Monday, March 15, 2010

চলে গেলেন কে জি মুস্তাফা -শ্রদ্ধাঞ্জলি by জাহীদ রেজা নূর

সকালে এবিসি রেডিওর খবরে প্রথম শুনলাম, কে জি মুস্তাফা আর নেই। সঙ্গে সঙ্গে একটা অপরাধবোধ চেপে ধরল আমাকে। যুগান্তরের সহকারী সম্পাদক হাসান মামুন আর আমি কত দিন ভেবেছি, তাঁকে একনজর দেখে আসব, কিন্তু হয়ে উঠল কই? মুক্তকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করার সময় তিনি ছিলেন আমাদের সম্পাদক। এ রকম রাশভারী চেহারার, দরাজকণ্ঠের অধিকারী মানুষটিকে খুব কাছে থেকে না জানলে চেনা হয়ে উঠত না।
শৈশবের একটি স্মৃতি এখনো মনে জ্বলজ্বল করে। আমার বাবা দৈনিক ইত্তেফাকের তত্কালীন কার্যনির্বাহী ও বার্তা সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেনের সঙ্গে অসাধারণ বন্ধুত্ব ছিল তাঁর। একাত্তরে বাবাকে হত্যা করল পাকিস্তানি ও আলবদররা মিলে। স্বাধীনতার পর বৈরুতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দেশত্যাগের আগে তিনি আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। আট সন্তান নিয়ে মা তখন অথৈ সাগরে। কে জি কাকা আমাদের অভয় দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু সিরাজের কথা ভুলবে না। মনে আছে, বিদায়ের আগে আমার ছোট ভাইয়ের হাতে একটি ১০০ টাকার নোট গুঁজে দিয়েছিলেন।
তাঁর অধীনে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, একসময় প্রচণ্ডরকম বকাঝকা করছেন, আবার পরক্ষণেই রাগ পড়ে গেলে কাছে ডেকে বোঝাচ্ছেন। কোমলে-কঠোরে মিলে ছিল তাঁর মনটা।
ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সিরাজুদ্দীন হোসেন, খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস (কেজি মুস্তাফার অগ্রজ), আসফউদ্দৌলা রেজা, কাজী গোলাম মাহবুব, শামসুদ্দীন মোল্লা ছিলেন সহপাঠী। কে জি মুস্তাফা ছিলেন একটু জুনিয়র। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার পরও আজাদ পত্রিকাটি ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। কিছুকাল পরে পত্রিকাটি চলে আসে ঢাকায়।
কে জি মুস্তাফা কাজ করতেন আজাদে। ১৯৪৯ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় এসে কে জি মুস্তাফা ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পুনরায় চাকরি নেন আজাদ পত্রিকায়। কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ধর্মঘটের সঙ্গে সহযোগিতা করার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের তৃতীয় আহ্বায়ক হিসেবে গ্রেপ্তার হন। জেলফেরত কে জি মুস্তাফা চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা পাননি।
কেজি মুস্তাফার সঙ্গে ছিল বামপন্থী রাজনীতির যোগ। ১৯৫১ সালে যুবলীগ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি ছিলেন কমিটির সদস্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় কাজ করতেন সংবাদে। ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল ২২ ফেব্রুয়ারি, তাতে সাধারণ ছাত্র ও জনগণের ভাবনার প্রকাশ ছিল না। সে সময় সংবাদ ছিল ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের মুখপত্র। খায়রুল কবীর ছিলেন সম্পাদক। কাজ করতেন জহুর হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ নুরুদ্দীন, তসদ্দুক হোসেন, কে জি মুস্তাফা, সরদার জয়েনুদ্দীন, কাজী মহম্মদ ইদ্রিস প্রমুখ। কে জি মুস্তাফা, সৈয়দ নুরুদ্দীনরা বলেছিলেন, সংবাদ মুসলিম লীগের কথামতো চললে তাঁরা ধর্মঘটে যাবেন। কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছিল, সত্য খবরই ছাপা হবে। এ সময় কে জি মুস্তাফা ধর্মঘটে না যাওয়া নিয়ে বলেছিলেন, ‘ধর্মঘট করলে জনসাধারণ খবর পাবে না, কাজেই সত্য ঘটনার রিপোর্ট দিয়ে কাগজ বের করাই উচিত।’ কিন্তু প্রতিবেদন তৈরি করার পর তার কিছুটা পরিবর্তন করে ছাপা হয়, ফলে সংবাদের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ জনগণ সংবাদের ওপর চড়াও হয়।
এ সময় রাজনৈতিক তত্পরতা বেড়ে গেলে ১৯৫৩ সালের প্রথম দিকে সংবাদপত্র থেকে বিদায় নেন কে জি মুস্তাফা। ১৯৫৫ সালের অক্টোবরে কে জি মুস্তাফার ওপর থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করা হলে তিনি আবার ফিরে আসেন সংবাদে। কিন্তু নভেম্বরেই ধর্মঘটের সময় আবার গ্রেপ্তার হন। ১৯৫৬ সালের জুনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে যখন পাবনা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশনে ইত্তেফাকের জেনারেল ম্যানেজার আবদুল ওয়াদুদ আইবির লোকদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সেখানে উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘মানিক ভাই (ইত্তেফাকের সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন) একটা মেসেজ পাঠিয়েছেন তোমাকে। তোমাকে পাবনায় খুব সম্ভব নজরবন্দী করা হবে। কিন্তু তুমি ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে সাত দিনের জন্য হলেও ঢাকায় চলে আসার চেষ্টা করো। এখানে তোমার ইত্তেফাকে যোগ দেওয়ার সব ব্যবস্থাই মানিক ভাই করে রেখেছেন। নজরবন্দীও থাকতে হবে না বেশি দিন। আবু হোসেন সরকারের সরকার এক মাসের বেশি টিকবে না।’
১৯৫৬ সালের ২৮ জুন পাবনা কারাগার থেকে নজরবন্দীর হুকুমনামাসহ তিনি দেখা করলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আলী আহমদের সঙ্গে। তিনি অনুমতি দিলেন ঢাকা যাওয়ার। ঢাকায় এসেই কে জি মুস্তাফা বিয়ে করলেন তত্কালীন বেতার ও মঞ্চের প্রথম সারির অভিনেত্রী সাবেরা খাতুনকে। সেই বিয়েতে মানিক মিয়ার পাঠানো দুই ভাড় মিষ্টি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন আবদুল ওয়াদুদ। তিনি কানে কানে কে জি মুস্তাফাকে বললেন, ‘কালই একবার ইত্তেফাকে কথা পাকাপাকি করতে চলে এসো’। ১৯৫৮ সালে ন্যাপ-আওয়ামী লীগ ঝগড়ার পরিপ্রেক্ষিতে মানিক মিয়া বললেন, কে জি সাহেব, আর তো একসঙ্গে কাজ করা চলে না, অনেকেই আপত্তি করছেন।’ কে জি মুস্তাফার ওপরও চাপ ছিল। তিনি সংবাদের বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দিলেন। ১৯৫৮ সালে ইসকান্দর মির্জাকে শিখণ্ডি রেখে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করলে রাজনীতি ও সাংবাদিকতার ওপর খড়্গ নেমে আসে। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান অবজারভারে কর্মরত থাকার সময় তিনি আবার গ্রেপ্তার হন।
একটি বিষয়ের উল্লেখ এখানে না করলেই নয়। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে পাকিস্তানের তথ্য ও বেতারমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দীন জাতীয় পরিষদে ঘোষণা করেন যে, বেতার ও টেলিভিশন থেকে পাকিস্তানবিরোধী রবীন্দ্রসংগীতের প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ নিয়ে যে অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করেছিল সরকার, তার বিরুদ্ধে দেশের শিল্পীসমাজের পাশাপাশি সাংবাদিকেরাও ছিলেন সোচ্চার। এই সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন কে জি মুস্তাফাও।
বহু পত্রিকায় কাজ করেছেন কে জি মুস্তাফা। মাঝে কিছু দিন দেশের বাইরের পত্রিকায়ও কাজ করেছেন। ছিলেন রাষ্ট্রদূত। ১৯৯৮ সালে মুক্তকণ্ঠে কাজ করার সময় প্রত্যক্ষভাবে প্রথম তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলাম। পেয়েছি তাঁর স্নেহাস্পর্শ। তাই তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে অসহায় বোধ করি, চোখে আসে জল।

দিনবদলের যাত্রা শুভ -ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা by মুনির হাসান

সরকার মানে ’সরকার বাহাদুর’ সাধারণের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তাদের কাজের পদ্ধতি বা কী, তা জানা যাবে না, কেবল ফলাফল জেনে খুশি থাকতে হবে! এমন ধারণা এখনো বিরাজিত এবং দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এর অনেকখানি এখনো বাস্তব। তবে গত ৪ থেকে ৬ মার্চ ঢাকার নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে যে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা হয়ে গেল, সেখানে এর ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দেশে প্রথমবারের মতো এমন মেলা আয়োজন করা হয়েছে যেখানে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশ নিয়েছে, জনগণের কাছে কে কত বেশি সেবা কত সহজে দিতে পারে, তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের দেখা গেছে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের স্টলে দাঁড়িয়ে সাধারণ জনগণকে তাঁদের সেবা সম্পর্কে তথ্য দিতে। মেলার শেষ দিন বিকেলে সে রকম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দেখা গেল কয়েকজন স্কুল শিক্ষার্থীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন স্টলে। জানতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য তাঁর মন্ত্রণালয় আর কী করতে পারেন! শুধু তাই নয়, মেলার প্রথম দিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন খোদ মন্ত্রী মহোদয়রা! ভাবা যায়!!
দিনবদলের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিশ্বব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তার অবস্থান নিশ্চিত করেছে আগেই। ঠিক সময়ে সাড়া দিয়ে মহাজোট সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। সেই লক্ষ্যে প্রথম বছরে সরকারের ই-সেবা কার্যক্রমের জানান দেওয়ার জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সরকারের সব সংস্থা এই মেলায় উপস্থিত ছিল তাদের ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে’। মেলার শেষদিন মুহম্মদ জাফর ইকবাল লক্ষ করেছেন, যার একেবারে কিছু নেই তার অন্তত একটি ওয়েবসাইট আছে!
তথ্যপ্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহার যে কত সহজে মানুষের কাছে সরকারকে নিয়ে যেতে পারে, তার একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবারের উদ্ভাবনী মেলা। ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা তার একটি প্রবণতাও সেখানে লক্ষ করা গেছে। বেশির ভাগ সরকারি সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর জন্য সংস্থাগুলো মোবাইল ফোনকে বেছে নিয়েছে। কারণ আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের বেশির ভাগের হাতেই এই জাদুবাক্সটি রয়েছে।
মেলায় একটি ভোটের ব্যবস্থাও ছিল। দর্শনার্থীরা ভোট দিয়ে সেরা ই-সেবাকে নির্বাচিত করেছে। মেলাটি হয়েছে ঢাকায়। এতে শহুরে নাগরিকদের অংশ গ্রহণই ছিল বেশি, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অথচ সরকারি এবং বেসরকারি দুই বিভাগেই সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে কৃষিবিষয়ক উদ্যোগ। কৃষি তথ্য সার্ভিসের কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র পেয়েছে সেরা সরকারি উদ্যোগের স্বীকৃতি। আর জনগণের ভোটে সেরা বেসরকারি উদ্যোগ হয়েছে বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান উইন-ইনকরপোরেটের ই-কৃষি! ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায়, দেশের অর্থনীতির মূল শক্তি কৃষি ও কৃষকের দিনবদলটা দেখতে চায় বেশির ভাগ মানুষ।
মন্ত্রণালয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি সেবা নিয়ে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি বছর থেকে শিক্ষার্থীদের তাদের এসএসসি আর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ই-মেইলে পাঠিয়ে দেবে বলে ঠিক করেছে মন্ত্রণালয়! সেখানে দেখানো হয়েছে ২০০৯ সালের সবচেয়ে উদ্ভাবনী শিক্ষা উদ্যোগ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোবাইল ফোনে ভর্তি কার্যক্রম। স্বভাবতই জুরিদের বিচারে প্রথম হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ডিজিটাল বাংলাদেশের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো ব্যবসায়ীদের জন্য ডিজিটালবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যে শুরু হওয়া বেশ কিছু কাজের খবর জানা গেল সেখানে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক কম্পিউটারায়নের কাজ। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্দরের কাজ সম্পন্ন হবে এর মাধ্যমে, জুরিদের বিচারে এই প্রকল্পের সাফল্য তাই ছিল অবধারিত।
২০০৮ সালে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কম্পিউটারায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যে কাজ করতে এর আগে ৪২টি স্বাক্ষরের প্রয়োজন হতো এখন সেটি অনলাইনে করা যায়, মাত্র ছয়টি অনুমোদন লাগে! তবে, একই মডেলে সম্পন্ন হওয়া ঢাকা কাস্টম হাউস অটোমেশনের প্রকল্পটি এখনো চালু হয়নি। শুনেছি, একদল বিদেশি বিশেষজ্ঞ এসে এই কাজটি পরীক্ষা করে তার নিরাপত্তা ও কার্যদক্ষতার সনদ দিয়েছে (যদিও সেটার খুব প্রয়োজন ছিল বলে আমার মনে হয় না)। আর সবচেয়ে বড় কথা, ২০০৯ সালের জুন মাসে মাননীয় অর্থমন্ত্রী এই কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। ঢাকা কাস্টম হাউসের অটোমেশনটি চালু করা হলে তা এ সরকারের সাফল্যের মুকুটে আরও একটি উজ্জ্বল পালক যোগ করত।
আমাদের দেশে আইসিটিভিত্তিক যেসব মেলা ও সম্মেলন হয়, তার প্রায় সব কটি হয় বেসরকারি উদ্যোগে। এই মেলাটি কেবল সরকারি উদ্যোগে হয়েছে তা নয়, বরং এটি এমন একটি মেলা ছিল যেখানে সরকারকে সত্যিকারের সেবকের রূপে পাওয়া গেছে! আর
বাংলাদেশের সত্যিকারের দিনবদল হতে বেশ সময় লাগবে। কিন্তু কোনো না কোনো সময় সেটি শুরু হওয়ার দরকার ছিল। এই মেলা থেকে টের পাওয়া গেছে সীমিত আকারে হলেও সেই বদলটি শুরু হয়েছে। এখন এই বদলের ধারাটি ধনাত্মক পথে ধরে রাখতে পারলে দিনবদলের অঙ্গীকার পূরণ হবে এবং তখনই আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর ভাষায় আমরা বলতে পারব—দিনবদলের যাত্রা শুভ, বদলে যাচ্ছে দেশ।
মুনির হাসান : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

সব পক্ষ মিলেমিশে দুর্নীতি করে -বিলুপ্ত ট্রুথ কমিশন by মনজুর রশীদ খান

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে জনসেবা-সংশ্লিষ্ট সরকারের অনেক বিভাগ রয়েছে, তার একটি জমি রেজিস্ট্রেশন বিভাগ। উপজেলা স্তরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুর্নীতির কথা সুবিদিত হলেও তা নিয়ে তেমন কথা ওঠে না। সাব-রেজিস্ট্রাররা তাঁদের কর্মক্ষেত্রের দুর্নীতি বিস্তৃতির কথা স্বীকার করেন। যে কয়জন অনুকম্পাপ্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ অনেক। সরকার-নির্ধারিত ফির বাইরে তাঁরা যা নেন, তা ঘুষ হিসেবে মনে করেন না। এর আদায়-প্রক্রিয়া নিখুঁত এবং এমন সুন্দরভাবে বণ্টন করা হয় যে তাতে সবাই তৃপ্ত থাকেন। তাঁরা যথেষ্ট কৌশলে অর্থবিত্তের আইনি সংরক্ষণ করে থাকেন, যা বের করা কঠিন। বাড়তি ফির বাইরে আরও সুযোগ আছে, যেমন একজনের জমি আরেকজনের নামে দলিল করে দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ কামাই করা। দেশের কতগুলো বিশেষ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের চাকরি সোনার খনি হাতে পাওয়ার মতো (ঢাকার তেজগাঁও অন্যতম)। তাদের বদলি-বাণিজ্য যে কী বড় মাত্রায় ঘটে থাকে তার কিছু চিত্র বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রকাশ পেলে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, একজন সাবেক উপদেষ্টা (যিনি সাবেক বিচারপতি) ও তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুদকে মামলা হয়। বদলি-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন সাব-রেজিস্ট্রারের অবৈধ অর্থ উপার্জনের কীর্তিকাহিনি শোনার সুযোগ হয়েছিল। সেই বাণিজ্যের এক হোতাও এসেছিলেন অনুকম্পাপ্রার্থী হয়ে। তাঁর আইনজীবী তাঁকে এমনভাবে উপস্থিত করান যে তিনি যেন মানসিক ভারসাম্যহীন ও স্মৃতিশক্তি লোপপ্রাপ্ত, তাই অনুকম্পাযোগ্য। (তিনি অনুকম্পা পাননি, মামলাটি দুদকে ফেরত পাঠানো হয়)। দেশের উপজেলা ও জেলা শহরের যে সাব-রেজিস্ট্রাররা অনুকম্পাপ্রার্থী হয়েছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগের স্বীকৃত অর্থ-সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকার ওপর ছিল। ভেবে দেখুন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত এসব অফিসে চাকরি করে অবৈধ উপার্জনের কী চমত্কার সুযোগ বিদ্যমান। কেমন নিয়ন্ত্রণহীন, কৈফিয়তহীন, শৃঙ্খলাহীন পরিবেশ থাকলে কোনো সরকারি দপ্তরে এসব চলতে পারে। এমনই অবস্থা বিরাজ করছে বন বিভাগে। এঁদের অধিকাংশ ব্যক্তিই বিপুল অর্থবিত্তের অধিকারী হতে বেশি সময় লাগে না।
স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আসা আত্মস্বীকৃত ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের কাহিনি শুনতে বসে দেখলাম, অতি দ্রুত ধনী হওয়ার মোহে আকৃষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যেমন রয়েছেন সুশিক্ষিত, সুমার্জিত, মেধাবান, দায়িত্ববান কর্মকর্তা তেমনি রয়েছেন স্বল্পশিক্ষিত, আধাশিক্ষিত, অতি চতুর (কিছু অতি বোকাও) শ্রেণীর কর্মচারী। অবৈধ অর্জন বা উপরি নেওয়ার প্রতি তাঁরা একদিনে ঝুঁকে পড়েননি। তাঁদের মহলে যে সংস্কৃতি চালু আছে, তাতে কারও মনে অপরাধবোধ জাগার অবকাশ নেই। বরং দ্রুত বিত্তশালী হওয়ার প্রবল প্রতিযোগিতা রয়েছে। স্ত্রীদের মনে কোনো সন্দেহই স্থান পায় না যে অবৈধ উপার্জন চলছে। পরিবারের সদস্যরা বিশেষ করে স্ত্রীরা অবৈধ অর্জনে অনেক ক্ষেত্রেই সহায়ক ছিলেন। একজন মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা সোজাসুজি বলেই ফেললেন যে স্ত্রীর চাপে পড়ে তিনি ঘুষ নিতেন। (উল্লেখ্য, অবৈধ সম্পদের মালিকানায় নাম ছিল বলে কমিশনে অনেক অনুকম্পাপ্রার্থীর স্ত্রীরাও উপস্থিত হন)। লোভ-লালসা যে মানুষকে অন্ধ করে ফেলে, তার একটি নজির উল্লেখ করছি। এক কর্মকর্তা তাঁর অসত্ভাবে উপার্জিত টাকার একটি অংশ শাশুড়ির নামে তাঁর অজান্তে ব্যাংকে রেখেছিলেন। শিক্ষিত পর্দানশিন মহিলা এক স্কুলের প্রধান শিক্ষিক। মামলা হওয়ার আগে তিনি জানতেন না। মানসম্মান হারিয়ে আবেগ ও লজ্জায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। জামাতা স্বীকার করেন যে ঘুষের টাকা শাশুড়িকে না জানিয়ে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রেখে তাঁকে জেল খাটার ব্যবস্থা করেছেন। মামলায় পড়েছেন এমন কয়েকজন ঠিকাদার স্বীকার করেন যে অস্বচ্ছ-অসাধু ব্যবস্থার মধ্যে সব মেনেই তাঁরা কাজ করে আসছেন। বোধগম্য কারণ নিম্নমানের কাজ করে বেশি লাভ করার সুযোগ। তবে এমনও একজন ছিলেন যিনি ইতিমধ্যেই ঠিকাদারি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। জোর দিয়ে বললেন যে এমন ব্যবসা আর কখনো করবেন না, যেখানে ঘুষ দিতে হয়, যা দেওয়াটাও হারাম। তিনি সেবার হজে গেলেন।
যে ৪৫২ জন অনুকম্পাপ্রার্থী কমিশনে হাজির হয়েছিলেন, তার এক-চতুর্থাংশ ছিলেন স্বল্পবেতনের চাকরিজীবী, শিক্ষক, ছোটখাটো ব্যবসা বা কৃষিজীবী নিম্নআয়ের লোক। সরকারের উচ্চ ও মধ্যম পদধারী কর্মকর্তা এবং কিছু ছোট চাকরিজীবী হয়েও অবৈধ উপার্জনের মাধ্যমে বিত্তশালী হয়েছেন এমন প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি ছিল। যে এক-চতুর্থাংশের কথা বলছি, তাঁদের বেশির ভাগের ঘুষ বা অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ সার্বিক বিবেচনায় সামান্যই ধরা যায়। অনেকেই অবস্থানের বা অবস্থার শিকার হয়েছেন, কেউ লোভে পড়ে অসত্ পথে টাকা কামাইয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। গ্রাম্য দলাদলির শিকার হওয়া লোকও আছেন। তাঁরা পুলিশ, র্যাব বা যৌথ বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে মামলায় পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই মামুলি প্রকৃতির। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে যে শাস্তি পেতেন, তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি শাস্তি এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন। দুই থেকে ১২ মাস হাজতবাস হয়ে গেছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ চেক জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। প্রায় বছরখানেক জেলে ছিলেন। তাঁর দাবি, এক উপজেলা কর্মকর্তাকে মাদ্রাসার উন্নয়নকাজে কমিশন না দেওয়ায় জাল স্বাক্ষরে চেক ভাঙানোর চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়। তিনি ট্রুথ কমিশনে যখন আসেন, তখন মামলার প্রায় ১১ বছর পার হয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে ১০ জন আইও তদন্তকাজে বদলি হলেও কেউই শেষ করেননি। শেষমেশ মামলা দুদকে গেলে এই কমিশনে আসার আবেদন করেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও কিছু অনুকম্পাপ্রার্থী এসেছেন, যাঁরা দরিদ্র ও নিরীহ শ্রেণীর। আমরা দেখেছি, যাঁরা ট্রুথ কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন, তাঁদের সবাই যে দুর্নীতিবাজ তা নয়। অনেকেই পুলিশের হয়রানি, গ্রেপ্তার হওয়া, দিনের পর দিন আদালতে যাওয়া-আসা, আইনজীবীদের পেছনে ঘোরা প্রভৃতির মতো শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে অপরাধ না করেও স্বীকার করে অর্থদণ্ড দিয়ে ভোগান্তির অবসান করতে চেয়েছেন। এক কর্মকর্তা জানান, তিনি কোনো অপরাধ করেননি, তবু অপরাধ স্বীকার করে অনুকম্পা পেতে এসেছেন। চার বছর আগে দুর্নীতি দমন ব্যুরো তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করলে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হন। তারপর কোনো তদন্ত হয়নি, তাঁকে কখনো ডাকাও হয়নি। দুবার তিনি প্রমোশন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার অনুকম্পা পেলে প্রমোশন পেতে পারেন। দুটি গ্যাস কোম্পানির শতাধিক কর্মচারী অনুকম্পাপ্রার্থী হয়েছেন। মিটাররিডার ও সমশ্রেণীর কর্মচারীদের দুই-একজন ছাড়া বাকি ব্যক্তিরা যেভাবে যে পরিমাণে উপরি নিয়েছেন, তা অন্য ব্যক্তিদের তুলনায় নগণ্যই বলা যায়। এসব লোক গ্রাহকদের হয়রানির কথা স্বীকার করেন না, তবে সেবা দিয়ে সন্তুষ্ট করে উপরিটা নেন বলে দাবি করেন। স্বীকার করেছেন যে গ্যাসের কানেকশন বা বিল কমানোর জন্য টাকা নিতেন। একজন এমনই অনুতপ্ত যে তিনি যে পরিমাণ সম্পত্তি জমা দেবেন বলে টাস্কফোর্সের কাছে লিখে দিয়েছেন, এখন তিনি তার চেয়েও বেশি দেবেন। কেন এখন বেশি দেবেন কারণ জানতে চাইলে বলেন, তিনি মাসে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নিতেন। সে হিসাবে ১৬/১৭ বছরের আট লাখ টাকা হয়। তাঁর দেওয়া অঙ্গীকারনামা মতে ছয় লাখ টাকা দিলেই হবে বললেও তিনি সম্মত হননি। শেষমেশ সাত লাখ টাকা দিলেন। এক লাখ কম এ জন্য যে সে টাকা তিনি ধার নিয়েছেন। যে বাড়ি করেছিলেন তা ছয় লাখ টাকায় এরই মধ্যে বিক্রি করেছেন। এ ব্যক্তি দায়মুক্ত হয়ে সেবার হজে যান।
মনজুর রশীদ খান: অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল; সদস্য, বিলুপ্ত সত্য ও জবাবদিহি কমিশন।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার দায়িত্ব কার by মো. জামাত খান

দেশের একটি জনপদ রাজশাহী, সবুজ ছায়াঘেরা বনবীথিকায় সাজানো। বাংলার প্রাচীনতম সভ্যতার পীঠস্থান, আউলিয়া-দরবেশ, সাধু-সন্ত, রাজা শাহ-সুলতানদের আবাসভূমি এই জেলা। মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন রাজবংশ-শাসিত পুন্ড্রবর্ধনভুক্তি আজ নেই। সুলতানি আমল আজ বিস্মৃতির কোঠায়। কিন্তু এখনো রয়েছে বরেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র পদ্মা, মহানন্দা, আত্রাই, বড়াল, বারনই, কর্ণহার বড়বিলা, ফকিরনি, মুসা খাঁ, ছোটবড় খালবিলসহ বিধৌত নিশ্চিত একটি শান্তির ঠিকানা—বিভাগীয় শহর রাজশাহী।
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থেকে বাঘা পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা নদীবিধৌত ২০ লাখ লোকের বাস। এসব মানুষ সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, জীবন-অর্থনীতি, ধর্ম-সংস্কৃতি—সবকিছুর সঙ্গেই পদ্মার নিবিড় সম্পর্ক। কালের বিবর্তনে পদ্মার সেই রূপ-প্রাচুর্য আর নেই। প্রাকৃতিক এবং মনুষ্যসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে পদ্মা এখন মরা নদীতে পরিণত হতে চলেছে।
১৯৭৪ সালের আগ পর্যন্ত পদ্মা ছিল খরস্রোতা। পানির কোনো অভাব ছিল না। নদীতে নৌকা-স্টিমারসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করত। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্য ত্বরান্বিত হয়েছে। একসময় পদ্মা নদী ছিল শুধুই নদী। ‘নদীটা ছোট থাকলেও ভাঙতে ভাঙতে বড় হয়ে গেছে। ৩০ বছর আগেও বর্ষাকালে নদীর গর্জন ছিল ভয়ংকর, এক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যেত পদ্মার সেই গর্জন। শুষ্ক মৌসুমেও ছিল প্রচণ্ড স্রোত। বড় বড় নৌকা-স্টিমার চলত। বিভিন্ন স্থান থেকে নানা জাতের পণ্য আনা-নেওয়া হতো। রাজশাহী মহানগরের পাচানিমাঠ ও দরগাপাড়ায় স্টিমার-লঞ্চ এসে ভিড়ত। ওই সময় তালাইমারী জাহাজঘাট জমজমাট থাকত। এখন তা শুধুই স্মৃতি। ওই সময় পদ্মার গর্জন নদী তীরবর্তী মানুষকে ভীত করত আর এখন ভীত করছে নদী শুকিয়ে যাওয়া।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ থেকে সংগৃহীত ২০ বছরের (১৯৮৩-২০০২) উপাত্তগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমে পানিতলের উচ্চতা ১৭-২০ মিটার এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির গভীরতা ৭-১০ মিটার। পানিতলের এই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উচ্চতার অনুপাত ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত প্রায় একই থাকলেও পরবর্তী সময়ে এই অনুপাতের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এতে প্রতীয়মান হয় যে পদ্মা নদীতে সঞ্চিত অতিরিক্ত পলি নদীতলের উচ্চতা বাড়িয়ে দিয়েছে। যার ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির পরিমাণ কম থাকলেও এর উচ্চতা বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারের ‘রেকর্ডস অব দ্য জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ’-এর ভলিউম-৬ পার্ট-১-এর ‘জিওলজিক্যাল ম্যাপ অ্যান্ড রিপোর্ট অব দ্য ওয়েস্টার্ন পার্ট অব রাজশাহী ডিস্ট্রিক্ট বাংলাদেশ’-এ বলা হয়েছে, পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চতা পদ্মা নদীর পানির উচ্চতার ওপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে সংলগ্ন এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চতা যেমন বাড়ে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানির উচ্চতা হ্রাস পেলে এসব এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি নিচে নেমে যায়। এর ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলের খাল, বিল, পুকুর, ডোবা, খাড়ি ইত্যাদি পানিশূন্য হয়ে পড়ে। দেখা দেয় খাবার পানির তীব্র সংকট।
বর্তমান সরকার দেশের ১৯টি নদী সংস্কারের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে রাজশাহীর পদ্মা নদী ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পদ্মা নদীসংলগ্ন রাজশাহীর লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা এবং এই অঞ্চলকে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য রাজশাহীসংলগ্ন পদ্মা নদী সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি। সামনে আসছে খরা মৌসুম। পদ্মা নদীতে জেগে উঠেছে বড় বড় বালুর চর। এতে পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাবে। এ অঞ্চলের মানুষ আশ্রয়ের জন্য খুঁজবে শীতল পরিবেশ। শহর ও গ্রামে তখন থাকবে না পানির লেয়ার। মানুষের খাবার ও প্রয়োজনীয় কাজে দেখা দেবে পানির সংকট আর কৃষকদের আবাদি জমিতে সেচের জন্য সময়মতো পাওয়া যাবে না পানি। বাড়বে প্রচণ্ড রোদের দাবদাহ। এই সমস্যা সমাধানের প্রতিকার চেয়ে ‘পদ্মা বাঁচাও, রাজশাহী বাঁচাও’ স্লোগান নিয়ে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ২২ জুলাই ২০০৯ সব রাজনৈতিক দল, সাংসদ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে রাজশাহীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। গত ২০ ডিসেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রীকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এমনকি এ বিষয়টি নিয়ে মহান জাতীয় সংসদে রাজশাহী-২ আসনের সাংসদ সরকারের কাছে পদ্মা নদীর ড্রেজিংয়ের আবেদন করেছেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত রাজশাহীর পদ্মা নদীর নাব্যতা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কি না—এ অঞ্চলের মানুষ তা অবগত নয়।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহীর মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল, দেশ পরিচালনার জন্য দায়িত্ব নেওয়ার পর বঞ্চিত রাজশাহীবাসীর উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করবে। এ অঞ্চলের উন্নয়ন করে নদী, খাল-বিল ও কৃষিপ্রধান অঞ্চলকে মরূকরণের হাত থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু সরকারের এক বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সুষম উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে রাজশাহী।
রাজশাহীবিধৌত পদ্মা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এ অঞ্চলের মানুষের তা প্রাণের দাবি।
মো. জামাত খাঁন: আহ্বায়ক, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

প্রস্তাবিত আইনের ব্যাপারে কিছু সুপারিশ -বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় by শাহানা রহমান

উন্নত বিশ্বের প্রথম ১০টি টপ র্যাঙ্কিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সারা বিশ্বে প্রথম ১০টি টপ র্যাঙ্কিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, কানাডার ম্যাকগিল ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেগুলো বেসরকারি। বাংলাদেশেও হয়তো ভবিষ্যতে টপ র্যাঙ্কিং পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশই হবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সে জন্য কত দিন অপেক্ষা করতে হবে, সেটি এখন বিবেচ্য।
প্রস্তাবিত আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। লক্ষ করার বিষয়, অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল যদি শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিরূপণ করে, সে ক্ষেত্রে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কে নিরূপণ করবে, সে বিষয়ে অদ্যাবধি সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই। সুতরাং ওই ধারাটি সংশোধন করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদাভাবে চিহ্নিত না করে ‘বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা যেতে পারে। তারাই সাধারণভাবে শিক্ষার মাপকাঠি নিরূপণ করতে সক্ষম হবে।
আইন বলেছে, কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে দূরশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করতে পারবে। বাংলাদেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যখন এ পর্যন্ত শৈশব পেরোতে পারেনি, সেখানে এ ধরনের বিধান রাখলে তা আগের মতো অপপ্রয়োগের আশঙ্কা রয়েছে। যেখানে দূরশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার জন্য বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে দূরশিক্ষণ কোর্সে উত্সাহিত করাটা আপাতত যুক্তিযুক্ত মনে হয় না। সুতরাং ধারাটি প্রস্তাবিত আইনে রাখা উচিত কি না সেটি বিচার্য।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য অন্যূন পাঁচ কোটি টাকার জামানত রাখার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাত্ উদ্যোক্তাকে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করতে হলে আনুমানিক ১০ কোটি টাকা (জামানত পাঁচ কোটি ও অন্যান্য খরচ পাঁচ কোটি) বিনিয়োগ করতে হবে, যা শুধু কোনো ব্যবসায়ীর পক্ষে সম্ভব। এত বিপুল মূলধন নিয়ে কোনোভাবেই একজন শিক্ষাবিদের পক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা সম্ভব নয়। সুতরাং প্রকৃত শিক্ষাবিদদের উত্সাহিত করার জন্য সরকার বিশেষ ছাড় যেমন জামানতের পরিমাণ কমানো, কম সুদে ঋণ, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর অবকাশ ইত্যাদি সুবিধা দিতে পারে।
আইনে স্থায়ী সনদপত্র পাওয়ার যে শর্তাবলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য হল/ছাত্রাবাস এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের আবাসনের শর্ত আরোপ করা হয়নি। সুতরাং শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের এই ন্যূনতম মৌলিক চাহিদার বিষয়টি শর্তে আরোপ করা যেতে পারে। এ ছাড়া অন্যূন নয় সদস্যবিশিষ্ট একটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গঠনের কথা বলা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে থেকে মনোনীত একজন সদস্য বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতির দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ থাকলেও কীভাবে সভাপতি নির্বাচিত হবেন এবং তার মেয়াদকাল কত দিন হবে তার উল্লেখ নেই। সভাপতি নির্বাচন পদ্ধতি এবং মেয়াদকাল নির্দিষ্ট না থাকলে উদ্যোক্তা বা তাদের পক্ষে অনভিপ্রেত প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা থেকে যাবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন শিক্ষানুরাগী বা শিক্ষাবিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধির কথা বলা হয়েছে। স্থায়ী সনদপত্র পাওয়ার আগে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকে, যাতে পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা অবনতির মতো ঘটনা ঘটে থাকে। তাই স্থায়ী সনদপত্র পাওয়ার আগ পর্যন্ত পুলিশ কমিশনার বা উপযুক্ত পদমর্যাদাসম্পন্ন কাউকে মনোনায়ন দেওয়ার বিধান আনা যেতে পারে।
স্থায়ী সনদপত্র পাওয়ার যথাযথ শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে সরকার সাময়িক সনদপত্র বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করতে পারে। তবে এর ফলে অনেক সুচতুর উদ্যোক্তা উচ্চ আদালত থেকে সরকারের আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ পাবে, যা আইনের দৃষ্টিতে সঠিক হলেও অনৈতিক। তাই স্থায়ী সনদপত্র পাওয়ার আগে সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই ধরনের সাময়িক সনদপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে আদালতে যেতে না পারে, সে জন্য উপযুক্ত রক্ষাকবচ তৈরি করতে হবে।
আইনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনক্রমে এক বা একাধিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এর অবস্থান মূল ক্যাম্পাস যে শহরে অবস্থিত সেখানে নাকি বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে স্থাপন করা যাবে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে ইনস্টিটিউট স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হলে সাময়িক সনদপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় আগের মতো ‘আউটার ক্যাম্পাস’ খুলে প্রতারণা করতে পারে। সুতরাং এই ধারার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
একাধিক ক্যাম্পাস ও পাঠক্রম অনুমোদনের ব্যাপারেও আইনে বলা আছে। আবেদনপ্রাপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক কোনো সিদ্ধান্ত প্রদত্ত না হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনটি অনুমোদিত হিসেবে বিবেচিত হবে। এই ধারা দুটি আরও স্পষ্ট করার প্রয়োজন আছে। কারণ এখানেও সেই অনিয়মের আশঙ্কা থেকে যায়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ৯০ দিনের মধ্যে আবেদনটির অনুমোদন প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক উল্লিখিত আবেদনটি অনুমোদিত না হলে, ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা চ্যান্সেলর বরাবর আপিল করা যাবে কি না সে বিষয়েও কোনো নির্দেশনা নেই। এটা স্পষ্ট করতে হবে।
আইনে প্রতারণামূলক ধারা লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে কি না তা মোটেই স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে আইনে বলা আছে, কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক এ অধ্যাদেশের বিধানাবলি লঙ্ঘিত হলে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত মামলা আমলে নিতে পারবেন না। কিন্তু ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ কে বা কারা সেটি এ অধ্যাদেশে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।
যেহেতু ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ (আপাতদৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) ব্যতিরেকে এই অধ্যাদেশের বিধান লঙ্ঘনের কারণে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না, সেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা বা গুরুতর অনিয়মের কারণে কোনো শিক্ষার্থী/ অভিভাবক/অন্য কেউ সংক্ষুব্ধ হলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বরাবর অভিযোগ করা যাবে কি না সে বিষয়ে এই আইনে কোনো নির্দেশনা নেই। বিষয়টি প্রস্তাবিত আইনে সংযোজন করা যেতে পারে।
ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আইনের ৪৭(১) ধারার বিধানাবলি লঙ্ঘনের কারণে ফৌজদারি মামলা থানায় বা আদালতে রুজু করতে পারেন, কিন্তু মামলাটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নাকি পুলিশ তদন্ত করবে সে বিষয়টির উল্লেখ থাকতে হবে।
শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত নীতিমালা থাকা উচিত। নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালাটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতায় আনা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের অনুমোদিত প্রাইভেট বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য যেকোনো দেশি, বিদেশি বা ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ইকুইভেলেন্স সার্টিফিকেট নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতায় না আনলে একটা বিরাট প্রতারণার আশঙ্কা থেকেই যায়। সে কারণে বিষয়টি প্রস্তাবিত আইনে সংযোজন হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মতো মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান না হয়ে জনহিতকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক, সেটি আমাদের সবারই কাম্য। আমরা সেই সুদিনের অপেক্ষায় রইলাম।
শাহানা রহমান: গবেষক।

রংপুরের আলুচাষিদের হাহাকার -হিমাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের বিকল্প নেই

বাম্পার আলু উত্পাদনের পর আলু নিয়ে চাষিদের বিড়ম্বনা একটি নিয়মিত ঘটনা। এমনকি কয়েক বছর আগে উত্পাদিত আলু বিক্রি বা হিমাগারে রাখতে না পেরে চাষি নিজের উত্পাদিত আলু স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন, এমন সংবাদও আমরা দেখেছি। এবার রংপুরে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার পর হিমাগারের অভাবে অন্য বছরের মতো চাষিরা তাঁদের আলু সংরক্ষণের জায়গা পাচ্ছেন না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, আলু উত্পাদিত হয়েছে ১৩ লাখ মেট্রিক টন। অথচ রংপুরের ৩০টি হিমাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র আড়াই লাখ মেট্রিক টন। কৃষকেরা পড়েছেন মহা বিপাকে—বাড়তি আলু কোথায় রাখবেন তাঁরা?
হিমাগারের মালিকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের হিমাগার আলুতে পূর্ণ হয়ে গেছে, আর আলু নেওয়ার সুযোগ তাঁদের নেই। দিন পনেরো আগেও সেখানে ৮৪ কেজি ওজনের এক বস্তা আলুর দাম ছিল ৭০০ টাকা। এক সপ্তাহ পর তা দাঁড়ায় ৬০০ টাকা, আর এখন ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এখনই সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করতে পারলে পচন ধরবে। আর কম মূল্যে বিক্রি করলে চাষিদের উত্পাদন-খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি চাষ করার জন্য তাঁরা যে ঋণ নেন, তাও শোধ করা সম্ভব হবে না। আগামী বছর এ কৃষকেরা আলুর চাষ করবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা সৃষ্টি হবে। অনেক চাষি আলু থেকে বিমুখ হয়ে তামাক চাষের দিকে ঝুঁকে পড়বেন।
এ পরিস্থিতিতে আলুচাষিরা কোথায় যাবেন? আলু নিয়ে তাঁরা নেমে এসেছেন সড়কে—যদি এর মাধ্যমে সরকারের কাছে তাঁদের অবস্থার কথা তুলে ধরা যায়। চাষিদের পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটা করে আহত করা কোনো সমাধান নয়। সড়ক অবরোধের মধ্যে আলুচাষিদের যে হাহাকার লুকানো আছে, এর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে সরকারের উচিত আশু সমাধানের পথ বাতলে দেওয়া। আলু পচে যাওয়ার আগেই সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আলু আমাদের অন্যতম প্রধান খাদ্য। দাম কম ও সুস্বাদু বলে বেশির ভাগ মানুষ খাদ্য হিসেবে আলু পছন্দ করে। তা ছাড়া আলুর পুষ্টিমানও ভালো। তাই আলুচাষি ও হিমাগারের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় জরিপ চালিয়ে হিমাগার বাড়ানোর জন্য অবিলম্বে সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে। আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়লে সংরক্ষণ সমস্যা খানিকটা লাঘব হতে পারে। এ জন্য কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে সরকারকে ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

ঢাকার ফুটপাত-বাণিজ্য -ডিসিসির অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

রাজধানীর ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যাওয়ার খবরটি নতুন নয়। নতুন নয়, সেই ফুটপাত কেন্দ্র করে পুলিশ ও প্রভাবশালীদের চাঁদাবাজির ঘটনাও। যে নতুন খবরটি নগরবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, তা হলো ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) এই অবৈধ ও অনৈতিক ফুটপাত-বাণিজ্যে নেমে পড়া। মেয়রকে না জানিয়েই ডিসিসির একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে হকারদের কাছে ফুটপাত বরাদ্দ দিয়েছেন বলে শনিবার প্রকাশিত প্রথম আলোর খবরে জানা যায়।
যেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, ডিসিসি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বারবার নোটিশ জারি করছে, সেখানে তাঁরা এ ধরনের বেআইনি কাজ করেন কীভাবে? রঙ্গ ভরা বঙ্গদেশে যে কিছুই অসম্ভব নয়, সেটিই প্রমাণ করলেন ডিসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কথায় বলে, খলের ছলের অভাব হয় না। তাঁরা যুক্তি দেখাচ্ছেন, যেহেতু ফুটপাতগুলো হকাররা দখল করে আছেন, সেহেতু তাঁদের বরাদ্দ দেওয়াই ভালো। নগরবাসীর জীবনে স্বস্তি আসে, এ রকম একটি পদক্ষেপ নিতে না পারলেও পদে পদে সমস্যা সৃষ্টিতে নগর কর্মকর্তাদের জুড়ি নেই।
একটি উন্নত মহানগরের আয়তনের ২৫ শতাংশ সড়ক থাকা প্রয়োজন। অথচ ঢাকায় আছে মাত্র পাঁচ থেকে সাত শতাংশ। স্বাভাবিকভাবে ফুটপাতের পরিমাণও অনেক কম। অস্থায়ী দোকানপাট ও নানা স্থাপনার কারণে ক্রমে তাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ডিসিসি যদি হকারদের ফুটপাত বরাদ্দ দিতে থাকে, তাহলে পথচারীদের চলাচলের কোনো জায়গাই থাকবে না। অসাধু কর্মকর্তাদের এ অন্যায় বাণিজ্যে ডিসিসির তহবিলে কী পরিমাণ অর্থ জমা হবে তা নিয়ে সংশয় থাকলেও অসাধু কর্মকর্তাদের পকেট যে ভারী হবে, তাতে সন্দেহ নেই। ফাও কামাই করে নেবেন কথিত হকার্স সমিতির নেতারাও। মহানগরের ফুটপাত নিয়ে এর আগেও তেলেসমাতি কারবার কম হয়নি। প্রয়োজনীয় ফুটপাত না থাকলেও সৌন্দর্যবর্ধনের নামে বারবার সেই ফুটপাত সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, এখনো হচ্ছে।
আরও অবাক করার বিষয় হলো, মেয়রকে না জানিয়েই মতলববাজেরা কাজটি সম্পন্ন করেছেন বা করার প্রক্রিয়ায় আছেন। জনগণের কাছে তাঁদের কোনো দায় নেই। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেয়র নিশ্চয়ই তাঁদের কাছে দায়বদ্ধ। তিনি ফুটপাত বরাদ্দদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন। এখন দেখার বিষয়, মেয়র সত্যি সত্যি তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেন। ডিসিসি একদিকে ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিশ দেবে, অন্যদিকে হকারদের কাছে ফুটপাত ভাড়া দেবে, এসব নীতি চলতে পারে না। যাঁরা এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে তাঁরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, এটাই প্রত্যাশা।

দাগেস্তানে চার জঙ্গি নিহত

রাশিয়ার দাগেস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। দেশটির সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা স্থানীয় জঙ্গি বাহিনীর সদস্য। তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। একটি বাড়িতে অবস্থান করার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে তারা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে তারা নিহত হয়।

দেবতাকে তুষ্ট করতে শিশু হত্যা

দেবতাকে তুষ্ট করতে চার বছরের শিশুকে হত্যা করেছে ১২ বছরের এক কিশোরী। গত বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষেৗয়ে এ ঘটনা ঘটে। বলির শিকার শিশুটির নাম শচীন। তারই কাকাতো বোন স্মিতা তাকে হত্যা করে।
বৃহস্পতিবার রাত আটটায় শচীনের বলিদানের বিষয়টি জানাজানি হয়। বাবা চরণ সিং হঠাত্ খেয়াল করেন, শচীন ঘরে নেই। শচীনের বোন বুবলির হঠাত্ মনে পড়ে, সর্বশেষ সে শচীনকে স্মিতার সঙ্গে দেখেছে।
স্থানীয় লোকজন স্মিতাদের বাড়ির বাইরে একটি ছোট ছাপরা ঘরে শচীনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে স্মিতা হত্যার কথা স্বীকার করে।
এর আগে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এক আত্মীয়ের তিন বছরের শিশুকে বলিদানের উদ্দেশ্যে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ রয়েছে স্মিতার পরিবারের বিরুদ্ধে। ওই শিশুটিকে বলিদানের ভয়ংকর পরিকল্পনাটি করেন স্মিতার বাবা। বলিদানের চেষ্টার ভয়ংকর খবরটি পাওয়ার পর শিশুটির বাবা তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। সৌভাগ্যবশত তখন শিশুটি বেঁচে যায়।

পরকীয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন সারকোজি

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রাখার গুঞ্জনকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি। তিনি আরও বলেছেন, ‘এ রকম হাস্যকর গুঞ্জনের পেছনে ছোটার মতো অর্ধ সেকেন্ড সময়ও আমার নেই।’ ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সঙ্গে গত শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সারকোজি এ মন্তব্য করেন।
ফরাসি এক সাংবাদিক সারকোজির পরকীয়া নিয়ে গুঞ্জনের বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে তোলেন। জবাব না দিয়ে সারকোজি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যান। দ্বিতীয়বার বিষয়টি তোলা হলে সারকোজি অনেকটা ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে দিনব্যাপী যেসব কাজ করতে হয়, আপনাদের তা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা উচিত। এ ধরনের হাস্যকর গুঞ্জনের পেছনে ব্যয় করার মতো অর্ধ সেকেন্ড সময়ও আমার নেই। আর আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, আপনারা কেন এ ধরনের নির্বোধের মতো প্রশ্ন করে নিজেদের সময় নষ্ট করছেন।’
একপর্যায়ে এ বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেন গর্ডন ব্রাউন। তিনি বলেন, ‘আমি ব্রিটিশ পত্রপত্রিকায় এমন গুঞ্জনের খবর পড়েছি। তবে এগুলো আমার বিশ্বাস হয়নি।’ এ সময় সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। সারকোজি এ সময় ওই আলোচনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ব্রিটিশ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ডকে ভালোবাসি। দয়া করে আমাকে আর দুঃখ দেবেন না।’
কয়েক দিন ধরে ফরাসি ও ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ফরাসি ফার্স্ট লেডি কারলা ব্রুনি (৪৩) এখন প্রেম করছেন দেশের সুদর্শন পপ তারকা বেঞ্জামিন বিওলের (৩৭) সঙ্গে। আর ৫৫ বছর বয়সী সারকোজি প্রেম করছেন তাঁরই জুনিয়র প্রতিবেশমন্ত্রী চেন্টেল জুয়ান্নুর (৪০) সঙ্গে।
সারকোজি ও ব্রুনির নতুন প্রেমের খবর ইন্টারনেটের সব ব্লগ (দিনপঞ্জি) এবং ওয়েবসাইটেও ছড়িয়ে পড়ে।


জ্যাকসনের বিলাসবহুল আসবাব নিলামে উঠছে

প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বিলাসবহুল আসবাবপত্র নিলামে তোলা হবে। লাস ভেগাসে আগামী জুন মাসে ওই নিলাম হবে। এর আগে আয়ারল্যান্ডের নিউব্রিজ সিলভাওয়্যার জাদুঘরে চলবে সেগুলোর প্রদর্শনী। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান জুলিয়ান গত শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জ্যাকসন তাঁর ‘দিস ইজ ইট’ লন্ডন কনসার্টকে সামনে রেখে ইতালির বিখ্যাত ‘কলম্বোস্টাইল’ প্রতিষ্ঠানকে যে ২২টি আসবাবপত্রের অর্ডার দিয়েছিলেন, সেগুলো নিলামে তোলা হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তা ও সোনার কারুকাজ করা বেশ কয়েকটি আরাম কেদারা।
এ ছাড়া পপসম্রাটের স্মৃতিবিজড়িত দুই শতাধিক ব্যক্তিগত সামগ্রী আয়ারল্যান্ডের নিউব্রিজ সিলভাওয়্যার জাদুঘরে ১৬ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রদর্শন করা হবে। জ্যাকসন সত্যি কতটা রুচিসম্পন্ন ছিলেন, এর একটা নমুনা তাঁর ভক্তদের সামনে হাজির করতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
আয়ারল্যান্ডে প্রদর্শনী শেষে এসব আসবাবপত্র লাস ভেগাসের প্লানেট হলিউড রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোতে নিলামে তোলা হবে। নিলাম চলবে ১৪ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত।

ইরানে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

ইরানে বাহাই সম্প্রদায়সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটি শুক্রবার ইরানের প্রতি সে দেশে মানবাধিকার রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি এক বিবৃতিতে বলেন, কেবল ধর্মীয় মতাদর্শের কারণেই সম্প্রতি ২৫ জন বাহাইকে নির্যাতন করা হয়েছে। বর্তমানে ইরানে প্রায় ৬০ জনের বেশি লোককে বন্দী করে রাখা হয়েছে।
ক্রাউলি বলেন, বাহাই সম্প্রদায়ের কয়েকজন নেতাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। তাদের এমনকি কৌঁসুলি নিয়োগ করতে দেওয়া হয়নি।
ক্রাউলি আরও বলেন, ইরান কর্তৃপক্ষ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ১২ জনেরও বেশি লোককে আটক করে রেখেছে। তাদের কয়েকজনকে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানে বাহাই ও অপর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র খুবই উদ্বিগ্ন।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন ছাড়াও ইরান বাক্স্বাধীনতা ও সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে চলেছে। বিরোধীদের বিক্ষোভ দমনে সরকার ৭০ জনকে হত্যা ও চার হাজারের বেশি লোককে বন্দী করেছে।
ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গিনেস বুকে মিজোরামের ১০ হাজার শিল্পীর ‘বাঁশনৃত্য’

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামে ১০ হাজারের বেশি নৃত্যশিল্পী একযোগে ‘ছেরো’ নামের ঐতিহ্যবাহী ‘বাঁশনৃত্য’ পরিবেশনের মাধ্যমে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে এ নাচের ঘটনা স্থান করে নিয়েছে। বিবিসি।
কর্মকর্তারা বলেছেন, মিজোরামের রাজধানী আইজলের আসাম রাইফেলস গ্রাউন্ডে গতকাল শনিবার মোট ১০ হাজার ৩৭৮ জন বাঁশের লাঠির ব্যবহারসমৃদ্ধ এই ‘ছেরো’ নৃত্যে অংশ নেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিচারক লুসিয়া সিনিগালিয়াসি আট মিনিটের ওই নৃত্য উপভোগ করেন। নৃত্যে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। নাচ শেষ হলে বিচারক লুসিয়া বলেন, তাঁদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এটাই এযাবত্কালের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী ‘ছেরো’ নাচ। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মিজোরামের সংস্কৃতিমন্ত্রী পিসি জরামসাংলিয়ানার হাতে গিনেস রেকর্ডসের সনদ তুলে দেন।
আয়োজকেরা বলেছেন, তাঁরা আশা করছেন, এ ঘটনা বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং তাঁরা সে রাজ্যে ভ্রমণ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবেন।

‘চিলির পুনর্গঠনে ব্যয় হবে তিন হাজার কোটি ডলার’

চিলির নতুন প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা বলেছেন, জানুয়ারির ভূমিকম্পের পর দেশটির পুনর্গঠনে অন্তত তিন হাজার কোটি ডলার খরচ হবে। প্রথম দিন অফিস করার পর তিনি বলেন, প্রাপ্ত ঋণ এবং এ খাতে বরাদ্দের অর্থ বাড়িঘর ও শিল্প-কারখানার অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা হবে।
রাজধানী সান্তিয়াগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে পিনেরা বলেন, তিনি দেশ পুনর্গঠনে অন্য দেশগুলোর কাছেও সহযোগিতা চাইবেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি এখন ভয়ানক দরিদ্র হয়ে পড়েছে। তবে সরকার চায়, কপার রপ্তানি করে অর্জিত আয়ের একটি অংশ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ করা হবে। উল্লেখ্য, চিলি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কপার উত্পাদনকারী দেশ। পিনেরা বলেন, কপারের দাম আগের মতোই আছে। তাই মূল্যবান এই সম্পদটি বিক্রি করে তা দেশ পুনর্গঠনের কাজে লাগানো যাবে।
এর আগে দেশটির অর্থমন্ত্রী ফেলিপ লারাইন বলেছিলেন, ঋণ বাবদ কত অর্থ বরাদ্দ করা হবে, সরকার এখনো তা ঠিক করেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানায়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খুব কম ঝুঁকির দেশ হওয়ায় লাতিন আমেরিকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ‘মডেল’ বলে খ্যাত চিলি সহজেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।
গত শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে পিনেরা বলেন, তিন লাখ বাড়িসহ স্কুল ও রাস্তাঘাট নতুন করে তৈরির জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ৮ দশমিক ৮ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত ও বহু নিখোঁজ হয়। গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট পিনেরার অভিষেকের দিনেও ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ভূমিকম্পের পর চিলির কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত ৪৯৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। প্রেসিডেন্ট পিনেরা অবশ্য মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্বীকার করেছেন।
এ ছাড়া বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ভূমিকম্প এবং এর পরবর্তী সুনামিতে দেশটির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় পাঁচ লাখেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস অথবা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারতকে ২০০ জঙ্গি বিমান দেবে রাশিয়া

তুলনামূলক লুকিয়ে ও কম শব্দ করে উড়তে পারে—এমন এক হাজারের বেশি অত্যাধুনিক জঙ্গি বিমান আগামী চার দশকের মধ্যে তৈরি করবে রাশিয়া। এর মধ্যে কমপক্ষে ২০০ বিমান তাদের পুরোনো অস্ত্র-ক্রেতা ভারতকে দেবে তারা। রাশিয়ার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সুখোইয়ের পরিচালক মিখাইল পোগোসিয়ান গত শুক্রবার এ কথা জানান। খবর রয়টার্স ও জি নিউজের।
পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক ওই জঙ্গি বিমানকে সংক্ষেপে টি-৫০ বলা হয়। এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করা হয় জানুয়ারির শেষ দিকে। মস্কো জানিয়েছে, এটা যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২ র্যাপটার জঙ্গি বিমানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে। সুখোই গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ২০১৫ সালের মধ্যে এ বিমান ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছে।
আরও আগে রাশিয়ার এ বিমান তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও তা নির্মাণ ও পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বিলম্ব হয়েছে। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, বিমানটি নিয়ে আরও কাজ করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিনের সফরসঙ্গী হিসেবে ভারতে যান সুখোইয়ের পরিচালক মিখাইল পোগোসিয়ান। মিখাইল নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে রাশিয়া এক হাজারের বেশি এ ধরনের জঙ্গি বিমান তৈরি করতে পারে। আমাদের বিশ্বাস, বিশ্ববাজারে এ বিমান তীব্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে।’ তিনি জানান, ধারণা করছি, ২০০ জঙ্গি বিমান ভারতে সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া প্রায় ৬০০ বিমান অন্য দেশে বিক্রি করা হবে।
লিবিয়া, ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ এ বিমান কেনার ব্যাপারে ইতিমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মিখাইল জানান, এ জঙ্গি বিমান ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরির ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু কবে চুক্তি হবে, এ ব্যাপারে কিছু বলেননি তিনি।

ভোটে এগিয়ে গিয়ে জোট গঠনের চেষ্টায় মালিকি


ভোটে এগিয়ে গিয়ে জোট গঠনের চেষ্টায় মালিকি

| তারিখ: ১৪-০৩-২০১০

    ০ মন্তব্য
    প্রিন্ট
    ShareThis
    Share on Facebook

prothom-alojobs news details small ad
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»

ইরাকের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে বাগদাদে এগিয়ে গেলেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি। আগাম ভোট গণনায় দেখা গেছে, রাজধানীতে মালিকির স্টেট অব ল জোট সহজেই প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন গতকাল শনিবার এ কথা জানায়।
ভোটে এগিয়ে যাওয়ার পর নুরি আল মালিকি সরকার গঠনের লক্ষ্যে জোট গড়তে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছেন। পাঁচ সদস্যের ওই কমিটি সরকার গঠনে বিরোধী কয়েকটি ছোট দলের সমর্থন পাওয়ার জন্য দেনদরবার চালাবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ঘোষিত ফলাফলে বলা হয়, নির্বাচনী এলাকাগুলোর মধ্যে বাগদাদেই সবচেয়ে বেশি আসন। সেখানে ১৮ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, মালিকির স্টেট অব ল পেয়েছে দেড় লাখ ভোট। এর পরই রয়েছে শিয়াধর্মীয় জোট ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স। তাদের ভোট এক লাখ আট হাজার। ধর্মনিরপেক্ষ ইরাকিয়া জোট পেয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার ভোট।
প্রতিনিধি পরিষদের ৩২৫টির মধ্যে ৭০টি আসনই রয়েছে বাগদাদে। বাগদাদের ভোটে এগিয়ে থাকায় মালিকির পক্ষে সরকার গঠন করা সহজ হবে। এ ছাড়া প্রাথমিক ফলাফলে ১৮টি প্রদেশের মধ্যে মালিকি শিয়া-অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বাবিল, নাজাফ, মুথানা ও কারবালায় এগিয়ে রয়েছেন। তবে সুন্নি-অধ্যুষিত দিয়ালা ও সালাহেদিনে বেশি ভোট পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইয়াদ আলাবির ইরাকিয়া জোট। এর আগে গত শুক্রবার ইরাকিয়া জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভোটে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে।
স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কুর্দিস্তানের আরবিল প্রদেশে ফলাফলে কুর্দিস্তানিয়া জোট এগিয়ে রয়েছে। সরকার গঠন করতে ১৬৩ আসনের প্রয়োজন হবে। বিশ্লেষকেরাও বলছেন, জোট গঠন ছাড়া কোনো দলই সরকার গঠন করতে পারবে না। আগামী বৃহস্পতিবার নাগাদ নির্বাচনের পুরো ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।

পাকিস্তানের সোয়াতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১০

পাকিস্তানে লাহোরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার পরদিনই গতকাল শনিবার সোয়াত উপত্যকা এলাকায় একই ধরনের হামলায় আত্মঘাতী হামলাকারীসহ কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৩৭ জন। সোয়াত উপত্যকার প্রধান শহর মিঙ্গোরার উপকণ্ঠের এলাকা সাঈদু শরিফের একটি আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে লাহোরে গত শুক্রবার দুটি বোমার বিস্ফোরণে ৫৭ জন নিহত হয়। এএফপি।
মিঙ্গোরার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা কাজী জামিল টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, হামলাকারী তার দেহের সঙ্গে প্রায় ১৫ কেজি বিস্ফোরক বেঁধে হেঁটে আদালত চত্বরে ঢোকার চেষ্টা করে। চেকপোস্টে থাকা পুলিশ তার গতি রোধ করে। সে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কিন্তু ততক্ষণে সে তার শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
কাজী জামিল বলেন, ঘটনাস্থলে আত্মঘাতীর ছিন্নভিন্ন হাত-পা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ওই বিস্ফোরণে নিহত ১০ জনের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য, একজন সেনাসদস্য ও একজন শিশু রয়েছে। বিস্ফোরণে আশপাশে পার্ক করা প্রায় ২০টি গাড়িও ভেঙে দুমড়েমুচড়ে গেছে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এর আগে গত শুক্রবার লাহোরে প্রায় নয়টি বোমার বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৫৭ জন নিহত হয়।
তালেবান-অধ্যুষিত সোয়াত উপত্যকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেই। এখানকার বহু এলাকায় আইনের শাসন নেই। স্থানীয় উপজাতি ও তালেবানরা এসব এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

টরন্টোতে দক্ষিণ এশীয়রা হবে মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ

কানাডার টরন্টো ও মন্ট্রিল শহরে ২০৩১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশীয়দের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশে পৌঁছাবে। আগামী ৩০ বছরের মধ্যে টরন্টোতে বর্তমানে সংখ্যাগুরু শ্বেতাঙ্গরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে। গত মঙ্গলবার কানাডার পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে টরন্টোর জনসংখ্যা ৫৫ লাখ। এর প্রায় অর্ধেকই অভিবাসী। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কানাডায় ১১ লাখ নয় হাজার ৯৮০ জন অভিবাসী আসে। এর ২৫ ভাগই টরন্টোতে থাকে।
পরিসংখ্যান বিভাগ জানায়, টরন্টোতে মোট জনসংখ্যার ৪৭ ভাগই দৃশ্যমান সংখ্যালঘু। বড় পাঁচটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে দক্ষিণ এশীয়রা প্রথম স্থানে রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ১২ ভাগ।
টরন্টোর প্রধান ভাষা ইংরেজি। তবে এখানে প্রায় ১৪০টি ভাষা প্রচলিত রয়েছে। মোট জনসংখ্যার শতকরা ৩০ ভাগই ইংরেজি বলে না। পরিসংখ্যান বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, গত দশকে দক্ষিণ এশীয়রা উল্লেখযোগ্যভাবে কানাডা এসেছে। এ ছাড়া অন্য জনগোষ্ঠীর চেয়ে দক্ষিণ এশীয়দের জন্মহার বেশি বলে তারা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
তবে এ খবরটি খুব সুখকর নয় স্থানীয় দক্ষিণ এশীয়দের কাছে। স্থানীয় সাউথ এশিয়ান ফ্যামিলি সাপোর্ট সার্ভিসের নির্বাহী পরিচালক কাজী হক বলেন, এখানে অন্য জনগোষ্ঠীর চেয়ে দক্ষিণ এশীয়রা অনেক দরিদ্র। অনেকেই বেকার অথবা খুব কম বেতনে খণ্ডকালীন চাকরি করে জীবনধারণ করছেন।
তবে জেরাড ইন্ডিয়া বাজারের সভাপতি কানওয়ালজিত্ খোরানা বলেন, ‘টরন্টোতে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যা বৃদ্ধি ব্যবসা-বাণিজ্যে আশার আলো জাগিয়েছে। দক্ষিণ এশীয়রা এখন চাকরির চেয়ে ব্যবসাতেই ভালো করছে।

ম্যান্ডেলার কোনো সমালোচনা করিনি: উইনি

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সাবেক স্ত্রী উইনি মাদিকিজেলা ম্যান্ডেলা বলেছেন, তিনি নেলসনের সমালোচনা করে কোনো সাক্ষাত্কার দেননি। গত শুক্রবার নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে উইনি বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকা লন্ডন ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড-এ তাঁর বরাত দিয়ে মিথ্যা কথা প্রকাশিত হয়েছে। খবর বিবিসির।
লন্ডন ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড-এ ওই নিবন্ধটি লেখেন নোবেল পুরস্কারজয়ী ব্রিটিশ লেখক ভি এস নাইপলের স্ত্রী নাদিরা নাইপল। উইনির সাক্ষাত্কার উদ্ধৃত করে নিবন্ধটি লেখা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় কালোদের অধিকার আদায় আন্দোলনে নোবেল পুরস্কারজয়ী নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে উইনিও ছিলেন। ম্যান্ডেলার ২৭ বছরের কারাবন্দী জীবনের অবসানের ২০ বছর পূর্তি হয়েছে গত মাসে। কারামুক্তির দুই বছর পর ১৯৯২ সালে ম্যান্ডেলার সঙ্গে উইনির ছাড়াছাড়ি হয়।
নিবন্ধে উইনির বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘ম্যান্ডেলা আমাদের হতাশ করেছেন। তিনি কালোদের পক্ষে একটি বাজে চুক্তি করেছিলেন।’ ‘ম্যান্ডেলা’ নামটি তাঁর পরিবারের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন উইনি।
উইনি গত শুক্রবার তাঁর বিবৃতিতে বলেন, নিবন্ধটি মিথ্যা সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সমগ্র বিশ্বে ম্যান্ডেলার সম্মান নষ্ট করতে এ মিথ্যাচার করা হয়েছে।’
এদিকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লন্ডন ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড বলেছে, ‘নাদিরা নাইপল জোহানেসবার্গের কাছে সোওয়েটোতে উইনি মাদিকিজেলার বাড়ি গিয়েছিলেন। তখন দীর্ঘ সময় ধরে জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে নাইপলের সঙ্গে কথা বলেন উইনি। আমরা বুঝতে পারছি না, উইনি ম্যান্ডেলা ওই সময় যা বলেছিলেন এখন কেন তা অস্বীকার করছেন।’
জোহানেসবার্গে বিবিসির সাংবাদিক জোনাহ ফিশার জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় কিছু বিষয় নিষিদ্ধ আছে। নেলসন ম্যান্ডেলার সমালোচনা করা এর অন্যতম।
উইনি ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষমতাসীন এএনসি দলের প্রভাবশালী ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য।

টমেটোর কেজি ২৫ পয়সা

এখন গোটা পশ্চিমবঙ্গেই শাকসবজির দাম একেবারে কমে গেছে। কমেছে আলুর দাম। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার রুপিতে। অন্যান্য সবজির দামও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। টমেটোর দাম চার থেকে পাঁচ রুপি প্রতি কেজি। অথচ হাটে কেজিপ্রতি টমেটোর পাইকারি দর মাত্র ২৫ পয়সা।
শুক্রবার কোচবিহারের দিনহাটার হাটে কৃষকরা অভিযোগ করেন, একশ্রেণীর ব্যবসায়ী বাজারমূল্য কমিয়ে তাঁদের পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করছেন।
দাম না পেয়ে এদিন টমেটোর চাষিরা টমেটো বিক্রি না করে তা ঢেলে ফেলে দেন হাটে। একই সঙ্গে দাবি তোলেন সবজি সংরক্ষণের। টমেটোচাষিরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আন্দোলন করারও হুমকি দেন।

চন্দ্রাভিযান বাতিলে হতাশ সাবেক নভোচারীরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চন্দ্র অভিযান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তে চাঁদে যাওয়া নাসার সাবেক নভোচারীরা হতাশ। গত শুক্রবার বিবিসির কাছে তাঁরা এ হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
অ্যাপেলো-১৩ মিশনের কমান্ডার জিম লভেল বলেন, ওবামার সিদ্ধান্তের ফলে মহাশূন্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যানুসন্ধান কাজে বিপর্যয় নেমে আসবে।
চাঁদে যাওয়া সর্বশেষ ব্যক্তি ইউজিন সার্নান বলেন, এটা হতাশাজনক।
প্রেসিডেন্ট ওবামা গত মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অনুমোদন করা নাসার কনস্টেলেশন মুন ল্যান্ডিংস কর্মসূচি বাতিল করেন। কিন্তু নাসা এখনো চাঁদে নভোচারী পাঠাতে চায়।
চাঁদে যাওয়া নভোচারীরা গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ফাউন্ডেশন ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি আয়োজিত রয়েল সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা সেখানে চাঁদে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি নিল আর্মস্ট্রংয়ের সঙ্গে যোগ দেন।
সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭-তে করে চাঁদে যান মার্কিন নভোচারীরা। ওই অভিযানে যাওয়া ইউজিন সার্নান সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে চাঁদে পা রেখেছিলেন।
ইউজিন সার্নান বলেন, ‘আমি পুরোপুরি হতাশ যে আমি এখনো চাঁদে যাওয়া সর্বশেষ ব্যক্তি।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দায়িত্ব আছে এবং এর নৈতিক দায়িত্ব জ্ঞান অন্বেষণ করা।’

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রথম আলো জবসের কর্মশালা

প্রথম আলো জবসের উদ্যোগে গত শুক্রবার ‘প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের জন্য কার্যকর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম আলোর সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
এ কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন গ্রো এন এক্সেলের প্রধান নির্বাহী ও মুখ্য পরামর্শক মো. জুলফিকার হোসেন।
কর্মশালায় বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা অংশ নেন। কর্মশালা শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়।

এইচএসবিসিকে ‘ট্রিপল এ’ রেটিং দিল ক্র্যাব

এইচএসবিসি বাংলাদেশ টানা তৃতীয়বারের মতো ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কাছ থেকে ‘ট্রিপল এ’ (এএএ) রেটিং লাভ করেছে। এইচএসবিসির ২০০৯ সালের সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ রেটিং দেওয়া হয়।
এটি হচ্ছে ক্র্যাবের দেওয়া সর্বোচ্চ রেটিং, যা ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী আর্থিক প্রতিশ্রুতি, ঋণঝুঁকি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা ও গুণগত মানের জন্য দেওয়া হয়।
ক্র্যাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হামিদুল হক সম্প্রতি এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় প্রকাশের হাতে এ ক্রেডিট রেটিংয়ের সনদ ও প্রতিবেদন তুলে দেন।
এ সময় ক্র্যাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এইচ এস সোহরাওয়ার্দী, সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট এহসানুল কবির ও ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট সাজ্জাদ-বিন-সিরাজ এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নায়ীম আর চৌধুরী, অর্থ ব্যবস্থাপক কাশাফুদ দুজা ও সহকারী অর্থ ব্যবস্থাপক কাইউম উদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

অবকাঠামো সমস্যায় দর্শনা স্থলবন্দর ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা

নানা ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর। অবকাঠামোর অপ্রতুলতা ও রেল-যোগাযোগে সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন।
এর ফলে এই স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।
জানা গেছে, চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরে দর্শনা স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কিন্তু অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র সাত কোটি ৬০ লাখ ৮২২ টাকা, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নানা ধরনের পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে আমদানিকারকেরা এ বন্দর ব্যবহারে নিরুত্সাহিত হওয়ায় এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমেছে, যে কারণে রাজস্ব আদায়ে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এই বন্দরের রাজস্ব আয় হয় ৩৫ কোটি ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯৬ টাকা, যা ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ৫২৮ টাকা। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বেড়ে এক লাফে প্রায় ১১৮ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। কিস্তু ২০০৮-০৯ অর্থবছরে আবার তা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৮ কোটি ৮৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
এ প্রসঙ্গে দর্শনা স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের তত্ত্বাবধায়ক মো. রেজাউল হক প্রথম আলোকে জানান, একসময় এ বন্দর দিয়ে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, চিনি, গম, চালসহ ১৫-১৬ ধরনের পণ্য আমদানি হলেও এক বছর ধরে তা দু-তিনটিতে নেমে এসেছে। বর্তমানে শুধু ভুট্টা ও সয়াবিন ভুসি আমদানি হচ্ছে। কিন্তু এ দুটি পণ্য আমদানির ওপর কোনো সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) নেই। মাঝেমধ্যে শিলপাটা আমদানি হওয়ায় কিছু রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে।
দর্শনা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী একাধিক আমদানিকারক এ প্রতিনিধিকে জানান, এ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি এখনো রেলপথেই সীমাবদ্ধ। রেলপথে পণ্য আমদানি করতে হলে এক র্যাক অর্থাত্ সব কটি বগিতে করেই পণ্য বহন করতে হয়। সে জন্য ট্রেনযোগে পণ্য আমদানিকারকের সংখ্যা কম।
আমদানিকারকেরা আরও বলেন, স্থলপথে পণ্য পরিবহন চালু না হওয়া পর্যন্ত মাঝারি মাপের ব্যববসায়ীদের এক-দুই বগি করে পণ্য বহনের সুযোগ দেওয়া হলে আবারও এ বন্দরে আমদানি ও রাজস্ব দুটোই বাড়বে।
এ ছাড়া আমদানিকারকেরা বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়ে বলেন, এ বন্দর থেকে খালাসের আগ পর্যন্ত পণ্য নিয়ে লুটপাট চলে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের স্থানীয় নেতাদের মদদে একশ্রেণীর উচ্ছৃঙ্খল ক্যাডার পণ্য লুটপাট করে থাকে, যাদের বিরুদ্ধে বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী বা কর্তৃপক্ষ কেউই পদক্ষেপ নিতে পারে না। এটিও এ বন্দর দিয়ে আমদানি কমার একটি কারণ।
তবে দর্শনা স্থলবন্দরে নিয়োজিত নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর উপপরিদর্শক আবদুল মজিদ দাবি করেন, বর্তমানে এখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা অনেক ভালো।
দর্শনা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান জানান, ভারত থেকে যেসব পণ্য আমদানি হয়, সেগুলোর দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ কম হয়। সে জন্য এ বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীরা ভারতীয় পণ্য আমদানিতে নিরুত্সাহ বোধ করছেন।
জেলা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, উচ্চমূল্যের কারণে বেশ কয়েক মাস ধরে ভারত থেকে চাল, ডাল ও গম আমদানি বন্ধ রয়েছে, যে কারণে বন্দরের রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ইবিএলের মতবিনিময়

বিশ্ব নারী দিবস (৮ মার্চ) উপলক্ষে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) এসএমই বিভাগ সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। ব্যাংকের বনানী শাখায় এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় নারী উদ্যোক্তারা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তাঁরা ইবিএলকে আরও সহজ শর্তে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রেজা ইফতেখার। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন মাহমুদ শাহ। পারসোনার কর্ণধার কানিজ আলমাস, সুবর্ণা মুস্তাফা, আফসানা মিমি ও কনা রেজাসহ বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তারা আলোচনায় অংশ নেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ইবিএলের হেড অব বিজনেস খোরশেদ আলম ও হেড অব স্মল বিজনেস আনোয়ার ফারুকসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে

আন্তর্জাতিক বাজারে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একই সময় স্বর্ণ ও কপারের দাম কমেছে, বেড়েছে রৌপ্যের দাম।
সপ্তাহের শুরুতে বিশ্বের সর্বাধিক তেল ব্যবহারকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়ে উঠছে—এমন খবরে অপরিশোধিত তেলের নাইমেক্স সূচক ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার অতিক্রম করে। পরবর্তী সময়ে অবশ্য মার্কিন ডলারের শক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম কিছুটা কমে আসতে থাকে। সপ্তাহ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুদ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হ্রাস পাওয়ার খবরে তেলের দাম আবার কিছুটা বাড়ে।
এদিকে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় মার্কিন ডলারের বিনিময় হার শক্তিশালী হয়ে ওঠা এবং তেলের দাম হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামও কমে আসে। গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম কমে আউন্সপ্রতি সাময়িকভাবে এক হাজার ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
সপ্তাহ শেষে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নাইমেক্স সূচক ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ০৮ ডলার, প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এক হাজার ১০২ দশমিক ৩৫ ডলার, প্রতি আউন্স রৌপ্য ১৭ দশমিক ০৮ ডলার ও প্রতি টন কপার সাত হাজার ৪৬৯ দশমিক ৫০ ডলারে কেনাবেচা হয়েছে।
অন্যদিকে আগের সপ্তাহের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল এক হাজার ১৩১ দশমিক ৯৫ ডলার। এ ছাড়া প্রতি আউন্স রৌপ্য ১৭ দশমিক ৩৪ ডলার এবং প্রতি টন কপার সাত হাজার ৪৬৬ দশমিক ২৫ ডলারে কেনাবেচা হয়।

এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (এসএমই) খাতে ব্যাংক ঋণপ্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০০৯ সালের ডিসেম্বর শেষে এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ডিসেম্বর শেষে এসএসই খাতে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ১৪৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আর ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে এই স্থিতি ছিল ৪৩ হাজার ৪৩৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এসএসই খাতে সাত হাজার ৭৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের মধ্যে এসএমই বাবদ ঋণ অবশ্য এখনো ২০ শতাংশের নিচেই রয়েছে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে যেখানে বিতরণ করা ঋণের ১৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ ছিল এসএমই খাতে, সেখানে গত বছর ডিসেম্বর শেষে তা সামান্য বেড়ে হয়েছে ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানাভাবে উত্সাহিত করে আসছে। বিভিন্ন ধরনের নীতি-নির্দেশনাও প্রণয়ন করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে খোলা হয়েছে এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ।
আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের এসএসই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগে বিতরণ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
তবে পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই এসএসই খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করে আসছে।
গত বছরের ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৪ শতাংশই গেছে এসএমই খাতে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে এই হার ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় বিতরণ করা ঋণে এসএমই খাতের অংশ কিছুটা কমে গেছে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে যেখানে এই ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ১৮ শতাংশ ছিল এসএমই খাতে, সেখানে গত বছরের ডিসেম্বরে এসে এই হার হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের মাত্র ১০ শতাংশ গেছে এসএমই খাতে। অন্যদিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোয় এই হার ২০ শতাংশ।
আবার ২০০৯ সালের ডিসেম্বর শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৫ শতাংশ ছিল এসএমই খাতে, যেখানে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে এই হার ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ।
টাকার অঙ্কে অনেক কম হলেও পাঁচ ধরনের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক বছরের ব্যবধানে এসএসই খাতে সবচেয়ে বেশি হারে ঋণ বিতরণ করেছে বিদেশি ব্যাংকগুলো। এদের ঋণ বিতরণের হার দ্বিগুণ বেড়েছে। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই হার ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।

নকল মুঠোফোনে বাজার সয়লাব রাজস্ব ক্ষতি ১২০ কোটি টাকা by অনিকা ফারজানা

এক মুঠোফোনে অনেক কাজ। রঙিন মনিটর, এফএম রেডিও, লাউড স্পিকার, টর্চলাইট। দাম মাত্র এক হাজার ৩৫০ টাকা। সস্তার নকিয়ার এই মুঠোফোনটি কিনলেন সিরাজগঞ্জের আহমেদ আলী। সঙ্গে ওয়ারেন্টি কার্ডও রয়েছে। ইস্টার্ন প্লাজার একটি দোকান থেকে এটি কেনেন তিনি। আড়াই মাস পরে ডিসপ্লে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মুঠোফোনটি নকিয়ার সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে গেলে আহমেদ আলী জানতে পারেন, সেটটি নকল।
কোনটা আসল আর কোনটা নকল, তা এখন চেনা দায়। এই অবস্থা সারা দেশে। নিম্নমানের নকল মুঠোফোনে বাজার সয়লাব। কর ফাঁকি দিয়ে দেশে আমদানি করা হচ্ছে নিম্নমানের এসব মুঠোফোন। আসছে চীন ও কোরিয়া থেকে। এর ফলে প্রতি মাসে সরকার হারাচ্ছে ১০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব, এই হিসাবে বছরে ১২০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন আমদানিকারক সমিতির (বিএমপিআইএ) কোষাধ্যক্ষ এ টি এম মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে জানান, প্রতি মাসে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মুঠোফোন। এর মধ্যে বৈধ পথে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় প্রায় ১০ লাখ। বিএমপিআইএর তথ্য অনুযায়ী, আমদানি করা মুঠোফোনের মধ্যে শুল্ক পরিশোধ করা হয় মাত্র সাড়ে সাত লাখের। বাকি আড়াই লাখ মুঠোফোন কোনো ধরনের কর পরিশোধ ছাড়াই বাংলাদেশের বাজারে চলে আসছে।
‘নকল মোবাইল ফোন সম্পর্কে আমরা অভিযোগ পেয়েছি’ জানালেন বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। সম্প্রতি ‘সরেজমিন তদন্ত শুরু হয়েছে’ বলেও জানান তিনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির ১০ তারিখ পর্যন্ত ৬৪ লাখ ২১ হাজার ৮৫০টি মুঠোফোনের শুল্ক আদায় করা হয়েছে। গড়ে প্রতি মাসে বাজারে মুঠোফোন এসেছে নয় লাখ ১৭ হাজার ৪০৭টি। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে একই সময়ে আটক বা জব্দ করা হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ মুঠোফোন, যার কিছু অংশ পরে সরকারি শুল্ক ও জরিমানা দিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মাসে গড়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ মুঠোফোন অবৈধ পথে বাজারে চলে আসে। কিছু চট্টগ্রাম হয়ে আর কিছু লাগেজ-ব্যাগেজ পার্টির কারণে। এতে সরকার মাসে ১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
কাস্টমস সূত্র আরও জানায়, অবৈধভাবে আমদানির অভিযোগে গত দুই মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে লাখখানেক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মুঠোফোন, যার অধিকাংশই আটক করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা যাত্রীর ব্যাগ থেকে। এ ছাড়া বেশির ভাগ অবৈধ চালান আসে যন্ত্রাংশ হিসেবে, যা আটক করার কোনো আইন নেই।
চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিটি মোবাইল ফোনসেট আমদানিতে ২৫ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক দিতে হয়। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন, এর ফলে স্বল্পমূল্যের মোবাইল ফোনসেটের ওপর কম শুল্ক এবং দামি মোবাইল ফোনসেটের ওপর বেশি শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
বিএমপিআইএর কোষাধ্যক্ষ জানান, বিদেশ থেকে দামি সেটগুলো সাধারণত ‘আন্ডার ভয়েসে’ কাস্টমস পার করানো হয়। বিশেষ করে তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার সেটগুলোর দাম কম দেখিয়ে কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে।
ইস্টার্ন প্লাস শপিং মলের একজন বিক্রেতা স্বপন আহমেদ বলেন, ‘নকল মোবাইল ফোনসেটের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। নিম্নআয়ের ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই। সাধারণত, এক হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যেই একজন ক্রেতা কালার মনিটরসহ মুঠোফোন কিনতে পারেন। এগুলোর কয়েকটিতে আবার এফএম রেডিও শোনার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে চায়নিজ ও কোরিয়ান ফোনসেটগুলোর ব্যাটারি খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাটারি চার্জ হয় না বা ডিসপ্লে সাদা হয়ে যায় বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা যায়।’
বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে, নকিয়া ও স্যামসাং সেটগুলোর পার্টস বা যন্ত্রাংশ বেআইনিভাবে বিদেশ থেকে আসে। এগুলো পরে দেশে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ মুঠোফোন তৈরি (এসেম্বেল) করা হয়। ফলে সেটগুলো মূল প্রস্তুতকারী কোম্পানির মতো দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই হয় না। এ ছাড়া চোরাই বা ছিনতাইকৃত সেটের বাইরের খোলস পাল্টে ফেলে বিভিন্ন ব্র্যান্ড সেটের কভার লাগিয়ে কম দামে বেচা হয়। ওই ধরনের মুঠোফোনগুলোর সঙ্গে আবার ওয়ারেন্টি কার্ডও থাকে। অবশ্যই সেটা জাল।
বিশ্বখ্যাত মুঠোফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নকিয়ার ইমার্জিং এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রেমচাঁদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নকিয়া সেট সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন হওয়া জরুরি। অনুমোদিত পরিবেশক দিয়ে আসল নকিয়ার সেট বাজারজাত করা হয়। কোনো ধরনের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই নকল ও বেআইনিভাবে আমদানি করা সেট ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নকল সেটে আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর থাকে না বলেই সেটগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। তবে ক্রেতারা যদি কোম্পানিগুলোর সিল দেখে সেট কেনেন, তাহলে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি নকল মোবাইল ফোনসেট আমদানি ও বিক্রি ঠেকাতে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।
নকিয়ার বিপণন প্রধান নওফেল আনোয়ার বলেন, মুঠোফোনের ওপর বর্তমান কর আরোপের প্রক্রিয়াটাই অবৈধভাবে সেট আমদানিকে উত্সাহিত করছে। কর ফাঁকি দিতে পারায় চায়নিজ বা কোরিয়ান সেটগুলো কম দামে বিক্রি করলেও প্রচুর লাভ থাকে। এ ধরনের সেটগুলোর কোনো কাস্টমার সার্ভিস সুবিধা বা যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের সুবিধা নেই।

মাগুরা ক্রিকেট লিগ

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কাল এ এইচ খান স্মৃতি সংসদ (১৯০/৭) ৩ উইকেটে আবদুল আজিজ স্মৃতি সংসদকে (১৮৭) হারিয়েছে।

রাজশাহীর ভলিবল

৩৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম প্রথম বিভাগ ভলিবলের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে ব্রাইট স্টার। জেলা স্টেডিয়ামে কাল সেমিফাইনালে তাদের ২-৩ সেটে হারিয়ে দিয়েছে বন্ধন ক্রীড়াচক্র। অন্য সেমিফাইনালে ইউনাইটেড ক্লাব ৩-০ সেটে জিতেছে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে।

মুম্বাই দিল্লিরও জয় দিয়ে শুরু

আইপিএলের নতুন মৌসুম জয় দিয়ে শুরু করল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। দুটি দলই পেয়েছে রোমাঞ্চকর জয়। শেষ ওভারে যাওয়া ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ৪ রানে হারিয়েছে রাজস্থান রয়্যালসকে। আর দিল্লির শেষ ওভারে পাওয়া জয়টি ৫ উইকেটে।
কাল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচে আইপিএল দেখেছে দ্রুততম সেঞ্চুরি। তবে ৩৭ বলে ১০০ রান করা ইউসুফ পাঠান টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি করেও জেতাতে পারেননি তাঁর দলকে। সৌরভ তিওয়ারি (৩৩ বলে ৫৩) ও আম্বাতি রায়ডুর (৩৩ বলে ৫৫) হাফ সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১২ রান তুলেছিল মুম্বাই। ২১৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৬৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে রাজস্থান। তবে ডোগরার (৪১) সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১০৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের দুয়ারেই নিয়ে গিয়েছিলেন ইউসুফ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত জয়টা তাঁরা আর পাননি। লাসিথ মালিঙ্গার করা শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেননি রাজস্থানের দুই ব্যাটসম্যান ডোগরা ও উনিয়াল।
রবি বোপারার হাফ সেঞ্চুরিতে (৫৬) পাঞ্জাব ২০ ওভারে করেছিল ১৪২ রান। গৌতম গম্ভীরের ৫৪ বলে ৭২ রানের ইনিংসের পরও এই রান টপকে যেতে শেষ ওভার পর্যন্ত যেতে হয় দিল্লিকে। তবে মানাসের (৩১*) দৃঢ়তায় ১ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেট হারিয়েই পৌঁছে যায় জয়ের লক্ষ্যে।

মোহামেডানের আবেদনে লিগ কমিটির সাড়া

আগামীকাল চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে দুই মোহামেডানের নির্ধারিত ম্যাচ হচ্ছে না।
ঢাকা মোহামেডানের আবেদনে সাড়া দিয়ে গত রাতে বাংলাদেশ লিগ কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত স্থগিত দুই মোহামেডানের ম্যাচ প্রথম পর্বের শেষে হবে। এ ছাড়া ফিকশ্চার অনুযায়ী বাকি সব ম্যাচ চলবে।
বাংলাদেশ লিগ কমিটির চেয়ারম্যান বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীকে লেখা এক চিঠিতে কাল মোহামেডান আবেদন করেছিল, সিলেটের ঘটনায় তাদের খেলোয়াড়দের এখন মাঠে নামার মতো অবস্থায় নেই। শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট হতে কয়েক দিন সময় লাগবে। অনেকে অনুশীলন করতে পারছেন না। তাই কালকের ম্যাচটি স্থগিত রাখা হোক।
বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনকেও চিঠি দিয়েছে মোহামেডান। ওই চিঠির বক্তব্য, বিয়ানীবাজারকে বাইলজ অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়নি। তাই বাফুফে সভাপতির হস্তক্ষেপ দরকার। তিনি যেন মোহামেডানের আবেদনে সাড়া দিয়ে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেন।
গত মঙ্গলবার সিলেট স্টেডিয়ামে বিয়ানীবাজারের বিপক্ষে ১-১ ম্যাচ শেষে মোহামেডান খেলোয়াড়েরা স্থানীয় দর্শক ও সংগঠকদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে গত কয়েক দিন দাবি করে আসছিল সাদা-কালো শিবির। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ লিগ কমিটি বিয়ানীবাজারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে, যদিও মোহামেডানের দাবি, বিয়ানীবাজারকে বহিষ্কার করতে হবে লিগ থেকে।
এ নিয়ে মোহামেডানের সোচ্চার কণ্ঠ ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তারা হয়তো চট্টগ্রামে ম্যাচ খেলতে যাবে না। লিগ বর্জনেরই ঘোষণা দিয়ে বসে কি না, এ শঙ্কাও ছিল কারও কারও। শেষ পর্যন্ত মোহামেডান সেই পথে যায়নি।

নিউজিল্যান্ডের সান্ত্বনার জয়



শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয় পেল নিউজিল্যান্ড। না, সান্ত্বনার বলাটা হয়তো ঠিক হলো না। কারণ চতুর্থ ম্যাচেই সিরিজ পকেটে পুরে ফেলা অস্ট্রেলিয়াকে কাল শেষ ও পঞ্চম ওয়ানডেতে যেভাবে হারাল ভেট্টোরির দল, তা দুই টেস্টের সিরিজের জন্য তাদের আত্মবিশ্বাসে জোগাবে নতুন জ্বালানি। ১৯ মার্চ বেসিন রিজার্ভে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে দুই দল।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৪২ রানের লক্ষ্য দিয়ে তাদের ৫১ রানে হারানো অবশ্যই দাপুটে জয়। তাও ৯৬ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে ষষ্ঠ উইকেটে মাইক হাসি ও জেমস হোপস ৫০ রানের জুটি উপহার দেওয়াতেই না পরাজয়টা একটু ভদ্রস্থ দেখাল। না হলে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের সম্মান বাঁচানো জয়টা হতো আরও বড়। টস জিতে পরে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়াকে আসল চাপে ফেলে দিয়েছে শেন বন্ডের একটি ওভার। দলের সপ্তম ওভারে পরপর দুই বলে তিনি ফিরিয়ে দেন ওপেনার ব্র্যাড হাডিন (১৭) ও অধিনায়ক রিকি পন্টিংকে (০)। বন্ডের পেস ও বাউন্সে হকচকিয়ে যাওয়া হাডিন ওভারের তৃতীয় বলে ক্যাচ তুলে দেন টিম সাউদির হাতে, আর পন্টিং ক্যাচ হয়ে ফেরেন উইকেটকিপার গ্যারেথ হপকিন্সের হাতে। ২৭ রানে ২ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে ওই বন্ডের সঙ্গে মিলে ভেঙেছেন টিম সাউদি। দুজনেই নিয়েছেন ৪টি করে উইকেট। দলের একমাত্র ফিফটি করা ওপেনার শেন ওয়াটসনকে অফ স্পিনে ফিরিয়েছেন নাথান ম্যাককালাম, জেমস হোপসের উইকেটটি নিয়েছেন ভেট্টোরি। নিউজিল্যান্ডের ২৪১ রানের জবাব দিতে নেমে ৪৬.১ ওভারে ১৯০ রানে অলআউট অস্ট্রেলিয়া।
নিউজিল্যান্ড ইনিংসেও ফিফটি মাত্র একটা, হোপসের মিডিয়াম পেসে বোল্ড হওয়ার আগে ৫৫ রান করেন স্কট স্টাইরিস। ৮৫ রানে ৪ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড তারপরও চ্যালেঞ্জিং ওই স্কোরটা করতে পারল অন্যদের ছোট ছোট অবদানে। নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ড্যারিল টাফি করেছেন ৩৬ রান। মি. অতিরিক্তের ২৯ রানও কম ছিল না। পঞ্চম উইকেটে স্টাইরিস ও ভেট্টোরি গড়েন সবচেয়ে বড় জুটি—৬৮ রানের। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৪১/৯ (টেলর ৩০, স্টাইরিস ৫৫, ভেট্টোরি ২৮, হপকিন্স ২৬, নাথান ম্যাককালাম ১৭, টাফি ৩৬, অতিরিক্ত ২৯; ম্যাকাই ২/৫৭, বলিঞ্জার ১/৩৭, জনসন ২/৪২, ওয়াটসন ১/৩১, হরিজ ১/৪৩, হোপস ১/২৮)। অস্ট্রেলিয়া: ৪৬.১ ওভারে ১৯০ (ওয়াটসন ৫৩, হাডিন ১৭, হাসি ৪৬, হোপস ৪০, হরিজ ৯, অতিরিক্ত ৫; বন্ড ৪/২৬, ভেট্টোরি ১/৩৯, সাউদি ৪/৩৬, নাথান ম্যাককালাম ১/৩১)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: টিম সাউদি।
সিরিজের ফল: অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৩-২ ব্যবধানে।

রহমতগঞ্জ ও চট্টগ্রাম আবাহনীর জয়

আগের ৭ ম্যাচে রহমতগঞ্জ গোল করতে পেরেছিল মাত্র একটি। শেষ তিন ম্যাচে করল ৮ গোল। শুকতারার বিপক্ষে ২-১, মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে ৫-১ গোলে জয়ের পর কাল আরামবাগকে তারা হারাল ১-০ গোলে।
টানা তিন জয়ে ১০ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে রহমতগঞ্জের অবস্থানও কিছুটা ভদ্রস্থ হলো। রহমতগঞ্জ এখন অবনমন বাঁচানোর ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারছে। এই আশাটা জোরালো করতে কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ম্যাচে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত। তখনই মিডফিল্ডার জাকির গোল করে তিনটি পয়েন্ট ছিনিয়ে নেন।
আরামবাগ দুই ম্যাচ পর আবার পেল পরাজয়ের স্বাদ। বিয়ানীবাজারের সঙ্গে ড্র আর চট্টগ্রাম আবাহনীকে তাদেরই মাটিতে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে আসা দলটি কাল হেরেছে সুযোগের অপচয় করায়। শেষ বাঁশির ঠিক আগে লাল কার্ড দেখেছেন দ্বীন মোহাম্মদ, তবে সেটা আর ম্যাচের ফল নির্ধারক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়নি।
১০ ম্যাচে আরামবাগের পয়েন্ট ১০-ই থাকল। এখনো অবনমন থেকে নিজেদের নিরাপদ ভাবার কোনো সুযোগ নেই আলফাজদের সামনে।
ঘরের মাঠে আগের ম্যাচে আরামবাগের কাছে ১-৪ হেরে যাওয়া চট্টগ্রাম আবাহনী কাল একই মাঠে দেখা দিয়েছে অন্য রূপে। আগের ম্যাচেই শিরোপাপ্রত্যাশী ঢাকা মোহামেডানকে আটকে দেওয়া (১-১) বিয়ানীবাজারকে এদিন ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে চট্টগ্রাম আবাহনী।
স্থানীয় দলের এই বড় জয়ে বড় অবদান তরুণ স্ট্রাইকার মিঠুন চৌধুরীর, তাঁর গোল দুটি। বাকি দুই গোল সুমন ও পিটারের। বিয়ানীবাজারের একমাত্র গোলটি করেছেন গফুর। ১১ ম্যাচ থেকে ১১ পয়েন্ট চট্টগ্রাম আবাহনীর। ১০ ম্যাচে বিয়ানীবাজারের সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট। সিলেটের দলটি এখনো রয়ে গেছে অবনমন অঞ্চলেই।a

হকি বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়ার

টানা তৃতীয় শিরোপা হলো না জার্মানির। কিন্তু তিনবারের চেষ্টায় ঠিকই জিতে গেল অস্ট্রেলিয়া। গত দুটো বিশ্বকাপের ফাইনালে এই জার্মানির কাছেই পরাজিত অস্ট্রেলিয়া কাল দিল্লিতে জিতল ২-১ গোলে। ১৯৮৬-এর পর এটাই তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।
ম্যাচের ছয় মিনিটেই গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ৪৮ মিনিটে সমতা ফেরায় জার্মানি। খেলা শেষের ১১ মিনিট আগে পেনাল্টি কর্নার থেকে জয়সূচক গোলটি করেন লুক ডোয়েরনার। টুর্নামেন্টে এটি তাঁর অষ্টম গোল, নেদারল্যান্ডের তেকে তেকেমার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন এই পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট।
এই জয় দিয়ে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ রিক চার্লসওর্থ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলটার খেলোয়াড় ছিলেন। কোচ-খেলোয়াড় দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতার কীর্তি আর আছে নেদারল্যান্ডের হ্যান্স জরিটসমার। ওদিকে স্থান নির্ধারণী খেলায় ইংল্যান্ডকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে নেদারল্যান্ড।

ফেসবুকে Dhumketo ধূমকেতু দেখুন, লাইক দিন

ফিরে আসছেন রকিবুল

অবসর ঘোষণার তিন দিনের মধ্যেই নিজের ভুল বুঝতে শুরু করেছেন রকিবুল হাসান! বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, বোর্ড এবং নির্বাচকদের ওপর রাগে-ক্ষোভে সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানানো ২২ বছরের এই তরুণ ক্রিকেটার আবার ফিরতে চান খেলায়। অবস্থান বদলের কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আজ-কালের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর কথা তাঁর। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দুই দিন আগে হঠাত্ করেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন রকিবুল।
জাতীয় দলের কোচ জেমি সিডন্স এর মধ্যে আরও একবার মুঠোফোন বার্তায় খেলায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন রকিবুলকে। পাল্টা বার্তায় রকিবুল নাকি তাঁর আগের অবস্থানের কথাই জানিয়েছেন। তবে কাল বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, রকিবুল এখন কিছুটা নমনীয়। তার চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বোর্ড পরিচালক ও রকিবুলের জেলা জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ (রেদোয়ান)। বিসিবি পরিচালক নিজে তো বটেই, জামালপুর পৌরসভার মেয়র, জেলা ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং রকিবুলের পরিবারের সদস্যরাও দুই দিন ধরে তাঁকে অনেক বুঝিয়েছেন। রকিবুল তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফুয়াদ, ‘আমি নিজে এবং জামালপুরের নেতৃস্থানীয় লোকজন টেলিফোনে রকিবুলকে অনেক অনুরোধ করেছেন তার অবস্থান থেকে সরে আসতে। রকিবুলও তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। সে জামালপুরের গর্ব। আশা করি, আমাদের অনুরোধ রেখে রকিবুল আবার খেলায় ফিরবে।’
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেনও বললেন একই কথা, ‘বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা ওর সঙ্গে কথা বলছি। আশা করি, একটা ইতিবাচক ফলাফলই আসবে।’ তবে কাল টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি রকিবুল, ‘বোর্ড আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, খেলায় ফিরতে বলেছে। তবে এ ব্যাপারে আমি এখনই কোনো কথা বলব না।’
অবসরের সিদ্ধান্তটা বোর্ডকে লিখিতভাবেই জানিয়েছিলেন রকিবুল। বোর্ড সেটি গ্রহণ না করলেও অবসর থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তটাও তিনি কাগজে-কলমেই জানাবেন। তবে রকিবুল ফিরতে চাইলেই ফেরাটা অত সহজ হবে কি না, সে সংশয় থাকছেই। চট্টগ্রাম টেস্টের আগের দিন আকস্মিক অবসরের সিদ্ধান্ত জানানো, মিডিয়ার কাছে দল নির্বাচন-প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ—রকিবুলের এসব আচরণ বোর্ড সহজভাবে নেয়নি। অনেকে তো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথাও বলছেন। আগামী ১৯ মার্চের বোর্ড সভায় এসব ব্যাপারে আলোচনা হওয়ার কথা। রকিবুলের অবস্থান বদল বোর্ডকেও সে অবস্থান থেকে সরাবে কি না, সেটাই প্রশ্ন এখন।