন। তাদেরকে ঠিকমতো হাসপাতালেও দেখা যায় না। হাসপাতালে ৭টা কেবিন ও ২টা ভিআইপি কেবিন রয়েছে। তাও খালি পড়ে থাকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবার মধ্যে কেবল এক্সরে করা হয় হাসপাতালটিতে। তাও এনালগ মেশিনে। প্যাথলজি মেশিন থাকলেও রি-এজেন্ট নেই। একটি ডেন্টাল ও ড্রেসিং রুম রয়েছে। এর বাইরে তেমন কোনো চিকিৎসা পান না রোগীরা। এ ছাড়া মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগও নেই কোনো। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও অকেজো পড়ে আছে। রোগী না থাকায় অধিকাংশ ডাক্তারও দুপুরের পরই বাসায় চলে যান।

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে কর্মরত একজন স্টাফ জানিয়েছেন, হাসপাতালে আগে অনেক রোগী আসতো। রোগীদের ৩ বেলা খাবার দেয়া হতো। এখন একবেলাও খাবার দেয়া হয় না। আমার তিন সন্তানের ডেলিভারি এখানে হয়েছে। এখন ডেলিভারি করার মতো উপকরণ নেই; তাই হয় না। আগে ওয়ার্ডের বাইরের বারান্দায়ও রোগীরা থাকতো। এখন পুরো হাসপাতাল নীরব। রেলওয়ে হাসপাতালের এক মেডিকেল অফিসার বলেন, দিন দিন সংকীর্ণ হয়ে আসছে হাসপাতালটি। কয়েক বছর আগেও করোনা পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট, এক্সরে, ইসিজি, চক্ষু পরীক্ষা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা হতো। এখন রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ডায়াবেটিকস পরীক্ষা ও এক্সরে বাদে কিছুই হয় না। আগে রেলের নিয়োগের ফিটনেস সনদও দিতো এই হাসপাতাল। তবে এখন তাও দেয়া হচ্ছে না। এসব পরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালটি সুনসান থাকার কারণে চুরির ঘটনাও ঘটছে। হাসপাতালে থেকে তিনটা এসি, মোটরসাইকেল, হেলমেট ও মোবাইল চুরির ঘটনাও ঘটেছে।

এসব ব্যাপারে সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রিপন দাস মানবজমিনকে বলেন, হাসপাতালটি অনেক পুরনো। এটা চলছে বৃটিশ আমলের সেটআপে। তখনকার জন্য এটি ঠিক ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে সেই সেটআপে কাজ করা সম্ভব না। কারণ এখন চিকিৎসা পদ্ধতি পরিবর্তন হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী মানবজমিনকে বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার স্বল্পতা অনেক। ডাক্তারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একটা জটিলতা রয়েছে। সেটা ঠিক করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি প্রেষণে আমাদেরকে কিছু চিকিৎসক দেয়ার জন্য। কিছু চিকিৎসক পেলে রোগী বাড়বে। চিকিৎসক না থাকার কারণে রোগী বাড়ে না। আমরা নতুন কিছু যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বাজেট পেলে সেগুলো কেনা হবে। এ ছাড়া এসব যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য টেকনিশিয়ানও দরকার। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি কিছু পরিবর্তন আমরা করবো। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্পে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালে উন্নীত করার কথা ছিল হাসপাতালটিকে। তবে সেই কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। এ ব্যাপারে রেলওয়ে মহাপরিচালক বলেন, পিপিপি প্রকল্পের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তার আগে আমরা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ শুরু করেছি।

mzamin

সাংবিধানিক আদালত গঠন বাধ্যতামূলক: বিলাওয়াল

সাংবিধানিক আদালত গঠন করা বাধ্যতামূলক বলে সরাসরি মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। মঙ্গলবার সিন্ধু হাইকোর্ট বার সমিতিতে বক্তব্যকালে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের হুমকির পর চাপের মুখে সচল করা হয়েছিল ১৯তম সংবিধান সংশোধন। গণতন্ত্রের সনদের ধারা অনুযায়ী বিচার বিভাগকে সংস্কার করা হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। এ বছর অক্টোবরে অবসরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি কাজী ফয়েজ ইশা। তার আগেই নানা জল্পনার মাঝে সরকার সাংবিধানিক প্যাকেজ সামনে ঠেলে দেয়। এই ঘটনার আগে গত মাসে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের নোটিফিকেশন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই)। বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, ১৮তম সংশোধনীর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত আইনের অধীনে বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চালায় পার্লামেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সব বিচারক নিয়োগ হয় পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তে। এ জন্য সেখানে কখনো কোনো সামরিক আইন আসেনি।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টোর মৃত্যুদণ্ডকে বিচারিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। বিলাওয়াল বলেন, একটি সাংবিধানিক আদালত গঠন করা জরুরি এবং আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, যাতে আর কোনো প্রধানমন্ত্রীকে ফাঁসি দেয়া না যায়। জনগণ সুবিচার পায়। এ সময় তিনি সামরিক শাসকদের কড়া সমালোচনা করেন। বলেন, তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো দেখেছেন সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল জিয়াউল হকের যুগ। ওই সময় রাজনৈতিক সব নেতাকর্মীকে নিষ্ঠুর নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শহীদ বেনজির জানতেন আমাদের ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ওই সময় সাবেক প্রধান বিচারপতি ইফতিখার চৌধুরী কোনো বিপ্লবী ছিলেন না। সাবেক প্রধান বিচারপতি মিয়া সাকিব নিসারের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তখন কোনো দমওয়ালা বিচারকও ছিলেন না।

mzamin


সাকিবকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

মাঠে সময়টা ভালো যাচ্ছে না সাকিব আল হাসানের। চোখের সমস্যার পর আঙ্গুলের চোট পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। মাঠের বাইরেও নানা কারণে  নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হচ্ছেন টাইগার অলরাউন্ডার। সরকারের পটপরিবর্তনের পর হত্যা মামলারও আসামি হয়েছেন সাকিব। এবার শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে তাকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিসিসিআই)। প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির দায়ে সাকিবকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল বিএসইসি’র পরিচালক ও মুখপাত্র ফারহানা ফারুকীর পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে কমিশনের ৯২৩তম সভায় সাকিবকে জরিমানার সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ করেছেন সাকিব। তাই তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে গত ২৮শে আগস্ট কমিশন সভায় শুভেচ্ছাদূতের পদ থেকে তাকে বাদ  দেয় (বিএসইসি)। সেবার সংস্থাটি জানিয়েছিল, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ছিলেন বিএসইসি’র ‘দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম’র শুভেচ্ছাদূত। ২০১৭ সালে এ কার্যক্রমে তাকে যুক্ত করে বিএসইসি। একই বছর অক্টোবরে রাজধানী শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয় বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে সাকিবকে পরিচয় করে দেন সে সময়ের চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন। ২০২০ সালে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়ত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে পুনর্গঠন করা হয় বিএসইসি। তবে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বহাল রাখা হয় সাকিবকে। শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাকিব আল হাসানসহ একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর হয়ে শেয়ারবাজারে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আবুল খায়ের হিরু। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা বিও (বেনিফিসিয়ারি ওনার্স) হিসাব ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনা ঘটান। আবুল খায়ের হিরু ছিলেন বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের সরাসরি ছাত্র। এ কারণে শিবলী রুবাইয়াত বিএসইসি’র চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি বিশেষ আনুকূল্য পেতেন। এমনকি অনেক শেয়ারের কারসাজির সঙ্গে হিরুর জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও এসব কারসাজির ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের উদ্যোগ নেননি। কখনো কখনো তদন্তের পর ব্যবস্থা গ্রহণে ধীরগতির কৌশল অবলম্বন করেন। শেয়ারবাজারে সাকিব আল হাসানের বিনিয়োগ ও কারসাজির বিষয়টি কয়েক বছর ধরে বেশ আলোচনায় ছিল। তবে এতদিন তাকে কোনো জরিমানা বা শাস্তি দেয়নি বিএসইসি। সাকিব আল হাসান ছিলেন বিএসইসি’র বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের দূত। গত ৫ই আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএসইসি’র পক্ষ থেকে সাকিব আল হাসানকে বিশেষ দূত থেকে বাদ দেয়া হয়। এরপর কারসাজির দায়ে তাকে আজ জরিমানা করা হলো। গত কয়েক বছরের মধ্যে শেয়ার কারসাজির দায়ে সাকিব আল হাসানকে এটিই প্রথম জরিমানার ঘটনা।  বিএসইসি জানিয়েছে, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজির দায়ে সর্বোচ্চ জরিমানা করা হয়েছে ইশাল কমিউনিকেশনকে। প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই দায়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানকে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে আবুল খায়ের হিরুকে। এ ছাড়া আবুল খায়ের হিরুর বাবা আবুল কালাম মাতলুবকে ১০ লাখ টাকা, হিরুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মোনার্ক মার্টকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর বাইরে লাভা ইলেকট্রোডস ও জাহিদ কামালকে ১ লাখ করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

mzamin

‘শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নার্ভাস ছিলাম’

গেল কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় শাকিব খানের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘তুফান’। মুক্তির পর বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলে এটি। গত ১৯শে সেপ্টেম্বর দু’টি ওটিটি প্ল্যাটফরমে একযোগে মুক্তি পেয়েছে এই সুপারহিট সিনেমা। সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ-উন্মাদনা এখনো কমেনি। ‘তুফান’ সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় ফিরেছেন অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। এই সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘তুফান’-এ আমি যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, কর্মক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা আমার চেয়ে অনেক বেশি। তাই নার্ভাস ছিলাম। শুটিংয়ের অজানা কিছু অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে চঞ্চল ভাইয়ের সঙ্গে ‘আয়নাবাজি’ সিনেমায় আমার কাজের অভিজ্ঞতা আছে, তাই তার সঙ্গে নার্ভাসনেসটা কম ছিল। তবে শাকিব খানের সঙ্গে প্রথম দিন কাজ করতে গিয়ে নার্ভাস ছিলাম। মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রথম শটের দিন আমি দূর থেকে তাকে দেখছিলাম। প্রথম দেখাতেই তিনি আমাকে হাত নেড়ে সম্বোধন করেন। সেটা আমার কাছে ওয়েলকামিং ছিল এবং নার্ভাসনেস কমিয়ে দিয়েছিল। শাকিব খানের সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নাবিলা বলেন, তার সঙ্গে প্রথম শটের আগে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কারণ তিনি সুপারস্টার। সিনেমায় আমাদের দু’জনের লাস্ট সিনটাই ছিল শুটিং সেটে আমাদের প্রথম সিন। আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। তবে ধীরে ধীরে শাকিব খান আমাকে অনেক বেশি ইজি করে ফেলেন। তিনি লাভলি কো-স্টার এবং তিনি তার কাজটা সুন্দর করে শেষ করে ফেলেন।
mzamin

শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া হয়েছে জানিয়ে তাদেরকে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এরপর কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে সরকার তা বরদাশত করবে না। গতকাল সচিবালয়ে সরকার, বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, আপনাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেয়া হয়েছে। আর যেই দাবিগুলো শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মেনে নেয়া যায়, সেই দাবিগুলো মেনে নেবো খুব দ্রুতই। আপনাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, দেশের শিল্পকে বাঁচানোর জন্য দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য যে নতুন বাংলাদেশ আমরা অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছি, তাকে সমুন্নত রাখা এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনারা স্ব স্ব কর্মস্থলে ফিরে যাবেন।

শ্রম উপদেষ্টা বলেন, মালিক পক্ষ, শ্রমিক পক্ষ এবং সরকার পক্ষের মধ্যে বারবার আলোচনা হচ্ছে, দীর্ঘ এক মাস ধরে আলোচনা, দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে যে মূল দাবি ১৮টা, আমরা আইডেন্টিফাই করেছি। সেই ১৮ দাবির বিষয়ে মালিক পক্ষ এবং শ্রমিক পক্ষ মিলে একটা সমাধানে পৌঁছানো গেছে। এই দাবিগুলো সমাধানের দিকে আমরা আগাবো। যেগুলো সমাধান সম্ভব, সেগুলো আজকে ইমিডিয়েটলি সমাধান করে দিয়েছি এবং যেগুলো দুই পক্ষের বৈঠকের মধ্যে সমাধান হবে, সেগুলো শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে হবে। শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকবে।

বুধবার থেকে সব কারখানা চালু রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের শিল্পকারখানা যাতে বাঁচে, শিল্প যাতে হাতছাড়া না হয়, সেজন্য শ্রমিক, মালিক, সরকার- সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা কর্মস্থলে ফিরে যাবেন। যদি শিল্প না বাঁচে তাহলে শ্রমিকও বাঁচবে না, সরকারেরও প্রয়োজন হবে না এবং মালিকও বাঁচবে না। আমাদের শিল্পকে বাঁচাতে হবে, আমাদের শিল্প যাতে হাতে থাকে-সেটা নিশ্চিত করতে হবে। মালিকদের প্রতি আহ্বান থাকবে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন খুব দ্রুত পরিশোধ করার ব্যবস্থা নেবেন।

আসিফ মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, আগামীকাল (বুধবার) থেকে এই দাবিগুলো মেনে নেয়ার প্রেক্ষিতে যদি কোনো পক্ষ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে, সেটা যদি কোনো মালিক পক্ষ বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ প্রকাশ করে এবং সদিচ্ছার অভাব থাকে এবং শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যদি বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং যেহেতু সবগুলো দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সব পক্ষকে আমরা বসাতে পেরেছি। সরকার কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা আর বরদাশত করবে না। সেটার ব্যাপারে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ একটা আলোচনার পর আমরা একটা সমঝোতায় পৌঁছেছি। এখন এই সমঝোতা স্মারকে আমার মালিকপক্ষ স্বাক্ষর করেছে, আমার শ্রমিক ভাই-বোন স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনো অবস্থাতেই নিজেদের হাতে নিবেন না। আগামীকাল (বুধবার) থেকে আশা করবো, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন শিল্প এলাকায় না হয়। যদি আগামীকাল থেকে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, এর জন্য আপনারা যারা স্বাক্ষর করেছেন-আপনারাই এই বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী হবেন। সেই সময় আপনারা পিছপা হতে পারবেন না।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আপনাদের মনে করতে হবে-এই শিল্প আমাদের সব কিছু দিয়ে যাচ্ছে। শুধু আপনাদের না, দেশবাসীকেও দিয়ে যাচ্ছে-এটাও আমাদের মনে করতে হবে। শুধু দেড় কোটি মানুষ নয়, পুরো বাংলাদেশ এর উপর নির্ভরশীল। সুতরাং এটা খেয়াল রাখতে হবে। আপনাদের আজকের অঙ্গীকার রাখতে হবে; তাহলে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না। এর পরেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সেই জন্য আমাদের অন্যান্য ব্যবস্থা নিতে হবে, যা কারও জন্যই কাম্য নয়।

সিলেট নগরে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে পুলিশ by ওয়েছ খছরু

অভ্যুত্থানের পর থেকে কোনো শৃঙ্খলা নেই সিলেটে। পুলিশ মাঠে না থাকার সুবাদে অনিয়মই পরিণত হয়েছে নিয়মে। যে যার মতো চলাফেরা করছেন। এই অবস্থায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নগরের শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এ কার্যক্রম। এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সিলেট পুলিশ পুরোদমে কার্যক্রমে নামলো। এতে সাড়া মিলছে সাধারণ মানুষের। পুলিশের এই কার্যক্রমের সঙ্গে পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। এর আগে অবশ্য দফায় দফায় পুলিশের তরফ থেকে নগরে মাইকিং করা হয়। তারও আগে নবাগত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সুধী সমাজের কাছ থেকে নগরীর সাম্প্রতিক সমস্যাবলী ও প্রতিকার সম্পর্কিত পরামর্শ উঠে আসে। এসব বৈঠকে পুলিশ কমিশনার পরামর্শকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে তার আলোকে কার্যক্রম শুরু করেছেন। ৫ই আগস্টের পর থেকে মাঠে পুলিশ ছিল না। ফলে ট্রাফিক কার্যক্রম সামলান ছাত্র-জনতা। সঙ্গে ছিলেন ব্যবসায়ীরাও। একই সঙ্গে নগরের এসপি সহ প্রায় সবক’টি থানা ও ফাঁড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার নাম নিয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এ সময় করা হয়েছিল অগ্নিসংযোগ। এ কারণে থানা, ফাঁড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এই সুযোগে নগরে  বের আসে কয়েক হাজার অবৈধ যানবাহন। পাশাপাশি মার্কেট ছেড়ে হকাররা চলে আসেন ফুটপাথে। আগের মতো জঞ্জালের নগরে পরিণত হয় সিলেট। ধীরে ধীরে পুলিশ ফেরায় নগরের ট্রাফিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। এখন থানা ও ফাঁড়ির কার্যক্রম স্বল্প পরিসরে হলেও শুরু হয়েছে। পুলিশ থেকে সেবা পাচ্ছে মানুষ। এই অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ আগে সিলেটে নতুন পুলিশ কমিশনার যোগ দিয়েই নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে দৃশ্যমান কাজও শুরু হয়েছে।  মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়েছে- নগরের শৃঙ্খলা ফেরাতে সুধীজনের সঙ্গে বৈঠকের পর ১৯শে সেপ্টেম্বর পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক বিভাগকে ব্রিফিং দেন। আর এতে তিনি জানিয়েছেন- জনদুর্ভোগ লাঘব করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অপেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট নিরসনে আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা রাখার জন্য পুলিশের সকলের প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- নগরে শৃঙ্খলা ফেরাতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটরিচালিত রিকশা-অটোরিকশাসহ অন্যান্য অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮ থেকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা শুরু করা হয়। এ সময় কাগজপত্রবিহীন মোটরযানের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। সকাল থেকে নগরে কোতোয়ালি, শাহ্পরাণ সহ কয়েকটি থানায় এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনা ট্রাক প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। যাদের কাগজ-পত্র ঠিক রয়েছে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর যাদের যানবাহনের কাগজপত্র পাওয়া যায়নি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় চলাচলকারী যেসব সিএনজিচালিত অটোরিকশা সবুজ রঙের উপর হলুদ রঙের বর্ডার দিয়ে চিহ্নিত করা হয়নি সেগুলোতে রঙ ব্যবহার করার জন্য বলে দেয়া হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ জানায়- বিশেষ কারণ ছাড়া মেট্রো এলাকার বাইরের অটোরিকশাগুলো মেট্রো এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না ও নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানানো হয়। মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার এই তিনদিন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ট্রাফিক বিভাগ। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা ও সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিএম আশরাফউল্লাহ তাহের মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেটে প্রথম দিনের কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ২০০টি অবৈধ যানবাহন ও ২০০ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

আন্দোলনের জন্য বিদেশে জেল খাটাদের পুনর্বাসন করা হবে: ড. আসিফ নজরুল

আন্দোলনের সময় বিদেশে জেল খাটা ৮৭ জনকে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, তাদের যদি অন্য কোনো দেশে পাঠাতে হয় সে ব্যবস্থাও করা হবে। প্রয়োজনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কাজের ব্যবস্থা করা হবে। আন্দোলনে অংশ নেবার জন্য দায়বদ্ধতা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।    

বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশে আসলে ভিআইপি সেবা পাবেন উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, দেশের বিমানবন্দরে সেবার মান উন্নয়ন ইতোমধ্যে করা হয়েছে। আরেকটি সেবা যেটা আমরা চালু করতে যাচ্ছি সেটি হচ্ছে- বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশে আসলে ভিআইপি সেবা পাবেন। একজন ভিআইপি এয়ারপোর্টে যেসব সুবিধা পান, লাউঞ্জ ব্যবহার ছাড়া আমরা সবই করার সুবিধা দেবো।

তিনি বলেন, একজন ভিআইপি যখন এয়ারপোর্টে যান তখন তার লাগেজ নিয়ে একজন সঙ্গে থাকেন, চেক-ইন করার সময় সঙ্গে একজন থাকেন, ইমিগ্রেশন করার সময় পাশে একজন থাকেন। প্রাথমিকভাবে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের কর্মীদের টার্গেট করেছি। ইউরোপের কর্মীদের পরে করবো। প্রথম স্তরে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া এবং ফেরত আসা একজন কর্মী ভিআইপি ট্রিটমেন্ট পাবেন। লাউঞ্জ ব্যবহার করতে দেয়ার বিষয়ে আমরা পরে চিন্তা করছি, এটা অনেক পরের কাজ। আগামী দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে আমরা এটা করবো, বিমানবন্দরে যাওয়ার পর একজন কর্মীর যে অসহায় অবস্থা তৈরি হয় সেটি দূর করবো।

তিনি আরও বলেন, কর্মী কোন গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন, চেক ইন কীভাবে করবেন, ফর্ম পূরণ করা লাগলে কীভাবে করবেন, ইমিগ্রেশনে কোনো কাগজ চাইলে কীভাবে সেটি করবেন এসব কাজে নিয়োজিত থাকবে বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক। দরকার পড়লে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ট্রেনিং দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ করবো। আমরা এটি দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করবো। একজন প্রবাসী যেন কোনো অবস্থাতেই এয়ারপোর্টে হয়রানির শিকার না হন, অপমানিত বোধ না করেন এই ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে। এটা আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করে ছাড়বো।

mzamin


গুম কমিশনে অভিযোগ দেওয়ার মেয়াদ ১৬ দিন বাড়লো

গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকয়ারিতে অভিযোগ দায়েরের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকয়ারিতে অভিযোগ জানানো যাবে। আগে এই সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মঙ্গলবার গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকয়ারির জনসংযোগ কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জোরপূর্বক গুমের ঘটনার ভিকটিম নিজে অথবা পরিবারের কোনো সদস্য বা আত্মীয়-স্বজন বা গুমের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা কোনো ব্যক্তি সশরীরে কমিশনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অথবা ডাকযোগে অথবা কমিশনের ই-মেইলে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযোগ দাখিল করা যাবে। তবে এই সময়সূচি অনুযায়ী অভিযোগ দাখিলের ক্ষেত্রে হটলাইনের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। 
হটলাইন নম্বরঃ ০১৭০১৬৬২১২০, ০২-৫৮৮১২১২১। ই-মেইলঃ edcommission.bd@gmail.com

এর আগে গত ২৭ আগস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে গঠিত এই তদন্ত কমিশনের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়ও বাড়ানো হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা এবং এমন যে কোনো বাহিনী বা সংস্থার কোনো সদস্য বা সরকারের মদদে, সহায়তায় বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি-সমষ্টির ‘আয়না ঘর’ বা যে কোনো জ্ঞাত বা অজ্ঞাত স্থানে বলপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান, বলপূর্বক গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ এবং বলপূর্বক গুম হওয়ার ঘটনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের সুপারিশসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যাদি সম্পাদনের জন্য এ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়। কমিশন অব ইনকয়ারি অ্যাক্ট ১৯৫৬ অনুসারে কমিশন তদন্তকার্য সম্পন্ন করে তিন মাসের মধ্যে সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ কমিশনের সভাপতি হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। কমিশনে সদস্য হিসেবে রয়েছেন-হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকার কর্মী নূর খান, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাবিলা ইদ্রিস ও মানবাধিকার কর্মী সাজ্জাদ হোসেন। তদন্ত কমিশন ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা এবং অনুরূপ যে কোনো বাহিনী বা সংস্থার কোনো সদস্য বা সরকারের মদদে, সহায়তায় বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি-সমষ্টির আয়না ঘর বা যে কোনো জ্ঞাত বা অজ্ঞাত স্থানে বলপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান, তাদের শনাক্ত করা এবং কোনো পরিস্থিতিতে গুম হয়েছিল তা নির্ধারণ করা এবং সেই উদ্দেশ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যসহ যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা। কমিশন বলপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদের আত্মীয়-স্বজনকে জানাবে। গুম হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে অন্য কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত তদন্তের তথ্য সংগ্রহ করা করবে কমিশন। বলপূর্বক গুম হওয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশও দেবে এ কমিশন। এছাড়া বলপূর্বক গুম হওয়ার ঘটনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে তদন্ত কমিশন। তদন্ত কমিশন বাংলাদেশের যে কোনো স্থান পরিদর্শন এবং যে কোনো ব্যক্তিকে কমিশনে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তদন্ত কমিশনকে সাচিবিক সহায়তাসহ সব ধরনের সহায়তা দেবে।

mzamin