Tuesday, December 15, 2009

আত্মসমর্পণের সময় তামিল গেরিলাদের হত্যা করা হয়েছিল -সাবেক সেনাপ্রধান ফনসেকা বললেন

শ্রীলঙ্কার সাবেক সেনাপ্রধান শরত্ ফনসেকা বলেছেন, আত্মসমর্পণের সময় তামিল গেরিলা নেতাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ওই সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী গোটাভায়া রাজাপক্ষে পরাজিত গেরিলা নেতাদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফনসেকার ওই মন্তব্য গতকাল রোববার স্থানীয় দ্য সানডে লিডার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ফনসেকা দেশের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এএফপি।
ফনসেকা অভিযোগ করেন, গত মে মাসে লিবারেশন অব তামিল টাইগার ইলমের (এলটিটিই) পরাজয় ঘটে। এর আগমুহূর্তে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের ভাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী গোটাভায়া রাজাপক্ষে সেনাদের নির্দেশ দেন, যেন তামিল গেরিলাদের যুদ্ধবন্দী হিসেবে না নেওয়া হয়।
সানডে লিডারকে ফনসেকা বলেন, বিদেশি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তামিল গেরিলা নেতারা সাদা পতাকা উড়িয়ে সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করেছিলেন। ওই সময় গোটাভায়া সেনাবাহিনীর ৫৮ নম্বর ডিভিশনের কমান্ডারকে নির্দেশ দেন, আত্মসমর্পণের সময় গেরিলা নেতাদের যেন হত্যা করা হয়।
ফনসেকার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে ফনসেকা গত মাসে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন।

অস্ত্রবোঝাই উ. কোরীয় বিমান থাইল্যান্ডে আটক

থাইল্যান্ড একটি অস্ত্রবোঝাই বিমান আটক করেছে। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি উত্তর কোরিয়া থেকে আসছিল। ব্যাংকক বিমানবন্দরে জ্বালানি নেওয়ার জন্য এটি জরুরি অবতরণ করলে আটক করা হয়। মালবাহী এ বিমানটির পাঁচ ক্রুকেও আটক করা হয়েছে। খবর বিবিসি অনলাইনের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে থাইল্যান্ডের বিমানবাহিনীর এক মুখপাত্র গত শনিবার জানান, বিমানটি জ্বালানি নেওয়ার জন্য ব্যাংককের ডন মুয়াং বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এটি উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে উড্ডয়নের পর দক্ষিণ এশিয়ার কোনো একটি দেশে যাচ্ছিল। বিমানটিতে পাঁচজন ক্রু ছিলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন কাজাখস্তানের ও একজন বেলারুশের নাগরিক।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪০ টন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে এসব অস্ত্র থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক কর্মকর্তা জানান, বিমানটিতে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে—এ সংবাদ যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করে। তিনি আরও বলেন, বিমানটি উত্তর কোরিয়া থেকে আসছিল। এটি সম্ভবত পাকিস্তান যাচ্ছিল। একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, বিমানটি শ্রীলঙ্কা যাচ্ছিল।
থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী সুতহেপ থাংসুবান বলেন, বিমানের চালকেরা প্রথমে জানান, এটিতে তেলবীজ বপন করার যন্ত্র আছে। পরে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র পাওয়া যায়। ঘটনাটি সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রধানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল হেডলির

মুম্বাই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মার্কিন নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলি বলেছেন, পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রধানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ২৬/১১ ঘটনায় লস্কর-ই-তাইয়েবার কয়েকজন নেতা এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তাও জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তদন্ত দলের কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
হেডলি জানান, মুম্বাই হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদ, অপারেশন কমান্ডার জাকি উর রেহমান লাকভি, ইউসুফ মুজাম্মেল ও সাজিদ মীর এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর একটি অংশ জড়িত ছিল।
ভারত সফররত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পাঁচ সদস্যের দলটি গত সপ্তাহে নয়াদিল্লির কর্মকর্তাদের জানান, লস্কর-ই-তাইয়েবার নেতা হাফিজ সাঈদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার কথা স্বীকার করেছেন হেডলি। তিনি বলেছেন, লস্কর-ই-তাইয়েবার অপারেশন কমান্ডার লাকভি, মুজাম্মেল ও মীর ছাড়াও পাকিস্তানের সেনা-কর্মকর্তা মেজর ইকবালের সঙ্গেও তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ২৬/১১ হামলার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণকালে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারতের যেসব সামরিক স্থাপনা লস্কর-ই-তাইয়েবার হামলার তালিকায় ছিল, ওই সব স্থাপনা সম্পর্কে ডেলিকে অবহিত করেছিলেন মেজর ইকবাল। গত মাসে রাওয়ালপিন্ডির একটি আদালতে লাকভিসহ আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে মুম্বাই হামলার অভিযোগ আনা হয়।
এফবিআইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পরমাণু স্থাপনাগুলোয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পাকিস্তানি সহযোগীদের কাছে হেডলির পাঠানো কোনো ই-মেইল বা কল লিস্টের নমুনা থাকলে তা হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এ ছাড়া লস্কর-ই-তাইয়েবার সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় নাগপুর, পুনে ও আহমেদাবাদের নাম আছে কি না, তা জানতে হেডলিকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারেও এফবিআইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, এফবিআই নয়াদিল্লিকে জানিয়েছে যে হেডলি গোপনে ফটোগ্রাফির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আর তাঁকে এ প্রশিক্ষণ দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তারা।
২৬/১১ হামলার লক্ষ্যস্থল ছাড়াও হেডলি ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের নিরাপত্তাব্যবস্থার ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। তিনি ট্রোম্বেতে ভভা আণবিক গবেষণা কেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার ভিডিওচিত্রও ধারণ করেছেন। হেডলি এফবিআইকে জানিয়েছেন যে লস্কর-ই-তাইয়েবার কমান্ডার লাকভি, মুজাম্মেল ও মীর ভারতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় হামলার ইচ্ছা করলেও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা ভারতের সামরিক স্থাপনায় হামলার ব্যাপারে জোর দেন।

পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে পৃথক রাজ্য গড়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু

আন্দোলনের মুখে ভারতে পৃথক তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর একই দাবিতে পশ্চিমবঙ্গও ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে পৃথক রাজ্য গড়ার দাবিতে দার্জিলিংয়ে জনমুক্তি মোর্চার নেতারা শুক্রবার থেকে অনশন শুরু করেছেন। মোর্চা আরও ঘোষণা দিয়েছে, আজ সোমবার থেকে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে শুরু হচ্ছে চার দিনের দার্জিলিং বন্ধ্।
দার্জিলিং-সমস্যা সমাধানের জন্য ২১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক বসছে। এ বৈঠকের আগে মোর্চার বন্ধ্ ঘোষণায় উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার।
অন্ধ্র প্রদেশের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি বা টিআরএসের প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের ১১ দিনের আমরণ অনশনের জেরে কেন্দ্রীয় সরকার গত বুধবার পৃথক তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র গড়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা ঘোষণা করে। এর পরই পশ্চিমবঙ্গ উত্তপ্ত হতে শুরু করে।
পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম ভেঙে পৃথক কামতাপুর বা গ্রেটার কোচবিহার রাজ্য গঠনের দাবিতে গত শনিবার থেকে কোচবিহারের দিনহাটার প্রান্তিক বাজারে আমরণ অনশন শুরু করে ‘সেপারেট স্টেট ডিমান্ড কমিটি’ বা এসএসডিসি। কমিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নয়টি রাজনৈতিক দল। শনিবার এ অনশনে যোগ দিয়েছেন ১৩ জন। এর মধ্যে ১১ জন গ্রেটার কোচবিহার ডেমোক্রেটিক পার্টির এবং দুজন কামতাপুরী পিপলস পার্টি বা কেপিপির। কমিটির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি জেলা এবং আসামের ১৫টি জেলা নিয়ে গড়তে হবে পৃথক কামতাপুর বা গ্রেটার কোচবিহার রাজ্য।
কংগ্রেস সরকারের পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের ঘোষণায় বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছে খোদ অন্ধ্রপ্রদেশ কংগ্রেসের মধ্যেই। এরই মধ্যে দলের অনেক বিধায়ক পদত্যাগ করেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের দ্বিতীয় বৃহত্ দল তেলেগু দেশম ও প্রজারাজ্যম পার্টির অনেক বিধায়কও পদত্যাগ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে পৃথক রাজ্য গড়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে কোনো নতুন রাজ্য নয়। বামফ্রন্ট, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপিও চাইছে না, পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে নতুন কোনো রাজ্য হোক।

শান্তি আলোচনা শুরু করতে রাজি উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

কোরীয় যুদ্ধের ভেঙে পড়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির জায়গায় একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য নতুন করে চারপক্ষীয় আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ এ কথা জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়োনহাপ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিফেন বসওয়ার্থ উত্তর কোরিয়া সফরের পর দুই দেশ শান্তি আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ কোরিয়ার এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, উত্তর কোরিয়াই বিষয়টি চারপক্ষীয় আলোচনা-কাঠামোর আওতায় আলোচনা করার অনুরোধ জানায়।

কিয়োটো চুক্তির সংশোধনীর বিরোধিতা করেছে ভারত

কোপেনহেগেনে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনে কিয়োটো চুক্তির কোনো সংশোধনীর ব্যাপারে বিরোধিতা করেছে ভারত। সম্মেলনে ১৯৯৭ সালে প্রণীত কিয়োটো চুক্তির পরিধি বাড়িয়ে সেখানে আরও বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র দ্বীপদেশ টুভ্যালু কিয়োটো চুক্তির সঙ্গে আরও একটি চুক্তি যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল নতুন একটি চুক্তির পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে।
সম্মেলনে ভারতীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব বিজয় শর্মা বলেন, ‘সম্মেলন সফল করাই আমাদের উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নের ওপরই মূলত আলোকপাত করা হচ্ছে।’ এদিকে নতুন একটি চুক্তির পক্ষে সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করতে কোপেনহেগেন জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের সভাপতি কোনি হেডেগার্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন টুভ্যালুর প্রতিনিধি ইয়ান ফ্রে।
নতুন চুক্তির ব্যাপারে সমর্থন জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশ ভারত, চীন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ দেশ এর বিরোধিতা করছে। প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি ভারত ও চীনের মতো বড় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করার কথা বলা হয়েছে।

শেনঝেনের ‘ইমেজ অ্যাম্বাসেডর’ হলেন ওবামার সত্ভাই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সত্ভাই মার্ক ওকোথ ওবামা এনদেসানজোকে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাণিজ্যিক নগর শেনঝেনের ‘ইমেজ অ্যাম্বাসেডর’ করা হয়েছে। অনাথ ছেলেমেয়েদের বিনা পারিশ্রমিকে পিয়ানো শেখানোর মতো সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এনদেসানজোকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে গতকাল রোববার এ কথা বলা হয়। খবর এএফপি ও রয়টার্স অনলাইনের।
দ্য বেইজিং নিউজ ও দ্য গুয়ানঝু ডেইলির খবরে বলা হয়, শেনঝেনে গত শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ‘ইমেজ অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে এনদেসানজোর নাম ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া একই অনুষ্ঠানে এনদেসানজোকে ‘পাঁচতারকা স্বেচ্ছাসেবক’ পুরস্কারও দেওয়া হয়।
ওবামা এনদেসানজো ২০০২ সাল থেকে শেনঝেন শহরে বসবাস করছেন। সেখানেই তাঁর ব্যবসাবাণিজ্য। তিনি একজন ভালো পিয়ানোবাদকও। এই শহরের অনাথ ছেলেমেয়েদের তিনি বিনা পারিশ্রমিকে পিয়ানো শেখান। চীনে গত বছরের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তহবিল গঠনের লক্ষ্যে এ বছরের প্রথম দিকে তিনি একটি কনসার্টও করেন। সমাজসেবামূলক এসব কর্মকাণ্ডের জন্য স্থানীয় শেনঝেন ইয়ুথ লিগ নামের সংগঠন তাঁকে ওই সম্মানে ভূষিত করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার বাবার তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেন মার্ক এনদেসানজো। এত দিন নিভৃতচারী মার্ক গণমাধ্যমের আলোর বাইরে ছিলেন। ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সবার আলোচনায় আসতে থাকেন। এরই মধ্যে গত মাসে ওবামার চীন সফরের সময় ওবামার সঙ্গে মার্ক ও তাঁর সদ্যবিবাহিত স্ত্রীর সংক্ষিপ্ত অথচ আবেগঘন সাক্ষাত্ হয়। সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে মার্ক ওই সাক্ষাত্কারের মধুর স্মৃতি রোমন্থন করেন।

দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে অভিযান শেষ, সেনাদের নতুন লক্ষ্য ওরাকজাই

পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সর্বাত্মক অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা গত শনিবার এ কথা বলেছেন। তবে এ অভিযানে সেনাবাহিনী সফল হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে তাঁরা কিছু বলেননি। সেনাবাহিনী এখন জঙ্গিদের নতুন ঘাঁটি উত্তর ওয়াজিরিস্তানের ওরাকজাইয়ে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি জানিয়েছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ডন অনলাইনের।
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে চালানো অভিযান ছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় অভিযান। এতে ৩০ হাজার সেনা অংশ নেয়। তবে এই অভিযানে সেনাবাহিনীর লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে সামরিক কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউসুফ রাজা গিলানি শনিবার লাহোরে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযান শেষ। এখন আমরা আরেকটি উপজাতীয় এলাকা ওরাকজাইয়ে অভিযান চালানোর কথা ভাবছি।’
সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে মধ্য অক্টোবর থেকে শুরু জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ৫৮৯ জন জঙ্গি ও ৭৯ জন সেনাসদস্য মারা গেছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, এই অভিযান শুরুর পর অনেক জঙ্গি দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান ছেড়ে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের ওরাকজাইয়ে এবং কুররাম উপজাতীয় এলাকায় পালিয়ে গেছে।
ওরাকজাই পাকিস্তানভিত্তিক তালেবান নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদের ঘাঁটি বলে পরিচিত। এ ছাড়া আল-কায়েদা ও অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীরও শক্ত ঘাঁটি এই উপজাতীয় অঞ্চলটি।
প্রধানমন্ত্রী গিলানি আরও বলেন, ‘উত্তর ওয়াজিরিস্তানে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে আমরা প্রথমে ওরাকজাইয়ের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব। কিন্তু এই চেষ্টা ব্যর্থ হলে সেখানে অভিযান চালাতে সরকার প্রস্তুত।’

অন্ধ্রপ্রদেশে রাজনৈতিক সংকট তীব্র রাষ্ট্রপতির শাসন জারির আশঙ্কা -তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের সিদ্ধান্ত

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের তেলেঙ্গানা অঞ্চলকে আলাদা রাজ্য হিসেবে গঠনের সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই রাজ্যে রাজনৈতিক সংকট তীব্র হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল রোববার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে রোসাইয়াহর কাছে রয়ালাসিমা ও উপকূলীয় এলাকার ২০ জন মন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত শনিবার তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (টিআরএস) প্রধান কে চন্দ্র শেখর রাও একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর নতুন রাজ্য গঠন করা হলে হায়দরাবাদ হবে এর রাজধানী। তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রের যৌথ রাজধানী হিসেবে হায়দরাবাদকে গড়ে তোলার সম্ভাবনা নাকচ করেন তিনি।
তেলেঙ্গানাকে আলাদা রাজ্য হিসেবে গঠন করার দাবিতে চন্দ্র শেখর রাও অনশন শুরু করেন। তাঁর ১১ দিনের অনশনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি মেনে নিয়ে ২৯তম রাজ্য হিসেবে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অখণ্ড অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য টিকিয়ে রাখার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে রয়ালাসিমা ও উপকূলীয় এলাকার অধিবাসীরা।
এদিকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, তাঁরা চান কেন্দ্র এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিক। এ ব্যাপারে রাজ্যের পৌর প্রশাসনবিষয়কমন্ত্রী রামনারায়ণ রেড্ডি বলেন, ‘আমরা অখণ্ড অন্ধ্রপ্রদেশ চাই। রাজ্যের বিভক্তি কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না।’ পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন কি না, জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রোসাইয়াহ বলেন, ‘একটি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে আমি আশাবাদী, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ সংকট সমাধান করতে পারবে।’ রাজ্যের মন্ত্রিসভার ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জন তেলেঙ্গানা অঞ্চলের। মুখ্যমন্ত্রীসহ বাকি ২১ জন রয়ালাসিমা ও অন্ধ্র উপকূলীয় এলাকার। এরই মধ্যে অন্ধ্রের বিধানসভার ২৯৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৪০ জন পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কংগ্রেস দলীয় বিধায়ক ৭৯ জন।
ওদিকে রাজনৈতিক সংকট সামাল দিতে পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রোসাইয়াহ। কিন্তু কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব তাঁর ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে রাজ্যের ২০ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করলে সেখানে কোনো সরকার থাকবে না। আর এতে অন্ধ্রপ্রদেশে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রয়ালাসিমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গতকালও এসব এলাকায় বাস চলাচল বন্ধ ছিল। স্কুল, প্রশাসনিক দপ্তর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ ছিল। তেলেঙ্গানা ইস্যুতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকটি নতুন রাজ্য গঠনের দাবিও মাথাচাড়া দিচ্ছে।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী প্রদেশটির পূর্বাঞ্চলকে নিয়ে একটি পৃথক ‘পূর্বাঞ্চল’ রাজ্য গঠনের দাবি জানিয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তৃতীয়বারের মতো তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিলেন।

রাজধানীতে ইলেকট্রনিক পণ্যের শোরুম খুলেছে রহিমআফরোজ

রহিমআফরোজ সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে তার প্রথম মাল্টি ব্র্যান্ড ইলেকট্রনিকস শোরুম ‘ইউরেকা’ খুলেছে।
শোরুমটির উদ্বোধন করেন জয়নাব মঈন। এ সময় রহিমআফরোজ গ্রুপের চেয়ারম্যান আফরোজ রহিম, মহাপরিচালক ফিরোজ রহিম, উপমহাপরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল, পরিচালক নিয়াজ রহিম, মুদাসসির এম মঈন ও মুনাওয়ার এম মঈন; প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা পারভেজ সাইফুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক ও ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ের প্রধান ইয়ামিন শরীফ চৌধুরীসহ রহিমআফরোজ এবং অন্যান্য কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউরেকা উদ্বোধনের মাধ্যমে রহিমআফরোজ কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি পণ্য বিপণনের কার্যক্রম শুরু করল। প্রাথমিকভাবে ইউরেকায় দাইউ ব্র্যান্ডের এলসিডি টিভি, সিআরটি টিভি, এসি, রেফ্রিজারেটর, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও ওয়াশিং মেশিনের পাশাপাশি জিই কনজ্যুমার লাইটিং হ্যাগার ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক্যাল পণ্য এবং রহিমআফরোজ আইপিএস, ইউপিএস, ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ইত্যাদি বাজারজাত করবে। ক্রমান্বয়ে অন্যান্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ইউরেকার পণ্যসম্ভারে যুক্ত হবে।

সোনালী ব্যাংক ও মাইডাস ফাইন্যান্স ঋণচুক্তি করেছে

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের সহযোগিতা ও নতুন উদ্যোক্তাদের উত্সাহিত করার লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সঙ্গে সম্প্রতি মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডের একটি ঋণচুক্তি হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী এসএমই খাতকে আরও উন্নত ও গতিশীল করতে ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংক মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের অনুকূলে ৩০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে।
সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এ চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফকরুল ইসলাম, প্রদীপ কুমার দত্ত ও মোস্তাক আহমেদ, মহাব্যবস্থাপক করবী মুজিব ও উপমহাব্যবস্থাপক আবদুল লতিফ এবং মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শফিক-উল-আজম ও কোম্পানি সচিব মো. দীন ইসলাম মিঞা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দেশে নতুন শিল্পোদ্যাক্তা সৃষ্টি ও তাদের উত্সাহ প্রদান এবং এসএমই খাতের সমৃদ্ধি ও প্রসারের মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

শ্রমিক উত্সবের চূড়ান্ত মঞ্চ মহড়া সম্পন্ন

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) আয়োজিত শ্রমিক উত্সবের চূড়ান্ত মঞ্চ-মহড়া গতকাল রোববার নারায়ণগঞ্জের আলী আহাম্মদ চুনকা পৌর মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়েছে।
বিকেএমইএর উদ্যোগে ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার শহরের ইসদাইরে অবস্থিত ওসমানী স্টেডিয়ামে এই শ্রমিক উত্সব ২০০৯ অনুষ্ঠিত হবে।
উত্সব কমিটির আহ্বায়ক ফজেল শামীম এহসান জানান, গত ১৭ জুন থেকে শ্রমিক উত্সবের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। রোববার চূড়ান্ত মহড়ার মাধ্যমে ২০০ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। মূল অনুষ্ঠান একটানা সাত ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলবে। উত্সবে আনুমানিক এক লাখ শ্রমিক অংশ নেবেন।
মডেল ডি ক্যাপিটালের শ্রমিক শাহনাজ বিকেএমইএর শ্রমিক উত্সবের কথা জানতে পেরে গান শেখার জন্য স্থানীয় একটি গানের স্কুলে ভর্তি হন। মডেল ডি ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদু্জ্জামান এ ব্যাপারে তাঁকে উত্সাহ দিয়েছেন।
এ ছাড়া এই উত্সবে অংশ নিতে ফকির অ্যাপারেলসের শ্রমিক সেন্টু ও আনোয়ারা ফেব্রিকসের সুমি নাচের স্কুলে ভর্তি হন।

পঞ্চগড়ে বাণিজ্যিকভাবে কমলার চাষ শুরু by শহীদুল ইসলাম,

পঞ্চগড় জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দার্জিলিং ভ্যারাইটির কমলার চাষ শুরু হয়েছে। এমনকি বসতবাড়িতেও ইতিমধ্যে কমলার চাষ হচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে এ জেলায় বাণিজ্যিক ও বসতবাড়ির বাগানগুলোতে কমলার ফলন শুরু হবে এবং ২০১৩ সালের পর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরের দেশেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, জেলার বোদা উপজেলার সর্দারপাড়া গ্রামের অচিন্ত্য কারকুন, বেতবাড়ীর আছিরউদ্দিন আহাম্মদ, সদর উপজেলার বলেয়াপাড়ার আবদুল গফ্ফার চৌধুরী, কাহারপাড়ার জিতেন্দ্রনাথ, বড়ভিটার সালাউদ্দিন, চছপাড়ার মহিরউদ্দিন, বড়বাড়ীর কাক্কা প্রধান, তেঁতুলিয়া উপজেলার সিপাইপাড়ার আবদুর রহমান ও জেলা শহরের কামাতপাড়ার আবদুল জলিলের বাগানে ইতিমধ্যে সুস্বাদু কমলা ধরেছে। একই কথা জানালেন আরও প্রায় অর্ধশত কমলাচাষি। তাঁদের বাগানে এখন গাছপ্রতি ২০০ থেকে হাজার পর্যন্ত কমলার ফলন হচ্ছে।
কৃমি মন্ত্রণালয় ২০০৩ সালে সারা দেশে কমলা চাষের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক শহীদুল ইসলামকে প্রধান করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্স পঞ্চগড় জেলা সদর, তেঁতুলিয়া, বোদা ও আটোয়ারী উপজেলার মাটি ও জলবায়ু কমলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী বলে প্রতিবেদন পেশ করে।
জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কমলা উন্নয়ন প্রকল্প প্রায় দেড় হাজার চাষিকে প্রশিক্ষণ, মানসম্মত চারা সরবরাহ ও প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদান করে। এতে কমলার চাষাবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে চারটি উপজেলায় ১০৪ হেক্টর জমিতে অন্তত ৯৩টি কমলার বাগান গড়ে উঠেছে। এসব বাগানে ৩৫ হাজার চারা রোপণ করা হয়। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন বসতবাড়ির আশপাশে রোপণ করা হয় আরও ৩৫ হাজার কমলার চারা।
বর্তমানে পঞ্চগড় জেলায় প্রতিবছর ২০ মেট্রিক টন কমলা উত্পাদিত হয়। কমলা উন্নয়ন প্রকল্পের পঞ্চগড়ের উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, ২০১১ সালের মধ্যে পঞ্চগড় জেলার ২০০ হেক্টর জমি কমলা চাষের আওতায় আসবে। আর ২০১১ সালে জেলায় ৫০০ মেট্রিক টন কমলা উত্পাদিত হবে। প্রতিবছর ফলনের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকবে।

টিসিবির মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল আমদানি করা হবে

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ পাম তেল আমদানির কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান। তিনি বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যেই এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে সফররত মালয়েশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বার্নার্ড জি ডম্পকের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার জামাল উদ্দিন সাবেহ, মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের চেয়ারম্যান দাতো সাবরি আহমেদ এবং মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দাতো লি ইয়ো চর।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাফা মহিউদ্দিন, যুগ্ম সচিব মনোজ কুমার রায় ও মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক এ কে এম ফখরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, বছরে ১৫ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদার মধ্যে ১২ লাখ টন আমদানি হয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে তেলের জোগান দিতে টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল আমদানি করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ একটি রোড শোতে অংশ নেবে। সেখানে পাম তেল আমদানির বিষয়ে সে দেশের অয়েল বোর্ডের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফারুক খান বাংলাদেশের ওষুধ ও সিরামিক পণ্য আমদানির জন্য মালয়েশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।
মালয়েশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চাহিদামতো ভোজ্যতেলের জোগান দেওয়া মালয়েশিয়ার পক্ষে সম্ভব। তিনি অন্য পণ্য আমদানিরও আশ্বাস দেন।
২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ তিন কোটি ১০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করেছে। এর বিপরীতে আমদানি করেছে ৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য।

বার্সার প্রথম বাধা আটলান্টে

ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন চোখে নিয়ে আবুধাবিতে বার্সেলোনা। এ স্বপ্নপূরণে ক্যাটালানদের প্রথম বাধা মেক্সিকোর আটলান্টে ক্লাব। আগামী পরশু সেমিফাইনালে কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়ন আটলান্টের মুখোমুখি হবে পেপ গার্দিওলার দল। আটলান্টে সেমিফাইনালে উঠেছে পরশু অকল্যান্ড সিটিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে। আগামীকাল প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার এস্তুদিয়ান্তেস ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার পোহাং স্টিলার্স। গত শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালে পোহাং ২-১ গোলে হারিয়েছে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন কঙ্গোর টাউট পুইসান্ট মাজেম্বেকে।
আটলান্টের বিপক্ষে বার্সার প্রধান ভরসা লিওনেল মেসির না খেলার সম্ভাবনাই বেশি। গত বুধবার ডায়নামো কিয়েভের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে অ্যাঙ্কেলে চোট পেয়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।

আলোচনায় আইসিএল আর ইনজুরি

সকালে ইনডোরে এসেই নতুন দুই ছাত্রকে নিয়ে খাতা-কলম হাতে বসে গেলেন বোলিং কোচ চম্পকা রামানায়েকে। কোচের কথা অখণ্ড মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে প্রথম ডাক পাওয়া দুই পেসার। তবে চম্পকার ক্লাসটাকে ২৬ সদস্যের প্রাথমিক দলের প্রথম দিনের অনুশীলনে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনাই মনে হলো শেষ পর্যন্ত। অনুশীলনের বাকিটা হলো কেমন ছাড়া ছাড়া।
ছাড়া ছাড়া না হয়ে উপায়ও ছিল না আসলে। গত কিছুদিন ক্রিকেটারদের ইনজুরির সঙ্গে এমনই সখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ইনডোর বা মাঠের চেয়ে জিমনেসিয়াম আর মেডিকেল রুমেই দৌড়াতে হচ্ছে বেশি। মাশরাফি বিন মুর্তজা আর তামিম ইকবাল এখনো অনুশীলনে নামার মতো ফিট নন। মাশরাফি নিজেই বলছেন, ঝুঁকি নিতে চান না। আর বিসিবির চিকিত্সক দেবাশিষ চৌধুরীর ভাষ্য, ‘মাশরাফির যেহেতু এটাই শেষ সুযোগ, তাঁর ব্যাপারে সতর্ক হয়ে এগোতে চাই আমরা। তামিমের অবস্থা উন্নতির দিকে হলেও ১৮ ডিসেম্বর স্ক্যান করানোর পরই তাঁর সুুস্থতার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ আইসিএল-ফেরত আফতাব আহমেদ মাশরাফি-তামিমদের ইনজুরির মিছিলে নতুন সংযোজন। প্রিমিয়ার লিগে খেলাঘরের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়েছে আফতাবের। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে না ওঠায় কাল অনুশীলনের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে নিলেন না। সকালে এসে ঘণ্টাখানেক জিমনেসিয়ামে কাটিয়েই চলে গেলেন।
ইনজুরির কথা বাদ দিলে কাল সুপার লিগ আর রেলিগেশন লিগের খেলা নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন কেউ কেউ। সূর্যতরুণের ধীমান ঘোষ সে কারণেই প্রথম দিনের অনুশীলনে অনুপস্থিত। বোনের আকস্মিক মৃত্যুসংবাদ পেয়ে অলক কাপালি সিলেটে। আইসিএল-ফেরতদের মধ্যে প্রথম দিনের অনুশীলনে শাহরিয়ার নাফীসকেই দেখা গেল কেবল। আরও একবার জাতীয় দলের পরিবেশে আসতে পেরে খুবই খুশি এই বাঁহাতি ওপেনার, ‘তিন জাতি সিরিজের আরও দুই সপ্তাহের মতো আছে। আমি চেষ্টা করব এই সময়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার। আর যদি সেটা নাও হয়, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। জাতীয় দলে লম্বা সময় ধরে খেলতে চাই।’ আইসিএল অধ্যায়ের পর আবার দেশের ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেয়ে, জাতীয় দলের প্রাথমিক তালিকায় আসতে পেরে বোর্ড এবং নির্বাচকদের ধন্যবাদও দিয়েছেন। বোর্ড তাঁর ওপর আস্থা রাখায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাচ্ছে শাহরিয়ারের।
কিন্তু কোচ জেমি সিডন্সের কথায় কেমন যেন নিরাসক্তি আইসিএল ক্রিকেটারদের ব্যাপারে। অথচ একটি সূত্রমতে, আইসিএল ক্রিকেটারদের এখনই প্রাথমিক দলে ডাকার ইচ্ছা বোর্ডের খুব একটা ছিল না। অনেকটা কোচের একক ইচ্ছাতেই তাঁরা অনুশীলন শুরু করেন, প্রাথমিক দলেও এলেন। অথচ আইসিএল-ফেরত ক্রিকেটারদের ব্যাপারে কোচকে নিরুত্তাপ মনে হলো কাল, ‘তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছে, চারজন ২৬ জনের দলেও এসেছে। এর মানে জাতীয় দলের বিবেচনায় আছে তারা। এখন পারফর্ম করে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।’ আইসিএল-ফেরতদের মধ্যে যে দুজনের নাম বেশি করে উচ্চারিত হচ্ছে, সেই শাহরিয়ার আর আফতাবের আইসিএল-পূর্ব ফর্মটাকেও সামনে আনতে চাইলেন সিডন্স, ‘শাহরিয়ার নাফীস যখন আইসিএলে গেছে তখন তার ফর্ম ধারাবাহিক ছিল না। আফতাবেরও তা-ই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেক পার্থক্য। ক্লাব ক্রিকেটে পারফর্ম করা মানে এই না যে সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও পারফর্ম করবে।’
সিডন্সের কথার সুরে মনে হলো, জয়ের মধ্যে থাকা দলটাতে এই মুহূর্তে কোনো ভাঙাগড়া চাইছেন না তিনি। তবে ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিক প্রসঙ্গ উঠতে কোচও বলতে বাধ্য হলেন, ‘জুনায়েদ ২০-৩০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করতে সংগ্রাম করছে। ও প্রতিভাবান ক্রিকেটার সন্দেহ নেই, তবে এখন রান করতে পারছে না। ওপেনিং জুটি নিয়ে আমরা অবশ্যই ভাবব...দলের সব পজিশন নিয়েই ভাবব।’
বিসিবির একটি সূত্রে জানা গেছে, থিংক ট্যাঙ্কের চিন্তায় বড় কোনো ওলট-পালট না হলে তিন জাতি সিরিজে জুনায়েদের জায়গা নিয়ে ওপেনার হিসেবে শাহরিয়ারের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। তবে আফতাবের ফেরার সম্ভাবনায় কোচের সঙ্গে বিতর্ক হতে পারে থিংক ট্যাঙ্কের অন্য সদস্যদের। আফতাবের ফেরাটা অনেকেই রকিবুল হাসানের জায়গায় হওয়া উচিত মনে করলেও কোচ সেটা মনে করছেন না। সিডন্সের চোখে আফতাব দলে এলে শুধু মোহাম্মদ আশরাফুলকে সরিয়েই আসতে পারেন, রকিবুলকে নয়। ওয়ানডেতে রকিবুলের গড় ৩০.৫০। আশরাফুলের ২৩.৭৮ ও আফতাবের ২৫.৩২। ৩০ গড়ের কারও সঙ্গে ২৩-২৫ গড়ের খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে ২৩ আর ২৫-এর মধ্যে লড়াইটাকেই বেশি যৌক্তিক মনে হচ্ছে সিডন্সের কাছে। অঙ্কের জটিলতায় না গিয়ে সিডন্সের চাওয়ার আরও সহজ সারমর্ম হতে পারে এই—আশরাফুল বা আফতাব, যেকোনো একজনের ভারই বহন করতে চান তিনি জাতীয় দলে।
শেষ পর্যন্ত সিডন্সের চাওয়াই মূল্য পাচ্ছে কি না, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেদিনই ত্রিদেশীয় সিরিজের দল ঘোষণা করার কথা নির্বাচকদের।

ব্রাজিলের অর্ধেক কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী গবাদিপশুর খামারিরা

ব্রাজিলের অর্ধেক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী গবাদিপশু খামারিরা। গরুর চারণভূমির জন্য খামারিরা যেভাবে আমাজান জঙ্গল ধ্বংস করছেন, তাতে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস উত্পাদন হচ্ছে। এ ছাড়া গবাদিপশুও মিথেন গ্যাস নিঃসরণ করছে।
ব্রাজিলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন গবেষক ওই প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেখানে বলা হয়, ২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে খামারিরা প্রতি বছর ৮১ কোটি ২০ লাখ টন থেকে ১১০ কোটি টন কার্বন গ্যাস উত্পাদন করেছেন, যা ব্রাজিলে নিঃসরিত মোট কার্বন গ্যাসের অর্ধেক।
গবেষণায় বলা হয়, গরুর চারণভূমির জন্য আমাজানের বিশাল জঙ্গল পরিষ্কার করতে খামারিরা যে পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন, সে কারণে বেশির ভাগ গ্রিনহাউস গ্যাস উত্পন্ন হয়। তবে গবাদিপশুর পেট থেকে নির্গত বায়ুও এর ভাগীদার।
যদিও এ বিষয়গুলো ইতিমধ্যেই বেশ ভালোভাবেই জানা আছে। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো পরিবেশের ওপর ব্রাজিলের বিশাল মাংস প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রভাব সংখ্যার পরিমাণে প্রকাশ করা হলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলের গবাদিপশুর খামারিরা আমাজান জঙ্গল ৭৫ শতাংশ উজাড়ের জন্য দায়ী। এরপর রয়েছে ধান চাষিরা।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, গবাদিপশুর বংশানুগতি পরিবর্তন করা হলে প্রত্যেক চারণভূমিতে অনেক বেশি পরিমাণে গবাদিপশু অবস্থান করতে পারে। এভাবে খামারিদের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো যেতে পারে।
বর্তমানে ব্রাজিলে প্রতি কিলোগ্রাম মাংস উত্পাদন করতে ৩০০ কিলোগ্রাম কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে। ২০২০ সালের সম্ভাব্য মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ৩৬ থেকে ৩৯ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাজিল।

দাঁতের চিকিত্সককে ভয় পেতেন হিটলার!

জার্মানির কুখ্যাত স্বৈরশাসক এবং নািস দল ও বাহিনীর প্রধান অ্যাডলফ হিটলার কাউকে ভয় পান না—নিজের সম্পর্কে তিনি এমন একটা ধারণাই মানুষের মনে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। নির্বিচারে হত্যা করেছেন কয়েক কোটি মানুষ। তিনি কাউকে ভয় না পেয়ে নির্বিকারে চালিয়েছেন হত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞ। অথচ আপাত নির্ভীক এ শাসক ভয় পেতেন শুধু দাঁতের চিকিত্সকদের!
সম্প্রতি ‘ডেন্টিস্ট অব দ্য ডেভিল’ বইয়ে হিটলারের ব্যক্তিগত দাঁতের চিকিত্সক জোহানেস ব্ল্যাচেখের বরাত দিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ওই চিকিত্সক জানান, দাঁতের অতি পরিচিত চিকিত্সাপদ্ধতি সাধারণ রুট ক্যানেল করার জন্য হিটলারের পেছনে আট দিন ঘুরতে হয়েছিল তাঁকে। কারণ, হিটলার ওই চিকিত্সায় ব্যথার ভয়ে চিকিত্সকের সামনেই যেতে চাইতেন না। শুধু তা-ই নয়, দাঁতের অবস্থা খারাপ থাকায় হিটলারের মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হতো। তাঁর দাঁতের মাড়িতে ফোড়া ছিল, যা থেকে পুঁজ বের হতো। ১৯৪৪ সালের দিকে অ্যাডলফ হিটলারের ১০টি দাঁত ফিলিং করা হয়েছিল।
আলোচিত বইটির লেখকের নাম মেনেভসে ডিপ্রেম হেনন। তিনি ব্ল্যাচেখের কাছ থেকে নেওয়া হিটলারের চিকিত্সাসংক্রান্ত ছয় বছরের কাগজপত্র ঘেঁটে এসব তথ্য জোগাড় করেছেন। তিনি জানান, হিটলারের দাঁতের চিকিত্সক হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্ল্যাচেখ যতটা উত্সাহী ছিলেন, তাঁর কাছ থেকে চিকিত্সা নেওয়ার ব্যাপারে হিটলার ছিলেন ততটাই নিরুত্সাহী। দাঁতের চিকিত্সা নেওয়া ছিল তাঁর জন্য অনেক ভয় আর আতঙ্কের।

কিয়োটো চুক্তির ধারাবাহিকতা রক্ষায় জাতিসংঘের সম্মতি by ইফতেখার মাহমুদ

বাংলাদেশসহ ক্ষুদ্র দ্বীপ ও স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর দাবি ও প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কিয়োটো চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল শনিবার জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক ফর কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (ইউএনএফসিসি) এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ডি ভোয়ের বলেছেন, চলতি কোপ-১৫ সম্মেলনেই বিশ্বের সব দেশের সম্মতি আদায়ের জন্য সংশোধিত কিয়োটো চুক্তি উপস্থাপন করা হবে। সবার সম্মতি পাওয়া গেলে ২০১২ সালের পর এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ২০১৩ সালে নতুন চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হবে।
গতকাল কিয়োটো প্রটোকল চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘এডহক ওয়াকিং গ্রুপ অন লং টার্ম কো-অপারেটিভ অ্যাকশন আন্ডার দ্য কনভেনশন’-এর আলোচনায় সব দেশের সম্মতি নিয়ে নতুন চুক্তির একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
খসড়ায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার দেড় বা দুই ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। আবহাওয়া মণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস ঘনীভবনের পরিমাণ ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯৯০ সালের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ জন্য কার্বন নিঃসরণের হার ৫০ বা ৮৫ বা ৯৫ শতাংশ হ্রাস হবে, তা খসড়া চূড়ান্ত করার আগে নির্দিষ্ট করা হবে।
সম্মেলনের শুরুতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে বালি অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী কোপ-১৫ সম্মেলনের চুক্তি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, উন্নত দেশগুলো চলতি শতাব্দীর মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা চার শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবে। কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশ চীন, ভারত ও ব্রাজিলের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যতটুকু কমাতে পারবে, ততটুকুই মেনে নিতে হবে।
প্রথমে দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে উন্নত দেশগুলোর এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার কিয়োটো প্রটোকল চুক্তিতে কিছু সংশোধন করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য দাবি জানানো হয়। ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবির প্রতি সমর্থন জানানো হয়। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট এলডিসি থেকেও তা সমর্থন করা হয়।
গতকাল ইউএনএফসিসির এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ডি ভোয়ের সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেন, কোপ-১৫ সম্মেলনেই কিয়োটো প্রটোকল চুক্তির ধারাবাহিকতা অবশ্যই বজায় রেখে নতুন চুক্তি করা হবে।
কিয়োটো প্রটোকল চুক্তির শর্তের মধ্যে ছিল, শিল্পোন্নত এনেক্স-১ দেশগুলো ২০১২ সালে তাদের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ১৯৯০ সালের তুলনায় পাঁচ শতাংশ কমাবে। ১৯৯৭ সালে এই চুক্তি হওয়ার সময় বিশ্বের ৯০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো। বর্তমানে তারা ৪০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে। বাকিগুলো করে উন্নয়নশীল দেশগুলো।
বর্তমানে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে চীন, ভারত ও ব্রাজিল মিলে বিশ্বের ৩০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে থাকে। ফলে নতুন চুক্তিতে এদের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমাতে হলে শিল্পোন্নয়নশীল এই দেশগুলোকে ধনী দেশের তালিকায় নিয়ে আসতে হবে। নইলে চুক্তি অনুযায়ী ধনী দেশগুলো কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ কমালেও মোট কার্বন নিঃসরণ তেমন একটা কমবে না। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গবেষক স্যার নিকোলাস স্টার্নের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে এককভাবে চীনের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ বিশ্বের মোট নিঃসরণের ৫০ শতাংশ হয়ে যাবে।
জাতিসংঘ থেকে নতুন চুক্তিতে এনেক্স-১ দেশের তালিকায় চীন, ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গতকাল চীনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে, তারা কার্বনের পরিমাণ কমাতে রাজি রয়েছে, যদি তাদের কম কার্বন নিঃসরণ করে এমন শিল্পপ্রযুক্তি কেনার জন্য অর্থ দেওয়া হয়। ভারত ও ব্রাজিলের পক্ষ থেকেও একই কথা বলা হয়েছে।

ফিলিপাইনে বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার কেন্দ্রস্থলে ঘনবসতিপূর্ণ একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে দুটি শিশু নিহত হয়েছে। গৃহহারা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। গতকাল শনিবার কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
অগ্নি নির্বাপণ বিভাগ জানায়, গত বৃহস্পতিবারের অগ্নিকাণ্ডে ম্যানিলা সিটি জেলের পেছনে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা বস্তি ভস্মীভূত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে তিন ও এক বছরের দুটি শিশু নিহত হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, গোটা অগ্নি নির্বাপণ বিভাগের সাত ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারাগারের একটি অংশ খালি করে দেওয়া হয়। অগ্নি নির্বাপণ কর্মকর্তা লরডেস হার্নান্দেজ জানান, আগুনে প্লাইউড ও ধাতুর পাত দিয়ে প্রায় এক হাজার ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। ঘরগুলোতে প্রায় দুই হাজার দরিদ্র পরিবার বসবাস করত। গৃহহীন লোকজন ব্যায়ামাগার ও তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে।
ম্যানিলা সিটি কারাগারের ওয়ার্ডেন বেন ওলিভেরোস স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডে কারা ভবনের অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় কারাগারের তিনটি কক্ষ থেকে বন্দীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্প্যানিশ ভাষার নতুন ব্যাকরণ

স্প্যানিশ ভাষাভাষীদের জন্য স্পেনে নতুন একটি ব্যাকরণ বই প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বের ২০টির বেশি দেশের প্রায় ৫০ কোটি স্প্যানিশ ভাষাভাষী মানুষের জন্য একটি যৌথ নীতিমালা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে এই বই।
রয়েল ল্যাঙ্গুয়েজ একাডেমি অব স্পেন (আরএই) ১১ বছর কাজ করে এই নতুন ব্যাকরণ বইয়ের দুটি খণ্ড শেষ করেছে। দুই খণ্ডের পৃষ্ঠা প্রায় চার হাজার। দাম পড়বে ১২০ ইউরো। ব্যাকরণের তৃতীয় খণ্ডও কয়েক মাসের মধ্যে প্রকাশিত হবে।
আরএইর মালিকানাধীন ১৯৩১ সালের ব্যাকরণের বদলে এ নতুন বইটি চালু করা হবে। লাতিন আমেরিকার স্প্যানিশ ভাষাভাষী দেশগুলো আরএইর ওই ব্যাকরণের রীতিনীতি অনুসরণ করে না বলে কথা চালু আছে।
আরএইর প্রেসিডেন্ট ভিক্টর গারসিয়া দ্য লা কোঞ্চা গত বৃহস্পতিবার বইটির উদ্বোধনকালে বলেন, ‘বইটি স্প্যানিশ ভাষাভাষী সবাইকে এক সুরে গেঁথে ফেলবে।’
পৃথিবীজুড়ে আধুনিক স্প্যানিশ ভাষা নানা ধরনের ব্যাকরণ, উচ্চারণ এবং শব্দভাণ্ডারে পূর্ণ। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্পেনের বাইরে কোনো দেশই ব্যাকরণের রীতিনীতি সেভাবে মানে না।
বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যাতে পড়তে এবং বুঝতে পারে সে জন্য খুব সহজ ভাষায় এ ব্যাকরণ বই তৈরি করা হয়েছে।

মিয়ানমারের কারাগারে এক মার্কিনির অনশন

মিয়ানমারের একটি কারাগারে একজন মার্কিন নাগরিক অনশন করছেন। এতে তাঁর স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। জান্তা সরকার তাঁর সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের সাক্ষাত্ করতে দিচ্ছে না। এতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বন্দী মার্কিন নাগরিকের বাগ্দত্তা ও তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, মিয়ানমারের বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কিয়াও জাও লুইন বর্তমানে এতটাই অসুস্থ যে আদালত তাঁর শুনানি পর্যন্ত বাতিল করেছেন। গত শুক্রবার তাঁর শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
ওয়াশিংটনে বসবাসকারী কিয়াও লুইনের বাগ্দত্তা ওয়া ওয়া কিয়াও বলেন, ‘আমি তাঁর স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তাঁর বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’ কিয়াও লুইনের আইনজীবী বেথ শনকি জানান, রাজনৈতিক বন্দীদের সুব্যবস্থা দেওয়ার দাবিতে ৪ ডিসেম্বর থেকে কিয়াও লুইন খাবার-দাবার বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা লুইনের স্বাস্থ্য নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির খবর পেয়েছি। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত কিছু জানি না। কেননা, মিয়ানমার সরকার তাঁর কাছে মার্কিন কূটনীতিকদের যেতে অনুমতি দিচ্ছে না।’
পরিচয়পত্র প্রতারণা ও জালিয়াতি এবং কাস্টমসে বৈদেশিক মুদ্রার ঘোষণা না দেওয়ার অভিযোগে গত ৩ সেপ্টেম্বর লুইনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লুইনের আইনজীবী শনকি বলেন, ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লুইনের আইনজীবীরা বলেছেন, গ্রেপ্তারের প্রথম দুই সপ্তাহে তাঁর ওপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। এ সময় তাঁকে কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। ঘুমাতে দেওয়া হয়নি। এমনকি চিকিত্সা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে তাঁকে।

আল-কায়েদার কাছে প্রশিক্ষণ নিতে চেয়েছিল পাঁচ মার্কিন নাগরিক

পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ মার্কিন নাগরিক বলেছে, আল-কায়েদার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানে ঢুকে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। এফবিআই ও পাকিস্তান পুলিশের জেরার মুখে তারা এসব স্বীকার করেছে। গতকাল শনিবার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপির।
রাজধানী ইসলামাবাদের ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে সারগোদা থেকে গত বুধবার সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মার্কিন এই পাঁচ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে পাকিস্তান-বংশোদ্ভূত দুই মার্কিন নাগরিকও রয়েছে।
তদন্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পাকিস্তান পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তানে আসার আগেই সাইফুল্লাহ নামে আল-কায়েদার এক নেতার সঙ্গে পাঁচ মার্কিন নাগরিকের যোগাযোগ হয়। ওই জঙ্গিনেতার মাধ্যমে গ্রেপ্তারের দিন তাদের মিয়ানওয়ালিতে যাওয়ার কথা ছিল। পরে মিয়ানওয়ালির আল-কায়েদার অপর এক সহচরের মাধ্যমে তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা। অজ্ঞাত সেই স্থানেই আল-কায়েদার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত তদন্তে জানা গেছে, মার্কিন নাগরিকেরা আল-কায়েদার কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য মিয়ানওয়ালি হয়ে ওয়াজিরিস্তানে যেতে চেয়েছিল।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেন, পুলিশের তদন্তকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফেরত দেওয়া হবে না।
সারগোদার প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা উসমান আনোয়ার জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে একটি যৌথ তদন্তদল গঠন এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের লাহোর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মার্কিন নাগরিকেরা বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সারগোদা পুলিশ। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ বলেছে, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার ব্যাপারে আলোচনার জন্য গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ইউটিউবের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে। এবিসি নিউজ ১০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, আহমেদ আবদুল্লাহ মিন্নি নামের গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজন নিয়মিত ইন্টারনেটে মার্কিন সেনাবাহিনীর ওপর হামলার ভিডিওচিত্র দেখত। ২০ বছরের এ যুবক ইউটিউবে নিবন্ধিত ছিল এবং ভিডিও ফুটেজের প্রশংসা করে সেখানে নিয়মিত মন্তব্য করত। ইউটিউবের মাধ্যমেই সাইফুল্লার সঙ্গে তার প্রথম যোগাযোগ হয়।
পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন জইশে মুহাম্মদের সঙ্গে পাঁচ মার্কিন নাগরিকের জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বুশকে হুমকির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ছাত্রের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে হুমকি দেওয়ার দায়ে ভারতীয় ছাত্র বিক্রম বুদ্ধিকে (৩৮) চার বছর নয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। পারডু ইউনিভার্সিটির পিএইচডির ছাত্র বিক্রম প্রায় তিন বছর ধরে মার্কিন কারাগারে রয়েছেন।
ইরাকে যুদ্ধ না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা চালানোর আহ্বান এবং তত্কালীন প্রেসিডেন্ট বুশ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ও তাঁদের স্ত্রীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিক্রমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক চিঠিতে তিনি এ হুমকি দিয়েছিলেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিক্রম বুদ্ধি বলেন, ‘আদালত সুষ্ঠু বিচারে ব্যর্থ হয়েছেন। মার্কিন সরকার আমাকে যেভাবে চিত্রিত করছে, আমি সে ধরনের মানুষ নই। প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব মতামত থাকার অধিকার রয়েছে।’
বিক্রম আরও জানান, রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন। আপিল করার জন্য তাঁর হাতে ১০ দিন সময় রয়েছে। বিক্রম বুদ্ধির বাবা সুব্বা রাও জানান, তিনি আদালতের রায়ে বিস্মিত নন। শুরু থেকেই বিচারক বুদ্ধির বিরুদ্ধে ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের আদালতে এক চরম নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। আদালতে বিক্রম বলেন, তিনি তাঁর আইনজীবী আর্লিংটন ফলেকে বাদ দিতে চান। মামলার কৌশল নিয়ে আর্লিংটন তাঁর সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করেননি।
এর আগে প্রথম আইনজীবীকেও বাদ দিয়েছিলেন বিক্রম বুদ্ধি। গত জুলাই মাসে মামলাটির দায়িত্ব নেন আর্লিংটন। গত বৃহস্পতিবার তাঁকেও বাদ দিয়ে বিক্রম বলেন, নিজের মামলায় তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান। তখন বিচারক বলেন, চাইলে বিক্রম নিজেই প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। এর পর সাত ঘণ্টা ধরে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের প্রাণান্ত চেষ্টা করেন বিক্রম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালত বিক্রমকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দেন।
গণিত ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাবেক এই ছাত্র কারাগারের গ্রন্থাগারে আইনবিষয়ক বই পড়ে সময় কাটাচ্ছেন।

জাতিসংঘ সন্ত্রাসীদের হামলার লক্ষ্যবস্তু: বান

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, ২০০৩ সালে বাগদাদে জাতিসংঘের কার্যালয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়। এর পর থেকেই জাতিসংঘ সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে গেছে। ২০০৭ সালের ১১ নভেম্বরে আলজিয়ার্সে জাতিসংঘ কার্যালয়ে বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দেওয়া এক বিবৃতিতে শুক্রবার বান কি মুন এ কথা বলেন।
আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের জাতিসংঘ কার্যালয়ে চালানো ওই বোমা হামলায় ১৫ জনেরও বেশি জাতিসংঘের কর্মী নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বান তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ থেকে দুই বছর আগের এই দিনে আলজিয়ার্সে ভয়াবহ বোমা হামলায় আমাদের প্রিয় সহকর্মীদের হারিয়েছি। আমরা তাঁদের শ্রদ্ধা ও স্মরণ করতে আজ এখানে সমবেত হয়েছি।’
বান কি মুন এ সময় ২০০৩ সালের আগস্টে চালানো বাগদাদের বোমা হামলার কথাও স্মরণ করেন। ওই হামলায় জাতিসংঘের মিশন-প্রধান সারজিও ভিয়েরা ডি মেলোসহ ২২ জন কর্মী নিহত হন।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে চলতি বছর জাতিসংঘ কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এসব হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ এখন সন্ত্রাসী গ্রুপের একটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সংস্থার সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে কাজ করছেন।
বান আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং উন্নয়নের জন্য সংস্থার কর্মীরা বিশ্ববাসীর কল্যাণে কাজ করছেন; কোনো একক গ্রুপের জন্য নয়। জাতিসংঘ সনদের মহান আদর্শ এখানে আমরা উপলব্ধি করছি।’

সাদ্দামকে ক্ষমতা থেকে সরানো সঠিক ছিল: টনি ব্লেয়ার

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বলেছেন, ইরাকের কাছে কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্র নেই জানলেও ব্রিটেন সেই যুদ্ধে সহযোগিতা করত। কারণ তিনি মনে করেন, সে সময় সাদ্দাম হোসেনকে ইরাকের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরানো সঠিক ছিল। তিনি গতকাল শনিবার ইরাকযুদ্ধ-সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন। খবর এএফপির।
টনি ব্লেয়ার মনে করেন, ইরাকযুদ্ধ নিয়ে অনেকের অনেক রকম যুক্তি থাকতে পারে, তবে সে সময় ইরাকের ক্ষমতা থেকে সাদ্দাম হোসেনকে সরানোর কোনো বিকল্প ছিল না। সাদ্দাম হোসেন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বিপক্ষে মস্ত বড় হুমকি ছিলেন। টনি বলেন, ‘তাঁকে ও তাঁর দুই ছেলেকে বহাল রেখে আমাদের অনেক লক্ষ্যই পূরণ হতো না।’
টনি ব্লেয়ার বলেন, ‘রাসায়নিক অস্ত্রের চেয়ে সাদ্দাম বড় হুমকি ছিলেন। কারণ, এই সাদ্দামই তাঁর নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে এই অস্ত্র প্রয়োগ করেছেন। তাই ইরাকযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় মানববিধ্বংসী অস্ত্রের চেয়ে সাদ্দামকে তাঁর অবস্থান থেকে হটানোকেই আমি বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।’
টনি ব্লেয়ার ২০০৩ সালে ইরাকে যুদ্ধ শুরু করার ব্যাপারে তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইরাকে নিহত ব্রিটিশ সেনাদের স্বজনেরা তাঁদের প্রিয়জনের মৃত্যুর জন্য টনি ব্লেয়ারকে দায়ী করে থাকেন। তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে টনি ব্লেয়ার বলেন, ‘যেসব ব্রিটিশ সেনা ইরাকযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বজনদের গর্বিত হওয়া উচিত।’ তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, নিহত ব্রিটিশ সেনাদের অনেকের বাবা-মা, আত্মীয়-পরিজন মনে করেন, ইরাকে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ছিল অপ্রয়োজনীয়। সেই সব প্রিয়জন হারানো স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলা প্রয়োজন, তাঁরা সামরিক বাহিনীতে চাকরি করতেন। স্বজনদের উচিত, নিহতদের বীরত্বের জন্য গর্বিত হওয়া।

আল-কায়েদা নির্মূলে ইসলামাবাদকে আরও সহযোগিতা করতে হবে: ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, আল-কায়েদা জঙ্গিদের নির্মূলে পাকিস্তানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সহযোগিতা করা। সিবিএস টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন।
ওবামা বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্ত থেকে পশ্চিমা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার নির্দেশনা পাঠানো হয়। এই সমস্যা সমাধান করতে ও আল-কায়েদা জঙ্গিদের মূল উপড়ে ফেলতে ইসলামাবাদের কাছ থেকে আরও বেশি সহযোগিতা পাওয়া দরকার। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
ওবামার দেওয়া সাক্ষাত্কারটির অংশ বিশেষ গত শুক্রবার প্রচার করে সিবিএস টেলিভিশন। আজ রোববার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাত্কার প্রচার করার কথা। পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে মঙ্গলার মার্কিন মনুষ্যবিহীন বিমান হামলায় শীর্ষ আল-কায়েদা নেতা নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওবামা এসব কথা বলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নিহত ওই ব্যক্তি আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আবু ইয়াহিয়া আল-লিবি। তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। স্থানীয় তালেবান নেতারাও ওই এলাকায় কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর অস্বীকার করেছেন। আল-কায়েদার গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার আবু ইয়াহিয়া আল-লিবি ওসামা বিন লাদেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে ধারণা করা হয়। ২০০৫ সালে আফগানিস্তানের বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে যান লিবি।
কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতা নয়
কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতা করার ব্যাপারে পাকিস্তানের প্রস্তাব আবারও খারিজ করেছে ওবামা প্রশাসন। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পি জে ক্রাউলি জানিয়েছেন, কাশ্মীরের বিষয়টি পাকিস্তান ও ভারতের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ওয়াশিংটন তা জানে। এ বিষয়ে দুই দেশের সঙ্গেই ওয়াশিংটন আলোচনা করেছে। তবে কাশ্মীর সমস্যা শেষ পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানকেই সমাধান করতে হবে। এ ব্যাপারে কাশ্মীরের জনগণের সক্রিয় অংশ নেওয়াও জরুরি। কিছু দিন আগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি একটি মার্কিন দৈনিকে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা করার কথা লিখেন।

৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের হীরা প্রদর্শনীতে পাঠানো যাবে -বিদেশে নমুনা হিসেবে প্রেরণ

বছরে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের কাট ও পলিশড হীরা এবং হীরাখচিত স্বর্ণালংকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নমুনা হিসেবে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
তবে প্রদর্শনী শেষে নমুনাগুলো আবার দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নতুন রপ্তানিনীতি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বিদ্যমান রপ্তানিনীতিতে (২০০৬-০৯) দেওয়া ক্ষমতাবলে এ অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট হতে নিবন্ধনপ্রাপ্ত বন্ডেড হীরা প্রক্রিয়াকারক প্রতিষ্ঠান এ নমুনা পাঠাতে পারবে। ভ্যাট কমিশনারেট হতে উত্পাদক হিসেবে নিবন্ধিত হীরা ও হীরাখচিত স্বর্ণালংকার প্রক্রিয়াকারক প্রতিষ্ঠানও পাঠাতে পারবে এ নমুনা।
শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ নয়, রপ্তানি বাজার উন্নয়নকল্পে যেসব প্রদর্শনী হবে, সেগুলোতেও অংশগ্রহণ করতে হলে বছরে ৫০ হাজার ডলার (৩৫ লাখ টাকা) মূল্যের কাট ও পলিশড হীরা এবং হীরাখচিত স্বর্ণালংকার নমুনা হিসেবে পাঠানো যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রদর্শনী শেষে দেশে তা ফিরিয়ে আনার শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কেউ যদি ফিরিয়ে না এনে তা বিক্রি করে দিতে চায়, তাহলে বৈধ চ্যানেলে দেশে তা প্রত্যাবাসন করতে হবে।
প্রত্যাবাসিত অর্থের পরিমাণ নমুনা হিসেবে পাঠানো মূল্যের চেয়ে কোনোভাবেই কম হতে পারবে না।

ডব্লিউটিওতে রাশিয়ার যোগদানে বাধা দিচ্ছে আমেরিকা: পুতিন

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) রাশিয়ার সদস্যপদ প্রাপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধা সৃষ্টি করেছে।
পুতিন বলেন, ‘কোনো এক অজানা কারণে মার্কিন লবিগুলো ডব্লিউটিওতে আমাদের যোগদানে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে।’
গত বৃহস্পতিবার একটি রুশ টিভি চ্যানেলে এক অনুষ্ঠানে পুতিন এ অভিযোগ করেন।
রুশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাশিয়া এই সংস্থায় অন্তর্ভুক্তির জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং তা বেলারুস ও কাজাখস্তানকে সঙ্গে নিয়ে।
বেলারুস ও কাজাখস্তানের সঙ্গে রাশিয়া একটি শুল্ক সংঘ গঠনের বিষয়ে এ বছর জুলাই মাসে একমত হয়। গত মাসে তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা।
পুতিন আরও বলেন, শুল্ক সংঘ হিসেবে তিন দেশ একত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদান করতে আগ্রহী যেন তিন দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

১৪ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে সপ্তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা

বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির উদ্যোগে ও ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টারের (ডিটিসি) ব্যবস্থাপনায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৪ থেকে ১৯ ডিসেম্বর ছয় দিনব্যাপী ‘সপ্তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা ২০০৯’ অনুষ্ঠিত হবে।
মেলা উপলক্ষে গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি।
এতে সমিতির চেয়ারম্যান কে এম আখতারুজ্জামান, মহাসচিব সেলিম এইচ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস সরকার, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ উল্লাহ, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান খান, পার্টেক্স ফার্নিচারের পরিচালক মো. কামরুজ্জামান এবং ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক আতিফ দেওয়ান রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে এ আসবাবপত্র মেলার উদ্বোধন করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি (বীর প্রতীক)। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন আরেকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশি ফার্নিচারের গুণগত মান সম্পর্কে অবহিত করা এবং দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করাই ছয় দিনব্যাপী এ মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। দেশসেরা ব্র্যান্ডগুলো আকর্ষণীয় ছাড় দিয়ে তাদের পণ্য মেলায় প্রদর্শন করবে। এবারের মেলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ৭০টি প্রতিষ্ঠান ১৫০টি স্টল নিয়ে অংশ নিচ্ছে। মেলা প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সুতার দাম যৌক্তিকভাবে বাড়ানোর দাবি -বিকেএমইএর শ্রমিক উত্সব শুক্রবার

আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে স্থানীয় মিল মালিকেরা গত দুই মাসে সুতার দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। অস্বাভাবিকভাবে সুতার দাম বাড়ায় নিট পোশাকের উত্পাদনব্যয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন দেশের নিট পোশাকের রপ্তানিকারকেরা। সুতার দাম কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে না আনলে নিট খাতের রপ্তানি ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেকগুলো নিট কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় শ্রমিক উত্সব সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। ঢাকায় বিকেএমইর কার্যালয়ে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিকেএমইএর সভাপতি মো. ফজলুল হক। এ সময় সমিতির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফজলুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মিল মালিকেরা সুতার দাম বাড়িয়ে দেন। অথচ বর্ধিত মূল্যের আমদানি করা তুলা থেকে উত্পাদিত সুতা দেশের বাজারে আসতে কমপক্ষে তিন মাস লাগে।
বিকেএমইএর সভাপতি আরও বলেন, তুলার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি পাউন্ড ৮ থেকে ১০ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ সুতার দাম প্রতি কেজিতে ৮০ সেন্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বর্ধিত দামে কেনা তুলা দেশে আসার আগেই দাম বাড়ানো হয়েছে। সুতার দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো গ্রহণযোগ্য।
দেশীয় নিট শিল্পের স্বার্থে সুতার দাম যৌক্তিকভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করেন নিট শিল্প মালিকেরা। একই সঙ্গে তাঁরা কমপক্ষে তিন মাস আগে সুতার দাম বাড়ানোর আগাম ঘোষণার সুপারিশ করেন। কারণ রপ্তানির আদেশ নেওয়ার সময় স্থানীয় বাজার দাম সম্পর্কে ধারণা থাকলে উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের জন্য সুবিধা হয়।
শ্রমিক উত্সব সম্পর্কে মো. ফজলুল হক বলেন, ‘মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে এই উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে। কেবল বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এত বড় শ্রমিক উত্সব আগে কখনো হয়নি। এবার শুধু শ্রমিকদের অংশগ্রহণে একটানা সাত ঘণ্টার বেশি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া উত্সবে আনুমানিক এক লাখ শ্রমিক অংশ নেবেন।’
ফজলুল হক আরও জানান, নারায়ণগঞ্জের ইসদাইরে ওসমানী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু।
সমাপনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
মেলার অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, পুরো অনুষ্ঠানটি শ্রমিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান, জারি, দলীয় ও একক নাচ, দলীয় ও একক গান, কৌতুক, নাটিকা, ফ্যাশন শো আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ছাড়া দিনব্যাপী মেলায় হাতি, ঘোড়া, বানর খেলা, লাঠি খেলা, পুতুল নাচ, নাগরদোলা, বায়োস্কোপ, ম্যাজিক শো, বেলুন ফোটানো, মাটির খেলনা, বারোয়ারি মেলাসহ আরও আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান থাকবে।
তবে সমাপনীপর্বে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বালাম ও শাহনাজ বেলীর পরিবেশনায় কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের ১৭ জুন শ্রমিক উত্সবের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৩৫টি কারখানা এবং ৭০০ জন শ্রমিক আবেদন করে। দ্বিতীয় পর্বে ৫০০ জন ও তৃতীয় পর্বে ৩০০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। চূড়ান্তপর্বে আজ রোববার মহড়ার মাধ্যমে ২০০ জন শ্রমিককে নির্বাচিত করা হবে।
ফজলুল হক আরও জানান, কেবল শ্রমিক উত্সবে অংশ নেওয়ার জন্য নিজ উদ্যোগে আনোয়ারা ফেব্রিক্সের সুমি নাচের স্কুলে ভর্তি হয় আর মডেল ডি ক্যাপিটালের শ্রমিক শাহনাজ ও ফকির অ্যাপারেলসের শ্রমিক সেন্টু গান শেখে। এ ছাড়া মেট্রো নিটিংয়ের আরিফ, মিডল্যান্ড নিটওয়্যারের রাসেল, ফকির অ্যাপারেলসের বিল্লাল, রূপসী গ্রুপের শামীম, মোহন নিয়মিত নাচ শেখে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অনুষ্ঠানের সব পর্ব কেবল নিট গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য উন্মুক্ত। নিট গার্মেন্টস শ্রমিক ছাড়া অন্য কেউ এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এ উত্সবে প্রবেশের জন্য শ্রমিকদের নিজ নিজ কারখানার পরিচয়পত্র অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে।

অর্থবছরের চার মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ৬.৭৪ শতাংশ

চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশের পণ্য রপ্তানি আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পৌনে ৭ শতাংশ কমে গেছে। আর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি আয় সাড়ে ১২ শতাংশ কম হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আলোচ্য সময়কালে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৮৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার আয় করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৫২৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আবার চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়কালে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬০ কোটি ২০ লাখ ডলার।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রধান দুই রপ্তানি পণ্য—তৈরি পোশাক ও নিট পোশাক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে যেমন পারেনি, তেমনি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয়ও কম হয়েছে।
২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে প্রকৃত আয় হয়েছে ২০৯ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং চলতি বছরের প্রথম চার মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম।
একই সময়কালে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে প্রকৃত আয় হয়েছে ১৬৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং চলতি বছরের প্রথম চার মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ কম।
ইপিবির পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচ্য সময়কালে কাঁচা পাট, পাটজাত পণ্য ও ইলেকট্রনিকসসামগ্রী রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা এবং আগের বছরের একই সময়ের রপ্তানি আয়—উভয়ই অতিক্রম করেছে।
কিন্তু এই সময়কালে নিট পোশাক ও তৈরি পোশাকসহ প্রধান প্রধান পণ্যগুলোর কোনোটিই আগের বছরের একই সময়কালের রপ্তানি আয় ছাড়িয়ে যেতে পারেনি এবং রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
এগুলোর মধ্যে আরও আছে—চামড়া, হিমায়িত খাদ্য, হোম টেক্সটাইল, সিরামিক, চা, টেক্সটাইল ফেব্রিক্স, টেরিটাওয়েল, পাদুকাসামগ্রী প্রভৃতি।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, আলোচ্য সময়কালে প্রাথমিক পণ্যের মূল্যসূচক ১৯ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে। আর প্রস্তুত পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর সার্বিকভাবে মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।
অবশ্য পরিমাণগত সূচক প্রাথমিক পণ্যের ক্ষেত্রে পৌনে ৮ শতাংশ বাড়লেও প্রস্তুত পণ্যের ক্ষেত্রে তা কমেছে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ। আর সার্বিকভাবে পরিমাণ সূচক কমেছে পৌনে ৪ শতাংশ।
এ থেকে বোঝা যায় যে বিশ্ববাজারে দাম কমার পাশাপাশি পণ্য রপ্তানির পরিমাণও কমে যাচ্ছে।

ভারত জিতল রেকর্ড গড়ে

হারুক আর জিতুক, ম্যাচ শেষেই জমকালো একটি পার্টি হওয়ার কথা ভারতীয় দলের। কাল ছিল যুবরাজ সিংয়ের জন্মদিন, ২৮ বছর পূর্ণ করার দিনটিতে ভারতের সহ-অধিনায়কের জন্য সতীর্থদের উপহার এই পার্টি। তবে যত যা-ই বলা হোক না কেন, ম্যাচ হারলে পার্টির উচ্ছ্বাসে নিশ্চয়ই একটু হলেও ভাটা পড়ত। জন্মদিনে এই প্রথম ঘরের মাঠ মোহালিতে খেলতে নামা যুবরাজ তা চাইবেন কেন?
বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে তিনিই দলের সফলতম বোলার। তার পরও জিততে হলে নতুন করে লিখতে হতো রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ড। ব্যাট হাতে ঝড়ো এক ইনিংস খেলে যুবরাজ ফিরেছেন দলের জয় সঙ্গী করে। ম্যাথুসের বলে ছক্কা মেরে ম্যাচের যবনিকাও টেনেছেন নিজ হাতে। প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০৫ রান তাড়া করে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়টি ছিল আগের রেকর্ড।
ভারতের জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন বীরেন্দর শেবাগ। গম্ভীরের সঙ্গে ছয় ওভারের উদ্বোধনী জুটিতে তুলেছেন ৫৮ রান। ধোনির সঙ্গে পরের জুটিতে পাঁচ ওভারে ৫০। ১১তম ওভারের শেষ বলে ৩৬ বলে ৬৪ রান করে শেবাগ আউট হলে উঁকি দিয়েছিল আগের ম্যাচের স্মৃতি। নাগপুরেও দুর্দান্ত শুরুর পর পথ হারিয়ে ফেলেছিল ভারত। তবে দিনটি যে ছিল পাঞ্জাবের ঘরের ছেলের! ২০ বলে করলেন হাফসেঞ্চুরি, টি-টোয়েন্টির তৃতীয় দ্রুততম! ১২ বলের রেকর্ডটিও এই বাঁহাতিরই। ২৫ বলে ৬০ রানের ইনিংসে ছয় ৫টি।
টসের সময় সাঙ্গাকারাকে রবি শাস্ত্রী বলছিলেন, ‘এটা তো আপনার ঘরের মাঠ, উইকেট-পরিবেশ নিশ্চয়ই চেনা?’ আইপিএলে পাঞ্জাবের হয়ে খেলেন সাঙ্গাকারা। ইঙ্গিত সেদিকেই। সাঙ্গাকারার মনে হয় কথাটি মনে ধরেছিল। অধিনায়কের ব্যাটে চড়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দুই শ ছাড়ানো স্কোর পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগের ম্যাচে ৩৭ বলে ৭৮ রান করা সাঙ্গাকারা কাল করেছেন ৩১ বলে ৫৯। শাস্ত্রীর মুখে ঘরের ছেলে শুনে হয়তো উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন সাঙ্গাকারা, কিন্তু দিনটি যে স্মরণীয় করে রাখার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ‘আসল’ ঘরের ছেলে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২০৬/৭ (সাঙ্গাকারা ৫৯, জয়াসিংহে ৩৮, জয়াসুরিয়া ৩১, ম্যাথুস ২৬*; যুবরাজ ৩/২৩, ইশান্ত ২/৪২)।
ভারত: ১৯.১ ওভারে ২১১/৪ (শেবাগ ৬৪, যুবরাজ ৬০*, ধোনি ৪৬)।

আতঙ্ক যখন টাইব্রেকার!


সর্বশেষ পাঁচটি বিশ্বকাপে তিনবারই ইংল্যান্ডের বিদায় টাইব্রেকে হেরে। গতবার কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হার ১-৩ ব্যবধানে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে ‘চিরশত্রু’ আর্জেন্টিনা হারিয়েছে ৪-৩ ব্যবধানে। ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একই ব্যবধানে হার, ঘাতক ছিল জার্মানি।
ইংল্যান্ডের কাছে টাইব্রেক মানেই যেন মূর্তিমান আতঙ্ক! কিন্তু কেন? বীরের জাতি বলে নাক উঁচু করে নিজেদের পরিচয় দেয় যারা, তারাই কেন হেরে যায় টাইব্রেকের মানসিক লড়াইয়ে?
উত্তর খুঁজেছেন ইংল্যান্ডের এক্সটার বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। ‘জার্নাল অব স্পোর্ট অ্যান্ড এক্সারসাইজ সাইকোলজি’র ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত গবেষণালব্ধ ফল বলছে, পেনাল্টি শট নেওয়ার সময় বাড়তি উদ্বেগে ভুগলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়টির সম্পূর্ণ মনোযোগ গিয়ে পড়ে গোলরক্ষকের ওপর। ফলে বেশির ভাগ শট গোলরক্ষক নাগালে পেয়ে যান। নাগালের বাইরে মারতে চাইলেও ওই মনোযোগের কারণেই অনেক সময় লক্ষ্যচ্যুত হয়ে বল চলে যায় পোস্টের বাইরে।
নিবন্ধটির লেখক গ্রেগ উড লিখেছেন, ‘প্রচণ্ড চাপের মুহূর্তে বেশির ভাগ সময় আমাদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায় ক্ষতিকর উদ্দীপক। ফলে ওই সময় আমরা আমাদের হাতের কাজটার বদলে বেশি মনোযোগ দিয়ে ফেলি ওই উদ্দীপকের ওপর। এ কারণেই মানসিক চাপের ভেতর নেওয়া পেনাল্টি শুট-আউটে গোল করার সম্ভাব্য জায়গাগুলোর বদলে খেলোয়াড়েরা গোলরক্ষকের ওপর বেশি মনোযোগ দেয়। এতে শটের লক্ষ্য বিচ্যুত হয়। বেশির ভাগ সময় বল চলে যায় গোলরক্ষকের দিকে। ফলে সেটি সেভ করা তার জন্য সহজ হয়ে যায়।’
গবেষকেরা পরীক্ষার জন্য বেছে নিয়েছিলেন এক্সটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জনের ফুটবল দলটাকে। প্রথমবার চাপমুক্ত হয়ে তাদের পেনাল্টি শট নিতে বলা হয়েছিল। পরেরবার সেরা শটের জন্য ৫০ পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পেনাল্টি শট নেওয়ার সময় গোলরক্ষককে পাত্তাই দেওয়া যাবে না—এই হলো গবেষকদের সমাধান।
কাঠখোট্টা বিজ্ঞানবিষয়ক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা হয়তো ভালো লাগে না তাঁদের। তার পরও বেকহামরা মনোযোগ দিয়ে নিবন্ধটি পড়ে দেখতে পারেন।

তিন জাতি সিরিজেও নেই মাশরাফি

আশঙ্কাটাই সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে অবশেষে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পর পর দুই সিরিজের মতো আসন্ন তিন জাতি সিরিজেও বাংলাদেশ দলকে খেলতে হবে মাশরাফিকে ছাড়াই। গতকাল ঘোষিত ২৬ সদস্যের প্রাথমিক দলে থাকলেও তিন জাতি সিরিজে মাশরাফি বিন মুর্তজার না খেলাটা নিশ্চিত।
গত পরশু নেটে পুরো রানআপে বল করলেও ঠিক স্বস্তি বোধ করেননি মাশরাফি, ‘পুরো রানআপে বল করলে ব্যথা লাগছে। তা ছাড়া ফিল্ডিংয়েও আমি খুব আত্মবিশ্বাসী নই এখন, মাঠে নামলে পা কাঁপে। ম্যাচ প্র্যাকটিসও নেই। সব মিলিয়ে তাই ফিজিওই বলে দিয়েছেন, তিন জাতি সিরিজে আমি খেলছি না।’ সুপার লিগে কয়েকটা ম্যাচ খেলার ইচ্ছা থাকলেও বল করে হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করার পর সে চিন্তা বাদ দিয়েছেন মাশরাফি। তা ছাড়া ফিজিও মাইকেল হেনরি একটা বড় দুঃসংবাদের পূর্বাভাসও দিয়ে রেখেছেন তাঁকে। ‘ফিজিও আমাকে বলেছেন, হাঁটুর ওই ইনজুরিতে আর একবার পড়লেই হয়তো আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। লিগামেন্ট জোড়া দিতে হয় শরীরের একটা বিশেষ অংশ কেটে এনে। আমার ক্ষেত্রে এই কাজটা আর মাত্র একবারই করা যাবে। এরপর করতে হলে করতে হবে মৃত মানুষের লিগামেন্ট কেটে এনে’—জানালেন মাশরাফি।
তিন জাতি সিরিজে মাশরাফিকে না পাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত হওয়ার পরও প্রাথমিক দলে তাঁকে রাখার কারণ ভবিষ্যত্ চিন্তা। প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম বলেছেন, ‘এখনো হাতে সময় আছে, আমরা আশা ছাড়ছি না। আর তিন জাতি সিরিজে না খেলতে পারলেও সামনে নিউজিল্যান্ড সফর আছে। ইংল্যান্ড আসবে বাংলাদেশে। ভবিষ্যতের জন্য তৈরি থাকতেও ওর দলের সঙ্গে থাকা জরুরি। ফিজিওর সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকলে পুনর্বাসন-প্রক্রিয়াটাও ভালো হবে।’

সালাউদ্দিনের প্রতিশ্রুতি ও উপলব্ধি

২০১১ সালে পরবর্তী সাফ ফুটবলের ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ—এটা জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের প্রতিশ্রুতি, ‘আমি ফেডারেশনের দায়িত্বে থাকলে অবশ্যই পরের সাফের ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। এটা আমার প্রতিশ্রুতি এবং চ্যালেঞ্জ।’
ঘরের মাঠে সাফ ফুটবলে ভরাডুবি। তা দেখতে ভালো লাগেনি সালাউদ্দিনেরও। বললেনও, ‘কাল (পরশু) রাতে ঘুম হয়নি। আমাদের দল যা খেলল, এরপর আর ঘুম আসে নাকি?’ তবে নির্ঘুম রাত কাটিয়েও নিস্তার নেই। সময় নষ্ট না করে সালাউদ্দিনকে ভাবতে হচ্ছে ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে, ‘আমি এখন জুনিয়র পলিসিতে (তরুণদের নিয়ে নতুন দল) চলে যাব। এটাই এখন আমার একমাত্র ভাবনা।’
নতুন দল গড়তে চেয়েছিলেন ডিডো। কিন্তু তাঁর দল পছন্দ না করে নিজেদের পছন্দমতো খেলোয়াড় নিয়েছে বাফুফে। সেই দল মুখ থুবড়ে পড়েছে ভারতের অনভিজ্ঞ দলের সামনে। তাহলে কি ডিডোকে বরখাস্ত করা ভুল ছিল?
এই প্রশ্নে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘এই খেলোয়াড়েরা ডিডোর ক্যাম্পেও ছিল। ডিডো এদের নিয়ে কাজ করেছে। আর্জেন্টাইন ট্রেনার আনলাম। কিন্তু ফল কী হয়েছে? খেলোয়াড়দের ফিটনেস নেই, কোয়ালিটি নেই। কী পেলাম বিদেশি কোচ-ট্রেনার এনে?’
ফেডারেশনের পছন্দের দল গড়ার পেছনে সালাউদ্দিনের সম্মতি ছিল। কিন্তু ভারতের কাছে হারের পর তাঁর উপলব্ধিটা এখন ভিন্ন, ‘এটা একটা রিটায়ার্ড টিম মনে হয়েছে আমার কাছে। ৫-৭ জন তো চলেই না। তাদের সময় শেষ এবং নিজেদেরই সরে যাওয়া উচিত।’
দল গড়ার সময় অমুক খেলোয়াড় না হলে সাফ জেতা যাবে না। তমুককে বাদ দিয়ে ডিডো সততার পরিচয় দেননি—কত কথাই না শোনা গেছে কর্তাদের মুখে! আর এখন সালাউদ্দিন নিজে বলছেন, ৫-৭ জন চলে না! তাহলে?
সালাউদ্দিন তবু ডিডোর বিদায়টাকে সমর্থনই করছেন, ‘ডিডোকে রাখলে হয়তো এর চেয়ে দশ ভাগ ভালো খেলত। তাতে কী হতো? আমি মনে করি, ডিডোকে রাখলে আরও সময় নষ্ট হতো। এখন আমি কোয়ালিটি কোচ নেব। কোয়ালিটি কোচিং স্টাফ নেব। সেটা করতে গিয়ে প্রয়োজনে ফেডারেশনের কয়েকটি রুম বন্ধ থাকবে। কিছু কাজ না হয় হবে না। কিন্তু কোয়ালিটি কোচ আনবই।’
২৯ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএ গেমস (অনূর্ধ্ব-২৩)। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কলম্বোতে জাতীয় দলের চ্যালেঞ্জ কাপ। এখন ‘কোয়ালিটি’ কোচ আনলেই বাংলাদেশ ভালো কিছু করে ফেলবে—এই আশা দুরাশাই মনে করে ফুটবল অঙ্গন। কোচের হাতে তো আর জাদুর চেরাগ নেই! সালাউদ্দিন বলছেন, ‘এই দুটি টুর্নামেন্টে স্থানীয় কোনো কোচকেই দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ভালো বিদেশি কোচ পেতে সময় লাগতে পারে। ৪-৫ জনের সঙ্গে কথা বলেছি। আরও কয়েকজনের সঙ্গে বলব।’

শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মালদ্বীপই এগিয়ে

টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত দুদল যা খেলল, তাতে সাফ ফুটবলের ফাইনালে আজ মালদ্বীপ এগিয়ে। এ দলটির সাফ শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা আছে। গত বছর এই ভারতকে হারিয়েই প্রথমবারের মতো সাফ শিরোপা জিতেছে মালদ্বীপ।
‘এই ভারত’ কথাটা লেখা উচিত অন্যভাবে। গতবার পুরো শক্তির ভারত ছিল। এবারের দলটা অনভিজ্ঞ যুব ফুটবলারদের নিয়ে গড়া। এখানেই বড় পার্থক্য। তা ছাড়া এই সাফে সেমিফাইনাল পর্যন্ত মালদ্বীপ যেখানে ১১টি গোল করেছে, ভারত করেছে মাত্র ৩ গোল। ফাইনালে জেতার জন্য একটা গোলই যথেষ্ট, সেই গোল পাওয়ার অভ্যাসটা মালদ্বীপেরই বেশি।
ফুটবল দলীয় খেলা ঠিকই, কিন্তু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচ জেতানোর প্রশ্নে মালদ্বীপ বেশ এগিয়ে। মালদ্বীপের আছে আশফাক আলীর মতো প্লে-মেকার, যিনি একাই জিতিয়ে নিতে পারেন দলকে। গতবারের মতো এবারও সাফের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই তিনি এগিয়ে। গতবার দলকে শিরোপা উপহার দিয়েছেন। এবারও কতটা তৈরি হয়ে এসেছেন, সেটি সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মালদ্বীপের ৫-১ জয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন দলটির অধিনায়ক। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাতটায় শুরু এই ফাইনালটাও হতে পারে তাঁরই।
ভারতের রক্ষণ বেশ জমাট। গোলরক্ষক অরিন্দম ভট্টাচার্য চীনের প্রাচীরের মতো থাকেন পোস্টের নিচে। স্বাগতিক বাংলাদেশকে দর্শক বানিয়ে যেভাবে সেমিফাইনাল পেরোলেন অরিন্দমরা, তাতে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে তাঁদের। পরিসংখ্যানে চোখ রেখেও আশাবাদী হতে পারে ভারত। দু দলের আগের নয়টি লড়াইয়ে ভারত ছয়টি, মালদ্বীপ জিতছে দুটিতে। একটি ম্যাচ ড্র। তার পরও ‘জিতলে ভালো, না জিতলেও ক্ষতি নেই’—এই হচ্ছে ভারতীয় শিবিরের মনোভাব।
চাপ যা আছে, সবটাই মনে হয় মালদ্বীপের ওপর। ফাইনাল দেখতে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা আসার কথা। বিশেষ বিমান ভাড়া করে কয়েক শ সমর্থককে ঢাকায় আনতে মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশন নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মালদ্বীপের ক্রীড়ামন্ত্রী এসে গেছেন আগেই। তিনি কাল সাংবাদিকদের জানালেন, মালদ্বীপ সরকার প্রতিবছর ১ মিলিয়ন ডলার ফুটবল উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার সরকারের সমর্থন।
দুদল কিন্তু একে অন্যকে সমীহ করছে। গ্রুপ পর্বে ভারতকে ২-০ গোলে হারালেও মালদ্বীপের হাঙ্গেরিয়ান কোচ ইস্তবান বেলার কথা, ‘মূল টিম না হলেও ফাইনালে ভারত শক্ত প্রতিপক্ষ। ভারতের কোচ সুখবিন্দর সিং বলেছেন, ‘ফাইনালে উঠে আমরা শিরোপা জয়ের কথাই ভাবছি।’ মালদ্বীপের ফরোয়ার্ডদের আটকানো কঠিন মনে করেন না তিনি, ‘এটা ১০০ মিটার স্প্রিন্টের মতো ব্যক্তিগত খেলা নয়। ফুটবল দলীয় খেলা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা -ইতিহাসের দিশারি রণজিত্ গুহর দেশে ফেরা by ফারুক ওয়াসিফ

অধ্যাপক আহমেদ কামালের স্বপ্ন ছিল গুরু রণজিত্ গুহকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকবার এনে বক্তৃতা করাবেন। সমকালীন দুনিয়ায় সবচেয়ে প্রভাব সৃষ্টিকারী জীবিত ইতিহাসবিদ রণজিত্ গুহরও খুব আগ্রহ ছিল গান্ধীর মতো ভাসানীকে নিয়েও বড় মাপের গবেষণা হোক। দুটি স্বপ্নের কোনোটিই পূর্ণ হয়নি। তবে মেঘের স্বাদ বৃষ্টিতে হলেও কিছুটা মিটেছে। রণজিত্ গুহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা সম্ভব না হলেও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার ৪৫তম কনভোকেশনে এই ক্ষণজন্মা পণ্ডিতকে ‘ডক্টর অব লিটারেচার’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেছে। অসুস্থতার কারণে তিনি সশরীরে আসতে পারেননি তাঁর ছেড়ে যাওয়া ‘স্বদেশে’।
রণজিত্ গুহকে প্রাচ্যের তত্ত্ববিদ বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। তিনি ভারতবর্ষের ইতিহাসকে, ভারতবর্ষ তথা বাংলার কৃষককে নুতন আলোয় দেখাতে পেরেছেন। এর আগে ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানের পাঠ্যপুস্তকে যে ইতিহাস আমরা দেখতে পেতাম, তা ছিল কেবল রাজরাজড়া কিংবা শহুরে-শিক্ষিত ভদ্রলোক নেতাদের ইতিহাস। সেই ইতিহাস আবার ইউরোপের চোখে দেখা। যেখানে ভারতবর্ষ বা প্রাচ্য মানেই অন্ধকার এক এলাকা, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি সেখানে আলো এনেছে। উপমহাদেশের অধিকাংশ মানুষ যে কৃষক, সেই কৃষককে দেখানো হয়েছে অসভ্য, কুসংস্কারময়, অসংগঠিত, নিজের ভাগ্য নিজে বদলাতে অক্ষম এক দুর্বল চরিত্র হিসেবে। রণজিত্ গুহ ও তাঁর অনুসারী নিম্নবর্গীয় ইতিহাসবিদেরা বললেন, শাসকের চোখ দিয়ে দেখা ইতিহাস সহি ও সত্য হতে পারে না। শাসক কিংবা তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত ইতিহাসে শাসিত সাধারণ মানুষকে ছোট করেই দেখানো হবে। তাঁরা ইতিহাস খুঁড়ে তথ্য-প্রমাণ ও চিন্তা হাজির করে বললেন, ইংরেজ আমলে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষক বিদ্রোহগুলোও জোরদার ও প্রবল ভূমিকা রেখেছে। সেই সময়ের ১১১ বছরের মধ্যে ১১৮টি কৃষক বিদ্রোহের নজির টেনে তাঁরা দেখালেন, এই কৃষক বিদ্রোহগুলোই একটানা বিদেশি শাসন ও অন্যায়ের বিরোধিতা করে গেছে। সিপাহি যুদ্ধ, তিতুমীরের লড়াই, তেভাগা আন্দোলন কিংবা সাঁওতাল, মুণ্ডা, কোচ প্রভৃতি বিদ্রোহে নিম্নবর্গীয় মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ তথা ইমানের সবলতা কোনো অংশেই কমজোরি নয়। তাদের নিজস্ব চেতনা, নৈতিকতা তথা অধিকারবোধ উচ্চবর্গের প্রচারকদের কাছ থেকে শেখা নয়; এসবের শেকড় তাদের জীবনের মধ্যেই পোঁতা। এটা করতে গিয়ে রণজিত্ গুহ তাঁর পিজান্ট ইনসার্জেনসি ইন কলোনিয়াল ইন্ডিয়া বইয়ে ইতিহাসের নায়ক হিসেবে কৃষক শ্রেণীকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। কেবল তা-ই নয়, ইউরোপীয় রাজশক্তি ও চিন্তাশক্তির আছরের ফলে আমরা যে আমাদের নিজস্ব ইতিহাস আমাদের সমাজ-ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝতে ভুলে গেছি, সে ব্যাপারেও সতর্ক করলেন। তাঁর শেষ বই প্রুভিন্সিয়ালাইজিং ইউরোপ-এ আরও এগিয়ে দেখালেন, ইউরোপ বা পাশ্চাত্য বিশ্বের কেন্দ্র নয়; বিশ্বে তারাও এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার মতোই একটা অঞ্চল মাত্র। এভাবে তিনি সাম্রাজ্যের রাজধানী থেকে নজর সরিয়ে আনলেন প্রান্তের দিকে। রচিত হতে থাকল প্রান্তিক মানুষের ইতিহাস।
বিশ্বের সব দেশে আজ নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চার ধারা বিকশিত হচ্ছে, রচিত হচ্ছে অভিজাত শ্রেণীর অহংকারী ইতিহাসের বিপরীতে তলাকার মানুষের নিজস্ব ইতিহাস। এই চিন্তা ইতিহাসের সীমানা ডিঙিয়ে দর্শন, রাজনীতি, সাহিত্য তথা জ্ঞানের সব শাখাকেই প্রভাবিত করেছে। রদবদল ঘটিয়ে দিয়েছে সমাজ-ইতিহাস ও রাজনীতিকে দেখার দৃষ্টিতে।
রণজিত্ গুহকে মার্কসবাদী ধারার ইতিহাসবিদ ধরা হয়। কিন্তু ১৯৬৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের চেকোস্লোভাকিয়া আগ্রাসনের পর তিনি কমিউনিস্ট পার্টি ছেড়ে দেন। তাহলেও তাঁকে বলা যায় মার্কস-ধারার মানবিক উত্তরসূরি, মুসোলিনির হাতে নিহত ইতালীয় বিপ্লবী আন্তোনিও গ্রামসির চিন্তার সহযাত্রী।
আড্ডার ছলে আমরা প্রায়শই বলে থাকি, বাংলা সাহিত্য দারুণভাবে বিকশিত হয়েছে প্রবাসে। প্রবাসটা কোথায়? পশ্চিম বাংলায়। প্রবাস বলছি এই অর্থে যে, ১৯৪৭-এ দেশভাগের কারণে লাখ লাখ বাঙালি হিন্দুকে দেশান্তরী হতে হয়। পশ্চিম বাংলায় চলে যাওয়া সেই সব মানুষের মধ্যে ছিলেন গুণী মানুষ। রবীন্দ্রনাথ তো পদ্মাপারের মন নিয়েই লিখেছেন অজস্র কবিতা। এ ছাড়া সাহিত্যে জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, অরুণ সেন, দেবেশ রায় প্রমুখ পূর্ব বাংলা তথা এই বাংলাদেশেরই সন্তান। পণ্ডিত ও গবেষক নীরদ চন্দ্র চৌধুরী, তপন রায়চৌধুরী; কিংবা চলচ্চিত্রকার সত্যজিত্ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেনদেরও আদি বাড়ি তো এ দেশেই। দেশপ্রেম প্রায়শই অন্ধ। ভেবে সুখ, আজকের দুনিয়ায় ইতিহাস সৃষ্টিকারী ইতিহাসবিদ, ইতিহাসের দার্শনিক রণজিত্ গুহর আদি বাড়িও এই বাংলাদেশের বরিশালের সিদ্ধকাঠি গ্রামে।
চিন্তা ও সাহিত্যের সঙ্গে কিংবা ইতিহাস চর্চার সঙ্গেও তেমন দেশে ফেরার টান রয়ে যায় মনে হয়। জীবনানন্দ দাশ আমৃত্যু কলকাতাবাসী হলেও বরিশালের প্রকৃতির আবহের বাইরে যেতে পারেননি। পণ্ডিত ও আত্মঘাতী বাঙালির লেখক নীরদ চন্দ্র চৌধুরীও কানাডার অন্টারিও হ্রদের সামনে দাঁড়িয়ে লিখতে বাধ্য হন, ‘প্রবাসে জল দেখিলে দেশের কথা মনে পড়ে।’ তাঁর আদি নিবাস কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায়। রণজিত্ গুহও এই ৭৬ বছর বয়সে তাঁর ছাত্র অধ্যাপক আহমেদ কামালের কাছে আক্ষেপ করেন, ‘বরিশালের নদীতে কয়েক মাস নৌকায় ঘোরার স্বপ্ন আজীবন লালন করে এসেছি, সেই স্বপ্নসাধ কী আর পূরণ হবে?’ তিনিও মাইকেল মধুসূদনের মতোই ঠিক করেছেন, শেষ বয়সে বাংলায় ছাড়া আর লিখবেন না। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দুটি বই, কবির নাম ও সর্বনাম এবং ছয় ঋতুর গান। প্রথম বইটির জন্য ২০০৯ সালের আনন্দ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন তিনি। আর এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের ৪৫তম কনভোকেশনে তিনি পেলেন সম্মানের উপাধি।
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরে ফুসফুসে ক্যান্সার নিয়ে হয়তোবা মৃত্যুর দিকেই যাচ্ছেন বাংলার এই কৃতী সন্তান। মরার আগে আরও পাঁচ বছর বাঁচতে চান, যাতে বাংলায় আরও লিখতে পারেন, যাতে একবারের জন্য হলেও তাঁর জন্মভূমি বরিশালের নদীতে কয়েক মাস ঘুরে বেড়াতে পারেন। ভাবি, নিজ দেশের সত্যিকার ইতিহাস রচনার এই বিপুল সাধনা, জ্ঞানের সমুদ্রের মধ্যে এই ভেলা ভাসানো কি খুব গভীরভাবে দেশে ফেরারই যাত্রা? যে দেশের নাম বাংলাদেশ, যার একটি গ্রামের নাম সিদ্ধকাঠি, আর যার এক দেশছাড়া সন্তানের নাম রণজিত্ গুহ।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।

পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার -স্থানীয় উদ্যোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই

গত শনিবার কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে স্থানীয় জনগণ পাহাড়, বন, হ্রদ ধ্বংস না করার অঙ্গীকার করেছে। জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সমবেত হয়েছেন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে। একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যাওয়ার লক্ষ্যে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের এমন সম্মিলন নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।
প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আজ মানুষের যৌথতা, সবাই মিলে এক জায়গায় সমবেত হওয়ার তাগিদ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে দুনিয়াব্যাপী। পরিবেশ রক্ষা ও মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয় ঠেকাতে সারা দুনিয়ার মানুষ সোচ্চার হচ্ছে। জলবায়ু প্রশ্ন এক ধরনের বিশ্বায়ন ঘটাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পাশাপাশি বাড়ছে স্থানীয় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা।
সভ্যতার অগ্রগতির পথে মানুষের নানা তাণ্ডব যে ছাপ প্রকৃতির ওপর ফেলে যায়, এর ফল আজ আমরা ইতিমধ্যে ভোগ করতে শুরু করেছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আর কোনো দূরবর্তী বিষয় নয়, এর উত্তাপ আমরা টের পেতে শুরু করেছি। তেমনি করে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের প্রভাবও পড়ছে আমাদের প্রতিবেশব্যবস্থায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা প্রাণী, জীবজন্তুর অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। আমাদের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। প্রতিবেশব্যবস্থা যেভাবে ক্রমে হুমকির মধ্যে পড়ছে, এতে আরও অনেক প্রাণ হুমকির মুখে পড়বে সন্দেহ নেই।
আমাদের দেশে পাহাড়, বন, হ্রদ ধ্বংসের কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সাধারণত স্থানীয় প্রভাবশালীরা এর জন্য দায়ী। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে পান। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলা-সম্পর্কিত বিষয় নয়। কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করেই এ সমস্যার সমাধানে পৌঁছা সম্ভব নয়; যারা পরিবেশ ধ্বংসের কাজে লিপ্ত, তাদের যেমন কঠোর হস্তে দমন করা দরকার, তেমনি দরকার এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।
পরিবেশ ধ্বংসের কাজটি এত দীর্ঘদিন ধরে চলে এবং এর প্রভাব এত দীর্ঘমেয়াদি হয় যে, যে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তার জীবদ্দশায় এর প্রভাব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। তাই তারা নির্দ্বিধায় এ ধরনের কাজ করে। ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে নিজের অস্তিত্বের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখতে না পারলে, তাদের সঙ্গে কোনো যোগসূত্রের বোধ না থাকলে এ ধরনের কাজ বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন হবে। এ জন্য নিজের বাইরে বেরিয়ে অন্যকে আপন করে নেওয়ার মনোভাব জাগাতে উপযুক্ত শিক্ষা প্রয়োজন। কক্সবাজার ও রাঙামাটির মতো জন-উদ্যোগগুলো সে কাজে বড় ভূমিকা রাখবে আশা করি।

ঘাতকদের বিচার এবার শুরু হোক - শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের উত্সব উদ্যাপনের ঠিক আগেই আমাদের সামনে চলে আসে গভীর বেদনায় ভরা একটি দিন: ১৪ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও সংগ্রাম যখন চূড়ান্ত বিজয়শিখরে পৌঁছাবে, ঠিক তার প্রাক্কালে শেষ আঘাতটা হেনেছিল দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ-দেশীয় সহযোগীরা—রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী। সে আঘাত ছিল বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদের ওপর। তারা সুপরিকল্পিতভাবে বেছে বেছে হত্যা করেছিল শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিত্সকদের। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ যেন মেধায়-মননে দীন হয়ে পড়ে, যেন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে—এ-ই ছিল ঘাতকদের দূরপ্রসারী লক্ষ্য। আর তাত্ক্ষণিক লক্ষ্য ছিল আসন্ন পরাজয়ের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা। সন্দেহ নেই এ এক চরম কাপুরুষতা।
আজ আমরা গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁদের, যাঁদের আমরা হারিয়েছি একদম শেষ মুহূর্তে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি অধ্যাপক জি সি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, রাশেদুল হাসান, ড. আনোয়ার পাশা, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লা কায়সার, নিজামুদ্দীন আহমেদ, গিয়াসউদ্দিন আহমদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলিম চৌধুরী, সাহিত্যিক সেলিনা পারভীনসহ স্বাধীনতাযুদ্ধের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি।
বুদ্ধিজীবী নিধনের এই ঘৃণ্যতম অপরাধটির এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, দেশেরই কিছু মানুষ তা ঘটানোর ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে। রাজাকার, আলবদর আর আলশামস বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া পাকিস্তানি হানাদারদের পক্ষে এমন লক্ষ্যভেদী হত্যাযজ্ঞ চালানো এতটা ব্যাপক মাত্রায় সম্ভব ছিল না। স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার ও আলবদর বাহিনী সদস্যরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুদ্ধিজীবীদের উঠিয়ে এনেছে; তুলে দিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে, কোনো কোনো বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছে নিজেরাই। আর কী গ্লানির বিষয় যে সেই বিশ্বাসঘাতকদের অনেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের সমাজে ও রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়েছেন, এমনকি মন্ত্রিত্বও পেয়েছেন। সেই পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা আজও স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে সক্রিয়। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বাংলাদেশের চেতনাকে নস্যাত্ করার জন্য আজও তারা ষড়যন্ত্র করে চলেছে।
এ বছর আমরা যখন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন করছি, তখন দেশজুড়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি ধ্বনিত হচ্ছে। সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিচার-প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড জঘন্যতম যুদ্ধাপরাধের দৃষ্টান্ত। এবং এই জঘন্যতম অপরাধযজ্ঞের অগ্রভাগে ছিল এ দেশেরই কিছু কুসন্তান: রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী। বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞের বিচার দিয়েই শুরু হোক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সামগ্রিক প্রক্রিয়া। বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রতিটি ঘটনার তদন্ত শুরু হোক; যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছিল, বিচার চলেছিল বা অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে বা রাজনৈতিক কারণে মামলা নষ্ট করা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা, পুনঃ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
এভাবেই আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারি।