Sunday, February 6, 2011

স্নেহময়ী সুন্দরবন by মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

পৃথিবীর একাধিক বনাঞ্চল আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আজ থেকে ৩০ বছর আগে রিও-ডি-ইনেইরো গিয়ে বেশ কিছু বন পেরিয়ে আমি কুব্জপর্বত কর্কোভাদোর যিশু খ্রিষ্টের ভাস্কর্য দেখতে যাই। ২০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বালিংটনের বনে আমেরিকার পাতা-ঝরার সৌন্দর্য দেখলাম। সেই সমুজ্জ্বল ফল সঙ্গে করে জাতীয় বন উত্তর ক্যারোলিনায় গেলাম। বছর ১৩ আগে আমি পাপুয়া নিউগিনির বনাঞ্চলে যাই সেখানে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পরিদর্শন করার জন্য। সে বনে হাতি, বানর বা বাঘ নেই, কিন্তু জলে কুমির বাস করে, সুন্দরবনের মতো কিছুই নয়। আমি সুন্দরবনে যাই দুইবার। প্রথমবারেই আমি বাঘের দেখা পাই। মধ্যাহ্নের আহার শেষে বাঘটি হোগলার পাশে রোদ পোহাচ্ছিল।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে স্থান পাওয়া উচিত। সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম জোয়ারবিধৌত গরান বনভূমি। ওই বনের আয়তন ১০ হাজার বর্গকিলোটাির। ২০০ বছর আগে এর আয়তন ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার। মানুষের আগ্রাসনে বর্তমানে সংকুচিত হয়ে এসেছে। বনের দুই-তৃতীয়াংশ আমাদের, বাকিটা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের। এখানে প্রায় ৫০০টি রয়েল বেঙ্গল বাঘ এবং ৩০ হাজার হরিণ রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের হরিণ, হাঙ্গর, কুমির, বাঁদর, পখি, পতঙ্গ, পাইথন সাপসহ সরীসৃপ, ৩০০ শ্রেণীর উদ্ভিদ, ২১৭ রকম পাখি, ১৪ রকমের জলজ প্রাণী, ৪২ রকম বন্যপ্রাণী এবং ২০১০ রকম মাছ রয়েছে। ১৮৭৫ সালে একে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে একে বিশ্ব উত্তরাধিকার হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। এই বন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ছয় লক্ষ লোকের জীবিকার উৎস। সিডর ও আইলায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সুন্দরবন অত্যন্ত দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
জোয়ারভাটা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবনের মাটি বাংলাদেশের ভেতরের মাটির চেয়ে আলাদা। এখানকার উদ্ভিদকুলও আলাদা। জলবায়ুর দিক থেকে সুন্দরবন উষ্ণমণ্ডলীয় আর্দ্র বনভূমি হিসেবে চিহ্নিত।
মানুষের আগে বনের জন্ম। মানুষের হামলায় বন ধীরে ধীরে পিছে হটে যাচ্ছে। আমাদের দেশে একটা কথা আছে, বন রাখে বাঘে, বাঘ রাখে বনে। বাঘ আর বনের মধ্যে যে সহ-অবস্থানের সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলে পরিবেশে একটা ভারসাম্য রক্ষা হয়। মালয়দেশের প্রবাদে একটা কথা আছে, একটা গাছ যত বড়ই হোক, তার ঝরাপাতা তার শেকড়ের কাছে ফিরে আসে। এই ধরনের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে একটা নিরন্তর নবায়ন ঘটে।
মানুষের প্রাথমিক পঞ্চ প্রয়োজন—অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার মধ্যে চারটিরই উৎস উদ্ভিদ। উদ্ভিদ পরিবেশের মক্ষীরানী। সেই উদ্ভিদকে আমরা পোষ মানাই ও আদর-যত্ন করি এবং প্রতিদানে আমরা অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয় ও ওষুধ পেয়ে থাকি। উদ্ভিদ শিশুর মতো মেজাজি, যুবকের মতো দেমাকি এবং বৃদ্ধের মতো অনুকম্পাপ্রার্থী। পরিবারের একজন ভেবে তাকে আমাদের যথোপযুক্ত যত্নআত্তি করতে হবে।
কোরআনে বলা হয়েছে, যারা বিশ্বাস করে, তাদের জন্য গাছপালা ও ফল-ফলাদিতে আল্লাহর নিদর্শন রয়েছে। গাছ লাগানো এমন একটা সাদকা-ই-জারিয়া, যার ফজিলত বৃক্ষরোপকের মৃত্যুর পরও অক্ষুণ্ন থাকে। নিজের প্রয়োজনেও গাছ লাগালে তাও এক সদ্কর্ম।
বুদ্ধ বলতেন, ‘অরণ্য একটা অসামান্য জীব। অপরিসীম দয়া ও বদান্যতার আধার। প্রতিদানের প্রত্যাশা না করে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই তার আনন্দ। নিজের জীবনধারণের জন্য সৃষ্ট উপাদানগুলোও সে বিলিয়ে দেয় অন্যের প্রয়োজনে। এমনকি যে কাঠুরে তাকে ধ্বংস করে, তাকে ছায়া দিতে সে কার্পণ্য করে না।’
রবীন্দ্রনাথের কথায়, ‘সমস্ত জীবের অগ্রগামী গাছ, সূর্যের দিকে জোড় হাত তুলে বলছে, আমি থাকব, আমি বাঁচব, আমি চিরপথিক, মৃত্যুর পর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অন্তহীন প্রাণের বিকাশতীর্থে যাত্রা করব রৌদ্রে-বাদলে, দিনে-রাত্রে।’
স্যার জগদীশ বসু, ঢাকার বিক্রমপুরের সন্তান, রবীন্দ্রনাথের সুহূদ ছিলেন। তিনিই প্রথম মেটাল-ফ্যাটিগের ওপর গবেষণা করতে গিয়ে লক্ষ করেন গাছেরও প্রাণ আছে। আজকাল শোনা যাচ্ছে গাছপালা গান শুনতেও নাকি ভালোবাসে।
মানুষের শক্তি এবং তার ষড়রিপুর দৌর্বল্যের কথা ভেবে আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের পরিপোষণের জন্য বৃক্ষ, লতাপাতা, গুল্মসমেত উদ্ভিদজগতকে তাঁর কর্মবিধায়ক হিসেবে নির্বাচন করেছেন। আমাদের দেশে একটা কথা আছে, যে দেশের রোগ সেই দেশের গাছগাছড়ায় তার নিরাময়।
অমিতাভ ঘোষের দ্য হাঙ্গরি টাইড (২০০৪) এবং সালমান রুশদির দ্য মিডনাইটস চিল্ড্রেন (১৯৮১)-এ সুন্দরবনের উল্লেখ রয়েছে। আমাদের জীবন ধারণের জন্য সুন্দরবন আমাদের নানা দিকের সাশ্রয়। শুধু গোলপাতা, কাঠ, মধু, মাছ বা মোম-জাতীয় পণ্যের জন্য নয়, দেশের উদ্ভিদবৈচিত্র্য ও প্রাণিবৈচিত্র্যের সংরক্ষণের জন্য সুন্দরবনকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সুন্দরবন গত আইলায় আরও বড় ক্ষতি ও সংহারের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করেছিল।
ইউনেসকোর এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক প্রজন্ম জল, বায়ু ও মৃত্তিকাসম্পদ পৃথিবীতে যে বিশুদ্ধ ও অবিপর্যস্ত অবস্থায় পেয়েছিল, সে অবস্থায় রেখে যাব।’ আমাদের অব্যবহিত পূর্বের পূর্বসূরিদের দৌরাত্ম্যে সুন্দরবন সংকুচিত হয়ে গেছে। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম যে অবস্থায় সুন্দরবনকে পেয়েছে, অন্তত সে অবস্থায় যেন তারা রেখে যায়।
সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্য সরকার ১.২৮ বিলিয়ন টাকার একটা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পে সরকারি ঘোষণার থেকে তিন কোটি সত্তর লাখ এবং ইউরোপীয় কমিশন থেকে আসবে নয় কোটি ১০ লাখ টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল গত ১১ জানুয়ারি তা অনুমোদন করেছে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। আমরা সেই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করি।
সুন্দরবন কেবল গাওয়া, গরান, সুন্দরী উদ্ভিদকুলের জন্য নয়, কেবল বাঘ, হরিণ, সাপ, মৌমাছি, প্রজাপতি, প্রাণী-পতঙ্গের জন্য নয়, কেবল বাওয়ালি-মৌয়ালির জন্য নয়, সুন্দরবন সব বাঙালির জন্য, সুন্দরবন আমাদের জন্য স্নেহময়ী।
যাঁরা প্রকৃতির উদ্ভিদ পশু-পাখি-পতঙ্গের বৈচিত্র্য ভালোবাসেন, তাঁরা নিশ্চয় সচেষ্ট হবেন যেন সুন্দরবন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় শীর্ষস্থানে স্থান পায়। ভোটের যুগে ভোটের দাম আছে। আমরা ভোটার হিসেবে আমাদের সংখ্যা বেশি। জনসংখ্যার বদৌলতে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে শুধু রাষ্ট্রভাষা করিনি, আমরা বাংলাদেশকে একটা সার্বভৌম রাষ্ট্রও করেছি। ভোটে জিতলেই যে সব কাজ হয় না, তা আমাদের মাতৃভাষার বর্তমান অবস্থা দেখলে সহজেই অধিগম্য হবে। সুন্দরবনের ব্যাপারে ভোট দিয়ে ক্ষান্ত হলে চলবে না। পর্যটন বা অন্যান্য ব্যবসার কথা না ভেবে নিজেদের মঙ্গলের জন্য এর পরিচর্যা, শুশ্রূষা বা উন্নতিবিধান করতে হবে, যাতে সুন্দরবন সুস্থভাবে বেঁচে থেকে প্রাণদায়িনী হিসেবে আমাদের সুরক্ষা করে।
>>>মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা। সাবেক প্রধান বিচারপতি।

তোমাদের এই হাসিখেলায় by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

কিছুদিন আগে এক রাতে বকুলতলায় প্রথমবারের মতো গান শোনাতে গেলাম। লোকে লোকারণ্য। গ্রাম থেকে এসেছেন শত শত লোকশিল্পী। হাতে তাঁদের একতারা-দোতারা। খোদা বখ্স বাউলের ছেলে আমাকে দেখেই জড়িয়ে ধরল, বলল, গান শোনার আমন্ত্রণ কমে গেছে। তালের গান, বাজনার গান শুনতে চায় সবাই। শিখেছি সাধনার গান, অশ্রুর গান। মাইক হাতে নিয়ে বললাম, গান শোনাতে এসেছি বহুদিন পর। কাদের গান শোনাতে এসেছি জানেন? স্টেজের ১০০ গজের মধ্যে আমার গান শুনছেন কাজী নজরুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান। ছেলেমেয়েরা হইহই করে উঠল। বিদায় নিয়েছেন আবদুল আলীম, আবদুল লতিফ, বেদারউদ্দিন, শেফালী ঘোষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব। বেঁচে আছি আমি। বুঝতে পারলাম, ওরা ভালোবাসে এই বিদায়ী শিল্পীকে। ডেইলি স্টার-এর ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানে দুটোর জায়গায় গাইলাম চারটি।
বৈশাখী টিভিতে অনুষ্ঠান রাত অবধি, চট্টগ্রামের দুজন শিল্পী গাইছেন মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার গান। দুই বছর আগে একজন নামী লেখক এসেছিলেন মহেশখালীতে। গান শুনতে নয়, মহেশখালীর পান খেতেও নয়। জোহান হ্যারি এসেছিলেন ডুবন্ত বাংলাদেশকে নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করতে। গত শতাব্দীর শেষ ভাগে যে দেশটির জন্ম হয়েছিল রক্তের বন্যায়, সেটি ডুবে যাবে এই শতাব্দীর শেষে, এ কেমন কথা? হ্যারির এই রিপোর্ট এবং সেই সঙ্গে আরও ৫০টি রিপোর্ট পাঠ করলাম ১৫ দিন ধরে। কেন, তা পরে বলছি।
সাগর দ্রুত এগিয়ে আসছে। নদী কেড়ে নিলে ফিরিয়ে দেয়, সাগর তা দেয় না। হ্যারি বলছেন, মহেশখালীতে গিয়ে দেখা হলো রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে, বয়স ৩৪, অথচ দেখতে ৫০। বললেন, গত ৩০ বছরে দ্বীপটির দুই-তৃতীয়াংশ চলে গেছে পানির নিচে। ঘরবাড়ি, জমি—সবই সমুদ্রের নিচে। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন তাঁদের দুর্ভাগ্যের কথা বলার জন্য এগিয়ে এলেন। চৌধুরী দেখালেন ওই যে অনেক দূরে দেখতে পাচ্ছেন একটি সবুজ গাছের অল্প একটু, ওইটি ছিল আমার বাড়ি। হ্যারি খুঁজে পেল গাছটি। চৌধুরী বললেন, ২০০২ সালে ওইখানে আমি থাকতাম। ২০২৪-এ মহেশখালী বলে কোনো দ্বীপ মানচিত্রে খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেখা আবদুল জব্বারের সঙ্গে, বয়স ৮০। বললেন, ১৯৬০ সাল থেকে দ্বীপটির ক্ষয়, ১৯৯১-এর পর তা হয়েছে প্রবলতর। সব গেছে আমার। ছেলে সৌদি আরবে চাকরি করে, সেই টাকাতেই এখন বেঁচে আছি।
আমার দেখা চিংড়িঘের, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যেখানেই গিয়েছি চিংড়িঘের, জিজ্ঞেস করাতে বললেন, এ জমিতে চাষ হবে না, লবণ সব খেয়ে ফেলেছে। আমাদের জন্য রেখেছে সামান্যই। যত দিন বেঁচে আছি চিংড়ি চাষ করে বাঁচতে হবে। গৃহবধূদের সঙ্গে কথা বলে না কেউ। মুন্সিগঞ্জের গৃহবধূ কথা বলেছেন হ্যারির সঙ্গে। আরতী রানী, পরনে নীল শাড়ি, অবয়ব দুঃখ দিয়ে মাখা। আর আমার সঙ্গে কথা বলেছেন তহরুননেছা, যৌবনেই শয্যাশায়িনী। আর্সেনিকের নীল দংশনে তাঁর দুটি পুত্রের অকালমৃত্যু। একমাত্র কারণ শুদ্ধ পানি না পাওয়া। গিয়েছিলাম আর্সেনিক নিরোধের এক কার্যক্রমে অংশ নিতে। মনে পড়ে গেল পিতার ফেলে যাওয়া গান: ‘ফোরাতের পানিতে নেমে ফাতেমা দুলাল কাঁদে, অঝোর নয়নে রে/ দুহাতে তুলিয়া পানি, ফেলিয়া দিলেন অমনি, পড়িল কি মনে রে।’ তহরুননেছার মতো হাজার নারী কাঁদছে শুধু পানির জন্য। শুধু ‘পানি পানি’র হাহাকার। এ কোন কারবালা! ২৩৪টি নদী, সবুজ এই দেশটির পানিতে বিষ, বাতাসে বিষ। কেন সাগরের আক্রোশ, ভাবতে ভাবতে আসি, ভোলায়। ভোলার সব খবরই খারাপ নয়। যেমন গেছে ইলিশা, শিবপুর, গাজীপুর, কাচিয়া, দৌলতখান এবং মূল ভোলা, তেমনি দক্ষিণে জেগে উঠছে চরফ্যাশন। ঘরবাড়ি, জায়গাজমি হারিয়ে এদের অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে নতুন জেগে ওঠা চরে।
একজন নতুন লেখক আমি। নতুন ফিকশন ‘কালজানির ঢেউ’ লিখতে গিয়ে পড়ে ফেলি জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের অবস্থান। ক্রুদ্ধ উপসাগরে পানির তাপমাত্রা বাড়ছে প্রতিবছর, লবণাক্ততা গ্রাস করছে চাষের জমি, ‘সিডর’ ও ‘আইলা’র পর আরও আশঙ্কায় দিন গোনেন সাগরপারের মাঝিরা। ঢেউয়ের আঘাতে আঘাতে মুছে যাবে পরিচয়, মেনে নিতে পারছি না।
কী হবে বকুলতলায় গান গেয়ে, কী হবে এ গানের স্বরলিপি, পায়ের তলার মাটি খুঁজে না পাই যদি। শহীদ মিনারের অল্প দূরে বসে রবিঠাকুর লিখেছিলেন এই গান: ‘তোমাদের এই হাসিখেলায়, জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়, এই কথাটি মনে রেখো’। গোধূলি প্রহরে যা অর্থবহ মনে হয়েছে, লিখেছি ‘ফিকশনে’।
মহাপ্লাবনের দিনে ডোবেনি নূহের কিশতি। বাঙালিদের ‘ময়ূরপঙ্খী’, ‘মন পবনের নাও’।
যাদের নৌকা আছে, তারা মরবে না।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সংগীত ব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net

মোবারকের বিদায়ঘণ্টা বাজল’ by রবার্ট ফিস্ক

গত বৃহস্পতিবার ‘কোনার ঘর’ থেকে আপনি দেখতে পেতেন যেসব মিসরীয় ‘প্রেসিডেন্ট’-এর হাত থেকে রেহাই পেতে মরিয়া, তাদের ঔদ্ধত্য ও মূঢ়তা। ‘ভালো মানুষেরা’ নিজেদের আচরণের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের সুবিধা করে দেওয়া দুঃখজনক। কিন্তু তাহরির স্কয়ারের নবীন গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা সতর্কতার সঙ্গে কায়রো লড়াই সংগঠিত করেছে। আগেভাগেই তারা বিপুল পরিমাণ পাথরের টুকরো জড়ো করে, ফোন করে আরও পাঠানোর ব্যবস্থা করে আর শেষে মিসরীয় জাদুঘরের পেছনভাগের উড়ালসেতু থেকে মোবারকপন্থী তরুণদের হটিয়ে দেয়। এক দিন পরই মোবারক ক্ষমতা ছাড়বেন—এ ঘটনা হয়তো সেই পূর্বাভাসই দিচ্ছে। হয়তো তা আগের রাতের আগুনে-বোমা ও স্লাইপার গুলির বদলা। কিন্তু মিসরের নতুন ‘বীরদের’ জায়গা থেকে দেখলে সময়টা ভালো যায়নি।
কোনার ঘরটি রেফারির টাচলাইনের মতো। অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগে নির্মিত। দেয়ালের বহির্ভাগে পাথুরে আঙুরলতার সজ্জাসংবলিত কয়েক স্তরের আস্তরণ আর ভেতরটা স্যাঁতসেঁতে, ভগ্নপ্রায়। মার্বেলের ভাঙা সিঁড়ি, দুর্গন্ধময় কাপড়ের দেয়াল-কাগজ ও কাঠের মেঝে। থলের পর থলে ভর্তি পাথরে। এদের চাপে মেঝেতে গোঙানির মতো শব্দ হচ্ছিল। পাথরের টুকরো সব চতুর্ভুজাকৃতি করে ভাঙা। মোবারকপন্থী মানুষদের ওপর ছোড়ার জন্য আনা। মাহমুদ বাসৌনি সড়ক ও শহীদ আবদুল মেনেম রিয়াদ স্কয়ারের কোনায় অবস্থিত এই মার্জিত-বিষণ্ন-পুরোনো বাড়িটির ইতিহাস কেউ বলতে পারছে না। সেটাই স্বাভাবিক। ঘরটির ভঙ্গুর ব্যালকনি থেকে আমি দেখতে পাচ্ছিলাম সেদিনের পাথরযুদ্ধ। আর এই খুদে গৃহযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে মিসরীয় সেনাবাহিনীর সাহসী ও করুণ প্রচেষ্টা। এ যুদ্ধের পরদিনই জুমাবার; তাই বিক্ষোভকারীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছে, স্বৈরাচারের দিন শেষ।
পাথরের ময়দান কৌশলে পেরিয়ে সেনারা মহাসড়কে নেমে আসেন। তাঁরা পাথর নিক্ষেপকারী দুই পক্ষের মধ্যে দুটি অ্যাবরামস ট্যাংক স্থাপন করতে চেষ্টা করতে থাকেন। চার সেনা মাথার ওপর হাত তুলে যুদ্ধবিরতির চিহ্ন দেখান।
কী করুণ পরিস্থিতি! এখানকার যুদ্ধ থামাতে দরকার ছিল চার হাজার সেনা। অথচ ছিলেন মাত্র দুজন ট্যাংকচালক, একজন অফিসার ও চারজন সেনা। আর গণতন্ত্রের সেনানীরা (হ্যাঁ, একটু নৈরাশ্য যোগ করতেই হচ্ছে) সেনাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় থাকলেও এখানে এসে সেনাদের ধৈর্যের দিকটিকে একেবারেই আমলে নেয়নি। মিসরীয় জাদুঘরের বাইরে রাস্তায় তারা ব্যূহ রচনা করে। সবার হাতে ধরা ঢেউ তোলা টিনের ঢাল। হলিউডি ছবিতে রোমান সেনাদের ব্যঙ্গ করছে যেন—তবে বক্ষবর্ম, মুগুরের বদলে তাদের গায়ে টি-শার্ট আর হাতে ধরা তলোয়ারের বদলে লাঠি। কোনার ঘরের বাইরে আমার সামনে এসে দাঁড়াল এক লোক, তার হাতে (বিশ্বাস করুন, পাঠক) সাত ফুট লম্বা লোহার ত্রিশূল। সে জানাল, অনেকের হাতে আছে এমন অস্ত্র। আগের দিনে মোবারকপন্থীদের ঘোড়া, উটের হামলার মতোই এটাও তেমনি খারাপ।
আরেক ইউনিটের পাঁচ সেনা পাশের এক বাড়ি থেকে এক ট্রে মলোটোভ ককটেল উদ্ধার করেছেন। এই কয়েকজনকে নিরস্ত্র করতে পুরো সামরিক অভিযান চালাতে হয়েছে। কানফাটা শব্দে তারা বলছিল, ‘মোবারকের বিদায় কালই।’ আর তারপরই ৪০ ফুট দূরে শত্রুর উদ্দেশে বলছিল, ‘এই বুড়োরা কালই ভাগবে।’ সাধারণ সব খবরও তাদের উজ্জীবিত করছিল—মোবারকের ব্যাপারে ওবামার বক্তব্য কিংবা মিসরীয় সেনাবাহিনী (প্রতিবছর ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে) প্রেসিডেন্টের হাতে অপমানিত হতে হতে ক্লান্ত। ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ শেষ হতে বাকি নয় মাস, তবু ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে দেশের ওপর এমন বিপর্যয় নামিয়ে আনার জন্যও মোবারকের ওপর সেনাবাহিনী ক্ষুব্ধ।
হয়তো এ খবর সত্যি। আমার মিসরীয় বন্ধুদের মধ্যে যাঁদের আত্মীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, তাঁরা আমাকে বললেন, ‘মোবারকের বিদায়ের ব্যাপারে তাঁরা মরিয়া হয়ে পড়েছেন। না হলে হয়তো আবার বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছোড়ার নির্দেশ আসবে তাঁদের ওপর।’
কিন্তু বৃহস্পতিবার মোবারকবিরোধীরা ‘হামলা’ করল; পাথর ছুড়ে ও লোহার অস্ত্র দিয়ে। উড়ালসেতুর ওপর অবস্থান নেওয়া মোবারক-সমর্থকদের ওপর। আমি দেখলাম, মোবারকপন্থী কয়েকজন রাস্তায় নেমে এল। তাদের ওপর বৃষ্টির মতো পাথরের টুকরো পড়ছে। তারা মাথার ওপর হাত তুলে শান্তির চিহ্ন দেখাচ্ছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।
এমন সময় আমি সেই বিপজ্জনক সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলাম। সাদা পাগড়ি মাথায় আর লম্বা লাল কোর্তা পরা, যত্ন করে সাদা দাড়ি আঁচড়ানো, অসাধারণ দেখতে এক ইমাম পাথরের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন। তাঁর হাতে চাবুকের মতো কিছু একটা ছিল, সেটা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের আঘাত করতে থাকলেন। উভয় পাশ থেকে আসতে থাকা পাথরের মধ্যে তিনি দাঁড়িয়ে। কিছু মানুষ আছে, যারা মোবারকের হাত থেকে রেহাই চায়, কিন্তু এসব হামলা চায় না। এই লোকটা তাদেরই একজন। এক বিক্ষোভকারী মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।
আমি তখন ভোঁ দৌড় দিয়ে দুই ট্যাংকের কাছে চলে গেলাম। একটার আড়ালে আশ্রয় নিলাম। ট্যাংকটির বিশাল গান-ব্যারেলটি ৩৫০ ডিগ্রি ঘুরানো হলো। সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা দেখানোর মজার চেষ্টা। ইঞ্জিন থেকে পাথর নিক্ষেপকারীদের চোখে ধুলা ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এক সেনা কর্মকর্তা বেরিয়ে এসে ইমামের পাশে দাঁড়ালেন আর মোবারকপন্থীদের পথ করে দিলেন—তাঁর হাতও তখন মাথার ওপর তোলা। তখনো পাথরের শব্দ হচ্ছিল। তবু মধ্যবয়সী কয়েকজন হাত বাড়িয়ে একে অন্যের হাত ধরছিল, সঙ্গীকে সিগারেট সাধছিল।
এমন পরিস্থিতি বেশিক্ষণ থাকেনি। পেছনে তাহরির স্কয়ারে পরিত্যক্ত কংক্রিটের মেট্রো নির্গমন পথের নিচে কিংবা ঘাস বা বন্ধ দোকানের সিঁড়িতে অনেকে ঘুমিয়ে রাত পার করে। অনেকের মাথা ও হাতে ব্যান্ডেজ। আঘাতের চিহ্ন আগামী দিনে তাদের বীরত্বের ব্যাজ; ‘প্রতিরোধ’ লড়াইয়ে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার প্রমাণ হয়ে উঠবে। তবু এমন কাউকে পেলাম না, যে বলতে পারে কেন এই স্কয়ার এতটা মূল্যবান।
সত্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই প্রতীকী। নামমাত্র উসমানীয় শাসনামলে বাইরে থেকে স্থপতি এনে স্কয়ারটি তৈরি করা হয়েছিল। ‘ইসলামিয়া’ স্কয়ার থেকে নীল নদের দিকে এর অবস্থান। পরবর্তীকালে সেখানে ব্রিটিশরা তৈরি করেছিল বিশালাকার কছর—এল-নীল ব্যারাক। রাস্তার ওপারে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ছদ্ম-বারোক দালান, সেখানেই ছিল বাদশাহ ফারুকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্বস্ততার সঙ্গে মন্ত্রণালয়টি ব্রিটিশ নির্দেশ মেনে চলত।
পুরো স্কয়ার এককালে সব মিসরীয়র জন্য নিষিদ্ধ ছিল। এই বিরাট ময়দানের পুরো এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল নিষিদ্ধ অঞ্চল, দখলদারের ভূমি, কায়রোর কেন্দ্রস্থল; যেখানে মিসরবাসী কখনো পা ফেলতে পারত না। তাই স্বাধীনতার পর ওটা হয়ে উঠল ‘মুক্তি’—‘তাহরীর’— স্কয়ার। এ জন্যই মোবারক এটা রক্ষা করতে চেয়েছেন, আর এ কারণেই যারা তাঁর উচ্ছেদ চায়, তাদেরও এটা হাতছাড়া করা চলবে না।
হেঁটে হেঁটে ফেরার পথে যাদের দেখলাম তারা খুব আশাবাদী, আরও এক রাত আগুনে-বোমা তারা সহ্য করে যেতে পারবে। কেননা, জুমাবারে আসবে প্রত্যাশিত বিজয়। রামি নামের একজনের সঙ্গে কথা হলো, সপ্রতিভভাবে তিনি বললেন, ‘মনে হয় মোবারকের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য আমাদের এখন একজন জেনারেল দরকার।’ তাঁর আশা হয়তো পূরণ হবে।
ব্রিটেনের দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
রবার্ট ফিস্ক: ব্রিটিশ সাংবাদিক।

গুয়ানতানামোয় বন্দীর মৃত্যু

কিউবায় মার্কিন কারাগার গুয়ানতানামো বের বন্দী আওয়াল গুল (৪৮) নামের এক আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক মুখপাত্র জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে শরীরচর্চা সেরে গোসল করার সময় আওয়াল মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। আওয়াল আল-কায়েদার কমান্ডার বলে অভিযোগ করা হয়। ২০০২ সালের অক্টোবরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাঁকে আটক করা হয়। আওয়ালের আইনজীবীর ভাষ্য, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট থিন সেইন

মিয়ানমারের পার্লামেন্ট গতকাল শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাবেক জেনারেল ও প্রধানমন্ত্রী থিন সেইনের নাম ঘোষণা করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিয়ানমারের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে থিন সেইন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
থিন সেইন জান্তাপ্রধান জেনারেল থান শয়ের অন্যতম সহযোগী। টিন অং মাইন্ট এবং সাই মাউক খাম ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তিনজনই সেনা-সমর্থিত ইউএসডিপি পার্টির সদস্য। গত নভেম্বরের বিতর্কিত নির্বাচনে দলটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
জেনারেল থান শয়ে ১৯৯২ সাল থেকে মিয়ানমার শাসন করছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। থান শয়ে ভবিষ্যতে কী ভূমিকা পালন করবেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন সোনিয়া-মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরাই ঠিক করবেন কোন দল কোন আসনে লড়বে আর কোন দল কত আসন পাবে।
কংগ্রেস হাইকমান্ড থেকে ইতিমধ্যেই প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বের কাছে ওই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ কমিটির গত বুধবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবেন। বৈঠকে তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নির্বাচনের একক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, নেত্রী যাঁকে উপযুক্ত প্রার্থী মনে করবেন, তাঁকেই তিনি মনোনয়ন দেবেন। শুধু তা-ই নয়, কংগ্রেসের সঙ্গে আসন রফা প্রশ্নেও মমতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
সাধারণত দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের আগে কোনো কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশী নিজের শক্তি ও সমর্থন দেখানোর জন্য এলাকার লোকজন নিয়ে মিছিল করে নেত্রীর কাছে যান।

ব্লাসফেমি আইন সংশোধনের চেষ্টা থেকে সরে গেলেন শেরি রহমান

পাকিস্তানের বিতর্কিত ব্লাসফেমি আইন সংশোধনের উদ্যোগ থেকে সরে গেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সাংসদ শেরি রেহমান। গত বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
সরকার ব্লাসফেমি আইন সংশোধনের প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার পর যে গুটি কয়েক সাংসদ এ নিয়ে কথা বলছিলেন শেরি রহমান ছিলেন তাঁদের একজন।
গত মাসে পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসিরের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ব্লাসফেমি আইন সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। তাসিরের এক দেহরক্ষী হত্যার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন, ব্লাসফেমি আইনের বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি তাসিরকে হত্যা করেছেন।
পাকিস্তানে এই আইনের অধীনে শত শত মানুষকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, এই আইনের সুযোগ নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করা হয়ে থাকে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (স.) নিয়ে সমালোচনার অভিযোগে গত নভেম্বরে আছিয়া বিবি নামের এক খ্রিস্টান নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকে ব্লাসফেমি আইনের বিরুদ্ধে জোর সমালোচনা শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল

চেক প্রজাতন্ত্রের ভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যথেষ্ট দুর্বল ছিল। এর পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার ক্ষমতা ছিল না। উইকিলিকসে ফাঁস করা মার্কিন গোপন কূটনৈতিক বার্তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল শুক্রবার ব্রিটেনভিত্তিক পত্রিকা টেলিগ্রাফ এ খবর প্রকাশ করে।
কূটনৈতিক ওই বার্তা থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংস্থার পরিচালক জেনারেল প্যাট্রিক ও’রেইলি ২০০৭ সালের এক ব্রিফিংয়ে জানান, চেক রিপাবলিকে যে রাডার-ব্যবস্থা রয়েছে, তা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে না। ওই রাডার কৌশলগত রেখার মধ্যে থাকা বস্তু শনাক্ত করতে পারে, দিগন্তের ওপারে থাকা বস্তু শনাক্ত করতে পারে না। যে সময়ে ওই রাডার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করতে পারবে, ওই সময় এটিকে ঠেকানোর পাল্টা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না।
চেক রাডার-ব্যবস্থা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ওই সময় মার্কিন এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে রাশিয়া।
একটি কূটনৈতিক বার্তা থেকে জানা গেছে, প্যাট্রিক ও’রেইলি বলেছেন, ওই রাডার-ব্যবস্থা এক্স-ব্যান্ডের। এটি শুধু সরলরেখায় বস্তু শনাক্ত করতে পারে। ২৪৫, ৪৫০ বা ৮৫০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার ক্ষমতা এর নেই। যে সময় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রাডারে ধরা পড়বে, তখন কিছুই করার থাকবে না। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাশিয়ার পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ব্যাপকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র (এইসিবিএম) শনাক্ত করতে পারবে না।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশের আমলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস ২০০৮ সালের ৮ জুলাই চেক প্রজাতন্ত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থাপনের চুক্তি চূড়ান্ত করেন। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে এই পরিকল্পনা বাতিল করে দেন।

আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন নাজারবায়েভ

আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নূর সুলতান নাজারবায়েভ। গতকাল শুক্রবার এ-সংক্রান্ত একটি আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। ওই আদেশ অনুয়ায়ী আগামী ৩ এপ্রিল দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি গণভোট অনুষ্ঠানের যে পরিকল্পনা করেন, তা থেকেও তিনি শেষ পর্যন্ত সরে আসেন। যুক্তরাষ্ট্র তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
নাজারবায়েভ দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়া দেশগুলোর শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দিন ধরে ক্ষমতায় আছেন তিনি। বর্তমান মেয়াদ অনুযায়ী তাঁর ক্ষমতা ২০১২ সাল পর্যন্ত থাকলেও গতকাল আকস্মিকভাবে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি।
কাজাখদের কাছে ‘পাপা’ নামে পরিচিত নাজারবায়েভ ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৯ সালে। মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের মতো তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলেও এক কোটি ৬০ লাখ লোক অধ্যুষিত দেশটিতে বেশ জনপ্রিয়। কিছুদিন আগে নাজারবায়েভ ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার একটি পারিকল্পনা ঘোষণা করেন।

বিস্ফোরক তল্লাশিতে ইঁদুর

অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও বিস্ফোরক শনাক্ত করতে বর্তমানে ব্যবহূত হচ্ছে শিকারি কুকুর, মেটাল ডিটেক্টর এবং বডি স্ক্যানার। তবে কুকুর ও এসব যন্ত্র দিয়ে দেহ তল্লাশি করতে গিয়ে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় কর্তৃপক্ষকে। বডি স্ক্যানার দিয়ে দেহ তল্লাশি করার সময় নগ্ন শরীরে ছবি মনিটরে ভেসে উঠলে অনেকে বিরক্ত হন। ইসরায়েলের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে ইঁদুর। কাউকে বিব্রতকর অবস্থায় না ফেলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইঁদুর নির্ভুলভাবে বলে দিতে পারবে তল্লাশি করা ব্যক্তির কাছে মাদক বা বিস্ফোরক দ্রব্য আছে কি নেই।
বিজ্ঞানীরা বলেন, তাঁরা একটি শনাক্তকারী যন্ত্র তৈরি করেছেন। ওই যন্ত্রে তিনটি ছোট খোপ রয়েছে। প্রতিটি খোপে আটটি করে প্রশিক্ষণ দেওয়া ইঁদুর রাখা হয়। কাছাকাছি বিস্ফোরক বা মাদকের অস্তিত্ব থাকলে তারা সঙ্গে সঙ্গে বুঝে ফেলে এবং ইঁদুরগুলো দৌড়ে আলাদা একটি বিশেষ খোপে গিয়ে লুকায়। ওই বিশেষ খোপে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতা সংকেত বেজে ওঠে।
বিজ্ঞানীরা বলেন, কুকুর বা সাধারণ ডিটেক্টর মেশিনের চেয়েও বেশি নির্ভুলভাবে ইঁদুরগুলো বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্ত করতে পারে।

মোবারক ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোলাম

ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে পড়া মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে ‘ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোলাম’ আখ্যা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। গতকাল শুক্রবার তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জুমার খুতবায় তিনি এ কথা বলেন।
খামেনি বলেন, বিগত ৩০ বছর ধরে মিসরের ক্ষমতা গুটিকয়েক ব্যক্তি কুক্ষিগত করে রেখেছেন। তাঁরা কখনোই জনগণকে স্বাধীনতা দেননি। জনগণের স্বার্থে কাজ করেননি। তাঁরা সব সময় শত্রুদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেছেন।’
মোবারকের কড়া সমালোচনা করে ইরানি নেতা বলেন, ‘মোবারক যে শুধু ইহুদিবিদ্বেষী নন তাই নয়, বরং তিনি তাদের বন্ধু। তিনি ইহুদিবাদীদের মিত্র, তাদের সহকর্মী ও গোলাম। যুক্তরাষ্ট্রের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালনের কারণে তিনি মিসরকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে পারেননি।’
খামেনি বলেন, আরব বিশ্বের গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত ইসরায়েল। কারণ তারা জানে, মিসরে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে সেটা হবে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ঘটনা।
খামেনি মিসরের জনগণকে দুর্বার গতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলামি শাসন ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আপনারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না।
খামেনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, এ আন্দোলনে সেনাবাহিনীর একটি অংশ যোগ দেবে। মিসরের সেনাবাহিনী ইহুদিবাদীদের বিরোধী, জনগণের নয়।’
মিসরের চলমান আন্দোলনকে ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেন খামেনি। আরব বিশ্বে যে ‘জাগরণ শুরু হয়েছে’ তা ইসলামের জাগরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘আমি এক্ষুনি পদত্যাগ করলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে’

মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক বলেছেন, তিনি এক্ষুনি পদত্যাগ করলে দেশে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তাছাড়া গত কয়েক দিনের সহিংসতার জন্য তাঁর সরকার দায়ী নয়। বরং এর জন্য দায়ী নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুড। গত বৃহস্পতিবার এবিসি নিউজ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।
তাহরির স্কয়ারে গত বুধবার বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালান মোবারকের সমর্থকেরা। এতে মারা যায় ১০ জন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবারক বলেন, ‘ঘটনার জন্য আমি খুবই অনুতপ্ত। আমি চাই না মিসরের মানুষ নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হোক।’
এর আগে গত সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে মোবারাক ঘোষণা দেন, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই কথা বলার পর আমি অনেকটা স্বস্তি বোধ করছি।’
বিক্ষোভকারীদের দাবি, মোবারকের পদত্যাগ। তবে তিনি বলেন, ‘মানুষ কী বলছে আমি তার পরোয়া করি না। এই মুহূর্তে আমার চিন্তা দেশ নিয়ে, মিসর নিয়ে।’
মোবারক জানান, তিনি বিরক্ত হয়ে পড়েছেন এবং পারলে এক্ষুনি ক্ষমতা ছাড়তে চান। তবে এই মুহূর্তে পদত্যাগ করছেন না এই আশঙ্কায় যে তাতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত হন মোবারকের ছেলে গামাল মোবারক। বলা হয়ে থাকে, তিনি হবেন বাবার উত্তরসূরি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবারক বলেন, ‘আমি কখনোই এমনটা চাই না’
মোবারক বলেন, ‘আমি কখনোই দেশ ছেড়ে পালাব না। এই মাটিতেই আমি মরতে চাই।’
যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য মোবারকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে কী ভাবছেন, জানতে চাইলে তিনি কিছুটা ইতস্তত বোধ করেন। পরে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামাকে আমি বলেছি, ‘মিসরের সংস্কৃতি আপনি ঠিক বুঝবেন না। আমি যদি এক্ষুনি সরে দাঁড়াই, তাহলে কী ঘটবে।’

আসিফ আলী জারদারির বিয়ের গুজব

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনভিত্তিক এক পাকিস্তানি চিকিৎসককে বিয়ে করেছেন। ৪০ বছর বয়স্ক এই চিকিৎসকের নাম তানভীর জামানি। তবে বিয়ের এ খবরকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর। একই সঙ্গে পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন পিপলস পার্টিও (পিপিপি) একে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তানভীর জামানির এ বিয়ের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু জারদারি গোপনে বিয়ে করেছেন—এ খবর প্রকাশিত হলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং এ ধরনের খবরের নিন্দা জানানো হয়।
জারদারির মুখপাত্র ফরহাতুল্লাহ বাবর গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বিরোধী শক্তিগুলো অপপ্রচার চালিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানিও এ খবরকে ‘বাতুলতা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে তানভীর জামানি এ খবরের সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার—কোনোটাই করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এ ধরনের গুজব কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে তিনি তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।
তানভীর জামানি সিন্ধু মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৬ সালে আয়ারল্যান্ড থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক এবং ২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ওবামার স্বাস্থ্য সংস্কার বিলেরও সমর্থক ছিলেন।

মিসরের সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, মিসরের সরকার এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা মিসরীয় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস হামলা চালায়, তাহলে তাদের যে গ্রহণযোগ্যতা অবশিষ্ট আছে, তাও হারিয়ে যাবে।
গতকাল শুক্রবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিসর সম্পর্কে ইইউয়ের অন্য নেতাদের চেয়ে ডেভিড ক্যামেরন বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যদি আমরা কায়রোর রাজপথে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দেখতে পাই, কিংবা বিক্ষোভকারীদের পেটানোর জন্য গুন্ডা ভাড়া করতে দেখি, তাহলে ব্রিটেনসহ বিশ্বের কাছে মিসর সরকারের যে গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন অবশিষ্ট আছে, তারা তাও হারাবে।’
শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ব্রাসেলসে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য নেতারাও মিসরীয় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন বলেন, সরকার ও জনগণের একযোগে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া দরকার। তিনি বলেন, দেশটি একটি জাতীয় সংলাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
অন্যান্য ভূমধ্যসাগরীয় দেশের সঙ্গে অংশীদারির অংশ হিসেবে কায়রোর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে ইইউয়ের। তবে সমালোচকেরা বলেছেন, গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ সাবধানী ভূমিকা দেখা যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, মোবারকের সম্ভাব্য দ্রুত পদত্যাগের ব্যাপারে ওবামা প্রশাসন ও মিসরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অনুসরণ করা ইইউয়ের জন্য ‘অকারণ ও উদ্ধত’ হতে পারে।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মিসর সম্পর্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি খসড়া বিবৃতির অনুলিপি তাদের হাতে এসেছে।
বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা কড়া ভাষায় সহিংসতার নিন্দা করতে যাচ্ছেন। বিবৃতিতে তাঁরা ক্ষমতার ‘দ্রুত কার্যকর ও নিয়মমাফিক হস্তান্তরের’ আহ্বান জানাবেন।

মোবারকের সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার!

মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের মোট সম্পদের পরিমাণ চার হাজার থেকে সাত হাজার কোটি মার্কিন ডলার। দেশটির বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় এসব সম্পদের বেশির ভাগের মালিক হন তিনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
১৯৮১ সালে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের হত্যাকাণ্ডের পর প্রেসিডেন্ট হন মোবারক। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি তাঁর সম্পদ পরিবাবের সদস্যদের নামে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেন। এখন তাঁর পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার থেকে সাত হাজার কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে।
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমানে জামাল বলেন, প্রেসিডেন্ট মোবারক সামরিক ও সরকারের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট। সেই সূত্র থেকেই তাঁর সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মোবারকের শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের জন্য তিনিও দুর্নীতির আশ্রয় নেন। তাঁর সম্পদ মিসরের বাইরের কোনো ব্যাংকে রাখা হয়ে থাকতে পারে। সেটি ব্রিটেন বা সুইজারল্যান্ডের কোনো ব্যাংকেও হতে পারে।

শেয়ারের জোগান বৃদ্ধির সরকারি চেষ্টা গতিহীন

শেয়ারবাজারে সরবরাহ সংকটের বিষয়টি আবারও এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগকারীসহ সবার মাথাব্যথা একটাই, আর তাহলো— মূল্য। অর্থাৎ শেয়ারের দর বাড়ল কিংবা কমল কি না। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সব সময়ই একটি কথা বলে থাকেন, ‘বাজার এক জায়গায় থেমে থাকবে না। বাড়া-কমাই হলো শেয়ারবাজারের ধর্ম ও সৌন্দর্য।’
একটি পরিপক্ব আর্থিক বাজারে শেয়ার, ঋণপত্র (ডিবেঞ্চার ও বন্ড), মিউচুয়াল ফান্ড ইত্যাদি সিকিউরিটিজের দৈনন্দিন লেনদেন হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) শেয়ারের পাশাপাশি কিছু মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়। আর বন্ড আছে নামেমাত্র—কয়েকটি ট্রেজারি বন্ড। সিকিউরিটিজ হিসেবে ডিবেঞ্চার ‘নেই’ হয়ে যাওয়ার দশা হয়েছে। এভাবে দেশীয় বাজারে সিকিউরিটিজে বৈচিত্র্য নেই বললেই চলে।
মোদ্দা কথা হলো, সিকিউরিটিজের সরবরাহ। সন্দেহ নেই, গত কয়েক বছরে বাজারে বিনিয়োগকারী বেড়েছে অনেক গুণ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেই বলে থাকেন বাজারে এখন ৩৩ লাখ বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) হিসাবধারী এবং তাঁদের স্বার্থের দিক দেখতে হবে। অবশ্য এই সংখ্যার ন্যূনতম অংশ প্রকৃত বিনিয়োগকারী। বাকিরা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন করার জন্য বিও হিসাব পরিচালনা করেন। দৈনন্দিন লেনদেন কার্যক্রমে তাঁরা থাকেন না।
এবার সরবরাহ প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। বিনিয়োগকারী বাড়ার পাশাপাশি সিকিউরিটিজের সরবরাহও বাড়ছে বৈ কমছে না। প্রশ্ন হলো, বাড়ার তালটা ঠিক আছে কি না। অর্থাৎ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারের চাহিদা যে হারে বাড়ছে, সিকিউরিটিজ বা শেয়ারের সরবরাহ সে হারে বাড়ছে কি না। চাহিদা যদি বেশি বাড়ে, বুঝতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ারের পেছনে অধিক পরিমাণ বিনিয়োগকারী ছুটছেন। আর এতে স্বাভাবিক কারণেই শেয়ারের মূল্য বাড়বে। এই সহজ বিষয়টি বুঝতে অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ হতে হয় না।
শেয়ারের অতিমূল্য, বাজারের সার্বিক সূচক, বাজার মূলধন, সার্কিট ব্রেকার, আস্থা সংকট, দরপতন, পতন রোধে পদক্ষেপ ইত্যাদি নিয়ে দিনভর বৈঠক হয়েছে কয়েক দিন। কিন্তু আলোচনায় কার্যত স্থান পায়নি সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়টি।
শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পতনোন্মুখ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রহণ করা পদক্ষেপের মধ্যে একটি হলো, শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত করে দেওয়া। সঙ্গে সঙ্গেই স্থগিত হয়ে গেল বেসরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির বাজারে আসা। আর সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো তো বাজারে আসি আসি করছে কয়েক বছর ধরেই।
যোগাযোগ করা হলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বৃহস্পতিবার টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শেয়ারবাজারে সরবরাহ বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনবরত চাপ দেওয়া হচ্ছে।’
সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়া নিয়ে প্রথম উদ্যোগ শুরু হয় ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে। সরবরাহ বাড়ানোর গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান তখন সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সরবরাহ বাড়াতে হবে—এই যুক্তিতে সবাই একমত। সবারই একই ভাষ্য—নতুন নতুন বিনিয়োগকারী ঢুকছেন বাজারে, সে তুলনায় শেয়ারের সরবরাহ কম। তাই সরবরাহ বাড়ানোটা একেবারে জরুরি। মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবেরাও সায় দিলেন এতে।
এর পরই তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এক মহাপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) হাতে নেন। যার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ছেড়ে দেওয়া হবে। উদ্দেশ্য—পুঁজিবাজারে ভালো সিকিউরিটিজের সরবরাহ বাড়ানো। এ জন্য ৬২টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা করা হয় তখন।
এর মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আমলে ২০০৬ সালে তালিকাভুক্ত হয় ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডেসকো) এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবিএল) নামের দুটি কোম্পানি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালে যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং ২০০৮ সালে তিতাস গ্যাস তালিকাভুক্ত হয়। অর্থাৎ পাঁচ বছরে মাত্র পাঁচটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। কোম্পানিগুলোর ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শেয়ার অবশ্য এখনো সরকারের হাতেই।
কেবলই সময়সীমা বাড়ানো: শেয়ার ছাড়তে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ২০০৫ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চার বছরে আট দফা সময়সীমা বাড়িয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বর্তমান সরকারও চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কয়েক দফা। ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, শেয়ার ছাড়তে হবে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে ছয়টিতে কিছু আইনি ঝামেলা থাকায় শেষ পর্যন্ত শেয়ার ছাড়তে হবে ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে এবং ছাড়ার সময়সীমা পরবর্তী ছয় মাস।
পূর্বশর্ত হিসেবে এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে করপোরেট করা বা কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার কথাও বলা হয়। এ জন্য কাউকে চার মাস আবার কাউকে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় দেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু কাজ হয়নি। জুনের মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা তালিকাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠান—কেউই শেয়ার ছাড়তে পারেনি। বরং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবারও ছয় মাস সময় বাড়ানোর আবেদন জানায় প্রায় সব মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া ১৫ দিনের সময় দিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যমুনা অয়েলের ১৭ শতাংশ, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ১৭ শতাংশ, তিতাস গ্যাসের ১৫ শতাংশ, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, ন্যাশনাল টিউবসের ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং রূপালী ব্যাংকের ২৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, পাওয়ার গ্রিডের ১৬ দশমিক ২৫ এবং ডেসকোর ১৫ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত বছরের ২ নভেম্বর এদের চিঠি পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে রূপালী ব্যাংক ছাড়া কেউই শেয়ার ছাড়তে পারেনি। অর্থমন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন, চাইলে এক দিনের মধ্যেই এদের শেয়ার ছেড়ে দেওয়া সম্ভব।
বেশি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের: ২৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নয়টিই হলো জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের। বিদ্যুৎ বিভাগের দুটি। বাকি ১৫টি ছয় মন্ত্রণালয়ের। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি টালবাহানা করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এ বিভাগের আওতায় পদ্মা অয়েল একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি। এর রাইট শেয়ার ছাড়ার জন্য গত বছরের ১১ মে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু জ্বালানি বিভাগ ২১ জুন এক পত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানায়, এ অর্থ নিতে তারা রাজি নয়।
বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্টিবিউশনের শেয়ার ছাড়তে হলে ‘কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোং’ নামের একটি কোম্পানি গঠন করতে হবে। আর এ জন্য গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন জ্বালানিসচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন।
জানা গেছে, কোম্পানির জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ার কথা বলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিক্যুইটিফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস লিমিটেডের (এলপি গ্যাস) শেয়ার ছাড়তে পারছে না বলে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। আর আন্তমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির পর্ষদ সভায় শেয়ার ছাড়ার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।
জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং রুরাল পাওয়ার কোম্পানি ৪৯ শতাংশ করে এবং ডেসকো আরও ১৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার জন্য গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছিল।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অজুহাত: শেয়ার না ছাড়ার যুক্তি হিসেবে নতুন এক তত্ত্ব দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সেটি হলো, শেয়ার ছাড়লে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন গত জোট সরকার আমলেও শেয়ার ছাড়া নিয়ে নেতিবাচক অবস্থান ছিল শিল্প মন্ত্রণালয়ের। তখন অবশ্য শিল্পমন্ত্রী ছিলেন বর্তমানে কারাবন্দী জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামী। কিন্তু বর্তমান শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সময়েও অবস্থার উন্নতি হয়নি।
সূত্রে জানা গেছে, প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ সম্পর্কে শিল্প মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০১২ সালের মধ্যে সিডান গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। আর চিটাগাং ড্রাইডককে লাভজনক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় শেয়ার ছাড়লে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া জিইএম কোম্পানি এবং বাংলাদেশ ব্লেড কারখানাকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।
তবে পুঞ্জীভূত লোকসানের কারণে কর্ণফুলী পেপার মিলস, বাংলাদেশ ইন্স্যুলেটর ও স্যানিটারি ওয়্যার এবং ছাতক সিমেন্ট কারখানার শেয়ার ছাড়ার বিপক্ষে মত দিয়েছে খোদ এসইসি। শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, এগুলো লাভজনক করার একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
আর উসমানিয়া গ্লাস, এটলাস বাংলাদেশ, ন্যাশনাল টিউবস ও ইস্টার্ন কেব্লসের বিষয়ে মামলা থাকায় এগুলোর শেয়ার ছাড়ার বিষয় আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ক্রমাগত লোকসান দেওয়ায় ১৩টি চিনিকলকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা-ও পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানায় শিল্প মন্ত্রণালয়।
বঙ্গবন্ধু সেতুর বন্ড ছাড়া স্থগিত: যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের অন্তর্গত বঙ্গবন্ধু সেতুর ভবিষ্যৎ টোল আয়ের বিপরীতে বন্ড ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮ সালে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি, আইসিবি ও বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়। সেই কমিটি একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সেতু বিভাগে পাঠালেও তা পড়ে রয়েছে।
বরং গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সেতু বিভাগ এক চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আয়ের বিপরীতে বন্ড ছাড়ার কার্যক্রম পর্ষদ সভায় স্থগিত হয়ে গেছে। তার চেয়ে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে অর্থের ঘাটতি হলে বন্ড ছাড়ার বিষয়ে ভাবা যাবে।
আটকে আছে সোনারগাঁও-শেরাটন: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে এ দুটি হোটেল—হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (সোনারগাঁও হোটেল) এবং বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (শেরাটন হোটেল)।
পর্যটনসচিব শফিক আলম মেহেদী আন্তমন্ত্রণালয় সভায় জানিয়েছিলেন, মূলধন পুনর্মূল্যায়ন করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেরাটনের শেয়ার ছাড়া হবে বাজারে। এ জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোনারগাঁওয়ের ক্ষেত্রেও তাই। তবে সোনারগাঁওয়ের ভূমি নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েছে বলে শেয়ার ছাড়তে সমস্যা হচ্ছে। গত বছরের মাঝামাঝি উভয় হোটেলের শেয়ার ছাড়ার জন্যই ২০১১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে।
আরও যেগুলো: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত কোম্পানিগুলো হচ্ছে—টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এবং বাংলাদেশ কেব্ল শিল্প সংস্থা এবং বাংলাদেশ টেলিফোন শিল্প সংস্থা।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন কোম্পানি হচ্ছে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড। কিন্তু এর শেয়ার ছাড়ার কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি নেই। আন্তমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত থাকলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, ‘এ কোম্পানিটির শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সমীচীন হবে।’
ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, শেয়ারবাজার হলো অর্থায়নের উৎস। সে হিসেবে অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। অথচ বড় বড় বিশেষজ্ঞরা একে অনুৎপাদনশীল খাত বলে আখ্যা দিচ্ছেন। এই প্রচারণা উদ্যোক্তা তথা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারবিমুখতা বাড়াবে, যা চূড়ান্ত অর্থে ক্ষতি বয়ে আনবে।
শেয়ারবাজারে সরবরাহের বিষয়টি সরকারের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘গাড়ি যেমন তেল বা গ্যাস ছাড়া চলে না, তেমনি তারল্য ছাড়া শেয়ারবাজার চলবে না। আর শেয়ারবাজার যদি তারল্য-সংকটে ভোগে, অর্থনীতিরও তাহলে সংকটে পড়া স্বাভাবিক।’

এসইসির দুই সিদ্ধান্ত বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে

বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এমন আশায় গেল সপ্তাহে মার্জিন ঋণ ও অভিহিত মূল্য পরিবর্তন-সংক্রান্ত দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
সিদ্ধান্ত দুটি হলো—মার্জিন ঋণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসইসির হস্তক্ষেপ না করা এবং কোম্পানির অভিহিত মূল্য পরিবর্তন-সংক্রান্ত গত বছর মে মাসে জারি করা একটি নির্দেশনা স্থগিত করা। আরেকটি সিদ্ধান্ত হচ্ছে, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে (এসআরও) স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে প্রয়োজনে কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ক্ষমতা প্রদান।
এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান গত মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এসইসি এখন থেকে মার্জিন ঋণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এ ব্যাপারে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশনে জমা দেবেন। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ প্রদানের হার নির্ধারণ করবে। তবে মার্জিন ঋণের নীতিমালা তৈরির ব্যাপারে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর নজর রাখতে হবে। তা হলো গ্রাহকদের হিসাবে রক্ষিত সিকিউরিটিজের মূল্যায়ন পদ্ধতি, জোর করে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়মাবলিতে এসইসির নীতিমালা অনুসরণ। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো ছয় মাস অন্তর তাদের নির্ধারিত মার্জিন ঋণের হার পরিবর্তন করতে পারবে। তবে তা জানুয়ারির প্রথম কর্মদিবস ও জুলাইয়ের প্রথম কর্মদিবস থেকে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) তাদের সদস্য স্টক ব্রোকারদের কাছ থেকে মার্জিন ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রতি মাসের নির্ধারিত সময়ে এসইসিতে প্রদান করবে। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো একই সময়ে সরাসরি এসইসিতে তাদের তথ্য প্রদান করবে।
সাইফুর রহমান আরও বলেন, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে (এসআরও) স্টক এক্সচেঞ্জগুলো এখন থেকে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেন স্থগিত, বা যেকোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। তবে বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে এসইসিকে অবহিত করতে হবে। সিদ্ধান্তগুলো বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বাজার স্বাভাবিক গতিতে চলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত বুধবার এসইসি আরেকটি নির্দেশনা জারি করে। এতে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অভিহিত মূল্য পরিবর্তনে আগের নির্দেশনা স্থগিত করা হয় কমিশন। গত বছর ১০ মে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে তাদের অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সিদ্ধান্ত যা-ই নেওয়া হোক, বর্তমানে বাজারে প্রধান সমস্যা হচ্ছে তারল্য-সংকট। তাঁদের মতে, পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক ঘটনার পর তারল্য-সংকটের বদলে বড় সমস্যা হচ্ছে—এখনো অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে গত কয়েক দিন ধরে বাজারে বেশ অস্থিরতা চলছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও একই কারণে কাজে আসছে না। সুতরাং, প্রথমেই প্রয়োজন বড় বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফিরে আসা।
এ ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ও রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রশিদ লালি বলেন, বিভিন্ন কারণে বর্তমানে বড় বিনিয়োগকারীরা এখন বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। এর ফলে বাজারে তারল্য-সংকট বিরাজ করছে। তাঁরা ফিরে আসলে এ সংকট অনেকাংশে কমে যাবে।
এ ব্যাপারে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মার্জিন ঋণ দেওয়ার বিষয়টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের অধীনে থাকা উচিত।’ কেননা, এসব পেশাদারদের হাতে ছেড়ে দিলে তাঁরা বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করে ঋণ দিতে পারবেন। তাঁর মতে, মার্জিন ঋণ কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম ওঠানামার ওপর নির্ভর করবে। দাম কমলে বেশি ঋণ দিতে হবে এবং বাড়লে কম ঋণ দিতে হবে। এতে দাম বাড়লে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে নিরুত্সাহিত হবেন এবং দাম কমলে উত্সাহিত হবে। বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।
রকিবুর রহমান আরও বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে। এর ফলে অনেক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে দূরে থাকায় বাজারে তারল্য-সংকটও বিরাজ করছে। সুতরাং তাঁদের মধ্যে আস্থা ফিরে এলে বাজার আবারও স্বাভাবিক হবে।
এদিকে বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস সূত্রে জানা যায়, বাজারের অস্বাভাবিক আচরণে অনেক বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যে তাঁদের পোর্টফোলিও ফাঁকা করে ফেলছেন। এর ফলে গত কয়েক দিন ধরে বাজারে দরপতনের ঘটনা ঘটছে। কেননা, বাজার একটু চাঙা হলেই বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি শুরু করছেন। আর বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতা কম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দরপতনের ঘটনা ঘটছে।
গত সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে চার দিনই দরপতন হয়েছে। এক দিন ছিল চাঙাভাব। গোটা সপ্তাহে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২৬০.৫৮ পয়েন্ট কমে ৭১২৫.৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
গেল সপ্তাহে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। লেনদেন হওয়া ২৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৮টির, কমেছে ২১২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এদিকে গত সপ্তহে ডিএসইতে চার হাজার ৪৯৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

বড় জয়ে দুঃখমোচন মোহামেডানের

মোহামেডান ফুটবল দলের দুঃখ ছিল টানা তিন ম্যাচ হারের। ক্লাবের ফুটবল ইতিহাসে এটা বাজে রেকর্ডও। কাল আবারও যদি কোনো অঘটন ঘটত, মুখ লুকোনোরই জায়গা পেত না সাদা-কালো শিবির। জয় দিয়েই ওই হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়েছে তারা। জয়টা অনেক বড়ও। তিন পরাজয়ের পর জয় পাওয়া মোহামেডানের কাছে এখন সুখের আরেক নাম!
আগের তিন ম্যাচে ৫ গোল খেয়ে নিজেরা একটি গোলও করতে পারেনি। কাল আরামবাগের বিপক্ষে জয়ে ফেরার ম্যাচে মোহামেডান খেয়েছে এক গোল, দিয়েছে চার গোল! চার গোলের প্রথম তিনটিই তিন আফ্রিকানের। জয়ের বাড়তি কৃতিত্ব তাঁদেরই। অতিরিক্ত সময়ে বদলি স্ট্রাইকার আনোয়ার শেষ গোলটি করে ব্যবধান বাড়িয়েছেন।
মোহামেডান জয়ের পথে যাত্রা শুরু করে ১৩ মিনিটে, যখন এমেকা দারুণ এক হেডে করেন প্রথম গোল। বাংলাদেশ লিগে প্রথম গোলের দেখা পেলেন সাদা-কালো অনেক আশা-ভরসার এমেকা। দুই মিনিট পরই ১-১! গোলদাতা আরামবাগের লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার বেঞ্জামিন। তবে ১৯ মিনিটে অধিনায়ক শরিফের ফ্রি-কিক থেকে নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার এমেকা লাকির মাপা হেডে ২-১ হলে আবার স্বস্তি সাদা-কালো শিবিরে। ২৯ মিনিটে রুয়ান্ডান মিডফিল্ডার আমানির শটে ৩-১ হওয়ার পর মোহামেডানকে আর জয় নিয়ে ভাবতেই হয়নি।
আরামবাগ তাদের এই পরাজয়ের জন্য দায়ী করেছে বাফুফেকে। দুই ম্যাচ করে নিষিদ্ধ হওয়া গিনিয়ান ডিফেন্ডার মোস্তফা কাবা ও অধিনায়ক দ্বীন মোহাম্মদ না থাকায় আরামবাগের রক্ষণ এদিন ভেঙে পড়ে মোহামেডানের আলতো ধাক্কাতেই। এ কারণে বাফুফের ‘মুণ্ডুপাত’ করে দুই খেলোয়াড়ের শাস্তির প্রতিবাদে বিবৃতিও দিয়েছে আরামবাগ। দ্বীন মোহাম্মদসহ অন্য খেলোয়াড়েরা মাঠেই বলে বসলেন, ‘রেফারিকে না মেরেই শাস্তি। তাহলে তো মারাই...!’
মোহামেডান কোচ শফিকুল ইসলাম, সমর্থক, কর্মকর্তা সবাই খুশি। তিন হারের পরও এখনো এক ম্যাচ বেশি খেলে তারকায় ঠাসা শেখ জামালের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি মোহামেডানের (৭ ম্যাচে মোহামেডান ১২, ৬ ম্যাচে শেখ জামাল ১১)! অন্যদের চেয়েও মোহামেডানও খুব একটা পিছিয়ে নেই। ৭ ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধা ১৬, আবাহনী ১৪।
মোহামেডান: আল হাসান, এমেকা লাকি (আনোয়ার), আরাফাত রনি, আমানি, হাসান আল মামুন, শরিফ, ইসমাইল (শরিফুল), রনি (বিপুল), রমজান, ইয়াসিন, এমেকা।
আরামবাগ: মাসুদ (বিষ্ণু), শরিফ, ফয়সাল, সাইফুল্লাহ, সুবাইর, বেঞ্জামিন, কাশেম, ডালিম (মামুন/তূর্য), মনু, এমেকা, বাঙ্গুরা।

আজ মাঠে ফিরছেন মাশরাফি

অনেক উত্তেজনা, নাটক আর রং বদলানোর পর রোমাঞ্চকর এক মোড়ে দাঁড়িয়ে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। আজ শেষ দিনে নির্ধারিত হবে—আবাহনী শিরোপা পুনরুদ্ধার করবে নাকি প্রথম শিরোপা জিতবে গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স।
দিনটা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে আরেক কারণে। চোটের কারণে বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজা খেলবেন এই ম্যাচে। বিকেএসপিতে আবাহনী-বিকেএসপি ম্যাচ খেলার সময় ছিটকে পড়েছিলেন মাঠ থেকে। ছিটকে গেছেন বিশ্বকাপের ১৫ জনের দল থেকেও। ফতুল্লায় আজ আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ দিয়েই আবার ফিরছেন।
দিনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিকেএসপিতে গাজী লড়বে বিমানের বিপক্ষে। সর্বশেষ রাউন্ডের আগ পর্যন্ত সমান পয়েন্ট ছিল আবাহনী-গাজীর। কিন্তু গত ম্যাচে আবাহনী জিতলেও সিসিএসের কাছে ১ রানে হেরে খানিকটা পিছিয়ে পড়ে গাজী। ২৪ পয়েন্ট আবাহনীর, গাজীর ২২। আজ লিগের শেষ ম্যাচে আবাহনী তাই জিতলেই চ্যাম্পিয়ন। হারলেও সুযোগ থাকবে, সে ক্ষেত্রে কামনা করতে হবে গাজীর পরাজয়ও।
গাজীকেও শুধু জিতলে চলবে না, আবাহনীর হারের জন্যও প্রার্থনা করতে হবে। ধানমন্ডি মাঠে ওল্ড ডিওএইচএস আর সিসিএসের ম্যাচটি শিরোপা লড়াইয়ে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে পয়েন্ট টেবিলে অবস্থানের কারণে জিততে চাইবে দুদলই।

টেন্ডুলকারের ব্যাটের প্রেমে

১৯৯৮ সালে শচীন টেন্ডুলকারের হাতে বেধড়ক পিটুনি খেয়েছিলেন শেন ওয়ার্ন। ওই ম্যাচের পর ওয়ার্ন বলেছিলেন তাঁর স্বপ্নেও হানা দেয় টেন্ডুলকারের ব্যাটিং। তো যে ব্যাট দিয়ে ওয়ার্নকে পিটিয়েছিলেন টেন্ডুলকার, সেই ব্যাটের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানরা। এতটাই, টেন্ডুলকার যে ব্যাটে খেলতেন, সেই ব্যাট কিনতে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। এমনই তথ্য প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেন। স্ট্যান্ডিং মাই গ্রাউন্ড আত্মজীবনীতে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার জানিয়েছেন, ভারতের মাটিতে টেন্ডুলকারের হাতে অস্ট্রেলীয় বোলারদের ‘খুন’ হতে দেখে তাঁর ব্যাটের মতো ৮টি ব্যাট দেশে নিয়ে আসেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। ব্যাটসম্যানদের চাহিদা বুঝে ব্রিসবেনের ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাবা স্পোর্টিং প্রোডাক্টস’ ওই ধরনের ব্যাটও ছাড়ে বাজারে।

বাংলাদেশকে ভোলেননি শেবাগ

এমন দুঃসহ স্মৃতি কি চাইলেই ভোলা যায়? পারেননি বীরেন্দর শেবাগও। গত চার বছরে অনেক এগিয়েছে ভারতের ক্রিকেট। উঠেছে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে, ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে। কিন্তু ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারের ক্ষতটা শুকায়নি এখনো! বাংলাদেশের বিপক্ষে ‘প্রতিশোধের ম্যাচ’ জিতে সেই ক্ষতে এবার প্রলেপ দিতে চান শেবাগ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজে গত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছিল ভারত। পোর্ট অব স্পেনে বাংলাদেশ ভারত-বধ শুরু করেছিল শেবাগকে দিয়েই। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে মাত্র ২ রানে ছত্রখান হয়েছিল শেবাগের স্টাম্প। বারমুডাকে পরের ম্যাচে হারালেও শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পড়ে আগেরবারের রানার্সআপরা।
সমমানের শ্রীলঙ্কার কাছে হারটা তবু মেনে নিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে পরাজয়টা শেবাগকে যে কুরে কুরে খাচ্ছে, এর প্রমাণ কালকের কথাতেই। ভারতের সংবাদ চ্যানেল সিএনএন-আইবিএনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বাংলাদেশকে হুমকিই দিয়ে রাখলেন ভারতীয় ওপেনার, ‘যেহেতু বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা বাংলাদেশেই খেলছি, বাংলাদেশের মানুষ আশা করছে ওরা আমাদের আবার হারাবে। কিন্তু এবার আমাদের ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে...বলতে পারেন এটা আমাদের জন্য প্রতিশোধের ম্যাচ এবং ম্যাচটিকে আমরা মোটেও হালকা করে দেখতে চাই না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেব এবং বাংলাদেশের কঠিন পরীক্ষা নেব।’
গত বছরের শুরুতে ভারতের বাংলাদেশ সফরে ‘বাংলাদেশ অর্ডিনারি’ বলে বেশ হইচই ফেলে দিয়েছিলেন শেবাগ। শেবাগের ওই মন্তব্য, গত বিশ্বকাপের ইতিহাস, এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে এমনিতেই ছিল দারুণ উত্তেজনা। শেবাগের ‘প্রতিশোধ-স্পৃহা’ সেই উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালবে, সন্দেহ নেই।
গত বিশ্বকাপের ওই ম্যাচের পর ভারতকে আর হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে কখনোই খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি শেবাগ। ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৩৪.৬৪, বাংলাদেশের বিপক্ষে সেখানে ২৯.৮১। ‘প্রতিশোধের ম্যাচ’ তাই ভারতীয় দলের জন্য যেমন, তেমনি হয়তো শেবাগের জন্যও!
তবে শুধু প্রতিশোধের ম্যাচ নয়, শেবাগ কথা বলেছেন গ্রুপের অন্য তিন বড় ম্যাচ নিয়েও, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ যখন খেলেছি, আমরা ৫-০-তে জিতেছি। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওদের মাটিতেও আমরা ভালোই করেছি। এর আগে ভারতে হওয়া সিরিজে শচীন টেন্ডুলকার যখন ডাবল সেঞ্চুরি করল, ওই সিরিজটা আমরাই জিতেছিলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজে গেইল, পোলার্ডের মতো দুর্দান্ত ক্রিকেটাররা আছে, ওরা জ্বলে উঠলে আমাদের জন্য কাজটা কঠিন হবে। তবে আমাদেরও ভালো ভালো ক্রিকেটার আছে।’
ফিটনেসের চূড়ান্ত অবস্থা জানতে শেবাগ দিন দুয়েক কাটাবেন বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে। কাঁধের চোটের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজে না খেলা এই ব্যাটসম্যান অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি এখন পুরোপুরি ফিট।

নিষিদ্ধ ত্রয়ীর ভাগ্য ঘোষণার দিন

‘আর ভালো লাগছে না। ঘটনার শেষ দেখতে চাই।’ গত মাসে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা স্থগিত হওয়ার সময় এই ব্যাকুলতা ঝরে পড়েছিল মোহাম্মদ আমিরের কণ্ঠে। আমিরদের ‘অপেক্ষার পালা’ ফুরোচ্ছে। আজ দোহায় অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটারের রায় ঘোষণা। নির্দোষ প্রমাণিত হলে কথা নেই, তবে শাস্তি পেলে কঠোরতম শাস্তিই আমির-আসিফ-বাটরা পাবেন বলে ধারণা। পাঁচ বছর থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারেন এঁরা।
সুখবর নাকি দুঃসংবাদ, সেটি জানতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। তবে কালই এই তিনজন একটা দুঃসংবাদ শুনেছেন। আইসিসির পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের পুলিশও এই তিনজনের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে তদন্ত করেছে। সেই তদন্তের ভিত্তিতে তিনজনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে। তদন্তে ভালো প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেই জানিয়েছেন ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের মুখপাত্র।
নিষিদ্ধ ত্রয়ীর জন্য এটি হয়তো ঝড়েরই পূর্বাভাস। অবশ্য বাট-আমির দুজনই দোহার উদ্দেশে পাকিস্তান ছাড়ার আগে বলে গেছেন, মানসিকভাবে তাঁরা প্রস্তুত আছেন চরম দুঃসংবাদ শোনার জন্যও। আসিফ এই যাত্রাতেও ওই দুজনের সঙ্গী হতে পারেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাঁর প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি হচ্ছে, দুই সিনিয়র ক্রিকেটার বাট-আসিফ আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারেন। নতুন খেলোয়াড় বলে আমিরের সাজা কম হবে। তিনি নিষিদ্ধ হতে পারেন পাঁচ বছরের জন্য। বাট অবশ্য কাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মিডিয়ায় যেসব লেখালেখি হচ্ছে, সেসব আমি বিশ্বাস করি না। আমার আইনজীবী বলেছেন, এই মামলায় আমাদের ফিফটি-ফিফটি সুযোগ আছে। এর চেয়ে বেশি এই মুহূর্তে আমি কিছু বলতে রাজি নই। ক্রিকেট আমার জীবিকা। আমি তাই অবশ্যই খেলে যেতে চাই।’
সেই সৌভাগ্য বাট পাবেন কি না, সেটি আজই জানা যাবে। অবশ্য ট্রাইব্যুনালের রায়ই শেষ কথা নয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ থাকছে।

চট্টগ্রামে প্রাপ্তি আত্মবিশ্বাস

বাঘের রং বদলাচ্ছে দ্রুত। সকালের কাঁচা রোদের হলুদ আবরণের বাঘটি বিকেল হতে না-হতেই ডোরাকাটা রূপ নিচ্ছে। নগরের টাইগার পাসের এই বাঘ দেখতে উত্সুক মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। সিমেন্ট-বালুর বাঘের সামনে তো ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তারা বাংলাদেশ দলের বাঘদের কাছে ঘেঁষতে পারছে না পুলিশের ভয়ে।
দলকে ঘিরে মানুষের এত উত্সাহের উত্সমূলে রয়েছে টিম বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস। এটি বাড়িয়ে দিচ্ছে সাধারণের প্রত্যাশা। তামিম, আশরাফুলরা চট্টগ্রামে এসে বলেই দিয়েছেন তাঁদের লক্ষ্যের কথা। এবার তিন দিনের অনুশীলন শিবির শেষে গতকাল কোচ জেমি সিডন্স বললেন, ‘প্রস্তুতি ভালো। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। ভালো খেলে জিততে চাই।’
তামিমরা যেমন করে বলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি ম্যাড়মেড়ে লাগে এই কথা। তার পরও এই কথায় কোথায় যেন একটা একাগ্রতার সুর রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কোচরা সাধারণত কথাবার্তায় কূটনৈতিক থাকেন। বেশি প্রত্যাশার কথা বলে বিপদে পড়তে চান না। জেমি প্রথমে সেই পথে হাঁটলেও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশাটা চেপে রাখেননি, ‘ভালো ক্রিকেট খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে চাই।’
গতকাল শেষ দিনে কিন্তু মাঠে এসেছেন মাত্র ৮ ক্রিকেটার। তামিম, আশরাফুল, মাহমুদউল্লাহ, রুবেল হোসেনরা। সাকিব আল হাসানরা হোটেলে জিম করেছেন। অর্ধেকের অনুশীলনটাও ছিল মাত্র দেড় ঘণ্টার। আলাদাভাবে কিছুক্ষণ ব্যাটিং প্র্যাকটিস করে সবাই ফিরে গেছেন হোটেলে।
যাওয়ার পথে রুবেল হোসেন জানিয়ে গেছেন, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাস ভালো। আমরা অনেক প্র্যাকটিস করেছি। চট্টগ্রামের অনুশীলন ক্যাম্পটা খুব ভালো হয়েছে।’
রুবেল হোসেন আঙুলের ব্যথা পুরোপুরি সারেনি, তবে আগের চেয়ে কমায় বিশ্বকাপে খেলবেন বলে আশাবাদী, ‘ব্যথা আগের চেয়ে কমে গেছে। দ্রুতই সেরে উঠছি। বিশ্বকাপে আমি তিন সেরা পেস বোলারের মধ্যে থাকতে চাই।’ এমন আত্মবিশ্বাসী সুর কি সমর্থকের প্রত্যাশা না বাড়িয়ে পারে!
তাই টিম বাংলাদেশকে নিয়ে এত আগ্রহ। চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দল অনুশীলন ক্যাম্প করেছে আগেও। কিন্তু এবার ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষার মধ্যে দেখা গেল অনেক পরিবর্তন। বিশ্বকাপ অন্য এক আলোয় উদ্ভাসিত করেছে সাকিবদের। চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শিবির শেষ করে পুরো দল কাল বিকেলেই ছুটেছে ঢাকার পথে।
১২ ফেব্রুয়ারি কানাডার সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে ৯ ফেব্রুয়ারি আবার চট্টগ্রাম আসবেন সাকিবরা। তত দিনে টাইগার পাসের বাঘের চোখ দুটো নিশ্চয়ই ফুটিয়ে তুলবে শিল্পীর রংতুলি।

চ্যাপেলের ভুল স্বীকার

প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের কাছে হার। শুরুর এই ধাক্কা সামলে উঠলেও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারেনি ভারত। প্রবল প্রতাপশালী কোচ হিসেবে ভারতে আসা গ্রেগ চ্যাপেলের বিদায়ও হয়েছিল একেবারেই বাজে। এত দিন পর ‘গুরু গ্রেগ’ নাকে খত দিচ্ছেন। অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি স্বীকার করে নিলেন, গত বিশ্বকাপে শচীন টেন্ডুলকারকে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেননি তিনি।
তাঁর চাপের কারণেই টেন্ডুলকারকে ওপেনিংয়ের জায়গা ছেড়ে মিডল-অর্ডারে নেমে যেতে হয়। টেন্ডুলকারের ওজর-আপত্তিও ধোপে টেকেনি চ্যাপেলের কাছে। এত দিন পর চ্যাপেলের উপলব্ধি, সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।
টেন্ডুলকারকে নিয়ে লেখা ক্রীড়া সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্যের বই সাচ-এ চ্যাপেলের স্বীকারোক্তি, ‘প্রথমেই ব্যাখ্যা করে নিতে চাই, দলের প্রতি টেন্ডুলকারের আত্মনিবেদনের ব্যাপারে আমার কখনোই কোনো সংশয় ছিল না। ওর সঙ্গে আমি শুধু একটা ব্যাপারেই কথা বলেছিলাম, বিশ্বকাপে আমাদের কাজটা কী হবে তা নিয়ে। সম্পর্কের অবনতির কথা যদি বলেন, সম্ভবত সেটা তখনই হয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ব্যাটিং-অর্ডার নিয়ে আমাদের দ্বিমত ছিল।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশনের কারণে মিডল-অর্ডারে ‘পাওয়ার হিটার’ চাইছিলেন চ্যাপেল। বীরেন্দর শেবাগের ব্যাপারেও ভেবেছিলেন। কিন্তু শেবাগ মিডল-অর্ডারে নামতে রাজি হননি। তখন টেন্ডুলকারকে প্রস্তাব দেন চ্যাপেল। টেন্ডুলকার নিমরাজি হন।
সিদ্ধান্তটি শুধু একা নেননি, ওই সময়ের অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়েরও এতে সায় ছিল বলে জানিয়েছেন চ্যাপেল, ‘দ্রাবিড়ও মনে করেছে, মাঝখানের ওভারগুলোতেই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হবে। তাই ওই পজিশনে শচীন কিংবা শেবাগকেই দরকার ছিল।’
এখনো যদি ভারতের কোচ হিসেবে দায়িত্বে থাকতেন, টেন্ডুলকারকে এই প্রস্তাবই দিতেন। তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার টেন্ডুলকারের ওপরই ছেড়ে দিতেন বলে জানিয়েছেন চ্যাপেল, ‘ওই অভিজ্ঞতা আমাকে একটা শিক্ষা দিয়েছে। এখনো একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে আমি ওকে আমার ভাবনা জানিয়ে ব্যাখ্যা দিতাম। কিন্তু ও যদি এ ব্যাপারে সামান্য অস্বস্তি জানাত, আমি আর ওকে চাপ দিতাম না।’
বিশ্বকাপ ভরাডুবির পর এক সাক্ষাত্কারে টেন্ডুলকার জানিয়েছিলেন, চ্যাপেল দলের প্রতি তাঁর আত্মনিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু চ্যাপেল জানালেন, ওই সাক্ষাত্কারের পর টেন্ডুলকারের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলেছিলেন। ভারতের কোচ থাকার সময় আরেকটি উপলব্ধি হয়েছিল তাঁর। প্রতিটি মুহূর্তে টেন্ডুলকার যে কোটি কোটি সমর্থকের প্রত্যাশার চাপ বয়ে বেড়ান। এখনো তাই টেন্ডুলকারকে স্যালুটই করেন চ্যাপেল। ক্রিকেটের প্রতি টেন্ডুলকারের যে আত্মনিবেদন, সেটা আর কারও মধ্যেও দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন এই অস্ট্রেলিয়ান। ‘ক্রিকেট ওর জীবনের এত বড় একটা অংশজুড়ে আছে, মাঝেমধ্যে ভেবে চমকে উঠি, ক্রিকেট ছাড়লে ওর কী হবে’—চ্যাপেলের আবেগময় মন্তব্য।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট: মালিক-ইউসুফে বিরক্ত পাক নির্বাচকেরা

এ মুহূর্তে পাকিস্তানের ক্রিকেটে মোহাম্মদ ইউসুফ ও শোয়েব মালিক নাম দুটি ব্রাত্যই। নির্বাচকেরা তাঁদের বিশ্বকাপ দলে রাখেননি। অদূর ভবিষ্যতে আদৌ দলে সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়েও এ দুই ক্রিকেটারের মধ্যে রয়েছে ঘোরতর সন্দেহ। অনেকটা রাগে-ক্ষোভেই নিজেদের প্রমাণের জন্য বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটকে বেছে নিয়েছেন এ তারকাদ্বয়। মোহাম্মদ ইউসুফ মোহামেডানের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলে ইতিমধ্যে দেশে ফিরে গেলেও, শোয়েব মালিক একই ক্লাবের হয়ে খেলছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে পরপর দুটি সেঞ্চুরি করে জানান দিয়েছেন, তিনি এখনো ফুরিয়ে যাননি।
এদিকে মালিক বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে রান করে চললেও সেই পারফরম্যান্স পাকিস্তানি নির্বাচকেরা কতটা গুনতির মধ্যে ধরবেন, সেটা নিয়েও সংশয় থেকে যাচ্ছে। কারণ, খবরে জানা গেছে, ইউসুফ-মালিকের বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা নিয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেট নির্বাচকেরা প্রচণ্ড বিরক্ত। তাঁরা সরাসরিই নাকি বলেছেন, বাংলাদেশে শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ ইউসুফ যতই ভালো খেলুন, পাকিস্তান দলে বিবেচিত হতে হলে তাঁদের পাকিস্তানি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতেই হবে।
এ মুহূর্তে পাকিস্তানে ঘরোয়া ওয়ানডে প্রতিযোগিতা ‘কায়েদে আজম ট্রফি’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে মালিকের পিআইএর হয়ে খেলার কথা। প্রথম দিকে পিসিবির কাছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অনুমতি চেয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন মালিক। কিন্তু, পরে সেই পিসিবিই মালিককে বাংলাদেশে খেলার অনুমতি দেন। ইউসুফের ক্ষেত্রেও নাকি ঘটেছে একই ব্যাপার। তবে, নির্বাচকেরা পুরো ব্যাপারটিকেই মালিক-ইউসুফের ‘দেশের প্রতি ভালোবাসার চেয়ে টাকার প্রতি টান’ হিসেবে দেখেছেন ।
‘দল থেকে বাদ পড়ার পর যেখানে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে নিজেদের প্রমাণের কথা, ঠিক সে সময়ে মালিক-ইউসুফের টাকার জন্য বাংলাদেশ লিগে খেলাটা খুবই আপত্তিকর।’ নির্বাচকদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে তাঁদের এভাবেই উদ্ধৃত করেছে পাকিস্তানি ইংরেজি দৈনিক ডেইলি টাইমস।
এদিকে, মালিক ও ইউসুফের ঘনিষ্ঠ সূত্র ডেইলি টাইমসকে জানিয়েছে, এ দুই ক্রিকেটারই নির্বাচকদের অবহেলার শিকার হয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত। কায়েদে আজম ট্রফিতেই কয়েকটি ম্যাচে বড় রান করলেও বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পেয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন ইউসুফ। শোয়েব মালিকও নির্বাচকদের উন্নাসিক আচরণে মানসিকভাবে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। যার ফলে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে অর্থ উপার্জনের সুযোগটা তাঁরা ছাড়েননি। যেখানে পাকিস্তানি ঘরোয়া ক্রিকেটের চেয়ে অনেক বড় অঙ্কের অর্থ তাঁরা পাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে।

বিশ্রাম দরকার ভারতীয় ক্রিকেটারদের: রজার বিনি

দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপটা জেতার জন্য একেবারে মরীয়া হয়ে আছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। আর সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সামগ্রিক পারফরমেন্সও তাদেরকে তুলে এনেছে ফেভারিটের কাতারে। শেষ সময়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য জানপ্রাণ দিয়ে খেটে যাচ্ছেন ধোনী, শেবাগ, টেন্ডুলকাররা। কিন্তু ভারতের ৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য রজার বিনির মতে, অনুশীলনের পাশাপাশি এখন কিছুটা বিশ্রামও দরকার ভারতীয় ক্রিকেটারদের।
অনেকদিন ধরেই কোনরকম বিশ্রাম ছাড়াই একের পর এক ম্যাচ খেলে যাচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। নিউজিল্যান্ডের ভারত সফরে টেস্ট-ওয়ানডে সিরিজের পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের বড় একটা ধকল সামলেছে তারা। রজার বিনির এটাকে কিছুটা বাড়াবাড়ি বলেই মন্তব্য করেছেন। তবে ভারত যে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই বিনির। ভারতের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা সম্পর্কে সাবেক এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ খুবই শক্তিশালী। আট নম্বরে নেমে হরভজনও ভালো ব্যাটিং করতে পারে। বোলিং আক্রমণটাও সমান শক্তিশালী।’ কিন্তু ভারতের ফিল্ডিং নিয়ে খুব বেশি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না রজার বিনি। বিশ্বকাপের একেবারে শেষ মুহূর্তে ফিল্ডিং আর ফিটনেস ধরে রাখার উপরই ভারতীয় ক্রিকেটারদের বেশি জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

জয় দিয়ে শেষ করল নিউজিল্যান্ড

ভারত-বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশের পর নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সিরিজ হারটা এড়াতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ছয় ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম পাঁচ ম্যাচ শেষেই নির্ধারিত হয়ে গেছে সিরিজের ফলাফল। ৩-১-এ ইতিমধ্যেই সিরিজ জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। আজ সিরিজের শেষ ম্যাচটা তাই কিউইদের জন্য হয়ে উঠেছিল মান বাঁচানোর লড়াই। আর সেই লড়াইটা চমত্কারভাবেই উের গিয়ে শেষটা ভালো হয়েছে নিউজিল্যান্ডের। জেসি রাইডারের ঝোড়ো সেঞ্চুরির (১০৭) ওপর ভর করে বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫৭ রানে হারিয়ে সিরিজ ব্যবধান ৩-২-এ নামিয়ে নিয়ে এসেছে তাঁরা।
৩১২ রানের কঠিন টার্গেট সামনে নিয়ে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি ইনিংস শেষ হয়েছে ২৫৪ রানে। প্রথম ১৪ ওভারে ৬৭ রান তুলতেই পাকিস্তান হারিয়েছিল মোহাম্মদ হাফিজ (২১), আহমেদ শেহজাদ (১৯) ও ইউনুস খানের (১৬) উইকেট। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মিসবাহ-উল হকের অনুপস্থিতিটাও আজ বেশ ভুগিয়েছে পাকিস্তানকে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৮৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কামরান আকমল। কিন্তু মিডল অর্ডারে বড় কোনো জুটি গড়তে না পারায় শেষ পর্যন্ত জয়টা অধরাই থেকে গেছে পাকিস্তানের। অষ্টম উইকেটে সোহেল তানভিরকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র নয় ওভারে ৫৮ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তান শিবিরে আবারও কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। কিন্তু দলীয় ২৪১ রানের মাথায় সোহেল তানভির (৩০) রানআউট হওয়ার পর যেন হাল ছেড়ে দেন তিনি। পরের ওভারে ৪৪ রান করে তিনিও ফিরে যান বেনেটের শিকারে পরিণত হয়ে। ছয় ওভার বাকি থাকতেই পাকিস্তানি ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৫৪ রানে।
এর আগে টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান পাকিস্তানি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। চতুর্থ ওভারে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ফিরিয়ে দিয়ে শুরুটাও ভালোভাবেই করেছিলেন সোহেল তানভির। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান গাপটিল আর রাইডার। দলীয় ১৪১ রানের মাথায় রাজ্জাকের শিকারে পরিণত হয়ে ফিরে যান গাপটিল (৪৪)। এরপর নিয়মিত বিরতিতে একে একে সাজঘরের পথ ধরেন টেলর, ফ্রাঙ্কলিন ও রাইডার। দলীয় ১৯০ রানে ফিরে যাওয়ার আগে রাইডার খেলেছেন ৯৩ বলে ১০৭ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। শেষ পর্যায়ে স্কট স্টাইরিসের হার না মানা ৫৮ এবং নাথান ম্যাককালামের ৬৫ রানের সুবাদে নিউজিল্যান্ড স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৩১২ রান। রয়টার্স/ক্রিকইনফো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড ৩১১/৭ (৫০ ওভার)
জেসি রাইডার-১০৭, নাথান ম্যাককালাম-৬৫, স্কট স্টাইরিস-৫৮*; মোহাম্মদ হাফিজ ৫৭/২, আবদুর রাজ্জাক ২৩/২
পাকিস্তান ২৫৪ (৪৪.১ ওভার)
কামরান আকমল-৮৯, শহীদ আফ্রিদি-৪৪; হামিশ বেনেট ৪৬/৪, জেমস ফ্রাঙ্কলিন ৫০/৩

হেরেও শিরোপা আবাহনীর

মোহামেডানের কাছে ১ উইকেটে হেরেও পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে থেকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে আবাহনী। তবে এ শিরোপা জয়ের জন্য আবাহনীকে ধন্যবাদ দিতে হবে বিমানকে! বিমান দিনের অন্য ম্যাচে গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্সকে হারিয়েছে বলেই শিরোপা ঘরে উঠেছে আবাহনীর।
ম্যাচ শুরুর আগে আবাহনীর সামনে সমীকরণটা ছিল এমন—জিতলেই চ্যাম্পিয়ন। তবে তারা হারলে অন্য ম্যাচে হারতে হবে গাজী ট্যাংকে। সমীকরণ মিলে গেছে আবাহনীর। না জিতলেও অন্য ম্যাচে গাজী হেরে যায় বলে শিরোপা নিশ্চিত হয় আবাহনীর।